সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় এমপি গাজী নজরুল ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:০৮

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান।

মামলাটি করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা। এতে আসামি করা হয়েছে এমপি, তার স্ত্রী ও বাদীর শ্যালক সেই গাড়ি চালককে।

এর আগে রোববার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনা গণমাধ্যমে আসার পর জামায়াত সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন। তারা বলছেন, ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের কারণে আজ মরিয়মের এই পরিণতি হলো।

খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। তখন বাসায় থাকা নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। একই সময়ে নিহত মরিয়মের বাবাও উপস্থিত ছিলেন। পরে মামলার পর এমপি ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে গাজী নজরুল ইসলাম তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। চলতি বছরে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।

পরবর্তীতে গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।


প্রথমবার মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেল এসআরবি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

র‌্যাব নাম পরিবর্তন হওয়ার পর প্রথমবারের মত কোন মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেল পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী এসআরবি। ঢাকার মিরপুরে বাড়ি দখল, মারধর ও চাঁদা দাবির এক মামলা তদন্তে এসআরবিকে দায়িত্ব দিয়েছে আদালত।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মো. মিজানুর রহমান ওরফে বাচ্চু নামে এক ব্যক্তি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে মামলাটি করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বিচারক অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে এসআরবিকে নির্দেশ দেন।

এ মামলার আসামিরা হলেন- হেমায়েত উদ্দিন সুমন, মো. নাজমুল হোসেন ও মুন্নী আক্তার মিষ্টি।

আদেশে বলা হয়, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনের ১০(গ) ধারায় এ বাহিনীকে মাদক, সাইবার অপরাধ, ভূমি ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু মামলাটি ভূমির বিষয় জড়িত রয়েছে, সেহেতু এসআরবি আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী আদালত মহাপরিচালককে যে কোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে।

আদেশে আরও বলা হয়, তাই বাদীর নালিশি দরখাস্তটি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) দ্বারা তদন্ত করা যুক্তিযুক্ত। এই আইনের ১৫(২) ধারায় মোতাবেক মহাপরিচালক, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), ইউনিটে কর্মরত পুলিশের উপপরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নয়, এমন কোনো সদস্য দিয়ে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হল।

এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এসআরবি বিল পাস হয় এবং ১৬ সেপ্টেম্বর আইনটির গেজেট প্রকাশের পর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) পরিবর্তে নতুন ইউনিটটির কার্যক্রম শুরু হয়।

আইন অনুযায়ী আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে এসআরবি ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত করতে পারে।

মামলায় বলা হয়েছে, মিরপুর হাউজিং এস্টেটের একটি জমিতে নির্মিত বহুতল ভবনের মালিক মো. ইউনুস আলী ও রুমা আক্তার সপরিবারে কানাডায় থাকেন। তাদের চাচা মিজানুর রহমান বাংলাদেশে থাকা তাদের স্থাবর সম্পত্তি দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা ওই বাড়ির মালিকদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি দখল ও আত্মসাতের চেষ্টা করে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই হেমায়েত উদ্দিন সুমনের নেতৃত্বে আসামিরা ‘জোর করে বাড়িতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা’ করেন। তাদের বাধা দেওয়া হলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আর্জিতে বলা হয়, একপর্যায়ে হেমায়েত উদ্দিন বাদী মিজানুর রহমানের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করেন এবং সেখান থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে যান ।


মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা

জাফর ইকবাল ও মাকসুদ কামাল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সাথে মামলায় পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।

আদালতের নির্দেশনায় কারাগারে থাকা সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা তানবীর হাসান সৈকতকে শুনানির জন্য ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দমনপীড়নের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এই আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন। অভিযুক্তদের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, এ কে এম জামাল উদ্দিন ও তানবীর হাসান সৈকত বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং অধ্যাপক মাকসুদ কামাল ও মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ বাকি পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছেন।


হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও উসকানির দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ৫০০ পৃষ্ঠার এই রায়ের বিস্তারিত অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এদিকে রায়ের পর্যবেক্ষণে অসন্তোষ জানিয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সাজা দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আনা আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে তিনটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটি ধারায় তাঁকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সবগুলো সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় ইনুকে সর্বমোট ১০ বছরই কারাভোগ করতে হবে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগের সত্যতা ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে নিপীড়ন ও গুরুতর জখম করতে কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারকে ফোনে তালিকা করে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেওয়ার ৩ নম্বর অভিযোগটি প্রমাণিত হওয়ায় ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার ৬ নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে দমনপীড়নের চক্রান্তে লিপ্ত থাকার ৭ নম্বর অভিযোগেও তাঁকে সমপরিমাণ কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

অন্যদিকে মামলার বাকি পাঁচটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় সেগুলোর দায় থেকে ইনুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। খালাস পাওয়া অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় এক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হত্যার প্ররোচনা দেওয়া, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলের সভায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্ততা, আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার থেকে বোমা ফেলা বা ছত্রীসেনা ব্যবহারের পরিকল্পনা এবং হত্যাকাণ্ডের পক্ষে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া। এছাড়া ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং দেশজুড়ে ব্যাপক হতাহতের নির্দেশ সংক্রান্ত ৮ নম্বর অভিযোগ থেকেও তিনি খালাস পেয়েছেন।

এদিকে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ২০১৩ সালে তথ্যমন্ত্রী থাকাকালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সংক্রান্ত পৃথক একটি মানবতাবিরোধী মামলারও বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।


অপ্রতিম হত্যার নেপথ্য রহস্য খুঁজছে ৫ বাহিনী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তের সূত্র ধরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তবে অপ্রতিমকে কেন হত্যা করা হলো, হত্যার নেপথ্যে কারা এবং এর উদ্দেশ্যই বা কী ছিল—এসব প্রশ্নের এখনো নিশ্চিত উত্তর মেলেনি। তদন্তসংশ্লিষ্টদের সামনে সম্ভাব্য কয়েকটি বিষয় এসেছে। এর মধ্যে মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য, কোটবাড়ী-সালমানপুর এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা এবং অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগমের সঙ্গে স্থানীয় কোনো চক্রের পূর্ববিরোধ—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব সম্ভাবনার কোনোটি এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, হত্যার পেছনে শুধু মোবাইল ফোন, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার শুরু গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানাধীন কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। দীর্ঘ সময় পরও সন্ধান না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবারের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে।

প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় এক ব্যক্তি বাঁশ কাটতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে অপ্রতিমের মানিব্যাগ পাওয়া গেলেও তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি এখনো উদ্ধার হয়নি।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার সর্বশেষ অবস্থান ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিন নামে এক ব্যক্তিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় দেখা যায়। পুলিশ জানায়, তারা সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। এরপর শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তুহিনকে আটক করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনাস এবং এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর ফাহিমকে আটক করা হয়।

সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, তুহিন, আনাস ও ফাহিমকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার চূড়ান্ত প্রমাণ বা নির্দিষ্ট অভিযোগ এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ড. নাহিদা বেগম ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে এক মাসের জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় মাদক সেবনের অভিযোগে সালমানপুর এলাকার কয়েকজন কিশোরকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর নাহিদা বেগমের মাধ্যমে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

ওই ঘটনার পর স্থানীয় মাদকচক্র বা কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অংশ নাহিদা বেগমের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে টার্গেট করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি কারণকে হত্যার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুলিশও বলছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত কারণ দ্রুত বের করার চেষ্টা চলছে।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, সিআইডি, পিবিআই ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা কাজ করছেন। ঘটনাস্থল, সিসিটিভি ফুটেজ, অপ্রতিমের সর্বশেষ গতিবিধি এবং তার সঙ্গে থাকা আইফোনের অবস্থান—সবকিছুই তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু আইফোন ছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা দ্রুত উদঘাটন করা হবে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্তে সহযোগিতা করছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ, ডিবি, এসআরবিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু অপ্রতিমকে আর জীবিত পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও এখনো উদ্ধার হয়নি।

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, কী কারণে তার একমাত্র ছেলেকে হত্যা করা হলো, তিনি জানেন না। তিনি হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেছেন।

এখন তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অপ্রতিমের হত্যার সঙ্গে কি শুধু আইফোন ছিনতাইয়ের যোগসূত্র রয়েছে, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো পরিকল্পনা বা পূর্ববিরোধ? তুহিন, আনাস ও ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য-প্রমাণ ও আইফোনের সন্ধান মিললেই এ প্রশ্নগুলোর উত্তর স্পষ্ট হতে পারে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


কিশোর অপ্রতীম হত্যা মামলায় আটক ৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান অপ্রতিম। বয়স মাত্র ১৩ বছর। কোটবাড়ি বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয়েছিল। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। নিখোঁজের একদিন পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে লালমাই পাহাড়ের গভীরে মিলেছে তার মরদেহ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তুহিন, ফাহিম ও আনাস নামে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়িতে নিজেদের বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ছেলেকে খুঁজে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সবার সহযোগিতা চান অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম।

রাত পেরিয়ে পরদিন দুপুর পর্যন্ত অপ্রতিমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে লালমাই পাহাড়ের গভীরে এক কৃষক মরদেহটি দেখতে পান। জিলানি নামে ওই কৃষক জানান, মরদেহটি নিয়ে শিয়াল টানাটানি করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পরে ঘটনাস্থলে ডিবি ও সিআইডির সদস্যরা উপস্থিত হন। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে অপ্রতিমের মানিব্যাগ উদ্ধার করা হলেও তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি। আইফোনটির সন্ধান, মৃত্যুর কারণ এবং পুরো ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিন নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে ফাহিম ও আনাস নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত তিনজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে কিংবা কী কারণে তাদের আটক করা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, অপ্রতিম শুধু একজন শিক্ষকের সন্তান নয়, সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারেরও একজন সদস্য। তার এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। তিনি অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। উপাচার্য বলেন, অপ্রতিমকে খুঁজে বের করতে আগের দিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তিন মাসের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

অপ্রতিমের এমন মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।


হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি, কমবে মামলার চাপ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলতি বছরে নতুন রিট মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিচারিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে এবং ব্যক্তিস্বার্থ বা ব্যক্তিগত বিরোধের রিট বন্ধ হলে মামলার চাপ আরও অনেক কমে আসবে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আদালতে একটা শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছেন। বিচারিক শৃঙ্খলা আনতে পারলে রিট মামলার সংখ্যা কমে আসবে। আমার দৃষ্টিতে আদালতে যদি শৃঙ্খলা থাকে, তাহলে প্রকৃতপক্ষে মানুষ ন্যায়বিচার পায়।

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে হাইকোর্টে রিট মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০টি। জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রথম ৩ মাসে হাইকোর্টে নতুন রিট মামলা হয় ৪ হাজার ১১২ টি। এই ৩ মাসে নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ২১৩টি রিট মামলা।

এরপর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত হাইকোর্টে নতুন রিট মামলা হয় ৪ হাজার ৭২৯টি। তবে এই ৩ মাসে হাইকোর্টে রিট মামলা নিষ্পত্তি হয় ৯ হাজার ৫৯০টি। অর্থাৎ এই সময়ে নতুন রিট মামলা দায়েরের চেয়ে নিষ্পত্তির হার দ্বিগুণ। জুনের শেষে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৯টি।

হাইকোর্টে লক্ষাধিক রিট মামলা বিচারাধীন থাকার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশনের (জনস্বার্থ মামলার) নামে ব্যক্তি স্বার্থে রিট মামলা করা হয়। যার মূল উদ্দেশ্যই থাকে আত্মপ্রচার। অনেকেই রিট মামলা করার সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে যান। যেটি অনাকাক্সিক্ষত।

তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় মানা হাইকোর্টের জন্য বাধ্যতামূলক। আইনের অনেকগুলো বিষয় অলরেডি আপিল বিভাগ ঠিক করে দিয়েছেন যে, হাইকোর্ট কোন মামলাগুলো গ্রহণ করতে পারবে কিংবা কোনগুলো পারবে না। যেমন- প্রাইভেট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কোনো রিট পিটিশন চলে না। এটা সুপ্রিম কোর্টের অসংখ্য রায়ে থাকা সত্ত্বেও সময়ে-সময়ে বিভিন্ন হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে রিট পিটিশন গ্রহণ করছেন এবং আদেশ দিচ্ছেন। যার ফলে একটা বিচারিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। এই বিশৃঙ্খলার জায়গাটা যদি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যায় তাহলে রিট মামলার সংখ্যা কমবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি আরেকটি প্রবণতা লক্ষ্য করছি যে, ব্যক্তিগত বিরোধ নিয়ে রিট করা হচ্ছে। যেমন- জমি দখল, জমির সীমানা, বিল-বাঁওড় নিয়ে সরাসরি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হচ্ছে। অথচ ব্যক্তিগত বিরোধ নিয়ে হাইকোর্টে সরাসরি রিট পিটিশন চলে না। আইন বলে ব্যক্তি এক্ষেত্রে নিম্ন আদালতে গিয়ে মামলা করে তার প্রতিকার প্রার্থনা করবেন। কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতিটাকে অনেকে বাইপাস করে সরাসরি হাইকোর্টে এসে মামলাগুলো করছেন। ফলে হাইকোর্টে রিট মামলা বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে পাঁচ ধরনের রিট করার সুযোগ রয়েছে। সেগুলো হলো-

রিট অব হেবিয়াস করপাস : কোনো ব্যক্তিকে আইনগত কারণ ছাড়া আটকে রাখা হলে হেবিয়াস করপাস রিট করা যায়। এক্ষেত্রে বেআইনিভাবে আটক বা গ্রেফতার ব্যক্তিকে হাজির করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন।

রিট অব ম্যান্ডামাস : কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের আইন অনুযায়ী যে কাজ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা না করলে হাইকোর্ট সেই কাজ করতে নির্দেশ দেন।

রিট অব সার্টিওরারি : বিচারিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল আইনবহির্ভূতভাবে কোনো আদেশ দিলে হাইকোর্ট সেই আদেশ বাতিল করতে পারেন।

রিট অব প্রহিবিশন : বিচারিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল যদি তাদের আইনগত ক্ষমতার বাইরে কোনো মামলা শুনতে শুরু করে, তাহলে হাইকোর্ট তাদের সেই কার্যক্রম বন্ধ করতে নির্দেশ দেন।

রিট অব কো-ওয়ারেন্টো: কেউ আইনগত যোগ্যতা ছাড়া কোনো সরকারি পদে থাকলে এই রিটের মাধ্যমে হাইকোর্ট তার বৈধতা যাচাই করেন।

মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ের মধ্য দিয়েই মূলত বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট মামলার আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ঐতিহাসিক এই মামলার রায়ে বলা হয়, জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো ঘটনায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট মামলা করতে পারেন। সেই থেকে আমাদের দেশে জনস্বার্থে রিট মামলা ভিন্ন মাত্রা পায়।

গত কয়েক দশকে হাইকোর্টে জনস্বার্থে করা বিভিন্ন রিট মামলায় অভাবনীয় বহুমাত্রিক সাফল্য এসেছে। রিট মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের মাধ্যমেই দেশের নদীগুলো পেয়েছে ‘জীবন্ত সত্তা’র হিসেবে স্বীকৃতি।

সেই সাথে দেশের বহু নদ-নদী দখলদারদের উচ্ছেদ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ কিংবা পাহাড় কাটা রোধ হয়েছে হাইকোর্টে করা রিট মামলার রায় বা আদেশের মাধ্যমে। এছাড়া জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কিংবা দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে মানবিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, নারী-শিশু ও প্রান্তিক মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় রিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনেক সময় হাইকোর্টে একজন ব্যক্তির করা রিটের রায় বা আদেশের সুফল ভোগ করেন দেশের হাজারো মানুষ। সূত্র: বাসস


বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলির পর পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল

ছবি: জিয়াউল
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামসহ চারজনকে চোখ ও শরীর ঢেকে গুলি করে হত্যার পর পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাব্বির রহমান ওসমানি। তার সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের মে মাসে র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের তৎকালীন প্রধান জিয়াউল আহসানের উপস্থিতি ও নির্দেশনায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুমের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এসব তথ্য তুলে ধরেন মেজর সাব্বির। মামলার একমাত্র আসামি সাবেক এনটিএমসি মহাপরিচালক বরখাস্তকৃত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান।
সাক্ষ্যে মেজর সাব্বির বলেন, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে একটি ফিশিং ট্রলারে করে চারজনকে বলেশ্বর নদীর দিকে নেওয়া হয়। তাদের মুখ ও পুরো শরীর এমনভাবে ঢেকে রাখা হয়েছিল, যাতে তারা পুরুষ না নারী, তা বোঝার উপায় ছিল না। পরে ট্রলারে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। মরদেহের পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এর আগে ২০১০ সালের জানুয়ারিতেও একই ধরনের একটি হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তির গলা ও পা বরাবর সিমেন্ট ভর্তি বস্তা বাঁধা হতো। এরপর মাথা ও কানের পাশে ছোট বালিশ চেপে ধরে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হতো। গুলির পর মরদেহের পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হতো।
মে মাসের ওই অভিযানের দুই থেকে তিন দিন পর বলেশ্বর নদীতে পেট কাটা ও সিমেন্টের বস্তা বাঁধা একটি মরদেহ ভেসে ওঠে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহটি সাবেক বিজিবি সদস্য নজরুল ইসলামের বলে শনাক্ত করা হয়। আদালতে জানানো হয়, নজরুল বিডিআর বিদ্রোহের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।
মেজর সাব্বিরের সাক্ষ্য অনুযায়ী, জিয়াউল আহসান এসব অভিযানকে সাংকেতিক ভাষায় ‘গল্ফ অপারেশন’ বলতেন। সুন্দরবন ও বরিশাল অঞ্চলে র‌্যাবের অভিযানে আটক ব্যক্তিদের হত্যা করে পরে ঘটনাগুলোকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে দেখানো হতো। এসব অভিযান জিয়াউল আহসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় পরিচালিত হতো বলে দাবি করেন তিনি।
২০১১ ও ২০১২ সালে সুন্দরবনের নিশানখালী, কটকা ও মরা ভোলা এলাকায় পরিচালিত তিনটি অভিযান নিয়েও সাক্ষ্য দেন সাব্বির রহমান ওসমানি। তার ভাষ্য, এসব অভিযানে আগে আটক ব্যক্তিদের হত্যা করে পরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দেখানো হতো। নিশানখালী অভিযানে ঘটনাস্থলে দুটি মরদেহ পাওয়া গেলেও মামলায় ছয়টি মরদেহ দেখানোর তথ্যও তিনি তুলে ধরেন। ২০১২ সালের কটকা অভিযানে চারজনকে ট্রলারে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেওয়ার পর আরও একজনকে বনের মধ্যে নিয়ে গুলি করা হয় বলেও জানান তিনি। পরে অভিযানে চারটি মরদেহ উদ্ধারের কথা দেখানো হয়।
এসব অভিযানে ব্যবহৃত ট্রলারের মাঝি আলকাস মাঝির বিষয়েও আদালতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন সাক্ষী। তার ভাষ্য, আলকাস অনেকগুলো অভিযানে সহযোগী ছিলেন। পরে এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় বাজারে কথা বলতে শুরু করলে বিষয়টি জিয়াউল আহসানের নজরে আসে। একপর্যায়ে সাব্বিরকে আলকাসকে ‘এলিমিনেট’ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে জিয়াউল নিজেই বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
এর কিছুদিন পর জিয়াউল আহসানের ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন আলকাস মাঝি। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরিস্থিতিগত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাকেও হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।
মেজর সাব্বির আরও জানান, এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করে তিনি তৎকালীন ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের কাছে প্রতিকার চেয়েছিলেন। কিন্তু অধিনায়ক তাকে জানান, এ বিষয়ে তার কিছুই করার নেই। সাক্ষীর দাবি, জিয়াউল আহসানের প্রভাব ও কর্তৃত্বের কারণে র‌্যাব-৮ কিংবা র‌্যাব-৬-এর কর্মকর্তাদের অনেকেই তার নির্দেশের বিরোধিতা করার সাহস পেতেন না।
অভিযানের পর একবার গাড়ির ভেতর থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হলে জিয়াউল সবাইকে স্বাভাবিক হতে বলেন এবং ভুক্তভোগীদের ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে সাক্ষ্যে জানান মেজর সাব্বির।
জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, জিয়াউল আহসানের মাধ্যমে সংগঠিত এসব হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী মেজর সাব্বির রহমান ওসমানি।
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজানো হতো। তৎকালীন র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম ও সাংবাদিককে অপারেশনস্থল পাথরঘাটার চরদুয়ানীতে নিয়ে গিয়ে ব্রিফ করা হতো। পরে সেই অনুযায়ী সাজানো বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচার করা হতো। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে এসব তথ্য মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা বা ‘অ্যাবেটমেন্ট’ হিসেবে যুক্ত হতে পারে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।
মেজর সাব্বির তার জবানবন্দিতে বলেন, র‌্যাবে দায়িত্ব পালনকালে এসব ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। চাকরির ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেন। ২০১৩ সালের আগস্টে তিনি সেনাবাহিনীতে ফেরার আদেশ পান এবং ২০১৪ সালের মার্চে অবসর নেন।
গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে এর আগে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া এবং সেনা ও র‌্যাবের কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মেজর সাব্বিরের সাক্ষ্যগ্রহণের পর মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হবে। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। গত ১৬ বছরে গুমের অভিযোগে করা মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম, যার বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।


দণ্ডিত ৭ আসামির খোঁজ পেলেই গ্রেপ্তার করে দেশে আনা হবে: চিফ প্রসিকিউটর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিরা কে কোথায় রয়েছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে আমরা আশ্বস্ত করতে পারি যে, যেহেতু তারা এখন দণ্ডপ্রাপ্ত, তাদের অবস্থান যদি আমরা শনাক্ত করতে পারি, তাহলে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেব।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। কিছু কিছু অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাঁচ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি যা রয়েছে, তা ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব সম্পদ জুলাই ফাউন্ডেশন বা সংবিধিবদ্ধ অন্য যে সংস্থা রয়েছে, তাদের মাধ্যমে এ অর্থ জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত পরিবারের মধ্যে বণ্টনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল। অধিকাংশ আসামির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে শুকরিয়া আদায় করছি। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।

আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিদের সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি ও ব্যক্তিগত দায়ের বিষয়টি সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় বৈঠকে কারফিউ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এবং ওবায়দুল কাদেরের শুট অ্যাট সাইট নির্দেশের পরই নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ অনেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে মন্তব্য করছেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের সব বিচারকার্য তারা জানেন। তাদের বিরুদ্ধে বিচার চললেও তারা মোকাবিলা করেননি। এতে পরিষ্কার বুঝতে হবে যে আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক। তারা অপরাধ করেছেন বলেই পলাতক রয়েছেন। তাদের যেকোনো বক্তব্য আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া কোনো অপরাধী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক থাকেন, তাহলে আইনে যেভাবে বিধান আছে সেভাবেই বিচারকার্য পরিচালিত হয়েছে। অতএব এখানে মানবাধিকার সংগঠনেরও মন্তব্যের কোনো অবকাশ নেই।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, রায় প্রকাশিত হওয়ার পর ৩০ দিন পর্যন্ত আপিলের সময়সীমা থাকবে। ৩০ দিন পর্যন্ত কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা অন্য কোনো ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার হয়তো সুযোগ নেই। কিন্তু ৩০ দিন পর থেকে বাংলাদেশ সরকার এ রায় বাস্তবায়ন করতে আইনগত কোনো বাধা নেই।


রাঙামাটিতে বাবাকে হত্যায় ছেলে ও ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে শান্তিলাল চাকমাকে হত্যা মামলায় তার ছেলে ও ভাতিজাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শান্তিলাল চাকমার ভাতিজা আলোময় চাকমা (৩২) ও ছেলে সোহেল চাকমা (২২)।

আদালত সূত্র জানায়, রায়ের সময় সোহেল চাকমা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামি আলোময় চাকমা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোহেল চাকমাকে রায়ের পর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার নথি ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলোময় ও সোহেল চাকমা শান্তিলাল চাকমাকে তার ঘর থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি সড়কে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে আটকে ধারালো দা দিয়ে গলাকেটে হত্যা করা হয়।

মামলার সাক্ষ্য ও জবানবন্দিতে হত্যার পর ভিকটিমের রক্ত পান করার অভিযোগও উঠে আসে। পরে মরদেহটি কাঠের সঙ্গে বেঁধে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার প্রায় নয় দিন পর কাচালং নদীর লাইল্যাগোনা এলাকা থেকে শান্তিলাল চাকমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা বিনয় শঙ্কর চাকমা সাজেক থানায় মামলা করেন। ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর তদন্ত শেষে এসআই সফিকুল ইসলাম দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন

হত্যাকাণ্ডটিকে আদালত অত্যন্ত নৃশংস ও নিষ্ঠুর হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালতসংশ্লিষ্টরা জানান, আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।


‘তোমরা মারো না কেন, মারো’, সাদ্দামকে বলেছিলেন ওবায়দুল কাদের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর শারীরিক হামলা চালাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে সরাসরি প্ররোচিত ও উসকে দিয়েছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কর্তৃক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ।

বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত অকাট্য প্রমাণের বরাত দিয়ে চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, ফোনে কথোপকথনের সময় ওবায়দুল কাদের সরাসরি সাদ্দামকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘তোমরা মারো না কেন? মারো।’ এ ছাড়া রাজপথে আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধে কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে তিনি ‘দেখা মাত্রই গুলি’ করার মতো বর্বরোচিত নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। আমিনুল ইসলাম জানান, গত ১১ জুলাই ছাত্রলীগকে সহিংসতায় লেলিয়ে দেওয়ার এই নির্দেশনার পরপরই ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ নিরীহ শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি ঘটে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সভায় ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন যে ছাত্র আন্দোলন দমন করার জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট। শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের এমন উসকানিমূলক বক্তব্য ও নির্দেশনার কারণে তৎকালীন সরকারের অনুগত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা একযোগে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণ চালায়। ফলে ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন, যা ট্রাইব্যুনালে সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।


ওবায়দুল কাদেরসহ ৫ জনের অর্ধেক সম্পদ জুলাই হতাহতদের দেয়ার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে শীর্ষ পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে তার ৫০ শতাংশ জুলাই শহীদদের পরিবার এবং আহত-পঙ্গু যোদ্ধাদের কল্যাণে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডাদেশের পাশাপাশি যে পাঁচ আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ক্ষেত্রে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের রায় অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত করা সম্পদের অর্ধেক অংশ ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’ কিংবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনে ব্যয় করা হবে। রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম জানান, আইনে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুযোগ থাকলেও ট্রাইব্যুনাল প্রথমবারের মতো দণ্ডিতদের ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। এই রায়কে প্রত্যাশিত আখ্যা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, আইনের বিধান অনুসারে দণ্ডপ্রাপ্তরা ৩০ দিনের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন; অন্যথায় নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলে সরকারের পক্ষ থেকে সাজা বাস্তবায়নে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না।


মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া অন্য ছয়জন আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। দণ্ডপ্রাপ্ত এই সাত শীর্ষ আসামির প্রত্যেকেই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ জুন এই মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হওয়ার পর একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষী তাঁদের সাক্ষ্য প্রদান করেন, যার মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। টানা ৯ কার্যদিবস উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি এবং প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ১২৩টি সিরিজের প্রামাণ্য নথিপত্র উপস্থাপনের পর গত ১৭ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।

আদালতে প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয় যে, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন কঠোর হস্তে দমনে দণ্ডপ্রাপ্তরা পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য, দমন-পীড়নের নির্দেশ এবং নিরীহ মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলার ষড়যন্ত্রে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ পরিচালনার মাধ্যমে সংঘটিত এই নৃশংসতাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সুস্পষ্টভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে এই সর্বোচ্চ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।


banner close