মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সংলাপ নয়, অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বিএনপিকে চিঠি: সিইসি

মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৮ মার্চ, ২০২৩ ১৪:১৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০২৩ ১৩:০৪

বিএনপিকে আনুষ্ঠানিক কোনো সংলাপে নয়, অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব তিনি এ কথা জানান।

গত বৃহস্পতিবার ইসির পক্ষ থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ওই চিঠি দেয়া হয়। চার দিন পর মঙ্গলবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে মুখ খুললেন সিইসি।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আপনাদের উদ্দেশে দুটো কথা বলবো। আমাদের এখান থেকে আমরা অনানুষ্ঠানিক পত্রে বিএনপি মহাসচিবকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। আনুষ্ঠানিক নয়। অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারেন, এমন একটি চিঠি দিয়েছিলাম গত বৃহস্পতিবার শেষ বেলায়। (তাদের) বিভিন্ন বক্তব্য থেকে মনে হয় চিঠিটা ওনারা পেয়েছেন। আমি ধরেই নিয়েছি ওনারা চিঠিটা পেয়েছেন।’

বিএনপিকে সংলাপে ডাকা হয়নি জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘সংলাপ বিষয়টা কিন্তু আনুষ্ঠানিক। আমরা তাদের সুস্পষ্টভাবে বলেছি আনুষ্ঠানিক না হলেও অন্তত অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় আসতে পারেন। আমরা এই আমন্ত্রণ-আহ্বান অত্যন্ত বিনীতভাবে জানিয়েছি। এরপর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সত্য-মিথ্যা জানলাম।’

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘বলা হয়েছে, বা অনেকে বলতে চেয়েছেন এটা সরকারের একটা কূটকৌশল। আমি আপনাদের মাধ্যমে পুরো জাতিকে অবহিত বা আশ্বস্ত করতে চাই। এই চিঠির সঙ্গে সরকারের কোনো রকম কৌশল নেই বা ছিল না। যদি কেউ এটাকে কূটকৌশল মনে করতে চান, তবে এটি নির্বাচন কমিশনের কূটকৌশল হতে পারে, সরকারের কূটকৌশল নয়। আর নির্বাচন কমিশন কখনোই কূটকৌশল হিসেবে এই কাজটি করেনি। নির্বাচন কমিশন প্রথম থেকেই অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে।’

‘যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকে, সেটা যেন নিরসন হয়, সেজন্য বলছি চিঠিটি আমাদের এখান থেকে গেছে, সরকারের ওখান থেকে নয়। আর এমনটা মনে করায় আমরা অনেক সময় ব্যথিত হই যে, সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে আমরা কোনো কাজ করব। আমরা সরকারের আজ্ঞাবহন করিনি। একটা কমিশন, পাঁচজন কমিশনার আমরা এখানে আছি। নির্বাচন বিষয় নিয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। আলোচনা করছি। আমাদের চিন্তায় এটি ফুটে উঠেছে যে, বিএনপির মতো একটি দলকে নির্বাচনে আনতে পারলে ভালো হয়। আমরা বলেছি যে, আপনাদের যে কৌশল সে কৌশলের ওপর আমাদের কোনো মন্তব্য থাকবে না। তারপরও আমরা আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। আলোচনার ফল ইতবাচক হতেও পারে, নাও হতে পারে। কিন্তু প্রয়াস গ্রহণ করতে তো কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।’

বিএনপির কাছ থেকে ইসি ফিরতি কোনো চিঠি পায়নি জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘যেহেতু চিঠি দিয়েছি, যে কোনো জবাব আমাকে চিঠির মাধ্যমেই পেতে হবে। গণমাধ্যমে (বিএনপি নেতারা) যেটা বলেছেন, অনেকের বক্তব্যই শুনেছি। যেহেতু আমি (বিএনপির) মহাসচিব মহোদয়কে অত্যন্ত বিনীতভাবে একটি চিঠি দিয়েছি, তাই তাদের যে কোনো বক্তব্য আমাদের কাছে যদি চিঠির মাধ্যমে আসে সেটা কাঙ্ক্ষিত এবং তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এখন আগাম কোনো সিদ্ধান্ত নেব না।’

আলোচনা কী নিয়ে হবে, তাদের দাবি তো একটাই নির্বাচনকালীন সরকার- এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমি এই প্রশ্নের উত্তর এখনই দিতে চাচ্ছি না। কথা হচ্ছে বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা যদি আসে, কী আলোচনা করবো সেটা সময়ই বলে দেবে।’

তারা যদি কোনো এজেন্ডা দিয়ে দেন, যেমন মির্জা ফখরুল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলে আসছেন, সেক্ষেত্রে কী হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘সেটা ওনারা যদি এজেন্ডা ঠিক করে দেন, তখন আমরা ঠিক করব, কমিশন সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।’

চিঠির বিষয়টি পুরো ইসিই জানতো উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘সবাই চিঠি অক্ষরে অক্ষরে পাঠ করেছেন। আমাদের কোনো সদস্য কিছু সংশোধনীও দিয়েছেন। সেটাও সবাই দেখেছেন। কাজেই এটা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পত্র নয়। এটা সিইসি লিখেছেন, কমিশনের পক্ষ থেকে।’

কোনো চাপ থেকে এই চিঠি দিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘চাপ যেটা বলেছেন এটা একেবারেই একটা অমূলক ধারণা। এটা শুধু আমাদের চিন্তা থেকে উদ্ভূত। এই কতক্ষণ পরপর আমাদের চাপ দেবে, আমরা দেবে যাব, চাপ দেবে আমরা দেবে যাব; এটা হওয়ার কথা নয়।’

সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন মনে করে গণতন্ত্রের স্বার্থে, নির্বাচনের স্বার্থে বিশেষ করে দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। সংসদীয় গণতন্ত্রে দলীয় শাসনটাই হচ্ছে মুখ্য।’

হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমাদেরও লক্ষ্য দলগুলো চর্চার মাধ্যমে গণতন্ত্র আরও সমৃদ্ধ হোক, আরও সংহত হোক। সেটা আমাদের প্রথমদিন থেকে সদিচ্ছা। সেই সদিচ্ছার প্রতিফলন আমরা সব সময় ঘটানোর চেষ্টা করেছি।’

এদিকে নির্বাচন কমিশনের এই অনানুষ্ঠানিক আলোচনার ডাকে বিএনপি সাড়া দেবে কি না তা জানা যাবে মঙ্গলবার। ইসির দেয়া চিঠির জবাবে দল কী সিদ্ধান্ত নেবে তা নির্ধারণ করতে স্থায়ী কমিটির সভা ডেকেছে বিএনপি। রাত ৮টায় হবে ওই সভা। এরপর তাদের অবস্থান জানা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


নির্বাচিত

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে পানি বণ্টনসহ অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার ও টেকসই করতে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান করা গেলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পাবে।

অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।

হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ ব্যাপারে তার সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে রাষ্ট্রপতিকে জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

তিনি বলেন, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা এবং জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক, ভবিষ্যতমুখী ও পারস্পরিকভাবে শ্রদ্ধাপূর্ণ ও লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী বাংলাদেশ।

সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন, শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে হাইকমিশনার ত্রিবেদী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তার দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, তার দেশ পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো দৃঢ়, উন্নত ও শক্তিশালী করতে প্রবল আগ্রহী।

রাষ্ট্রপতি তাঁকে অভিনন্দন জানানোর জন্য হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারতের রাষ্ট্রপতির নিকট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানানোর অনুরোধ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের জনগণের সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অভিন্ন শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে ভারত ও বাংলাদেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে।

ভারতের হাইকমিশনার দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি এ সময় তার সফল কর্মকাল কামনা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ, ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী করার আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করবেন।

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।

ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন।

উপ-প্রেস সচিব জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।

প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে— এমন জায়গা চিহ্নিত করা এবং মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা নিয়মিতভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

পুলিশ প্রশাসনে রদবদল, ১০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের অভ্যন্তরীণ কর্মবণ্টন ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। জনস্বার্থে এই বদলি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফায়েল হোসেন সরকারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবং একই ইউনিটের মো. রবিউল ইসলামকে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর কালীগঞ্জ সার্কেলের মো. আসাদুজ্জামানকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সার্কেলে এবং কটিয়াদীর বর্তমান কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেনকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া এসবির মাহিন ফরাজীকে বরিশালের গৌরনদী সার্কেলে, পুলিশ সদর দপ্তরের তানজিনা চৌধুরীকে সিআইডিতে এবং র‍্যাবের এস এম আরিফ রাইয়ানকে চট্টগ্রামের পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

বদলির তালিকায় আরও রয়েছেন গাইবান্ধার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম, যাঁকে গাজীপুর কালীগঞ্জ সার্কেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গৌরনদী সার্কেলের আবু ছালেহ মো. আনসার উদ্দীনকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, পদায়নকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরে ব্যর্থ হলে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তার মাধ্যমে এই সাক্ষাতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সাক্ষাৎকালে ভারতীয় হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে তাঁর দায়িত্ব পালনের পূর্ণ সাফল্য কামনা করেন। আলোচনার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস, দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এবং জনগণের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার এই সুগভীর বন্ধনকে সামনের দিনগুলোতে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে এই সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।


নির্বাচিত

১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল: বিমানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালালের বহুল প্রতীক্ষিত ‘থার্ড টার্মিনাল’ আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, উদ্বোধনের প্রথম দিনেই এই টার্মিনাল ব্যবহার করে ২০টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচল করবে।

বিমানমন্ত্রী টার্মিনাল পরিচালনার আর্থিক ও কারিগরি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বলেন, এই নতুন টার্মিনাল থেকে অর্জিত আয়ের ২৭ শতাংশ সরাসরি বাংলাদেশের কোষাগারে জমা হবে। এছাড়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বা বিমান ভূমিতে থাকাকালীন সেবার ৫০ শতাংশ কাজ এককভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করবে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে থার্ড টার্মিনালটি তার পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে শুরু করবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে গৃহীত এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ৫ হাজার কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং বাকি অর্থ জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকার ঋণ হিসেবে সরবরাহ করা হয়েছে। যদিও ২০২৩ সালের অক্টোবরে টার্মিনালটির আংশিক উদ্বোধন করা হয়েছিল এবং ২০২৪ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চালুর লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তবে বিভিন্ন কারিগরি কারণে তা সম্ভব হয়নি। ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে দেশের অ্যাভিয়েশন খাতে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হতে যাচ্ছে।


নির্বাচিত

গ্যাস সংকট কাটলেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: ডা. জাহেদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ হিসেবে গ্যাসের স্বল্পতাকে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথেই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে। মঙ্গলবার সরকারের উন্নয়ন ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে লোডশেডিংয়ের একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ প্রকৃতপক্ষে কম ছিল। তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জুনে দৈনিক গড় লোডশেডিং ৯৬৯ মেগাওয়াট থাকলেও চলতি বছরের জুনে তা কমে ৭৪১ মেগাওয়াটে নেমেছিল। একইভাবে জুলাই মাসেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। তবে আগস্ট মাসে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে এবং লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়ে গড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। আগস্টের এই অস্বাভাবিক সংকটের কারণ সবারই জানা বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঢাকার লোডশেডিং নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিগত সরকারের আমলে ঢাকার মানুষকে লোডশেডিংয়ের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল কারণ এখানকার মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বেশি ছিল। ফলে ঢাকার মানুষ দীর্ঘদিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ায় বর্তমানের সামান্য সংকটকেও বড় করে দেখছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, “ঢাকার মানুষ লোডশেডিং না দেখায় তাদের মধ্যে একটি বিশেষ ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে।” তবে তিনি মনে করেন, বৃহত্তর জাতীয় সংকটে রাজধানীর বাসিন্দাদেরও কিছুটা ধৈর্যশীল হওয়া প্রয়োজন।

পরিশেষে উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ উন্নত করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গ্যাসের অভাব দূর হলে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়বে এবং লোডশেডিংয়ের বর্তমান অসহনীয় পরিস্থিতি দ্রুতই লাঘব হবে। রাজধানীর গুরুত্ব বিবেচনা করে বিদ্যুৎ বন্টনে ঢাকাকে কিছুটা অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের সংকট মেকাতেই সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।


নির্বাচিত

২০৩১ সালের মধ্যে ৪৫ লাখ মানুষকে দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতায় আনার পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০৩১ সালের মধ্যে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত প্রায় ৪৫ লাখ নিরক্ষর মানুষকে জীবনমুখী ও কারিগরি দক্ষতায় সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল অর্জন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নিশ্চিতকরণ এবং ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) এ উদ্যোগ নিয়েছে।

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ। সাধারণ অক্ষরজ্ঞানের সীমা অতিক্রম করে অবশিষ্ট নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার ছায়াতলে আনাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘শিক্ষাকে কর্মসংস্থান ও বাস্তব জীবনদক্ষতার সাথে সম্পৃক্ত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার আলোকে আমরা কেবল বর্ণমালা শেখানোতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে প্রায়োগিক বা দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করতে চাই। এটি নিশ্চিত করা গেলে ২০৩১ সাল নাগাদ দেশে সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।’

‘আলফা’ কর্মসূচির অধীনে রূপরেখা

বিএনএফই জানিয়েছে, দেশের বয়স্ক ও কর্মক্ষম মানুষকে প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতায় আনতে ‘অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (আলফা)’ শীর্ষক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বৈশ্বিক ‘ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান’ (প্রত্যেকে একজনকে শিক্ষা দান) মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই কর্মসূচির কনসেপ্ট নোট ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কর্মপরিকল্পনা অনুসারে, প্রথম ধাপে ৪০টি জেলার নির্বাচিত ৪০টি উপজেলায় ৩৫ হাজার নিরক্ষর মানুষকে নিয়ে এক বছরের একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করা হবে। পাইলট কর্মসূচির অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে মূল প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে সরাসরি দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতার আওতায় আনা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে শতভাগ সাক্ষরতার লক্ষ্য অর্জনের পথ সুগম হবে। অর্থাৎ তখন সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত বাসস’কে বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পনা কেবল পড়তে ও লিখতে শেখানো নয়; শিক্ষার সুযোগবঞ্চিতদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা। বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদা বুঝে আমরা কারিগরি ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তাদের দক্ষ করে তুলতে চাই। যেন তারা প্রশিক্ষণ শেষেই জীবিকায়নে যুক্ত হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা কমিশনের সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্তিসহ অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপে কাজ এগিয়ে চলেছে। এসব প্রকল্প ও রূপরেখা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।’

‘আলো’ প্রকল্পে বিকল্প শিক্ষার সুযোগ পাবে শিশু-কিশোররা

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো জানায়, কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতাই নয়, বরং বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে ‘অল্টারনেটিভ লার্নিং অপারচুনিটি ফর আউট অব স্কুল চিলড্রেন (আলো)’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। মোট ১৫৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৬ থেকে ২০২৮ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে দেশের ৬৪ জেলার নির্বাচিত ৬৪টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নির্দেশিকা চূড়ান্তকরণ এবং শিক্ষার্থী-জরিপ কার্যক্রম শুরু প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ জন বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুকে মানসম্মত উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী আরও ১৯ হাজার ২০০ জন কিশোর-কিশোরীকে (যারা অষ্টম শ্রেণি পাস করার পূর্বে ঝরে পড়েছে) প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো জানায়, ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির আওতায় সম্প্রতি ৫৮টি জেলায় ৪ হাজার ৩১২ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত ১১টি ট্রেডে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বিএনএফই আরও জানায়, বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ)-এর আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরিচালিত মূল্যায়নে ৪ হাজার ১৯৮ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন বা ৯২.৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর সরাসরি চাকরি, শিক্ষানবিশি বা স্বকর্মসংস্থানের ‘ফিউচার লিংকেজ’ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এই সফলতার মডেল অনুসরণ করেই প্রস্তাবিত ৪৫ লাখ মানুষের জন্য প্রস্তুত করা আলফা কর্মসূচিতে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

দক্ষতাভিত্তিক মডেল ‘স্কিলফো’

বিএনএফই জানায়, ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন, ২০১৪’-এর আওতায় বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশু ও নিরক্ষরদের জন্য বয়স ও প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। কক্সবাজারে সফল ‘স্কিলফো’ পাইলট প্রকল্পে ৬ হাজার ৮২৫ জন কিশোর-কিশোরীকে মৌলিক সাক্ষরতা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের মডেল তৈরি করা হয়েছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দেশের আরও ১৬টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় ১ লাখ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে স্কিলফো প্রকল্পের ২য় পর্যায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার প্রকল্প দলিল পুনর্বিন্যাস চলমান।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর উপপরিচালক (বাস্তবায়ন) হিরামন কুমার বিশ্বাস বাসসকে বলেন, ‘আলো, স্কিলফো এবং আলফার মতো সমন্বিত কর্মসূচিগুলো পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে। এগুলো মাঠপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হলে ২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম হবে।’

আজ ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় পলিত হচ্ছে এ দিবস। সাক্ষরতা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য— ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’-কে ভিত্তি ধরে সরকারের নেওয়া এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে নিরক্ষরমুক্ত করা সম্ভব বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে তাঁরা আসন্ন অধিবেশনের কর্মপরিকল্পনা, বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। ড. খলিলুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য বিশ্বের ১৯৩টি দেশের এই সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর এই অভিষেককে কেন্দ্র করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই উচ্চতর নেতৃত্বকে দেশের জন্য এক অনন্য কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রায় ৪০ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আবারও কোনো বাংলাদেশি এই মর্যাদাপূর্ণ পদের জন্য নির্বাচিত হলেন। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। ড. খলিলুর রহমানের এই দায়িত্ব গ্রহণ বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও সক্রিয় কূটনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। দায়িত্ব পালনকালে তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেবেন।


নির্বাচিত

অক্টোবরের মধ্যে ফের বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চালুর উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দীর্ঘ বিরতির পর আগামী অক্টোবরের মধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করার জোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই আন্তদেশীয় রেল যোগাযোগ পুনরায় সচল করাই বর্তমান সভার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই তিনটি ট্রেনের চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী এই বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের রেল কর্মকর্তারা যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি নতুন রুট নিয়েও আলোচনা করবেন। এই প্রসঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সোমবার বলেন, “আমরা শুধু সীমান্ত ভাগাভাগি করি না, আমরা স্বপ্নও ভাগাভাগি করি। আমি আবারও একই কথা বলছি—মানুষে মানুষে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির এই ধারা অচিরেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

ভারতীয় প্রভাবশালী গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত একটি নতুন আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর প্রস্তাব পেশ করবে। এছাড়া মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের। ইতিপূর্বে ট্রেনটি যমুনা সেতু হয়ে চলাচল করলেও, এখন থেকে পদ্মা সেতু ব্যবহার করে ঢাকা-কলকাতা রুটে ট্রেনটি পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। এতে যাত্রীদের সময় ও খরচ দুই-ই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে পদ্মা সেতু চালু হলেও যান্ত্রিক বা কৌশলগত কারণে ট্রেনটি সেই রুট ব্যবহার করেনি।


নির্বাচিত

দেশের পোশাক খাতে ধাক্কা, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ

*ভিয়েতনামে কমেছে ১.০৩ শতাংশ *রপ্তানি বেড়েছে কম্বোয়িার ও ইন্দোনেশিয়ার *দেশের গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে আরও কমার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় জুলাই মাসে ১১ শতাংশের মতো কমেছে। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তবে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

এদিকে, রপ্তানি আয় আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। পর্যাপ্ত গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে আগামী মাসগুলো রপ্তানি আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা। এটাকে উদ্বেগজনক বলছেন তারা।

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) বাংলাদেশ সেখানকার বাজারে ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ৪৯৮ কোটি ২৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিলেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (অটেক্সা) সাত মাসের যে হিসাব দিয়েছে, তাতে জুলাইয়ের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। পর্যাপ্ত গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে আগামী মাসগুলো রপ্তানি আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা।

এ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৩ কোটি দুই লাখ ডলারের, যা গত বছরের জুলাইয়ে ছিল ৬৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। শতকরা হিসাবে কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ।

একই মাসে ভারতের কমেছে ২৮ দশমিক ৮০ শতাংশ; চীনের কমেছে ১৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের কমেছে ১০ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের আওতাধীন কার্যালয়— অটেক্সার তথ্য বলছে, জানুয়ারি-জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। সবচেয়ে বেশি কমেছে চীনের; ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। ভারতের কমেছে ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। পাকিস্তান, মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের কমেছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৬০, ১০ দশমিক ৫০ ও ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

রপ্তানি বেড়েছে কম্বোয়িার ও ইন্দোনেশিয়ার। কম্বোয়িার বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ; ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা গত জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ৪ হাজার ১৮৩ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম। গত বছরের প্রথম সাত মাসে ৪ হাজার ৫৭৯ কোটি ৮২ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করেছিলেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।

২০২২ সালে আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি তার আগের বছরের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৯৭৩ কোটি ডলারে উঠেছিল। কিন্তু পরের বছর তা ২৫ শতাংশ কমে যায়। ওই বছরে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৭২৯ কোটি ডলার।

২০২৪ সালে অবশ্য সামান্য বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলার হয়; শতকরা হিসাবে বেড়েছিল দশমিক ৭৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে বেড়েছিল ১২ শতাংশের মতো; রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৮২০ কোটি ডলার।

নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন— বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান গণমাধ্যমকে জানান, দেশে বিদ্যুৎ সমস্যা তো ছিলই। গ্যাসের তীব্র সংকট শুরু হয়েছে ২১ জুলাই থেকে। গ্যাস সমস্যার কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো বন্ধই ছিল বলা যায়। এ সময়ে আমরা মিলগুলো থেকে কোনো কাপড় পাইনি। পোশাক তৈরি করতে পারিনি; রপ্তানিও হয়নি। তার প্রভাব আমাদের প্রধান বাজার আমেরিকাতেও পড়েছে।


নির্বাচিত

অটোরিকশায় বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। এসব যানবাহনের বিপুল বিদ্যুৎ চাহিদা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তারও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলেও সংসদে জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা চলাচল প্রসঙ্গে’ নোটিশটি দেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪-এর সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।

নোটিশে রেহানা আক্তার রানু বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের পর লালবাতি অমান্য, লেন পরিবর্তন ও নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘনের মতো অনিয়ম কমেছে। কিন্তু ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া চলাচল করছে। এসব যানবাহনের নাম্বার প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হলেও জরিমানা করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে।

এসব ক্যামেরা যানবাহনের নাম্বার প্লেট শনাক্ত করে কেন্দ্রীয় সার্ভারে তথ্য পাঠায় এবং পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করা হয়। কিন্তু বিপুলসংখ্যক নাম্বার প্লেটবিহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা যাচ্ছে না।

নোটিশে রেহানা আক্তার রানু বলেন, অটোরিকশা তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ বাহনে পরিণত হয়েছে। ফলে একদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব যানবাহনের কাঠামোগত ত্রুটি দূর করা প্রয়োজন, অন্যদিকে প্রধান সড়কে বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।

তিনি অটোরিকশায় নাম্বার প্লেট সংযোজন, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনা এবং প্রধান সড়ক থেকে এসব যান সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অনুরূপ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান নগর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। কম ভাড়া, সহজলভ্যতা ও স্বল্প দূরত্বে দ্রুত যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দ্রুত ও অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের কারণে এ খাত এখন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিপুলসংখ্যক যান একসঙ্গে চার্জ দেওয়ায় স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। অনুমোদিত বা আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগের বাণিজ্যিক ব্যবহার, ট্রান্সফর্মার ও বিতরণ লাইনে বাড়তি লোড এবং পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।


নির্বাচিত

চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়নে তিন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার: সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ এবং বে-টার্মিনাল নির্মাণ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। তবে কক্সবাজারের মগনামায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেই বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে লালদিয়া চরে ৪৯.১৫ একর জায়গায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনসেশন চুক্তি হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট প্রকল্পটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটি চালু করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আধুনিকায়নে আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

বে-টার্মিনাল প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার টার্মিনাল ও একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পিপিপি মডেলে নির্মাণ ও পরিচালনার পরিকল্পনা করা এই টার্মিনাল চালু হলে প্রায় ১২ মিটার ড্রাফটের বড় জাহাজ এবং ৫-৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনারবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারবে। প্রকল্পের ২ডি সিমুলেশন শেষ হয়েছে এবং ৩ডি সিমুলেশন আগামী সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, গভীর সমুদ্রবন্দর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারের মগনামায় কোনো গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নেই সরকারের। তবে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে জাইকার সহযোগিতায় গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।’

মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে ১৬ মিটার ড্রাফটের এবং ৮২০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে। এতে দেশের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ টিইইউ বাড়বে। প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ১৫শতাংশ।

কর্ণফুলীতে সারা বছর ড্রেজিং: চট্টগ্রাম বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখতে কর্ণফুলী নেভিগেশন চ্যানেলে সারা বছর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ ড্রেজিং করা হয় বলে জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যাপিটাল ড্রেজিংও করা হয়।

২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত এলাকায় ৬১ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকায় গড়ে চার মিটার গভীরতা তৈরি হয়েছে এবং বাণিজ্যিক ও লাইটারেজ জাহাজের চলাচল সহজ হয়েছে।

নৌদুর্ঘটনা ঠেকাতে নজরদারি: নৌদুর্ঘটনা কমাতে ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, লঞ্চ টার্মিনালে নজরদারি এবং নৌযানের মাস্টার-ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

দুর্যোগপূর্ণ মৌসুমে উপকূলীয় যাত্রীদের নিরাপত্তায় ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বে-ক্রসিং সনদ ছাড়া সংশ্লিষ্ট নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। নৌযান ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে দেশে প্রথমবারের মতো শুমারি করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ২,৫২,৮১৩টি নৌযান তালিকাভুক্ত হয়েছে।


নির্বাচিত

আট বিভাগীয় শহরে হবে ১৫ তলার ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্যান্সার চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণ এবং রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমাতে দেশের আট বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে ১৫ তলা বিশিষ্ট সমন্বিত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব হাসপাতালে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও আধুনিক পিইটি-সিটি স্ক্যানের মতো উন্নত চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষার সুবিধা থাকবে। সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ—এই আট বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে হাসপাতালগুলো নির্মাণের কাজ বর্তমানে এগিয়ে চলছে। প্রস্তাবিত এই হাসপাতালগুলোতে ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসার সমন্বিত ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ করে ক্যান্সার রোগীদের জন্য রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, ডে-কেয়ার বেড এবং আধুনিক পিইটি-সিটি স্ক্যানের সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মন্ত্রী বলেন, এসব হাসপাতাল চালু হলে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রোগীদের ঢাকায় আসার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।

সংসদে দেওয়া মন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত সরকারি ক্যান্সার হাসপাতাল। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালের পাশাপাশি দেশের প্রায় সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে অনকোলজি বা ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য পৃথক ইউনিট রয়েছে।

বেসরকারি খাতের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ২৪টি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিট চালু রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি হাসপাতাল ও আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোও সেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি স্কয়ার, এভারকেয়ার, ল্যাবএইড ও ইউনাইটেডসহ বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে উন্নত ক্যান্সার চিকিৎসার পৃথক ইউনিট রয়েছে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মানসম্মত, আধুনিক ও সুলভ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ক্যান্সার চিকিৎসাকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে আধুনিক সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই নতুন হাসপাতালগুলো নির্মাণের অন্যতম লক্ষ্য।


নির্বাচিত

banner close