পুলিশ খুনের মামলায় ফেরারি হয়ে দুবাই পালিয়ে থাকা রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খানের অর্থের উৎস খুঁজতে মাঠে নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের মানি লন্ডারিং শাখা ইতিমধ্যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা শুরু করেছে। কীভাবে আরাভ এত টাকার মালিক হলেন এবং তার নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা জানার চেষ্টা করবে সিআইডি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিভিন্ন মিডিয়ায় আরাভ নামের এক যুবকের হাজার কোটি টাকার সম্পদের বিষয়ে অনেক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এসব আমাদের নজরে এসেছে। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি।’
সম্প্রতি দুবাইয়ে আরাভ খান নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির স্বর্ণের দোকান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন ও চলচ্চিত্র তারকাদের আমন্ত্রণ নিয়ে কয়েক দিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একজন ভাঙারি ব্যবসায়ীর ছেলে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে হাজার কোটি টাকার মালিক কীভাবে হলেন, এ নিয়েও তোলপাড় চলছে।
আরাভ খান হলেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামি। তার প্রকৃত নাম রবিউল ইসলাম ওরফে আপন ওরফে হৃদয় ওরফে সোহাগ। মামলার পরপরই তিনি ভারতে পালিয়ে গিয়ে জালিয়াতি করে আরাভ খান নামে পাসপোর্ট তৈরি করেন। ভারতেও তিনি ২ হাজার টাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। হঠাৎ করেই গত কয়েক বছরে তিনি দুবাই গিয়ে অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট কেনাসহ বিশাল বড় স্বর্ণের দোকান দেয়ার ঘোষণা দেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাভাবিক উপায়ে কয়েক বছরে কারও পক্ষেই এত টাকার মালিক হওয়ার কথা নয়। তার এই অর্থের নেপথ্যে বাংলাদেশের দুর্নীতিগ্রস্ত কারও না কারও হাত রয়েছে। দুর্নীতির টাকা অবৈধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে আরাভ খানের মাধ্যমে দুবাইয়ে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের একটি সূত্র বলেছে, আরাভের অর্থের গতিপ্রবাহ খুঁজে বের করার জন্য তারা কয়েকটি সম্ভাব্য সূত্র ধরে কাজ করছেন। আরাভের এই দেশে অর্থসম্পদ ও মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে কি না, প্রথমে তার খোঁজ নেয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তার অন্যান্য দেশের পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিস্তারিত সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হবে। এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অব মানি লন্ডারিং সংস্থারও সহায়তা নেয়া হবে। বাংলাদেশ এই গ্রুপের সদস্য। মানি লন্ডারিং ঘটনায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রুপের সঙ্গে কাজ করে আসছে।
সিআইডির একজন কর্মকর্তা বলেন, এটা এমন নয় যে এক দিনেই সবকিছু বের করা যাবে। তবে চাইলে আরাভের অর্থের উৎস বের করা সম্ভব। সেসব অর্থ বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে গেছে কি না, তাও বের করা সম্ভব। তবে এ জন্য সময় লাগবে।
এদিকে প্রবাসী এক সাংবাদিকের সঙ্গে রবিউল ওরফে আরাভ খানের একটি অডিও আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই অডিওতে আরাভ খানকে বলতে শোনা গেছে, ‘আমার পেছনে কে আছে, তা শুনলে তুই তাদের পা ধরে মাফ চাইবি।’
সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, আরাভ খানের পেছনে বাংলাদেশের এমন কেউ থাকতে পারেন, যার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের যোগাযোগ রয়েছে। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ পাচার করে তিনি আরাভের মাধ্যমে দুবাইয়ে বিনিয়োগ করেছেন। এ জন্যই তিনি অস্ত্র ও খুনের এক ডজন মামলার ফেরারি আসামি হয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ‘কিছুই হবে না’ বলে বক্তব্য দিচ্ছেন।
সহসা ফেরানো যাবে না আরাভকে
আরাভ খান ওরফে রবিউল ইসলামকে ফেরাতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে তারা আশাবাদী, যেহেতু আরাভ খান ওই দেশে ব্যবসা চালু করেছেন, তাকে ফেরানো যাবে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাই পুলিশের এনসিবি শাখার মাধ্যমে আরাভ খানই বাংলাদেশের রবিউল ইসলাম ওরফে আপন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হবে। তবে এ ক্ষেত্রে আরাভের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুনের মামলায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিগুলো কাজে লাগবে।
পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, তারা আরাভের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করছেন। এসব তথ্য গুছিয়ে ইংরেজিতে অনুবাদ করে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠানো হবে।
আমি আরাভ নামে কাউকে চিনি না: বেনজীর আহমেদ
এদিকে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, তিনি আরাভ ওরফে রবিউল ওরফে হৃদয় নামে কাউকে চেনেন না। এমনকি তার সঙ্গে প্রাথমিক পরিচয়ও নেই। গত শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বেনজীর আহমেদ এ কথা জানান।
বেনজীর আহমেদ দেশবাসীর উদ্দেশে লিখেছেন, ‘আমি আপনাদের সবাইকে আশ্বস্ত ও সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে চাই যে, ‘আরাভ ওরফে রবিউল ওরফে হৃদয়’ নামে আমি কাউকে চিনি না। আমার সঙ্গে তার, এমনকি প্রাথমিক পরিচয়ও নেই। আমি আমার ল’ এনফোর্সমেন্ট ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় খুনি, সন্ত্রাসী, ড্রাগ ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি, ভেজালকারী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, কখনোই সখ্য নয়। আপনাদের অফুরান ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা।’
ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ দুপুরে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। পরে তিনি উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন।
এর আগে গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা অনুমিত ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন এবং সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সোয়া একটার দিকে তিনি ফেনীতে এসে পৌঁছান। ফেনীতে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন । এরপর তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি ছাদ ভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করবেন।
ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করবেন।
ফুলগাজীতে মোট ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো জেলাজুড়ে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন। এছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী প্রদান করা হবে। রাজধানী ঢাকায় ফেরার আগে ওই স্থানে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। ফুলগাজীসহ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের স্মৃতি জড়িত। ১৯৯১ সাল থেকে এ আসনে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
সকালের ব্যস্ততা, কর্মস্থলের ক্লান্ত দুপুর কিংবা সন্ধ্যার আড্ডা—এক কাপ কফি যেন মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে চারপাশের আবহ। কারও কাছে এটি দিনের শুরু করার অনুষঙ্গ, আবার কারও কাছে সৃজনশীলতা ও ভাবনার সঙ্গী। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই পানীয়কে ঘিরেই আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কফি দিবস।
প্রতি বছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কফি দিবস পালিত হয়। আন্তর্জাতিক কফি সংস্থা (আইসিও) ২০১৪ সালে দিনটিকে আন্তর্জাতিক কফি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ২০১৫ সালে ইতালিতে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হয় এ দিবস।
তবে দিনটি শুধু কফি পান করার উপলক্ষ নয়। কফি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কৃষক, উৎপাদক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হয়। কফি উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত মানুষের প্রতি সম্মান জানানোও এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।
কাজের ব্যস্ততার মাঝে এক কাপ কফি অনেকের কাছেই যেন ছোট্ট এক বিরতি। হাতে কফির কাপ নিয়ে বই পড়া, কবিতা লেখা কিংবা পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ—সবকিছুর সঙ্গেই সহজেই মিশে যায় এই পানীয়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীর ও মনকে সাময়িকভাবে চাঙা করে তোলে, কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণে। আপনি ভাবেন, কফি আপনার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
পানীয় হিসেবে বিশ্বে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে কফি। উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বেশ কিছু উপকারী উপাদানের জন্য কফি অনেক রোগের ঝুঁকি কমাতেও সক্ষম। এ ছাড়াও কফি পানে রয়েছে আরও কিছু উপকারিতা।
কফি যেকোনো জায়গায় মানানসই পানীয়। কর্মস্থলে রুক্ষ দিন থেকে শুরু করে সন্ধ্যার ক্লান্তি অবধি রয়েছে কফির চাহিদা। তাই দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিত যুক্ত করা যেতেই পারে এক কাপ কফি।
তবে গবেষকরা বলছেন, দুধ এবং চিনি মেশানো অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত কফির তুলনায় ব্ল্যাক কফি অধিক স্বাস্থ্যসম্মত। হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ক্যাফেইন গ্রহণ অনেক স্বাস্থ্য সুবিধা দিতে পারে। অন্যদিকে অতিমাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া রয়েছে, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষত যাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে তাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
রাজধানীর মিরপুরে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার জেরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দলীয় ও প্রশাসনিকভাবে তাঁকে অবিলম্বে জাতীয় সংসদের সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সম্প্রতি একটি জনকল্যাণমূলক মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই মিষ্টির পদত্যাগের সম্ভাবনার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে সামনে আসে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে, যখন রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) আকস্মিক হামলা চালানো হয়। একদল হামলাকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে অনাকাঙ্ক্ষিত তাণ্ডব চালিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। স্পর্শকাতর এই চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে সর্বমহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
মিরপুরের সাম্প্রতিক এই ঘটনার পাশাপাশি সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক ছিল। অতীতে স্থানীয় সরকারে ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং সাধারণ মানুষের জমি দখলসহ নানাবিধ অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছিল। এসব গুরুতর অভিযোগের কারণে তাঁর রাজনৈতিক নৈতিকতা ও ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দলীয় কাঠামোর ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
দলীয় ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার স্বার্থেই শীর্ষ পর্যায় থেকে এই কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অতীতের নানাবিধ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক সময়ে জনগুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার মতো অপরাধে নাম জড়িয়ে পড়ার দায় এড়াতে না পারার কারণেই শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্যের পদ থেকে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রদান করা হলো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নিরসনে প্রতিনিয়ত পরিচালিত হচ্ছে এবং তা ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
মন্ত্রী আজ সকালে রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় আনসার ও ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের "শুভারম্ভ ফলক" উন্মোচন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির একটি সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩.৪২৮ একর (প্রায় ১১ বিঘা) জমি আনসার বাহিনীর সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বর্তমানে খিলগাঁও থেকে পরিচালিত আনসার সদর দপ্তরের অপরিসর জায়গায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এখানে একটি আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লক্ষ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে এখানে ডরমেটরি এবং ব্যারাকে স্থান সংকুলানের জন্য ঢাকার আশুলিয়া এবং শেরেবাংলা নগরে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারো দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কেবল প্রত্যাহার নয়, বরং যথাযথ বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা এবং ক্রিমিনাল অফেন্স মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান, "ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।"
ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে অটোমেশন ও এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তির ব্যবহার চালু হয়েছে, যার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে এবং রাস্তায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। এছাড়া রাস্তা খনন ও নির্মাণ কাজের ফলে যেন যানজট না হয়, সেজন্য পুরো রাস্তা একসাথে না কেটে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করে অবিলম্বে পুনর্নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ পিএসসি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ ফেনী জেলার পরশুরামে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দিনব্যাপী সফরে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী আজ সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে তাঁর গুলশানের বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফেনীতে এটিই তারেক রহমানের প্রথম সফর।
তিনি বেলা ১২ টা ৩০ মিনিটে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এরপর স্থানীয় জনগণের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত ১৬ জুন ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে যাবেন এবং দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এরপর তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি ওই স্থাপনায় স্থাপিত ছাদ-ভিত্তিক (রফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করবেন।
ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।
বিকেল ৩ টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি ফার্নেস অয়েলের দাম একলাফে প্রায় ১২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। লিটারে ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ফার্নেস অয়েলের লিটারপ্রতি নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা থেকেই কার্যকর হবে।
দাম বাড়ানোর বিষয়ে বিইআরসির সচিব নজরুল ইসলাম সরকারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গত ২২ ফেব্রুয়ারির আদেশ অনুযায়ী ২৯ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্ল্যাটস রেটের গড় এবং চলতি সেপ্টেম্বর মাসে আমদানিকৃত ক্রুড অয়েলের সিআইএফ মূল্যের ভিত্তিতে এবং ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় বিইআরসি আইন, ২০০৩ এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪ এ প্রদত্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করা হলো।
দেশের কোথাও এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এক অনলাইন বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে এলপি গ্যাসের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে কিছু জায়গায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দাম নেওয়া হতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেন এলপিজি ঘাটতির কথা শোনা যাচ্ছে এবং কেন অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠাতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসকরা তথ্য পাঠানোর পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যেসব এলাকায় সরবরাহ কম পাওয়া যাবে, সেখানে সরবরাহ বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হলে কিংবা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনকে অধিকতর সজাগ ও সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রায় ২৩ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে তিস্তা অববাহিকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, পানিপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিকাশের পরিকল্পনা পরবর্তী ধাপে এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার রয়েছে, প্রস্তাবিত সমীক্ষাকে তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সমীক্ষার প্রস্তাব পাঠানো এবং মূল প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়া এক বিষয় নয়। প্রকল্পের কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত যৌক্তিকতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপরই পরবর্তী কার্যক্রমের অগ্রগতি নির্ভর করবে।
নদীশাসন থেকে যোগাযোগ অবকাঠামো: প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনায় তিস্তা নদী ও এর তীরবর্তী এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে একাধিক অবকাঠামোগত উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং এবং ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাঁধের ওপর পাকা সড়ক নির্মাণেরও প্রস্তাব রয়েছে। এতে বন্যাপ্রবণ ও নদীবেষ্টিত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি বর্ষাকালে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া জনপদগুলোর সঙ্গে সারা বছরের যোগাযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া নদীশাসনের মাধ্যমে নদীসংলগ্ন প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এসব জমি কৃষি ও শিল্পের কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে জমি পুনরুদ্ধারের বাস্তব সম্ভাবনা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জমির ব্যবহার কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা বিস্তারিত সমীক্ষায় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাউবো) মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন রাষ্ট্রীয় বলেছেন, সরকারের এই সমন্বিত পরিকল্পনা নদী রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সেচব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও এর ওপর নির্মিত সড়ক উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। বর্ষায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে এই অবকাঠামো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক যোগাযোগের পথ হিসেবেও কাজ করতে পারে।
সমীক্ষায় গুরুত্ব পাবে নদীর গতিপ্রকৃতি: তিস্তা মহাপরিকল্পনার সফলতা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের ওপর নির্ভর করবে না; নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি, পলি জমার ধরন, উজান থেকে আসা পানির পরিমাণ এবং ভাটির প্রবাহের সঙ্গে প্রকল্পের সামঞ্জস্যও গুরুত্বপূর্ণ।
নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজের মতে, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনতে পারে। এই বিবেচনায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় শুধু প্রস্তাবিত অবকাঠামোর ব্যয় ও নির্মাণপদ্ধতি নয়, বরং নদীর ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, পানি সংরক্ষণের সম্ভাবনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
পাঁচ জেলার মানুষের প্রত্যাশা: তিস্তার পানিপ্রবাহ ও নদীভাঙনের প্রভাব রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার বিস্তীর্ণ জনপদে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে পানির স্বল্পতা এবং বর্ষায় বন্যা ও নদীভাঙন কৃষি, যোগাযোগ, বসতবাড়ি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করে।
মহাপরিকল্পনার আওতায় নদী তীর সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে ভাঙনপ্রবণ এলাকার ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সেচের উন্নয়ন ও পানির কার্যকর ব্যবস্থাপনা কৃষি উৎপাদনে সহায়ক হতে পারে। যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নত হলে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণেও সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তবে এসব সুফল নির্ভর করবে প্রকল্পের নকশা, বাস্তবায়নের মান, পানির প্রাপ্যতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সুরক্ষার ওপর। বিশেষ করে পুনরুদ্ধার করা জমির ব্যবহার, নদীনির্ভর মানুষের জীবিকা এবং প্রকল্পের কারণে সম্ভাব্য পরিবেশগত পরিবর্তনের বিষয়গুলো পরিকল্পনার শুরু থেকেই বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
অনুমোদনের অপেক্ষায় পরবর্তী ধাপ: পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের রূপরেখা ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন। এর পর প্রকল্পটির প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অগ্রগতির বিষয়টি সামনে এসেছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রস্তাবিত সমীক্ষা সম্পন্ন করে বাস্তবসম্মত, অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক ও পরিবেশসম্মত একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা। দীর্ঘদিনের নদীভাঙন ও পানিসংকট মোকাবিলার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের কৃষি, যোগাযোগ ও শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার বাস্তব রূপ নির্ধারিত হবে এই প্রস্তুতিপর্বের সিদ্ধান্ত, অর্থায়ন এবং পরবর্তী বাস্তবায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে।
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এ সুপারিশপ্রাপ্ত ৬১১ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বরের সুপারিশের ভিত্তিতে ৬১১ জনকে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত বেতনক্রমে তাদের এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগদানে সম্মত নন বলে গণ্য হবেন এবং তার নিয়োগপত্র বাতিল হবে।
প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের দুই বছর শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকার এ সময় অনূর্ধ্ব আরও দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবীশকালে কোনো প্রার্থীকে চাকরিতে বহাল রাখার অনুপযোগী মনে হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং পিএসসির সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে।
বুনিয়াদি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শিক্ষানবীশকাল সন্তোষজনকভাবে শেষ হলে সংশ্লিষ্টদের চাকরি স্থায়ী করা হবে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এরপর চাকরিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরকার নির্ধারিত পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।
প্রশিক্ষণে যাওয়ার আগে নিয়োগপ্রাপ্তদের কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কাছে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। একই সঙ্গে একজন জামিনদারসহ ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড দিতে হবে।
শিক্ষানবীশকালে অথবা শিক্ষানবীশকাল শেষ হওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে প্রশিক্ষণকালীন বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণের জন্য নেওয়া অগ্রিম, ভ্রমণভাতা ও অন্যান্য অর্থের পাশাপাশি প্রশিক্ষণের পেছনে সরকারের ব্যয় করা অর্থ ফেরত দিতে হবে।
চাকরিতে যোগদানের সময় আরও একটি ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড দিতে হবে। এতে নিয়োগপ্রাপ্ত নিজে বা পরিবারের কোনো সদস্য যৌতুক গ্রহণ কিংবা প্রদান করবেন না—এ মর্মে অঙ্গীকার করতে হবে।
এ ছাড়া কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করে থাকলে বা বিয়ের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলে তার নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। নিয়োগের পর কোনো কর্মকর্তার বিষয়ে বিরূপ বা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা নিয়োগ বাতিলের অধিকারও কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ১৩(১) উপবিধি অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের সময় নিয়োগপ্রাপ্তদের নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বা দখলে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণসংবলিত ঘোষণাপত্র সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া একই বিধিমালার ১৩(২) উপবিধি অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর ডিসেম্বর মাসে সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধির হিসাবসংবলিত বিবরণী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা বিভাগে ৬১ জন, ইংরেজিতে ৪৪, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৪৯, দর্শনে ২৭, অর্থনীতিতে ৩৬, প্রাণিবিদ্যায় ১২, ইতিহাসে ২৭, সমাজকল্যাণে ২২, রসায়নে ২৯, ইসলাম শিক্ষায় ১১, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ৩০, পদার্থবিদ্যায় ২২ এবং উদ্ভিদবিদ্যায় ২২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সমাজবিজ্ঞানে ১৫, গণিতে ৩০, ভূগোলে ১৫, হিসাববিজ্ঞানে ২৬, মার্কেটিংয়ে ১০, ব্যবস্থাপনায় ৩১, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে ১৭, মনোবিজ্ঞানে ৯, কৃষিবিজ্ঞানে ৪, পরিসংখ্যানে ১২, সংস্কৃতে ৩, গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে ৬, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ২৪ এবং খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগে দুজনকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে একটি সমন্বিত ‘অল-ইন-ওয়ান’ প্যাকেজ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। নতুন এই ব্যবস্থায় হজযাত্রার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা একটি একক ইলেকট্রনিক চুক্তির আওতায় আনা হবে।
সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য এই সমন্বিত প্যাকেজ চালু করা হবে। ইলেকট্রনিক পাথ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্যাকেজটি দেওয়া হবে। এতে একজন হজযাত্রীর সৌদি আরবে পৌঁছানো থেকে শুরু করে হজ শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত প্যাকেজে চারটি প্রধান সেবা রাখা হয়েছে। এগুলো হলো- পবিত্র স্থানগুলোতে সেবা, মক্কা ও মদিনায় আবাসন, যাতায়াত এবং খাবারের ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি হজযাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত কিছু ঐচ্ছিক সেবাও যুক্ত করার সুযোগ থাকবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি হজবিষয়ক দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো বিভিন্ন শ্রেণির হজযাত্রীর প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে। একই সঙ্গে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট, স্বচ্ছ ও নমনীয় চুক্তিভিত্তিক কাঠামো থাকবে।
এক প্ল্যাটফর্মে হজের বিভিন্ন সেবা
নতুন ব্যবস্থায় হজযাত্রার বিভিন্ন ধাপকে আরও সমন্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এতদিন হজযাত্রার আবাসন, পরিবহন, খাবার ও পবিত্র স্থানসংক্রান্ত সেবার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে আলাদা ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হতো। নতুন ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় এসব সেবা একটি সমন্বিত চুক্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য সেবা ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংগঠিত করা এবং হজ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।
১৪৪৮ হিজরি হজের আগাম প্রস্তুতি
২০২৭ সালের হজ মৌসুমের জন্য সৌদি আরবের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই প্যাকেজ চালু করা হচ্ছে। ইসলামী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২০২৭ সালের হজ মৌসুম হবে ১৪৪৮ হিজরি।
সৌদি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’ এবং ‘পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর লক্ষ্যগুলোর সঙ্গেও এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১৪৪৮ হিজরি হজ মৌসুমের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে ৭৫টির বেশি দেশের হজবিষয়ক দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। এসব বৈঠকে হজ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম, বিভিন্ন বিধিবিধান এবং প্রয়োজনীয় শর্ত নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
আরও ডিজিটাল হচ্ছে হজ ব্যবস্থাপনা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব হজ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারও ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন, সেবা পরিচালনা এবং ভিসা-সংক্রান্ত কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।
নতুন ‘অল-ইন-ওয়ান’ প্যাকেজও সেই ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ। এর ফলে বিদেশি হজযাত্রীদের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, হজবিষয়ক দপ্তর এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ- সব পক্ষের কার্যক্রম একই ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় করার সুযোগ তৈরি হবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের আশা, একক ইলেকট্রনিক চুক্তির মাধ্যমে হজের বিভিন্ন সেবা আরও স্বচ্ছ ও নমনীয়ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের প্রয়োজন ও গ্রুপভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী সেবা পরিকল্পনা তৈরির সুযোগও বাড়বে। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে বিদেশি হজযাত্রীদের পুরো যাত্রাপথকে একটি সমন্বিত সেবা কাঠামোর আওতায় আনার দিকে আরও এক ধাপ এগোচ্ছে সৌদি আরব।
নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ফুটপাত দখলমুক্ত করার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে তাঁর লাশের ওপর দিয়ে হলেও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কর্মসূচি চলবে। অরাজকতা ও উচ্ছেদ অভিযানে বাধা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের হোপ মার্কেট এলাকার ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রশাসক বলেন, নগরবাসী যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন, সে জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত করার যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তা কোনো বাধার মুখে বন্ধ হবে না। জনগণের চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে অরাজকতা সৃষ্টিকারী, দুষ্কৃতকারী ও অবৈধ দখলদারদের ইন্ধনে সিটি করপোরেশনের পরিবহন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে রাখা ব্যক্তিদের ও তাদের সহযোগীদের ইন্ধনে মিরপুর-১০-এর অভিযানে এই হামলা হয়।
তিনি বলেন, পরে মিরপুরের সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসক আরও জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ডিএনসিসি ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বুধবার সকালে মিরপুর-১০ নম্বর হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর এবং আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ডিএনসিসি প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, নগরবাসীর স্বার্থে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রমে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি অবৈধ দখল ও অরাজকতার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর থাকবে বলেও জানান।
বিকল্প ব্যবস্থা না করে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সড়ক যানবাহন চলাচলের জন্য এবং ফুটপাত পথচারীদের হাঁটার জন্য উন্মুক্ত রাখা জরুরি। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের পাশাপাশি তাদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে ব্যবসার সুযোগ দিতে হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও হকারদের সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মিরপুর-১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় ওই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শফিকুর রহমান বলেন, সামাজিক শৃঙ্খলার অভাবে ফুটপাত ও সড়কে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান বলেন, গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিকার তাগিদে অনেক মানুষ রাজধানীতে এসে ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাদের অনেককে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা দিতে হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি এ সমস্যার টেকসই ও সমন্বিত সমাধানের কথা বলেছিলেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দিলে সেখানে তারা ব্যবসা করতে পারবেন এবং সিটি করপোরেশন যৌক্তিক হারে কর পেতে পারে। তবে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া উচিত নয়।
শফিকুর রহমানের ভাষ্য, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাতের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন।
উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, দখলদারি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত—দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিকসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তৃতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’ (The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives)। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দিবসের প্রতিপাদ্যও একই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু মানুষের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী করে তোলার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সচেতন ও সতর্ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি প্রবীণ বয়সে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণার আলোকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। প্রবীণদের অবহেলা না করে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
প্রবীণ ব্যক্তিদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।
পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থরক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে রাষ্ট্র ও সমাজে আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি বজায় থাকবে, প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদাও তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা তাঁর সরকারের লক্ষ্য, যেখানে বয়সে তরুণ কিংবা প্রবীণ—প্রতিটি মানুষ নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে।
তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।