মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ নতুন রেললাইনের পরিকল্পনা

আপডেটেড
২৮ মার্চ, ২০২৩ ০০:০২
তৌফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত
তৌফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০২৩ ০০:০১

যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদ স্থল বন্দর পর্যন্ত নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ করতে চায় বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষে ইতিমধ্যেই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩৬ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০৫৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্য প্রকল্পের তুলনায় এটির ব্যয় বেশি। ডিপিপি অনুযায়ী আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র জানায়, সরকার বড় কোনো প্রকল্প হাতে না নেয়ার কারণে এই মুহূর্তে সরকারি অর্থায়নে নতুন এই রেললাইন নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। ফলে বৈদেশিক অর্থায়ন খোঁজার দিকেই এগোচ্ছে রেলওয়ে। সোমবার এই প্রকল্পের ডিপিপির ওপর রেলের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সভা হয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ইতিমধ্যেই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হয়ে গেছে। এতে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের খরচ অনেক বেশি হবে, কারণ এই রেললাইন আম বাগান আছে- এমন ভূমির মধ্য দিয়ে যাবে। ফলে বৈদেশিক সহায়তায় এই প্রকল্প করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈদেশিক সহায়তার জন্য প্রকল্পের পিডিপিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারপর সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হবে। প্রকল্পটি অনেক বড়, ফলে সরকারি অর্থায়নে এটি করা সম্ভব হবে না। আমাদের পরিকল্পনা আছে জমি অধিগ্রহণ কাজটি হবে সরকারি অর্থায়নে। অন্যদিকে নির্মাণকাজ হবে বৈদেশিক অর্থায়নে।’

এই প্রকল্পের আওতায় ৩৬ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার মূল লাইন এবং ১২ দশমিক ২৬ কিলোমিটার লুপ ও সাইডিং লাইন নির্মাণ হবে। ৩টি মেজর ব্রিজ, ৩৯টি আরসিসি বক্স কালভার্ট এবং ৪.৫৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ হবে।

এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণ হবে ৫২৭ দশমিক ৯ একর। চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাইপাস, নয়া নাওভাঙ্গা, শিবগঞ্জ, কানসাট ও সোনামসজিদ স্টেশনে কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলিংক সিগন্যালিং সিস্টেমসহ নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ হবে। রেলওয়ে ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে।

প্রকল্পের ডিপিপিতে বলা হয়েছে, সোনা মসজিদ স্থলবন্দর বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। এই আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মূলত সড়ক পথে হয়ে থাকে। সোনামসজিদ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের পর রেলপথে পশু পরিবহন করলে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে রেলওয়ের চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সোনামসজিদ পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনসহ এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের প্রসার হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ১৬ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরের সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদ পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এর পরই রেলওয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদ পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের ওপর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেছে।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে সোনামসজিদ পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ আর্থিকভাবে অলাভজনক হলেও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে। একই সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাইপাস, নয়া নাওভাঙ্গা, শিবগঞ্জ, কানসাট, মোবারকপুর এবং সোনামসজিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সংযুক্ত হবে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। এই আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সড়ক পথে হয়ে থাকে। এতে যানবাহন চলাচলের কারণে অত্র অঞ্চলের সড়ক নেটওয়ার্কের আয়ুষ্কাল কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া সড়কপথে পরিবহনের সময় মালামালের ক্ষতি হচ্ছে। রেলওয়ের রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ থাকলেও সোনামসজিদ পর্যন্ত রেলপথ নেই। সোনামসজিদ স্থলবন্দরের মাধ্যমে ভারত থেকে পণ্য ও পণ্যের বাল্ক পরিবহন রেলপথে সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আছে । সোনামসজিদ পর্যন্ত রেলওয়ের নেটওয়ার্ক না থাকায় এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। ভৌগোলিকভাবে এ অঞ্চলে আমের উৎপাদন বেশি হয়, যা সমগ্র বাংলাদেশসহ দেশের বাইরেও রপ্তানি করা হয়। সোনামসজিদ পর্যন্ত রেলপথ না থাকায় এর মাধ্যমে সরাসরি আম পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না।


বিরোধীদলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই সনদে দেওয়া নোট অব ডিসেন্টের বিষয়ে যদি বিরোধীদল পরিবর্তন আনতে চায়, সেটাও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিরোধীদলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধন করা হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে বিশেষ কমিটিতে এসে খোলামেলা আলোচনা করা যেতে পারে।’

সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিরোধীদলকে কমিটিতে সদস্য দেয়ার আহ্বানও জানান তিনি। এর আগে, সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি জানিয়েছিল, জুলাই জাতীয় সনদই তাদের কাজের প্রধান ভিত্তি। সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে আসা প্রস্তাবের পাশাপাশি ভিন্নমতও বিবেচনায় রাখার কথা জানিয়েছে কমিটি।

বিরোধীদলের জন্য কমিটিতে সদস্য থাকার সুযোগ রাখা হলেও তারা এখনো সদস্যের নাম দেয়নি বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অধ্যাপক আলী রিয়াজের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে যারা সংলাপে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের সবার কাছ থেকেও মতামত নেয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অংশীজনের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব তৈরির কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।


সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির ১ম বৈঠক অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির ১ম বৈঠক মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং মূল্য সমন্বয়ের কারণ, মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় এবং মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসি’র ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ এবং জ্বালানী সরবরাহ ব‌্যবস্থা সংকটকালীন ও পরবর্তীতে একই থাকার পরেও শুধু জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে কিভাবে সংকটের অবসান হয়েছে, সে বিষয়ে বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের নিকট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

এ সময় দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে কমিটিকে বিস্তারিত তথ্য প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে জনগণের জন্য জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কর্মকর্তাগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।


রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস’কে একথা জানিয়েছেন।

বিকাল ৩টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে এসে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিবিধিদের সাথে বৈঠকসহ সফরের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং বক্তব্যটিকে ‘দূরদর্শী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও দিকনির্দেশনামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ভাষণটিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে এবং প্রধান বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত ও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এসময় জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে আসায় রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সূত্র: বাসস


প্রযুক্তি খাতে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কুয়েট-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনকল্যাণে আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানো ও জৈব প্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এই তথ্য জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এআই যাতে নিয়ন্ত্রণহীন ও যথেচ্ছভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, এআই-এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভাকে হ্রাস করছে। তাই জনকল্যাণে ও পরিমিত মাত্রায় এর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

সাক্ষাৎকালে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে আরও বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন।

এ সময় তিনি জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা ও উন্নয়ন (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উপাচার্য কুয়েটের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানালে রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিবগণ ও প্রেস সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেবে সরকার: ড. তিতুমীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিসেবা সহজ করতে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেবে সরকার। এ লক্ষ্যে কর নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডার হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’-এর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেন নাগরিক সেবার মান বাড়ায় এবং দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং পরবর্তী করণীয় দ্রুত নির্ধারণ করতে তিনি অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

‘বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রযুক্তি, মেধা ও অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সঞ্চালনা করেন কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল। এতে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সংলাপে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফা সুলতানা, উবারের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক ড. মোস্তফা পাটোয়ারী।

এ ছাড়া গ্লোবালফাউন্ড্রিজের ড. মাহবুব রাশেদ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা ও সার্বিক বিকাশ নিয়ে বক্তব্য দেন।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইফ ইসলাম মেধা, প্রযুক্তি ও পুঁজি বিষয়ে প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন।

প্যানেলে অংশ নেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ক্রিডো সেমিকন্ডাক্টরের ড. শতিল হক, এক্সোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. ইউসুফ হক, মেডট্রনিকের সাবেক প্রধান নির্বাহী ও ইন্টেলের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ওমর ইশরাক, উল্কাসেমির সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং ক্লাউডএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বদরুল সারওয়ার।

আলোচকেরা গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প খাতের অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, গবেষণা, শিক্ষা, স্টার্টআপ ও শিল্প খাতের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলে প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। বিএইআর সামিটসহ সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত মেধাকে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মসংস্থানে রূপান্তর করতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিশ্ব প্রযুক্তি শিল্পে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সাফল্যের প্রশংসা করেন। তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ও সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। এ ধরনের সহযোগিতা কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এ সময়ে শিশুদের ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি মৌলিক শিক্ষায়ও দক্ষ করে তুলতে হবে।

তিনি শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ও এআইয়ের সঠিক ব্যবহার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ সব শিক্ষার্থীর কাছে মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। মূল শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োগের আগে নতুন শিক্ষাপদ্ধতিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল প্রতিনিধিদল ও আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নিয়ে এসব বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।


বাংলাদেশি পাট পণ্যে ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাট পণ্যে (যার মধ্যে পাটের সুতা ও টুইনও রয়েছে) প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপ করেছে ভারত। দেশটিতে বাংলাদেশের পাট পণ্য রপ্তানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমলেও ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত এলো। তিন মাস আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা ভারতে পাট পণ্য ডাম্পিং অব্যাহত রেখেছেন। এতে দেশটির স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিজিটিআর গত বছরের জুনে এ পর্যালোচনা শুরু করে। বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাট পণ্যে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বাড়ানো প্রয়োজন কি না, তা নির্ধারণ করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। এ জন্য বাংলাদেশে ৫৪টি ও নেপালে ৩৬টি মিলের কাছে তথ্য চাওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৩৮টি ও নেপালের পাঁচটি মিল সাড়া দেয়।

এর আগে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা বা টুইন, হেসিয়ান কাপড় ও পাটের বস্তার ওপর প্রতি টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপ করেছিল ভারত। পরে বাংলাদেশের পাটের বস্তার কাপড়ও এ শুল্কের আওতায় আনা হয়। এতে বাংলাদেশের পাট পণ্যের অন্যতম বড় বাজার ভারতে রপ্তানি কমে যায়।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের ৩৬টি পাট পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়। এসব প্রতিষ্ঠানের পাটের সুতা, বস্তা ও হেসিয়ান কাপড়ে প্রতি টনে ৫৯ ডলার থেকে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাটের সুতা রপ্তানিকারক আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ওপর প্রতি টনে সবচেয়ে কম ৫৯ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তার ওপর প্রতি টনে ১২০ ডলার শুল্কারোপ করা হয়েছে।

ছয়টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের রপ্তানি করা সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। সেগুলো হলো—এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ।

আরও দুটি প্রতিষ্ঠান—নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোনো উৎপাদনকারী পাটের সুতা বা টুইন রপ্তানি করলে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার শুল্ক দিতে হবে।

ডিজিটিআরের মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাট পণ্যের চাহিদা ২০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে মাত্র ১৩ শতাংশ। এতে ভারতীয় মিলগুলোর ক্ষতির বিনিময়ে বিদেশি উৎপাদনকারীরা বাজারের অংশীদারত্ব বাড়াচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।

পাট পণ্যে ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ককে ‘একতরফা’ ও ‘জুলুমবাজি’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক।

তিনি বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপের ক্ষেত্রে তারা যে ভর্তুকির হার বিবেচনায় নিয়েছে, তা কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাদের ধারণা, আমরা অনেক বেশি ভর্তুকি পাই, যা বাস্তবতা নয়।

বিজেএসএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমানে সরকার পাটের সুতা বা টুইন ও পাটের বস্তার ওপর ৩-৫ শতাংশ ভর্তুকি দেয়।’

তাপস প্রামাণিক বলেন, ‘ভারতে পাট পণ্য রপ্তানি কমেছে। তবে প্রাকৃতিক ফাইবারভিত্তিক পণ্যের সামগ্রিক রপ্তানি আরও কমার সম্ভাবনা নেই।’

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ১১৬ কোটি ডলার আয় করে। পরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৮২ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়।


চীন-আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সঙ্গে চীন-আমিরাতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি তার সঙ্গে সাক্ষাতে এলে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে পরে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাসংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়। শুরুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ও নিউইয়র্কের বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করায় তাকে অভিনন্দন জানান চীনা রাষ্ট্রদূত।

ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় চীনের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’ একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়।

এ সময় বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া জ্বালানি, অবকাঠামো, এভিয়েশন, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলওয়ে ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদির সঙ্গে দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।


১৮ দেশের বাজার ঘিরে সমন্বিত রপ্তানি কৌশল

* পণ্য বহুমুখীকরণে ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও আইটি সেবায় জোর
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমাতে পণ্য ও বাজার—দুই ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিশ্বের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গন্তব্যের বাজার সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান এবং বাংলাদেশের করণীয় বিশ্লেষণ করে পৃথক রপ্তানি কৌশল তৈরি করা হচ্ছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশ রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল: ১৮টি প্রধান বাণিজ্য গন্তব্যে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের রপ্তানিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য ও বাজার—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচিত ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশভিত্তিক প্রোফাইল এবং বাস্তবায়নযোগ্য কৌশল প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশি বাণিজ্যিক উইং থেকে সংশ্লিষ্ট বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পণ্য এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য সমন্বয় করে প্রতিটি দেশের জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।’

বাজারভিত্তিক বিশ্লেষণ: বাজার বিশ্লেষণে একটি নির্দিষ্ট ম্যাট্রিক্স অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির অংশ, নির্দিষ্ট পণ্যে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় এবং বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

১৮টি বাজার বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় নতুন পণ্য চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নির্ধারণ করা হবে। ফলে কোন বাজারে কোন পণ্যের সম্ভাবনা বেশি এবং কোথায় কী ধরনের বাধা রয়েছে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

পোশাকের বাইরে নজর: কর্মশালায় তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য সেবা খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এই নির্ভরতা কমাতে নতুন পণ্য ও সেবা খাতকে রপ্তানি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যেসব পণ্য ইতোমধ্যে রপ্তানি হচ্ছে, সেগুলোর নতুন বাজার তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

সেবা রপ্তানিতে গুরুত্ব: কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে শুধু পণ্য নয়, সেবা রপ্তানিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি ও সক্ষমতাবর্ধক সেবা খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদারের পরামর্শ দেন।

এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতি: বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে রপ্তানি বহুমুখীকরণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে পণ্যের মান, উৎপাদন সক্ষমতা, প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্ক, অশুল্ক বাধা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

এ কারণে ১৮টি বাজারের জন্য প্রস্তাবিত কৌশলে শুধু সম্ভাবনাময় পণ্যের তালিকা নয়, বাজারে প্রবেশের প্রতিবন্ধকতা এবং তা দূর করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

শিল্প খাতের প্রস্তাব: কর্মশালায় বিজিএমইএ, ফ্লেক্সা, সিপিডি, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রোপ্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা রপ্তানি সম্প্রসারণে নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও কর্মশালায় অংশ নেন।

শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

বহুমুখী রপ্তানি কাঠামোর লক্ষ্য: ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রণীত এই কৌশলের লক্ষ্য শুধু নতুন বাজার খোঁজা নয়; বরং বিদ্যমান বাজারে বাংলাদেশের অংশ বাড়ানো, নতুন পণ্য চিহ্নিত করা এবং সেবা রপ্তানির পরিধি সম্প্রসারণ করা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারভিত্তিক তথ্য ও চাহিদা বিশ্লেষণ করে পৃথক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে রপ্তানি বহুমুখীকরণের উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে। তবে এর জন্য উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, বাণিজ্য অবকাঠামো, লজিস্টিকস এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন।

১৮টি বাজারকে ঘিরে সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, কৃষি, ইলেকট্রনিকস, চামড়া, হালকা প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থানে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি ভিত্তি আরও বিস্তৃত ও বহুমুখী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।


বন্ধ পাটকল চালুর উদ্যোগ, ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশা

* ১৭ পাটকলের মধ্যে ৯টির উৎপাদন শুরু * প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান
ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাটকলগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যেই লিজ দেওয়া ১৭টি পাটকলের মধ্যে ৯টির উৎপাদন শুরু হওয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অব্যবহৃত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে বন্ধ পাটকলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিজেএমসির অধীন আরও তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মিলগুলো হলো— চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এমএম জুটমিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড ও নরসিংদীর পলাশের কো-অপারেটিভ জুট মিল।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি দুইটি কোম্পানির সঙ্গে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের ইজারা চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ পেয়েছে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড। অন্যদিকে হ্যামকো গ্রুপ পেয়েছে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড।

চুক্তি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। মিলগুলো চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং প্রায় ৬১৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে। বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এটির বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে।

খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এখান থেকে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

অন্যদিকে খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজেএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘সংস্থাটির মালিকানায় বর্তমানে ২৫টি পাটকল রয়েছে। ধারাবাহিক লোকসান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারায় এসব মিল বন্ধ করে বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১৭টির লিজ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি তিনটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট পাঁচটি মিলের মধ্যে দুটি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

মিল দুটি হলো ঢাকার ডেমরার করিম জুট মিলস লিমিটেড ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস লিমিটেড। এসব স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মামুনুর রশিদ আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামের বিডিসিএফ বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি লিমিটেড এবং খুলনার আলিম জুট মিলস লিমিটেড নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সীতাকুণ্ডের আমিন জুট মিলস ফেরত পাওয়া গেছে এবং লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।’

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘২০২০ সালে তৎকালীন সরকার বিজেএমসির পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়। চলতি বছর বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব বন্ধ মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিকে গতিশীল করা ও অব্যবহৃত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে মিলগুলো লিজ দেওয়া হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে। পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দেশে পাটের ব্যবহার বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমে আসবে।’

পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণে জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দেশে-বিদেশে পাটপণ্যের প্রদর্শনী আয়োজন, হস্তশিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

ধারাবাহিক লোকসান ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ করা হয়। পরে এসব মিল দীর্ঘমেয়াদে (৫ থেকে ২০ বছর) বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএনপি সরকারের পাটকল চালুর এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্প খাতে গতি ফিরবে, কর্মসংস্থান বাড়বে ও পরিবেশবান্ধব পাটশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।


প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়াও তিনি সাতটি উচ্চ-পর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেন।

পাশাপাশি ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

একই পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করাকে বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য ঘটনা বলে অভিহিত করে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে এ অভিনন্দন জানানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩২টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এক ঐতিহাসিক ঘটনা, যা দেশের জন্যও বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী প্রথম ভাষণ দেন। এর আগে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন।

সূত্র: বাসস


মূসক অধ্যাদেশের খসড়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাঠপর্যায়ে ভ্যাট ও রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা আনতে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে ‘ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত নিয়মিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে অর্থ ও রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর ৬৪ ধারা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।

সংশোধনীতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে ভ্যাট দাখিলপত্র বা রিটার্ন জমা দেওয়ার বিধান ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কর মেয়াদ অর্থাৎ প্রতি এক মাসের জন্য মেয়াদ শেষ হওয়ার অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে হবে।

তবে কোনো মাসের ১৫তম দিন সরকারি ছুটির দিন হলে পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও রিটার্নদাতার জন্য সময়সীমা আরও পাঁচ দিন বাড়ানো হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন বা জিরো রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার অনধিক ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারবে।

এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বলা হয়, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে সফরটি ভূমিকা রেখেছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

এ জন্য মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন ঘিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত তথ্যেও জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনকে ঘিরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে।


শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা তৈরির সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সঠিক তালিকা এবং প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যাতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মো. মনিরুল হক চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে গত ছয় মাসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। একই সঙ্গে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত করে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে কমিটি।

কমিটির এ উদ্যোগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য আরও নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

এর আগে সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছিলেন, তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে আহত জুলাইযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে দেশের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগী হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধারা যাতে যথাযথ সম্মান পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বৈঠকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

কমিটি মনে করে, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি যাতে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।

এ ছাড়া আগের বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয়। গত ছয় মাসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় যেসব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে এবং সেগুলোর কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, বৈঠকে তার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, মো. আব্দুল হান্নান ও রোকেয়া বেগম অংশ নেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নির্ভুল তালিকা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, কল্যাণ সুবিধা ও ইতিহাস সংরক্ষণে আরও সুস্পষ্টতা আসবে—এমন প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে কমিটির বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।


স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের আলোচনা

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক   

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এই সাক্ষাৎ করেন তারা।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাইকমিশনার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে উপস্থিত হয়ে তারা সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুই দেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক চূড়ান্তকরণ, ওষুধ এবং স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সেইসঙ্গে সার্জিক্যাল সরঞ্জাম ও ওষুধ পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পাকিস্তানে ভ্যাকসিন ও ক্যান্সারের ওষুধ রপ্তানি আরও বাড়াতে পারে।’ একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণের আহ্বান জানান।

আলোচনাকালে হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বাস্থ্য খাতের মধ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিষয়ে সহযোগিতার বিভিন্ন প্রস্তাব সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশি চিকিৎসকদের লিভার প্রতিস্থাপন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের গাম্বাট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (জিআইএমএস)।

পাশাপাশি বাংলাদেশে পরবর্তী সময়ে লিভার প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারে সহায়তা এবং টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসাসেবা প্রদানের প্রস্তাবও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


banner close