১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।
বুধবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরীন আক্তারের বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ কয়েকজন আসামির পক্ষে লড়ছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান।
আইনজীবী এস এম শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেন, ‘পেপারবুক পড়া শুরু হইছে। আমরা দুটি মামলার আপিল একসঙ্গে শুনানি করতে চাই। একই ঘটনার জন্য দুবার বিচার করে আসামিদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। দুটি মামলার চার্জ একসঙ্গে হতে পারত। অস্ত্র মামলার পেপারবুক এখনো তৈরি হয়নি। এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।’
১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দুই মামলায় রায় দেওয়া হয়। রায়ে চোরাচালান মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী (ফাঁসির দণ্ড কার্যকর), সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়াসহ ১৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন চট্টগ্রামের বিশেষ আদালত। এ ছাড়া অস্ত্র আইনের পৃথক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় একই আসামিদের।
পরে মামলার ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় হাইকোর্টে। আর আসামিরা খালাস চেয়ে আপিল করেন। এখন পৃথক মামলার আপিল একসঙ্গে নিষ্পত্তি হবে।
২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা বা সিইউএফএল জেটিঘাটে খালাসের সময় ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান আটক হয়। আটকের দুই দিন পর কর্ণফুলী থানায় দুটি মামলা করা হয়। ওই বছরই ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর আদালত অভিযোগ গঠন করেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ২০১১ সালের ২৬ জুন নতুন করে বাবর, নিজামীসহ ১১ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আসন্ন নির্বাচনে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল তিনি বার কাউন্সিল নির্বাচনের সাধারণ আসনের (জেনারেল সিট) জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন। একইসঙ্গে তিনি সারাদেশের আইনজীবী বন্ধুদের কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন।
সারাদেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক ও অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচন-২০২৬ আগামী ১৯ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে গত ৪ এপ্রিল বার কাউন্সিল ভবনে আয়োজিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
দেশের আইন অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে শিশির মনিরের অংশগ্রহণ নিয়ে আইনজীবীদের মাঝে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচারণা ঘিরে আদালত পাড়া ও আইনজীবীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে থাকা বাউলশিল্পী আবুল সরকার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ থেকে তিনি কারামুক্ত হন। কারাগার থেকে বের হয়ে প্রথমে রিকশায় করে মূল ফটকে আসেন। পরে সাদা রঙের একটি হাইচ গাড়িতে করে তিনি স্থান ত্যাগ করেন। এসময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অসুস্থ থাকায় মুক্তির পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন। তিনি জানান, জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই শেষে অন্য কোনো মামলা না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আবুল সরকার মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার চর তিল্লী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আমজাদ আলীর ছেলে।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল জামিনের আবেদন করলে বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় একটি মেলায় পালাগানের আসরে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।এরপর ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে তাকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল। পরবর্তীতে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর লালবাগ থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১২ এপ্রিল) আসামি পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল ভোরে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন এ মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৮ জুলাই লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে মিছিল করছিলেন ভুক্তভোগী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম। ঘটনার দিন আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে ভুক্তভোগীর বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
গত ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ভুক্তভোগী আশরাফুল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনার জন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করে অ্যার্টনি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের সেই চেতনার বহিঃপ্রকাশ। বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। আইনমন্ত্রী এরই মধ্যে এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে সুস্পষ্টভাবে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পাইলট হাইস্কুল ময়দানে স্থানীয় সুধীজনের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন।
তিনি আরও জানান, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছেন। তবে সেই রায় চূড়ান্ত নয়। সুপ্রিম কোর্টে আপিল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।
অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রত্যাশা জনগণ করেছে। দেশের মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এই সরকার জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে সরকার জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।’
অস্ত্র আইনের মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদের দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার ১৮তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীনের আদালত এ রায় দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ঈসমাইল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে মাদক কারবারির সন্দেহে আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে র্যাব অভিযান চালায়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই মাদক কারবারি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক হয়। পরে আটক ব্যক্তি নিজের নাম ফয়সাল করিম বলে জানান। পালানোর চেষ্টার কারণ জানতে চাইলে, র্যাবকে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
পরে র্যাব জানতে পারে, ওই ব্যক্তি আদাবর থানায় চুরির মামলার এজাহারনামীয় আসামি। র্যাব তার বাসায় তল্লাশি চালায়। তার দেওয়া তথ্যমতে, সেখান থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে। এসময় তাকে অস্ত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বললে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এ ঘটনায় পরদিন ৮ নভেম্বর র্যাব-২ এর হাবিলদার মো. মশিউর রহমান আদাবর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ফয়সাল করিমকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৮ মার্চ আদাবর থানার উপপরিদর্শক জাহিদ হাসান আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
মামলায় চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে, ফয়সাল করিম এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের মূল হোতা। সে দীর্ঘদিন যাবত সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের জন্য অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিল। মামলার বিচার চলাকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে দুষ্কৃতিকারিদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এ হত্যাকাণ্ডে ফয়সাল করিমের নাম আসে। তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি নারাজির আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদকে অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মহসীন এ রায় ঘোষণা করেন। গত রবিবার (৫ এপ্রিল) মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন। মামলায় ফয়সাল করিম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এ মামলার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আদালত ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। রায়ের কপি পেলে আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, তা জানা যাবে।”
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র্যাব-২। তখন পালানোর চেষ্টাকালে ফয়সাল করিমকে আটক করা হয়। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে র্যাব।
এ ঘটনায় পরদিন আদাবর থানায় ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেন র্যাবের হাবিলদার মশিউর রহমান।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ফয়সাল করিম এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক কেনাবেচার হোতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। অপরাধ সংঘটনের জন্য তিনি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিলেন।
তদন্ত শেষে ফয়সাল করিমকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক জাহিদ হাসান। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফয়সাল করিম এ মামলায় জামিনে ছিলেন। এরপর ওসমান হাদি হত্যার ঘটনার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এর মধ্যে গত মাসে তিনি ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
রংপুরের আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। পাশাপাশি মামলার ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন।
এদিন দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৩০ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হবে আজ। এরইমধ্যে গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এদিন এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।
ছয় আসামি হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
বহুল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ২০২৫ সালের ২৪ জুন। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ জুন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। ওই দিনই অভিযোগটি আমলে নিয়ে ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর শুনানি করেন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর ৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় ২৭ আগস্ট। এর পরদিন থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মুকুল হোসেন।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা সাক্ষ্যগ্রহণের সমাপ্তি ঘটে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। এ সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনসহ মোট ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে। তাদের মধ্যে অন্যতম সাক্ষী হাসনাত আবদুল্লাহ। যিনি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। তার সাক্ষ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো স্পষ্ট করতে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০ জানুয়ারি শুরু হয় যুক্তিতর্ক, যা চলে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। ওই দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। পরে ৫ মার্চ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ঘোষণা হচ্ছে আলোচিত এ মামলার রায়।
এদিকে, রায় ঘোষণা ঘিরে ট্রাইব্যুনালের আশপাশ এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তৎপর রয়েছেন পুলিশ-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
লালবাগ থানার আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। মামালার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ জোন ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোহসীন উদ্দিন তার দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে ছাত্র-জনতার একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ মদদে এই হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পুলিশের সদস্যসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেন। এতে মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তার বাম চোখ ভেদ করে গুলি রেটিনার পেছনে চলে যায় এবং তিনি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ওই ঘটনায় ২৫ সালের ২৫ মে ভুক্তভোগী আশরাফুল বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ, শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন।
মামলার ৩ নম্বর আসামি হিসেবে শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়।
তদন্তে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন (কমপ্লিট শাটডাউন চলাকালে) এবং আন্দোলনের অন্যান্য সময়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিরীন শারমিন চৌধুরী অন্যতম কুশীলব ছিলেন। তার সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই মামলার সহিংস ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই ছয় জনের মধ্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
এ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ে।
মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, মোহাম্মদ ফিরোজ, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, দেবাশীষ পাল দেবু, জমির উদ্দিন, আজিজুর রহমান, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ, সুমন দে ও তৌহিদুল ইসলাম।
আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে জড়িত। ২২ আসামির মধ্যে ফজলে করিমসহ ৪ জন গ্রেফতার আছেন। পলাতক ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগে নাম থাকা ২২ জনের মধ্যে চট্টগ্রামের রাউজানের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীকে আগেই অন্য মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গুলিতে প্রাণ হারান চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াসিম আকরাম।
ঘটনার এক মাস পর ১৮ অগাস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের মা জোছনা বেগম। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
পরে জুলাই-অগাস্ট আন্দোলন ঘিরে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ১১ জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা হয়। সেই মামলার তদন্ত শেষে ওয়াসিমসহ ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় এ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করল প্রসিকিউশন।
কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে সোমবার আদালতে তলব করা হয়েছে।
কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে সম্প্রতি মামলার অগ্রগতি জানতে চেয়ে পিবিআইকে চিঠি দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শুরুতে থানা-পুলিশ এ মামলার তদন্ত করলেও পরে মামলাটি ডিবি ও সিআইডির কাছে হস্তান্ত করেন। কোনো সংস্থা দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে না পারায় ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এটি ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার অধীনে রয়েছে। গত বছরের ৭ এপ্রিল সর্বশেষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করেছিল পিবিআই।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস-সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তনুর বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত চলবে হাইকোর্টের বিচারকাজ। এর মধ্যে দুপুর সোয়া ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি রাখা হয়েছে।
এদিকে হাইকোর্ট বিভাগের অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এর মধ্যে দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি রাখা হয়েছে। সোমবার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে সারাদেশের অধঃস্তন আদালতের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে গত রোববার সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অধঃস্তন আদালতের কার্যক্রম চলবে। অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আর দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থাকবে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইডেন মহিলা কলেজ শাখার সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার বিরুদ্ধে করা এক মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তফাদার। তিনি জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর তামান্না জেসমিন রিভাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মামলায় রিভাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সূত্র থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ক্যাম্পাস ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান রিভা। এরপর তাকে জনসম্মুখে আর দেখা যায়নি। পরে ১৬ ডিসেম্বর রাতে তাকে আটক করা হয়।