রাজধানীর কমলাপুরের একটি হোটেল থেকে পিপিসা ত্রিপুরা (২৬) নামে এক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার সকালে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।
মতিঝিল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. হাফিজ উদ্দিন বলেন, মৃত ব্যক্তি একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর যুবক। তিনি খাগড়াছড়ি সদরের গোমতি গ্রামের প্রতিরঞ্জন ত্রিপুরার ছেলে। এক সপ্তাহ আগে তিনি ওই হোটেলের ৬০১ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। সোমবার সকালে দরজা না খোলায় হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে দুপুর ১ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাফিজ উদ্দিন আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে পিপিসা ত্রিপুরা আত্মহত্যা করেছেন। তবে কেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন সে বিষয়ে এসআই হাফিজ কিছু জানাতে পারেননি। তবে হোটেল রেজিস্ট্রার থেকে তার পরিচয় জানা গেছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তার পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে। খাগড়াছড়ি থেকে তারা আসলে মামলা করা হবে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন তুলে ধরেছে, যা সম্প্রতি দেশটির লোকসভা ও রাজ্যসভায় উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও নিবিড় করার পাশাপাশি অমীমাংসিত বিষয়গুলো পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সমাধান করার এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। নির্বাচনে জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা মোদির পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত আমন্ত্রণপত্র ও সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ হস্তান্তর করেন।
তবে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উপস্থিতিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি। প্রতিবেদনে বিশেষ করে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন, ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি সংস্কার এবং পেকুয়ায় নির্মিত সাবমেরিন ঘাঁটিতে চীনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কমিটি মনে করে, লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির উন্নয়ন ভারতের কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার জন্য শঙ্কা তৈরি করতে পারে। এ অবস্থায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিদেশি শক্তির গতিবিধি গভীর পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের নিজস্ব অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার এই অবস্থান ‘মানবিক বিবেচনা ও ভারতের দীর্ঘদিনের আশ্রয়দান নীতির’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রচলিত আইন ও প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে অনুরোধটি পর্যালোচনা করছে। পানিবণ্টন ইস্যুতে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ এ বছর শেষ হওয়ায় এর নবায়নকে দুই দেশের ‘অন্যতম অগ্রাধিকার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গসহ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তিস্তা চুক্তির বিষয়েও একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় নয়াদিল্লি।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রমকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিবেদনে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে দৈনিক প্রায় দেড় হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে যার বড় অংশই চিকিৎসার জন্য। এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিটি এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজন বলে মনে করে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বজায় রাখতে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছে ভারতের এই সংসদীয় কমিটি। এ ছাড়াও লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ১২টি প্রকল্প বাতিল করে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে।
বর্তমানে দেশে দেখা দেওয়া তীব্র গ্যাস সংকট এবং এর প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে তৈরি হওয়া অস্থিরতা জাতীয় অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পোশাক খাত, টেক্সটাইল, সিরামিক, ইস্পাত এবং ওষুধসহ বিভিন্ন প্রধান উৎপাদনমুখী শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, রাজধানীর একাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বাসাবাড়িতে লাইনে গ্যাস না থাকার ফলে দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হচ্ছে।
অবশ্য এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে কারিগরি ত্রুটি মেরামত, আমদানিকৃত গ্যাসের গতি বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় অনুসন্ধানের মতো সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দ্রুতগতিতে চলমান মেরামত কাজ শেষ হলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসের সার্বিক চাহিদা ও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহের মধ্যে বিশাল ব্যবধান দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন যেখানে প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প চাহিদা রয়েছে, সেখানে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে গড়ে মাত্র ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এই বড় ধরনের ঘাটতি একদিনে তৈরি হয়নি; বরং স্থানীয় ক্ষেত্রগুলোর স্বাভাবিক অবক্ষয় এবং অতিসম্প্রতি মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার সম্মিলিত ফল এটি।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে পরিচালিত এক্সিলারেট এনার্জির একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (FSRU) সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের পর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। টার্মিনালটি বন্ধ রাখতে হওয়ায় সেখান থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (RLNG) সরবরাহ হঠাৎ করেই দৈনিক প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি (মিলিয়ন ঘনফুট) কমে যায়। জাতীয় গ্রিডে এলএনজির এই হঠাৎ সরবরাহের অভাবে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আওতাধীন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও আশুলিয়াসহ প্রধান প্রধান শিল্প এলাকায় মারাত্মক চাপহীনতা বা লো-প্রেশার তৈরি হয়।
পেট্রোবাংলার সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের প্রথাগত ২২টি গ্যাস ক্ষেত্রের উৎপাদন প্রাকৃতিকভাবেই দিনে দিনে কমে আসছে। ষাটের দশক থেকে এ পর্যন্ত দেশের ২৯.৭৪ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) আবিষ্কৃত মজুতের মধ্যে ২২.১১ টিসিএফ গ্যাস ইতোপূর্বে উত্তোলন ও ব্যবহার করা হয়ে গেছে।
বর্তমানে দেশে অবশিষ্ট রিজার্ভ মাত্র ৭.৬৩ টিসিএফ। নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে এই মজুত দিয়ে বড়জোর ১২ থেকে ১৩ বছর চলা সম্ভব হবে। প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে—
তিতাস গ্যাস ক্ষেত্র: একসময় দৈনিক ৫৪ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ করলেও বর্তমানে তা কমে ৩৩ কোটি ৩৫ লাখ ঘনফুটে নেমে এসেছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ক্ষেত্র: পূর্বে দৈনিক ৪ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ১ কোটি ৮৬ লাখ ঘনফুট।
বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র: যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন পরিচালিত এই বৃহৎ ক্ষেত্রটিতে দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও তা বর্তমানে ৭৫ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুটে সংকুচিত হয়েছে।
উৎপাদন বন্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র: মজুত নিঃশেষ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার রূপগঞ্জ ক্ষেত্রের উৎপাদন ইতোমধ্যে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং সুন্দলপুর ক্ষেত্রের উৎপাদন যেকোনো সময় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
গ্যাস সংকট ও সাথে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (REB) আওতাধীন এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টার অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ বা লোডশেডিংয়ের দরুন দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শিল্পের চাকা মন্থর হয়ে পড়ায় পণ্য উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে।
প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলারের মূলধন থাকা টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাত দেশের তৈরি পোশাকের কাঁচামাল সরবরাহের প্রধান উৎস। আশুলিয়া, গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের মিলগুলো প্রেশার না থাকায় ক্যাপটিভ জেনারেটর চালাতে পারছে না।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ৩ লাখ স্পিন্ডলবিশিষ্ট একটি স্পিনিং মিলে যেখানে প্রতিদিন গ্যাসের বিল হতো প্রায় ২০ লাখ টাকা, সেখানে কারখানা সচল রাখতে কেবল বিকল্প ডিজেল কিনতেই দিনে প্রায় ৯০ লাখ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
সাভারের আশুলিয়ার লিটল স্টার স্পিনিং মিলসের অনুমোদিত গ্যাসের চাপ ১০ পিএসআই (PSI) থাকার কথা থাকলেও তারা পাচ্ছে মাত্র ০.৫ থেকে ১.৫ পিএসআই। এর ফলে কারখানাটি তার মোট ক্ষমতার মাত্র ২৫ শতাংশ সচল রাখতে পারছে।
সক্ষমতা কমে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের মাসিক বেতন, ইউটিলিটি বিল এবং ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চরম চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে ইউরোপ ও আমেরিকার বায়ারদের কাছে পোশাকের শিপমেন্ট পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশি ক্রেতারা সরবরাহকারীদের কাছে সার্বিক গ্যাস পরিস্থিতির খবরাখবর নিচ্ছেন এবং অর্ডার বাতিল বা অন্য প্রতিযোগী দেশে সরিয়ে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দেশের সার্বিক রপ্তানি আদেশের একটি বড় অংশ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রসেস ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে গ্যাস প্রেশার ওঠানামা করলে পুরো ব্যাচের পণ্য নষ্ট হয়ে যায়।
সিরামিক: বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, সদস্যভুক্ত ৭০টি কারখানার মধ্যে ২৫টি কারখানা গ্যাসের অভাবে ইতোমধ্যে তাদের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।
ইস্পাত: দেশের প্রায় ৪০টি স্বয়ংক্রিয় ইস্পাত কারখানায় গ্যাসে চালিত জেনারেটরের মাধ্যমে কাজ চলে। উচ্চচাপের গ্যাস লাইনে টান পড়ায় বড় কারখানাগুলোর উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। ফার্নেস একবার বন্ধ হলে নতুন করে চালুর জন্য অতিরিক্ত সময় ও জ্বালানি অপচয় হয়।
চামড়া: বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্যানারিগুলোতে চাহিদার তুলনায় মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ গ্যাস পৌঁছাচ্ছে। ফলে মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়ে নির্ধারিত ওভারহেড কস্ট বা পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের প্রায় ৩০০টি কারখানার অধিকাংশ ক্যাপটিভ পাওয়ার ব্যবহার করে। ঢাকার বাইরের কারখানাগুলোতে বর্তমানে দিনে গড়ে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুতের অপ্রতুলতা দেখা যাচ্ছে। ফলে স্বয়ংক্রিয় প্রোডাকশন লাইনে ব্যঘাত ঘটছে, যা জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) তৈরির ওপর প্রভাব ফেলছে।
শিল্পের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন ও পরিবহন ব্যবস্থায় গ্যাস সংকটের প্রভাব অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে।
লাইনে গ্যাসের প্রেশার ৩ থেকে ৪ পিএসআইয়ের নিচে নেমে যাওয়ায় ঢাকার নিউমার্কেট, আজিমপুর, শাহবাগ ও ধানমন্ডি এলাকার অনেক সিএনজি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাব চালকদের প্রতিদিনের কাজ শুরুর আগেই ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
চালকরা জানান, আগে দিনে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হলেও সিএনজি পাম্পের দীর্ঘ সারিতে দিনের সিংহভাগ সময় নষ্ট হওয়ায় আয় কমে ১ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে। অনেকে কাঙ্ক্ষিত গ্যাস না পেয়ে ট্রিপ বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
গৃহস্থালি জীবন ও পারিবারিক বাজেট: রাজধানীর মিরপুর, মগবাজার, চানখাঁরপুলসহ বেশ কিছু আবাসিক এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ থাকছে। সকালে কিংবা দুপুরে পরিবারের জন্য খাবার রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে নগরবাসী বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক হিটার, ইনডাকশন চুলা অথবা বাজার থেকে অতিরিক্ত দামে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার কিনে ব্যবহার করছেন। এটি সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মাসিক সংসার খরচের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ: উদ্ভূত জ্বালানি সংকটকে অত্যন্ত অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিবেচনা করে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে নীতিগত এবং প্রকৌশলগত পর্যায়ে ব্যাপক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটির মেরামতের কাজ দিনরাত দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রকৌশলীদের মতে, এই সাময়িক ত্রুটি কাটিয়ে উঠতে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। টার্মিনালটি পুনরায় চালু হওয়ার সাথে সাথেই জাতীয় গ্রিডে আরএলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং তিতাস গ্যাসের আওতাভুক্ত এলাকাগুলোতে গ্যাসের চাপ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ফিরে আসবে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ দূর করতে এবং শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে সরকার সরাসরি শিল্পনেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। প্রধানমন্ত্রী শিল্পখাতের সার্বিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সরকারের স্পষ্ট সদিচ্ছা প্রকাশ করেন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের কৌশল নির্ধারণে বিটিএমএ নেতাদের আশ্বস্ত করেন।
আমদানির ওপর একমুখী নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উত্তোলন বাড়ানোর লক্ষ্যে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা বিস্তৃত অনুসন্ধান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ইতিপূর্বে ঘোষিত ১০০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রাকে সম্প্রসারিত করে বর্তমানে ১৫০টি কূপ খননের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি কূপ খনন করা হয়েছে, যা থেকে দৈনিক ১২ কোটি ৫৩ লাখ ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এই কর্মসূচি সম্পন্ন হলে দেশীয় ক্ষেত্রগুলোর স্বাভাবিক হ্রাস কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে একক টার্মিনাল দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে এবং গ্যাসের ধারণক্ষমতা বাড়াতে মহেশখালীর কুতুবজোমে তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে। এটি চীন সরকারের সঙ্গে চুক্তি বা জিটুজি (G2G) কাঠামোর আওতায় ‘চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড’ (CNEE) কর্তৃক নির্মিত হবে। এই টার্মিনালটি চালু হলে দেশে গ্যাস আমদানির রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
সমুদ্রভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান: বঙ্গোপসাগরের গভীর ও অগভীর ব্লকে প্রাকৃতিক সম্পদের সন্ধানে সরকার ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র ডেকেছে। মার্কিন কোম্পানি শেভরনসহ একাধিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিতে এবং নতুন ব্লকে কূপ খনন করতে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
ভোলা ক্ষেত্র: বাপেক্স এর হিসাব অনুযায়ী ভোলার ক্ষেত্রে থাকা ২ থেকে ৩ টিসিএফ গ্যাস মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসতে পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়ে সমীক্ষা ও পরিকল্পনা জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ‘অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি’ হওয়ার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আমার প্রথম বাংলাদেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করতে পারা এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করাটা ছিল দারুণ। “অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি।”
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে আস গোর ঢাকায় পা রাখেন বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে। পরে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এই মার্কিন কূটনীতিক। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর আগে দুপুরে এক পোস্টে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তার এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরো শক্তিশালী করবে।’
সফরে সার্জিও গোর আজ শুক্রবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন। সেখান থেকে ফিরে আগামীকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এ ছাড়া সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।
২০২৫ সালের আগস্টের শেষে সার্জিও গরকে ভারতে যুক্তরাষ্ট্র মিশনের দায়িত্বে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার সময় তাকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বর্ণনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি গেল সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের লেখা বই প্রকাশের পাশাপাশি তার ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে কোটি কোটি ডলার তুলেছেন সার্জিও গোর।
ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অনুগত কর্মকর্তাদের নিয়োগেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মনে করা হয়।
বিএনপি সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্জিও গোর হচ্ছেন ওয়াশিংটন থেকে ঢাকা সফরকারী যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এর আগে মার্চে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেন।
সার্জিও গোর দুপুরে ঢাকায় পৌঁছানোর পর তাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তার এ সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।’
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সার্জিও গোরের চলমান সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান এবং ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, একই মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের পর বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের মূল্যায়নও এ সফরে প্রতিফলিত হতে পারে। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তাও তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন।
মানবপাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের হাত থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখবে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম: এন্ডিং হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ফর ফোর্সড ক্রিমিন্যালিটি’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দফতর (ইউএনওডিসি) এবং জাতিসংঘ অভিবাসন নেটওয়ার্কের কাউন্টার ট্রাফিকিং টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচারের ধরন ক্রমেই পরিবর্তনশীল ও জটিল হয়ে উঠছে। অপরাধী চক্রগুলো এখন শুধু প্রচলিত পদ্ধতি নয়, ডিজিটাল মাধ্যম, ভুয়া অনলাইন নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণ ও চাকরিপ্রার্থীদের ফাঁদে ফেলছে।
তিনি বলেন, আকর্ষণীয় চাকরি ও উন্নত ভবিষ্যতের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে তাদের সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রেখে নির্যাতন, ভয়ভীতি এবং জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে।
সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মানবপাচার চক্র ডিজিটাল প্রযুক্তিকে অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এই হুমকি মোকাবিলায় শুধু প্রথাগত আইনশৃঙ্খলা-কেন্দ্রিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও সচেতন নাগরিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
মানবপাচার প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম কনভেনশন বা ইউএনটিওসি এবং সংশ্লিষ্ট প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন আইনটি করা হয়েছে। এতে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রলোভন এবং জোরপূর্বক অপরাধে বাধ্য করার মতো আধুনিক অপরাধকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। আইনের বাস্তবায়ন দ্রুত করতে ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭’ যুগোপযোগী করার কাজ চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬–২০৩০’ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এতে মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, অপরাধীর বিচার এবং অংশীদারত্ব— এই চারটি প্রধান স্তম্ভকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের মর্যাদা, সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভুক্তভোগী প্রতিটি মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম বা এনআরএম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার করে আইনি, শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়ন এবং মানবপাচারসংক্রান্ত মামলার কার্যকর অনুসরণ নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ‘ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তরুণ, নারী ও বিদেশগমনেচ্ছু মানুষের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং ভুয়া নিয়োগ চক্রের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতা চান তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ও জাতিসংঘ অভিবাসন নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ড. লরা টম বোন্ডে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। দিবসটির প্রতিপাদ্যের ওপর বক্তব্য দেন ইউএনওডিসির প্রোগ্রাম অফিস বাংলাদেশের প্রধান শাহ মোহাম্মদ নাহিয়ান। উদ্বোধনী পর্বে মানবপাচারবিষয়ক একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান।
পরে ‘প্রতারণার ফাঁদে বন্দি: জোরপূর্বক অপরাধে নিয়োজিত করতে মানবপাচার, প্রতারণামূলক নিয়োগ ও অনলাইন শোষণ মোকাবিলা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা হয়।
ইউএনওডিসি দক্ষিণ এশিয়ার ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর তাসনিম বিনতে করিমের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সিআইডির প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি আলী আকবর খান, ঢাকায় ইতালি দূতাবাসের ইতালিয়ান স্টেট পুলিশের প্রতিনিধি জুসেপ্পে দি জিওভানি, ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান এবং কম্বোডিয়ার অনলাইন স্ক্যাম সেন্টার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরা নাহিদ আরমান।
এরপর মুক্ত আলোচনা এবং ‘ট্র্যাপড ইন পারস্যুইট অব আ বেটার লাইফ’ শীর্ষক সচেতনতামূলক পুতুলনাচ প্রদর্শিত হয়।
জাতীয় সংলাপে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। আগামী এক মাসের মধ্যে কর্মী যাওয়া শুরু হলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে, এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৩টায় কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে মাহদী আমিন বলেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে আমরা বাস্তবসম্মত একটি লক্ষ্য ঠিক করেছি। আগামী মাসের (আগস্ট) শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করায় মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান মাহদী আমিন। ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সকলের সহযোগিতায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।’
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন ও কাজের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমাদের শ্রমবাজার খুলে যাচ্ছে এবং আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যে বেশ কিছু শ্রমিক ভাই-বোন এখানে এসে কাজ শুরু করবেন, তাই আপনারা সকলে ধৈর্য ধারণ করবেন এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন।’
দালাল ও অসাধু চক্রের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মাহদী আমিন মন্তব্য করেন, দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যেন কেউ কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। একই সাথে এই প্রতারক চক্রের বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে প্রবাসে কর্মসংস্থানের সূচনা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের যাত্রা শুরুর কথা স্মরণ করে তিনি বলছিলেন, ‘প্রবাসীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারেও তাদের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি ছিল। বিএনপি সবসময় একটি প্রবাসীবান্ধব দল হিসেবে প্রবাসীদের স্বার্থ, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে।’
মালয়েশিয়ার সাথে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমল তা এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছিলেন।’
মাহদী আমিনের ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে। এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সংস্কৃতিসহ বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কীভাবে জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে যেসব মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে, তাদের কাজের পরিধি আরও কীভাবে সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।’
২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আওতায় মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকার উন্নয়ন ব্যয় বাস্তবায়িত হয়েছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাস্তবায়নের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। ফলে টানা দ্বিতীয় অর্থবছরের মতো এডিপি বাস্তবায়নের হার ৭০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে।
আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার ছিল ৯২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পরের বছর ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরও কমে হয় ৮০ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশে এবং সর্বশেষ অর্থবছরে আরও কমে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, সমাজে যখনই অন্যায় ও শোষণ বেড়েছে, তখনই জনগণ স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ডিএফপি অডিটোরিয়ামে জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও পিএসসির সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস।
আওয়ামী লীগ যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিক্রি করেছে, জুলাইয়ের চেতনাকে সেভাবে বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের অনির্বাণ চেতনা জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতে মুক্তিযুদ্ধের অবদান ভুলে যাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, দেশকে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করতে দলের চেয়ারপার্সন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অসীম শ্রদ্ধায় পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে সামনে রেখে দেশবাসী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করে সফল হয়েছে। এখন দেশ গড়ার কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জুলাই শহীদ দিবস বিষয়ক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মারুফ কামাল খান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামালসহ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিগণ উপস্থিত ছিলেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রয়োগে জনপ্রশাসন আরও জনবান্ধব হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দক্ষ, উদ্ভাবনী, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে সমৃদ্ধ, মর্যাদাশীল ও উজ্জ্বল বাংলাদেশ গঠনে মেধা, শ্রম ও সততার সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ১৪৪ ও ১৪৫তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের প্রশাসন আর কেবল নথিপত্র পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি এখন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যে নীতি বিশ্লেষণ, সেবা প্রদান, অভিযোগ নিষ্পত্তি, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এ প্রযুক্তি দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে।’ সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে এআইনির্ভর করে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে তৈরি পোশাকশিল্পের পাশাপাশি চামড়াশিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন এবং জ্ঞানভিত্তিক সেবা খাতের বিকাশ জরুরি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার স্টার্টআপ খাতে চলতি অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।’
চীনের ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার নিজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে সকলে মিলে কাজ করতে হবে।’
তিনি পরীক্ষামূলকভাবে একটি জেলায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নেরও জন্য কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ‘একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার পরিচয় তার পদবিতে নয়, বরং কর্ম, সততাও উদ্ভাবনী চিন্তায়।’
মানুষের জীবন সহজ করা, সময় সাশ্রয় এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিটি কর্মকর্তাকে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও কর্মসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনসহ সব পর্যায়ের কর্মকর্তার আন্তরিকতা, দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠা অপরিহার্য।’
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কর্মজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে। তবে প্রতিটি সংকটকে সুযোগে রূপ দিতে হবে। জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখতে হবে এবং নতুন প্রযুক্তি ও নতুন ধারণা গ্রহণে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আজ যে সনদ তারা গ্রহণ করছেন, সেটি শিক্ষার সমাপ্তি নয়, বরং আজীবন শিক্ষার নতুন অভিযাত্রার সূচনা।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম বলেন, ‘জনগণের জন্য প্রশাসন, প্রশাসনের জন্য জনগণ নয়’-এই দর্শনকে সামনে রেখেই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়েছে।’
তিনি জানান, পাঁচ মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুই ব্যাচের ৭৪ জন কর্মকর্তাকে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার, এনএপিডির মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির অনুষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অর্জন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম জনগণের সামনে তথ্যভিত্তিক, সংক্ষিপ্ত ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করতে হবে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ প্রতিটি দপ্তরের কার্যক্রম যেন স্পষ্টভাবে জনগণের কাছে প্রতিফলিত হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী মন্ত্রণালয় বিভাগ কর্তৃক প্রণীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অগ্রগতির বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভার শুরুতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার পক্ষ থেকে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, অর্জন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণে করণীয় বিষয়ে উপস্থাপনা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি দপ্তরকে তাদের কর্মপরিধি ও অর্জন সংক্ষিপ্ত কিন্তু তথ্যনির্ভরভাবে উপস্থাপন করতে হবে।’ বিশেষ করে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ক্ষমতায়ন, নতুন প্রকল্প গ্রহণ, কৃষি উন্নয়ন, ঋণ বিতরণ, উপকারভোগীর সংখ্যা, সমবায় সদস্য বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সরকারি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল আরও দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।’
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা এবং প্রয়োজনভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অধিকসংখ্যক জনশক্তিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’ একই সঙ্গে ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের সব ধরনের সেবা প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে একটি জাতীয় জরিপ পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই জরিপের মাধ্যমে দেশের জনসংখ্যা, আর্থসামাজিক অবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং লক্ষ্যভিত্তিক সেবা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো. সেলিম ফকির, এনডিসি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লার মহাপরিচালক একেএম তারেক, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লার মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল ইসলাম, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত কুমার সিকদার, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়ার মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক পিএইচডি, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), গোপালগঞ্জের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন পিএইচডিসহ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন সকল প্রকল্প পরিচালক এবং বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)তে শুধু বাংলাদেশিদের নয়, আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভিসাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে। তিনি জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৫ হাজার নয়, এ পর্যন্ত ৬২৬ জন বাংলাদেশি এ সমস্যার মুখে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরও উপস্থিত ছিলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নয়। পাকিস্তান, মিসর, ফিলিপাইন, নেপালসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভিসাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমাদের দূতাবাস এবং ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজকের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা পর্যন্ত প্রকৃত সংখ্যা ৬২৬।’ তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৪১৭ জনের বিস্তারিত তথ্য ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের ভিসা নবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অবশিষ্টদের তথ্যও পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। শামা বলেন, ‘আবুধাবি ও দুবাইয়ে বাংলাদেশের মিশন ইতোমধ্যে ইউএই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং আগামী সপ্তাহে আরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিবাচক ফলাফল প্রত্যাশা করছি।’
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের স্বাগতিক দেশের আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক শ্রমিক জীবনের সঞ্চয় ব্যয় করেন, এমনকি বিদেশে কাজের সুযোগ পেতে জমিজমাও বিক্রি করেন।’
তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা অন্য কোনোভাবে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করলে তারা আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।’ ‘আপনারা অনুগ্রহ করে স্বাগতিক দেশের আইনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন,’ তিনি বলেন।
শামা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশ দূতাবাস যোগাযোগ করছে, যাতে জানা যায় চাকরি হারানো বা নিয়োগকর্তাসংক্রান্ত কোনো কারণে ভিসা বাতিল হয়েছে কি না।
যদি নিয়োগকর্তার সিদ্ধান্তের কারণে ভিসা বাতিল হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সম্ভাব্য সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জাল কাগজপত্র ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করছে, কারণ এটি শুধু ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিকর নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক বৈদেশিক শ্রমবাজারের জন্যও নেতিবাচক।’
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।
প্রয়োজনে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রবাসী কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে জাল কাগজপত্র ব্যবহারের জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান করা যায়।’
শামা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেছেন।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’ সংবেদনশীল অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করার জন্যও তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা দেশের সরকারি শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের মধ্যেই সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
বন্ধ সরকারি কারখানাগুলোর কার্যক্রম গতিশীল করা, বেসরকারীকরণ ত্বরান্বিত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যেই মূলত এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমলাতান্ত্রিক সব ধরনের জটিলতা দূর করে বন্ধ কারখানাগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে উৎপাদন চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে সরকারি এসব শিল্পকারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে গতি ফেরাতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের শিল্প খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে যৌথভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
হাতে এক বোতল স্বচ্ছ, ঝলমলে সয়াবিন তেল। চুলার কড়াইয়ে তা ঢেলে মাছ কিংবা সবজি ভাজার সুবাস যখন পুরো রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ে, তখন কারোরই মনে সংশয় জাগে না—এটি কোনো খাবার নাকি মরণফাঁদ? বিজ্ঞান বলছে— রান্নাঘরের সোনালী রঙা সয়াবিন তেল থেকে শুরু করে সকালে দাঁত মাজার টুথপেস্ট—সবই দৈনন্দিন জীবনের অতি-আবশ্যকীয় পণ্যগুলোতে নীরবে থাবা বসিয়েছে এক অদৃশ্য ঘাতক মাইক্রোপ্লাস্টিক। প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাস ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসে বাসা বাঁধা এই সূক্ষ্ম বিষ এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম এক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থার দুই অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চমকে ওঠার মতো ভয়াবহ চিত্র।
প্রতি লিটারে অর্ধলক্ষাধিক কণা: ভোজ্যতেল প্রতিটি বাঙালি পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে রাজধানী ঢাকার বাজার থেকে সংগৃহীত সয়াবিন তেল বিশ্লেষণ করে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা আক্ষরিক অর্থেই শিউরে ওঠার মতো। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ প্রকাশিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বাজার থেকে সংগৃহীত বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের প্রতি লিটারে গড়ে ৫৩,৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক বা সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণা বিদ্যমান। ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সুপারশপ এবং খোলা বাজার থেকে মোট ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করে আধুনিক স্পেকট্রোস্কোপিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা এই আতঙ্কজনক সত্য উন্মোচন করেন।
গবেষণার তথ্যমতে, বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা সয়াবিন তেলে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা ভয়াবহ রকমের বেশি। বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা তেলে দূষণের পরিমাণ ১.২৪ গুণ বেশি। খোলা তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯,৭৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে সংগৃহীত খোলা তেলের নমুনায় প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। শিল্পকারখানার আধিক্য, টেক্সটাইল ও প্লাস্টিক কারখানার নৈকট্য এবং ড্রাম বা পাত্রের বারবার ব্যবহারকে এই উচ্চ দূষণের জন্য দায়ী বলে মনে করছেন গবেষকরা।
ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণে সয়াবিন তেলের নমুনায় মোট ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার ধরা পড়েছে। এগুলো হচ্ছে লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (LDPE), হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (HDPE), পলিপ্রোপিলিন (PP), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (PETE), পলিইউরেথেন (PU) এবং নাইলন (Nylon)।
উদ্বেগের বিষয় হলো, ভোজ্যতেলে পলিইউরেথেন ও নাইলনের উপস্থিতি গোটা বিশ্বে এই গবেষণাতেই প্রথম চিহ্নিত হয়েছে। তেলের কণাগুলোতে সবচেয়ে বেশি (৮২.৫শতাংশ) পাওয়া গেছে আঁশ বা ফাইবার জাতীয় মাইক্রোপ্লাস্টিক, যার অর্ধেকেরও বেশি (৫৬.২৯শতাংশ) পুরোপুরি স্বচ্ছ এবং চোখে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
গবেষকেরা দৈনিক সয়াবিন তেল গ্রহণের পরিমাণ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের গড় ওজন ৭০ কেজি ও শিশুদের ১৬ কেজি ধরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্ভাব্য মানব-সংস্পর্শের মাত্রাও (হিউম্যান এক্সপোজার) নির্ণয় করেছেন। সে হিসাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে খাবারের সঙ্গে গড়ে প্রতিদিন ১৭.৬৫টি প্লাস্টিক কণা (বছরে প্রায় ৬,৪৪১টি) প্রবেশ করছে। অন্যদিকে, শরীরের কম ওজনের কারণে শিশুরা প্রতিদিন গড়ে ৭৭.২১টি কণা এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি কণা গ্রহণ করছে।
গবেষণায় একটি শিশুর জীবনভর প্রায় ২০ লাখ ৯০ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা করা হয়েছে। তবে এসব সংখ্যা তেল গ্রহণের অনুমিত পরিমাণ, শরীরের ওজন ও গড় আয়ুর ভিত্তিতে তৈরি মডেলনির্ভর হিসাব। এগুলো মানুষের শরীরের ভেতরে শনাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিকের সরাসরি পরিমাপ নয়।
গবেষকরা জানান, অনবরত এসব প্লাস্টিক কণা পেটে গেলে তা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ এবং দীর্ঘমেয়াদে কোষের ক্ষয়সাধন করতে পারে। ১৩০ মাইক্রোমিটারের ছোট কণাগুলো কোষের দেয়াল ভেদ করে রক্তে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
টুথপেস্টেও একইভাবে ছড়াচ্ছে বিষ: সয়াবিন তেলের এই আতঙ্কজনক চিত্রের ঠিক আগেই উন্মোচিত হয়েছিল দৈনন্দিন মুখের পরিচর্যায় ব্যবহৃত টুথপেস্টের বিষাক্ত রূপ। পরিবেশ বিষয়ক গবেষণাধর্মী সংস্থা ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (এসডো) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় উঠে আসে যে, আমাদের ওরাল হাইজিনের অভ্যাসও মাইক্রোপ্লাস্টিক মুক্ত নয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বিশেষভাব তৈরি ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই (যেমন: মেরিল বেবি ও পেপসোডেন্ট কিড) বিষাক্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
এই নীরব মহামারির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকার সময় আর নেই। পরিবেশবিদ, খাদ্যবিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো তাগিদ দিয়েছেন।
তারা বলেছেন, বিএসটিআই এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে দ্রুত প্রসাধন ও খাদ্যপণ্যে ‘মাইক্রোবিডস’ বা প্লাস্টিক কণার ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মান মেনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। খোলা সয়াবিন তেল ড্রামে রেখে বিক্রির দীর্ঘদিনের অভ্যাস বন্ধ করতে হবে। তেলের পরিশোধন, ফিল্টারিং ও প্যাকেজিং প্রক্রিয়ায় আধুনিক ও নিরাপদ ফিল্টার নিশ্চিত করতে হবে। টুথপেস্ট ও প্রসাধন সামগ্রীতে কৃত্রিম পলিমার বাদ দিয়ে প্রাকৃতিক উপাদান যেমন—চারকোল, প্রাকৃতিক সিলিকা, বেকিং সোডা বা নিম-তুলসী ব্যবহারে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করতে হবে।
তারা আরো বলেছেন, কেনাকাটার সময় সচেতন থাকা এবং শিশুদের ব্রাশ করার সময় সতর্ক থাকা জরুরি, যাতে তারা পেস্ট গিলে না ফেলে। সয়াবিন তেলে আমরা প্রতিদিনের খাবার রান্না করি কিংবা যে টুথপেস্টে সকালের পরিচ্ছন্নতা শুরু করি—সেখানেই যদি বিষের উপাদান লুকিয়ে থাকে, তবে জনস্বাস্থ্য এক বিশাল প্রশ্নচিহ্নের মুখে এসে দাঁড়ায়। জাবি, বিইউপি এবং এসডো-এর গবেষণা চোখের সামনের রঙিন আবরণ সরিয়ে বাস্তব রূপটি দেখিয়ে দিয়েছে। এখন প্রয়োজন সরকারের কঠোর তদারকি, শিল্পমালিকদের বাণিজ্যিক সততা এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন প্রাত্যহিক সচেতনতা। বিষমুক্ত জীবন নিশ্চিত করার এই লড়াইয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখনই সময়ের দাবি।
গবেষক দলের প্রধান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক বলেন, ‘গবেষণায় আমরা ঢাকার বাজারের ব্র্যান্ডেড (বোতলজাত) এবং নন-ব্র্যান্ডেড (খোলা) উভয় প্রকার তেল বিশ্লেষণ করেছি। আমাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি লিটারে গড়ে প্রায় কয়েক হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে, যার মধ্যে ফাইবার এবং ফ্র্যাগমেন্টের আধিক্য সবচেয়ে বেশি। মাইক্রোপ্লাস্টিককে এখন ‘ইমার্জিং কনটামিন্যান্ট’ বা উদীয়মান দূষক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, বিপাকীয় ব্যবস্থায় সমস্যা এবং প্রজননতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ সূচকের ভিত্তিতে নমুনার ছয়টি গ্রুপকেই মাঝারি মাত্রায় দূষিত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে সামগ্রিক দূষণ-ভার সূচকে নমুনাগুলোকে কম দূষণঝুঁকির শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। এই সূচক শুধু বিভিন্ন নমুনার দূষণের মাত্রা তুলনা করতে ব্যবহৃত হয়; এটি খাদ্যনিরাপত্তার কোনো সরকারি মানদণ্ড বা নিরাপদ সীমা নয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এম এইচ চৌধুরী লেলিন এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবস্বাস্থ্যের জন্য বহুমাত্রিক হুমকি। বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের মস্তিষ্ক, ফুসফুস, যকৃৎ, কিডনি, পাকস্থলী, পুরুষের অণ্ডকোষ ও নারীর ডিম্বাশয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এমনকি টুথপেস্টের মতো দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্যেও এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রাত্যহিক ব্যবহার্য পণ্যের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে। ক্ষতিকর রাসায়নিক এসব কণার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং যকৃৎ, কিডনি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। দূষণ কমাতে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি ধাপে আরও শক্তিশালী মান নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। তবে প্লাস্টিক দূষণ বাড়তে থাকা এবং এ বিষয়ে গবেষণা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের শরীরে এর ক্রমবর্ধমান প্রবেশ ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।’
গবেষকদের মতে, দেশে খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। ফলে খাদ্যশৃঙ্খলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রবেশ কতটা এবং এর প্রভাব কী তা নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্যও নেই। তারা সয়াবিন তেল প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেজিংয়ের প্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়ানো, খাদ্যোপযোগী মানসম্মত ফিল্টার ব্যবহার এবং খোলা তেল বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়েছেন।
অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক আরও বলেন, ‘প্লাস্টিককে পুরোপুরি বাদ দেওয়া এখন বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রিসাইক্লিং ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।’
গবেষকদের মতে, ভোজ্যতেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি কেবল একটি পণ্যের মানের প্রশ্ন নয়; এটি খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও যুক্ত। তাই উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিশোধন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে প্লাস্টিক দূষণের সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করে তা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তবে উন্নত পরীক্ষার যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে সবচেয়ে ছোট বা কম স্পষ্ট কণাগুলো শনাক্ত করা সম্ভব না-ও হয়ে থাকতে পারে।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এ কথা বলেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের সংস্কৃতি ও খেলার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান দিনেশ ত্রিবেদী।
তিস্তা ইস্যুতে তিনি বলেন, এমন কোনো সমস্যা নেই যার সমাধান নেই। দুই দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগের ওপর গুরুত্ব দেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
বৈঠকটি খুবই ফলপ্রসু হয়েছে দাবি করে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মানুষের স্বার্থে ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। আমরা কেবল সীমান্ত নয়, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিও ভাগাভাগি করি।