বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৮১ সালের ৮ ডিসেম্বর মাত্র ২৬ বছর বয়সে মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচারিক জীবন শুরু করেন। তারপর চার দশকের বিচারিক কর্মজীবন পার করে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিক বিচারিক কাজ থেকে অবসরে যান। সম্প্রতি তিনি দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আব্দুল জাব্বার খানকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তার ৪১ বছরের বিচারিক জীবনের কথা।
দৈনিক বাংলা: অবসরকালীন জীবন কেমন কাটছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: ভালোই কাটছে। তবে ব্যস্ততা কমেনি। মনে হয় আরও বাড়ছে। অবসরে অবসর কোথায়? হা হা…
দৈনিক বাংলা: স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় কোনো নারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যাত্রা শুরুর পর সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবসরে গেলেন। সব মিলিয়ে একজন নারীর বিচারক হিসেবে দীর্ঘ এই পথচলা কতটা সহজ ছিল?
কৃষ্ণা দেবনাথ: দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়, তখনই কিন্তু বাংলাদেশে মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসতে পারেনি। নারীদের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রথমেই আমরা পুরুষদের থেকে তিন বছর পিছিয়ে যাই। দেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরুর তিন বছর পরে নারীদের যাত্রার পরও আজকে নারীদের অবস্থান কোথায় সেটা দেখতে হবে। আমি নারী বিচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি ১৯৮১ সালে। প্রথম এসেছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, দ্বিতীয় যাত্রা শুরু করেছিলেন বিচারপতি জিনাত আরা। আর তৃতীয় হিসেবে যুক্ত হই আমি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো, আমরা তিনজনই আপিল বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছি। এটা ভাবতে ভালো লাগে।
নারী হিসেবে বিচারিক জীবনের তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে নারী বিচারকদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়, তাদের সাংসারিক জীবন নিয়ে। কেননা, এটা বদলির চাকরি। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলির কারণে সংসারটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা অনেক কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তো ছিলই।
দৈনিক বাংলা: সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হবেন এমন স্বপ্ন কি বিচারিক জীবনের শুরুতে কখনো দেখেছিলেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: না, এমনটি কখনোই ভাবিনি। এমনকি হাইকোর্টেও থাকাকালীন ভাবিনি যে আমি আপিল বিভাগে যাব। স্বপ্নও ছিল না। তবে আমার স্বপ্ন ছিল আমি জজ হব।
দৈনিক বাংলা: অনেক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরাই এখন প্রায় বেঁচে নেই, আপনি কি মনে করেন এখন নতুন যারা আসছেন, তারা সেই খ্যাতিম্যান আইনজীবীদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: দেখেন এটা শুধু আইনজীবীদের মধ্যে নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। সবখানেই অবক্ষয়। ধরেন আমার বাবা যে পরিমাণ লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করেছেন আমি তো মনি করি না, আমার সেটুকু আছে। কিন্তু আমি আশাবাদী নতুন প্রজন্ম থেকে অনেক ট্যালেন্ট উঠে আসছে, আসবে। একসময় নামকরা আইনজীবীরা ছিলেন। তারপর তাদের উত্তরসূরিরা এসেছেন। ঠিক এমনি করেই নতুনরা আইনজীবী হয়ে উঠবেন। এখন যারা নবীন আইনজীবী তাদের জন্য একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার এটা মোক্ষম সময়। তার কারণ জায়গাটা এখন অনেক খালি, সবকিছু প্রস্তুত হয়ে আছে, এখন দরকার শুধু অধ্যবসায়ের।
দৈনিক বাংলা: আপনার অবসর জীবনের শেষ দিনে বলেছিলেন, বিচারক নিজেকে স্বাধীন মনে না করলে সুবিচার সম্ভব না। এর মানে আপনি কী বুঝিয়েছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এই বাক্যটি আমি শুধু কথার কথা হিসেবে বলিনি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেই বলেছি। এখনো বিশ্বাস করি, একজন বিচারক নিজেকে যদি স্বাধীন মনে না করেন, তাহলে কাগজে-কলমে স্বাধীনতা দিয়েই কী লাভ। একজন বিচারক নিজের বিবেককে প্রশ্ন করবেন তিনি নিজে স্বাধীন কি না। কাগজে-কলমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে মাত্র কিছু বছর আগে। তার আগে আমরা বিচারকরা তো নিজেদের পরাধীন মনে করিনি, বিচারের কাজটি কিন্তু স্বাধীনভাবেই করেছি।
আমি মনে করি, একজন বিচারক মনেপ্রাণে নিজেকে স্বাধীন মনে করেন কি না, সেটাই বড় কথা। আমি জোর গলায়, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি ৪১ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পদে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে তো আমার কাছে কোনো তদবির আসেনি। নিজেকেই সেই জায়গা তৈরি করে নিতে হবে। আমি যখন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন অনেক জুনিয়র বিচারক বলতেন তদবির আসে। আমি তখন তাদের বলেছি, কই আমার কাছে তো কোনো তদবির আসে না। তদবির যাতে না আসে সেই পরিবেশ আপনার নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। বিচারকের স্বাধীনতার বিষয়টি নিজের সততা দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।
তদবির না শুনে একবার এক ব্যক্তিকে জামিন দিইনি বলে সেই সময় আমাকে মেহেরপুরের জেলা জজ থেকেও বদলি করা হয়েছিল। জেলা জজ থেকে সাড়ে চার বছর আমাকে কর্নার করে রাখা হয়েছিল। দুটি জেলার জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্পেশাল জজ করে রাখা হয়েছিল। আমি তো তখনো ভয় পাইনি। আমার কথা হলো, নিজেকে স্বাধীন রাখতে হলে বদলির ভয় করলে চলবে না। কী আর করবে বাংলাদেশের ভেতরেই তো বদলি করবে, আর তো কিছু না। বিচারক যদি বদলির ভয় বা নিজের লাভ-ক্ষতির চিন্তা করেন তাহলে তিনি স্বাধীন বিচারক হিসেবে কীভাবে কাজ করবেন। করতে পারবেন না। বিচারককে তার নিজের সততার ওপর শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। এখন কিন্তু দেওয়ানি মামলায় আপস করার সুযোগ আছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলা আপসের সুযোগ আছে। এখন যদি এটা ভালোভাবে কার্যকর হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ মামলাই আসবে না। এটা যদি সফল করা যায়, তাহলে মামলার জট অনেক কমে আসবে।
দৈনিক বাংলা: একটি মামলা শেষ করতে বছরের পর বছর লাগে কেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: মামলা শেষ করতে পক্ষগণেরই জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় কোনো না কোনো পক্ষই চায় না, দ্রুত মামলা শেষ হোক। মামলার জট সৃষ্টির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর জন্য শুধু বিচারকরা দায়ী তা বলা যাবে না বরং বাদী-বিবাদী, দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও দায় রয়েছে। একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য কম করে হলেও পাঁচটি পক্ষের সমন্বয় দরকার পড়ে, তবেই মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।
এ ছাড়া বিচারকসংকট রয়েছে বড় আকারে। এত বিশাল মামলার জট দ্রুত কমাতে হলে বিপুলসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। যেটা সরকারের পক্ষে সম্ভব না।
দৈনিক বাংলা: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো যেকোনো বিষয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, কেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এখন কিন্তু পত্রিকা খুললেই দেখা যায় হাইকোর্টের বিভিন্ন সংবাদ বা নির্দেশনা নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে। চোখ মেললেই কোর্ট-কাচারির খবর পাওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভুক্তভোগীকে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক আছে, মানুষ আদালতে এলে প্রতিকার পায়। আবার কিছু সময় দেখি একটা সাধারণ বিষয় নিয়েও মানুষকে হাইকোর্টে আসতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে তাহলে কিন্তু আদালতের ওপর এই চাপ আসে না। তারা সেটি করছে না। অনেক সময় আদালতের নির্দেশের পরও অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয় না। এটা ভালো দিক না।
দৈনিক বাংলা: বিচার বিভাগকে কি আরও শক্তিশালী হতে হবে, নাকি শক্তিশালীই আছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: বিচার বিভাগকে কেউ শক্তিশালী করে দেবে না। বিচার বিভাগকে নিজেকেই শক্তিশালী হতে হবে। একটা আদেশ হওয়ার পর ঝড়ঝাপটা আসতে পারে। সেটা বহন করার মতো বিচারক যদি আমরা হতে পারি তাহলে বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে। বিচারক যদি সেই ঝড়ঝাপটা সইবার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে সেটা হবে না।
দৈনিক বাংলা: বার ও বেঞ্চের সম্পর্ককে বলা হয় একটি পাখির দুটি ডানা। সম্প্রতি বিভিন্ন বারে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে, এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: সর্বজনীনভাবে আমি বলব, সাবলীল সম্পর্ক হ্রাস পেয়েছে। অনেক আগে থেকেই এই সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় বিচারকের দরজায় লাথি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সার্বিকভাবে বলব আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সম্পর্ক অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। আমার বক্তব্য হলো, একজন বিচারক যেহেতু একটু ওপরে বসেন, আইনজীবীরা একটু নিচে দাঁড়ান, এই যে বিচারকরা একটু অগ্রাধিকার স্থানে থাকেন সে জন্য বিচারকদের অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু করা যায় না। সেটি তাদের মাথায় থাকতে হবে। এ ছাড়া আইনজীবীদেরও সহিষ্ণু হতে হবে। দুপক্ষই যদি সহিষ্ণু হয় তাহলে কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরবে না।
আদালতের মর্যাদা কমলে কিন্তু আইনজীবীদেরই মর্যাদা কমবে। এটা তাদের বুঝতে হবে। কোনো বিচারকের ভুল হলে আইনজীবীরা তার ওপরের বিচারককে বলতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট আছে, আইন মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে বলার সুযোগ আছে। কিন্তু তাই বলে স্লোগান দেয়া উচিত না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে পূরণীয় ঘটনা বা অপ্রাপ্তি বলে কিছু আছে কি না?
কৃষ্ণা দেবনাথ: মানিকগঞ্জে একটি অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে পারিনি, এই একটি বিষয় আমার মনে এখনো গেঁথে আছে। আইনজীবীর ভুলের কারণে সেই আসামিকে সাজা দিতে পারিনি। যে কারণে খুব কষ্ট লেগেছিল। কারণ মামলায় আসামি শনাক্ত একটা বড় ব্যাপার। মামলায় বলা হয়েছে, চাঁদের আলোতে আসামিকে দেখা গেছে। কিন্তু পঞ্জিকাতে দেখা গেল সেদিন অমাবস্যা ছিল। তার ওপর আবার সেদিন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আইনজীবী মামলা শক্ত করতে গিয়ে চাঁদের আলোতে দেখেছে বলে বিবরণ দিয়েছেন কিন্তু সেদিন সেটা ছিল না। যে কারণে আসামি শনাক্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরঞ্জিত বিবরণ মূল ঘটনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ ছেলেটি মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করত, সেটি উল্লেখ থাকলেও হতো। অতিরঞ্জিত করার কারণে আসামি বেঁচে যায়। এই ঘটনা আমাকে পীড়া দেয়। তার কারণ চোখের সামনে দেখেছিলাম মেয়েটির ঝলসানো মুখ। কিন্তু তার ন্যায়বিচার আমি দিতে পারিনি।
দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে আপনি কতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এটা বলতে পারব না। তার কারণ, আমি গুনে রাখিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার ব্যাপারে আমি অনেক সতর্ক ছিলাম। আমি দুইয়ে দুইয়ে চার না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সাজা দিইনি। অনেক আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েও আমি স্বস্তি পেয়েছি। তার কারণ অকাট্য দলিল-প্রমাণ ছিল। সব থেকে বড় স্বস্তি পেয়েছি, যখন আমি ঢাকার জেলা জজ ছিলাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফাঁসির আসামিদের সাজা কার্যকর হবে। তখন ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার জন্য শেষ যে স্বাক্ষর দিতে হয়, জেলা জজ হিসেবে সেটা আমি দিয়েছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার কাছে লাল নথি এল, আমি তাতে স্বাক্ষর করলাম। এরপরই টিভিতে দেখলাম কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর শুরু করেছে। ঐতিহাসিক সেই মামলাটিতে শেষ স্বাক্ষর করেছিলাম। এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।
দৈনিক বাংলা: অবসরে কেমন কাটছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: অবসরে একদমই অবসর নেই। আমি রুট (প্রান্তিক) লেভেলের ভিকটিমদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সেটাই শুরু করেছি। দেখা যাক কতটা করতে পারি।
দৈনিক বাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে।
কৃষ্ণা দেবনাথ: আপনাকেও ধন্যবাদ।
আসন্ন ২০২৬ সালের পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রথম হজ ফ্লাইট আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। হিজরি ১৪৪৭ সালের হজ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষে ধর্ম মন্ত্রণালয় হজ এজেন্সি এবং হজযাত্রী পরিবহনকারী বিমান সংস্থাগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) জারিকৃত এক চিঠিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, সকল পক্ষকে সৌদি সরকারের নির্ধারিত নিয়মাবলী এবং বাংলাদেশের ‘হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন, ২০২৬’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের এই তদারকির মূল উদ্দেশ্য হলো হজযাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সৌদি আরবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা।
নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে যে, সৌদি সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী একই সার্ভিস কোম্পানির আওতাভুক্ত সকল হজযাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে একই ফ্লাইটে সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। এর পাশাপাশি ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি বিশেষ গাণিতিক নিয়ম অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি হজ এজেন্সির মোট হজযাত্রীর অন্তত ২০ শতাংশকে প্রি-হজ ফ্লাইটের মধ্যবর্তী পর্যায়ে পাঠাতে হবে। এছাড়া প্রথম ও শেষ পর্যায়ে অবশিষ্ট হজযাত্রীদের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কোনোভাবেই প্রথম বা শেষ পর্যায়ে ৩০ শতাংশের কম কিংবা ৫০ শতাংশের বেশি টিকিট ইস্যু করা যাবে না বলে মন্ত্রণালয় কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ হজযাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত অন্য তিনটি এয়ারলাইনসের কাছে এই নির্দেশনার অনুলিপি পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, নির্ধারিত কোটা ও সময়সূচি অনুযায়ী টিকিট ব্যবস্থাপনা ও যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করতে হবে। হজযাত্রীদের যাত্রা যাতে কোনো ধরণের বিড়ম্বনা বা বিশৃঙ্খলার মুখে না পড়ে, সেজন্যই এই সময়োপযোগী নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোকে টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে এই নতুন অনুপাতগুলো নিবিড়ভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে শেষ মুহূর্তে কোনো ধরণের সংকটের সৃষ্টি না হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, দেশের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রাণীদের যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে তাঁদের পুনরায় স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। প্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত ‘পার্বত্য অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন গবেষণা পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টার মতে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের টিকিয়ে রাখার কোনো বিকল্প নেই।
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাণীর ওপর সৃষ্ট প্রভাব ও তাঁদের অভিযোজন প্রক্রিয়া নিয়ে নিবিড় গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভিন্ন জলবায়ুর পশু-পাখি পার্বত্য অঞ্চলে কেমন আচরণ করবে এবং তাঁদের উৎপাদন ক্ষমতা কেমন হবে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা দরকার। শুধুমাত্র বিদেশি ব্রয়লার বা লেয়ার মুরগির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে আমাদের নিজস্ব দেশীয় হাঁস-মুরগি ও পশুর জাত সংরক্ষণ এবং এসবের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও সময়মতো টিকা বা ভ্যাকসিন প্রদানের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন না দিলে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং খামারিদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। পশুসম্পদের এই সুরক্ষা শুধু প্রাণীর জন্য নয়, বরং মানুষের জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও একটি অপরিহার্য ধাপ।
দেশের পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের আধুনিকায়নে শিক্ষিত তরুণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেন। বর্তমান বাজার ব্যবস্থার অসংগতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ খামারিরা তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মুরগির বাচ্চা এবং ফিডের আকাশচুম্বী দাম, যা সাধারণ খামারিদের উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফিড বা খাবারের জন্য আমদানিনির্ভরতা কমাতে তিনি দেশে ভুট্টা ও সয়াবিন চাষ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। এতে করে উৎপাদন খরচ কমবে এবং সাধারণ ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টির নিশ্চয়তা পাবেন।
বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুলহাস আহমেদসহ স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালার আগে উপদেষ্টা বিএলআরআই-এর আঞ্চলিক কেন্দ্রে আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং সেখানে কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন। পরে তিনি ইনস্টিটিউটের গবেষণাগার ও সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রাণীর শেডগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এই সফরের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় খামারিদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং পার্বত্য অঞ্চলে প্রাণিসম্পদের প্রসারে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ও বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুর রহমান মোছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর অগ্রগতি হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান শুটার ও পরিকল্পনাকারীসহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডিবির একটি বিশেষ টিম গত কয়েকদিনের নিবিড় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মূল অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে আজ বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে পুরো ঘটনার নেপথ্য কাহিনী তুলে ধরবেন।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান শুটার হিসেবে চিহ্নিত ‘জিনাত’ এবং পুরো হত্যার নকশা বা পরিকল্পনা যার হাত দিয়ে হয়েছে সেই সন্দেহভাজন মাস্টারমাইন্ড ‘বিল্লাল’ রয়েছেন। এছাড়া তাঁদের সাথে থাকা আরও দুই সহযোগীকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে কারওয়ান বাজার ও তেজগাঁওয়ের মধ্যবর্তী এলাকা হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ওত পেতে থেকে মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। মুছাব্বিরের রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই নৃশংস হামলায় কেবল মোছাব্বির নন, বরং তাঁর সাথে থাকা তেজগাঁও থানা ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মোছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত আবু সুফিয়ান মাসুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কারা জড়িত এবং অস্ত্রের যোগান কোথা থেকে হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিবির এই দ্রুত পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তেজগাঁও ও নয়াপল্টন এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সমসাময়িক ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সরকার কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলকে অতিরিক্ত বা বিশেষ কোনো সুবিধা প্রদান করছে না। শফিকুল আলম জোর দিয়ে বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে এবং সরকার সকল দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি দল যাতে নির্বিঘ্নে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে প্রেস সচিব জানান, আসন্ন নির্বাচনে ইইউ থেকে একটি বড় আকারের পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে। উল্লেখ্য যে, বিগত তিনটি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় ইইউ কোনো পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি, তবে এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখছে। বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি আসন্ন গণভোট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ইইউ প্রতিনিধিকে আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন ও সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সরকার এই গণভোটে জনসাধারণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রত্যাশা করতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
নির্বাচনি পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শফিকুল আলম বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পতিত স্বৈরাচারী সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করতে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরণের মিসইনফরমেশন বা ভুল তথ্য ছড়াতে পারে। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে হত্যাকাণ্ডের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রায় প্রতিটি ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি নরসিংদীর মনি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে বলেন, এটি মূলত একটি পারিবারিক কলহের জেরে সংঘটিত হলেও একটি মহল একে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে চালিয়ে দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি যাচাই-বাছাই না করেই এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি সকলকে যেকোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে বিবৃতি প্রদানের আগে সত্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সামগ্রিকভাবে, একটি স্বচ্ছ ও সফল নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকার গুজব প্রতিরোধ এবং সত্য তথ্য প্রবাহ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
দেশে চলমান এলপি গ্যাস সংকটে পরিবহন খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা। আশঙ্কা প্রকাশ করে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলপি গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে যাত্রীসেবা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।
সিরাজুল মাওলা বলেন, ‘এলপিজি অটোগ্যাস একটি পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী জ্বালানি, যা সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিগত সরকারের উৎসাহে সারাদেশের ৬৪ জেলায় প্রায় এক হাজার অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্টেশনের ওপর নির্ভর করে প্রায় দেড় লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র এলপিজি সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্টেশন মালিকদের পাশাপাশি এলপিজিচালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।’
সিরাজুল মাওলা আরও জানান, দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে যানবাহন খাতে ব্যবহৃত হয় মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ। অথচ এই তুলনামূলক সামান্য পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো এলপিজি অটোগ্যাসশিল্প আজ ধ্বংসের মুখে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংগঠন যেন যেকোনোভাবে অটোগ্যাস খাতের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। এলপিজি আমদানিতে কোনো জটিলতা থাকলে বিইআরসি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ যেন তা দ্রুত সমাধান করে অপারেটরদের মাধ্যমে অটোগ্যাসের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এলপিজি সরবরাহে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য আগাম ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সহসভাপতি সাঈদা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল হোসাইন, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মো. মোকবুল হোসেন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ন কবির ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান প্রমুখ।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয় পুলিশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল। নানা ধরনের বিচ্যুতি ছিল আমাদের মধ্যে। আমরা অনেক গণবিরোধী কাজ করেছি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট মাসে যে দুঃখজনক ঘটনাগুলো ঘটেছে, বিপুল পরিমাণ আন্দোলনকারী প্রাণ দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন। এসব ঘটনার ফলে পুলিশের যারা লোভী, দলকানা কিছু নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যের কারণে আমাদের ওপরে যে দায়ভার এসেছে, এগুলো থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করানো, তাদের মনোবল বৃদ্ধি করে তাদের আবার তাদের কাজে ফিরিয়ে আনা—এই গত এক বছরে আমরা এটা চেষ্টা করেছি। আমরা বলব না আমরা শতভাগ সফল হয়েছি, তবে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই।’
শতভাগ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কোনো জায়গায় করা যায় না জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, ‘অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এটা শতভাগ তো কোনো জায়গায় করে ফেলা যায় না। আমাদের দেশের গত ১০-১৫-২০ বছরের অপরাধ পরিসংখ্যান যদি নেন, প্রতি বছরই সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার হত্যা সংঘটিত হয়ে থাকে। আমাদের অবশ্যই চেষ্টা থাকবে একজন লোকও যেন মারা না যায়। সেটা আমাদের লক্ষ্য।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, নির্বাচনের উপযোগী রাখা এটা আমাদের দায়িত্ব। এখানে শুধু পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ একা না, এখানে পুলিশের সঙ্গে নির্বাচনের দিন তো বিপুল পরিমাণ, ৬ লাখেরর মতো আনসার সদস্য থাকবেন। এখন নির্বাচনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, প্রতিরক্ষা বাহিনী আমাদের সঙ্গে আছে। বর্ডার গার্ড আছে, ইভেন কোস্ট গার্ড এবং নেভি উপকূলীয় অঞ্চলে এখন আইনশৃঙ্খলা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।’
এর আগে পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড অডিটোরিয়ামে রংপুর রেঞ্জের বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভা করেন বাহারুল আলম।
রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক বড় ধরণের সাফল্য অর্জন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। শুক্রবার গভীর রাতে মানিকগঞ্জ এবং গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডের প্রধান শুটার ও পরিকল্পনাকারীসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রধান শুটার হিসেবে চিহ্নিত জিনাত এবং এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী বিল্লাল রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত তৃতীয় ব্যক্তি এই দুজনের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মুছাব্বিরকে হত্যার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেছিল। ডিবি পুলিশের একাধিক টিম প্রযুক্তিগত সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে এবং একযোগে দুই জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। এই গ্রেপ্তারের ফলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এবং কার কার ইন্ধন রয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তাঁদেরকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য যে, গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের তেজতুরী বাজারে অবস্থিত স্টার হোটেলের পেছনের গলিতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। এতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির মারাত্মকভাবে আহত হন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার পরপরই নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য এবং অস্ত্র সরবরাহের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে কারওয়ান বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইতে অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের পর্যটক ভিসা দেওয়া সীমিত করা হয়েছে। এর আগে দিল্লির হাইকমিশন এবং আগরতলায় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশন থেকে ভিসা দেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) থেকে এসব জায়গা থেকে পর্যটক ভিসা দেওয়া ‘সীমিত’ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিবিসি বাংলা জানিয়েছে।
বিবিসি বলছে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা না হলেও, কলকাতায় ডেপুটি হাইকমিশনের সূত্রগুলি খবরটি নিশ্চিত করেছে।
এখন পর্যটক ভিসা সীমিত হলেও বাণিজ্যিক ভিসাসহ অন্যান্য ভিসা দেওয়া চালু থাকছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে থাকা চারটি ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে ভাঙচুর করা হয়। তখন ঢাকায় ভিসা সেন্টারের সামনেও বিক্ষোভ হয়। তারপর কয়েকদিন ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখে ভারত।
পরে ভিসা সেন্টারগুলো চালু হলেও মেডিকেল ভিসা ও কিছু জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্যান্য ভিসা ইস্যু বন্ধ রেখেছে ভারত। বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় পর্যটক ভিসা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এ শোক প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
শোকবার্তায় বলা হয়, অত্যন্ত গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির সমসাময়িক ইতিহাসের অন্যতম প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের সংবাদ পেয়েছে ইরান সরকার।
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, সাহস ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করে বেগম খালেদা জিয়া দুইবার বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জাতির অগ্রগতির সংগ্রামে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল প্রতীক। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় তার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শোকবার্তায় ইরান জানায়, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও মহান জাতির দুঃখ–সুখে তারা (ইরান) সর্বদা অংশীদার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত ও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।
৭ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সভাপতিত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় “Energy and Power Sector Master Plan 2026-2050” সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তপক্ষ (বিড)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। উল্লেখ্য, উক্ত সভায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি উপস্থিত ছিলেন।
এ মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য হলো দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত দায়বদ্ধতার মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও টেকসই প্রাথমিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা।
সভায় আগের তিনটি মহাপরিকল্পনার পলিসি গ্যাপ চিহ্নিত করে তা সংক্ষেপে পর্যালোচনা হয়। নতুন মহাপরিকল্পনা তিন ধাপে (প্রথম ধাপ ২০২৬-২০৩০ সাল, দ্বিতীয় ধাপ ২০৩০-২০৪০ সাল ও তৃতীয় ধাপ ২০৪০-৫০ সাল) বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বিস্তারিতভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের খুঁটিনাটি তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ এখানে। এটা সবল হলে অর্থনীতি দাঁড়াবে। দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনকে এই খাত প্রভাবিত করে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত গবেষণার জন্য পৃথক ইনস্টিটিউশন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা। সভায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, ট্রান্সমিশন, সরবরাহ, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সাসটেইনাবিলিটি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করা হয় এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রাইমারি এনার্জি সেক্টরকে আরও নিরাপদ, দক্ষ, কম আমদানিনির্ভর ও আর্থিকভাবে টেকসই করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা মোটা অংকের জামানত আরোপের যে সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন নিয়েছে, তাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও কষ্টকর হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অভিবাসন সংকট বিবেচনায় নিলে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল বাংলাদেশের ওপরই নয়, বরং বিশ্বের আরও ৩৭টি দেশের ওপর এই নিয়ম কার্যকর করেছে এবং এই তালিকায় এমন সব দেশ রয়েছে যাদের নাগরিকদের অভিবাসন ও নির্দিষ্ট মেয়াদের অতিরিক্ত অবস্থানের (ওভারস্টে) হার অনেক বেশি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মার্কিন কৌশলের একটি বিশেষ দিক তুলে ধরে বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সোশ্যাল সিস্টেম থেকে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেন, তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বাধিক। ফলে মার্কিন প্রশাসন যখন নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর এমন কঠোর বিধিনিষেধ বা আর্থিক সুরক্ষা কবচ আরোপ করে, সেখানে বাংলাদেশের নাম থাকাটা অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি মনে করেন, এটি আমাদের জন্য একটি বড় বার্তা এবং জাতীয় ভাবমূর্তির ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক প্রভাব। তবে এই পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী না করে তিনি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাকেই সামনে নিয়ে আসেন।
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, যদি গত এক বছরের মধ্যে অভিবাসনের এই নেতিবাচক হার বৃদ্ধি পেত, তবে বর্তমান সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেত। কিন্তু এই সংকটটি দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হয়েছে এবং পূর্ববর্তী সকল সরকারের ধারাবাহিক পলিসি ও জনশক্তি রপ্তানির ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার ফলেই আজ বাংলাদেশিদের এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। তাঁর মতে, মানুষের বিদেশ যাওয়ার বা অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার এই প্রবণতা কোনো একক সরকারের পক্ষে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এটি একটি কাঠামোগত সমস্যা যা বছরের পর বছর ধরে শেকড় গেড়েছে।
অনিয়মিত অভিবাসনের কুফল নিয়ে সতর্ক করে তৌহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার প্রথম দিন থেকেই অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তিনি মনে করেন, অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করাই এই ধরণের আন্তর্জাতিক অপমান ও কঠোরতা থেকে বাঁচার একমাত্র সমাধান। প্রতিনিয়ত সংবাদমাধ্যমে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর খবর কিংবা সাগর থেকে উদ্ধারের ঘটনাগুলো অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও, এটি প্রকারান্তরে আইন ভঙ্গেরই শামিল। ভুক্তভোগীদের প্রতি মানবিক সহানুভূতি থাকলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং আন্তর্জাতিক সম্মান পুনরুদ্ধারে প্রতিটি নাগরিককে আইনসম্মত ও নিয়মিত পন্থায় বিদেশ গমনের আহ্বান জানান তিনি। মূলত সঠিক অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নই এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে এবং ওষুধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় নতুন করে আরও ১৩৬টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে এই তালিকাভুক্ত ওষুধগুলোর বিক্রয়মূল্য সরাসরি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে এবং কোনো প্রতিষ্ঠানই নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান যে, ১৯8৫ সালে প্রথম এই তালিকা তৈরি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা হলেও দীর্ঘ সময় পর এবারই প্রথম বড় ধরনের কোনো বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন বা ফর্মুলার মাধ্যমে এই সংস্কার সম্পন্ন হলো।
সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় থাকা ওষুধগুলো মূলত দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ মানুষের সব ধরণের রোগের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট। ফলে এই ওষুধগুলোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, সরকার এ ক্ষেত্রে প্রচলিত মার্কআপ (লাভের হার) বা কাঁচামালের ব্যয়ের কোনো পরিবর্তন করেনি, তবে একটি সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা প্রয়োগ করা হয়েছে যাতে ওষুধের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ওষুধের দাম বর্তমানে নির্ধারিত সীমার ওপরে রয়েছে, তাঁদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে পর্যায়ক্রমে দাম কমিয়ে আনতে হবে। এটি মূলত সাধারণ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার পথে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
ওষুধ শিল্পের ওপর এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বিবেচনা করে সরকার অত্যন্ত সতর্ক ও দীর্ঘমেয়াদী একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাঁদের দাম সমন্বয় করার জন্য চার বছর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে ইন্ডাস্ট্রিগুলো কোনো বড় ধরণের ধাক্কা না খেয়ে ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে পারে। অত্যাবশ্যকীয় তালিকার বাইরে থাকা আরও প্রায় ১,১০০ ওষুধের ক্ষেত্রেও সরকার একটি স্বচ্ছ তদারকি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘ইন্টারনাল রেফারেন্স প্রাইসিং’ এবং ‘এক্সটারনাল রেফারেন্স প্রাইসিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ সাতটির বেশি কোম্পানি উৎপাদন করে, তবে তাঁদের মূল্য একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে থাকতে হবে এবং প্রতি বছর ২৫ শতাংশ হারে সমন্বয় করে চার বছরের মধ্যে নির্ধারিত সীমায় পৌঁছাতে হবে। আর যদি উৎপাদক সাতটির কম হয়, তবে দেশি ও বিদেশি বাজারের মূল্যের তুলনা করে যেটি কম, সেটিকেই মানদণ্ড হিসেবে ধরা হবে।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে ডা. সায়েদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, এটি বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই এই পুরো কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করবে। বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বা ‘হেলথ ট্রানজিশন’—যেখানে সংক্রামক ও অসংক্রামক উভয় ধরণের ব্যাধিই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা এই নতুন তালিকায় পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়েছে। সংক্রামক ব্যাধির পাশাপাশি ডায়াবেটিস এবং হাঁপানির মতো দীর্ঘমেয়াদী অসংক্রামক রোগের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব ওষুধ এই তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে অনেক দামী ওষুধ এই তালিকায় এখনই যুক্ত করা হয়নি। সামগ্রিকভাবে, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অনেক বেশি নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে কোনো পরিবর্তন বা জেলা প্রশাসক (ডিসি) রদবদলের প্রয়োজন হলে সরকার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ সরকারের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের যেকোনো সিদ্ধান্ত বা অভিমত সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার কমিশনের প্রতিটি চাওয়াকে যথাযথ সম্মান বা ‘অনার’ করার চেষ্টা করবে। মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন যদি কোনো পরিবর্তন অপরিহার্য মনে করে, তবে সরকার সেখানে আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে।
সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের ডিসিদের বিষয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাঁদের রদবদলের দাবি জানিয়েছে। নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি থাকা অবস্থায় এই ধরণের রদবদল সম্ভব কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন যে, সরকার নিজ থেকে কোনো রদবদলের কথা বলছে না। তবে নির্বাচন কমিশন যদি সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে কনভিন্সড হয় এবং মনে করে যে রদবদল করা জরুরি, তবেই কেবল সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যেকোনো পরিবর্তনের আগে কমিশনকে বিষয়টির যৌক্তিকতা নিয়ে নিশ্চিত হতে হবে।
মাঠ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. শেখ আব্দুর রশীদ জানান যে, তিনি এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিচ্যুতি বা অস্বাভাবিক কিছু দেখেননি। তাঁর মতে, মাঠ পর্যায়ে অনেক সময় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং সেই সিদ্ধান্তে সব পক্ষ সবসময় সন্তুষ্ট না হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রতিটি প্রার্থীর পরিস্থিতি যেমন ভিন্ন ছিল, তেমনি প্রশাসনের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তে ভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে কোনো সিদ্ধান্তে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তাঁদের জন্য আইনি পথে আপিলের সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে এবং বর্তমানে শত শত প্রার্থী সেই সুযোগ ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করছেন।
প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে সচিব তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান উন্মুক্ত তথ্যপ্রবাহের যুগে যে কেউ যেকোনো বিষয়ে কথা বলতে পারেন এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা অভিযোগ করবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রশাসন কোনো একটি বিশেষ পক্ষের হয়ে কাজ করছে এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাঁর নজরে আসেনি। তিনি আশ্বাস দেন যে, প্রশাসনে যদি সত্যিই কোনো ত্রুটি বা অস্বচ্ছতা থাকে, তবে তা মেধা ও যোগ্যতার (মেরিট) ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। মূলত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সরকারের সকল বিভাগ এখন নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহায়তা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।