রোববার, ৭ জুন ২০২৬
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আরাভ খানকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

রবিউল ইসলাম আপন ওরফে আরাভ খান
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৮ মার্চ, ২০২৩ ২১:৪৭

পুলিশ পরিদর্শক হত্যা মামলার পলাতক আসামি রবিউল ইসলাম আপন ওরফে আরাভ খানকে ফিরিয়ে আনতে সরকার ইন্টারপোলের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় শনিবার এক অনুষ্ঠানে যোগদানের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আরাভ খানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’

সম্প্রতি দৈনিক বাংলাসহ ঢাকার বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরের শিরোনামে এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের জুয়েলার্স মালিক আরাভ খান ওরফে রবিউল ইসলাম ওরফে হৃদয়। প্রকাশিত খবর অনুসারে, ২০১৮ সালের ৭ জুলাই রাজধানীর বনানীর একটি ফ্ল্যাটে পুলিশের বিশেষ (এসবি) শাখার পরিদর্শক মামুন এমরান খান হত্যা মামলার পলাতক আসামি আরাভ। তিনি কদিন আগে ঢাকার বিভিন্ন অঙ্গনের তারকাদের নিয়ে গিয়ে দুবাইয়ে তার ‘আরাভ জুয়েলার্স’র উদ্বোধন করেছেন।

এদিকে অভিনেত্রী মাহিয়া মাহিকে শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি মাহিয়া মাহি ফেসবুক লাইভে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু মন্তব্য করেছেন, যার জন্য মামলা হয়েছে। আমি বিষয়টি সম্পর্কে সবকিছু জানি না, আমি এটি শুনেছি। বিষয়টি জানার পর বলতে পারব।’

পুলিশের বিরুদ্ধে মাহির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অবশ্য মাহিয়া মাহিকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানোর তিন ঘণ্টার মধ্যেই জামিন দিয়েছেন আদালত। মুক্ত হয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।


তোফায়েল আহমেদসহ সাবেক ১৬ এমপির মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নয় বারের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও ভোলা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদসহ ১৬ জন সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ সংসদ-সদস্যদের নাম জাতীয় সংসদের শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনের শুরু সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম মৃত্যুবরণকারী ১৫ জন সাবেক এমপির নাম সংসদে উত্থাপন করেন।

শোকপ্রস্তাবে যাঁদের স্মরণ করলো সংসদ

জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. কায়সার, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক এম এ মান্নান, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জি এম ফজলুল হক, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম আনোয়ারুল হক, সাবেক টেকনোক্রেট মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সামসুদ্দোহা, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আবু নূর মোহাম্মদ বাহাউল হক, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান শামসুল আবেদীন, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ও উপমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন, ময়মনসিংহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. দবিরুল ইসলাম, ভোলা-১ সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ, মৌলভীবাজার-২ সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মতিন ও ঢাকা ১১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম রহমত উল্লাহ।


সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে স্টাডি করে নেবেন: মন্ত্রীকে স্পিকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহামুদকে সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো ভালোভাবে স্টাডি বা পর্যালোচনা করে নেওয়ার জন্য মন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৭ জুন) সংসদ অধিবেশনে আশুগঞ্জ সার কারখানায় (ফার্টিলাইজার) গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জেরে স্পিকার এই মন্তব্য করেন।

অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মন্ত্রীর কাছে তার আগের একটি প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে, পহেলা মে-র মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে। এরপরে আরও এক মাস তিন-চার দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সাপ্লাই আমরা পাইনি।’

আশুগঞ্জ সার কারখানায় কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে— এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন রাখেন এই সংসদ সদস্য।

রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহামুদ দেশে গ্যাসের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। বর্তমানে সার কারখানার চেয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি বিদ্যুৎ চাচ্ছেন আবার ওনার ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতেও গ্যাস চাচ্ছেন। গ্যাসের তো একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এজন্য আমাদের বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলো চালিয়ে রাখতে হচ্ছে এবং সেই কারণে তার ওখানে আমরা সংযোগ দিতে পারছি না।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে কোনোদিন ড্রিলিং (খনন) করা হয়নি। আমরা এই প্রথম এসে ড্রিলিং শুরু করেছি এবং আশা করি ইনশাআল্লাহ আমরা গ্যাস পাবো। গ্যাস পাওয়ার পরে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারের মতো কারখানায় আমরা সংযোগ দিতে পারবো।’

মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীকে তার দেওয়া আগের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মন্ত্রী, আপনি কিন্তু সংসদে বলেছিলেন এক তারিখ থেকে গ্যাস যাবে। সেটি বোধ হয় পাওয়া যায়নি।’

ভবিষ্যতে সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘সংসদে যে প্রতিশ্রুতি দেবেন, সেটা ড্রিলিং বা অন্যান্য যাবতীয় আনুষঙ্গিক বিষয় স্টাডি করে তারপরে সংসদে দেবেন।’


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটি হতে যাচ্ছে সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করতে পারেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ৭ মে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেন।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গত ৩০ এপ্রিল সমাপ্ত হয়।

ওই অধিবেশনে ২৫ কার্যদিবসে মোট ৯৪টি বিল পাস করা হয়।


টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএসটিআইকে আরও শক্তিশালী করা হবে: শিল্পমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ‘নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত ‘বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, “টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) আরও শক্তিশালী করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, “দেশের সব পণ্যের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুণগত মান ও সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করতে বিএসটিআই কাজ করে যাচ্ছে।”

ভোক্তাদের অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, “গুণগত মানসম্পন্ন ও সঠিক ওজনের পণ্য প্রাপ্তি নাগরিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষায় বিএসটিআইকে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।” বিএসটিআইয়ের লোগো বা মানচিহ্ন জনগণের কাছে আস্থার একটি প্রতীক এবং এই মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের তৎপর থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “ভোক্তারা পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নকে আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান প্রতিষ্ঠানের সেবার পরিধি সম্প্রসারণের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে খুলনা ও চট্টগ্রামে আধুনিক ল্যাবরেটরিসহ ১০ তলা ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ১০টি জেলায় আঞ্চলিক কার্যালয় চালু করা হয়েছে। বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় সংস্থাটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দেশীয় পণ্যের রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ১১টি জেলায় নতুন ল্যাব ও ভবন নির্মাণ, ৪২টি জেলায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রধান কার্যালয়ে নতুন ৬৭টি আধুনিক ল্যাবসহ একটি ১৩ তলা ভবন নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে হালাল পণ্যের ব্যাপক চাহিদা মেটাতেও বিএসটিআই বিশেষ নজর দিচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান জানান, বিএসটিআই কেবল খাদ্যপণ্য নয় বরং আবাসনসহ নানা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে সরকারের নীতি প্রণয়নে অবদান রাখছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে মেট্রোলজি বা পরিমাপ বিজ্ঞানের আধুনিকায়ন এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংস্থা প্রধান এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সর্ববৃহৎ বাজেটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

* ভাঙছে আমলাতান্ত্রিক ও পুঁজিপতিবান্ধব খোলস * অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ ও প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়নই মূল লক্ষ্য * সংসদ ভবন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাবলয়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাইয়ুম আহমেদ

এক নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পটভূমির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন তথা বহুল প্রতীক্ষিত বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে রোববার (৭ জুন)। বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে এই অধিবেশন শুরু হচ্ছে। আগামী ১১ জুন নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে যাচ্ছে ৮ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা থেকে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে; যা কোনো কোনো প্রাথমিক প্রাক্কলনে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত স্পর্শ করেছে। চূড়ান্তভাবে এটি অনুমোদিত হলে তা হবে দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জাতীয় বাজেট। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর ও বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে, মূল্যস্ফীতির কষাঘাত থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়া এবং একটি বৈষম্যহীন সাম্যের অর্থনীতি বিনির্মাণই এই মেগা বাজেটের মূল লক্ষ্য।

বাজেটের চিরাচরিত আমলাতান্ত্রিক ও পুঁজিপতিবান্ধব খোলস ভেঙে এক অভিনব অর্থনৈতিক দর্শন সামনে এনেছে বর্তমান সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেছেন, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হলো ‘ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি’ বা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ। এর অর্থ হলো, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুফল যেন কেবল গুটিকয়েক উচ্চবিত্তের হাতে কুক্ষিগত না থেকে দেশের প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছায়।

বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে তৈরি হয়েছিল চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য। নতুন সরকার এই বৈষম্যের দেয়ালে আঘাত করতে চায়।

অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, বাজেটে এ যাবৎ সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। তাই সরকার বাজেটে প্রথমেই দরিদ্র, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং গৃহিণীদের অগ্রাধিকার দিয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং এতদিন অবহেলায় থাকা নারী ও প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষকে অর্থনৈতিক মূলধারায় নিয়ে আসাই এই নতুন দর্শনের মূল ভিত্তি।

মেগা বাজেটের মূল রূপরেখা ও লক্ষ্যমাত্রা: ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বাজেটের আকার যেমন বিশাল, তেমনি এর অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যমাত্রাগুলোও বেশ উচ্চাভিলাষী। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক রূপরেখাটি নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

বাজেটের সম্ভাব্য আকার: ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা (সর্বোচ্চ প্রাক্কলন ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা)।

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা: প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। কর জালের সম্প্রসারণ এবং দুর্নীতিমুক্ত রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলার মাধ্যমে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP): সম্ভাব্য আকার ৩ লাখ কোটি টাকা। অনুৎপাদনশীল খাতের ব্যয় কমিয়ে এই অর্থ সরাসরি জনকল্যাণমূলক ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিকীকরণ।

প্রান্তিক মানুষের সুরক্ষায় যুগান্তকারী উদ্যোগ: ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’; নতুন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা কেবল বাড়ানোই হচ্ছে না; বরং এর বিতরণ প্রক্রিয়ায় আনা হচ্ছে আমূল সংস্কার। অতীতে সামাজিক নিরাপত্তার ভাতা বা অনুদান বিতরণে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের লুটপাটের যে সংস্কৃতি ছিল, তা কঠোরভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড: নিম্ন আয়ের পরিবার এবং বিশেষভাবে গৃহিণীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি প্রকৃত উপকারভোগীর ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হবে।

খাদ্য নিরাপত্তায় ফার্মার্স কার্ড: দেশের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু করা হচ্ছে ‘ফার্মার্স কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি মূল্যে সার-বীজ এবং স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন।

সরকার মনে করে, কৃষি খাতের প্রকৃত আধুনিকায়ন ও কৃষকের ক্ষমতায়ন ছাড়া মূল্যস্ফীতি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।

দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদদের প্রধান ক্ষোভ ছিল, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির অনুপাতে সরকারি ব্যয় অত্যন্ত কম। নতুন সরকার এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট দূরীকরণে মানবসম্পদ খাতকে ব্যয়ের মূল কাঠামোতে পুনর্বিন্যাস করেছে। শীর্ষ ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রস্তাবিত বাজেট প্রাক্কলন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির হার অন্য যেকোনো খাতের চেয়ে অনেক বেশি।

শিক্ষা খাতের নতুন আশাবাদ: শিক্ষা খাতকে মেধাভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার মূল হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়: প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্ত করতে এই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা থেকে একলাফে ৪২,১৪০ কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি।

উন্নয়ন বাজেটে চমক: আরও বড় পরিবর্তন আসছে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন বাজেটে (ADP)। এখানে বরাদ্দ ১১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা করা হচ্ছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ: এই বিভাগের বরাদ্দ ৪৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার: দেশের সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পকেটের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে ফেলতে হয়। এই ‘আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার’ বা পকেটের অতিরিক্ত ব্যয় কমানোকে সরকার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ইউনিভার্সাল ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ার (সার্বজনীন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা) সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসাসেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি স্বনামধন্য বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পৃক্ত করার নতুন কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

নতুন দিগন্ত: ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতি: এই বাজেটের অন্যতম আকর্ষণীয় এবং প্রগতিশীল দিক হলো ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতির অন্তর্ভুক্তি। প্রচলিত অর্থনীতিতে কামার, কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মী কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মীদের অবদানকে জিডিপির খেরোখাতায় তেমন মূল্যায়ন করা হতো না। নতুন অর্থমন্ত্রী এই ধারণার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। তিনি মনে করেন, জিডিপি কেবল বড় বড় ধোঁয়া ওড়ানো শিল্প-কারখানা থেকে আসে না; সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও কারুশিল্পের মতো সৃজনশীল খাতও অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখতে পারে। এই লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বাজেটে এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ কর্মসূচির রূপরেখা থাকছে। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, আধুনিক ডিজাইন সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে সরাসরি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতি’: বিনিয়োগ আকর্ষণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার জন্য সরকার ‘লাইসেন্স রাজ’ ও আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানোর কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় আইনি নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার বিলম্ব দূর করে একটি ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতি’ (Deregulation of Economy) গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এখন থেকে ব্যবসার বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন একটি নির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক সময়সীমার মধ্যে দিতে হবে। এই নিয়ম বাস্তবায়নে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে বা দুর্নীতি করতে চাইলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প পর্যবেক্ষণে ড্যাশবোর্ড: এই অপচয় ও দুর্নীতি রোধে নতুন বাজেটে একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থা চালু করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি সরাসরি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কাজ বিলম্বিত হলে বা অনিয়ম হলে দায়ী কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

পুঁজিবাজার পুনর্গঠন: ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং দেশের পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করা হচ্ছে। শিগগিরই রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে অত্যন্ত পেশাদার, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিশন গঠন করা হবে, যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত হতে পারেন।

সরকারের এই মানবসম্পদমুখী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বরাদ্দ বাড়ানোর এই উদ্যোগ ঐতিহাসিক এবং প্রশংসনীয়। তবে কাগজের এই বরাদ্দ বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হবে, তা নিয়ে তারা কিছুটা চিন্তিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া নতুন প্রশাসনের দক্ষতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পুরোপুরি দূর করা না গেলে ড্যাশবোর্ড বা ফ্যামিলি কার্ডের মতো উন্নত প্রযুক্তির সুফলও ভেস্তে যেতে পারে। তাই বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর বাস্তবায়ন এবং শক্তিশালী তদারকি নিশ্চিত করাই হবে এই সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

সংসদ ভবনে কঠোর নিরাপত্তা: এদিকে, ঐতিহাসিক এই বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সংসদ ভবনের চারপাশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সব ধরনের অস্ত্র বহন, মিছিল, জনসভা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সংসদ কক্ষের কারিগরি প্রস্তুতিসহ অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন।

এর আগে, গত ১২ মার্চ দেশের এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ঐতিহাসিক অধিবেশন বসেছিল। সেই প্রথম অধিবেশনটি দীর্ঘ ২৫ কার্যদিবস ধরে চলে এবং ৯৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস ও ১৩৩টি জরুরি সরকারি অধ্যাদেশ উত্থাপনের এক অনন্য রেকর্ড গড়ে গত ৩০ এপ্রিল শেষ হয়।


স্বাস্থসেবা পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রাথমিক ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তির বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরিসংক্রান্ত সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু। শনিবার (৬ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাসান শিপলু জানান, সরকার জনগণের দোরগোড়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে শনিবার (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আরও জানান, প্রথমে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে এই প্রকল্পের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির কাজ শুরু হবে। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা পূরণ হবে এবং আমদানি নির্ভরতাও কমবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, তিন পর্যায়ে সেবা দেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী-এই তিন ধরনের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা পূরণ হবে। ফলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থাতেও উন্নয়ন ঘটবে।

প্রেস উইং আরও জানায়, সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্ট এবং জরুরি সেবার বিভিন্ন সুবিধা সংযোজনের পরিকল্পনা আছে। দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এসব যানবাহনের ডিজাইন করা হবে।

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মুহাম্মদ এহসান, অধ্যাপক জিয়াউর রহমান, অধ্যাপক আবদুল সালাম আখন্দ, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সীমান্তে থামছে না পুশইন, রুখে দিচ্ছে বিজিবি

১০০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। শনিবারও (৬ জুন) দেশের কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালায় তারা। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের মুখে কয়েকটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা ১০০ জনকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে তারা। একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে যোগ দিয়ে রুখে দিচ্ছে এমন অপতৎপরতা। খবর দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিদের।

ঠাকুরগাঁও: মশালগাঁও সীমান্ত দিয়েও ১১ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিহত করে বিজিবির সদস্যরা। পরে পতাকা বৈঠকে বিষয়টি অস্বীকার ও সীমান্তে শূন্য রেখায় অবস্থান করা ১১ জনকে ফেরত নিতে অস্বীকার করে বিএসএফ।

এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

দিনাজপুর: হিলির ঘাসুড়িয়া সীমান্ত দিয়েও চলে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা। ৫ জনকে ভোরে এপারে ঠেলে দিতে গেলে, তা রুখে দেয় বিজিবি। অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

লালমনিরহাট: জেরার ৪টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মুখে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।

এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা সব ব্যক্তিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে।

নওগাঁ: সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে টানা ১৯ ঘণ্টার চেষ্টার পর রাতেই ওই ব্যক্তিদের আবারও ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

পঞ্চগড়: সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তের শূন্য রেখায় দীর্ঘ ৩৫ ঘণ্টা ধরে অবস্থান করছেন পুশইন হওয়া ১০ জন। তাদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিজিবি-বিএসএফ।

এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

শেরপুর: নালিতাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের (অবৈধ অনুপ্রবেশ) চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বিশেষ মাইকিং করেছে বিজিবি। ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন বায়েজিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধীনস্থ নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১১১৮-এর নিকটবর্তী চেরাংপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ৪০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ২২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বাবুরামবিল ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকায় ৫-৬ জন লোককে ভারতের মেঘালয় থেকে ধরে এনে বাংলাদেশে পুশইনের জন্য জড়ো করে রেখেছিল বিএসএফ। কাঁটাতারবিহীন সীমান্ত এলাকা দিয়ে গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় সুযোগ বোঝে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিজিবি এবং স্থানীয় সীমান্তবাসীর সম্মিলিত ও তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় এই অপপ্রয়াস সফলভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

এই ঘটনার পর ৩৯ বিজিবির অধীনস্থ সকল বিওপিতে (বর্ডার আউটপোস্ট) তাৎক্ষণিকভাবে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুশইনের সম্ভাব্য ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ২৪ ঘণ্টা ডিউটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি টহল দলগুলোর সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীদের নিয়ে সচেতনতামূলক জরুরি সভা করা হচ্ছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কোনো দালাল এই চক্রের সাথে জড়িত আছে কি না, সোর্স নিয়োগের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন বায়েজীদ জানান, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমানা রক্ষায় এবং যেকোনো প্রকার অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সদা জাগ্রত থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বিজিবি। সীমান্তে মাদকপাচার, চোরাচালানি মালামাল রোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন রোধকল্পে বিজিবি জিরো টলারেন্স বা কঠোরতা নীতি অনুসরণ করছে।

মেহেরপুর: গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় গ্রামবাসী। ফলে প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে কোনো দেশেই আশ্রয় না পেয়ে রোদে পুড়ে বৃষ্টির পানিতে ভিজে অনাহারে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঝোঁপের মধ্যে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন ভারত থেকে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া ৬ জন।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের হাটপাড়াসংলগ্ন সীমান্তের মেন পিলার ১০৪-এর সাব পিলার ৫-এর কাছ দিয়ে বিএসএফ ওই ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে।

এ সময় বিজিবি ও গ্রামবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা ভারতের সীমান্তের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

তবে বিএসএফ তাদের পুনরায় গ্রহণ না করায় ওই ৬ জন বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। আটকে পড়া এই দলে ৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ১ শিশু রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, ২০২০ সালে তারা ভারতে যাওয়ার পর সেখানে কারাভোগ করেন। পরে গত শুক্রবার বিএসএফ তাদের আটক করে সীমান্তের কাছে নিয়ে এসে জোর করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়।

এ ঘটনার জেরে গতকাল শনিবার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোম্পানি কমান্ডার এসআই রাজেন্দ্র কুমার পোয়ালে এবং বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন কোম্পানি কমান্ডার এসআই ওসিকুর রহমান।

বৈঠক হলেও কোনো দেশই তাদের নিতে রাজি হয়নি। ফলে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে ভারতীয় কাঁটাতারের কাছে চরম অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এই সকল মানুষ দাবি করছে তারা বাংলাদেশের বাসিন্দা। তারপরও অনাহারে রোদে পুড়ে বৃষ্টির পানিতে ভিজে কষ্ট করছে। হ্যাঁ এটা ঠিক আমরা তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছি।

এ ছাড়া শুক্রবার রাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে খুমি সম্প্রদায়ের ৪৭ জন। খবর পেয়ে বান্দরবানের রেমাক্রি হৈকু খুমি পাড়া থেকে তাদের হেফাজতে নেয় বিজিবি। এরপর তাদের পুশব্যাক করানো হয়।’


অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেলেন পাঁচ কর্মকর্তা, গ্রেড-১ পেলেন দুজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পুলিশের পাঁচজন উপমহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের দুই অতিরিক্ত আইজিপিকে গ্রেড-১ পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া পাঁচ কর্মকর্তা হলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক (ডিআইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অ্যাডমিন) ফারুক আহমেদ এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড-২ প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ তাদের যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

এদিকে পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা এবং পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম আওলাদ হোসেনকে গ্রেড-১ পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে এ পদোন্নতি ও পদমর্যাদা প্রদান বাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।


ভিসা ছাড়া যে ৩৬ দেশে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশিরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এক ধাপ পিছিয়ে এখন ৯৬তম স্থানে নেমেছে, যা আগের তালিকায় ছিল ৯৫তম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স-এর মে মাসে প্রকাশিত সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী, এই অবস্থান পরিবর্তন সত্ত্বেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে বিশ্বের ৩৬টি দেশে কোনো ধরনের আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন।

এই তালিকায় ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের বার্বাডোজ, ভুটান, কম্বোডিয়া, ফিজি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, সেশেলস, বাহামাস, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, ভানুয়াতু, সামোয়া, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জিবুতি ও মাদাগাস্কারসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ ও দ্বীপ রাষ্ট্র রয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের জন্য সব দেশে ভ্রমণের নিয়ম এক নয়। কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার থাকলেও অনেক দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিতে হয়, আবার কিছু দেশের ক্ষেত্রে ভ্রমণের পূর্বে অনলাইনে ই-ভিসা সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এদিকে মে মাসের এই বৈশ্বিক পাসপোর্ট শক্তির তালিকায় এককভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। সূচকে দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে অবস্থান করছে এশিয়ার দুই দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এ ছাড়া শক্তিশালী পাসপোর্টের দিক থেকে এককভাবে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে সুইডেন। তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইউরোপের একাধিক ক্ষমতাধর দেশ, যার মধ্যে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও সুইজারল্যান্ডসহ আরও বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র যৌথভাবে অবস্থান করছে।


৬৫ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম বাড়েনি: তথ্য উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) শুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তের কারণে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের ক্ষেত্রে কোনো দাম বাড়েনি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি জানান, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের আগের দামই বহাল থাকবে, যার ফলে দেশের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির গ্রাহকেরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

শনিবার (৬ জুন) সচিবালয়ে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংসহ বিগত সরকারের আমলের নানা অপরাধের বোঝা বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির চক্র থেকে দেশকে বের করে আনার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করছে বর্তমান সরকার।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগের সরকারগুলো উৎপাদনমুখী নীতির চেয়ে আমদানি-নির্ভর নীতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তৎকালীন সময়ে যদি আমদানি-নির্ভরতার চেয়ে উৎপাদনমুখী নীতি গ্রহণ করা হতো, তাহলে আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

তবে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি সফল করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সরকারি কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ু বার্তা ও বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচি-সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে জানানো হয়, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে।

আগামী সপ্তাহে চট্টগ্রাম থেকে এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি, চলমান বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির নানামুখী উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় বন ও পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স উৎপাদন সংক্রান্ত আরেকটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় স্থানীয় প্রযুক্তি, মেধা ও উপকরণ ব্যবহার করে কীভাবে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে এবং কম খরচে মানসম্মত অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করা যায়, তার সম্ভাবনা ও এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


প্রধানমন্ত্রীর সাথে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বিশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান হাকান ফিদান। সফরের প্রথম দিকে শুক্রবার তিনি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। ওই দিনই তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণে কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করেন এবং রাতেই পুনরায় রাজধানীতে ফিরে আসেন। তিন দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষে আজ বিকেলেই তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগের কথা রয়েছে।


ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুরু হচ্ছে মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান

সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আগামী দুই থেকে তিন দিন পর পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জরিমানা করা হবে। শনিবার সকালে ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের একটি বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, চিকিৎসকদের আশঙ্কা অনুযায়ী এবারের ডেঙ্গুর ধরণ হতে পারে অত্যন্ত বিপজ্জনক, যাকে ‘হেমোরেজিক’ বলা হচ্ছে। এই ধরণের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শরীরে দ্রুত রক্তক্ষরণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে সাধারণ মানুষকে আগেভাগেই সচেতন হওয়ার জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ডেঙ্গু মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস এবং নগরবাসীকে সতর্ক করার কাজ জোরদার করা হবে।

একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী দক্ষিণ সিটি এলাকার ৬৩টি ওয়ার্ড বর্তমানে ডেঙ্গুর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যদি জনগণ ও সিটি করপোরেশন প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করে, তবেই এই বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের এই সমন্বিত উদ্যোগ মূলত আগামী বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।


banner close