সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় করা মামলা বাতিল করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর বিরুদ্ধে ৬ মামলা বাতিল করেছেন আদালত।আজ বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির অভিযোগে ২০১৬ সালে চট্টগ্রামে তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে এ মামলা হয়। খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকীকে আসামি করে এ মামলা করেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদের।
বাদীর আইনজীবী সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম জানান, ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী ২০১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত পেজে ইংরেজিতে একটি পোস্ট দেন। এর বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়, ‘শেখ হাসিনাকে হত্যা সম্ভব নয়, কারণ শেখ হাসিনার চারদিকে ভারতের বিশেষ নিরাপত্তার চাদর রয়েছে। ভারতীয়রা সরাসরি শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বিধান করেছে। কারণ শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভারতের স্বার্থরই প্রতিনিধিত্ব করছেন। শেখ হাসিনাকে হত্যা ছাড়া বাংলাদেশের ক্ষমতার ভারসাম্য ও গণতন্ত্র ফেরানো সম্ভব নয়।’
ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকীর এ ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। নিশ্চয়ই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অনুমতিক্রমে তিনি এ পোস্ট দিয়েছেন। তাই এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছে।
এর আগে একই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় আরেক মামলা হয়। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগও আনা হয়।
গত ৩০ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ও রাজধানীর দারুস সালাম, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন থানায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা ১১টি মামলা বাতিল করেন হাইকোর্ট। মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়।
২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনাসভায় খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘আজকে বলা হয় এত লাখ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লাখ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। বিভিন্ন বই-কিতাবে নানান রকম তথ্য আছে।’
এরপর ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ মনোভাব পাওয়া যাচ্ছে অভিযোগ করে তা প্রত্যাহার করতে উকিল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা ড. মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা মোতাবেক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানান তিনি। পরে ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২৪ জানুয়ারি এ অনুমোদনের চিঠি হাতে পেয়ে ২৫ জানুয়ারি ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী।
জুলাই আন্দোলনে ঢাকার নীলক্ষেতের ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তাকে জামিন দেন। অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না থাকায় তার কারামুক্তিতে কোনো বাধা নেই।
আবুল বারকাতের আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হত্যা মামলায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) আবুল বারকাতের জামিন চেয়ে আবেদন করা হয় আদালতে। যে কোনো শর্তে চাওয়া হয় জামিন। বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আবুল বারকাতকে জামিন দেন।
এর আগে গত ৭ জুন জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার মামলায় জামিন পান তিনি। সেদিনই তাকে আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আমজাদ হোসেন তালুকদার।
পরে গত ১৪ জুন তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন তার জামিন আবেদন নাকচ করেন আদালত।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে নিউমার্কেট থানার নীলক্ষেত এলাকায় গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ। এ ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন তার শ্যালক আব্দুর রব।
গত বছরের ১০ জুলাই রাতে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। জালিয়াতির মাধ্যমে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৭ জুন এই মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। নিজ পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে তাকে দেওয়া হয় জামিন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘোষণাবিহীন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধারের মামলায় ডেভিড পিয়েরে আন্দ্রে ডেলন (৪৪) নামের এক ফরাসি নাগরিকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. এহসানুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোস্তাফিজুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। রাষ্ট্রপক্ষ এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৪ জুন) সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশত্যাগের সময় ডেভিড পিয়েরে নামের ওই ফরাসি নাগরিকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। বিমানবন্দরে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তার ব্যাগ ও লাগেজ তল্লাশি করে বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।
জব্দকৃত মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫২০ ইউএই দিরহাম, ১০ হাজার ৬৬০ সোম, ২ হাজার ৮০০ ইউরো, ১ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার, ৪৭০ সৌদি রিয়াল এবং ২০০ মরক্কান দিরহাম।
পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা বহনের ক্ষেত্রে ঘোষণা ও অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও ওই বিদেশি নাগরিক তা করেননি। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
মামলার রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত উৎস কী, এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কোন উদ্দেশে পাচার করা হচ্ছিল—তা উদ্ঘাটনের জন্য আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। এই মুদ্রা পাচারের পেছনে কোনো দেশি-বিদেশি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজধানীর মিরপুর থানায় দায়ের করা সাগর হত্যা মামলাসহ ৩টি মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক এমপি ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগম। সোমবার হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করেন। বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি এবিএম রবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন। এদিন আদালতে মমতাজ বেগমের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং অ্যাডভোকেট খায়রুন নেছা।
শুনানি শেষে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু জানান, মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি মামলায় হাইকোর্ট জামিন মঞ্জুর করেছেন। অবশিষ্ট ৩টি মামলার জামিন আবেদন শুনানির জন্য আগামী ১৮ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা মোকাবিলা করব।’
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার হন শিল্পী মমতাজ। পুলিশ জানিয়েছে, মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পরে গত ১৭ মে চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মমতাজ বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ আদেশ দেন।
মমতাজ বেগম একাধারে দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এবং সাবেক এমপি। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার কার্যক্রম বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে রাজধানীর মিরপুর থানায় করা সাগর হত্যা মামলায় সাবেক এমপি মমতাজ বেগমকে কোন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৫ জুন) সকালে কারাগার থেকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত এই আদেশ প্রদান করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজধানীর ওয়ারী থানায় দায়ের করা ওই মামলায় তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি একটি অনলাইন প্রতারক চক্র চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীর সাথে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। চক্রটি তাকে বিভিন্ন ধাপে টাকা বিনিয়োগ করতে প্ররোচিত করে এবং শুরুতে কিছু লভ্যাংশ দিয়ে আস্থা অর্জন করে। পরবর্তীতে মুনাফাসহ আসল টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এই ঘটনায় সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যুতি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরপর থেকেই তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন। বর্তমান মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির গঠন করা বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এ বেঞ্চে প্রথম কার্যদিবসেই ২০টি ডেথ রেফারেন্স ও সংশ্লিষ্ট মামলা শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতনবিষয়ক মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বিশেষ এই বেঞ্চ গঠন করেছেন। প্রথম কার্যদিবসে তালিকাভুক্ত ২০টি মামলার মধ্যে ২০ নম্বরে রয়েছে আলোচিত মাগুরার আট বছর বয়সি শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা।’
তিনি জানান, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিটি মামলার শুনানির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং কোনো মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মুলতবি চাওয়া হবে না। আছিয়া হত্যা মামলার অগ্রাধিকারভিত্তিক শুনানির বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিচারকরা জানান, কার্যতালিকার শুরুতে থাকা ২০১৯ সালের মামলাগুলোর আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কারাগারে রয়েছেন। সে কারণে সেসব মামলার শুনানিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সুযোগ থাকলে আছিয়ার মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
রোববারের কার্যতালিকায় থাকা ২০টি মামলার মধ্যে মাগুরার আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পাশাপাশি ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে গত ১০ জুন অ্যাটর্নি জেনারেল ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু নির্যাতনবিষয়ক মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পৃথক এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বেঞ্চে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সসহ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পর আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার শুনানির জন্যও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। স্বয়ং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে গঠিত এ টিম বিরতিহীনভাবে মামলাটির শুনানি পরিচালনা করবে, যাতে নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর ফলে তার কারামুক্তি আটকে গেছে।
পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তাকে এই গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই রাতে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে গত ৭ জুন দুদকের মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি তিনি।
ওইদিন আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আমজাদ হোসেন তালুকদার। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির আজ রোববার দিন নির্ধারণ করেছিলেন। শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
আবুল বারকাতের পক্ষে তার আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার না দেখাতে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
আবুল বারকাতের আরেক আইনজীবী বাবুল মিয়া বলেন, ‘কারামুক্ত হতে আবুল বারকাতকে এ মামলায় জামিন পেতে হবে। আমরা তার জামিন আবেদন করেছি। আজ সোমবার জামিন শুনানি হবে।’
ড. আবুল বারকাত ঘটনার দিন সময় অনুমান ১১-১২টার দিকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলাকায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থক নেতৃবৃন্দকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জন্য আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে বলে আটক রাখার আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেটের নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন। এ ঘটনায় আব্দুল ওয়াদুদের শ্যালক আব্দুর রব নিউ মার্কেট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় কারাগারে থাকা রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। আজ রবিবার বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে এই আদেশ প্রদান করেন। তবে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালত অধ্যাপক কলিমুল্লাহর পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তারোপ করেছেন।
উচ্চ আদালতে কলিমুল্লাহর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ফজলুর রহমান, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মামুন মাহবুব ও আইনজীবী কাজী আহসান হাবিব। দুদকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী খান মো. মইনুল হাসান লিপন এবং রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
অধ্যাপক কলিমুল্লাহর আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, ‘হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে জামিন দিয়েছেন। তবে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান যে, কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকায় তার কারামুক্তিতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ও এ কে এম নূর-উন-নবীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছিল দুদক। মামলার এজাহারে শেখ হাসিনা ছাত্রী হল ও ড. ওয়াজেদ মিয়া রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়ায় প্রায় চার কোটি টাকার অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে উচ্চ আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন সাবেক এই উপাচার্য।
রাজধানীর রমনা থানায় দায়ের করা সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম চৌধুরীকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ)-এর উপপরিদর্শক আমির হামজা গত ৯ জুন ফাহিমকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আর এস ফাহিম চৌধুরী একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সাবেক নেতা এবং এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম অর্থ যোগানদাতা। তদন্তে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য প্রমাণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রমনা পার্কের পাশে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন এলাকায় আসামিরা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এক গোপন ষড়যন্ত্রমূলক মিটিংয়ে মিলিত হয়েছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে তদন্তে ফাহিমের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসে।
গত ২৯ মার্চ বিকেলে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে সাধারণ জনতা ও একদল শিক্ষার্থী ফাহিমকে আটক করে শাহ আলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং ৩০ মার্চ জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমান সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো জরুরি বলে আদালতকে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই ৮০৯ পৃষ্ঠার বিশদ রায় প্রকাশ করেন। এই রায়ে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির সাজার সপক্ষে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ, আইনি যুক্তি এবং দণ্ড নির্ধারণের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম এবং বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
রায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন বেরোবির সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ, সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডল এবং বেরোবি ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া। উল্লেখ্য, এই পাঁচজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আটজন আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম এবং ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা।
এছাড়া মামলার অন্য ১১ জন আসামিকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে বেরোবির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল বেরোবির প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজের হাজতবাসকেই তার সাজার পূর্ণ মেয়াদ হিসেবে গণ্য করেছেন। প্রকাশিত এই পূর্ণাঙ্গ রায়ে আবু সাঈদ হত্যার নৃশংসতা এবং এর নেপথ্যে থাকা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক যোগসাজশের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অধীনে অধস্তন আদালতে আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ) পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সাফল্যের খবর নিশ্চিত করেছেন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের স্টোরিতে জাইমা রহমান লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি আপনাদের কাছে ছোট একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের কথা শেয়ার করতে চাই। আমার দেশে আইন প্র্যাকটিসের জন্য আজ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রথম ধাপ এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।’
জানা গেছে, শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত ১০০ নম্বরের এই এমসিকিউ পরীক্ষায় জাইমা রহমান রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজ কেন্দ্রে অংশ নেন। একই দিন রাতে বার কাউন্সিলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
বার কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, এবারের এমসিকিউ পরীক্ষায় মোট ৩৭ হাজার ৮০ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে জাইমা রহমানসহ মোট ৯ হাজার ২০১ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের এখন দ্বিতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় পাসের পর সর্বশেষ ধাপে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই তারা আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করার চূড়ান্ত সনদ পাবেন।
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই সাফল্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তার এই অর্জন আইনজীবী হিসেবে দেশের বিচার ব্যবস্থায় অবদান রাখার পথে প্রথম বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য ও কারণ উন্মোচনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
লাশ উত্তোলনপূর্বক নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এই আদেশ দেন। সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আনুষঙ্গিক আইনি কার্যক্রম শেষ করেই দ্রুত লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার ও তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সালমান শাহর মা নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরী, বাবা মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় সালমানের সাথে দেখা করতে যান। তখন সালমানের স্ত্রী সামীরা হক এবং কর্মচারী আবুল তাদের জানান যে সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন। তারা গ্রিন রোডের বাসায় ফিরে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে টেলিফোনে জানানো হয় যে সালমানের কিছু একটা হয়েছে। পরিবার দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, সালমান শাহ শয়নকক্ষে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয় এবং রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘদিন পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে এই ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আদালতের এই নির্দেশনার পর ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রমনা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় চিত্রনায়ক সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র অভিনেতা ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, লতিফা হক লুছি, আব্দুস সাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন সালমান শাহকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখা গিয়েছিল।
সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী জীবিত থাকাকালীন ১৯৯৭ সালেই এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করে আদালতে দরখাস্ত দিয়েছিলেন এবং সিআইডি তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর এখন সালমানের মামা বোনের পক্ষ থেকে এই মামলাটি পরিচালনা করছেন। এজাহারে দাবি করা হয়েছে, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ও পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন।
ব্যভিচার, মানহানি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া বিয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলা থেকে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আলোচিত মামলার রায় প্রদান করেন। রায়ের সময় নাসির ও তামিমা সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে নাসির তাঁর স্ত্রী তামিমার হাত ধরে এজলাসে প্রবেশ করলে আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় জমান উৎসুক জনতা। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের পর গত ১৬ এপ্রিল এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছিল। ক্রিকেটার নাসিরের এই আইনি লড়াই দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল।
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। রাকিবের দাবি ছিল, তাঁর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বলবৎ থাকাকালীনই তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা প্রচলিত আইন ও ধর্মীয় রীতির পরিপন্থী।
এজাহারে আরও বলা হয়েছিল যে, ক্রিকেটার নাসির হোসাইন তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজ আয়ত্তে নিয়ে গেছেন। এই অবৈধ সম্পর্কের ফলে রাকিব এবং তাঁর আট বছর বয়সী কন্যা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবেও বড় ধরণের মানহানির শিকার হয়েছেন। সব ধরণের তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে আদালত আজ তাঁদের নির্দোষ ঘোষণা করে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২১ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (৯ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দিন ধার্য করেন। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ তারিখ পেছানো হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, এ মামলায় আজ পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের কথা ছিল। সাক্ষীও যথাসময়ে আদালতে উপস্থিত হন। তবে গত ৭ জুন রাতে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যু হয়। ফলে নতুন আইনজীবী নিয়োগসহ সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি রাখার আবেদন করে আসামিপক্ষ। পরে আবেদন মঞ্জুর করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন আদালত।
এর আগে, ২৩ এপ্রিল চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া হাবিবুর রহমান মল্লিকের জেরা সম্পন্ন হয়। ২২ এপ্রিল তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে, আজ সকালে কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। সাক্ষ্যগ্রহণ না হওয়ায় পরে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে জিয়াউলের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুরের পুবাইলে তিনজনকে হত্যা, ২০১০-২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনায় ৫০ জন এবং একই সময়ে আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।