জাতীয় পরিচপত্রে জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়ম, অসদাচরণসহ বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাসহ নানা অনিয়মে জড়িত থাকায় শাস্তি পেল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী।
তাদের মধ্যে কাউকে স্থায়ী বরখাস্ত, কারও বেতন বৃদ্ধি আটকে দেয়া, আবার কাউকে তিন বছরের জন্য বেতন নিম্নতর গ্রেডে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া তিরস্কার ও সতর্ক করা হয়েছে অনেককে।
সাংবিধানিক এ সংস্থার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ২৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩ জন, তৃতীয় শ্রেণির রয়েছেন ২৫, ও চতুর্থ শ্রেণির ১৬ জন। সব মিলিয়ে নিজেদের ৬৯ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশন।
গত মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপি সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকার অপরাধে কুমিল্লার তিতাস উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম নাসিরউদ্দিনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পরবর্তী এক বছরের জন্য বন্ধ করা দেয়া হয়েছে।
ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ভিডিও নিয়ে তা ইন্টারনেটে আপলোড করায় ইসির সহকারী জনসংযোগ পরিচালক মো. আশাদুলকে ‘তিরস্কার’ করা হয়েছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০১৮ অনুসরণ না করে ল্যাপটপ কেনায় এনআইডি অনুবিভাগের (মানবসম্পদ গবেষণা ও উন্নয়ন) উপপরিচালক মো. মোশারফ হোসেনের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পরবর্তী দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অবৈধ আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ভুয়া ও জাল মঞ্জুরি আদেশ তৈরির মাধ্যমে শৈলেন্দ্রনাথ মণ্ডলকে ১ম, ২য় ও ৩য় টাইম স্কেল দেয়ায় মুন্সীগঞ্জের টুঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি তিন বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
রেজিস্ট্রেশন অফিসার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন ফরম ও অনলাইন জন্মসনদ এবং অন্য দলিল যাচাই-বাছাই না করে সার্ভারে ডাটা আপলোড করায় ঢাকার সবুজবাগ থানার নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালামের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পরবর্তী দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
জাতীয় পরিচয়পত্রের ভোটার ফরম, ভোটার ফরম-২-এর সঙ্গে সংযুক্ত দলিল যাচাই-বাছাই ছাড়া ৭৯ বছর বয়স্ক একজন নারীকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত-সংক্রান্ত জালিয়াতিতে জড়িত থাকায় ইসির উপসচিব মো. নওয়াবুল ইসলামের বেতন আগামী দুই বছরের জন্য বেতন গ্রেডের নিম্ন ধাপে নামিয়ে দেয়া হয়েছে।
এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে মকছুদা খাতুন এবং আব্দুল ওয়াদুদের ফরম-২ যথাযথভাবে পূরণ না থাকা সত্ত্বেও রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়ায় ফরিদপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানকে তিরস্কার করা হয়েছে।
এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে তিনজনকে ভোটার তালিকায় বেআইনিভাবে অন্তর্ভুক্তকরণ এবং ৫টি এনআইডির সার্ভার কপিতে বেআইনিভাবে স্বাক্ষর দেয়ায় কুষ্টিয়ার সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ছামিউল আলমের বেতন আগামী তিন বছরের জন্য অবনমিতকরণ করা হয়েছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের সময় দলিলাদি যাচাই-বাছাই ছাড়াই দুইজন ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় বেআইনিভাবে অন্তর্ভুক্ত করায় মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার অমিত কুমার দাশকে সতর্ক করা হয়েছে।
দায়িত্ব পালনে অবহেলা করায় ঢাকার উত্তরা থানা নির্বাচন অফিসার ফাওজুল কবীর খানকে সতর্ক করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ নির্বাচনকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. আবু তালেবকে সতর্ক করা হয়েছে।
চান্দলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী প্রার্থীর সঙ্গে ঘুষ দাবির অডিও ফাঁস করায় চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বুলবুল আহম্মদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি চলতি বছর থেকে তিন বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
আইডিয়া প্রকল্পের জনবল নিয়োগের বিষয়ে ৫টি প্যাকেজে কাজ পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস ও অবৈধ অর্থ লেনদেন করায় নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরিয়ান মো. নাসিমুল হককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একজন প্রার্থীর কাছ থেকে অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে টাকা চাওয়া সম্পর্কিত কথোপকথনের একটি অডিও প্রকাশ করায় কুড়িগ্রামের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নানকে সতর্ক করা হয়েছে।
এনআইডি সেবায় অনিয়ম ও অফিসের কাজে অসহযোগিতা ও অকথ্য ভাষা এবং আক্রমণমূলক আচরণের জন্য মাগুরা জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বেতন বৃদ্ধি দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। কাটাছেঁড়া ‘ড’ ফরম পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়ায় নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিশ্বাস সুজন কুমারকে সতর্ক করা হয়েছে।
সেবাপ্রার্থীর কাছ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণের ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ হওয়ায় বান্দরবানের লামা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. শফিকুল ইসলামের বেতন গ্রেড স্থায়ীভাবে অবনমিত করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রত্যয়নপত্র দেয়া ও গেজেট প্রকাশের কারণে কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. গোলাম আজমকে সতর্ক করা হয়েছে।
ল্যাপটপ চুরি হওয়ায় মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মেহেদী হাসানকে সতর্ক করা হয়েছে। বদলির আবেদনে একজন মন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে সুপারিশ করায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান সোহাগ হাওলাদারকে তিরস্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানার সঙ্গে অসদাচরণ করায় দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা আলিমুল রাজীবের এক বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে। চাকরি দেয়ার নামে অর্থ আদায় করায় মো. কামরুল ইসলামের বেতন নিম্নতর গ্রেডে নামিয়ে দিয়ে ও সাত বছরের জন্য পদোন্নতি স্থগিত করা হয়েছে। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বেতন নিম্নতর গ্রেডে নামিয়ে দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে অনেকের বেতন বৃদ্ধি বিভিন্ন মেয়াদে স্থগিত এবং অনেকের বেতন নিম্ন বেতন গ্রেডে নামিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সাংবিধানিক এ সংস্থা।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত সার্ভিস লেনটি আগামীকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে সাধারণ যানবাহনের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। এটি এই মেগা প্রকল্পের প্রথম কোনো অংশ, যা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সার্ভিস লেন চালু হওয়ার ফলে রাজধানীর উত্তরা থেকে আশুলিয়া অভিমুখে যাতায়াতকারী যানবহনগুলোর যাতায়াত উভয় দিক থেকেই অনেক সহজ হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটিই প্রকল্পের আওতায় প্রথম অংশ, যার সুবিধা জনসাধারণ আগামীকাল থেকে ভোগ করতে পারবেন। সার্ভিস লেনটি আগামীকাল খুলে দেওয়া হচ্ছে।’
এর আগে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার জানান যে, এই প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুই লেনের দুটি পৃথক সার্ভিস সেতু সাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার। আগামীকাল ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ধউর সেতুর ওপর সেতু দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সার্ভিস লেনটি উন্মুক্ত করবেন।
প্রকল্পের নথিপত্র অনুসারে, তুরাগ নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই দিকটি বিবেচনায় নিয়ে সার্ভিস লেন ও এক্সপ্রেসওয়ের মূল লেন নির্মাণ করা হয়েছে। এই বিশেষ নকশার কারণেই স্থানীয় যানবাহনের সুবিধার্থে উড়ালপথে পৃথক দুটি সার্ভিস লেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশের নির্মাণকাজের পাশাপাশি পিচ ঢালাই ও রোড মার্কিংয়ের কাজ গত আগস্ট মাসেই সম্পন্ন হয়েছে।
দেশে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং অচিরেই উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সৃষ্ট এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির চাপ এখন থেকে শহর ও গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণভাবে বণ্টন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘লোডশেডিং নিয়ে একটি বিস্তারিত ডেটা আমরা আপনাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি। জ্বালানি নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হয়েছে। আশা করছি, যে পরিমাণ লোডশেডিং আছে, সেটা খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে।’
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, অতীতে ঢাকাকে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার এই সংকটের বোঝা সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর মতে, বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকলেও কেবল প্রভাবশালীদের আবাস্থল হিসেবে তাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এ সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, লোডশেডিংটা সবাই ভাগ করে নেবে। তাই ঢাকায় এখন আমরা লোডশেডিং দেখছি।’
আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করি আগামী সপ্তাহে আপনাদের সেই ডেটাটাও দেব। ওই ডেটা নিয়ে আমি কাজ করছি। ওই সময়ও কী পরিমাণ লোডশেডিং ছিল, কত মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে সেটা জানা যাবে।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, আগের সময়গুলোতে লোডশেডিংয়ের বড় অংশই গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সেই প্রথা থেকে বেরিয়ে এসেছে।
বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ হিসেবে তিনি জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসায় মানুষের অর্থনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে, যার ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বর্তমানে ঢাকা শহরের ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় পরিকল্পিত লোডশেডিং করে সেই বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চল ও শিল্প-কারখানায় সরবারহ করা হচ্ছে। এর ফলে ঢাকার বাইরের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
পরিশেষে জনগণের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি এবং এ সংকটের কষ্টটা আমাদের সবাইকে কমবেশি নিতে হবে। এ কষ্ট খুব দীর্ঘ সময় থাকবে, সেটাও আমরা মনে করি না। সে ব্যাপারে সরকারের যথেষ্ট উদ্যোগ আছে।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত শেষে তিনি এই বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. মঈন খান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান।
এ সময় আরও অংশ নেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী সালাউদ্দীন টুকু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম।
এছাড়াও জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত তাঁদের সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারতের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই সময় তাঁর সাথে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল থেকেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শেরেবাংলা নগর এলাকায় সমবেত হন। সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তারেক রহমান ফাতেহা পাঠ করেন এবং সেখানে মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তারেক রহমান দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে, ‘গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকরা অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।’ দলের চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশে জনগণ বারবার বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।’
দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে।’
দলটির পক্ষ থেকে পাঁচ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আজ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশজুড়ে দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর গুরুত্ব নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বৃক্ষরোপণসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর পর্যায়ে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে, তাদের তালিকায় অন্তুভু©ক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটার দাঁড়াচ্ছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ এবং নারী ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার জন। ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার জন।
ভোটার তালিকা আইন ২০০৯ অনুযায়ী, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ফরম-৬ এর মাধ্যমে দাবি, ফরম-৭ এর মাধ্যমে আপত্তি এবং ফরম-৮ এর মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে।
ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করে তা ২৭ আগস্টের মধ্যে এসব আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আবেদনগুলোর ওপর গৃহীত সিদ্ধান্ত ২৮ আগস্টের মধ্যে তালিকায় সংযোজন করে আজ ৩১ আগস্ট হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।
আগামী সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি৷ এক্ষেত্রে ইউনিয়ন ও পৌরসভা ভোট আগে করার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।
সেপ্টেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিদ্যমান মূল্যে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা বহাল থাকবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অপারেশন-১ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ মূল্য কার্যকর হচ্ছে।
এর আগে গত ৩১ মে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের এসব মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে সেপ্টেম্বর মাসের জন্যও নির্ধারিত ওই মূল্যহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সফরকালে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ বলেছেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনে আইপিইউ’র পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী ও তরুণ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বক্তব্য রাখেন।
নারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নেতিবাচক সামাজিক রীতি, কুসংস্কার ও অনলাইন বিদ্বেষসহ নারীদের যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তা মোকাবিলায় আইপিইউ কিছু কার্যকর উপায় তৈরি করেছে।
তিনি সংসদে নারীদের মধ্যে সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের নারী সংসদ সদস্যদের আইপিইউ’র নারী ফোরাম, জাতিসংঘবিষয়ক স্থায়ী কমিটি ও অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, সংসদ এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থান, যেখানে বিভিন্ন জাতিগত ও সামাজিক সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর শোনা প্রয়োজন।
গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণদের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পুনর্মিলন ও ঐক্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি নতুন ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসন এবং নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৪০ জন নারী সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি নির্বাচিত হয়েছেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশে পূর্ববর্তী শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। তারা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং নির্যাতিত সংসদ সদস্য, তাদের পরিবার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।
তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য না করে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধি দলকে ঘটনাগুলো সরাসরি দেখার এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়সহ অন্যান্য নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য জানার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এরপর বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।
স্পিকার পূর্ববর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেন এবং আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধি দলকে প্রতিবেদনটি পড়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এটি জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্বাধীন প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এ প্রতিবেদন প্রণয়ন বা প্রকাশে কোনো ভূমিকা ছিল না।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতন্ত্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের মানুষ অনেক কিছু হারিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষ হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে অনেক কষ্ট সহ্য করেছে এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তরুণদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ হুইপ এ সময় আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান।
মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, মোছা. তাহসিনা রুশদী, আখতার হোসেন, সানসিলা জেবরিন, মানসুরা আক্তার, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, মাধবী মার্মা, মারদিয়া মমতাজ এবং মোছা. নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি ফ্যাসিস্ট আমলের নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এ গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে বাড়তি বেতন একসঙ্গে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করা হয়। বৈঠক ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নতুন বেতনস্কেলে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ এ গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ।
অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ।
গ্রেডভেদে কত হচ্ছে নতুন মূল বেতন: নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ২য় গ্রেডে ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার, ৩য় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার এবং ৪র্থ গ্রেডে ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৫ম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার, ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার, ৭ম গ্রেডে ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার এবং ৮ম গ্রেডে ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার এবং ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
নিচের গ্রেডগুলোতেও উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০, ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার থেকে ২৪ হাজার এবং ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একইভাবে ১৫তম গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০, ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৪০০ এবং ১৮তম গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ থেকে বেড়ে ২১ হাজার টাকা করা হয়েছে।
আর ১৯তম গ্রেডে ৮ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৫০০ এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলে নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন প্রায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ছে।
একসঙ্গে নয়, তিন ধাপে বাড়বে বেতন: নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও পুরো বেতন বৃদ্ধি একবারে কার্যকর হচ্ছে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারের ওপর একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয়ের চাপ কমানো এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাব সামাল দিতেই এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে বিভিন্ন ধরনের ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কম পেনশনে বাড়ছে বেশি—সর্বোচ্চ সুবিধা ১০০ শতাংশ: নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্যও এসেছে বড় পরিবর্তন। কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নতুন স্ল্যাব অনুযায়ী—৯ হাজার টাকা বা কম নিট পেনশন হলে বাড়বে ১০০ শতাংশ, ৯,০০১ থেকে ২০ হাজার টাকা হলে বাড়বে ৭৫ শতাংশ, ২০,০০১ থেকে ৩০ হাজার টাকা হলে বাড়বে ৬৫ শতাংশ, ৩০,০০১ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বাড়বে ৬০ শতাংশ এবং ৪০,০০১ টাকা বা বেশি হলে বাড়বে ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ যারা দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন এবং তুলনামূলক কম পেনশন পান, তারাই এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন।
তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি) এখনই পুরোপুরি চালু হচ্ছে না। তথ্যের ঘাটতি ও বিপুল আর্থিক ব্যয়ের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ওআরওপি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা: নতুন বেতনস্কেলে প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসিক ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য একজন সরকারি কর্মচারী মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। অতিরিক্ত পরিচর্যা, চিকিৎসা ও পারিবারিক ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এটি নতুন বেতন কাঠামোর অন্যতম মানবিক সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডেই মোবাইল ভাতা: ডিজিটাল সরকারি কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মোবাইল ভাতার আওতাও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন। আগে নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত কর্মচারীরা এই সুবিধা পেতেন।
ই-মেইল, অনলাইন সভা, ডিজিটাল ফাইল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক কাজের কারণে এখন প্রায় সব পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীকেই মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী।
তবে এই সুবিধার বিপরীতে সরকারের ব্যয়ও বাড়বে উল্লেখযোগ্যভাবে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২৩ সদস্যের কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়।
কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল।
পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশ, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
এখন অপেক্ষা প্রজ্ঞাপনের: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এখন শুরু হবে নতুন বেতনস্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে নতুন বেতনস্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটালেও এর বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে। বেতন বাড়ার স্বস্তির পাশাপাশি সরকারের সামনে থাকবে বাড়তি ব্যয় সামলানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিপুল সংখ্যক কর্মচারী ও পেনশনভোগীর জন্য নতুন কাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ।
ঢাকা মহানগরীর পরিবেশ উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের সীমানা নির্ধারণ ও খনন, বৃক্ষরোপণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও ময়লার বিন প্রতিস্থাপন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মন্ত্রী বলেন, ‘দিনের বেলায় রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকলে তা নগরের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। তাই রাতের বেলায় বর্জ্য সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’
ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নে রাস্তার দুই পাশে বারোমাসি ফুলের চারা রোপণের পরামর্শ দিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘নগরকে শুধু পরিচ্ছন্ন নয়, নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ ভিশন দ্রুত বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল পুনরুদ্ধার, সবুজায়ন, পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় ঢাকা মহানগরীর চলমান উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি খালের সীমানা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খালগুলোর সীমানা চিহ্নিতকরণও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উভয় সিটি করপোরেশনে সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সভায় জানানো হয়, ঢাকার মিয়াওয়াকি আরবান ফরেস্টে ইতোমধ্যে রাতে জোনাকির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা পরিবেশ উন্নয়নের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সবার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে কাজে আরও গতি আনার তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি তদারকি করছেন উল্লেখ করে তিনি বাস্তবভিত্তিক সমাধান, আগে-পরের তুলনামূলক চিত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দেন, যা পরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।
সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কারিগরি শিক্ষাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর, একটি আন্তর্জাতিক সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন এবং তিনটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম চালুর মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক ৩ দিনের চীন সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘চীন সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে’ এ তথ্য জানান তিনি।
ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত কার্যকর ও স্বল্প খরচে মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা প্রদানে চীনের সুখ্যাতি রয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে আমাদের এই স্বল্পসময়ের সফরে চীনের ৫০টিরও বেশি প্রথম সারির কারিগরি ও বৃত্তিমূলক বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট ও শিল্প খাতের প্রতিনিধির সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সফরের মূল অর্জনকথা হলো বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি রচিত হয়েছে।’
তিনি জানান, সফরকালে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল অ্যাডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ’ সেন্টার শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক ছাড়াও ‘চায়না-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড অ্যাডুকেশন ইন্টিগ্রেশন ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস সেন্টার’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি যৌথ সহযোগিতা জোরদারে আরও তিনটি প্ল্যাটফর্মের সূচনা হয়েছে, যা হলো ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ ভোকেশনাল অ্যাডুকেশন রিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশ ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ সহযোগিতা কেন্দ্র।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের তরুণদের দক্ষতায় উন্নীত করে দ্রুত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন চীনা ভাষার ওপর দক্ষতা অর্জন করে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক সংস্থায় সহজে কর্মসংস্থান পেতে পারে, সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো দক্ষতাকে সরাসরি কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা। শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক বৃত্তির সুযোগ বাড়ানো, যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালুকরণ এবং তৃতীয় ভাষা হিসেবে চাইনিজ শেখার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে এ দেশের তরুণরা বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। চীন থেকে আগত কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতেও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির গৌরবোজ্জ্বল ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসী ও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি দেশে রুদ্ধ হওয়া গণতন্ত্র পুনরায় ফিরিয়ে এনেছিলেন, যার ফলে বাংলাদেশে বহুমাত্রিক রাজনীতির নতুন পথচলা শুরু হয়।
বিএনপির প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘১৯৭৮ সালের এই দিনে এক শুভ বিকেলে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে (রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিশপ্ত একদলীয় 'বাকশাল' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।’
শহীদ জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে প্রথমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়। বিএনপির গৌরবময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।’
দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ ক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে তিনি লেখেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী মরহুম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যিনি তার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।’
তারেক রহমান তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি কেবল সুশাসন নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করছে। তিনি লেখেন, ‘গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে, করছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকগণ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যাঁরা প্রাণোৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন, আমি সকল পর্যায়ের সেই নেতাকর্মীর অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।’
বিগত বছরগুলোতে বিএনপির জনপ্রিয়তা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দলটি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষে জনগণের ক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। বিএনপির অপর নাম- একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি আবারও গণতন্ত্রকামী, স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাই।’
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সফরকালে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ বলেছেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনে আইপিইউ’র পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ।
আজ জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী ও তরুণ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বক্তব্য রাখেন।
নারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নেতিবাচক সামাজিক রীতি, কুসংস্কার ও অনলাইন বিদ্বেষসহ নারীদের যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তা মোকাবিলায় আইপিইউ কিছু কার্যকর উপায় তৈরি করেছে।
তিনি সংসদে নারীদের মধ্যে সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের নারী সংসদ সদস্যদের আইপিইউ’র নারী ফোরাম, জাতিসংঘবিষয়ক স্থায়ী কমিটি ও অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, সংসদ এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থান, যেখানে বিভিন্ন জাতিগত ও সামাজিক সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর শোনা প্রয়োজন।
গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণদের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পুনর্মিলন ও ঐক্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি নতুন ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসন এবং নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৪০ জন নারী সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি নির্বাচিত হয়েছেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশে পূর্ববর্তী শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। তারা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং নির্যাতিত সংসদ সদস্য, তাদের পরিবার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।
তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য না করে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে ঘটনাগুলো সরাসরি দেখার এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়সহ অন্যান্য নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য জানার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এরপর বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।
স্পিকার পূর্ববর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেন এবং আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে প্রতিবেদনটি পড়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এটি জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্বাধীন প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এ প্রতিবেদন প্রণয়ন বা প্রকাশে কোনো ভূমিকা ছিল না।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতন্ত্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের মানুষ অনেক কিছু হারিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষ হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে অনেক কষ্ট সহ্য করেছে এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তরুণদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ হুইপ এ সময় আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান।
মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, মোছা. তাহসিনা রুশদী, আখতার হোসেন, সানসিলা জেবরিন, মানসুরা আক্তার, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, মাধবী মার্মা, মারদিয়া মমতাজ এবং মোছা. নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি ফ্যাসিস্ট আমলের নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রঃ বাসস
সীমান্তে মাদকপাচার, চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত হত্যা নিরসনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত এই বাহিনীর পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আজ বঙ্গভবনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো: সরওয়ার আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষাৎকার চলাকালে বিজিবি মহাপরিচালক নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাহিনীর বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। সীমান্তে কড়া নজরদারি নিশ্চিত করতে বিজিবিতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান।
বিজিবির ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার বন্ধে অতন্দ্র প্রহরী বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ বাহিনীতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি এ ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।