বিশ্বের ১০০টি শহরের মধ্যে বাতাসের নিম্নমানের দিক থেকে শীর্ষে উঠে এসেছে ঢাকা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বাতাসের মানবিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের র্যাঙ্কিংয়ে রোববার সকাল ৮টা ৩৮ মিনিটে ১৯৯ স্কোর নিয়ে রাজধানীর এ অবস্থানে উঠে আসে।
তালিকায় ওই সময় ১৮২ স্কোরে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারতের দিল্লি। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিওন তৃতীয়, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে ছিল পাকিস্তানের করাচি।
নির্দিষ্ট স্কোরের ভিত্তিতে কোনো শহরের বাতাসের ক্যাটাগরি নির্ধারণের পাশাপাশি সেটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ভালো না কি, ক্ষতিকর, তা জানায় আইকিউএয়ার। কোম্পানিটি শূন্য থেকে ৫০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘ভালো’ ক্যাটাগরিতে রাখে। অর্থাৎ এ ক্যাটাগরিতে থাকা শহরের বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘মধ্যম মানের বা সহনীয়’ হিসেবে বিবেচনা করে কোম্পানিটি।
আইকিউএয়ারের র্যাঙ্কিংয়ে ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে ধরা হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরে থাকা শহরের বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরির বিবেচনা করা হয়। র্যাঙ্কিংয়ে ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। তিন শর বেশি স্কোর পাওয়া শহরের বাতাসকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচনা করে আইকিউএয়ার।
উল্লিখিত সময়ে ঢাকার বাতাসের স্কোর ছিল ১৯৯। এর মানে হলো সে সময়টাতে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বাতাসের মধ্যে বসবাস করতে হয়েছে রাজধানীবাসীকে।
দেশের অবৈধ ১১৬টি জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস বন্ধের জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) তালিকা পাঠিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ছাড়া চারটি সাইটের আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিআইডি বলেছে, এই চার সাইট দিয়ে দৈনিক দুই কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া হতো। সেই অর্থ তারা হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করত। রোববার সিআইডির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি (সদ্য নিযুক্ত ডিএমপি কমিশনার) মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নিয়মিত সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ১ মে থেকে আজ পর্যন্ত পরিচালিত সাইবার প্যাট্রলিংয়ে জুয়ার সঙ্গে জড়িত ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো ডাউন করার জন্য বিটিআরসিতে ১১৬টির তথ্য দিয়েছে সিআইডি। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জুয়ার লেনদেন করে—এমন ৮৭৯টি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ও বিভিন্ন ব্যাংকের ৪৩টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে ও ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা বিভাগকে (বিএফআইইউ) অনুরোধ জানিয়েছে সিআইডি।
এর আগে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত চারজনকে ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার নরসিংদীর পলাশ থেকে ও ঢাকার ধানমন্ডি থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কিশোরগঞ্জের আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী ও আশরাফুল ইসলাম এবং ময়মনসিংহের জসীম উদ্দীন। তাদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের প্রথম দুজন একটি মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর। অপর চারজন হলেন নরসিংদীর তৈয়ব খান ও সৌমিক সাহা, লক্ষ্মীপুরের কামরুজ্জামান এবং কিশোরগঞ্জের আব্দুর রহমান।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জুয়ার চারটি সাইট পরিচালনা করে আসছিলেন। তারা দৈনিক প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন। এই টাকার বেশির ভাগ হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান সিআইডিপ্রধান। তাদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে একটি মামলা হয়েছে।
সিআইডির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বিএফআইইউ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে সিআইডি ‘এমটিএফই’ পঞ্জি স্কিমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে দেশের সব অধস্তন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার (২৩ মে) এবং পরের দিন রোববার দেশের সব অধস্তন আদালতের কার্যক্রম চলবে।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার (বিচার) মুহাম্মদ নুরুল আমিন বিপ্লবের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি সব অফিসের জন্য টানা ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। গত ১৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও জরুরি কিছু সেবা এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে।
এর মধ্যে রয়েছে—বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ; ফায়ার সার্ভিস ও বন্দরগুলোর কার্যক্রম; টেলিফোন, ইন্টারনেট ও ডাক সেবা; পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং এসব কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা ও চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহন।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। একইভাবে উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং কল-কারখানার ছুটির বিষয়ে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও নির্দেশনা জারি করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি লাঘব এবং প্রশাসনের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলা প্রশাসনে চালু হতে যাচ্ছে ‘হ্যালো ডিসি’ নামের নতুন একটি সেবা। এটির মাধ্যমে ঢাকা জেলার যেকোনো নাগরিক সরাসরি জেলা প্রশাসনে ফোন কলে তাদের অভাব-অভিযোগ, তথ্য ও মতামত জানাতে পারবেন।
রোববার দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির (সিআরইউ) সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।
ফরিদা খানম বলেন, আমরা ‘হ্যালো ডিসি’ নামে একটি সেবা চালু করতে যাচ্ছি, যেখানে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ তাদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন। আমরা জেলা প্রশাসন থেকে গণশুনানি করে থাকি। এর বাইরেও সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই ‘হ্যালো ডিসি’ সেবা চালু থাকবে। এতে করে নাগরিকরা সহজেই তাদের কোনো অভিযোগ থাকলে জানাতে পারবে। এছাড়া জেলা প্রশাসন নিয়ে কোনো পরামর্শ থাকলেও তা জানাতে পারবে। শিঘ্রই এবিষয়ে আমরা বিস্তারিত তুলে ধরবো।’
ফরিদা খানম আরো বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন কোনো সংকটে না পড়ে যেজন্য মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আমরা জনসচেতনা বৃদ্ধি করতে চাই। বিভিন্ন সেলিব্রিটিদের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করে প্রচার করতে ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নিব।
জেলা প্রশাসক বলেন, সাংবাদিকেরা হলেন সমাজের আয়না। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমেই সমাজের প্রকৃত চিত্র ও সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া আমাদের সামনে উঠে আসে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের কোনো দপ্তরে যদি কোনো সেবাগ্রহীতা হয়রানির শিকার হন বা অফিসে কোনো ধরনের অনিয়ম আপনাদের চোখে পড়ে, তবে তা নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে বস্তুনিষ্ঠতার সাথে তুলে ধরবেন।
মতবিনিময় সভায় ঢাকা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার এবং তেজগাঁও সার্কেলের সার্কেল অফিসার ও সিনিয়র সহকারী সচিব তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ঢাকা জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও (ইউএনও) এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে সাভারের ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম, ধামরাইয়ের ইউএনও মো. আল মামুন, কেরানীগঞ্জের ইউএনও মো. উমর ফারুক এবং নবাবগঞ্জের ইউএনও দিলরুবা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রধান কার্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেলের ওপর সম্ভাব্য নতুন কর আরোপের পরিকল্পনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন দুই শতাধিক মোটরসাইকেল আরোহী। রোববার দুপুর ১২টার দিকে আরোহীরা এনবিআর ভবনের সামনের সড়কে মোটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে রেখে এই কর্মসূচি পালন করেছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আরোহীরা জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর নতুন করে অগ্রিম কর (এআইটি) বা বাড়তি শুল্ক আরোপের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তারা আজ রাস্তায় নেমেছেন।
আরোহীদের দাবি, মোটরসাইকেল এখন আর কোনো বিলাসবহুল পণ্য নয়; বরং মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং জীবিকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
বিক্ষুব্ধ চালকদের পক্ষে এ কে এম ইমন বলেন, একটি মোটরসাইকেল কেনার সময়ই আমাদের মোটা অঙ্কের শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হয়। এরপর নতুন করে আবার কর আরোপ করা হলে তা সাধারণ মানুষের ওপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা চাই এই অমানবিক সিদ্ধান্তের পরিকল্পনা থেকে এনবিআর সরে আসুক।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, প্রায় ২০০ মোটরসাইকেল সড়কের এক পাশে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। আরোহীরা হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কর্মসূচির কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কে যানবাহনের গতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়লেও পুলিশের উপস্থিতির কারণে বড় ধরনের কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি।
পরে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়। আরোহীদের দাবি, মোটরসাইকেল খাতকে সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে নতুন কর আরোপের পরিবর্তে বর্তমান কর কাঠামো আরও সহজ করা প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ আরও বেড়ে যাবে।
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদে আবার নিয়োগ পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগম। গত বৃহস্পতিবার তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এবার তাকে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একই পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন ওই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল কবি ও প্রবন্ধকার এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহকে (সাখাওয়াত টিপু)।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন আফসানা বেগম। সে সময়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তার মেয়াদ ছিল দুই বছর। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তার নিয়োগ বাতিল করা হয়। আবার এই পদে নিয়োগ পেলেন আফসানা বেগম।
নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এই নিয়োগ দেওয়া হলো। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দিয়ে নির্ধারিত হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ‘পরিবেশ নিয়ে যারা সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন, তাদের মধ্যেই একজন ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা। কিন্তু বাস্তবে তারা পরিবেশের কোনো উন্নয়ন তো করতেই পারেননি, উল্টো ‘‘১২টা বাজিয়ে গেছেন’’। তারা এই ১৮ মাসে আমার ঢাকা শহরকে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।’ রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেছেন।
‘সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা: বন, পরিবেশ, নদী ও নগরায়ণ’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবের কারণে আজ রাজধানীতে ট্রাফিক জট, হকার সংকট, বায়ুদূষণ ও নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুধু মুখে বড় বড় কথা বললেই হবে না, মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।’
বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘এসব সংকট শুধু সিটি করপোরেশনের একার কারণে সৃষ্টি হয়নি। নাগরিকদের অসচেতন আচরণও এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। আমরা যদি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতাম, তবে অনেক সমস্যাই নিজে থেকে কমে যেত।’
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে ১৫ দিনব্যাপী বিশেষ জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোথায় কোথায় মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে বা নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে।’
বর্ষায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রশাসক বলেন, ‘বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে একই রাস্তা বারবার কাটতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে ধানমন্ডিতে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে- যেখানে টেলিফোন, ইন্টারনেট ও কেবল লাইনসহ সব সেবা মাটির নিচে নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি পুরো ঢাকা শহরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’
ঢাকার খাল ও জলপথ ভরাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকার প্রাকৃতিক জলপথগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আউটলেটের মাধ্যমে পানি শীতলক্ষ্ম্যা ও বুড়িগঙ্গায় যাওয়ার স্বাভাবিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন ছিল; কিন্তু তা করা হয়নি। ফলে নিউমার্কেটের মতো নিচু এলাকায় দ্রুত পানি জমে যাচ্ছে।’
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে কাজ চলছে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, ‘ভবিষ্যতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাসা থেকেই পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
আসন্ন ঈদের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘একদিনে রাজধানীতে লক্ষাধিক পশু কোরবানি হয়, যা বিশাল ব্যবস্থাপনার বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির সব বর্জ্য অপসারণে কাজ করবে সিটি করপোরেশন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য রাখতে হলে ৫০ শতাংশ দায়িত্ব জনগণের এবং ৫০ শতাংশ দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের।’ ডাস্টবিন ও সড়কবাতি চুরির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি এলাকাভিত্তিক সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।
এ সময় বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপুর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে’ বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
নবনিযুক্ত ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক একটি ট্যাক্সি কোম্পানি চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬ হাজার চালক নিয়োগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আজ রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী-এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে কোম্পানিটির প্রতিনিধিদল এই প্রস্তাবনা তুলে ধরে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা সভায় জানান যে বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশের ১৫ হাজার কর্মী তাঁদের অধীনে কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে ৮ হাজার জনই বাংলাদেশি। বাংলাদেশি কর্মীদের অসামান্য পরিশ্রম এবং দক্ষতার কারণে তাঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এমনকি দুবাই বিমানবন্দরেও বাংলাদেশি নারীরা অত্যন্ত সফলভাবে ড্রাইভিং পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
প্রতিনিধি দল আরও জানায়, সোমবার থেকে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য চালক বাছাই কার্যক্রম শুরু হবে। এ দফায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ চালকসহ চলতি বছর মোট ৬ হাজার চালক নিয়োগ দিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।’ পুরো প্রক্রিয়ায় ‘মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে’ বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দুবাইয়ে পৌঁছানোর পর প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়েও যেন কর্মীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া চালকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার ও নার্সসহ বিভিন্ন পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের জন্য তিনি কোম্পানিটির প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
একই সভায় উপস্থিত থেকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উল্লেখ করেন যে, একজন বাংলাদেশি চালকের দুবাই যেতে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। যেহেতু এসব কর্মীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবার থেকে আসেন, তাই তাঁদের পক্ষে ঋণ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই মানবিক দিকটি বিবেচনায় নিয়ে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে এক লাখ টাকার মধ্যে রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রোববার (১৭ মে) দুপুর ২টায় বিমানবন্দরের এক অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এই নতুন সেবার শুভ সূচনা করেন। এর ফলে এখন থেকে বিমানবন্দরে আসা হাজার হাজার যাত্রী কোনো খরচ ছাড়াই উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট’ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে এই শক্তিশালী ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কটি বিস্তৃত করা হয়েছে। এর আওতায় বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১, টার্মিনাল-২, অভ্যন্তরীণ টার্মিনালসহ ভিআইপি ও ভিভিআইপি টার্মিনালও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এমনকি যাত্রীদের সুবিধার্থে কার পার্কিং এলাকাতেও এই নেটওয়ার্কের কাভারেজ নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে পুরো এলাকায় ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট এবং ৪৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ও ইথারনেট কেবল স্থাপন করা হয়েছে। এই শক্তিশালী অবকাঠামো নির্মাণে মোট ৩৭টি অত্যাধুনিক অ্যাক্সেস সুইচ ব্যবহার করা হয়েছে যা ইন্টারনেটের স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে এই নেটওয়ার্কটি অত্যন্ত উচ্চমানের। প্রতিটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট একই সময়ে সর্বোচ্চ ১৫০ জন ব্যবহারকারীকে সেবা দিতে সক্ষম। সেই হিসেবে বিমানবন্দরে অবস্থানরত প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ জন যাত্রী একযোগে এই ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে পারবেন। পুরো সিস্টেমটি সর্বোচ্চ ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের দ্রুত গতির ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান এবং একে বিমানবন্দরের আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে অভিহিত করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আফরোজা খানম তাঁর বক্তব্যে বিমানবন্দরের আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শীঘ্রই বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল বা তৃতীয় টার্মিনালটিও উদ্বোধন করা সম্ভব হবে, যা বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে। ফ্রি ওয়াই-ফাই উদ্বোধনকালে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মনে করেন, এই ধরণের সুবিধা বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
উল্লেখ্য যে, এই সেবাটি চালুর আগে গত ২৬ এপ্রিল থেকে একটি সফল পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। ট্রায়াল চলাকালীন প্রায় ২০ হাজার যাত্রী এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছেন এবং এই সময়ে মোট ২ দশমিক ৩ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহৃত হয়েছে। সফল পরীক্ষামূলক সেশনের পরেই আজ থেকে এটি সাধারণ যাত্রীদের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো। এখন থেকে যাত্রীরা বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ সময়ে সহজেই তাঁদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন, যা দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি লাঘবে সহায়ক হবে। এই উদ্যোগটি মূলত একটি ‘স্মার্ট বিমানবন্দর’ গড়ার লক্ষ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে।
সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড অ্যান্ড গ্রুপ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র পেশ ইমাম আবু রায়হান।
মরহুমের শেষ বিদায়ের এই আনুষ্ঠানিকতায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর স্পিকার ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনরাও মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী। তিনি মুন্সিগঞ্জ-২ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং চারদলীয় জোট সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
দীর্ঘ আড়াই দশকের হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ হিসেবে চিহ্নিত করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ২৪ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদনটি জমা দেন। রিটে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে সরিয়ে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করার অশুভ প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই ব্যক্তিরা যুক্ত ছিলেন।
রিট আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ মোট ২৪ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম জানান যে, গত ৬ এপ্রিল তিনি এই মর্মে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সদুত্তর না মেলায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তাঁর মতে, টিকা কর্মসূচি বন্ধ হওয়ার পর দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যার ফলে শতাধিক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে এবং অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রিট আবেদনে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন যেন অভিযুক্তরা দেশের বাইরে যেতে না পারেন, সে জন্য তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানানো হয়েছে। রিটে বিবাদী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলামের দাবি, রাষ্ট্রীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের এই হীন প্রচেষ্টা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে জনসম্মুখে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
চামড়া শিল্পকে একটি টেকসই ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক খাতে পরিণত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুর বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা বর্জ্যহীন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। আজ রোববার অনুষ্ঠিত চামড়া শিল্প টাস্কফোর্সের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই নতুন লক্ষ্যমাত্রার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) আধুনিক করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা হবে, যাতে বাংলাদেশের চামড়া বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।
সভায় মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান যে, পশু জবাইয়ের পর থেকে শুরু করে চামড়া বিক্রির চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপকে একটি সমন্বিত ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পশু জবাই থেকে চামড়া বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে এবং ঈদের পর থেকেই অ্যাকশনভিত্তিক কার্যক্রম শুরু হবে।’ বিশেষ করে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দিয়ে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আলোচনায় ‘জিরো ওয়েস্ট’ ধারণার প্রায়োগিক দিক তুলে ধরে বলা হয়, পশুর হাড় বা চামড়ার পাশাপাশি পরিত্যক্ত চর্বি বা অ্যানিমেল ফ্যাটও সাবান উৎপাদন এবং বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল তৈরির মূল্যবান উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই অব্যবহৃত বর্জ্যগুলোই নতুন আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়াবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক তদারকি ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চামড়া খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের সুবিধার্থে আজ রোববার (১৭ মে) থেকে ২৭ মে তারিখের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদযাত্রার এই টিকিটগুলো বরাবরের মতো শতভাগ অনলাইন বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহ করতে হবে। সময়সূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হবে এবং দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের আসনের টিকিট পাওয়ার সুযোগ মিলবে। রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঈদ ২৮ মে ধরে এই অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।
রেলওয়ের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গত ১৩ মে থেকে পর্যায়ক্রমে ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চার দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। আজ এই সিরিজের শেষ দিনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ‘একজন যাত্রী এই বিশেষ অগ্রিম টিকিট একবারের বেশি কিনতে পারবেন না এবং একবারে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কেনা যাবে।’ এছাড়া বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বিক্রি করা এই অগ্রিম টিকিটের ক্ষেত্রে নিয়ম করা হয়েছে যে, ‘একবার কেনা টিকিট ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই।’
যাত্রীদের চাপের বিষয়টি বিবেচনা করে ভ্রমণের দিন ট্রেন ছাড়ার আগে স্টেশন কাউন্টার থেকে মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট ইস্যু করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র উচ্চ শ্রেণি বাদে অন্য সব শ্রেণির আসনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে, ঈদের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের টিকিট বিক্রির বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।