কয়লার দহন মান বা ক্যালরিফিক মান ৪৬০০ হলে বিশ্ববাজারে প্রতি টনের দাম ১৫০ ডলার। জাহাজ ভাড়া ৫০ ডলার যোগ হলে প্রতি টনের দাম বড়জোর ২০০ ডলার হওয়ার কথা। কিন্তু এই মানের কয়লা আদানি গ্রুপ ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কিনছে ৩৪৭ ডলারে। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়ছে ২৪ টাকা ২৮ পয়সা।
অথচ বাংলাদেশের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫০৪০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে খরচ পড়ছে ২৪৭ ডলার এবং কেন্দ্রটির ইউনিটপ্রতি ব্যয় পড়ছে ১৩ টাকার কিছু বেশি।
পায়রা ও গোড্ডার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে এই খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ২৫ বছর আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ কিনতে গিয়ে বড় অর্থঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
শুধু আদানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের দামই বেশি পড়বে, এমন নয়। আমদানি করা কয়লাচালিত পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও অনেক বেশি। এর মধ্যে আদানি ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ বা কেন্দ্র ভাড়াও দেয়া হয়েছে বেশি। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেয়া হয়েছে ৪.২৫ ইউএস সেন্ট যা বর্তমান দেশি মুদ্রায় ৪.৫৪৫৪ টাকা, আর রামপালকে দেয়া হয়েছে ৪.৮৫ ইউএস সেন্ট বা দেশি মুদ্রায় ৫.১৮৭০ টাকা। আদানি ভারতের বৃহৎ গ্রুপ আর রামপালে ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান এনটিপিসির মালিকানা রয়েছে।
পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞদের বিরোধিতার মুখে বাগেরহাটের সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশের জন্য কিছুটা ক্ষতিকর হলেও এটি কম মূল্যে বিদ্যুৎ দেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় অনেক চড়া।
এমনকি সৌরবিদ্যুৎ থেকেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। তা ছাড়া রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৩২০ মেগাওয়াটের মধ্যে ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চালু হয় গত ডিসেম্বরে। কিন্তু ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারছে না কারিগরি ত্রুটির কারণে। আদৌ কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চলবে কি না, তা নিয়ে এখনই প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, পরিবেশের ওপর ঝুঁকি বাড়িয়ে অর্থনীতিতে নাজুক অবস্থায় ফেলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে কতটা লাভবান হবে বাংলাদেশ।
এ রকম পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা আদানি গ্রুপের কর্তাব্যক্তির সঙ্গে কয়লার দাম কমানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। এ ছাড়া রামপাল কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ নতুন করে কীভাবে নির্ধারণ করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কয়লার দাম কেন বেশি পড়ছে সেটি আমরা আলোচনা করেছি। আনুষ্ঠানিকভাবে ওদের কাছে জানতে চাইব।’ তিনি বলেন, ‘ওরা নিউ ক্যাসেল ইনডেক্সে কয়লা কিনছে। নিউ ক্যাসেল ইনডেক্সে কয়লার দাম একটু বেশি। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এই ইনডেক্স করা হয়েছে কয়লার বাজারে চীন যেন ঢুকতে না পারে।’
২০১৬ সালে আদানি গ্রুপের সঙ্গে পিডিবির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুসারে আদানি ভারতের ঝাড়খন্ডে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে, সেখানকার বিদ্যুৎ আসবে বাংলাদেশে। তখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছিল ৮.২৫ ইউএস সেন্ট। এই বিদ্যুৎ আগামী ২৫ বছর কিনবে বাংলাদেশ। ৭৫০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটে মোট ১৫০০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতা হবে কেন্দ্রটির।
কয়লায় কি আদানির কারসাজি?
দেশের যেকোনো বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানির যে আন্তর্জাতিক দাম সেই অর্থ পরিশোধ করে থাকে পিডিবি। বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করার সময় জ্বালানির দাম, কেন্দ্রভাড়া, কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণের অর্থ-সব মিলিয়ে বিল করা হয়। জ্বালানির দাম ছাড়া অন্য অর্থ নির্দিষ্ট থাকে, এটি বাড়ে না। ফলে কোনো বেসরকারি কেন্দ্র যদি জ্বালানির দাম বাড়তি দেখাতে পারে তাহলে ওই কেন্দ্রের বিদ্যুতের দামও বেড়ে যায়।
ভারতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা কমদামে কয়লা কিনে বেশি দাম (ওভার ইনভয়েসিং) দেখায়। বিষয়টি নিয়ে ভারতের শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ (ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্ট বা ডিআরআই) ২০১৬-এর জুলাইয়ে ভারত সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে বলা হয়, কয়লা আমদানিকারকরা আমদানির ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ বেশি দাম দেখিয়েছে। এ অর্থ তারা পাচার করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ তালিকায় আদানি ও রিলায়েন্সের নাম রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের দুজন কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, ‘আদানি ৪৬০০ ক্যালরিফিক মানের কয়লার দাম দেখাচ্ছে ৩৪৬ ডলার প্রতি টন। অথচ পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র ৫০৪০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছানোর পর খরচ পড়ছে ২৪৭ ডলার। পায়রা কয়লা কেনে অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসেল ইনডেক্স অনুযায়ী, আদানিও কয়লার দাম দেখাচ্ছে নিউ ক্যাসেল ইনডেক্স অনুযায়ী। অথচ টনপ্রতি ১৫০ ডলারের বেশি দাম দেখাচ্ছে আদানি।’
তারা বলেন, ‘সম্প্রতি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও পিডিবির চেয়ারম্যান ভারতে গিয়ে আদানির কর্তাব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কয়লার দাম বেশি পড়ছে সেটি তারা বলে এসেছেন। এখন কীভাবে কয়লার দাম কমানো যায়, সেটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে।’
কয়লা বিদ্যুতের দাম কম পড়ছে না
আদানি গ্রুপের বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে পড়বে ২৪ টাকা ২৮ পয়সা। এর মধ্যে কেন্দ্রভাড়া ধরা হয়েছে ৪.২৫ ইউএস সেন্ট যা বর্তমান দেশি মুদ্রায় ৪.৫৪৫৪ টাকা। বছরে কেন্দ্রটির ১৫০০ মেগাওয়াটের স্থাপিত ক্ষমতা বাবদ কেন্দ্রভাড়া দিতে হবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয়েছে ৪.৮৫ ইউএস সেন্ট বা দেশি মুদ্রায় ৫.১৮৭০ টাকা। দেশে সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রভাড়া পেয়েছে রামপাল। কেন্দ্রটি বছরে শুধু কেন্দ্রভাড়াই পাবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে এস আলম গ্রুপের ১২২৪ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয়েছে প্রতি ইউনিটে ৪.৪১ ইউএস সেন্টস বা ৪.৭১ টাকা। কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত করা হবে ৪৬০০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা, যার প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ২৫৪.৩৮ ডলার। কেন্দ্রটি বছরে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জই পাবে ৫ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। কেন্দ্রটির প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ১৮.৩৯ টাকা।
বরগুনায় অবস্থিত বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার লিমিটেডের ৩০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ৪৬০০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা। এই মানের কয়লার দাম উদ্যোক্তারা দেখিয়েছেন ২৭০ ডলার। কেন্দ্রটিকে ক্যাপাসিটি চার্জ ইউনিটপ্রতি দেয়া হয়েছে ৩.৩৯ ইউএস সেন্টস আর দেশি মুদ্রায় ৩.৯৪ পয়সা। বছরে কেন্দ্রটি ক্যাপাসিটি চার্জ পাবে ১ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম পড়ছে ১৮.৮৪ টাকা।
পটুয়াখালীর পায়রায় চীনা সরকারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি ও সরকারের নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশনের সমান মালিকানায় পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয় ইউনিটপ্রতি ২.৬৫ ইউএস সেন্টস বা দেশি মুদ্রায় ২.৮৩ টাকা। ১২৪৪ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি সারা বছরে কেন্দ্রভাড়া পাবে ৩ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এই কেন্দ্রটির বর্তমানে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি ব্যয় হচ্ছে ১৩.৩৭ টাকা। কেন্দ্রটিতে ৫০৪০ ক্যালরিফিক মানের কয়লার দাম পড়ছে ২৪৫ ডলার।
এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের গড় উৎপাদন ব্যয় ১৩.৩৭ থেকে ২৪.২৮ টাকা পড়ছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সরকার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে গড়ে ১১ ইউএস সেন্টসে বা ১১.৭৬ টাকা প্রতি ইউনিটের বিদ্যুতের দাম দিয়ে অনুমতি দিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানির প্রয়োজন পড়ে না, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে বিদেশি মুদ্রার রির্জাভের ওপর টান পড়ে না। অন্যদিকে কয়লা, গ্যাস ও তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি আমদানি করতে হয় ডলার দিয়ে। এতে বৈদেশিক রিজার্ভের ওপর বড় টান পড়ছে।
রামপাল কি পূর্ণ সক্ষমতায় চলবে?
গত ডিসেম্বর থেকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩২০ মেগাওয়াটের ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এই কেন্দ্রটির স্থাপিত ক্ষমতা ধরা হয়েছে ৬১৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে কেন্দ্রটি একাধিকবার যান্ত্রিক কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।
নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে পিডিবির এক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, ‘কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর কখনোই ৬১৭ মেগাওয়াট ক্ষমতায় চালু করতে পারেনি। কেন্দ্রটি ৫৪০ মেগাওয়াটের ওপর উৎপাদন করতে গেলেই বয়লারের মধ্যে থাকা টিউব ফেটে যায়। এই কেন্দ্রটির উৎপাদনে থাকা প্রথম ইউনিটটি তার পূর্ণসক্ষমতা বা কেন্দ্রভাড়া পাবে যে স্থাপিত ক্ষমতার ভিত্তিতে, সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে না। রামপালের ক্যাপাসিটি ৬১৭ মেগাওয়াট ধরা হয়েছে, আর উৎপাদন করতে পারে সর্বোচ্চ ৫৪০। কেন্দ্রটি ঘোষিত স্থাপিত ক্ষমতার অন্তত ৭০ মেগাওয়াট কম করে থাকে। এই ৭০ মেগাওয়াট ক্যাপাসিটি চার্জ তৃতীয় পক্ষ দিয়ে নিরীক্ষা না হলে রামপাল বছরে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা বেশি নেবে।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ এখন কেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ নতুন করে নির্ধারণ করতে চায়। বিদ্যুৎ বিভাগ বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে কেন্দ্রটির স্থাপিত ক্ষমতা নিরীক্ষা করবে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অধ্যাপক এম শামসুল আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিদেশ থেকে আমদানি করে আনা কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো আমাদের ডলারের মজুতের ওপর টান বসিয়েছে, আগামীতে আরও বসাবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভে বড় সংকট তৈরি করবে। আর কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ, কয়লার দাম অনেক বেশি। আদানির কেন্দ্রতো রীতিমতো ভয়াবহ। এ রকম পরিস্থিতিতে এসব কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ ও জ্বালানির দামের বিষয়ে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তৃতীয় পক্ষকে যুক্ত করে বোঝা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘কয়লা সস্তা বলে সরকার ব্যাপক আকারে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করল। এখন দেখা যাচ্ছে কয়লার চেয়ে সৌরবিদ্যুতের দাম কম। আমাদের কম দামে দেশীয় জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ বড় সহায় হতে পারে।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘দেশে একটি কার্যকর ও স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় সরকার নিজের পক্ষ থেকে কোনো একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে না। এ পর্যন্ত অর্জিত সব ধরনের আলোচনা, প্রস্তাবনা এবং ডকুমেন্টকে ধারণ করেই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে।’
বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’-এর সহায়তায় এবং ‘বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন’ আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সেমিনারে ‘পিআইএমএইচই’ প্রকল্পের আওতায় ‘নীতি সংস্কার থেকে সংবাদকক্ষের কর্মপদ্ধতি পর্যন্ত শিক্ষা ও আদান-প্রদান’ শীর্ষক মূল বিষয়ের ওপর বিস্তারিত প্যানেল আলোচনা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি সরকার প্রধানের সঙ্গেও সংবাদপত্রের মালিক সমিতি এবং সম্পাদক পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গণমাধ্যম কমিশন ও তথ্য কমিশনসংক্রান্ত এ পর্যন্ত যত কাজ করা হয়েছে, সেগুলোকেই আমরা প্রথমে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছি। সেটাকে হাতে নিয়েই একটা পরামর্শ কমিটি গঠন করা হবে। এই পরামর্শ কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন, গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে আবারও আলোচনা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম কমিশন গঠনের এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় পূর্বের কোনো ভালো উদ্যোগ বা নথিপত্রকে বাদ দেওয়া হবে না, বরং সবটুকুই ভবিষ্যৎ কাজের মূল ভিত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিশ্বজুড়েই গণমাধ্যম কমিশন গঠনের চমৎকার সব দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে রয়েছে। আধুনিক সভ্যতায় গণমাধ্যম হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের অন্যান্য স্তম্ভগুলোকে জনগণের পক্ষ থেকে একটি গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতেই এই স্তম্ভের নৈতিক উপস্থিতিকে সবাই মেনে নিয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম জগতটা কেবল সরকারের একার নয়, এটি এই জগতের সবারই একটি সম্মিলিত বিষয়। সে ক্ষেত্রে সরকার একদিকে যেমন অন্য সবার মতো সমান সমান অংশীদার, অন্যদিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই কাজটা সম্পন্ন করার জন্য একটি ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করবে মাত্র। আমাদের মূল লক্ষ্য জনগণের জন্য তথ্যের একটি সুস্থ ও অবাধ প্রবাহ উপস্থাপন করা।’
সেমিনারে উপস্থিত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা পৃথিবীতেই এই ধরনের কমিশন গঠনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে। আমাদের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও দেশীয় সহযোগী সংগঠনগুলো এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সরকারের ‘‘সহযাত্রী’’ হিসেবে কাজ করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) চেয়ারম্যান ও যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ।
ভারত-বাংলাদেশ ৯০তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শুরু হচ্ছে কলকাতায়। বৃহস্পতিবার (২১ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে তিন দিনের এ বৈঠক শুরু হবে। চলবে আগামী শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত। আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে যোগ দেবেন ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের জয়েন্ট রিভার কমিশনের সদস্য মহম্মদ আনোয়ার কবির। এ ছাড়া আছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের ডিরেক্টর মহম্মদ বাকি বিল্লাহ।
ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা কেন্দ্রের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তররের একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ারের।
যৌথ নদী কমিশনের এবারের বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ ইস্যু। ১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার জল বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। তার আগে এটাই সর্বশেষ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক।
বৈঠকে যোগ দিতে বুধবার (২০ মে) বিকেলেই কলকাতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বৈঠকের শুরুতেই তারা যাবেন মুর্শিদাবাদে। সেখানে বৈঠকের ফাঁকেই ফারাক্কায় নেমে গঙ্গা নদীর পানি পরিমাপ করবেন তারা। পরের দিন শুক্রবার (২২ মে) তারা ফিরে আসবেন কলকাতায়। কলকাতায় শুক্র ও শনিবার একটি অভিজাত হোটেলে হবে বৈঠক।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেছেন, ‘আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে গ্যাস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে সরকার চারটি নতুন কূপ খননের কাজ শুরু করেছে। এই চার কূপের গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।’
বুধবার দুপুরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার কামতা গ্যাস ফিল্ডে মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম এসব কথা বলেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন করে চারটি কূপের গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব। এটি শুরু করতে পারলে যেসব কারখানা গ্যাসের অভাবে উৎপাদনের জন্য বসে আছে, বসে থাকা কারখানাগুলোকে আমরা গ্যাস সরবরাহ করতে পারব, যার মাধ্যমে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অপর দিকে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর যে চাপ তৈরি হচ্ছে, সে চাপটাও কমে আসবে। এই প্রকল্প উদ্বোধনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশের জনগণকে এই বার্তা দিতে চায়, আমরা আস্তে আস্তে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে এনে স্বাবলম্বী হব। মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।’
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘সরকার যদি অতিরিক্ত গ্যাস আমদানি করতে চায়, সে ক্ষেত্রে অসুবিধা আছে। যে অবকাঠামো আছে, সেটি ধারণক্ষমতার চেয়ে কম আছে।’
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বা জ্বালানির দাম বাড়বে কী কমবে, সেটি বলার অবস্থায় আমরা নেই। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।’
আবাসিকে গ্যাস-সংযোগ দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিতে এবং পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। অগ্রাধিকার তালিকায় আমাদের পাওয়ার প্ল্যান্ট, শিল্প, এরপর আসবে হাউসের কাস্টমার।’
প্রসঙ্গত, কামতা গ্যাসক্ষেত্রটি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। ১৯৮৪ সালে কামতা-১ কূপে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়ে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত মোট ২১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। ক্ষেত্রটির মোট উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুত প্রায় ৬৬ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য মজুতের পরিমাণ প্রায় ৪৪ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ঘনফুট বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত বহিরাগতকে ধরিয়ে দিতে বা তার সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, সঠিক তথ্যদাতাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। যদি কেউ সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিনে থাকেন অথবা তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তবে তাদের দ্রুত ০১৭১৪০১২৩১৫ অথবা ০১৭২৭২৬৫৯৩৫ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের পাশের রাস্তায় এক নারী শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করে এক বহিরাগত যুবক। এ সময় চিৎকার শোনে কয়েকজন পথচারী শিক্ষার্থী উপস্থিত হলে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বহিরাগত। এ ঘটনায় পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে একজনকে আসামি করে মামলা করা হয়।
ঘটনার ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সদর দপ্তরের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় গত মঙ্গলবার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘বাংলাভিশন’-এর সংবাদকর্মী মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে বোর্ডের নিরাপত্তাকর্মীদের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরইবি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করাসহ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্ণিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাধ এলাকায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার মুখে পড়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে কালসী স্টিল ব্রিজ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল বাতেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন।
মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাতীয় গৃহায়নের দখল করা জায়গা উচ্ছেদ করতে গেলে একপর্যায়ে স্থানীয়রা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
তিনি বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়রা অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। আহতদের চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
দুপুরের বিরতির পর আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, পল্লবী থানা সেকশন-১১ বাউনিয়াবাধ এলাকায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বস্তিবাসীদের জন্য নির্মিত ৫৩৩ ফ্ল্যাট প্রকল্পের পশ্চিম পাশে অধিগ্রহণ করা সরকারি জমি এবং পুনর্বাসন জোনের তিন রাস্তার ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ চলছিল। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও উৎসুক জনতা উচ্ছেদে বাধা দেয়। পরে তারা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রাণ বাঁচাতে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের দৌড়ে সরে যেতে দেখা যায়।
সূত্রটি আরও জানায়, হামলায় প্রাথমিকভাবে পাঁচজন পুরুষ ও দুইজন নারী পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বস্তিঘর, গ্যারেজ, ভাঙারির দোকান, মাদক স্পট ও রাজনৈতিক ক্লাব গড়ে তুলে প্রায় ৫০ বিঘা সরকারি জমি দখল করে রাখা হয়েছিল।
এবার রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকার একটি মাদ্রাসার বাথরুম থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার পায়ুপথে জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে রামপুরা থানা পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বনশ্রী সি ব্লকের তিন নম্বর রোডে আলোকিত কোরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় আব্দুল্লাহর মরদেহ। এরপর ময়নাতদন্তের জন্যও মরদেহটি বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ।
রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুমে গামছা পেচানো ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে কোথাও কোনো জখমের চিহ্ন না থাকলেও পায়ুপথে অস্বাভাবিক। তাকে বলাৎকার করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ২৩ দিন পর রাজধানীর কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল হাসান সরকারকে (৩২) সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বুধবার সকালে তাকে খুঁজে পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন কলাবাগান থানার ওসি ফজলে আশিক।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভোরে গুলিস্তানের কাছে সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে তার অবস্থান জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করি।’
রাকিবুল হাসান গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাপতা গ্রামের মাইজ উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি থানা পুলিশের জন্য নির্ধারিত ব্যারাকে থাকতেন। রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালনের কথা বলে গত ২৯ এপ্রিল রাকিবুল হাসান ব্যারাক থেকে বের হন।
পরদিন ওসি ফজলে আশিক বলেছিলেন, ‘মঙ্গলবার এসআই রাকিবের রাত্রিকালীন ডিউটি ছিল। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একবার সাদা পোশাকে ব্যারাক থেকে বের হন। চা খেয়ে আবার ব্যারাকে ঢোকেন। নাইট ডিউটি আছে বলে রাত পৌনে ৮টার দিকে আবার সাদা পোশাকে ব্যারাক থেকে বের হন।
তারপর থেকে তার খোঁজ নেই। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় জিডি করা হয়েছে এবং সারা দেশের সব থানায় আমরা বার্তা দিয়েছি।’
পরিবারের সদস্যরাও এসআই রাকিবের কোনো খোঁজ জানেন না বলে তথ্য দিয়েছিলেন ওসি ফজলে আশিক।
বুধবার রাকিবকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, ‘সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে থাকা লোকজন থানায় খবর দেন। তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
ওসি ফজলে আশিক বলেন, ‘দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার সময় খাওয়া-দাওয়া অনিয়মিত হওয়ায় এবং শরীর দুর্বল হওয়ায় গোপনে সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন রাকিবুল।’
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এসআই রাকিব ঢাকায় ছিলেন এবং বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করেছেন বলে জানা গেছে। ওসি বলেন, ‘রাকিব কেন এমন করেছেন, সে ব্যাপারে তাকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তারপর বিস্তারিত জানা যাবে।’
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রজ্ঞাপনটি পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাইয়ের পরবর্তী ৮ ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করা হবে। কোরবানির পশুর হাট শেষ হওয়ার রাত থেকেই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
বুধবার রাজধানীর পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডস্থ সবজি বাগান সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস) সৌন্দর্যবর্ধন ও ল্যান্ডস্ক্যাপিং কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, ‘ইজারাদারদের এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএসসিসির নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি রয়েছে।’
প্রশাসক জানান, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি পশুর হাট বসানোর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতা ও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাটে একটি করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। গবাদিপশু ও মানুষের জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য মেডিকেল টিম ও ডাক্তার নিয়োজিত থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের বিশেষ টহল দায়িত্ব পালন করবে।
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএসসিসি এখন থেকেই প্রস্তুতি জানিয়ে প্রশাসক বলেন, ‘প্রতিটি এলাকায় জরিপ চালানো হচ্ছে এবং যেখানে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, সেখানে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ কার্যক্রম চলছে।’ নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যার যার বাড়ি, আঙিনা ও ড্রেন পরিষ্কার রাখুন। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।’
এসটিএস আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একসময় দুর্গন্ধের কারণে যেসব জায়গায় কেউ এসটিএস নির্মাণ করতে দিতে চাইত না, আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখন আমরা সেখানে দুর্গন্ধ দূর করে সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে তিনটি এসটিএস-কে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো এসটিএস-কে এভাবে রূপান্তর করে নগরবাসীকে একটি নান্দনিক পরিবেশ উপহার দেওয়া হবে।’
আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ ও যানজট মুক্ত রাখা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। একা সিটি করপোরেশন বা প্রশাসকের পক্ষে এটি সম্ভব নয়। জনগণ পাশে থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করলে আনসার বাহিনীর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও দক্ষ এবং গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। আজ বুধবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
সকাল ১০টায় আনসার-ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং পরে আকর্ষণীয় ব্যুত্থান মহড়া উপভোগ করেন। প্রদর্শনীর শেষে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের কাছে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে করমর্দন করেন।
সমাবেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ আনসার বাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তি ও দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তারা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বাহিনীর ১৩ হাজারেরও বেশি ফ্রিল্যান্সিং ও ফিল্ড ভিডিপি সদস্য বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সক্রিয় কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি নগর এলাকায় টিডিভি সদস্যরা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়োজিত রয়েছেন। বাহিনীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন যে, সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে এ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই বাহিনীর অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রাম থেকে শহর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকা পর্যন্ত আনসার সদস্যরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছেন। সম্প্রতি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলেও শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বাহিনীর সদস্যরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জাতীয় ক্রান্তিকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে এই বাহিনী আজ একটি অনন্য শৃঙ্খল বাহিনীর মর্যাদা অর্জন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি জেলায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের মুখ থেকে সরাসরি তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনেন। বর্ণাঢ্য এই সমাবেশে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ এবং বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্বদেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার সিলেটে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে সফরকারী পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের ধবলধোলাই করার অনন্য নজির গড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর আগে মিরপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল স্বাগতিক দল।
এই দুর্দান্ত জয়ের মধ্য দিয়ে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বড় ধরণের উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। ভারতকে টপকে এখন তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে টাইগাররা। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্জিত পয়েন্টের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ, যেখানে ভারতের পয়েন্ট ৪৮.১৫ শতাংশ। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক সাফল্য আগামীতে আরও সমৃদ্ধ হবে এবং এই ঐতিহাসিক বিজয় দেশের তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়াক্ষেত্রে অধিকতর উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দলের শৃঙ্খলা, একতা ও অদম্য আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, জয়ের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশ দল আগামীতে বিশ্বমঞ্চে আরও সুউচ্চ শিখরে পৌঁছাবে। সফল এই সফরের জন্য তিনি খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে বিশেষ ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। সেবা দেওয়া জনগণের প্রতি করুণা নয়, সরকারের দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশের টেকসই উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।’ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আজ থেকে হয়তো ১০০ বছর আগে, যে জমির মালিক ছিলেন মাত্র একজন, সময়ের পরিক্রমায় বর্তমানে সেই জমির মালিক হয়তো ১০০ কিংবা তারও বেশি। এভাবে ভূমির মালিকানা-শরিকানা যেমন বেড়েছে, স্বাভাবিকভাবেই জমির মালিকানা-সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়াকে রেকর্ডে রাখার জন্য ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্বও তেমন বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা, সিএস, আরএস বা ডিএস এই শব্দগুলোর সঙ্গে জমির মালিকমাত্রই কমবেশি পরিচিত। ফলে এসব বিষয়ে নিজেদের মালিকানা হালনাগাদ রাখতে মানুষকে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আসতে হতো। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে সাথে ভূমি ব্যবস্থাপনাও আধুনিক হয়েছে।
ভূমি-জমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও তত বেশি সহজ হয়ে যায়—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত করায় জমি-সংক্রান্ত দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে। একইসঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভূমি অফিসগুলোতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও কমবে। চলমান এই ভূমি মেলা আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনগণের নিজেদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে আরো সচেতন করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণও কমে আসছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা এবং জটিলতাও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পরিবারের শান্তি নষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে সময়ের অপরিহার্য দাবি।
উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত করতে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি প্রশাসনের প্রায় সকল সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে নাগরিকদের জন্য সেবা গ্রহণকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে ভূমিসেবা গ্রহণের জন্য মানুষকে আর অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।
দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে জনগণকে সহায়তার লক্ষ্যে সারাদেশে ভূমিসেবা মেলা আয়োজন এবং জমি ব্যবস্থাপনাকে আরো সহজ এবং আধুনিকায়ন করার ব্যাপারে আমরা জাতীয় নির্বাচনের কয়েক বছর আগে প্রণীত ৩১ দফা এবং সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারেও উল্লেখ করেছিলাম।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়েই নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চায়। কারণ, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের জনগণ বর্তমানে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায়। এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের আদালতগুলোতে দেওয়ানি এবং ফৌজদারি সব মিলিয়ে ৪৭ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন। এরমধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাই বেশি। সুতরাং, এ মুহূর্তে সরকারের সামনে প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আদালতে বিচারাধীন মামলার দ্রুততম নিষ্পত্তি। তবে প্রচলিত আদালতের বাইরেও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত কিংবা এডিআর (বিকল্প বিবাদ নিরসনের ব্যবস্থা) অর্থাৎ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মতো আইনানুগ মাধ্যম অবলম্বনের দিকে আরো জোর দেয়া জরুরি। এতে একদিকে বিরোধ নিষ্পত্তিতে যেমন অল্প সময় লাগবে অপরদিকে অনেকক্ষেত্রেই বিরোধ হয়তো শত্রুতায় রূপ নেবে না।
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ উক্তির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, ‘শক্তি দিয়ে শান্তি রক্ষা করা যায় না, বোঝাপড়ার মাধ্যমেই এটি অর্জন করা সম্ভব’।
বিশেষ করে জমিজমা সংক্রান্ত মামলা বা দেওয়ানি মামলাগুলো পর্যায়ক্রমে সমঝোতা বা মধ্যস্থতা, সালিশের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির পথ কার্যকর করা গেলে একদিকে আদালতে বিচারাধীন মামলার জট কমবে, অপরদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করাও সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি বা ভূমি শুধু একটুকরো সম্পদই নয় বরং মানুষের জীবনে এটি এক ধরনের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্থিতি, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি। এই উপলব্ধি থেকেই ভূমি ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের সকল জেলা উপজেলায় আজ থেকে শুরু হওয়া ভূমি মেলার মাধ্যমে জনগণ নিঃসন্দেহে উপকৃত হবেন। কারণ মেলায় ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান গ্রহণ এবং ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির সুবিধা থাকছে।
ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ উদ্দিন বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সমাজ কল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, আইন ও বিচার মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ সংসদ সদস্য ও সরকারের ঊধর্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।