শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
২৬ পৌষ ১৪৩২
কৃষ্ণা দেবনাথের সাক্ষাৎকার

অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্ক 

কৃষ্ণা দেবনাথ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৯ মার্চ, ২০২৩ ১৬:১২
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৩ ০৮:১০

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৮১ সালের ৮ ডিসেম্বর মাত্র ২৬ বছর বয়সে মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচারিক জীবন শুরু করেন। তারপর চার দশকের বিচারিক কর্মজীবন পার করে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিক বিচারিক কাজ থেকে অবসরে যান। সম্প্রতি তিনি দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আব্দুল জাব্বার খানকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তার ৪১ বছরের বিচারিক জীবনের কথা।

দৈনিক বাংলা: অবসরকালীন জীবন কেমন কাটছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: ভালোই কাটছে। তবে ব্যস্ততা কমেনি। মনে হয় আরও বাড়ছে। অবসরে অবসর কোথায়? হা হা…

দৈনিক বাংলা: স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় কোনো নারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যাত্রা শুরুর পর সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবসরে গেলেন। সব মিলিয়ে একজন নারীর বিচারক হিসেবে দীর্ঘ এই পথচলা কতটা সহজ ছিল?

কৃষ্ণা দেবনাথ: দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়, তখনই কিন্তু বাংলাদেশে মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসতে পারেনি। নারীদের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রথমেই আমরা পুরুষদের থেকে তিন বছর পিছিয়ে যাই। দেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরুর তিন বছর পরে নারীদের যাত্রার পরও আজকে নারীদের অবস্থান কোথায় সেটা দেখতে হবে। আমি নারী বিচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি ১৯৮১ সালে। প্রথম এসেছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, দ্বিতীয় যাত্রা শুরু করেছিলেন বিচারপতি জিনাত আরা। আর তৃতীয় হিসেবে যুক্ত হই আমি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো, আমরা তিনজনই আপিল বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছি। এটা ভাবতে ভালো লাগে।

নারী হিসেবে বিচারিক জীবনের তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে নারী বিচারকদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়, তাদের সাংসারিক জীবন নিয়ে। কেননা, এটা বদলির চাকরি। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলির কারণে সংসারটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা অনেক কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তো ছিলই।

দৈনিক বাংলা: সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হবেন এমন স্বপ্ন কি বিচারিক জীবনের শুরুতে কখনো দেখেছিলেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: না, এমনটি কখনোই ভাবিনি। এমনকি হাইকোর্টেও থাকাকালীন ভাবিনি যে আমি আপিল বিভাগে যাব। স্বপ্নও ছিল না। তবে আমার স্বপ্ন ছিল আমি জজ হব।

দৈনিক বাংলা: অনেক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরাই এখন প্রায় বেঁচে নেই, আপনি কি মনে করেন এখন নতুন যারা আসছেন, তারা সেই খ্যাতিম্যান আইনজীবীদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: দেখেন এটা শুধু আইনজীবীদের মধ্যে নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। সবখানেই অবক্ষয়। ধরেন আমার বাবা যে পরিমাণ লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করেছেন আমি তো মনি করি না, আমার সেটুকু আছে। কিন্তু আমি আশাবাদী নতুন প্রজন্ম থেকে অনেক ট্যালেন্ট উঠে আসছে, আসবে। একসময় নামকরা আইনজীবীরা ছিলেন। তারপর তাদের উত্তরসূরিরা এসেছেন। ঠিক এমনি করেই নতুনরা আইনজীবী হয়ে উঠবেন। এখন যারা নবীন আইনজীবী তাদের জন্য একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার এটা মোক্ষম সময়। তার কারণ জায়গাটা এখন অনেক খালি, সবকিছু প্রস্তুত হয়ে আছে, এখন দরকার শুধু অধ্যবসায়ের।

দৈনিক বাংলা: আপনার অবসর জীবনের শেষ দিনে বলেছিলেন, বিচারক নিজেকে স্বাধীন মনে না করলে সুবিচার সম্ভব না। এর মানে আপনি কী বুঝিয়েছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এই বাক্যটি আমি শুধু কথার কথা হিসেবে বলিনি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেই বলেছি। এখনো বিশ্বাস করি, একজন বিচারক নিজেকে যদি স্বাধীন মনে না করেন, তাহলে কাগজে-কলমে স্বাধীনতা দিয়েই কী লাভ। একজন বিচারক নিজের বিবেককে প্রশ্ন করবেন তিনি নিজে স্বাধীন কি না। কাগজে-কলমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে মাত্র কিছু বছর আগে। তার আগে আমরা বিচারকরা তো নিজেদের পরাধীন মনে করিনি, বিচারের কাজটি কিন্তু স্বাধীনভাবেই করেছি।

আমি মনে করি, একজন বিচারক মনেপ্রাণে নিজেকে স্বাধীন মনে করেন কি না, সেটাই বড় কথা। আমি জোর গলায়, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি ৪১ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পদে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে তো আমার কাছে কোনো তদবির আসেনি। নিজেকেই সেই জায়গা তৈরি করে নিতে হবে। আমি যখন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন অনেক জুনিয়র বিচারক বলতেন তদবির আসে। আমি তখন তাদের বলেছি, কই আমার কাছে তো কোনো তদবির আসে না। তদবির যাতে না আসে সেই পরিবেশ আপনার নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। বিচারকের স্বাধীনতার বিষয়টি নিজের সততা দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।

তদবির না শুনে একবার এক ব্যক্তিকে জামিন দিইনি বলে সেই সময় আমাকে মেহেরপুরের জেলা জজ থেকেও বদলি করা হয়েছিল। জেলা জজ থেকে সাড়ে চার বছর আমাকে কর্নার করে রাখা হয়েছিল। দুটি জেলার জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্পেশাল জজ করে রাখা হয়েছিল। আমি তো তখনো ভয় পাইনি। আমার কথা হলো, নিজেকে স্বাধীন রাখতে হলে বদলির ভয় করলে চলবে না। কী আর করবে বাংলাদেশের ভেতরেই তো বদলি করবে, আর তো কিছু না। বিচারক যদি বদলির ভয় বা নিজের লাভ-ক্ষতির চিন্তা করেন তাহলে তিনি স্বাধীন বিচারক হিসেবে কীভাবে কাজ করবেন। করতে পারবেন না। বিচারককে তার নিজের সততার ওপর শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। এখন কিন্তু দেওয়ানি মামলায় আপস করার সুযোগ আছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলা আপসের সুযোগ আছে। এখন যদি এটা ভালোভাবে কার্যকর হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ মামলাই আসবে না। এটা যদি সফল করা যায়, তাহলে মামলার জট অনেক কমে আসবে।

দৈনিক বাংলা: একটি মামলা শেষ করতে বছরের পর বছর লাগে কেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: মামলা শেষ করতে পক্ষগণেরই জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় কোনো না কোনো পক্ষই চায় না, দ্রুত মামলা শেষ হোক। মামলার জট সৃষ্টির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর জন্য শুধু বিচারকরা দায়ী তা বলা যাবে না বরং বাদী-বিবাদী, দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও দায় রয়েছে। একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য কম করে হলেও পাঁচটি পক্ষের সমন্বয় দরকার পড়ে, তবেই মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।

এ ছাড়া বিচারকসংকট রয়েছে বড় আকারে। এত বিশাল মামলার জট দ্রুত কমাতে হলে বিপুলসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। যেটা সরকারের পক্ষে সম্ভব না।

দৈনিক বাংলা: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো যেকোনো বিষয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, কেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এখন কিন্তু পত্রিকা খুললেই দেখা যায় হাইকোর্টের বিভিন্ন সংবাদ বা নির্দেশনা নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে। চোখ মেললেই কোর্ট-কাচারির খবর পাওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভুক্তভোগীকে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক আছে, মানুষ আদালতে এলে প্রতিকার পায়। আবার কিছু সময় দেখি একটা সাধারণ বিষয় নিয়েও মানুষকে হাইকোর্টে আসতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে তাহলে কিন্তু আদালতের ওপর এই চাপ আসে না। তারা সেটি করছে না। অনেক সময় আদালতের নির্দেশের পরও অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয় না। এটা ভালো দিক না।

দৈনিক বাংলা: বিচার বিভাগকে কি আরও শক্তিশালী হতে হবে, নাকি শক্তিশালীই আছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: বিচার বিভাগকে কেউ শক্তিশালী করে দেবে না। বিচার বিভাগকে নিজেকেই শক্তিশালী হতে হবে। একটা আদেশ হওয়ার পর ঝড়ঝাপটা আসতে পারে। সেটা বহন করার মতো বিচারক যদি আমরা হতে পারি তাহলে বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে। বিচারক যদি সেই ঝড়ঝাপটা সইবার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে সেটা হবে না।

দৈনিক বাংলা: বার ও বেঞ্চের সম্পর্ককে বলা হয় একটি পাখির দুটি ডানা। সম্প্রতি বিভিন্ন বারে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে, এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: সর্বজনীনভাবে আমি বলব, সাবলীল সম্পর্ক হ্রাস পেয়েছে। অনেক আগে থেকেই এই সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় বিচারকের দরজায় লাথি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সার্বিকভাবে বলব আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সম্পর্ক অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। আমার বক্তব্য হলো, একজন বিচারক যেহেতু একটু ওপরে বসেন, আইনজীবীরা একটু নিচে দাঁড়ান, এই যে বিচারকরা একটু অগ্রাধিকার স্থানে থাকেন সে জন্য বিচারকদের অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু করা যায় না। সেটি তাদের মাথায় থাকতে হবে। এ ছাড়া আইনজীবীদেরও সহিষ্ণু হতে হবে। দুপক্ষই যদি সহিষ্ণু হয় তাহলে কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরবে না।

আদালতের মর্যাদা কমলে কিন্তু আইনজীবীদেরই মর্যাদা কমবে। এটা তাদের বুঝতে হবে। কোনো বিচারকের ভুল হলে আইনজীবীরা তার ওপরের বিচারককে বলতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট আছে, আইন মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে বলার সুযোগ আছে। কিন্তু তাই বলে স্লোগান দেয়া উচিত না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে পূরণীয় ঘটনা বা অপ্রাপ্তি বলে কিছু আছে কি না?

কৃষ্ণা দেবনাথ: মানিকগঞ্জে একটি অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে পারিনি, এই একটি বিষয় আমার মনে এখনো গেঁথে আছে। আইনজীবীর ভুলের কারণে সেই আসামিকে সাজা দিতে পারিনি। যে কারণে খুব কষ্ট লেগেছিল। কারণ মামলায় আসামি শনাক্ত একটা বড় ব্যাপার। মামলায় বলা হয়েছে, চাঁদের আলোতে আসামিকে দেখা গেছে। কিন্তু পঞ্জিকাতে দেখা গেল সেদিন অমাবস্যা ছিল। তার ওপর আবার সেদিন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আইনজীবী মামলা শক্ত করতে গিয়ে চাঁদের আলোতে দেখেছে বলে বিবরণ দিয়েছেন কিন্তু সেদিন সেটা ছিল না। যে কারণে আসামি শনাক্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরঞ্জিত বিবরণ মূল ঘটনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ ছেলেটি মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করত, সেটি উল্লেখ থাকলেও হতো। অতিরঞ্জিত করার কারণে আসামি বেঁচে যায়। এই ঘটনা আমাকে পীড়া দেয়। তার কারণ চোখের সামনে দেখেছিলাম মেয়েটির ঝলসানো মুখ। কিন্তু তার ন্যায়বিচার আমি দিতে পারিনি।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে আপনি কতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এটা বলতে পারব না। তার কারণ, আমি গুনে রাখিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার ব্যাপারে আমি অনেক সতর্ক ছিলাম। আমি দুইয়ে দুইয়ে চার না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সাজা দিইনি। অনেক আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েও আমি স্বস্তি পেয়েছি। তার কারণ অকাট্য দলিল-প্রমাণ ছিল। সব থেকে বড় স্বস্তি পেয়েছি, যখন আমি ঢাকার জেলা জজ ছিলাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফাঁসির আসামিদের সাজা কার্যকর হবে। তখন ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার জন্য শেষ যে স্বাক্ষর দিতে হয়, জেলা জজ হিসেবে সেটা আমি দিয়েছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার কাছে লাল নথি এল, আমি তাতে স্বাক্ষর করলাম। এরপরই টিভিতে দেখলাম কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর শুরু করেছে। ঐতিহাসিক সেই মামলাটিতে শেষ স্বাক্ষর করেছিলাম। এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।

দৈনিক বাংলা: অবসরে কেমন কাটছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: অবসরে একদমই অবসর নেই। আমি রুট (প্রান্তিক) লেভেলের ভিকটিমদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সেটাই শুরু করেছি। দেখা যাক কতটা করতে পারি।

দৈনিক বাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে।

কৃষ্ণা দেবনাথ: আপনাকেও ধন্যবাদ।


Energy & Power sector Master Plan 2026-2050 বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৫৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

৭ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সভাপতিত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় “Energy and Power Sector Master Plan 2026-2050” সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তপক্ষ (বিড)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। উল্লেখ্য, উক্ত সভায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি উপস্থিত ছিলেন।

এ মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য হলো দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত দায়বদ্ধতার মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও টেকসই প্রাথমিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা।

সভায় আগের তিনটি মহাপরিকল্পনার পলিসি গ্যাপ চিহ্নিত করে তা সংক্ষেপে পর্যালোচনা হয়। নতুন মহাপরিকল্পনা তিন ধাপে (প্রথম ধাপ ২০২৬-২০৩০ সাল, দ্বিতীয় ধাপ ২০৩০-২০৪০ সাল ও তৃতীয় ধাপ ২০৪০-৫০ সাল) বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বিস্তারিতভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের খুঁটিনাটি তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ এখানে। এটা সবল হলে অর্থনীতি দাঁড়াবে। দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনকে এই খাত প্রভাবিত করে।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত গবেষণার জন্য পৃথক ইনস্টিটিউশন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা। সভায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, ট্রান্সমিশন, সরবরাহ, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সাসটেইনাবিলিটি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করা হয় এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রাইমারি এনার্জি সেক্টরকে আরও নিরাপদ, দক্ষ, কম আমদানিনির্ভর ও আর্থিকভাবে টেকসই করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।


মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ আরোপ দুঃখজনক হলেও অস্বাভাবিক নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা মোটা অংকের জামানত আরোপের যে সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন নিয়েছে, তাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও কষ্টকর হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অভিবাসন সংকট বিবেচনায় নিলে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল বাংলাদেশের ওপরই নয়, বরং বিশ্বের আরও ৩৭টি দেশের ওপর এই নিয়ম কার্যকর করেছে এবং এই তালিকায় এমন সব দেশ রয়েছে যাদের নাগরিকদের অভিবাসন ও নির্দিষ্ট মেয়াদের অতিরিক্ত অবস্থানের (ওভারস্টে) হার অনেক বেশি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মার্কিন কৌশলের একটি বিশেষ দিক তুলে ধরে বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সোশ্যাল সিস্টেম থেকে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেন, তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বাধিক। ফলে মার্কিন প্রশাসন যখন নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর এমন কঠোর বিধিনিষেধ বা আর্থিক সুরক্ষা কবচ আরোপ করে, সেখানে বাংলাদেশের নাম থাকাটা অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি মনে করেন, এটি আমাদের জন্য একটি বড় বার্তা এবং জাতীয় ভাবমূর্তির ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক প্রভাব। তবে এই পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী না করে তিনি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাকেই সামনে নিয়ে আসেন।

উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, যদি গত এক বছরের মধ্যে অভিবাসনের এই নেতিবাচক হার বৃদ্ধি পেত, তবে বর্তমান সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেত। কিন্তু এই সংকটটি দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হয়েছে এবং পূর্ববর্তী সকল সরকারের ধারাবাহিক পলিসি ও জনশক্তি রপ্তানির ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার ফলেই আজ বাংলাদেশিদের এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। তাঁর মতে, মানুষের বিদেশ যাওয়ার বা অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার এই প্রবণতা কোনো একক সরকারের পক্ষে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এটি একটি কাঠামোগত সমস্যা যা বছরের পর বছর ধরে শেকড় গেড়েছে।

অনিয়মিত অভিবাসনের কুফল নিয়ে সতর্ক করে তৌহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার প্রথম দিন থেকেই অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তিনি মনে করেন, অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করাই এই ধরণের আন্তর্জাতিক অপমান ও কঠোরতা থেকে বাঁচার একমাত্র সমাধান। প্রতিনিয়ত সংবাদমাধ্যমে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর খবর কিংবা সাগর থেকে উদ্ধারের ঘটনাগুলো অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও, এটি প্রকারান্তরে আইন ভঙ্গেরই শামিল। ভুক্তভোগীদের প্রতি মানবিক সহানুভূতি থাকলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং আন্তর্জাতিক সম্মান পুনরুদ্ধারে প্রতিটি নাগরিককে আইনসম্মত ও নিয়মিত পন্থায় বিদেশ গমনের আহ্বান জানান তিনি। মূলত সঠিক অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নই এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


৮০ শতাংশ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের দাম কমবে: ডা. সায়েদুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে এবং ওষুধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় নতুন করে আরও ১৩৬টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে এই তালিকাভুক্ত ওষুধগুলোর বিক্রয়মূল্য সরাসরি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে এবং কোনো প্রতিষ্ঠানই নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান যে, ১৯8৫ সালে প্রথম এই তালিকা তৈরি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা হলেও দীর্ঘ সময় পর এবারই প্রথম বড় ধরনের কোনো বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন বা ফর্মুলার মাধ্যমে এই সংস্কার সম্পন্ন হলো।

সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় থাকা ওষুধগুলো মূলত দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ মানুষের সব ধরণের রোগের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট। ফলে এই ওষুধগুলোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, সরকার এ ক্ষেত্রে প্রচলিত মার্কআপ (লাভের হার) বা কাঁচামালের ব্যয়ের কোনো পরিবর্তন করেনি, তবে একটি সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা প্রয়োগ করা হয়েছে যাতে ওষুধের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ওষুধের দাম বর্তমানে নির্ধারিত সীমার ওপরে রয়েছে, তাঁদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে পর্যায়ক্রমে দাম কমিয়ে আনতে হবে। এটি মূলত সাধারণ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার পথে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

ওষুধ শিল্পের ওপর এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বিবেচনা করে সরকার অত্যন্ত সতর্ক ও দীর্ঘমেয়াদী একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাঁদের দাম সমন্বয় করার জন্য চার বছর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে ইন্ডাস্ট্রিগুলো কোনো বড় ধরণের ধাক্কা না খেয়ে ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে পারে। অত্যাবশ্যকীয় তালিকার বাইরে থাকা আরও প্রায় ১,১০০ ওষুধের ক্ষেত্রেও সরকার একটি স্বচ্ছ তদারকি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘ইন্টারনাল রেফারেন্স প্রাইসিং’ এবং ‘এক্সটারনাল রেফারেন্স প্রাইসিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ সাতটির বেশি কোম্পানি উৎপাদন করে, তবে তাঁদের মূল্য একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে থাকতে হবে এবং প্রতি বছর ২৫ শতাংশ হারে সমন্বয় করে চার বছরের মধ্যে নির্ধারিত সীমায় পৌঁছাতে হবে। আর যদি উৎপাদক সাতটির কম হয়, তবে দেশি ও বিদেশি বাজারের মূল্যের তুলনা করে যেটি কম, সেটিকেই মানদণ্ড হিসেবে ধরা হবে।

বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে ডা. সায়েদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, এটি বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই এই পুরো কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করবে। বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বা ‘হেলথ ট্রানজিশন’—যেখানে সংক্রামক ও অসংক্রামক উভয় ধরণের ব্যাধিই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা এই নতুন তালিকায় পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়েছে। সংক্রামক ব্যাধির পাশাপাশি ডায়াবেটিস এবং হাঁপানির মতো দীর্ঘমেয়াদী অসংক্রামক রোগের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব ওষুধ এই তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে অনেক দামী ওষুধ এই তালিকায় এখনই যুক্ত করা হয়নি। সামগ্রিকভাবে, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অনেক বেশি নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে ডিসি রদবদলে প্রস্তুত সরকার: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে কোনো পরিবর্তন বা জেলা প্রশাসক (ডিসি) রদবদলের প্রয়োজন হলে সরকার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ সরকারের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের যেকোনো সিদ্ধান্ত বা অভিমত সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার কমিশনের প্রতিটি চাওয়াকে যথাযথ সম্মান বা ‘অনার’ করার চেষ্টা করবে। মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন যদি কোনো পরিবর্তন অপরিহার্য মনে করে, তবে সরকার সেখানে আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে।

সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের ডিসিদের বিষয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাঁদের রদবদলের দাবি জানিয়েছে। নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি থাকা অবস্থায় এই ধরণের রদবদল সম্ভব কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন যে, সরকার নিজ থেকে কোনো রদবদলের কথা বলছে না। তবে নির্বাচন কমিশন যদি সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে কনভিন্সড হয় এবং মনে করে যে রদবদল করা জরুরি, তবেই কেবল সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যেকোনো পরিবর্তনের আগে কমিশনকে বিষয়টির যৌক্তিকতা নিয়ে নিশ্চিত হতে হবে।

মাঠ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. শেখ আব্দুর রশীদ জানান যে, তিনি এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিচ্যুতি বা অস্বাভাবিক কিছু দেখেননি। তাঁর মতে, মাঠ পর্যায়ে অনেক সময় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং সেই সিদ্ধান্তে সব পক্ষ সবসময় সন্তুষ্ট না হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রতিটি প্রার্থীর পরিস্থিতি যেমন ভিন্ন ছিল, তেমনি প্রশাসনের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তে ভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে কোনো সিদ্ধান্তে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তাঁদের জন্য আইনি পথে আপিলের সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে এবং বর্তমানে শত শত প্রার্থী সেই সুযোগ ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করছেন।

প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে সচিব তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান উন্মুক্ত তথ্যপ্রবাহের যুগে যে কেউ যেকোনো বিষয়ে কথা বলতে পারেন এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা অভিযোগ করবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রশাসন কোনো একটি বিশেষ পক্ষের হয়ে কাজ করছে এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাঁর নজরে আসেনি। তিনি আশ্বাস দেন যে, প্রশাসনে যদি সত্যিই কোনো ত্রুটি বা অস্বচ্ছতা থাকে, তবে তা মেধা ও যোগ্যতার (মেরিট) ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। মূলত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সরকারের সকল বিভাগ এখন নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহায়তা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।


গুলিতে নিহত মুসাব্বিরের মরদেহ নেওয়া হবে নয়াপল্টনে, বাদ জোহর জানাজা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের জানাজা আজ বৃহস্পতিবার বাদ জোহর নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই জানাজায় দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান অফিস কর্মকর্তা মুহা. রেজাউল করিমের পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গতকাল বুধবার রাতে কারওয়ান বাজারে স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে করে আসা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সেই সময় মুসাব্বিরের সঙ্গে তেজগাঁও থানা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও উপস্থিত ছিলেন। গুলিতে মুসাব্বির ও আবু সুফিয়ান দুজনেই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত আবু সুফিয়ান মাসুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, আবু সুফিয়ানের পেটের বাম পাশে গুলি লেগেছে এবং বর্তমানে জরুরি বিভাগে তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। মাসুদের বাসা কেরানীগঞ্জে হলেও তিনি সাংগঠনিক কাজে কারওয়ান বাজার এলাকায় মুসাব্বিরের সাথে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে এই অতর্কিত হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম এই খুনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, স্টার কাবাবের পাশের গলিতে দুজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। এই হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বির নিহত হয়েছেন এবং পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, জড়িতদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তেজগাঁও ও নয়াপল্টন এলাকায় এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে অপরাধী চক্র এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে, যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।


নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনে খসড়া অধ্যাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকা নিয়ে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন করতে যাচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি খসড়া অধ্যাদেশ প্রস্তুত করেছে এবং বর্তমানে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত গ্রহণ করছে। শীতলক্ষ্যা তীরবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ, দুর্যোগ সহনশীল ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশ নিশ্চিত করাই এই কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে থাকবেন একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য, যাদের মেয়াদ হবে তিন বছর। কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি এই পদে থাকতে পারবেন না। এছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আরও পাঁচজন প্রতিনিধি এই কর্তৃপক্ষের সদস্য হিসেবে থাকবেন।

প্রস্তাবিত খসড়ায় কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে এবং এর আওতাভুক্ত এলাকায় ভূমি ক্রয়, অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন ফি ধার্য করতে পারবে। মহাপরিকল্পনায় উল্লিখিত উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো কাজে ভূমি ব্যবহার করা যাবে না। যদি কেউ এই বিধান লঙ্ঘন করেন, তবে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। বিশেষ করে জলাধার রক্ষার ক্ষেত্রে খসড়ায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নদী, খাল-বিল বা কোনো প্রাকৃতিক জলাধারের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।

কৃত্রিম জলাধার খনন বা নিচু ভূমি ভরাটের মাধ্যমে পানির প্রবাহ বন্ধ করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে খসড়াটিতে। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে যেকোনো খননকাজ বন্ধের নির্দেশ দিতে পারবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে বা জলাধার ভরাট করলে প্রথমবার দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে শাস্তির মাত্রা বেড়ে দুই থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। এছাড়া খেলার মাঠ, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ২০০০ সালের প্রচলিত সংরক্ষণ আইনটি কার্যকর থাকবে বলে খসড়া অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।


স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বির হত্যায় মামলা, আসামি অজ্ঞাতনামা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে সুনির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জন দুষ্কৃতকারীকে আসামি করা হয়েছে। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৈশন্য মারমা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ ইতিমধ্যেই জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বুধবার রাতে, যখন রাজধানীর তেজতুরি বাজার এলাকায় স্টার কাবাবের পাশের গলিতে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিমের তথ্যমতে, মুসাব্বিরের পেটে তিনটি গুলি লাগে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নিকটস্থ বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হামলায় কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান বেপারি মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। পাঁজরে গুলি লাগা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছে।


বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি: নিষিদ্ধ গাছ কাটলে এক লাখ টাকা জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়েছে। গত বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়। নতুন এই আইন অনুযায়ী, সরকারের তালিকাভুক্ত কোনো নিষিদ্ধ প্রজাতির গাছ অথবা বন অধিদপ্তর কর্তৃক ঘোষিত বিপদাপন্ন কোনো গাছ কাটলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। কেবল গাছ কাটাই নয়, কোনো গাছের ক্ষতিসাধন করার উদ্দেশ্যে সেটিতে ধাতব বস্তু বা পেরেক প্রবেশ করালে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া আদালত চাইলে অপরাধীকে কেবল আর্থিক দণ্ডই নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন বা নতুন চারা রোপণের নির্দেশ দিতে পারবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অনুমতি নিয়ে গাছ কাটার ক্ষেত্রেও যদি কেউ ভুল নিয়ম অনুসরণ করেন, তবে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।

এই অধ্যাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বনভূমির সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এখন থেকে জেলা প্রশাসকরা আর বনের জমি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দিতে পারবেন না। গেজেটভুক্ত সকল বনভূমি এখন থেকে সরাসরি বন বিভাগের নামে রেকর্ডভুক্ত করা হবে। যদিও রক্ষিত ও অর্জিত বনগুলোর নামিক মালিকানা জেলা প্রশাসকের অধীনে থাকতে পারে, তবে সেগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে বন বিভাগের হাতে। বনভূমির দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত জটিলতা ও সীমানা বিরোধ মেটাতে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোনো শিল্প এলাকার ভেতরে এক একরের কম বিচ্ছিন্ন বনভূমি থাকলে, জনস্বার্থ বিবেচনায় তা বিনিময়ের সুযোগ রাখা হয়েছে; তবে শর্ত হলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দ্বিগুণ পরিমাণ নিষ্কণ্টক জমি বন বিভাগকে হস্তান্তর করতে হবে যা পরবর্তীতে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষিত হবে।

গাছ কাটার ক্ষেত্রে অনুমতির বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এই অধ্যাদেশে। সরকারি বন, সামাজিক বন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সম্পত্তিতে থাকা যেকোনো গাছ কাটতে হলে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হবে। এমনকি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির গাছও যদি সরকারি ‘কর্তনযোগ্য’ তালিকায় থাকে, তবে সেটির জন্যও আগাম অনুমতি প্রয়োজন হবে। তবে মানুষের জানমালের নিরাপত্তার কথা ভেবে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে; যেমন—মৃত বা রোগাক্রান্ত গাছ, ঝড়ে ভেঙে পড়া বা দুর্ঘটনার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ এবং জীবন-সম্পদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করা গাছ কাটতে কোনো আগাম অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে নিয়মটি কিছুটা ভিন্নভাবে পরিচালিত হবে, যেখানে বিদ্যমান ‘চট্টগ্রাম হিলট্র্যাকস রেগুলেশন, ১৯৯০’ অনুসরণ করা হবে এবং কাটা প্রতিটি গাছের বিপরীতে একই এলাকায় সমসংখ্যক চারা রোপণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এই অধ্যাদেশটিকে সময়ের দাবি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান যে, নতুন এই আইনের ফলে দেশের পরিবেশগত নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে। প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী মনে করেন, এই আইনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গাছ ও গণপরিসরের বৃক্ষরাজি রক্ষা করা সম্ভব হবে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে খসড়া পর্যায়ে থাকার পর এই অধ্যাদেশটি আলোর মুখ দেখায় প্রকৃতি সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা একে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বনের অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং বনভূমি গ্রাস করার প্রবণতা বন্ধে এই আইনি কাঠামোটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে।


তীব্র শীতে কাবু জনজীবন: হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর ভিড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নওগাঁর বদলগাছিতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করার মাধ্যমে দেশজুড়ে তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, দেশের চারটি বিভাগ এবং ১২টি জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এবং কুমিল্লার মতো জেলাগুলোতে কনকনে ঠান্ডার সাথে ঘন কুয়াশার দাপট জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে গত কয়েকদিন সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের অনুভূতি বহুগুণ বেড়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, পুরো জানুয়ারি মাসজুড়েই শীতের এমন দাপট বজায় থাকতে পারে, তবে আগামী শনিবার থেকে কুয়াশার তীব্রতা কিছুটা কমে তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

শীতের এই রুদ্ররূপে সবচাইতে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুর, রিকশাচালক এবং নির্মাণ শ্রমিকদের জীবিকা এখন সংকটের মুখে, কারণ তীব্র শীতের কারণে বাইরে কাজ কমে গেছে এবং মানুষও ঘর থেকে কম বের হচ্ছে। যশোর ও সাতক্ষীরার মতো জেলাগুলোতে শ্রমবাজারে কাজের সন্ধানে আসা মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। সাতক্ষীরায় তাপমাত্রা ৮.৮ ডিগ্রিতে নেমে আসায় গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে। অনেক রিকশাচালক জানিয়েছেন যে ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়ায় তারা দীর্ঘক্ষণ রিকশা চালাতে পারছেন না, ফলে দিনের উপার্জন দিয়ে সংসার চালানো তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। রাতে এবং ভোরে কুয়াশার কারণে সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্যের ওপর শীতের প্রভাব এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২০ দিনে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জনই শিশু। হাসপাতালের শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডগুলো এখন সক্ষমতার চেয়েও দ্বিগুণ রোগীতে ঠাসা। সেখানে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর ভিড় বাড়ছে এবং জায়গার অভাবে অনেককে হাসপাতালের বারান্দা বা মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে শিশুদের প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা এখন অপরিহার্য। একইভাবে নীলফামারী হাসপাতালেও নবজাতক ও শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন যাতে শিশুদের গরম কাপড় ও গরম খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাসি খাবার এড়িয়ে চলা হয়।

কেবল জনজীবন নয়, শীত ও ঘন কুয়াশা দেশের কৃষিখাতেও বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনাজপুরের হিলিসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বোরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘন কুয়াশার কারণে বীজে পচন ধরছে এবং চারাগুলো হলদে হয়ে মরে যাচ্ছে, যা কৃষকদের বড় ধরণের লোকসানের মুখে ফেলেছে। কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন যাতে তারা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখেন এবং ছত্রাকনাশক স্প্রে করেন। অন্যদিকে, শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে বিভিন্ন জেলার প্রশাসন ও বেসরকারি সংগঠনগুলো কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করেছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নিজে রাতভর বাড়ি বাড়ি গিয়ে কম্বল বিতরণ করছেন, যদিও চাহিদার তুলনায় এই সহায়তা এখনও অপ্রতুল বলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন। সব মিলিয়ে হাড়কাঁপানো শীতে বর্তমানে পুরো দেশ এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।


খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতিসংঘ মহাসচিবের শোক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি এই শোক প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আজ বুধবার শোকবার্তাটি প্রকাশ করে।

গত ২ জানুয়ারি পাঠানো ওই বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি অত্যন্ত দুঃখিত।’

অ্যান্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণ এবং প্রয়াত নেত্রীর পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্বতন্ত্র ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান অধিকার করে আছেন। দীর্ঘদিনের জনসেবা ও নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে গেছেন।’

শোকবার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব উল্লেখ করেন, শোকের এই সময়ে তিনি প্রয়াত নেত্রীর পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার এবং দেশের মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন নেতৃত্বের জন্য পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পরদিন ৩১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

সূত্র: বিএসএস


জয় ও পলকের বিরুদ্ধে শুনানি পিছিয়ে রোববার ধার্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে গণহত্যার তথ্য লুকানোর দায়ে অভিযুক্ত সাবেক আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বুধবার এক আদেশের মাধ্যমে এই শুনানির পরবর্তী তারিখ আগামী ১১ জানুয়ারি (রোববার) নির্ধারণ করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নথিপত্র উপস্থাপনের লক্ষে সময় প্রার্থনা করলে আদালত এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে, এই মামলায় জুনাইদ আহমেদ পলক বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকলেও সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আদালতের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালতে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, জয় ও পলকের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে এই দুই ব্যক্তি পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন, যাতে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে না আসতে পারে। এছাড়া তাঁরা সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছিলেন যে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরাই গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট লাইন পুড়িয়ে দিয়েছে, যা তদন্তে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। পলাতক সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য আদালতের পক্ষ থেকে ‘স্টেট ডিফেন্স’ বা রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার কার্যক্রমও এগিয়ে চলেছে। কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময় ঘটা নৃশংসতা ও বিগত সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। রোববারের শুনানির মধ্য দিয়েই জয় ও পলকের এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী বিচারিক ধাপগুলো আরও স্পষ্ট হবে এবং ন্যায়বিচারের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। বর্তমানে এই মামলার কার্যক্রম ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল বিরাজ করছে।


বাংলাদেশিদের বিজনেস ও ট্যুরিজম মার্কিন ভিসায় দিতে হবে জামানত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গমনকারী বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বি১ ও বি২ ক্যাটাগরিতে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত বা বন্ড জমা দিতে হবে। মূলত ভিসার অপব্যবহার এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার (ওভারস্টে) প্রবণতা রোধ করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও ৩৭টি দেশের ওপর এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে নেপাল ও ভুটানও রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যমতে, যেসব দেশের নাগরিকদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার হার ঐতিহাসিকভাবে বেশি, সেই দেশগুলোকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভিসা ইস্যুকারী কনস্যুলার কর্মকর্তা ইন্টারভিউয়ের সময় প্রতিটি আবেদনকারীর প্রোফাইল পর্যালোচনা করে এই জামানতের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীকে এই প্রক্রিয়ার জন্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নির্দিষ্ট ফর্ম ‘I-352’ পূরণ করতে হবে এবং অর্থ জমা দেওয়ার জন্য শুধুমাত্র মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’ ব্যবহার করতে হবে। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, এই জামানত বা বন্ড জমা দেওয়ার মানেই ভিসা প্রাপ্তির কোনো গ্যারান্টি নয়। যদি কোনো আবেদনকারী কনস্যুলার কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছাড়া আগেই কোনো ফি বা জামানত জমা দেন, তবে সেই অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে না। এই নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করতে চায় যে, ভ্রমণকারীরা দেশটিতে প্রবেশ করার পর আইন মেনে যথাসময়ে নিজ দেশে ফিরে যাবেন।

নতুন এই নিয়মে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও কিছু কঠোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। জামানত প্রদানকারী ভিসা ধারীদের অবশ্যই নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং প্রস্থান করতে হবে। এই বিমানবন্দরগুলো হলো—বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (BOS), নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (IAD)। এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনোভাবে যাতায়াত করলে সেটি নিয়মের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং বিমানবন্দর থেকেই প্রবেশ বা প্রস্থানের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি নিবিড়ভাবে রেকর্ড করবে, যার ওপর ভিত্তি করেই জামানতের পরবর্তী ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

সবশেষে, এই জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ভিসার শর্ত পালনের ওপর নির্ভর করবে। যদি কোনো পর্যটক বা ব্যবসায়ী তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা মেয়াদের শেষ দিনে নিয়ম মেনে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, তবে তাঁর জমা দেওয়া পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এছাড়াও যদি কারও ভিসা আবেদন শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করা হয় কিংবা কেউ ভিসা পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলেও তাঁরা অর্থ ফেরত পাবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন অবস্থান করলে অথবা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ধরনের আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) প্রার্থনা করলে সেই অর্থ চূড়ান্তভাবে বাজেয়াপ্ত করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপটি মূলত বৈধ পথে যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।


জরুরি অবতরণের নির্দেশ অমান্য পাইলটের, বিমানের ভেতরেই মারা গেলেন যাত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এক অসুস্থ যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মাঝআকাশে ওই যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর পার্শ্ববর্তী কোনো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হলেও পাইলট তা অমান্য করেছেন। গত ৩১ ডিসেম্বর সংঘটিত এই ঘটনায় ফ্লাইট বিজি ২০১-এর পাইলট আলেয়ার বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। বিমানটি যখন পাকিস্তানের আকাশসীমার ওপর দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই এই জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে যাত্রীর প্রাণ রক্ষার্থে দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ কোনো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলেও পাইলট তা উপেক্ষা করেন। তিনি পার্শ্ববর্তী বিমানবন্দরে না নেমে বরং দীর্ঘ তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করে পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ওই সংকটকালীন সময়টুকু ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল, কিন্তু প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা সুবিধা না পাওয়ায় এবং মাঝআকাশে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে বিমানের ভেতরেই ওই যাত্রী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পাইলটের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে কেবল একটি মূল্যবান প্রাণের অবসানই ঘটেনি, বরং আবহাওয়াগত জটিলতায় বিমানটি ওই দিন আর লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হতে না পারায় সাধারণ যাত্রীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন যে, পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার নেপথ্য কারণ খুঁজে বের করতে বিমানের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিমানের পক্ষ থেকে গঠিত তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সংস্থাটির ফ্লাইট সেফটি প্রধান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কাস্টমার সার্ভিসের জেনারেল ম্যানেজার এবং অ্যাকাউন্টস ও প্যাসেঞ্জার রেভিনিউ প্রসেস র‍্যাপিডের ম্যানেজার। এই কমিটি মূলত খতিয়ে দেখবে কেন পাকিস্তানের আকাশসীমা থেকে পার্শ্ববর্তী কোনো নিরাপদ বিমানবন্দরে না নেমে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো এবং এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা কতটুকু ছিল। এছাড়া সংশ্লিষ্ট যাত্রীর উড্ডয়ন পূর্ববর্তী মেডিকেল ফিটনেস যাচাই করা হয়েছিল কিনা এবং বিমানে থাকা জরুরি জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সময়মতো প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, সেসব বিষয়ও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পাবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই সংশ্লিষ্ট পাইলট ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।


banner close