মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
১০ ভাদ্র ১৪৩৩

কামরাঙ্গীরচর থেকে মানব পাচার চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার

আপডেটেড
২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ১৫:১৮
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ১৫:১৮

মাদারীপুর জেলার মানব পাচার চক্রের মূলহোতা গোলাম মোল্লাকে (৩৯) কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাব-২ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর একটি দল গতকাল ২৩ এপ্রিল রাতে তাকে গ্রেফতার করে।

গোলাম মোল্লা মাদারীপুর সদর মডেল থানার মানব পাচার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা পেছাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১২
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স এবং আপিলের ওপর হাইকোর্টের রায় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নতুন করে আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) রায়ের দিন ধার্য করেছেন।

আজ আলোচিত এই মামলার রায়ের জন্য নির্ধারিত দিন থাকলেও আদালতের শুরুতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক সময়ের আবেদন করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল নিজে শুনানি করেছেন এবং তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতির কারণে রাষ্ট্রপক্ষ সময় প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করে ৩১ আগস্ট রায়ের নতুন তারিখ ঘোষণা করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় গত বছরের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছর বয়সী আছিয়া। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে শুধু ধর্ষণই করেননি, বরং নির্মমভাবে হত্যারও চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।

নিম্ন আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে গত বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করেন। মামলার বাকি তিন আসামিকে প্রমাণের অভাবে খালাস দেওয়া হয়।

নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র উচ্চ আদালতে প্রেরিত হলে তা পেপারবুক আকারে শুনানির জন্য প্রস্তুত করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক এবং আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান মামলাটি পরিচালনা করছেন। পুরো মাগুরাবাসী তথা দেশবাসী এখন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত ন্যাবিচার পাওয়ার প্রতীক্ষায় রয়েছেন। ৩১ আগস্টের রায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে দণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের চূড়ান্ত ভাগ্য।


নির্বাচিত

তিন কারণে ডনকে ৭ দিনের রিমান্ডে চায় সিআইডি

ছবি: চিত্রনায়ক সালমান শাহ ও খল চরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ডন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা খল চরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে তিন কারণ দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি। আবেদনে ডনকে ‘অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির লোক’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান গত বৃহস্পতিবার এ আবেদন করেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানান, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন আগামী ২৭ আগস্ট ধার্য করেছেন।

রিমান্ডের জন্য আবেদনে তিন কারণ দেখিয়ে সিআইডি বলেছে, মামলার ঘটনা আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। ভুক্তভোগী জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার মা মামলার পর থেকে অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিভিন্ন পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৎপর রয়েছেন। এমতাবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

রিমান্ড আবেদনের দ্বিতীয় কারণে ডনকে ‘অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। সিআইডি বলছে, তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার ঘটনায় জড়িত অপরাপর সহযোগী আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ও নিবিড়ভাবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তৃতীয় কারণ হিসেবে সিআইডির দাবি, ডনের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৌশলে, কী কারণে ও কার ইন্ধনে তিনি বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছিলন এ সংক্রান্ত তথ্য উদঘাটনসহ মামলার প্রকৃত রহস্য জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ৯ আগস্ট ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।

সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে গেল বছরের ২০ অক্টোবর তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি করেন।

চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।

ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কিন্তু পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি।

তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন।

সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত।

দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।

সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, এরা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

মামলাটি এরপর তদন্ত করে র‌্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র‌্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার আদেশ দেন।

তখন তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।

সেখানেও বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।

ওই প্রতিবেদনেও অসন্তুষ্টি জানান সালমানের মা নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে তিনি আরও তদন্ত চান।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।

এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় নিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়েরের আবেদন করা হয়।

২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন গ্রহণ করেন। তবে বিভিন্ন কারণে আর রিভিশন শুনানি হয়নি।

গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার মায়ের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। এ বিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে রমনা মডেল থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।

এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত পলাতক আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করেন মোহাম্মদ আলমগীর।


নির্বাচিত

১৬ জনকে ফাঁসি দেওয়া সেই বিচারকের ক্ষমতা কেড়ে নিলেন হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত এক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, ১৬ জন আসামির সবাইকে একসাথে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশটি যথাযথ ছিল না এবং ওই রায়ে বিচারক মামুনুর রশিদ সঠিক বিচারিক মানসিকতা প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছেন। এর ফলে তাঁকে অবিলম্বে ফৌজদারি মামলার বিচারকাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণার সময় এই কঠোর পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন। রায়ে ১৬ জন আসামির মধ্যে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া ৪ জন আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ জন আসামিকে নির্দোষ হিসেবে খালাস প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর বিচারক মামুনুর রশিদ ১৬ জন আসামির সকলকেই মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছিলেন। উচ্চ আদালত মনে করেন, গণহারে এই দণ্ড দেওয়ার মাধ্যমে বিচারিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারেননি নিম্ন আদালতের ওই বিচারক।

ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চ মাসে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর অনুসারীরা ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে নুসরাতকে কৌশলে ছাদে ডেকে নেয়। সেখানে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।

হাইকোর্টের আজকের এই রায়ের মাধ্যমে ১৬ জন আসামির মধ্যে ১৪ জনের ভাগ্য পরিবর্তন হলো। অধ্যক্ষ ও শামীমের সাজা বহাল থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন ও কাউন্সিলর মাকসুদুল আলমসহ ১০ জন মুক্তি পেতে যাচ্ছেন । উচ্চ আদালতের এই রায় ও বিচারকের প্রতি দেওয়া নির্দেশনার মাধ্যমে বিচারিক মানদণ্ডের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হলো। বর্তমানে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপির অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।


নির্বাচিত

চাঁদা দাবির অভিযোগে জামায়াত এমপির পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আরমান উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং দোকান ঘর দখলের অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিন ও তাঁর ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ রবিবার (২৪ আগস্ট) লোহাগাড়ার বাসিন্দা আমির হোসেন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই নালিশি মামলাটি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—শওকত আলী, মো. আদিল, মো. আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান।

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে লোহাগাড়ায় জমি ক্রয় করে একটি চারতলা ভবন নির্মাণ করেন বাদী আমির হোসেন। ভবনটির নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং উপরের তলায় বাসা ভাড়া দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তাঁর ভাইসহ অন্যান্য আসামিরা বাদীর কাছে দীর্ঘ দিন ধরে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। বহিরাগত হওয়ার দোহাই দিয়ে এবং সেখানে বসবাস করার বিনিময়ে এই অর্থ দাবি করা হয় বলে বাদী উল্লেখ করেছেন।

গত ৩ এপ্রিল রাত ২টার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইলে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে বাড়ি দখলের হুমকি দেন। ওই রাতেই আসামিরা বাদীর ভবনের নিচতলায় থাকা দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় ১১ লাখ ৫৮ হাজার টাকার মালামাল ও ক্যাশ থেকে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া আসামিরা ভাড়াটিয়াদের নির্দেশ দেন যেন আগামী মাস থেকে ভাড়া তাঁদের হাতে দেওয়া হয়।

বাদী আমির হোসেন জানান, ঘটনার সময় তিনি প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে গত ২০ আগস্ট বিষয়টি মিমাংসার জন্য বসলে আসামিরা পুনরায় চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান ছাড়বেন না বলে জানান। এমনকি চাঁদা না দিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। এদিকে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, আদালতের আনুষ্ঠানিক আদেশ পেলে তাঁরা দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবেন। বর্তমানে এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


নির্বাচিত

২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ আদালতের বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১৬ জন আসামির মৃত্যুদণ্ডের সাজা সংশোধন করে মাত্র ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া ৪ জন আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং মামলার অপর ১০ জন আসামিকে সম্পূর্ণ খালাস প্রদান করেছেন আদালত।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে নুসরাত জাহান রাফিকে কেরোসিন ঢেলে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় একদল পাষণ্ড। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠানো হলেও ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ওই সময় দেশজুড়ে ব্যাপক জনরোষ ও ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল।

ঘটনার তদন্ত শেষে পুলিশ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দিলে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয়। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত ১৬ জনকেই দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন। নিম্ন আদালতের এই রায়ের পর নিয়ম অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স অনুমোদন ও দণ্ডপ্রাপ্তদের আপিল শুনানির জন্য মামলাটি উচ্চ আদালতে পৌঁছায়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আজ হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করলেন। এর ফলে নিম্ন আদালতে দণ্ড পাওয়া ১৬ জনের মধ্যে ১০ জনই মামলা থেকে নিষ্কৃতি পেলেন।


নির্বাচিত

ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার হাইকোর্টে রায় ঘোষণা চলছে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রায় পড়া শুরু হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত আছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। অন্যদিকে, আসামিদের পক্ষে রয়েছেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ২০ আগস্ট আদালত রায়ের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। এতে নুসরাত রাজি না হওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা নুসরাত ১০ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন, কাউন্সিলর মাকসুদুল আলমসহ মাদরাসার শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা।

নিম্ন আদালতের রায়ের পর নিয়ম অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি।


নির্বাচিত

৯৫ ভাগ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মাদক, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি

# গোপনে অপরাধীদের সহযোগিতার কারণেই এ অঞ্চলে সন্ত্রাসী, চরমপন্থিদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে : পুলিশ সুপার # নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয় : ডেপুটি পুলিশ কমিশনার # পুলিশ প্রশাসনের যতগুলো শাখা মাঠে রয়েছে শাখাগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে : নাগরিক সমাজ # যে কোন মূল্যে অপরাধ কর্মকাণ্ড থামাতে হবে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে : কেডিএ প্রশাসক # সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় বিশেষ ক্যাম্প স্থাপন করা হলে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করবে : কেসিসি প্রশাসক
ছবি: প্রতীকী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে তার ৯৫ শতাংশেরই নেপথ্যের কারণ মাদক কাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির ঘটনা। চাঁদাবাজদের কারণে বড় বড় ব্যবসায়ীরা সেল ফোন ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর সামাজিক অবক্ষয় আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাওয়ায় অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। এটি স্বীকার করেছেন খোদ পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। আর খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং-এর আধিপত্যের কারণে খুলনার জনপদ অশান্ত হয়ে উঠেছে। সর্বত্র বিরাজ করছে আতংক ও শঙ্কা।
তাদের মতে বর্তমান সময়ে আইন-শৃংখলা মানা হচ্ছেনা। যত্রতত্র ও কথায় কথায় ‘মব’ সন্ত্রাস করে আইন-শৃংখলার অবনতি ঘটানো হচ্ছে। পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় এটির একটি বড় কারণ। ‘মব’ সন্ত্রাসের কারণে মাঠ পর্যায়ে পুলিশের এসআই, এএসআই পর্যায়ের কর্মকর্তারাও আগেরমতো কাজ করছে না। তাদের ভেতরে অজানা আতংক কাজ করছে। ফলে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নত হচ্ছে না।
পুলিশ প্রশাসনের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে হলে সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবি সংগঠন, অর্থাৎ নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। তানা হলে পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়।
দুই বছরে ১৫০টির ওপরে হত্যাকাণ্ড :
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর গত দুই বছরে খুলনা জেলা ও নগরীতে দেড়শর অধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর ৯৫ শতাংশ হত্যাকাণ্ডই মাদক কাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে ঘটেছে।
খুলনা মেট্রেপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ক্রাইম ব্রাঞ্চ সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৭ মাস ২০ দিনে খুলনা নগরীতে ২৪টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র মাদক কাণ্ডেই ঘটেছে ৯টি হত্যাকাণ্ড। এসময়ের মধ্যে ২ হাজার ৮১৯ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হলেও অধিকাংশ অপরাধী জামিনে বেরিয়ে গিয়ে ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।
চলতি আগস্ট মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি:
গতকাল বুধবার নগরীর লবণচরা থানাধীন শিশু বাগান আশি বিঘা এলাকায় মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে নাজমুল (১৯) ও মো. মনজুরুল ইসলামকে (২২) কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। মাদক নিয়ে বিরোধেই এ দুটি হত্যা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৮ আগস্ট রাতে উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের আবু সালেহীন প্রতিবন্ধি স্কুলের সামনে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর বি কোম্পানির সদস্য মীর মামুনকে গুলি করা হয়। একই দিনে নগরীর রায়েরমহল বাজারের বড় মসজিদের কাছে রাজু (২৬) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ১৫ আগস্ট রাতে রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনী মহল গ্রামে জয় ঢালীকে (২৭) জবাই করে হত্যা করা হয়। ১২ আগস্ট রাতে রূপসা উপজেলার শ্রীরামপুরে ফখরুল শেখ (৩২) নামে এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে ইব্রাহিম কাটাপ্পা নামের এক চরমপন্থি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
এছাড়া একই দিনে নগরীর মুজগুন্নী আবাসিক এলাকায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় দৃর্বৃত্তরা। ১০ আগস্ট নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) সামনে শিমুল (৩৫) নামের এক গৃহবধূকে গুলি করে আহত করে সন্ত্রাসীরা। ৯ আগস্ট রাতে নগরীর ফরাজীপাড়ার আকবর স্টোরের সামনে বটিয়াঘাটা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা অনিন্দ্য কুমার দাসকে কুপিয়ে জখম করা হয়। ৮ আগস্ট বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব বাহদুর মুন্সির বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। ১ আগস্ট রাতে নগরীর টুটপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে ইসমাইল (৩২) নামে এক যুবক নিহত হন।
আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন পুলিশ ও নাগরিক নেতারা:
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, খুলনার অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধির বড় কারণ মাদক। এ অঞ্চলে ৯৫ শতাংশ হত্যাকাণ্ডই ঘটেছে মাদক কাণ্ডে। মাদক, আধিপত্যবিস্তার ও চাঁদাবাজির ঘটনা খুলনা অস্থিতিশীলের পেছনে অনেকটাই দায়ী।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর এসআই, এএসআইসহ মাঠ র্পাায়ের অফিসাররা একত্রিভুত হতে পারছে না। ট্রমা থেকে তারা এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি। তাদের মধ্যে ‘মব’ ভীতি কাজ করছে। আমরা চেষ্টা করছি পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনতে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে এ কর্মকর্তা বলেন, সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা কমে গেছে। ৫ আগষ্টের পর আইন ভাঙ্গার প্রবণতা বেড়ে গেছে। কাজেই পুলিশকে সহযোগীতা করতে সমাজের দায়িত্বশীল ব্যাক্তিদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। কেউ না কেউ গোপনে অপরাধীদের সহযোগিতা করে। যার কারণে এ অঞ্চলে সন্ত্রাসী, চরমপন্থিদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
জানতে চাইলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর) এস এম শাকিলুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির ক্ষেত্রে আমরা অসফল বলবো না, চেষ্টা করছি। পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যাবে। আমাদের কার্যক্রম থেমে নেই। অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার হচ্ছে। আসামিও ধরা হয়েছে। হরিণটানা এলাকার দুই খুনের ঘটনায় সন্দেহের তালিকায় সাইফি নামের এক সন্ত্রাসীর নাম আসছে। তাকেও এর আগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু সম্প্রতি হাইকোট থেকে জামিনে বের হয়েছে সে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামাজের একজন অভিভাবক থাকা দরকার। নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভুমিকা ছাড়া কোনো কিছুর উন্নয়ন সম্ভব নয়। শহরে হত্যাকাণ্ড হচ্ছে কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, স্বার্থগত দ্বন্দ্বের কারণে। পারিবারিক ও সামাজিক অধপতনের কারণে অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নাগরিক সমাজের সহযোগিতা ছাড়া পুলিশের একার পক্ষে অপরাধ দমন সম্ভব না। পুলিশের প্রতি সাধারণ নাগরিকদের আস্থা রাখতে হবে।

এদিকে অসুস্থ থাকার কারণে নব-নিযুক্ত খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে যোগদানের পর গত ৩ আগস্ট তিনি অপরাধ ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি মহানগরীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা, অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কোনো সময়ের রেকর্ডকে ভঙ্গ করেছে। খুলনার ইতিহাসে রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে তা নয়। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খল পরিস্থিতির ইতিহাসে এমন রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। এটা দীর্ঘদিনের একটা সংকটে রূপ নিয়েছে।
এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের যতগুলো শাখা মাঠে রয়েছে শাখাগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আমাদের প্রশ্ন প্রশাসনের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে, না কি পেশাদারিত্বের ঘাটতি রয়েছে। না কি প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। না কি শস্যের মধ্যে ভুত আছে। কোথাও না কোথাও ঘাটতি আছে। ঘর থেকে মসজিদ পর্যন্ত কোথাও নিরাপদ নেই। যখন তখন খুনের ঘটনা ঘটছে। পাখিও মানুষের মত মৃত্যু বরণ করে না।
খুলনাকে একটা ঝুঁকিপুর্ণ অঞ্চল হিসেবে সরকার বা প্রশাসনের তরফ থেকে ঘোষণা করা উচিত। প্রয়োজন হলে জনবল বৃদ্ধি করতে হবে। টেকনিক্যাল সাপোর্ট দরকার হলে অভিজ্ঞদের এখানে তাদের আনতে হবে। এসব ক্ষেত্রে প্রশাসন যদি পিছিয়ে থাকে, তাহলে দুর্বৃত্তরা সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে পার পেয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীদের একটি তালিকাও আছে সাথে তাদের কাছে থাকা অস্ত্রের তালিকা আছে। কিন্তু সেগুলো উদ্ধার হচ্ছে না। তারা গ্রেপ্তার হচ্ছে না। তাছাড়া বারবার বলা হচ্ছে মাদকের কারণে এসব ঘটনা ঘটছে। মাদকের ছড়াছড়ির কারণে যে খুনের কথা বলা হচ্ছে সেগুলো উদ্ধার হচ্ছে না। আমরা দেখি কিছু ছিটে ফোটা গ্রেপ্তার হচ্ছে। মাদকের চোরাচালানের সাথে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখে দাড় করাতে পারলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করেন এই নাগরিক নেতা।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-কেডিএ‘র চেয়ারম্যান এড. এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, আমরা চাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিত ঠিক হোক। যে কোন মূল্যে অপরাধ কর্মকাণ্ড থামাতে হবে। নগরবাসীর মধ্যে যে আতংক বিরাজ করছে তা নিরসন করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিএনপি সরকার নাগরিকদের জান-মালের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যই ক্ষমতায় এসেছে। কাজেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়েই কাজ করতে হবে।
জানতে চাইলে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ৫ আগষ্টের পর এ অঞ্চলে খুন, খারাপী, মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। সন্ত্রাস দমনে ইতোমধ্যেই সরকার নানা ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি স্বীকার করে বলেন, গত কয়েকদিনের সন্ত্রাসী ঘটনা উদ্বেগজনক। গতকালও নগরে দুটি নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটেছে। শহরজুরে আতংক ছড়িয়েছে। ব্যবসায়িরা অভিযোগ করে বলেছে যে- তারা চাঁদাবাজদের ভয়ে সেল ফোন ধরতে পারছেন না। এ অবস্থা চলতে পারে না।
মঞ্জু বলেন, আমি ইতোমধ্যেই নতুন কেএমপি কমিশনারের সাথে কথা বলেছি। তার কিছু পরিকল্পনা আছে। সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় বিশেষ ক্যাম্প স্থাপন করা হলে অপরাধ কমবে। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন সবধরণের সহযোগীতা করতে প্রস্তুত।


নির্বাচিত

ঢাকা মেডিকেলে গৃহকর্মীর লাশ রেখে পালানো গৃহকর্তাসহ ৩ জন কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে ১৫ বছর বয়সী গৃহকর্মী মীম আক্তারের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গত শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মাহফুজা আক্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আসামিরা হলেন মো. ফয়সাল আহমেদ (৩৫), তার স্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯) এবং রেশমার বাবা এ বি এম আবদুর রাজ্জাক (৪৭)।

পুলিশ বলছে, গৃহকর্তা, তার স্ত্রী ও শ্বশুর মীমের পরিবারকে জানান, সে এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। পরে তারা মীমের মরদেহ হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মীম প্রায় এক বছর ধরে আসামিদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল। এ সময়ে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

এজাহারে আরও বলা হয়, নির্যাতনের কথা জানিয়ে মীম যখন কাঁদতে কাঁদতে স্বজনদের ফোন করত, তখন আসামিরা উল্টো তার পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন।

গত ১৩ আগস্ট সকালে ফয়সাল মীমের পরিবারকে ফোন করে দাবি করেন, মীম বাসা থেকে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে অন্য এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে।

চার দিন পর ১৭ আগস্ট মীমের পরিবার তার খোঁজে ওই বাসায় যায়। তার অবস্থান জানতে চাইলে আসামিরা তাদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এর মধ্যে গত ১২ আগস্ট শাহবাগ থানা পুলিশ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তার পরিচয় শনাক্ত করে।

২০ আগস্ট বাসাবো বাজার থানা থেকে খবর পেয়ে মীমের মা রাবেয়া বেগম শাহবাগ থানায় যান। পরে তার স্বামী ফজলু মিয়া হাসপাতালে গিয়ে মরদেহটি তাদের মেয়ের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন রাবেয়া বেগম।

পুলিশ জানায়, তদন্তে জানা গেছে, মীমের মৃত্যুর ঘটনা গোপন ও দায় এড়াতে আসামিরা তার মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ফেলে রেখে যান।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে সানারপাড়ের যে ফ্ল্যাটে পরিবারটি বসবাস করছিল, সেটি ছেড়ে তারা ডেমরার বামইল এলাকায় আত্মগোপন করে।

গত শুক্রবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে বামইলে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


নির্বাচিত

জেনেভা ক্যাম্পের ‘শীর্ষস্থানীয় মাদক কারবারি’ সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিম আটক

র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিম ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের ‘শীর্ষস্থানীয় মাদক কারবারি’ চুয়া সেলিম গ্রুপের প্রধান মো. সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিমকে (৫০) আটক করেছে র‍্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা ও মাদক আইনসহ ৩৬টি মামলা রয়েছে বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

গত বুধবার রাতে জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে সেলিমকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার২০ আগস্ট র‍্যাব-২–এর অধিনায়ক পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নয়মুল হাসান বলেন, সেলিম মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষস্থানীয় পাইকারি মাদক কারবারি। কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান এনে তিনি তা রাজধানীতে ছড়িয়ে দিতেন।

নয়মুল হাসান বলেন, কয়েক বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেলিমকে খুঁজছিল। এর আগে বারবার অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাতে গেলে তিনি গুপ্তচরের তথ্যের ভিত্তিতে সটকে পড়তেন।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, বুধবার রাতে সাদাপোশাকে র‍্যাবের কয়েকটি দল অভিযান চালিয়ে সেলিমকে আটক করে। তাঁকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।


নির্বাচিত

মো. সাহাবুদ্দিনের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকার বাসিন্দা মো. সাহাবুদ্দিনের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে মহানগর দায়রা জজ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত এ আদেশ দেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় সাহাবুদ্দিনের প্রায় এক কোটি ৮৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে সাহাবুদ্দিনের নামে থাকা ১৮টি প্লট এবং মোট ৩৭ হাজার টাকার দুটি ব্যাংক হিসাব।

মামলার বিবরণে যায়, মো. সাহাবুদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি ঢাকার সিদ্ধিক বাজারের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুর রব এবং স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার মাতার বাড়ি গ্রামে।


নির্বাচিত

ড. ইউনূস ও আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর করার অভিযোগ এনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। বিচারক বাদীর জবানবন্দি শুনে রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া, মাহফুজ আলম, আখতার হোসেন, মো. হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, সার্জিস আলম, সামান্থা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাত, পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন, কনক সরোয়ার, নুরনবী (অব. কর্নেল), তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদ।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনি বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। আজ বুধবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা জানান। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কোনো আইনি সংকট নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের আবেদনটি হাইকোর্টে খারিজ হওয়ার পর এবার তা আপিল বিভাগে নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ আজ গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট রিট আবেদনটি খারিজের আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ।

গত বৃহস্পতিবার আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের পাশাপাশি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব উপস্থিত ছিলেন। হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের পর এখন বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণে বর্তমানে কোনো বাধা অবশিষ্ট নেই।


নির্বাচিত

হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের পদ শূন্য ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ১১ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

আজ বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদনটি জমা দেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন। রিট আবেদনে নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন এবং জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রিট আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল গণমাধ্যমকে জানান, "আবদুল হান্নান মাসউদের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগের ভিত্তিতে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছে।"

আবেদনে আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদটি শূন্য ঘোষণা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সরকারের প্রতি নির্দেশনা জারির আরজি জানানো হয়েছে। মূলত হলফনামায় দাখিলকৃত তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই ভোটার নাজমুল হোসেন আইনি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।


নির্বাচিত

banner close