কয়লার দহন মান বা ক্যালরিফিক মান ৪৬০০ হলে বিশ্ববাজারে প্রতি টনের দাম ১৫০ ডলার। জাহাজ ভাড়া ৫০ ডলার যোগ হলে প্রতি টনের দাম বড়জোর ২০০ ডলার হওয়ার কথা। কিন্তু এই মানের কয়লা আদানি গ্রুপ ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কিনছে ৩৪৭ ডলারে। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়ছে ২৪ টাকা ২৮ পয়সা।
অথচ বাংলাদেশের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫০৪০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে খরচ পড়ছে ২৪৭ ডলার এবং কেন্দ্রটির ইউনিটপ্রতি ব্যয় পড়ছে ১৩ টাকার কিছু বেশি।
পায়রা ও গোড্ডার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে এই খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ২৫ বছর আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ কিনতে গিয়ে বড় অর্থঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
শুধু আদানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের দামই বেশি পড়বে, এমন নয়। আমদানি করা কয়লাচালিত পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও অনেক বেশি। এর মধ্যে আদানি ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ বা কেন্দ্র ভাড়াও দেয়া হয়েছে বেশি। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেয়া হয়েছে ৪.২৫ ইউএস সেন্ট যা বর্তমান দেশি মুদ্রায় ৪.৫৪৫৪ টাকা, আর রামপালকে দেয়া হয়েছে ৪.৮৫ ইউএস সেন্ট বা দেশি মুদ্রায় ৫.১৮৭০ টাকা। আদানি ভারতের বৃহৎ গ্রুপ আর রামপালে ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান এনটিপিসির মালিকানা রয়েছে।
পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞদের বিরোধিতার মুখে বাগেরহাটের সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশের জন্য কিছুটা ক্ষতিকর হলেও এটি কম মূল্যে বিদ্যুৎ দেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় অনেক চড়া।
এমনকি সৌরবিদ্যুৎ থেকেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। তা ছাড়া রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৩২০ মেগাওয়াটের মধ্যে ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চালু হয় গত ডিসেম্বরে। কিন্তু ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারছে না কারিগরি ত্রুটির কারণে। আদৌ কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চলবে কি না, তা নিয়ে এখনই প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, পরিবেশের ওপর ঝুঁকি বাড়িয়ে অর্থনীতিতে নাজুক অবস্থায় ফেলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে কতটা লাভবান হবে বাংলাদেশ।
এ রকম পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা আদানি গ্রুপের কর্তাব্যক্তির সঙ্গে কয়লার দাম কমানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। এ ছাড়া রামপাল কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ নতুন করে কীভাবে নির্ধারণ করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কয়লার দাম কেন বেশি পড়ছে সেটি আমরা আলোচনা করেছি। আনুষ্ঠানিকভাবে ওদের কাছে জানতে চাইব।’ তিনি বলেন, ‘ওরা নিউ ক্যাসেল ইনডেক্সে কয়লা কিনছে। নিউ ক্যাসেল ইনডেক্সে কয়লার দাম একটু বেশি। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এই ইনডেক্স করা হয়েছে কয়লার বাজারে চীন যেন ঢুকতে না পারে।’
২০১৬ সালে আদানি গ্রুপের সঙ্গে পিডিবির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুসারে আদানি ভারতের ঝাড়খন্ডে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে, সেখানকার বিদ্যুৎ আসবে বাংলাদেশে। তখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছিল ৮.২৫ ইউএস সেন্ট। এই বিদ্যুৎ আগামী ২৫ বছর কিনবে বাংলাদেশ। ৭৫০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটে মোট ১৫০০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতা হবে কেন্দ্রটির।
কয়লায় কি আদানির কারসাজি?
দেশের যেকোনো বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানির যে আন্তর্জাতিক দাম সেই অর্থ পরিশোধ করে থাকে পিডিবি। বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করার সময় জ্বালানির দাম, কেন্দ্রভাড়া, কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণের অর্থ-সব মিলিয়ে বিল করা হয়। জ্বালানির দাম ছাড়া অন্য অর্থ নির্দিষ্ট থাকে, এটি বাড়ে না। ফলে কোনো বেসরকারি কেন্দ্র যদি জ্বালানির দাম বাড়তি দেখাতে পারে তাহলে ওই কেন্দ্রের বিদ্যুতের দামও বেড়ে যায়।
ভারতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা কমদামে কয়লা কিনে বেশি দাম (ওভার ইনভয়েসিং) দেখায়। বিষয়টি নিয়ে ভারতের শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ (ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্ট বা ডিআরআই) ২০১৬-এর জুলাইয়ে ভারত সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে বলা হয়, কয়লা আমদানিকারকরা আমদানির ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ বেশি দাম দেখিয়েছে। এ অর্থ তারা পাচার করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ তালিকায় আদানি ও রিলায়েন্সের নাম রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের দুজন কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, ‘আদানি ৪৬০০ ক্যালরিফিক মানের কয়লার দাম দেখাচ্ছে ৩৪৬ ডলার প্রতি টন। অথচ পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র ৫০৪০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছানোর পর খরচ পড়ছে ২৪৭ ডলার। পায়রা কয়লা কেনে অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসেল ইনডেক্স অনুযায়ী, আদানিও কয়লার দাম দেখাচ্ছে নিউ ক্যাসেল ইনডেক্স অনুযায়ী। অথচ টনপ্রতি ১৫০ ডলারের বেশি দাম দেখাচ্ছে আদানি।’
তারা বলেন, ‘সম্প্রতি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও পিডিবির চেয়ারম্যান ভারতে গিয়ে আদানির কর্তাব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কয়লার দাম বেশি পড়ছে সেটি তারা বলে এসেছেন। এখন কীভাবে কয়লার দাম কমানো যায়, সেটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে।’
কয়লা বিদ্যুতের দাম কম পড়ছে না
আদানি গ্রুপের বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে পড়বে ২৪ টাকা ২৮ পয়সা। এর মধ্যে কেন্দ্রভাড়া ধরা হয়েছে ৪.২৫ ইউএস সেন্ট যা বর্তমান দেশি মুদ্রায় ৪.৫৪৫৪ টাকা। বছরে কেন্দ্রটির ১৫০০ মেগাওয়াটের স্থাপিত ক্ষমতা বাবদ কেন্দ্রভাড়া দিতে হবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয়েছে ৪.৮৫ ইউএস সেন্ট বা দেশি মুদ্রায় ৫.১৮৭০ টাকা। দেশে সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রভাড়া পেয়েছে রামপাল। কেন্দ্রটি বছরে শুধু কেন্দ্রভাড়াই পাবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে এস আলম গ্রুপের ১২২৪ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয়েছে প্রতি ইউনিটে ৪.৪১ ইউএস সেন্টস বা ৪.৭১ টাকা। কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত করা হবে ৪৬০০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা, যার প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ২৫৪.৩৮ ডলার। কেন্দ্রটি বছরে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জই পাবে ৫ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। কেন্দ্রটির প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ১৮.৩৯ টাকা।
বরগুনায় অবস্থিত বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার লিমিটেডের ৩০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ৪৬০০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা। এই মানের কয়লার দাম উদ্যোক্তারা দেখিয়েছেন ২৭০ ডলার। কেন্দ্রটিকে ক্যাপাসিটি চার্জ ইউনিটপ্রতি দেয়া হয়েছে ৩.৩৯ ইউএস সেন্টস আর দেশি মুদ্রায় ৩.৯৪ পয়সা। বছরে কেন্দ্রটি ক্যাপাসিটি চার্জ পাবে ১ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম পড়ছে ১৮.৮৪ টাকা।
পটুয়াখালীর পায়রায় চীনা সরকারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি ও সরকারের নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশনের সমান মালিকানায় পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয় ইউনিটপ্রতি ২.৬৫ ইউএস সেন্টস বা দেশি মুদ্রায় ২.৮৩ টাকা। ১২৪৪ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি সারা বছরে কেন্দ্রভাড়া পাবে ৩ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এই কেন্দ্রটির বর্তমানে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি ব্যয় হচ্ছে ১৩.৩৭ টাকা। কেন্দ্রটিতে ৫০৪০ ক্যালরিফিক মানের কয়লার দাম পড়ছে ২৪৫ ডলার।
এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের গড় উৎপাদন ব্যয় ১৩.৩৭ থেকে ২৪.২৮ টাকা পড়ছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সরকার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে গড়ে ১১ ইউএস সেন্টসে বা ১১.৭৬ টাকা প্রতি ইউনিটের বিদ্যুতের দাম দিয়ে অনুমতি দিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানির প্রয়োজন পড়ে না, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে বিদেশি মুদ্রার রির্জাভের ওপর টান পড়ে না। অন্যদিকে কয়লা, গ্যাস ও তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি আমদানি করতে হয় ডলার দিয়ে। এতে বৈদেশিক রিজার্ভের ওপর বড় টান পড়ছে।
রামপাল কি পূর্ণ সক্ষমতায় চলবে?
গত ডিসেম্বর থেকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩২০ মেগাওয়াটের ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এই কেন্দ্রটির স্থাপিত ক্ষমতা ধরা হয়েছে ৬১৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে কেন্দ্রটি একাধিকবার যান্ত্রিক কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।
নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে পিডিবির এক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, ‘কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর কখনোই ৬১৭ মেগাওয়াট ক্ষমতায় চালু করতে পারেনি। কেন্দ্রটি ৫৪০ মেগাওয়াটের ওপর উৎপাদন করতে গেলেই বয়লারের মধ্যে থাকা টিউব ফেটে যায়। এই কেন্দ্রটির উৎপাদনে থাকা প্রথম ইউনিটটি তার পূর্ণসক্ষমতা বা কেন্দ্রভাড়া পাবে যে স্থাপিত ক্ষমতার ভিত্তিতে, সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে না। রামপালের ক্যাপাসিটি ৬১৭ মেগাওয়াট ধরা হয়েছে, আর উৎপাদন করতে পারে সর্বোচ্চ ৫৪০। কেন্দ্রটি ঘোষিত স্থাপিত ক্ষমতার অন্তত ৭০ মেগাওয়াট কম করে থাকে। এই ৭০ মেগাওয়াট ক্যাপাসিটি চার্জ তৃতীয় পক্ষ দিয়ে নিরীক্ষা না হলে রামপাল বছরে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা বেশি নেবে।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ এখন কেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ নতুন করে নির্ধারণ করতে চায়। বিদ্যুৎ বিভাগ বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে কেন্দ্রটির স্থাপিত ক্ষমতা নিরীক্ষা করবে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অধ্যাপক এম শামসুল আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিদেশ থেকে আমদানি করে আনা কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো আমাদের ডলারের মজুতের ওপর টান বসিয়েছে, আগামীতে আরও বসাবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভে বড় সংকট তৈরি করবে। আর কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ, কয়লার দাম অনেক বেশি। আদানির কেন্দ্রতো রীতিমতো ভয়াবহ। এ রকম পরিস্থিতিতে এসব কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ ও জ্বালানির দামের বিষয়ে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তৃতীয় পক্ষকে যুক্ত করে বোঝা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘কয়লা সস্তা বলে সরকার ব্যাপক আকারে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করল। এখন দেখা যাচ্ছে কয়লার চেয়ে সৌরবিদ্যুতের দাম কম। আমাদের কম দামে দেশীয় জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ বড় সহায় হতে পারে।’
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন ছুটির মধ্যে সারা দেশে সড়ক ও রেলপথে ভয়াবহ সব দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। রোববার (২২ মার্চ) ঈদের ছুটির এই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এসব দুর্ঘটনা ঘটে, যা উৎসবের আমেজকে বিষাদে রূপান্তর করেছে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায়, যেখানে একটি যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় একই পরিবারের মা ও দুই শিশুসহ ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভোরে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়লে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেন সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
একই দিনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে গেলে এই প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর এলাকায় বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বেপরোয়া গতির পিকআপ ভ্যানের চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ঈদের ছুটিতে নতুন মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে এবং নাটোর, নওগাঁ, কুষ্টিয়া ও বগুড়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় আরও ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঈদের এই সময়ে ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, চালকদের অসতর্কতা এবং রেলক্রসিংয়ে সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতাই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ।
এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলোতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আহতদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত পর্যটকদের বরণে। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন বনবিভাগ।
পর্যটকদের জন্য সুন্দরবনের করমজল, হাড়বাড়িয়া, আন্দারমানিক, আলিবান্ধা, কটকা, কচিখালী ও আলোরকোলসহ জনপ্রিয় স্পটগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনরক্ষীদের টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, “পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমাদের টিম, র্যাব, কোস্টগার্ড সার্বক্ষণিক কাজ করছে।"
এদিকে নদীপথে যাতায়াতে লঞ্চ ও ট্রলারগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। প্রতিটি নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট রাখা এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শরণখোলার ট্যুর অপারেটর মো. রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, “ঈদকে ঘিরে বুকিং বাড়ছে। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।"
স্থানীয় পর্যটকরাও সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে পরিবেশ সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে কঠোর পদক্ষেপ। বনের ভেতরে উচ্চশব্দে মাইক বাজানো এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে—এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের টানে এবারের ঈদেও সুন্দরবন হয়ে উঠতে পারে পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় গন্তব্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। রোববার (২২ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০১ নম্বর ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ডা. জুবাইদা রহমান সকালে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।
লন্ডন যাত্রার আগের দিন শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন ডা. জুবাইদা রহমান। ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতে প্রধানমন্ত্রী যখন সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, তখন সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও উপস্থিত ছিলেন।
পারিবারিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার স্ত্রী, সন্তান এবং ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারসহ স্বজনদের নিয়ে শেরে বাংলা নগরে বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই ডা. জুবাইদা রহমান ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন।
কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ট্রেন ও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে শনিবার (২১ মার্চ) রাতে কুমিল্লার রেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ এবং এর আগে বগুড়ায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি এই শোক জানান। রোববার (২২ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, পবিত্র ঈদের এই আনন্দঘন সময়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং প্রতিটি জীবনের অকাল মৃত্যু দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রধানমন্ত্রী নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী এসব দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ দ্রুত খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না।
রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবহন খাতের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি মন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
ইতোমধ্যেই কুমিল্লার দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে ইতোমধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ দেশের অন্যান্য স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রতিও প্রধানমন্ত্রী সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে বিশ্বরোড এলাকায় গিয়ে তিনি দুর্ঘটনার কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের দুটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, এর একটি হচ্ছে যেখানে যেখানে রেলের লেভেল ক্রসিং রয়েছে সেখানে আন্ডারপাস ও ওভারপাস করা হবে। আরেকটি হচ্ছে অটোমেটিক সিস্টেম, মানে রেলে ক্রসিং এর কাছাকাছি রেল আসার সঙ্গে সঙ্গে অটোমেটিক সিস্টেমে গেট পড়ে যাবে, এসব ক্রসিং এ গার্ডও দায়িত্ব পালন করবে।”
এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) রাত ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।
দুর্ঘটনাস্থলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রেল ক্রসিংয়ের দুজন গার্ড ও স্টেশন মাস্টারের অবহেলার কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে, ইতিমধ্যে তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রেলের পক্ষ থেকে একটি বিভাগীয় ও একটি জোনাল আওতায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, সুতরাং এই ব্যাপারে কোনো রকম গাফিলতি সহ্য করা হবে না।”
নিহতদের সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “যারা নিহত হয়েছে ইতিমধ্যে প্রতিটি পরিবারকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে প্রতি জনের জন্য ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।”
আহতদের চিকিৎসা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রির সঙ্গে কথা বলেছি, যারা দ্রুত রাখতে হয়েছে তাদের মধ্যে যদি কাউকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর প্রয়োজন হয় আমরা সেই ব্যবস্থাও করব। এছাড়াও যারা আহত হয়েছেন তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী খোঁজখবর রাখছেন।”
এদিকে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, “এই ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে, এই ঘটনায় আরো যদি কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই রেল ক্রসিং এলাকায় ওভারব্রিজ থাকার পরও কিন্তু বাসচালকরা ওভার দিয়ে না গিয়ে নিচের রেল ক্রসিং ব্যবহার করেছেন, এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। হাইওয়ে সড়কগুলোতে এভাবে রেল ক্রসিং রাখা নিরাপদ নয়, স্থানীয় গাড়িগুলোর জন্য আমরা আন্ডারপাস ব্যবস্থা করব।”
তিনি আরও বলেন, “অধিকাংশ এলাকায় রেলের অনুমোদন ছাড়াই রেল ক্রসিং করা হয়েছে সেটার বিষয়েও আমরা পদক্ষেপ নেবো। যেগুলো হয়ে গেছে সেগুলোতে আমরা গেটম্যান নিয়োগ দেব।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রেজা হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর সূত্রে তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজন যশোর জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন লাইজু আক্তার (২৬), তার দুই শিশু কন্যা খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩), চৌগাছার সিরাজুল ইসলাম (৭০) এবং কোহিনূর বেগম (৫৫)। এছাড়া নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির বাবুল চৌধুরী (৫৫) ও ফাজিলপুরের নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫) রয়েছেন নিহতদের তালিকায়।
অন্যদের মধ্যে রয়েছেন চাঁদপুরের তাজুল ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদহের জুহাদ বিশ্বাস (২৪), মাগুরার ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার সোহেল রানা (২৫) এবং লক্ষ্মীপুরের শিশু সাঈদা (৯)।
শনিবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন বাসযাত্রী নিহত হন এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পর রোববার সকাল ৮টার দিকে আখাউড়া থেকে আসা উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি সরিয়ে নেওয়া হলে সকাল ১১টার পর রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়। আটকে থাকা মহানগর প্রভাতি ও কর্ণফুলী ট্রেনও গন্তব্যে রওনা দেয়।
ঘটনার পর সকাল থেকে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ে। ঘটনাস্থলে দেখা যায়, রেলক্রসিংয়ের দুই পাশের প্রতিবন্ধক অক্ষত রয়েছে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বাসের ভাঙা কাচ। রেললাইনের কিছু দূরে বাসের দুটি চাকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। কাছেই রেলের কর্মীদের একটি কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে।
দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট গেটম্যান পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দুই গেটম্যান মেহেদি হাসান ও হেলাল উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ও জোনাল দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। যাদের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’
তদন্তে আসা পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ‘আহতদের বক্তব্য ও স্থানীয়ভাবে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে ঘটনার সময় গেটম্যান গেট না ফেলায় বাস রাস্তা ফাঁকা পেয়ে রেল লাইনে উঠে যায়। এ সময় ট্রেনটি বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়।’
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, আহতদের মধ্যে ১৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন, বর্তমানে পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেটের দায়িত্বে থাকা সিগন্যালম্যানের অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তারা আরও জানান, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায় এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘বাস চালকের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তার আগেই পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আরও কয়েকটি লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।’
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মূল দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ও আলমগীর হোসেনকে পুলিশ রিমান্ড শেষে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। ১৪ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এর আগে অভিযুক্তদের শারীরিক পরীক্ষার জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে তারা সংবাদমাধ্যমের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদ এবং ঢাকার ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেন মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে দীর্ঘ কয়েক মাস আত্মগোপনে ছিলেন। পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করার সময় গত ৭ মার্চ সীমান্ত লাগোয়া বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করে তাদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেটধারী সন্ত্রাসীরা শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এই হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো হত্যাযজ্ঞকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। গত শুক্রবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান এ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন।
প্রস্তাবে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ শুরু হওয়া অপারেশন সার্চলাইট চলাকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের ইসলামপন্থী সহযোগীরা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে সব ধর্মের বাঙালিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিশেষভাবে হিন্দু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞ পরিচালনা করা হয়।
প্রস্তাব উত্থাপনের সময় ল্যান্ডসম্যান বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনীর ১৯৭১ সালের অভিযান জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যার মধ্যে পড়ে। এই স্বীকৃতি অনেক আগেই দেওয়া উচিত ছিল।’
এদিকে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ১৯৭১ সালের গণহত্যার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। ‘হিন্দু অ্যাকশন’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে ওই শুনানির আয়োজন করা হয়।
নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার দিলিপ নাথ জানান, ওই আলোচনার পরই প্রস্তাবটি আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী আবার সক্রিয় হয়েছে।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের আস্কারায় জামায়াত আবারও মানবতাবিরোধী জঘন্য তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে ১৯৭১ সালের অপরাধের দায়ে যুক্তরাষ্ট্র আবারও জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে পারে।’
কারামুক্ত সাংবাদিক আনিস আলমগীরের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যার এই সৌজন্য আলাপের বিষয়টি আনিস আলমগীর নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন ফোন পেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে এই সাংবাদিক গণমাধ্যমকে বলেন, 'সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফোন করেছিলেন। আমি খুব সারপ্রাইজড। তিনি আমাকে ও আমার স্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কারাগারে থাকার কথা শুনেছেন।' কথোপকথনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে আনিস আলমগীর আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমি ধন্যবাদ জানাই, অভিনন্দন জানিয়েছি। তিনি আজকে ঈদের নামাজে যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি দেখিয়েছেন।' তারেক রহমানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, 'আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছি, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে তারেক রহমান অতীতে নেতিবাচক রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেননি।'
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপের আগে আনিস আলমগীর বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আনিস আলমগীরকে তুলে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’-এর পক্ষ থেকে করা একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলাতেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়। দীর্ঘ কারাবাস ও আইনি লড়াইয়ের পর সব মামলায় জামিন পেয়ে গত ১৪ মার্চ তিনি মুক্তি লাভ করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় শেষে যমুনায় প্রবেশ করেন তারেক রহমান। এরপর সকাল সোয়া ৯টা থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়।
এতে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও সিনিয়র সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলা ঘটে। এরমধ্যে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী অনেকের সঙ্গে হাত মেলান ও কোলাকুলি করেন। দেশের সরকার প্রধানকে কাছে পেয়ে অনেকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অনেকে। তার সঙ্গে সেলফি তোলেন। তবে আমন্ত্রিত হয়েও অতিরিক্ত ভিড়ে অনেকে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।
শুধু কার্ডধারীদেরই ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেন এসএসএফ সদস্যরা। পাঁচটি সিরিয়ালে লোকজনের উপস্থিতি প্রধান ফটকের সামনে থেকে সামনের সড়ক ছাড়িয়ে কাকরাইল ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
প্রধানমন্ত্রী অনেকের কাছে গিয়ে খোঁজ-খবর নেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা। অতিথীদের জন্য ছিল বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) তিনি মরহুম মা-বাবার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করেন। এই সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এদিন সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী। নামাজ শেষে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিশিষ্টজন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং দীর্ঘ কয়েক বছর পর নিজ দেশের মাটিতে ঈদ উৎসব পালন করতে পারায় মহান আল্লাহর দরবারে গভীর শুকরিয়া প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দেশের সাধারণ জনগণ ঠিক যে ধরনের বাংলাদেশ দেখতে চায়, বর্তমান সরকার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণেই কাজ করে যাবে।
পবিত্র এই ঈদের দিনে তিনি আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রার্থনা করেন যেন সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়। দেশের উন্নয়ন ও সংস্কারের পথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান। এই বিশেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে (দক্ষিণ প্লাজার নিচে) ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মুসল্লী এ জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে এ বছর প্রথমবারের মত নারীদের জন্য ঈদের জামাতের ব্যবস্থা করা হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
স্পীকারের নির্দেশনা মোতাবেক মুসল্লিদের সুবিধার্থে ও বৈরী আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে টানেলের নীচে জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিদের মাঝে খেজুর পরিবেশন করা হয়।
জামাত ও খুতবা শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র ইমাম মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
ঈদের জামাত শেষে স্পিকার মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।