মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

দান নয়, পাওনা চায় স্বল্পোন্নত দেশগুলো: প্রধানমন্ত্রী

রোববার কাতার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি ৫: সম্ভাবনা থেকে সমৃদ্ধি) পঞ্চম জাতিসংঘ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৫ মার্চ, ২০২৩ ১৮:৪৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনুদান নয়, স্বল্পোন্নত দেশগুলো (এলডিসি) আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রকৃত কাঠামোগত রূপান্তরের জন্য তাদের প্রাপ্য চায়।

তিনি বলেন, ‘আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারি যে স্বল্পোন্নত দেশগুলোও দর-কষাকষিতে তাদের পক্ষ রাখবে। আমাদের দেশগুলো দান চায় না; আমরা যা চাই তা হলো আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির অধীনে আমাদের পাওনা।’ খবর বাসসের।

প্রধানমন্ত্রী রোববার কাতার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি ৫: সম্ভাবনা থেকে সমৃদ্ধি) পঞ্চম জাতিসংঘ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দোহা কর্মসূচি বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আশার আরেকটি আশ্বাস। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই এলডিসিতে বাস্তব কাঠামোগত রূপান্তরের জন্য তার প্রতিশ্রুতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে এলডিসিতে উত্তরণে তাদের পারফরম্যান্সের জন্য কিছু প্রণোদনা থাকা উচিত। তাদের একটি বর্ধিত সময়ের জন্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সহায়তা ভোগ করা উচিত। তাদের উন্নত বিনিয়োগ এবং উৎপাদনশীল সক্ষমতা কীভাবে তৈরি করা যায় তা জানতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, তাদের জন্য কিছু উদ্ভাবনী ও ক্রান্তিকালীন অর্থায়ন ব্যবস্থা থাকতে পারে।

তবে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাদের অংশ দ্বিগুণ করার জন্য টেকসই সহায়তা প্রয়োজন। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর এলডিসির জন্য ওডিএ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে ঋণ টেকসই করার জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যম রয়েছে। ‘এলডিসিগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়নকে নমনীয় এবং অনুমানযোগ্য করা উচিত। এলডিসিগুলোতে প্রযুক্তি হস্তান্তর বাস্তব এবং অর্থপূর্ণ হওয়া দরকার। আমাদের অভিবাসী শ্রমিকদের তাদের অধিকার এবং মঙ্গলের জন্য সুরক্ষা প্রয়োজন। আমরা এলডিসিতে ২২৬ মিলিয়ন যুবকদের ব্যর্থ করতে পারি না,’ তিনি যোগ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহামারি এবং তারপর ইউক্রেনের যুদ্ধ এলডিসি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে অধিকাংশ স্বল্পোন্নত দেশে মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, জলবায়ু সংকট এবং কিছু স্বল্পোন্নত দেশে দীর্ঘকাল ধরে টানা সংঘাত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের গল্পের বেশির ভাগ অংশই আমরা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আলোচনা করেছিলাম এবং সহযোগিতার জন্য আমাদের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেছি।’ তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতি থেকে আমরা যে শুল্ক এবং কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছি তা আমাদের বেসরকারি খাতকে একটি দৃঢ় উৎপাদন ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রিপস চুক্তির অধীনে প্রদত্ত পেটেন্ট মওকুফ সুবিধা স্থানীয়ভাবে আমাদের ওষুধের চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করার সুযোগ করে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অপর ডব্লিউটিও চুক্তির অধীনে রেয়াতগুলো আমাদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষুধা ও অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়েছি তা আমাদের সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে সহায়তা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলা করছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই মহতী সমাবেশে আপনার সঙ্গে থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি কাতার সরকার ও জনগণকে তাদের উদার আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭৪ সালে তার পিতা ও বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হয়েছিল। ওই সময়ে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে স্বীকৃত বাংলাদেশ তার যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পরের বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘তার (বঙ্গবন্ধুর) এই উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা অঙ্গীকার করেছি যে বাংলাদেশ এলডিসি শর্তপূরণে অব্যাহতভাবে চ্যাম্পিয়ন হতে থাকবে। গত পাঁচ দশকে প্রায় সময়ই এলডিসি মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে পেরে বাংলাদেশ গর্বিত। আমি ব্রাসেলস ও ইস্তাম্বুলে আগের এলডিসি সম্মেলনগুলোতে যোগ দিয়েছিলাম। বাংলাদেশের এলডিসিতে উত্তরণে তারা সন্তুষ্ট।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমরা ২০২৬ সালের মধ্যেই স্নাতকে উত্তরণের আকাঙ্ক্ষা করছি। জিডিপি অনুযায়ী বিশ্বের ৫০টি বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশের মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র এলডিসিভুক্ত দেশ। এই উত্তরণের দিকে আমাদের অগ্রযাত্রা-ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই উন্নয়নে আমাদের প্রচেষ্টার দ্বারা অর্জিত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, মাত্র এক দশকের মধ্যে তার সরকার দেশের দরিদ্র্যতার হার ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। তিনি আরও বলেন, ‘ঝুঁকি প্রশমন ও জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের মোট বাজেটের ১৬ দশকি ৭৫ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষামূলক পদক্ষেপে ব্যয় করা হয়।’ তিনি আরও জানান, তার সরকার সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে বিনা-খরচে প্রায় ৭ লাখ ঘর করে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লিঙ্গবৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে আমরা দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ স্থানে রয়েছি। আমাদের সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ। আমাদের জনগণের গড় আয়ু এখন ৭৩ বছরের বেশি।’ তিনি আরও জানান, কোভিড-১৯ মহামারিকালে তার সরকার বাংলাদেশের জিডিপির ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ সমান অর্থ ব্যয়ে ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এমনকি ২০২১-২২ সালেও ৭ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতি এর স্থিতিস্থাপকতা প্রমাণ করেছে। মাথাপিছু আয় এক দশকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২৮২৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল অর্থনীতি, যোগাযোগ ও লজিস্টিকসের একটি সম্ভাব্য আঞ্চলিক কেন্দ্র।’

শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের পরবর্তী ভিশন-২০৪১ সালের মধ্যে একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা।”

সম্মেলনের সভাপতি ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানি উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, ইউএনজিএর সভাপতি সাবা করোসি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সভাপতি লাচেজারা স্টোয়েভা এবং মালাবির প্রেসিডেন্ট ও এলডিসি গ্রুপের চেয়ারপারসন লাজারাস ম্যাকার্থি চাকাওয়েরা বক্তৃতা করেন।


নির্বাচিত

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া সশরীরে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তিনি মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের প্রশিক্ষণ এলাকায় উপস্থিত হয়ে মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী বিস্তীর্ণ প্রশিক্ষণ এলাকা পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখেন এবং সেনাবাহিনীর ‘রেইড’ (Raid) মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। তিনি সরাসরি সেনা বাঙ্কারে নেমে অফিসার ও সাধারণ সৈনিকদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। এমনকি গাছের আড়ালে ছদ্মবেশে থাকা সেনাদের কাছে গিয়েও তাদের খোঁজখবর নেন। একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের জন্য তৈরি করা সাধারণ খাবার ও চা গ্রহণ করেন, যা উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।

সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে। তিনি জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী অক্টোবর মাস থেকে দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে এবং আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যেই এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সমসাময়ীক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে এই নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে একটি সুনির্দিষ্ট ‘রোড ম্যাপ’ বা কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করেছে।

জনগণের বিভিন্ন ভোগান্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তথ্য উপদেষ্টা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, গত জুনে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসার ব্যাপারে গ্রাহকদের যেসব অভিযোগ রয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং এর প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সাভারে এনসিপির জনসভায় ককটেল বিস্ফোরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত চলছে।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়ে উপদেষ্টা কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, চাষাবাদ ও সংরক্ষণ পর্যায়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এটি ঠেকাতে দেশের সকল খাদ্য ব্যবসায়ীদের একটি কেন্দ্রীয় তথ্য ভান্ডার বা ডাটাবেজ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সচেতন করার পাশাপাশি অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সবশেষে জুলাই আন্দোলনের শহীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের বিষয়ে তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলন নিয়ে কটূক্তি করা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। যদিও বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী এটি সরাসরি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না, তবুও এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকে ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ বা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপগুলো দেশের স্থিতিশীলতা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে নির্বাচনের বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা করবে।


নির্বাচিত

ডিএমপির উচ্চপর্যায়ে রদবদল, ৬ ডিসিকে বদলি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রশাসনিক ও আভিযানিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের ছয়জন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সোমবার (৬ জুলাই) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার এই কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়। এই রদবদল অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে কর্মরত মো. আমীর খসরুকে ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগ থেকে দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরীকে সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের মো. শাহজাহান হোসেনকে ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বদলির তালিকায় আরও রয়েছেন ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগের মো. আনোয়ার সাঈদ, যাঁকে ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, গোয়েন্দা-গুলশান বিভাগের মো. শাহরিয়ার আলীকে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে এবং মো. রবিউল হাসানকে ডিএমপির লজিস্টিকস বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতেই এই রদবদল করা হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলায় এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কাজের সমন্বয় বাড়াতে কমিশনারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জনস্বার্থে জননিরাপত্তা বিধান করাই এই বদলির মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই রদবদল কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।


নির্বাচিত

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আজ সোমবারের এই বৈঠকে মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান চীনা রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিনিময় হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে। বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উন্নয়নে বেইজিংয়ের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার আশ্বাসও পুনর্ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি করল সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি ‘এনএসআই’ (NS1) পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন সরকারি সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে কোনো খরচ ছাড়াই পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্বাস্থ্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য কোনো ফি গ্রহণ করা যাবে না। মূলত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং অকাল মৃত্যু রোধ করতেই সরকার এই ব্যয়বহুল পরীক্ষার ফি মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে এনএসআই পরীক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রক্তে ভাইরাসের উপস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই সরকারি পদক্ষেপের ফলে রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারবেন, যা ডেঙ্গুজনিত জটিলতা কমাতে সহায়ক হবে। স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মনে করছেন এর ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সেবাটি যাতে দেশের প্রতিটি প্রান্তের সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনাটি অবিলম্বে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।


নির্বাচিত

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিশেষায়িত সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ জুলাই, ২০২৬ ১১:১৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট (ডিওএস)-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টগুলোর পরিচালনাগত সহযোগিতা বৃদ্ধি, আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এছাড়া 'নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা' (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সহজতর করার জন্য ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্টের কার্যকর সহায়তার প্রশংসা করেন। পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাস করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতিসংঘ মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে জাতিসংঘের সাথে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান যে, বাংলাদেশ 'উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি' (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি মিশন এলাকাগুলোতে নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ ও নারী-বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে জাতিসংঘের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষীদের দক্ষতা বাড়াতে উন্নত প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হাইতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) মোতায়েনের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই ইউনিটগুলো সোয়াত, সাইবার ক্রাইম তদন্ত এবং মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষভাবে পারদর্শী।

হাইতিতে এই বিশেষায়িত সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন এবং আগামী ১৫-১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এমওইউ আলোচনার জন্য জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অবস্থান করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব এবং জাতিসংঘের লজিস্টিক সাপোর্টের সমন্বয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য আরও ত্বরান্বিত হবে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সাহস ও শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।


নির্বাচিত

ভারি বৃষ্টি ও উজানের পানিতে ১৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আগামী কয়েক দিনে দ্রুত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তত ১৪ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িকভাবে বন্যা ও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ পূর্বাভাস প্রকাশ করে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী পাঁচ দিনে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা ও মেঘালয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও জাদুকাটা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী কয়েক দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনার পানি কিছুটা বেড়েছে। আগামী দুই দিন পানি কমে পরবর্তী তিন দিন আবার বাড়তে পারে। তবে নদীটি বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মার পানিও স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে কিছুটা বাড়তে পারে, তবে সেখানেও আপাতত বিপদসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই।

রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী এক দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, এরপর আবার পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া বান্দরবানের লামায় ২০৬ মিলিমিটার, কক্সবাজারের টেকনাফে ১৬২ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের আর কে এম সোহরায় ৭৭ মিলিমিটার, মাওসিনরামে ৬৯ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ৫৭ মিলিমিটার এবং মাওফ্ল্যাংয়ে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের কোনো নদীই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল না বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে সংস্থাটি পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।


নির্বাচিত

‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ: ডা. জুবাইদা রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) শুধু শিশুদের নিরাপদে রাখার স্থান নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মানসম্মত দিবাযত্ন কেন্দ্রের অভাবে কর্মজীবী মা ও তাদের সন্তানদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

সোমবার রাজধানীর পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘শিশুর প্রাথমিক পরিচর্যা ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), বেলা ১১টায় ভূমি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং সাড়ে ১১টায় পানি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ নারী এবং ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ মানুষের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।

কর্মজীবী মায়েদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি নিজের স্কুলজীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো অনেক কর্মজীবী মা সন্তান লালন-পালন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। বর্তমানে ১২৩টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে ৭ হাজার ৩৬০ জন শিশুকে সেবা দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের মোট শিশুর মাত্র শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশের চাহিদা পূরণ করছে।’

তিনি বলেন, এর ফলে অনেক শিশু প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম, সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মানসম্মত ও সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং শৈশবকালীন বিকাশ শিশুদের জ্ঞানীয় ও সামাজিক বিকাশের শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।

তিনি বলেন, শৈশবই মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়েই সততা, নিষ্ঠা, শান্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিকতা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, কৌতূহল, অধ্যবসায় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, দিবাযত্ন কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীরা একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি নির্মাণে ভূমিকা রাখছেন, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগও সৃষ্টি করছেন।


নির্বাচিত

ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সঙ্গে সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে ড. বদিউল আলম মজুমদার-এর নেতৃত্বে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের আট সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণসচেতনতা সৃষ্টি, ৩০ সেপ্টেম্বরকে ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’ হিসেবে ঘোষণা ও দেশব্যাপী উদযাপন, নারী উন্নয়ন নীতি ও জাতীয় শিশুনীতি-২০১১-এ কন্যাশিশুবিষয়ক পৃথক ধারা-উপধারা সংযোজন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও বিধিমালার সংশোধন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠন এবং নারী ও কন্যাশিশুদের চলার পথে, গণপরিবহনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ ও ধৈর্যের সঙ্গে শোনেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার পরিবারেই কন্যাসন্তান রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকেও তাদের প্রতি শোভন আচরণ করা উচিত। গ্রাম কিংবা শহর-সব জায়গাতেই ছেলে সন্তানের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যা কাম্য নয়। দেশের অধিকাংশ নারী অপুষ্টিতে ভোগেন। তারা সবার শেষে খাবার খান, সবার পরে ঘুমাতে যান এবং সবার আগে ঘুম থেকে ওঠেন। পরিবারের জন্য তারা নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করে নিরলসভাবে কাজ করেন। তাই তাদের প্রতি কোনো ধরনের অশোভন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ক্ষেত্রে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের নারীরা সামাজিকভাবে অনেক এগিয়ে আছেন।’

তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠনের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে আইন ও বিধিমালার সংশোধনের বিষয়গুলো ককাসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। আমরা সবাই মিলে এ বিষয়ে কাজ করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কন্যাসন্তানের জনক। কন্যাশিশুর উন্নয়ন, সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন নীতিগত ও আইনগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ এবং সামাজিক সংগঠনসমূহকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সাক্ষাৎকালে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কন্যাশিশুবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের গুরুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় সংসদ, সরকার ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা তাদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনার জন্য ডেপুটি স্পিকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে তার অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় উভয় পক্ষ নারী ও কন্যাশিশুর সার্বিক কল্যাণ, অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল ও মিটার ভাড়া নিয়ে বিভ্রান্তি, দাপ্তরিক ভুল স্বীকার বিদ্যুৎ বিভাগের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি, মিটার ভাড়া এবং প্রিপেইড মিটারের বিভিন্ন দিক নিয়ে তৈরি বিভ্রান্তি দূর করতে এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে সোমবার এই বক্তব্য দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রাহকদের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানে বিতরণ সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং তিনি নিজে এটি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জুন ২০২৬ থেকে নতুন ট্যারিফ কার্যকর করেছে। তবে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আগের হার বহাল রাখা হয়েছে। মূল্য সমন্বয়ের ফলে একই পরিমাণ অর্থ রিচার্জের বিপরীতে আগের চেয়ে কম ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, যা অনেক গ্রাহকের কাছে অস্বাভাবিক অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে মনে হতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব গ্রাহক দাবি করছেন অতীতে একই ব্যবহারে কম বিল আসত, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন যে—এই মিটারগুলো পূর্ববর্তী মাসগুলোতেও একই গাণিতিক ও প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার পরিমাপ করেছে। মিটারে কোনো কারিগরি ত্রুটি থাকলে তা নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই হঠাৎ শুরু হওয়ার সুযোগ নেই। অতএব, বিল বৃদ্ধির মূল কারণ মিটারের ত্রুটি নয়, বরং নতুন ট্যারিফ হারের প্রভাব।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টিপাত কম হওয়া, ঈদুল আযহা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ এবং এসএসসি পরীক্ষার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাসাবাড়িতে এসি, ফ্যান, ফ্রিজের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রাইস কুকার, ব্লেন্ডার ও ইলেকট্রিক কেটলির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক গ্রাহক সর্বোচ্চ ট্যারিফ স্ল্যাবে (৬০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে) পৌঁছে গেছেন, যা বিল বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে কিছু দাপ্তরিক ভুল পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলোর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাযথ প্রতিকার দেয়া হচ্ছে।

মিটার ভাড়া নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বিতরণ সংস্থাগুলো এককালীন মূল্য পরিশোধ বা কিস্তিতে মিটার সরবরাহ করে। যারা এককালীন মূল্য পরিশোধ করেছেন, তাদের থেকে কোনো কিস্তি নেওয়া হয় না। শুধুমাত্র কিস্তিতে মিটার নেওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ফেজ মিটারের জন্য মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের জন্য ২৫০ টাকা কিস্তি নেওয়া হয়। চারটি সংস্থা গ্রাহকদের বাজার থেকে অনুমোদিত প্রিপেইড মিটার কেনার সুযোগও দিচ্ছে। তবে গ্রাহকদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মিটার ভাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে এবং দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বিলম্বে বিল পরিশোধের জরিমানা প্রসঙ্গে জানানো হয়, পূর্বে ২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে বিলম্ব মাশুল ধরা হলেও বিইআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে মোট বিলের ওপর ৫ শতাংশ হারে এককালীন একবারই বিলম্ব মাশুল নেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগ আশ্বস্ত করেছে, অধিকাংশ অভিযোগ ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। গ্রাহক হয়রানি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো গ্রাহকের বিল নিয়ে সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগ পুনরায় আশ্বস্ত করতে চায়, জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যুৎ খাতকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও আর্থিকভাবে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধুমাত্র গ্রাহকের মন্তব্যের উপর নির্ভর না করে সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরগণ বিদ্যুৎ বিল, মিটার ভাড়া ইত্যাদি সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধি-বিধান পর্যালোচনা ও বিল যাচাই করে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে পারলে তা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে একটি স্বচ্ছ, দায়বদ্ধ ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

পরিশেষে, গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। আবেগের বশবর্তী হয়ে বিদ্যুৎ স্থাপনার ক্ষতি করলে তা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাবে এবং জনদুর্ভোগ বাড়াবে বলে সতর্ক করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।


নির্বাচিত

জুনে মূল্যস্ফীতি কমে নামল ৯.১৬ শতাংশে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। একইসঙ্গে অস্বস্তি কমেছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিতেও। সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবিএসের সবশেষ তথ্য বলছে, জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে, গত মে মাসে যেটি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।

অস্বস্তি কমেছে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতেও। জুন মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে। মে মাসে যেটি ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ।

এদিকে মে মাসে সার্বিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থাকলেও জুন মাসে সেটি কমে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কমেছে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ।

এছাড়া জুন মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

জুন মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০১ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।


নির্বাচিত

সব মাদ্রাসায় পিটি ও খেলাধুলার নির্দেশ অধিদপ্তরের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সব মাদ্রাসায় দৈনিক সমাবেশ (পিটি) ও খেলাধুলার আয়োজন নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে যেসব মাদ্রাসায় শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দিতে এবং শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সোমবার মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, বর্তমান সরকার দেশের তৃণমূল পর্যায়ে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়াচর্চার সম্প্রসারণে বদ্ধপরিকর।

এতে আরও বলা হয়, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব মাদ্রাসার শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে দৈনিক সমাবেশ (পিটি) ও খেলাধুলার আয়োজন করবেন এবং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন।

এ ছাড়া যেসব মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদ শূন্য রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে খেলাধুলায় পারদর্শী ও উপযুক্ত একজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে এ দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী শূন্য পদ দ্রুত পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ অর্ধেক কমাচ্ছে কাতার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই উদ্ভূত ভূরাজনৈতিক সংকটের জের ধরে বাংলাদেশে চলতি ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ অর্ধেক কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার এনার্জি। সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাত বিশেষজ্ঞরা।

পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যমান সব সমস্যার মূল উৎস এই যুদ্ধ। তবে এই ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ বসে নেই। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে গ্যাস কেনা এবং অন্যান্য সরবরাহকারী দেশের সাথে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তিসহ বিকল্প উৎসগুলো অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

দেশের জন্য যে অপশনটি সবচেয়ে অনুকূল বাণিজ্যিক শর্ত দেবে, সেটিই বেছে নেওয়া হবে। কাতারএনার্জি অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে সরবরাহ কমালেও তারা যথাসম্ভব জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করবে।

গত বছর বাংলাদেশের আমদানিকৃত প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজির মধ্যে ৪১.৫ লাখ টনই এসেছে কাতার থেকে, যা দেশটিকে বাংলাদেশের শীর্ষ জ্বালানি সরবরাহকারীতে পরিণত করেছে। কাতার এনার্জির সাথে পেট্রোবাংলার দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে, যার একটির আওতায় বার্ষিক ২৫ লাখ টন এবং অন্যটির আওতায় ১৮ লাখ টন এলএনজি পাওয়ার কথা। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশ কাতার থেকে ১৯টি কার্গো এলএনজি পেয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর কাতারের রাস লাফান রপ্তানি কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে আর কোনো কার্গো আসেনি।

বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক খালি এলএনজি ট্যাঙ্কার এই প্রণালিতে প্রবেশ ও বের হতে পেরেছে। কাতার থেকে কিছু কার্গো এই প্রণালী পার হতে পারলেও তার কোনোটিই বাংলাদেশে পৌঁছায়নি।

যার ফলে, অভ্যন্তরীণ গ্যাসের চাহিদা মেটাতে গত মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে রেকর্ড ৩৫টি কার্গো এলএনজি আমদানি করতে বাধ্য হয়েছে। কাতার এনার্জির এই সাময়িক সরবরাহ হ্রাসের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

banner close