শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ডেমরায় গরম রড ঢুকে শ্রমিকের মৃত্যু

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২২:০৩

রাজধানীর ডেমরায় স্টিল মিলে শরীরে গরম রড ঢুকে আলম (২৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. বাচ্চু মিয়া তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারখানাটির সুপার ভাইজার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ডেমরা বাঁশেরপুল একটি রোলিং স্টিল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন আলম। বিকেলে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত গরম রডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সেই রড তার বুকে ঢুকে যায়। তার সহকর্মীরা সেই রড কেটে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

মৃত আলমের ভগ্নিপতী ও সহকর্মী মো. জুলহাস জানান, নেত্রকোনা সদর উপজেলার শিমুলজানি গ্রামের ভুট্টু মিয়ার ছেলে আলম। বর্তমানে ওই কারখানাতেই থাকতেন। ৪-৫ বছর যাবত সেখানে কাজ করে আসছিলেন।


নির্বাচিত

বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে সু-কৌশলে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত সময়ের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড এবং বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার কারণেই বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমকালীন রাজনীতির গতিপ্রকৃতি ও সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন খুব সম্ভবত প্রতিটি সেক্টরে সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে এখন খুব স্ট্রং ডিমান্ড, এটা আমরা সকলেই সেটা অনুভব করতে পারি। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে।’ একইসঙ্গে পেশাজীবীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী—সবাই যার যার মতাদর্শ অনুযায়ী সচেতনভাবে সুসংগঠিত থাকবেন। এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়। তবে— এই তবেটাই হচ্ছে ইম্পর্টেন্ট বিষয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়, সেটি হচ্ছে মোস্ট ইম্পর্টেন্ট।’

স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান যে, বর্তমান প্রশাসন এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ই-হেলথ কার্ড চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে। যতদ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ডের কাজ শুরু হবে। উপজেলা হাসপাতালগুলো ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে ।’ বর্তমান সরকার যে পরিস্থিতিতে দেশের দায়িত্ব নিয়েছে তার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে, আমরা একটি ধ্বংসস্তূপ পেয়েছি বলা যায়। আমরা পেয়েছি এক দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা বা ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সেই অবস্থা থেকে সরকার চেষ্টা করছে সমগ্র দেশকে সফলভাবে ঘুরে যাতে দাঁড় করাতে পারে।’

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য দায়ী অসাধু চক্রের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। একটি চক্র অত্যন্ত সু-কৌশলে জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয়। নানাভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র, রাজনীতি, শাসন-প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা কিন্তু বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে একটি চক্র খুব সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়। তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করছে।’ জনগণের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সরকার কিন্তু একবারও অস্বীকার করেনি যে বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক কষ্ট ভোগ করছে। আমরা জানি এটি, তবে আমি মাত্রই উল্লেখ করেছি, আমরা সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা বা ব্যবস্থা আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।’ পরিশেষে বিগত আমলের অব্যবস্থাপনার খেসারত নিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্যাস বা জ্বালানি বা পেট্রোল, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে যেই অপরিকল্পিতভাবে প্ল্যান-প্রোগ্রামগুলো গ্রহণ করা হয়েছিল অথবা বিগত দিনগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা পাইয়ে দেয়ার জন্য যেসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তার খেসারত সমগ্র দেশ, দেশের মানুষ এবং বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।’


নির্বাচিত

সরকারের কাজে গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের শৈথিল্যের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচমাসের উন্নয়ন যাত্রা’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী জানান, প্রশাসনের আমলাতন্ত্র হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “সরকারের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমলাতন্ত্রের কেউ হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।”

বইয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করে রিজভী বলেন যে, জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম ছাড়া মনের ও বিশ্বজগতের অন্ধকার দূর করা সম্ভব নয়। তার মতে, বই হচ্ছে মনের জগতের পাসপোর্টের মতো, যা মানুষের সভ্যতার অগ্রগতির পথে প্রদীপের ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সরকারের গত পাঁচ মাসের সাফল্য ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি আগামীর বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী মাঠ পর্যায়ে ঘুরে ঘুরে নিজের চোখে প্রকল্পের অগ্রগতি দেখছেন এবং যারা নিরলস কাজ করছেন তাদের নিয়মিত অনুপ্রাণিত করছেন।

সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই মুখপাত্র জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খননের মতো কার্যক্রমের পাশাপাশি শীঘ্রই হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের উপকারে আসছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন এবং হাটে-ঘাটে-বন্দরে গিয়ে জনগণের খোঁজ নিচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে রিজভী আরও মন্তব্য করেন যে, যারা বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং ভালো কাজগুলোতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, এই বইয়ের তথ্য ও পরিসংখ্যান তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে। মানুষের হাতে যখন সঠিক তথ্য থাকবে, তখন তারা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক কথা সহজে বিশ্বাস করবে না। সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা এবং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদ আউয়ালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্বে রাজনীতি যেন বাধা না হয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা পরিচয় যেন তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ও চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটায়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বলেন, “রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন পেশাদারিত্বে ব্যাঘাত সৃষ্টি না করে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সেবার মানসিকতা না থাকলে চিকিৎসার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

সমাবেশের সূচনা লগ্নে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একই স্থানে একটি চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। শান্তির প্রতীক হিসেবে দুটি পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ।


নির্বাচিত

চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী | ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন তিনি।

এর আগে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় সঙ্গীত শেষে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। চিকিৎসক সমাবেশ শুরুর আগে তাঁরা শান্তির দুটি পায়রা উড়িয়ে দেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ চিকিৎসক সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তিনি উপস্থিত হন।

সংগঠনের গৌরবময় পথচলার ৩৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ড্যাবের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সমাবেশে অংশ নেন। এছাড়া চিকিৎসক সমাজের এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ ও মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


নির্বাচিত

রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধস, সমাধানের খোঁজে ঢাকা-মস্কো

* মধ্যপ্রাচ্য উত্তাপ ও বিপিসির আকস্মিক তারল্য সংকট * বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক নীতি বজায় রাখাই কৌশল
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

বিশ্ব অর্থনীতি যখন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিগ্রহ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থার টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এক জটিল মোড় নিচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে এক নতুন ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পরোক্ষ চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেল ও লেনদেন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ায় গত চার বছরে রাশিয়ায় বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে।

শুধু বাণিজ্যই নয়, চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) প্রবাহ, দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপুল অঙ্কের ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া, এবং বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাত ও সার্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে রাশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৬৩৮ মিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা ‘সুইফট’ (SWIFT) থেকে রাশিয়ার প্রধান ব্যাংকগুলোকে বিচ্ছিন্ন করায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নাটকীয়ভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৫৭ মিলিয়ন ডলারে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, পেমেন্ট জটিলতায় অন্তত ৪.৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বকেয়া অর্থ আটকে আছে এবং হাতছাড়া হয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় রপ্তানি আদেশ। অন্যদিকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া থেকে গম ও সার আমদানি বাড়াতে হওয়ায় একই সময়ে আমদানি ব্যয় ৪৭৪ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১.৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া রাশিয়ায় কর্মরত প্রায় ১০ হাজার বৈধ কর্মী ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞার কারণে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন না, ফলে ঝুলে গেছে নতুন এক লাখ কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনাও।

সংকট কাটাতে ওয়াশিংটনের কাছে আর্থিক লেনদেনে বিশেষ ছাড় বা শিথিলতা চেয়েছিল ঢাকা, তবে এতে মেলেনি কোনো সুফল। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে থমকে যাওয়া অর্থনীতি ও বাণিজ্য সচল রাখতে বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থার দিকে গুরুত্বের সাথে হাঁটছে দু’দেশ।

রূপপুর প্রকল্পের ঋণ জট খোলা: ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে রাশিয়া। চুক্তি অনুযায়ী এ ঋণ ডলারে পরিশোধের কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় ব্যাংক ব্যবস্থা অচল হওয়ায় ঋণ পরিশোধ আটকে গেছে। পূর্বে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হলেও, পরবর্তীতে সমপরিমাণ অর্থ পাঠাতে না পেরে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি ‘এসক্রো (Escrow) অ্যাকাউন্টে’ জমা রাখা হয়েছে। রাশিয়া রুবলে অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে এবং সম্প্রতি ভারতীয় রুপিতে ঋণ নিষ্পত্তির প্রাথমিক আলোচনাও শুরু হয়েছে।

ঢাকায় আসছে এসবার ব্যাংক: চীনা ইউয়ান বা থাইল্যান্ডের ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের কূটনৈতিক ও আর্থিক চেষ্টা মার্কিন সতর্কবার্তার মুখে কাজ করেনি। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে ঢাকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত এসবার ব্যাংকের (Sberbank) একটি শাখা খোলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে দু’দেশ। বর্তমানে ভারতে এসবার ব্যাংক নিজস্ব মুদ্রা (রুপি-রুবল) ব্যবহার করে রাশিয়া-ভারতের বাণিজ্য স্বাভাবিক রেখেছে। ঢাকায়ও এই মডেল চালু করা গেলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থ লেনদেন পুনরায় স্বাভাবিক হতে পারে বলে মনে করছেন নীতি নির্ধারকরা।

মধ্যপ্রাচ্য উত্তাপ ও বিপিসির আকস্মিক তারল্য সংকট: আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এই উত্তাপের সরাসরি ধাক্কা এসে পড়েছে দেশের জ্বালানি খাতের ওপর। এক দশকে বিপুল নিট মুনাফা করা সত্ত্বেও দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকে ভয়াবহ নগদ অর্থ সংকটে পড়েছে। হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও জাহাজভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে।

অভ্যন্তরীণ বাজারে সেই অনুপাতে মূল্য সমন্বয় না হওয়ায় বিশেষ করে ডিজেল বিক্রিতে লিটারপ্রতি বড় লোকসান গুনছে প্রতিষ্ঠানটি। উদ্ভূত সংকট সামাল দিতে বিপিসি তাদের ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের মতো মেগা প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত নিজস্ব তহবিল ও স্থায়ী আমানত (FDR) ভাঙতে বাধ্য হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার নিশ্চয়তা দিলেও, সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বিপিসির প্রকৃত তারল্য ঘাটতি পরিমাপ করতে একটি স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক মানের অর্থনৈতিক নিরীক্ষার তাগিদ দিয়েছেন।

সামষ্টিক অর্থনীতির অর্জন ও মুদ্রানীতির দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ: বৈশ্বিক প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রবাসীদের পাঠানো আয় (রেমিট্যান্স) বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ একাধিক ক্ষেত্রে সাফল্য স্পর্শ করেছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনের চলতি হিসাব ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্তের দিকে গেছে এবং মোট দেশজ উৎপাদন ও গড় মাথাপিছু আয় নতুন মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

তবে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় বড় এক উদ্বেগ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার কিছুটা কমালেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—শুধু সুদের হার পরিবর্তন করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কারণ এখানে সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা, বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং পরিবহন খাতের চাঁদাবাজির মতো গভীর কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। তাছাড়া সরকার ব্যাংক খাত থেকে রেকর্ড ঋণ গ্রহণ করায় ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাব তৈরি হচ্ছে, যার ফলে বেসরকারি খাত কাঙ্ক্ষিত ঋণ পাচ্ছে না।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এ প্রসঙ্গে বলেছেন, বর্তমানে ভূ-রাজনীতি সরাসরি বিশ্ব বাণিজ্যকে প্রভাবিত করছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য, পণ্য আমদানিতে বাধা এবং আর্থিক বিধিনিষেধের কারণে অপরাধ না করেও বাংলাদেশকে বড় মাশুল গুনতে হচ্ছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আজ কঠিন উভয় সংকটে। বৈশ্বিক আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপ সামলাতে ওয়াশিংটনের সাথে সুসম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রেখে নমনীয় ও বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক নীতি বজায় রাখাই ঢাকার জন্য সবচেয়ে দূরদর্শী কৌশল।

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে হলে সামষ্টিক নীতিতে বড় সংস্কার প্রয়োজন। কেবল সংকোচনমূলক বা উদার মুদ্রানীতি দিয়ে সংকটের সমাধান হবে না; প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থায়িত্ব, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খাতে স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় চালু, বাণিজ্যিক পেমেন্ট চ্যানেল বহুমুখী করা, বন্ড ও পুঁজিবাজারের বিকাশ ঘটানো এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর সাথে ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণের দীর্ঘমেয়াদি পথ।


নির্বাচিত

মুক্তিযুদ্ধ জনতার ছিলো, কোনো রাজনৈতিক দলের নয়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল জনতার যুদ্ধ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে রাজধানীর কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে দ্বিতীয় বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সের ৫৪তম কমিশনিং ডে ও ফেলোশিপ ডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘৭১ সালের পর ক্ষমতাসীনরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে চায়নি। তৎকালীন রাজনৈতিক নেতারা মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে চেয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিকদের অনেক কিছু শেখার আছে। জাতি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশে যেন আর কোনো স্বৈরশাসক সৃষ্টি না হয়।’

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘সরকার ভুল করলে সংশোধন করবেন।’ তবুও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস না করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।


নির্বাচিত

মন্ত্রীদের বেতন হওয়া উচিত ১০ লাখ, এমপিদের ৫ লাখ টাকা: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি কমানো এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫ লাখ টাকা এবং মন্ত্রীদের বেতন ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যের মূল বেতন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ভাতাসহ মোট প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পান। মন্ত্রীদের বেতনও এর কাছাকাছি। কিন্তু নির্বাচনী এলাকায় চিকিৎসা, শিক্ষা, খেলাধুলাসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহায়তা দিতে গিয়ে জনপ্রতিনিধিদের অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হয়। বাস্তবতার তুলনায় বর্তমান বেতন কাঠামো অপ্রতুল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, যেসব জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সম্পদ নেই, তাদের জন্য এই বেতনে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন বা দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনক বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, যেসব জনপ্রতিনিধি জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকেন, তাদের নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু অনেক এলাকায় সড়কের অবস্থা ভালো নয়। ছোট গাড়িতে চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। আবার ব্যক্তিগতভাবে একটি প্রাডো বা এ ধরনের নিরাপদ গাড়ি কেনার সামর্থ্য অনেক সংসদ সদস্যের নেই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন এমপি যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন সরকারের পক্ষ থেকে একটি গাড়ি ব্যবহার করবেন। মেয়াদ শেষে গাড়িটি পরিবহন পুলে ফেরত দেবেন। সচিবসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো এমপিদের জন্যও এ ধরনের সুবিধা থাকা উচিত।

এ প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ দুটিতে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়েছে।

সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের করমুক্ত গাড়ি আমদানি ও প্লট বরাদ্দের মতো কিছু সুবিধা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে একটি করে সরকারি গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে, যা পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে সরকারি পরিবহন পুলে ফেরত দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে নতুন পে-স্কেল প্রসঙ্গেও কথা বলেন নুরুল হক নুর। তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নতুন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন।

জনসেবার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ সরকারি দপ্তরে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াই সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

প্রবাসীদের জন্য সরকারের নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে সরকার শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করবে। এ কার্ডধারীরা বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন।


নির্বাচিত

ইতালির বিমানবন্দরে আটকা ঢাকাগামী বিমান, ভোগান্তিতে আড়াই শতাধিক যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ইতালির রোম বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টরন্টো-ঢাকাগামী একটি উড়োজাহাজ দীর্ঘ সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রয়েছে। এর ফলে বিজি-৩০৬ ফ্লাইটের প্রায় ২৬০ জন যাত্রী উড়োজাহাজের ভেতরে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে নির্ধারিত জ্বালানি নেওয়ার জন্য বিমানটি রোমে অবতরণ করার পর এই কারিগরি বিভ্রাট দেখা দেয়।

যাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) কানাডার টরন্টো থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়া ফ্লাইটটি ইতালিতে নামার পর কর্তৃপক্ষ জানায় যে বিমানটিতে প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে এবং তা মেরামতের প্রয়োজন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও বিমানটি ঠিক কখন পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হতে পারবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘক্ষণ উড়োজাহাজের ভেতরে আটকে থাকায় এবং টার্মিনালে নামতে না দেওয়ায় গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশে শিশু ও বয়স্কসহ অনেক যাত্রী অসুস্থ বোধ করছেন বলে জানা গেছে।

ভোগান্তিতে থাকা যাত্রীরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধানকল্পে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে উড়োজাহাজের কারিগরি ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে বিমানে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো কর্মকর্তার সাড়া মেলেনি। এমনকি সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ৩৪৯ এমপির ভোটার তালিকা, গাজী নজরুলও পাচ্ছে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৭ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

স্পিকারের সাথে আলোচনার পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচনের তফসিল ও ভোটার তালিকার তথ্য নিশ্চিত করেন।

ভোটার তালিকায় সাধারণ আসনের ২৯৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে আইনি জটিলতায় ঋণখেলাপির কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে।

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তিনি ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে তার পদ বাতিলের আর্জি স্পিকারের কাছে জানালেও তা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। আইন অনুযায়ী স্পিকার কর্তৃক আসন শূন্য ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদাধিকার বলে সংসদ সদস্য বহাল রয়েছেন এবং ভোট দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল:

মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট (সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত)

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট (সকাল ১০টা থেকে)

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়, ১৮ আগস্ট (বিকেল ৪টা পর্যন্ত)

ভোটগ্রহণ (প্রয়োজন সাপেক্ষে) ২০ আগস্ট (দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদ অধিবেশন কক্ষে) ।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন; অন্যথায় সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।


নির্বাচিত

মন্ত্রীদের বেতন হওয়া উচিত ১০ লাখ, এমপিদের ৫ লাখ: প্রতিমন্ত্রী নুর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতিমুক্ত রাখতে এবং তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫ লাখ টাকা এবং মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই পরামর্শ দেন। প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে নির্বাচনী এলাকার সামাজিক ও মানবিক চাহিদা মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে অনৈতিক পথে পা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর জানান, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য সর্বমোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার মতো পান, যা বর্তমান বাস্তবতায় অপ্রতুল। বিশেষ করে যাদের ব্যক্তিগত বড় কোনো সম্পদ নেই, তারা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আর্থিক চাপের মুখে পড়েন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেসব জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সম্পদ নেই, তাদের জন্য এই বেতনে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন বা দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনক বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।” তিনি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে নুর বলেন, দুর্গম ও খারাপ সড়কে চলাচলের জন্য নিরাপদ যানবাহনের প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে করমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল হওয়ায় তিনি সচিবদের মতো এমপিদের জন্য সরাসরি সরকারি গাড়ি বরাদ্দের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, “একজন এমপি যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন সরকারের পক্ষ থেকে একটি গাড়ি ব্যবহার করবেন। মেয়াদ শেষে গাড়িটি পরিবহন পুলে ফেরত দেবেন। সচিবসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো এমপিদের জন্যও এ ধরনের সুবিধা থাকা উচিত।” তার মতে, ছোট গাড়িতে যাতায়াত করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে, অথচ ব্যক্তিগতভাবে নিরাপদ বা দামি গাড়ি কেনার সামর্থ্য সব সংসদ সদস্যের নেই।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের কল্যাণে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন। সরকারি দপ্তরে জনগণের ভোগান্তি কমাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।


নির্বাচিত

স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসন গণমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের খবরদারি করছে না। তিনি মনে করেন, একটি মজবুত গণতান্ত্রিক কাঠামো বিনির্মাণের জন্য মুক্ত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদপত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তিনি দাবি করেন, অতীতে সংবাদমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে সংশয় ছিল, বর্তমানে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। সেমিনারে উপস্থিত আলোচকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের বিকাশে স্বাধীন সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে উদ্বেগ একসময় ছিল, বর্তমান বাস্তবতায় সেই পরিস্থিতি নেই। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বক্তারাও সরকারের বর্তমান অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। আলোচকদের এই পর্যবেক্ষণ ও মতামত আমি সরকারপ্রধানের কাছেও পৌঁছে দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম যেমন টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক, তেমনি গণতান্ত্রিক পরিবেশও শক্তিশালী গণমাধ্যম বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। তাই এই দুই বিষয়কে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে দেখতে হবে।’ মন্ত্রীর মতে, সংবাদমাধ্যমকে কেবল সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে হবে না, এটি একটি শিল্পও বটে। তাই এখানে বিনিয়োগ ও মুনাফার বিষয় জড়িত। তবে জনস্বার্থ ও জবাবদিহিতার বিষয়টি অগ্রগণ্য। তিনি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম কেবল একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি শিল্পও। ফলে এ খাতে বিনিয়োগ, পরিচালনা এবং মুনাফার বিষয়ও রয়েছে। তবে একই সঙ্গে গণমাধ্যমের রয়েছে জনস্বার্থ রক্ষা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই এই খাতকে এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে, যেখানে মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা এবং সরকারের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে।’

বর্তমান সময়ের জটিল তথ্যপ্রবাহ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখনকার গণমাধ্যম ব্যবস্থা অনেক বিস্তৃত। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের ইকোসিস্টেম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। প্রচলিত সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা তথ্যপ্রবাহ ও সংবাদ পরিবেশনের ধরন বদলে দিচ্ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে নতুন প্রজন্মের গণমাধ্যম গড়ে তোলার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’ সবশেষে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সরকার নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে নীতিমালার মাধ্যমে একটি উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। তিনি বলেন, ‘সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলে গণমাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়বে, সাংবাদিকদের জন্য উন্নত বেতন-কাঠামো, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।’


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট ২০ আগস্ট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট গ্রহণ হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৩ আগস্ট, যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট এবং ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে এ তফসিল ঘোষণা করেন।

এখন অপেক্ষা, আগামী ৫ বছরের জন্য বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা দেখার। এটি ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় পদটি শূন্য হয়।

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সেই সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই ভোটের দিন নির্ধারণ করেছে ইসি। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুসারে ভোট হয় সংসদ কক্ষে এবং নির্বাচন কমিশন পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করে।

প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি করে ভোট থাকে। একাধিক প্রার্থী থাকলে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট হয়; সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী নির্বাচিত হন। ভোট সমান হলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীকে অন্তত ৩৫ বছর বয়সী এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে আগে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত কেউ এ পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। একজন সংসদ সদস্য প্রস্তাবক এবং অন্য একজন সমর্থক হিসেবে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন। একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোট ছাড়াই তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে পাঁচ বছর। কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগে তার নির্দিষ্ট সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে।

এদিকে, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন- এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চললেও এখন সেই সিদ্ধান্তের ভার এককভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে।

সরকার দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, ইতোমধ্যে তা ঠিক করেছেন তারেক রহমান। এই নাম প্রধানমন্ত্রীর ফোল্ডারে সংরক্ষিত আছে। অতীতে রাষ্ট্রপতি মনোনয়নে আনুগত্য, দক্ষতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা নিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া বিএনপি এবার ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অনেক বেশি সতর্ক।

দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, রাষ্ট্রপতি শুধু আনুষ্ঠানিক পদ হলেও রাজনৈতিক সংকটের সময় এ পদটির গুরুত্ব বেড়ে যায়। বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করে বিএনপিকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। অন্যদিকে অদক্ষতার কারণে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ব্যর্থ হয়েছিলেন। তাই অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি দক্ষ, সাহসী, গ্রহণযোগ্য ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নিতে চায় বিএনপি।

গত শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনের কার্যক্রম, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

সবশেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করে স্থায়ী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব চেয়ারম্যানের ওপর অর্পণ করে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী কে হবেন এবং নির্বাচনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত কবে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ অবস্থায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব সরাসরি দলের চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেওয়াকে দলটির অভ্যন্তরীণ আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেন্দ্র করে দলটি একক নেতৃত্বের অধীনেই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে চায়। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তিনি কাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেন, সেটিই নির্ধারণ করবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধানের পরিচয়।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্নে অতীতের ভালো এবং তিক্ত-দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় বিএনপি বিবেচনায় নেবে বলে দলটির মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।

প্রথমত দেশ ও দলের প্রতি আস্থা বা বিশ্বাস; দ্বিতীয়ত, দক্ষতা ও প্রজ্ঞা এবং তৃতীয়ত, রাষ্ট্রপতি পদের নেতা বা ব্যক্তির মধ্যে কিছুটা সাহস থাকাও প্রয়োজন বলে মনে করে দলটি।

যেমন ১৯৯৬ সালের মে মাসে বিএনপি সরকারের রাষ্ট্রপতি থাকাকালে আবদুর রহমান বিশ্বাসের সাহসিকতায় তৎকালীন সেনাপ্রধান লে. জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিমের একটি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

অন্যদিকে ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছিলেন অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। কিন্তু বিএনপির প্রতি তার আনুগত্য থাকলেও অদক্ষতার কারণে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি ব্যর্থ হন বলে অনেকে মনে করেন।

ফলে দেশে এক-এগারোর জরুরি সরকার ক্ষমতায় আসে এবং প্রধান উপদেষ্টার পদ ছাড়তে তিনি বাধ্য হন। এরপর রাষ্ট্রপতি হিসেবেও তিনি সাহসী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

সার্বিকভাবে এর ফলাফল পুরোপুরি বিএনপির বিপক্ষে গেছে বলে আলোচনা আছে। অনেকের মতে, শুধু দলীয় আনুগত্য যে কাজে লাগে না, ইয়াজউদ্দিনের ঘটনায় তা প্রমাণিত।

অন্যদিকে সাহসের অভাব না থাকলেও বিএনপির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী দলের প্রতি আনুগত্য দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে রাষ্ট্রপতি করা হয়।

কিন্তু ওই পদে তাকে বেছে নেওয়ার ফলও শেষ বিচারে বিএনপির পক্ষে যায়নি। রাষ্ট্রপতি থাকাকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন না করা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণীতে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ না করা এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে মুন্সীগঞ্জে স্বাগত জানিয়ে ছেলে মাহী বি চৌধুরীর তোরণ নির্মাণসহ কয়েকটি ঘটনায় মাত্র সাত মাসের মধ্যে বিএনপির সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়।

এসব ঘটনার সূত্র ধরে ২০০২ সালের ১৯ ও ২০ জুন বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে তাকে ‘ইমপিচ’ করার সিদ্ধান্ত হলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।


নির্বাচিত

banner close