সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

শীর্ষ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২ মার্চ, ২০২৬ ০১:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২ মার্চ, ২০২৬ ০০:৫৫

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে যত শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আছে তাদের শিগগির আইনের আওতায় আনা হবে। কীভাবে আনা হবে সেই পরিকল্পনা ফাঁস করতে চাই না। অ্যাকশন শুরু হবে শিগগিরই। গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যত শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আছে তারা যাতে শিগগির আইনের আওতায় আসে সে ব্যবস্থা আমরা খুব দ্রুত নেবো। আমাদের পরিকল্পনা এখানে ফাঁস করতে চাই না। কোনো কিছু বাদ থাকবে না, এদের আইনের আওতায় আনবোই। এ বিষয়ে আমরা অত্যন্ত কঠোর।
চট্টগ্রামে গোলাগুলির ঘটনার এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দুই মাস আগেও একজন বড় ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা চেয়েছে। এরপর চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ওই ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা এবং বাসায় পুলিশ প্রহরী দিয়েছেন। ওই সন্ত্রাসী গ্রুপ হয়তো সুবিধা পায়নি সেজন্য দুই মাস পরে আবার একই রকমের কর্মকাণ্ড করেছে। এ সময় তারা হেভি উইপেন্স (ভারী অস্ত্র) দিয়ে গোলাগুলি করেছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের গোলাগুলির ঘটনায় সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা গেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।
বিএনপি দলের নামে চাঁদাবাজির এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাদের সোপর্দ করেন। কিন্তু কোনো অভিযোগ ঢালাওভাবে করলে তার জবাব দেওয়া যায় না।
আগের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে স্থিতিশীলতা আসে, মানুষের মনে শান্তি এবং নিশ্চয়তা আসে।
সরকারের ১৩ দিনে আইনশৃঙ্খলা উন্নত হয়েছে কি না পাল্টা প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, দৃশ্যমান। নরসিংদীতে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড হয়, আমরা বলেছি ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার ভেতরে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দু-তিনটি এমন হয়েছে সবগুলো আইনের আওতায় আনা হয়েছে।


হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা-কাদের-কামালসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর গুলশানে আবুজর শেখকে (২৪) গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।

তদন্ত শেষে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে বেআইনি জনতাকে দলবদ্ধ করে উগ্রতা ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড সংঘটনে ভূমিকা রাখেন। তবে চার্জশিটটি আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো শুনানি হয়নি।

এটিইউর উপপরিদর্শক ইসরায়েল হোসেন গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চার্জশিটভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক এমপি মির্জা আজম ও হাইকোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

চার্জশিটে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় গুলশানের প্রগতি সরণিতে বারিধারা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিল চলাকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালান। এতে আবুজর শেখ গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ১৬ নভেম্বর আবুজরের মা ছবি খাতুন গুলশান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শুরুতে ২৭ জনকে আসামি করা হলেও তদন্ত শেষে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

মামলার তিন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এখন আদালত চার্জশিট গ্রহণ ও পরবর্তী কার্যক্রম বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।


টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি এবং শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই আদেশের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। মূলত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর আদালতে রেড নোটিশ জারির এই আবেদনটি পেশ করেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক তার খালা শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রভাব ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজউকের আইন কর্মকর্তাকে অন্যায়ভাবে প্রভাবিত করেছিলেন।

এই প্রভাব খাটিয়ে তিনি ইস্টার্ণ হাউজিং লিমিটেডের ফ্ল্যাট বিক্রির অনুমোদন করিয়ে নিয়েছিলেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এই প্রক্রিয়ায় তিনি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিরা বিপুল পরিমাণ অবৈধ আর্থিক সুবিধা ভোগ করেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতে পেশ করা দুদকের আবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট মামলাটি দায়ের হওয়ার পূর্বেই টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক দেশত্যাগ করেছেন। বর্তমানে তিনি বিদেশে অবস্থান করে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ ও আলামত ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তদন্তকারী সংস্থা ধারণা করছে।

এ কারণে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের স্বার্থে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যেহেতু তিনি দেশের সীমানার বাইরে অবস্থান করছেন, তাই তাকে আইনের আওতায় আনতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছে দুদক।

আদালত দুদকের এই যুক্তি ও অভিযোগসমূহ আমলে নিয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।


সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের যুক্তরাজ্যের সম্পদ জব্দের আদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী-এর নামে যুক্তরাজ্যে থাকা অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্ল্যাট এবং ১.২৩ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের অন্যান্য সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত-এর বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশন-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

আদালতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত-এর বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।

আবেদন সূত্রে জানা যায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে যুক্তরাজ্যের যুক্তরাজ্য-এর রাজধানী লন্ডনসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদ রয়েছে। অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে এসব সম্পদ জব্দের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করছে।

তদন্তে উদ্ধার করা নথির মধ্যে বিদেশে সম্পত্তি কেনার চুক্তিপত্র, ডিড, পেমেন্ট অর্ডার, বুকিং মানির রশিদ, চেক ও ভাউচার রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা সম্পদের প্রাথমিক তালিকাও উপস্থাপন করা হয়েছে।

তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, লন্ডনের মেরিলিবোন স্কয়ারে ৬৫ লাখ ২১ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট, ওভাল ভিলেজে কয়েকটি ফ্ল্যাট, ক্ল্যারেনডন রোডে ১.২৩ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তি এবং লিভারপুলের ওয়ান ইসলিংটন প্লাজায় একাধিক ইউনিট। পাশাপাশি হারো, স্লফ ও প্রেস্টনসহ অন্যান্য এলাকায় আরও সম্পত্তির তথ্য আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।


কক্সবাজারের সাবেক এমপি বদির জামিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহমান বদিকে একটি মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। গত বছরের আগস্ট মাসে গ্রেপ্তারের পর থেকে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে এই আইনি স্বস্তি পেলেন তিনি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট ও সশস্ত্র হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁকে এই জামিন দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বদিকে প্রধান আসামি করে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। এই মামলায় টেকনাফ উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান জাফর আহমেদকেও অন্যতম আসামি করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে র‍্যাবের একটি দল আবদুর রহমান বদিকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় টেকনাফে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। আবদুর রহমান বদি নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে উখিয়া-টেকনাফ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ কয়েক মাস কারাভোগের পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ায় তাঁর কারামুক্তির পথে একটি ধাপ সম্পন্ন হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।


৫ মামলায় জামিন পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পৃথক পাঁচটি মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ প্রদান করেন। গত বছরের মে মাসে গ্রেপ্তারের পর থেকে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে এই স্বস্তির আদেশ পেলেন তিনি।

জামিন পাওয়া মামলাগুলোর মধ্যে চারটিই মূলত হত্যা মামলা, যা ফতুল্লা মডেল থানায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা বাদী হয়ে দায়ের করেছিলেন। মামলার নথি ও এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কসহ ভুঁইগড় ও দেলপাড়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন বাসচালক আবুল হোসেন মিজি, আব্দুর রহমান, মো. ইয়াছিন ও পারভেজ। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক মেয়র আইভীকে আসামি করা হয়েছিল। এছাড়া সদর মডেল থানায় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা অন্য একটি মামলায়ও তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

সাবেক মেয়র আইভীকে গত বছরের ৯ মে শহরের পশ্চিম দেওভোগের নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন এবং পরবর্তীতে অন্যান্য মামলায় তাঁকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়। পুলিশের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৮ মে আইভীর বাসভবনে তল্লাশি অভিযানের সময় পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর প্রেক্ষিতে ১২ মে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে, যেখানে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতা-কর্মীদেরও আসামি করা হয়েছিল। উচ্চ আদালত থেকে এই পাঁচটি মামলায় জামিন পাওয়ায় তাঁর কারামুক্তির পথ প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।


আ. লীগ নেতাদের জামিন হলেই গ্রেপ্তারের নির্দেশ: রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নেতাকর্মীরা আদালত থেকে জামিন পেলেও তাদের পুনরায় অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান।

গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ডিআইজি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রেঞ্জের অধীন আট জেলার পুলিশ সুপারদের (ডিএসবি) এ নির্দেশনা পালন করতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আদিষ্ট হয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে—

১) কার্যক্রম নিষিদ্ধ/স্থগিত ফ্যাসিস্ট সংগঠনের যেসব নেতাকর্মী জামিনে মুক্তির পর দলকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করতে এবং মাঠপর্যায়ে তৎপরতা প্রদর্শনে সক্ষম—তাদের জামিন হওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে (শোন অ্যারেস্ট) হবে। তবে যারা বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী নন, তাদের ক্ষেত্রে আপাতত পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রয়োজন নেই।

২) প্রটোকল ও প্রটেকশন প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করতে হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে আগে থেকেই গ্রুপ মেসেজের মাধ্যমে পুলিশ সুপারদের অবহিত করা হয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনুসরণীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেসব জেলায় পাঠানো হয়েছে নির্দেশনা: রাজশাহী রেঞ্জের আওতাধীন আট জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। জেলাগুলো হলো— রাজশাহী জেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা, নওগাঁ জেলা, নাটোর জেলা, পাবনা জেলা, সিরাজগঞ্জ জেলা, বগুড়া জেলা ও জয়পুরহাট জেলা।


সাবেক ডিএমপি কমিশনারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জাজ আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, হাবিবুর রহমান ও অন্যান্যের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, উক্ত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বিধায়, তার বিদেশ গমণ রহিত করা একান্ত প্রয়োজন।


সাবেক যুবলীগ নেতা সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অবৈধ সম্পদের মামলার সাবেক যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে পৃথক দুই ধারায় ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী ফকির জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ৯ ফেব্রুয়ারি এ মামলা রায়ের পর্যায়ে আসে। সেদিন দুদকের তরফে কৌঁসুলি নুরে আলম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। আসামি পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি হয়নি।

২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। দুদকের এ কর্মকর্তাই মামলাটি তদন্ত করেন।

২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সম্রাট আত্মগোপন করেন।

এরপর ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।


পলকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সুব্রত রিমান্ডে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, নাটোর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুব্রত কুমার সরকারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তার এক দিনের রিমান্ড আদেশ দেন।

সুব্রত কুমারের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম রিমান্ডের তথ্য দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা থেকে সুব্রতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই রবিউল আওয়াল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। সুব্রতের পক্ষে তার আইনজীবী তরিকুল ইসলাম রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদেশ দেন বিচারক।


ভাটারায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ভাটারা এলাকায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ১৩ বছর পর স্বামী জীবন হোসেন ওরফে মুকুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ১০ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুকুল ইসলাম দেওয়ান সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায়ে বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে দণ্ড কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

আদালত সূত্র জানায়, আসামি জামিনে মুক্ত থাকার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। রায়ের পর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১২ সালে মুকুলের সঙ্গে মোছা. ফাহিমা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, যার বয়স তখন ছিল মাত্র ৬ মাস। মুকুল চট্টগ্রামে ফার্নিচারের কাজ করতেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে তারা ঢাকার ভাটারা এলাকায় বসবাস শুরু করেন।

অভিযোগে বলা হয়, মুকুল পরনারীর প্রতি আসক্ত ছিলেন এবং এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল। তিনি ফাহিমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর তারা ঘুমাতে যান। পরদিন সকাল ৭টার দিকে তাদের সন্তানের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে ফাহিমাকে পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। পরে জানা যায়, ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পরদিন ফাহিমার বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম ভাটারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভাটারা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ১ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

বিচার চলাকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত এদিন মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।


জুলাই সনদ বাতিল ও গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট, শুনানি ১ মার্চ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রতি বিতর্কিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাতিল এবং এটিকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আগামী ১ মার্চ (রোববার) এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি পরিচালনা করবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। রিট আবেদনে তিনি জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এর কার্যকারিতা অবিলম্বে স্থগিত করার আবেদন জানান। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, এই সনদের কিছু ধারা প্রচলিত সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক, যা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও আইনি কাঠামোর জন্য হুমকিস্বরূপ। এই রিট মামলায় সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

এদিকে, এই সনদের সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি বড় আইনি চ্যালেঞ্জও হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে আলাদা একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। তাঁর আবেদনে তিনি গণভোটের স্বচ্ছতা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই রিটটিতেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত গণভোটের আইনি বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আইনি মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। আগামী ১ মার্চের শুনানি থেকে এই সনদ এবং গণভোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আদালতের প্রাথমিক অবস্থান জানা যাবে বলে মনে করছেন আইনি বিশ্লেষকরা। বিচারবিভাগের এই সিদ্ধান্ত দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নজর এখন এই শুনানির দিকে।


জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলায় সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে পৃথক দুই ধারায় মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত সম্রাট বর্তমানে পলাতক থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই এই রায় দেওয়া হয় এবং একই সাথে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে সম্রাটকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এই অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও ৬ মাস অতিরিক্ত কারাভোগ করতে হবে। অন্যদিকে, মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের অভিযোগে তাঁকে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে এক্ষেত্রেও তাঁকে আরও ৬ মাস জেলে থাকতে হবে। বিচারক তাঁর আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই দুটি সাজার মেয়াদ একটির পর একটি কার্যকর হবে। অর্থাৎ সম্রাটকে সব মিলিয়ে ২০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া তাঁর নামে অর্জিত সকল অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলাটির সংক্ষিপ্ত পটভূমি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ক্যাসিনোবিরোধী দেশব্যাপী শুদ্ধি অভিযান চলাকালে র‍্যাব সম্রাটকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগ ওঠে এবং পরবর্তীতে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। গ্রেপ্তারের এক মাস পর ১২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্রাটের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রথম মামলাটি দায়ের করে। প্রাথমিক তদন্তে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের কথা বলা হলেও, ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে জমা দেওয়া পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্রে দুদক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সম্রাট তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোট ২২২ কোটি ৮৮ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

দীর্ঘ কয়েক বছরের বিচারিক প্রক্রিয়ায় গত বছরের ১৭ জুলাই সম্রাটের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। সর্বশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়, যেখানে দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর নুরে আলম আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন। তবে বিচার চলাকালীন জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সম্রাট আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তিনি আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি। আদালতের আজকের এই যুগান্তকারী রায় দুর্নীতি দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট বিভাগ এখন সম্রাটের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।


banner close