শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

ডিসিদের প্রধানমন্ত্রীর ২৫ নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৮:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ১১:৪৮

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে, কৃত্রিম সংকট রোধ ও পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে এবং এ বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ইত্যাদি রোধে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারি তহবিল ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধনের কথাও বলেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ের শাপলা হলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন ২৫টি নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিগত ১৪ বছরে বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব রূপান্তর ঘটেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিগত ১৪ বছরে মাথাপিছু আয় ৫৪৩ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জিডিপির আকার মাত্র ৭০ বিলিয়ন থেকে ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির আগে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। মহামারি আঘাত হানার পর তা কিছুটা শ্লথ হলেও বর্তমানে তা ক্রমাগতভাবে আগের ধারায় ফিরে আসছে।’

করোনাভাইরাস ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদেশ থেকে আসা অর্থের প্রবাহকে প্রভাবিত করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৬০ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার এবং ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে।’

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সফলভাবে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ২০২২ সালে শুরু হয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং অবরোধ ও পাল্টা অবরোধ। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসহ দ্রব্যমূল্যের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। শুধু আমাদের মত দেশ না, উন্নত দেশগুলোও এ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় আমদানি পরিহার, ব্যয় সঙ্কোচন, আর্থিক খাতে মনিটরিং জোরদার করে আমরা আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি, যেন কোনোভাবেই দেশের মানুষের কষ্ট না হয়।’

এ সময় পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ১০০ মহাসড়কের উদ্বোধন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের কাজের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় আপনাদের বেতন-ভাতা হয়। জনগণ ট্যাক্স দেয় সেবা পাওয়ার জন্য। সেবা দেয়া প্রতিটি সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব। সে জন্য সেবার মনোভাব নিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকলে আপনাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

মানুষের কল্যাণে সব প্রকার ভয়-ভীতি ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে আইনানুগ দায়িত্ব পালন করারও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর ২৫ নির্দেশনা
তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলেন, বহুবিধ কাজের মধ্যে কিছু বিষয়ের প্রতি আমি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

১. খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। পতিত জমিতে ফসল ফলাতে হবে। কোনো জমি যেন অনাবাদি না থাকে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
২. নিজেরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং জনগণকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
৩. সরকারি অফিসগুলোতে সাধারণ মানুষ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বিঘ্নে যথাযথ সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদের সন্তুষ্টি অর্জনই যেন হয় সরকারি কর্মচারীদের ব্রত।
৪. সরকারি তহবিল ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে।
৫. এসডিজি স্থানীয়করণের আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে তৎপরতা জোরদার করতে হবে।
৬. দেশে একজনও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ, ভূমিহীনদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তসহ সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যেন প্রকৃত অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। জমি ও ঘর প্রদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করতে হবে।
৭. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রমের মানোন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।
৮. কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলো যেন কার্যকর থাকেম তা প্রতিনিয়ত তত্ত্বাবধান করতে হবে।
৯. শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে তাদের জন্য প্রত্যেক এলাকায় সৃজনশীল চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
১০. নাগরিকদের সুস্থ জীবনাচারের জন্য জেলা ও উপজেলায় পার্ক, খেলার মাঠ প্রভৃতির সংরক্ষণ এবং নতুন পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।
১১. পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে উচ্চপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।
১২. সরকারি দপ্তরগুলোর ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। নিজ নিজ জেলার সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সাফল্য ওয়েবসাইটে তুলে ধরতে হবে।
১৩. জনসাধারণের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ইত্যাদি রোধে উদ্যোগ নিতে হবে।
১৪. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন কোনোভাবেই অবনতি না হয় সে লক্ষ্যে নজরদারি জোরদার করতে হবে।
১৫. মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
১৬. মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দূর করতে হবে। নিরীহ ধর্মপ্রাণ মানুষ যেন জঙ্গিবাদে জড়িত না হয় সে জন্য সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
১৭. বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, খাদ্যে ভেজাল, নকলপণ্য তৈরি ইত্যাদি অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।
১৮. বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে, কৃত্রিম সংকট রোধ ও পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
১৯ সরকারি জমি, নদী, বনভূমি, পাহাড়, প্রাকৃতিক জলাশয় প্রভৃতি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণকে প্রাধান্য দিতে হবে।
২০. নিয়মিত নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য বৃদ্ধি করতে হবে। স্লুইচ গেট বা অন্য কোনো কারণে যেন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতার জন্য যেন উৎপাদন ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
২১. বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় তালগাছ রোপণ করতে হবে।
২২. পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে হবে।
২৩. জেলার নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং জেলাভিত্তিক বিখ্যাত পণ্যগুলোর প্রচার, বিপণন এবং ব্র্যান্ডিং করতে হবে।
২৪ জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রেখে সেবার মনোভাব নিয়ে যেন সরকারি দপ্তরগুলো পরিচালিত হয়, সেলক্ষ্যে মনিটরিং জোরদার করতে হবে।
২৫. জেলার সব সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমগুলো যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ তথা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনাদের ব্রতী হতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

অনুষ্ঠানে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরুল্লাহ বিভাগীয় কমিশনারদের পক্ষে এবং নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আবু নাঈম মোহাম্মদ মারুফ খান ও বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভিন তিবরিজি জেলা প্রশাসকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।


ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলে ইসরায়েলি পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযুক্তির লক্ষ্যে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভূমি-সংক্রান্ত আইনকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের উন্মুক্ত নির্বাহী কমিটির বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযুক্তির উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের ভূমি ক্রয়সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আইন গ্রহণযোগ্য নয়।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই চলমান সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।

জেদ্দার বৈঠকে তিনি আরও বলেন, নতুন এই আইন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনগত ও জনমিতিক চরিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে, যার মধ্যে আল-কুদস আল-শরিফও রয়েছে।

তিনি গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, পশ্চিম তীরে ভূমি ক্রয় সহজ করা ও ভূমি নিবন্ধন উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি মালিকদের ভয়ভীতি ও হয়রানির ঝুঁকিতে ফেলছে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং ন্যায়ভিত্তিক ও স্থায়ী শান্তির ভিত্তি দুর্বল করছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কার্যকর পথ। ইসরায়েলের ভূমি আইন প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনিদের ভূমি অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকর্মীদের অবাধ ও শর্তহীন প্রবেশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর দাবি জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহকে রমজানের শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, নবনির্বাচিত সরকার ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

বৈঠকের সাইডলাইনে তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মদু এনজি, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া এবং সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজি-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

এসব আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান। তারা নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আগ্রহও প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকগুলোতে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা জোরদারের বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জোরালো সমর্থনের কথাও উল্লেখ করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তঃসরকারি সংস্থা বিষয়ক সচিব এম ফরহাদুল ইসলাম এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম জে এইচ জাবেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।


রাজধানীসহ দেশজুড়ে ভূমিকম্প অনুভূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী এক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। জুমার নামাজের পরপরই আকস্মিক এই কম্পনে জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা এই ভূকম্পনে কেঁপে ওঠে।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম ও মেঘালয় সীমান্তবর্তী এলাকায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার, যার ফলে কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে।

হঠাৎ এমন কম্পন শুরু হলে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ দ্রুত বাসাবাড়ি ও বহুতল ভবন থেকে নিচে নেমে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ঢাকা ছাড়াও সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতেও এই কম্পন বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য যে, এই ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

এর আগে গত বুধবার রাতে ৫.১ মাত্রা এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪.৬ মাত্রার দুটি পৃথক কম্পনে দেশ কেঁপে উঠেছিল। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে পর পর এমন ভূমিকম্পের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এদিনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার প্রাণহানি কিংবা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের বৈঠক

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির ফিলিস্তিনবিষয়ক কার্যনির্বাহী সভায় অংশ নিয়ে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল নতুন সরকার গঠন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রশংসা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের উপায় খোঁজা।

বৈঠকে অংশ নেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. আলখারেইজি, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আঘাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি। সেরিং মোদু এনজি সভার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

অংশগ্রহণকারীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে এবং উন্নয়ন গতি পাবে। ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করা হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়।

এ সময় পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত বছরের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র সঙ্গে তার বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী এবং ঢাকায় সফর করতে চান। নতুন সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


ফিলিস্তিন ইস্যুতে জেদ্দায় ওআইসি নেতাদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

ওআইসির সচিবালয়ে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিন ইস্যুতে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসি সচিবালয়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সৌদি আরবের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওয়ালিদ এলখ্রেইজি, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং নির্বাহী পরিচালনা কমিটির চেয়ারপারসন ও গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদুউ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে তারা অভিনন্দন জানান।

তাদের মতে, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশে দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং উন্নয়নের ধারা জোরদার হবে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতিও তারা সমর্থন জানান।

আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।


নিজেই রাস্তায় নেমে এসেছি, অপরাধীদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে বের হন নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। গভীর রাতে আকস্মিক এই তদারকিতে তিনি নিজেই উপস্থিত থাকেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর তিনি মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, টাউন হল ও তিন রাস্তার মোড়সহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

রাত ১টার দিকে মোহাম্মদপুর থানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে আইজিপি বলেন, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের সক্রিয়তায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বদলাতে তিনি সরাসরি মাঠে নেমেছেন। কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘নগরবাসীর নিরাপত্তায় আমি নিজেই রাস্তায় নেমে এসেছি। অপরাধীদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে।’

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ১৯৮৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মোহাম্মদপুরেই তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় মাদক ও অবৈধ বাণিজ্য ঠেকাতে সন্ধ্যার পর বিশেষ ‘ব্লক রেইড’ চালানো হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পুলিশ বাহিনীর জনবল প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ২০ কোটি মানুষের দেশে পুলিশ সদস্য আছেন মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি মানুষের শহর ঢাকায় স্বস্তি ফেরাতে নাগরিক সহযোগিতা ও আইন মানার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল না থাকলে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও সতর্ক করেন।

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজে রাতের টহলে থাকার ঘোষণা দেন আইজিপি। ট্রাফিক বিভাগ পুনর্গঠনের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাহিনীর মানসিকতায় পরিবর্তন এনে পুলিশকে প্রকৃত জনসেবক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন না করে প্রচলিত আইনের মধ্যেই ‘হোয়াইট কলার’ অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার, তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান এবং মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি জানান, বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।


বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ের চেয়ে পরিশোধের পরিমাণ বেশি

* অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ঋণ ছাড় কমেছে ৩২.৩৯ শতাংশ * গত বছরের তুলনায় ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১০ শতাংশ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বৈদেশিক ঋণের প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। এই প্রথমবারের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া ঋণের অর্থের চেয়ে কিস্তি বাবদ পরিশোধের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-জানুয়ারি সময়ে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ২.৬৪১ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে, একই সময়ে আগের নেওয়া বিভিন্ন ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগীদের পরিশোধ করেছে ২.৬৭৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, প্রাপ্তি বা অর্থছাড়ের তুলনায় পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার বেশি।

গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বৈদেশিক ঋণ ছাড় কমেছে ৩২.৩৯ শতাংশ। গত বছরের এই সময়ে ছাড় হয়েছিল ৩.৯৩৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, গত বছরের তুলনায় ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১০ শতাংশ। গত বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ পরিশোধ করেছিল ২.৪১৮ বিলিয়ন ডলার।

ইআরডির কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ধীর থাকায় বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় কম হয়েছে। অন্যদিকে, অতীতে নেওয়া অনেক ঋণের বড় অঙ্কের কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

তবে ইআরডি মনে করছে, পুরো অর্থবছরের হিসাব করলে অর্থছাড়ের চেয়ে পরিশোধ বেশি হবে না। যেমন, গত অর্থবছরে পরিশোধ করা হয়েছিল ৪.০৮৬ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে ছাড় হয়েছিল ৮.৫৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছর শেষেও প্রাপ্তি পরিশোধের চেয়ে বেশি থাকবে বলে আশা করছে বিভাগটি।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি বা চুক্তি সইও কমেছে। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ২.২৭৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের (২.৩৫০ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় ৩.২৬ শতাংশ কম।

অর্থছাড়ের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তারা এই সময়ে ৫৭৬.০৪ মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৫৫৫.৯৪ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৫৩৬.৬৪ মিলিয়ন, চীন ২২০.৪৫ মিলিয়ন, জাপান ১৮৩.৫১ মিলিয়ন এবং ভারত ১১৮.৩৯ মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে।

তবে প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে এডিবি। সংস্থাটি চলতি অর্থবছরে প্রথম ৭ মাসে সর্বোচ্চ ১.২৬৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ৩৯১.৪২ মিলিয়ন এবং বিশ্বব্যাংক ২৬৫.৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে. মুজেরি এ বিষয়ে বলেন, উন্নয়ন সহযোগীরা সাধারণত স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিনির্ধারণে সক্ষম সরকারের সঙ্গে বড় ঋণের চুক্তি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। নীতিগত অনিশ্চয়তা থাকলে নতুন করে বৈদেশিক ঋণ ছাড় ও প্রতিশ্রুতি ধীর হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচিত নতুন সরকার এখন দায়িত্ব নিয়েছে। ভবিষ্যৎ চাপ সামলাতে হলে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিতে হবে। বিশেষ করে উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন ও জরুরি প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে। তা না হলে বৈদেশিক সহায়তার ঘাটতি তীব্র হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও বাড়বে।’


বিশ্বে টিকে থাকতে মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি ও সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এজন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মেধায় নিজেদেরকে সমৃদ্ধ হতে হবে। জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক এ সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২৬’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেছেন। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বইমেলা কেবল বই বেচাকেনার উৎসব নয়; এটি জাতির মেধা ও মননের প্রতীক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ মেলা জাতিকে আরও বইপ্রেমী করে তুলবে এবং নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।’

জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সূতিকাগার হিসেবে বইমেলা ভূমিকা রাখবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭৮ সাল থেকে চালু হওয়া অমর একুশে বইমেলা এখন জাতির মেধা-মননের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির শুরুতেই মেলা শুরুর কথা থাকলেও চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে এ বছর মেলা শুরু হয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই বইমেলা হয়, তবে বাংলাদেশের বইমেলা ভিন্ন। এটি মাতৃভাষার অধিকার আদায় ও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের স্মারক।’

বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জার্মান দার্শনিক ‘মারকুইস সিসেরো’র একটি উক্তি উল্লেখ করেন—‘বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কের কোষে নতুন সংযোগ তৈরি করে, স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায় এবং আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বইবিমুখ করছে। যদিও ইন্টারনেটেও বই পড়া যায়, তবে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের পর্দায় ডুবে থাকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইন্টারনেট আসক্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

পাঠাভ্যাস নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের প্রকাশিত জরিপে ১০২টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা বই পড়ায় শীর্ষে রয়েছে। তালিকার সর্বনিম্নে আফগানিস্তান। ওই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। বাংলাদেশে একজন মানুষ গড়ে বছরে তিনটি বই পড়েন এবং বছরে বই পড়ায় সময় ব্যয় করেন ৬২ ঘ‘যুক্তরাজ্য কিংবা কানাডার মতো অনেক উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের আসক্তি পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। সময়ের প্রেক্ষিতে জন জীবনে ইন্টারনেট অনিবার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠলেও এর নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কেও আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেন, ভবিষ্যতে ‘অমর একুশে বইমেলা’কে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ বাড়বে। বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

মাসব্যাপী আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজনকে তিনি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা শুধু ফেব্রুয়ারিতে একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রকাশকদের উদ্যোগী ভূমিকার পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সহযোগিতা দেবে বলে জানান তিনি।

বাংলা একাডেমির গবেষণাবৃত্তি, তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের মতো কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে। দেশের সাহিত্য ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের কার্যক্রমও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী অমর একুশে বইমেলা ও একুশে অনুষ্ঠানমালা ২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।


১০-১৫ বছরের বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে কাজ চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দ্রব্যমূল্য কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি রোধ এবং দীর্ঘ ১০–১৫ বছর ধরে গড়ে ওঠা বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সারাদেশে চাঁদাবাজি নির্মূলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার দপ্তরে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি জনগণের স্বল্পমেয়াদি প্রত্যাশা পূরণ করা। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাও অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য যাতে কৃত্রিমভাবে বাড়ানো না হয় এবং এ খাতে ১০-১৫ বছর ধরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া যায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। গতানুগতিক পন্থার বাইরে গিয়ে নতুন ও সৃজনশীল উপায়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সারা দেশে চাঁদাবাজি নির্মূলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহর ও বড় নগরগুলো থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ জন্য প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকীন আহমেদ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী, সহসভাপতি মো. সালেম সোলায়মান ও সচিব ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারীসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


সেনাবাহিনীর আরও ৬ উচ্চ পদে রদবদল 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সেনা সদর থেকে এসংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও ৮টি পদে রদবদল আনা হয়েছিল।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট লে. জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) করা হয়েছে। কিউএমজির দায়িত্ব পালন করা আসা লে. জেনারেল ফয়জুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হবেন লে. জেনারেল শাহীন। লে. জেনারেল ফয়জুরকে এনডিসিতে বদলি করা হয়।

এছাড়া সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (এমআইএসটি) মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসেন আল মোরশেদকে ১৯ পদাতিক ডিভিশন থেকে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) করা হয়েছে।

এছাড়া অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হাকিমুজ্জামানকে এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট করা হয়। ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে লজিস্টিক এরিয়ার জিওসি হিসবে বদলি করা হয়।


জবাবদিহিতার মধ্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: তথ‍্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জবাবদিহিতার মধ্যে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ‍্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বনানীর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেছেন।

তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ১০টি বিষয় নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বেসরকারি টেলিভিশন মালিক ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বিকেলে রাজধানীর বনানীতে তথ্যমন্ত্রীর নিজ বাসভবনে এ সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।

এসময় গণমাধ্যমে সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ না হওয়া এবং একইসঙ্গে জবাবদিহিতার মাধ্যমে গণমাধ্যমের যেন কণ্ঠরোধ না করা হয় সে বিষয়েও আলোচনা করেন।

সাক্ষাতে এটকোর নেতারাও জানান, যে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা উভয়ের মধ্যে আলোচনা করে বাস্তবায়ন করা হবে।


সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের যুক্তরাজ্যের ৫১৮ ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জব্দ হওয়া এসব সম্পদের ঘোষিত মূল্য ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ পাউন্ড। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের পক্ষে সংস্থার উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান যুক্তরাজ্যের এসব স্থাবর সম্পদ জব্দ চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার সহযোগী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তে দুদক, সিআইডি ও এনবিআর থেকে ৯ সদস্যের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মামলার ২৩ বস্তা আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

জব্দের সময় উদ্ধারকৃত নথিপত্রের একটি তালিকা যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীতে জব্দ করা আলামত চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে এসে সেগুলো পর্যালোচনা, পরীক্ষা এবং ডকুমেন্টারি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। উদ্ধার করা রেকর্ডগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিল চুক্তি, দলিল, পেমেন্ট অর্ডার, বুকিং মানি রসিদ, বিভিন্ন চেক, ভাউচার এবং সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে সম্পত্তি ক্রয় সম্পর্কিত অন্যান্য নথিপত্রের মূল কপি। উদ্ধার করা তথ্য ও নথিপত্রের বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দেশে অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব স্থাবর সম্পদ যাতে তিনি অন্যত্র হস্তান্তর ও স্থানান্তর করতে না পারেন, সেজন্য স্থাবর সম্পদ জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর তাকে সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দেখা যায়নি।


ঈদে নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া নিলে কঠোর ব্যবস্থা: নৌপরিবহনমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে নৌযানের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি জানান, ঈদে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। লঞ্চের ছাদে যাত্রী ওঠানো যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক ১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত যানজটমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সদরঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিক পুলিশ, নৌ পুলিশ, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা সব নদীবন্দর, টার্মিনাল ও নৌযানে দৃশ্যমান রাখতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলসহ মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য ঘাটগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।

১৬ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বালুবাহী বাল্কহেড ও ডিঙ্গি নৌকা চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দিনের বেলায় স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১৭ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন নৌযান ও ফেরি চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করতে হবে এবং সিরিয়াল ভঙ্গ বা অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীর মাঝপথ থেকে যাত্রী ওঠানো বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হবে। নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ করে রাতে টহল জোরদার করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এবং সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।


এগ্রো-প্রোডাক্টকে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য করা সম্ভব: কৃষি মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে অ্যাগ্রো-প্রোডাক্টকে দেশের প্রধান রফতানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। নবীন কর্মকর্তারা মাঠমুখী হয়ে কাজ করলে কৃষির সম্ভাবনা অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নিতে পারে এবং খাদ্যনিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট-এ ৪৪তম বিসিএস (প্রাণিসম্পদ) নবনিযুক্ত ক্যাডার কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে পাঁচ দিনব্যাপী অবহিতকরণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বহু দেশ সীমিত কৃষি মৌসুম থাকা সত্ত্বেও কৃষিকে অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের অনুকূল জলবায়ু ও উর্বর মাটির কারণে সারা বছর ফসল উৎপাদনের সুযোগ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

গরুর গোবরের যথাযথ ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমবে, পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে এবং মাটির উর্বরতা সংরক্ষিত থাকবে। আমদানিনির্ভর রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব উপকরণ ব্যবহারে মাটি ও পরিবেশ দুটিই সুরক্ষিত থাকবে।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে। প্রাকৃতিক ও কৃষি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ পাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। গবাদিপশু পালনকারীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সহজ ঋণ ও বীমা সুবিধা প্রদান এবং বাজারজাতকরণে সহায়তার জন্য ফার্মার্স কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ক্ষুদ্র খামারি ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিয়ে প্রাণিসম্পদ খাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। সভাপতিত্ব করেন ড. মো. আবু সুফিয়ান। স্বাগত বক্তব্য দেন ড. মো. বয়জার রহমান। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


banner close