জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম স্ট্যাটিউটের ১৫ অনুচ্ছেদের অধীনে মামলাটি করেন ‘থ্রি বোল্ট কোর্ট চেম্বার্সের ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন।
মামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী এবং সরকারের অন্যান্য প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। শুক্রবার লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মামলার বাদী ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার সারাহ ফোরে ও ব্যারিস্টার এমিল লিক্সান্দ্রু উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই এবং আগস্ট মাসে, বাংলাদেশ ইতিহাসের এক পৈশাচিক নৃশংসতার সাক্ষী হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চলতি বছরের জুলাই মাসে, বাংলাদেশে এক নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের সূচনা ঘটে, যা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে পরিচিতি লাভ করে। শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার অযৌক্তিক হারে পুনর্বহাল এবং সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ পদ নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষণের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। তাদের দাবি ছিল, এই কোটা ব্যবস্থা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে অযাচিত অগ্রাধিকার প্রদান করে, যা দেশের মেধাবী এবং যোগ্য প্রার্থীদের জন্য চাকরির পথ রুদ্ধ করে দেয়। আন্দোলনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল কোটা সংস্কার, তবে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যুর মতো ঘটনার পর এটি দ্রুত বৃহত্তর আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়। শিক্ষার্থীরা তখন কেবল কোটা সংস্কার নয়, বরং প্রশাসনিক দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনে যুক্ত হন।
এই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখোমুখি হওয়ার পর সরকার এর জবাব দেয় অমানবিক সহিংসতার মাধ্যমে উল্লেখ করে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতে সরকার পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের মতো বাহিনী মোতায়েন করে। এই বাহিনী নির্বিচারে গুলি, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র- যেমন বার্ডশট প্লেট এবং তাজা গুলি- ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা চালায়। ইতিহাসের এই বর্বরতম নৃশংসতায় ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেন।
বাংলাদেশ সরকারের এই কঠোর ব্যবস্থার ফলে দেশে গণহত্যা, বিচার-বহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন এবং অসংখ্য বিক্ষোভকারী নিখোঁজ হয়েছেন। এই নিষ্ঠুরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের উদাহরণ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের ‘শীর্ষস্থানীয় মাদক কারবারি’ চুয়া সেলিম গ্রুপের প্রধান মো. সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিমকে (৫০) আটক করেছে র্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা ও মাদক আইনসহ ৩৬টি মামলা রয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
গত বুধবার রাতে জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে সেলিমকে আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার২০ আগস্ট র্যাব-২–এর অধিনায়ক পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নয়মুল হাসান বলেন, সেলিম মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষস্থানীয় পাইকারি মাদক কারবারি। কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান এনে তিনি তা রাজধানীতে ছড়িয়ে দিতেন।
নয়মুল হাসান বলেন, কয়েক বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেলিমকে খুঁজছিল। এর আগে বারবার অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাতে গেলে তিনি গুপ্তচরের তথ্যের ভিত্তিতে সটকে পড়তেন।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, বুধবার রাতে সাদাপোশাকে র্যাবের কয়েকটি দল অভিযান চালিয়ে সেলিমকে আটক করে। তাঁকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকার বাসিন্দা মো. সাহাবুদ্দিনের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে মহানগর দায়রা জজ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত এ আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় সাহাবুদ্দিনের প্রায় এক কোটি ৮৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে সাহাবুদ্দিনের নামে থাকা ১৮টি প্লট এবং মোট ৩৭ হাজার টাকার দুটি ব্যাংক হিসাব।
মামলার বিবরণে যায়, মো. সাহাবুদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি ঢাকার সিদ্ধিক বাজারের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুর রব এবং স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার মাতার বাড়ি গ্রামে।
ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর করার অভিযোগ এনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। বিচারক বাদীর জবানবন্দি শুনে রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
মামলায় অন্য আসামিরা হলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া, মাহফুজ আলম, আখতার হোসেন, মো. হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, সার্জিস আলম, সামান্থা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাত, পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন, কনক সরোয়ার, নুরনবী (অব. কর্নেল), তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদ।
আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। আজ বুধবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা জানান। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কোনো আইনি সংকট নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের আবেদনটি হাইকোর্টে খারিজ হওয়ার পর এবার তা আপিল বিভাগে নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ আজ গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট রিট আবেদনটি খারিজের আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ।
গত বৃহস্পতিবার আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের পাশাপাশি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব উপস্থিত ছিলেন। হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের পর এখন বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণে বর্তমানে কোনো বাধা অবশিষ্ট নেই।
নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের পদ শূন্য ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ১১ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
আজ বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদনটি জমা দেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন। রিট আবেদনে নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন এবং জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রিট আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল গণমাধ্যমকে জানান, "আবদুল হান্নান মাসউদের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগের ভিত্তিতে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছে।"
আবেদনে আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদটি শূন্য ঘোষণা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সরকারের প্রতি নির্দেশনা জারির আরজি জানানো হয়েছে। মূলত হলফনামায় দাখিলকৃত তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই ভোটার নাজমুল হোসেন আইনি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
মুন্সীগঞ্জ কারাগারে বন্দি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের জানাজা ও দাফনের বিষয়টি তাঁর প্যারোলে মুক্তির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। প্যারোলে মুক্তির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দীপু মনির আইনজীবী ও স্বজনরা বর্তমানে মুন্সীগঞ্জে অবস্থান করছেন।
আজ বুধবার সকালে দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ।
পারিবারিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে দীপু মনির বড় ভাই জে আর ওয়াদুদ টিপু বলেন, ‘রাত ১০টা ২৭ মিনিটে তিনি মারা গেছেন। তবে কোথায় কখন দাফন ও জানাজা হবে, তা বুধবার দুপুরের পর সিদ্ধান্ত হবে।’
উল্লেখ্য, প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ ২০১৯ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। গত মে মাসেও তাঁকে হুইলচেয়ারে করে কারাগারে থাকা স্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের জন্য আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তৌফিক নেওয়াজ পেশাগত জীবনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন।
২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চালানো অভিযান এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজিজ আহমেদ ওই সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-র দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত আইজিপির কাছে পাঠানো হয়েছে। ইন্টারপোলের বিধিবিধান অনুযায়ী আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়।
গত সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চিফ প্রসিকিউটর জানান, শাপলা চত্বর মামলায় পলাতক কোনো আসামিকে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়ার এটিই প্রথম উদ্যোগ। তিনি বলেন, প্রসিকিউশন জানতে পেরেছে আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন। তবে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান, বিদেশে থাকা এই মামলার অন্য পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ওপর চালানো অভিযান এবং পরদিন সিদ্ধিরগঞ্জে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এই মামলাটি করা হয়। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় চার স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
চলতি বছরের ২৭ জুলাই এই অভিযানের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ।
এছাড়া অভিযোগপত্রে সাবেক পুলিশ প্রধান হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহীদুল হক, মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সাবেক পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তার নাম রয়েছে। সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক ফারজানা রূপা।
এদিকে, গত ১৬ আগস্ট বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ বেঞ্চ আগামী ৩ সেপ্টেম্বর হাসানুল হক ইনু ও ড. আবদুর রাজ্জাককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন ওই দিনই জমা দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং মোজাম্মেল হক বাবুসহ ৯ জন গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। ৩০ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে এখনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে রায়হান আলী ও আনজুম সাকিব নামের দুই আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং আরও অনেককে গুরুতর আহত করার অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে।
মামলার ৩৮ আসামির মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার থাকায় পলাতক ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন-এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, জহিরুল ইসলাম রুবেল, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লা-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির, শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক এবং মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।
ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকোসহ (এইচটিপি) বিভিন্ন ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট এবং নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে অপসারণের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তামাক বিরোধী জোটের দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
আদালত এই রুলে জানতে চেয়েছেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব পণ্য নিষিদ্ধ করা এবং বাজার থেকে অপসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও কার্যকারিতাহীন বলে ঘোষণা করা হবে না। দেশে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের মতো ক্ষতিকর তামাকজাত পণ্যের অবাধ প্রসার রোধ করতে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতেই এই রিট আবেদনটি করা হয়েছিল।
একই সঙ্গে মানবজীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর এসব আধুনিক তামাকপণ্য বাজার থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণ এবং প্রয়োজনে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে বিবাদীদের কাছে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচের বিস্তার ঠেকাতে বিবাদীদের কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়ে এই রুলে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আদালতে বাদীপক্ষের হয়ে মামলাটির শুনানি করেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ। শুনানিকালে তাঁরা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদ এবং ক্ষতিকর ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের বিষয়গুলো আদালতের সামনে বিশদভাবে তুলে ধরেন। জনগুরুত্বপূর্ণ এই রিট আবেদনটির বাদী হিসেবে ছিলেন এ কে এম মাকসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ, হেলাল আহমেদ ও মো. আমিনুল ইসলাম।
ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকোসহ (এইচটিপি) ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট এবং নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তামাক বিরোধী জোট। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেছেন।
একই সঙ্গে মানবজীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব পণ্য বাজার থেকে অপসারণ এবং প্রয়োজনে নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রুলে মানবজীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট, ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো এবং নিকোটিন পাউচ বাজার থেকে অপসারণ অথবা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিবাদীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আদালতে বাদীপক্ষে মামলাটি শুনানি করেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ। তারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদ এবং ক্ষতিকর ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়গুলো আদালতে তুলে ধরেন। মামলার বাদীরা হলেন এ কে এম মাকসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ, হেলাল আহমেদ ও মো. আমিনুল ইসলাম।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব চলাকালে রাজশাহীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজ মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। একই সাথে আদালত ৩৪ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং বর্তমানে কারাগারে থাকা ৪ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শুনানিকালে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন এবং আদালতে অপরাধের তিনটি ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন করেন। ওই ভিডিওগুলোতে আসামিদের সরাসরি অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায়, যা বিচারিক প্যানেল গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ৫ আগস্ট দুপুরে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায় আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলি করে হত্যা এবং একই সময়ে শাহ মখদুম কলেজের সামনে আনজুম সাকিবকে হত্যার ঘটনায় এই আসামিরা সরাসরি জড়িত। এছাড়া অসংখ্য মানুষ ওই দিনের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
আদালতের নির্দেশে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হওয়া ৪ জন হলেন—রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক। অন্যদিকে, খায়রুজ্জামান লিটন ছাড়াও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্তদের তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের একাধিক শীর্ষ নেতা। ট্রাইব্যুনাল মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ার, লবঙ্গ রেস্টুরেন্ট এবং পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধসহ আশপাশের এলাকায় আসামিদের পরিচালিত এই নৃশংসতা স্পষ্টত মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। ৩০ জুলাই দাখিলকৃত এই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতেই আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজিজ আহমেদকে বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে (এনসিবি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ইন্টারপোলের সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির পাশাপাশি এই প্রক্রিয়ার নিয়মিত অগ্রগতি সম্পর্কে প্রসিকিউশনকে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে। মামলা সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান এবং পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সংঘটিত অপরাধে তৎকালীন বিজিবি মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিদেশে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযান ও মামলার গুরুত্ব তুলে ধরে মো. আমিনুল ইসলাম মন্তব্য করেন যে, ‘মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় প্রথম কোনো পলাতক আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ পলাতক এই আসামির অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবো বলে আমরা মনে করি।’ পর্যায়ক্রমে বিদেশের মাটিতে থাকা অন্যান্য পলাতক আসামিদেরও স্বদেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।
এর আগে গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শাপলা চত্বরের সেই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি আমলে নেন। ওই আদেশের পর থেকেই পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি এবং বিদেশের মাটিতে অবস্থানকারীদের ফেরানোর তোড়জোড় শুরু হয়। অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা এবং কয়েকজন আলোচিত সাংবাদিকের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) শুনানি শেষে রায় অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর ফলে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী যেকোনো দিন এই মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।
এ মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম। এর আগে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্কে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ চেয়েছে প্রসিকিউশন।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। অভিযুক্ত এই সাতজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ‘ফরমাল চার্জ’ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছিলেন একই আদালত।