বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএনপির মিছিল দৈর্ঘ্যে কম, প্রস্থে বেশি: কাদের

বুধবার বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৬:২৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০৪

প্রথমে মিছিল দৈর্ঘ্য-প্রস্থে বড় ছিল, এখন প্রস্থে বড় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক, পরিববহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির নীরব মিছিল দৈর্ঘ্যে কম, প্রস্থে বেশি। রাজনৈতিক কর্মী কমে যাচ্ছে, নেতায় নেতায় প্রস্থ বেড়ে যাচ্ছে।’

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে বুধবার কাদের আরও বলেন, ‘ভয় আমরা পাই না, ভয় পেয়েছে বিএনপি। কর্মসূচি এখন কেবলই নরম হচ্ছে।’

সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘হাঁড়ি-পাতিল, লোটা-কম্বল নিয়ে সাত দিন আগে ঢাকায় আসছে, পাতিলে পাতিলে খাবার, পিকনিক পার্টি করে। লজ্জা করে না, ওই হাঁড়ি-পাতিল এখন কোথায়, কোথায় সেই গণমিছিল। পত্রপত্রিকায় নিউজে আসছে, কোথায় সেই গণমিছিল, নির্বাচনের এই যুদ্ধে নেতা-কর্মী ছাড়া কোনো পাবলিক আপনার সঙ্গে পাবেন না।’

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা আব্বাস বলেন সরকার নাকি ভয় পেয়ে গেছে। সরকার ভয় পেয়েছে না আপনারা ভয় পেয়েছেন? সরকার শান্তি সমাবেশ দিয়ে শুরু করেছে, এখনো শান্তি সমাবেশ করে যাচ্ছে। আপনারা সরকারের পতন, গণ-অভ্যুত্থান, লাল কার্ড দেখে এখন কেন অন্তিম পদযাত্রায় নামলেন? তাহলে ভয় পেল কে? বিক্ষোভ থেকে এখন নীরব পদযাত্রা।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘খেলা হবে আগামী নির্বাচনে। সেদিন নির্বাচনে জনপ্রিয়তা যাচাই হবে, জনগণ ভোট দিয়ে যাচাই করবে। কাজেই এখন আপনি দাবি করছেন সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। আপনাদের পায়ের তলায় কি মাটি আছে?’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জে উপনির্বাচন হয়েছে, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মোট ছয়টি উপনির্বাচন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটু হাতাহাতি হয়েছে, এ ছাড়া সব কয়টি নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। কে জিতল কে হারল এটা আমাদের মূল বিষয় নয়। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। তারা অপপ্রচার করে এই সরকারের আমলে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। বিদেশিদের কাছে নালিশ করে।’

আসন ছেড়ে দিয়ে বিএনপি ভুল করেছে দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ফখরুল সাহেব, ছয়টি সিট আপনাদের ছিল, পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করে কত বড় ভুল করেছেন, তা যতই দিন যাবে ততই অনুধাবন করতে পারবেন। ইলেকশনে আসেন। ঘোমটা পরে নয়, প্রকাশ্যে আসেন।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক চৌধুরী সাইফুন্নবী সাগর ও দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্যে দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও সুজিত রায় নন্দী।


পাসপোর্ট হারালে কড়াকড়ি, নতুন নিয়ম করে পরিপত্র জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে পরবর্তীতে অর্থাৎ দ্বিতীয়বার থেকে প্রতিবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৪ শাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে সই করেছেন উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। পরিপত্রটি মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ করে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন করছেন। পাসপোর্ট একটি সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপসহ গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার পর অনতিবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে। পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সঠিকতা যাচাই করে প্রতিবেদন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর অথবা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে। তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া না গেলে জিডির কপি সংযুক্ত করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। এরপর বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ‘Lost Circular’ জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

জিডি যাচাইয়ের সময় যদি দেখা যায়, ভিসা পাওয়ার উদ্দেশে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাওয়া বা উদ্ধার করা সম্ভব নয়- তাহলে আগের পাসপোর্ট ‘Revoke’ করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।

এছাড়া হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার পর স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের Immigration Management System (IMS)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করবে। প্রয়োজনে ইন্টারপোলকে অবহিত করাসহ বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন ‘Lost Circular’ জারি করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর সময় ডেটাপেজে স্পষ্টভাবে ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ লেখা থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের ‘Lost/Revoked’ অবস্থা হালনাগাদ করতে হবে।

হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, বাবার নাম ও মায়ের নাম- এই মৌলিক পরিচয়গত তথ্য সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ তথ্য সংশোধনের বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচনা করা যাবে।

আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা বিনষ্ট পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে তা সমর্পণের ভিত্তিতে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে। কিন্তু পাসপোর্ট সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেলে এবং আবেদনকারীকে শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

এছাড়া হারানো বা চুরি হয়েছে বলে রিপোর্ট করা পাসপোর্ট ‘Revoke’ করার পর সেটি পরবর্তীতে পাওয়া গেলেও পুনরায় সক্রিয় বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। পাসপোর্টটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় এবং নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় জানাতে হবে। বিদেশে অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনকেও অবহিত করতে হবে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডাটাবেজ ও ইমিগ্রেশন অ্যালার্ট হালনাগাদ করবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা আরও হয়েছে, হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু সংক্রান্ত আগের পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনাগুলো সমন্বয় ও সংশোধন করে নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরিপত্র জারির তারিখ থেকেই এটি কার্যকর হবে।


তিন দফা সংশোধনেও কাটেনি জট

# সংশোধনে পরও শেষ হয়নি সীমান্ত সড়ক, প্রশ্ন সমীক্ষা নিয়ে #সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে ৪১৫ কোটি টাকায় দাঁড়ায়
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা ৬১ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে একের পর এক তিন দফা ব্যয় ও প্রকল্প সংশোধন করা হলেও এখনো পুরো কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সমীক্ষা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

মঙ্গলবার টেকনাফে নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

সভায় সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে মন্ত্রী এ্যানি বলেন, ‘একটা প্রজেক্ট তিনবার রিভাইজ হওয়া আপনাকে বুঝতে হবে, এরপরও জনগণের সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত। তাহলে রিভাইজ কেন হলো? আপনারা বুঝে নেন, তিনবার হওয়ার যৌক্তিকতা কী থাকতে পারে। এটা কি জনস্বার্থে হলো? এটা কি জনগণের জন্য হলো?

সীমান্ত সড়ক নির্মাণে অতীতে অনেক ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটা জায়গায় যেতে চাই না। আমরা নির্বাচিত সরকার, আমাদের দায়িত্ব আছে। এখন এই মুহূর্তে এটা আমাদের একটা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার এটাকে শেষও করতে হবে। বসে থাকলে তো চলবে না। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সীমান্ত সড়কের কাজ শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তের নিরাপত্তা, পানি নিষ্কাশন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও খাল খননের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৬১ কিলোমিটার সীমান্ত সড়কটি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম থেকে উখিয়ার পালংখালী হয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০২২ সালে প্রকল্পটির মূল ব্যয় ১৪১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা থেকে বাড়ানোর প্রস্তাবের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

এ বিষয়ে এ্যানি বলেন, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এ সড়ক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে সীমান্তে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে।

#এক দশকেও শেষ হয়নি নাফের বাঁধ প্রকল্প

এর আগে নাফ নদীর তীরবর্তী পোল্ডার ৬৭/এ, ৬৭/বি ও ৬৮-এর পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। পরে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ্যানি বলেন, ‘টেকনাফের মানুষ এখনো এ প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পায়নি। প্রকল্পের স্ট্রাকচার ও সমীক্ষা সঠিক না হওয়ায় দীর্ঘ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আযাদ বলেন, প্রকল্পের আওতায় কোথাও স্লুসগেট নির্মাণ করা হবে, নাকি ব্রিজ করা হবে-তা স্থানীয় মানুষের মতামত ও সুবিধা বিবেচনা করে নতুন করে নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই ঢাকার বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল এলাকায় এসে পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া ও টেকনাফের নাফ নদী বরাবর পোল্ডার ৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮-এর পুনর্বাসন প্রকল্পটি বর্তমানে চলমান। প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ৪১৫ কোটি ৫৮ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো, খাল পুনঃখনন, সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ রয়েছে। সরকারি হিসাবে প্রকল্পটির অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

মূলত ২০১৭ সালে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল। পরে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে ৪১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। এত বছর পরও কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির পরিকল্পনা, সমীক্ষা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজার কার্যালয়ের তথ্যেও পোল্ডার ৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮-এর পুনর্বাসন প্রকল্পটিকে চলমান প্রকল্প হিসেবে দেখানো হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আযাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক রুহুল আমিন, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।


এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি শুধু বাণিজ্যিক লেনদেন নয়: ফরাসি রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাব্য চুক্তিকে শুধু বাণিজ্যিক লেনদেন হিসেবে দেখছে না ফ্রান্স। ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেছেন, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের বিষয়ে একটি বার্তা যাবে। এয়ারবাসের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা এখনো চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এয়ারবাসের সঙ্গে সরকারের আলোচনা ও দরকষাকষি চলমান জানিয়ে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হওয়ায় ফ্রান্স বা ইউরোপ উদ্বিগ্ন নয়। তবে এয়ারবাসসহ ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে তারা।

তিনি বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ওপর আমি জোর দিচ্ছি। এই বার্তাটি বর্তমান সরকারের কাছেও আমরা দিচ্ছি। কারণ আমরা মনে করি, এটি অত্যাবশ্যকীয়। বর্তমান সরকার এবং বিমানের প্রতি আমাদের আস্থা আছে।’

এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাব্য চুক্তির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, সংখ্যার বিচারে এটি ইউরোপের জন্য বড় কোনো চুক্তি নয়। তবে এর তাৎপর্য আরও বিস্তৃত। বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ইউরোপের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে বাংলাদেশ কতটা আগ্রহী, এ সিদ্ধান্ত তার একটি ইঙ্গিত দেবে।

তিনি বলেন, শুধু একটি চুক্তি করে সম্পর্ক শেষ করার ধারণায় ইউরোপ বিশ্বাস করে না। তারা দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়। বাংলাদেশের সঙ্গে ফরাসি বিভিন্ন কোম্পানির দীর্ঘদিনের সহযোগিতার মতো এয়ারবাসের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ফ্রান্স।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটা এমন নয় যে শুধু এয়ারবাস বিক্রি করলাম, এরপর শেষ। এটি আসলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে যুক্ত হওয়া।’

বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রায় ১৭ শতাংশ রপ্তানি হলেও ইউরোপে যায় প্রায় ৪৮ শতাংশ। যুক্তরাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করলে এ অংশ আরও বেশি। ফলে ইউরোপ বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের একটি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে এয়ারবাস ও বোয়িং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি হলেও এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনা থামেনি বলে জানান ফরাসি রাষ্ট্রদূত। তার ভাষ্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এখনো এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহী এবং দরকষাকষি ভালোভাবেই চলছে। তিনি বলেন, ‘দরকষাকষি এখনো ভালোভাবে চলছে এবং ভালো ফলও আসছে।’

এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনার সূত্রপাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কারিগরি মূল্যায়নের পর এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছিল। এর পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ ছিল না। বিশ্বের অনেক বড় বিমান সংস্থার বহরে এয়ারবাস ও বোয়িং দুই ধরনের উড়োজাহাজ রয়েছে।

মিশ্র বহরের সুবিধার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিভিন্ন উড়োজাহাজের সক্ষমতা ও কারিগরি সুবিধা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এয়ারবাসের এমন উড়োজাহাজও রয়েছে, যা ঢাকা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে যেতে পারে।

এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনায় সময় লাগতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, বড় চুক্তির ক্ষেত্রে সব কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তার মতে, আলোচনা সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং ইতিবাচক ফল পাওয়ার আশা রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও কথা বলেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারত, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার এফটিএ রয়েছে। বাংলাদেশও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে চাইলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের আগ্রহ নিয়ে আলোচনায় যুক্ত হতে পারে।

এফটিএ হলে ইইউর ২৭টি দেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিসর আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, ফ্রান্স বা ইউরোপ বাংলাদেশকে অন্য কোনো অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক বেছে নিতে বলছে না। বরং অংশীদারত্বের ক্ষেত্র বাড়াতে চায়। তার ভাষায়, ‘ফ্রান্স এবং ইউরোপ কখনও বলে না আমাদের এবং তাদের মধ্যে একজনকে বেছে নাও। আমরা অংশীদারত্বে বিশ্বাস করি। অংশীদারত্ব মানে বাদ দেওয়া নয়, অন্তর্ভুক্তি।’

এফটিএ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও ইউরোপের উভয়েরই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা ইউরোপকে কী বার্তা দিচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ডিকাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা ইমরুল কায়েস।


নৈরাজ্য কোনো ভাবেই বরদাশত নয়: রুহুল কবির রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বিএনপির মূল শক্তি বন্দুক, ককটেল বা রিভলবার নয়; দেশের সাধারণ জনগণই দলের চালিকাশক্তি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় আব্দুল্লাহপুরসংলগ্ন পলওয়েট মার্কেটের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গুম, খুন ও দুঃশাসনের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে এবং তিনি দেশ ছেড়েছেন—এমন দাবি করেন তিনি। ফিলিপাইনের মার্কোস ও ইরানের শাহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন কোনো স্বৈরাচার গণঅভ্যুত্থানের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি।

রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর উসকানিমূলক বক্তব্য ও আস্ফালনের মধ্যে তিনি আগের সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিধ্বনি দেখতে পাচ্ছেন। অগণতান্ত্রিক উপায়ে বা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোনো কিছু অর্জনের চেষ্টা সহাবস্থান ও শান্তির বার্তা দেয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সংকট, মার্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মহেশখালী টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনে দেশে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে সরকারকে বিপুল লোকসান গুনতে হয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেও বিরোধী দল ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এর আগে রিজভী রংপুরে ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে লংমার্চের সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছিলেন, জ্বালানি সংকটের সময় এতগুলো গাড়িতে কত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। তিনি বিরোধী দলের কাছে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প পরিকল্পনাও জানতে চান।

রাজধানীর বাড্ডা, মিরপুর, উত্তরা ও কাফরুলসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনার প্রতিবাদ জানান রিজভী। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

রিজভীর দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং সাম্প্রতিক অভিযানে ৪৭২ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের এ সংখ্যার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য তিনি উপস্থাপন করেননি।

রিজভী বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’সহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উত্তরা ও বিমানবন্দর মহাসড়কের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন এবং পরিকল্পিত নাশকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।


শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার, দিনাজপুরে মাসহ গ্রেপ্তার ২

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দিনাজপুর সদর উপজেলার জামতলী বাজারে চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহিকে হত্যা ও মরদেহ গুমের ঘটনায় গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন টুডুকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে সঙ্গে নিয়ে জামতলী বাজারসংলগ্ন আমবাগান, হলুদখেত ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাতভর তল্লাশি চালিয়েও তখন শিশুটির মরদেহের সন্ধান মেলেনি।

পরে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে রিপন টুডুর দেওয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করে দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে জামতলী এলাকার একটি নির্জন ও পরিত্যক্ত জঙ্গল থেকে রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দিনাজপুর ডিবির অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিপন টুডু ও শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

তিনি বলেন, হত্যার কারণ, মরদেহ কোথায় ও কীভাবে গুম করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে জিন্নাতুন বেগমের সঙ্গে রিপন টুডুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে জিন্নাতুন তার মেয়ে রুহিকে নিয়ে রিপনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সম্পর্কে শিশুটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে পুলিশ। একই সঙ্গে মরদেহের ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।


কর্মমুখী ও বাস্তবসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশ-বিদেশের কর্মসংস্থানের উপযোগী প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষা প্রদানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম, শিক্ষা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষার মান আরও বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদেরও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, বেকারত্ব সৃষ্টি করে এবং কর্মসংস্থানের উপযোগী নয়—এমন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশে ও বিদেশে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে।

রাষ্ট্রপতি প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা জরুরি। এজন্য উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

সাক্ষাৎকালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, সার্বিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ও উঠে আসে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব ছাড়াও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) ও কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) উপস্থিত ছিলেন।


সব সরকারি দপ্তর ডিজিটাল হলে দুর্নীতি কমবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সকল সরকারি দপ্তরে শতভাগ ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা গেলে দেশ থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

তিনি বলেন, মানুষে মানুষে সরাসরি যোগাযোগই দুর্নীতির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো সরকারি সব ধরনের সেবা ডিজিটাল মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব হলে নাগরিকদের সেবা নিতে সরকারি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এতে দুর্নীতির সুযোগ কমার পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সহজ হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক অ্যান্ড ডিজিটাল কম্পিটেন্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক (ডিগক্যাফ)’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারি কর্মচারীদের ডিজিটাল দক্ষতা মূল্যায়নের ফ্রেমওয়ার্ক সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা এবং অংশীজনদের মতামত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (জিইএমএস) ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়েছে। বর্তমান সরকার এসব প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে সেবা দেওয়ার জন্য দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে এসব সেবা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।

তার ভাষ্য, নাগরিকদের সরাসরি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন যত কমবে, সেবাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা তত বাড়বে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আব্দুল বারী বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজ করা সম্ভব হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা-মোকদ্দমা অন্তত ৯০ শতাংশ কমে যাবে।

তিনি সরকারি প্রশাসনে সংস্কার ও কর্মকর্তাদের পদায়নের বিষয়েও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের পোস্টিং, পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বচ্ছ হওয়া উচিত।

সিভিল সার্ভিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) থেকে শুরু করে সচিব কিংবা মহাপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদায়নের ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের ওপর গুরুত্ব

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল জ্ঞান ও দক্ষতাকে কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক প্রশাসন গড়ে তুলতে পারলে সরকার তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।

তিনি সেবার মানোন্নয়নে ডিজিটাল ডিভাইস দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহারের পাশাপাশি তথ্য-উপাত্ত সঠিকভাবে বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশিদ ভূঞা, জাইকা বাংলাদেশের মুখ্য প্রতিনিধি জুঙ্কু তাকাহাশি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

দিনব্যাপী আয়োজিত সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারি কর্মচারীদের ডিজিটাল দক্ষতা নিরূপণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।


লংমার্চে গাড়ির টোল দেয়নি বিরোধী দল: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জ্বালানি সংকটের মধ্যে ১১ দলীয় জোটের রংপুরের লংমার্চে সাড়ে চারশো গাড়ি অংশ নিয়েছে এবং এর মধ্যে কিছু গাড়ি টোল পরিশোধ করেনি বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দেশে জ্বালানি সংকটের সময় এত বিপুলসংখ্যক গাড়ি নিয়ে লংমার্চ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রিজভী। তাঁর বক্তব্যে ১১ দলীয় জোটের জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুরে লংমার্চের সমালোচনা উঠে আসে।

রিজভী বলেন, জ্বালানি সংকটের সময় বিরোধী দল সাড়ে চারশো গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চ করেছে। যমুনা সেতুর টোল আদায়ের হিসাবের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ওই বহরে প্রায় ৪৫০টি গাড়ি ছিল।

তিনি প্রশ্ন করেন, এতগুলো গাড়িতে কত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, যখন জ্বালানির সংকটের কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না, ডিজেল সরবরাহে সমস্যা রয়েছে এবং জ্বালানির অভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, তখন এত গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

রিজভী বলেন, ওই জ্বালানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা গেলে জনগণের উপকার হতে পারত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, লংমার্চে যাওয়ার পথে কয়েকটি গাড়ি টোলও পরিশোধ করেনি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, বিশ্বরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে বিরোধী দল এমন কর্মসূচি পালন করছে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের বিকল্প পরিকল্পনা কী—সে প্রশ্নও তোলেন রিজভী। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দল ভবিষ্যতে সরকারে যেতে পারে; তাই বর্তমান সংকটের সমাধানে তাদেরও কার্যকর প্রস্তাব থাকা প্রয়োজন।

জ্বালানি তেলের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী হরমুজ প্রণালীর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আমদানি করা জ্বালানি তেলের বড় অংশ এই পথ দিয়ে আসে।

তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে এবং মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে জ্বালানিতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল জ্বালানি সংকট নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শুধু আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা নয়, অন্য গোষ্ঠীও জড়িত থাকতে পারে।

জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি দলটির আমিরের প্রতি বিভিন্ন সহিংস ঘটনার প্রতিবাদে কর্মসূচি নেওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে এক সমাবেশেও রিজভী বলেছিলেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে পারে; তবে কর্মসূচির নামে দেশকে অস্থিতিশীল করা বা জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার দায়ও তাদের নিতে হবে। তিনি সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার অধিকার স্বীকার করলেও হুমকি, মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণের সমালোচনা করেন।

রংপুরের লংমার্চ নিয়ে তাঁর বক্তব্যের মূল প্রশ্ন ছিল—জ্বালানি সংকটের সময়ে এত বিপুলসংখ্যক গাড়ি ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন কতটা যুক্তিসংগত। অন্যদিকে, লংমার্চে অংশ নেওয়া ১১ দলীয় জোটের নেতারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচি পালন করছেন।


জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বিশ্বনেতাদের সাথে তিনি এই বৈশ্বিক মঞ্চে অংশ নেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এটিই তার প্রথম অংশগ্রহণ।

নিউইয়র্কের মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা বিশ্বনেতা ও তাদের সঙ্গীদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব এই প্রাতরাশের আয়োজন করেন।


গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়ার ভিত্তিতে: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পুলিশ কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, তা দেখে তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকা না-থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমকে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনার মধ্যে গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। তারা বিষয়টি স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবহিত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়। তবে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ এখনো আছে।

এরই মধ্যে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যু নতুন করে গাজী নজরুল ইসলামকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। গত রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মরিয়মের বাবার করা মামলায় গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে আছেন গাজী নজরুল। এক দিনের রিমান্ড শেষে তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং এ পদে থাকার বেশ কিছু যোগ্যতার কথা বলা আছে। সেগুলোর একটি হলো, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং তাঁর মুক্তির পর পাঁচ বছর পার না হলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়া এবং পদে থাকার অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী চিঠি দিয়েছে। কিন্তু দল বহিষ্কার করলে কারও সংসদ সদস্য পদ যায় না। কোনো সংসদ সদস্য নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইঙ্গিত করে স্পিকার আরও বলেন, এখন পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়, তাঁরা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছেন। পুলিশ কী ব্যবস্থা নিল, তা দেখে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হবে। তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, আরেকটি হতে পারে, আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে কিংবা দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর আসন শূন্য হয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর যদি দল তাঁকে বহিষ্কার করে, সে ক্ষেত্রে কী হবে—তা সংবিধানে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা নেই।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং এই পদে থাকার বেশ কিছু যোগ্যতার কথা বলা আছে। সেগুলোর একটি হলো নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং তাঁর মুক্তির পর পাঁচ বছর পার না হলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়া এবং পদে থাকার অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

একই সঙ্গে এই অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো সংসদ সদস্য ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অযোগ্য হয়েছেন কি না বা ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে কি না, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের পর তাঁকে সংসদীয় কমিটিতে না রাখার জন্যও সরকারি দলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে দুটি সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল। পরে জামায়াতে ইসলামীর আপত্তির কারণে তাঁর নাম বাদ দিয়ে ওই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।


জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:১৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আগত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে (ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট) অংশ নিয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে এই প্রাতরাশ সভার আয়োজন করেন।

এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের আনুষ্ঠানিক ও ব্যস্ত সফর সূচি শুরু হলো।

প্রাতরাশের শুরুতে বিশ্বনেতারা একে একে তাদের সহধর্মিনীদের নিয়ে অনুষ্ঠান মঞ্চে ওঠেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রী সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে সেই মঞ্চে ওঠে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ও ফটোসেশনে অংশ নেন।

প্রাতরাশ শেষে সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন। এ অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত রয়েছেন।

সফর সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই হবে জাতিসংঘে তার প্রথম ভাষণ এবং প্রথা অনুযায়ী তিনি বাংলায় বক্তব্য রাখবেন।

জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।


বাংলাদেশী পণ্য আমদানি বাড়াতে ভারতের প্রতি গভর্নরের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নে ভারতকে দেশীয় পণ্য আমদানি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে তাঁরা বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় গভর্নর বাংলা কিউআর-এর ব্যবহার সম্প্রসারণ, আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং এ ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য কারিগরি সহযোগিতা গ্রহণের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করলে গভর্নর জানান যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বেশ কিছু বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে, যার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ ও মুনাফা সহজে নিজ দেশে ফেরত নিতে পারবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও শিল্প খাতে ভারতীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলে ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার বাধে ও সেকেন্ড সেক্রেটারি গৌরব কুমার আগারওয়াল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান ও ডেপুটি গভর্নর মো. সরোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


ভাড়া বেশি নিলে জরিমানা-রুট পারমিট বাতিল: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার নির্ধারিত বাস ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল ও জরিমানা করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, জনস্বার্থ বিবেচনা করে আলোচনার মাধ্যমে সরকার বাস ভাড়া যৌক্তিকের চেয়ে কম নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। নতুন বাস ভাড়ার গেজেট আজই প্রকাশ করা হবে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘গেজেট হয়ে যাওয়া মানেই হচ্ছে কার্যকর হয়ে যাবে।’

বিশ্বব্যাপী চলমান অস্থিরতার কারণে দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট বিশ্বব্যাপী এবং একটা অবধারিত পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বাড়াতে হয়েছে।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম ১ টাকা বাড়লে বাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ার একটি নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে। এবার লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় পরিবহন মালিকেরা নিয়ম অনুযায়ী কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর অনড় দাবি জানিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি ছিল তাদের। তবে সরকার সব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে ২০ পয়সার পরিবর্তে ১৭ পয়সা ভাড়া নির্ধারণে সক্ষম হয়েছে।

এর আগের বার যখন জ্বালানির দাম ১৫ টাকা বেড়েছিল, তখন সরকার মালিকদের ১৫ পয়সার যৌক্তিক দাবির বিপরীতে ভাড়া ১১ পয়সা নির্ধারণ করতে পেরেছিল এবং তা কার্যকরও হয়েছিল। এবারও ১৭ পয়সার বাইরে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না এবং আইন অমান্যকারীদের রুট পারমিট ও লাইসেন্স নিয়ে জবাবদিহি করতে হবে। সাধারণ মানুষের ওপর এই আর্থিক চাপের কথা স্মরণ করে আক্ষেপের সুরে মন্ত্রী বলেন, ‘ভাড়া কমাতে পারলে ভালো লাগতো,’।

অবশ্য রেলের ক্ষেত্রে সরকার সাধারণ যাত্রীদের বাড়তি কোনো ভাড়ার মুখে ফেলছে না বলে নিশ্চিত করেছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি জানান, আগেরবারের মতো এবারও রেলের ভাড়া বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া নৌপথের লঞ্চের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী পরশু লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই বৈঠকেই লঞ্চ ভাড়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


banner close