দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএনপির সংসদ সদস্যদের ছেড়ে দেয়া ছয় সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন। ছয় আসনের মধ্যে তিনটিতে (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ ও বগুড়া-৬) প্রার্থী দিয়ে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাদের সমর্থন দেয়া ১৪-দলীয় জোটের প্রার্থীও জয় পেয়েছেন বগুড়া-৪ আসনে। তবে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে হেরে গেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী। আর উন্মুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জয় পেয়েছেন আসনটি ছেড়ে দিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া।
বুধবার রাতে আসনগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব প্রার্থীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলে। তবে দিনভর সব আসনেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুরোটা সময়ই ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরতদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া বাকি আসনগুলোয় তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবরও পাওয়া যায়নি।
সারা দিনের ভোটের মাঠ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ও ৩ আসনে ভোটের মাঠে ছিলেন ৯ প্রার্থী। আওয়ামী লীগ ছাড়াও ছিলেন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা। তবে ভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ ছিল না। তার প্রতিফলন দেখা গেল ভোটের দিনেও। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ভোট পড়েছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ভোট পড়েছে একটু বেশি, ২৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে সকালে ভোট গ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণ পরই সেখানে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সোয়া ১০টার দিকে ওই ভোটকেন্দ্রের মাঠ থেকে পাওয়া যায় একটি ককটেল। র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয় দল সেটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে বেলা আড়াইটার দিকে আদর্শ স্কুল কেন্দ্রের অদূরে শান্তি মোড় এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় আওয়ামী লীগের দুই কর্মীর দুই মোটরসাইকেল ভাঙচুর হয়। কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার কথা জানান ছাত্রলীগ নেতারা। পরে ওই এলাকায় অতিরিক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর আর অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনেও শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে ভোট। সেখানেও ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিল। ওই আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার বেশ কিছু কেন্দ্র তার নির্বাচনী এজেন্ট বের করে দেয়ার কথা বললেও সে অভিযোগের সত্যতা পাননি বলে জানিয়েছেন ওই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।
ভোট শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় আমরা একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করেছি। দু-একটি ছোটখাটো বিচ্ছন্ন ঘটনা ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করেছি।’
ভোটারদের খরা ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনেও। এই আসনে ভোট পড়েছে মাত্র ১৫ শতাংশের কিছু বেশি। আশুগঞ্জ উপজেলা তারুয়া শালুকপাড়া বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল পৌনে ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়ে মাত্র পাঁচটি। আশুগঞ্জের উপজেলার আরেক কেন্দ্র আড়াইসিধা কে বি উচ্চবিদ্যালয়ে ৪০ মিনিটে ভোট দেন মাত্র চারজন। একই চিত্র দেখা গেছে অন্য কেন্দ্রগুলোতেও।
নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়ের মতো ভোটের দিনও আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার পক্ষেই মাঠে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ নেতাদের। ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়েও যেতে দেখা গেছে তাদের। অন্যদিকে নিখোঁজ হয়ে আলোচনায় আসা আবু আসিফ আহমেদের দেখা এদিনও মেলেনি। অনেক কেন্দ্রেই তার এজেন্টও দেখা যায়নি। তবে আসিফের স্ত্রী মেহেরুন্নিছার অভিযোগ, কিছু কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। উপনির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরবিন্দ বিশ্বাস অবশ্য জানান, এজেন্ট বের করে দেয়ার কোনো অভিযোগ পাননি।
এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বগুড়া-৬ তথা সদর আসনের বগুড়া জিলা স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রে ভোটার নেই বললেই চলে। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রথম ১ ঘণ্টায় সেখানে ভোট দেন মাত্র ৩১ জন। শহরের চকসূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ৪৬টি। বাকি কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও ছিল একই। এ আসনে দিন শেষে ভোট পড়েছে ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
বগুড়া-৪ আসনেও দেখা যায়নি ভিন্ন চিত্র। কহুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়ে মাত্র ৭০টি। আবার কাহালুর দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেলা ২টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ২৪০টি। সব মিলিয়ে এ আসনে ভোট পড়েছে ২৪ শতাংশেরও কম।
এদিকে বগুড়া-৬ আসনের এক কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ ছিল। পরে স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘণ্টাখানেক কেন্দ্রটিতে অবস্থান নেন। তবে অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি বলে জানান কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নুর উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।
এ ছাড়া কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করেন বগুড়া-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান। ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদার রহমান।
ঠাকুরগাঁওয়ে ভোটারদের কম উপস্থিতির পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নিয়ে জটিলতার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অভিযোগে বেশ কিছু কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয় দেরিতে। পরে এক ঘণ্টার মধ্যে সেসব সমস্যার সমাধান করা হয়। শুরুর দিকে কেন্দ্রগুলোতে পুরুষ ভোটারদের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।
এই আসনের দুই উপজেলার ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রে সারা দিন ভোটারদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি। বেলা ২টার পর রাণীশংকৈল-পীরগঞ্জ উপজেলার ২০টিরও বেশি কেন্দ্র ঘুরে কোনো ভোটারই দেখা যায়নি। তবে কিছু ভোটকেন্দ্রে শতবর্ষীসহ প্রবীণ ভোটারও দেখা গেছে। পাশাপাশি প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অন্য আসনগুলোর তুলনায় এ আসনে ভোট পড়েছে একটু বেশি, ৪৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।
বিকেলে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের আঞ্চলিক রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিন বলেন, যেসব ভোটার ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছেন, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়েছেন। কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি।
সন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশন
অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ না পাওয়া এবং তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় ছয় সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ভোট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা টিভি চ্যানেলগুলোর ওপর সর্বক্ষণ দৃষ্টি রেখেছিলাম। অনিয়ম বা কারচুপির উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অনলাইন পত্রিকা বিশেষভাবে পাঠ করেছি। ছয়টি জায়গায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হয়েছে। একটি জায়গায় তাজা ককটেল পাওয়া গেছে। ভোটকেন্দ্রের বাইরে দু-একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর বাইরে তেমন কিছু ঘটেনি।’
ওই সময় ছয় আসনে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট পড়তে পারে বলে ধারণা দেন সিইসি।
ভোটে জিতলেন যারা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ৪৪ হাজার ৯১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন কলার ছড়ি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ ভাসানী পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৩৫ ভোট।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ৯২ হাজার ৯২৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মু. জিয়াউর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ২৫ হাজার ৩৯৯ ভোট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের আব্দুল ওদুদ ৫৯ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটন পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৯৮০ ভোট।
বগুড়া-৪ আসনে ২০ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৫৭১ ভোট। মাত্র ৮৩৪ ভোটে তিনি পরাজিত হয়েছেন। বগুড়ার আরেক আসন সদরে ৪৯ হাজার ৩৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (‘বিদ্রোহী’) আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ২১ হাজার ৮৬৪ ভোট। এই আসনে হিরো আলম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৭৪ ভোট।
এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ইয়াসিন আলীকে হারিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। তিনি পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’) গোপাল চন্দ্র রায় পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩০৯ ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা ইয়াসিন পেয়েছেন ১১ হাজার ৩৫৬ ভোট।
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন দৈনিক বাংলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি এবং প্রতিবেদকরা]
স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান ও গতি বাড়বে, কমবে সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি—দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন স্বপ্নই দেখিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সরকারের দেড় বছরের পরিসংখ্যান মেলাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, স্বপ্নের ছিটেফোঁটাও বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকটি সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে সময়মত টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণে দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, ঘটছে মৃত্যু। এছাড়া জানা গেছে, বছরের প্রথম দিকে অর্থাৎ জানুয়ারিতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হয়। বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের জানা থাকলেও ভ্যাকসিন সংগ্রহে জটিলতার কারণে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলেই বর্তমানে সংক্রমণ বাড়ছে হামের। ঘটছে মৃত্যু। এছাড়া সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাব এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও ছিল প্রকট। ফলে সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণে বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্যখাত চরমভাবে ভুগছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে।
স্বাস্থ্য খাত-সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়িত্ব নিয়ে কাগজে-কলমে কিছু অগ্রগতি দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাব এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আগের মতোই ছিল। এমনকি স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের দেওয়া সুপারিশও পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সমস্যা চিহ্নিতে গুরুত্ব, সমাধানে ভাটা: অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য খাতের নানা সমস্যা চিহ্নিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বছরের ৮ আগস্ট রাজধানীর মিন্টু রোডের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য খাতের ১০টি বড় সংকট বা ‘রোগ’ শনাক্তের কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান।
সেদিন তিনি বলেছিলেন, মেধা, জ্ঞান ও যোগ্যতা থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা। পাশাপাশি অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষজ্ঞনির্ভর চিকিৎসা, প্রাথমিক চিকিৎসা উপেক্ষা করে বিশেষজ্ঞের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, স্বচ্ছতার অভাব ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবলহীনতা, চিকিৎসা সামগ্রী, ওষুধ ও চিন্তায় বিদেশনির্ভরতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পনায় দুর্বলতা, চিকিৎসা শিক্ষায় মানহীনতা, নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনায় অকার্যকারিতা এবং স্বাস্থ্য বাজেট বরাদ্দ ও ব্যবহারজনিত সমস্যা। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আমূল পরিবর্তনেও ছিল ধীরগতি। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে ৩৩টি জরুরি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ৬টি বাস্তবায়ন হওয়ায় খাতটি চরমভাবে ধুঁকছে। এখন এই দুর্বল খাতটিকে টেনে তুলতে গিয়ে হিমসিম অবস্থা বর্তমান সরকারের।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও সেবার মানোন্নয়নের পরিবর্তে আলোচনায় ছিল প্রশাসনিক অচলাবস্থা, চিকিৎসকদের অসন্তোষ এবং নীতিগত দুর্বলতা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্যের ১৪টি খাতে অর্থ বরাদ্দ হয় অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের বছর ২০২৪ সালেই ওপি থেকে বেরিয়ে আসে সরকার। এতে স্বাস্থ্যের সব উন্নয়নমূলক কাজে স্থবিরতা নেমে আসে। ফলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান, পুষ্টিসহ ৩৭টির বেশি কর্মসূচি ব্যাহত হয়।
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মাত্র ৫ শতাংশ: জনস্বাস্থ্যবিদরা আশা করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। জাতীয় বাজেটের ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয় স্বাস্থ্য খাতে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সেবা খাতে কোনো সফলতাই দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার।
উপরন্তু স্বাস্থ্য খাত কর্মসূচি বা হেলথ সেক্টর প্রোগ্রাম বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, দাতা সংস্থার অগ্রাধিকার অনুসরণ করে স্বাস্থ্য খাত কর্মসূচি পরিচালিত হতো।
ওষুধশিল্প ঝুঁকিতে: এদিকে, হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের যাতায়াতের ব্যাপারেও বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতপার্থক্য তৈরি হয়। ফলে ওষুধশিল্পের মালিকরা তখন অভিযোগ আনেন, অন্তর্বর্তী সরকার ওষুধশিল্পকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হলে শুরু থেকেই জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। কেন তাকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলো এ নিয়ে বিস্ময় ও আলোচনা ছিল ব্যাপক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রশ্নগুলোর পেছনে বিভিন্ন অভিযোগ এখন সামনে আসতে শুরু করেছে।
এদিকে, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টিও ভাবতে বলেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরজাহান বেগমকে ঠিক কোন যোগ্যতায় স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদে বসিয়েছিলেন ড. ইউনূস? এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
গতকাল সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন সায়ের। তিনি বলেন, যারা ইউনূস সাহেবকে রাত-দিন পূজা করেন, তাদের প্রতি পরামর্শ রইল— পূজা-অর্চনার পাশাপাশি তাকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টিও ভাবতে শুরু করুন।
ফেসবুক পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের বলেন, দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে হামের প্রকোপে ৪১ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের আগস্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়াই এইচপিএনএসপি তথা ওপি–ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়ার কারণে আজ দেশে হামসহ আরো ৮-১০টি রোগের টিকার সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, নূরজাহান বেগম বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে কী কী কাজ করেছেন সেসবের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে। আমরা জানতে আগ্রহী ইউনূস সাহেবের পছন্দে নিয়োগ পাওয়া এই মহিলা আসলে কী করেছেন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা জুলাই বিপ্লবের আগে যেখানে ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সেখান থেকে বের হতে পারেনি।
স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, ১৬ বছরের আওয়ামী শাসন স্বাস্থ্য প্রশাসনে ব্যাপক ও গভীর বিশৃঙ্খলা তৈরি করে রেখেছিল। নিয়মনীতির বালাই ছিল না। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এক বছরে প্রায় সাড়ে আট হাজার চিকিৎসক বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ ছিল আমলাদের ও সরকারি চাকরিতে থাকা চিকিৎসকদের একটি অংশ সরকারকে সহযোগিতা করেনি। দাতাদের কেউ কেউ প্রতিশ্রুত সহায়তা দিতেও বিলম্ব ঘটায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, দরকারি অথচ জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়ে রাজনৈতিক সরকার করতে চায় না, এমন কাজই অন্তর্বর্তী সরকারের করা উচিত ছিল। যেমন স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, মানহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধ করা। কিন্তু সেটা তারা করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে আটকে পড়া ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একইসঙ্গে তিনি দেশে এই মুহূর্তে কোনো জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে দেশে ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে প্রধানমন্ত্রী কী ভূমিকা পালন করছেন, তা জানতে চান তিনি। এছাড়া, জাতিসংঘের প্রেসিডেন্সি পদে থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ালেও দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে তিনি কী করছেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য। এ সময় স্পিকার তাকে কেবল একটি প্রশ্ন করার নিয়ম স্মরণ করিয়ে দেন।
জবাবে সংসদ সদস্যকে অনেক নির্যাতনের পর সংসদে আসায় অভিনন্দন জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, উনি একজন ব্যারিস্টার, ল’ইয়ার মানুষ। উনার সম্পূরক প্রশ্নের অর্থ বোঝা উচিত, কারণ মূল প্রশ্নের সঙ্গে এই সম্পূরক প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক ছিল না।’
এরপর জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা না না বলে প্রতিবাদ জানান।
পরে শামা ওবায়েদ বলেন, জ্বালানি যেন আমরা একাধিক উৎস থেকে সরবরাহ করতে পারি, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও অন্যান্য যেসব উৎস থেকে আমরা জ্বালানি আনতে পারি, সে বিষয়ে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি এবং ইনশাআল্লাহ আমরা সফল হবো।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সেখানকার মিশনগুলো ২৪ ঘণ্টা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী সংসদকে জানান, চলমান এই সংঘাতে দুর্ভাগ্যবশত পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হলেও তাদের মধ্যে দু’জনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশিরা কখন কোথায় যুদ্ধের মধ্যে পড়ছেন, তা অনেক সময় তারা নিজেরাই বুঝতে পারেন না। এমন জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও তেহরান থেকে আইওএম-এর সহযোগিতায় ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমানে সরকারের একমাত্র অগ্রাধিকার বলে তার বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
খেলাধুলার বিভিন্ন শাখায় যারা সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন ইতোমধ্যেই তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে জানিয়ে আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যারা বিজয়ীর পুরস্কার নিয়েছেন তাদের প্রত্যেকেরই প্রতিপক্ষ ছিল। প্রতিপক্ষ ছিল বলেই আপনি বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছেন। সুতরাং খেলাধুলায় পরাজয়ের অর্থ কিন্তু হেরে যাওয়া নয় বরং জয়েরই একটা অংশ। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয় বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুটি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।
সোমবার (৩০ মার্চ) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলবার্ট আইন্সটাইন যেমন বলেছিলেন, যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি সে কখনো কিছু করেইনি। আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা পুরস্কার গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিটি খেলাকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তুলতে যারা অংশগ্রহণ করেছেন আমি সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে আপনাদের পরিবার, কোচ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যারা যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের এবং পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দেরকে ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
তারেক রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদেরকে বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। সকল শ্রেণিপেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই পর্যায়ক্রমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম খতিব এবং অন্য ধর্মের ধৰ্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদান, এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচি। এভাবেই দেশ এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হলো ‘ক্রীড়া কার্ড’ । শারীরিক প্রতিবন্ধী যারা ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম তারাও ক্রীড়া কার্ড পাবেন। ‘সবার জন্য ক্রীড়া’— এই প্রতিপাদ্যে সরকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী কিংবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি যারা খেলাধুলায় অংশ নিতে চান, তাদের জন্যও দেশে বিদেশে সকল ধরনের সুবিধা প্রদান করতে সকল ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার ব্যাপক এবং বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে ক্রিকেট এবং ফুটবল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় খেলা। তবে এসব খেলার পাশাপাশি আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, ভারোত্তোলন, উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল এবং ব্যাডমিন্টনের মতো আরো অনেক ক্রীড়া রয়েছে যেসব খেলাগুলো সরকারি - বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব খেলাগুলোও দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে সক্ষম। আপনারা দেখেছেন সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
শিক্ষা কারিকুলামে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী ছেলে মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই যাতে খেলাধুলার সুযোগ পায় এ জন্য শিক্ষা কারিকুলামে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, আমাদের সন্তানেরা পড়ালেখার পাশাপাশি ছোটবেলায় নিয়মিত খেলাধুলায়ও আগ্রহী এবং পারদর্শী হয়ে উঠবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইতোমধ্যেই খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ শুরু হয়েছে।
আগামী ৩০ এপ্রিল ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু হচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান শুরু ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবেনা বলে আমি বিশ্বাস করি। আপনাদের প্রতি আহবান, পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নয় বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিতিনিধি হয়ে উঠুন। দেশে বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।
দেশে তথাকথিত আর কোনো ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল গণপিটুনির ঘটনা আর সহ্য করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, দাবি আদায়ের নামে সড়ক অবরোধ বা জনসমাবেশের আড়ালে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন।
আলোচনার সময় রুমিন ফারহানা পূর্ববর্তী সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রসঙ্গ তুলে বর্তমান সময়ের ‘মব কালচার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এ ধরনের ঘটনায় আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি, ২১ ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনায় নিজেও ভুক্তভোগী হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি এবং এই প্রবণতা ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকার স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে—দেশে কোনো ধরনের মব কালচার চলবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যে সড়ক অবরোধের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা আর বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানান তিনি।
মব এবং সংগঠিত অপরাধের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সব ধরনের সহিংস ঘটনাকে মব বলা ঠিক নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনায় পরিকল্পিত হামলা ও ভাঙচুর সুসংগঠিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের দাবি থাকতেই পারে, তবে তা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করতে হবে। স্মারকলিপি প্রদান, সেমিনার আয়োজন বা শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশের মাধ্যমে মত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, সরকার বাকস্বাধীনতা ও সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করবে, তবে মবের মাধ্যমে দাবি আদায়ের সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক’ মন্তব্য করায় জামায়াত নেতা ও কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছেন। গত ২৬ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মুফতি আমির হামজা তাকে ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন, যা তার ধর্মীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এতে তার ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় দায়ের করা এ মামলায় আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার বাদীর আবেদন ও উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত আমলে নিয়ে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
এদিকে, সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিএনপি নেতারা মুফতি আমির হামজার এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য অনভিপ্রেত। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সিআইডির উপপরিদর্শক মো. আব্দুল হান্নান দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপদেষ্টার এপিএস হিসেবে দায়িত্বরত থাকাকালে তদবির বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্জিত এই অর্থ তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং বা অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি যেকোনো সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা একান্ত প্রয়োজন।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার দুপুরে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ব্রিগেডিয়ার সবিহউদ্দীন আহমেদ অডিটোরিয়ামে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ।
মতবিনিময় সভার উপস্থাপনায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার চলমান কার্যক্রম ও সাফল্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। এখানে উল্লেখ করা হয় যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক ১৯৭৭ সালে দেশের নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি বিপ্লবের বিকাশ, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনস্বার্থের উন্নয়নের জন্য গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গঠন করা হয়। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতায়নের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র শিল্প গড়াসহ নানা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
সভায় জ্বালানিমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আবেগে গড়া পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে বর্তমানে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানের জন্য চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এ ছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আবেগ ও স্বপ্নে গড়া পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে কোনো অশুভ শক্তির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে না মর্মে মতামত ব্যক্ত করেন।
পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক গঠিত মূল প্রতিষ্ঠান পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে কোনোক্রমে দুর্বল করা যাবে না। মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎসেবা প্রদানের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন জ্বালানিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘একটি মহল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান নষ্ট করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়। আরইবি এবং আরইবির অধীনস্থ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো সৃষ্টির শুরু থেকে যেভাবে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ঠিক সেভাবেই ভবিষ্যতেও কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ ঝড়-বৃষ্টির পর প্রান্তিক জনগণের দ্বারপ্রান্তে দ্রুত মানসম্মত বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে লাইন ফল্ট দ্রুত নিরসনের জন্য বিদ্যুৎ লাইনে ফল্ট লোকেটর স্থাপনের পাশাপাশি সিস্টেম লস কমানোর লক্ষ্যে বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য কমানোর পরামর্শ প্রদান করেন। সেই সাথে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ডিজেল চালিত পাম্পের পরিবর্তে সোলার পাম্প স্থাপনের জন্যও পরামর্শ প্রদান করেন।
এ ছাড়া গ্রাহকসেবার গুণগত মানবৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎসেবা প্রদানের লক্ষ্যে যুগোপযোগী আধুনিক ও টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণের লক্ষ্যে প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব বিদ্যুৎ বিভাগে প্রেরণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনহীন দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদন ব্যতীত পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে।
সোমবার ইউজিসির ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশন বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোছা. জেসমিন পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন ব্যতীত বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস এবং স্টাডিসেন্টার/টিউটোরিয়াল সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন ব্যতীত স্থাপিত ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহের একটি তালিকা ইতোমধ্যে কমিশন কর্তৃপক্ষের হস্তগত হয়েছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা, ২০১৪ এর অধীনে দেশে-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস এবং স্টাডি সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার বিধান রয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, অননুমোদিতভাবে পরিচালিত সকল প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা, ২০১৪ এর ধারা ৪(৩) এর দফা (ঝ) অনুযায়ী অনুমোদন পাওয়ার লক্ষ্যে আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন কমিশনে দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। একইসাথে, ঐ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাসহ সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হলো। অন্যথায়, অননুমোদিতভাবে পরিচালিত ঐ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে মাল্টার রাষ্ট্রদূত (বাংলাদেশ ও ভারত) রিউবেন গাউচির নেতৃত্বে তিন সদস্যের এক প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার পুলিশ সদরদপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সাক্ষাতে মাল্টার রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত আইজিপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রদূত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধ, সাইবার ক্রাইম, মানবপাচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
আইজিপি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে পুলিশের ভাবমূর্তি ও সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মাল্টার সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জনগণের প্রকৃত কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম -দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সোমবার সচিবালয়য়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্বকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
মন্ত্রী বলেন, যে সব প্রকল্প প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলোর কারণ চিহ্নিত করতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখতে জমির উর্বরতা পুনরুদ্ধার এবং মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে মাটির অম্লতা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মাটির ক্ষতির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়াচ্ছে। মন্ত্রী এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মাটির অম্লতা হ্রাসে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সভায় জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অগ্রগতি ৪২ দশমিক ১৮ শতাংশ।
সভায় কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দুই উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও তিন সহকারী পুলিশ কমিশনারের (এসি) দায়িত্বে রদবদল করা হয়েছে। সোমবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত পৃথক দুই আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের ডিসি মো. শাহরিয়ার আলীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের ডিসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার স্থানে ডিবির উত্তরা বিভাগের ডিসি (ভারপ্রাপ্ত) মির্জা তারেক আহমেদ বেগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের দারুস সালাম জোনের এসি আরিফুল ইসলাম রনিকে ডিএমপির উত্তরা জোনে, ট্রাফিক বিভাগের মিরপুর জোনের এসি মো. শরীফ-উল আলমকে ট্রাফিক বিভাগের দারুস সালাম জোনে এবং ডিএমপির এসি মো. সেলিম রেজাকে ট্রাফিক বিভাগের মিরপুর জোনে বদলি করা হয়।
সারাদেশে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান এবং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বাড়তি তেল কিনে বাসাবাড়িতে মজুত করছেন, যার কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, চাহিদার তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে বড় পরিসরে জ্বালানি তেলের মজুতদারি পরিস্থিতিকে অযথা জটিল করে তুলছে।
আমদানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও দুই কার্গো জ্বালানি তেল দেশে আসছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা শিথিল (সাংশন ওয়েভার) চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঈদের পরদিন ওয়াশিংটনে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং এখন এর জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
আগামী মাসের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এপ্রিলে জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সংকট হবে না। বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং এপ্রিল মাসে বিভিন্ন জাহাজে করে আরও ১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন তেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ আজ এবং আরেকটি ৩ এপ্রিল আসার কথা রয়েছে।
খেলোয়াড়দের রাজনীতিতে না আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর নয়; বরং ক্রীড়ানৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুন। দেশে-বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।’ সরকারপ্রধান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয়, বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম।
আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।’
সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যারা যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের এবং পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’
তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই পর্যায়ক্রমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানি ভাতা প্রদান এবং সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছে।'
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার ব্যাপক এবং বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ক্রিকেট এবং ফুটবল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় খেলা। তবে এসব খেলার পাশাপাশি আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, ভারোত্তোলন, উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, প্যারা অ্যাথলেটিকস, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল এবং ব্যাডমিন্টনের মতো আরো অনেক ক্রীড়া রয়েছে, যেসব খেলা সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে সক্ষম। আপনারা দেখেছেন সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।’
দেশব্যাপী নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু হতে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি একপর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি দেশের একটি গণমাধ্যমতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লাখ টাকা পৌঁছে যায়।
এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদান করেন তিনি।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শাপলা হলের বাইরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।