শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৪ মাঘ ১৪৩২

গুলশানের ভবনে আগুন: ডাক্টের বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে সূত্রপাত

গুলশানের-২ এর এই বহুতল ভবনে রোববার আগুন লাগে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:০২
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:০১
  • গুলশানে নেই কোনো ফায়ার স্টেশন
  • রাস্তায় বা মোড়গুলোয় নেই পানি সরবরাহের হাইড্রেন্ট

রাজধানীর গুলশানের বহুতল ভবনে বৈদ্যুতিক গোলযোগ (শর্টসার্কিট) থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বৈদ্যুতিক লাইনের ডাক্টে হয়তো এই শর্টসার্কিট হয়ে থাকতে পারে। আগুনে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে ভবনের সপ্তম তলা থেকে ১২ তলা পর্যন্ত।

গুলশান-২ নম্বরের ১০৪ নম্বর সড়কের ২ নম্বর বাড়িতে গত রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে আগুন লাগে। একপর্যায়ে আগুন ভবনের ১২ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের প্রায় ৪ ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় তারা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হন। তারা হলেন আনোয়ার ও রাজু। ভবনের ১১ তলায় থাকতেন তারা। আনোয়ার রোববার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আর রাজু সোমবার ভোরে সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই মাস বয়সী এক শিশুসহ ২২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় লাফিয়ে পড়ে, দগ্ধ হয়ে ও ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সিকদার মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আরও দুজন।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির ভেতর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শেষবারের মতো তল্লাশি করছেন। তারা বেলা ১১টার দিকে তল্লাশি শেষ করে চলে যান। তবে তল্লাশিতে কোনো মরদেহ বা কাউকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। তল্লাশির পর পরই ফ্ল্যাট-মালিকরা ভবনে ঢোকেন। তবে গণমাধ্যমকর্মীসহ অন্য কাউকেই ভবনে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এমনকি পুলিশ সদস্যরাও ওপরে যাননি।

তদন্ত কমিটি

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ৩টা থেকে তাদের কাজ শুরু করেছেন।

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেন, শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আব্দুল আহাদ ভবনটি পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ভবনটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।’

ভবনটির নির্মাণকাঠামো ও অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থার বিষয়ে এক প্রশ্নে আবদুল আহাদ বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা এসব বিষয়ে খতিয়ে দেখবে। আমরা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি নজর রেখেছি। এরই মধ্যে ভবনটি নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। শুধু বিভিন্ন ফ্ল্যাটের মালিকদের ঢুকতে দেয়া হয়েছে। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে নিজ নিজ ফ্ল্যাট বুঝে নিচ্ছেন। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়নি।’

এদিকে ভবনটির দশম ও একাদশ তলা মিলিয়ে একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে থাকেন নিউ এইজ গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ ইব্রাহিম। তার পরিবারের ১৩-১৪ জন সদস্যকে উদ্ধার করেছেন তার গার্মেন্টসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মধ্যে একজন প্রকৌশলী মাহফুজুল হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে জানান, ভবনটির নির্মাণপ্রক্রিয়ায় তিনি জড়িত ছিলেন। ভবনে বিপৎকালীন পানি সরবরাহের হাইড্রেন্ট, অগ্নিকাণ্ডের সংকেত (অ্যালার্ম), প্রতিটি কক্ষে পানি ছিটানোর যন্ত্র, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রসহ সব ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তাহলে আগুন এভাবে ছড়িয়ে পড়ল কেন- এমন প্রশ্নে এই প্রকৌশলী বলেন, ভবনটিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রগুলোর (এসি) বৈদ্যুতিক লাইন সেন্ট্রালি (কেন্দ্রীয়ভাবে) ডাক্টের মাধ্যমে করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ডাক্টের ভেতরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত্র হয়েছে। প্রথম ডাক্ট থেকেই ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। পরে আগুন দেখা গেছে। ফায়ার অ্যালার্মও কাজ করেছে। তবে বাসিন্দারা প্রথমে আগুন না দেখে ভেবেছেন-এটা ভুল অ্যালার্ম। তখনই যদি ওনারা সিঁড়ি দিয়ে নেমে যেতেন, তাহলে সবাই নামতে পারতেন।

মাহফুজুল হাসান বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে আমাদের কোম্পানি মালিকের পরিবারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পেরেছি। একজন গৃহকর্মী ধোঁয়ায় কিছুটা অসুস্থ হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। সবাই ভালো আছেন।’

এই প্রকৌশলী ওই ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের ছবি দেখান। ছবিতে দেখা যায়, কক্ষে যা ছিল, সব পুড়ে শেষ। এই ভবনটি কি নিউ এইজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ ইব্রাহিম তৈরি করেছেন বা জমির মালিক তিনি কি না জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি প্রকৌশলী মাহফুজুল হাসান।

গুলশানে নেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস এখানে থাকায় এই এলাকা কূটনৈতিক পাড়া নামেও পরিচিত। পাশাপাশি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বসবাসও গুলশানে। এমন একটি এলাকায় নেই কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। নিকটতম স্টেশন বারিধারায়। শুধু তা-ই নয়, গুলশানের সড়ক ও মোড়গুলোয় পানি সরবরাহের কোনো হাইড্রেন্টও নেই। এ বিষয়ে ওয়াসা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


ইনকিলাব মঞ্চের জরুরি সতর্কবার্তা ও নিরাপদ স্থানে ফেরার আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শাহবাগে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক নতুন ও জরুরি বার্তা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে রাত ৯টা ১৩ মিনিটে তাদের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয় যে, চলমান আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা এবং আসন্ন নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এমন আশঙ্কায় সংগঠনটি তাদের কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পোস্টে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সতর্ক করে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, সকল বাধা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পূর্বনির্ধারিত তারিখেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে, বিকেল ৫টা থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে এবং আন্দোলনরতদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্র-জনতা।

এই অবরোধের ফলে শাহবাগ ও এর চারপাশের রাস্তায় যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে এসময় ‘ব্লকেড, ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’; ‘হাদি তোমায় দেখা যায়, ইনকিলাবের পতাকায়’; ‘কে বলেরে হাদি নাই, হাদি সারা বাংলায়’ এবং ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’ সহ বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত রাখতে দেখা যায়। মূলত পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কায় ইনকিলাব মঞ্চ এখন তাদের কৌশল পরিবর্তন করে সবাইকে নিরাপদ অবস্থানে ফেরার ডাক দিয়েছে।


শাহবাগে ফের পুলিশ-ইনকিলাব মঞ্চ সংঘর্ষে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং এই ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিতে আন্দোলনরত ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের নতুন করে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করলে একপর্যায়ে পুলিশ তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে একই দিন বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রার সময় ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়েও পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের বড় ধরনের সংঘাত হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয় যে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সংগঠনের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং রাকসুর জিএস আম্মারসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সেই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, “জাবের ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জুমা-শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হয়েছে। আপাতত কোন জমায়েত করবেন না। আমরা আহতদের চিকিৎসা দিয়ে আবার রাজপথে আসব।”


যমুনা সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ দমনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ ভিত্তিহীন: ডিএমপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেশ কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে যমুনার দিকে যাওয়ার এই প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে এই অভিযানে কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি ও পরবর্তী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নিয়ে মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান যে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কিছু অসাধু ব্যক্তি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। তিনি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, “সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং এতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি।” পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান যে, দায়িত্ব পালনকালে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কয়েকজন বিক্ষোভকারীও সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। কোনো ধরনের প্রোপাগান্ডায় কান না দিয়ে এবং ভিত্তিহীন অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে সর্বসাধারণকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয় যে, বিক্ষোভকারীরা যমুনা ও সংলগ্ন নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে জনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সরকার দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছে যে, ‘এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।’

এই সংঘাতের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সরকার নিশ্চিত করেছে যে, আহতদের কারো শরীরেই আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাত পাওয়া যায়নি। সরকার পুনরায় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচারে তারা সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। এই লক্ষ্যে জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার বিষয়টি বর্তমানে আইনি পর্যালোচনায় রয়েছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে সরকার সবাইকে চরম ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ এবং বহু বিদেশি সংবাদকর্মী ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে দেশে অবস্থান করছেন। আসন্ন নির্বাচনকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।’ একটি উৎসবমুখর, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের উসকানি বা বিচ্যুতি কাম্য নয় বলে সরকার মনে করে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষায় সব নাগরিকের দায়িত্বশীল ও সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস পোষণ করে।


সুষ্ঠু নির্বাচন ও অপপ্রচার রোধে আনসার-ভিডিপির সমন্বিত প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ব্যাপক ও সুসংগঠিত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। পেশাদারিত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে বাহিনীর প্রতিটি স্তরে এখন উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া জেলায় বাহিনীর এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়ায় সরাসরি উপস্থিতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরাও এই আয়োজনে যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও বাহিনীর সম্মান রক্ষায় সদস্যদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় পতাকা ও বাহিনীর পতাকার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে; পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই দেশের আমানত, জাতীয় পতাকা এবং বাহিনীর সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।”

নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন মহলের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে মহাপরিচালক জানান যে, সততা ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাই হলো যেকোনো প্রোপাগান্ডার মোক্ষম জবাব। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, অতীতের অনিয়মকারী কুশীলবরা বর্তমানে তরুণদের স্বচ্ছ ডিজিটাল কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে AVMIS ও STDMS সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় এবং আড়াই লক্ষ নবপ্রশিক্ষিত সদস্যের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কারণে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। বিশেষ করে সদস্যদের ভাতা প্রদানে অটোমেশন ব্যবস্থা কার্যকর করার বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সদস্যদের কল্যাণ ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষণেও বাহিনী সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।”

সদস্যদের কল্যাণে আনসার-ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে শক্তিশালী করা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মতো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথাও সভায় আলোচনা করা হয়। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিয়ে জনআস্থা বৃদ্ধি এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় আনসার বাহিনী অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। মহাপরিচালক প্রত্যাশা করেন যে, দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাহিনীর সদস্যরা নিরপেক্ষতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আগামীর গণতান্ত্রিক পথচলাকে আরও সুদৃঢ় করবেন।


ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইনকিলাব মঞ্চের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে এই অনাকাঙ্ক্ষিত তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মূলত বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা প্রদান করে। এ সময় উত্তেজিত আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সক্রিয়ভাবে জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকেই ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা যমুনার প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়ে কয়েক দফায় আলটিমেটাম প্রদান করেছিলেন এবং আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এই কর্মসূচি ও উত্তেজনা অব্যাহত থাকতে দেখা যায়।


ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জাতিসংঘকে প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়কে (ওএইচসিএইচআর) প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরকে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার তদন্তের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তরকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকার এ মামলায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অটল রয়েছে এবং এ ধরনের যেকোনো তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।”

প্রেস সচিব যখন এই ঘোষণা দিচ্ছিলেন, তখন হাদি হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সংগঠনের সদস্যরা যমুনার দিকে অগ্রসর হয়ে হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ছয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে মারা যান। মূলত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার এখন এই মামলার আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।


অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপি পদমর্যাদার ৮ পুলিশ কর্মকর্তা বদলি

আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন ৮ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন উপসচিব মাহবুবুর রহমান।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুলিশ অধিদফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি এম এ জলিল এবং এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সায়ফুজ্জামান ফারুকীকে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহীর সারদার অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জাবেদুর রহমানকে সিআইডিতে এবং একই প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম আশরাফুজ্জামানকে শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

রাজশাহীতে সংযুক্ত রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রশীদুল হাসানকে রংপুরের পিটিসি-তে সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজশাহীর সারদার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি এসপি) সাহেব আলী পাঠানকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভূইয়ার অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটে (এটিইউ) পুলিশ সুপার হিসেবে বদলির আগের আদেশটি বাতিল করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।


স্বামী হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে যমুনার সামনে ওসমান হাদির স্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নিহতের স্ত্রী ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং ডাকসুর সাবেক মুক্তিযুদ্ধ ও আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। অবস্থান কর্মসূচি সম্পর্কে ফাতিমা তাসনিম জুমা গণমাধ্যমকে জানান, ‘জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ ও শহিদের স্ত্রী।’ এ সময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে ইনকিলাব মঞ্চ সবাইকে সহযোগিতা করলেও তাদের প্রয়োজনে অন্যদের কাছ থেকে আশানুরূপ সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে না।

কর্মসূচি চলাকালে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি আশ্বাস পাওয়ার আগ পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা বিঘ্ন হতে পারে এই বিবেচনায় আমরা অল্প কয়েকজন মানুষ এসেছি। আমরা চাইলে আরও মানুষ আনতে পারতাম। প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীকে নিয়ে আমরা অপেক্ষা করছি। বিচারের পরিপূর্ণ আশ্বাস না পেলে আমরা অবস্থান কর্মসূচি ছেড়ে যাব না।’ তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ হাদি হত্যার ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের অধীনে একটা নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা এই কর্মসূচি ছেড়ে যাব না।’

এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে ছাত্র-জনতাকে এই কর্মসূচিতে সংহতি জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘আমাদের পূর্বঘোষিত ১ ঘন্টা সময় শেষ হয়েছে। জাতিসংঘের অধীনে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার তদন্ত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতাকে যমুনার প্রবেশমুখগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’ উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল ও এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মূলত এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত ও বিচার নিশ্চিতেই পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে।


নির্বাচনী দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় আমানত: অনিয়ম প্রতিরোধে বদ্ধপরিকর আনসার-ভিডিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী সুসংগঠিত প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

সমাবেশে তিনি দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও ঐক্য সুদৃঢ়করণ এবং সম্মিলিত শক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও আগ্রাসন প্রতিহত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে বলেন, “মৌলিক প্রশিক্ষণের আলোকে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনই একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রধান ভিত্তি।”

রাজশাহী, নওগাঁ ও ময়মনসিংহ জেলায় সরাসরি সম্প্রচারিত এই সমাবেশের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্যের সম্মিলিত প্রতিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, “বাহিনীর ধারাবাহিক প্রস্তুতিমূলক সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হলো দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ঐক্য ও সচেতনতা আরও জোরদার করা। জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং; তবে সম্মিলিত প্রস্তুতি ও দায়িত্ববোধ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।” তিনি মনে করেন, সম্মিলিত প্রস্তুতির মাধ্যমেই যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দেওয়া সম্ভব।

১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই বাহিনী দেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, “রাষ্ট্রসেবার মানসিকতায় গড়ে ওঠা এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের দিকে আজ সারা দেশের মানুষ প্রত্যাশাভরে তাকিয়ে আছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন। সেই স্বপ্নের গর্বিত বাহক হিসেবে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা বাহিনীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবেন।” তিনি সদস্যদের ব্যক্তিগত সরঞ্জামাদির সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত পোশাক-পরিচ্ছদ ও শৃঙ্খলার বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতন থাকার আহ্বান জানান যাতে বাহিনীর জনআস্থা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন যে, অপশক্তির প্রভাবমুক্ত থেকে জাতিকে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া একটি পবিত্র আমানত। জন্মভূমির প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা থেকে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অতীতের মতোই অটল থাকবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। এই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী ও গণতন্ত্রবান্ধব নির্বাচন ব্যবস্থার ভিত আরও মজবুত হবে—এটিই বাহিনীর মূল অঙ্গীকার হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। মূলত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে শৃঙ্খলা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।


কাস্টমসের কমিশনারসহ ৩৮ কর্মকর্তার একযোগে বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কাস্টমস প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়ে কমিশনারসহ ৩৮ জন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পৃথক পাঁচটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এই বদলির নির্দেশনা জারি করা হয়।

বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩ জন কমিশনার, ৪ জন যুগ্ম কমিশনার, ৫ জন অতিরিক্ত কমিশনার, ৮ জন উপ-কমিশনার এবং ১৮ জন সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। এসব আদেশের একটি গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এবং অপর চারটি বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ করা হয়। নির্দেশনায় এই কর্মকর্তাদের ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউজে এবং বিভাগীয় শহরগুলো থেকে ঢাকায় স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।

বদলির তালিকায় থাকা তিন কমিশনার হলেন—আবুল বাশার মো. শফিকুর রহমান, চলতি দায়িত্বে থাকা মো. মাহাফুজুর রহমান ও মো. জাকিন হোসেন। যুগ্ম কমিশনারদের মধ্যে রয়েছেন মো. আল আমিন, সুমন দাস, মাজেদুল হক ও মহিবুর রহমান ভুঞা। অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে বদলি হয়েছেন কামনাশীষ, মোহাম্মদ সেলিম শেখ, রাকিবুল হাসান, মিনহাজ উদ্দিন ও আব্দুল রশিদ মিয়া। উপ-কমিশনার পদে রদবদল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, প্রভাত কুমার সিংহ, নুরুন নাহার লিলি, তানজিলা ইয়াসমিন, জোবায়দা খানম, রবীন্দ্র কুমার সিংহ, মো. মশউর রহমান ও আলী রেজা হায়দার।

এছাড়া সহকারী কমিশনার হিসেবে শুভ্র দেব মণ্ডল, অপূর্ব সাহা, আবদুস সাত্তার, ফয়ছাল আহম্মদ, মো. শওকত হোসেন, দীপু রাম রায়, সামিয়া নিশাত, মো. আইয়ুব, ফিরোজ হোসেন বিশ্বাস, আসিবুল হক, রেবেকা সুলতানা রীমা, আবু সালেহ আব্দুন নূর, মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ সৌরভ, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. আবদুল্লাহ, একেএম জামিউল আলম, আব্দুস সালাম ও মোস্তফা কামালকে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূলত প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক প্রয়োজনে কাস্টমসের এই শীর্ষ ও মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের একযোগে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হলো।


এলপি গ্যাসের ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত, কমবে দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এলপি গ্যাসের ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার যার ফলে বাজারে এলপি গ্যাসের দাম কমে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সরকারের নতুন এই পদক্ষেপে এলপি গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিদ্যমান কর কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। শফিকুল আলম বলেন, ‘এলপি গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ আগাম কর অব্যাহতি প্রদানপূর্বক এলপি গ্যাসের আমদানি পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

এর ফলে এলপি গ্যাসের ওপরে যে করভার, এ করভার একটু হলেও কমবে এবং এর ফলে লোকাল মার্কেটে এলপি গ্যাসের দাম আরও কমে আসবে।’ মূলত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জ্বালানি খরচ কমিয়ে আনতেই সরকার এই শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা ভোক্তা পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।


একুশে পদক ২০২৬ ঘোষণা: ববিতা, শফিক রেহমান ও মরণোত্তর আইয়ুব বাচ্চুসহ মনোনীত ১০ গুণী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’ ২০২৬-এর জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর শিল্প, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি জনপ্রিয় ব্যান্ড দলকে এই সম্মাননার জন্য মনোনীত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম পদকপ্রাপ্তদের এই তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।

এবারের পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে। সাংবাদিকতা বিভাগে পদক পাচ্ছেন প্রবীণ ও প্রথিতযশা সাংবাদিক শফিক রেহমান। দেশের সাংবাদিকতা জগতে তাঁর দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় পথচলার মূল্যায়ন হিসেবে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এদিকে দেশের সংগীত জগতের অন্যতম নক্ষত্র ও এলআরবি’র প্রতিষ্ঠাতা আইয়ুব বাচ্চুকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হচ্ছে। গিটার জাদুকর হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর মৃত্যুপরবর্তী এই সম্মাননা তাঁর ভক্ত ও অনুরাগীদের মধ্যে বিশেষ আবেগের সৃষ্টি করেছে।

শিল্পকলার অন্যান্য শাখায় পদকজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন স্থাপত্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার যস। শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য প্রফেসর মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং চারুকলায় প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারকে এই পদক দেওয়া হচ্ছে। লোকজ সংস্কৃতিতে বিশেষ ভূমিকার জন্য ইসলাম উদ্দিন পালাকার এবং নৃত্যে অর্থি আহমেদ সরকারের এই উচ্চ সম্মাননা পাচ্ছেন।

এ বছরের একুশে পদকের তালিকায় একটি ব্যতিক্রমী সংযোজন হলো প্রথমবারের মতো কোনো ব্যান্ড দলকে দলীয়ভাবে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান। দেশের জনপ্রিয় ও দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী ব্যান্ড দল ‘ওয়ারফেজ’ সংগীত বিভাগে এই অনন্য সম্মাননা পেতে যাচ্ছে। প্রেস সচিব শফিকুল আলম তাঁর ব্রিফিংয়ে জানান, সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গুণী ব্যক্তিদের কাজ পর্যালোচনা করে এই তালিকা চূড়ান্ত করেছে। নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অসামান্য মেধা ও দেশপ্রেমের স্বাক্ষর রাখায় এই বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের হাতে এই পদক ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হবে। মূলত গুণীজনদের কাজের স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমেই দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে সরকার মনে করছে।


banner close