মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
২৪ চৈত্র ১৪৩২
ভোটার খরায় ৬ আসনে ভোট

৩ আসনেই জিতল আ.লীগ

আওয়ামী লীগের মনোনয়নে উপনির্বাচনে বিজয়ী (বাঁ থেকে) আব্দুল ওদুদ, জিয়াউর রহমান ও রাগেবুল আহসান রিপু।
আপডেটেড
২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:১১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০০

দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএনপির সংসদ সদস্যদের ছেড়ে দেয়া ছয় সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন। ছয় আসনের মধ্যে তিনটিতে (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ ও বগুড়া-৬) প্রার্থী দিয়ে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাদের সমর্থন দেয়া ১৪-দলীয় জোটের প্রার্থীও জয় পেয়েছেন বগুড়া-৪ আসনে। তবে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে হেরে গেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী। আর উন্মুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জয় পেয়েছেন আসনটি ছেড়ে দিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া।

বুধবার রাতে আসনগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব প্রার্থীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলে। তবে দিনভর সব আসনেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুরোটা সময়ই ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরতদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া বাকি আসনগুলোয় তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবরও পাওয়া যায়নি।

সারা দিনের ভোটের মাঠ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ও ৩ আসনে ভোটের মাঠে ছিলেন ৯ প্রার্থী। আওয়ামী লীগ ছাড়াও ছিলেন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা। তবে ভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ ছিল না। তার প্রতিফলন দেখা গেল ভোটের দিনেও। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ভোট পড়েছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ভোট পড়েছে একটু বেশি, ২৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে সকালে ভোট গ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণ পরই সেখানে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সোয়া ১০টার দিকে ওই ভোটকেন্দ্রের মাঠ থেকে পাওয়া যায় একটি ককটেল। র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয় দল সেটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে বেলা আড়াইটার দিকে আদর্শ স্কুল কেন্দ্রের অদূরে শান্তি মোড় এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় আওয়ামী লীগের দুই কর্মীর দুই মোটরসাইকেল ভাঙচুর হয়। কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার কথা জানান ছাত্রলীগ নেতারা। পরে ওই এলাকায় অতিরিক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর আর অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনেও শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে ভোট। সেখানেও ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিল। ওই আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার বেশ কিছু কেন্দ্র তার নির্বাচনী এজেন্ট বের করে দেয়ার কথা বললেও সে অভিযোগের সত্যতা পাননি বলে জানিয়েছেন ওই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।

কেন্দ্রে ভোটার নেই। ভোটকক্ষে নেই প্রার্থীর এজেন্টরাও। তাই একাকী অলস সময় পার করছিলেন নির্বাচন কর্মকর্তা। ছবি: ফোকাস বাংলা

ভোট শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় আমরা একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করেছি। দু-একটি ছোটখাটো বিচ্ছন্ন ঘটনা ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করেছি।’

ভোটারদের খরা ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনেও। এই আসনে ভোট পড়েছে মাত্র ১৫ শতাংশের কিছু বেশি। আশুগঞ্জ উপজেলা তারুয়া শালুকপাড়া বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল পৌনে ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়ে মাত্র পাঁচটি। আশুগঞ্জের উপজেলার আরেক কেন্দ্র আড়াইসিধা কে বি উচ্চবিদ্যালয়ে ৪০ মিনিটে ভোট দেন মাত্র চারজন। একই চিত্র দেখা গেছে অন্য কেন্দ্রগুলোতেও।

নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়ের মতো ভোটের দিনও আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার পক্ষেই মাঠে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ নেতাদের। ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়েও যেতে দেখা গেছে তাদের। অন্যদিকে নিখোঁজ হয়ে আলোচনায় আসা আবু আসিফ আহমেদের দেখা এদিনও মেলেনি। অনেক কেন্দ্রেই তার এজেন্টও দেখা যায়নি। তবে আসিফের স্ত্রী মেহেরুন্নিছার অভিযোগ, কিছু কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। উপনির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরবিন্দ বিশ্বাস অবশ্য জানান, এজেন্ট বের করে দেয়ার কোনো অভিযোগ পাননি।

এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বগুড়া-৬ তথা সদর আসনের বগুড়া জিলা স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রে ভোটার নেই বললেই চলে। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রথম ১ ঘণ্টায় সেখানে ভোট দেন মাত্র ৩১ জন। শহরের চকসূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ৪৬টি। বাকি কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও ছিল একই। এ আসনে দিন শেষে ভোট পড়েছে ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

বগুড়া-৪ আসনেও দেখা যায়নি ভিন্ন চিত্র। কহুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়ে মাত্র ৭০টি। আবার কাহালুর দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেলা ২টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ২৪০টি। সব মিলিয়ে এ আসনে ভোট পড়েছে ২৪ শতাংশেরও কম।

এদিকে বগুড়া-৬ আসনের এক কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ ছিল। পরে স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘণ্টাখানেক কেন্দ্রটিতে অবস্থান নেন। তবে অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি বলে জানান কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নুর উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।

এ ছাড়া কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করেন বগুড়া-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান। ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদার রহমান।

ঠাকুরগাঁওয়ে ভোটারদের কম উপস্থিতির পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নিয়ে জটিলতার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অভিযোগে বেশ কিছু কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয় দেরিতে। পরে এক ঘণ্টার মধ্যে সেসব সমস্যার সমাধান করা হয়। শুরুর দিকে কেন্দ্রগুলোতে পুরুষ ভোটারদের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।

এই আসনের দুই উপজেলার ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রে সারা দিন ভোটারদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি। বেলা ২টার পর রাণীশংকৈল-পীরগঞ্জ উপজেলার ২০টিরও বেশি কেন্দ্র ঘুরে কোনো ভোটারই দেখা যায়নি। তবে কিছু ভোটকেন্দ্রে শতবর্ষীসহ প্রবীণ ভোটারও দেখা গেছে। পাশাপাশি প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অন্য আসনগুলোর তুলনায় এ আসনে ভোট পড়েছে একটু বেশি, ৪৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বিকেলে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের আঞ্চলিক রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিন বলেন, যেসব ভোটার ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছেন, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়েছেন। কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি।

সন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশন
অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ না পাওয়া এবং তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় ছয় সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ভোট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা টিভি চ্যানেলগুলোর ওপর সর্বক্ষণ দৃষ্টি রেখেছিলাম। অনিয়ম বা কারচুপির উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অনলাইন পত্রিকা বিশেষভাবে পাঠ করেছি। ছয়টি জায়গায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হয়েছে। একটি জায়গায় তাজা ককটেল পাওয়া গেছে। ভোটকেন্দ্রের বাইরে দু-একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর বাইরে তেমন কিছু ঘটেনি।’

ওই সময় ছয় আসনে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট পড়তে পারে বলে ধারণা দেন সিইসি।

ভোটে জিতলেন যারা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ৪৪ হাজার ৯১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন কলার ছড়ি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ ভাসানী পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৩৫ ভোট।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ৯২ হাজার ৯২৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মু. জিয়াউর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ২৫ হাজার ৩৯৯ ভোট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের আব্দুল ওদুদ ৫৯ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটন পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৯৮০ ভোট।

বগুড়া-৪ আসনে ২০ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৫৭১ ভোট। মাত্র ৮৩৪ ভোটে তিনি পরাজিত হয়েছেন। বগুড়ার আরেক আসন সদরে ৪৯ হাজার ৩৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (‘বিদ্রোহী’) আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ২১ হাজার ৮৬৪ ভোট। এই আসনে হিরো আলম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৭৪ ভোট।

এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ইয়াসিন আলীকে হারিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। তিনি পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’) গোপাল চন্দ্র রায় পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩০৯ ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা ইয়াসিন পেয়েছেন ১১ হাজার ৩৫৬ ভোট।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন দৈনিক বাংলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি এবং প্রতিবেদকরা]


করোনা ভ্যাকসিন কেনায় খরচ ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা মহামারিতে দেশের মানুষের সুরক্ষায় ভ্যাকসিন কেনা বাবদ ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের দশম দিনে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। প্রশ্ন-উত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক ভ্যাকসিনসহ করোনা সরঞ্জাম আমদানি ও কেনাকাটার জন্য ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ২৯৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এই বরাদ্দ থেকে এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন কেনায় ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

ভ্যাকসিন কার্যক্রমের অন্যান্য খাতের ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য সিরিঞ্জ ক্রয় বাবদ ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার পরিবহন খরচ বাবদ ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার টাকা ৩৫৪ এবং সিরিঞ্জ শিপিং ও চার্জ হিসেবে ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮০ টাকা ব্যয় হয়েছে।

ভ্যাকসিন আমদানিতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কিনা—সংসদ সদস্যের এমন প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভ্যাকসিন ক্রয় ও সংরক্ষণ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সরকার সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে দেশ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে।


লালবাগ থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো শিরীন শারমিনকে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর লালবাগ থানার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মো. নাসির উদ্দিন।

তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে লালবাগ থানার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তাকে কখন আদালতে তোলা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সময় লাগবে।

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন সাবেক স্পিকার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্পিকার নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। এর পর থেকে টানা তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সহিংসতার ঘটনায় শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়।

এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের নতুন মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এন এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে আজ ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সুনির্দিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানো হবে।


হজ ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল শুরু হবে: ধর্মমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তরে তিনি তা জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের দশম দিনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান লিখিত প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণার মাধ্যমে হজের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্যাকেজ অনুযায়ী সৌদি আরব ও বাংলাদেশ পর্বের বিভিন্ন খরচ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়াও সম্পন্ন হয়েছে সৌদি টাইম লাইন অনুযায়ী ভিসাসহ সব কার্যক্রম।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। হজ ২০২৭-এর প্যাকেজ প্রণয়ন ও ঘোষণার সময় হজযাত্রীর সুযোগ-সুবিধা এবং চাহিদার ভিত্তিতে সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে হজ প্যাকেজের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


৯ এপ্রিল দুই জেলায় সাধারণ ছুটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়া ও শেরপুরের দুটি শূন্য আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগামী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। গত বুধবার (১ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামাং দ্য মিনিস্ট্রিজ অ্যান্ড ডিভিশনস (রুলস অফ বিজনেস ১৯৯৬)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদার ভিত্তিতে এ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জাতীয় সংসদের ৪১ (বগুড়া-৬) ও ১৪৫ (শেরপুর-৩) শূন্য আসনে ভোটগ্রহণের দিন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় এ সাধারণ ছুটি কার্যকর থাকবে।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসনে বিজয়ী হন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে ঢাকা-১৭ আসনটি রেখে দেন। এতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

অপরদিকে নির্বাচনের আগেই শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মারা গেলে ১২ ফেব্রুয়ারি ওই আসনে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এই দুই আসনে আগামী ৯ এপ্রিল ভোট অনুষ্ঠিত হবে।


পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৭ কর্মকর্তাকে বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাসহ ৭ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এসব বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) রায়হান উদ্দিন খানকে পুলিশ সদর দফতরের পারসোনাল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখায় বদলি করা হয়েছে। একই শাখায় কর্মরত অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক খন্দকার শামীমা ইয়াছমিনকে স্থানান্তর করা হয়েছে রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেইন্যান্স শাখায়।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিটেও একাধিক কর্মকর্তার দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আব্দুল কাদেরকে ডিবি তেজগাঁও বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

ডিএমপির প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড মেইনটেইন্যান্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. খালিদ বোরহানকে পাঠানো হয়েছে ট্রাফিক বিভাগে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত উপকমিশনার আমেনা আক্তারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিএমও) পশ্চিম বিভাগে।

অন্যদিকে পিএমও পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার শারমিন আক্তার চুমকিকে বদলি করা হয়েছে সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগে। আর অতিরিক্ত উপকমিশনার অরিত সরকারকে স্থানান্তর করা হয়েছে প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড মেইনটেইন্যান্স বিভাগে।


সরকারি দলের সংসদীয় সভা আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টায়।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে সরকার দলীয় সভাকক্ষে (পশ্চিম ব্লক, লেভেল ৯, কক্ষ নম্বর ৯৩২) সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সরকার দলীয় সব সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে ১৩৩টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষায় জাতীয় সংসদ অধিবেশন এখন থেকে দিনে দুই বেলা (দুই সেশনে) চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আজ মঙ্গলবার থেকে দিনে রাতে দুইবেলা সংসদ অধিবেশন চলবে।

জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তর করা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ইতোমধ্যে ৯টি অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল ৬ এপ্রিল সাতটি বিল পাস হয়েছে। একইদিনে আরও তিনটি বিল উত্থাপিত হয়েছে। তবে, সেগুলোর ওপর বিরোধী দলের আপত্তি থাকায় পরবর্তী কার্যদিবসে আলোচনা শেষে সেগুলো পাস হতে পারে।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় আগামী ১২ তারিখের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো বিল পাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেজন্য সময় স্বল্পতার কারণে মঙ্গলবার থেকে দিনে দুই বেলা অধিবেশন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম সংসদে জানান, ১৩৩টি বিল পাসের বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন দুই সেশনে অধিবেশন চলবে। প্রথম সেশন শুরু হবে সকাল সাড়ে ১০টায় এবং দ্বিতীয় সেশন শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৩টায়।

এমনকি প্রয়োজন হলে আগামী শুক্রবারও অধিবেশন চালানোর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

ডি‌বি প্রধান অ‌তি‌রিক্ত ক‌মিশনার মো. শ‌ফিকুল ইসলাম তাকে আটকের বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন।

তবে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কোন মামলায় বা কী কারণে আটক করা হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি জানা যায়নি।

এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে আড়ালেই ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর শেখ হাসিনা পতনের ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।


চিফ হুইপের সঙ্গে আমেরিকান দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমসের সাক্ষাৎ

গতকাল জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি'র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আমেরিকান দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমস।ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি'র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আমেরিকান দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমস।
গতকাল সেমাবার সংসদ ভবনে চিফ হুইপের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি ও কার্যকর সংসদ বাস্তবায়নে গৃহীত সরকারের ভূমিকার বিষয় নিয়ে স্টুয়ার্ট জেমস'র সঙ্গে আলোচনা হয়।
এ সময় চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিরোধী দলকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জয়লাভের পর বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় গিয়েছেন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন। বিরোধী দল থেকে আনুপাতিক হারে সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেয়ার বিষয়েও ভাবছেন। সংসদকে গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে যা যা প্রয়োজন তার সবই তিনি করবেন।
চিফ হুইপ বলেন, গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সঠিক পথে নিতে হলে সংবিধান সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তি স্বার্থে এই সংবিধান অনেক জায়গায় পরিবর্তন এনেছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার। জনগণের স্বার্থে এই সংবিধানকে আবারও জনবান্ধব করতে হবে। তাই বলে বিদ্যমান সংবিধান বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই। তবে সব দলের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে এসেছি। সংবিধান সংশোধনের জন্য আমরা সংখ্যায় যথেষ্ট হলেও আমরা চাই সবার মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন। সবাইকে সাথে নিয়েই আমরা পথ চলতে চাই। বর্তমান সরকারের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি যোগ করেন, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে। আমরা যে বিষয়ে একমত হয়েছি তার পুরোটাই বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা শুধু বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সবার সাথে আলোচনা করতে চাই।
স্টুয়ার্ট জেমস বর্তমান সরকারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নে গৃহীত জনবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করেন।


ফ্যাসিস্ট ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল ব্যবস্থাপনায় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের জন্য পূর্ববর্তী সরকারগুলোর ভুল ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, হাম-রুবেলার বিশেষ টিকা দেওয়ার ক্যাম্পেইন সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর যাবত হয়নি। ফলে নতুন জন্ম নেওয়া শিশুসহ অন্যরা হামের টিকা আওতার বাইরে থেকে যায়, যারা এখন হামে আক্রান্ত হচ্ছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের নোটিশের জবাবে এসব কথা জানান। গত ২৯ মার্চ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গত ৮ বছর দেশে হামের টিকা দেওয়া হয়নি।

নোটিশে আখতার হোসেন বলেন, গত তিন সপ্তাহে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫-এর বেশি, নিশ্চিত মৃত্যু ২০ জন। হাজার হাজার শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, গত ৮ বছর হামের টিকা দেওয়া হয়নি। এটা সঠিক তথ্য কি না, সেটা নিয়ে হামের টিকা প্রদাণকারী মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের উৎকণ্ঠা বা ভিন্নমত খেয়াল করছি। সেক্ষেত্রে কেন হামের টিকা দেওয়া হয়নি, তা আমাদের অবাক করে। আমরা জানি হামের চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন একেবারেই নেই। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালসহ বড় বড় হাসপাতালেও নেই। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলের কথা বেশি সামনে এসেছে। হাসপাতালে আইসিইউ ও এনআইসিইউ নেই।

আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশে হামের টিকা দেওয়া হয় নয় মাস থেকে। কিন্তু এখন ছয়মাস বয়সীরা আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের রোগতত্ত্ব বিশারদরা কি কারণে এটা চিহিত করতে পারলেন না, সেটা নিয়ে তদন্ত করা উচিত।’ হাম মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা জানতে চান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অতীতের সরকারগুলোর সম্পূর্ণ ভুল ব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার কারণে...সরকারগুলো বলতে ফ্যাসিস্ট সরকার এবং সর্বশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ইঙ্গিত করতেছি। তাদের ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। হাম-রুবেলার বিশেষ টিকা দেওয়ার ক্যাম্পেইন সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর যাবত হয়নি। যা প্রতি চার বছর হওয়ার কথা। ফলে নতুন জন্ম নেওয়া শিশুসহ অন্যরা হামের টিকা আওতার বাইরে থেকে যায়, যারা এখন হামে আক্রান্ত হচ্ছে। টিকা কেনা ও সংগ্রহে পূর্ববর্তী সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে টিকার মজুতে সংকট দেখা দিয়েছে। এতে হামের টিকাসহ আরও ছয় ধরণের টিকার অভাব দেখা দেয়। যার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।’

জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনেই ৩০টি উপজেলায় ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে (সাফল্য ৯৬ শতাংশ)। এছাড়া আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে অবশিষ্ট এলাকায় কর্মসূচি শুরু হবে। একই সঙ্গে রোববার থেকে দেশে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

হাসপাতালে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে আরও ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুতির পাশাপাশি আইসিডিডিআর-বি এর মাধ্যমে মাত্র ৩০০ টাকা ব্যয়ে উদ্ভাবিত নতুন অক্সিজেন প্রবাহ সিস্টেম ব্যবহার করে ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জরুরি ভিত্তিতে টিকা কেনা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাম মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি। এ খাতে ঋণ ও অনুদান পাওয়ার আশা করেন মন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আক্তার হোসেন মাঠ পর্যায়ের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বলেন, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও সাধারণ মানুষ হাসপাতালে আইসোলেশন বা আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছে না। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশ অব্যয়িত থেকে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরেও ১১ হাজার কোটি টাকা খরচ করা সম্ভব হয়নি।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনাকালীন সময়ের অব্যয়িত ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে টিকার কোনো শর্টেজ না হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের তদারকি বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের (বিশ্বব্যাংক, ইউনিসেফ) সাথে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।


প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রত্যেক নাগরিকের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, এ নীতির আলোকে রোগীর মৌলিক পরিচয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে সকল নাগরিককে ইলেক্ট্রনিক হেলথ (ই-হেলথ) কার্ড প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যসেবায় সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সহায়তায় একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার মূল লক্ষ্যের আলোকে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ সময়োচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার এবং দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য খাত গড়ে তুলতে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, গৃহীত কর্মসূচিসমূহের সফল বাস্তবায়ন, নিবিড় মনোযোগ ও যথাযথ বিনিয়োগের ফলে অচিরেই সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ও সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হবে।

তিনি বলেন, ‘মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য একে অপরের পরিপূরক। আধুনিক সভ্যতার নানাবিধ নেতিবাচক অনুষঙ্গের কারণে পৃথিবীর উদ্ভিদ, প্রাণি ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বিজ্ঞানের উৎকর্ষকে কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

তিনি সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসক, গবেষক, পরিবেশবিদ, প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞসহ সকল অংশীজনকে একটি সর্বজনীন সমন্বিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন।


পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবম পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্মারকলিপি দিয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা। সোমবার এ স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিটি সেক্টরে নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব সেবামূলক কার্যক্রমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল হওয়ার পর প্রায় ১১ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘ এই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাপনের ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরকারি নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতন দিয়ে জীবনযাপনে চরমভাবে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মচারী ব্যাংক ও প্রবিডেন্ট ফান্ড থেকে বারবার ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বর্তমান নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সঙ্গে বেতন সমন্বয়ের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এক কথায় নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।


সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে ডিআরইউর সমাবেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবি করেছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) নেতারা। সোমবার ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে এ দাবি করেছেন বক্তারা।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের বয়স মাত্র দেড় মাস। ডিআরইউ আশা প্রকাশ করছে এই সরকার শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক নেতৃত্বের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করবে। ঘরে ঢুকে সংঘটিত এই নির্মম হত্যার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে সংগঠনটি সরকারের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছে বিনীতভাবে আহ্বান জানিয়েছে।

ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারই এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে চাইনি। চাইলে এতদিন সময় লাগার কথা নয়। একে একে তিন সরকার এলো। কিন্তু সাগর-রুনি হত্যার বিচারের কোনো অগ্রগতিই হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ পিছিয়েছে ১২৫ বার। চাঞ্চল্যকর এমন কোনো হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এতবার পেছানোর কোনো নজির আছে কিনা জানা নেই।

ডিআরইউর সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন না হওয়ায় একের পর এক সরকার জনগণকে হতাশ করেছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছেও বিচার পাওয়ার আশা ছিল, কিন্তু তারাও তা সম্পন্ন করতে পারেনি। এখন বর্তমান বিএনপি সরকারের কাছে প্রত্যাশা— তারা যেন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করে প্রমাণ করে যে খুনিদের ক্ষমতার চেয়ে আইনের শক্তি অনেক বেশি।

এ সময় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন— ডিআরইউর সাবেক সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ডিইউজের যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, মাছরাঙা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ হামিদুল হক, ডিআরইউ’র যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারীবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাদিয়া শারমিন, সাবেক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক মশিউর রহমান, স্থায়ী সদস্য কুদরাত-ই খোদা, গাজী আবু বকর, মনোজ রায়, হারুন-উর রশীদ, ডি এম আমিরুল ইসলাম অমর ও ওবায়েদ অংশুমান। এ সময় ডিআরইউর অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদিসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


তিন উপসচিবকে ‘সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার’ নিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তিন উপসচিবকে ‘সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগপ্রাপ্ত তিন উপসচিব সৌদি আরবের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসে ‘সহকারী মৌসুমী হজ অফিসার’ হিসেবে আগামী তিন মাস দায়িত্ব পালন করবেন।

সোমবার প্রেষণে এই নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অনুদান ও অডিট শাখা) মোহা. রুহুল আমিনকে জেদ্দা, মো. রফিকুল ইসলামকে মদিনা ও মোহাম্মদ শফিউজ্জামানকে মক্কায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


banner close