মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
২ আষাঢ় ১৪৩৩
কৃষ্ণা দেবনাথের সাক্ষাৎকার

অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্ক 

কৃষ্ণা দেবনাথ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৯ মার্চ, ২০২৩ ১৬:১২
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৩ ০৮:১০

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৮১ সালের ৮ ডিসেম্বর মাত্র ২৬ বছর বয়সে মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচারিক জীবন শুরু করেন। তারপর চার দশকের বিচারিক কর্মজীবন পার করে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিক বিচারিক কাজ থেকে অবসরে যান। সম্প্রতি তিনি দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আব্দুল জাব্বার খানকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তার ৪১ বছরের বিচারিক জীবনের কথা।

দৈনিক বাংলা: অবসরকালীন জীবন কেমন কাটছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: ভালোই কাটছে। তবে ব্যস্ততা কমেনি। মনে হয় আরও বাড়ছে। অবসরে অবসর কোথায়? হা হা…

দৈনিক বাংলা: স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় কোনো নারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যাত্রা শুরুর পর সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবসরে গেলেন। সব মিলিয়ে একজন নারীর বিচারক হিসেবে দীর্ঘ এই পথচলা কতটা সহজ ছিল?

কৃষ্ণা দেবনাথ: দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়, তখনই কিন্তু বাংলাদেশে মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসতে পারেনি। নারীদের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রথমেই আমরা পুরুষদের থেকে তিন বছর পিছিয়ে যাই। দেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরুর তিন বছর পরে নারীদের যাত্রার পরও আজকে নারীদের অবস্থান কোথায় সেটা দেখতে হবে। আমি নারী বিচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি ১৯৮১ সালে। প্রথম এসেছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, দ্বিতীয় যাত্রা শুরু করেছিলেন বিচারপতি জিনাত আরা। আর তৃতীয় হিসেবে যুক্ত হই আমি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো, আমরা তিনজনই আপিল বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছি। এটা ভাবতে ভালো লাগে।

নারী হিসেবে বিচারিক জীবনের তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে নারী বিচারকদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়, তাদের সাংসারিক জীবন নিয়ে। কেননা, এটা বদলির চাকরি। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলির কারণে সংসারটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা অনেক কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তো ছিলই।

দৈনিক বাংলা: সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হবেন এমন স্বপ্ন কি বিচারিক জীবনের শুরুতে কখনো দেখেছিলেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: না, এমনটি কখনোই ভাবিনি। এমনকি হাইকোর্টেও থাকাকালীন ভাবিনি যে আমি আপিল বিভাগে যাব। স্বপ্নও ছিল না। তবে আমার স্বপ্ন ছিল আমি জজ হব।

দৈনিক বাংলা: অনেক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরাই এখন প্রায় বেঁচে নেই, আপনি কি মনে করেন এখন নতুন যারা আসছেন, তারা সেই খ্যাতিম্যান আইনজীবীদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: দেখেন এটা শুধু আইনজীবীদের মধ্যে নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। সবখানেই অবক্ষয়। ধরেন আমার বাবা যে পরিমাণ লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করেছেন আমি তো মনি করি না, আমার সেটুকু আছে। কিন্তু আমি আশাবাদী নতুন প্রজন্ম থেকে অনেক ট্যালেন্ট উঠে আসছে, আসবে। একসময় নামকরা আইনজীবীরা ছিলেন। তারপর তাদের উত্তরসূরিরা এসেছেন। ঠিক এমনি করেই নতুনরা আইনজীবী হয়ে উঠবেন। এখন যারা নবীন আইনজীবী তাদের জন্য একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার এটা মোক্ষম সময়। তার কারণ জায়গাটা এখন অনেক খালি, সবকিছু প্রস্তুত হয়ে আছে, এখন দরকার শুধু অধ্যবসায়ের।

দৈনিক বাংলা: আপনার অবসর জীবনের শেষ দিনে বলেছিলেন, বিচারক নিজেকে স্বাধীন মনে না করলে সুবিচার সম্ভব না। এর মানে আপনি কী বুঝিয়েছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এই বাক্যটি আমি শুধু কথার কথা হিসেবে বলিনি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেই বলেছি। এখনো বিশ্বাস করি, একজন বিচারক নিজেকে যদি স্বাধীন মনে না করেন, তাহলে কাগজে-কলমে স্বাধীনতা দিয়েই কী লাভ। একজন বিচারক নিজের বিবেককে প্রশ্ন করবেন তিনি নিজে স্বাধীন কি না। কাগজে-কলমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে মাত্র কিছু বছর আগে। তার আগে আমরা বিচারকরা তো নিজেদের পরাধীন মনে করিনি, বিচারের কাজটি কিন্তু স্বাধীনভাবেই করেছি।

আমি মনে করি, একজন বিচারক মনেপ্রাণে নিজেকে স্বাধীন মনে করেন কি না, সেটাই বড় কথা। আমি জোর গলায়, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি ৪১ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পদে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে তো আমার কাছে কোনো তদবির আসেনি। নিজেকেই সেই জায়গা তৈরি করে নিতে হবে। আমি যখন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন অনেক জুনিয়র বিচারক বলতেন তদবির আসে। আমি তখন তাদের বলেছি, কই আমার কাছে তো কোনো তদবির আসে না। তদবির যাতে না আসে সেই পরিবেশ আপনার নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। বিচারকের স্বাধীনতার বিষয়টি নিজের সততা দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।

তদবির না শুনে একবার এক ব্যক্তিকে জামিন দিইনি বলে সেই সময় আমাকে মেহেরপুরের জেলা জজ থেকেও বদলি করা হয়েছিল। জেলা জজ থেকে সাড়ে চার বছর আমাকে কর্নার করে রাখা হয়েছিল। দুটি জেলার জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্পেশাল জজ করে রাখা হয়েছিল। আমি তো তখনো ভয় পাইনি। আমার কথা হলো, নিজেকে স্বাধীন রাখতে হলে বদলির ভয় করলে চলবে না। কী আর করবে বাংলাদেশের ভেতরেই তো বদলি করবে, আর তো কিছু না। বিচারক যদি বদলির ভয় বা নিজের লাভ-ক্ষতির চিন্তা করেন তাহলে তিনি স্বাধীন বিচারক হিসেবে কীভাবে কাজ করবেন। করতে পারবেন না। বিচারককে তার নিজের সততার ওপর শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। এখন কিন্তু দেওয়ানি মামলায় আপস করার সুযোগ আছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলা আপসের সুযোগ আছে। এখন যদি এটা ভালোভাবে কার্যকর হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ মামলাই আসবে না। এটা যদি সফল করা যায়, তাহলে মামলার জট অনেক কমে আসবে।

দৈনিক বাংলা: একটি মামলা শেষ করতে বছরের পর বছর লাগে কেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: মামলা শেষ করতে পক্ষগণেরই জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় কোনো না কোনো পক্ষই চায় না, দ্রুত মামলা শেষ হোক। মামলার জট সৃষ্টির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর জন্য শুধু বিচারকরা দায়ী তা বলা যাবে না বরং বাদী-বিবাদী, দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও দায় রয়েছে। একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য কম করে হলেও পাঁচটি পক্ষের সমন্বয় দরকার পড়ে, তবেই মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।

এ ছাড়া বিচারকসংকট রয়েছে বড় আকারে। এত বিশাল মামলার জট দ্রুত কমাতে হলে বিপুলসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। যেটা সরকারের পক্ষে সম্ভব না।

দৈনিক বাংলা: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো যেকোনো বিষয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, কেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এখন কিন্তু পত্রিকা খুললেই দেখা যায় হাইকোর্টের বিভিন্ন সংবাদ বা নির্দেশনা নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে। চোখ মেললেই কোর্ট-কাচারির খবর পাওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভুক্তভোগীকে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক আছে, মানুষ আদালতে এলে প্রতিকার পায়। আবার কিছু সময় দেখি একটা সাধারণ বিষয় নিয়েও মানুষকে হাইকোর্টে আসতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে তাহলে কিন্তু আদালতের ওপর এই চাপ আসে না। তারা সেটি করছে না। অনেক সময় আদালতের নির্দেশের পরও অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয় না। এটা ভালো দিক না।

দৈনিক বাংলা: বিচার বিভাগকে কি আরও শক্তিশালী হতে হবে, নাকি শক্তিশালীই আছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: বিচার বিভাগকে কেউ শক্তিশালী করে দেবে না। বিচার বিভাগকে নিজেকেই শক্তিশালী হতে হবে। একটা আদেশ হওয়ার পর ঝড়ঝাপটা আসতে পারে। সেটা বহন করার মতো বিচারক যদি আমরা হতে পারি তাহলে বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে। বিচারক যদি সেই ঝড়ঝাপটা সইবার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে সেটা হবে না।

দৈনিক বাংলা: বার ও বেঞ্চের সম্পর্ককে বলা হয় একটি পাখির দুটি ডানা। সম্প্রতি বিভিন্ন বারে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে, এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: সর্বজনীনভাবে আমি বলব, সাবলীল সম্পর্ক হ্রাস পেয়েছে। অনেক আগে থেকেই এই সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় বিচারকের দরজায় লাথি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সার্বিকভাবে বলব আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সম্পর্ক অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। আমার বক্তব্য হলো, একজন বিচারক যেহেতু একটু ওপরে বসেন, আইনজীবীরা একটু নিচে দাঁড়ান, এই যে বিচারকরা একটু অগ্রাধিকার স্থানে থাকেন সে জন্য বিচারকদের অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু করা যায় না। সেটি তাদের মাথায় থাকতে হবে। এ ছাড়া আইনজীবীদেরও সহিষ্ণু হতে হবে। দুপক্ষই যদি সহিষ্ণু হয় তাহলে কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরবে না।

আদালতের মর্যাদা কমলে কিন্তু আইনজীবীদেরই মর্যাদা কমবে। এটা তাদের বুঝতে হবে। কোনো বিচারকের ভুল হলে আইনজীবীরা তার ওপরের বিচারককে বলতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট আছে, আইন মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে বলার সুযোগ আছে। কিন্তু তাই বলে স্লোগান দেয়া উচিত না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে পূরণীয় ঘটনা বা অপ্রাপ্তি বলে কিছু আছে কি না?

কৃষ্ণা দেবনাথ: মানিকগঞ্জে একটি অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে পারিনি, এই একটি বিষয় আমার মনে এখনো গেঁথে আছে। আইনজীবীর ভুলের কারণে সেই আসামিকে সাজা দিতে পারিনি। যে কারণে খুব কষ্ট লেগেছিল। কারণ মামলায় আসামি শনাক্ত একটা বড় ব্যাপার। মামলায় বলা হয়েছে, চাঁদের আলোতে আসামিকে দেখা গেছে। কিন্তু পঞ্জিকাতে দেখা গেল সেদিন অমাবস্যা ছিল। তার ওপর আবার সেদিন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আইনজীবী মামলা শক্ত করতে গিয়ে চাঁদের আলোতে দেখেছে বলে বিবরণ দিয়েছেন কিন্তু সেদিন সেটা ছিল না। যে কারণে আসামি শনাক্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরঞ্জিত বিবরণ মূল ঘটনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ ছেলেটি মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করত, সেটি উল্লেখ থাকলেও হতো। অতিরঞ্জিত করার কারণে আসামি বেঁচে যায়। এই ঘটনা আমাকে পীড়া দেয়। তার কারণ চোখের সামনে দেখেছিলাম মেয়েটির ঝলসানো মুখ। কিন্তু তার ন্যায়বিচার আমি দিতে পারিনি।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে আপনি কতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এটা বলতে পারব না। তার কারণ, আমি গুনে রাখিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার ব্যাপারে আমি অনেক সতর্ক ছিলাম। আমি দুইয়ে দুইয়ে চার না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সাজা দিইনি। অনেক আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েও আমি স্বস্তি পেয়েছি। তার কারণ অকাট্য দলিল-প্রমাণ ছিল। সব থেকে বড় স্বস্তি পেয়েছি, যখন আমি ঢাকার জেলা জজ ছিলাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফাঁসির আসামিদের সাজা কার্যকর হবে। তখন ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার জন্য শেষ যে স্বাক্ষর দিতে হয়, জেলা জজ হিসেবে সেটা আমি দিয়েছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার কাছে লাল নথি এল, আমি তাতে স্বাক্ষর করলাম। এরপরই টিভিতে দেখলাম কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর শুরু করেছে। ঐতিহাসিক সেই মামলাটিতে শেষ স্বাক্ষর করেছিলাম। এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।

দৈনিক বাংলা: অবসরে কেমন কাটছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: অবসরে একদমই অবসর নেই। আমি রুট (প্রান্তিক) লেভেলের ভিকটিমদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সেটাই শুরু করেছি। দেখা যাক কতটা করতে পারি।

দৈনিক বাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে।

কৃষ্ণা দেবনাথ: আপনাকেও ধন্যবাদ।


নির্বাচিত

ইউনূস সরকারের ‘কালো অধ্যায়’ পেরিয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের অভিযাত্রা

# দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রায় যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনা # সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা প্রথম বছরের চ্যালেঞ্জ # লক্ষ্য ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে জিডিপি ৮.৫ শতাংশে উন্নীত করা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো তার বেসরকারি খাত, যার পিঠে ভর করে গড়ে ওঠে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির মজবুত ভিত্তি। কিন্তু ড. মুহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে আইনি সংস্কারের নামে নেওয়া কয়েকটি সিদ্ধান্ত ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নজিরবিহীন স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। তবে বিচারহীনভাবে সম্পদ অবরুদ্ধকরণ এবং উদ্যোক্তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলার সেই ‘অন্ধকার অধ্যায়’ পেরিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে দেশের আর্থিক খাত।
সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের পরে ইউনূস আমলের বিতর্কিত আইনি ধারাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে। এই পটভূমিতে দাঁড়িয়ে, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করার দূরদর্শী লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ‘থ্রি-আর’ কৌশল দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন বাঁক বদলের সূচনা করতে যাচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য, এই দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৮.৫ শতাংশে উন্নীত করা। ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে এই ৫ বছরেই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সমৃদ্ধ অর্থনীতির চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন-২০০৪’-এর যে সংশোধনী আনা হয়েছিল, আইন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ‘নিকৃষ্ট কালো আইন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। আদালতের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী বিবেচনা করা আইনের শাসনের পরিপন্থি। অথচ, সংশোধিত আইনে ‘আন্ডার কাভার’ তদন্তের নামে কোনো রকম বিচার বা চার্জশিট ছাড়াই যেকোনো নাগরিক বা ব্যবসায়ীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তাৎক্ষণিক জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের মাধ্যমে ব্যবসা বন্ধ করার অবাধ সুযোগ তৈরি করা হয়।
সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ (অবাধ চলাফেরা ও দেশত্যাগের মৌলিক অধিকার) এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক রায় (দুদক বনাম জি বি হোসেন মামলা, ৭৪ ডিএলআর)—যেখানে বলা হয়েছিল শুধু মামলার অজুহাতে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়া যাবে না—তা পুরোপুরি অমান্য করা হয়।
অর্থনীতির ওপর নেমে আসা আঘাতের খতিয়ান: ৫৫,০০০ কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ: দেশের প্রায় দেড় হাজার শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও সাধারণ পেশাজীবীর ব্যাংক হিসাব এবং সম্পত্তি আকস্মিকভাবে ফ্রিজ বা ক্রোক করা হয়।
১,০০০ উদ্যোক্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা: বিশ্বায়নের এই যুগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য যেখানে প্রতিনিয়ত বিদেশে যোগাযোগ করতে হয়, সেখানে এক হাজারেরও বেশি শিল্পপতির ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বহু চলমান বৈদেশিক চুক্তি বাতিল হয়ে যায়।
উৎপাদন বন্ধ ও লাখো মানুষের বেকারত্ব: পুঁজি ও মালিকের অনুপস্থিতিতে শত শত কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন বিনিয়োগ তো দূরস্থ, উল্টো সচল থাকা কয়েক লাখ মানুষ চাকরি হারিয়ে চরম বেকারত্বের মুখে পড়েন।
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ: যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে, তারা চাইলেও ব্যাংকের নিয়মিত কিস্তি ও ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ একযোগে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো ঘটেনি।
কেবল দুর্বল ব্যাংকই নয়; দেশের প্রথম সারির ও সুশাসিত আর্থিক সূচকে থাকা সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক এবং বিদেশি মালিকানাধীন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকেরও খেলাপি ঋণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে বৈশ্বিক আইনি কাঠামো কঠোর হলেও, পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক বা আধুনিক অর্থব্যবস্থায় আদালতের রায় ছাড়া ঢালাওভাবে ব্যবসা বন্ধের নজির নেই।
ঘুরে দাঁড়ানোর মহাপরিকল্পনা—সরকারের ‘থ্রি-আর’ কৌশল: বিগত দেড় বছরের আইনি ও নীতিগত ঝড়ঝাপটা কাটিয়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে এখন নতুন করে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। সব প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক তথ্য জানাচ্ছে, দেশের অর্থনীতি তার সহজাত স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ দিয়ে বিদায়ী অর্থবছরে ৪.১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই ইতিবাচক ধারাকে ত্বরান্বিত করতে এবং দেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যেতে এক যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনা সাজিয়েছে নতুন সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন ধাপের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক রূপরেখা উন্মোচন করতে যাচ্ছেন, যা সংক্ষেপে ‘থ্রি-আর’ (Three-R) কৌশল নামে অভিহিত।
এই ‘থ্রি-আর’ কৌশলটি মূলত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন স্তরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
কৌশলের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো ‘রিকভারি’ বা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার। বিগত আমলের বিতর্কিত আইনি গ্যাঁড়াকল ও ঢালাও ব্যাংক হিসাব জব্দের কারণে বেসরকারি খাতে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, আগামী ১২ মাসের মধ্যে তা সম্পূর্ণ দূর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এই ধাপে। এর আওতায় সরকার অনতিবিলম্বে ব্যবসায়ীদের অবরুদ্ধ অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তি সচল করার প্রক্রিয়া দ্রুততর করবে, যাতে বাজারে বন্ধ হয়ে যাওয়া তারল্য প্রবাহ আবার স্বাভাবিক হয়।
একই সাথে, ব্যাংকিং খাতের চলমান অস্থিরতা কাটানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি শক্ত ‘স্ট্যাবিলাইজেশন’ বা স্থিতিশীলতা আনয়নই হবে এই প্রথম বছরের মূল চ্যালেঞ্জ।
প্রথম ধাপে স্থিতিশীলতা আসার পর, দ্বিতীয় ধাপে গুরুত্ব দেওয়া হবে ‘রিস্টোরেশন’ বা অর্থনীতির স্বাভাবিক কাঠামো ও গতি ফিরিয়ে আনার ওপর। বর্তমান সরকারের প্রথম তিন বছরের মধ্যে এই ধাপের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হবে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো এবং বিগত দেড় বছরে আতঙ্কিত হয়ে যেসব দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিলেন, তাদের পুনরায় বিনিয়োগে ফিরিয়ে আনা।
এই তিন বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য বিশেষ নীতিগত সুবিধা ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে, যার সরাসরি সুফল হিসেবে দেশের বাজারে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং সংকুচিত হয়ে পড়া শ্রমবাজার আবার প্রাণ ফিরে পাবে।
‘থ্রি-আর’ কৌশলের চূড়ান্ত ও সবচেয়ে দূরদর্শী ধাপ হলো ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন’ বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে কাঠামোগত পুনর্গঠন। পাঁচ বছর মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনাটি ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। এই ধাপে দেশের সনাতন অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে আধুনিক, ডিজিটাল ও উৎপাদনমুখী করে গড়ে তোলা হবে।


নির্বাচিত

সম্পূরক বাজেটে ব্যয় কমিয়ে ৭.৮৮ লাখ কোটি টাকার প্রস্তাব, ঘাটতি ২ লাখ কোটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত সংশোধিত বাজেটে সরকারের মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৩ শতাংশ। সোমবার (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম দিনে অর্থমন্ত্রী সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করেছেন।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। তবে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গঠনের পর বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতা কাটিয়ে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে সরকারি ব্যয়ে অপচয় রোধ, অগ্রাধিকারহীন খাতে ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়ার মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

এসব কর্মসূচির ব্যয় মেটাতেই সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাজেট উপস্থাপনের পর স্পিকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচিত হলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত নয়।

স্পিকার জানান, সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে। এসব দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের ২০ জন সংসদ সদস্য ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন।

সময় বিবেচনায় অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর উত্থাপিত ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচনা করা হবে। বাকি দাবিগুলো সরাসরি ভোটে নিষ্পন্ন করা হবে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা: ঢাকার বুক থেকে সরছে ৪ বাস টার্মিনাল

আপডেটেড ১৫ জুন, ২০২৬ ২৩:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    # যানজটমুক্ত তিলোত্তমা নগরীর নতুন রোডম্যাপ

দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট, হর্ন আর বিশৃঙ্খলার অভিশাপ থেকে রাজধানী ঢাকাকে মুক্ত করতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। ঢাকার প্রবেশপথ এবং অভ্যন্তরের ট্রাফিক জটলা চিরতরে দূর করার লক্ষ্যে সায়দাবাদ, গুলিস্তান এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল রাজধানীর ভেতর থেকে সরিয়ে ঢাকার বাইরে বা উপযুক্ত প্রান্তিক (আউটার) স্থানে পর্যায়ক্রমে স্থানান্তরের কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ‘যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ বিষয়ক তৃতীয় দফার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ঢাকা মহানগরের দুই প্রশাসক সাংবাদিকদের এই মেগা পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেন।

যানজটের ‘রুট কজ’ বা মূল উৎস দূর করার উদ্যোগ: ঢাকা আজ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এবং ধীরগতির শহর হিসেবে পরিচিত। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো শহরের ভৌগোলিক বিন্যাস ও অপরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থা। রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সায়দাবাদ, গুলিস্তান এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে।

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দূরপাল্লার বাস এই টার্মিনালগুলোতে প্রবেশ করে এবং বের হয়। ফলে সায়েদাবাদ দিয়ে যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোড, মহাখালী দিয়ে টঙ্গী-উত্তরা রুট এবং গুলিস্তানের কারণে পুরান ঢাকা ও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর সার্বক্ষণিক যানজট লেগেই থাকে। এই সংকটের কারণে প্রতিদিন লাখ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট দূর করতে নগরীর ভেতর থেকে এসব টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

নীতি-নির্ধারণী সভায় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি: প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই নীতি-নির্ধারণী সভায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নিজেদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রূপরেখা তুলে ধরেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ডিএমপি কমিশনার, রাজউক, বিআরটিএ, বিআরটিসি এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ঢাকাকে বাসযোগ্য

করতে হলে শহরের ভেতর দূরপাল্লার বাসের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

সম্ভাব্য বিকল্প স্থানসমূহ: সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নগর পরিকল্পনাবিদদের পূর্ববর্তী সমীক্ষা অনুযায়ী, টার্মিনালগুলো এক দিনে সরানো সম্ভব নয়। তাই পর্যায়ক্রমে ঢাকার বাইরে চারপাশের উপযুক্ত প্রান্তিক স্থানগুলোতে এগুলোকে পুনর্বাসন করা হবে। সম্ভাব্য বিকল্প স্থানগুলোর তালিকায় রয়েছে:

কাঁচপুর উত্তর ও দক্ষিণ: সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বাসগুলোর জন্য। কেরানীগঞ্জ (বাউরিয়া): খুলনা ও বরিশালসহ দক্ষিণবঙ্গের বাসগুলোর জন্য।

সাভার (হেমায়েতপুর বা আমিনবাজার): রাজশাহী ও রংপুরসহ উত্তরবঙ্গের বাসগুলোর জন্য।

গাজীপুর বা বাউলিয়াসংলগ্ন এলাকা: ময়মনসিংহ বিভাগের বাসগুলোর জন্য।

এই প্রান্তিক টার্মিনালগুলো নির্মিত হলে দূরপাল্লার বাসগুলো ঢাকার মূল সীমানার বাইরে থেকেই তাদের যাত্রী নামিয়ে আবার চলে যেতে পারবে। ফলে শহরের ভেতরের রাস্তায় বাসের অতিরিক্ত চাপ প্রায় ৮০ শতাংশ কমে যাবে।

বাস্তবায়নের মূল চ্যালেঞ্জসমূহ: জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণ: ঢাকার বাইরে বিশাল আকৃতির আধুনিক টার্মিনাল তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা এবং সেখানে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বয়: পরিবহন সেক্টরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে আনা এবং তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা একটি বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।

কানেক্টিভিটি বা লিংক ট্রান্সপোর্ট: দূরপাল্লার যাত্রীরা যখন ঢাকার বাইরে নামবেন, তখন তারা কীভাবে সহজে এবং কম খরচে শহরের ভেতরে ঢুকবেন, সেই সুব্যবস্থা করা।

নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু টার্মিনাল সরালেই ঢাকার যানজট কমবে না, যদি না এর সাথে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।

তারা বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ঢাকার ট্রাফিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। তবে প্রান্তিক টার্মিনালগুলোর সাথে শহরের মূল অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দ্রুত ও সহজলভ্য করতে হবে। দূরপাল্লার যাত্রীদের শহরের ভেতর নিয়ে আসার জন্য এই আউটার টার্মিনালগুলোর সাথে মেট্রোরেল, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট অথবা বিশেষ চক্রাকার বাস সার্ভিসের সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

একই সাথে ঢাকার অভ্যন্তরীণ বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে শহরের ভেতরের লোকাল বাসগুলোর ফিটনেস ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন আশার আলো: রাজধানীবাসীর বহু বছরের পুরনো এবং যৌক্তিক দাবি ছিল আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া। অবশেষে সরকারের এই কঠোর ও দূরদর্শী নির্দেশনা সেই দাবি বাস্তবায়নের পথ সুগম করল। এই মহাপরিকল্পনা যদি দ্রুত, দুর্নীতিমুক্ত এবং সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, তবে ঢাকাবাসী আগামীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের যানজটমুক্ত, দূষণমুক্ত এবং আধুনিক তিলোত্তমা নগরী উপহার পাবে—এমনটাই এখন টেকসই উন্নয়নের মূল প্রত্যাশা।


নির্বাচিত

সরকারিভাবে নতুন পাটকল স্থাপন নয় সব যাবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়: সংসদে পাটমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সরকারি উদ্যোগে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এ খাতে সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সোমবার জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। এদিন বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

পাটমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। সরকারঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বাকি মিলগুলোও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।

সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, সোনালি আঁশ পাট শিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বন্ধ পাটকল চালুসহ নতুন পাটকল স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আছে কিনা?

জবাবে মন্ত্রী বলেন, সোনালি আঁশ পাটশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। পরবর্তীতে একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন প্রকল্প রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। ২০২০ সালের ১ জুলাইয়ের সরকারি সিদ্ধান্তে বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ২০টি মিলবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা ভিত্তিতে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পাদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি মিল চালু করা হয়েছে।

অবশিষ্ট ৬টি মিল ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে, যার মধ্যে ৩টি মিলের বিপরীতে চূড়ান্ত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে, একটি মিলের বিপরীতে দাখিল করা এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (আগ্রহপত্র) প্রস্তাব মূল্যায়নের কাজ চলছে, ১টি মিলের জন্য আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং ১টি মিলের ইজারা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আর বাকি মিলগুলোও সরকার ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

মন্ত্রী বলেন, ইজারা বহির্ভূত ৫টি মিলের মধ্যে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় ৩টি মিল এবং মামলাজনিত কারণে ২টি মিল লিজের বাইরে রাখা হয়েছিল। এই অবস্থায় সরকারিভাবে দেশে নতুন কোনও পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বরং সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই সেক্টরে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য।


নির্বাচিত

বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, খ্রিষ্টধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের পাঠ্যবই হাতে পাবে। সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের মাঠে আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি, এই বছরে ডিসেম্বর অর্থাৎ বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে তাদের বই পৌঁছে দেব। বইগুলি পরিমার্জিত বই এবং বইগুলোর কারিকুলাম অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৮ সালে আমরা নতুন কারিকুলাম নিয়ে নতুন সিলেবাস নিয়ে আমরা আসতে পারব।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বইগুলো পরিমার্জন হয়েছে। চারটি বিষয়ে আমরা বই নতুনভাবে দিচ্ছি এবং এই কর্মযজ্ঞ শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালিয়ে যাচ্ছে।’

সাধারণত বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। তবে এবার ২৫ ডিসেম্বরের আগেই তাদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার কথা বললেন শিক্ষামন্ত্রী।

আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন, মাধ্যমিক স্তরের এসএসসি পরীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে সুন্দরভাবে। প্রশ্নপত্র আউট (ফাঁস) হয়নি, নকল হয়নি এবং দুই মাসের ভেতরে আগামী ২০ জুলাইয়ের ভেতরে রেজাল্টও আউট (ফল প্রকাশ) হয়ে যাবে।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘এর পরবর্তীতে সেশন জট এবং এই যে গ্যাপ রয়েছে আমাদের এসএসসি, এইচএসসি এবং ইউনিভার্সিটি এডুকেশনের, এই গ্যাপগুলোকে আমরা সমন্বয় সাধন করছি। আশা করছি, ২০২৮-এর মধ্যে আমাদের ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই কলেজ অ্যাডমিশন এবং কলেজ শেষ করে ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশন...। এটাকে আমরা সিংক্রোনাইজ করছি। আমরা কোনো অবস্থায়ই অবহেলায় সময় কাটাব না আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এই যে সিংক্রোনাইজ করছি এসএসসি, এইচএসসি এবং ইউনিভার্সিটি এডুকেশন, এখানে যেন ছেলেমেয়েরা বসে না থাকে এবং অযথা যেন কোচিং সেন্টারে যেতে না হয় এবং ক্রিয়েটিভ এডুকেশন, সৃজনশীল লেখাপড়া যেন তারা করতে পারে, সেই দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা সিলেবাস কারিকুলাম তৈরি করছি।’

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটির পুনর্গঠন করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে সভাপতি করে এই কমিটি পুনর্গঠন করে সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন করে প্রতিনিধিকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, প্রতিরক্ষা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, রেলপথ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য সেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবদের কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

এর বাইরে সব ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক, সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টামলজি বিভাগের চেয়ারম্যান, জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) এন্টামলজি বিভাগের প্রধানকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব কমিটিতে সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটিকে সারাদেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান এবং গৃহীত ও বাস্তবায়িত কার্যক্রম পর্যালোচনা, মূল্যায়ন, তদারকি ও সমন্বয় সাধন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া কমিটিকে প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা, জাতীয় নীতিমালা বা কৌশলপত্র প্রণয়ন ও হালনাগাদ করা ছাড়াও প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য কার্যক্রম করতে হবে। বছরে কমপক্ষে চারটি সভা করতে হবে। কমিটি প্রয়োজনে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।


নির্বাচিত

অবৈধ নির্বাচনের অন্যতম কারিগর বেনজীর আহমেদ: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া অবৈধ তিন নির্বাচনের অন্যতম কারিগর ছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বেনজীর আহমেদ শুধু শাপলা চত্বরের মাস্টারমাইন্ড নন। তিনি একসময় সরকার চালাতেন। কোনো কোনো জায়গায় শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি পরিচিত ছিলেন। এই পরিচিতির কারণ হলো, তার হেন দুষ্কর্ম নেই যেটা তিনি নিজের কর্মজীবনে করেননি। তবে আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে তাদেরই কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তার এসব কুকীর্তি প্রকাশ হয়ে যায়। গণমাধ্যমের মাধ্যমে বেনজীরের সবকিছু দেখেছিল এ জাতি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে তখনই মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন।’

সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বেনজীরের বিরুদ্ধে আমাদের প্রায় ১০টির মতো মামলার তদন্ত চলছে। প্রত্যেকটি ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর মধ্যে যখন র‌্যাবের প্রধান ছিলেন, তখন গুমের ঘটনায় হওয়া একটি মামলার বিচার চলছে। তিনি শাপলা চত্বরের অন্যতম কুশীলব ছিলেন। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হওয়া প্রত্যেকটি নির্বাচনে বেনজীরের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল। অবৈধ নির্বাচন করার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। এ দেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে হাজারো মানুষকে বিনাবিচারে হত্যা করাসহ অসংখ্য দায় রয়েছে তার। অতএব তার বিচারের ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ নজর দেব।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, মার্জিনা রহমানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা।


নির্বাচিত

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য রাজস্ব আদায় অনেক কম হওয়ার শঙ্কা: জি এম কাদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, এবার যে রাজস্ব আদায় হয়েছে আগামীতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য রাজস্ব আদায় আরও অনেক কম হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। কাজেই এটি বাজেট বাস্তবায়নে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। দেশি-বিদেশি ব্যাপক ঋণ করেই সরকারকে চলতে হবে। এর ফলে বড় অরাজকতা সৃষ্টি হবে। দেশে যে একটি বিশাল সংকট চলছে এটি অস্বীকার করার সুযোগ কারও নেই। রাজনৈতিক ঐক্য ছাড়া এ সংকট থেকে মুক্তি মিলবে না।

সোমবার সকালে রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জি এম কাদের বলেন, দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগের মত একটি বড় দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রেখে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয়। এত বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রেখে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই যাবে না।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগের মত একটি বড় রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে রেখে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না, বরং পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে। মানুষের তাদের সমর্থনে নামবে।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ কমবে। এর ব্যাপক প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার কথা। অথচ বাজেটে এ নিয়ে কোনো কথাই নেই।


নির্বাচিত

ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি-বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাধা প্রদানের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার (ডেপুটি হাইকমিশনার) পাওয়ান বাঢ়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই তলবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সাথে ঘটা এই অনভিপ্রেত আচরণকে অত্যন্ত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে, এই বিষয়ে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং দুঃখজনকও বটে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আজকের দিন শেষে আমরা এ বিষয়ে আপনাদের জানাবো।’

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দিল্লিতে সোমবার শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি গত রোববার (১৪ জুন) বিকেলে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তবে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিত জেরার মুখে পড়তে হয় এবং প্রায় আড়াই ঘণ্টা তাকে সেখানে আটকে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে এবং তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেও, তিনি এই আচরণের প্রতিবাদস্বরূপ পাসপোর্ট ফেরত চান। এরপর তিনি দিল্লি না ঢুকে কলম্বো হয়ে সোমবার সকালে ঢাকায় ফিরে আসেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার মর্যাদা ও সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য থাকা সত্ত্বেও এমন ব্যবহার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত। ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলবের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু ব্যাখ্যা দাবি করবে বলে জানা গেছে। সরকার মনে করছে, রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদাসম্পন্ন একজন ব্যক্তির সাথে এমন ব্যবহার আন্তর্জাতিক প্রোটোকলের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।


নির্বাচিত

ঢাকার যানজট নিরসনে তিনটি প্রধান বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সড়কপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দীর্ঘস্থায়ী যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল নগরীর ভেতর থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসন বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠক শেষে ঢাকার দুই প্রশাসক উপস্থিত সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় রাজধানীসহ দেশের সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং নগর পরিবহনের সংস্কার নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। সভায় সংশ্লিষ্টরা একমত হন যে, নগরীর প্রধান প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে অবস্থিত এই তিনটি টার্মিনাল যানজটের অন্যতম প্রধান উৎস। তাই জনভোগান্তি কমাতে এসব টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যানজট নিরসনে এটি বর্তমান প্রশাসনের তৃতীয় দফার বৈঠক ছিল, যেখানে নগরীর ট্রাফিক কাঠামোকে ঢেলে সাজানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


নির্বাচিত

নয়াদিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফেরত এলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতার কারণে পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।

ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন’ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে গত রোববার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। বিমানবন্দরে নামার পরই নিয়মিত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় ভারতীয় নজরদারি তালিকায় (ওয়াচলিস্ট) তার নাম শনাক্ত হওয়ায় তাকে আটকে দেওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ডা. জাহেদ নিজেই তার পাসপোর্ট ফেরত চান এবং পরবর্তী ফিরতি ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ১৮’-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ডা. জাহেদ উর রহমানের নাম নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি ওয়াচলিস্টে শনাক্ত হওয়ায় তাকে বিমানবন্দরে অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনাটি মূলত প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও তথ্য হালনাগাদ না হওয়ার কারণে ঘটেছে। ইতিপূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট একটি কালোতালিকা (ব্ল্যাকলিস্ট) থেকে তার নাম অপসারণ করা হলেও ভারতের অভিবাসন বিভাগের ডেটাবেসে সেই তথ্য যথাসময়ে হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি হয় এবং তাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় উপদেষ্টা সফরটি বাতিল করে দ্রুত দেশে ফেরার পথ বেছে নেন।


নির্বাচিত

ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ বাতিল, নতুন প্রশাসক নিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সকল পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় ও ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সকল পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে।

একইসঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।


নির্বাচিত

অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থ এবং আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির চেয়ারম্যান ভোলা-১ আসনের এমপি আন্দালিব রহমান পার্থ। আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৪ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি মুশফিকুর রহমানকে।

রোববার (১৪ জুন) সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। দুটি কমিটিই ১০ সদস্যবিশিষ্ট। দুই ক্ষেত্রেই জামায়াত ইসলামীর দুইজন এবং এনসিপির একজন করে এমপিকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বরগুনা-২ আসনের নূরুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনের মীর শাহে আলম, চাঁদপুর-২ আসনের জালালউদ্দিন, মানিকগঞ্জ-১ আসন মইনুল ইসলাম খান, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের শাহাদাত হোসেন। এতে জামায়াত থেকে সদস্য হয়েছেন ঢাকা-১২ আসনের সাইফুল আলম খান মিলন এবং ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবদিন। আর এনসিপি থেকে সদস্য হয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের হাসনাত আবদুল্লাহ।

অন্যদিকে, আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা হলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, নোয়াখালী-১ আসনের মাহবুব উদ্দিন খোকন, পঞ্চগড়-১ আসনের নওশাদ জমির, সংরক্ষিত নারী আসনের শাকিলা ফারজানা, দিনাজপুর-১ আসনের মঞ্জুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আসনের হাসান রাজীব প্রধান। এতে জামায়াত থেকে সদস্য হয়েছেন পাবনা-১ আসনের নাজিবুর রহমান মোমেন এবং নীলফামারী-২ আসনের আল ফারুক আবদুল লতিফ। এছাড়া, এনসিপি থেকে সদস্য হয়েছেন রংপুর-৪ আসনের আখতার হোসেন।


নির্বাচিত

banner close