বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া মামলায় তার বান্ধবী আমাতুল্লাহ বুশরার অব্যাহতি চেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি মামলাটির ধার্য তারিখ রয়েছে।
সোমবার রামপুরা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইয়াসিন শিকদার মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
আদালতের রামপুরা থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা দৈনিক বাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
এসআই সেলিম বলেন, ফারদিন হত্যা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। সেখানে মামলা থেকে বুশরার অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি মামলাটির ধার্য তারিখ রয়েছে। ওইদিন প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত বুশরা জামিন পান। পরদিন কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা বলে গত বছরের ৪ নভেম্বর ঢাকার ডেমরার কোনাপাড়ার বাসা থেকে বের হন ফারদিন। ওই দিনই তিনি নিখোঁজ হন। সেদিন ফারদিনের সঙ্গে ছিলেন বুশরা।
৫ নভেম্বর রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন। নিখোঁজের তিন দিন পর ৭ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
এ ঘটনায় আমাতুল্লাহ বুশরাসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে রামপুরা থানায় ফারদিনের বাবা মামলা করেন। মামলার পর গত ১০ নভেম্বর রাজধানীর রামপুরা এলাকার একটি বাসা থেকে বুশরাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্তভার পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওপর ন্যস্ত করা হয়। এরপর মাদকসংশ্লিষ্টতা, মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে খুন, কিশোর গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতার বিষয় সামনে আসে। সর্বশেষ তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবি ও র্যাব জানায়, স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ বা আত্মহত্যা করেছেন ফারদিন। ডিবি পুলিশ জানায়, ফারদিনের মৃত্যুর ঘটনায় জেলে থাকা বুশরা নির্দোষ।
দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির অস্থিরতার পেছনে কালোবাজারি ও মজুতদারদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তেল মজুত করছে এবং অবৈধভাবে বাইরে বিক্রি করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
জ্বালানি তেলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ বা ‘প্যানিক’ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু অসাধু চক্র দেশের এই সংকটময় মুহূর্তকে পুঁজি করে ব্যক্তিগত ফায়দা লুটছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি দেশবাসীকে অধিকতর সচেতন হওয়ার এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার করে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানান।
সরকারকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতা করার জন্য তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন, যাতে তৃণমূল পর্যায়ে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে।
একই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, যখন রাজনীতিবিদরা ইতিহাসবিদের ভূমিকা পালন করতে যান, তখন সেই ইতিহাস অনেক সময় রাজনৈতিক প্রচারণায় বা প্রোপাগান্ডায় রূপ নেয়, যা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলির প্রকৃত ও নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনার দায়িত্ব পেশাদার ও প্রকৃত ইতিহাসবিদদের হাতেই থাকা উচিত।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভার শুরুতে মহান স্বাধীনতার বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের ওপর আলোকপাত করেন।
এবারের ঈদযাত্রার মাত্র নয়দিনে সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই স্বল্প সময়ে অন্তত ২৬৯টি দুর্ঘটনায় ২৩০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন দেড় সহস্রাধিক যাত্রী। এর মধ্যে গত ১৭ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত সড়কপথেই ২০৪ জন নিহত হন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায়, যেখান থেকে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলো দেশের যাতায়াত ব্যবস্থার চরম বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার ঘাটতিকেই নির্দেশ করছে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই দুর্ঘটনার এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারি মাসে ৫৫৯টি দুর্ঘটনায় ৪৮৭ জন এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ৫১৭টি দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন নিহত হয়েছেন। উভয় মাসেই প্রাণহানির বড় একটি অংশজুড়ে ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, যা মোট নিহতের প্রায় ৪০ শতাংশ। এছাড়া পথচারী নিহতের হারও উদ্বেগজনক, যা গড়ে ২৩ থেকে ২৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। যদিও জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক গড় মৃত্যু সামান্য কমলেও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, এটি কোনো টেকসই উন্নতির লক্ষণ নয়। কারণ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান কোনো গুণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
২০২৫ সালের রাজধানীর দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা শহরে দুর্ঘটনার একটি বড় অংশই ঘটে রাতে এবং ভোরে। গত বছর রাজধানীতে ৪০৯টি দুর্ঘটনায় ২১৯ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিল পুরুষ ও পথচারী। রাতে মালবাহী ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং বাইপাস রোডের অভাবকে এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর এবং বিমানবন্দর সড়কের মতো এলাকাগুলো দুর্ঘটনার 'হটস্পট' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ যানজটের কারণে চালকদের অসহিষ্ণু আচরণ ও ধৈর্যচ্যুতিও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান ঈদযাত্রার এই প্রাণহানির জন্য মূলত যানবাহন ও ট্রাফিক অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেছেন। তিনি মনে করেন, কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আমূল সংস্কার। মার্চ মাসের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে এই মাসের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে যথাযথ তদারকি ও কাঠামোগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
সবার অংশগ্রহণে সহাবস্থানের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যারা অতীত নিয়ে পড়ে থাকে, তাদের একচোখ অন্ধ, আর যারা অতীত ভুলে যায়, তারা দুই চোখ অন্ধ। তবে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার অতীতকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সঠিক ইতিহাস চর্চা করতে হবে, নইলে সামনের পথে অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধই জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ ইতিহাস এবং এর গৌরব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও বহমান থাকবে। তবে এ বিষয়ে এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়, যা মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য চরিত্র হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জিয়াউর রহমানের দীর্ঘ প্রস্তুতি ছিল, যা ১৯৭২ ও ১৯৭৪ সালে দৈনিক বাংলা এবং সাপ্তাহিক বিচিত্রায় তার নিজের লেখা নিবন্ধে প্রকাশিত হয়। তার সেই লেখাগুলো নিয়ে কখনো কোনো আপত্তি ওঠেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এর আগে বিকেল আড়াইটার দিকে আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বিশিষ্টজন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরেন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘একাত্তরকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মেলানো যাবে না। একাত্তর আগে, বাকি সব পরে। বিএনপি কারো অবদান অস্বীকার করে না।’
শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত বিএনপির এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জেনে এসেছে যে স্বাধীনতার ঘোষণা কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়। ২৭ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান প্রভিশনাল হেড অব দ্য স্টেট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তি এবং নেতৃত্বদানকারীদের অবদান সরকার স্বীকার করে। আমরা কারো বিজয় ছিনিয়ে নিতে চাই না। সবাইকে একসঙ্গে একাত্তরের ইতিহাসকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্মান জানাতে হবে। একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে তা মিলবে না।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে (৭৬) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোরের দিকে রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড় এলাকার মৃত আজিমদ্দিনের ছেলে এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার।
অভিযান প্রসঙ্গে ওসি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি তিনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি বগুড়ার একটি বিশেষ দল ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার রমনা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর নামে গত বছরের ৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক সংশ্লিষ্ট আরও অন্তত ১০টি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাংলাদেশের প্রতি অবিচল সমর্থন ও সংহতির কথা আবারও জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি নবগঠিত সরকারের প্রতিও আন্তরিক শুভেচ্ছা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। আলোচনায় বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট গুরুত্ব পায় বৈঠকে মহাসচিব বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের উদারতা ও নেতৃত্বকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক তেল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে এর প্রভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সংকট উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ড. খলিলুর রহমান সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য মহাসচিবকে আমন্ত্রণ জানান। মহাসচিব আমন্ত্রণটি সাদরে গ্রহণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বঙ্গভবনে এটিই তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ হওয়ায় অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা তাদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পরস্পর কুশল বিনিময় করেন এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সকল কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় উভয়ই গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে শৈশব ও কৈশোরে তার বঙ্গভবনে আগমনের নানা স্মৃতিচারণ করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই রাষ্ট্রীয় শীর্ষ ব্যক্তিত্বের এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, যা দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বাংলাদেশের ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক দিনটি স্বাধীনতা ও ভবিষ্যতের আশার প্রতীক, যা দেশটির অব্যাহত উন্নতির পথে সকল নাগরিককে অনুপ্রাণিত করবে। মালদ্বীপ বাংলাদেশকে একটি বিশ্বস্ত প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে বলে তিনি তার বার্তায় পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান নিবিড় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আগামী দিনে আরও জোরদার হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আজকের এই গৌরবোজ্জ্বল দিনে বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে ১৯৭১ সালের সেই মুহূর্তটিকে, যখন ৫৫ বছর আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার ডাক এসেছিল। ২৬ মার্চ ভোরে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনার মাধ্যমে রচিত হয়েছিল বাঙালির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অধ্যায়।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের এই শুভেচ্ছা বার্তা দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান ইতিবাচক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ভ্রাতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হচ্ছে এবং বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে।
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বুধবার (২৫ মার্চ) পদ্মা নদীতে বাস পড়ে এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ৩নং পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে টেনে তোলার পর ভেতর থেকে আরও ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
বর্তমানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বাসের ভেতর আর কেউ আটকে আছে কিনা তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এই শোকাবহ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে নিহতদের দাফনকার্যের জন্য পরিবারপ্রতি ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কাজ তদারকি করছেন এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ভবন হোয়াইট হাউজে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’- এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, বুধবার ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউজে এই অনুষ্ঠান হয়। এই সম্মেলনে বিশ্বের ৪৫টির অধিক দেশের ফাস্ট লেডি ও রাষ্ট্র নেতাদের সহধর্মিণী অংশগ্রহণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তার আমন্ত্রণেই জুবাইদা রহমান দুই দিনের সম্মেলনে অংশ নেন। তার সঙ্গে প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক সার্জন শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান।
মিডিয়া সেল জানায়, বুধবার সকালে হোয়াইট হাউজে মার্কিন ফার্স্ট লেডি ও সম্মেলনের আয়োজক মেলানিয়া ট্রাম্প জুবাইদা রহমানসহ আগত সব অতিথিদের স্বাগত জানান। জুবাইদা রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ফাস্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে দুই নেত্রী শিশুদের কল্যাণে একযোগে কাজ করার জন্য একমত হন। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন আয়োজনের জন্য মেলানিয়া ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জুবাইদা রহমান।
সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফাস্ট লেডি ছাড়াও বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশলাদি বিনিময় করেন জুবাইদা রহমান।
গত ২৩ মার্চ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে’ যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন জুবাইদা রহমান। লন্ডন যাত্রা বিরতি করে তিনি যুক্তরাষ্ট্র যান। পরে ডা. জুবাইদা ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ শীর্ষক সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। তার বক্তব্যে শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতাদের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং শিশুদের কল্যাণে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের পক্ষে জুবাইদা রহমানের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সাক্ষাৎকারে জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞানার্জন এবং বিশ্বের সব শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অন্যান্য ফার্স্ট লেডি ও স্পাউসদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রয়োগ উপস্থাপন করা হয়। জুবাইদা রহমান এই প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
দাসত্ব ও নিপীড়ন নির্মূলের জন্য জোরদার বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২৫ মার্চ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের শিকারদের স্মরণে’ আয়োজিত স্মারক সভায় এ আহ্বান জানান।
তিনি দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের লাখ লাখ শিকারদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করা সাহসী মানুষের অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করেন। ড. খলিলুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্য মানবজাতির ওপর এক স্থায়ী দাগ রেখে গেছে।
দাসত্ব, বর্ণবাদ, গণহত্যা ও সকল প্রকার নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের সংবিধান সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদ ও বৈষম্য প্রত্যাখ্যান করে এবং শোষিত জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করে।
১৯২৬ সালের দাসত্ব সংক্রান্ত কনভেনশন এবং প্রায় ৮০ বছর আগে গৃহীত মানবাধিকার সনদ দাসত্বকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদিও দাসত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে, এর প্রভাব আজও সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামোয় বিদ্যমান।
তিনি মানব পাচার প্রতিরোধ, ডিজিটাল ফরেনসিক সমন্বয় এবং দাসত্ব ও দাস বাণিজ্যের মানব ও সভ্যতাগত ক্ষতির বিষয় সম্পর্কে শিক্ষাব্যবস্থা ও সংলাপে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একত্রিত হয়ে এমন একটি বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানান, যেখানে দাসত্ব, বৈষম্য ও অন্যায়ের কোনো স্থান থাকবে না এবং মানব মর্যাদা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।
নানা আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, এ ব্লকের দ্বিতীয়তলায় বিএমইউ এর ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী, সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অপর্ণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে রোগীদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন ইত্যাদি। এছাড়া রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ জিয়ার মাজারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক বীরউত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে বিএমইউ প্রশাসন। এসময় বিএমইউর শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করেন। পরে বিএমইউ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সেখানে ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ ২০২৬ইং তারিখ সকালে বিএমইউ ক্যাম্পাসে ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন মাননীয় ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ। এসময় সেখানে সম্মানিত প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, সার্জারি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. মোঃ ইব্রাহীম সিদ্দিক, নার্সিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. মোঃ মনির হোসেন খান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আয়েশা খাতুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে সম্মানিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন), কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, ডীনবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, অফিস প্রধানগণ, শিক্ষকবৃন্দ, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ পুষ্পস্তবক অপর্ণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাননীয় ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের এবং জুলাই আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, স্বাধীন হয়েছে বলেই বাংলাদেশ আজকের পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশে এখন গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতার পরিবেশ বিরাজ করছে। এখন সময় ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার। সেই লক্ষ্যে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।
এসময় সম্মানিত প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার সেই লক্ষ্য অবশ্যই পূরণ হবে।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রেই নারীদের অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫তম বর্ষ পূর্তিতে আমাদের প্রত্যাশা নারী-পুরুষসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নত ও মর্যাদার উচ্চ শিখরে সু প্রতিষ্ঠিত হবে।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের আলোর পথে আবার চলতে শুরু করেছে। এই পথেই বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে, মানুষের মুখে হাসি ফোটবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ সকল খাতে সাফল্যের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
বিএমইউর উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় দিবসের এ সকল কর্মসূচীতে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ আদনান হাসান মাসুদ, ড্যাবের উপদেষ্টা ও বিএমইউ এর ডেপুটি রেজিস্ট্রার (আইন) ডা. আবু হেনা হেলাল উদ্দিন আহমেদ, ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এস এম নওরোজ, বিএমইউ এর চিকিৎসক ডা. আকবর হোসাইন, উপ-রেজিস্ট্রার সাবিনা ইয়াসমিন, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ হুমায়ুন কবীর, কর্মকর্তা জিসান উদ্দিন আহমেদ, মোঃ ইলিয়াছ খাঁন প্রমুখসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ।
এরপর বিএমইউ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ শহীদ জিয়ার মাজারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে এবং সেখানে ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূলে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে বিএমইউ ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ও বিএমইউর প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ এর সঞ্চালনায় বিএমইউর ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার ছাড়াও ড্যাব নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল, সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কেনান, ড্যাবের উপদেষ্টা ডা. মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, বিএমইউ ড্যাবের সভাপতি ও বিএমইউ এর পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক জননেতা তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই দেশবাসীকে ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন, খাল খনন কর্মসূচী শুরু করেছেন, আগামীতে হেলথ কার্ড দিবেন। ভবিষ্যতে মানুষের ভাগ্য্যের উন্নয়নসহ দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বিভিন্ন জাতীয় দিবস ছাড়াও দুর্যোগ ও সংকটকালে সময়োপযোগী কর্মসূচী পালন করে আসছে। আগামী দিনেও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর মতো মহতী আয়োজন অব্যাহত থাকবে। ড্যাবের উদ্যোগে স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশে অবস্থিত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) মিচেল লি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে এক বৈঠকে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।
গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের শুরুতে মিচেল লি প্রতিমন্ত্রীকে তার দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে অভিনন্দন জানান। প্রতিমন্ত্রী দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার ব্যাপারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠক চলাকালে সিডিএ প্রতিমন্ত্রীকে চলমান দ্বিপক্ষীয় কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন এবং বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী জনগণের সম্পর্কের ওপর আলোচনা করেন। তিনি সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ইতিবাচক সুনামের কথা উল্লেখ করেন।
মিচেল লি জানান, চাঙ্গি বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালসহ আসন্ন বৃহৎ অবকাঠামো ও ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরে দক্ষ ও আধা-দক্ষ উভয় ধরনের বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স দ্রুত বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (বিএসএফটিএ) সম্পাদনে সিঙ্গাপুরের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বে টার্মিনাল প্রকল্পে অব্যাহত সহযোগিতার অনুরোধ জানান।
প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং অগ্রগতি সহজতর করবে। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে, বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো খাতে সিঙ্গাপুরের বৃহত্তর বিনিয়োগকে আমন্ত্রণ জানান।
সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে ডিজিটাল সুশাসন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে, বিশেষ করে আইসিটি-সম্পর্কিত খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা প্রদানে দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ব্যয় হ্রাসের ওপর সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। উভয় পক্ষ বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনকারী বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগে বিনিয়োগসহ জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করে। সিঙ্গাপুর পক্ষ থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সুযোগ অন্বেষণে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিযোগ্য পণ্য চিহ্নিত ও প্রচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাদ্য আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। তারা সিঙ্গাপুরের সুপারমার্কেট চেইনগুলোর মাধ্যমে আম ও সামুদ্রিক খাবারের মতো কৃষিপণ্যসহ বাংলাদেশ থেকে সম্ভাব্য আমদানির ওপর আলোচনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী পাট, সিরামিক এবং চামড়ার পণ্যের মতো বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্যও উৎসাহিত করেন। উভয় পক্ষ লক্ষ্যভিত্তিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করে। প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের সম্ভাব্য বিনিয়োগকে স্বাগত জানান এবং সরকারের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও নীতির ওপর আলোচনা করেন।
উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং এ বছর ঢাকায় পরবর্তী পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভার আয়োজনের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানায়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।