কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) অনুরোধ জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্য-অধিবেশনে তিনি এই অনুরোধ জানান।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, জেলা প্রশাসকরা সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জেলায়ে কাজ করেন। তাই জেলায় কোনো দুর্নীতি হলে, তাদের অনেক সোর্স আছে, তারা সহজে সেই তথ্য পান।
মঈনউদ্দিন বলেন, দুর্নীতিকে সঙ্গে রেখে দেশের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশে পৌঁছানো সম্ভব না। দুর্নীতি দমনের মাধ্যমেই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা যাবে।
সাংবাদিকদের দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতির তথ্য পেলে যেন বসে না থেকে সঙ্গে সঙ্গে তা জানায়। এ ছাড়া দুর্নীতি বন্ধ করতে যেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেয়, জেলা প্রশাসকদের সে অনুরোধ জানিয়েছি। একইসঙ্গে দুর্নীতি বিষয়ক কোনো তথ্য ১০৬ টেলিফোন নাম্বারে কীভাবে করতে হয়, সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার অনুরোধও জানিয়েছি।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ভূমি অফিসের দুর্নীতি কমানো যাবে। ভূমি অফিস বা জেলা পর্যায়ে কোথায় কোথায় দুর্নীতি হয়, সে বিষয়ে নজর রাখতে জেলা প্রশাসকদেরকে বলেছি।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি নির্মূল করার বিষয়ে আমাদের সংবিধানেই বলা আছে। এর প্রেক্ষিতে আইন হয়েছে, কমিশন হয়েছে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে সেটা ডিসি হোক কিংবা সহকারী ভূমি কমিশনার হোক, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাবে; সেই অভিযোগ যদি অনুসন্ধান যোগ্য হয়, আমরা অনুসন্ধান করব। দুর্নীতির অভিযোগ যার বিরুদ্ধে পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলাদেশের শিল্পায়নের অগ্রযাত্রায় যুক্ত হলো নতুন মাইলফলক। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (NSEZ) আরও ৬৫.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপুল বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বেজা কার্যালয়ে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গোল্ডেন অয়েল মিলস লিমিটেড ও ডেল্টা এপিআই লিমিটেডের সাথে এই বিনিয়োগ চুক্তি সম্পন্ন হয়।
এই বিনিয়োগের ফলে একদিকে যেমন বহুমুখী শিল্প পণ্যের উৎপাদন বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে হাজারো মানুষের জন্য। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের নিজস্ব শিল্প স্থাপনের লক্ষ্যে মোট ৩২ একর জমি ইজারা নিয়েছে।
গোল্ডেন অয়েল মিলস লিমিটেড: প্রতিষ্ঠানটি ২০ একর জমিতে ৫২.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। তাদের লক্ষ্য হলো খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে বৈচিত্র্য আনা। এখানে উৎপাদিত পণ্যের তালিকায় রয়েছে—খাদ্য, হিমায়িত খাদ্য, আইসক্রিম, বিশেষায়িত তেল ও ফ্যাট, প্যাকেজিং সামগ্রী এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্য। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে, যা স্থানীয় জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডেল্টা এপিআই লিমিটেড: ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল বা অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (API) উৎপাদনে ১২ একর জমিতে ১২.৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে ডেল্টা এপিআই। এর মাধ্যমে দেশে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনে দীর্ঘদিনের আমদানি নির্ভরতা কমবে। এই কারখানায় প্রত্যক্ষভাবে আরও প্রায় ২০০ জনের কর্মসংস্থান হবে।
বেজার প্রতিশ্রুতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা: চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এই বিনিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীর এই নতুন বিনিয়োগ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের গভীর আস্থার প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে যে, বিশ্বমানের শিল্প স্থাপনে বাংলাদেশ এখন একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য।’
তিনি আরও জানান, বেজার পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের দ্রুত শিল্প কারখানা স্থাপন ও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে জমি বরাদ্দ থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য সব প্রশাসনিক সুবিধা দ্রুততার সাথে প্রদান করতে কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর।
অর্থনীতির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব: অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনে এই বড় বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতির কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে গোল্ডেন অয়েল মিলসের প্রকল্পে ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, ওষুধের কাঁচামাল (API) উৎপাদনে ডেল্টা এপিআই-এর বিনিয়োগটি অত্যন্ত কৌশলগত। বর্তমানে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানিতে ভালো করলেও কাঁচামালের জন্য আমদানিনির্ভর। এই কারখানাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংকের সাশ্রয় হবে এবং ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে। ইলেকট্রনিক্স ও এপিআই শিল্পে নতুন প্রযুক্তির সমাবেশ ঘটলে স্থানীয় বাজারে পণ্যের মান বাড়বে এবং ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি বাণিজ্যেও নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই নতুন শিল্পায়ন কেবল স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং দেশের সামগ্রিক শিল্প প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের এই সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশের শিল্পায়নের গতিপথকে আরও সুদৃঢ় করবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং বেজার নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা বজায় থাকলে আগামীতে আরও বড় আকারের বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশকে একটি উন্নত শিল্পসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
ঢাকাকে ঘিরে ভূমিকম্পের ঝুঁকি এখন আর কোনো তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং এক ভয়াবহ বাস্তবতা। নগরবিদ ও ভূ-তাত্ত্বিকরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে কেবল বহুতল ভবন ধসে পড়ার দৃশ্যই দেখা যাবে না, বরং শহরের বুকজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে এক নিয়ন্ত্রহীন অগ্নিকাণ্ড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে ঢাকা মহানগর। জলাভূমি ভরাট করা হয়েছে, নিচু এলাকায় স্থাপনা গড়ে উঠেছে এবং এমন সব বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলো হয়তো বড় ভূমিকম্প সামলাতে পারবে না।
তারা বলেছেন, গ্যাসলাইন বিস্ফোরণ, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে না পারার অক্ষমতা মিলে ঢাকাকে এক মরণফাঁদে পরিণত করতে পারে।
কেন অগ্নিকাণ্ডই হবে বড় বিপর্যয়: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের প্রত্যক্ষ ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও এর গৌণ প্রভাব অনেক বেশি ভয়াবহ হতে পারে। ১৯০৬ সালের সান ফ্রান্সিসকো ভূমিকম্পের ঐতিহাসিক তথ্য এর প্রমাণ-সেখানে ৮০ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল অগ্নিকাণ্ডের কারণে, মাত্র ২০ শতাংশ হয়েছিল সরাসরি ভবন ধসের কারণে।
ঢাকা শহরের ক্ষেত্রে ঝুঁকিগুলো হলো গ্যাসের পাইপলাইন: ঢাকার মাটির নিচে গ্যাসের যে নেটওয়ার্ক, তা অত্যন্ত নাজুক। ভূকম্পনে এই পাইপলাইন ছিঁড়ে গিয়ে পুরো শহরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়বে। যে কোনো স্ফুলিঙ্গ থেকেই তা হয়ে উঠবে আগুনের গোলা।
বিদ্যুৎ সরবরাহ: ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ ভূমিকম্পের সময় শর্ট সার্কিটের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে বস্তি ও পুরনো শহরের সরু অলিগলিতে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেশি।
পানির সংকট: ভয়াবহ এই পরিস্থিতির সময় পানির লাইনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাবে না। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যখন পানি খুঁজবেন, তখন সব উৎসই অকেজো হয়ে থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন: বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সোসাইটির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ আবু সাদেক এবং বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারীর মতে, এই ঝুঁকি মোকাবিলার প্রযুক্তি আমাদের হাতের নাগালেই রয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়নের ধীরগতি উদ্বেগজনক।
প্রস্তাবিত সুরক্ষাব্যবস্থা: কম্পন শনাক্তকারী সেন্সর (Seismic Sensors) বসানো। এটি ভূমিকম্পের প্রথম তরঙ্গ বা ‘পি-ওয়েভ’ শনাক্ত করে বড় কম্পন আসার আগেই বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।
গ্যাস ও পানির পাইপলাইনের প্রতিটি বাঁক বা জয়েন্টে নমনীয় (flexible) প্রযুক্তি ব্যবহার করা, যাতে মাটির কম্পনে পাইপ ফেটে না যায়। তিতাস গ্যাসসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে ‘সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডেটা অ্যাকুইজিশন’ (SCADA) সিস্টেম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, যাতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দূরবর্তীভাবে ভালভ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী জানান, ২০১৫ সালের দিকে এ ধরনের সিস্টেমের প্রস্তাব দেওয়া হলেও মাত্র ১৫ দিনের মাথায় সব কার্যক্রম থমকে যায়। তার মতে, ভূমিকম্পের পর মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে না পারলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো অসম্ভব।
এদিকে, দুর্যোগের সময় উন্মুক্ত স্থান শুধু নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবেই নয়, উদ্ধারকাজ ও অস্থায়ী চিকিৎসা শিবির স্থাপনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাজধানীর অধিকাংশ এলাকাতেই এমন জায়গার ঘাটতি রয়েছে।
বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) অনুযায়ী, দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ১২৯টি ওয়ার্ডের অন্তত ৪১টিতে কোনো পার্ক বা খেলার মাঠ নেই। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৩১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটিতে ১০টি ওয়ার্ড রয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার প্রাকৃতিক ও সবুজ এলাকা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শহরের কেন্দ্রীয় অংশে জলাশয়ের পরিমাণ ১৯৯৫ সালে ছিল ২০ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে নেমে এসেছে মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশে। একই সময়ে সবুজ এলাকার পরিমাণ ২২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯ শতাংশে।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘পার্ক, খেলার মাঠ এমনকি অনানুষ্ঠানিক উন্মুক্ত স্থানগুলোকেও জরুরি আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘এসব স্থানকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিলে ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগের সময় ব্যবহারের জন্য নিকটবর্তী জায়গাগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এটিই মূল উদ্দেশ্য।’
নগর পরিকল্পনার মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতিটি বাসস্থান থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে একটি উন্মুক্ত স্থানে যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আদিল বলেন, ‘ঢাকার প্রায় ৩০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই মানদণ্ড প্রয়োগ করলে জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে প্রায় ৬০০টি উন্মুক্ত স্থানের প্রয়োজন হবে। তবে এটুকুও যথেষ্ট নয়। একটি খেলার মাঠ পুরো ওয়ার্ডের মানুষের আশ্রয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। কোনো কোনো ওয়ার্ডে এক লাখের বেশি মানুষ বাস করলেও সেখানে একটি মাঠও নেই। এমনকি এক হাজার মানুষ একটি মাঠে জড়ো হলেও সেটি দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়।
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির উদাহরণ টেনে আদিল বলেন, উদ্ধারকাজ ও অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল হিসেবে সাভার অধরচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, এ কারণেই প্রতিটি মহল্লায় হাঁটা দূরত্বের মধ্যে একটি উন্মুক্ত স্থান থাকা প্রয়োজন। সরকারের উচিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে উন্মুক্ত স্থান বাড়ানো এবং বেসরকারি আবাসন প্রকল্পে প্রতি আধা বর্গকিলোমিটারে অন্তত একটি খেলার মাঠ রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নিরাপত্তা কৌশলে যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন। সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহবান জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যগণই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃংঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যগণ নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরে'র দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার প্রত্যাশা।
পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃংঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।
সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।
সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে। আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্র বাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করব, পিজিআরের মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ- এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।
একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি।
তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে'র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বক্তব্যের শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১৯৭৫ সালের এইদিনে প্রথমে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরবর্তীকালে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’কে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ হিসেবে নামকরণ করেন। নতুন এ নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরো দৃঢ় ও গতিশীল করতে ইতিবাচক প্রভাব রাখে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার প্রতি অটল আনুগত্য, কর্তব্যপরায়ণতা এবং জীবন উৎসর্গের যে চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে এটি অবশ্যই পিজিআরের সদস্যদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। তিনি পিজিআর সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজ নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ( পিজিআর)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত এই বাহিনী গঠিত হয়। ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দপ্তরে বার্ষিক দরবার ও সুসজ্জিত কুচকাওয়াজের মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন করা হয়। পিজিআর মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এটি বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও অন্যান্য সামরিক দায়িত্ব পালন করে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়াচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার ফ্রান্স, বাহরাইন ও সিঙ্গাপুরে এ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। চলতি জুলাই মাসের ১৩ তারিখ থেকে ধাপে ধাপে ইসির কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা দল তিন দেশে গিয়ে কার্যক্রম চালু করবে। ইসির উপসচিব জি এম সাহাতাব উদ্দিনের সই করা পৃথক ছয়টি সরকারি আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, ১৩ জুলাই ইসির উপসচিব মোহাম্মদ এনামুল হকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কারিগরি দল বাহরাইনে যাবে। দলটি সেখানে সাত দিন অবস্থান করবে। এরপর ১৫ জুলাই আইডিয়া (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি ব্যবস্থাপনা দল দেশটিতে যাবে।
ফ্রান্সে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে ২০ জুলাই ইসির এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কারিগরি দল সফরে যাবে। তাদের পর ২২ জুলাই এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক আবুল হাসনাত মুহাম্মদ আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি ব্যবস্থাপনা দল ফ্রান্সে যাবে।
এদিকে, ২৭ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কারিগরি দল সিঙ্গাপুরে যাবে। পরে ২৯ জুলাই ইসির অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি ব্যবস্থাপনা দল দেশটিতে পৌঁছাবে।
সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, তিন দেশে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর জন্য গঠিত ছয়টি দলের সফর ও সংশ্লিষ্ট সব ব্যয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইডিয়া (ফেজ-২) প্রকল্প থেকে বহন করা হবে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন বিশ্বের ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়াগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের ৬১ জন যাত্রী বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করেও বিমানে ওঠেননি। বিমানবন্দরে কয়েকজন যাত্রীর ভিসা জাল বলে ধরা পড়ার পর আর এই ৬১ যাত্রী বোর্ডিং গেট পর্যন্ত যাননি। গত শনিবার (৪ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে মালয়েশিয়াগামী বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটটি রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে ওই যাত্রীদের ছাড়াই ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, এই ফ্লাইটে মোট ২৬৩ জন যাত্রীর যাওয়ার কথা ছিল। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ১০ জন যাত্রীকে যেতে দেয়নি। পরে বোর্ডিং গেটে আরও ৫ জনের ভুয়া ভিসা ধরা পড়ায় তাদেরও বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। পরে ২১২ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়। বাকি ৬১ জন কোথায় গেছেন, তা জানা যায়নি।
বিমানবন্দরের সূত্র জানায়, প্রথমে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ১০ জন যাত্রীকে আটকে দেয়। পরে বোর্ডিং গেটে আরও ৫ জনের ভিসা ও পাসপোর্টের তথ্য না মেলায় তাদেরও বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি।
সূত্রগুলো জানায়, বাকি যাত্রীরা কাগজপত্র আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে জানতে পেরে বিমানবন্দর ছেড়ে চলে যান। ফলে ওই ৭৬ জনের কেউই শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া যেতে পারেননি।
এই ৭৬ জনই মালয়েশিয়ার ট্যুরিস্ট ভিসায় ভ্রমণ করার কথা ছিল। বিমানবন্দরের সূত্রের দাবি, তাদের মধ্যে অনেকেরই একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় গিয়ে থেকে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল।
পুলিশের ৩৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এরমধ্যে ১৪ জন ডিআইজি রয়েছেন। রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ হতে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন, ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম (বর্তমানে গ্রেপ্তার), ডিআইজি মো. সাইফুল ইসলাম (বর্তমানে গ্রেপ্তার), ডিআইজি মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান, ডিআইজি এস. এম. মোস্তাক আহমেদ খান, ডিআইজি জিহাদুল কবির, ডিআইজি মঈনুল হক, ডিআইজি মো. ইলিয়াছ শরীফ, ডিআইজি শ্যামল কুমার নাথ, ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান, ডিআইজি মো. শাহ আবিদ হোসেন, ডিআইজি মো. জামিল হাসান, ডিআইজি মো. মাহবুবুর রহমান, ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান।
অতিরিক্ত ডিআইজি মো. বরকতুল্লাহ খান, অতিরিক্ত ডিআইজি টি. এম. মোজাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন খান, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মেহেদুল করিম, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আলমগীর কবীর, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রশীদুল হাসান, অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নিজামুল হক মোল্যা, অতিরিক্ত ডিআইজি এস. এম. এমরান হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, অতিরিক্ত ডিআইজি ড. শামসুন্নাহার, পুলিশ সুপার (সুপার নিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি সাইফুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত ডিআইজি খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাজিদ হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আরেফ এবং অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ।
রাজধানীতে মেট্রোরেলের যাত্রী চাহিদা মেটাতে ২০২৭ সালের এপ্রিলে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিতাংশ চালু হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-৬) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওহাব জানান, বর্ধিত লাইনে আগামী বছরের এপ্রিলে বাণিজ্যিকভাবে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হবে। এর আগে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে খালি ট্রেন চালিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, নিয়মিত যাত্রীসেবার সময় পার হওয়ার পর রাতের বেলা উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পুরো রুটজুড়ে এই পরীক্ষামূলক চলাচল পরিচালনা করা হবে।
এটি দেশের প্রথম মেট্রোরেল রুট, যাকে কর্মকর্তারা লাইন-৬ বলে অভিহিত করছেন।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে ১.১৬ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, একটি স্টেশন ও রেল ট্র্যাক নির্মাণসহ পুরো সম্প্রসারণ কাজের প্রায় ৭৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। বর্তমানে স্টেশনের স্থাপত্য এবং প্রবেশ-বাহির পথের কাজ চলছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কমলাপুর স্টেশনের সব পাইল, পাইল ক্যাপ, পিয়ার, স্টেশন কলাম, প্রিকাস্ট, কনকোর্স ছাদ, প্ল্যাটফর্ম স্ল্যাব, ট্র্যাক স্ল্যাব, প্যারাপেট ওয়াল এবং স্টিলের ছাদ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তথ্যমতে, কমলাপুর স্টেশনের জন্য স্বয়ংক্রিয় দরজা, সিগন্যালিং সিস্টেম এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি শিগগিরই স্থাপনের জন্য আনা হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ট্র্যাক স্থাপনের কাজ শেষ হবে বলে তারা আশা করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টেশনের প্রবেশ-বাহির পথ, অভ্যন্তরীণ দেয়ালের টাইলস, স্থায়ী জানালার গ্লাস স্থাপন এবং অভ্যন্তরীণ ও বাইরের অংশের রঙের কাজ চলছে। এছাড়া উত্তরা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ২৯৮টি প্রিকাস্ট সেগমেন্টের মধ্যে ১০০টি প্রিকাস্ট সেগমেন্ট কাস্টিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে।
উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত লাইন-৬ এর মোট দৈর্ঘ্য ২১.২৬ কিলোমিটার। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক চলাচল শুরু হয়।
প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট। পুনরায় চালু হওয়া এ রুটের উদ্বোধনী ফ্লাইটের যাত্রীদের স্বাগত জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াত আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে বিমানভাড়া কমানোর বিষয়ে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে ম্যানচেস্টার রুটে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন ফ্লাইট পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে ম্যানচেস্টার থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০৮ ফ্লাইটে ২৬৮ জন যাত্রী নিয়ে সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এর মধ্যে ২২৭ জন সিলেটে নামেন। বাকি ৪১ জন একই উড়োজাহাজে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।
যাত্রীদের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সংবাদ সম্মেলনে আফরোজা খানম রিতা বলেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ রুটে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য প্রবাসীদের যাতায়াত আরও সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করা।
লন্ডন-সিলেট রুটে তুলনামূলক বেশি বিমানভাড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। বিশেষ করে রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের কথা বিবেচনায় রেখে কীভাবে ভাড়া আরও সহনীয় করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে।
মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে উড়োজাহাজ সংকটের কারণে যাতে এ রুটে সেবা ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট-কক্সবাজার রুটও দ্রুত পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলছে। উন্নয়নকাজ শেষ হলে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোও এখান থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। এতে সিলেটের পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হবে।
বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলে সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকাজ দ্রুত শেষ হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর সক্ষমতা ও গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
হজ মৌসুমে উড়োজাহাজ সংকটের কারণে প্রায় চার মাস ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ছিল। এতে বিশেষ করে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সিলেটিদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। হজ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সরকার এ রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই আবার চালু হলো সরাসরি এ সেবা।
প্রাথমিকভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার ও শনিবার এ রুটে দুটি নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও জনসেবামূলক বিভিন্ন খাতে জাইকার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জাইকার মধ্যকার সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
রোববার (০৫ জুলাই) সচিবালয়ে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাইকার চলমান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে চান। আমরা সবাই তাঁর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে জাইকার অভিজ্ঞতা, কারিগরি সহায়তা ও বিনিয়োগ দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোঃ মাহমুদুল হাসান, এনডিসি এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও জাইকার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করবে এবং স্থানীয় সরকার খাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি করবে।
সরকারি যেকোনো অনুষ্ঠান উদযাপনের প্রচারকাজে ব্যবহৃত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। রোববার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই নতুন নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুত করা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি—থ্রিডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকেই—ব্যবহার করা যাবে না।" মূলত সরকারি কর্মসূচির প্রচারণায় ব্যক্তির চেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, "সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচারণামূলক উপকরণ তৈরির ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।"
প্রচার উপকরণের নান্দনিকতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিপত্রে আরও বলা হয়, "ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি নকশা এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।" মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং দেশের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে এই নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের আহ্বান জানিয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতায় ব্যক্তির অতি-প্রচার বন্ধ করে কাজের উদ্দেশ্যকে ফুটিয়ে তুলতেই সরকার এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে
‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস- ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিশেষ স্মারক ডাক টিকিট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এই আয়োজনে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাক টিকিটের পাশাপাশি একটি উদ্বোধনী খাম এবং ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ডও অবমুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদুল হাসানও এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ৬ জুলাই ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ ডাক বিভাগ বিশেষ এই স্মারক সামগ্রীগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে।
দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং পল্লী অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে যাঁরা বিশেষ অবদান রাখছেন, তাঁদের কর্মের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এই স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনপদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় এই দিবসের মাধ্যমে নতুন করে ফুটে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের অর্জন নয়। এই অর্জন দেশের প্রত্যেকটি গণতন্ত্রকামী ও শান্তিপ্রিয় মানুষের। যে কারণে এত মানুষ জীবন দিয়েছে, সেই জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে সরকার। আইন অনুযায়ী, অন্যায়কারী এবং হত্যাকারীদের বিচার করা হবে। বিচারের নামে যেন কারও প্রতি অবিচার না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আগারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে’ জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।
শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের পরিবার ও যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান, স্বীকৃতি ও জীবনমান নিশ্চিতকরণ, পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, সবার উদ্দেশে বলতে চাই, আপনাদের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে শুধু আমার দলেরই নয় অন্যান্য আরো রাজনৈতিক দল এবং একই সাথে যে সকল অরাজনৈতিক ব্যক্তি যারা ৫ আগস্ট (ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন আন্দোলন) সফল করেছিলেন, তাদের সবার কাছে বলতে চাই যে, আসুন আমাদের প্রতি, বাংলাদেশের লক্ষ-কোটি মানুষের প্রতি স্বৈরাচার যেমন অবিচার করেছিল, বিচারের নামে কারো প্রতি যেন অবিচার না হয় সে বিষয়টিতেও সচেতন থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম এই মুহূর্তে যদি আমি আমার মা’কে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, আপনার ওপর যে অবিচার ও অন্যায় হয়েছে আপনি কি চান আমি এসবের প্রতিশোধ নিই? আমার বিশ্বাস মা বলতেন, এই মুহূর্তে তোমার কাজ সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমি জানি, আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করলে তিনিও আমাকে একই উত্তর দিতেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি, এখানে মা উপস্থিত আছেন। উনি দেখেছেন কীভাবে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখানে ভাই উপস্থিত আছেন, সে দেখেছে কীভাবে তার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আপনাদের এই কষ্টের বিপরীতে শুধু একটি কথাই আমি বলতে চাই, আপনাদের যে কষ্ট, সেই কষ্টটি আমিও বুঝি, অনুভব করতে পারি।
তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচারের সময় থেকে শুরু করে ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনে অনেকেই, বহু, হাজারো লক্ষ মানুষ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সেই নির্যাতনের যে কষ্ট আপনাদের এখনো ভোগ করে বেড়াতে হচ্ছে। সেরকম শারীরিক কষ্ট, মানসিক কষ্ট প্রত্যেকটি কষ্ট আমাকেও ভোগ করতে, বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এ কারণে আপনাদের সেই কষ্ট- সেটি মানসিক হোক, সেটি শারীরিক হোক, আমি কিছুটা হলেও অনুভব করতে সক্ষম।
তিনি বলেন, আপনাদের ডান দিকে একটি ব্যানারের লেখা আছে জুলাইয়ের শহীদ হওয়া সর্বকনিষ্ঠ ফুলগুলোর নাম। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ৬৫ জন শিশু শহীদ হয়েছিল। তাদের কি কোনো অপরাধ ছিল? তাদের অপরাধ ছিল না। কিন্তু দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করতে গিয়ে যেভাবেই হোক এই শিশুগুলো জীবন দিয়েছে।
সেই উত্তাল দিনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করে গেছেন যে, জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১৪শ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন। সেই উত্তাল দিনগুলোতে যতটুকু সম্ভব হয়েছে আমার পক্ষে, আমি যতটুকু বিভিন্নভাবে শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও খোঁজ করছিলাম আমার নেতাকর্মীদের মাধ্যমে। অনেকে অনেক হিসাব দিয়েছে। কিন্তু আমার হিসাবের মতে শুধু জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে ২ হাজারের মতো মানুষ, ৩০ হাজারের মতো মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সার্বিকভাবে।
ফ্যাসিস্ট শাসনামলে দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, মামলা-হামলার ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আপনাদের সকলের কাছে একটু সহযোগিতা চাই আমি। যে আপনজনকে আপনারা হারিয়েছেন তারও তো লক্ষ্য ছিল এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, তারও তো লক্ষ্য ছিল এই দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন।
জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে উপস্থিত জুলাই পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই মানুষই ত্যাগ করতে পারে যার সাহস আছে। আপনজনকে আপনারা হারিয়েছেন, যে অঙ্গ হারিয়েছেন তা ঠিক হয়ে যাবে? না... ঠিক হয়ে যাবে না। তবে, সবাই মিলে আমরা যদি এ দেশকে এগিয়ে নিতে পারি, তবে একদিন গর্ব করে বলতে পারবেন আপনার আপনজনের ত্যাগের বিনিময়ে দেশের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। এখন একমাত্র কাজ শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই দিনে জুলাই অভ্যুত্থানে, জুলাই শহীদ, জুলাই যোদ্ধা এবং বিগত ১৭ বছরের যতজন শহীদ হয়েছেÑ তাদের প্রতি যদি সম্পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে হয়, তাহলে যার জন্য তারা ত্যাগ করেছেন সেই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা। এটি হোক আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের গৃহীত শপথ, এটি হোক আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের গৃহীত প্রতিজ্ঞা।
জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজনে এই জাতীয় সম্মেলনে আগত শত জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্য সরকার প্রধানের সামনে নিজেদের যন্ত্রণা, মনের ভাব তুলে ধরেন।
সকাল সোয়া ১০টায় পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত এবং জুলাই আন্দোলনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ পরিবারের হাতে জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় শহীদ মিরাজের বাবা রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই আহত আল মিরাজ, জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মারক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত সবার জন্য রাখা স্মৃতি স্মারক তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণ মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমী ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বক্তব্য রাখেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ সন্তানদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেইন, শহীদ শাহরিয়ার হোসেন আলভীর বাবা আবুল হোসেন, শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম এবং যাত্রাবাড়ীতে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আবদুর রব মিয়া। জুলাই অভ্যুত্থানে আহত শাহিন মালু, সুজন মোল্লা, মিল্লাত হোসেন, আল-আমীন, মেহেদি হাসান মিরাজ তাদের কথা জানান।
জুলাই জাতীয় সম্মেলনে রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊধর্তন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে যে জুলাই এসেছিল তা ছিল রক্তাক্ত জুলাই। সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল ও সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন দ্রুতই সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর রাজপথ থেকে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গড়ে ওঠে অভূতপূর্ব গণআন্দোলন। পরবর্তীতে এই আন্দোলন সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের যে তালিকা সরকার গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে, সেখানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন। তবে অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘ যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ যেভাবে আকৃষ্ট করা হচ্ছে, তাতে ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশ। বিদেশি বিনিয়োগ, সরাসরি বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ— সবই বাংলাদেশে আসছে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলের যে সম্ভাবনা আছে, সেটিকে মাথায় রেখে বাজেট করা হয়েছে এবং সেই সম্ভাবনাগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
চট্টগ্রামকে লজিস্টিক্যাল হাব গড়তে বড় পরিকল্পনা রয়েছে, এজন্য বিদেশি বিনিয়োগও আসছে জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে সম্ভাবনার খাত অনেক বেশি। কারণ, এখানে বন্দর আছে। শুধু সমুদ্রবন্দর নয়, চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে সরকারের পরিকল্পনায় অনেক কিছু আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, নদীর ওপারে আনোয়ারায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে একসঙ্গে অনেকগুলো বন্দর নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রামকে একটি লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রতিফলন এবারের বাজেটে রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো হাব ও প্যাসেঞ্জার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও বাজেটে রয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক করিডর একটি লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত হবে। বন্দরগুলো আরও বেশি পরিমাণে কাজ করতে পারবে। অন্যদিকে মাতারবাড়ীকেও ঘিরে বড় ধরনের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক্যাল সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই বাজেটে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে। তবে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন একটি কঠিন কাজ। বর্তমান সরকার বিগত সরকারের কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। আগে এই ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে। এরপর সম্ভাবনার জায়গাগুলো কাজে লাগানো হবে। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে সমৃদ্ধির ধারা শুরু হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ তার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ আজিজ প্রমুখ।