আজ ঐতিহাসিক ১৯ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজীপুরের (সেই সময়ের জয়দেবপুর) বীর জনতা গর্জে উঠেছিল এবং সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। মনে পড়ে মার্চের সেই উত্তাল দিনগুলোতে বাঙালি জাতির এক অবিস্মরণীয় গণ-অভ্যুত্থানের কথা। ১৯৭১ সালের পহেলা মার্চ দুপুরে হঠাৎ এক বেতার ভাষণে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেন। এ কথা শোনামাত্র সারা দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদমুখর হয়ে এ ঘোষণার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসেন। দেশের সর্বত্রই স্লোগান ওঠে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর- বাংলাদেশ স্বাধীন কর’, ‘পিন্ডি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’, ‘পাঞ্জাব না বাংলা, বাংলা-বাংলা’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’, ‘তুমি কে আমি কে, বাঙালি-বাঙালি’।
বঙ্গবন্ধু ঢাকায় পূর্বাণী হোটেলে এক সভায় ইয়াহিয়ার ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং ঢাকায় ২ মার্চ এবং সারা বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ৩ মার্চ হরতাল আহ্বান করেন এবং ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা আহ্বান করেন।
জয়দেবপুরে (আজকের গাজীপুর) আমার পরামর্শে ২ মার্চ রাতে তৎকালীন থানা পশুপালন কর্মকর্তা আহম্মেদ ফজলুর রহমানের সরকারি বাসায় তৎকালীন মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিব উল্ল্যাহ এক সর্বদলীয় সভা আহ্বান করেন। সভায় আমাকে (আ ক ম মোজাম্মেল হক) আহ্বায়ক করে এবং মেশিন টুলস্ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খানকে কোষাধ্যক্ষ করে ১১ সদস্যের এক সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সদস্য হন আয়েশ উদ্দিন, মো. নুরুল ইসলাম (ভাওয়াল রত্ন), মো. আ. ছাত্তার মিয়া (চৌরাস্তা), থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম হজরত আলী মাস্টার (চৌরাস্তা), মো. শহীদ উল্ল্যাহ বাচ্চু (মরহুম), হারুন-অর-রশিদ ভূঁইয়া (মরহুম), শহিদুল ইসলাম পাঠান জিন্নাহ (মরহুম), শেখ আবুল হোসেন (শ্রমিক লীগ), থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. সাঈদ বকস্ ভূঁইয়া (মরহুম)। কমিটির হাইকমান্ড (উপদেষ্টা) হন মো. হাবিব উল্ল্যাহ (মরহুম), শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা এম এ মুত্তালিব এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) নেতা বাবু মনীন্দ্রনাথ গোস্বামী (প্রয়াত)।
৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার আগেই আমরা এ কমিটি গঠন করেছিলাম। পেছনের ইতিহাস এই যে, আমি ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে ‘স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হই। নিউক্লিয়াসের উদ্দেশ্য ছিল সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করা, যা মূলত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৬২ সালেই ছাত্রলীগের মধ্যে গঠিত হয়েছিল। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যেই সশস্ত্র যুদ্ধ করে পাকিস্তানিদের বিতাড়িত করে বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য বঙ্গবন্ধুর পরামর্শে বাঙালি সৈন্যদের মধ্যেও নিউক্লিয়াস গঠিত হয়েছিল ১৯৬৪ সালে। এ সম্পর্কে বিস্তৃত বিবরণ পাওয়া যাবে পাকিস্তানিদের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট স্বঘোষিত ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের দায়ের করা ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান’ মামলায় যা বিখ্যাত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণেই বুঝতে পেরেছিলাম যে, সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার এটাই মাহেন্দ্রক্ষণ। জয়দেবপুরে (গাজীপুরে) সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ গাজীপুর স্টেডিয়ামের পশ্চিমসংলগ্ন বটতলায় এক সমাবেশ করে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে দেয়া হয়। স্লোগান ওঠে ‘ইয়াহিয়ার মুখে লাথি মার- বাংলাদেশ স্বাধীন কর’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর- বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। পতাকা ধরেছিলেন হারুন ভূঁইয়া এবং অগ্নিসংযোগ করেছিলেন শহীদউল্যাহ বাচ্চু। আর স্লোগান, মাস্টার আ. ছাত্তার মিয়া পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে স্লোগান দিতেন।
আমরা ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী (তৎকালীন রেসকোর্স) উদ্যানের মহাসমাবেশে যোগ দিলাম। সে সময় জয়দেবপুর (গাজীপুর) থেকে হাজার হাজার বীর জনতা ট্রেনে করে এবং শতাধিক ট্রাক ও বাসে করে মাথায় লাল ফিতা বেঁধে ওই জনসভায় যোগ দিয়েছিল। সে এক অপূর্ব দৃশ্য। আজকে ভাবতেও অবাক লাগে কীভাবে এ জনস্রোত এসে মিশে গিয়েছিল ৭ মার্চের মহাসমুদ্রে। ৭ মার্চে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সম্ভবত ১১ মার্চ গাজীপুর সমরাস্ত্র কারখানা (অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি) আক্রমণ করি। গেটে বাধা পাওয়ার পর আমি হাজার হাজার মানুষের সামনে টেবিলে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করেছি মাইকে। পাকিস্তানিরা যাতে বুঝতে পারে, সে জন্য ইংরেজিতে বলি, ‘I do hereby dismiss Brigadier Karimullah from the directorship of Pakistan Ordnance Factory and do hereby appoint Administrative officer Mr Abudul Qader (বাঙালি) as the director of the ordnance Factory’। এই গর্জনে সত্যিই কাজ হয়েছিল। পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার বক্তৃতা চলাকালীন পেছনের গেট দিয়ে সালনা হয়ে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার আর পরবর্তীতে ১৫ এপ্রিলের পূর্বে গাজীপুরে যাননি। ওই সমরাস্ত্র কারখানা ২৭ মার্চ পর্যন্ত আমাদের দখলেই ছিল। সম্ভবত ১৩ মার্চ তৎকালীন জিওসি ইয়াকুব আলী জয়দেবপুর রাজবাড়ী মাঠে হেলিকপ্টারে অবতরণ করতে চেষ্টা করলে শত শত বীর জনতা হেলিকপ্টারের প্রতি ইট-পাটকেল ও জুতা ছুড়তে শুরু করলে হেলিকপ্টারটি না নামতে পেরে ফেরত চলে যায়।
সে দিন ১৭ মার্চ বুধবার, মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে লাখো জনতার ঢল নেমেছিল ৩২ নম্বরের বাড়িতে। সবাই বঙ্গবন্ধুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিল। তৎকালীন আমাদের নির্বাচনী এলাকার এমএলএ সামসুল হক (পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্য), হাবিব উল্ল্যাহসহ আমি গিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধুকে জয়দেবপুরে ২য় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার সংবাদ দিতে। সন্ধ্যায় আমরা পেছনে দাঁড়িয়ে আছি দেখতে পেয়ে কিছু বলতে চাই কি না বঙ্গবন্ধু জানতে চান। কুর্মিটোলা (ঢাকা) ক্যান্টনমেন্টে অস্ত্রের মজুত কমে গেছে অজুহাতে ২য় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে রক্ষিত অস্ত্র আনার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংবাদ জানাই। সামসুল হকের ইশারায় আমি তরুণ হিসেবে এ অবস্থায় আমাদের কী করণীয় জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু ব্যাঘ্রের ন্যায় গর্জে উঠে বললেন, ‘তুই একটা আহাম্মক, কী শিখেছিস যে আমাকে বলে দিতে হবে!’ একটু পায়চারি করে বললেন, ‘বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্র করতে দেয়া যাবে না। ‘Resist at the cost of anything’। নেতার হুকুম পেয়ে গেলাম। ১৯ মার্চ শুক্রবার আকস্মিকভাবে পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার জাহান জেবের নেতৃত্বে পাকিস্তানি রেজিমেন্ট জয়দেবপুরস্থ (গাজীপুর) ২য় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য পৌঁছে যায়। একজন জেসিও (নায়েব সুবেদার) জয়দেবপুর হাইস্কুলের মুসলিম হোস্টেলের পুকুরে (জকি স্মৃতির প্রাইমারি স্কুলের সামনে) গোসল করার সময় জানান যে, ঢাকা থেকে ব্রিগেডিয়ার জাহান জেব চলে এসেছেন। খবর পেয়ে দ্রুত আমাদের তখনকার আবাসস্থান মুসলিম হোস্টেলে ফিরে গিয়ে উপস্থিত হাবিব উল্ল্যা ও শহীদুল্ল্যাহ বাচ্চুকে এ সংবাদ জানাই। শহীদউল্ল্যাহ বাচ্চু তখনই রিকশায় চড়ে শিমুলতলীতে, মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, ডিজেল প্লান্ট ও সমরাস্ত্র কারখানায় শ্রমিকদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে জয়দেবপুরে চলে আসার খবর দিলে ১ ঘণ্টার মধ্যে মাঠেই হাজার শ্রমিক-জনতা চারদিক থেকে লাঠিসোঁটা, দা, কাতরা, ছেন, দোনলাবন্দুকসহ জয়দেবপুর উপস্থিত হয়। সেদিন জয়দেবপুর হাটের দিন ছিল। জয়দেবপুর রেল গেটে মালগাড়ির বগি, অকেজো রেললাইন, স্লিপারসহ বড় বড় গাছের গুঁড়ি, কাঠ, বাঁশ, ইট ইত্যাদি যে-যেভাবে আনতে পেরেছিল তা দিয়ে এক বিশাল ব্যারিকেড দেয়। জয়দেবপুর থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত আরও ৫টি ব্যারিকেড দেয়া হয় যাতে পাকিস্তানি বাহিনী অস্ত্র নিয়ে ফেরত যেতে না পারে। ২য় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ (পরবর্তীকালে সেনাপ্রধান)। আমরা যখন ব্যারিকেড দিচ্ছিলাম তখন টাঙ্গাইল থেকে রেশন নিয়ে একটি কনভয় জয়দেবপুর আসছিল। সে রেশনের গাড়িকে জনতা আটকে দেয়। সেই কনভয়ে থাকা ৫ জন সৈন্যের চায়নিজ রাইফেল তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়।
এ দিকে রেল গেটের ব্যারিকেড সরানোর জন্য ২য় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টকে ব্রিগেডিয়ার জাহান জেব আদেশ দেন। কৌশল হিসেবে বাঙালি সৈন্যদের সামনে দিয়ে পেছনে পাঞ্জাবি সৈন্যদের অবস্থান রেখে মেজর শফিউল্লাহকে জনতার ওপর গুলিবর্ষণের আদেশ দেয়া হয়। বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যরা আমাদের জনতার ওপর গুলি না করে আকাশের দিকে গুলি ছুড়ে অগ্রসর হতে থাকলে আমরা বর্তমান গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ওপর অবস্থান নিয়ে বন্দুক ও চায়নিজ রাইফেল দিয়ে সেনাবাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করি।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে জয়দেবপুরে শহীদ হন নেয়ামত ও মনুখলিফা, আহত হন চতরের সন্তোষ, ডা. ইউসুফসহ শত শত বীর জনতা। পাকিস্তানি বাহিনী কারফিউ জারি করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করলে আমাদের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। আমরা পিছু হটলে দীর্ঘসময় চেষ্টা করে ব্যারিকেড পরিষ্কার করে ব্রিগেডিয়ার জাহান জেব চান্দনা চৌরাস্তায় এসে আবার প্রবল বাধার সম্মুখীন হন। নামকরা ফুটবল খেলোয়াড় হুরমত এক পাঞ্জাবি সেনাসদস্যকে পেছন থেকে আক্রমণ করে। আমরা সৈন্যের রাইফেল কেড়ে নিই। কিন্তু পেছনে আর এক পাঞ্জাবি সেনা হুরমতের মাথায় গুলি করলে হুরমত সেখানেই শাহাদতবরণ করেন। বর্তমানে সেই স্থানে চৌরাস্তার মোড়ে ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ নামে ভাস্কর্য স্থাপিত হয়েছে।
পরদিন বঙ্গবন্ধু আলোচনা চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণে ১৯ মার্চ নিহতদের কথা উল্লেখ করলে জেনারেল ইয়াহিয়া খান বলেন যে, ‘জয়দেবপুরে জনতা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ওপর আধুনিক অস্ত্র ও চায়নিজ রাইফেল দিয়ে আক্রমণ করেছে এবং এতে পাকিস্তানি বাহিনীর অনেক সেনা আহত হয়েছে।’
১৯ মার্চের পর সারা বাংলাদেশে স্লোগান ওঠে, ‘জয়দেবপুরের পথ ধর-বাংলাদেশ স্বাধীন কর’, ‘জয়দেবপুরের পথ ধর-সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু কর’।
১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ প্রথম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গাজীপুরবাসীর উদ্দেশে এক পত্রে ১৯ মার্চের সশস্ত্র প্রতিরোধের সময় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জয়দেবপুরবাসীকে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে বঙ্গবন্ধুকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের সুবর্ণজয়ন্তীতে ১৯ মার্চের শহীদসহ অংশগ্রহণকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। এ সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাওয়ায় নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি।
১৯ মার্চের সশস্ত্র যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক মাইলফলক। জয়দেবপুরের গৌরবগাথা উনিশে মার্চ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস হিসেবে জাতীয়ভাবে উদযাপন করার দাবিতে গাজীপুরের সর্বস্তরের জনতা আবেদন জানিয়ে আসছে। উনিশে মার্চ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস হিসেবে দেশব্যাপী জাতীয়ভাবে পালিত হলে মুক্তিযুদ্ধের সূচনার ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষিত হবে বলে আমি মনে করি।
লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বাইরেও প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতার আওতায় আনার কাজে হাত দিয়েছি। ইতোমধ্যে কাজ অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে। আশা করছি আমরা একটি সন্তোষজনক ফলাফল দিতে পারব।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) চিকিৎসাধীন অসুস্থ সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন নেগাবানকে দেখতে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অসুস্থ সাংবাদিকের হাতে এক লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যম হলো চতুর্থ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ যেভাবে সুরক্ষা পায়, গণমাধ্যমকেও সেই আদলে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে সুরক্ষা দিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নীতিমালা তৈরির কাজ করছে সরকার।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে না থাকায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুরক্ষা বা পৃষ্ঠপোষকতায় কিছু ঘাটতি থাকে। আমরা বিশ্বাস করি, গণমাধ্যমকে যদি স্বাধীন ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়, তবে তা শেষ পর্যন্ত জনগণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণেই কাজে লাগে। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পেশায় যারা জীবন দিয়ে কাজ করেন, তাদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা চেষ্টা করছি।
সিনিয়র সাংবাদিকদের বর্তমান দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক মেধাবী সাংবাদিক ব্যক্তিগত জীবনে দুর্দশার মধ্যে আছেন। অথচ তারা অন্য পেশায় থাকলে হয়তো অনেক ভালো করতে পারতেন। গুণী বা রত্নদের সব সময় রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা করা উচিত। প্রতিভা যেখানে থাকবে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেখানে তাদের পাশে দাঁড়ানো।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সিনিয়র সাংবাদিক খোন্দকার কাওছার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী এ সময় চিকিৎসাধীন সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন নেগাবানের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো ৩৪ প্রবাসীর নিথরদেহ দেশে ফিরেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে করে কুয়েত, মালয়েশিয়া ও লিবিয়া থেকে এসব মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এসব তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত থেকে এসেছে ৩০ জন প্রবাসীর মরদেহ। গতকাল সন্ধ্যায় কুয়েত এয়ারলাইন্সের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে মরদেহগুলো আসে। আর লিবিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আসে দুটি করে মরদেহ।
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকবার কুয়েতের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব প্রবাসীর মরদেহ ওইসব ফ্লাইটে দেশে আসার কথা ছিল। পরবর্তীতে চার্টার্ড ফ্লাইটে এসব প্রবাসীর মরদেহ দেশের আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মী এবং শূন্য পদসমূহে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কবরী হলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমীন। বর্তমান সরকারের দুই মাস পূর্ণ হওয়ায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে। মহানগর পর্যায়ে উন্মুক্ত খেলার মাঠের সংস্থান করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, আবারও শুরু হয়েছে শিশু কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণের প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’, প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া ও কোরআন তিলাওয়াত। জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ এবং দেশব্যাপী বইপড়াকে উৎসাহিত করার জন্য বেসরকারি খাতের সাথে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ড. মাহদী আমীন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লার্নিং উইথ হ্যাপীনেস, কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি যুক্ত করে শিক্ষাক্রমকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস অ্যালাউন্স কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৮টার মধ্যে এসব শিশুর মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪২ জন রোগী। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জনের।
চলতি বছর দেশে এ পর্যন্ত হামে ৩৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৭৮ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে মোট ৩ হাজার ২৭৮ জনের।
সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ২২ হাজার ৪০৯ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায়। এসবের মধ্যে ১১ হাজার ৭৫১ জনকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অংশীজনদের সঙ্গে এক সমন্বয় সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের নিমিত্ত অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়, বোর্ড, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সরাসরি ও জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠক শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি বিবেচনায় রেখে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পরীক্ষা শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাত বছর পরে এবার পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা হচ্ছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। সে হিসেবে দুই বছর পূর্ণ হতে এ বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় চান শিক্ষার্থীরা। তবে বিস্তারিত আলোচনা করে ২ জুলাই পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যিক চুক্তি জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালির চাইতেও বড় বাধা বলে মন্তব্য করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শেষ মুহূর্তে যে ‘অসম’ চুক্তি করেছে, তা জ্বালানি নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ঝুঁকি। শনিবার (১৮ এপ্রিল) এফডিসিতে প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের অসাধু যোগসাজশে জ্বালানি খাতে তোষণমূলক নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিবর্তে কায়েমী স্বার্থে আমদানিমুখী জ্বালানি নির্ভরতাকে প্রাধান্য দিয়ে এলএনজি নিয়ে আসা হয়েছে। বাপেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানকে ঠুটো জগন্নাথ করা হয়। জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালি বড় বাধা নয়। অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শেষ মুহূর্তে যে ‘অসম’ চুক্তি করেছে, তা জ্বালানি নিরাপত্তা ও সর্বভৌমত্বের জন্য বড় ঝুঁকি। তবে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে তেল আমদানির শর্ত এক মাস রহিত করার সুযোগ বাংলাদেশকে নেওয়া উচিত। জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকার যে কেবিনেট সাব কমিটি করেছে, সে কমিটি কি করছে স্বচ্ছতার মাধ্যমে তা জনগণকে অবহিত করে জাতীয় সংসদে আলোচনার দাবি রাখে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার রিফর্ম কমিশন গঠনের কথা বললেও তা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আয় ও প্রণোদনার ক্ষেত্রে সরকার কী ধরনের সংস্কার করতে চায় তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে করা ঋণ কর্মসূচির চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিকে সরকার সম্মান করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনা’ বিষয়ে এক সেমিনারে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন।
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এ সেমিনারে সংগঠনের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।
আইএমএফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কতগুলো অভ্যাস থাকে। এগুলো হচ্ছে গ্লোবাল নর্মস বা বৈশ্বিক মানদণ্ড। কোথাও এগুলো লেখা আছে, কোথাও লেখা নেই। কোনো দেশ যদি আন্তর্জাতিক সংস্থা বা চুক্তির অংশীদার হয়, তবে সেই চুক্তির শর্তাবলি- যেমন মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন- মানা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ঋণ বা ক্রেডিট ফ্যাসিলিটির ক্ষেত্রে এই দায়বদ্ধতা থেকে যায়। তবে সে চুক্তি বা শর্ত যদি দেশের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি একবার স্বাক্ষরিত হলে তা সম্মান করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তবে এর প্রয়োগে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও কিছুটা নমনীয়তা থাকা উচিত। নীতিনির্ধারণে বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সতর্ক করেন, অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
কর নীতির ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এমন একটি করব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না, যা ব্যবসায়ীদের বড় অংশ গ্রহণযোগ্য মনে করে না। নীতি প্রণয়নে সমান সুযোগ ও ন্যায্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণে বাস্তববাদী হওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিতুমীর জানান, জিডিপির তুলনায় কর আদায়ের হার ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে। যেমন ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ এবং ২০৩২ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা, যা তার মতে বাস্তবসম্মত।
তিনি বলেন, অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা বুঝে, জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিকে সম্মান করেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিগত দুটি সরকার যথাসময়ে শিশুদের হামের টিকা না দিয়ে ‘ক্ষমাহীন অপরাধ’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে শিশুদেরকে হামের টিকা না দেওয়ার ফলে বিগত ইমিডিয়েট দুটি সরকারের জীবনবিনাশী ব্যর্থতা মনে হয় ক্ষমাহীন অপরাধ। ভবিষ্যতে আর কখনোই যাতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। বর্তমান সরকার সারা দেশে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা দিয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ায় আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতির অবনতি কিছুটা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য আমি সকল চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীসহ সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা তাদের প্রিয় সন্তান হারিয়েছেন সেই সকল পিতামাতা এবং স্বজনদের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে নাগরিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং উন্নত ল্যাব প্রায় সবকিছুই ঢাকা কেন্দ্রিক। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। যদিও কাজটি এক মাস বা এক বছরে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তবুও সরকার ধাপে ধাপে এটি অর্জনের পথে রয়েছে।’
বর্তমান সরকার ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়তে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে আগে আমরা জনগণের কাছে স্বাস্থ্যনীতির রূপরেখা তুলে ধরেছিলাম। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে, ‘‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’’ বা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমরা যদি রোগের শুরুতেই রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে পারি তাহলে রোগের বিস্তার মোকাবিলা সম্ভব। আমাদের এই নীতি বাস্তবায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কারণে সংক্রামক রোগের পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ যেমন শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক, হৃদরোগ ইত্যাদি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপর নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে উপজেলা পর্যায়েই গুরুত্বসহকারে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং নিয়মিত করা প্রয়োজন। জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করার ব্যাপারে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরী জরুরি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে ইউ-এইচ-এফ-পি-ও অর্থাৎ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাগণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি।’ তিনি বলেন, একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নিজ নিজ কর্মস্থলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার কাজটিও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হয়। কারণ, হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট এবং হেলথ কেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট এই দুটি বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় এবং সমউন্নয়ন না হলে স্বাস্থ্য সেবায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।
দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বিএনপি সরকারের বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে সরকার শিগগিরই একটি সমন্বিত ই-হেলথ কার্ড চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে। এতে যে কোনো নাগরিক প্রয়োজনে দেশের যে কোনো হাসপাতালে সহজেই চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে একটি জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যাতে কোনো নাগরিক চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’
চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা, মর্যাদা রক্ষায় সরকার আন্তরিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং জীবন মান উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি সম্পর্কেও সরকার ওয়াকিবহাল। এ ব্যাপারেও সরকার সাধ্যমতো যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে বদ্ধ পরিকর।’
সবশেষে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমি একটি বার্তা দিতে চাই, সেটি হলো প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজ নিজ এলাকায় একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দেবেন। আপনারা একটি জবাবদিহিমূলক, টেকসই এবং জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। আপনাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকার কর্মস্থলকে একটি মডেল স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে পরিণত করবেন, আপনাদের কাছে এই প্রত্যাশা।’
আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি হজের খরচ আরো কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এই আশ্বাস দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে রাত ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তদারকি ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন।
এ সময় তার সঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকার গঠনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই হজ ব্যবস্থার বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। তারপরও দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করেছি এবং অন্তত ১২ হাজার টাকা খরচ কমানোর ব্যবস্থা করেছি। আগামী বছর যাতে আরো কম খরচে আপনাদের হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি, সেজন্য আপনারা দোয়া করবেন।’
হজযাত্রীদের নিরাপদ সফর কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমাদের তৌফিক দেন, যাতে সামনের সব সমস্যা ও বিপদ মোকাবেলা করতে পারি। সরকারের নেওয়া জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো যেন সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেই প্রার্থনা করবেন।’
এরপর বিমানেই হজযাত্রীদের নিয়ে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জ হয়ে নিজ বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণায় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে নোঙর তুলেছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। তবে যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেতারবার্তায় ইরানের বাহিনী জাহাজটি পারস্য উপসাগরে ফেরত যাওয়ার নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা পেয়ে আবারও পারস্য উপসাগরে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাচ্ছে জাহাজটি।
জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে আমরা শুক্রবার রাতে হরমুজ পাড়ি দিতে রওনা হয়েছিলাম।
তবে ইরানের বাহিনী জাহাজটি হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। জাহাজটি ফেরত নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা আগের জায়গায় অর্থাৎ পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছি।
রাতে এর আগে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, পারস্য উপসাগর থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। রাত তিনটা নাগাদ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে শুক্রবার রাত ১১টায় দেখা যায়, ইরানের কর্তৃপক্ষ এই প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা একের পর এক জাহাজ নোঙর তুলতে শুরু করে। শতাধিক জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে রাত পৌনে ১টায় মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সব কটি জাহাজ আবার পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছে। এই তালিকায় বাংলার জয়যাত্রাও রয়েছে।
বিএসসির এই জাহাজ ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে রয়েছে। সেখানে এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। গত ১১ মার্চ জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএসসি। তবে সেবার অনুমতি না পেয়ে হরমুজ পার হওয়া যায়নি।
অনুমতি না পেয়ে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয় জাহাজটিতে। এই সার নেওয়া হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে। তবে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর দ্বিতীয় দফায়ও অনুমতি চেয়ে পায়নি জাহাজটি। এর পর থেকেই হরমুজের কাছাকাছি পারস্য উপসাগরে নোঙর করেছিল জাহাজটি। তৃতীয় দফায় শুক্রবার হরমুজ পার হতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ফেরত যাচ্ছে জাহাজটি।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে বিকাল সাড়ে ৩টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও মুখপাত্র সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও বক্তব্য দেওয়া হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মানব উন্নয়ন অর্জন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দরিদ্র মানুষের আয়ের পথ প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। নতুন করে শ্রম অভিবাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং যারা কর্মরত আছেন, তারা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। মূলত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশসহ এশিয়ার মানুষের জীবনযাত্রায় এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সংকট যত দীর্ঘ হবে, দারিদ্র্য নিরসনে বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের সাফল্য ততই ম্লান হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। ‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মানব উন্নয়নের প্রভাব’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত বুধবার (২২ এপ্রিল) ইউএনডিপি প্রকাশ করেছে।
ইরান যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যে সংকট চলছে, তার ওপর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩৬টি দেশের ওপর করা একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এ সতর্কতা জানিয়েছে।
ইউএনডিপি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারে। মূলত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়া এবং রেমিট্যান্সপ্রবাহের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এটি কেবল একটি অর্থনৈতিক ধাক্কা নয়, বরং এই অঞ্চলের গত কয়েক দশকের মানব উন্নয়নের অগ্রগতি রক্ষার এক বড় পরীক্ষা।
বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব : ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় উত্তেজনার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট বাতিল করায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশের আকাশপথের কার্গো পণ্যের অর্ধেকেরও বেশি সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের ‘হাব’গুলো হয়ে বিভিন্ন দেশে যায়, যা এখন হুমকির মুখে।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স আয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের সাড়ে ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সরাসরি রেমিট্যান্স কমিয়ে দেবে এবং অভিবাসী পরিবারে খাদ্য অনিরাপত্তা বাড়িয়ে তুলবে। নতুন করে শ্রম অভিবাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং যারা কর্মরত আছেন, তারা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এ সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের মানব উন্নয়নের অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ অবস্থা মোকাবিলায় অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষত জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার স্কুলগুলোর জন্য বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কাজের সময় কমিয়ে আনার মতো নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি দুজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৪৬৭ জনে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১১৫ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় ১২৭ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে, যা মিলিয়ে গত এক মাসে মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জনে।
হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৮৯৮ জন রোগী সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১ হাজার ২৪৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হঠাৎ হামের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের ফলে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।