রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্কেল অফিস। গাড়ি আর মানুষে গিজগিজ করে সকাল থেকে দুপুর। ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ নানা ধরনের সেবা নিতে প্রতিনিয়ত আসেন সেবাপ্রার্থীরা। এসেই পড়তে হয় ভোগান্তিতে। হেল্প ডেস্কে ভালো সহযোগিতা মেলে না। তবে অফিসের ভেতরে থাকা দালালরা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিমেষেই করে দিচ্ছেন কাজ। কোনো উপায় না পেয়ে এক প্রকার বাধ্য হয়ে দালালের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে সাধারণ সেবারপ্রার্থীদের।
পেশাদার চালকের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ মো. শরিফুল ইসলামের। মিরপুর বিআরটিএতে এসেছিলেন লাইসেন্স নবায়ন করতে। হাতে কাগজের ফাইল নিয়ে চক্কর দিতে দেখা যায় তাকে। আর একের পর এক দালাল এসে জানতে চান তিনি কী কাজে এসেছেন। শরিফুল এই প্রতিবেদককে জানান, ‘পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রথমে হেল্প ডেস্কে যোগাযোগ করি। সেখানে তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। কিছুক্ষণ পর হেল্প ডেস্কের ভেতর থেকে মো. হাসান নামের একজন বাইরে এলেন। ৮ হাজার টাকা দাবি করে জানালেন, এক দিনের মধ্যে কাজ সেরে দেবেন। নিজে করতে গেলে অনেক দিন ঘুরতে হবে। এদিকে লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকলে রাস্তায় নামলেই পুলিশ ঝামেলা করে। তাই আমি বাধ্য হয়ে উনাকে (দালালকে) দিয়েছি করাতে।’
বিআরটিএর মিরপুর অফিসে শরিফুল ইসলামের মতো অন্য সেবাপ্রার্থীদের অবস্থাও একই রকম। ওই অফিসের কর্মচারী, দারোয়ানের পাশাপাশি বহিরাগত পুরুষ ও নারীরা দালালের কাজটি করছেন। বেশির ভাগ মানুষই দালালের মাধ্যমে লাইসেন্স করাচ্ছেন। তবে কেউ কেউ নিজে নিজেই সেবা নিচ্ছেন, এদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। লাইসেন্সের আবেদন করে লার্নার কার্ড নেয়া, পরীক্ষায় পাস করা, গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা- সব জায়গাতেই দালালচক্র সক্রিয়। দালাল ধরলে নিমেষেই সব কাজ হয়ে যাচ্ছে।
নুরে আলম নামের এক ব্যক্তি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি নিজে নিজে ড্রাইভিং লাইসেন্সের সব কাজ করেছি। লার্নার কার্ড পাওয়ার দুই মাস পর যখন খিলক্ষেত বিআরটিএর অফিসে পরীক্ষা দিতে যাই, তখন পাস করায় না। যদিও আমার পরীক্ষায় সবকিছু ঠিকঠাক করেছি। এভাবে আমাকে দুবার ফেল করানো হয়। তৃতীয়বার যখন দুই হাজার টাকা দিয়ে দালাল ধরলাম সেইবার পরীক্ষা না দিয়েই পাস।’
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় সেখানে দালালের কাজ করা মো. হাসানের সঙ্গে কথা বলে। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সব সমস্যার সমাধান আমার কাছে আছে। নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স ১২ হাজার টাকার মধ্যে করে দিতে পারব।’
পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেয়ার বিষয়ে বিআরটিএর খিলক্ষেত অফিসে দালালের কাজ করা দারোয়ান সুদেব বাবু বলেন, ‘তিন হাজার টাকা দিলেই পরীক্ষায় পাস করিয়ে ফিঙ্গার ও ছবি তোলার কাজ শেষ করে দিতে পারব। পরীক্ষায় কি লিখলেন, না লিখলেন সেটা আমি দেখব। টাকা দেবেন, দুই ঘণ্টার মধ্যেই সব কাজ শেষ হয়ে যাবে। শুধু আপনার রোল নম্বরটা দেন।’
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিআরটিএর সার্কেল অফিসের হেল্প ডেস্কগুলো থেকে প্রত্যেকের সমস্যা সুনির্দিষ্টভাবে সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে। তা হচ্ছে না দেখেই দালালরা সুযোগ নিচ্ছে।’
বিআরটিএর ডিজিটাল সেবা সম্পর্কে মানুষ জানে না
বিআরটিএর সেবাগ্রহীতাদের কাজ সহজ করার জন্য অনলাইনে কিছু সেবা দিচ্ছে সংস্থাটি। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই সেসব বিষয়ে খুব একটা জানে না। তা ছাড়া পেশাদার লাইসেন্স নেয়া বেশির ভাগ চালক অনলাইনে এসব সেবা নেয়ার বিষয়ে অতটা দক্ষ নয়। ফলে বিআরটিএ অফিসে এসে সব কাজ সারছেন। অনলাইনে করলেও বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতায় করতে হচ্ছে। সেখানেও বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে।
বিআরটিএ থেকে জানানো হয়েছে, বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট করা যায় এবং এটি দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাচ্ছে।
তা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা আরও স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে যেদিন পরীক্ষা হবে ওই দিনে ফল দেয়ার কার্যক্রম চালু হয়েছে। বিদ্যমান পদ্ধতিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য গ্রাহককে কমপক্ষে পাঁচবার বিআরটিএ অফিসে যেতে হয়। পরীক্ষার দিনই বায়োমেট্রিক্স নেয়ার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যাতে করে বায়োমেট্রিক্স দেয়ার পর বিআরটিএ অফিসে আসতে না হয়। পরীক্ষা শেষে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার ফলাফল ওই দিনই বিআরটিএর-আইএস সিস্টেমে এন্ট্রি হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার দিনই পরীক্ষার ফলাফল বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে দেখতে পারেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নির্ধারিত ফি জমা দিলে তাদের স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাকযোগে গ্রাহকের ঠিকানায় পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিআরটিএর ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত অভিযান করে দালালদের শাস্তির আওতায় আনছেন। আপনারা আমাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দেন, আমরা এসব দালাল নির্মূল করব। তবে বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে। আমাদের ওয়েবসাইটে সব তথ্য দেয়া আছে। অথচ সেগুলো মানুষ দেখে না। সার্কেল অফিসগুলোর মধ্যে অনেক তথ্য লাগানো থাকে। সেগুলো না দেখে মানুষ দালালের খপ্পরে পড়ছে।’
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘মনিটরিংয়ে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। দালালরা টাকা নিয়ে ভুয়া লাইসেন্স দিচ্ছে, এমন অভিযোগও আমরা পাই। বিআরটিএতে মানুষ প্রয়োজনের সময় যান। তাই সংশ্লিষ্ট সেবা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকে না। এ ক্ষেত্রে বিআরটিএ যদি এগিয়ে না আসে তাহলে কোনো দিনও প্রতিষ্ঠানটিকে দালালমুক্ত করা সম্ভব নয়।’
অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটপূর্ণ বা ‘ক্রিটিক্যাল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের দিন সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি সবাইকে গণভোটে অংশ নিতে হবে। তার মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করলে দেশের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গণভোটের পক্ষে প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘ভোটের গাড়ির’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা তার বক্তব্যে দেশের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ইতিপূর্বে দেশে অনেক নির্বাচন হয়েছে এবং বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সুবিধামতো একতরফাভাবে সংস্কার কাজ করেছে। কিন্তু কোনো সময়ই সেসব সংস্কার জনবান্ধব বা টেকসই হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোটে একটি ইতিবাচক দিক রয়েছে। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে যে, ভবিষ্যতে যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। জনগণের ম্যান্ডেট বা সম্মতি ছাড়া একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না। আর এই লক্ষ্য অর্জনের জন্যই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট প্রদান করা জরুরি, যা রাষ্ট্রীয় সংস্কার কাজগুলোকে ত্বরান্বিত করবে।
ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ আসন্ন নির্বাচনকে ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা দিন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শুধু দেশের মানুষই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা পর্যবেক্ষণ করছে যে বাংলাদেশ সংস্কারের পথে হাঁটছে কি না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে। তাই বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আসন্ন নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য তিনি সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। গ্রামের সাধারণ মানুষও গণভোট সম্পর্কে সচেতন এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ বিভাগের সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সুসজ্জিত ‘ভোটের গাড়ি’ উদ্বোধন করা হয়, যা প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি প্রদক্ষিণ করে গণভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরি করবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছে সরকার গঠিত বেতন কমিশন। আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন এই বেতনকাঠামো চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা প্রতিবেদনটি গ্রহণ করার পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে জানা যায়, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বেতনকাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এবারের কাঠামোতে বিশেষ করে নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা অপেক্ষাকৃত বেশি হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তারা খাপ খাওয়াতে পারেন।
প্রস্তাবিত বেতনকাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন কাঠামোতে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমানে সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার সুপারিশ রয়েছে। এছাড়া বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য যুগোপযোগী বেতনকাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে গত বছরের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে ২১ সদস্যের এই বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কমিশনে জমা দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যেই তারা এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন, যারা ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। দীর্ঘ এক দশক পর নতুন পে-স্কেলের খবরে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
শনিবার ছুটির দিন সকালে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষ সারিতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার-এর সর্বশেষ তথ্যানুসারে, শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকা তৃতীয় অবস্থানে ছিল। এ সময় ঢাকার বাতাসের মান সূচক বা একিউআই স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২৮৪। বাতাসের মান ২০০ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সেই হিসেবে ঢাকার বাতাস বর্তমানে নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
দূষণের এই তালিকায় ঢাকার ঠিক পরেই অবস্থান করছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের দুটি প্রধান শহর নয়াদিল্লি ও কলকাতা। ২৮২ স্কোর নিয়ে ঢাকার ঠিক পেছনেই রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। অন্যদিকে ২০১ স্কোর নিয়ে তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে কলকাতা। ঢাকা ও দিল্লির মতো কলকাতার বাতাসও বর্তমানে খুবই অস্বাস্থ্যকর ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। এছাড়া তালিকার চার, পাঁচ ও ছয় নম্বরে রয়েছে চীনের তিনটি শহর যথাক্রমে চেংদু, চঙ্কিং ও উহান। এই তিনটি শহরের বাতাসকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোরের মাধ্যমে বাতাসের গুণাগুণ নির্ধারণ করা হয়। স্কোর ০ থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে ভালো বা বিশুদ্ধ বলা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয় বা মধ্যম মানের হিসেবে গণ্য হয়। স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে থাকলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠী বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। আর স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা সবার জন্যই অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু স্কোর যখন ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকে, তখন তাকে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর ৩০০ এর বেশি স্কোর হলে বাতাসকে দুর্যোগপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বর্তমান স্কোরের ভিত্তিতে ঢাকার বাতাস দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড’ বাতিল করে একটি নতুন বোর্ড গঠন করেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা সাম্প্রতিক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই রদবদল ও নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন এই উচ্চপর্যায়ের বোর্ডটি মোট ১৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়েছে। পদাধিকারবলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে এবং চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
পুনর্গঠিত এই বোর্ডে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্ট ও সৃজনশীল ব্যক্তিদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), আইন ও বিচার বিভাগের ন্যূনতম যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের একজন প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এছাড়া চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির একজন করে প্রতিনিধি বা প্রথিতযশা সদস্যকে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে চলচ্চিত্র সম্পাদক ইকবাল এহসানুল কবির, চলচ্চিত্র পরিচালক খিজির হায়াত খান, অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ এবং পরিচালক তাসমিয়া আফরিন মৌকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন’-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার এই নতুন বোর্ড গঠন করেছে। এই আদেশের ফলে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত পূর্ববর্তী বোর্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। দেশের চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও বিতর্কমুক্ত করার লক্ষ্যেই সরকার এই নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত শোকসভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুগ চলছে। মিস্টার ট্রাম্প আপনি বাংলাদেশে আসেন, আপনাকে দাওয়াত করছি।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। শফিক রেহমান তাঁর বক্তব্যে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এবং তরুণ প্রজন্মের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস ম্যাডাম খালেদা জিয়া যদি ৭ নভেম্বর না যেতেন, তাহলে আরও কিছুদিন সুস্থ থাকতেন। তরুণ সমাজকে অনুরোধ করব আপনারা জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার আগে এ অনুষ্ঠানের বক্তব্যগুলো অনুধাবন করবেন।’
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে শফিক রেহমান তাঁর গভীর উদ্বেগের পাশাপাশি আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন। নির্বাচনকালীন স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে সমাবেত হয়েছি অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে। এখানে একটা গুলিতে যদি কারো কিছু হয়ে তাহলে ১২ তারিখের নির্বাচন হয়তো পেছাতে হতে পারে। আমরা চাই ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন যেন হয়। ডক্টর ইউনূস গ্যারান্টি দিচ্ছেন এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত আনন্দময়।’ ভোটারদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যিনি ভোট চাইতে আসবেন, তাকে আপনারা জিজ্ঞাসা করবেন, চাল ডাল চিনির দাম ঠিক থাকবে তো। তাদের জিজ্ঞাস করবেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক থাকবে তো। ব্যাংকে যারা আমানত রাখছেন আমানত ঠিক থাকবে তো।’
গুরুত্বপূর্ণ এই শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, ডা. জুবাইদা রহমান, ব্যারিস্টার জায়মা রহমান এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। মূলত সুষ্ঠু নির্বাচন ও জননিরাপত্তার প্রশ্নে শফিক রেহমানের এই বক্তব্য উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সুধীসমাজের মাঝে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, দেশপ্রেম, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র সবকিছুই আমাদের জন্য মূল্যবান। কিন্তু ভবিষ্যৎ হচ্ছে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের ওপর নির্ভরশীল। আগামী নেতৃত্বকে বলব যে খালেদা জিয়ার শেষ বাণী হলো জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। আমরা যেন এটা সবার অন্তরের ভেতরে উপলব্ধি করি। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজ’র উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক। বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে এ নাগরিক শোকসভার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশকে আমরা ভালোবাসি, বাংলাদেশকে আমরা অন্তর থেকে ভালোবাসি মন্তব্য করে মাহফুজ আনাম বলেন, ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির এক সভায় ভাষণ দিলেন এবং সেখানে উনি যে মূল বাণীটা আমাদেরকে দিলেন– ধ্বংস নয়, প্রতিরোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়, প্রতিশোধ নয়। ‘উনি কিন্তু ইজিলি বলতে পারতেন যে আমি প্রতিশোধ চাই না কিন্তু আমি ন্যায়বিচার চাই, আমার বিরুদ্ধে যা করা হয়েছে। এটা উনি বললেন না। এই যে উদারতা তিনি সেদিন দেখিয়েছেন এটা অসাধারণ গুণ।’
তিনি বলেন, আমি মনে করি বেগম জিয়ার এই উদারতা যদি আমাদের রাজনীতিতে আমরা এখন অন্তঃস্থ করতে পারি, যদি আমরা নিজের মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের একটা বিরাট অবদান থাকবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে এক নাগরিক শোকসভায় আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজ’র উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে ভালো রাখতে হলে বেগম জিয়ার আদর্শকে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া ভালো থাকলে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই উনি এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কি ভালো আছে? বা ভালো থাকবে? যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয় তাহলে বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে।’ বেগম জিয়ার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, তিনি ছিলেন একাধারে সৎ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আত্মত্যাগী ও পরমতসহিষ্ণু; যার ব্যক্তিত্বে রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ পরিলক্ষিত হতো।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে আসিফ নজরুল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যে, আজ মানুষ মুক্তভাবে নিজের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ স্বাধীনভাবে ঘৃণা ও ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে বলেই এক নেত্রী মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন এবং অন্যজনকে বিতাড়িত হতে হয়েছে।
সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোকসভায় আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিনের উপস্থাপনায় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং পেশাজীবী নেতারা অংশ নেন। বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন।
নাটোরের গুরুদাসপুর মিনি স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল ঘোষণা ও তা কার্যকর করার বিষয়ে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এই পরিদর্শনে তিনি বেতন কাঠামোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন এবং জানান যে, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বেতন বৈষম্য দূরীকরণ ও নতুন স্কেল নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য দিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘পে স্কেলের বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি রিপোর্ট জমা দিলে দ্রুত তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপদেষ্টার এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আনম বজলুর রশিদ এবং নাটোরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ এই পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নেন।
মূলত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই সরকার নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো দ্রুততার সাথে গ্রহণ করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল, অথচ গভীরভাবে বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ এবং যারা আহত হয়ে আজও জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দেড় বছর অতিক্রম করলেও আন্দোলনে আহতদের সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। আহতদের অনেকেই বারবার আবেদন করেও পাচ্ছেন না সহায়তা। দীর্ঘসূত্রতা, অর্থ সংকট এবং প্রশাসনিক ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, লে. কর্নেল (অব.) কামাল আকবর (প্রধান নির্বাহী)
সোহেল মিয়া ( জেনারেল ম্যানেজার)
মো জাহিদ হোসাইন ( গণসংযোগ ও মিডিয়া প্রধান), আমানুল্লাহ সাকিব (ভেরিফিকেশন প্রধান), সাকিব হাসান (আইটি প্রধান) ও মাহফুজ (কল সেন্টার প্রধান)।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সামনে একাধিক সংকট একযোগে উপস্থিত হয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, স্থায়ী ও অস্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা, মানসিক আঘাত, কর্মসংস্থান সংকট এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা - এই বহুমাত্রিক সংকটগুলো মোকাবিলার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই প্রয়োজনীয়তা থেকেই প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সভাপতিত্বে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়।
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে ফাউন্ডেশন মানবিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ফাউন্ডেশন চারটি মূল ম্যান্ডেটকে কেন্দ্র করে তহবিল সংগ্রহ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, চাকরি, স্বনির্ভর কর্মসংস্থান ও আবাসনের মাধ্যমে টেকসই পুনর্বাসন, গবেষণা, নথিভুক্তকরণ ও স্মৃতি সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো স্বচ্ছ যাচাই ও নীতিমালাভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান। এ পর্যন্ত ফাউন্ডেশন ১১৯ দশমিক ৯৮ কোটি টাকা তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।
যাচাই-বাছাই ও তথ্য যাচাই শেষে এর মধ্যে ১১৬ দশমিক ২১ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
এই সহায়তার আওতায় ৮২৯টি জুলাই শহীদ পরিবার পেয়েছে ৪১ দশমিক ২৭ কোটি টাকা, ৬,৪৭১ জন আহত জুলাই যোদ্ধা পেয়েছেন ৭৪ দশমিক ২১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৭,৩০০ জন শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধা মোট ১১৬ দশমিক ২১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
তবে আমাদের দায়িত্ব এখানেই শেষ নয়। এখনো ৭,৭৬৯ জন আহত জুলাই যোদ্ধা আর্থিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তহবিলের পরিমাণ প্রায় ২৩৮ কোটি টাকা। এই লক্ষ্য পূরণে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ধারাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ফাউন্ডেশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং সম্মানজনক ও টেকসই পুনর্বাসনই আহত জুলাই যোদ্ধাদের দীর্ঘমেয়াদি মুক্তির পথ।
এই লক্ষ্য সামনে রেখে এ পর্যন্ত ৭,০৮২ জন আহত জুলাই যোদ্ধা পুনর্বাসনের জন্য ফাউন্ডেশনে আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের আগ্রহ বিশ্লেষণে দেখা যায় প্রায় ২৫ শতাংশ দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণে আগ্রহী, ২০ শতাংশ চাকরিতে যুক্ত হতে আগ্রহী, এবং ৫৪ শতাংশ স্বনির্ভর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা গড়ে তুলতে আগ্রহী।
এই পরিসংখ্যান আমাদের পুনর্বাসন পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবভিত্তিক, প্রয়োজননির্ভর ও কার্যকর করে তুলেছে।
এ পর্যন্ত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৮২ জন আহত জুলাই যোদ্ধার টেকসই পুনর্বাসন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় তাদের জন্য স্বনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তা, পেশাভিত্তিক পুনঃসংযুক্তি এবং ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী সহায়ক সরঞ্জাম প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে তারা সম্মানজনক ও স্থায়ী জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে ২৩ জন আহত জুলাই যোদ্ধার পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে, যেখানে মোট ৪২ লাখ টাকা সরাসরি পুনর্বাসন সহায়তা হিসেবে ব্যয় করা হয়েছে। এই উদ্যোগ ফাউন্ডেশনের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, স্বচ্ছ অর্থব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের একটি বাস্তব উদাহরণ।
এছাড়া এসএমই-এর মাধ্যমে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য চারু ও কারু প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিকেএসপির মাধ্যমে আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য প্যারালিম্পিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে আর্চারি, শুটিং ও টেবিল টেনিস বিভাগে।
এছাড়া বিটিসিআই-এর মাধ্যমে মৌলিক চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বেসিক ফিল্ম মেকিং, ফিল্ম এডিটিং, স্ক্রিপ্ট রাইটিং, সেট ডিজাইন ও ডকুমেন্টারি মেকিং। এর পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টারের জন্য ১৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির একটি গর্বিত ও অনুপ্রেরণাদায়ক অর্জন হলো আহত জুলাই যোদ্ধা আমাউল্লাহ, যিনি ১০ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্যারালিম্পিকে স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ ফাউন্ডেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব। এ পর্যন্ত ৮০৪ জন জুলাই শহীদের ঘটনা, ছবি, পরিবারিক তথ্য ও বক্তব্য সংরক্ষণ করা হয়েছে, ৩০০টির বেশি শহীদের ভিডিও ডকুমেন্টারি, ৪০টির বেশি আহত যোদ্ধার ভিডিও ডকুমেন্টারি, আন্দোলনকালীন দুর্লভ ভিডিও ফুটেজ, এবং সেই সময়কার সব প্রিন্ট মিডিয়া রিপোর্ট ও কাটিং সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই আর্কাইভ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি প্রামাণ্য, নির্ভরযোগ্য ও ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে কাজ করবে।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানজনক, নিরাপদ ও স্বাবলম্বী জীবন নিশ্চিত করতে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।
গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা, সমাজের সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয় সমন্বয় এই তিনের সমন্বয়েই আমাদের এই জাতীয় দায়িত্ব আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে।
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৬৯ হাজার বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক বা রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদানের প্রক্রিয়ার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চেয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়াহ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর (অব.) সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই বিষয়টি উত্থাপন করেন। এর প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পাসপোর্ট প্রদানের ইতিবাচক ধারার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এ বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন এবং বাংলাদেশের বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এ বিষয়ে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান যে, এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকটি বিশেষ টিমও পাঠানো হয়েছে, তবে আবেদনের তুলনায় পাসপোর্টের এনরোলমেন্টে উপস্থিতির হার কিছুটা কম। এই পরিস্থিতির বিষয়টি ইতোমধ্যে সৌদি আরবের ইন্টেরিয়র মিনিস্টারকেও অবহিত করা হয়েছে।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন যে, সৌদি আরব বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এটি কেবল ইসলামের পবিত্র ভূমি হিসেবেই নয়, বরং ৩২ লাখেরও বেশি প্রবাসী কর্মীর দ্বিতীয় আবাসস্থল হিসেবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের বিশাল অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি ভবিষ্যতে দেশটিতে আরও বেশি জনশক্তি আমদানির জন্য রাষ্ট্রদূতকে বিশেষ অনুরোধ জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এর মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
এ সময় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। আর আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি।” এছাড়া সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মেয়াদে রিয়াদে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য সৌদি ইন্টেরিয়র মিনিস্টারের একটি আমন্ত্রণপত্র উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেন। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা থাকায় উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে সেখানে উপস্থিত থাকতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপযুক্ত প্রতিনিধি প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেটে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিসিবির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে আসীন থেকে ক্রিকেটারদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করাকে তিনি ‘দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “বিসিবির একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে পুরো ক্রিকেটকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এখন একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে থাকছি, সেখানে এমন মন্তব্য সমস্ত ক্রিকেটারদের অপমান করার শামিল।”
ক্রীড়া উপদেষ্টা মনে করেন, যেখানে বিদেশের মাটিতে দেশীয় ক্রিকেটারদের সম্মান রক্ষায় পুরো জাতি সোচ্চার থাকে, সেখানে খোদ বোর্ডের ভেতর থেকেই এমন অবমাননাকর আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন মোস্তাফিজুর রহমানকে (আইপিএল থেকে বাদ দিয়ে) অপমান করা হয়েছে বলে যেখানে পুরো বাংলাদেশ রুখে দাঁড়িয়েছে, সেখানে বিসিবির ভেতর থেকেই পুরো ক্রিকেটব্যবস্থাকে ছোট করে দেখা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।” বর্তমান এই অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে বিসিবি কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিপিএল স্থগিত হওয়া এবং ক্রিকেটারদের বয়কট কর্মসূচির কারণে আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমরা প্রচণ্ডভাবে বিশ্বকাপ খেলতে চাই এবং শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। পরিস্থিতি যাই হোক, আমি মনে করি, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা কোনোভাবেই অসম্ভব নয়।” ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে এবং চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ব্যক্তিগত বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার জোরালো আহ্বান জানান।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের কন্যা ও এশিয়ার প্রথম ‘চিফ হিট অফিসার (সাবেক)’ বুশরা আফরিনকে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম শুরু হয়, যা প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল বলে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে কারাবন্দি সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান ব্যাপক দুর্নীতির অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই তার পরিবারকে এই জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি তদন্তের স্বার্থে সাবেক চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিন ও তার মা শায়লা সাগুফতা ইসলামের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন আদালত।
সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার জালিয়াতি এবং মশার লার্ভা নিধনের যন্ত্র কেনাকাটায় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয়সহ অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক।
সংস্থাটি জানায়, আতিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশের অভ্যন্তরে এবং দেশের বাইরে— বিশেষ করে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে সাবেক মেয়রকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় তাকে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মূলত পরিবারের সদস্যদের নামে পাচারকৃত ও অর্জিত অবৈধ সম্পদের তথ্যের সত্যতা যাচাই করতেই আজ বুশরা আফরিনকে তলব করা হয়েছিল।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অবস্থান নেওয়া সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে অবরোধ তুলে নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে তারা সায়েন্সল্যাব এবং মিরপুর টেকনিক্যাল মোড় থেকে সরে দাঁড়ালে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করেছেন যে, আগামী সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তারা আবারও সায়েন্সল্যাব মোড় ব্লকেড করে গণজমায়েত মঞ্চ তৈরি করবেন।
এর আগে দুপুর ১টা থেকে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধের কারণে রাজধানীর একটি বড় অংশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে টেকনিক্যাল মোড়েও শিক্ষার্থীরা সড়ক দখল করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং সরকারের প্রতি অনতিবিলম্বে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারির আহ্বান জানান। দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় মিরপুর ও নিউ মার্কেটমুখী সড়কগুলোতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা এলাকা ত্যাগ করায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও আগামী সপ্তাহের নতুন কর্মসূচি ঘিরে জনমনে উদ্বেগ রয়ে গেছে।