দেশের অন্যতম মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ বিক্রির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যে পদক্ষেপ শুরু করেছে, সেটি সম্পূর্ণ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ সংক্রান্ত একটি রায় দিয়েছেন।
শুনানিতে সরকারের পক্ষে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনিক আর হক। নগদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট জায়নুল আবেদিন, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান এবং অ্যাডভোকেট মো. জামিলুর রহমান।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, নগদে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এ সম্পর্কিত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা সরকারের হাতে নেই।
আগামী ২৬ অক্টোবর প্রশাসক নিয়োগের বৈধতার শুনানির নির্ধারিত দিন রয়েছে। বিডা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এ প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণার ফলে নগদ বিক্রি বা নগদে বিনিয়োগ নেয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্থগিত হয়ে গেল।
চেম্বার জজের এ রায় বিষয়ে নগদের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির বলেন, প্রতিষ্ঠানের মালিকানা এবং পরিচালনা সম্পর্কিত জটিলতা যেখানে শেষ হয়নি সেখানে অবৈধ দখলদার সংস্থা কিভাবে এটি বিক্রির পায়তারা করে? বিজ্ঞ আদালত আমাদের আর্জি শুনে একটি অবৈধ প্রক্রিয়াকে অবৈধ হিসেবেই ঘোষণা করেছেন।
এর আগে, গত ৩১ আগস্ট নগদের জন্য কৌশলগত অংশীদার খুঁজতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেয় বিডা। এ প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য একটি আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগও নেয় তারা। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিডা কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত আবেদন জমা দিতে বলা হয়। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে নগদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. সাফায়েত আলম আদালতের দ্বারস্থ হলে বৃহস্পতিবার চেম্বার জজ রায়ে এ সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া স্থগিত করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুলে সংঘটিত ভয়ংকর গণহত্যা ও ৬ শিক্ষার্থীকে হত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সাজা বৃদ্ধির আপিল করেছে প্রসিকিউশন। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আদালত সূত্রে জানা গেছে যে, রায়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের দণ্ডকে অপরাধের তুলনায় অপ্রতুল মনে করায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন।
রায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই এই রায় ঘোষণা করা হয় এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন আদালত। প্রসিকিউশন এই তিনজনের সর্বোচ্চ সাজায় সন্তুষ্ট থাকলেও অন্য পাঁচ আসামির সাজা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন রমনা জোনের সাবেক এসি মোহাম্মদ ইমরুল, যাকে ৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেনকে ৪ বছর এবং কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে নির্বিচারে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা চাইনিজ রাইফেল ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়, যার প্রমাণ হিসেবে ১৯টি ভিডিও ফুটেজ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশন মনে করছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সরাসরি গুলি চালানো এবং গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার পরও ৩ থেকে ৬ বছরের কারাদণ্ড ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তাই এই পাঁচ আসামির দণ্ড আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই আজ উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নামের ছয়জন শিক্ষার্থী নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত বছরের ১৪ জুলাই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষী গ্রহণের পর ট্রাইব্যুনাল গত সোমবার এই রায় দেন। এটি ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বিতীয় রায়। এর আগে প্রথম রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন একই আদালত। চানখারপুলের এই ঘটনায় ন্যায়বিচার পুরোপুরি সুনিশ্চিত করতে সাজা বৃদ্ধির এই আপিলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
রাজধানীর কল্যাণপুরে 'জাহাজবাড়ি' নামক ভবনে কথিত জঙ্গি অভিযানের নামে ৯ তরুণকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। এই মামলাটি মূলত ২০১৬ সালের সেই বিতর্কিত অভিযানকে কেন্দ্র করে, যেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড পরিচালনার দাবি করা হয়েছে।
মামলার নথিপত্রে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই দিবাগত রাতে কল্যাণপুরের সেই ভবনে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ পরিচালনা করে। সেই অভিযানে ৯ জন তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের দুর্ধর্ষ জঙ্গি হিসেবে দাবি করা হয়। তবে বর্তমান প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগ তুলেছে যে, সেটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত 'জঙ্গি নাটক', যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিচারবহির্ভূতভাবে তরুণদের নির্মূল করা, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
এই চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পাশাপাশি তৎকালীন সময়ের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া এবং সাবেক এসবির প্রধান ও ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলামসহ আরও ছয়জন। প্রসিকিউশন পক্ষ মনে করে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই ব্যক্তিদের নির্দেশ ও সরাসরি যোগসাজশ ছাড়া এমন বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না।
ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের এই পদক্ষেপকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে। অভিযোগপত্রে ৯ তরুণকে হত্যার পাশাপাশি ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। আদালত এখন এই অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ তদন্ত ও বিচারের ধারাবাহিকতায় এটি অন্যতম একটি বড় মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নির্মানাধীন ভবনে চাঁদা দাবির অভিযোগে দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতা মাসুদ রানা (৫৫) ও আব্দুল মালেক (৫৩) নামে দুই সহোদরকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে তাদের আটক করে যৌথ বাহিনী। আটক ব্যক্তিরা পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া রেল পাড়ার বাসিন্দা ও উপজেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতা। এছাড়া মাসুদ রানা পৌর ছাত্রলীগের নেতা ও স্থানীয় সাংবাদিক গোলাম রাব্বির পিতা। এ ঘটনায় ভবন মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ নওশাদ আলী ভাঙ্গুড়া থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন। আটক মাসুদ রানা একাধিক মাদক মামলায় কারাভোগ করে বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নওশাদ আলী পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া বাজারে হাইস্কুল রোড এলাকায় সম্প্রতি ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এরপর গত কয়েকদিন ধরে অভিযুক্ত সহোদর মাসুদ রানা ও আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন ব্যক্তি নওশাদ আলীর কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তারা কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপরেও ওই সেনা সদস্য কাজ চালিয়ে যেতে থাকলে সোমবার অভিযুক্তরা নওশাদ আলীর ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে যান এবং নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান। এতে নিরুপায় হয়ে ওই সেনা সদস্য স্থানীয় সেনা ক্যাম্প ও থানায় অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে আব্দুল মালেক ও মাসুদ রানাকে আটক করে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে চাঁদাবাজির ঘটনা স্বীকার করায় আব্দুল মালেক ও মাসুদ রানাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে ভাঙ্গুড়ায় সরকারি জমি দখল বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছেন। অর্থাৎ, যেকোনো দিন এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে।
ট্রাইব্যুনালে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে সমাপনী বক্তব্য ও আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এর বিপরীতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করে তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করেন এবং বেকসুর খালাস চান। এর আগে গত ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন মামলার আদ্যোপান্ত আদালতের সামনে তুলে ধরে। এ সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সিসিটিভি ফুটেজ প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওর মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান ও কার্যকলাপ শনাক্ত করে ৩০ জন আসামির সবার সর্বোচ্চ শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
শুনানিকালে মঙ্গলবার কারাগার থেকে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। তবে মামলার অন্যতম আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ মোট ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের আইনি সহায়তা দিতে এর আগে আদালতের নির্দেশে চারজন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়েছিল। এর আগে ৬ আগস্ট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে এখন জাতি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম এই হত্যা মামলার রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি লড়াইয়ে জয় পেলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট অবিলম্বে প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে সারোয়ার আলমগীরের রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির। এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন বিএনপির এই প্রার্থী।
উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে ফটিকছড়ি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ সুগম হলো।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) গোপন বন্দিশালা হিসেবে পরিচিত জেআইসি সেল এবং টিএফআই সেলে গুমের দুটি পৃথক মামলায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই বিচার কার্যক্রম চলছে।
বিশেষ করে ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালায় দীর্ঘ সময় আটকে রাখা ও নির্যাতনের ঘটনায় আজ দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দেবেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান। এর আগে তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছিলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে লেখালেখি করার কারণেই তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় দেড় বছর তাকে জেআইসি সেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। একই ট্রাইব্যুনালে আজ টিএফআই সেলে (টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন) সংঘটিত গুমের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল-২ এ জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার কার্যক্রমও চলছে। আজ এই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া জবানবন্দির ওপর আসামিপক্ষের জেরা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলায় তৃতীয় দিনের মতো আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর আফতাবনগর এলাকায় আল আমিন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা করার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের ছেলে আসিবুর রহমান খানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ প্রদান করেন।
এর আগে গত ২০ জানুয়ারি বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ আসিবুরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত আজ শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। শুনানিকালে আসিবুরকে আদালতে হাজির করা হলে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন এর বিপক্ষে নিজ নিজ যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত দেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আফতাবনগরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আল আমিন অংশ নিলে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। ওই ঘটনায় আল আমিন পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা শেষে ১০ সেপ্টেম্বর বাড্ডা থানায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য, আসিবুর রহমান খানকে ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং এরপর থেকে তাকে বিভিন্ন হত্যা ও সহিংসতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। বর্তমানে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কারান্তরীণ রয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় সংঘটিত নৃশংস গণহত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর চার পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (২৬ জানুয়ারি, ২০২৬) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। জুলাই বিপ্লবের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ঘোষিত এটিই প্রথম রায়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলাম। দণ্ডপ্রাপ্ত এই তিন শীর্ষ কর্মকর্তাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার দায়ে কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এই চার আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথিপত্র ও বিচারিক বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের চূড়ান্ত মুহূর্তে চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত ওই বর্বরোচিত হামলায় ঘটনাস্থলেই শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক শহীদ হন। ছাত্র-জনতার ওপর চালানো এই হামলাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে সাব্যস্ত করে আজ এই রায় প্রদান করা হলো।
গত বছরের ১৪ জুলাই পলাতক ও গ্রেপ্তারকৃত মোট আটজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকার্য শুরু হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ২৩ কার্যদিবসে ২৬ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। এর মধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকালে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে প্রসিকিউশন তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। উভয়পক্ষের আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২২ ডিসেম্বর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। অবশেষে আজ এই রায়ের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ অতিক্রম করল।
রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর চানখারপুলে পুলিশের গুলিতে ছয়জন নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এই রায় প্রদানের দিন ধার্য করেছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রায় প্রস্তুত না থাকায় ট্রাইব্যুনাল তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন। জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এটিই হতে যাচ্ছে কোনো মামলার প্রথম রায়।
প্রায় পাঁচ মাসের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাবেক আট শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই রায় দেওয়া হচ্ছে। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনার সাবেক এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ও মোহাম্মদ ইমরুল। প্রধান এই চার আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। গত বছরের ১৪ জুলাই এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয় এবং ১১ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। মামলায় মোট ২৬ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। শুনানিকালে প্রসিকিউশন পক্ষ হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ বিবরণ, ভিডিও ফুটেজ এবং ফোনালাপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। ওই হামলায় বহু আন্দোলনকারী হতাহত হন। পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে ট্রাইব্যুনাল আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন প্রসিকিউসন।
মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রোববার প্রসিকিউসন পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন (আর্গুমেন্ট) করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এই মামলায় প্রসিকিউসন পক্ষে আছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম।
অপর দিকে বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে আছেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে আছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া।
আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ৩০ জুন ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির মধ্যে এই মামলায় গ্রেপ্তার ৬ আসামি হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
২৫ বছর বয়সি আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদেই সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলে আওয়ামী লীগ সরকার, তার দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘঠিত করে বলে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে।
জাজ্বল্যমান এ সব অপরাধের বিচার হচ্ছে দু’টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
১ জানুয়ারি প্রকাশিত ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৬ এর বিভিন্ন বিধানকে সংবিধান পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। ১০ জন ট্রাভেল এজেন্সি মালিকের পক্ষে এলহাম ট্রাভেল কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জুমান চৌধুরী ২৫ জানুয়ারি রবিবার এই আবেদন দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই রিটে পুরো অধ্যাদেশটির ওপর স্থগিতাদেশ জারির অনুরোধ করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত যুক্তিতে বলা হয়েছে যে, “এটি একটি কালো অধ্যাদেশ। এই অধ্যাদেশের একাধিক ধারা, উপধারা ও দফা আইনগত সীমা অতিক্রম করেছে এবং সংবিধান স্বীকৃত অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে।” রিটে বিশেষ করে এক এজেন্সির অন্য এজেন্সি থেকে টিকিট কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা, শুনানি ছাড়া নিবন্ধন স্থগিত করা, জেল-জরিমানা বৃদ্ধি, ১০ লাখ টাকা জামানত বাধ্যতামূলক করা এবং একই দপ্তরে রিক্রুটিং এজেন্সি থাকতে পারবে না—এমন শর্তসমূহ বাতিলের আর্জি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ট্রাভেল এজেন্টসদের সংগঠন ‘আটাব’ও ইতিপূর্বে এই অধ্যাদেশটি বাতিলের দাবি জানিয়েছিল।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার আলোচিত ল্যাব টেকনিশিয়ান রতন আহমেদ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার আনন্দনগর এলাকার মৃত মিলন মিয়ার ছেলে রোহান (২২) ও একই উপজেলার নয়ামাটি এলাকার নিজাম পলকের ছেলে মাহিন (১৯)।
গজারিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর একটি সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। ফুটেজে সিএনজির নম্বর স্পষ্ট না হওয়ায় প্রাথমিক জটিলতা তৈরি হলেও দীর্ঘ তদন্তের পর অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দুইজন পার্শ্ববর্তী কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় একটি ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিল। ওই মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাদের ল্যাব টেকনিশিয়ান রতন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘটনার দিন রাতে মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় ছিনতাইকারী রোহান একটি সিএনজি নিয়ে অপেক্ষমাণ ছিল। যাত্রীবেশে মাহিনসহ তার দুই সহযোগী সিএনজির ভেতরে ছিল। রাত সাড়ে দশটার দিকে রতন আহমেদ ওই সিএনজিতে উঠলে সেটি ভাটেরচরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে বালুয়াকান্দি মিয়ামী ডাইন রেস্টুরেন্টের সামনে রতনের টাকা ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাকে সিএনজি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। রতন পুনরায় দৌড়ে সিএনজিতে ওঠার চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা তাকে কুপিয়ে ভাটেরচর ব্রিজ এলাকায় ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নিহত রতনের পিতা আব্দুল জলিল কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, "রতনের কাছে বেশি টাকা থাকতো না। সামান্য একটি মোবাইলের জন্য এমন হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। সে আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল। আমি দোষীদের ফাঁসি চাই।"
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাসান আলী বলেন, "এটি একটি ক্লুলেস ঘটনা ছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও কঠোর পরিশ্রমের পর আমরা অপরাধীদের নাগাল পেয়েছি। অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দুজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধ স্বীকার করেছে।"
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ নভেম্বর দিবাগত রাত এগারোটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভাটেরচর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ল্যাব টেকনিশিয়ান রতন আহমেদ (২২)-কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়ন ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণে আয়ুর্বেদিকসহ বিভিন্ন শাখার বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে ১৮ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল দেন।
রুলে স্বাস্থ্য সচিব এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালত জানতে চেয়েছেন, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ এর ১৩ ধারা এবং ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের নির্দেশনার পরিপন্থি হওয়া সত্ত্বেও গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে টাস্কফোর্স গঠন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না?
একইসঙ্গে টাস্কফোর্সে সব অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টিও কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং আইন ও নির্দেশনা অনুযায়ী কেন সব অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হবে না—সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়ন ও মূল্য নির্ধারণে সুপারিশ দিতে ১৮ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞ এ কে মাহবুবুর রহমানসহ দুজন গত বছর হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম জাগলুল হায়দার আফ্রিক ও সানজিদ রহমান শুভ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।