রোববার, ২ আগস্ট ২০২৬
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেশে ফেসবুক-ইউটিউবের কোম্পানি নিবন্ধন চায় সংসদীয় কমিটি

আপডেটেড
২২ মার্চ, ২০২৩ ২০:২৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২২ মার্চ, ২০২৩ ২০:১৯

ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে দেশে নিবন্ধনের আওতায় চায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো যেন বাংলাদেশে আইনানুগভাবে নিবন্ধনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে এই কমিটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে বলা হয়, ফেসবুক, ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে অনেক সময় নানা অপপ্রচার চালানো হয়। এর সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ও আছে। কিন্তু কোম্পানিগুলো দেশে নিবন্ধিত না হওয়ায় এসব ক্ষেত্রে অনেক সময়ই করার কিছু থাকে না। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সব সময় সাড়া পাওয়া যায় না। তাই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের বলেন, ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক। এই মাধ্যমগুলো দেশে ব্যবসা, বিনোদন, ব্যক্তিগত যোগাযোগের কাজে যেমন ব্যবহৃত হচ্ছে, তেমনি সাইবার অপরাধীরাও অবাধে বিচরণ করছে। অনেক নারী, শিশু, সাধারণ মানুষ তাদের শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বিষয়ে জবাবদিহি করতে হলে কোম্পানিগুলোর এখানে নিবন্ধিত হওয়া, তাদের কার্যালয় থাকা উচিত।

ইনু আরও বলেন, এটি করা হলে সরকার ও কোম্পানিগুলো এসব বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। ভারত, অস্ট্রেলিয়াসহ কিছু দেশ এটি করতে বাধ্য করেছে। তা ছাড়া এসব মাধ্যমে যে ব্যবসা হচ্ছে, তার কোনো কর সরকার পাচ্ছে না। এসব কারণে কমিটি কোম্পানিগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছেন।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কমিটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, অনলাইন-আইপি টেলিভিশন এবং অনলাইন রেডিও নিবন্ধন দেয়ার ক্ষেত্রে সচেতনভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করে। বৈঠকে দ্য সেন্সরশিপ অব ফিল্মস অ্যাক্ট যুগোপযোগী করার জন্য ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন’ দ্রুত প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ বেতারের পদ সৃজনসংক্রান্ত নথি দ্রুত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সিমিন হোসেন রিমি, মুহম্মদ শফিকুর রহমান, মুরাদ হাসান এবং খন্দকার মমতা হেনা বৈঠকে অংশ নেন।


নির্বাচিত

ঢাকার চারপাশের নদীপথে আবারও ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা সরকারের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে চারপাশের নদীপথকে ব্যবহার করে আবারও আধুনিক ওয়াটার বাস সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে নদীদূষণ, নাব্যতা সংকট এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মতো প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করেই এই সেবা সচল করতে চায় প্রশাসন। রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বেসরকারি খাতকে এই সেবায় যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

সেতুমন্ত্রী জানান, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী ওয়াটার বাসগুলো গাবতলী থেকে যাত্রা শুরু করে আশুলিয়া, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ এবং সদরঘাট ঘুরে পুনরায় গাবতলীতে ফিরবে। তবে এই পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীদূষণ। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ওয়াসা এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার অন্তত ৪২৪টি পয়েন্ট দিয়ে সরাসরি বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। এসব উৎসমুখ বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী মনে করেন, নদীর পরিবেশ মনোরম করা গেলে মানুষ দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশে যাতায়াতের পাশাপাশি ভ্রমণের আনন্দও উপভোগ করতে পারবে।

নৌপথের অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে শেখ রবিউল আলম বলেন, টঙ্গীর রেলসেতুর উচ্চতা কম হওয়ায় বড় আকারের ওয়াটার বাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে সেতুর এক পাশে যাত্রী নামিয়ে অন্য পাশে অপেক্ষমাণ বাসে তোলার ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া নাব্যতা সংকট মোকাবিলা এবং নিয়মিত বিরতিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়াটার বাস নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, অতীতে বিআইডব্লিউটিসি এই সেবা পরিচালনা করে বড় অংকের লোকসান দেওয়ায় তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে এবার কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখানোয় তাদের সাথে অংশীদারিত্বের বিষয়টিও সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পের জন্য এখন পর্যন্ত আলাদা কোনো বাজেট বরাদ্দ করা হয়নি; বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব সক্ষমতার আওতায় প্রাথমিক কাজগুলো সম্পাদন করবে। প্রয়োজনীয় চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং তখন বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা ও কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ঢাকার চারপাশের নদীপথকে একটি সাশ্রয়ী ও আকর্ষণীয় যোগাযোগ মাধ্যমে পরিণত করা।


নির্বাচিত

পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি সংগৃহীত
আপডেটেড ২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:২৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করতে পারে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, জনগণের পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে হলে পুলিশকে অবশ্যই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে পেশাদার, মানবিক এবং সেবামুখী বাহিনী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। রোববার সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে নবীন কর্মকর্তাদের পূর্ণ সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, পেশাগত জীবনে কোনো ধরণের অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার যেন তাদের স্পর্শ করতে না পারে। বিগত শাসনের সময় পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের জন্য মানবিক আচরণ ও নিরপেক্ষতার বিকল্প নেই বলেও তিনি মনে করেন। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ যেন পুলিশি সেবার জন্য এসে কোনো হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করাই এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ।

প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল জালিয়াতি দমনে নবীন কর্মকর্তাদের কারিগরি পারদর্শিতা অর্জনের তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারের মাঝে মেধার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করেন মন্ত্রী।

প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া ‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’—এই দুই শাখায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। এছাড়া আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ‘বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ এবং এ বি এম মামুন ‘বেস্ট শ্যুটার’ নির্বাচিত হন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মূলত জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।


নির্বাচিত

কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় মার্কিন বিনিয়োগের আভাস

* তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গভীর আস্থা আছে: সার্জিও গর * বাংলাদেশ সফরে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদল
তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গমসহ কৃষি ও অন্যান্য খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ সময় ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিবর্তনশীল বাংলাদেশের কথা যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে উবয় দেশের পারস্পারিক স্বার্থ নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এর ইঙ্গিত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ট্রাভেল অ্যাডভাইজরির ইতিবাচক সংশোধন করেছে।

সার্জিও গর বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে যে, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। বৈঠকে আগামী মাসে ইউএস বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর নিয়েও আলোচনা হয়।

শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সার্জিও গর আশ্বাস প্রদান করেন, বাংলাদেশে এফডিএর পরীক্ষাকার্য পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তিনি সহায়তা করবেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশন (ডিএফসি)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে বিশেষ দূত জানান, বাংলাদেশে ডিএফসির বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে কাজ করবে। ঢাকায় মার্কিন বিনিয়োগকারীরা শিগগিরই একটি ইউএস ইনভেস্টর সামিট আয়োজন করতে আগ্রহী। তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে নিজে কাজ করছেন বলেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন৷

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশের বিশেষ আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন বলে জানান উপপ্রেস সচিব। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার আগের দিনের সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদান এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ধন্যবাদ জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকের বেশি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থেকে আসে। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ সফরে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদল:

বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেন। এই ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শেষে এ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সফর গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হবে।

তিনি বলেন, সকালে অনুষ্ঠিত আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। দেশটির প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরেছে এবং একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

গত পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত নীতি ও পদক্ষেপগুলোকে মার্কিন পক্ষ সাধুবাদ জানিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি সুদৃঢ় অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) থেকে যে ট্রাভেল অ্যাডভাইজারি করা হয়, তার বর্তমান অবস্থান মার্কিন বিনিয়োগকারী ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এর মাধ্যমে মার্কিন উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে এসে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এক্সপ্লোর করতে পারবেন। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে ও দেশে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থানীয় বিজনেস কমিউনিটির প্রথম সারির উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন। বৈঠকে সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।

বিগত স্বৈরাচারী শাসনের কারণে রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বাণিজ্য-বিনিয়োগ ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার তা কাটিয়ে ওঠার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালাচ্ছে। বৈঠকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি নিরসন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর ও শুল্ক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (যেমন: বেজা ও বিইপিজেডএ) বিনিয়োগের জটিলতা দূর করার তাগিদ দেন।’

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগের সঙ্গে শোনেন এবং একটি ‘প্রো-বিজনেস’ ও ‘প্রো-ইনভেস্টমেন্ট’ পরিবেশ নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।

মাহদী আমিন জানান, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও দ্রুত ও সহজ করতে ব্যবসায়ী সমাজের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর এবং ঢাকা বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বন্দরে কমার্শিয়াল অ্যাক্টিভিটি সচল রাখতে ২৪/৭ সেবা প্রদানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে দ্রুত নির্দেশ দেন।

দেশের বিশাল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা তরুণ সমাজকে দক্ষ ও আত্মকর্মসংস্থানে উপযোগী করে গড়ে তোলাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা। ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- এই নীতিকে ধারণ করে জনবান্ধব বাজেট ও নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক।

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গভীর আস্থা আছে: সার্জিও গর

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গভীর আস্থা রয়েছে এবং তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। গতকাল সকালে তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকটি অত্যন্ত উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

সার্জিও গর বলেন, আস্থার প্রতীক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নিয়ে তাদের আগের ভ্রমণ সতর্কবার্তা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে। এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বার্তা যাবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। গত শুক্রবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন মার্কিন বিশেষ দূত। এ সাক্ষাৎকালে সার্জিও গর রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সহযোগিতায় বাংলাদেশে পুনরায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও দুই পক্ষ সম্মত হয়।

মার্কিন বিশেষ দূত বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর ‘প্যাক্স সিলিকা’ নামে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার একটি জোট গঠন করেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশও এই উদ্যোগের একটি অংশীদার হতে পারে বলে তিনি জানান।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মো. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব

প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ে কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) উদ্যোগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ে কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) উদ্যোগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আছে, তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আর দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তা অনুধাবন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা সবাই স্বীকার করছি যে, অনেক সমস্যা আছে। সরকার নিশ্চয়ই এতটুকু প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের বয়স এখনো ৬ মাস হয়নি। এর মধ্যেই আমরা কয়েকবার বসেছি। প্রথমবার আপনাদের সঙ্গেই বসেছিলাম, পরে ফোরামের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। সেক্টরভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।

আগের বৈঠকের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেসবের অনেকগুলোরই সমাধান হয়েছে। আজকের বৈঠকেও নতুন করে বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে এসেছে এবং সেগুলো নিয়েও কাজ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে সরকার। তার ভাষায়, আমরা যত বেশি বসতে পারব, তত বেশি আপনাদের সমস্যাগুলো জানতে পারব এবং সেগুলোর সমাধান করতে পারব।

আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান বের হয়ে আসে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনার মধ্য দিয়েই কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসে। এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত থাকলে আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন। সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যা পর্যালোচনা করে ২১টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বাকি ৭টি বিষয় এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রূপরেখাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেয় সরকার।

সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দেশের সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে দেশের সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা ঢাকা বিমানবন্দরে আমদানি-রপ্তানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম টোয়েন্টি ফোর সার্ভিস করা যায় কিনা। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের সব দপ্তর মিলে সামনের দিনগুলোতে নিশ্চিত করবে যেন বাংলাদেশের প্রতিটি বন্দর ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস প্রোভাইড করতে পারে। এর মাধ্যমে ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট আরো ফাস্ট ও ত্বরান্বিত হবে।’

শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ এ বৈঠকে বেসরকারি খাতের নানা চ্যালেঞ্জ, বিদ্যমান সমস্যা ও বিনিয়োগের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

মাহদী আমিন বলেন, ‘দেশে বেশ কিছু ইকোনমিক জোন, বেজা ও বেপজা রয়েছে। সেগুলোতে কিভাবে আরো বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায় এবং যেখানে জটিলতা রয়েছে তা কিভাবে সহজতর করা যায়, এসব নিয়ে প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরাও সেখানে নিজেদের মতামত দিয়েছেন।’

বেসরকারি খাতের বিকাশে সরকারের নীতিগত সহায়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই, যেখানে প্রাইভেট সেক্টরের জন্য সরকার থেকে পলিসি সাপোর্ট থাকবে। তার জন্য একটা প্রো-বিজনেস, প্রো-ইনভেস্টমেন্ট বাজেট আমরা দেখেছি এবং সেই নীতিমালাগুলোকে আমরা বাস্তবায়ন করব। যার মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড, অর্থাৎ আমাদের তরুণ ও নারীদের কর্মসংস্থান এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য আরো বিকশিত করা।’

প্রধানমন্ত্রীর একটি স্লোগান তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলেন—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। সেই নীতিকে ধারণ করেই বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আজকের এই আলোচনা হয়েছে।’ আমাদের জনবান্ধব সরকার, জনবান্ধব বাজেট এবং জনবান্ধব নীতিমালা কার্যকর করার এই পথযাত্রাকে প্রাইভেট সেক্টরের প্রতিনিধিরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

পলিসিসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আসায় ব্যবসায়ীরা সন্তুষ্ট জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ব্যবসাকে আরো সহজীকরণ করা, বিনিয়োগকে আরো প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বাড়ানো এবং বাংলাদেশের জন্য বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।’


নির্বাচিত

ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের ক্ষমতার লোভ শিখিয়েছে: হোসেন জিল্লুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিপুল জনপ্রত্যাশা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার তিনটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছেন হোসেন জিল্লুর রহমান, যিনি ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা ছিলেন। তার মতে, এর একটি হলো, তরুণদের ক্ষমতালোভী করে তোলা। হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস সরকার তরুণদের ভুল পথে ‘গাইড’ করেছে। ‘ক্ষমতার লোভটাই’ তাদের শিখিয়ে দিয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন হোসেন জিল্লুর রহমান। এর আয়োজক ছিল যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন পরিচালিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী গবেষণা কনসোর্টিয়াম সোয়াস অ্যান্টি–করাপশন এভিডেন্স। সভায় সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুশতাক খান এবং অধ্যাপক পল্লবী রায় এক-এগারো এবং জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশে এক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। তখন ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর ছিল, সেই সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন হোসেন জিল্লুর রহমান।

তার প্রায় দুই দশক পরে তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন অবসানের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। দেড় বছর পর গত ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে বিদায় নেয় এই সরকার। ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি।

হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, এই অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার প্রধান তিনটি ক্ষেত্র হলো—সরকারে আমলাদের যুক্ত করা, তরুণদের ভুল দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং নিজেদের সংস্কারকে নিজেরাই ছুড়ে ফেলে দেওয়া।

হোসেন জিল্লুর আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের মধ্যে ক্ষমতার প্রতি একধরনের আকর্ষণ তৈরি হয়েছে।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ইউনূস সরকার তরুণদের যথাযথ দিকনির্দেশনা দেয়নি। এর ফলে শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। সমাজে শিক্ষাকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থান রাষ্ট্রসংস্কারের যে আওয়াজ তুলেছিল, আমলাতন্ত্রের সঙ্গে সরকারের আপস তাতে বাধা হয়ে উঠেছিল বলে তার পর্যবেক্ষণ।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বুঝতে পারেনি কোন মুহূর্তে সাহসী ও মৌলিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা শুরু থেকেই রক্ষণশীল ও নিরাপদ পথ বেছে নেয়। পুরোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভাঙার বদলে একই ধরনের আমলাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়। যার ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বদলে আগের ব্যবস্থাই কার্যত বহাল থাকে।

অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের ওপর জোর দেওয়ার কথা মুখে বললেও তাতে আন্তরিকতা ছিল না বলে মনে করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তার মতে, সে কারণেই সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেটি পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ইউনূস সরকার সংস্কার শব্দটা চালু করেছে। অথচ তাদের নিজেদের তৈরি করা সংস্কার কমিশন যেসব সুপারিশ দিয়েছে, কিছুই তারা দেখেনি। ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। তারা একটা ‘রিফর্ম গেম’ খেলেছে।


নির্বাচিত

চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফ্যাসিবাদের পতন এবং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর রাজপথে নতুন করে অস্থিতিশীলতা ও চক্রান্তের চেষ্টা না করে সবাইকে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর ধরে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া ও আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের সাহসের সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ সংগ্রামের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যুক্ত হয়ে বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। গণঅভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর এখন আর কারো রাজনৈতিক বিভ্রান্তিতে থাকার সুযোগ নেই, এখন সবার মূল কাজ দেশ গড়া।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘একটি পক্ষ দেশ পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগ না দিয়ে পার্লামেন্টের বাইরে রাজপথে নাটক তৈরি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টির চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। মনে রাখতে হবে, সরকার এই চক্রান্তের গভীরতা বোঝে। জনগণ দায়িত্ব দিয়েছে বলেই সরকার অত্যন্ত ধৈর্য ও অভিভাবকের মতো আচরণ করছে। তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণে প্রয়োজন হলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করবে না।’

তথ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আন্দোলন কারো কারো পেশা হতে পারে, কিন্তু বিএনপির মূল লক্ষ্য ছিল ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। সে লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় এখন আমাদের একমাত্র অঙ্গীকার দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে মুখ্য উদ্বোধকের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আগামী প্রজন্মের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস ও ত্যাগের কথা জানতে পারবে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘মাজারে হামলা করা, বাউলদের মারধর করা বা মানুষের ওপর অন্যায় অত্যাচার করা আমাদের সংস্কৃতি বা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নয়। এসব অপসংস্কৃতি বন্ধে সরকারকে আরও কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে।’ পাশাপাশি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরই চূড়ান্ত পরিণতি উল্লেখ করে তিনি চব্বিশের আন্দোলনে নিহত সকল শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য দ্রুত রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বিগত স্বৈরাচার আমলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন লড়াইয়ের ধারাবাহিকতাতেই জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। চব্বিশের আন্দোলনের বিজয়ী শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের কৃত্রিম বিভেদ ও ষড়যন্ত্র তৈরি না করে পতিত ফ্যাসিবাদের চক্রান্ত রুখে দিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও আমরা বিএনপি পরিবার- এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, চব্বিশের আন্দোলনে বিএনপি কখনোই একক কৃতিত্ব দাবি করেনি। এটি ছিল দল-মত নির্বিশেষে পুরো জাতির আন্দোলন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষ, মা-বোনদের অবদান খাটো করার সুযোগ নেই। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে পুঁজি করে দেশে কোনো ধরনের নৈরাজ্য তৈরি না করে সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে হাত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে জাতির ক্রান্তিকাল সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করায় ফটো সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বিপিজেএ গ্যালারিতে সংরক্ষিত বিগত ১৫ বছরের গণসংগ্রাম ও চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দুর্লভ আলোকচিত্রসমূহ পরিদর্শন করেন।


নির্বাচিত

দেশে ৫০৩টি মিনি স্টেডিয়াম হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, সারা দেশে ৫০৩টি মিনি স্টেডিয়াম হবে। দ্বিতীয় ধাপের আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসন যত দ্রুত সহযোগিতা করবে, তত দ্রুত কাজ বাস্তবায়ন হবে। তখন সারা দেশের মতো গোপালপুর, ভূঞাপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম হবে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোলকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী চার হাজার ৫৯৩টি ইউনিয়নে খেলা উপযোগী মাঠ তৈরি করতে চাই। এছাড়া খেলাধুলার মাধ্যমে আমরা সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে চাই। মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আসক্তি থেকে আমাদের সন্তানদের দূরে রাখতে চাই। সর্বোপরি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে চাই। খেলাধুলার মাধ্যমে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আমূল পরিবর্তন করতে চাই।

খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু, সংসদ সদস্য রবিউল আউয়াল লাবলু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মিয়া প্রমুখ।

খেলায় ১-০ গোলে গোপালপুর উপজেলাকে হারিয়ে সদর উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রায় দুই যুগ পর টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে অন্তত লক্ষাধিক দর্শক খেলা উপভোগ করেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত তারেক রহমানের হাতে: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি।

শনিবার (১ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানের কাছে এই দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়।

বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও একই কথা জানান।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বৈঠকে মির্জা ফখরুল, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয় ছাড়াও দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয়েও আলোচনা হয়।


নির্বাচিত

বছরের শেষের দিকে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার আলো দেখতে পাবো: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আমাদের কারিগরি কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস অন্তত পাইলট প্রকল্প হিসেবে হলেও এ বছরের শেষের দিকে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার আলো দেখতে পাবো। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও চাওয়া-পাওয়ার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটবে।’

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্প এবং তিস্তার নদী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বুড়ি তিস্তা পূর্নখননে বিগত সরকার ১৩০ কোটি টাকা দিয়ে পাঁচটি গ্রুপে কাজটা শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় তা আলোর মুখ দেখেনি। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমরা ভুক্তভোগী মানুষ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে মামলা প্রত্যাহারসহ বুড়িতিস্তার এই সমস্যার সমাধান করব।’

এছাড়াও তিস্তা নদী তীরবর্তী ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানী এলাকার তীব্র নদী ভাঙন পরিস্থিতি দেখে দ্রুত জিও ব্যাগ ও টিউব ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের সম্পদ সুরক্ষায় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের কমিটমেন্ট একটাই, আমরা চাই না কোনো মানুষের একটি বাড়ি, একটি ঘর বা এক ইঞ্চি জমিও নদীতে বিলীন হয়ে যাক।’


নির্বাচিত

মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কৃষি ও আইটি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের কৃষি, ওয়্যারহাউজিং, আইটি এবং বিভিন্ন শিল্প খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সয়াবিন, তুলা, গম ও কৃষি খাতের আধুনিকায়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এই বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

বৈঠকে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলাদেশে দৃশ্যমান স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এর প্রতিফলন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জন্য ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি বা ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করেছে, যা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ যাচাই করতে আগামী মাসে ‘ইউএস বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করবে এবং শীঘ্রই একটি ‘ইউএস ইনভেস্টর সামিট’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

আইটি খাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিশেষ আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন। এর প্রেক্ষিতে বিশেষ দূত গর বলেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রাখে এবং এ বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেবেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনের (এফডিএ) সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন’ (ডিএফসি)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সার্জিও গর আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশে এফডিএ’র পরীক্ষাকার্য পুনরায় চালু করতে তিনি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বিশেষ দূত কক্সবাজার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশ সরকারের মানবিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি এই সংকটের দ্রুত ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রীও রোহিঙ্গাদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থসহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মূলত এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

মেট্রো স্টেশনের নিচে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু, মিরপুর ও ফার্মগেটে আতঙ্ক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এবং ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তুর উপস্থিতির খবরে জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। এ সংবাদের পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বিশেষজ্ঞরা রহস্যময় বস্তুগুলো পরীক্ষার কাজ শুরু করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক জানান, ‘মিরপুর ও তেজগাঁও-দুই জায়গায় একসঙ্গে বোমা পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করতে পুলিশের দল কাজ করছে।’

তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের একটি পিলারের সন্নিকটে একটি পরিত্যক্ত বস্তা পাওয়া গেছে যা থেকে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে অবিলম্বে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে তলব করা হয়েছে। বর্তমানে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যশৈনু মারমাসহ পুলিশের একটি দল সেখানে অবস্থান করছেন। বেলা ১টা ২৮ মিনিটের দিকে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। যদিও তল্লাশি ও পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে, তবে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল এখনো স্বাভাবিক আছে।

অন্যদিকে মিরপুর ১০ নম্বর স্টেশনের পরিস্থিতি নিয়ে মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার গণমাধ্যমকে জানান যে, স্টেশনের নিচে একটি সন্দেহভাজন বস্তু পাওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসি সদস্যরা তদন্ত চালাচ্ছেন। এটি আসলে কোনো ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেট্রোরেল সংলগ্ন সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নজরদারি ও সতর্কতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত মতামতের জন্য পুলিশ অপেক্ষা করছে।


নির্বাচিত

মার্কিন ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী: সার্জিও গর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং শীঘ্রই একটি প্রতিনিধি দল এ দেশে বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে আসছেন বলে জানিয়েছেন সফররত মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গর। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সার্জিও গর জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তার আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার অফিসে একটি খুব ভালো বৈঠক শেষ করেছি। যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়।” বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষে মার্কিন সরকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জন্য ‘ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি’ বা ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করেছে। এর ফলে পর্যটক এবং বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে নতুন উৎসাহ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

বিশেষ দূত আরও জানান, আগামী সপ্তাহেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছেন। তারা মূলত ওষুধ শিল্পসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের সুযোগগুলো খতিয়ে দেখবেন। সার্জিও গর তার বার্তায় নিশ্চিত করেন যে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অবিশ্বাস্য সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা এই সম্পর্ককে আরও উচ্চতর ধাপে নিয়ে যেতে অত্যন্ত আগ্রহী।

উল্লেখ্য, সার্জিও গর গত ৩০ জুলাই তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় আসেন। সফরের প্রথম দিন তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দ্বিতীয় দিন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন। আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে তার এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের সমাপ্তি ঘটল।


নির্বাচিত

banner close