সরকারের ব্যর্থতা থাকলে তা বিরোধী দলকে খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সততা নিয়ে কাজ করলে কেন ব্যর্থ হতে হবে- সংসদে এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এমন কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সংসদ নেতা বলেন, সফলতা কী, ব্যর্থতা কী এটা যাচাই করবে জনগণ। এটা যাচাই আমার দায়িত্ব না। সততা ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে জনগণের কল্যাণ বিবেচনা করে কাজ করলে ব্যর্থ হব কেন? বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘মাননীয় সদসের্য যখন এতই আগ্রহ তাহলে আমার ব্যর্থতাগুলো আপনিই খুঁজে বের করে দিন, আমি সংশোধন করে নিব।’
এর আগে ফখরুল ইমাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার ব্যর্থতা সর্ম্পকে জানতে চান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কলেজেও রাজনীতি করেছি। রাজনীতি আমাদের পারিবারিক, একেবারে রক্তেই আছে। কিন্তু কখনো এত বড় দায়িত্ব নিতে হবে বলে ভাবিনি। ওই ধরনের কোনো আকাঙ্ক্ষাও ছিল না। এমনকি কখনো এই ধরনের দাবিও করিনি। সময়ের প্রয়োজনে যখন যে কাজ দিয়েছে, সেই কাজই করে গেছি। চেষ্টা করেছি।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে রাজনীতিতে নিজের পথচলার বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনটা সফল হওয়া, কোনটা বিফল হওয়া, সেটা না। সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করতে হবে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে।
জাতির পিতার আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় নিয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, চারণের বেশে সারা বাংলাদেশ ঘুরেছি। বাংলাদেশকে চিনেছি, জেনেছি। সরকার গঠনের পর তৃণমূলের মানুষ যাতে ভালো থাকে সেই আকাঙ্ক্ষা নিয়েই কাজ করেছি। তার সুফল এখন জনগণ পাচ্ছে। ১৪ বছর আগের বাংলাদেশ আর এখনকার বাংলাদেশে যে আমূল পরিবর্তন সেটা আমরা বয়োবৃদ্ধ যারা আছি তারা জানি। কিন্তু আজকের প্রজন্ম জানবে না। যদি সততা নিয়ে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে জনগণের কল্যাণে কি কাজ করতে হবে সেটা বিবেচনা করে কাজ করা যায় তাহলে ব্যর্থ হবো কেন? কোথায় সাফল্য, কোথায় ব্যর্থতা সেটা জনগণই করবে। আর মাননীয় সদস্য যখন এতই আগ্রহ তাহলে আমার ব্যর্থতাগুলো আপনিই খুঁজে বের করে দিন, আমি সংশোধন করে নিব।
এ কে এম রহমতুল্লাহর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান বন্দী যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করে দেয়। তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। সংবিধানের দুটি ধারায় পরিবর্তন এনে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়। ভোটের অধিকার দেয়। গোলাম আযমসহ অনেক যুদ্ধাপরাধীদের পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে এনে নাগরিকত্ব দেয়। জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের উপদেষ্টা বানায় মন্ত্রী বানায়। তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় এসে এসব কেবিনেটে স্থান দেয়। মন্ত্রী বানায়। এভাবে যুদ্ধাপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়া একটি জাতির জন্য কলঙ্কজনক। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যারা জিয়ার সঙ্গে হাতমেলাতে রাজি ছিল না তাদের নাম বাদ দেয়া, অপমানিত করা এবং যারা মুক্তিযোদ্ধা নয় তাদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান তারা দিতে চায়নি।
৭৫ এর পরে এমন একটা সময় গেছে যে মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে সেটা বলতেও ভীতসন্ত্রস্থ ছিলো মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, তখন একে একে মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হত্যা করা হয়। চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। অপমানিত করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের চাকরিও দেয়া হতো না। এমন ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সাথে সাথে ইতিহাসও বিকৃতি করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলা হয়। সেগুলি যাচাই-বাছাই করে অনেকগুলি ইতোমধ্যে পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছে। আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যাতে তালিকায় থাকে সেই প্রচেষ্টা করার।
রহমতুল্লাহ তার সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তযুদ্ধ করেনি। আমরা মোট মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম মাত্র দুই লাখ। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটাকে তারা ১৫/১৬ লাখ করেছে। এজন্য আমরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতেও অপমানবোধ করি। যারা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। রাজাকারের বাচ্চা ওদেরও মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে। এদের বাতিল করা হবে কী না।
জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান সম্পুরক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিবৃতকারীদের বিচারের আওতায় আনতে আইন প্রণয়ন করবেন কী না তা জানতে চান।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ইতিহাস ৭৫ এরপর ইতিহাস বিবৃতি শুরু হয়। জাতির পিতাকে হত্যাকারী ও ক্ষমতা দখলকারীরা এই বিবৃতি শুরু করে। ধারাবাহিকভাবে তা ২১ বছর চলতে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের মানুষকে সেই বিবৃতি ইতিহাস থেকে মুক্তি দেয়। আজকে বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেবল উদ্ভাসিত নয়, দেশের মানুষ ও নতুন প্রজন্ম এই ইতিহাস জানান সুযোগ পাচ্ছে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এখন বিবৃত করার সুযোগ নেই। কেউ তা করতেও পারবে না। এট সম্ভবও নয়।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘যারা ইতিহাস বিকৃতি করেছে ইতিহাসই তাদের বিচার করে দিয়েছে। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। মিথ্যা দিয়ে সত্যকে ঢেকে রাখা যায় না। যারা ইতিহাস বিকৃতি করেছে তাদের চরিত্রটা মানুষের কাছে প্রকাশ পেয়েছে। কত জঘন্য কাজ তারা করে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার যেটা কাজ হলো মানুষের কাছে সত্য ইতিহাসকে তুলে ধরা। ইতিহাস আজকে মানুষের সামনে প্রকাশ পেয়েছে। মানুষ তার চর্চা করছে। আজকের যুব সমাজ ইতিহাস জানতে সব চেয়ে বেশি আগ্রহী এটাই বড় বিচার। যারা সত্যটাতে মিথ্যা দিয়ে ঢাকতে চেয়েছিল তারাই আজকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে চলে গেছে। সত্য উদ্ভাসিত হয়েছে। সত্য অনেক কঠিন। তবে এর জয় অবসম্ভাবী। বিচার প্রাকৃতিকভাবেই তাদের হচ্ছে।
এর আগে এ কে এম রহমতুল্লাহর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে নানান পদক্ষেপ চালিয়েছি। এরফলে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বাংলাদেশে চালানো হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য গত বছর ১৪ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিভসে একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রস্তাবটি ওহিও অঙ্গরাজ্যেরর কগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবট এবং ক্যলেফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান রো খান্না। পরবর্তীতে কো-স্পন্সর হিসেবে যোগ দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাটি পোর্টার এবং নিউজার্সির টম ম্যালিনোস্কি। প্রস্তাবটি বিবেচনার জন প্রতিনিধি পরিষদে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি যাতে বিবেচিত হয় যে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ঐকান্তিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক সফলতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ প্রস্তাবের মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশ রাষ্ট্রকেই নয় বরং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অগণিত মানুষের আত্মত্যাগ বিশেষত মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের ও বীরঙ্গনা মা-বোনদের সম্মানিত করা হয়েছে।
বেনজীর আহমেদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। অন্যান্য সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক নেতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার মূল্যের উপর।
জামালপুর-৫ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু সেখানে টেকনিক্যাল লোক পাওয়া কঠিন। অনেকই বিদেশ থেকে লোক নিয়ে এসে কাজ দেওয়া হয়। সরকার টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে। যাতে করে দক্ষ জনগোষ্ঠি তৈরি হয়। তাদের চাকরির অভাব নেই। পাস করার সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে তারা তৈরি পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন কারখানায় চাকনি পায়।
টেক্সটাইল শিক্ষার্থী নয়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টারিসহ অন্যান্য বিষয়ে পাস করে বিসিএস দেয়ার প্রবণতা আছে। তারা প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয় বলেও জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ব্যারিস্টার কিন্তু পুলিশও আছে। ডাক্তারও পুলিশে আছে। এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। তবে এত বেশি ক্যাডার সিস্টেম হয়ে গেছে। আমরা কিন্তু ইতিমধ্যে অর্থনীতি ও প্রশাসন ক্যাডারকে এক করে দিয়েছি। এক্ষেত্রে আরও কতটা সংকুচিত করা যায় সেটা ভালো। নতুন নতুন ক্যাডার সৃষ্টি করলেই যে চাকরির দুয়ার খুলে যাবে। ব্যাপারটা তেমন নয়। চাকরি করাটা তাদের ইচ্ছের উপর নির্ভর করে। অনেকক্ষেত্রে আমাদের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়াররা কাজ পেয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে আমাদের নতুন করে কোন ক্যাডার তৈরি করার পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে এটা যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারি।
পবিত্র রমজান মাসজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে ১০টি শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু রাখার বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক মো. অয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্রের মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন গণমাধ্যমকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পরিপত্রে জারি করা নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, রমজানের দীর্ঘ ছুটির পর যখন পুনরায় শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে, তখন থেকে পরবর্তী ১০টি শনিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পাঠদান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। মূলত শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণ করতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এই সিদ্ধান্তটি যথাযথভাবে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সকল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে ইতোমধ্যে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর ফলে ছুটির পরবর্তী সময়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও খুদে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে রমজানের দীর্ঘ ছুটির কারণে পড়ালেখার যে সাময়িক বিরতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে জুলাই দায়মুক্তি অধ্যাদেশের বিষয়ে সবাই একমত প্রকাশ করেছে। প্রথম দিনে অন্তত ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে জুলাই জনআকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সংবিধান পরিপন্থী কোনো অধ্যাদেশ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও জি এম নজরুল ইসলাম।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতে চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা ও মোনাজাত করা হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এরমধ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব ছিল ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-২০২৬’। এই অধ্যাদেশের বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত সবাই একমত প্রকাশ করেন। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ অন্তত ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়। অধ্যাদেশগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও যথার্থতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট আকারে তা জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে এক মিটিংয়ে ফয়সালা করা সম্ভব না। তাই আরো কয়েক দফা বৈঠকে বসতে হবে। তবে অনেক বিষয়ে একমত হওয়া গেছে। জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি সংক্রান্ত অধ্যাদেশের বিষয়ে সবাই একমত প্রকাশ করেছেন। আগামীতে কোন অধ্যাদেশ গ্রহণ করা যায়, কোনটা সংশোধন করে নেওয়া যায়, আর কোনটার ক্ষেত্রে আরো পরিবর্তন লাগবে, সেগুলো নিয়েই আলোচনা হবে।
অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কিছু সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে। আবার কিছু অধ্যাদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। যাচাই-বাছাইয়ে জনআকাঙ্ক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে। আমরা ২ এপ্রিলের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি করব। সংবিধান এবং জনআকাঙ্ক্ষা দুইটাকে সমন্বয় করে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান অবশ্যই সবার থেকে এগিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, সব সিদ্ধান্ত এখনই জানানো যাবে না। রিপোর্ট যখন প্রকাশ হবে তখন বলা যাবে। আমরা মধ্যপথে আছি, এগোচ্ছি।
বিশেষ কমিটির সুপারিশের সঙ্গে সঙ্গে অধ্যাদেশ সরাসরি আইনে পরিণত হয় না, উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, কমিটি তাদের মতামত ও সুপারিশ সংসদে পেশ করবে, পরে সংসদই চূড়ান্তভাবে ঠিক করবে কোন অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত হবে।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্যমতে, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী। পরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিনের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ১৫ মার্চ সংসদ অধিবেশনে সংসদে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠিয়ে ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কোনো অধ্যাদেশ জারি করলে এরপর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে ওই অধ্যাদেশ তুলতে হয়। সংসদ গ্রহণ না করলে অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারায়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে বাংলাদেশ—এ কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একইসঙ্গে ভারতে পলাতক আসামি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ফেরত আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলায় বাংলাদেশ ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির আগ্রহ জানায়। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, ভারতে গ্রেফতার হওয়া শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সাল করিম ও আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এখনো কনস্যুলার অ্যাক্সেস পায়নি বাংলাদেশ। তবে দ্রুতই এ অ্যাক্সেস পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সরকার। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা সরকারের অগ্রাধিকার বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়েও কাজ করছে সরকার। তিনি জানান, ইরানে অবস্থানরত দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি বর্তমানে নিরাপদে আছেন। তবে কেউ দেশে ফিরতে চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ সময় ১৯৭১ সালের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আগামী ২৬ মার্চ সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল (২৩ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন।
আইএসপিআর জানায়, এই অনুষ্ঠান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রবেশের জন্য নির্ধারিত গেট হলো ২, ৩, ৪, ১০ ও ১১।
রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সভায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও যানজট কমাতে বিভিন্ন করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে আজ (মঙ্গলবার) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে এসে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, হঠাৎ তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মূলত সংকট দেখা দিয়েছে। তবে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, তাই জনগণকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাইয়ের মধ্যে একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে। ডিমান্ড বেড়ে গেছে। আমরা একইভাবে সাপ্লাই করতাম সে সাপ্লাই চলছে। ডিমান্ড বেড়ে গেল তো সেখানে তো একটু ক্রাইসিস হবে। ক্রাইসিস হচ্ছে, এটা তো সাধারণ জ্ঞান।
তিনি আরো বলেন, সবাই প্রয়োজনমতো তেল পাবেন এবং শঙ্কার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না নিলে সরবরাহ ঠিক থাকবে। তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে কাজ করে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, তবে সরকার এখনো তেলের দাম বাড়ায়নি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে একটি মোশন (প্রস্তাব) উত্থাপন করা হয়েছে। মোশনটি উত্থাপন করেছেন সংসদ সদস্য অ্যাবিগেইল বয়েড। সোমবার (২৩ মার্চ) দেশটির সংসদে মোশন উত্থাপন করা হয় বলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. রাশেদুল হক।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অস্ট্রেলিয়ার সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন অ্যাবিগেইল বয়েড।
অস্ট্রেলিয়ার এমপি অ্যাবিগেইল বয়েড তার প্রস্তাবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন। এ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজয়ী হয়েছে।
অ্যাবিগেইল বয়েড তার প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশনের তথ্য তুলে ধরে জানান, এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি ছিল।
নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা জুলাই জাতীয় সনদের ওপর অনুষ্ঠিত সাংবিধানিক গণভোটের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ৬০ শতাংশ ভোটার এ সনদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এ সনদে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে ৮০টিরও বেশি প্রস্তাবনা রয়েছে, যা নতুন সরকার বাস্তবায়ন করবে।
প্রস্তাবটির শেষে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় বিএনপি এবং নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো হয়।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে’ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের যে ‘ইনডেমনিটি’ (দায়মুক্তি) দেওয়া হয়েছে, তা সরকার গ্রহণ করবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। আজকের বৈঠকে এসব অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে এই বিষয়গুলোর চূড়ান্ত সুরাহা করতে হবে। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক নামকরণের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আজকের আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। জনগণের দাবির মুখে বিতর্কিত সব নামকরণ পরিবর্তনের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এরই মধ্যে সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সরকারি দল ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পিতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মত একটি দেশ, একটি জাতিকে পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সততার সাথে। নিষ্ঠার সাথে। সহজ-সরল পথে।সকলের সাথে বন্ধুত্ব রেখে।
সোমবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে খুরশেদ মোল্লা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সূবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মিনু।
তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার আমলে দেশ শিক্ষায় ব্যাপক উন্নতি করে। অনেক এগিয়ে যায়।’
দেশের মানুষ কোনোরকম উগ্রবাদকে সমর্থণ করেনা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘একটি দেশ তখনই এগিয়ে যায়, যখন সে দেশের মানুষ শিক্ষা সংস্কৃতিতে ভাল করে। সুশিক্ষিত হয়। আর দেশের নারীরা যখন শিক্ষায় অগ্রসর হয় তখন সে দেশ সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যায়।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ ও সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম।
আলোচনা সভার পূর্বে দু’দিনব্যাপী বিদ্যালয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উৎসবের শেষ দিনে বর্ণাঢ্য শোভযাত্রায় অংশ নেন প্রধান অতিথি সহ অনান্য অতিথিবৃন্দ। রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে জানায়, আজ ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন।
এ সময় অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২৫ মার্চ রাতে সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাক-আউট’ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (২৩ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। খবর বাসস।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ মার্চ (বুধবার) রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এই ব্ল্যাক-আউট পালন করা হবে। ১৯৭১ সালের সেই কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার শিকার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তবে নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই), হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎসহ সকল জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশনসমূহ এই প্রতীকী ব্ল্যাক-আউট কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ৭ দিনের ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে খুলছে সরকারি অফিস, ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠান। আজ সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে অফিস-আদালতের কার্যক্রম চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
ঈদ শেষে গ্রামের বাড়ি থেকে অসংখ্য কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। এ জন্য ট্রেন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
গত ২১ মার্চ (শনিবার) সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে সংবাদপত্র শিল্পেও টানা পাঁচ দিনের ছুটি ছিল। নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত এ ছুটি ঘোষণা করে। সেই ছুটিও সোমবার শেষ হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক বসবে। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
গত ১৫ মার্চ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি সংসদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন বিষয়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার দায়িত্ব পেয়েছে বিশেষ কমিটি। কোন অধ্যাদেশ বহাল থাকবে এবং কোনটি বাতিল হবে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। পর্যালোচনা শেষে বিষয়গুলো নিয়ে কমিটিতে আলোচনা হবে এবং পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।