স্মার্টফোনের উজ্জ্বল স্ক্রিনে আঙুলের ডগায় ঝিলিক দিয়ে ওঠে মায়াবী হাতছানি। কখনো তা রঙের খেলা; কখনো বা ঘূর্ণায়মান চাকা। এক মুহূর্তের লোভে আর একটি ক্লিকের অদম্য নেশা খুঁজে ফেরে স্বপ্নের রাজপ্রাসাদ। কিন্তু সেই রঙিন পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে নিঃশব্দ হাহাকার। তিলে তিলে গড়া সঞ্চয়, এক চিলতে সুখ আর সোনালি ভবিষ্যৎ—সবই যেন ডিজিটাল মরীচিকার গ্রাসে হারিয়ে যায়। নিছক বিনোদনের মোড়কে আসা এই নেশা শেষমেশ সাজানো স্বপ্নগুলোকে ছাই করে দিয়ে রেখে যায় কেবেই এক রিক্ত পাণ্ডুলিপি-এটি কোনো গল্প বা উপন্যাস নয়; ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের সহজ লভ্যতায় ‘অনলাইন জুয়া’ নামক মরণনেশার বাস্তবতা; যা বর্তমানে সারাদেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী, রিকশাচালক, দোকানকর্মচারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর কিংবা গার্মেন্টকর্মী- জীবনের অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করা মানুষগুলোই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকছেন এই জুয়ার দিকে। রাতারাতি ধনী হওয়ার মরণনেশায় বুঁদ হয়ে শিক্ষার্থীরা হারাচ্ছে শিক্ষাজীবন, চাকরিজীবীরা কর্মসংস্থান। এতে অনেক পরিবারে নেমে এসেছে হতাশার কালো মেঘ। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই মুঠোফোনের স্ক্রিনে ভাগ্য পরীক্ষার নামে চলছে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন।
ফেসবুক আইডি, পেজ, গ্রুপ, ওয়েবসাইট ও মুঠোফোনভিত্তিক এনক্রিপ্টেড অ্যাপ দিয়ে চলছে এই জুয়ার সাইটগুলো। এতদিন বিদেশি আয়োজনে এসব জুয়ার সাইট চললেও এখন দেশিয় অনেক প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষও বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা এসব জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। খোয়াচ্ছে বিপুল পরিমাণ টাকা। অনেকে ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে জাড়াচ্ছেন নানা অপরাধে। বাড়ছে খুনোখুনিও।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্মার্টফোনে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই জুয়ার অ্যাপগুলো প্রচার করা হয়। শুরুতে ব্যবহারকারীকে সামান্য কিছু টাকা (যেমন: ১,০০০ টাকা) বোনাস বা জয়ের লোভ দেখিয়ে আকৃষ্ট করা হয়। এই সামান্য টাকার মোহে পড়ে সাধারণ মানুষ নিজের পকেটের টাকা ঢালতে শুরু করে। পর্যায়ক্রমে ১ হাজার টাকা জেতার আশায় মানুষ কখন ১ লক্ষ টাকা হারিয়ে ফেলছে, তা সে নিজেও বুঝতে পারছে না।
জুয়া এমন এক সর্বনাশা নেশা, যা মানুষকে মুহূর্তেই পথে বসিয়ে দেয়। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বড় অংকের টাকা জেতার আশায় তারা জমানো টাকা খরচ করে, এমনকি ঋণ বা সম্পদ বিক্রি করেও জুয়ায় ঢালছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জুয়া খেলে কেউ কখনো স্থায়ীভাবে ধনী হতে পারেনি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুয়া খেলে ১০০ জনের মধ্যে ৯৯ জনই সর্বস্বান্ত হয়, আর লাভবান হয় কেবল ওই অ্যাপের আড়ালে থাকা চক্রগুলো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘অল্প পুঁজিতে লাখপতি’ কিংবা ‘দ্রুত আয়’-এর মতো বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে ফাঁদে পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষ ঝুঁকছে অনলাইন জুয়ার দিকে। অল্প আয়ের টাকা কয়েকগুণ বাড়ানোর আশায় তারা জড়িয়ে পড়ছেন এমন এক খেলায়, যেখানে জেতার চেয়ে হারার শঙ্কাই বেশি। ফলে অনেকেই হারাচ্ছেন শেষ সম্বলটুকুও; ভেঙে পড়ছে পরিবার, তৈরি হচ্ছে নতুন এক সামাজিক সংকট। শুধু পুরুষই পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও আসক্ত হয়ে পড়ছেন অনলাইন জুয়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জুয়া শুধু আর্থিক ক্ষতিই করে না, এটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে। জুয়ার নেশায় পড়ে তরুণরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার নষ্ট করছে। ঋণের বোঝা সইতে না পেরে অনেক তরুণ আত্মহত্যার মতো কঠিন পথ বেছে নিচ্ছে অথবা জড়িয়ে পড়ছে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে।
ঘটনা-১ : রাজধানীর হাজারীবাগ: ২৭ বছর বয়সী গার্মেন্টকর্মী সুমাইয়া রংপুর থেকে ভাগ্যবদলের আশায় একা ঢাকায় আসেন। মাসে সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি নেন গার্মেন্টে; ওভারটাইমসহ আয় দাঁড়ায় ১৫-১৬ হাজার টাকা। ৭ হাজার টাকা বাড়িতে পাঠিয়ে বাকি দিয়ে নিজের খরচ ভালোভাবেই চলছিল। একদিন ফেসবুকে চোখে পড়ে একটি বিজ্ঞাপন ‘ঘরে বসে আয় করুন, দিনে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা গ্যারান্টি।’ কৌতূহলবশত ক্লিক করতেই সেটি তাকে নিয়ে যায় একটি গেমিং সাইটে। শুরুতে বিনামূল্যে খেলার সুযোগ, এরপর অল্প বিনিয়োগে বড় জয়ের প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন সুমাইয়া। প্রথমদিকে কিছু লাভও করেন। সেই টাকা দিয়ে ভালো একটি মোবাইল ফোনও কিনেছিলেন। জীবন যেন নতুন ছন্দে এগোচ্ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে বেশি সময় লাগেনি। আস্তে আস্তে হারতে থাকেন জুয়ায়। এরপর মাসের মাঝামাঝিতেই বেতনের বড় অংশ শেষ হয়ে যেতে থাকে। একসময় বাড়িতে টাকা পাঠানোও বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় বৃদ্ধ বাবার চিকিৎসাও। সহকর্মীদের কাছ থেকে ধার নেন, কিন্তু সেই টাকাও হারেন। পরে মোবাইল ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ঋণ নেন। চলতি মাস থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার পর তার হাতে থাকবে মাত্র দুই হাজার টাকা। মাত্র দুই হাজার টাকা কীভাবে তিনি মাস চালাবেন জানেন না।
ঘটনা -২: জিগাতলার বাসস্ট্যান্ডের ফুটপাতে ছোট্ট একটি চায়ের দোকানই ছিল ৩৪ বছর বয়সী মুইন মিয়ার পরিবারের একমাত্র সম্বল। দিনে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করে মোটামুটি চলছিল তার সংসার। একদিন দোকানে চা খেতে আসা এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ তাকে দেখায় কীভাবে ক্রিকেট ম্যাচে বাজি ধরে অল্প সময়েই হাজার টাকা আয় করা যায়। চোখের সামনে ওই তরুণকে কয়েকবার জিততে দেখে শেষ পর্যন্ত লোভ সামলাতে পারেননি। এরপর ছোট-ছোট বাজিতে কয়েকবার জিতে আত্মবিশ্বাস বাড়লে বড় বাজি ধরা শুরু করলে পতনের শুরু হয়। হারার পর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবার আরও বড় বাজিতে হারতে থাকেন। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই দোকানের পুরো পুঁজি শেষ হয়ে যায়। এখন দোকান বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
ঘটনা-৩: কারওয়ানবাজার থেকে ভোরে মালামাল নিয়ে মোহাম্মদপুরের কাঁচাবাজারের বিক্রি করেন তরুণ ব্যবসায়ী আলিফ। মাস কয়েক আগে বাজারেরই এক পরিচিত ব্যক্তি মোবাইলের একটি অ্যাপ দেখিয়ে বলল, ‘ক্রিকেট ম্যাচে ১০০ টাকা লাগাও, জিতলে ২৫০ পাবা।’ প্রথমে হেসে উড়িয়ে দিলেও কৌতূহল আর প্রলোভনে সেদিন সন্ধ্যায় ১০০ টাকা বাজি ধরে ২২০ টাকা পান। তার কাছে মনে হয়, সারাদিন রোদে পুড়ে যা আয় হয়, এখানে তা মিনিটেই সম্ভব। এরপর কৌতূহল আর লোভ থেকে রূপ নেয় অনলাইন জুয়ার নেশায়। কয়েক মাসের নেশায় আলিফ ব্যবসা হারিয়েছে, সেই সঙ্গে হারিয়েছে স্বপ্ন। এভাবে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এইবার ফেরত পাব- এই চিন্তাটাই জুয়ার সবচেয়ে বড় ফাঁদ। একে বলা হয় ‘গ্যাম্বলার্স ফ্যালাসি’। এই মানসিকতা থেকে বের হতে না পারলে সর্বস্ব হারানো শুধু সময়ের ব্যাপার। তবে শুধু নিংস্ব হওয়াই নয়; এই অনলাইন জুয়া কেন্দ্র করে বাড়ছে খুনোখুনি আত্মহত্যাও।
# অনলাইন জুয়ার টাকা জোগাতে শিক্ষার্থীকে গলাকেটে হত্যা:
ধামরাই: অনলাইন জুয়ার টাকা জোগাতে ঢাকার ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পৌরসভার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় নাহিদা আক্তার (১৬) নামের ওই পরীক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিবেশী শামীম ওরফে স্বপনকে (৩৫) আটক করি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।
ওসি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে স্বপন জানান, তিনি অনলাইন জুয়ায় আসক্ত এবং ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। নাহিদার নানী যখন বাসায় ছিলেন না, তখন পেঁয়াজ-রসুন লাগবে জানিয়ে স্বপন তার কক্ষে প্রবেশ করেন এবং টাকা চান। নাহিদা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রথমে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে ফ্লোরে ফেলে দেন। পরে সঙ্গে থাকা কাটার দিয়ে তার গলা কেটে ফেলেন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে শীল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন এবং নাহিদার গলায় ও কানে থাকা সোনার গহনা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান।
অনলাইন জুয়ার টাকা জোগাতে স্বপন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, তারা ইতোমধ্যে নাহিদার কানের দুল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শীল উদ্ধার করেছে।
# অনলাইন জুয়ার ভাগ-বণ্টন নিয়ে সরকারি কর্মচারীর গোপালপুর(টাঙ্গাইল): অনলাইন জুয়ার দেড় কোটি টাকার ভাগ-বণ্টন নিয়ে রাজস্ব বিভাগের কর্মচারী আমিনুল ইসলাম গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি গোপালপুর উপজেলার সৈয়দপুর তহসিল অফিসের অফিস সহকারী। তার বাড়ি পাশের চাতুটিয়া গ্রামে।
আমিনুলের বাবা ভোলা মিয়া বলেন, অনলাইনে বাজি খেলতে গিয়ে তার ছেলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ব্যাংক কর্মকর্তা ধার নেওয়া দেড় কোটি টাকাও তাকে ফেরত দিচ্ছিলেন না। পাওনাদারেরা তাকে প্রতিদিন টাকার জন্য তাগাদা দিচ্ছিলেন। এতে আমিনুল হতাশ হয়ে পড়েন। গত বুধবার রাতে রান্নাঘরের ধরনার সঙ্গে ফাঁসি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
ভোলা মিয়া আরও বলেন, আমিনুলের তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে এবং তার স্ত্রী তিন মাসের গর্ভবতী। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন আমিনুল।
মুক্তাগাছা(ময়মনসিংহ) : বাবার সঙ্গে অনলাইন জুয়ার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে আন্দালিব সাদমান রাফি (৯) নামের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে লুকিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ নূর মুহাম্মদ খোকন (২০) নামের একজনকে আটক করেছে। পরে খোকনের বাড়ির একটি ল্যাট্রিনের ভেতর থেকে শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটি উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। সে মুক্তাগাছা শহরের রেসিডেন্সিয়াল মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক খোকন জানান, তিনি অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত। শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম জুয়া খেলায় বিভিন্ন সময় বাধা দেওয়াসহ জুয়ার বিষয়ে তার সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। তার বাবার প্রতি ক্ষোভ থেকে খোকন শিশুটিকে প্রথমে অপহরণ ও পরে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখেন।
তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ) : উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকাতেই অনলাইন জুয়ায় মেতে উঠেছে যুবসমাজ। মোবাইল ফোনে নানা ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে ক্রিকেট, ফুটবল, তিন পাত্তি, রামি, রঙের খেলা, এভিয়েটর গেম, আইপিএল বেটিং এমনকি জনপ্রিয় লুডু খেলাটিও অনলাইন জুয়ার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই অনলাইন জুয়ার আসর বসছে গ্রামের চায়ের দোকান, চালের দোকান কিংবা সুতার দোকানের ভেতর। বাইরে থেকে সাধারণ ব্যবসা মনে হলেও ভেতরে চলছে মোবাইলের পর্দায় হাজার হাজার টাকার বাজি। দুপুরে চা খাওয়ার অজুহাতে, রাতে দোকান বন্ধের পরেও একে একে হাজির হয় নির্দিষ্ট কয়েকজন। বসে যায় আড্ডা, হাতে হাতে মোবাইল, চোখ পর্দায়, আর দেদারসে চলতে থাকে জুয়া খেলা।
কাউরাইল এলাকার এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি প্রথমে বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে শুরু করি। লুডুতে ৫০ টাকা দিয়ে শুরু, পরে একসময় হাজার টাকার ওপরে চলে যায়। জিতলে মজা লাগত, কিন্তু বেশির ভাগ সময়েই হারতাম। পরে ঋণ করতে করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো দেনা হয়। এখন চাকরি নেই, ঋণের চাপে ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
সবচেয়ে বিপদে পড়ছে পরিবারগুলো। ঘরে শান্তি নেই, বাবা-মা সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না, স্ত্রী স্বামীর ওপর আস্থা হারাচ্ছেন, ভাই ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিচ্ছে। সন্তানরা পড়াশোনার বদলে সারাদিন মোবাইলে চোখ রেখে বাজির জন্য অপেক্ষা করছে। যুবকরা কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে, মনোযোগ ভেঙে যাচ্ছে পড়ালেখা বা পেশাজীবনে। একদিকে আসক্তি, অন্যদিকে টাকা হারানোর চাপ, সব মিলিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন অনেকে।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, ‘আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি। অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ এলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।
উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, ‘অনলাইন জুয়া একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের উপজেলাতেও বিষয়টি নজরে এসেছে। আমরা আইসিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছি। জনসচেতনতাও জরুরি, তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মিটিং করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উদ্যাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জুয়া, অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আরও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করা হবে।
সাবেক রেলমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টার মামলায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সরকার দলীয় হুইপ জিকে গউছকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে এ রায় দেন সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার।
রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন তিনজনই। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেন আদালত।
সকালে আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন এই তিনজন— জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী।
আদালতে আসামিরা জানালেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশে হয়রানিমূলকভাবে মামলাটি করে। শুরুতে এজাহারে তাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
হুইপ জিকে গউছ বলেছেন, ‘এই মামলার কারণে সাড়ে ২৬ মাস নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এ মামলায় আমাকে আসামি করা হয়। আমি মামলার বাদীর শাস্তি দাবি করছি।’
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে তখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বিস্ফোরণে অল্পের জন্য বেঁচে যান এই নেতা।
তবে যুবলীগের এক কর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন।
গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন তিনি। দুই মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর বাবর, আরিফুল, জিকে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে গঠন করা হয় অভিযোগ।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের লিখিত পরীক্ষা ৬০ দিনের মধ্যে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট মামলা নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্ত্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
পরে রায়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম মুকুল। তিনি বলেন, ‘রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে ২০১৯ সালের ২০ মে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (গ্রেড-১৬) পদে ৪৬৮ জনকে নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় ১৯ হাজার ৫৬২ জন উত্তীর্ণ হন। কিন্তু গত দুই বছরেও এই পরীক্ষা গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
পরে প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শহীদুল ইসলামসহ ৬৬ জন হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১০ নভেম্বর হাইকোর্ট ৬০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সচিবালয়কে নির্দেশ দেন। এরপরেও পরীক্ষা অনুষ্ঠানে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শুনানিকালে নির্বাচন কমিশনের পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, আগামী ১০ জুলাই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
জবাবে রিটকারী পক্ষের কৌঁসুলি নুরুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘ইতোপূর্বে চারবার দিন ধার্য করলেও পরীক্ষা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে এই ধার্যকৃত দিনেও যে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে তা নিশ্চয়তা কোথায়।’
শুনানি শেষে হাইকোর্ট জারিকৃত রুল নিষ্পত্তি করে ৬০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে নির্দেশ দেন।
২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের এক মামলায় মূল আসামির পরিবর্তে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে এসে আটক হয়েছেন আরেক নারী। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-৪ এর বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে এ ঘটনা ঘটে। মূল আসামি নাসরিন শিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগম নামে ওই নারী আদালতে প্রক্সি দিতে আসেন।
শুনানিকালে আসামিকে দেখে বিচারকের সন্দেহ হলে তাকে এজলাসে আটকের আদেশ দেন। এ সময় প্রক্সি দিতে আসা আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তড়িঘড়ি করে এজলাস ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার ইব্রাহীম খলিল অপু জানান, এজাহারনামীয় মূল আসামি নাসরিন শিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগম আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। পরে বিচারকের কাছে প্রক্সির বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে আদালতের হেফাজতে রাখার আদেশ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান সুমন বলেন, ‘প্রক্সি দিতে আসা ওই নারীকে আদালতের হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত মূল আসামি, প্রক্সি আসামি ও আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে আদালত থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আটক মনোয়ারা বেগম বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও অফিসে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। এই মামলায় প্রক্সি দেওয়ার জন্য মূল আসামির আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন তাকে আদালতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি বিচারকের নজরে এলে ওই আইনজীবী কৌশলে সরে যান।’
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে আসামি নাসরিন শিকদারের আইনজীবী বলেন, ‘বিষয়টি আমার নলেজে নেই। দেখতে হবে। পরে কল দিয়ে জানাচ্ছি।’
এজলাসে আটকের পর মনোয়ারা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নার ফাঁকে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। ঢাকার জজ কোর্টের আগরবাতি গলির এক আইনজীবী আমাকে নিয়ে এসেছে। আমার কোনো অপরাধ নেই। অপরাধ তো ওই আইনজীবীর। আমাকে ছেড়ে দেন, তাকে গ্রেপ্তার করেন। আমি বিভিন্ন আইনজীবীর চেম্বারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করি। এত কিছু বুঝি না। যে স্যার ডাকছে, আমি এখানে এসেছি। আমি বুঝতে পারিনি, এটা অপরাধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহর দোহাই, আমাকে মাফ করে দেন। আমাকে ছেড়ে দেন। আমি অন্যের বাসায় কাজ করে খাই। আমি কিছু জানি না। আমার দুটা ছোট ছোট বাচ্চা আছে।’
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ বাদী নিবেদিতা আহমেদ তুলি আসামি নাসরিন শিকদারের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন।
বাদীর সঙ্গে আসামির পারিবারিক সুসম্পর্ক থাকায় বিভিন্ন সময় ফ্ল্যাট কেনার জন্য আসামিকে মোট ২৯ লাখ টাকা দেন বাদী। এর বিপরীতে গত বছরের ২৭ জানুয়ারি আসামি বাদীকে ব্র্যাক ব্যাংকের একটি চেক দেন।
পরে বাদী চেকটি নগদায়নের জন্য সোনালী ব্যাংকে জমা দিলে ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ উল্লেখ করে তা ডিজঅনার হয়। এ ঘটনায় তিনি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন জুলাই শহীদ মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়ার (ফারহান ফাইয়াজ) বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া। বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি এ জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, মামলার আসামি সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ তার একমাত্র ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচার ও শাস্তি চান তিনি। এ মামলায় এটিই প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ বলে জানা গেছে।
মামলার ২৮ আসামির মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন- সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন ও যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।
নানক, তাপসসহ এই মামলার ২৪ আসামি পলাতক।
জবানবন্দিতে শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তার একমাত্র ছেলে ফারহান ফাইয়াজ ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকালে সে বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে যায়। কলেজ থেকে বন্ধুদের সঙ্গে সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয় এবং মিছিল নিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে ধানমন্ডি-২৭ (পুরাতন) নম্বরে অবস্থান নেয়। তারা ছিল নিরস্ত্র। কিন্তু তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী, আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের ওপরে চড়াও হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রদের ওপরে নির্বিচারে গুলি চালায়। সেদিন আড়াইটার দিকে তার একমাত্র ছেলের বুকে একটি গুলি লাগে।
শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া আরও বলেন, তখন ঘটনাস্থল থেকে এক অভিভাবক তাকে ফোন করে জানান, ফারহান গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তিনি তখন মালিবাগে অফিসে অবস্থান করছিলেন। একমাত্র ছেলের গুলির খবর শুনে তিনি তখন প্রায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তখন দৌড়ে অফিস থেকে নেমে ধানমন্ডি-২৭ এর উদ্দেশে রওনা হয়ে যান। রাস্তাঘাটে পরিবহন ছিল না। তিনি কিছুটা পথ হেঁটে, কিছুটা পথ দৌড়ে এবং কিছুটা পথ রিকশায় করে যাওয়ার পথে আরেকটা ফোন আসে যে তার ছেলেকে লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।
লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালের আইসিইউতে গিয়ে ফারহানের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো দেখেন উল্লেখ করে শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি ওখানে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিলাম। একপর্যায়ে ডাক্তার ওর মুখের অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিল এবং কাপড় দিয়ে ওর মুখ ঢেকে দিল। তাতে আমি বুঝলাম, আমার ছেলে আর নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে মৃত্যুসনদ দিয়েছিল, তাতে লেখা ছিল সে ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছে।’
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুই পরিচালক পদে রদবদল করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুদকের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশ অনুযায়ী, পরিচালক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হুদাকে অনুসন্ধান ও তদন্ত-৬ বিভাগ থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩ বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।
এছাড়া পরিচালক রিজিয়া খাতুনকে চট্টগ্রাম কার্যালয় থেকে বদলি করে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকায় জুলাই আন্দোলন চলাকালে মো. মুক্তার হোসেনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) পুলিশের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আজিজুল হক মমতাজকে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানান। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী মমতাজকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন, অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে আসামির সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো জরুরি। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনও করা হতে পারে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মিরপুরের সুইমিং কমপ্লেক্স ও ফায়ার সার্ভিসের কাছে চলমান ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন মো. মুক্তার হোসেন। আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালালে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট মুক্তারের বুকে ও শরীরে আঘাত হানে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তিনি কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই ঘটনায় মুক্তার হোসেন একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যেখানে মমতাজ বেগমকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ মে রাতে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এরপর আদালতের আদেশে চার দিনের রিমান্ড শেষে বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। জনপ্রিয় এই লোকসংগীত শিল্পী ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ১৮ জন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের একযোগে পদত্যাগকে ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ব্যারিস্টার বাদল বলেন, সাধারণত সরকার পরিবর্তনের পর অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন—এটিই প্রচলিত নিয়ম। তবে বর্তমানে যারা পদত্যাগ করেছেন, তারা গত চার মাস ধরে এই সরকারের অধীনেই আইন কর্মকর্তা হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, বেতন নিয়েছেন এবং পদের প্রভাব ব্যবহার করেছেন। হঠাৎ করে রিমুভ হওয়ার ভয়ে তারা রাজনৈতিক ইস্যু টেনে পদত্যাগ করছেন, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিন সরকারের পক্ষ থেকে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পর এখন কেন তারা রাজনৈতিক প্রভাবিত বক্তব্য দিচ্ছেন?
বিএনপির এই আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাটর্নি জেনারেলকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, গত চার মাস এই কর্মকর্তারা সরকারের স্বার্থ রক্ষা করেছেন নাকি ভেতরে থেকে কোনো ধরনের ‘স্যাবোটাজ’ বা অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করেছেন, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, সরকারের বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আবার সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেওয়া একটি স্ববিরোধী আচরণ। উনাদের আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি দাবি করেন।
ব্যারিস্টার বাদল আরও মন্তব্য করেন যে, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে যারা কাজ করেন, তাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো সরকারের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু এই কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, তারা দায়িত্ব পালনের চেয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করার ওপর তিনি জোর দেন।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মেঘনা-গোমতী সেতুতে টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর মঙ্গলবার (২৩ জুন) এই তারিখ ধার্য করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আনিসুল হক, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে মেঘনা-গোমতী সেতুতে ২০১৬ সালে নীতিমালা উপেক্ষা করে ‘কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড’কে (সিএনএস) উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। টাকার অঙ্কে কাজের মূল্য নির্ধারণ না করে বরং মোট আদায়কৃত টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল তুলেছে। দুদক বলছে, এ প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় দুদক গত বছর ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এই আদেশ দেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত আনবে। ৩০ বছর পর মরদেহ উত্তোলন করে কিছুই পাওয়া যাবে না। শুধু শুধু শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য আমরা এই মরদেহ উত্তোলনের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন।’
আবেদনে বলা হয়, বহুল আলোচিত চিত্র নায়ক সালমান শাহ এর মৃত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে সেখানেই কবরস্থ আছে। ভিকটিমের মরদেহ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনা হবে এবং ব্যাপক বাধার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও বারবার লাশ উত্তোলনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ব্যাপক বাধার সৃষ্টি সহ সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাদী মো.আলমগীর কুমকুম এবং মা নিলুফাজামান চৌধুরী ওরফ নীলা চৌধুরীর ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। এজন্য আলোচিত চিত্রনায়ক সালমান শাহ এর মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করা একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ লাশ কবর থেকে উত্তোলনপূর্ব সুরতহাল প্রস্তুত এবং ময়না তদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতিসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গেল ২৪ মে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দেন।
গত ২০ বছরের অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলে- সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদীর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ (২৫) ছিলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় বাদীর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী, বোন জামাই কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহসহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে নীলা চৌধুরী ও শাহরানসহ তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেট যাওয়ার কথা ছিল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিন রোডের বাসায় পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে বলে আসেন যে, তারা সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তারা এবং প্রযোজক সিদ্দিক ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।
ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়েই তারা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সালমান তার শোবার ঘরে পড়ে আছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সে সময় দুই-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে একটি মেয়ে সেখানে বসে ছিলেন। তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানের বাবা-মা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন। অবস্থার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই সালমান শাহ মারা গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় শফিক নজরুল নামের এক আইনজীবীকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শেরেবাংলা নগর থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা এই মামলার পাশাপাশি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের দায়ের করা পৃথক আরেকটি প্রতারণা মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শেরেবাংলা নগর থানার সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে বার কাউন্সিলের প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনও মঞ্জুর করেন আদালত।
শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, ‘ফেসবুকভিত্তিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা, অর্থ লেনদেন এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ে আদিবার ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে বার কাউন্সিল পরীক্ষার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রতারণার শিকার হয়ে আদালত মামলা দায়ের করেন। আমরা আসামি সর্বোচ্চ রিমান্ড আবেদন করি, আদালত আসামির ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত শফিক নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘LAW DOCTOR’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় শতভাগ কমন, পরীক্ষায় পাস করানোর নিশ্চয়তা এবং বিশেষ কোচিং সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চটকদার এই বিজ্ঞাপন দেখে অনেক পরীক্ষার্থী যোগাযোগ করলে তিনি বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের নামে অর্থ হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীদের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো সুবিধা না দিয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি বার কাউন্সিলের সনদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একাধিক ভুক্তভোগী এ বিষয়ে অভিযোগ করার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে প্রতারণার সত্যতা মেলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ১৭ জন আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে তারা সম্মিলিতভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পদত্যাগকারী ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভুঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং তারিকুল ইসলাম। এছাড়া পদত্যাগকারী ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের তালিকায় রয়েছেন— ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।
সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।
এর আগে, গত ১৫ জুন আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলার পাশাপাশি মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজ বেগমকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। তবে গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ওই জামিনের মধ্যে দুই মামলার জামিন স্থগিত করেন।
ওই তিনটি মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। এর মধ্যে রোববার এক মামলার শুনানি শেষে নো অর্ডার আদেশ দেন আদালত।
গত বছরের ১২ মে মানিকগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একটি মামলায় চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৭ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম সবশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে লড়েন। আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেন তিনি। তবে মমতাজ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দেওয়ান জাহিদ আহমেদের (টুলু) কাছে হেরে যান তিনি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছে সরকার।
সোমবার (২২ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সার্চ কমিটি গঠনের তথ্য জানায়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ। সার্চ কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচাপতি মো. রেজাউল হক।
সার্চ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল। এছাড়া আইন অনুযায়ী পদাধিকারবলে বাংলাদেশ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী, বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোবাশ্বের মোনেম এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সচিব ড. নাসিমুল গনি।