আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংবিধান থেকেও শক্তিশালী—এটা সংবিধানের মাধ্যমেই স্বীকৃতি দেয়া আছে বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই আইনটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনারি ফোর্সের বিচারের জন্য। এখানে যে অপরাধগুলো বর্ণনা করা হয়েছে—সেই অপরাধগুলোর বিচার বাংলাদেশের সাধারণ কোনো আইনে নেই। এমনকি আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্সের নিজস্ব আইনেও নেই। সুতরাং এসব অপরাধের বিচার কেবল এই আইনের মাধ্যমেই করতে হবে।’
গতকাল রোববার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি আরও বলেন, ‘আইন সবসময় আইনের গতিতেই চলবে। যখন আদালত থেকে কোনো পরোয়ানা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু হবে, সংবিধানেও আছে, ট্রাইব্যুনাল আইনেও আছে, ফৌজদারি কার্যবিধিতেও আছে। একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলে, যেখানেই গ্রেপ্তার করা হোক, তাকে আদালতে আনার সময়ে যতটুকু সময় ব্যয় হবে, সে সময়টুকু ছাড়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের সামনে উপস্থিত করতে হবে, এটাই হচ্ছে আইনের বিধি। যদি আদালত কাউকে কেবলমাত্র অথরিটি দেয়, তাহলে আটক রাখতে পারে। সুতরাং নিয়ম হচ্ছে কাউকে আটক করার পূর্বে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আদালতে হাজির করতে হবে। এরপর কেবল আদালত যদি তাকে আটক রাখতে বলে, তাহলে আটক রাখা হবে,আদালত যদি জামিন দিয়ে ছেড়ে দিতে বলেন, ছেড়ে দিতে পারে। ডিসিশন নেয়ার অথরিটি তখন আদালতের ওপর চলে যায়—এটা হচ্ছে আইনি ব্যাখ্যা। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ এ ব্যাপারে আইনি ব্যাখ্যা চাননি। যদি কেউ চান, তাহলে নিশ্চয়ই আইনি ব্যাখ্যা তাদের জানানো হবে।
এ সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন তাহলে সেনাবাহিনীর যে ১৫ জন সেনা হেফাজতে, তাদের স্ট্যাটাস কী হবে? জবাবে তাজুল বলেন, ‘আমাদের কাছে যেহেতু আনুষ্ঠানিকভাবে ডকুমেন্টারি পদ্ধতিতে কেউ বলেনি যে, তাদের আটক রাখা হয়েছে। মিডিয়াতে যেটি এসেছে, সেটিকে আমরা আমলে নিচ্ছি না। আমাদের যদি বলা হয়, আটক রাখা হয়েছে, তাহলে অবশ্যই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের কাছে আনতে হবে।’
ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে পড়েছিল
এদিকে গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্রমান্বয়ে দানবে পরিণত হওয়ার কারণেই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে পড়েছিল বলে উল্লেখ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পর্বে গতকাল বিগত সরকারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি একথা বলেন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্রমান্বয়ে দানবে পরিণত হয়েছিল। প্রথমে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তারা আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ডটাকে ভেঙে দেয়। পরবর্তীতে গুম-খুনের কালচার চালু করে। এরপর তারা আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়। তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া হয়। দেশে দুর্নীতি সর্বগ্রাসী রূপ পায়। এ সবের মাধ্যমেই তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) ক্রমান্বয়ে একটা দানবীয় সরকারে পরিণত হয়েছিল।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘জনগণকে নির্যাতন করা, হত্যা করা ও একটা ভয়ের রাজত্ব কায়েম করা ছিল তাদের (আওয়ামী লীগ সরকারের) টার্গেট। এই দানবীয় শাসকই একটা পর্যায়ে ২০২৪ সালে আমাদের তরুণ-তরতাজা প্রজন্মের ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ চালায়।’
এর আগে গত বুধবার এই মামলার শেষ সাক্ষী (৫৪তম) তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরা শেষ হলে, যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য গতকাল রোববার দিন ধার্য করা হয়।
এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। সর্বমোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন সাক্ষী।
এই মামলায় প্রসিকিউসন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম শুনানি করছেন।
পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আর এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আছেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একপর্যায়ে এই মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে (অ্যাপ্রোভার) রাজসাক্ষী হতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্র্যাইব্যুনাল। পরবর্তীতে এই মামলার রাজসাক্ষী হয়ে সাক্ষ্য দেন পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এই মামলাটি ছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা রয়েছে।
এর মধ্যে একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে।
অন্য মামলাটি হয়েছে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, এর দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার কাজ চলছে।
প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে চার্জগঠন বিষয়ে শুনানি আগামী ১১ মে নির্ধারণ করেছেন আদালত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ শারমিন আফরোজের আদালতে মামলাটির চার্জগঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তবে এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী চার্জগঠন বিষয়ে শুনানির তারিখ পেছানোর জন্য আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন আগামী ১১ মে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
মতিউর রহমানের আইনজীবী মো.ওয়াহিদুজ্জামান লিটন ঢালি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুটি মামলা হয়।
মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং এক কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়। এই মামলারই অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেন দুদক।
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
২০২৪ সালে কোরবানির জন্য ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ইফাত নামের এক তরুণের ১৫ লাখ টাকা দামের ছাগল কেনার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে মতিউর রহমানকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।
হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানির জন্য আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করবেন ব্যারিস্টার পূর্ণিমা জাহান।
গত ২ এপ্রিল হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। একইসঙ্গে দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
এর আগে শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত করতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া এ নোটিশ পাঠান। স্বাস্থ্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নোটিশটি দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা হয়, টিকার অভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও উল্লেখ করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায়, হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র সরবরাহকারী মাজেদুল হক হেলাল দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিন দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার (১৮ এপ্রিল) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর ঘটনার দায় স্বীকার করে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায়, তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন।
জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন জশিতা ইসলাম তার এ মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা করেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে ২০ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন।
গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে ওই চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিকে হস্তান্তর করেন।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে আগামী ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বুলবুল।
গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল শুনানির দিন পিছিয়ে ২৬ এপ্রিল নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন।
এ মামলায় চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা হলেন- নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।
পলাতক আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।
চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দেয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
গত ৮ এপ্রিল মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার শুনানির কথা ছিল। তবে প্রসিকিউশন থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়নি বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ কারণে আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলায় আনা তিনটি অভিযোগে প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।
নোয়াখালীর বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলার রায় ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ২৯ এপ্রিল ধার্য করেছে আদালত।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের-১ প্রসিকিউটর (পিপি) মো.সেলিম শাহী। তিনি বলেন, বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও এজলাসে বসেই রায়ের তারিখ পুননির্ধারণ করেছেন বিচারক। মামলার রায়ের তারিখ পিছিয়ে ২৯ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিহত অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। অপরদিকে, অভিযুক্ত আব্দুর রহিম রনি (৩২) নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিল থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল, যা পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার দিন রাতে অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশ সহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অদিতা কিছুদিন আগে রনির কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করলে ক্ষুব্ধ হন তিনি। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে দুপুরে বাসায় প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রনি। এতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি গোপন করতে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেন এবং ঘটনাটিকে ভিন্ন রূপ দিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখেন।
অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার চাই। খুনির এমন শাস্তি হোক, যাতে আর কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ের দাগ ও তার পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
উল্লেখ্য, এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিচার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয় ।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আসন্ন নির্বাচনে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল তিনি বার কাউন্সিল নির্বাচনের সাধারণ আসনের (জেনারেল সিট) জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন। একইসঙ্গে তিনি সারাদেশের আইনজীবী বন্ধুদের কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন।
সারাদেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক ও অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচন-২০২৬ আগামী ১৯ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে গত ৪ এপ্রিল বার কাউন্সিল ভবনে আয়োজিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
দেশের আইন অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে শিশির মনিরের অংশগ্রহণ নিয়ে আইনজীবীদের মাঝে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচারণা ঘিরে আদালত পাড়া ও আইনজীবীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে থাকা বাউলশিল্পী আবুল সরকার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ থেকে তিনি কারামুক্ত হন। কারাগার থেকে বের হয়ে প্রথমে রিকশায় করে মূল ফটকে আসেন। পরে সাদা রঙের একটি হাইচ গাড়িতে করে তিনি স্থান ত্যাগ করেন। এসময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অসুস্থ থাকায় মুক্তির পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন। তিনি জানান, জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই শেষে অন্য কোনো মামলা না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আবুল সরকার মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার চর তিল্লী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আমজাদ আলীর ছেলে।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল জামিনের আবেদন করলে বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় একটি মেলায় পালাগানের আসরে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।এরপর ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে তাকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল। পরবর্তীতে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর লালবাগ থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১২ এপ্রিল) আসামি পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল ভোরে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন এ মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৮ জুলাই লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে মিছিল করছিলেন ভুক্তভোগী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম। ঘটনার দিন আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে ভুক্তভোগীর বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
গত ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ভুক্তভোগী আশরাফুল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনার জন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করে অ্যার্টনি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের সেই চেতনার বহিঃপ্রকাশ। বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। আইনমন্ত্রী এরই মধ্যে এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে সুস্পষ্টভাবে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পাইলট হাইস্কুল ময়দানে স্থানীয় সুধীজনের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন।
তিনি আরও জানান, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছেন। তবে সেই রায় চূড়ান্ত নয়। সুপ্রিম কোর্টে আপিল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।
অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রত্যাশা জনগণ করেছে। দেশের মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এই সরকার জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে সরকার জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।’
অস্ত্র আইনের মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদের দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার ১৮তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীনের আদালত এ রায় দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ঈসমাইল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে মাদক কারবারির সন্দেহে আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে র্যাব অভিযান চালায়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই মাদক কারবারি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক হয়। পরে আটক ব্যক্তি নিজের নাম ফয়সাল করিম বলে জানান। পালানোর চেষ্টার কারণ জানতে চাইলে, র্যাবকে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
পরে র্যাব জানতে পারে, ওই ব্যক্তি আদাবর থানায় চুরির মামলার এজাহারনামীয় আসামি। র্যাব তার বাসায় তল্লাশি চালায়। তার দেওয়া তথ্যমতে, সেখান থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে। এসময় তাকে অস্ত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বললে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এ ঘটনায় পরদিন ৮ নভেম্বর র্যাব-২ এর হাবিলদার মো. মশিউর রহমান আদাবর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ফয়সাল করিমকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৮ মার্চ আদাবর থানার উপপরিদর্শক জাহিদ হাসান আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
মামলায় চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে, ফয়সাল করিম এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের মূল হোতা। সে দীর্ঘদিন যাবত সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের জন্য অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিল। মামলার বিচার চলাকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে দুষ্কৃতিকারিদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এ হত্যাকাণ্ডে ফয়সাল করিমের নাম আসে। তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি নারাজির আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদকে অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মহসীন এ রায় ঘোষণা করেন। গত রবিবার (৫ এপ্রিল) মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন। মামলায় ফয়সাল করিম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এ মামলার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আদালত ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। রায়ের কপি পেলে আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, তা জানা যাবে।”
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র্যাব-২। তখন পালানোর চেষ্টাকালে ফয়সাল করিমকে আটক করা হয়। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে র্যাব।
এ ঘটনায় পরদিন আদাবর থানায় ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেন র্যাবের হাবিলদার মশিউর রহমান।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ফয়সাল করিম এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক কেনাবেচার হোতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। অপরাধ সংঘটনের জন্য তিনি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিলেন।
তদন্ত শেষে ফয়সাল করিমকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক জাহিদ হাসান। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফয়সাল করিম এ মামলায় জামিনে ছিলেন। এরপর ওসমান হাদি হত্যার ঘটনার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এর মধ্যে গত মাসে তিনি ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
রংপুরের আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। পাশাপাশি মামলার ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন।
এদিন দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।