পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়ে হরিজন জনগোষ্ঠীর সদস্যরা বলছেন, হরিজনদের কোটা সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। উল্টো তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। কোটা সংরক্ষণ করা না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মঙ্গলবার সকালে এক মানববন্ধন থেকে এসব কথা বলেন হরিজন জনগোষ্ঠীর সদস্যরা। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে লিখিত পরীক্ষার ফল বাতিল ও হরিজনদের জন্য ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করার দাবিতে এ মানববন্ধন করে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ।
হরিজনরা বলছেন, দেশে প্রায় ১৫ লাখ হরিজন জনগোষ্ঠীর বসবাস। বংশ পরম্পরায় পরিচ্ছন্নতা পেশার সাথে যুক্ত থাকার কারণে তারা প্রতিটি জায়গায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে জাত হরিজনদের জন্য ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে অবজ্ঞা করে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্নকর্মী পদের নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতি করে হরিজনদের বঞ্চিত করছে।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের মহাসচিব নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, ‘সম্প্রতি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে ৬৩ জনের বিপরীতে ৬৭ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে হরিজনদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণি পাশ চাওয়া হলেও সেখানে লিখিত পরীক্ষায় বিসিএস ঘরানার প্রশ্ন করা হয়েছে। পরীক্ষায় প্রশ্ন ছিল কর্তৃপক্ষের মনগড়া আচরণ।’
হরিজন ঐক্য পরিষদের মহাসচিব বলেন, ‘তাদের (পরিবার পরিকল্পনা) মূল উদ্দেশ্য ছিল হরিজনদের বাদ দিয়ে নিজেদের লোককে নিয়োগ দেয়া ও নিয়োগ বাণিজ্য করা। এ নিয়োগে জাত হরিজনদের মধ্যে যারা অষ্টম শ্রেণি পাশ, তারাও আবেদন করেছিল। অথচ তাদের ফলের তালিকায় রাখা হয়নি। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু, তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি।’
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন হরিজন ঐক্য পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি লেবু বাসফোর, গগন লাল, সাংগঠনিক সম্পাদক পান্না বাসফোর, যুবনেতা পংকজ বাসফোর।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এটি একটি প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।’
তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকায়ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সমঝোতা রয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের গৃহীত নীতির সঙ্গেও সংস্থাটি একমত।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব বিষয় বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর আগামী দিনের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত।’
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশও নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে।
মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চায় না। সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এসব পূর্বাভাস দিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার বাজেটে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। বাজেটে দেওয়া প্রক্ষেপণগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলেও সরকার আশা করছে। সূত্র: বাসস
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা ও ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্ততি গ্রহণ এবং যথাযথ নগর পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানব সৃষ্ট দুর্যোগও আছে। কিন্তু এটা নিয়ে আমরা খুব কম চিন্তা করি। ঢাকা শহরের দিকে তাকিয়ে আজ যে আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি হয় তা হলো ভূমিকম্প হলে শহরটি একেবারে মিশে যাবে। আমরা দেখেছি বিশ্বের বিভিন্ন শহরে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রাণহানির সংখ্যা অনেক বেশি হয়। তাই এই বিষয়গুলোতে আমাদের অনেক বেশি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ করে বাড়িঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে নগর ব্যবস্থাপনা, নদীর প্রবাহকে ঠিক রাখা এবং নদীকে দূষণমুক্ত রাখার বিষয়গুলোতে অত্যধিক জোর দেওয়া দরকার।
রাষ্ট্রপতি আজ সকালে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম। সূত্র: বাসস
শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় দশ হাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসন্ন আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এই বিশেষ দায়িত্ব পালন করবেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। বিজিবি সদর দপ্তরের অপারেশন ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান যে, এই ধর্মীয় উৎসবটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কৌশলের আওতায় নিয়মিত যাতায়াত বা টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা হবে।
যেকোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও সাম্প্রদায়িক প্ররোচনার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান আরও জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখার আট কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টারের কাছাকাছি এলাকার মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে সরাসরি নিরাপত্তা সহায়তা দেবে বিজিবি। এর পাশাপাশি তুলনামূলক দূরবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলে দ্রুত গতিতে টহল এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে পর্যাপ্তসংখ্যক অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন ও তাদের কার্যক্রমের পরিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তা নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন সাপেক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে টহল দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা এবং যেকোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সদা প্রস্তুত থাকবে বিজিবি।
তিনি আরও যোগ করেন যে, দুর্গাপূজা হলো আমাদের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকরা যাতে কোনো ধরনের ভীতি ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা বদ্ধপরিকর থাকবে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়নে বর্তমান প্রশাসনের নেওয়া নীতিগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক সম্পূর্ণ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত নাজুক ও সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিল। বিগত আমলের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার আর্থিক দায়ভার বর্তমান প্রশাসনকে বহন করতে হচ্ছে, যার সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে সঠিক ট্র্যাকে ফেরাতে যেসব কার্যকর সংস্কারমূলক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে, বিশ্বব্যাংক তা গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের পাশে থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদানে বিশ্বব্যাংক অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পর আগামী দিনের অগ্রগতির জন্য যে সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও পথনকশা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার সঙ্গে সংস্থাটির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। সম্মিলিতভাবে এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে দুই পক্ষই একসঙ্গে কাজ করবে।
বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাওয়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা পাকা সিদ্ধান্ত হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক আলোচনা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা চূড়ান্ত হতে আগামী আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
মূল্যস্ফীতি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক সংস্থার প্রাক্কলন সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাসকে খাটো বা বিতর্কিত করতে চায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব গবেষণালব্ধ পদ্ধতি ও হিসাবের ভিত্তিতে এই প্রাক্কলন করে থাকে। সরকার নিজের মতো করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সময়ের ব্যবধানে অর্থনৈতিক সূচকগুলোর প্রকৃত চিত্র সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি ট্যাক্সি ও ট্রাক ড্রাইভারসহ দক্ষ শ্রমিকদের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এক ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্বের গভীর বন্ধন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষ করে দুই দেশের এই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ভিত্তি যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে সুসংহত হয়েছিল, তা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
বৈঠকে সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকের ধারাবাহিক আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
এ সময় দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার আরও প্রসারিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিশেষ করে আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ট্যাক্সি ড্রাইভার ও ট্রাক ড্রাইভারের পেশায় কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং অধিক সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বের সাথে কথা বলেন উভয় প্রতিনিধি।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশে ইউএই’র বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদার এবং কৌশলগত অবকাঠামো ও শিল্প খাতে নতুন অংশীদারিত্ব সৃষ্টির সুযোগ নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। সূত্র: বাসস
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্তব্য করেছেন যে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য সরকার প্রণোদনা দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে তা সঠিক উপায়ে বণ্টন হয় না।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শরৎ উৎসব ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সেবা ও সহায়তা জনগণের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে শুধু রাজনৈতিক সংস্কারেই মুক্তি নেই, বরং এর পাশাপাশি আমলাতন্ত্র, সিভিল প্রশাসন এবং প্রকৌশল বিভাগের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কাঠামোগত পরিবর্তন আনা জরুরি।
নবগঠিত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে সুগম করতে দেশের রাজনৈতিক শক্তি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সাধারণ নাগরিকদের একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি যোগ করেন যে দেশ গঠনের এই মহৎ যাত্রায় কেবল সরকারদলীয় নয়, বরং বিরোধী দলগুলোকেও অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থ-সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের যেকোনো আইনি জটিলতা দ্রুত নিরসনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি সংস্থা রামরু আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসীদের মামলা পরিচালনা ও অধিকার সুরক্ষায় প্রস্তাবিত এই বিশেষ আদালত গঠনের বিষয়টি বর্তমানে নীতিগত খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং অচিরেই তা চূড়ান্ত রূপ নিয়ে বাস্তবায়িত হবে।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আরও জানান, প্রবাসী নাগরিকদের সার্বক্ষণিক আইনি সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারি লিগ্যাল এইড কাঠামোর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, যা দ্রুতই চালু করা সম্ভব হবে। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জাতীয় অর্থনীতির মূল সোপান আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে জনশক্তি রপ্তানিই দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের অভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশের কর্মীরা এখনও তুলনামূলক কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। অভিবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতাই এই সংকটের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে কর্মীদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নদীপথে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। জরুরি উদ্ধারকারী জাহাজ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা, ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং রাতে স্পিডবোট চলাচল স্থগিত করাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জন্য ১৬ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ছন্দা পালের স্বাক্ষরে জারি করা এই আদেশটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, টার্মিনালের নির্ধারিত পন্টুন ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না এবং সদরঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর মাঝপথে ছোট নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে যাত্রী তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সাথে প্রতিটি নৌযানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা যায়। যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে ত্রুটিযুক্ত ও ফিটনেসবিহীন লঞ্চ, নৌযান ও ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতের বেলা স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং দিনের বেলায় চলাচলের সময় নদীর মাঝপথ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করতে হবে।
জরুরি উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সুবিধার্থে উদ্ধারকারী জাহাজ সবসময় প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা জোরদার এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সদরঘাট নৌ টার্মিনাল ও পন্টুন চত্বরে হকার ও ক্যানভাসারদের অবস্থান নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি টার্মিনালের প্রবেশপথে নৌযানের রুট ও পন্টুনের তথ্য প্রদর্শন এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ফেরিঘাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যানবাহনের সারিবদ্ধ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং ফেরিতে ওঠার আগে চালক ছাড়া গণপরিবহনের অন্যান্য যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার নিয়ম কার্যকরে ঘাটে দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টার্মিনালগুলোতে নারী, শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সুবিধার জন্য নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা, বিশ্রামাগার ও মোবাইল ফোন চার্জিংয়ের ব্যবস্থা উন্নত করার নির্দেশ রয়েছে।
নৌযাত্রায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগের জন্য প্রতিটি লঞ্চে চারটি জরুরি হটলাইন নম্বর প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ফায়ার সার্ভিস ১০২, বিআইডব্লিউটিএর যাত্রীসেবা ১৬১১৩ এবং কোস্ট গার্ডের ১৬১১১। এর পাশাপাশি নদীপথের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য জানতে ১০৯০ অথবা ৪১০২৫৭৩০ ও ৪১০২৫৭৩১ নম্বরে যোগাযোগের জন্য যাত্রীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটের মোট ৬১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শনিবার থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত এসব ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যগামী ৯ হাজার ২৬৯ জন যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি বিভিন্ন ট্রানজিট রুটের ফ্লাইট। সরাসরি যাত্রার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, রিয়াদ এয়ারের ৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট সুবিধায় রিয়াদগামী যাত্রীদের বহন করার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালামএয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর রিয়াদমুখী সংযোগ স্থগিত থাকায় ঢাকা থেকেও এসব যাত্রীকে গন্তব্যে পাঠানো সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় রবিবার রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিগত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ দফা আক্রমণ চালানো হয়। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবারের হামলায় টার্মিনালের অবকাঠামো ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এক বৈমানিকসহ তিন সৌদি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে।
বিগত দুই মাস ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে রিয়াদ বিমানবন্দর। এর আগে সৌদির আকাশসীমা ব্যবহারকারী যেকোনো এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে কঠোর পরিণতির হুমকি দিয়েছিল হুথি গোষ্ঠী, যার ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের হামলা সংঘটিত হয় এবং ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় আকারের এই বিপর্যয় নেমে আসে।
নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত ঋণ কর্মসূচির বেশিরভাগ শর্তের সঙ্গেই একমত হয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলন, ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে তো আমরা একটা ফ্রেমওয়ার্ক, পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টে তো যাচ্ছি, ওটা আন্ডার প্রসেস। এর মাধ্যমে আমরা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে আগামী দিনে কোঅপারেশনগুলো কী হবে, ওই পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের মধ্যে ওটা থাকবে। এবং ইন দ্য মিন টাইম ওয়ার্ল্ড ব্যাংক সাপোর্ট তো দিয়ে যাচ্ছে আমাদের, সমস্যা নাই। আই থিংক উই উইল হ্যাভ এ প্রোগ্রাম হুইচ উইল বি প্রিটি গুড।’
তিনি বলেন, জনগণের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি ও এজেন্ডার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
আইএমএফের সাথে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘হ্যাঁ, এটার অগ্রগতি হচ্ছে। ওদের সাথে অলরেডি ডায়ালগ চলছে। এর মধ্যে অনেকগুলো মিটিং হয়েছে এবং এটা চলছে। তাদের সাথে কালকে পরশু আবার মিটিং আছে। সুতরাং আইএমএফের সাথে প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা চলছে।’
আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আইএমএফের কিছু কন্ডিশন আছে, এগুলো আমরা আলাপ করছি, এগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে। আর কিছু বিষয়ে আমরা বলছি যে সিকোয়েন্সিং করতে হবে... আইএমএফের সাথে আমাদের যে ডিফারেন্সগুলো আছে, এগুলো সমাধান করা যাবে। এটা আলোচনা চলছে।
বিশ্ব অর্থনীতির নীতি-নির্ধারণী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থমন্ত্রী ও উন্নয়ন সহযোগীসহ ১৯১ দেশের ১৫ হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি।
সৌদি আরবে নিরাপত্তা সংকটের কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী ও সৌদিগামী যাত্রীরা। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এখন পর্যন্ত ২৮টি ফ্লাইটের ৪ হাজার ৮৫১ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরাসরি সৌদিগামী ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট ফ্লাইটের যাত্রীরাও এ দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে কেউ বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন, কেউ ফিরে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। নতুন ফ্লাইটের অপেক্ষার পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, চাকরিতে যোগ দিতে না পারা এবং অতিরিক্ত খরচের দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
সোমবার (১২ অক্টোবর) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট শাখার স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর এ তথ্য জানান। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের তিনটি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের তিনটি এবং ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ১৬টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় ও তারিখ অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।
স্থগিত ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন যাত্রাসূচি সম্পর্কে যথাসময়ে হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিমান।
এর আগে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে রিয়াদগামী যাত্রীদের যাত্রাসূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। একই সঙ্গে এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।
এর আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছিল, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় আটটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ২ হাজার ৯৫১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি, ইউএস-বাংলার একটি, সৌদিয়ার তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারের দুটি রয়েছে। তবে ইন্ডিগো ও হিমালয়া এয়ারলাইন্সের দাম্মামগামী কানেক্টিং ফ্লাইটের তথ্য ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, রোববার ও সোমবারের ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের বিজি৩৩৯ ও বিজি৩৪০ ফ্লাইট স্থগিত ছিল। রিয়াদের বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধের সময়সীমা বাংলাদেশ সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর ৩টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। যাত্রীদের বিমানবন্দরে না আসার পরামর্শ দিয়ে ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-দাম্মাম রুটের বিজি৩৪৯ ফ্লাইটটি প্রায় ৩০ মিনিট বিলম্বের পর সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে যায়।
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার শঙ্কা: সৌদি আরবে চাকরি পেতে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করেছেন মোহাম্মদ হাসান। গত রোববার বিকেলে ঢাকার বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় তিনি জানান, সোমবার (১২ অক্টোবর) ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে রিয়াদে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তার কোম্পানি বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিল। হাসান বলেন, ব্যবস্থা না হলে কী হবে, তা তিনি জানেন না। চার সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি।
হাসানের মতো অনেক কর্মীর জন্য ফ্লাইট বাতিল শুধু যাত্রা বিলম্বের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের চাকরি, ঋণ এবং পরিবারের জীবিকা। প্রথমবার বিদেশে কাজে যেতে চাওয়া কর্মীদের অনেকে জমি বিক্রি, ঋণ কিংবা পরিবারের সঞ্চয় থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ভিসা ও চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারলে তাদের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মোহাম্মদ রেজাউল করিম তিন মাসের ছুটি শেষে দাম্মামে কাজে ফিরছিলেন। ইন্ডিগোর কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে দুপুরে বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারেন, তার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়াই অপেক্ষা করার কথা জানান তিনি। সন্ধ্যায় ট্রাভেল এজেন্সি তাকে ঢাকায় রাত কাটিয়ে পরদিন ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে বলে। একই ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন মোহাম্মদ আরিফ ও মোহাম্মদ তামিম ইসলাম।
সাইমন নামের আরেক প্রবাসী কাঠমান্ডু হয়ে হিমালয়া এয়ারলাইন্স দাম্মাম যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাকে ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম রিয়াদের ফ্লাইট ধরতে এসে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। দুই সন্তান ও বয়স্ক বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব তার ওপর। অন্যদিকে, মোহাম্মদ শাহীনকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো বা নতুন করে ভ্রমণের অনুমতি নিতে হবে। অনিশ্চয়তার মধ্যে তাকেও গ্রামের বাড়িতে ফিরে এজেন্সির খবরের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়।
চার মাসের ছুটি শেষে কাজে ফিরতে চাওয়া নড়াইলের শংকর কুমার দাসও বিমানবন্দরে অপেক্ষার পর গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া এবং ঋণ পরিশোধের দায় তাকে কাজে ফিরতে বাধ্য করছে। তার ভাষায়, সংঘাত থাকুক বা না থাকুক, জীবিকার তাগিদে তাকে কাজে ফিরতেই হবে।
দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় আসা কর্মীদের ভোগান্তি আরও বেশি। যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার বাড়তি ব্যয় এবং আয়হীন অপেক্ষা তাদের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। ফ্লাইট বাতিলের খবর অনেকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জানতে পেরেছেন। এরপর তাদের নিজ নিজ রিক্রুটিং এজেন্সি বা নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বিকল্প ফ্লাইটের চেষ্টা, অনিশ্চয়তা কাটেনি: এমআরজে গ্লোবালের কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, ইন্ডিগোর ফ্লাইটে যাত্রা ব্যাহত হওয়া কর্মীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। তবে কত দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা যাবে, অতিরিক্ত খরচ কে বহন করবে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হতে চলা কর্মীদের নিয়োগকর্তারা ছুটি বাড়াবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
গত শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, আহত চার বাংলাদেশি রিয়াদের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন।
শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে প্রভাবের শঙ্কা: সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার এবং প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৯ জন বাংলাদেশি বিদেশে চাকরির ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯২, অর্থাৎ প্রায় ৩২ শতাংশ বেশি। শুধু সেপ্টেম্বরেই সৌদি আরবে গেছেন ৩২ হাজার ৯১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে আসা মোট ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের মধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আসা ৮ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের মধ্যে সৌদি আরবের অবদান ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার, যা মোট প্রবাহের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কার তথ্য না থাকলেও সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কর্মীদের কাজে যোগদান ও ছুটি শেষে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে। এতে প্রবাসী আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময় এবং যাত্রা পুনরায় শুরুর নিশ্চয়তা না থাকায় হাজারো যাত্রীর অনিশ্চয়তা কাটেনি। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ও দ্রুত ফ্লাইট চালু না হলে যাত্রীদের ব্যক্তিগত দুর্ভোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স প্রবাহেও চাপ তৈরি হতে পারে।
কন্যাশিশুদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্যায়, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হলে নীরব থেকো না। বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে জানাও; প্রয়োজনে হেল্পলাইনের সহায়তা নাও। তোমাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মনে রেখো, তোমাদের সাফল্যের সঙ্গে শুধু তোমাদের পরিবার নয়; সমাজ এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও জড়িয়ে আছে।
কন্যাশিশুদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হও। শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরো, দক্ষতা অর্জন করো এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নাও। স্বপ্ন দেখতে ভয় পেয়ো না। তোমাদের স্বপ্ন বড় হোক, প্রস্তুতি হোক দৃঢ়, আর লক্ষ্য অর্জনে থাকুক অধ্যবসায়।
অভিভাবকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান-কন্যাকে বোঝা নয়, সম্ভাবনা হিসেবে দেখুন। ছেলে ও মেয়েকে সমান মর্যাদা দিন। ছেলে সন্তানকে ছোটবেলা থেকে মেয়েদের সম্মান করতে, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে শেখান। বিয়ের জন্য সঞ্চয়ের আগে মেয়ের শিক্ষা ও কল্যাণে বিনিয়োগ করুন। সংসারের চাবির পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চাবিটিও তার হাতে তুলে দিন।
সমান অধিকারের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ছেলের মতো মেয়েকেও নিজের যোগ্যতায় সফল হওয়ার সুযোগ দিন, দক্ষ করে তুলুন এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জনে সহযোগিতা করুন।
কন্যাশিশুর বিশ্বজয়ের জন্য পরিবর্তন জরুরি উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আর সেই পরিবর্তন সম্ভব। প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি মানসিকতার পরিবর্তন। এসব ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতা ও শিক্ষক, কাজি, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এক ডানায় ভর করে কোনো পাখি যেমন আকাশে উড়তে পারে না, তেমনি নারী ও কন্যাশিশুকে পেছনে রেখে কোনো সমাজ ও জাতি-উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। এ প্রসঙ্গে নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়ার কথা মনে রাখতে হবে। আমরা সমাজের অর্ধাঙ্গ। আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কী রূপে।’
কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আসুন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে প্রতিটি কন্যা নিরাপদে জন্ম নেবে, নির্ভয়ে বেড়ে উঠবে, স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করবে, দক্ষতা অর্জন করবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং একদিন গর্বের সঙ্গে বলবে—এই দেশ আমার। এই ভবিষ্যৎও আমার। শিশু বিয়ে আর নয়। বৈষম্য আর নয়। কন্যার স্বপ্ন থামবে না।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং মানবপাচার প্রতিরোধে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও ইইউর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইইউর অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।
সাক্ষাৎকালে ভিসা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জালিয়াতি প্রতিরোধ ও নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে শিক্ষাগত সনদ, ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ আর্থিক নথিতে কিউআর কোড সংযোজনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিরা যাতে বৈধ চ্যানেলে সহজে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন এবং বাংলাদেশ থেকে মানসম্মত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ কর্মী পাঠিয়ে ইউরোপের শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করেন তারা।
অভিবাসনের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ব্রেন ড্রেইনকে ব্রেন সার্কুলেশনে রূপান্তরের বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।
ম্যাগনাস ব্রুনার জানান, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি বৈধ পথে অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইইউ সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি ইইউ প্রতিনিধিদলকে সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সংস্কার ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ড চালুর বিষয়ে অবহিত করেন। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ইইউ প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সংস্থাটির পরিচালক হেনরিক নীলসেন ও ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা এবং সংস্থাটির একজন ফার্স্ট কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।