রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীরকে দুই বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তাকে। এ মামলায় আরও চারজনকে একই দণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন জয়যাত্রা টিভির জেনারেল ম্যানেজার হাজেরা, প্রধান বার্তা সম্পাদক কামরুজ্জামান আরিফ, কো-অর্ডিনেটর সানাউল্ল্যাহ নূরী ও স্টাফ রিপোর্টার মাহফুজ শাহরিয়ার।
এদিন রায় ঘোষণার সময় হেলেনা জাহাঙ্গীর ও হাজেরা খাতুন আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অন্য তিনজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এর আগে গত ১৪ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন।
২০২১ সালের ২ আগস্ট রাতে পল্লবী থানায় সাংবাদিক আব্দুর রহমান তুহিন বাদী হয়ে একটি প্রতারণার মামলা করেন। মামলায় জয়যাত্রা টিভির চেয়ারম্যান হেলেনা জাহাঙ্গীর, জেনারেল ম্যানেজার হাজেরা, প্রধান বার্তা সম্পাদক কামরুজ্জামান আরিফ, কো-অর্ডিনেটর সানাউল্ল্যাহ নূরী, স্টাফ রিপোর্টার মাহফুজ শাহরিয়ারসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার বাদী তুহিন অভিযোগ করেন, জয়যাত্রা টিভির স্থানীয় সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য ভোলা জেলার আবদুর রহমান তুহিনের কাছ থেকে ৫৪ হাজার টাকা নেন হেলেনা। প্রতিবেদক হিসেবে তিনি কয়েক মাস কাজ করলেও কোনো বেতন পাননি। অন্যদিকে তার কাছ থেকে প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা নেয় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২৯ ডিসেম্বর হেলানা জাহাঙ্গীরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইড) পরিদর্শক শাহিনুর ইসলাম অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ১৮ এপ্রিল ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন তোফাজ্জল হোসেন দণ্ডবিধি ৪২০/৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময় ১৩ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।
দেশের শিক্ষা খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি ও দখলদারত্বের এক নজিরবিহীন চিত্র উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে। ৯৭৩টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ওপর পরিচালিত এই বিশেষ তদন্তে দেখা গেছে, তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভুয়া নিয়োগ এবং জাল সনদের রীতিমতো মহোৎসব চলছে। ডিআইএ-র এই ‘আমলনামায়’ উঠে আসা ভয়ংকর দুর্নীতির কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অভিযুক্তদের এখন বিপুল অংকের আর্থিক দণ্ড ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ এবং বকেয়া ভ্যাট-ট্যাক্সসহ মোট ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা দ্রুত সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কঠোর সুপারিশ করা হয়েছে। কেবল অর্থই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া প্রায় ১৭৬ একরের বেশি জমিও পুনরুদ্ধারের তাগিদ দিয়েছে অধিদপ্তর।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে ৯৭৩টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় নিয়োগ জালিয়াতি ও জাল সনদের এক নজিরবিহীন চিত্র ধরা পড়েছে। ভুয়া সনদে শিক্ষকতা এবং নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা প্রায় ৯০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের কঠোর সুপারিশ করা হয়েছে। এই বিপুল অংকের আর্থিক দণ্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অসাধু শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি সংকটের মুখে ফেলেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে থাকা ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় মাস ধরে এই বিশেষ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা চালানো হয়। তদন্তে ভয়ংকর আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ জালিয়াতি ও জমি দখলের সত্যতা মেলায় কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে ডিআইএ।
ভয়াবহ জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়ম: ডিআইএ-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে শিক্ষকতা করা, অগ্রহণযোগ্য সনদে নিয়োগ এবং সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও পরিচালনা পর্ষদ যোগসাজশ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া ভ্যাট ও আইটি (আয়কর) ফাঁকি দেওয়ার মতো গুরুতর আর্থিক অনিয়মও তদন্তে ধরা পড়েছে।
বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত ও জমি উদ্ধারের সুপারিশ: তদন্ত শেষে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করেছে অধিদপ্তর। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে থাকা কিন্তু প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়া প্রায় ১৭৬.৫২৩ একর জমি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে কেবল আর্থিক অনিয়মই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া প্রায় ১৭৬ একরের বেশি জমি পুনরুদ্ধারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে থাকা এই বিপুল পরিমাণ জমি ফিরিয়ে আনতে ডিআইএ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাসের নিবিড় তদন্তে উঠে আসা এই ভূমি জালিয়াতির চিত্র শিক্ষা খাতের সম্পদ রক্ষায় এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপিগুলো ইতোমধ্যে ডি-নথি ও ই-মেইলের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরিচালনা পর্ষদ সভাপতির ব্যানবেইস (BANBEIS) পোর্টালে দেওয়া ই-মেইলেও প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ই-মেইলে প্রতিবেদন না পেয়ে থাকলে তারা নিজ নিজ জেলা শিক্ষা অফিসের ‘ডি-নথি’ সিস্টেম থেকে তা সংগ্রহ করতে পারবে। সেখান থেকেও সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে আবেদন করে ডিআইএ-র ই-মেইলে ([email protected]) পাঠালে পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনটি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষকতা বা সরকারি অর্থ আত্মসাতের দিন শেষ। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘আমলনামা’ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমাদের এই কঠোর অবস্থান। তদন্তে আমরা ৯৭৩টি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ জালিয়াতি ও জাল সনদের মতো গুরুতর অনিয়ম পেয়েছি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি। প্রায় ৯০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত এবং ১৭৬ একর জমি উদ্ধারের সুপারিশ করেছি আমরা। জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষকতা বা অর্থ আত্মসাতের দিন শেষ।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এক বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং আধুনিক দূরদর্শিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রেসিডেন্ট সিসি তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, সংসদীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং তারেক রহমানের নতুন এই দায়িত্ব পালনে সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের দীর্ঘদিনের আশা ও আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি সফল হবে।
শুভেচ্ছা বার্তায় মিশরের প্রেসিডেন্ট দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে দীর্ঘদিনের চমৎকার সুসম্পর্ক বিদ্যমান এবং আগামীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। এই ধরণের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব উভয় দেশের জনগণের জন্য টেকসই কল্যাণ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
এছাড়া আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সিসি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সাফল্য কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের উত্তরোত্তর উন্নতি ও শান্তি কামনা করেন। আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতির মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে মিশরের প্রেসিডেন্টের এই বার্তাটি দুই দেশের ভাতৃপ্রতিম সম্পর্কের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলে দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দৃপ্ত শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ১৩০৬ জন নবাগত রেসিডেন্ট চিকিৎসক। রোববার (১ মার্চ) বিএমইউর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ তাঁরা এই শপথ গ্রহণ করেন। মার্চ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ফেইজ-এ তে বিভিন্ন অনুষদে ভর্তিকৃত এই নবীন চিকিৎসকদের বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন নবীন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চিকিৎসাবিদ্যার কোনো শেষ নেই। পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে মানবিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে প্রতিটি চিকিৎসককে রোগীদের প্রতি মমত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, রোগীদের যাতে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে না হয়, সেভাবেই নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিএমইউতে মলিকুলার ল্যাবরেটরি, আধুনিক লাইব্রেরি এবং রেসিডেন্টদের জন্য আবাসিক হোস্টেল নির্মাণে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবটিকসের ব্যবহারের জ্ঞান অর্জন করে আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেদের তৈরি করার জন্য রেসিডেন্টদের পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল নবীন চিকিৎসকদের আগামীর স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাণ্ডারি হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং নবাগত রেসিডেন্টদের শপথ বাক্য পাঠ করান বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম। তিনি বলেন, বিএমইউতে ই-লগ বুক এবং ই-আইআরবি চালুর ফলে চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, গত ৫ বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১শ গবেষণার ফলাফল ইনডেক্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য তিনি চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। অনুষ্ঠানে সার্জারি অনুষদের ৫৪৩ জন, মেডিসিন অনুষদের ৪০০ জন, শিশু অনুষদের ১২৪ জন, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদের ১৫৬ জন এবং ডেন্টাল অনুষদের ৮৩ জন রেসিডেন্ট অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং দেশবরেণ্য চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নবীনদের উৎসাহিত করেন। সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশে আগামীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যাত্রা শুরু হলো।
ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে এসে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশিদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যগামী অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন এবং আটকে পড়া রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দেখভাল করার জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী সরাসরি কাজ করছেন। বিশেষ করে বিমান প্রতিমন্ত্রী সকাল থেকেই বিমানবন্দরে অবস্থান করে যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা তদারকি করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং প্রবাসীদের সহায়তায় সার্বক্ষণিক হটলাইন চালু করা হয়েছে।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর আজকের দিনটি ছিল অত্যন্ত ব্যস্ততাপূর্ণ। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে নিজের অফিসে আসার পর তিনি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ভূমিকম্প পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন এবং জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে এক লাখ দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করার কথা বলেন। মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বৈঠক শেষে জানান, জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছাসেবক তৈরির এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে বলেছেন।
এছাড়া জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাবে বাংলাদেশে যেন কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আগাম সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন তিনি। বর্তমান আন্তর্জাতিক টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেও দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সংকটের মাঝেও প্রধানমন্ত্রীর এই প্রচ্ছন্ন তদারকি প্রশাসনের কাজে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় শনিবার বিকেল থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী মোট ৫৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী ও ভ্রমণপ্রত্যাশী যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
রোববার সকালে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বর্তমানে অনিরাপদ হওয়ায় ফ্লাইটগুলো বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ফ্লাইট চলাচল ঠিক কবে নাগাদ স্বাভাবিক হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি এখনই সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এয়ারলাইন্সগুলো পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, শুধুমাত্র গতকালই আকাশসীমা বন্ধ হওয়ার প্রভাবে ২৭টি ফ্লাইটের প্রায় ১০ হাজার যাত্রীর বিদেশযাত্রা বাতিল হয়েছে। হঠাৎ ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণায় অনেক রেমিট্যান্স যোদ্ধা বিপাকে পড়েছেন, যাদের অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে। আটকে পড়া এসব যাত্রীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। অনেক যাত্রীকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে, আবার অনেকে কোনো উপায় না পেয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের মুঠোফোনের মাধ্যমে নতুন শিডিউল ও ভ্রমণের সময় জানিয়ে দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ পুনরায় উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের বিমান যোগাযোগ খাতে যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে, তা নিরসনে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের কোনো মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা সফরে আসছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। আগামী মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তিন দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে তাঁর ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই প্রথম কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার আগমনকে দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত পল কাপুর ঢাকায় অবস্থান করবেন। এই সফরের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গত ২৩ ফেব্রুয়ারি, যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। সেই বৈঠকেই সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন প্রভাবশালী প্রতিনিধি হিসেবে পল কাপুরের এই সফর মূলত বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অংশীদারিত্বের রূপরেখা নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
পেশাদার এই অভিজ্ঞ কূটনীতিকের ব্যক্তিগত প্রোফাইলও বেশ আলোচনার দাবি রাখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পল কাপুরকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গত অক্টোবর মাসে তাঁর এই নিয়োগ চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ দেশটিতে তাঁর প্রথম সফরটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরকালে পল কাপুর বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু প্রাধান্য পাবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়ে কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে সম্পর্কেও একটি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাবে এই সফরের মাধ্যমে। সব মিলিয়ে পল কাপুরের এই তিন দিনের সফরটি ঢাকা-ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সেতুবন্ধনকে আরও মজবুত করবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী প্রণব কুমার ভার্মার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ দপ্তরে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টার কিছু আগে ভারতীয় হাইকমিশনার মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানানো হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকটি চলে। সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে এটিই ছিল তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
বৈঠকটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে অভিহিত করা হলেও এতে দুই দেশের নিরাপত্তা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সীমান্তে চোরাচালান রোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং ইন্ডিয়ান আইটি সিস্টেমের কারিগরি বিষয়গুলো নিয়েও কথা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
আলোচনার অন্যতম একটি বড় অংশ ছিল বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া। ভিসা প্রাপ্তিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে কীভাবে এই প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুততর করা যায়, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ভারতীয় হাইকমিশনারও দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে নিরাপত্তা ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। দুই দেশের মধ্যকার নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় এই বৈঠকে। সব মিলিয়ে এক ফলপ্রসূ আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে নিশ্চয়ই তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব। দায়িত্ব গ্রহণের পর শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এ মতবিনিময় সভা হয়।
তারেক রহমান বলেন, আমরা এই দেশকে আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বলে মনে করি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যও আমাদেরকেই কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই মেনিফেস্টোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদেরকে কাজ করতে হবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত, নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ক্রীড়াসহ মেনিফেস্টোতে উল্লিখিত সব এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা চান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তারা যেন নিরাপদ বোধ করে। আমরা সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।
দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী দেশ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে গোপনীয়তার বিষয়গুলো মেনে চলার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেন।
জাতিকে একটি সুশৃঙ্খল জায়গায় নিয়ে আসতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সরকারি নিয়ম-নীতি কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্ব করেন তারেক রহমান।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান ও মাহ্দী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে কার্যালয়ের গঠন ও কার্যাবলি বিষয়ে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী।
নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, পরিবহন সেক্টরে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে- কোনো অবস্থায়ই ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না। কেউ ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের মাছঘাট এলাকায় নির্মাণাধীন টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন তিনি।
এদিন মন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল, নির্মাণাধীন খানপুর আইসিটি অ্যান্ড বাঙ্ক টার্মিনাল, নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার বেইজ এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের মাছঘাট সংলগ্ন নির্মিতব্য টার্মিনাল ভবন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘লাইটার জাহাজে ভোগ্যপণ্য রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। পরিদর্শনে লাইটার জাহাজে গম পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস না করে জাহাজে রেখে দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
আসন্ন ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রা হবে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ। যেসব স্থানে ব্যত্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অবাধ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা গতবারের চেয়ে অধিক তৎপর থাকবে।’
মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকল পরিবহন মালিক-শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানান এবং জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অব্যাহত থাকবে বলে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, নৌপরিবহন সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী এনডিসি, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি মনে করছে, চুক্তিটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এ মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, বিদায়ী প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করা জরুরি। নতুন সরকারের উচিত জাতীয় স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা করা।
সিপিডির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন প্রশাসন বিদায়লগ্নে মার্কিন সরকারের সঙ্গে একটি বৈষম্যমূলক চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নতুন প্রশাসনের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য নীতি প্রণয়ন করা। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
যেকোনো গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণকে সভ্যতার ওপর আক্রমণ হিসেবে সরকার বিবেচনা করে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, প্রথম আলোসহ সব গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ব্যাপারে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমরা আমাদের তৎপরতা শুরু করেছি। আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর পুড়িয়ে দেওয়া ভবনে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী ‘আলো’ ঘুরে দেখার পর তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি প্রমুখ।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এই ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যে একটা সভ্যতাবিরোধী চিন্তা কাজ করেছে। বিভিন্ন দামি জিনিসপত্র লুটপাট হয়েছে। তার মানে, ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে একদল অপরাধীও জড়িত ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও দেখে গিয়েছেন। তিনি ঘটনার যথাযথভাবে তদন্ত এবং এ ধরনের অপশক্তি যাতে সমাজে প্রশ্রয় না পায়, সে কথা বলেছেন। রাষ্ট্র এবং সরকার এ বিষয়ে গভীরভাবে সচেতন থাকবে এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল যে আমরা বাংলাদেশকে সবার বাসযোগ্য করব। সবার জন্য সমান অধিকার এবং জনগণের মৌলিক অধিকারকে আমরা নিশ্চিত করব। এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করার জন্য জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার হিসেবে সাংবিধানিকভাবে একমাত্র সরকারই হচ্ছে রাষ্ট্রের সেই কর্তৃপক্ষ যে এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবায়ন করতে পারে। ফলে অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ, অন্য কোনো শক্তি, অন্য কোনো অপশক্তি সমাজে কোনো দাপট, প্রভাব দেখাক, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অতীতে যা ঘটেছে, তাকে অবশ্যই তদন্তের আওতায় আনতে হবে।...যেকোনো অপরাধ তাৎক্ষণিকভাবে হোক আর যত সময়ের ব্যবধানেই হোক, তাকে জবাবদিহির এবং বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আসতেই হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে দেশের বাইরে থেকে যারা সংশ্লিষ্ট হয়েছে, তারা দেশের আওতার বাইরে আছে বর্তমানে, অন্তত এই মুহূর্তে। ফলে তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, তারা এটাকে পর্যবেক্ষণ হিসেবে অবশ্যই যুক্ত করবে এবং তাকে তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে বা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে বা বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে সংশ্লিষ্ট করার জন্য, এ ধরনের সীমানার বাইরের যেকোনো অপরাধকে কীভাবে যুক্ত করা যায়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনগুলোকে...কিন্তু স্পিরিটের দিক থেকে অবশ্যই অপরাধী যে যেখানেই বাস করুক বা অপরাধের প্রশ্রয় যদি কেউ দিয়ে থাকে এবং তা প্রমাণিত হয়—অবশ্যই সরকার সেটাকে বিবেচনায় নেবে।’
শিল্পী মাহবুবুর রহমানের ‘আলো’ নামের এই প্রদর্শনীর সময় দুই দিন বাড়িয়ে চলবে ২ মার্চ পর্যন্ত। সর্বস্তরের দর্শকদের জন্য প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
নরসিংদীর আলোচিত ধর্ষণ মামলায় জড়িতদের কেউ আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নরসিংদীর ধর্ষণ মামলায় যারা জড়িত, তাদের কেউ আশ্রয় দিলে তাদের শিকড় ধরে উপড়ে ফেলা হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাংবিধানিকভাবে যতগুলো অধ্যাদেশ হয়েছে, প্রত্যেকটা অধ্যাদেশই আমরা বিল আকারে পেশ করবো। সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে করা ১৩৩ অধ্যাদেশের প্রত্যেকটিই পেশ করা হবে।
দেশে মামলার জট একটি প্রকট সমস্যা জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এ সমস্যা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কেউ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অপব্যবহার করলে সে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট দেখবেন।
মাদক-সন্ত্রাস, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, হানাহানি-মারামারি এসব ব্যাপারে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, গুটিকয়েক দুষ্কৃতিকারীর কারণে সরকারের ভালো কাজের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপি সভাপতি এম এ মজিদ, রাশেদ খানসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতারে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানিয়েছে দোহার বাংলাদেশ দূতাবাস।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে দোহার বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকার এবং নিজ নিজ বাসায় অথবা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার অনুরোধ করা হচ্ছে। বিপদ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো যাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় নগদ টাকা, কাতার আইডি (কিউআইডি), হেলথ কার্ড, প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল চার্জার ও শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবসময় নিজের সঙ্গে রাখুন।
এ বিষয়ে কাতারি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কাতার সরকারের বিবৃতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও আপলোড করা কাতারের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সবাইকে যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানানো যাচ্ছে।