শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

চালকদের বিশ্রামাগার বিশ্রামে

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের পাঁচলিয়ায় একটি বিশ্রামাগারের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু অপারেশন কার্যক্রম শেষ হয়নি। শেষ সময়ে এসে বিশ্রামাগারকে দোতলা থেকে বাড়িয়ে চারতলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। ফলে কবে চালু হবে এসব বিশ্রামাগার, সেই প্রশ্ন চালকদের।
আপডেটেড
২১ মার্চ, ২০২৩ ১৭:৪৭
তৌফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত
তৌফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২১ মার্চ, ২০২৩ ০৯:২০

দেশের মহাসড়কগুলোয় পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের জন্য আলাদাভাবে কোনো বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা নেই। ফলে তাদের একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালাতে হয়, যা সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করেছে। অনেক দুর্ঘটনারই কারণ টানা বিশ্রামহীন গাড়িচালনা। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পর ২০১৯ সালে চার মহাসড়কে চারটি বিশ্রামাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। কিন্তু গত প্রায় চার বছরেও শেষ হয়নি এগুলো নির্মাণের কাজ।

এদিকে কাজ শেষ না হলেও দফায় দফায় বাড়ছে প্রকল্পের মেয়াদ। এবার প্রকল্পের চতুর্থ দফায় মেয়াদ বাড়বে। শেষ সময়ে এসে পরিবর্তন হয়েছে বিশ্রামাগারের ডিজাইন। এতে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজাইনের পরিবর্তন হওয়ায় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে পুরো কাজ শেষ করতে।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার নিমসারে, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে সিরাজগঞ্জের পাঁচলিয়ায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মাগুরার লক্ষ্মীকান্দরে এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে হবিগঞ্জের জগদীশপুরে চালকদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে কুমিল্লার নিমসার ও সিরাজগঞ্জের পাঁচলিয়ার বিশ্রামাগারের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। অপারেটর নিয়োগ দিয়ে চালু হওয়ার অপেক্ষায় আছে এ দুটো। তবে মাগুরার লক্ষ্মীকান্দর এবং হবিগঞ্জ জগদীশপুরের বিশ্রামাগারের কাজ খুব একটা এগোয়নি।

প্রকল্প দপ্তর সূত্র জানায়, বিশ্রামাগার নির্মাণ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৬৬ শতাংশ। মাগুরা ও হবিগঞ্জের বিশ্রামাগার নির্মাণে প্রায় সাড়ে ১৩ একর জমি প্রয়োজন। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এই জমি বুঝে পেয়েছে ২০২২ সালে। ফলে সময়মতো কাজ শুরু করা যায়নি। এখন মাগুরার বিশ্রামাগারের একতলার কাজ প্রায় শেষ। হবিগঞ্জে পাইলিং শুরু হয়েছে মাত্র।

অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. তানভীর সিদ্দিক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘চারটি বিশ্রামাগারের মধ্যে দুটির নির্মাণকাজ শেষ। আরও দুটির কাজ চলছে। আমাদের টার্গেট এ বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার। মাগুরা ও হবিগঞ্জের বিশ্রামাগার নির্মাণের জমি অধিগ্রহণ হতে সময় লেগেছে। ফলে সময়মতো কাজ হয়নি। তবে প্রকল্পের মূল কাজ জুনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। অ্যাডিশনাল আরও কিছু কাজ এই প্রকল্পের আওতায় যুক্ত হচ্ছে, সেগুলো শেষ হতে সময় লাগবে।’

বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহাম্মেদ মজুমদার হতাশা ব্যক্ত করে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সারা দেশে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯১৪ গাড়ি চলাচল করে। এসব গাড়িতে একজন ড্রাইভার এবং তার সহকারী থাকে। তাদের সুবিধার জন্য আজও বিশ্রামাগার নির্মাণ হয়নি। এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। আমাদের দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার পরও এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।’

দোতলা চারতলা করার সিদ্ধান্ত

আগের নকশা অনুযায়ী বিশ্রামাগারগুলো দোতলা করার কথা। সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লার বিশ্রামাগার আগের নকশায়ই শেষ হয়েছে। তবে ট্রাক মালিক ও চালকসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মিটিংয়ের পর এটি আরও দুই তলা বাড়িয়ে চারতলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বিশ্রামাগার যারা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন এবং নিরাপত্তাকর্মী থাকবেন, তাদের থাকার জন্য আরও বাড়তি দুই তলা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এতে কোনো সমস্যা হবে কি না, জানতে চাইলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্রামাগার চারতলা ফাউন্ডেশন রেখে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লায় আরও দুই তলা বাড়িয়ে দেয়া হবে। আর মাগুরা ও হবিগঞ্জে যেহেতু কাজ শুরু হয়েছে, ফলে সেগুলো একসঙ্গেই চারতলা করা হবে।

ব্যয় বাড়ছে ৩৩ কোটি টাকা

বিশ্রামাগার নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের জুনে শুরু হয়। তিন বছর মেয়াদে ২০২১ সালের জুনে কাজ শেষ করার কথা ছিল। এই সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে আরও দুই তলা করতে হবে বলে প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ করতে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হবে।

এদিকে আধুনিক এই বিশ্রামাগারগুলো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২৬ কোটি টাকা। তবে নানা কারণে এবার ব্যয় বেড়ে হবে ২৫৯ কোটি টাকা। এ বিষয়ে প্রকল্পের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক বাংলা বলেন, ‘বেশ কিছু কারণে প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ছে। বিশ্রামাগার নির্মাণকাজের কিছু জায়গায় মাটির সমস্যার কারণে পাইলিং অনেক বেশি গভীরে করতে হয়েছে, যা পরিকল্পনায় ছিল না। করোনার কারণে ঠিকঠাক কাজ করা যায়নি। নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং সর্বশেষে ডিজাইনের পরিবর্তন। এতে আরও দুটি প্যাকেজ যুক্ত হয়েছে।’

বিশ্রামাগার পরিচালনা করবে কে

পণ্যবাহী গাড়িচালকদের জন্য পার্কিং সুবিধাসংবলিত বিশ্রামাগার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। বিশ্রামাগার ইজারা বা অপারেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (ওঅ্যান্ডএম) ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে। আবার বিভাগীয় পদ্ধতিতেও পরিচালনা করা হতে পারে। ইজারা দেয়া হলে কম-বেশি তিন বছরের চুক্তি হতে পারে। অপারেটর নিয়োগ দিলে তা হবে উন্মুক্ত দরপতের মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রেও তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হবে।

চালকদের জন্য কী সুবিধা থাকছে

বিশ্রামাগারে দূরপাল্লার ট্রাকচালকরা বিশ্রাম নেয়ার জন্য দ্বিতল শয়নকক্ষে রাতযাপন করতে পারবেন, গাড়ি পার্কিং, বিনোদন পয়েন্ট, ক্যানটিন, গোসলখানা, নামাজের জায়গা, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা কক্ষ, গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ, ওয়াশজোন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থা, আধুনিক স্যানিটেশনব্যবস্থা, সবুজায়ন ও নিরাপত্তাপ্রাচীরের মধ্যে সীমিত আকারে খেলার ব্যবস্থাও রাখা হবে।

সব ধরনের পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও সহকারীরা নির্ধারিত সেবামূল্য পরিশোধ করে বিশ্রামাগারের সেবা নিতে পারবেন। ইতিমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্রামাগারে যানবাহন পার্কিং, বিশ্রাম কক্ষ ও ওয়াশরুম ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি ফি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী অতিভারী (এক্সট্রা হেভি) পণ্যবাহী মোটরযান পার্কিংয়ে প্রথম ৫ ঘণ্টার জন্য ১৫০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি ঘণ্টার জন্য ৩০ টাকা দিতে হবে। ভারী পণ্যবাহী মোটরযানের জন্য প্রথম ৫ ঘণ্টায় ১০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি ঘণ্টার জন্য ২০ টাকা, মাঝারি ভারী পণ্যবাহী যানবাহন পার্কিংয়ে প্রথম ৫ ঘণ্টায় ৭৫ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি ঘণ্টার জন্য ১৫ টাকা এবং হালকা পণ্যবাহী মোটরযানের প্রথম ৫ ঘণ্টায় ৫০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি ঘণ্টার জন্য ১০ টাকা করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্রাম কক্ষের জন্য প্রথম ৫ ঘণ্টায় ১৫০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি ঘণ্টার জন্য ২৫ টাকা ভাড়া দিতে হবে। টয়লেট প্রতিবার ব্যবহারে ৫ টাকা, গোসলখানা প্রতিবার ১০ টাকা এবং টয়লেট ও গোসলখানা একসঙ্গে প্রতিবার ১৫ টাকা করে ফি নির্ধারণ করেছে সরকার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহাম্মেদ মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিশ্রামাগারের সেবা নিতে যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে সেখানে কোনো ট্রাক ঢুকবে না। কারণ কম টাকায় হোটেলে খেয়ে একজন চালক পেট্রল পাম্পে নিরাপদে গাড়ি রেখে ঘুমিয়ে বিশ্রাম নিতে পারে। সেখানে বিশ্রামাগারে গাড়ি রাখতে, ঘুমাতে, ওয়াশরুম ব্যবহার করতে চালককে যদি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ করতে হয়, তাহলে সেখানে কেউ যাবে না।’

চালকদের কর্মঘণ্টা আইনে আছে বাস্তবে নেই

সড়ক পরিবহন আইনের বিধিমালার ৩২(৫) ধারায় গণপরিবহনের চালকের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। কার্যকর হওয়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, একজন চালককে দিয়ে একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো যাবে না। এরপর কমপক্ষে আধা ঘণ্টা বিশ্রাম দিয়ে আবার ৩ ঘণ্টা গাড়ি চালানো যাবে। তবে দিনে ৮ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি একজন চালককে দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না।

তবে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কোনো পরিবহনে চালকদের আইনের কর্মঘণ্টা মানা হয় না। যার ফলে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে শারীরিক ক্লান্তি যেমন- ঘুম আসা, অবসন্নতার কারণে। সে জন্য বিশ্রামাগার অবশ্যই প্রয়োজন আছে। তবে কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যানবাহন মালিকদের এবং সরকারকে সেটি মনিটর করতে হবে।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘৮ ঘণ্টা গাড়ি চালানো আন্তর্জাতিক মানের। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই মুহূর্তে সেটি সম্ভব হয়ে উঠছে না। এই মুহূর্তে তেলের দাম বাড়তি। যুদ্ধ ও করোনার পর পণ্য পরিবহনে ভয়াবহ ধস নেমেছে। এই সময়ে মালিকের পক্ষে দুজন চালক রাখা সম্ভব না।’


আজ মহান মে দিবস: শ্রমিক অধিকার ও মর্যাদার অঙ্গীকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

আজ পহেলা মে, বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে মহান মে দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর বাংলাদেশে মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উদযাপিত হচ্ছে ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত; আসবে এবার নব প্রভাত’ এই বিশেষ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে।

দিবসটি পালন করতে সরকারিভাবে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনও সমাবেশ, শোভাযাত্রা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এরই অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এক সমাবেশের ডাক দিয়েছে, যেখানে উপস্থিত থাকবেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঐতিহাসিক এই দিবসের প্রেক্ষাপট মূলত ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ঘটনা। সে সময় ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশি হামলায় বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। সেই বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের মাধ্যমেই শ্রমিকের অধিকার নিয়ে বিশ্বব্যাপী জোরালো দাবি ওঠে এবং পরবর্তীতে শ্রমজীবী মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়। শিকাগোর শ্রমিকদের সেই সংগ্রামকে স্মরণ করেই আন্তর্জাতিকভাবে এ দিনটিকে শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে গণ্য করা হয়।

মে দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকল শ্রমজীবী মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, “শ্রমিকের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনায় এ বছরের মে দিবস বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক গৌরবোজ্জ্বল দিন।”

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, বর্তমান সরকার সেই পথ অনুসরণ করে শ্রম আইন সংস্কার, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার এবং বন্ধ শিল্প পুনরায় চালুর মাধ্যমে শ্রমিক সমাজের ভাগ্যোন্নয়নে নানাবিধ কর্মসূচি ও নীতি বাস্তবায়ন করছে।

মে দিবসের বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি। সুতরাং তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানতম অঙ্গীকার।”

তিনি আরও দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেন যে, “শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব।”


শ্রমজীবীরাই অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উপলক্ষে দেশ-বিদেশে কর্মরত সব শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বছর মে দিবসের প্রতিপাদ্য—‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমজীবী মানুষই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের শ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও অর্থনীতির ভিত।’ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দেওয়া এক বাণীতে তিনি ১৮৮৬ সালের হে মার্কেট আন্দোলনে শ্রমিকদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।’ শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণে তার নেওয়া উদ্যোগগুলো দেশের অর্থনীতির ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে।’ বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমবাজার সৃষ্টিতে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘শ্রম আইন সংস্কার, মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠনসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে।’ পোশাক খাতের শ্রমিকদের কল্যাণেও নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুসমর্থন করেছে এবং সংস্থাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, নারী-পুরুষ সমান মজুরি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

শেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মে দিবসের সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি।


সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সকাল ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সকল ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।’

নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষাতেই মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশ স্বাধীন করেছিলেন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতিটি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী—এটি কারও জিজ্ঞাসা ছিল না। তাই এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার-আমার, আমাদের সকলের।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার-আপনার-আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সকলে ‘আমরা বাংলাদেশি’।’

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নাগরিক প্রত্যেকেই যে যার ধর্মীয় রীতি-নীতি ও অধিকার বিনা বাধায়—স্বাধীনভাবে অনুসরণ-অনুকরণ ও ভোগ করতে পারে—এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। দলমত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি এবং নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, তেমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পার্বত্য বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হাতে বৌদ্ধদের পক্ষ থেকে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়।


জালিয়াতি ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যে গতিহারা সৌরবিদ্যুৎ

* ছয় প্রকল্পে ২৯২৬ কোটি টাকার দুর্নীতি * পাঁচটিতে জমি অধিগ্রহণে জালিয়াতি, লোপাট ২৪৯ কোটি * টেন্ডার ছাড়াই পছন্দের ব্যক্তিদের কাজ দেওয়া হয় * বাজারমূল্যের বেশি দরে বিদ্যুৎ কেনার অসম চুক্তি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটে সৌরবিদ্যুৎ হতে পারত সবচেয়ে কার্যকর ও সাশ্রয়ী বিকল্প। কিন্তু অনেক সম্ভাবনার এই খাতটি নজিরবিহীন দুর্নীতি, জালিয়াতি ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের কারণে গতি হারিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সৌরবিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করা হয়েছিল ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০’-এর মাধ্যমে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো টেন্ডার বা প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া ছাড়াই ‘ক্লিন এনার্জি’র দোহাই দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের কাজ দেওয়া হয়।

ফলে প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি দরে বিদ্যুৎ কেনার অসম চুক্তি (পাওয়ার পারচেস অ্যাগ্রিমেন্ট-পিপিএ) করতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন বলছে, ‘আওয়ামী আমলে প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়ে গড়ে ৮ কোটি টাকা। সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ৬ প্রকল্পে গড়ে প্রতি মেগাওয়াটে ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ কেবল ৬টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পেই প্রায় ২ হাজার ৯২৬ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। অন্যদিকে ৫টি প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ২৪৯ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৃষিজমিকে অকৃষি দেখিয়ে এবং ভুয়া মৌজা দর ব্যবহার করে প্রকল্পের ব্যয় আকাশচুম্বী করা হয়।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতের এই লুটপাটের নেপথ্যে ছিল উচ্চপদস্থ আমলা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

এ বিষয়ে এক্সিলন বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবতাহী ইসলাম শুভ বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিমন্ত্রীর রেফারেন্স না থাকলে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) পাওয়া সম্ভব ছিল না। দুঃখজনক হলেও সত্য যে যেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প শেষ করতে সময় বেঁধে দেওয়া হতো ১৮ মাস, সেখানে এলওআই পেতেই সময় লেগে যেত ২ থেকে ৩ বছর। প্রায় ৩২ ধাপ পার হওয়া এই এলওআই অনুমোদন পাওয়া মানেই; কিন্তু কাজ শুরু করা নয়, বরং এরপর নানা ধাপ পার হয়ে পিপিএ সম্পাদন হলে তবেই কাজ শুরু হয়।’

শুভ আরও বলেন, ‘এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কারণ, পণ্যের দাম, আমদানি খরচ, ব্যাংকের সুদ হার কোনোটিই ৩ বছর আগের মতো থাকে না। এভাবে অনেক দক্ষ প্রতিষ্ঠান প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। কিন্তু মোটা অঙ্কের আন্ডার হ্যান্ড ডিলিংস কিংবা তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর সুদৃষ্টি থাকার কারণে অনেক অদক্ষ প্রতিষ্ঠানও কাজ পেয়েছে নির্বিঘ্নে।’

আওয়ামী আমলের নানা অনিয়মের কথা স্বীকার করেন দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠান এইচডিএফসি সিন পাওয়ার লিমিটেডের স্থানীয় কর্ণধার গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) এসকেএম শফিকুল ইসলামও। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি সৌরবিদ্যুৎ প্রসারের জন্য মোটেই অনুকূল নয়।’

জ্বালানি বিশ্লেষক প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ পাঠান বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলো যখন সৌরবিদ্যুৎকে তাদের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রধান উৎস বানাচ্ছিল, তখন বিগত আওয়ামী সরকার একে লুটপাটের মাধ্যমে পকেট ভারী করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। ভারতে সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম যখন মাত্র ৩ সেন্ট, পাকিস্তানে ০.৩২ সেন্ট ও চীনে ০.৪৫ সেন্ট তখন বাংলাদেশে গড় দাম ছিল ১২ সেন্টের বেশি। অর্থাৎ প্রতিবেশী দেশ ভারতের তুলনায় চারগুণ বেশি দামে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ কেনে তৎকালীন আওয়ামী সরকার। এ পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে আওয়ামী আমলে কতটা দুর্নীতি হয়েছে। তাদের এই লুটপাট কেবল অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর চরম আঘাত।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী আমলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালাই ছিল না। অনেকটা বিশৃঙ্খলভাবে বিভিন্ন নীতিমালায় ২০৫০ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়। আর সেটাও ছিল অগোছাল। যেমন– নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালায় ২০২৩-এ মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ, ২০৪১ সালে ৩০ শতাংশ, আবার ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টার প্ল্যানে (আইইপিএমপি) ২০৩০ সালে ১০ এবং ২০২৫ সালে ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আবার জলবায়ু সমৃদ্ধ পরিকল্পনায় (২০২২) ২০৩০ সালে ৩০ শতাংশ, ২০৪১ সালে ৪০ শতাংশ ও ২০৫০ সালে ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে নিজস্ব ও নবায়নযোগ্য উৎসের গুরুত্ব কতটা। আওয়ামী লীগের আমলে সৌরবিদ্যুৎ খাতকে যদি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে গড়ে তোলা হতো, তবে আজ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে এতটা ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।


এ সংসদ মজলুমদের, মামলা-হামলার অভিজ্ঞতা নিয়েই অনেকে এখানে এসেছেন: চিফ হুইপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এ সংসদ মজলুমদের বলে মন্তব্য করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা-হামলা ও দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা নিয়েই বর্তমান সংসদের অনেক সদস্য এখানে এসেছেন। আমরা কেউ মরতে চাই না, সবাই মিলে বাঁচতে চাই— দেশকে বাঁচিয়ে তারপর বাঁচতে চাই—এই দর্শন নিয়েই বর্তমান সংসদ এগিয়ে যেতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেছেন। এ সময় তিনি জাতীয় ঐক্য, কার্যকর সংসদ এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সব দলের সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দেন।

চিফ হুইপ বলেন, ‘বাংলাদেশ বারবার সংকট, অস্থিরতা ও রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। দুর্ভিক্ষ, গণতন্ত্রহীনতা ও স্বৈরশাসনের সময় অতিক্রম করে দেশ আজকের অবস্থানে এসেছে।’

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে মানুষের স্বপ্ন ছিল গণতন্ত্র, বৈষম্যহীন সমাজ ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়া।’

শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সেই স্বপ্নে উদ্বুদ্ধ হলেও স্বাধীনতার পর নানা দমন-পীড়ন, রক্ষী বাহিনীর অত্যাচার, দুর্ভিক্ষ ও রাজনৈতিক সংকট দেশকে হতাশার দিকে নিয়ে যায়। বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামোও সীমিত হয়ে পড়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান নেতৃত্ব দিয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠন ও উৎপাদনমুখী নীতি চালুর মাধ্যমে দেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তার মৃত্যুর পর আবার অস্থিরতা তৈরি হলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন জোরদার হয়।’

চিফ হুইপ বলেন, ‘বাংলাদেশ বারবার সংকট, স্বৈরশাসন ও অন্ধকার সময় পার করে এগিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও নির্যাতন, গুম, বিচারহীনতা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন আবার একটি ‘‘নতুন সূর্যোদয়ের’’ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ সেই প্রেক্ষাপটে তিনি সব পক্ষকে বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের আহ্বান জানান।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘দল-মত ভিন্ন হলেও একটি ‘‘ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম ও মানবিক বাংলাদেশ’’ গঠনে সবার ঐক্য থাকা উচিত।’

একইসঙ্গে তিনি বিরোধী দলের বক্তব্যেরও প্রশংসা করে বলেন, ‘কার্যকর সংসদ গঠনে অতীতের সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’

সংসদকে প্রাণবন্ত করার আগে কার্যকর করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংসদ যদি কার্যকর না হয়, তাহলে শুধু প্রাণবন্ত হলেও লাভ নেই।’ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সংসদে এনে যুক্তিসংগত সমাধানের চেষ্টা করার আহ্বান করেন তিনি।

চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি ও গ্যাস ইস্যুতে সংসদে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার ফলে জনমনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’

তিনি জানান, সরকার ও সংসদ সদস্যরা ব্যক্তিগত সুবিধা ত্যাগ করে জাতীয় স্বার্থে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ‘প্লট নেব না, গাড়ি নেব না— এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, জাতির স্বার্থে।’


সমন্বিত নিরাপত্তা জোরদারে আনসার-বিসিবির চুক্তি

আপডেটেড ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৫৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদরদপ্তরে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আনসার ও ভিডিপি’র মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ক্রিকেট ভেন্যুগুলোতে সমন্বিত, আধুনিক ও পেশাদার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপিত হলো। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং বড় পরিসরের আয়োজন নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এবং বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য ও সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ।

মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, বিসিবির সঙ্গে আনসার ও ভিডিপির দীর্ঘদিনের কার্যকর সহযোগিতা এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো লাভ করল।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ক্রীড়াঙ্গনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক, দক্ষ ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আনসার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য এবং সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপত্তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি বিষয়। ক্রিকেট ভেন্যু, খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা এবং দর্শকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য।’ তিনি জানান, এই চুক্তির আওতায় দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষিত আনসার সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা হবে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট ভেন্যুসমূহে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বরিশাল, বগুড়া, রাজশাহী, ফতুল্লা, পূর্বাচল, চট্টগ্রাম ও খুলনা—এই সাতটি স্টেডিয়ামে মোট ২৭২ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর আগে ঢাকার মিরপুর, কক্সবাজার এবং সিলেট—এই তিনটি স্টেডিয়ামে ১০৭ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, যা এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা নির্দেশ করে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ, বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজাম উদ্দিন চৌধুরী এবং হেড অব সিকিউরিটি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামিম ফরহাদ (অব.)।

এই সমঝোতা স্মারক দেশের ক্রীড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজতর হবে, বিদেশি দল, কর্মকর্তা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন একটি নিরাপদ ও বিশ্বস্ত গন্তব্য হিসেবে আরও সুদৃঢ় অবস্থান অর্জন করবে। পাশাপাশি, বৃহৎ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি টেকসই, আধুনিক ও বিশ্বমানের নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে ওঠার পথ সুগম হবে।


বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করল বিমান

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একযোগে ১৪টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্যে মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সাথে চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশালাকার বাণিজ্যিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বিমানের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই বিনিয়োগের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের আকাশসেবা খাতের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।

অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি এই চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "১৪টি উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং বিমানকে এমন একটি স্বল্পসংখ্যক এয়ারলাইন্সে পরিণত করেছে।" তিনি আরও জানান, নতুন ৭৮৭-১০ মধ্যপ্রাচ্য রুটে এবং ৭৮৭-৯ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ৪টি ৭৩৭-৮ বিমান যুক্ত হওয়ায় বিমানের স্বল্প দূরত্বের রুট আরও আধুনিক হবে। এই আধুনিক উড়োজাহাজগুলো প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীদের বিশ্বমানের ভ্রমণ সুবিধা নিশ্চিত করবে।

বাণিজ্য ঘাটতি সমন্বয়ের লক্ষ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উড়োজাহাজ কেনার প্রাথমিক সমঝোতা করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় এই চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলো। চুক্তির আওতায় বিমান ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স বিমান সংগ্রহ করবে। এই বহরের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবরে সরবরাহ করা হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে ২০৩৫ সালের মধ্যে সব কটি বিমান বিমানের বহরে যুক্ত হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, "এটি শুধু বিমান ও বোয়িংয়ের মধ্যে একটি ক্রয়চুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব।" তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বৈশ্বিক সক্ষমতা ও সংযোগ বাড়বে।" অনুষ্ঠানে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থেকে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিমানের এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৪৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

হৃদরোগের চিকিৎসার পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আগামী ৯ মে তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকা ত্যাগ করবেন। দাপ্তরিক একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই সফরের জন্য তিনি ইতোমধ্যে সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন লাভ করেছেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে তাঁর এই সফর ঘিরে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

৭৬ বছর বয়সি রাষ্ট্রপতির এই বিশেষ সফরে তাঁর সঙ্গে থাকছেন সহধর্মিণী ডা. রেবেকা সুলতানা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। লন্ডনের একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। দীর্ঘ এক সপ্তাহের এই সফর শেষে আগামী ১৭ মে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ইতিপূর্বে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতির কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল। মূলত সেই অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবেই এই লন্ডন সফরের আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তত্ত্বাবধান করছে।


সাবেক প্রেস সচিবের ভাই আব্দুল্লাহকে বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ভাই এবং বর্তমান স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে বদলি করে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বদলির পর তার চাকরি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগে থাকার সময়েই চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান আবু নছর। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গত বছর তাকে কিছুদিনের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়।


ঢাকার প্রথম নারী এসপি হলেন শামীমা পারভীন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা জেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পুলিশ অধিদফতরে কর্মরত শামীমা পারভীন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি) হিসেবে সর্বশেষ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে দায়িত্ব পালন করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

২০০৬ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করা শামীমা পারভীন দীর্ঘ ১৮ বছরের কর্মজীবনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

ঢাকার ইতিহাসে প্রথম নারী পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের পেশাগত জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য হাইতিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১৩৯ জন পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ফিমেল ফরমড পুলিশ ইউনিটের কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দেন।

এছাড়া তিনি ডিএমপির ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে সহকারী কমিশনার হিসেবে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এআইজি পদে থেকে পুলিশ সদস্যর সন্তানদের শিক্ষা ও ক্রীড়া বিষয়ক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ ২০২২’ অর্জন, সিডনির ম্যাকুয়ারি ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার অব কাউন্টার টেরোরিজম ও মাস্টার অব সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন শামীমা পারভীন।

তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিনোলজিতে এমএসএস ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে তিনি ইতালির COESPU থেকে ‘প্রোটেকশন অব সিভিলিয়ান’ এবং সিডনি ইউনিভার্সিটি থেকে ‘উইমেন লিডারশিপ’ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

নড়াইল জেলার সন্তান শামীমা পারভীন বর্তমানে ঢাকার অফিসার্স ক্লাব এবং বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে আছেন।

এদিকে সম্প্রতি ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের উপসচিব ফরিদা খানমকে নিয়োগ দিয়ে গত ২২ এপ্রিল এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।


ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে সরকার ব্যবহার করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ধর্মকে ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথাবলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেসসচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।

এসময় বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে।

প্রতিটি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে।

বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন।

এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা।

সরকারপ্রধান বলেন, যে কয়টি জিনিস এখানে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে এই নির্দেশনা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যার যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে সবাই মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্মাণ করতে পারবো।

বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না।

রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সবাই ‘আমরা বাংলাদেশি’।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের‌ সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেন।

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পার্বত্য বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।


ধাপে ধাপে নিয়োগ পাবে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে অন্তত ১ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধির চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

তিনি বলেন, আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে অন্তত ১ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট মোকাবিলায় ধাপে ধাপে প্রায় ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে প্রিভেনশনকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার দিকে এগোনোর প্রচেষ্টা চলছে, যাতে রোগ প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এছাড়া জরুরি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে হামের প্রকোপ কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


banner close