কয়লার দহন মান বা ক্যালরিফিক মান ৪৬০০ হলে বিশ্ববাজারে প্রতি টনের দাম ১৫০ ডলার। জাহাজ ভাড়া ৫০ ডলার যোগ হলে প্রতি টনের দাম বড়জোর ২০০ ডলার হওয়ার কথা। কিন্তু এই মানের কয়লা আদানি গ্রুপ ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কিনছে ৩৪৭ ডলারে। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়ছে ২৪ টাকা ২৮ পয়সা।
অথচ বাংলাদেশের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫০৪০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে খরচ পড়ছে ২৪৭ ডলার এবং কেন্দ্রটির ইউনিটপ্রতি ব্যয় পড়ছে ১৩ টাকার কিছু বেশি।
পায়রা ও গোড্ডার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে এই খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ২৫ বছর আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ কিনতে গিয়ে বড় অর্থঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
শুধু আদানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের দামই বেশি পড়বে, এমন নয়। আমদানি করা কয়লাচালিত পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও অনেক বেশি। এর মধ্যে আদানি ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ বা কেন্দ্র ভাড়াও দেয়া হয়েছে বেশি। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেয়া হয়েছে ৪.২৫ ইউএস সেন্ট যা বর্তমান দেশি মুদ্রায় ৪.৫৪৫৪ টাকা, আর রামপালকে দেয়া হয়েছে ৪.৮৫ ইউএস সেন্ট বা দেশি মুদ্রায় ৫.১৮৭০ টাকা। আদানি ভারতের বৃহৎ গ্রুপ আর রামপালে ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান এনটিপিসির মালিকানা রয়েছে।
পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞদের বিরোধিতার মুখে বাগেরহাটের সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশের জন্য কিছুটা ক্ষতিকর হলেও এটি কম মূল্যে বিদ্যুৎ দেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় অনেক চড়া।
এমনকি সৌরবিদ্যুৎ থেকেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। তা ছাড়া রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৩২০ মেগাওয়াটের মধ্যে ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চালু হয় গত ডিসেম্বরে। কিন্তু ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারছে না কারিগরি ত্রুটির কারণে। আদৌ কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চলবে কি না, তা নিয়ে এখনই প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, পরিবেশের ওপর ঝুঁকি বাড়িয়ে অর্থনীতিতে নাজুক অবস্থায় ফেলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে কতটা লাভবান হবে বাংলাদেশ।
এ রকম পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা আদানি গ্রুপের কর্তাব্যক্তির সঙ্গে কয়লার দাম কমানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। এ ছাড়া রামপাল কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ নতুন করে কীভাবে নির্ধারণ করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কয়লার দাম কেন বেশি পড়ছে সেটি আমরা আলোচনা করেছি। আনুষ্ঠানিকভাবে ওদের কাছে জানতে চাইব।’ তিনি বলেন, ‘ওরা নিউ ক্যাসেল ইনডেক্সে কয়লা কিনছে। নিউ ক্যাসেল ইনডেক্সে কয়লার দাম একটু বেশি। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এই ইনডেক্স করা হয়েছে কয়লার বাজারে চীন যেন ঢুকতে না পারে।’
২০১৬ সালে আদানি গ্রুপের সঙ্গে পিডিবির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুসারে আদানি ভারতের ঝাড়খন্ডে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে, সেখানকার বিদ্যুৎ আসবে বাংলাদেশে। তখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছিল ৮.২৫ ইউএস সেন্ট। এই বিদ্যুৎ আগামী ২৫ বছর কিনবে বাংলাদেশ। ৭৫০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটে মোট ১৫০০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতা হবে কেন্দ্রটির।
কয়লায় কি আদানির কারসাজি?
দেশের যেকোনো বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানির যে আন্তর্জাতিক দাম সেই অর্থ পরিশোধ করে থাকে পিডিবি। বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করার সময় জ্বালানির দাম, কেন্দ্রভাড়া, কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণের অর্থ-সব মিলিয়ে বিল করা হয়। জ্বালানির দাম ছাড়া অন্য অর্থ নির্দিষ্ট থাকে, এটি বাড়ে না। ফলে কোনো বেসরকারি কেন্দ্র যদি জ্বালানির দাম বাড়তি দেখাতে পারে তাহলে ওই কেন্দ্রের বিদ্যুতের দামও বেড়ে যায়।
ভারতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা কমদামে কয়লা কিনে বেশি দাম (ওভার ইনভয়েসিং) দেখায়। বিষয়টি নিয়ে ভারতের শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ (ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্ট বা ডিআরআই) ২০১৬-এর জুলাইয়ে ভারত সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে বলা হয়, কয়লা আমদানিকারকরা আমদানির ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ বেশি দাম দেখিয়েছে। এ অর্থ তারা পাচার করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ তালিকায় আদানি ও রিলায়েন্সের নাম রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের দুজন কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, ‘আদানি ৪৬০০ ক্যালরিফিক মানের কয়লার দাম দেখাচ্ছে ৩৪৬ ডলার প্রতি টন। অথচ পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র ৫০৪০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছানোর পর খরচ পড়ছে ২৪৭ ডলার। পায়রা কয়লা কেনে অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসেল ইনডেক্স অনুযায়ী, আদানিও কয়লার দাম দেখাচ্ছে নিউ ক্যাসেল ইনডেক্স অনুযায়ী। অথচ টনপ্রতি ১৫০ ডলারের বেশি দাম দেখাচ্ছে আদানি।’
তারা বলেন, ‘সম্প্রতি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও পিডিবির চেয়ারম্যান ভারতে গিয়ে আদানির কর্তাব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কয়লার দাম বেশি পড়ছে সেটি তারা বলে এসেছেন। এখন কীভাবে কয়লার দাম কমানো যায়, সেটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে।’
কয়লা বিদ্যুতের দাম কম পড়ছে না
আদানি গ্রুপের বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে পড়বে ২৪ টাকা ২৮ পয়সা। এর মধ্যে কেন্দ্রভাড়া ধরা হয়েছে ৪.২৫ ইউএস সেন্ট যা বর্তমান দেশি মুদ্রায় ৪.৫৪৫৪ টাকা। বছরে কেন্দ্রটির ১৫০০ মেগাওয়াটের স্থাপিত ক্ষমতা বাবদ কেন্দ্রভাড়া দিতে হবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয়েছে ৪.৮৫ ইউএস সেন্ট বা দেশি মুদ্রায় ৫.১৮৭০ টাকা। দেশে সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রভাড়া পেয়েছে রামপাল। কেন্দ্রটি বছরে শুধু কেন্দ্রভাড়াই পাবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে এস আলম গ্রুপের ১২২৪ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয়েছে প্রতি ইউনিটে ৪.৪১ ইউএস সেন্টস বা ৪.৭১ টাকা। কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত করা হবে ৪৬০০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা, যার প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ২৫৪.৩৮ ডলার। কেন্দ্রটি বছরে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জই পাবে ৫ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। কেন্দ্রটির প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ১৮.৩৯ টাকা।
বরগুনায় অবস্থিত বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার লিমিটেডের ৩০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ৪৬০০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা। এই মানের কয়লার দাম উদ্যোক্তারা দেখিয়েছেন ২৭০ ডলার। কেন্দ্রটিকে ক্যাপাসিটি চার্জ ইউনিটপ্রতি দেয়া হয়েছে ৩.৩৯ ইউএস সেন্টস আর দেশি মুদ্রায় ৩.৯৪ পয়সা। বছরে কেন্দ্রটি ক্যাপাসিটি চার্জ পাবে ১ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম পড়ছে ১৮.৮৪ টাকা।
পটুয়াখালীর পায়রায় চীনা সরকারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি ও সরকারের নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশনের সমান মালিকানায় পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয় ইউনিটপ্রতি ২.৬৫ ইউএস সেন্টস বা দেশি মুদ্রায় ২.৮৩ টাকা। ১২৪৪ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি সারা বছরে কেন্দ্রভাড়া পাবে ৩ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এই কেন্দ্রটির বর্তমানে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি ব্যয় হচ্ছে ১৩.৩৭ টাকা। কেন্দ্রটিতে ৫০৪০ ক্যালরিফিক মানের কয়লার দাম পড়ছে ২৪৫ ডলার।
এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের গড় উৎপাদন ব্যয় ১৩.৩৭ থেকে ২৪.২৮ টাকা পড়ছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সরকার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে গড়ে ১১ ইউএস সেন্টসে বা ১১.৭৬ টাকা প্রতি ইউনিটের বিদ্যুতের দাম দিয়ে অনুমতি দিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানির প্রয়োজন পড়ে না, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে বিদেশি মুদ্রার রির্জাভের ওপর টান পড়ে না। অন্যদিকে কয়লা, গ্যাস ও তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি আমদানি করতে হয় ডলার দিয়ে। এতে বৈদেশিক রিজার্ভের ওপর বড় টান পড়ছে।
রামপাল কি পূর্ণ সক্ষমতায় চলবে?
গত ডিসেম্বর থেকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩২০ মেগাওয়াটের ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এই কেন্দ্রটির স্থাপিত ক্ষমতা ধরা হয়েছে ৬১৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে কেন্দ্রটি একাধিকবার যান্ত্রিক কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।
নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে পিডিবির এক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, ‘কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর কখনোই ৬১৭ মেগাওয়াট ক্ষমতায় চালু করতে পারেনি। কেন্দ্রটি ৫৪০ মেগাওয়াটের ওপর উৎপাদন করতে গেলেই বয়লারের মধ্যে থাকা টিউব ফেটে যায়। এই কেন্দ্রটির উৎপাদনে থাকা প্রথম ইউনিটটি তার পূর্ণসক্ষমতা বা কেন্দ্রভাড়া পাবে যে স্থাপিত ক্ষমতার ভিত্তিতে, সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে না। রামপালের ক্যাপাসিটি ৬১৭ মেগাওয়াট ধরা হয়েছে, আর উৎপাদন করতে পারে সর্বোচ্চ ৫৪০। কেন্দ্রটি ঘোষিত স্থাপিত ক্ষমতার অন্তত ৭০ মেগাওয়াট কম করে থাকে। এই ৭০ মেগাওয়াট ক্যাপাসিটি চার্জ তৃতীয় পক্ষ দিয়ে নিরীক্ষা না হলে রামপাল বছরে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা বেশি নেবে।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ এখন কেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ নতুন করে নির্ধারণ করতে চায়। বিদ্যুৎ বিভাগ বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে কেন্দ্রটির স্থাপিত ক্ষমতা নিরীক্ষা করবে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অধ্যাপক এম শামসুল আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিদেশ থেকে আমদানি করে আনা কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো আমাদের ডলারের মজুতের ওপর টান বসিয়েছে, আগামীতে আরও বসাবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভে বড় সংকট তৈরি করবে। আর কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ, কয়লার দাম অনেক বেশি। আদানির কেন্দ্রতো রীতিমতো ভয়াবহ। এ রকম পরিস্থিতিতে এসব কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ ও জ্বালানির দামের বিষয়ে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তৃতীয় পক্ষকে যুক্ত করে বোঝা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘কয়লা সস্তা বলে সরকার ব্যাপক আকারে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করল। এখন দেখা যাচ্ছে কয়লার চেয়ে সৌরবিদ্যুতের দাম কম। আমাদের কম দামে দেশীয় জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ বড় সহায় হতে পারে।’
জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার (Kirill Lander-Weber) এর হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করে তাকে ফেরত দেয়া হয়েছে। ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যাপটপটি হস্তান্তর করেন। এসময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিগণসহ অন্যান্য উধ্বর্তন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জনাব ক্রিল বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন। তিনি গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য স্টেশনের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তিনি তাঁর ল্যাপটপ ও ক্যামেরা ওয়েটিং রুমে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা উত্তোলনের জন্য যান। ফিরে এসে তিনি তাঁর ল্যাপটপ ও ক্যামেরা খুঁজে না পেয়ে নাটোর থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন। হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপে তাঁর গত ছয় মাসের কার্যক্রম ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ছিল। তাঁর লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নাটোর সদর থানা পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একাধিক টিম হারানো ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গত ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টায় নাটোর সদর থানাধীন কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপটি (ম্যাকবুক) উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ক্রিল, বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ভ্রমণকালে তাঁর ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
বিদেশি পর্যটকের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার এবং বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আইজিপি আজ নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনসুর রহমান ও সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।
আইজিপি এ প্রশংসনীয় কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত সাফল্যের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সকল ইউনিটকে দ্রুত ও পেশাদার পুলিশি সেবা প্রদান, দেশি-বিদেশি সকল নাগরিককে নিরাপত্তা প্রদান ও আস্থা অর্জন, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনমুখী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে অতীতের কোনো কলঙ্ক বা বিতর্কের দায় বর্তমান সরকার নিতে প্রস্তুত নয় বলে সাফ জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনকে কঠোর ও পক্ষপাতহীন ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো প্রার্থী বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ না পান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশ সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকার নির্বাচন পরিচালনায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না; বরং নির্বাচন কমিশন যাঁদের দায়িত্ব দেবে, মাঠপর্যায়ের বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী তাদের নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করবে। অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর পুনরাবৃত্তি এড়াতে একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশ উপহার দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আসন্ন নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন শেষ না হলে এই অর্থ অব্যবহৃত থেকে পরবর্তী অর্থবছরে চলে যাবে, তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো আগামী জুনের মধ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করা। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও কর্মপরিকল্পনার ওপর।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোট শেষ করতে কমিশনকে বারবার অনুরোধ ও তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করে ইতিমধ্যে কিছু তারিখ প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করেছে এবং বাকিগুলোর রূপরেখাও আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচন আয়োজনের মূল দায়িত্ব ইসির হলেও, একটি সফল নির্বাচন উপহার দিতে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে সরকার।
ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে প্রতিটি পাড়া ও মহল্লায় নিয়মিত মাইকিংয়ের পাশাপাশি জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়া রোধে সব সরকারি সংস্থাকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠকে এই নির্দেশনা প্রদান করেন সরকারপ্রধান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
মশা নিধনে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জুমার খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।
এ ছাড়া সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে।
উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের জন এফ কেনেডি বা জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অবমাননা ও হেনস্তা করার যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই কথা স্পষ্ট করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায় যে, বিমানবন্দরের ভেতরের অংশে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঠিক কাছাকাছি গিয়ে কিছু লোক অত্যন্ত উগ্র ও উচ্চস্বরে নানা স্লোগান দিচ্ছেন। সেই সময় বিক্ষোভকারীরা তাকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে চিৎকার করছিলেন। এছাড়া ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়ার ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার সঙ্গে থাকা একজন সহযোগীর তাৎক্ষণিক সহায়তায় তিনি সেখান থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যান।
এই প্রসঙ্গ টেনে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং সেখানে বিমানবন্দর চত্বরে তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি যেভাবে রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, সেটির ক্ষোভ থেকেই তার ওপর এই ধরনের অনভিপ্রেত হামলা বা হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। ড. ইউনূস সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বা আদর্শিক যৌক্তিক সমালোচনা যে কেউ করতেই পারেন, কিন্তু এ ধরনের অপমানজনক হেনস্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো কোনো মন্ত্রীর ক্ষেত্রেও অতীতে এই ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, বিগত জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সংহতি প্রকাশ করা দেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীও একইভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তাছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা ব্যক্তিবর্গকেও মাঝেমধ্যেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের বিচ্ছিন্ন ও উগ্র কর্মকাণ্ডগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে সন্ত্রাস হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
উপদেষ্টা আরও স্পষ্ট করে বলেন, এর আগে ঘটে যাওয়া ওই অভিনেত্রীর হেনস্তার ঘটনায় ইতোমধ্যে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুযায়ী ড. ইউনূসের যে ভিভিআইপি মর্যাদা পাওয়ার কথা, মার্কিন ভূমিতে তার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কোথাও কোনো ঘাটতি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ব্যত্যয় ঘটেছিল কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখবে।
বিদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বা রাষ্ট্রীয় ব্যক্তির ওপর এ ধরনের হামলা বা অপমানের চেষ্টা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারণ করেন যে, বিদেশে অবস্থানরত বা পলায়নপর মহলের কেউ এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে তার বিরুদ্ধে সরকার সবসময় কঠোর ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত, অবাধ ও নিরপেক্ষ রাখতে সরকার কিংবা প্রশাসন কোনো অবস্থাতেই বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশের সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের একদম অবস্থান যেটি, সেটি হচ্ছে যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার এবং প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচন কমিশন মাঠপর্যায়ে যাদের দায়িত্ব অর্পণ করবে, আমাদের সেই সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনকে আমরা পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছি এবং প্রয়োজনে আবারও দেব, যাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা সমঅধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে যা যা করা দরকার তারা যেন ঠিক তাই করে। তিনি আরও যোগ করেন, এই নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনো কলঙ্ক এই সরকার কাঁধে নিতে রাজি নয়।
অতীতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিতর্কিত নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে একটি অনন্য রোল মডেলে রূপ দেওয়া সম্ভব কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, রোল মডেলের কথা আমি বলব না, আমরা বলব যে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য চেষ্টা করব। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, এ দেশে তো অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রে সেভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব যাতে সাধারণ মানুষ একটি উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে এবং আনন্দের আমেজে একটি নিরপেক্ষ ভোট উৎসব উপভোগ করতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জনে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি ইনশাআল্লাহ ব্যক্ত করেন।
চলমান অর্থবছরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে আরও একবার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এই সমস্ত নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের উদ্দেশ্যে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার একটি উল্লেখযোগ্য বাজেট বরাদ্দ করে রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারের এই সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে এবং আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি যে এর মধ্যে যদি তাদের নতুন কোনো তারিখ নির্ধারণ করার প্রয়োজন পড়ে, তবে তা চূড়ান্ত করে এই সমস্ত নির্বাচন যেন তারা আগামী জুনের মধ্যে অবশ্যই শেষ করে দেন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মে মাস পর্যন্ত গড়ালে বাকি নির্বাচনগুলো জুনের মধ্যে আয়োজন করা কি আদৌ সম্ভব হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান যে, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আপনাদের সুনির্দিষ্ট জবাব দেবে, কারণ আমরা তাদের বারবার অনুরোধ করেছি যেন বর্তমান এই অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা হয়। তিনি বলেন, আমরা প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রেখেছি। এখন উনারা নির্বাচন শেষ করতে না পারলে বাজেট আমাদের রয়ে যাবে, পরের অর্থবছরে চলে যাবে। এই সিদ্ধান্তটা উনাদেরই নিতে হবে। সরকারের মূল নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকারের পরিষ্কার অবস্থান হলো জুনের মধ্যে সমস্ত নির্বাচন যেন তারা শেষ করে দেয়, তা সে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ যেটাই হোক না কেন।
নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, এটি তো মূলত সচিব পর্যায়ের একটি নিয়মিত সভার মাধ্যমে হয়ে থাকে, যেখানে সরাসরি সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন কোনো রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে না; বরং নির্বাচন কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে একটি সভা করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের আমন্ত্রণ জানায় এবং সেখানে ক্যাবিনেট সচিবের নেতৃত্বে সচিবরা উপস্থিত থাকেন। সচিবদের সঙ্গে সেই বৈঠকের পরই তারা স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোর প্রাথমিক তারিখগুলো সম্ভবত নির্ধারণ করে থাকে এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলোর কর্মপরিকল্পনা কবে ও কীভাবে সম্পন্ন হবে তা ওই সচিব পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করা হয়।
নির্ধারিত জুনের মধ্যে সমস্ত নির্বাচন শেষ করা আদৌ সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি আপনাদের নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। কারণ নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনা করার মূল দায়িত্ব তো সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনেরই। এখন তারা কতটুকু সক্ষমতা দেখাতে পারবেন বা পারবেন না, তার জবাব তারাই প্রদান করবেন, কারণ নির্বাচন তো আর আমরা পরিচালনা করব না, নির্বাচন তো নির্বাচন কমিশনকেই করতে হবে। পরিশেষে তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে আবারও আপনাদের মাধ্যমে আজকে বলছি যে এই অর্থবছরের মধ্যে যাতে নির্বাচনগুলো তারা শেষ করে দেন, এ ব্যাপারে আপনাদের মাধ্যমে আমি নির্বাচন কমিশনকে আজকে আবারও বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করছি।
দেশের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার ও কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার স্বার্থে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে সম্মানিত সংসদ সদস্যরা তাদের নিজস্ব গাড়িতে যাতায়াতের সময় কেবল নিজ চালক এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কোনো অতিরিক্ত ব্যক্তিকে ভেতরের চত্বরে প্রবেশের সুযোগ দিতে পারবেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে, এমপিদের ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াতের সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বাইরে অন্য কাউকে সঙ্গে রাখা যাবে না এবং প্রবেশকালে তাদের সঠিক পরিচয় ও বৈধ অনুমোদন কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে দেখা গেছে অনেক সংসদ সদস্য তাদের ব্যক্তিগত গাড়িতে একবারে চার থেকে পাঁচজন বা তারও বেশি অতিরিক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করতেন। গাড়িতে থাকা এই অতিরিক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তারা যথাযথ অনুমোদিত কি না, তা সবসময় যাচাই করা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াত। বিশেষ করে অতীতে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যদের গাড়িতে থাকা বাড়তি লোকজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকারী সদস্যরা অনেক সময় যথাযথ কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারতেন না বলে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে।
সচিবালয় চত্বরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এটি একটি অতি সংবেদনশীল প্রশাসনিক জোন। যথাযথ যাচাই-বাছাই বা পূর্বানুমতি ছাড়া যেকোনো অতিরিক্ত ব্যক্তির অবাধ প্রবেশ সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে। সেই সার্বিক দিক বিবেচনা করেই প্রবেশাধিকার সীমিত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনা পুরোপুরি কার্যকর হলে তা সচিবালয়ের প্রবেশদ্বারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এটি একটি প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।’
তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকায়ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সমঝোতা রয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের গৃহীত নীতির সঙ্গেও সংস্থাটি একমত।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব বিষয় বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর আগামী দিনের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত।’
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশও নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে।
মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চায় না। সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এসব পূর্বাভাস দিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার বাজেটে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। বাজেটে দেওয়া প্রক্ষেপণগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলেও সরকার আশা করছে। সূত্র: বাসস
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা ও ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্ততি গ্রহণ এবং যথাযথ নগর পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানব সৃষ্ট দুর্যোগও আছে। কিন্তু এটা নিয়ে আমরা খুব কম চিন্তা করি। ঢাকা শহরের দিকে তাকিয়ে আজ যে আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি হয় তা হলো ভূমিকম্প হলে শহরটি একেবারে মিশে যাবে। আমরা দেখেছি বিশ্বের বিভিন্ন শহরে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রাণহানির সংখ্যা অনেক বেশি হয়। তাই এই বিষয়গুলোতে আমাদের অনেক বেশি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ করে বাড়িঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে নগর ব্যবস্থাপনা, নদীর প্রবাহকে ঠিক রাখা এবং নদীকে দূষণমুক্ত রাখার বিষয়গুলোতে অত্যধিক জোর দেওয়া দরকার।
রাষ্ট্রপতি আজ সকালে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম। সূত্র: বাসস
শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় দশ হাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসন্ন আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এই বিশেষ দায়িত্ব পালন করবেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। বিজিবি সদর দপ্তরের অপারেশন ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান যে, এই ধর্মীয় উৎসবটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কৌশলের আওতায় নিয়মিত যাতায়াত বা টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা হবে।
যেকোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও সাম্প্রদায়িক প্ররোচনার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান আরও জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখার আট কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টারের কাছাকাছি এলাকার মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে সরাসরি নিরাপত্তা সহায়তা দেবে বিজিবি। এর পাশাপাশি তুলনামূলক দূরবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলে দ্রুত গতিতে টহল এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে পর্যাপ্তসংখ্যক অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন ও তাদের কার্যক্রমের পরিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তা নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন সাপেক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে টহল দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা এবং যেকোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সদা প্রস্তুত থাকবে বিজিবি।
তিনি আরও যোগ করেন যে, দুর্গাপূজা হলো আমাদের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকরা যাতে কোনো ধরনের ভীতি ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা বদ্ধপরিকর থাকবে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়নে বর্তমান প্রশাসনের নেওয়া নীতিগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক সম্পূর্ণ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত নাজুক ও সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিল। বিগত আমলের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার আর্থিক দায়ভার বর্তমান প্রশাসনকে বহন করতে হচ্ছে, যার সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে সঠিক ট্র্যাকে ফেরাতে যেসব কার্যকর সংস্কারমূলক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে, বিশ্বব্যাংক তা গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের পাশে থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদানে বিশ্বব্যাংক অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পর আগামী দিনের অগ্রগতির জন্য যে সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও পথনকশা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার সঙ্গে সংস্থাটির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। সম্মিলিতভাবে এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে দুই পক্ষই একসঙ্গে কাজ করবে।
বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাওয়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা পাকা সিদ্ধান্ত হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক আলোচনা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা চূড়ান্ত হতে আগামী আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
মূল্যস্ফীতি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক সংস্থার প্রাক্কলন সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাসকে খাটো বা বিতর্কিত করতে চায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব গবেষণালব্ধ পদ্ধতি ও হিসাবের ভিত্তিতে এই প্রাক্কলন করে থাকে। সরকার নিজের মতো করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সময়ের ব্যবধানে অর্থনৈতিক সূচকগুলোর প্রকৃত চিত্র সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি ট্যাক্সি ও ট্রাক ড্রাইভারসহ দক্ষ শ্রমিকদের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এক ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্বের গভীর বন্ধন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষ করে দুই দেশের এই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ভিত্তি যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে সুসংহত হয়েছিল, তা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
বৈঠকে সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকের ধারাবাহিক আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
এ সময় দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার আরও প্রসারিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিশেষ করে আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ট্যাক্সি ড্রাইভার ও ট্রাক ড্রাইভারের পেশায় কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং অধিক সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বের সাথে কথা বলেন উভয় প্রতিনিধি।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশে ইউএই’র বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদার এবং কৌশলগত অবকাঠামো ও শিল্প খাতে নতুন অংশীদারিত্ব সৃষ্টির সুযোগ নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। সূত্র: বাসস
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্তব্য করেছেন যে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য সরকার প্রণোদনা দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে তা সঠিক উপায়ে বণ্টন হয় না।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শরৎ উৎসব ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সেবা ও সহায়তা জনগণের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে শুধু রাজনৈতিক সংস্কারেই মুক্তি নেই, বরং এর পাশাপাশি আমলাতন্ত্র, সিভিল প্রশাসন এবং প্রকৌশল বিভাগের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কাঠামোগত পরিবর্তন আনা জরুরি।
নবগঠিত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে সুগম করতে দেশের রাজনৈতিক শক্তি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সাধারণ নাগরিকদের একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি যোগ করেন যে দেশ গঠনের এই মহৎ যাত্রায় কেবল সরকারদলীয় নয়, বরং বিরোধী দলগুলোকেও অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রবাসীরা বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়ে দেশে সম্পত্তি ক্রয় বা পরিবারের কাছে পাঠানো টাকা ফেরত চাওয়া সংক্রান্ত মামলায় বছরের পর বছর হয়রানির শিকার হন। এই ভোগান্তি কমাতে বিভাগীয় সদর দপ্তরে প্রবাসীদের জন্য বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই আদালত শুধু প্রবাসীদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কাজ করবে। বর্তমানে প্রস্তাবটি খসড়া পর্যায়ে রয়েছে।
আজ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সোপান হলো অভিবাসী শ্রমিকরা। তৈরি পোশাক, কৃষি, চিংড়ি, পাট ও চা রপ্তানির পাশাপাশি শ্রম রপ্তানিই বর্তমানে অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ড। কায়িক শ্রমের পাশাপাশি এখন বুদ্ধিবৃত্তিক অভিবাসনও বিকশিত হচ্ছে। প্রবাসী শ্রমিকরা দেশে কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আইনি সহায়তা পাবেন। এ জন্য একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। সেখানে যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ লিগ্যাল এইড অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি দুবাই সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, সেখানকার শ্রমিকদের জীবন অত্যন্ত কষ্টের। সকালে বাথরুমে যেতে দীর্ঘ লাইন, কাজের জন্য দুই ঘণ্টা আগে রওনা হওয়া, রাত ৮-৯টায় ফিরে আবার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে রান্না করা— এই অমানবিক পরিশ্রমের পরও অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা অনেক কম মজুরি পান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রবাসীদের অন্যতম সংকট হিসেবে অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়ী করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইতোমধ্যে ৫ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে, আরও অনেক ভিসা বাতিলের অপেক্ষায় রয়েছে।
এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অনেক এজেন্সি এমন ভুয়া সার্টিফিকেট ও নথি জমা দিচ্ছে, যার কোনো অস্তিত্বই নেই। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে সহজেই সত্যতা যাচাই করা যায় বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।
রামরুর ৩০ বছরের পথচলার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, রামরু এবং রামরু টিম শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে এখন পর্যন্ত সম্পৃক্ত হয়নি। রামরুর বিরুদ্ধে শ্রমিকদের নামে টাকা এনে তহবিল তছরুপের কোনো অভিযোগ ওঠেনি। রামরুর চিন্তার স্বচ্ছতার মধ্যে আমরা কোনো দূষণ দেখিনি। রামরুকে কখনো লেজুড়বৃত্তি করতে দেখিনি।’
অনুষ্ঠানে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ৩০ বছরের পথচলা আগামী ১০০ বছরে রূপান্তরিত হবে এবং এমন এক বাংলাদেশ তৈরি হবে যেখানে শ্রমিকরা দেশে ফিরে এসে কাজ করবেন এবং বাংলাদেশ অন্য দেশ থেকে শ্রমিক নেবে। সূত্র: বাসস