শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ নতুন রেললাইনের পরিকল্পনা

আপডেটেড
২৮ মার্চ, ২০২৩ ০০:০২
তৌফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত
তৌফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০২৩ ০০:০১

যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদ স্থল বন্দর পর্যন্ত নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ করতে চায় বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষে ইতিমধ্যেই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩৬ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০৫৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্য প্রকল্পের তুলনায় এটির ব্যয় বেশি। ডিপিপি অনুযায়ী আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র জানায়, সরকার বড় কোনো প্রকল্প হাতে না নেয়ার কারণে এই মুহূর্তে সরকারি অর্থায়নে নতুন এই রেললাইন নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। ফলে বৈদেশিক অর্থায়ন খোঁজার দিকেই এগোচ্ছে রেলওয়ে। সোমবার এই প্রকল্পের ডিপিপির ওপর রেলের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সভা হয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ইতিমধ্যেই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হয়ে গেছে। এতে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের খরচ অনেক বেশি হবে, কারণ এই রেললাইন আম বাগান আছে- এমন ভূমির মধ্য দিয়ে যাবে। ফলে বৈদেশিক সহায়তায় এই প্রকল্প করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈদেশিক সহায়তার জন্য প্রকল্পের পিডিপিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারপর সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হবে। প্রকল্পটি অনেক বড়, ফলে সরকারি অর্থায়নে এটি করা সম্ভব হবে না। আমাদের পরিকল্পনা আছে জমি অধিগ্রহণ কাজটি হবে সরকারি অর্থায়নে। অন্যদিকে নির্মাণকাজ হবে বৈদেশিক অর্থায়নে।’

এই প্রকল্পের আওতায় ৩৬ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার মূল লাইন এবং ১২ দশমিক ২৬ কিলোমিটার লুপ ও সাইডিং লাইন নির্মাণ হবে। ৩টি মেজর ব্রিজ, ৩৯টি আরসিসি বক্স কালভার্ট এবং ৪.৫৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ হবে।

এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণ হবে ৫২৭ দশমিক ৯ একর। চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাইপাস, নয়া নাওভাঙ্গা, শিবগঞ্জ, কানসাট ও সোনামসজিদ স্টেশনে কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলিংক সিগন্যালিং সিস্টেমসহ নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ হবে। রেলওয়ে ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে।

প্রকল্পের ডিপিপিতে বলা হয়েছে, সোনা মসজিদ স্থলবন্দর বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। এই আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মূলত সড়ক পথে হয়ে থাকে। সোনামসজিদ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের পর রেলপথে পশু পরিবহন করলে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে রেলওয়ের চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সোনামসজিদ পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনসহ এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের প্রসার হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ১৬ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরের সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদ পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এর পরই রেলওয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদ পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের ওপর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেছে।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে সোনামসজিদ পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ আর্থিকভাবে অলাভজনক হলেও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে। একই সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাইপাস, নয়া নাওভাঙ্গা, শিবগঞ্জ, কানসাট, মোবারকপুর এবং সোনামসজিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সংযুক্ত হবে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। এই আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সড়ক পথে হয়ে থাকে। এতে যানবাহন চলাচলের কারণে অত্র অঞ্চলের সড়ক নেটওয়ার্কের আয়ুষ্কাল কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া সড়কপথে পরিবহনের সময় মালামালের ক্ষতি হচ্ছে। রেলওয়ের রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ থাকলেও সোনামসজিদ পর্যন্ত রেলপথ নেই। সোনামসজিদ স্থলবন্দরের মাধ্যমে ভারত থেকে পণ্য ও পণ্যের বাল্ক পরিবহন রেলপথে সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আছে । সোনামসজিদ পর্যন্ত রেলওয়ের নেটওয়ার্ক না থাকায় এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। ভৌগোলিকভাবে এ অঞ্চলে আমের উৎপাদন বেশি হয়, যা সমগ্র বাংলাদেশসহ দেশের বাইরেও রপ্তানি করা হয়। সোনামসজিদ পর্যন্ত রেলপথ না থাকায় এর মাধ্যমে সরাসরি আম পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না।


নির্বাচিত

ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্বে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। এর ফলে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ওপর। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে দুপুরে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পেশ করেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছিলাম, সেদিনই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারের শপথের বিধিতে উল্লেখ রয়েছে—কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে বা স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে গেলে ডেপুটি স্পিকারই স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।” সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এখন থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে হাফিজ উদ্দিন জানান, মূলত শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি তার পদত্যাগপত্রে বিস্তারিতভাবে অসুস্থতার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন। রাষ্ট্রপতির নিজের স্বীকারোক্তির পর এ বিষয়ে আলাদা করে আর কোনো চিকিৎসকের সনদপত্রের প্রয়োজন নেই বলে স্পিকার মন্তব্য করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ধোঁয়াশা কেটে গেছে। দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ কখনো শূন্য রাখা যায় না এবং বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: সাংবাদ সম্মেলনে স্পিকার

সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ব্রিফিংয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইস্তফার কারণ হিসেবে রাষ্ট্রপতির শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের ফলে সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের সর্বোচ্চ পদের এই পরিবর্তন নিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছি।’ দায়িত্ব গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘স্পিকারের শপথ নেওয়ার সময় আমি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শপথ নিয়েছিলাম। কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারি। একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের শপথের সময় বলা হয়েছে, কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের পদের দায়িত্ব পালন করবেন।’

উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তৎকালীন সরকারের সময়ে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর এই পদে বহাল থাকার কথা ছিল। গত কয়েকদিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চলছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যেই চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই শুক্রবার দুপুরে বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরে আসেন।


নির্বাচিত

দুদক, ভোক্তা অধিদপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ ৫ প্রশাসনিক পদে নতুন নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সিটি করপোরেশনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি প্রশাসনিক পদে নতুন নিয়োগ ও রদবদল সম্পন্ন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই পরিবর্তনের তথ্য জানানো হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে প্রেষণে ও বদলিপূর্বক পদায়ন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ। অন্যদিকে, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলামকে।

বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. সাইফুল ইসলাম। এছাড়া, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রাজা মো. আব্দুল হাইকে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নতুন নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মো. খয়বর রহমান। গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরগুলোতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির গুরুদায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসরণ করে তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি তাঁর দায়িত্বকাল এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ অসুস্থতার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন।

বিদায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁর পত্রে দায়িত্ব গ্রহণের সময়কাল উল্লেখ করে বলেন, "আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।" পত্রে তিনি গত ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি বর্ণনা করে জানান, "৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।"

বর্তমান রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি পত্রে আরও উল্লেখ করেন যে, "নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।" দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরিক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে প্রেসিডেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।"

রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রেক্ষিতে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য স্পিকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। মো. সাহাবুদ্দিনের এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গভবনের একটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।


নির্বাচিত

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা জল্পনা ও আলোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে এই পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক চাপের মুখে নয়, বরং একান্ত ব্যক্তিগত কারণেই তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


রাষ্ট্রপতির এই আকস্মিক পদত্যাগের প্রেক্ষিতে বিকাল ৫টার দিকে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে ব্রিফিং করার উদ্দেশ্যেই এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার এবং পরবর্তীতে ইসলামী ব্যাংকের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবিতে সোচ্চার ছিল। আন্দোলনকারীরা তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। তবে তৎকালীন পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক জটিলতা এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার ও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি তাঁকে অপসারণের বিষয়ে একমত হয়নি। ফলে সেই সময় তাঁর পদ বহাল থাকলেও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আচার ও অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। এমনকি জাতীয় ঈদগাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও তাঁর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ‘রয়টার্স’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি চলে যেতে চাই। এখান থেকে বেরিয়ে যেতেই আমি আগ্রহী।’ ছবি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে নিজের জন্য অবমাননাকর উল্লেখ করে তিনি ওই সাক্ষাৎকারে আরও বলেছিলেন, ‘মানুষের কাছে এর মাধ্যমে একটি ভুল বার্তা যায় যে হয়তো রাষ্ট্রপতিকেই সরিয়ে দেওয়া হতে যাচ্ছে। এটি আমাকে গভীরভাবে অপমানিত করেছে।’


চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। এর পরপরই নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। যদিও শুরুতে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য আসেনি, তবে গত কয়েক মাস ধরে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন নিয়ে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত শপথ গ্রহণের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আজ পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বঙ্গভবন থেকে বিদায় নিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।


নির্বাচিত

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। শুক্রবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা) আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস, অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রবল আকাঙ্ক্ষা দেশে একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই পর্যায়ে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণতন্ত্র রক্ষা আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নিজেকে মাঠের রাজনীতির একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তজনার মতো বৈশ্বিক সংকটগুলো বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং আর্থিক অনিয়মকে দেশের অর্থনীতির বর্তমান চাপের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, জনগণের সম্মিলিত শক্তি ও নতুন সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে। অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকার বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকার সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই সাংবিধানিক কাঠামো ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও কৃষি খাতের আধুনিকায়নের জন্য বাজেটে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।


নির্বাচিত

শিখা অনির্বাণে বীর শহীদদের প্রতি নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের শ্রদ্ধা নিবেদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম শুক্রবার ঢাকা সেনানিবাসস্থ শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি শিখা অনির্বাণের পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। মহান স্বাধীনতার লড়াইয়ে শহীদদের প্রতি এই আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর নবনিযুক্ত দায়িত্বের প্রথম দিনের কর্মসূচি শুরু করেন।

পরবর্তীতে নৌবাহিনী প্রধান নৌসদর দপ্তরে পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। তিনি গার্ড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় নৌসদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণসহ ঊর্ধ্বতন নৌ-কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান। উল্লেখ্য যে, রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

নৌবাহিনী প্রধান দেশের বিশাল সমুদ্রসীমা এবং সুনীল অর্থনীতির নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক ‘ব্লু ওয়াটার নেভি’ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যে নৌবাহিনীতে আধুনিক ফ্রিগেট, সাবমেরিন, অত্যাধুনিক সোনার ও রাডার সিস্টেমসহ সর্বশেষ প্রযুক্তির সংযোজন ঘটিয়ে দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা আরও সুসংহত করার বিষয়ে তিনি নিজের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানান।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে যা জানালেন স্পিকার

বিমানবন্দরে বক্তব্য রাখছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন ও চলমান পরিস্থিতির মাঝেই থাইল্যান্ডে নিজের ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এক সপ্তাহ দেশের বাইরে থাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছুই জানেন না।

স্পিকার সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি।’ এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তিনি ব্যাংকক গিয়েছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ায় দেশে ফিরেছেন।

বিদেশে অবস্থানের কারণে দেশে এই সময়ে কী ঘটেছে বা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে তাঁর জানা নেই বলে মন্তব্য করেন স্পিকার। তবে দেশে ফেরার পর এখন তিনি সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন স্পিকার। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করতে চান, তবে তাঁকে স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনের সাংবিধানিক বিধান তুলে ধরে স্পিকার আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি পদত্যাগ করলে স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সংসদীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করতে হয়।


নির্বাচিত

সফর সংক্ষিপ্ত করে ঢাকায় ফিরেছেন স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৩:২২
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের জোরালো গুঞ্জনের মধ্যে নিজের বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দুপুরে রাজধানী ঢাকায় ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। থাই এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। মূলত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাঁর এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হলে স্পিকারের কাছে নিজের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক সফরে গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তাঁর নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে এসেছেন। সংসদ সচিবালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা স্পিকারের প্রত্যাবর্তনের খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন বা তাঁর পদটি শূন্য হয়, তবে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মোতাবেক নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই অস্থায়ী বা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন। সেই হিসেবে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দিলে পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

তবে স্পিকার এই দায়িত্ব পালন করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ এবং স্পিকারের দ্রুত প্রত্যাবর্তনের ঘটনাটি সাংবিধানিক ক্ষমতার ধারাবাহিকতা রক্ষায় একটি বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


নির্বাচিত

স্পিকার দেশে ফিরলেই পদত্যাগপত্র দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানরত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার পর তাঁর কাছেই সই করা পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করবেন রাষ্ট্রপতি। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই শুক্রবার দুপুরে স্পিকারের ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

রয়টার্সের বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলমও রয়টার্সকে নিশ্চিত করে বলেন, “স্পিকার থাইল্যান্ড থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র দেবেন।” দেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর করার জন্য স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দেওয়া আবশ্যক। এ কারণেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দ্রুত প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১৯ জুলাই ব্যাংকক যাওয়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২৬ জুলাই ফেরার কথা থাকলেও তিনি শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে রাজধানী পৌঁছাবেন। রাষ্ট্রপতির দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মো. সাহাবুদ্দিন ইতোমধ্যে পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এমনকি বৃহস্পতিবার তিনি বঙ্গভবনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠককালে নিজের বিদায়ের প্রস্তুতির কথাও আভাস দিয়েছেন বলে একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

রয়টার্স আরও জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রপতির ওপর সরকারের পক্ষ থেকে পদত্যাগের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। এর কিছুদিন আগেই রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ নিয়ে প্রেস সচিবের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এদিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো পদক্ষেপ নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তার রয়েছে, তবে এ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে কিছু বলা হয়নি।”

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন এবং পদ শূন্য হলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই অস্থায়ীভাবে সেই দায়িত্ব পালন করবেন। ১২৩ অনুচ্ছেদের বিধানমতে, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রেক্ষিতে এখন সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতির নাম নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। যেহেতু সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলটির মনোনীত প্রার্থীরই বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল মঈন খানের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ সচিব বা সাবেক আমলার নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকেই তাঁর সাংবিধানিক অবস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও আলোচনা চলছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণ-অভ্যুত্থান দমন অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই পটভূমিতে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বড় ধরণের এই পরিবর্তনকে রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


নির্বাচিত

ডিজিটাল হাটে প্রতারণার ফাঁদ

*  বিশ্বে বছরে প্রতারণার শিকার ৬০ কোটি মানুষ * দিনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি * অনেক পেজে বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি * বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৩৪ পণ্যের মধ্যে ১৭টিই ভেজাল, মানহীন হিসেবে শনাক্ত * প্রতারণা রুখতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার ও র‌্যাবের অভিযান জোরদার  
প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক  

তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব কল্যাণে কেনাকাটা এখন হাতের মুঠোয়। ঘরে বসেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পোশাক বা আধুনিক গ্যাজেট—সবই মিলছে এক ক্লিকে। কিন্তু এই অপরিসীম সুবিধার আড়ালেই গড়ে উঠেছে প্রতারণা ও ভেজালের এক বিশাল ও অন্ধকার নেটওয়ার্ক। একদিকে ফেসবুকের লাইসেন্সবিহীন ভুঁইফোড় পেজের ডিজিটাল সন্ত্রাস ও তথ্য চুরি, অন্যদিকে শহরের নামী এয়ারকন্ডিশনড শপিং মলের কাচের শোকেসে সাজানো ক্ষতিকর ও অনুমোদনহীন পণ্য—সব মিলিয়ে আজকের সাধারণ ভোক্তা যেন এক অদৃশ্য গোলকধাঁধায় বন্দি।

রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক দোকান এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব নকল পণ্য সহজেই বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সাম্প্রতিক অভিযানে দেশের প্রসাধনী বাজারে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির পরীক্ষায় বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৩৪টি আমদানি কসমেটিকস ও স্কিন কেয়ার পণ্যের মধ্যে ১৭টিকেই ভেজাল, অনুমোদনহীন অথবা মানহীন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষাধীন আমদানি করা প্রসাধনীর প্রায় অর্ধেকই অনিরাপদ। ফলে প্রযুক্তি যেমন দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি তা স্ক্যামারদের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এভাবে বিশ্বে প্রতি বছর গড়ে ৬০ কোটিরও বেশি মানুষ ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের স্ক্যামের ফাঁদে পড়ছে। আর প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রায় ১৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম এক্সপ্লোডিং টপিকসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বজুড়ে ঠিক কতজন মানুষ সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে বিভিন্ন গবেষণা এ সমস্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, সিঙ্গাপুর, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও স্পেনসহ ১৬টি দেশে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, গত তিন বছরে দেশগুলোর প্রায় ২২ কোটি মানুষ ডিজিটাল স্ক্যামের শিকার হয়েছে। এসব দেশের বাসিন্দারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-অষ্টমাংশ হওয়ায় অনুমান করা হয়, বৈশ্বিক পরিসরে প্রতি তিন বছরে প্রায় ১৮২ কোটি মানুষ অনলাইনে প্রতারিত হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে মোবাইলভিত্তিক স্ক্যাম এখনো প্রতারণার সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যমগুলোর একটি। এর মধ্যে আছে ফোনকল ও এসএমএস বার্তা।

এক জরিপ অনুযায়ী, গত ১২ মাসে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ ফোন বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টা লক্ষ্য করেছে। ফোন ও টেক্সটের পর সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হয় ই-মেইলে। এছাড়া অনলাইনভিত্তিক স্ক্যামের ছয়টি মাধ্যমের মধ্যে শীর্ষে আছে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপন।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ বলছে, গত এক বছরে ব্যক্তিগতভাবে (সরাসরি সাক্ষাতে) প্রতারণার শিকার হয়েছেন ১০ শতাংশের কম মানুষ। অর্থাৎ এখন স্ক্যামের বড় অংশই ঘটছে ডিজিটাল মাধ্যমে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শপিং স্ক্যাম বা অনলাইন কেনাকাটার নামে প্রতারণা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির নামে এসএমএস বা ই-মেইলে লিংক পাঠিয়ে কুরিয়ার কোম্পানি বা অনলাইন বিক্রেতা সেজে প্রতারকরা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মার্কেটপ্লেসে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্থ নেয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকাউন্ট মুছে দেয়ার ঘটনাও বাড়ছে।

এদিকে আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অগ্রগতির ফলে ভয়েস ক্লোনিংয়ের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘ভিশিং’ প্রতারণা আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অপরাধীরা পরিচিত কণ্ঠ নকল করে ফোন করে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য বের করে নিচ্ছে।

সাইবার সুরক্ষা কোম্পানি জেনের সাইবার সেফটি সিটিও সিগি স্টেফনিসন বলছেন, ‘অনলাইনে প্রতারণার ধরন এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। ফাঁস হওয়া ব্যক্তিগত তথ্য ও উন্নত ডিজাইন টুলস বা এআই ব্যবহার করে প্রতারকরা খুব সহজেই কাউকে ধোঁকা দিতে পারছে।’

অন্যদিকে, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক ই-কমার্সে নকল পণ্যের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেক পেজে বিদেশি নামি ব্র্যান্ডের ছবি ব্যবহার করে অর্ডার নেওয়া হলেও বাস্তবে সরবরাহ করা হয় অত্যন্ত নিম্নমানের পণ্য।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সাম্প্রতিক এক অভিযানে ভীতিকর চিত্র সামনে এসেছে। খোলা বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৩৪টি আমদানি করা স্কিন কেয়ার ও প্রসাধনী পণ্যের মধ্যে ১৭টিই (৫০শতাংশ) ভেজাল, অনুমোদনহীন ও মানহীন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষতি: বাংলাদেশে ৬,০০০ কোটি টাকার প্রসাধনী বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশই এখন নকল পণ্যের দখলে।

রাজস্ব ক্ষতি: অসাধু বাণিজ্যের কারণে সরকার প্রতি বছর অন্তত ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

ব্যবসায়িক ক্ষতি: বৈধ উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকরা বছরে ১৩,০০০ থেকে ১৫,০০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ হাতিয়ে নিতে প্রতারকরা সবচেয়ে বেশি যে পদ্ধতি ব্যবহার করে তা হলো ব্যাংক ট্রান্সফার। যেহেতু বর্তমান যুগে মোবাইল ওয়ালেট বা ডিজিটাল মানিব্যাগের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদানের ঘটনা বেশি ঘটে, স্ক্যামাররা এ সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে। অনেকের মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান কম থাকায় সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

প্রতিবেদন আরো বলছে, গত বছর স্ক্যামাররা বিশ্বজুড়ে মোট ১ দশমিক শূন্য ৩ ট্রিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রায় পুরোটাই আর ফিরে পাওয়া যায়নি। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলো যেমন পাকিস্তান, কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের মোট জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশের বেশি অর্থ হারিয়েছে ডিজিটাল স্ক্যামের কারণে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক ব্যবসায় এখন নকল পণ্যের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেক পেজে বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ছবি একরকম হলেও হাতে পাওয়ার পর পণ্যের মান সম্পূর্ণ ভিন্ন পাওয়া যাচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে ভোক্তারা অগ্রিম টাকা পরিশোধ করার পর প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। আবার রিটার্ন সুবিধা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অভিযোগ জানানোর সুযোগ সীমিত থাকে।

চিকিৎসকরা বলছেন, নকল প্রসাধনী, ভেজাল খাদ্য ও নিম্নমানের ওষুধ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। নকল স্কিন কেয়ার পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে ত্বকে অ্যালার্জি, সংক্রমণ এমনকি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

একইভাবে নকল ওষুধ রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে জটিলতা বাড়াতে পারে। শিশুখাদ্যে ভেজাল থাকলে শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশের ওষুধ খাতে। যে ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষার কথা, সেই ওষুধই এখন অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাজারে নকল অ্যান্টিবায়োটিক, মেয়াদোত্তীর্ণ ও দূষিত স্যালাইন, ভেজাল সিরাপ এবং নিম্নমানের উপাদানে তৈরি ওষুধ ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র ময়দা, চকপাউডারসহ নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের ট্যাবলেট তৈরি করছে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের মতো স্পর্শকাতর রোগের নকল ওষুধও বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। ফলে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে অনেক রোগীর শারীরিক জটিলতা আরও বাড়ছে এবং ঝুঁকিতে পড়ছে মানুষের জীবন।

বৈধ ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত: নকল পণ্যের কারণে বৈধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আসল পণ্যের মান ধরে রাখতে তাদের উৎপাদন ব্যয় বেশি হলেও নকল পণ্য কম দামে বাজার দখল করছে। এতে সৎ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নকল ও ভেজাল প্রসাধনী শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিই তৈরি করছে না, একই সঙ্গে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলছে দেশের অর্থনীতিকেও।

বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার প্রসাধনী বাজারের ৪০ শতাংশই এখন নকল পণ্যের দখলে। এর ফলে প্রতি বছর সরকার অন্তত তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীরা ১৩ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

ব্যবসায়ী সংগঠন, ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নকল পণ্যের কারণে একদিকে যেমন ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের বৈধ শিল্প ও ব্র্যান্ডগুলোর সুনাম।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অধিকাংশ ভোক্তা কম দামে কিনতে গিয়ে না বুঝেই নকল পণ্য কিনছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে আসল ও নকলের পার্থক্য এতটাই সূক্ষ্ম যে সাধারণ ক্রেতার পক্ষে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, নকল পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নজরদারি, অনলাইন বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নকল পণ্যের বিস্তার ঠেকাতে সরকার, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—তিন পক্ষকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাজার তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে।

সামান্য অসতর্কতা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াতে পারে। তাই কম দামের প্রলোভনে না পড়ে যাচাই-বাছাই করে পণ্য কেনাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, দেশে এমন কোনো পণ্য নেই, যার নকল বাজারে পাওয়া যায় না। কোনো পণ্য কিনতে গেলেই ক্রেতাদের ভাবতে হয় সেটি আসল নাকি নকল। অথচ বিদেশে এ ধরনের শঙ্কা থাকে না।

তিনি আরও বলেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকলেও নকল পণ্যের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহারের কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

সফিকুজ্জামান উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। কিন্তু সেখানে নিম্নমানের বা নকল বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাপ সহ্য করতে না পেরে আগুন লাগার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এতে শুধু প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিই নয়, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়ে।

ভোক্তা-অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: অনলাইন ও অফলাইন প্রতারণা রুখতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীসহ দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে।

ডিজিটাল কমার্স সেল গঠন: বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তর যৌথভাবে ই-কমার্স জালিয়াতি রোধে বিশেষ সেল গঠন করেছে। ফেসবুক পেজে লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা এবং অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য না দেওয়া পেজগুলোর ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/রকেট) অ্যাকাউন্ট ট্র্যাক করে ফ্রিজ (স্থগিত) করা হচ্ছে।

অনুমোদনহীন গোডাউনে হানা: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও ভোক্তা-অধিকার দপ্তর বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডের লোগো নকল করে তৈরি করা জুতা, কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের অবৈধ গুদামে অভিযান চালিয়ে কোটি কোটি টাকার পণ্য জব্দ ও সিলগালা করছে। অভিযানে দোষী সাব্যস্তদের বিরুদ্ধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ (ধারা ৪৫ ও ৫৩) এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের ও দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা প্রসারের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, আমাদের মূল লক্ষ্য, একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সাথে যুক্ত এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় পরিচালিত অর্থনীতি গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপরই একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়।

সম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন করে মূলধন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ উদ্যোগে তাদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায়, আপনারা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা প্রসারিত করুন। দেশীয় উদ্যোক্তা বা বিদেশি বিনিয়োগকারী যাই হোন, বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে আপনাদের পাশে থাকবে। এটি কেবল আশ্বাস নয়, এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে সত্যি। তবে এর পাশাপাশি আমাদের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা ও সুদৃঢ় ভিত্তি। আমাদের রয়েছে একটি দ্রুত বিকাশমান বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, একঝাঁক তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিরঙ্কুশ জনসমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এই শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে বাংলাদেশকে এক টেকসই ও স্থায়ী সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি সুস্পষ্ট সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আপনাদের কেবল বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি না, বরং এই রূপকল্প বাস্তবায়নে আমাদের সঙ্গে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ারও উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্ণ করেছে। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছিল নির্বাচনের অনেক আগেই। আমরা বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নীতি-নির্ধারকদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছি। তাদের মূল বার্তাটি ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের সুদৃঢ় আইনি সুরক্ষা, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজীকৃত কর ব্যবস্থা, অর্জিত মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আপনাদের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করছি। সে অনুযায়ীই কাজ শুরু করেছি। আমরা আমাদের আইনি ও রেগুলেটরি কাঠামোর আধুনিকায়ন করছি। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছি। এ ছাড়া দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা উন্নত করছি। কর ও ভ্যাট প্রশাসনকে সহজ এবং মুনাফা অর্জনের পর তা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঝামেলামুক্ত করছি।’

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি গতিশীল পুঁজিবাজার গঠন, স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহিত, অপ্রয়োজনীয় বিধিমালা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো সহজ এবং সরকারি সেবাগুলো ডিজিটালাইজড করছি।’ এ ছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তিতে অধিকতর বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

ঢাকার এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬শ বিশিষ্ট প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী।

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর।’

তিনি বলেন, ‘এখানে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যবসায়িক নেতাকে সেই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অংশ হতে আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা একসঙ্গে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি যা হবে সুদৃঢ়, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। আজকের এই মিলনায়তনের দিকে তাকালেই আমি দেখতে পাচ্ছি, দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে প্রতিভাবান করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী এবং বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। আপনাদের অনেকেই বাংলাদেশকে আপনাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন।’

বিনিয়োগকারীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই উদ্যোগ নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অভাবনীয় অবদান রেখে চলেছে। এজন্য আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতিতে প্রবেশের আগে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি, যে কোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না, ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন আমরা একসাথে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি এবং আগামীর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলি।’

প্রধানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এই অগ্রযাত্রায় সকলকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় হয়। এ ছাড়া ‘ফিকি এফডিআই’ প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করেন। এতে তিনি অংশগ্রহণকারী কোম্পানি ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রতিনিধিরা।


নির্বাচিত

জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন প্রধানমন্ত্রী: চিফ হুইপ

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজে অনুষ্ঠিত ‘‘বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্বের সম্মাননা-২০২৬’’ অনুষ্ঠানে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজে অনুষ্ঠিত ‘‘বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্বের সম্মাননা-২০২৬’’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় চিফ হুইপ হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে দেশের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে এর সার্বিক উন্নয়ন ও সেবার মানোন্নয়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমানের প্রতি প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের প্রতিষ্ঠান মনে করে এর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

চিফ হুইপ বলেন, ‘এক সময় হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল দেশের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আস্থা, সুনাম ও উৎকর্ষের প্রতীক ছিল।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের একটি গভীর আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে। তার একমাত্র কন্যাসন্তানের জন্মও এই হাসপাতালেই হয়েছিল। সেই আত্মিক বন্ধন ও ভালোবাসার টান থেকেই তিনি আজ এই প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য বাজেট সম্প্রসারণ এবং আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার বিকাশে ডা. জুবাইদা রহমানের পরিবারের অবদান ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। জাতি সেই অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘সেই গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ডা. জুবাইদা রহমানও হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।’

চিফ হুইপ বলেন, ‘বর্তমানে একসময়কার দেশের অন্যতম সেরা এই হাসপাতালটি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনার কাছে কোনো নির্দিষ্ট দাবি নিয়ে আসিনি। শুধু চাই, আপনি এই হাসপাতালটিকে নিজের প্রতিষ্ঠান মনে করে এর উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, সেই উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। আপনার আন্তরিক সম্পৃক্ততা এই প্রতিষ্ঠানের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ডা. জুবাইদা রহমানের সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’ একই সঙ্গে তিনি চিকিৎসক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব, গবেষণামুখী মনোভাব এবং মানবিক সেবার আদর্শকে ধারণ করে কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। অধ্যাপক কে. এম. মজিবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন, এমপি; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল; অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার; অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ; অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল কবির এবং ডা. এইচ. এম. মোফাখখারুল ইসলাম (রানা)।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শেষে চিফ হুইপ হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ, সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানান এবং প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

banner close