সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চ্যানেল ওয়ান সম্প্রচারে আসতে বাধা নেই: আইনজীবী

বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১৩:৩৮

দেড় দশক ধরে বন্ধ থাকা বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল ওয়ান’ সম্প্রচারে আসতে বাধা নেই বলে জানালেন আইনজীবী।

চ্যানেল ওয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে (আপিলের অনুমতি দিয়ে) আজ সোমবার আদেশ দেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ।

আজকের আদেশের বিষয়ে চ্যানেল ওয়ানের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপিল বিভাগ আজ লিভ গ্রান্ট করে চ্যানেল ওয়ান বন্ধে বিটিআরসির নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন। আজকের এই আদেশের ফলে বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল ওয়ান’ সম্প্রচারে আসতে বাধা নেই।

২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল চ্যানেল ওয়ান এর ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি। চ্যানেল ওয়ান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আওয়ামী লীগ সরকার চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ করে। পরবর্তী সময়ে সম্প্রচার বন্ধের বিষয়টি হাইকোর্ট হয়ে আপিল বিভাগে শুনানির জন্য আসে।


নির্বাচিত

হাতকড়াসহ পালালেন কুলিয়ারচরের আওয়ামী লীগ নেতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সোমবার দুপুরে উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পালিয়ে যাওয়া মো. রেনু মিয়া ওই এলাকার বাসিন্দা ইল্লাত মিয়ার ছেলে। তিনি ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে কুলিয়ারচর থানায় রেনু মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় খবর পেয়ে বাড়ির আশপাশে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। তবে কোনো ধরনের হট্টগোল হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। একপর্যায়ে লোকজনের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান রেনু মিয়া।

কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘রেনু মিয়াকে পুনরায় গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’


নির্বাচিত

জুলাই হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা, কামাল, কাদেরসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় সংঘটিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার পৃথক দুটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৬৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপরাধের সঙ্গে প্রাথমিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ না মেলায় উভয় মামলার এজাহারভুক্ত মোট ১০৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নাদিম নামের এক যুবককে হত্যাচেষ্টার মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইব্রাহিম খলিল। অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় এ মামলায় এজাহারভুক্ত ৬৬ জনকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নাদিম গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনায় মামলাটি করা হয়েছিল। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দাখিল করা এ অভিযোগপত্রের ওপর আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে। এ মামলার অন্য শীর্ষ আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ এবং সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।

অন্যদিকে আন্দোলনে বাবুল মৃধা নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক চার্জশিট দাখিল করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মাহমুদুল হাসান ইরফান। গত ১৩ আগস্ট আদালতে জমা দেওয়া এ মামলায় সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে ৩৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিএমএইচে মারা যান বাবুল মৃধা, যার প্রেক্ষিতে তাঁর স্ত্রী সীমা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

বাবুল মৃধা হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু এবং এস এম শাহজাদাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিপরীতে অব্যাহতি চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সদস্য হাবিবুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা অর্থ দাস, রবিন খান ওরফে মেকআপ রবিন, মনির আহমেদ ও লুৎফুর রহমানসহ ৩৯ জন।


নির্বাচিত

সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে তার পরিবার।

রোববার পরিবারের পক্ষে মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আল রোমান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের হাতে এ অভিযোগ তুলে দেন।

অভিযোগ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধিক্ষেত্রে পড়ে কি না বা এখানে বিচার সম্ভব কি না, তা আইনানুযায়ী যাচাই-বাছাই করবে প্রসিকিউশন টিম। পাশাপাশি প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে কোনো নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট টাস্কফোর্সকে হস্তান্তর করা হবে।

হাইকোর্টের নির্দেশে সাগর-রুনি হত্যা মামলাটির তদন্ত বর্তমানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স পরিচালনা করছে। এর আগে নিম্ন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা এ পর্যন্ত ১২৯ বার সময় নিয়েছেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, চট্টগ্রামে জুলাই গণহত্যা মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার কিছু অভিযোগ প্রসিকিউশন পেয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোনো ধরনের হুমকি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য ব্যাহত করা যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সাগর রুনি হত্য মামলার লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মেহেরুন রুনি খুন হন। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ বছরেও এ হত্যাকাণ্ডের কোনো কিছু বের করতে পারেনি একাধিক তদন্ত সংস্থা।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাব ব্যর্থ হওয়ার পর হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করতে দেওয়া হয়। অথচ সংস্থাটি তদন্ত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা।

এছাড়া দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানোর পাশাপাশি অভিযোগটি রেজিস্টারভুক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তারা।


নির্বাচিত

মাওলানা ফারুকী হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ও চ্যানেল আইয়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান কাফেলার উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

রোববার ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্দুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সময়ের আবেদন করেন।

পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ২৫ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর মামলাটিতে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম অভিযোগপত্রটি জমা দেন। এতে আরো ১২ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর, আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, রফিকুল ইসলাম ফারদীন, আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী, মাহমুদ ইবনে বাশার এবং রতন চৌধুরী ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রিপন ওরফে রাকিবুল ইসলাম রিয়াজ।

আসামিদের মধ্যে মাহমুদ ইবনে বাশার ও রফিকুল ইসলাম ফারদীন পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর কারাগারে রয়েছেন। অপর তিন আসামি জামিনে আছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে নুরুল ইসলাম ফারুকীর বাসায় কলিং বেল চাপেন কয়েক দুর্বৃত্ত। দরজা খুললে দুজন বাসায় ঢুকে নুরুল ইসলামের সঙ্গে ড্রয়িংরুমে বসেন। কিছুক্ষণ পর আরো ছয় থেকে সাতজন সেখানে প্রবেশ করেন।

এ সময় নুরুল ইসলামের মামাতো ভাই মারুফ হোসেন চেয়ার আনতে ভেতরে যান। ফিরে এসে তিনি নুরুল ইসলামের মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ধরে রাখতে দেখেন আসামিদের। পরে দুর্বৃত্তরা বাসার সবাইকে বেঁধে নুরুল ইসলাম ফারুকীকে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে শেরেবাংলানগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়।

নুরুল ইসলাম ফারুকী চ্যানেল আইয়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘কাফেলা’ ও ‘শান্তির পথে’ এবং মাই টিভির ‘সত্যের সন্ধানে’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন।


নির্বাচিত

আদালতের রায়-আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল অবৈধ: হাইকোর্ট

আপডেটেড ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৫
‎নিজস্ব প্রতিবেদক 

আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের স্ট্রাইক বা হরতাল ডাকাকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে এ ধরনের কোনো ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে ফৌজদারি আইনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রসচিব, বিআরটিএ ও বিআরটিসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রায়ে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুসারে আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি।

২০১১ সালের আগস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওরে সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মনিরসহ পাঁচজন নিহত হয়। ওই ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা হলে ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বাসচালককে সাজা দেন। সাজার প্রতিবাদে বাসমালিকেরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল পালন করে বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ রিট করে।

এইচআরপিবির রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। সেই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট বা হরতাল প্রত্যাহার করার নির্দেশ এবং গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। ওই রিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেন হাইকোর্ট।

আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব। বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসিবুল হক। বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন মো. রাফিউল ইসলাম।

মনজিল মোরসেদ বলেন, দুর্ঘটনার কারণে ড্রাইভারকে সাজা দেওয়ার প্রেক্ষিতে মালিকেরা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে আদালতের আদেশের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। শুধু তাই নয় সব নাগরিকের চলাচলের স্বাধীনতা ধর্মঘটের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।


নির্বাচিত

এবার প্রেম-রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমা বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রেম ও রোমান্স নির্ভর সিনেমা এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন এক আইনজীবী। মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নামের এই আইনজীবী এর আগে একই বিষয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন।

রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দায়ের করা হয় বলে গণমাধ্যমকে জানান রিটকারী আইনজীবী। এর আগে গত ২৭ আগস্ট এ বিষয়ে বিবাদীদের একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশের পর কার্যকর কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ না পাওয়ায় জনস্বার্থে ও জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষায় এ রিট দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, এর আগে আইনি নোটিশ পাঠানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে কেবল প্রেম এবং মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের অবাধ সম্প্রচার সমাজে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মূলধারার এসব গণমাধ্যমে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো বিষয়গুলোকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং সমাজের ঐতিহ্যবাহী নৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে চরম সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে।

রিটে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের (যেমন—হিন্দুস্তান টাইমস, ডেইলি সাবাহ এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমস) বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে, এ ধরনের লাগামহীন রোমান্টিক ও উসকানিমূলক সিনেমা যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং সমাজে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও অপরাধ বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে রিটে বলা হয়, বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার কথা সংবিধানে থাকলেও তা শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রযোজ্য। জননৈতিকতা ধ্বংসকারী এবং সামাজিক অপরাধে প্ররোচনা জোগায়—এমন কোনো কনটেন্ট অবাধে সম্প্রচার করা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা পেতে পারে না। এছাড়া সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ রাষ্ট্রের পরম সাংবিধানিক দায়িত্ব।

রিটে কেবল প্রেমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ ও সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি যুবসমাজের সৃজনশীল মেধা বিকাশ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষানির্ভর চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির আর্জি জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

একদিকে নিয়োগ-পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য, অন্যদিকে টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন। এর সঙ্গে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে ভিলা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এমন বিস্তর অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রাপ্ত অভিযোগে আর্থিক অনিয়ম ও লেনদেনের যেসব অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো যোগ করলে পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুদক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, এর মধ্যে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ সবচেয়ে বড় অঙ্কের। বাকি অর্থের অভিযোগ রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিভিন্ন পদে নিয়োগ, প্রকল্প, টেন্ডার এবং ঘুস লেনদেন ঘিরে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বদলি, কেনাকাটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমেসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।

দুদক জানায়, আগের অভিযোগের সঙ্গে নতুন অভিযোগটি সংযুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

ডিসি পদায়নেও টাকার খেলা

দুদক বলছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। একইভাবে সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। ৩৬ জনের ক্ষেত্রে অভিযোগে উল্লেখিত সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ অঙ্ক হিসাবে সম্ভাব্য লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭২ কোটি থেকে ৩৬০ কোটি টাকা। বিষয়টি অনুসন্ধানে যাচাই করবে দুদক।

এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গেও আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা বাড়ানোর অভিযোগ

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আবেদনে। ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ওই প্রকল্পের বরাদ্দ ও অর্থ গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

১০ কোটি ঘুসে ওয়াসার এমডি নিয়োগ

ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ নেওয়ার বিষয়টিও অনুসন্ধান করছে দুদক। এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুসের বিনিময়ে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

বিদেশে ১১ হাজার কোটি:

দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে দুদক। চার দেশে মোট অর্থপাচারের অভিযোগ ১১ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থ দিয়ে বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।

দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের দুই বোন জামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।

বাবা-এপিএস-পিওর বিরুদ্ধেও অভিযোগ

অভিযোগে আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ করা হয়েছে। তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুস লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হেলিকপ্টারে কম্বল বিতরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় এবং বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাশাপাশি পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও গাড়ি ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব বিষয়েই অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

আগের অনুসন্ধানে যা ছিল

এর আগেও আসিফ মাহমুদসহ সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

ওই অনুসন্ধানে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকা, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য ২ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের টেন্ডার, কেনাকাটা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগের কথাও বলা হয়। চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিমকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এখন বড় পরিসরে অনুসন্ধান

নতুন অভিযোগে একাধিক মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, উন্নয়ন প্রকল্প, নিয়োগ-পদায়ন এবং চার দেশে অর্থপাচারের অভিযোগ একসঙ্গে এসেছে। বিশেষ করে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের তথ্য থাকায় বিষয়টি বড় পরিসরে অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে।


নির্বাচিত

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যাবতীয় সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিট আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ খারিজাদেশ প্রদান করেন ।

শুনানিতে আওয়ামীপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত নূরনবী বুলবুল আদালতে দাবি করেন, রিটকারী মো. আল আমিনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই, ফলে দলটির পক্ষ হয়ে এ ধরনের রিট আবেদন করার কোনো আইনগত অধিকার বা এখতিয়ার তাঁর থাকতে পারে না। শুনানিকালে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ইউনূস আলী এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা মো. আল আমিনের পক্ষে এই রিট পিটিশনটি দায়ের করা হয়েছিল।

রিট আবেদনে ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে আদালত থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ওই আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রকাশনা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত ঘোষণা করে পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছিল।


নির্বাচিত

জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রের কোনো আইনি বৈধতা নেই: হাইকোর্ট

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে জোরপূর্বক বা চাপের মুখে আদায় করা পদত্যাগপত্রের কোনো ধরনের আইনি ভিত্তি নেই বলে যুগান্তকারী এক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বলপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষককে অনতিবিলম্বে সসম্মানে স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, আদালতের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো প্রকার অনীহা দেখালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া, পর্ষদের সভাপতিকে পদ থেকে অপসারণ এবং প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমপিও সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করার মতো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ‘গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’-এর প্রধান শিক্ষক মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদকে বলপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই রায় দেন উচ্চ আদালত। বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতির লিখিত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। আদালতে রিটকারী শিক্ষকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মো. জহুরুল ইসলাম মুকুল ও মানবেন্দ্র রায়, অন্যদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম রেজাউল ইসলাম।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট একদল বহিরাগত গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলকাছ উদ্দিন আহমেদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোরপূর্বক তাঁর কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়। ঘটনার পরদিনই তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং উপজেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে শিক্ষা বোর্ড তাঁকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দিলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। বোর্ডের সেই আদেশ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেখে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে আদালত প্রাথমিক রুল জারির পাশাপাশি ওই পদত্যাগপত্রের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।

রায়ের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, রিটকারীর দেওয়া পদত্যাগপত্রটি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ছিল না এবং দেশের প্রচলিত আইন কোনো ধরনের জবরদস্তিমূলক পদত্যাগকে সমর্থন করে না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) পাওয়ায় তাঁকে দায়িত্ব পালনে বহাল রাখতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনিভাবে বাধ্য ছিল। আদালত আরও অভিমত দেন যে, ম্যানেজিং কমিটির যেকোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা বা বাতিলের সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতা শিক্ষা বোর্ডের রয়েছে এবং বোর্ডের বৈধ নির্দেশনা অমান্য করা চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। অতএব, অবিলম্বে এই শিক্ষককে পদে পুনর্বহাল করতে হবে; অন্যথায় শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মাউশির মহাপরিচালককে নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী পরিচালনা পর্ষদ বাতিল, সভাপতিকে বরখাস্ত এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমপিও বাতিলের আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করার সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হলো।


নির্বাচিত

ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্টের রায়

ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার আয়কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই সমুদয় অর্থ পরিশোধ সম্পন্ন করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত পূর্বে জারি করা রুল খারিজ করে এই রায় দেন। আদালতে ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আইনি শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।

আদালতের এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করবো।’

নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত ৪ অক্টোবর বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের কর পরিশোধসংক্রান্ত আগের রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করেন। পরবর্তীতে মামলাটির নথি প্রধান বিচারপতির নিকট পাঠানো হলে তিনি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নতুন বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন। ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণের কাছে পুনর্মূল্যায়নের ভিত্তিতে এনবিআরের কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে তখন রুল জারি করা হলেও নতুন হাইকোর্ট বেঞ্চ তা খারিজ করে দেওয়ায় এনবিআরের এই অর্থ আদায়ে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।


নির্বাচিত

বিআরটিএর অনুমতি ছাড়া স্লিপার বাস চালানো যাবে না: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মহাসড়কগুলোতে স্লিপার বাস নামানোর অনুমতি চেয়ে পরিবহন মালিক সমিতির করা আবেদনে সাড়া দেননি উচ্চ আদালত। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এই ধরনের বাস চলাচলের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আদালত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম। আইনি যুক্তি ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পরবর্তীতে তিনি বলেন, "স্লিপার বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন একটি অ্যাপ্লিকেশন দিয়েছিল, তারা স্লিপার বাস সড়কে চালাতে চায়। আমি আদালতে বলেছি, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮—এর ধারা হলো ৪০-এ। ৪০-এ বলে দেওয়া আছে টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন। যদি টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন কেউ ভায়োলেশন করে, তাহলে সেটা ৮০-সেকশন ৮৪ দ্বারা এগুলো অফেন্স। এবং পানিশেবল অফেন্স, এর সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৩ বছর এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা। এছাড়া সেকশন ২৮, সড়ক পরিবহন আইন, সেখানে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া আছে—রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না।"

আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আইনজীবী আরও বলেন, "আদালত বলেছেন, শুধুমাত্র বিআরটিএ যেসব বাস চলাচলে পারমিশন দিয়েছে সেগুলো রাস্তায় চলাচল করবে। আর স্লিপার বাস চালানোর তো পারমিশন নাই। হাইকোর্টও পারমিশন দেয়নি।"


নির্বাচিত

হত্যা মামলায় সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ গ্রেপ্তার

সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার (১৭) হত্যা এবং অপর শিক্ষার্থী তারেক চৌকিদারকে হত্যাচেষ্টার মামলায় সাবেক চিফ হুইপ ও পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এ নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ডেমরা জোনের সাব-ইনস্পেক্টর নাজিম উদ্দিন ফকির এই আসামিকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন জানান। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মুখে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। সেই সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে বাম কাঁধে মারাত্মকভাবে বিদ্ধ হন শিক্ষার্থী নাইম। সংকটজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই সময়ে যাত্রাবাড়ী এলাকায় নিজ বাসার ছাদে গুলিবিদ্ধ হন তারেক চৌকিদার নামের আরেক শিক্ষার্থী। ওই সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় সাবেক এই চিফ হুইপের প্রত্যক্ষ মদদ ও যোগসাজশ রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। নাইম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদঘাটন, অন্য অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো আবশ্যক বলে আবেদনে যুক্তি তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে পুলিশ আ স ম ফিরোজকে আটক করার পর যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। আদালতের নতুন এই আদেশের মধ্য দিয়ে তাঁকে শিক্ষার্থী নাইম হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।


নির্বাচিত

ছবি ছাড়াই জাতীয় পরিচয়পত্র করার রিট খারিজ করলেন হাইকোর্ট

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছবি বাদ দিয়ে কেবল বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার সুযোগ চেয়ে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এর ফলে ছবি সংযুক্ত করেই নাগরিকদের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও ইলিয়াছ আলী মণ্ডল। অপরদিকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে কামাল হোসেন মিয়াজী বলেন, "এ বিষয়ে রুল খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র হবে না।"

মামলার বিবরণে জানা যায়, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে কঠোরভাবে পর্দা করার কারণ দেখিয়ে ছবি তুলতে অপারগতার কথা জানিয়ে ২০২২ সালে হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করেন রাজধানীর শাহজাহানপুরের শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা। রিট আবেদনে তাঁর স্বামী মুহম্মদ আরিফুর রহমানকে সার্বিক বিষয়ে কর্তৃত্ব দেওয়া হয়। এর আগে ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন বরাবর একটি আবেদন পাঠিয়েছিলেন ওই নারী। সেখানে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ও পর্দানশিন মুসলিম নারী হিসেবে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়ে উল্লেখ করেন, এনআইডি না থাকায় তিনি মৌলিক নাগরিক সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ছবি ছাড়া বিকল্প পদ্ধতিতে পরিচয়পত্র পাওয়ার অনুরোধ জানালেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

উক্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২২ সালের ৬ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। রুলে বিকল্প পরিচয় হিসেবে ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সেই রুলটি খারিজ করে দেন আদালত। ইতিপূর্বে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি তুলে ধরেছিল যে, ছবি ছাড়া পরিচয়পত্র প্রদানের দাবি আইনি কাঠামোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়; কারণ ব্যাংকিং লেনদেন কিংবা হজ পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব ক্ষেত্রেই ছবির ব্যবহার অপরিহার্য এবং বায়োমেট্রিক আইরিশ শনাক্তকরণেও মুখমণ্ডলের একাংশ উন্মুক্ত করতে হয়।


নির্বাচিত

banner close