সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

পণ্য রপ্তানির নতুন বাজার খোঁজার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার তার সরকারি বাসভবন গণভবনে রপ্তানি বিষয়ক ১১তম বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২০ মার্চ, ২০২৩ ১৭:০৬
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২০ মার্চ, ২০২৩ ১৭:০০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে টেকসই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য নতুন বৈশ্বিক বাজার অন্বেষণে একটি উপায় খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি সোমবার তার সরকারি বাসভবন গণভবনে রপ্তানি বিষয়ক ১১তম বৈঠকে এ আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে টেকসই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জনে পদেক্ষপ নিতে হবে। যুদ্ধের কারণে চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশি পণ্যের নতুন বাজার খোঁজার সুযোগ বিশ্বব্যাপী তৈরি হয়েছে। আমাদের এসব বাজার ধরতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সাল নাগাদ মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া বিদ্যমান রপ্তানি নীতিমালার সংশোধন, পরিবর্তন ও উন্নয়ন করে আরও চার কিংবা পাঁচ বছরের জন্য নতুন রপ্তানি নীতিমালা প্রণয়নেরও আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, যুদ্ধের নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞা এবং ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশে যেসব চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ তৈরি হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করে নতুন রপ্তানি নীতি গ্রহণ করা উচিত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন, এছাড়া কিছুই অর্জন করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘একটি দেশের অর্থনীতি মূলত রপ্তানির ওপর নির্ভর করায় আমরা রপ্তানি বাড়াতে অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছি। কাজেই আমরা এর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী রপ্তানি বাড়াতে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সরকার তাদের সব ধরনের সহায়তা দেবে। রপ্তানি বাড়ানোর জন্য আমরা বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি এবং এর জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রপ্তানি খাতের বিকাশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বেসরকারি খাতের জন্য সবকিছু উন্মুক্ত করে দেয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রপ্তানি আয় ২০২২-২৩ অর্থবছরে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ৩৭.০৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৩৩.৮৪ বিলিয়ন ডলার।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ সত্ত্বেও রপ্তানির প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সময় রপ্তানি থেকে আয় ছিল ১৬.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এখন ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৬০.৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।’

শেখ হাসিনা রপ্তানির জন্য নতুন বাজার খুঁজে বের করতে এবং পোশাক, ওষুধ ও ডিজিটাল ডিভাইসসহ রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল ডিভাইসের চাহিদা বাড়ছে, তাই একে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আমাদের নতুন বাজার অন্বেষণ করতে হবে এবং রপ্তানি পণ্যের মধ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। চার থেকে পাঁচটি রপ্তানি পণ্য ঠিক করতে হবে। অনেক দেশ আমাদের পণ্য আমদানি করতে চায়, তাই কোন দেশের কোন পণ্য দরকার সেটি আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।’

বিশ্বজুড়ে প্রক্রিয়াজাত খাবারের চাহিদা বৃদ্ধিকে বিবেচনায় রেখে প্রধানমন্ত্রী ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘অনেক দেশ আমাদের খাদ্য আমদানি করতে ইচ্ছে প্রকাশ করছে। এজন্য আমাদের খাদ্য সামগ্রী রপ্তানিতে মনোযোগ দিতে হবে।’


প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার হলেন মাহফুজুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পিচ রাইটার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) সম্পাদক এস এ এম মাহফুজুর রহমান। সোমবার (২ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রেড-১ মর্যাদায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এস এ এম মাহফুজুর রহমানকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সকল কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) এই নিয়োগ কার্যকর থাকবে। এই নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলী একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এবং জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে এস এ এম মাহফুজুর রহমানের দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার রয়েছে। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ইউএনবির সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ইউএনবিতেই সহ-সম্পাদক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। অভিজ্ঞ এই সংবাদকর্মী জাতীয় প্রেস ক্লাবের একজন সম্মানিত সদস্য। তাঁর এই নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের যোগাযোগ ও বক্তৃতা তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও মানসম্মত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কিশোরীকে বর্বরোচিতভাবে হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। রবিবার (১ মার্চ) রাতে সদর উপজেলার পাঁচদোনা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় এখন পর্যন্ত মোট আটজন আসামিকে আইনের আওতায় আনা হলো। সোমবার (২ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১১-এর নরসিংদী ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০), যিনি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী এলাকার বাসিন্দা। র‍্যাব কর্মকর্তা জানান যে, তাকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাধবদী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মাধবদী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই রাতে নিহতের পরিবার বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এ পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত আট আসামি হলেন নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা, এবাদুল্লাহ, হযরত আলী, মো. গাফফার, আহাম্মদ আলী দেওয়ান, ইমরান দেওয়ান, মো. আইয়ুব এবং সর্বশেষ গ্রেফতার হওয়া ইছাহাক ওরফে ইছা। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে বর্তমানে কেবল আবু তাহের পলাতক রয়েছেন, যাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

এর আগে রবিবার (১ মার্চ) এই মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ গ্রেফতারকৃত সাতজনের আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (২য়) মেহেদী হাসানের আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাধবদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওমর কাইয়ুম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত এই রিমান্ড আদেশ দিয়েছেন। নিহত কিশোরীর বাবা একজন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক এবং তারা সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মাধবদীর দড়িকান্দি এলাকায় একটি সরিষা ক্ষেত থেকে পুলিশ কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছিল।


প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সোমবার ( মার্চ) দুপুরে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো প্রসারের লক্ষ্যে এই আলোচনাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


মতিঝিলে রুমমেটকে হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরো: আসামি শাহিন ৫ দিনের রিমান্ডে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মতিঝিলে রুমমেট মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরো করার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত আসামি শাহিন আলমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মো. শাহরিন হোসেন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মাকসুদুর রহমান একে একটি পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ রিমান্ডের দাবি জানান। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন, যদিও এ সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানান যে, ভুক্তভোগী ওবায়দুল্লাহ একটি কোম্পানিতে এবং আসামি শাহিন একটি হোটেলে কাজ করতেন এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ মনমালিন্য ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওবায়দুল্লাহ যখন ওয়াশরুমে কাপড় ধুচ্ছিলেন, তখন আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা ধারালো চাপাতি দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন শাহিন এবং পরবর্তীতে দেহটি সাতটি খণ্ডে বিভক্ত করেন। মরদেহের কিছু অংশ তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি অংশগুলো এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এই দেহাংশগুলো উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিশ্চিত হতেই আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

শুনানি চলাকালে আদালত হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে চাইলে আসামি শাহিন দাবি করেন যে, তার মা অসুস্থ এবং ওবায়দুল্লাহর কাছে তিনি কিছু টাকা পাওনা ছিলেন। এছাড়া ওবায়দুল্লাহর আচরণ ও বিভিন্ন বিষয়ে ঝামেলার কারণে তিনি এই কাজ করেছেন বলে জানান, তবে হত্যার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না বলে তিনি আদালতে দাবি করেন। উল্লেখ্য যে, গত সাড়ে চার মাস ধরে ঢাকায় বসবাস করা শাহিনের বিরুদ্ধে এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত ওবায়দুল্লাহর বাবা হামিদ মিঞা বাদী হয়ে গতকাল রবিবার (১ মার্চ) মতিঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত শাহিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।


মধ্যপ্রাচ্যে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত ও আহত ৭, সরকারের শোক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং সাতজন আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই শোকবার্তা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সরকার গভীরভাবে মর্মাহত এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখছে।

নিহতদের মধ্যে সিলেটের বড়লেখার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে একটি বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার সময় ধ্বংসস্তূপের আঘাতে মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হওয়া মাত্রই তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এছাড়া বাহরাইনে আরও একজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের বিষয়ে মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

অন্যদিকে কুয়েতে বেসামরিক বিমানবন্দরের আশেপাশে ড্রোন হামলায় চারজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাথিয়ার রবিউল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান এবং কুমিল্লার চান্দিনার দুলাল মিয়া। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজ নিয়েছেন এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশ নৌপরিবহন করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ক্রুদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তারা বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ছয় লাখেরও বেশি বাংলাদেশি অবস্থান করছেন যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশের সরকারের জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য দূতাবাসের মাধ্যমে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।


জুলাই সনদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার পাচ্ছে জামায়াত : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে এটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই ঐকমত্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং সমঝোতার বাস্তবায়ন শুরু করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীকে মৌখিকভাবে এবং সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, যেদিন জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হবেন, সেদিনই যেন বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হতে পারেন। সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেন যে, যদিও বর্তমান আইন ও সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সরকারি দল চাইলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার—উভয় পদই নিজেদের কাছে রাখতে পারে, কিন্তু জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দলকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটিকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বড় ‘গুড উইল’ বা সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

বৈঠক শেষে উচ্চকক্ষ বা আপার হাউস গঠনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে সমঝোতার রাজনীতির অংশ হিসেবে ডেপুটি স্পিকার পদটি এখনই অফার করার সুযোগ রয়েছে এবং সরকার সেই পথেই হাঁটছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি নতুন ধারার সূচনা করতে পারে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার এই সমঝোতার দলিল পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।


ভারত ও বাংলাদেশের ভিসা দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস প্রণয় ভার্মার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা। সোমবার (২ মার্চ) নবনিযুক্ত বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই ইতিবাচক বার্তার কথা জানান। প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এই সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি বর্ডার হাট ও বন্ধ থাকা স্থলবন্দরগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের জানান, ভারতীয় হাইকমিশনার মূলত নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানাতে এসেছিলেন। দুই দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর ও বর্ডার হাট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যা খুব শীঘ্রই পুনরায় সচল করার বিষয়ে একমত হয়েছেন উভয় পক্ষ। এর ফলে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এদিনের বৈঠকে ভারতীয় অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ বা নতুন কোনো অর্থায়ন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। মূলত বাণিজ্যিক বাধাগুলো দূর করা এবং দুই দেশের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করাই ছিল এই আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। হাইকমিশনারের এই আশ্বাসের ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ভিসা জটিলতা নিরসনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের এই নতুন অধ্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


মধ্যপ্রাচ্য সংকটে শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইটে মহাবিপর্যয়: ৩ দিনে বাতিল ১০২ ফ্লাইট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে আকাশপথের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থার ফলে টানা তিন দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক এই সংঘাতের প্রভাবে কয়েক হাজার প্রবাসী ও ভ্রমণপ্রত্যাশী যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিনে ২৩টি এবং পরের দিন ১ মার্চ সর্বোচ্চ ৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। আজ সোমবার (২ মার্চ) পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আরও ৩৯টি ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। তিন দিনের এই ধারাবাহিক ফ্লাইট বাতিলের ফলে বিমানবন্দরের শিডিউল পুরোপুরি ওলটপালট হয়ে গেছে। বিশেষ করে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের একটি বড় অংশ সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

সোমবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০টি ফ্লাইট রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের। এছাড়া এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি এবং এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি করে এবং গালফ এয়ার, কুয়েত এয়ারওয়েজ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইটের যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। যদিও পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় এরই মধ্যে কিছু বিকল্প রুটে পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে, তবে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আবুধাবি, শারজাহ ও দুবাইগামী রুটগুলোতে এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। আকাশসীমা পুরোপুরি উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাতের নিয়োগ বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে শেখ মো. সাজ্জাত আলীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। গত রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সাজ্জাত আলীর নিজ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ডিএমপি কমিশনারের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে সরকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর দুই বছর মেয়াদে তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নিয়োগের মাত্র কয়েকমাসের মাথায় তাঁর এই প্রস্থান পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনারের পদটি বর্তমানে শূন্য হওয়ায় নতুন কাউকে পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত এর যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বের কথা জানানো হয়। ফলে এখন থেকে পরবর্তী কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত মো. সরওয়ারই ডিএমপির প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমের তদারকি করবেন। সব মিলিয়ে, রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির নেতৃত্বে এই সাময়িক পরিবর্তন দ্রুতই স্থায়ী রূপ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


বাংলাদেশিদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ২ মার্চ, ২০২৬ ১৩:২১
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত কয়েক ডজন দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) প্রদান স্থগিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সোমবার (২ মার্চ) সকালে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকেই এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আসা অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে। মূলত যেসব দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর তুলনামূলক বেশি হারে সরকারি সহায়তা (পাবলিক বেনিফিট) গ্রহণ করেন এবং মার্কিন করদাতাদের ওপর অর্থনৈতিক বোঝা হিসেবে গণ্য হন, সেসব দেশের ক্ষেত্রেই এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এই দেশগুলোর নাগরিকদের স্ক্রিনিং ও যাচাইকরণ নীতিমালা পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ পর্যটক বা স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র অভিবাসী বা স্থায়ীভাবে বসবাসের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ‘ভিজিটর ভিসা’ বা স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণের ভিসার ক্ষেত্রে নয়। অর্থাৎ পর্যটন, ব্যবসা বা চিকিৎসার মতো প্রয়োজনে আগের নিয়মেই ভিসা পাওয়া যাবে। এছাড়া বর্তমানে যারা অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, তারা আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে পারবেন। পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়মিতভাবে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই স্থগিতাদেশের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও কয়েক ডজন দেশ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হলো—আফগানিস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, মিয়ানমার, মিশর, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, সুদান, নেপাল, ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও ইথিওপিয়া। মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার পথকে সাময়িকভাবে সংকুচিত করল। আন্তর্জাতিক এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


জাল সনদে নিয়োগ, ৯৭৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৯০ কোটি টাকা ফেরতের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শিক্ষা খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি ও দখলদারত্বের এক নজিরবিহীন চিত্র উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে। ৯৭৩টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ওপর পরিচালিত এই বিশেষ তদন্তে দেখা গেছে, তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভুয়া নিয়োগ এবং জাল সনদের রীতিমতো মহোৎসব চলছে। ডিআইএ-র এই ‘আমলনামায়’ উঠে আসা ভয়ংকর দুর্নীতির কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অভিযুক্তদের এখন বিপুল অংকের আর্থিক দণ্ড ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ এবং বকেয়া ভ্যাট-ট্যাক্সসহ মোট ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা দ্রুত সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কঠোর সুপারিশ করা হয়েছে। কেবল অর্থই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া প্রায় ১৭৬ একরের বেশি জমিও পুনরুদ্ধারের তাগিদ দিয়েছে অধিদপ্তর।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে ৯৭৩টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় নিয়োগ জালিয়াতি ও জাল সনদের এক নজিরবিহীন চিত্র ধরা পড়েছে। ভুয়া সনদে শিক্ষকতা এবং নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা প্রায় ৯০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের কঠোর সুপারিশ করা হয়েছে। এই বিপুল অংকের আর্থিক দণ্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অসাধু শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি সংকটের মুখে ফেলেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে থাকা ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় মাস ধরে এই বিশেষ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা চালানো হয়। তদন্তে ভয়ংকর আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ জালিয়াতি ও জমি দখলের সত্যতা মেলায় কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে ডিআইএ।
ভয়াবহ জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়ম: ডিআইএ-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে শিক্ষকতা করা, অগ্রহণযোগ্য সনদে নিয়োগ এবং সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও পরিচালনা পর্ষদ যোগসাজশ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া ভ্যাট ও আইটি (আয়কর) ফাঁকি দেওয়ার মতো গুরুতর আর্থিক অনিয়মও তদন্তে ধরা পড়েছে।
বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত ও জমি উদ্ধারের সুপারিশ: তদন্ত শেষে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করেছে অধিদপ্তর। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে থাকা কিন্তু প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়া প্রায় ১৭৬.৫২৩ একর জমি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে কেবল আর্থিক অনিয়মই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া প্রায় ১৭৬ একরের বেশি জমি পুনরুদ্ধারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে থাকা এই বিপুল পরিমাণ জমি ফিরিয়ে আনতে ডিআইএ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাসের নিবিড় তদন্তে উঠে আসা এই ভূমি জালিয়াতির চিত্র শিক্ষা খাতের সম্পদ রক্ষায় এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপিগুলো ইতোমধ্যে ডি-নথি ও ই-মেইলের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরিচালনা পর্ষদ সভাপতির ব্যানবেইস (BANBEIS) পোর্টালে দেওয়া ই-মেইলেও প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ই-মেইলে প্রতিবেদন না পেয়ে থাকলে তারা নিজ নিজ জেলা শিক্ষা অফিসের ‘ডি-নথি’ সিস্টেম থেকে তা সংগ্রহ করতে পারবে। সেখান থেকেও সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে আবেদন করে ডিআইএ-র ই-মেইলে ([email protected]) পাঠালে পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনটি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষকতা বা সরকারি অর্থ আত্মসাতের দিন শেষ। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘আমলনামা’ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমাদের এই কঠোর অবস্থান। তদন্তে আমরা ৯৭৩টি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ জালিয়াতি ও জাল সনদের মতো গুরুতর অনিয়ম পেয়েছি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি। প্রায় ৯০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত এবং ১৭৬ একর জমি উদ্ধারের সুপারিশ করেছি আমরা। জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষকতা বা অর্থ আত্মসাতের দিন শেষ।


তারেক রহমানকে মিশরের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এক বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং আধুনিক দূরদর্শিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রেসিডেন্ট সিসি তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, সংসদীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং তারেক রহমানের নতুন এই দায়িত্ব পালনে সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের দীর্ঘদিনের আশা ও আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি সফল হবে।

শুভেচ্ছা বার্তায় মিশরের প্রেসিডেন্ট দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে দীর্ঘদিনের চমৎকার সুসম্পর্ক বিদ্যমান এবং আগামীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। এই ধরণের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব উভয় দেশের জনগণের জন্য টেকসই কল্যাণ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

এছাড়া আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সিসি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সাফল্য কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের উত্তরোত্তর উন্নতি ও শান্তি কামনা করেন। আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতির মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে মিশরের প্রেসিডেন্টের এই বার্তাটি দুই দেশের ভাতৃপ্রতিম সম্পর্কের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।


নিজেকে মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলে দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দৃপ্ত শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ১৩০৬ জন নবাগত রেসিডেন্ট চিকিৎসক। রোববার (১ মার্চ) বিএমইউর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ তাঁরা এই শপথ গ্রহণ করেন। মার্চ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ফেইজ-এ তে বিভিন্ন অনুষদে ভর্তিকৃত এই নবীন চিকিৎসকদের বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন নবীন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চিকিৎসাবিদ্যার কোনো শেষ নেই। পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে মানবিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে প্রতিটি চিকিৎসককে রোগীদের প্রতি মমত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, রোগীদের যাতে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে না হয়, সেভাবেই নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিএমইউতে মলিকুলার ল্যাবরেটরি, আধুনিক লাইব্রেরি এবং রেসিডেন্টদের জন্য আবাসিক হোস্টেল নির্মাণে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবটিকসের ব্যবহারের জ্ঞান অর্জন করে আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেদের তৈরি করার জন্য রেসিডেন্টদের পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল নবীন চিকিৎসকদের আগামীর স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাণ্ডারি হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং নবাগত রেসিডেন্টদের শপথ বাক্য পাঠ করান বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম। তিনি বলেন, বিএমইউতে ই-লগ বুক এবং ই-আইআরবি চালুর ফলে চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, গত ৫ বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১শ গবেষণার ফলাফল ইনডেক্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য তিনি চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।

বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। অনুষ্ঠানে সার্জারি অনুষদের ৫৪৩ জন, মেডিসিন অনুষদের ৪০০ জন, শিশু অনুষদের ১২৪ জন, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদের ১৫৬ জন এবং ডেন্টাল অনুষদের ৮৩ জন রেসিডেন্ট অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং দেশবরেণ্য চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নবীনদের উৎসাহিত করেন। সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশে আগামীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যাত্রা শুরু হলো।


banner close