রাত পোহালেই শুরু হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা। বাণী অর্চনার আরাধ্য দিন জ্ঞানের আলো ছড়াতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে সরস্বতী পূজা।
সরস্বতী পূজা উপলক্ষে পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজারে প্রতিমা বিক্রির ধুম পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রতিমা কিনতে এখানে আসছেন। বিকিকিনি চলছে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত।
শাঁখারী বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় অসংখ্য প্রতিমা নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিমা বিক্রির এই ধুম চলবে পূজার দিন পর্যন্ত। এসব প্রতিমা ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকানো হয়েছে।
সরস্বতী পূজায় এবার কয়েক হাজার প্রতিমা বিক্রি হবে বলে আশা করেছেন বিক্রেতারা। আকার ও গঠনভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে এক একটি প্রতিমা। তবে ঘরোয়া পূজা হওয়ায় সবাই ছোট আকৃতির প্রতিমাগুলিই কিনছেন। এ ছাড়াও ফুলসহ পূজা উদ্যাপনের বিভিন্ন উপকরণও বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিমা বিক্রেতা রাম প্রসাদ পাল, বিধান পাল, গণেশ পাল জানিয়েছেন, প্রতি বছরই তারা এই বাজারে প্রতিমা বিক্রি করতে আসেন। দুই মাস আগে থেকে প্রতিমাগুলো প্রস্তুত শুরু করেন। এ বছর সহস্রাধিক প্রতিমা নিয়ে এসেছেন এই প্রতিমা কারিগররা। এই প্রতিমা বিক্রির অর্থ দিয়েই আমাদের জীবিকা নির্বাহ হয়ে থাকে।
জগন্নাথ হল থেকে নাতি ও স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিমা ক্রয় করতে আসা সুমন ব্যানার্জি বলেন, ‘মায়ের পূজা করলে বাচ্চাদের লেখাপড়ায় উন্নতি হয়। সঙ্গে সঙ্গে সংগীত চর্চায়ও মনোনিবেশ করতে পারে। তাই আমার বাড়িতে প্রতিবছর সরস্বতী পূজা করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।’
প্রতিমা দেখতে আসা মিথিলা দেবনাথ জানান, হিন্দু ধর্মমতে বিদ্যা ও সংগীতের দেবীখ্যাত সরস্বতী দেবী। সনাতন ধর্মের লোকেরা বিদ্যার্জন ও সংগীতে পাণ্ডিত্য অর্জনের জন্য শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে মাঘ মাসের শুক্ল পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা করে থাকেন। ধর্মপ্রাণ হিন্দু পরিবারে এই দিন শিশুদের হাতেখড়ি ব্রাহ্মণভোজন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও সার্বজনীন পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনা করা হয়।
এদিকে প্রায় দুই বছর পর সরস্বতী পূজার আয়োজন করছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরই মাঝে প্রতিটি বিভাগে ও ইনস্টিটিউটে মণ্ডপ তৈরির কাজ চলছে। এবার ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউটে মোট ৩৮টি মণ্ডপে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ দেড় দশকের আওয়ামী লীগ শাসনের অবসান ও শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ঢাকা-দিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক গভীর ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছে। একদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আবেগ, বিচারিক মর্যাদা ও ভূরাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা; অন্যদিকে পারস্পরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নির্ভরতা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন আস্থার সংকট। জমাট বাঁধা এই বরফ গলাতে কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পরদিনই দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
ঢাকা ও নয়াদিল্লির বর্তমান টানাপোড়েনের কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।
গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লির এফসিসি সাউথ এশিয়ার অনলাইনে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। যদিও ভারত সরকার দাবি করেছে—এই আয়োজনের সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, তবুও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই দায় এড়ানোর অবস্থান ঢাকার ক্ষোভ কমাতে পারেনি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি স্পষ্ট: দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দ্রুত প্রত্যর্পণ ও আস্থার ঘাটতি পূরণ না করে কূটনৈতিক সম্পর্কের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, ভারত যদি তাদের পুরোনো মিত্রকে বারবার রাজনৈতিক স্পেস ও সুরক্ষার বার্তা দেয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সঙ্গে নয়াদিল্লির সুসম্পর্ককে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
উত্তেজনা প্রশমন ও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অংশ হিসেবে ঢাকার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ সৃষ্টি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় অগ্রগতি থমকে থাকবে। তবে বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠক হলে বহু সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এদিন, দুপুরে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় দূত। এর আগে, রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী।
একই ধারাবাহিকতায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর প্রধান পরাগ জৈনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি ঢাকা সফর করেন। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম ও ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ‘র’ প্রধানের এই সফর চীন থেকে ঢাকায় আসার নিয়মিত একটি কার্যক্রমের অংশ, এটি নিয়ে নতুন করে জল্পনা-কল্পনার কিছু নেই।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের একদিন পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেছেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানী নয়াদিল্লিতে তিনি মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে সাক্ষাতে তারা কী নিয়ে আলোচনা করেছে সেটি জানা যায়নি।
একইদিন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
গত এপ্রিলে ভারত সরকার তাদের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে ঢাকায় নিয়োগ দিয়েছে সাবেক রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে ভারত এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে হাইকমিশনার করে পাঠিয়েছে। নতুন দায়িত্বে যোগ দিতে দীনেশ ত্রিবেদী ৫ জুন পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান।
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গভীর ভূরাজনৈতিক হিসাব। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা কোনো বাহ্যিক শক্তির দান ছিল না, বরং তা ছিল বাঙালি জাতির দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের ফসল। তবে কৌশলগত কারণে ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল, যাতে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত ও ‘চিকেন নেক’ (শিলিগুড়ি করিডর)-এর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের আড়াই-ফ্রন্ট সামরিক চ্যালেঞ্জ কমে আসে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর বর্তমানে এসে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল ও বাংলাদেশের ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্থান আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে বড় রূপান্তর এনেছে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, কিন্তু তা হতে হবে কোনো আধিপত্যবাদী বা একপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, পারস্পরিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে সমমর্যাদার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক বর্তমানে এক ঐতিহাসিক পরীক্ষায় দাঁড়িয়ে। একদিকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জনগণের গণআকাঙ্ক্ষা ও বিচার বিভাগীয় মর্যাদা রক্ষা করা বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব; অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক প্রয়োজন অক্ষুণ্ন রাখা ভারতের জন্য জরুরি। ভারত সরকার নিজেদের পুরোনো রাজনৈতিক মিত্রের মোহ কাটিয়ে গণআকাঙ্ক্ষাকে কতটুকু মর্যাদা দেবে—তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের আসল রূপ।
আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন হতে যাচ্ছে। বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফরটি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বরফ সম্পূর্ণ গলাতে এবং সরাসরি আলোচনায় বসার একটি মোক্ষম সুযোগ হতে পারে।
তবে এই সফর এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সফলতা পুরোপুরি নির্ভর করছে এর আগে ভারত সরকার ‘হাসিনা ফ্যাক্টর’ এবং দণ্ডিত আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে কতটা দৃশ্যমান ও আন্তরিক পদক্ষেপ নেয় তার ওপর।
এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের একটি সতর্কবার্তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন— ভারত যদি বারবার তাদের পুরোনো মিত্রকে রাজনৈতিক স্পেস ও সুরক্ষার বার্তা দিতে থাকে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সাথে নয়াদিল্লির আস্থাকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
তবে দেশের বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সাবেক কূটনীতিক ফয়েজ আহমদ মনে করেন, সরকারের উচিত অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া।
তবে হুমায়ুন কবিরের মতে, সরকারের বর্তমান অবস্থান দেশের সাধারণ মানুষের গণআকাঙ্ক্ষা ও আবেগেরই সঠিক প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তবে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে জনগণের আবেগ, বিচারিক মর্যাদা এবং ভূরাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই দুই দেশের কূটনীতির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা আছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। মূলত অর্থের জোগানের অভাবেই জ্বালানি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছি না। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য তো অর্থের জোগান থাকতে হবে। সেই জোগানের জায়গাটি আসলে আমাদের হাতে নেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের যেসব গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, সেগুলো যদি পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে পারতাম, তাহলে আজ বিদ্যুৎ সংকটে মানুষকে এই কষ্ট করতে হতো না।
গ্যাসের চাহিদার ঘাটতি তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে দেশে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদায় প্রায় ১ হাজার ২০০ এমএমসিএফডির (মিলিয়ন ঘনফুট) ঘাটতি রয়ে গেছে। কারণ, আমাদের দেশীয় কূপগুলো থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
এলএনজি আমদানি বাড়ানোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, আপনার কাছে যদি টাকা থাকেও, তবু আপনি রাতারাতি এলএনজি আমদানি বাড়াতে পারবেন না। কারণ আপনার সেই অবকাঠামো নেই। আমাদের দেশে এলএনজির কোনো ল্যান্ড বেইজড টার্মিনাল নেই। আমাদের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আছে মাত্র দুটি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৩০ থেকে ৩৬ মাসের আগে নতুন এফএসআরইউ কার্যকর করা আসলেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এটি বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে এটি কীভাবে কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এটি জনগণের সরকার। এসব কাজ করতে গিয়ে আমরা কোনো জায়গায় দেশের স্বার্থের সঙ্গে আপস করব না। সরকারের ক্রয় নীতিমালা অনুসরণ করে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।
তিনি আরও জানান, তৃতীয় ও চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপন নিয়ে কথা হচ্ছে। গ্যাস পাইপলাইনের বিষয়টি মাথায় রেখেই এসব নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শুধু যন্ত্রপাতি দিয়ে নয়, বরং তাদের কর্মীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি এফএসআরইউতে সমস্যার কারণে গ্যাস সরবরাহে সম্প্রতি সংকট দেখা দেয়। এ বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের ছিল না। দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের এনে আংশিকভাবে এটির কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, একটি বয়লার মেরামতের কাজ চলছে, তবে অপর বয়লারটি এখনো চালু হয়নি। এটি চালু করতে গেলে সাময়িকভাবে প্রথম বয়লারের কার্যক্রম অন্তত ৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হবে, যা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন সময়টাতে মানুষের কষ্ট সবচেয়ে কম হবে এবং আমরা এই এফএসআরইউ পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে পারব, সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর না করে পানি, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পরিকল্পনা ও যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘শুধু ওষুধ বা স্যালাইন দিয়ে এসডিজি গোল অর্জন সম্ভব নয়; এর মূল ভিত্তি হতে হবে রোগ প্রতিরোধ, যার ওপর প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছেন।’
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনাবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ বিষয় কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও জেন্ডার বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি এসডিজি-৩ অর্জনের জন্য স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে পানি, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণের মত খাতগুলোকে একত্র করতে হবে।
গ্রামাঞ্চলের স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে ও রোগ প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করতে হবে। বাজারঘাট বা সব জায়গায় ময়লা হাত দিয়ে ধরার পর সেই হাত ও টাকা দিয়েই আবার লেনদেন করা হচ্ছে। আমাদের এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও জীবনযাত্রা পরিবর্তন করতে হবে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুপেয় পানির সংকট ও লবণাক্ততার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে মানুষ হলুদ পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। গত মাসে প্যারিস কনফারেন্সে আমি বিষয়টি তুলে ধরেছি, যেখানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে।
একই সঙ্গে শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল বা স্ক্রিনে আসক্তি এবং জাঙ্ক ফুডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিকল্পনা কমিশনের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর একা দায়িত্ব চাপালে এসডিজি অর্জন সম্ভব নয়। পানি, স্বরাষ্ট্র, সমাজকল্যাণ ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। অন্তত প্রতি দুই মাসে একবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বৈঠকে বসে যৌথভাবে তা বাস্তবায়ন করলেই কেবল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
তিনি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, মায়েদের সচেতনতা, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে শাকসবজি ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে কোনো উদ্যোগ নয়, সব মন্ত্রণালয়ের যৌথ কর্মপদ্ধতি ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এসডিজি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বক্তব্য দেন।
এছাড়া স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনীমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিকের একটিই পরিচয়-আমরা সবাই ‘বাংলাদেশি’ এখানে কোনো ‘আদিবাসী’ গোষ্ঠী নেই।
আমরা সবাই বাংলাদেশের 'অধিবাসী'। সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে সুরক্ষিত।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য ‘আদিবাসী’ পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সিএইচটিআরএফ চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানায় বসবাসরত সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এ দেশের সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজন সর্বসম্মতিক্রমে সম্মত হয়েছেন যে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’। এই জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার মূল ভিত্তি।
অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা, বিকাশ ও সংরক্ষণে পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সমতা আনার লক্ষ্যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের কল্যাণে রাষ্ট্র বিশেষ সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা বজায় রেখেছে, যা সংবিধানেও স্বীকৃত।
পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বহুভাষী ও বহুজাতিক রাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে শত শত ভাষা প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও পৃথক ‘আদিবাসী’ সত্তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, বরং অনগ্রসরদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মূলধারায় যুক্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গৃহীত জাতিসংঘের ‘ইউনাইটেড নেশনস ডিক্লারেশন অন দ্য রাইটস অব ইনডিজিনাস পিপলস’ (ইউএনডিআরআইপি) সনদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুরু থেকেই স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছিল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ উক্ত ভোটাভুটিতে ভোটদানে বিরত ছিল এবং বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্রও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
তিনি আরও বলেন, এ আন্তর্জাতিক ডিক্লারেশন বা আইএলও কনভেনশন ১৬৯ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এর অংশীদার নয়।
গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মারুফ কামাল খান, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব প্রমুখ।
ভৌগোলিক ও নৃতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য ‘আদিবাসী’ শব্দটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, অভিবাসী চিন্তাধারার মনোজগৎ বা দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি বা নৃবিজ্ঞানকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিশ্বের যেসব দেশে বহিরাগত অভিবাসীরা এসে স্থানীয় ও মূল অধিবাসীদের তাড়িয়ে দিয়ে রাষ্ট্র গঠন করেছে, সেখানে আদিবাসীদের একটি ঐতিহাসিক ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। সেই ঐতিহাসিক পাপ মোচনেই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সেখানে কাজ করছে। কিন্তু বাংলাদেশে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, যেখানে বহিরাগত কেউ এসে মূল বাসিন্দাদের তাড়িয়ে জমি দখল করেছে। বাংলাদেশের জনমিতি ও জাতিসত্তা হাজার বছরের নৃবিজ্ঞানের প্রাকৃতিক বিবর্তনের ধারায় গঠিত হয়েছে, তাই এখানে বহিরাগত অভিবাসী বনাম আদিবাসী—এমন কোনো বিরোধের সুযোগ নেই।
দেশের জাতীয় পরিচয় এবং জনমিতি নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিতর্ক সৃষ্টি করাকে এক ধরনের অপকৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করে সবাইকে সতর্ক করেছেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নাগরিকত্বের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর যে ধারণা উপস্থাপন করেছিলেন, তা জাতির পরিচয়গত সংকট নিরসন করতে সক্ষম হয়েছে। এই সংহত পরিচয়কে ভবিষ্যতেও অক্ষুণ্ন রাখতে ভুল বয়ানের বিপরীতে সঠিক ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরার ওপর তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।
একইসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনোজগৎ দিয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সমস্যাগুলোও সঠিকভাবে বোঝা যাবে না। সিএইচটিআরএফ-এর চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক মো. মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এছাড়া অনুষ্ঠানে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, বিভিন্ন সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইতিহাসবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই আগামীর জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তাদের জন্যই দায়িত্ব নিয়েছে এবং তাদের কল্যাণের জন্যই কাজ করছে। তাই কোনো দাবি থাকলে তা নিয়ে বুঝেশুনে আন্দোলন করার পরামর্শ দেন তিনি। প্রয়োজনে আন্দোলনের আগে তার সাথে সরাসরি কথা বলে বা বিতর্ক করে যৌক্তিক উত্তর জেনে নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে ‘সমৃদ্ধ অর্থনীতির বিনির্মাণে শিক্ষা: দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা ও বৈশ্বিক গতিশীলতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
বিনা কারণে হৈচৈ করে দেশে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এমন অস্থিতিশীলতা তৈরি করে একটি রাষ্ট্রকে কখনোই সামনের দিকে এগোতে দেওয়া যায় না। বর্তমানে দেশে অতি মাত্রায় রাজনীতি শুরু হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, একটি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ না হতেই যারা মিথ্যা অজুহাত দিয়ে রাজনীতি করছে, তারা মূলত দেশের উন্নতি নয়, বরং অধঃপতন চায়। এ ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্তদের নেতৃত্ব দেশের জনগণ কখনোই মেনে নেবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।
সেমিনারে সাম্প্রতিক এসএসসির ফলাফল নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার একেবারে শূন্য, তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। একইসঙ্গে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো কেন আশানুরূপ ভালো ফলাফল করতে পারছে না, সেই বিষয়টি সরকার গভীরভাবে খতিয়ে দেখবে বলেও তিনি জানান।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে। এছাড়া, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এর মাধ্যমে দেশের দারিদ্র্য অন্তত ৫ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৫ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এই তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী এবং ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের মতো আলোচিত নাম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সরকারের এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের বিষয়টি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
বরখাস্ত হতে যাওয়া অন্য তিন পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস এবং মো. ইকবাল হোসাইন। সূত্র অনুযায়ী, এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে বিনা অনুমতিতে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকা এবং দায়িত্ব থেকে পলায়নের মতো গুরুতর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে আনা এসব শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মতো গুরুদণ্ড দেওয়ার সব দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, যা এখন কেবল প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র থেকে চাকরিচ্যুত হতে যাওয়া এসব পুলিশ কর্মকর্তার বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন এবং তাকে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকেও সাময়িক বরখাস্ত করে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। এছাড়া আরেক কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইনকে সাময়িক বরখাস্ত করে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই তালিকায় থাকা বাকি দুই কর্মকর্তার বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট দাপ্তরিক অবস্থান নেই এবং তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। নথির তথ্য অনুযায়ী, ডিএমপির সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। একই রকমভাবে অপর পুলিশ কর্মকর্তা রাজন কুমার দাসও সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হয়েও এমন চরম দায়িত্বহীন আচরণ এবং কর্মস্থল থেকে পলায়নের কারণেই মূলত তাদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়ে নতুন করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে কথা বলেন দপ্তরের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে ভারতের বর্তমান পদক্ষেপ ও আইনি দিকগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামি বর্তমানে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। এই দুই আসামিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনা চলছে এবং বিষয়টি নিয়ে জনমনেও ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা সরাসরি প্রশ্ন করলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিষয়টিকে একটি জটিল ‘আইনি বিষয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়ে বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দুই দেশের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল ধারণা করছে। যেহেতু আসামিরা বর্তমানে ভারতের বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার অধীনস্থ, তাই তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের আগে ভারতীয় আইনি বাধ্যবাধকতাগুলো সম্পন্ন করতে হবে। তদন্ত প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে ভারতের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার গুরুত্বকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
ব্রিফিংয়ে আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। রণধীর জয়সওয়াল জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ সেশন’-এ অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এলে তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে ফিরে শেখ হাসিনা বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হলে সেখানে তার প্রয়োজনীয় সব অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা সবাই মেনে নেবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘হাসিনা যদি বাংলাদেশে আসেন, উনি তো বলছেন ডিসেম্বরে আসবেন। আমি বহুবার বলেছি, তিনি যদি আসেন, পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে তিনি আসবেন। পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাবেন। পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় যা যা করা দরকার, তা করা হবে। তারপর আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা আমরা সবাই মেনে নেব।’
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে তো প্রত্যর্পণ করার কথা ছিল। তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার কথা ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চুক্তি আছে। আমরা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিকে ফেরত চাই। আমরা তাকে দেশে এনে আইনের আওতায় আনতে চাই।’
ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সহযোগিতা করছে না, উল্টো সেই দেশে তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে বিভিন্ন বৈঠক করছেন এবং সম্প্রতি সেখানে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে ভারতকে আন্তরিকভাবে বিবেচনা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘যাকে আমরা এনে বিচার করতে চাই, সেটা না করে তিনি ওখানে বসে এটা করছেন—এই ব্যাপারগুলোকে ভারতের আন্তরিকভাবে নিতে হবে যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কীরকম হবে, কীভাবে হবে।’
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অবস্থান। ‘আমরা হাসিনার মতো একটা মাফিয়া রেজিম এই দেশে আর দেখতে চাই না। এটা না ভবিষ্যতেও হতে দেব না। কোনো ফ্যাসিস্ট-মাফিয়া রেজিম না, এটা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।’
তিনি বলেন, ‘এখানে সবচেয়ে বিভৎস অপরাধীটাও তার নাগরিক অধিকার, যা যা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার, যা যা পাওয়ার সেটা সাকিব আল হাসান হোক, সেটা হাসিনা হোক—তারা পাবেন।’
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছে, শুধু দেশে না, বিদেশ ভ্রমণে ক্ষেত্রেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ‘জুলাই যোদ্ধারা’ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন।
তিনি বলেছেন, ৩৬ জুলাইকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য পর্যটন করপোরেশনের হোটেলগুলোতে ৩৬ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেওয়া হবে জুলাই যোদ্ধাদের। তাদের কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থা করা হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে মূল্যছাড় দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর পর্যটন কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে 'জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধারা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের সাহসী অংশীদার। তাদের আত্মত্যাগকে কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করলেই হবে না; তাদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান এবং আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।
তিনি বলেন, যে মা সন্তান হারিয়েছেন, যে বাবা তার কাঁধে সন্তানের লাশ নিয়েছেন তারাই জানেন সন্তান হারানোর কষ্ট। আপনাদের অবদানের কারণেই আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। দেশকে ফ্যাসিস্টের দুঃশাসন থেকে রক্ষা করেছেন আমাদের জুলাই যোদ্ধারা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে পর্যটন খাতকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, জনবান্ধব, নিরাপদ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন– বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।
এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম, শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের বাবা মো. শফিকুল ইসলাম, শহীদ জোবায়ের আহমেদের স্ত্রী মোছা. মারজিনা আক্তার, জুলাই যোদ্ধা সানজিদা আহমেদ তন্বী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্য এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের হাতে প্রাইজবন্ড ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চার সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ শপথ প্রদান অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ এবং পিএসসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন চার সদস্য হলেন—মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, ড. মো. ফেরদৌস হোসেন এবং ইয়াসমিন গফুর। এর আগে গত ৬ আগস্ট সংবিধানের সংস্থান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাদের এই পদে নিয়োগ প্রদান করেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নবনিযুক্ত সদস্যরা যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—যেটি আগে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এই চার সদস্যের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বর্তমানে পিএসসিতে একজন চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য পূর্ণ নিরাপত্তা পাবেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সাকিব আল হাসান একজন নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, ‘সাকিব আল হাসান যদি দেশে আসেন আপনাদের কি মনে হয় যে তিনি নিরাপত্তাহীন থাকবেন? তিনি ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন। কিন্তু একজন নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ।’
‘তার সুনাম আছে—কিন্তু যে মানুষ হাসিনার সঙ্গে থাকেন ফালতু কথা বলেন সরকারকে কিছুটা চাপে ফেলার জন্য। আমি আবারও বলছি তিনি যদি বাংলাদেশে আসেন আইন ও বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য—এয়ারপোর্টে নামলে কি লোকজন তাকে মব করে কিছু করে ফেলবে? তিনি কি সেটা মনে করেন? আমরা কেউ তা মনে করি নো,’ বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘যা যা আইনগত ব্যাপার আছে সব মেনে নিয়ে যদি তিনি আসেন আমি কোনো সমস্যা দেখি না। তার প্রত্যেকটা কথা আসলে আমাদের এই সরকারের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা মানে।’
‘যে মানুষটা এখনো হাসিনার সঙ্গে অ্যালাইন (একসুরে) হয়ে কথা বলে...তিনি তো আর হাসিনার চেয়ে বড় অপরাধী না। হাসিনাও যদি বাংলাদেশে আসেন, পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে আসবেন। পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাবেন। পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন বিচারিক প্রক্রিয়ার। তারপর আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটা আমরা সবাই মেনে নেব,’ যোগ করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা হাসিনার মতো মাফিয়া রেজিম এই দেশে আর দেখতে চাই না। এটা ভবিষ্যতেও হতে দেবো না। কোনো ফ্যাসিস্ট-মাফিয়া রেজিম না, এটা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে সবচেয়ে বিভৎস অপরাধীও তার নাগরিক অধিকার যা পাওয়ার কথা সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে, সেটা সাকিব আল হাসান হোক সেটা হাসিনা হোক তারা পাবেন।’
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ প্রধানের ঢাকা সফরের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি চীন থেকে ঢাকায় এসেছেন। এটা তার সফর আমাদের এখানকার কাউন্টার পার্টের সঙ্গে। সরকার যদি মনে করে সফরের পর স্টেটমেন্ট হয়ত দেবে। এটা নিয়ে স্পেকুলেশনের কিছু নেই।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে কথাটা আমরা সবসময় বলি যে প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না, বন্ধু পাল্টানো যায়। আগে যেভাবে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চেয়েছে—একজন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চেয়েছে। সেটা জনগণের সঙ্গে হতে হবে। ভারতের আলাপটা এখন দেখছি তারা জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলছেন।’
‘ভারতের কোনো সংস্থা কোনো প্রতিষ্ঠান আগে যেভাবে বাংলাদেশে কাজ করেছে, যে ধরনের আচরণ করেছে, সেটা হতে পারবে না। ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য থাকতে পারে, আমাদেরও থাকতে পারে। এগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে,’ যোগ করেন তিনি।
সরকারি কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে সব সরকারি দপ্তরের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে জানানো হয়, বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সিংহভাগই সৌরবিদ্যুৎ থেকে সরবরাহ করতে হবে।
এছাড়া দেশের অন্যান্য সকল সরকারি দপ্তরেও পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা জারি করার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।
এর আগে গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে সৌরবিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক সভায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল বসানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয় ভবন এবং পরিকল্পনা কমিশন ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।
উক্ত সভায় দেশে সৌর ইনভার্টার উৎপাদনের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তার নির্দেশও দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে সৌরবিদ্যুৎকে আরও সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করতে একটি কার্যকর মডেল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি সরকারি পর্যায় থেকে দেশজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারিত করা।