বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৮১ সালের ৮ ডিসেম্বর মাত্র ২৬ বছর বয়সে মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচারিক জীবন শুরু করেন। তারপর চার দশকের বিচারিক কর্মজীবন পার করে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিক বিচারিক কাজ থেকে অবসরে যান। সম্প্রতি তিনি দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আব্দুল জাব্বার খানকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তার ৪১ বছরের বিচারিক জীবনের কথা।
দৈনিক বাংলা: অবসরকালীন জীবন কেমন কাটছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: ভালোই কাটছে। তবে ব্যস্ততা কমেনি। মনে হয় আরও বাড়ছে। অবসরে অবসর কোথায়? হা হা…
দৈনিক বাংলা: স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় কোনো নারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যাত্রা শুরুর পর সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবসরে গেলেন। সব মিলিয়ে একজন নারীর বিচারক হিসেবে দীর্ঘ এই পথচলা কতটা সহজ ছিল?
কৃষ্ণা দেবনাথ: দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়, তখনই কিন্তু বাংলাদেশে মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসতে পারেনি। নারীদের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রথমেই আমরা পুরুষদের থেকে তিন বছর পিছিয়ে যাই। দেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরুর তিন বছর পরে নারীদের যাত্রার পরও আজকে নারীদের অবস্থান কোথায় সেটা দেখতে হবে। আমি নারী বিচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি ১৯৮১ সালে। প্রথম এসেছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, দ্বিতীয় যাত্রা শুরু করেছিলেন বিচারপতি জিনাত আরা। আর তৃতীয় হিসেবে যুক্ত হই আমি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো, আমরা তিনজনই আপিল বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছি। এটা ভাবতে ভালো লাগে।
নারী হিসেবে বিচারিক জীবনের তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে নারী বিচারকদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়, তাদের সাংসারিক জীবন নিয়ে। কেননা, এটা বদলির চাকরি। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলির কারণে সংসারটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা অনেক কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তো ছিলই।
দৈনিক বাংলা: সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হবেন এমন স্বপ্ন কি বিচারিক জীবনের শুরুতে কখনো দেখেছিলেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: না, এমনটি কখনোই ভাবিনি। এমনকি হাইকোর্টেও থাকাকালীন ভাবিনি যে আমি আপিল বিভাগে যাব। স্বপ্নও ছিল না। তবে আমার স্বপ্ন ছিল আমি জজ হব।
দৈনিক বাংলা: অনেক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরাই এখন প্রায় বেঁচে নেই, আপনি কি মনে করেন এখন নতুন যারা আসছেন, তারা সেই খ্যাতিম্যান আইনজীবীদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: দেখেন এটা শুধু আইনজীবীদের মধ্যে নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। সবখানেই অবক্ষয়। ধরেন আমার বাবা যে পরিমাণ লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করেছেন আমি তো মনি করি না, আমার সেটুকু আছে। কিন্তু আমি আশাবাদী নতুন প্রজন্ম থেকে অনেক ট্যালেন্ট উঠে আসছে, আসবে। একসময় নামকরা আইনজীবীরা ছিলেন। তারপর তাদের উত্তরসূরিরা এসেছেন। ঠিক এমনি করেই নতুনরা আইনজীবী হয়ে উঠবেন। এখন যারা নবীন আইনজীবী তাদের জন্য একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার এটা মোক্ষম সময়। তার কারণ জায়গাটা এখন অনেক খালি, সবকিছু প্রস্তুত হয়ে আছে, এখন দরকার শুধু অধ্যবসায়ের।
দৈনিক বাংলা: আপনার অবসর জীবনের শেষ দিনে বলেছিলেন, বিচারক নিজেকে স্বাধীন মনে না করলে সুবিচার সম্ভব না। এর মানে আপনি কী বুঝিয়েছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এই বাক্যটি আমি শুধু কথার কথা হিসেবে বলিনি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেই বলেছি। এখনো বিশ্বাস করি, একজন বিচারক নিজেকে যদি স্বাধীন মনে না করেন, তাহলে কাগজে-কলমে স্বাধীনতা দিয়েই কী লাভ। একজন বিচারক নিজের বিবেককে প্রশ্ন করবেন তিনি নিজে স্বাধীন কি না। কাগজে-কলমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে মাত্র কিছু বছর আগে। তার আগে আমরা বিচারকরা তো নিজেদের পরাধীন মনে করিনি, বিচারের কাজটি কিন্তু স্বাধীনভাবেই করেছি।
আমি মনে করি, একজন বিচারক মনেপ্রাণে নিজেকে স্বাধীন মনে করেন কি না, সেটাই বড় কথা। আমি জোর গলায়, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি ৪১ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পদে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে তো আমার কাছে কোনো তদবির আসেনি। নিজেকেই সেই জায়গা তৈরি করে নিতে হবে। আমি যখন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন অনেক জুনিয়র বিচারক বলতেন তদবির আসে। আমি তখন তাদের বলেছি, কই আমার কাছে তো কোনো তদবির আসে না। তদবির যাতে না আসে সেই পরিবেশ আপনার নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। বিচারকের স্বাধীনতার বিষয়টি নিজের সততা দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।
তদবির না শুনে একবার এক ব্যক্তিকে জামিন দিইনি বলে সেই সময় আমাকে মেহেরপুরের জেলা জজ থেকেও বদলি করা হয়েছিল। জেলা জজ থেকে সাড়ে চার বছর আমাকে কর্নার করে রাখা হয়েছিল। দুটি জেলার জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্পেশাল জজ করে রাখা হয়েছিল। আমি তো তখনো ভয় পাইনি। আমার কথা হলো, নিজেকে স্বাধীন রাখতে হলে বদলির ভয় করলে চলবে না। কী আর করবে বাংলাদেশের ভেতরেই তো বদলি করবে, আর তো কিছু না। বিচারক যদি বদলির ভয় বা নিজের লাভ-ক্ষতির চিন্তা করেন তাহলে তিনি স্বাধীন বিচারক হিসেবে কীভাবে কাজ করবেন। করতে পারবেন না। বিচারককে তার নিজের সততার ওপর শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। এখন কিন্তু দেওয়ানি মামলায় আপস করার সুযোগ আছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলা আপসের সুযোগ আছে। এখন যদি এটা ভালোভাবে কার্যকর হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ মামলাই আসবে না। এটা যদি সফল করা যায়, তাহলে মামলার জট অনেক কমে আসবে।
দৈনিক বাংলা: একটি মামলা শেষ করতে বছরের পর বছর লাগে কেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: মামলা শেষ করতে পক্ষগণেরই জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় কোনো না কোনো পক্ষই চায় না, দ্রুত মামলা শেষ হোক। মামলার জট সৃষ্টির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর জন্য শুধু বিচারকরা দায়ী তা বলা যাবে না বরং বাদী-বিবাদী, দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও দায় রয়েছে। একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য কম করে হলেও পাঁচটি পক্ষের সমন্বয় দরকার পড়ে, তবেই মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।
এ ছাড়া বিচারকসংকট রয়েছে বড় আকারে। এত বিশাল মামলার জট দ্রুত কমাতে হলে বিপুলসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। যেটা সরকারের পক্ষে সম্ভব না।
দৈনিক বাংলা: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো যেকোনো বিষয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, কেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এখন কিন্তু পত্রিকা খুললেই দেখা যায় হাইকোর্টের বিভিন্ন সংবাদ বা নির্দেশনা নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে। চোখ মেললেই কোর্ট-কাচারির খবর পাওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভুক্তভোগীকে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক আছে, মানুষ আদালতে এলে প্রতিকার পায়। আবার কিছু সময় দেখি একটা সাধারণ বিষয় নিয়েও মানুষকে হাইকোর্টে আসতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে তাহলে কিন্তু আদালতের ওপর এই চাপ আসে না। তারা সেটি করছে না। অনেক সময় আদালতের নির্দেশের পরও অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয় না। এটা ভালো দিক না।
দৈনিক বাংলা: বিচার বিভাগকে কি আরও শক্তিশালী হতে হবে, নাকি শক্তিশালীই আছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: বিচার বিভাগকে কেউ শক্তিশালী করে দেবে না। বিচার বিভাগকে নিজেকেই শক্তিশালী হতে হবে। একটা আদেশ হওয়ার পর ঝড়ঝাপটা আসতে পারে। সেটা বহন করার মতো বিচারক যদি আমরা হতে পারি তাহলে বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে। বিচারক যদি সেই ঝড়ঝাপটা সইবার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে সেটা হবে না।
দৈনিক বাংলা: বার ও বেঞ্চের সম্পর্ককে বলা হয় একটি পাখির দুটি ডানা। সম্প্রতি বিভিন্ন বারে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে, এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: সর্বজনীনভাবে আমি বলব, সাবলীল সম্পর্ক হ্রাস পেয়েছে। অনেক আগে থেকেই এই সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় বিচারকের দরজায় লাথি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সার্বিকভাবে বলব আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সম্পর্ক অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। আমার বক্তব্য হলো, একজন বিচারক যেহেতু একটু ওপরে বসেন, আইনজীবীরা একটু নিচে দাঁড়ান, এই যে বিচারকরা একটু অগ্রাধিকার স্থানে থাকেন সে জন্য বিচারকদের অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু করা যায় না। সেটি তাদের মাথায় থাকতে হবে। এ ছাড়া আইনজীবীদেরও সহিষ্ণু হতে হবে। দুপক্ষই যদি সহিষ্ণু হয় তাহলে কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরবে না।
আদালতের মর্যাদা কমলে কিন্তু আইনজীবীদেরই মর্যাদা কমবে। এটা তাদের বুঝতে হবে। কোনো বিচারকের ভুল হলে আইনজীবীরা তার ওপরের বিচারককে বলতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট আছে, আইন মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে বলার সুযোগ আছে। কিন্তু তাই বলে স্লোগান দেয়া উচিত না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে পূরণীয় ঘটনা বা অপ্রাপ্তি বলে কিছু আছে কি না?
কৃষ্ণা দেবনাথ: মানিকগঞ্জে একটি অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে পারিনি, এই একটি বিষয় আমার মনে এখনো গেঁথে আছে। আইনজীবীর ভুলের কারণে সেই আসামিকে সাজা দিতে পারিনি। যে কারণে খুব কষ্ট লেগেছিল। কারণ মামলায় আসামি শনাক্ত একটা বড় ব্যাপার। মামলায় বলা হয়েছে, চাঁদের আলোতে আসামিকে দেখা গেছে। কিন্তু পঞ্জিকাতে দেখা গেল সেদিন অমাবস্যা ছিল। তার ওপর আবার সেদিন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আইনজীবী মামলা শক্ত করতে গিয়ে চাঁদের আলোতে দেখেছে বলে বিবরণ দিয়েছেন কিন্তু সেদিন সেটা ছিল না। যে কারণে আসামি শনাক্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরঞ্জিত বিবরণ মূল ঘটনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ ছেলেটি মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করত, সেটি উল্লেখ থাকলেও হতো। অতিরঞ্জিত করার কারণে আসামি বেঁচে যায়। এই ঘটনা আমাকে পীড়া দেয়। তার কারণ চোখের সামনে দেখেছিলাম মেয়েটির ঝলসানো মুখ। কিন্তু তার ন্যায়বিচার আমি দিতে পারিনি।
দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে আপনি কতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এটা বলতে পারব না। তার কারণ, আমি গুনে রাখিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার ব্যাপারে আমি অনেক সতর্ক ছিলাম। আমি দুইয়ে দুইয়ে চার না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সাজা দিইনি। অনেক আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েও আমি স্বস্তি পেয়েছি। তার কারণ অকাট্য দলিল-প্রমাণ ছিল। সব থেকে বড় স্বস্তি পেয়েছি, যখন আমি ঢাকার জেলা জজ ছিলাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফাঁসির আসামিদের সাজা কার্যকর হবে। তখন ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার জন্য শেষ যে স্বাক্ষর দিতে হয়, জেলা জজ হিসেবে সেটা আমি দিয়েছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার কাছে লাল নথি এল, আমি তাতে স্বাক্ষর করলাম। এরপরই টিভিতে দেখলাম কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর শুরু করেছে। ঐতিহাসিক সেই মামলাটিতে শেষ স্বাক্ষর করেছিলাম। এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।
দৈনিক বাংলা: অবসরে কেমন কাটছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: অবসরে একদমই অবসর নেই। আমি রুট (প্রান্তিক) লেভেলের ভিকটিমদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সেটাই শুরু করেছি। দেখা যাক কতটা করতে পারি।
দৈনিক বাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে।
কৃষ্ণা দেবনাথ: আপনাকেও ধন্যবাদ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশে অন্তত ৩২ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই কন্যাশিশু, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ-এর নারী ও কন্যা নির্যাতনবিষয়ক মাসিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক চিত্র।
সোমবার (২ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সহিংসতার খবর বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির কেবল আংশিক প্রতিফলন।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদে সংরক্ষিত ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অসংখ্য নির্যাতনের ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়, যেগুলো কখনো আইনের কাছে পৌঁছায় না, আবার কখনো সমাজের ভয়ে চাপা পড়ে থাকে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৮৩ জন নারী ও কন্যা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
এর মধ্যে ৭৩ জন কন্যা ও ১১০ জন নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন, যাদের মধ্যে ৪ জন কন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৪ জন কন্যাসহ মোট ৭ জন। এর মধ্যে ২ জন কন্যাসহ ৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার, ২ জন উত্ত্যক্তকরণের এবং ১ জন নারী সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩ জন কন্যা ও ১৪ জন নারীসহ ১৭ জনের মৃত্যু রহস্যজনক। আত্মহত্যা করেছেন ৮ জন। এসিডদগ্ধ হয়েছেন ১ জন এবং অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ১ জন। যৌতুকজনিত সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৫ জন নারী, যার মধ্যে ৩ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ জন এবং গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরও ৩ জন।
অপহরণের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ২ জন, আর ২ জন কন্যাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। পাচারের শিকার হয়েছেন ২০ জন কন্যাসহ মোট ৪০ জন। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ১৫ জন। বাল্যবিবাহের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ২ জনের ক্ষেত্রে। আরও ১ জন কন্যাসহ আরও ৭ জন বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রূকমীলা জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার্জশিটে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
একই মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের মধ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী রূকমীলা জামান ছাড়াও ব্যাংকটির সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ আরামিট পিএলসির একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং হুন্ডি কার্যক্রমে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি রয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে তা বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানান্তর ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তবে আলোচিত এ মামলার আসামি শরীফ জহিরকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতির এক অস্থিরতম অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। সেখানকার সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথকে বদলে দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও। কারণ, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বেশ কিছু ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশীদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার হুমকিতে পড়তে পারে। আবার আমদানিনির্ভর জ্বালানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া দাম বাড়তে পারে এলএনজিরও। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, এমনিতেই বাংলাদেশের অর্থনীতি এক ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ধাক্কা লাগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের। বিদেশি ঋণের ফাঁদ আর মূল্যস্ফীতির চাপে অর্থনীতি রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। অর্থনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার শুরুতেই আবার শুরু হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ। যুদ্ধের স্থায়িত্ব যত বেশি হবে, তার প্রভাব ততই বাড়তে থাকবে।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, ইরানে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছে জ্বালানি তেল ঘিরে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় যদি সরবরাহ বিঘ্নিত হয় বা হরমুজ প্রণালি ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ যেহেতু শতভাগ আমদানিনির্ভর, তাই এ মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সরাসরি এসে পড়বে দেশের উৎপাদন ও পরিবহন খাতে।
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, তেলের দাম বাড়া মানেই সবকিছুর দাম বাড়া। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও অসহনীয় হয়ে উঠবে। মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটি তৈরি হবে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে। আমাদের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট এমনিতেই আমাদের বিরুদ্ধে আছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়লে এ ঘাটতি আরও বিস্তৃত হবে। তেলের উচ্চমূল্যের কারণে ডলারের চাহিদা বাড়বে, ফলে টাকার ওপর চাপ তৈরি হবে। বিনিময় হার আরও অবনতির দিকে যেতে পারে, যা আমদানি ব্যয় ও ঋণ পরিশোধ—দুটোকেই কঠিন করে তুলবে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি এবং বহুমুখী হতে পারে। তবে এ সংকটের প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা মূলত নির্ভর করবে যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং এর বিস্তৃতির ওপর। যুদ্ধ দ্রুত থেমে গেলে এর প্রভাব হয়তো খুব প্রকট হবে না। কিন্তু এটি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে ।
নিট পোশাক শিল্পের মালিকের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্রদেশের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সঙ্গে ব্যাংকিং করা জটিল। তা ছাড়া ইরান থেকে আমাদের দেশে ক্রেতারাও সেভাবে আসেনি। সে কারণে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি তৈরি পোশাক কম যায়।
তার মতে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য কম হলেও বর্তমান যুদ্ধে পরোক্ষ ক্ষতি অনেক বেশি। তিনি বলেন, আমরা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এরই মধ্যে আবার নতুন যুদ্ধ। হরমুজ খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজে পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়বে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেসব জাহাজ যায়, সেগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে। এখন সেই জাহাজ ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক ঘুরে যেতে হবে।
মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আকাশসীমা বন্ধ থাকায় কার্গো বিমানও চলছে না। তাতে জরুরি পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হবে। আবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও এলএনজি আমদানিও বাধাগ্রস্ত হবে। সব মিলিয়ে আমরা দুশ্চিন্তা রয়েছি। সামনে আরেকটি বড় সংকট দেখতে পারছি আমরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আমরা একটি রপ্তানিনির্ভর দেশ; তাই আমাদের অবশ্যই এই যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে, বিশেষ করে পোশাক রপ্তানিকারকরা। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে ভোক্তাদের সক্ষমতা কমবে, ফলে তারা পোশাকের মতো পণ্যে কম ব্যয় করবেন। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে দেশের বাজারে উৎপাদন খরচ বাড়বে, কারণ বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ। তৃতীয়ত, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যদি বিকল্প নৌপথ বেছে নিতে হয়, তাহলে সামগ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, এর আগে বাংলাদেশি পোশাক ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলেন ইউক্রেন যুদ্ধ দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে, কিন্তু সেই যুদ্ধ এখন চার বছর ধরে চলমান। এখন যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হয়; তাহলে কুয়েত, ইরাক, ইরান, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রপ্তানি বাজার মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
জনশক্তি রপ্তানিকারকের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মোবারক উল্লাহ শিমুল বলেন, ‘ইরান-ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেটা দীর্ঘায়িত হলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের শ্রমিকরা নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে আসবেন। দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়বে। এ অবস্থায় সরকারের উচিত প্রথমে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হটলাইন চালু করে শ্রমিকদের খবর রাখা ও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া। আর আমাদের শ্রমিকদের যাতে ফেরত আসতে না হয় এবং নতুন করে কীভাবে আরও শ্রমিক পাঠানো যায়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।’
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ ছাড়া আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে, যা শ্রমিকদের যাতায়াত ও রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্কতা এবং সাবধানতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।’
জ্বালানি তেল ও এলএনজি: মধ্যপ্রাচ্যই হলো বাংলাদেশের জ্বলানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রধান উৎস। তাই এই যুদ্ধ চলতে থাকলে দেশের জন্য জ্বালানির দাম ও সরবরাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। দেশে বর্তমানে বছরে জ্বালানি তেল আমদানি করা হয় কমবেশি ৭০ লাখ টন। যার বেশিরভাগই আনা হয় মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়ার দেশগুলো থেকে। এই যুদ্ধে তেল সরবরাহ নিয়ে চিন্তায় আছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে পুরো জ্বালানি খাতে নেমে আসবে বিপর্যয়।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, আগামী জুন পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমরা আপাতত সেফ সাইডে রয়েছি। পরিশোধিত জ্বালানি তেল মালয়েশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসছে। এসব দেশ থেকে জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে অপরিশোধিত তেলের দীর্ঘমেয়াদি উৎস সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হওয়ায় বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এটুকু বলা যায় যে, এ মুহূর্তে আমাদের জ্বালানি তেলের রিজার্ভে কোনো সংকট নেই।
বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হারুন-উর-রশিদ বলেন, বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় সবসময় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার শিকার হয়। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া এরই মধ্যে ইয়েমেনের হুতিদের হামলার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহন কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। রাশিয়া ও চীন এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গণভোটের প্রথম ফলাফলে ভুল থাকায় সম্প্রতি গণভোটের ফলাফল সংশোধন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে প্রায় ১১ লাখের মতো ভোট কমে যায়।
বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশন এর আগে ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছে। এবার কোন কোন আসনে গণভোটের ফলাফলের হিসাব ভুলে হয়েছিল, তা জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইসি জানায়, নেত্রকোনা-৩, ৪ ও ৫ আসনে ফলাফল প্রস্তুত করার সময় এক্সেল শিটে ভুল ইনপুটের কারণে গণভোটের ফলাফল বেড়ে যায়। এজন্য পরবর্তীতে তা সংশোধন করা হয়।
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নেত্রকোনা-৩ আসনে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ ভোটের পরিবর্তে ভুল করে ৫ লাখ ২ দুই হাজার ৪৩৮টি ‘হ্যাঁ’ পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়। আবার ৬০ হাজার ৭৮৭টি ভোটের পরিবর্তে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়।
নেত্রকোনা-৪ আসনে ৮২ হাজার ১২৫টির পরিবর্তে ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬টি ‘হ্যা’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়। আবার ১ লাখ ২ হাজার ১১৩ টির পরিবর্তে ৮২ হাজার ১২৫টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়।
অন্যদিকে নেত্রকোনা-৫ আসনে ১ লাখ ৬৭১টির পরিবর্তে ভুল করে বার্তাশিটের এক্সেলে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৮টি ‘হ্যা’ ভোট পড়েছে এন্ট্রি করা হয়। আবার ৪৪ হাজার ৫৭৩ টির পরিবর্তে ১ লাখ ৬৭১টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে তুলে ধরা হয়।
‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি যাচাইয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভোটের ফলাফল যা গত ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল।
প্রথম গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি এবং ‘না’ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি।
সংশোধিত গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’; ভোটের সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি। ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টি। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টি।
আগের তুলনায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে। অন্যদিকে ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে। সার্বিকভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে বলেছেন, ‘তখন করণিক ভুল ছিল, ট্রান্সপজিশনের ছিল। যার কারণে এই ভুল হয়েছে। করণিক ভুলতো হতেই পারে। যেহেতু হাতে করা হয়। যেগুলো এদিক-ওদিক হয়েছে সেগুলো কারেকশন করে পরবর্তীতে যেগুলো মাঠ থেকে দিয়েছে সে অনুযায়ী এগুলো ঠিক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মূল যে প্রতিপাদ্য, ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’; তাতে ‘হ্যাঁ’-এর সংখ্যা বেশি। সেটাতে কোনো বিচ্যুতি হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দিয়েছেন।
এ তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী। এসময় তারেক রহমান সড়ক পরিবহনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রবিউল ইসলামের কাছ থেকে তথ্য নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন।
আতিকুর রহমান রুমন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে নারী বাস সার্ভিস চালুর জন্য মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, তিনি (তারেক রহমান) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীকে শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ ঈদের আগে শেষ করারও নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পিচ রাইটার এবং তিন উপ-প্রেসসচিব নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার করা হয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবির সম্পাদক এস এ এম মাহফুজুর রহমানকে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এস এ এম মাহফুজুর রহমানকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার (গ্রেড-১) পদে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।
এদিকে সাংবাদিক মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), মো. জাহিদুল ইসলাম ও মো. সুজাউদ্দৌলাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেসসচিব পদে গ্রেড-৪ বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপের বেতনে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের হামলা, পাল্টা হামলার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে খুব সোজা। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। প্রথম কথা হচ্ছে আমাদের নাগরিক যারা ওই অঞ্চলে আছেন, তাদের স্বার্থ রক্ষা এক নম্বর কথা।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিয়ে সরকারের বিবৃতিতে ইরানে হামলার বিষয়ে নিন্দা না জানানোর প্রেক্ষাপটে ওঠা বিতর্কের মধ্যে সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ কথা বলেছেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি না যে, যুদ্ধ বা সংঘাত কোনো সমাধান। আমরা চাই অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে একটা আলোচনার মাধ্যমে, কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে এই সমস্যাটার সমাধান হোক।
সরকারের ওই বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনিকে হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ না করায় সমালোচনা করেন অনেকে।
সমালোচনার মুখে সোমবার নতুন আরেকটি বিবৃতি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনা জেনে বাংলাদেশ ‘মর্মাহত’।
সেখানে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি লঙ্ঘন করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তাকে হত্যার ঘটনা জেনে সরকার মর্মাহত। ইরানের ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের প্রতি আন্তরিক শোক জানাচ্ছে সরকার।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ‘বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, সংঘাতের মাধ্যমে কোনো সমাধান আসে না। কেবল সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হতে পারে।’
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত এবং প্রবাসীদের অবস্থা নিয়ে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এরপর বিকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি যে, এই সংঘাতময় সময়ে আমাদের সবচাইতে বড় অগ্রাধিকার হচ্ছে ওই অঞ্চলে বসবাসরত আমাদের নাগরিকবৃন্দ। আমরা প্রথম প্রেস রিলিজটা দিয়েছিলাম, সেটা আমরা শুরুই করেছিলাম আমাদের নাগরিকদের স্বার্থ সমুন্নত রেখে। আমাদের নাগরিকরা তারা আক্রান্ত হলে, সেটা যেখানে হোক, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব। আমাদের সবচাইতে বড় জাতীয় স্বার্থ হচ্ছে আমাদের জনগণ। আমরা আশা করি যে, এই সংঘাতে আর কোনো বাংলাদেশির প্রাণহানি ঘটবে না, কিংবা আর কেউ আহত হবেন না। কিন্তু সে রকম অবস্থা হলে আমাদের যা যা কর্তব্য, তা সকলে আমরা পালন করব।’
এদিন কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সকলে আমাদের নাগরিক, যারা এ সমস্ত দেশে আছেন, তাদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে তাদের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, তাদের মরদেহ ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। আমরা সবসময় নিয়ে আসি। এটা আমাদের পলিসি। কিন্তু এখন তো প্লেন চলাচল করছে না। সুতরাং এই সময়টুকু সেখানে রেখে দিতে হবে এবং সেই নিয়ে আমার সঙ্গে সেই দেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা সমস্ত ব্যবস্থা করছেন।’
বাংলাদেশিদের কেউ ফিরতে চাইলে তাদেরকে দেশে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সেটা প্রয়োজন হলে, যা করার তাই করবে সরকার।’
ইরানে হামলা, পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’নিন্দা জানিয়ে গত রোববার বিবৃতি দেয় সরকার। ওই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাতটি দেশের নাম উল্লেখ করা হলেও সে তালিকায় ইরানকে রাখা হয়নি।
এর মধ্যে গত রোববার পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকার সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের প্রতিনিধিরা।
ওইদিন বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ; যার মধ্যে রয়েছে, বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
ফাল্গুনের মাঝামাঝিতে এসে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির দেখা মিলল রাজধানীতে। সোমবার (২ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ কিছুটা মেঘলা ছিল। দুপুর সোয়া ৩টার দিকে এক-দুই ফোঁটা করে ঝরতে থাকা বৃষ্টি হঠাৎ করে ঝুম বর্ষণে রূপ নেয়। হঠাৎ বৃষ্টিতে সড়কে থাকা পথচারী আর যাত্রীরা আটকা পড়েন। কেউ-কেউ আশ্রয় নেন সড়কের পাশের অস্থায়ী দোকানের নিচে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, এটা ঢাকা শহরের জন্য মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি। ঢাকা ছাড়াও খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব বিভাগগুলোতে বৃষ্টিপাত হয়েছে কি না সে তথ্য এখন আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। ঢাকায় কত মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সে তথ্য এখনো জানা যায়নি।
চলতি মার্চ মাসের দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে অধিদপ্তর জানিয়েছিল, মার্চে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। তবে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া, এ মাসে দেশে ২ থেকে ৩ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা বা মাঝারি ধরণের এবং ১ থেকে ২ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সোমবার সকালের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, সোমবার (২ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
এই সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস; আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রংপুরে, ১৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলেও বাংলাদেশের চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দুই-চারদিনের মধ্যে এই সংঘাতের সমাধান ঘটলে জ্বালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে বাংলাদেশের আশঙ্কার কিছু নেই।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে আজকের দিনে, এই মুহূর্তে আমাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমরা দেখছি, পরিস্থিতি কোনদিকে যায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীণ ঘুরে আসতে হয়। সেক্ষেত্রে জাহাজ ভাড়া বেড়ে যায়, যার প্রভাবে সব পণ্যের দাম বাড়ে।
তবে এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি আমাদের এখনো তৈরি হয়নি, যোগ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধান অনুসারেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয় থেকে বের হওয়ার সময় গণমাধ্যমে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।
জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রস্তাব দিয়েছে- এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় উল্লেখ করেন, সংসদের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে সংবিধান মেনেই পরিচালিত হবে এবং প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ তারই অংশ।
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা জাতীয় সংসদে অংশ নিতে পারেন না; কেবল নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই সংসদে অংশগ্রহণের অধিকার রাখেন।
সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে চলমান রাজনৈতিক আলোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিকভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অসাংবিধানিক কোনো বিষয় জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা যাবে না।
তিনি আরও জানান, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজন হলে তা জাতীয় সংসদে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ জন্য সংবিধান সংশোধনী আনতে হবে এবং তা পাস হওয়ার পরই সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া, শপথ ও অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে, যাতে তারা থানা থেকে হাসিমুখে ফিরতে পারেন। মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করে তাদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি বাড়াতে সচেষ্ট থাকতে হবে। আর নিরপরাধ মানুষকে কোনোভাবেই হয়রানি করা যাবে না। সোমবার (২ মার্চ) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সব জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময়কালে এ নির্দেশনা প্রদান করেন আইজিপি।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দিয়ে মতবিনিময়সভায় আইজিপি বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতি বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও মহাসড়কে তৎপরতা বাড়াতে হবে।
আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার নির্দেশনা দিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, ঈদে যানজট রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং ফিরে আসা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য জেলা পুলিশ সুপারদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিগণসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শীতের শেষে বসন্তের আগমনে বাংলার প্রকৃতিতে গাছে গাছে শোভা ছড়াচ্ছে সজনে ফুল। ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা এই ফুল গ্রামীণ প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এর পুষ্টিগুণও অপরিসীম। এই ফুলগুলো জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পথে-প্রান্তরে এক মনোরম দৃশ্য তৈরি করেছে এবং প্রকৃতিতে ভিন্ন রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছে।শুধু প্রকৃতিতে ভিন্ন রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছেনা, বরং উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ, যা স্থানীয়ভাবে সুস্বাদু সবজি হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয় ।
জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় সজনে গাছে সাদা ও হলুদাভ ফুলে ছেয়ে গেছে, যা প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য তৈরি করেছে। সজনে গাছ সম্পূর্ন বিনা পরিচর্চায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়, বিভিন্ন বাড়িতে, পরিত্যক্ত জায়গায়, অনাবাদি জায়গায় সজনে গাছ রয়েছে। এছাড়া কিছু এলাকায় সজনে ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃতি রঙিন হয়ে উঠেছে। সজনে ফুলের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারাও। অনেকেই সকাল-বিকেল হাঁটার সময় বা সড়কে যাতায়াতের সময় সজনে ফুল দেখে থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন চোখজুড়ানো এই প্রাকৃতিক শোভা। গাছের নিচে পড়ে থাকা ঝরা ফুল কুড়িয়ে নিচ্ছেন শিশু-কিশোররা।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃর্ষিবিদ মো আলমগীর হোসেন বলেন, সজনে একটি ঔষধি গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম মরিঙ্গা ওলিফেরা। এটি মরিঙ্গাসিয়া পরিবারের মরিঙ্গা গণের একটি গাছ। এটি খরা সহিষ্ণু ও গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের একটি উদ্ভিদ। মাঝারি আকারের এই গাছে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। সজনের কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয় এবং এর পাতা শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এটি ডাল ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করলেও আমাদের দেশে সাধারণত ডালের মাধ্যমে বা অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে এটির বংশবিস্তার করানো হয়।
সজনে ফুলেরও ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। সজনে ফুলে আছে এমন ওষুধি গুণ যা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়াও এই ফুলে আছে ভরপুর পুষ্টিগুণ যা নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এর ফল শরীরে প্রোটিনের জোগান দেয়। এই গাছের বিভিন্ন অংশে আছে ভিটামিন এ, বি১, বি২, বি৩, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপকারী উপাদান।
কৃষিবিদ কামাল উদ্দিন মোল্লা বলেন, প্রকৃতিতে ফোটা এই সজনে ফুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এ গাছ একটি উপকারী ভেষজ। সজনের ডাটা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ গাছ। সজনের ডাটার বাজারে যেমন চাহিদা থাকে আবর দাম ও ভালো। এর পাতা, ফল ও ফুল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি খুব পরিচিত একটি গাছ।
গাজীপুরের শ্রীপুরে দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়া চৌক্কার খাল পরিদর্শন করলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি। মন্ত্রী বলেন, ‘খাল খনন একটি বিপ্লব, একটি আন্দোলন আরও এই বিপ্লবী কর্মসূচি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি নিজে চৌক্কার খালে এসে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কোদাল হাতে খননকাজ শুরু করেছিলেন এবং মানুষকে একত্র করেছিলেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় ছিল—খালের দুই পাড়ে গাছ থাকবে, খালে পানি ও মাছের উৎপাদন বাড়বে, সেই পানি দিয়ে পাশের জমিতে সেচ দেওয়া যাবে এবং কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণ হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূর হবে, রোগবালাই কমবে এবং মাছ ও কৃষিপণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকবে। এসব দূরদর্শী চিন্তা থেকেই তিনি খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। শুধু চৌক্কার খাল নয়, সারাদেশে হাজার হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছিল তার উদ্যোগে।
শিল্পায়ন কর্তৃক আগ্রাসনের দখলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন শিল্পকারখানা তো ভেঙে দেওয়া যাবে না। বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। তবে পরিকল্পিত শিল্পকলকারখানা এবং পরিকল্পিতভাবে যেন বর্জ্যগুলো দূর হয় এবং সেখানে বর্জ্যগুলো দূর হতে যাওয়ার মাধ্যমে একটা নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা। বর্জ্য নিষ্কাশনের বিষয়টি আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে। সে দায়িত্বটুকু নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। এবং নতুনভাবে আমরা আজকে যে কাজে আসলাম সেটি হলো খাল পুনঃখনন। এই চৌক্কার খাল এই খালের দুপাশে অনেকগুলো ইন্ডাস্ট্রি আছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি আছে। সবকিছু মিলিয়ে এখানে যেনে পানিপ্রবাহ ঠিক থাকে। এ জন্য সাধারণ মানুষ যেন উপকারভোগী হয়। সে উপকারটা পায়, সুবিধাটা পায় সে জন্য আমরা চৌক্কার খাল পুনঃখননের প্রস্তুতি নিয়েছি। খনন করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ এই কাজটা দ্রুত সময়ের মধ্যে হবে। শ্রীপুরের দুটি খাল অগ্রাধিকার পেয়েছে বলে আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। আপনাদের এখানে শ্রীপুরে দুটি খাল অগ্রাধিকার পেয়েছি। সারাদেশে এক হাজার না এক হাজার কিলোমিটারের চেয়ে বেড়ে যাবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সরকার গঠনের পর, দায়িত্ব নেওয়ার পর দৃশ্যমান কিছু কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে দেশবাসী অবহিত। চোখের সামনে সবকিছু দৃশ্যমান। এবং বাস্তবে কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে পাশে নিয়ে এই দেশটাকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন আগে নির্বাচিত সরকার ছিল না বলে এমন তদবির ছিল। আমরা আমাদের পরিকল্পনা আইন অনুযায়ী সব করব। নির্বাচিত সরকারের কাজ হলো জনগণের পাশে থেকে এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করা। এখানে দীর্ঘদিন অবহেলা বঞ্চনায় ছিলেন। এখন নতুন করে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। এখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী নদী আইন খাল খনন অনুযায়ী খনন কাজ সম্পন্ন করা হবে। গতিপথ অনুযায়ী খাল খনন করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পানিসম্পদ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গাজীপুর-৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব, সদস্য সচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোসলেম উদ্দিন মৃধা, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সরকার, সদস্য সচিব মো. বিল্লাল হোসেন বেপারী, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহফুল হাসান হান্নান প্রমুখ।