সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
২০ আশ্বিন ১৪৩৩

লাগেজ চুরি ঠেকাতে বিমানবন্দরে লাইভ সিসিটিভির দাবিতে আইনি নোটিশ

* ১০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে হাইকোর্টে রিটের হুঁশিয়ারি
ফাইল ছবি
আপডেটেড
৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:১৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:১৩

বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি ও লুটপাট বন্ধে দেশের সব বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের পুরো প্রক্রিয়া লাইভ সিসিটিভির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীর লাগেজ তল্লাশি হলে তা প্রকাশ্যে ও ক্যামেরার মাধ্যমে প্রদর্শন এবং বিমানবন্দরের কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন সোমবার (৫ অক্টোবর) জনস্বার্থে এ আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, বিমানবন্দর একটি দেশের আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দেশে আসা ও বিদেশগামী যাত্রী, পর্যটক, বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের লাগেজ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ উঠছে। উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে লাগেজ নামিয়ে কনভেয়ার বেল্টে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী সময়ে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নোটিশ অনুযায়ী, সিসিটিভির আওতার বাইরে থাকা বিভিন্ন ‘ব্লাইন্ড স্পট’ কাজে লাগিয়ে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী ও লোডারদের কেউ কেউ যাত্রীদের লাগেজ কেটে মোবাইল, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ চুরি করছে। এতে যাত্রীরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি বন্ধে উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ খালাস, ট্রলিতে তোলা, র‍্যাম্প এলাকা পার হওয়া এবং ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ উচ্চমানের সিসিটিভির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যারাইভাল লাউঞ্জের বড় পর্দায় এ কার্যক্রম সরাসরি দেখানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কাস্টমস বা নিরাপত্তা সংস্থা কোনো লাগেজ খুলে তল্লাশি করলে সেটিও যাত্রীর সামনে ক্যামেরায় প্রদর্শনের দাবি জানানো হয়েছে।

আইনি নোটিশে বিমানবন্দর কর্মী নিয়োগে ঘুষ ও অনিয়ম বন্ধের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লোডার, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগ কাঠামো চালুর পাশাপাশি দুদকের কার্যকর নজরদারি চাওয়া হয়েছে।

নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে এসব ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।


নির্বাচিত

১৬ কোটি টাকার সোনা উদ্ধারের ঘটনায় বিমানের দুই কর্মী রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৮০টি সোনার বার উদ্ধারের মামলায় তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া দুই আসামি হলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মী মানিক মিয়া ও মিজানুর রহমান। এদিন তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন বিমানবন্দর থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আবুল কাইয়ুম। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে রিমান্ড শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রোববার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরে দুবাই থেকে ঢাকায় আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট রানওয়েতে পৌঁছানোর পর দুই বিমানকর্মীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশির একপর্যায়ে তাদের পরিহিত জুতার ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় সোনার বারগুলো পাওয়া যায়। দুই কর্মীর কাছ থেকে মোট ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা প্রতিটি সোনার বারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া সোনার ওজন ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের হিসাবে, উদ্ধার করা সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় রোববার বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেভিনিউ অফিসার অব কাস্টমস রুহানী ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার করা সোনার উৎস, কার মাধ্যমে এসব সোনা বিমানবন্দরে আনা হয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে তদন্ত সংস্থা।


নির্বাচিত

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সা. সম্পাদক নাজমুল আলমের দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নাজমুল আলমের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সিদ্দিকী নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থ উপার্জন করে তা নিজের ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে এনে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা এবং বিদেশে অর্থপাচার করে সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। তিনি দেশত্যাগ করে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের জন্য তার বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।


নির্বাচিত

হাসানুল হক ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রসিকিউশনের আপিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল দায়ের করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এ আবেদন দাখিল করা হয়। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এক রায়ে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে তিনটি সাজা একসঙ্গে চলায় তাঁকে কার্যত ১০ বছর কারাগারে কাটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে ইনুর বিরুদ্ধে আনা মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছিল। এর মধ্যে তিন নম্বর অভিযোগে ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তালিকা প্রস্তুত করা এবং তাদের আটক ও নির্যাতন করতে কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোনে নির্দেশ দেওয়া; যেখানে আন্দোলনকারী রাইসুল হকসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীকে গুরুতর আহত, শারীরিক নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩-এর আওতায় তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অপরাধে সহায়তা ও উসকানির দায়ে ছয় নম্বর অভিযোগে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানাসহ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সাত নম্বর অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের দায়ে আরও এক লাখ টাকা জরিমানাসহ সমমেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত ইনুকে সেসব অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছিলেন। খালাস পাওয়া অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে বল প্রয়োগ ও হত্যার প্ররোচনা দেওয়া; ১৯ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ১৪-দলীয় জোটের সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহায়তা করা; আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারসহ হেলিকপ্টার থেকে বোমা বর্ষণ ও ছত্রীসেনা নামানোর পরিকল্পনা করা এবং গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের পরিচালিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনকে কৌশলগতভাবে সমর্থন জানানো।

এ ছাড়া খালাস পাওয়া অপর গুরুত্বপূর্ণ আট নম্বর অভিযোগে উল্লেখ ছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা দেওয়া এবং দেশজুড়ে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা ও ২৫ সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে আহত করার দায়ে সম্পৃক্ত থাকা। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপিলে দাবি করা হয়েছে, সরকারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের গভীর ষড়যন্ত্রে তাঁর প্রত্যক্ষ প্রভাব ও দায় রয়েছে; ফলে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ অপর্যাপ্ত হওয়ায় অপরাধের গুরুত্ব ও মাত্রা বিবেচনায় এনে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া আবশ্যক।


নির্বাচিত

জয়শঙ্করের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। রোববার (৪ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে এ সাক্ষাৎ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করে জয়শঙ্কর রিয়াজ হামিদুল্লাহর অবদানের প্রশংসা করেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন।

জয়শঙ্কর তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘বিদায়ী সাক্ষাতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। তাঁর অবদানের প্রশংসা করছি এবং ভবিষ্যতের সব প্রচেষ্টায় সর্বোচ্চ সাফল্য কামনা করছি।’ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রিয়াজ হামিদুল্লাহও দিল্লিতে তাঁর ১৮ মাসের দায়িত্বকালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

রিয়াজ লেখেন, বাংলাদেশের দূত হিসেবে ভারতে ১৮ মাসের দায়িত্ব পালনের সময় পারস্পরিক আস্থা, মর্যাদা ও অভিন্ন লাভের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখা ও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। প্রচলিত কূটনৈতিক পথের বাইরে গিয়ে মানুষের হৃদয় ছোঁয়ার মাধ্যমে অভিন্ন স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ভিত দৃঢ় করার প্রয়াস চালিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, বিক্ষোভ ও কূটনীতিক তলবের ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের দায়িত্ব নেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ।

দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়নি। ২০২৬ সালের ২০ মার্চ প্রথমবারের মতো জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। সে সময় দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফরেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ জোরদার হয়। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠিত হলে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এ প্রেক্ষাপটে রিয়াজ হামিদুল্লাহর বিদায়ী সাক্ষাৎকে তাঁর দিল্লি মিশনের দায়িত্বকালের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে পরিবর্তনের অংশ হিসেবে রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দিল্লিতে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তাঁর নিয়োগে ভারতের আনুষ্ঠানিক সম্মতিও পাওয়া গেছে।

দিল্লিতে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি ও ইউনেসকো স্বীকৃত টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি নিয়ে বিভিন্ন আয়োজনের পাশাপাশি দিল্লিতে ‘ইলিশ উৎসব’ আয়োজনের উদ্যোগও নেন তিনি। কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসব আয়োজন করা হয়।

আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ। ১৯৯৫ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়া এই কূটনীতিক এর আগে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার এবং নেদারল্যান্ডসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


নির্বাচিত

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর-লুটে গ্রেপ্তার আরও ২

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তারা হলেন—জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন মিশু মোল্লা (৩৬) এবং ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম ইউনিটের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ ওরফে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (২৭)।

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন, ‘গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) আমিনবাজার এলাকা থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, সাজ্জাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

এদিকে, মিরপুর এলাকা থেকে রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানা পুলিশ।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজীব শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে বলেন, ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় রফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুসারে, মুখোশ পরে দেশীয় অস্ত্র হাতে দুই শতাধিক মানুষ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রথমেই দুজন নিরাপত্তারক্ষীকে জিম্মি করে।

হামলাকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে মূল্যবান সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা, নগদ অর্থ ও অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


নির্বাচিত

এজলাসে বিচারককে হেয় করে কথা বলেন আখতারুজ্জামান

আদালত প্রাঙ্গণে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (৩ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এ আদেশ দেন।

এদিন ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর আগে তাকে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরাতে যান সিএমএম আদালতের ইনচার্জ এসআই মোরশেদ আলম।

তখন আখতারুজ্জামান বলেন, আমার হাত ধরবেন না, ডোন্ট টাচ মি। এরপর তাকে মাথায় হেলমেট ও হাতকড়া পরানো হয়। তবে প্রিজন ভ্যানের গেটে এসে মাথায় থাকা হেলমেট ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আখতারুজ্জামান। বলেন, কেন আমি হেলমেট পরব। আমি আওয়ামী লীগ না।

এরপর সাংবাদিকদের দেখে তিনি বলেন, হেলমেট ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছি। সরকারের অবৈধ অর্ডার মানি না। এ সময় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন তিনি। এরপর তাকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুনানির আগে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমি বিমানের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছি। জুলুম-নির্যাতন করে আমাদের থামানো যাবে না। পরবর্তীতে শুনানি নিয়ে তার এক দিনের রিমান্ড আদেশ দেন আদালত।

শুনানিতে সম্পর্কে মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আখতারুজ্জামান আদালতে আসার শুরুতেই পুলিশের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পুলিশসহ আদালতে উপস্থিত সবাইকে বের করে দিতে বলেন। তিনি পুলিশ, সাংবাদিকসহ কাউকেই আদালতে রাখতে চাননি এবং আদালত ও প্রসিকিউশন পক্ষের প্রতি বিরূপ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন।

পিপি বলেন, শুনানি চলাকালে আখতারুজ্জামান বিচারককে হেয় করে বলেন, রায় দেওয়ার ক্ষমতা তার নেই।

পিপি আরও বলেন, আদালতে আখতারুজ্জামান দাবি করেন তিনি বিমানবন্দরে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। তখন আদালত তাকে বলেন, প্রতিবাদ করা তার অধিকার। তবে প্রতিবাদের ভাষা সংযত হতে হবে এবং প্রতিবাদ করতে গিয়ে কাউকে আঘাত করা যাবে না।

আদালতের এই জবাবে আখতারুজ্জামান আরও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন বলে দাবি করে পিপি বলেন, আদালত তাকে শান্ত হতে বলছিলেন। তবুও তিনি বারবার বলতে থাকেন যে তিনি এভাবেই চলবেন, দেখে নেবেন কে কী করে।

এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামান গ্রেফতার হন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় হওয়া মামলায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের চাপ ছিল। এ কারণে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। একই সঙ্গে লাগেজ পেতেও দেরি হচ্ছিল। এ সময় ঢাকা-৫ আসনের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ। তিনি (রাগীব সামাদ) পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

এরই মধ্যে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালকের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান। তাকে গালি ও হুমকি দেন। বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও তিনি অশালীন মন্তব্য করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে। দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে গালি দেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন।

এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সংরক্ষিত ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ সংসদের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নৌকার প্রার্থীর কাছে হেরে যান। এরপর ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

তিনি একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে পঞ্চমবার বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

এদিকে ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি দিতে দেরি হওয়ার ঘটনায় দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তারা হলেন ব্যাগেজ ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রধান ও ফ্লাইট সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসেন। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।


নির্বাচিত

জামায়াত নেতা মেজর আখতারুজ্জামান একদিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

শনিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করে। ভ্রমণটিকিট বুক করুন

এর আগে তাকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। শনিবার ঢাকার বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম এ আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ‘আসামি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে সরকারি কর্মচারীর কর্তব্য পালনে বাধা প্রদান, হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো এবং আঘাত করার মাধ্যমে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করেন। এতে বিদেশফেরত যাত্রীদের স্বাভাবিক আগমন ব্যাহত হয়। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোনো কুচক্রী মহলের ইন্ধন ছিল কি না, তা উদঘাটনের জন্য আসামিকে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। সময় স্বল্পতার কারণে তাকে এ বিষয়ে যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ঘটনার বিষয়ে আসামিকে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।’

গত ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন ধামাল কোট এলাকার ১০ নম্বর রোডের ৩৫ নম্বরের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


নির্বাচিত

মিরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় চার মামলায় আসামি ২ হাজার, আটক ৩০

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ২ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন এ তথ্য।

তিনি বলেছেন, মিরপুর মডেল থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় একটি, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি এবং ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। তিন মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন করে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে কাফরুল থানায়ও আরেকটি মামলা হয়েছে। চার মামলায় মোট আসামির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।

এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরাতে গেলে এক্সকাভেটরের আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় দোকানী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হকার ও দোকানীরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় হকাররা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন।

সংঘর্ষের মধ্যে সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতির কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।

এ সময় ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও হামলার শিকার হন। পরে দুপুরের দিকে ফের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়। মামলাগুলোর ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নির্বাচিত

সেই ভারতীয় নাগরিক ৭ দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে এসে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সরকারি গোপন আইনে মামলা হয়। পুলিশের গোয়েন্দা রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. নুর আলম। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত জিজ্ঞাসাবাদে তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্টের জন্ম তারিখের গড়মিল আছে। তিনি ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ আছে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রবিউল স্বীকার করেন, প্রায় ১০/১২ বছর যাবত তিনি বাংলাদেশে একাধিকবার যাতায়াত করেছেন। যাতায়াতের সময় কখনো ট্যুরিস্ট ভিসা, কখনো বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। বেশিরভাগ সময় ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী কাজে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন।

আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি রবিউল ইসলাম রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী কাজে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো, পাঠানোর চেষ্টা ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের সহায়তা করায় তার বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩, ৩এ, ৪, ৫ এবং ৯ ধারার অপরাধ পাওয়া যায়।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার টিমের এসআই বিনয় কুমার রায় তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।


নির্বাচিত

জামায়াত এমপির জামাতা মিজানুরসহ ৩ জন রিমান্ডে

জামায়াত এমপির জামাতা মো. মিজানুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রোপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মো. মিজানুর রহমানসহ তিন জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। অপর দুই আসামি হলেন শাহরিয়ার মাহমুদ (৬০) ও মো. শাহ আলম ওরফে অনিক (৪৭)।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে, আসামিদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আল আমিন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করলেও এজাহার নামীয় পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, অজ্ঞাত আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার, ঘটনার মূল রহস্য উৎঘাটনের লক্ষ্য নিবিড় ও গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড পাওয়া একান্ত প্রয়োজন।

এদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. শওকত হোসেন, মহিউদ্দিনসহ অনেকেই রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন দক্ষিণ মানিকদীর ইসিবি চত্বর ‘নিউগিনি প্রোপোর্টিজ লিমিটেড’র প্রকল্প এলাকায় আনুমানিক ৫০ জন দুষ্কৃতকারী দলবদ্ধ হয়ে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

আরও বলা হয়, হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি ক্যাবল, ক্যামেরা ও প্রফেশনাল মিডিয়া ইক্যুইপমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে বাদী প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং এক কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ওই সময়ে আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ নামের স্টুডিওতে অনাধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


নির্বাচিত

ভাত চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা, ১২ দিনেও হয়নি রহস্য উন্মোচন

খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আয়মান মো. আজমুল হোসেন। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আয়মান মো. আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার বড় শলুয়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান হলেও এলাকায় মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদ তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ১২ দিনেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। দিন যতই যাচ্ছে ততই আজমুল হোসেন হত্যা মামলার রহস্য ততই ঘনীভুত হচ্ছে।

নিজের আত্মরক্ষায় ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কথা বলা হলেও তার কোন সত্যতা এখনও পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার রাতে আশপাশে থাকা অনেক প্রতক্ষ্যদর্শী মুখ খুলছেন না।

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হল গেট সংলগ্ন ইসলামাবাদ গলির একটি মেসের ম্যানেজার মেহেদীর সাথে পরিচয় হয়। মেহেদী গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সে ওই ভবনের যাবতীয় দায়িত্ব মালিকের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে ম্যাচ পরিচালনার কাজটি করতো।

ঘটনার দিন ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগ তুলে আকষ্মিক ওই ভবনের কয়েকজন বড়ভাই রুমের মধ্যে আজমুলকে মারধর করতে শুরু করে। পরবর্তীতে ছাদে নিয়ে তিনঘন্টা মারধর করা হয় তাকে।

তবে তদন্তে এখনও স্পট নয় যে- আজমুলকে হত্যার পর ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে, নাকি নির্যাতনের এক পর্যায়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে আজমুল নিজেই পাশের বিল্ডিং’র তৃতীয় তলায় লাাফিয়ে পড়েছেন বলে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা বলছেন, তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। চারতলার ছাদ থেকে পাশের বিল্ডিংয়ের কার্ণিসের উপর দাড়িয়ে তৃতীয় তলার ছাদে লাফ দেওয়া সম্ভব নয়। এদুটি ভবনের দুরত্ব অনেক। দুই ভবনের মাঝে সরু একটি রাস্তা রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে খাজা হল গেট সংলগ্ন ইসলাম নগরে সরোয়ারের বাড়ি থেকে পাশের বাড়ির ছাদের দুরত্ব ৬-৭ ফুট। বাড়ির ছাদে প্রায় চার ফুট কার্ণিস দেওয়া দেওয়ালের উপর থেকে একজন মানুষের পক্ষে পাশের বাড়ির ছাদে লাফ দেওয়া সম্ভব নয়। ওই ভবনের ছাদ থেকে পড়ে সে একটি সরু ড্রেনের মধ্যে পড়ে ছিল।

মেসের রাধুনী ফাতেমা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মেসের তৃতীয় তলায় থাকা ১০ জনের খাবার রান্না করেন। ওই দিন ভাতের গাবলা তিন তলা থেকে চতুর্থ তলায় আজমুলের ঘরে কিভাবে গেল তা তিনি জানেন না।

হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল হোসেন জানায়, ভাত খাওয়া নিয়ে হত্যাকান্ডের মত একটা ঘটনা ঘটবে এটা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। এর পেছনে যে অন্য কোনো কারণ আছে সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।

গত শুক্রবার গভীর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রোড-সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চারতলা ভবনের ছাদে ভাত চুরির অভিযোগ এনে আজমুলকে পেটানো হয়। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।

এ ঘটনায় ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে তার বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে খুলনার হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সর্বমোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে আরো যা জানায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুটি ছাত্র হলের পাশেই আবাসিক ইসলামনগর মসজিদ গলিতে সরোয়ার হোসেন নামে চারতলার একটি মেসের থাকতেন নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন।

পরিবারের অভিযোগ, টাকা নিয়ে আজমুলের সঙ্গে মেহেদীর বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার আগের দিন চুয়াডাঙ্গায় থাকা আজমুলকে ফোন করে মেহেদী খুলনায় ডেকে নেন। এরপরই তাকে মেসে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিবারের ধারণা, ভুয়া ভর্তি ও অর্থ লেনদেনের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তাকে ডেকে আনা হয়ে থাকতে পারে। এই মেহেদীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।

গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভবনটিতে গিয়ে দেখা গেছে, চার তলা ভবনের প্রতিটি তলায় আটটি করে কক্ষ রয়েছে। চতুর্থ তলায় ডি-৮ কক্ষে থাকতেন আজমুল। ভবনে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। প্রতিটি তলার প্রবেশদ্বারে তালাও নেই।

ঘটনার বিচার চেয়ে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব আ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ভাত খাওয়া নিয়ে হত্যাকান্ড ঘটনা মানুষের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। কাজেই এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

খুলনা মেট্রোলিটন পুলিশের ডেপুটি পুলিম কমিশনার (সদর) এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, এটি একটি স্পর্শকাতর মামলা। আমরা তদন্ত করছি। ইতোমধ্যেই চারজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। আশাকরি অন্যান্য আসামিরা ধরা পড়বে।


নির্বাচিত

পদত্যাগ করলেও মিষ্টি পরবর্তী নির্বাচনে অযোগ্য হবেন না: অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেও মিষ্টি পরবর্তী নির্বাচনে অযোগ্য হবেন না জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সদস্য পদ শূন্য হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানান তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী- রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত কোনো ব্যক্তির সংসদ সদস্য পদ না থাকার দুটি কারণ। এর একটি হলো তিনি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। আর অন্যটি হলো সংসদে যদি তিনি সংশ্লিষ্ট দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন।

ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ক্ষেত্রে পদত্যাগের বিষয়টি এসেছে। যেহেতু তিনি পদত্যাগ করেছেন, কাজেই এই পদত্যাগপত্র তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দেবেন। পরবর্তীতে স্পিকার এটি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন এবং নির্বাচন কমিশন এই পদটি শূন্য ঘোষণা করবে। এরপর তারা শূন্য হওয়া পদটি পূরণের জন্য শিডিউল দেবেন।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণরূপে প্রতিপালিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে পরবর্তী সংসদে যদি তিনি সরাসরি নির্বাচন করতে চান এবং দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয় কিংবা না দেয়, অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও যদি তিনি নির্বাচন করতে চান- তাহলে এটি তার অযোগ্যতা হবে না। শুধু বর্তমান সংসদের মেয়াদকালেই এটি কার্যকর হবে।


নির্বাচিত

banner close