২০২০ সালে সরকারি পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়ার পর পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু বসে বসে বেতন নিচ্ছেন সরকারি পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) আড়াই হাজার কর্মচারী। উদ্বৃত্ত সরকারি কর্মচারীদের আত্তীকরণে বর্তমান আইন ও বিধিমালায় তাদের অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে আত্তীকরণের সুযোগ নেই। ফলে বিজেএমসির কর্মচারীদের আত্তীকরণ করতে নতুন আইন করতে যাচ্ছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, স্বশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত কর্মচারী আত্তীকরণ আইন-২০২৩’-এর খসড়া অনুমোদনের জন্য তোলার কথা রয়েছে। এই আইন পাস হলে বিজেএমসির প্রায় দুই হাজার শ্রমিককে আত্তীকরণ করা হবে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
২০১৬ সালে প্রণীত উদ্বৃত্ত সরকারি কর্মচারী আত্তীকরণ আইন ছিল। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরি আইন প্রণয়ন করে এই আইনের মধ্যে উদ্বৃত্ত সরকারি কর্মচারীদের আত্তীকরণের বিধান যুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের আইনটি বাতিল করে সরকার। সরকারি চাকরি আইনের আলোকে ২০২০ সালে জারিকৃত উদ্বৃত্ত সরকারি কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা অনুযায়ী উদ্বৃত্ত সরকারি কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হচ্ছিল।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি চাকরি আইন এবং উদ্বৃত্ত সরকারি কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা অনুযায়ী বিজেএমসির কর্মচারীদের আত্তীকরণের কোনো সুযোগ নেই। এর ফলে কাজ না থাকলেও বিজেএমসির আড়াই হাজারের বেশি কর্মচারী বসে বসে বেতন পাচ্ছেন। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনসহ এ ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত কর্মচারীদের আত্তীকরণ করতে এখন নতুন আইন করা হচ্ছে।
জাতীয়করণকৃত পাটকলগুলো নিয়ন্ত্রণ, পরিদর্শন ও সমন্বয় করতে বাংলাদেশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান (জাতীয়করণ) আদেশ ১৯৭২ অনুযায়ী বিজেএমসি প্রতিষ্ঠা করে সরকার।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রউফ গতকাল রোববার রাতে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের কর্মচারীদের আত্তীকরণ করতে যাওয়ার সময় দেখা যায় কোনো আইনেই তা কাভার করে না। ফলে নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। আইনটি প্রণয়ন হলে এটি কমন আইন হয়ে যাবে।’
বিজেএমসিতে আড়াই হাজারের ওপর কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। তাদের মধ্য থেকে কতজনকে আত্তীকরণ করা হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা দেননি পাটসচিব। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের কর্মকর্তা দরকার, সেসবের সঙ্গে কতজন ম্যাচ করে এবং আমরা কতজনকে রাখব- এসব বিষয় নিয়ে এখনো বলার সময় হয়নি। আপাতত বিজেএমসি দিয়ে আত্তীকরণ শুরু করব।’
নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, স্বশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর পদ প্রশাসনিক পুনর্গঠন, জনবল যৌক্তিককরণ বা অন্য কোনো বিলুপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বা ক্ষেত্রমতে সংশ্লিষ্ট সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, স্বশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্ত পদে কর্মরত কর্মচারীদের উদ্বৃত্ত ঘোষণা করতে পারবে।
উদ্বৃত্ত ঘোষণাকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে উদ্বৃত্ত ঘোষিত কর্মচারীকে উদ্বৃত্ত ঘোষণার আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আত্তীকরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এসব কর্মচারীকে সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, স্বশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে আত্তীকরণ করবে।
উদ্বৃত্ত কর্মচারীরা উদ্বৃত্ত হওয়ার আগে যে স্কেলে বেতন পেতেন তার সমান স্কেলের বেতনেই আত্তীকরণ করতে হবে জানিয়ে খসড়ায় বলা হয়েছে, আত্তীকরণ করার পর কোনো কর্মচারীকে আগের থেকে কম বেতন-ভাতা এবং অবসর সুবিধা দেয়া যাবে না। উদ্বৃত্ত কর্মচারীকে কোনো পরীক্ষা বা যাচাইয়ে অংশ নিতে হবে না। কোনো নির্দিষ্ট যোগ্যতা, চাকরির মেয়াদ বা কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমারও প্রয়োজন হবে না। কোনো কর্মচারীকে কোনো পদে একবার আত্তীকরণ করা হলে তা চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং তিনি অন্য কোনো পদে পুনরায় আত্তীকরণের জন্য বিবেচিত হবেন না।
খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকারি অন্যান্য কর্মচারীর মতোই সময়ে সময়ে জারিকৃত বিধান দিয়ে আত্তীকৃত কর্মচারীদের জ্যেষ্ঠতা, বেতন ও পেনশন নির্ধারিত হবে। এই আইন পাস হলে সরকার সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, স্বশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর্মচারী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, এই আইনের অধীনে কৃত কোনো কাজ বা জারিকৃত আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। এই আইনের অধীনে কোনো কার্যাবলি নিয়ে মামলা বা অন্য কোনো আইনগত পদক্ষেপও নেয়া যাবে না।
বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি হচ্ছে
বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি গঠন করতে নতুন একটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার। আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি আইন উত্থাপনের কথা রয়েছে।
আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, পরিকল্পনামন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে এই কর্তৃপক্ষের একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মেয়াদ হবে তিন বছর। পরিচালনা পর্যদকে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নীতি, কৌশল ও আইনি কাঠানো প্রণয়ন; কর্তৃপক্ষ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাবিষয়ক নীতি প্রণয়ন, উন্নয়নসংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করতে হবে।
এই আইন পাস হলে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটিকে দেশের সরকারি ক্রয়-প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইনের প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ, পরিবীক্ষণ, সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান করতে হবে। বাংলাদেশ ই-গভর্মেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব আনা, ই-জিপি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা এবং ই-জিপিসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত ও তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ; আদর্শ দরপত্র প্রস্তাব বা দলিল এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত অন্যান্য দলিলের নমুনা প্রস্তুত করে তা অনুমোদন দিয়ে বিতরণও করতে হবে এই কর্তৃপক্ষকে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, যেসব ক্রয়কারীর ওপর পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন প্রযোজ্য তাদের কাছ থেকে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য, দলিল ও নথিপত্র তলব করতে পারবে এই কর্তৃপক্ষ। সরকারি কেনাকাটায় কোনো ব্যত্যয় হলে তা সংশোধনে কোনো ক্রয়কারীকে ক্রয়-প্রক্রিয়ার পরিবর্তন ও সংশোধন করার পরামর্শ, সুপারিশ অথবা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিতে পারবে এই কর্তৃপক্ষ। একজন অতিরিক্ত সচিবকে এই কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে।
দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে ৬ মে থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে পারে নয়াদিল্লি। এমনটা হলে ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তিতে দীর্ঘ সময়ের অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।
শনিবার (০২ এপ্রিল) দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের এক প্রশাসনিক কর্তার বরাতে এমনটা জানা গেছে ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্তা জানান, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসেই চালু হতে পারে পর্যটক ভিসা। তবে এই ব্যাপারে শেষ সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং এ নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও কাজ করছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর ওই কমিটির নেতৃত্বে। তিনি দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের প্রতিবেদনের ওপরও সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে।
এ সম্ভাবনার খবরে কলকাতার পার্ক স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশি পর্যটক ফিরে এলে আবারও ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াবে।
এর আগে ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। সফরে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার বিষয়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন।
চার দিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ শুরু হবে আগামীকাল রবিবার (৩ মে) থেকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন।
এবারের সম্মেলনে ৩৪টি কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩ মে থেকে ৬ মে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে এ সম্মেলনের অধিবেশনগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজনের সার্বিক বিষয় নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাছিমুল গনি।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম এই ডিসি সম্মেলন এবার অধিক গুরুত্ব পাবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, সরকার কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে এবছর সম্মেলনে ৭১ লাখ টাকা বাজেট ধরা হয়েছে, যা গত বছরও এক কোটির বেশি খরচ হয়েছিলো।
এবারের সম্মেলনে এক হাজার ৭২৯টি বিষয়ে প্রস্তাবনা থাকলেও ৪৯৮টি প্রস্তাবনা কার্য তালিকায় স্থান পেয়েছে বলে জানান তিনি।
চার দিনের নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতির ও স্পিকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সঙ্গে একাধিক সেশন ও সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান থাকবে।
আর পাঁচটা দিনের থেকে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের আজকের চিত্রটা একেবারেই আলাদা। সুনসান স্টেডিয়াম যেন হঠাৎই জেগে উঠেছে। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি, মাঠে খুদে ক্রীড়াবিদদের চমকপ্রদ ক্রীড়া প্রদর্শনী; নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক পাহাড়া আর সংবাদকর্মীদের অবিরাম ব্যস্ততা। সব আয়োজন এক উপলক্ষ্য ঘিরে—নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা।
আজ বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিভা অন্বেষণের এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুদে ক্রীড়াবিদরা।
শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল নতুন কুঁড়ির। বাংলাদেশ টেলিভিশনের আশির দশকের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক প্রতিভা উঠে এসে শিল্প অঙ্গনে। বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম আবার ফিরে এসেছে, তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠ-গালিচায়। যাত্রা শুরু হলো নতুন এক স্বপ্ন- ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’এর।
আগামী দিনের তারকাদের উৎসাহ জানাতে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন বিভাগের দেশসেরা ৩২ জন খেলোয়াড়। একেকজন একেক খেলার প্রতিনিধি–কেউ খেলেন ক্রিকেট, কেউবা ফুটবল কিংবা কাবাডি। আজ সবাই এক প্ল্যাটফর্মে। আগামীর তারকা খুঁজে বের করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হয়ে এসেছেন তারা।
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় ইশতেহারে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে দেশসেরা খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন অ্যাথলেটরা।
আজ সিলেটে গণমাধ্যমকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক যেমনটা বলছিলেন, নির্বাচনের আগেই ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী স্পোর্টসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশ গড়ার পরিকল্পনার অন্যতম অংশ ছিল স্পোর্টস। ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। সরকার ইতিমধ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়াভাতা চালু করেছে।
উদ্বোধনী ভেন্যু হিসেবে ঢাকার পরিবর্তে সিলেটকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা। এ প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুরু করব কি না এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম। উনি বললেন, ‘আমাকে ঢাকায় রাইখো না। ঢাকার বাহিরে নিয়ে যাও। সবসময় ঢাকা থেকে শুরু করা হয়। আমি চাই এটা ঢাকার বাহিরে থেকে শুরু হোক।’ তারই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা সিলেট থেকে শুরু করছি।”
প্রসঙ্গত, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে মোট ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। খেলাগুলো প্রথমে শুরু হবে উপজেলা পর্যায়ে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় হয়ে সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। ১৩-২২শে মে’র মধ্যে শেষ হবে আঞ্চলিক পর্বের খেলা।
পুরো বাংলাদেশকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। এসব অঞ্চলের মধ্যে বিভিন্ন জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে, যাতে কোনো মেধা অবমূল্যায়িত না হয়।
ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনের প্রতিটি পর্যায়ে নকআউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে। ব্যক্তিগত ইভেন্ট অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই (হিট/নকআউট) এবং ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। প্রতিযোগিতায় একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ দুটি খেলায় অংশ নিতে পারবে।
রেজিষ্ট্রেশনের জন্য খুব অল্প সময় থাকা সত্ত্বেও সারা দেশ থেকে গত ১২-২৬ এপ্রিল ডেডলাইন পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় আট ইভেন্টের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী। এরমধ্যে ছেলে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ জন, মেয়ে ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন। ঢাকা অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি ২৫ হাজার ৩৮৭ জন প্রতিযোগী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। সবচেয়ে কম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে। সেখানে ৭ হাজার ৯৬৬ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনীত সংসদ সদস্যদের শপথ রোববার (৩ মে) অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার (২ মে) এই তথ্য জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়।
জানা গেছে, রোববার (৩ মে) রাত ৯টায় এই শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী সংরক্ষিত আসনের জন্য বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ৩৬ জন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট থেকে মনোনীত হয়েছে ১৩ জন এবং স্বতন্ত্র থেকে ১ জন মনোনীত হয়েছেন।
বিএনপি জোটের বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুন রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, মোছা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা হলেন—মহিলা জামায়াত সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, মানবসম্পদ ও আইন বিভাগের সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি, নাজমুন্নাহার নিলু এবং প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ। অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্বে চট্টগ্রাম থেকে মেরিনা সুলতানা, সিলেট থেকে মাহফুজা খানম এবং বগুড়া থেকে সাজেদা সামাদ রয়েছেন। এছাড়া জুলাই শহীদ জারিফ আব্দুল্লাহর মা রোকেয়া বেগমকেও জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের তালিকায় রাখা হয়েছে।
অপরদিকে জামায়াতের ছেড়ে দেওয়া তিনটি আসনে এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু, জাগপা সভাপতি তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা করিমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম।
রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার। শনিবার (২ মে) দুপুরে কারওয়ান বাজার এলাকায় একটি পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, আগের মতো বড় শীর্ষ সন্ত্রাসী না থাকলেও তাদের সহযোগী ও নতুনভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিশনার বলেন, ‘কারওয়ান বাজার এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নতুন পুলিশ ক্যাম্পটি চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখবে। এখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সদস্য বাড়ানো হবে।’
তিনি আরো জানান, রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। গোপন নজরদারি বাড়ানোসহ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি থানাকে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার কড়া নির্দেশনা প্রদান করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা মডেল থানা সরজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি এই আহ্বান জানান।
থানা পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাজতখানা, বিভিন্ন কক্ষ এবং থানার সার্বিক পরিবেশ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের কাজের চ্যালেঞ্জ ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।
পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন। একই সাথে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সর্তক করে দিয়ে জানান যে, দায়িত্বে অবহেলা বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো হয়রানি ছাড়া থানায় আইনি সেবা পেতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন বলে জানা গেছে।
সিলেটের সুরমা নদীর তীর উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নদীর দুই তীরে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
আজ শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী এসময় প্রকল্পের অগ্রগতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
সিসিক জানায়, সুরমা নদীর উভয় তীরে সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি টেকসই বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে একদিকে যেমন নদীভাঙন রোধ হবে, অন্যদিকে নগরবাসীর চলাচল ও বিনোদনের সুযোগ বাড়বে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন–প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট ৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট ২ আসনের সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি সুধী সমাবেশে যোগদান করেন।
এর আগে সিলেটে পৌঁছে সুফিসাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সিলেটের সুরমা নদীর পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
একই দিন দুপুর ১২টার পর সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা আছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বেলা ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিকেল ৫টায় দলীয় এক সভায় যোগ দিয়ে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তোরণ নির্মাণ, ব্যানার-ফেস্টুন টানানো এবং প্রয়োজনীয় সাজসজ্জা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে এসেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (২ মে) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম ও অন্যতম প্রধান বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইেন্স করে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর এলাকায় আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করবেন। পরে তিনি নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের উদ্বোধনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
এছাড়া নগরীতে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সফরের অংশ হিসেবে, বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচি ও বিকেলে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। সড়কদ্বীপে নতুন করে গাছ লাগানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার-ফেস্টুন টানাতেও দেখা গেছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমানের এই প্রথম সিলেট সফর ঘিরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তার আগমন উপলক্ষ্যে শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় বিএনপি অঙ্গসংগঠনগুলকে মিছিল করতে দেখা যায়।
গত ২১ জানুয়ারি সিলেট সফর করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরের দিন ২২ জানুয়ারি সিলেট আলিয়া মাদ্রসা মাঠ থেকে এয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলেন তিনি।
সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, এতে নতুন করে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক দিনে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে ২ জন করে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি শুক্রবার (১ মে) পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ২৩১ জন, যাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪৯ শিশু। অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দিন দিন এই রোগের সংক্রমণ ও মৃত্যুঝুঁকি উভয়ই বাড়ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং একই সময়ে আরও ১ হাজার ১৭০ জন শিশুর মধ্যে এই রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত দেড় মাসে মোট ৩৮ হাজার ৩০১ জন শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ পাওয়া গেছে এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৫ হাজার ১৪৬ জনের শরীরে রোগটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে।
হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে ২৬ হাজার ১০০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
আশার কথা হলো, সঠিক চিকিৎসায় এ পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫০ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে শিশুদের দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টাকে রুখে দিতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, যখনই দেশ গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হতে শুরু করে, তখনই নির্দিষ্ট কিছু মহল ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে। বিশেষ করে গত ১২ তারিখের পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দেশ যখন সঠিক পথে এগোচ্ছে, তখন তারা বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে বন্ধুহীন করার এক হীন চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায় কোনো অপপ্রচারে কান না দিয়ে বরং জনগণের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করছে। বিদেশি রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে রাষ্ট্রকে বিতর্কিত করতে চায়, তাদের প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব সচেতন নাগরিকদের মাধ্যমেই দিতে হবে।
শ্রমিকদের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী নিজেকেও দেশ গড়ার একজন কারিগর হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্মাণ শ্রমিক বা পোশাক শ্রমিকরা যেভাবে নিজেদের শ্রম দিয়ে দেশ গড়ছেন, একইভাবে তাঁর মন্ত্রিসভাও দেশ গঠনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
সমাবেশের শেষে তিনি উপস্থিত সকলকে কেবল সাধারণ নাগরিক নয়, বরং দেশ গড়ার নিবেদিতপ্রাণ শ্রমিক হিসেবে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
মহান মে দিবস পালন করতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আয়োজনে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে তিনি সমাবেশস্থলে পৌঁছান এবং প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর আগে দুপুর আড়াইটায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে সমাবেশের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। তবে অনুষ্ঠানের শুরুতে দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়াতে ও উজ্জীবিত করতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুপুর ১টা থেকেই ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিট থেকে শ্রমিক ও দলীয় নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন।
সমাবেশস্থলে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মীদের মাথায় ছিল লাল টুপি এবং পরনে লাল টি-শার্ট, যা পুরো এলাকায় এক বৈপ্লবিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। ঢোল-তবলা ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ। এই আয়োজনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মজীবী নারীর অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। শ্রমিক দল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মূল কর্মসূচির সূচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তায় গোটা এলাকা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঢাকা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও ডিবি সদস্যদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য পুরো এলাকায় সতর্কাবস্থান নিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের মতো যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেখানে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও মোতায়েন রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সমাবেশটি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে অসুস্থ হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৮৫ জন রোগী। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। অন্যদিকে, হাম হতে পারে এমন সন্দেহজনক লক্ষণে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন মোট ২৩১ জন। প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় ধারাবাহিকতা উদ্বেগজনক।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশে মোট ৫ হাজার ১৪৬ জন ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে হামে আক্রান্ত হলেন।