সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
২০ আশ্বিন ১৪৩৩

বায়ুদূষণে আজ নবম ঢাকা, শীর্ষে চিয়াংমাই

ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৫ মার্চ, ২০২৩ ১১:৪০

বাতাসের নিম্নমানের বিচারে গতকালের চেয়ে আজ শনিবার কিছুটা উন্নতি হয়েছে ঢাকার। দ্বিতীয় রোজা এবং সরকারি ছুটির দিনটিতে রাজধানী শহর বাতাসের নিম্নমানের দিক থেকে বিশ্বের ১০০ শহরের তালিকায় নবম স্থানে জায়গা নিয়েছে। আগের দিন শুক্রবার নগরীর অবস্থান ছিল ষষ্ঠ।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বাতাসের মানবিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার বলছে, শনিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ঢাকার অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। এ সময় নগরের স্কোর ছিল ১৪০। গতকাল ঢাকার স্কোর ছিল ১৫৫।

শনিবার উল্লিখিত সময়ে তালিকায় বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই শহর। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল তাইওয়ানের কাউসিউং ও ঘানার আক্রা।

আইকিউএয়ারের তথ্য মতে, আজ ওই সময়ে ঢাকার বাতাসে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অতি ক্ষুদ্র কণা পিএম২.৫-এর উপস্থিতি ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আদর্শ মাত্রার চেয়ে ১০ দশমিক ৩ গুণ বেশি। ওই সময়ে চিয়াং মাইয়ের বাতাসে পিএম২.৫-এর উপস্থিতি ছিল আদর্শ মাত্রার চেয়ে ২৮ দশমিক ৬ গুণ বেশি।

নির্দিষ্ট স্কোরের ভিত্তিতে কোনো শহরের বাতাসের ক্যাটাগরি নির্ধারণের পাশাপাশি সেটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাকি ক্ষতিকর, তা জানায় আইকিউএয়ার। শূন্য থেকে ৫০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘ভালো’ ক্যাটাগরিতে রাখে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ এ ক্যাটাগরিতে থাকা শহরের বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘মধ্যম মানের বা সহনীয়’ হিসেবে বিবেচনা করে আইকিউএয়ার।

প্রতিষ্ঠানটির র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে ধরা হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরে থাকা শহরের বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরির বিবেচনা করা হয়। র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। তিন শর বেশি স্কোর পাওয়া শহরের বাতাসকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচনা করে আইকিউএয়ার।

আজ উল্লিখিত সময়ে ঢাকার বাতাসের স্কোর ছিল ১৪০, যা ‘‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’।


নির্বাচিত

সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নাগরিকদের জন্য শুধু একটি ঘর নয় বরং নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন বাসস্থান নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ ও মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার এবং এ অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।'

আজ সকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিশ্ব বসতি দিবসের অর্থ শুধু একটি ঘর নয়, এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহন, উন্নত সড়ক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান এবং সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ সরাসরি সম্পৃক্ত।'

বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে সবার জন্য নিরাপদ বসতি নিশ্চিত করা সহজ নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের জন্য যতটা সহজ, বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে তা ততটা সহজ নয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।'

বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বাড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। দেশের অন্যান্য শহরেও প্রায় একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় শহরাঞ্চলে কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাসের কারণে নগরজীবনে নানা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।'

এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'শহরগুলোতে সব মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।'

পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একইসঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও সরকারের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা প্রদান বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'এর ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন আরও সহজ হবে।'

শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করে শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানো একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে।'

তিনি বলেন, 'দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয় বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন।'

সরকার ইতোমধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাসযোগ্য আবাসন তৈরিতে পরিবেশ সুরক্ষাকে সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সাম্প্রতিক বৈশ্বিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশকে নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মুখোমুখি করছে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট মোকাবিলায় বিশেষ করে সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।'

তিনি বলেন, 'দেশের নগর ও শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে কিছুটা কঠিন। এ ক্ষেত্রে আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতি উত্তরণে কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।'

নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হলে 'সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান'- এটি দেশের নাগরিকদের সামনে একটি বিদ্যমান বাস্তবতা হয়ে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।’

বিশ্ব বসতি দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য- ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থসমূহ পাঠ করা হয়।

এ সময় বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬' উদযাপন উপলক্ষে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের আগে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন।

এদিকে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একই মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিস ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক।


নির্বাচিত

লটারির মাধ্যমে ঢাকায় সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ৬ অক্টোবর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কর্মকর্তা বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির রোধে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামীকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই লটারি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বিশেষ সিদ্ধান্তে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং লটারি পরিচালনা কার্যক্রমে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, ঢাকা জেলার আওতাধীন বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পদগুলোর বিপরীতে বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রারদের তালিকা থেকে সরাসরি লটারির মাধ্যমে নতুন কর্মস্থল বণ্টন করা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের জমিজমা ও সম্পত্তি নিবন্ধনসংক্রান্ত নাগরিক সেবাগুলো আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত করার উদ্দেশ্যেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর সেবা কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং পদায়ন নিয়ে যেকোনো ধরনের অস্বচ্ছতা দূর করে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে এই বদলি কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।

ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ পদায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে প্রশাসনিক এই সংস্কার মাঠপর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে বড় ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

আবাসন মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০৬
বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার উদ্বোধন করেছেন।

আজ সকালে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগদানের পর প্রধানমন্ত্রী এ মেলার উদ্বোধন করেন।

আবাসন ও নির্মাণ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা মেলায় অংশ নিচ্ছে।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি আবাসন ও নির্মাণ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। পরে তিনি মেলার পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এর আগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন তারেক রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়ণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন।


নির্বাচিত

শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধই থাকবে হরমুজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তিতে থাকা সাতটি শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। বার্তাসংস্থা নুরনিউজ গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।


এতে বলা হয়েছে, স্পিকার গালিবাফ বলেছেন, মার্কিনিরা, যারা মিডিয়ার সামনে ভিন্ন কথা বলে, তারা সম্প্রতি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তাদের মনে রাখতে হবে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং একপক্ষীয় দাবি চাওয়ার সময় শেষ। ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান খুবই স্পষ্ট এবং দৃঢ়, গত জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তিতে থাকা সাতটি শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না।’


এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিরসনে ইরানের কাছ থেকে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। যদি মার্কিনিরা এটি মেনে নেয় তাহলে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে যাবে।’ বিদেশি দূতদের কাছে ইরানি মন্ত্রী আরও বলেন, ‘হরমুজ খোলার জন্য ইরান তার শর্তগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। আর যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে।’


আরাগচি আরও বলেন, ‘তাদের আশা যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিকে বেছে নেবে।’ কিন্তু যদি তারা আবারও সামরিক পথে হাঁটে তাহলে ইরান প্রস্তুত আছে বলেও সতর্কতা দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যদি তারা আবারও সামরিক সমাধানের দিকে আগায়, আমরা আগের চেয়ে আরও বেশি প্রস্তুত এবং আমাদের নিজেদের রক্ষায় যা করার দরকার তা-ই করব।’


সাধারণ মানুষকে সেনা প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করল ইরান
রাষ্ট্রীয়ভাবে সাধারণ মানুষকে সেনা প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এ উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। আর এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সামরিক শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নিল তেহরান। তারা পরবর্তীতে জরুরি পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন।


ইরানি বার্তাসংস্থা ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ‘জানফিদা’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে রাজধানী তেহরানের তিনটি মিলিটারি ট্রেনিং সেন্টারে। জানফিদার অর্থ নিজের জীবনকে কোরবানি দেওয়া বা আত্মউৎস্বর্গ করা।


দেশটির সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আরিয়ান-নাজাদ বলেছেন, সেনাবাহিনীর চারটি ইউনিটের সেনারা এ প্রশিক্ষণ কাজ পরিচালনা করবেন।


তিনি জানিয়েছেন, প্রথমে একদমই সাধারণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর দেওয়া হবে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ।
ইরান এর আগে জানিয়েছিল, তারা জানফিদার অন্তত এক হাজার ব্যাটালিয়ন তৈরি করতে চায়। যারা সংকটময় সময়ে দেশের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে।


ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড ও প্যারামিলিটারি বাসিজের সঙ্গে এই সামরিক প্রশিক্ষণের সংশ্লিষ্টতা আছে। গত সেপ্টেম্বরে বাসিজের তত্ত্বাবধানে তেহরানের জানফিদার একটি ট্রেনিং সেন্টার খোলা হয়। সেখানে সাধারণ মানুষকে সামরিক প্রস্তুতি,

স্থানীয় নিরাপত্তা, নজরদারি, উদ্ধার অভিযান, অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, দেশটির কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, কারা এসব প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন এবং এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি সহায়ক সামরিক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে কি না।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

আজ রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সারাহ কুক।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।

তিনি জানান, সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক বিষয়াদি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

এ সময় দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আরও জানান, পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও সাক্ষাতে মতবিনিময় হয়।

এ সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সরকারি জান্তা বাহিনী এবং জাতিগত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যকার চলমান সংঘাতের ক্ষতিকর প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে পড়ছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই উদ্বেগের কথা জানান। বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ আশ্রয়হীন লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে স্থান দিলেও অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও সীমান্ত অস্থিরতার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করেছে।

বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখভালে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, যা বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ সংস্থাসমূহকে পূর্বের ন্যায় উচ্চ মাত্রার সহায়তা অব্যাহত রাখার জোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর কার্যকর বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি করবে, যা বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীকে নিজেদের আদি ভূমিতে ফেরত পাঠাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান জানান, তাঁদের তদন্তকারী দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন আশ্রয়শিবির সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রায় দুই শতাধিক ভিকটিম ও প্রত্যক্ষদর্শীর সরাসরি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে। সংগৃহীত এসব তথ্য-প্রমাণ ও নথি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালগুলোতে জমা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আইআইএমএম তাদের তদন্তকাজ কেবল ২০১৭ সালের বড় অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছে না; বরং সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইনে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষের ফলে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর যে নতুন করে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, তাও আন্তর্জাতিক আদালতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে মিয়ানমার অংশের পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের মারাত্মক ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তিনি জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে মিয়ানমারের পুঁতে রাখা বিপজ্জনক মাইনগুলো আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে চলে আসছে, যার ফলে সীমান্তবর্তী সাধারণ কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির গৃহীত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে বৈঠকে অবহিত করা হয়; একই সঙ্গে সম্প্রতি সীমান্ত পেরিয়ে আসা ভিকটিমদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে আইআইএমএম টিমকে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সম্মতি প্রদান করা হয়।


নির্বাচিত

যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক (ইনার সার্কুলার রিং রোড) নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

সভায় প্রধানমন্ত্রী সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে দ্রুত তা দূর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং কাজ শেষ করতে একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রকল্পের কাজে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

সৌদিতে হুথিদের ড্রোন হামলার নিন্দা বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা নগরীর তাইবাহ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। রবিবার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। বেসামরিক নাগরিক সেবা এবং জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো এই ধরনের সামরিক তৎপরতাকে আন্তর্জাতিক নিয়মরীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মসজিদে নববীসহ ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইচ্ছাকৃতভাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু এবং ইসলামের অন্যতম পবিত্রতম এই স্থানের মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর এমন আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে দেশটির পাশে থাকার বিষয়ে অটল অবস্থানের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, শান্তি এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ রাখার যেকোনো ন্যায্য প্রচেষ্টার প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি অব্যাহত থাকবে।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ সরকার। যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড—যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে—বাংলাদেশ তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।


নির্বাচিত

কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর অবস্থানে সরকার

কিশোর গ্যাং । প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে কিশোর গ্যাং দমনে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান নিয়েছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যেই দেশ থেকে কিশোরগ্যাং উচ্ছেদ ও নির্মূল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শহরাঞ্চলে কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন দেশব্যাপী বহুমুখী ও সমন্বিত ক্র্যাকডাউন (বিশেষ অভিযান) শুরু করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের শত শত সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেককে বুঝিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেককে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। সন্তানদের দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কিশোর গ্যাংয়ের বিদ্যমান তালিকা হালনাগাদ করার কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশসহ দেশের বিভিন্ন থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে বড় পরিসরে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্রাইম জোন ও গোয়েন্দা বিভাগের ডিসিদের নিয়ে সভাও হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনে কোনো সংশোধন বা সংযোজন প্রয়োজন কি না, কিংবা নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় ১৫৮টি কিশোর গ্যাং রয়েছে। এসব গ্রুপে মোট সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ২১৯ জন। তবে সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের মোট সংখ্যা ও সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি।

পুলিশের বিভিন্ন মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তা হলো ছিনতাই। মোবাইল ফোন, টাকা, মোটরসাইকেলসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কিশোরদের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জুয়া, চাঁদাবাজি, মাদক বহন ও বিক্রি, গ্যাং-সংঘর্ষ, আধিপত্য বিস্তার, ভাড়াটে হিসেবে হামলা এবং জমি ও স্থাপনা দখলের মতো গুরুতর অপরাধেও কিশোরদের ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। ফলে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চলমান অভিযান কতটা কার্যকর হয়, তার পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সামাজিক ও পারিবারিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কুমিল্লাসহ পাঁচ জেলায় ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। কুমিল্লায় প্রথম দফায় জেলার ১৮ থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এরপর দ্বিতীয় দফায় ২৫৪ জন এবং তৃতীয় দফায় ৪১৫ জনকে আটক করা হয়। তিন দফায় কুমিল্লায় মোট ১ হাজার ২৯৩ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামেও বিশেষ অভিযান চলছে। চাঁদপুরের আট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩৭০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৫৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

লক্ষ্মীপুরের ছয় থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ২৬৬ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২১৪ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ফেনী শহরে অভিযান চালিয়ে ৩৮ কিশোরকে আটক করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ১৭ থানা এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সমাজ-অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে প্রকৃত অপরাধ অনুযায়ী মামলা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাংয়ের ‘বড় ভাই’, পৃষ্ঠপোষক ও অর্থদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, প্রান্তিক পরিবারের পড়াশোনা ও কর্মের বাইরে থাকা কিশোরদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা দরকার। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং উৎখাত করা হবে: চিফ হুইপ

কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সমূলে উৎখাত করা হবে। কিশোররা অস্ত্র নিয়ে, চাপাতি নিয়ে ঘুরবে না। তারা বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাবে, লেখাপড়া করবে, দক্ষ হবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করবে। তারা রোবটিক যুগে প্রবেশ করবে।’

গত শুক্রবার এফডিসিতে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, ‘এখন যারা সমাজে সন্ত্রাস ও মব করছে বিগত শাসনামলেও তারাই এই অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাদের আমরা ছেঁকে বের করার চেষ্টা করছি। আমরা কোনো হেলমেট বাহিনী দেখতে চাই না, হাতুড়ি বাহিনী তৈরির কোনো ইচ্ছে বর্তমান সরকারের নেই। আমাদের দায় চাপানোর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’


নির্বাচিত

‘শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান’

ছবি: ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের কাছে খুব একটা বিকল্প ছিল না এবং ভারতে তাকে সে দেশের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী নিয়ে যায়নি’,—এ কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ‘ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান এবং বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় এর কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।’

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে এক প্যানেল আলোচনায় প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বারবার ভারত সরকার এ বিষয়ে বলেছে, একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, আর সেই প্রক্রিয়াটি আইনি ও সুসংগঠিত। সুতরাং এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা যে পরিস্থিতিতে ভারতে পৌঁছান, সে বিষয়েও ত্রিবেদী কথা বলেন। তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল না।

বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি।’

সে সময় বাংলাদেশের ‘মর্মান্তিক পরিস্থিতির’ কারণে ঘটনাটি ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি বিশ্বের কোথাও যেন আর কখনও না ঘটে।

হাইকমিশনার বলেন, শেখ হাসিনা যখন ভারতে পৌঁছান, তখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং প্রতিবেশী দেশ হিসেবে নয়াদিল্লিকে ওই পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি টেলিভিশনে দেখছিলাম, স্ক্রলে আসছিল যে তিনি অন্য কোনো দেশে কোথাও যাচ্ছেন।’

ত্রিবেদী বলেন, ‘সেই সময় শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ বিষয়ে আমাদের খুব একটা বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব ছিল, কারণ এমন অনেক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন আপনি তার জন্য প্রস্তুত থাকেন না।’

ওই পরিস্থিতিতে ভারতের বিকল্প কী হতে পারত, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কী বিকল্প ছিল? আমরা যদি বলতাম, না, আমরা তাকে গ্রহণ করব না, অবতরণের অনুমতিও দেব না—তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াত, আমি জানি না।’

তবে তিনি বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গে ফিরে এসে বলেন, ভারতের বিচারব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রত্যর্পণের বিষয়টি মোকাবিলা করা হচ্ছে।

দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো ভারতেও প্রাণবন্ত গণতন্ত্র রয়েছে এবং এর আইনি ব্যবস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ বারবার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।

আগস্টে ঢাকায় ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি উত্থাপন করেন। এরপর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশের অনুরোধটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী

ছবি: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি—সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে সরকার।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘ইকন্থন’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

এসময় মন্ত্রী বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি করছে, কমেছে রাজস্ব আদায়ও। এ অবস্থায় সরকারের অগ্রাধিকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংক খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে চায় বর্তমান সরকার। রপ্তানিতে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখা, বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি এবং মানুষের জন্য সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য।


নির্বাচিত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে টানা ১০ দিনের ছুটি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসার ছুটির তালিকা এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এ বন্ধ উপভোগ করা যাবে। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির সময়সূচিতে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে।

এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটিও বাড়িয়েছে সরকার। আগামী ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে নতুন করে ছুটি ঘোষণা করায় এবারের দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীরা মোট পাঁচদিনের ছুটি পাচ্ছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উপলক্ষে আগে থেকেই ছুটি নির্ধারিত ছিল। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নতুন করে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন।

অন্যদিকে ২০২৬ সালের সরকারি, বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচদিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। ছুটি শুরুর আগে ও পরে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীরা আরও চারদিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পেতে পারে।

পরদিন ২৫ অক্টোবর রোববার লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আরও একদিন ছুটির সুযোগ রয়েছে। ফলে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিনের পাওয়া যাবে। তবে এ ছুটির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটির সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।

এদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ-৪ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলেজে এ বছর ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি রাখা হয়েছে। এ হিসাবের মধ্যে মাঝের দুই শুক্রবার ও শনিবার অন্তর্ভুক্ত নয়। দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর পাশাপাশি প্রবারণা পূর্ণিমা ও ২৫ অক্টোবরের লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে এই ছুটি রাখা হয়েছে।


নির্বাচিত

ভিসা সাক্ষাৎকার নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের কড়া সতর্কবার্তা

মার্কিন দূতাবাস, ঢাকা। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারে কোনো তথ্য গোপন, ভুল বা বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন না করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস। অতীতে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা থাকলে তা কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জানা থাকতে পারে উল্লেখ করে সতর্ক করেছে দূতাবাস।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এ সতর্কতা জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর পূর্ববর্তী অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য কনস্যুলার কর্মকর্তাদের কাছে থাকতে পারে। তাই অতীতের কোনো ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা না করে সাক্ষাৎকারে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া উচিত।

দূতাবাস আরও জানিয়েছে, কোনো আবেদনকারী ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিলে বা জাল নথি জমা দিলে তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। একই সঙ্গে এমন প্রতারণার কারণে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

তাই ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের সময় সব প্রশ্নের উত্তর সততার সঙ্গে দেওয়ার এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।


নির্বাচিত

banner close