কয়লার দহন মান বা ক্যালরিফিক মান ৪৬০০ হলে বিশ্ববাজারে প্রতি টনের দাম ১৫০ ডলার। জাহাজ ভাড়া ৫০ ডলার যোগ হলে প্রতি টনের দাম বড়জোর ২০০ ডলার হওয়ার কথা। কিন্তু এই মানের কয়লা আদানি গ্রুপ ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কিনছে ৩৪৭ ডলারে। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়ছে ২৪ টাকা ২৮ পয়সা।
অথচ বাংলাদেশের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫০৪০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে খরচ পড়ছে ২৪৭ ডলার এবং কেন্দ্রটির ইউনিটপ্রতি ব্যয় পড়ছে ১৩ টাকার কিছু বেশি।
পায়রা ও গোড্ডার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে এই খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ২৫ বছর আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ কিনতে গিয়ে বড় অর্থঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
শুধু আদানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের দামই বেশি পড়বে, এমন নয়। আমদানি করা কয়লাচালিত পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও অনেক বেশি। এর মধ্যে আদানি ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ বা কেন্দ্র ভাড়াও দেয়া হয়েছে বেশি। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেয়া হয়েছে ৪.২৫ ইউএস সেন্ট যা বর্তমান দেশি মুদ্রায় ৪.৫৪৫৪ টাকা, আর রামপালকে দেয়া হয়েছে ৪.৮৫ ইউএস সেন্ট বা দেশি মুদ্রায় ৫.১৮৭০ টাকা। আদানি ভারতের বৃহৎ গ্রুপ আর রামপালে ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান এনটিপিসির মালিকানা রয়েছে।
পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞদের বিরোধিতার মুখে বাগেরহাটের সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশের জন্য কিছুটা ক্ষতিকর হলেও এটি কম মূল্যে বিদ্যুৎ দেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় অনেক চড়া।
এমনকি সৌরবিদ্যুৎ থেকেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। তা ছাড়া রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৩২০ মেগাওয়াটের মধ্যে ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চালু হয় গত ডিসেম্বরে। কিন্তু ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারছে না কারিগরি ত্রুটির কারণে। আদৌ কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চলবে কি না, তা নিয়ে এখনই প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, পরিবেশের ওপর ঝুঁকি বাড়িয়ে অর্থনীতিতে নাজুক অবস্থায় ফেলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে কতটা লাভবান হবে বাংলাদেশ।
এ রকম পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা আদানি গ্রুপের কর্তাব্যক্তির সঙ্গে কয়লার দাম কমানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। এ ছাড়া রামপাল কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ নতুন করে কীভাবে নির্ধারণ করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কয়লার দাম কেন বেশি পড়ছে সেটি আমরা আলোচনা করেছি। আনুষ্ঠানিকভাবে ওদের কাছে জানতে চাইব।’ তিনি বলেন, ‘ওরা নিউ ক্যাসেল ইনডেক্সে কয়লা কিনছে। নিউ ক্যাসেল ইনডেক্সে কয়লার দাম একটু বেশি। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এই ইনডেক্স করা হয়েছে কয়লার বাজারে চীন যেন ঢুকতে না পারে।’
২০১৬ সালে আদানি গ্রুপের সঙ্গে পিডিবির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুসারে আদানি ভারতের ঝাড়খন্ডে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে, সেখানকার বিদ্যুৎ আসবে বাংলাদেশে। তখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছিল ৮.২৫ ইউএস সেন্ট। এই বিদ্যুৎ আগামী ২৫ বছর কিনবে বাংলাদেশ। ৭৫০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটে মোট ১৫০০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতা হবে কেন্দ্রটির।
কয়লায় কি আদানির কারসাজি?
দেশের যেকোনো বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানির যে আন্তর্জাতিক দাম সেই অর্থ পরিশোধ করে থাকে পিডিবি। বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করার সময় জ্বালানির দাম, কেন্দ্রভাড়া, কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণের অর্থ-সব মিলিয়ে বিল করা হয়। জ্বালানির দাম ছাড়া অন্য অর্থ নির্দিষ্ট থাকে, এটি বাড়ে না। ফলে কোনো বেসরকারি কেন্দ্র যদি জ্বালানির দাম বাড়তি দেখাতে পারে তাহলে ওই কেন্দ্রের বিদ্যুতের দামও বেড়ে যায়।
ভারতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা কমদামে কয়লা কিনে বেশি দাম (ওভার ইনভয়েসিং) দেখায়। বিষয়টি নিয়ে ভারতের শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ (ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্ট বা ডিআরআই) ২০১৬-এর জুলাইয়ে ভারত সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে বলা হয়, কয়লা আমদানিকারকরা আমদানির ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ বেশি দাম দেখিয়েছে। এ অর্থ তারা পাচার করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ তালিকায় আদানি ও রিলায়েন্সের নাম রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের দুজন কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, ‘আদানি ৪৬০০ ক্যালরিফিক মানের কয়লার দাম দেখাচ্ছে ৩৪৬ ডলার প্রতি টন। অথচ পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র ৫০৪০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছানোর পর খরচ পড়ছে ২৪৭ ডলার। পায়রা কয়লা কেনে অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসেল ইনডেক্স অনুযায়ী, আদানিও কয়লার দাম দেখাচ্ছে নিউ ক্যাসেল ইনডেক্স অনুযায়ী। অথচ টনপ্রতি ১৫০ ডলারের বেশি দাম দেখাচ্ছে আদানি।’
তারা বলেন, ‘সম্প্রতি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও পিডিবির চেয়ারম্যান ভারতে গিয়ে আদানির কর্তাব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কয়লার দাম বেশি পড়ছে সেটি তারা বলে এসেছেন। এখন কীভাবে কয়লার দাম কমানো যায়, সেটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে।’
কয়লা বিদ্যুতের দাম কম পড়ছে না
আদানি গ্রুপের বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে পড়বে ২৪ টাকা ২৮ পয়সা। এর মধ্যে কেন্দ্রভাড়া ধরা হয়েছে ৪.২৫ ইউএস সেন্ট যা বর্তমান দেশি মুদ্রায় ৪.৫৪৫৪ টাকা। বছরে কেন্দ্রটির ১৫০০ মেগাওয়াটের স্থাপিত ক্ষমতা বাবদ কেন্দ্রভাড়া দিতে হবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয়েছে ৪.৮৫ ইউএস সেন্ট বা দেশি মুদ্রায় ৫.১৮৭০ টাকা। দেশে সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রভাড়া পেয়েছে রামপাল। কেন্দ্রটি বছরে শুধু কেন্দ্রভাড়াই পাবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে এস আলম গ্রুপের ১২২৪ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয়েছে প্রতি ইউনিটে ৪.৪১ ইউএস সেন্টস বা ৪.৭১ টাকা। কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত করা হবে ৪৬০০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা, যার প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ২৫৪.৩৮ ডলার। কেন্দ্রটি বছরে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জই পাবে ৫ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। কেন্দ্রটির প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ১৮.৩৯ টাকা।
বরগুনায় অবস্থিত বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার লিমিটেডের ৩০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ৪৬০০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা। এই মানের কয়লার দাম উদ্যোক্তারা দেখিয়েছেন ২৭০ ডলার। কেন্দ্রটিকে ক্যাপাসিটি চার্জ ইউনিটপ্রতি দেয়া হয়েছে ৩.৩৯ ইউএস সেন্টস আর দেশি মুদ্রায় ৩.৯৪ পয়সা। বছরে কেন্দ্রটি ক্যাপাসিটি চার্জ পাবে ১ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম পড়ছে ১৮.৮৪ টাকা।
পটুয়াখালীর পায়রায় চীনা সরকারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি ও সরকারের নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশনের সমান মালিকানায় পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয় ইউনিটপ্রতি ২.৬৫ ইউএস সেন্টস বা দেশি মুদ্রায় ২.৮৩ টাকা। ১২৪৪ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি সারা বছরে কেন্দ্রভাড়া পাবে ৩ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এই কেন্দ্রটির বর্তমানে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি ব্যয় হচ্ছে ১৩.৩৭ টাকা। কেন্দ্রটিতে ৫০৪০ ক্যালরিফিক মানের কয়লার দাম পড়ছে ২৪৫ ডলার।
এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের গড় উৎপাদন ব্যয় ১৩.৩৭ থেকে ২৪.২৮ টাকা পড়ছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সরকার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে গড়ে ১১ ইউএস সেন্টসে বা ১১.৭৬ টাকা প্রতি ইউনিটের বিদ্যুতের দাম দিয়ে অনুমতি দিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানির প্রয়োজন পড়ে না, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে বিদেশি মুদ্রার রির্জাভের ওপর টান পড়ে না। অন্যদিকে কয়লা, গ্যাস ও তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি আমদানি করতে হয় ডলার দিয়ে। এতে বৈদেশিক রিজার্ভের ওপর বড় টান পড়ছে।
রামপাল কি পূর্ণ সক্ষমতায় চলবে?
গত ডিসেম্বর থেকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩২০ মেগাওয়াটের ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এই কেন্দ্রটির স্থাপিত ক্ষমতা ধরা হয়েছে ৬১৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে কেন্দ্রটি একাধিকবার যান্ত্রিক কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।
নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে পিডিবির এক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, ‘কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর কখনোই ৬১৭ মেগাওয়াট ক্ষমতায় চালু করতে পারেনি। কেন্দ্রটি ৫৪০ মেগাওয়াটের ওপর উৎপাদন করতে গেলেই বয়লারের মধ্যে থাকা টিউব ফেটে যায়। এই কেন্দ্রটির উৎপাদনে থাকা প্রথম ইউনিটটি তার পূর্ণসক্ষমতা বা কেন্দ্রভাড়া পাবে যে স্থাপিত ক্ষমতার ভিত্তিতে, সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে না। রামপালের ক্যাপাসিটি ৬১৭ মেগাওয়াট ধরা হয়েছে, আর উৎপাদন করতে পারে সর্বোচ্চ ৫৪০। কেন্দ্রটি ঘোষিত স্থাপিত ক্ষমতার অন্তত ৭০ মেগাওয়াট কম করে থাকে। এই ৭০ মেগাওয়াট ক্যাপাসিটি চার্জ তৃতীয় পক্ষ দিয়ে নিরীক্ষা না হলে রামপাল বছরে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা বেশি নেবে।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ এখন কেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ নতুন করে নির্ধারণ করতে চায়। বিদ্যুৎ বিভাগ বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে কেন্দ্রটির স্থাপিত ক্ষমতা নিরীক্ষা করবে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অধ্যাপক এম শামসুল আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিদেশ থেকে আমদানি করে আনা কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো আমাদের ডলারের মজুতের ওপর টান বসিয়েছে, আগামীতে আরও বসাবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভে বড় সংকট তৈরি করবে। আর কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ, কয়লার দাম অনেক বেশি। আদানির কেন্দ্রতো রীতিমতো ভয়াবহ। এ রকম পরিস্থিতিতে এসব কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ ও জ্বালানির দামের বিষয়ে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তৃতীয় পক্ষকে যুক্ত করে বোঝা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘কয়লা সস্তা বলে সরকার ব্যাপক আকারে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করল। এখন দেখা যাচ্ছে কয়লার চেয়ে সৌরবিদ্যুতের দাম কম। আমাদের কম দামে দেশীয় জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ বড় সহায় হতে পারে।’
সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এ চুক্তি সই হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ইউরোপীয় কমিশনের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কালা কালাসের উপস্থিতিতে চুক্তিতে সই করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম ও ইইউর এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা প্যাম্পালোনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও বিকাশের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর নতুন করে ইইউ-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। ব্রাসেলসে ওই অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন উপস্থিত ছিলেন।
তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির প্রথম দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় পিসিএ চুক্তির আলোচনা স্থগিত করেছিল ইইউ। পরবর্তী সময়ে ইইউ বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে পিসিএ সই করার সিদ্ধান্ত নিলে নভেম্বরে ঢাকায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছিল। এরপর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে গত বছরের এপ্রিলে (২০২৫) পিসিএ নিয়ে বাংলাদেশ ও ইইউর উচ্চপর্যায়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। সবশেষ, পিসিএ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে (২০২৬) আরেক দফা ঢাকা ও সিলেটে আলোচনা হয়। সেসময় আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ চুক্তিটির খসড়া চূড়ান্ত করেছে।
পিসিএ হলো-আইনগত বাধ্যতামূলক চুক্তি, যা ইইউ ও একটি অংশীদার দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি রূপরেখা প্রতিষ্ঠা করে। অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে ইইউ অংশীদার দেশগুলোতে রাজনৈতিক সংলাপ, শান্তি ও নিরাপত্তা, সুশাসন ও মানবাধিকার, বাণিজ্য, অর্থনীতি, আর্থিক সহযোগিতাসহ বিভ্ন্নি বিষয় এর মধ্যে থাকে।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরকে ঘিরে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার বা প্রটোকল নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশাবলি জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দায়িত্ব ও উপস্থিতির বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে।
সোমবার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরকে ঘিরে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার (প্রটোকল) সংক্রান্ত নির্দেশাবলি প্রকাশ করা হয়, যা গত ১৬ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হয়।
বিশেষ নির্দেশাবলি
সাধারণ নির্দেশাবলি
এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট এ সংক্রান্ত জারি করা নির্দেশাবলির জায়গায় নতুন এই নির্দেশাবলি কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু করার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ অনুরোধ জানান।
বৈঠককালে তারা দুদেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার (মিয়ানমার নাগরিক) বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান, পর্যটন ও জ্বালানি খাতে সৌদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত নতুন পোর্টফোলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। জনশক্তি রপ্তানি ছাড়াও বাংলাদেশের জ্বালানি ও পর্যটন খাতে সৌদি আরবের বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তিনি এসব খাতে বিনিয়োগসহ দুদেশের সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেন।
সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যুর প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রদূত এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস বা প্রমাণক সাপেক্ষে ইতোমধ্যে ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দেন, পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, যেসব মিয়ানমার নাগরিকের বাংলাদেশি ডকুমেন্টস রয়েছে বা যারা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট প্রদান করতে হবে।
এক্ষেত্রে সৌদি আরব থেকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়ে পুনরায় যাচাই-বাছাই করার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান।
মন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আগামী জুলাই মাসের প্রথমার্ধে তিনি সৌদি আরব সফর করতে পারেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, বিগত সরকার হামের টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল এবং সঠিক সময়ে টিকা আনার ব্যবস্থা করেনি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল পৌর শহরের পৌর উদ্যানে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বর্তমান সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা এই টিকার ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকারের দায়িত্বহীনতার কারণে জনগণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। এ ধরণের অবহেলার জন্য তিনি তাদের নিন্দা জানান। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে ইতোমধ্যে সারা দেশে হামের টিকা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া মানুষের জীবনে স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই সবাইকে সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনো ধরণের অবহেলা না করার পাশাপাশি, আগামী দিনে স্বাস্থ্য সচেতনতা আরও বাড়াতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, সিভিল সার্জন ডা. এএফএম মাহবুবুল আলম মঞ্জু, পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইলের ১২০টি কেন্দ্রে ৩৯০টি ওয়ার্ডে হাম-রুবেলার টিকা পাবে তিন লাখ ৮৭ হাজার ৩৬৯ জন শিশু। সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তিন হাজার ১২০ টি কেন্দ্রে এই টিকা দেয়া হবে। এ কার্যক্রম আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে বগুড়া।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে সিটি করপোরেশন চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন সকাল ৬টায় ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল ৯ টা ৫৫ মিনিটে তিনি বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় পায়ে হেটে জেলা জজ আদালতে ই-বেইল বন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এরপর তিনি বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। উদ্বোধন শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক এলাকা বাগবাড়ীর উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন এবং পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার।
সফরের শেষপর্যায়ে বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বক্তব্য শেষে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন। পরে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটেই বগুড়া বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পূর্ণনির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। সবশেষে সন্ধ্যা ৬টায় বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে তৎকালীন সরকার বগুড়া পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ করে আশপাশের ৪৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে এবং ওয়ার্ড সংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ২১ করা হয়। সে সময় থেকেই বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পরিকল্পনা থাকলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে বগুড়া সিটি করপোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।
চীন সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সফরে দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে বিএনপি মহাসচিবকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম। এ সময় দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং চীন সরকারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটে চীনা এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহকারী একান্ত সচিব ইউনুস আলী।
মন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিমানবন্দরে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিদায় জানান। এ সময় চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের নতুন দিগন্ত নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনাও হয়।
চীন সফরকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশটির সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। মূলত স্থানীয় সরকারের আধুনিকায়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সমবায় খাতের অগ্রগতিতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
বেইজিংয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, মন্ত্রীর এই সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে এবং বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল বিপ্লব ত্বরান্বিত করতে দেশের সাতটি জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেগুলো হলো– বগুড়া, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট।
এর আগে তারেক রহমান বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস্ বার সমিতির নবনির্মিত ভবনের নামফলক উন্মোচন করেন।
সড়কপথে সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটের দিকে বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়িবহর। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।
এর আগে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাস গুলশানের বাসভবন ছেড়ে আসে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সঙ্গে রয়েছেন। বগুড়ায় ডা. জোবাইদা রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা আক্তার।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে বগুড়ায় পৌঁছেছেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত সময় কাটাবেন। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, হামের টিকাদান ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। যাবেন নিজের পৈতৃক বাড়িতেও। বিকালে রয়েছে বিএনপি আয়োজিত জনসভা। ওইসব কর্মসূচি শেষ করে রাতে সড়ক পথে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডার পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রসচিবের দপ্তরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
আজ (সোমবার) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, বিশেষ দূত হার্ডার ও রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা যায় এবং উভয় দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ করা যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডার ১৮ এপ্রিল তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জন্মভূমি ও জেলা বগুড়ায় সফরে এসেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে সোমবার (২০ এপ্রিল) তিনি সড়কপথে ঢাকার বাসভবন থেকে রওনা হয়ে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বগুড়া শহরের সার্কিট হাউজে পৌঁছান।
সফরসূচি সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টায় বগুড়া জজ আদালতে ই-বেইল বন্ড সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন এবং সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।
দিনের দ্বিতীয়ার্ধে গাবতলী উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে রয়েছে খাল খনন কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন।
পরে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়ি যাবেন এবং বিকেলে পুনরায় শহরে ফিরবেন। বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপির আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তার এই সফরকে ঘিরে বগুড়া শহর ও আশপাশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে নেতাকর্মীরা ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে ভিড় করেন, তাকে এক নজর দেখার জন্য।
ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ফের বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার নতুন এই দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন নির্ধারিত এই দাম সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, এবার প্রতি কেজি এলপিজিতে দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই প্রতি কেজিতে দাম বাড়ানো হয়েছিল ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। সেই হিসেবে এক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ল এলপিজির।
নতুন দাম অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে গ্রাহককে অতিরিক্ত ২১২ টাকা গুনতে হবে।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি মাসের (এপ্রিল) শুরুতে প্রতি কেজিতে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। এক মাসের মধ্যে দুই দফায় এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সপ্তাহে দুই দিন বুধ ও বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চ্যুয়ালি বিচারকাজ চলবে।
রোববার হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরস্থিতি বিবেচনায় এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ : (২০২০ সনের ১১ নং আইন) এবং অত্র কোর্ট কর্তৃক জারিকৃত প্রাকটিস ডাইরেকশন অনুসরণ করত’ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতি সপ্তাহে ২ (দুই) দিন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
হজ যাত্রায় প্রথম দিনে এখন পর্যন্ত ১১ ফ্লাইটে ৪ হাজার ৪৫৭ জন বাংলাদেশি হজ প্রত্যাশি সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে গিয়েছেন ১ হাজার ২৪৬ জন, আর বেসরকারি মাধ্যমে ৩ হাজার ২১১ জন।
হজ অফিস জানিয়েছে, হজ যাত্রার দ্বিতীয় দিনে রোববার ১৪টি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়বেন ৫ হাজার ৭৫৬ জন। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই আসকোনা হজ ক্যাম্প মুসল্লিদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও দুই দেশের ইমিগ্রেশন আশকোনা হজ ক্যাম্পে হচ্ছে।
এরই মধ্যে শতভাগ হজযাত্রী ভিসা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে হজ অফিস।
হজ ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অধিকাংশ হজযাত্রী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে ক্যাম্পের ভেতরে কিছু অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভও জানিয়েছেন অনেকে। বিশেষ করে খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন হজযাত্রী।
এ ছাড়া ডরমিটরিতে মশার উপদ্রব এবং বিছানায় ছারপোকার কারণে রাত কাটাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। হজযাত্রীদের দাবি, পবিত্র সফরের শুরুতেই যেন এ ধরনের ছোটখাটো সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হয়।
হজ অফিস বলছে, ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে তারা।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম গত শনিবার মেঘনা নদী থেকে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার সরবরাহ সক্ষমতা সম্পন্ন নির্মাণাধীন নাঃগঞ্জ এর রূপগঞ্জস্থ গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগারটি পরিদর্শন করেন।
এ সময় ব্যবস্থপনা পরিচালক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ প্রথমে একই জেলার আড়াইহাজার উপজেলাস্থ বিষনন্দীতে
মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত ইনটেক পয়েন্ট পরিদর্শন করেন। তারপর রূপগঞ্জস্থ প্লান্ট এরিয়া পরিদর্শন করেন।
এ সময় প্রকল্প পরিচালক ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ সহ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন। তারা ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্লান্টের বিভিন্ন দিক ঘুরিয়ে দেখান ও এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রকল্প কাজ পরিদর্শন করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সেই সাথে ঢাকার পূর্বাঞ্চলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আংশিক পানি সরবরাহের আশা প্রকাশ করেন।
প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ আলোচ্য সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস ও প্রদান করেন।
তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ চালু হলে রাজধানী মহানগরীর পূর্বাঞ্চলের মানুষ সর্বাংশে উপকৃত হবে।
সেই সাথে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ-বান্ধব ও টেকসই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য ঢাকা ওয়াসা নির্ধারণ করেছে তা অর্জন করা সম্ভব হবে।
কেননা এ শোধনাগার চালু হলে কয়েকশ গভীর নলকূপ বন্ধ বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, আলোচ্য গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার এর প্রথম ফেজ থেকে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে এবং একই শোধনাগারের সেকেন্ড ফেজ থেকেও সমপরিমাণ পানি দৈনিক রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে।