বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৮১ সালের ৮ ডিসেম্বর মাত্র ২৬ বছর বয়সে মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচারিক জীবন শুরু করেন। তারপর চার দশকের বিচারিক কর্মজীবন পার করে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিক বিচারিক কাজ থেকে অবসরে যান। সম্প্রতি তিনি দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আব্দুল জাব্বার খানকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তার ৪১ বছরের বিচারিক জীবনের কথা।
দৈনিক বাংলা: অবসরকালীন জীবন কেমন কাটছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: ভালোই কাটছে। তবে ব্যস্ততা কমেনি। মনে হয় আরও বাড়ছে। অবসরে অবসর কোথায়? হা হা…
দৈনিক বাংলা: স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় কোনো নারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যাত্রা শুরুর পর সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবসরে গেলেন। সব মিলিয়ে একজন নারীর বিচারক হিসেবে দীর্ঘ এই পথচলা কতটা সহজ ছিল?
কৃষ্ণা দেবনাথ: দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়, তখনই কিন্তু বাংলাদেশে মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসতে পারেনি। নারীদের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রথমেই আমরা পুরুষদের থেকে তিন বছর পিছিয়ে যাই। দেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরুর তিন বছর পরে নারীদের যাত্রার পরও আজকে নারীদের অবস্থান কোথায় সেটা দেখতে হবে। আমি নারী বিচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি ১৯৮১ সালে। প্রথম এসেছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, দ্বিতীয় যাত্রা শুরু করেছিলেন বিচারপতি জিনাত আরা। আর তৃতীয় হিসেবে যুক্ত হই আমি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো, আমরা তিনজনই আপিল বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছি। এটা ভাবতে ভালো লাগে।
নারী হিসেবে বিচারিক জীবনের তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে নারী বিচারকদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়, তাদের সাংসারিক জীবন নিয়ে। কেননা, এটা বদলির চাকরি। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলির কারণে সংসারটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা অনেক কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তো ছিলই।
দৈনিক বাংলা: সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হবেন এমন স্বপ্ন কি বিচারিক জীবনের শুরুতে কখনো দেখেছিলেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: না, এমনটি কখনোই ভাবিনি। এমনকি হাইকোর্টেও থাকাকালীন ভাবিনি যে আমি আপিল বিভাগে যাব। স্বপ্নও ছিল না। তবে আমার স্বপ্ন ছিল আমি জজ হব।
দৈনিক বাংলা: অনেক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরাই এখন প্রায় বেঁচে নেই, আপনি কি মনে করেন এখন নতুন যারা আসছেন, তারা সেই খ্যাতিম্যান আইনজীবীদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: দেখেন এটা শুধু আইনজীবীদের মধ্যে নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। সবখানেই অবক্ষয়। ধরেন আমার বাবা যে পরিমাণ লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করেছেন আমি তো মনি করি না, আমার সেটুকু আছে। কিন্তু আমি আশাবাদী নতুন প্রজন্ম থেকে অনেক ট্যালেন্ট উঠে আসছে, আসবে। একসময় নামকরা আইনজীবীরা ছিলেন। তারপর তাদের উত্তরসূরিরা এসেছেন। ঠিক এমনি করেই নতুনরা আইনজীবী হয়ে উঠবেন। এখন যারা নবীন আইনজীবী তাদের জন্য একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার এটা মোক্ষম সময়। তার কারণ জায়গাটা এখন অনেক খালি, সবকিছু প্রস্তুত হয়ে আছে, এখন দরকার শুধু অধ্যবসায়ের।
দৈনিক বাংলা: আপনার অবসর জীবনের শেষ দিনে বলেছিলেন, বিচারক নিজেকে স্বাধীন মনে না করলে সুবিচার সম্ভব না। এর মানে আপনি কী বুঝিয়েছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এই বাক্যটি আমি শুধু কথার কথা হিসেবে বলিনি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেই বলেছি। এখনো বিশ্বাস করি, একজন বিচারক নিজেকে যদি স্বাধীন মনে না করেন, তাহলে কাগজে-কলমে স্বাধীনতা দিয়েই কী লাভ। একজন বিচারক নিজের বিবেককে প্রশ্ন করবেন তিনি নিজে স্বাধীন কি না। কাগজে-কলমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে মাত্র কিছু বছর আগে। তার আগে আমরা বিচারকরা তো নিজেদের পরাধীন মনে করিনি, বিচারের কাজটি কিন্তু স্বাধীনভাবেই করেছি।
আমি মনে করি, একজন বিচারক মনেপ্রাণে নিজেকে স্বাধীন মনে করেন কি না, সেটাই বড় কথা। আমি জোর গলায়, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি ৪১ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পদে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে তো আমার কাছে কোনো তদবির আসেনি। নিজেকেই সেই জায়গা তৈরি করে নিতে হবে। আমি যখন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন অনেক জুনিয়র বিচারক বলতেন তদবির আসে। আমি তখন তাদের বলেছি, কই আমার কাছে তো কোনো তদবির আসে না। তদবির যাতে না আসে সেই পরিবেশ আপনার নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। বিচারকের স্বাধীনতার বিষয়টি নিজের সততা দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।
তদবির না শুনে একবার এক ব্যক্তিকে জামিন দিইনি বলে সেই সময় আমাকে মেহেরপুরের জেলা জজ থেকেও বদলি করা হয়েছিল। জেলা জজ থেকে সাড়ে চার বছর আমাকে কর্নার করে রাখা হয়েছিল। দুটি জেলার জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্পেশাল জজ করে রাখা হয়েছিল। আমি তো তখনো ভয় পাইনি। আমার কথা হলো, নিজেকে স্বাধীন রাখতে হলে বদলির ভয় করলে চলবে না। কী আর করবে বাংলাদেশের ভেতরেই তো বদলি করবে, আর তো কিছু না। বিচারক যদি বদলির ভয় বা নিজের লাভ-ক্ষতির চিন্তা করেন তাহলে তিনি স্বাধীন বিচারক হিসেবে কীভাবে কাজ করবেন। করতে পারবেন না। বিচারককে তার নিজের সততার ওপর শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। এখন কিন্তু দেওয়ানি মামলায় আপস করার সুযোগ আছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলা আপসের সুযোগ আছে। এখন যদি এটা ভালোভাবে কার্যকর হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ মামলাই আসবে না। এটা যদি সফল করা যায়, তাহলে মামলার জট অনেক কমে আসবে।
দৈনিক বাংলা: একটি মামলা শেষ করতে বছরের পর বছর লাগে কেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: মামলা শেষ করতে পক্ষগণেরই জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় কোনো না কোনো পক্ষই চায় না, দ্রুত মামলা শেষ হোক। মামলার জট সৃষ্টির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর জন্য শুধু বিচারকরা দায়ী তা বলা যাবে না বরং বাদী-বিবাদী, দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও দায় রয়েছে। একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য কম করে হলেও পাঁচটি পক্ষের সমন্বয় দরকার পড়ে, তবেই মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।
এ ছাড়া বিচারকসংকট রয়েছে বড় আকারে। এত বিশাল মামলার জট দ্রুত কমাতে হলে বিপুলসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। যেটা সরকারের পক্ষে সম্ভব না।
দৈনিক বাংলা: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো যেকোনো বিষয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, কেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এখন কিন্তু পত্রিকা খুললেই দেখা যায় হাইকোর্টের বিভিন্ন সংবাদ বা নির্দেশনা নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে। চোখ মেললেই কোর্ট-কাচারির খবর পাওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভুক্তভোগীকে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক আছে, মানুষ আদালতে এলে প্রতিকার পায়। আবার কিছু সময় দেখি একটা সাধারণ বিষয় নিয়েও মানুষকে হাইকোর্টে আসতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে তাহলে কিন্তু আদালতের ওপর এই চাপ আসে না। তারা সেটি করছে না। অনেক সময় আদালতের নির্দেশের পরও অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয় না। এটা ভালো দিক না।
দৈনিক বাংলা: বিচার বিভাগকে কি আরও শক্তিশালী হতে হবে, নাকি শক্তিশালীই আছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: বিচার বিভাগকে কেউ শক্তিশালী করে দেবে না। বিচার বিভাগকে নিজেকেই শক্তিশালী হতে হবে। একটা আদেশ হওয়ার পর ঝড়ঝাপটা আসতে পারে। সেটা বহন করার মতো বিচারক যদি আমরা হতে পারি তাহলে বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে। বিচারক যদি সেই ঝড়ঝাপটা সইবার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে সেটা হবে না।
দৈনিক বাংলা: বার ও বেঞ্চের সম্পর্ককে বলা হয় একটি পাখির দুটি ডানা। সম্প্রতি বিভিন্ন বারে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে, এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: সর্বজনীনভাবে আমি বলব, সাবলীল সম্পর্ক হ্রাস পেয়েছে। অনেক আগে থেকেই এই সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় বিচারকের দরজায় লাথি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সার্বিকভাবে বলব আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সম্পর্ক অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। আমার বক্তব্য হলো, একজন বিচারক যেহেতু একটু ওপরে বসেন, আইনজীবীরা একটু নিচে দাঁড়ান, এই যে বিচারকরা একটু অগ্রাধিকার স্থানে থাকেন সে জন্য বিচারকদের অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু করা যায় না। সেটি তাদের মাথায় থাকতে হবে। এ ছাড়া আইনজীবীদেরও সহিষ্ণু হতে হবে। দুপক্ষই যদি সহিষ্ণু হয় তাহলে কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরবে না।
আদালতের মর্যাদা কমলে কিন্তু আইনজীবীদেরই মর্যাদা কমবে। এটা তাদের বুঝতে হবে। কোনো বিচারকের ভুল হলে আইনজীবীরা তার ওপরের বিচারককে বলতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট আছে, আইন মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে বলার সুযোগ আছে। কিন্তু তাই বলে স্লোগান দেয়া উচিত না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে পূরণীয় ঘটনা বা অপ্রাপ্তি বলে কিছু আছে কি না?
কৃষ্ণা দেবনাথ: মানিকগঞ্জে একটি অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে পারিনি, এই একটি বিষয় আমার মনে এখনো গেঁথে আছে। আইনজীবীর ভুলের কারণে সেই আসামিকে সাজা দিতে পারিনি। যে কারণে খুব কষ্ট লেগেছিল। কারণ মামলায় আসামি শনাক্ত একটা বড় ব্যাপার। মামলায় বলা হয়েছে, চাঁদের আলোতে আসামিকে দেখা গেছে। কিন্তু পঞ্জিকাতে দেখা গেল সেদিন অমাবস্যা ছিল। তার ওপর আবার সেদিন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আইনজীবী মামলা শক্ত করতে গিয়ে চাঁদের আলোতে দেখেছে বলে বিবরণ দিয়েছেন কিন্তু সেদিন সেটা ছিল না। যে কারণে আসামি শনাক্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরঞ্জিত বিবরণ মূল ঘটনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ ছেলেটি মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করত, সেটি উল্লেখ থাকলেও হতো। অতিরঞ্জিত করার কারণে আসামি বেঁচে যায়। এই ঘটনা আমাকে পীড়া দেয়। তার কারণ চোখের সামনে দেখেছিলাম মেয়েটির ঝলসানো মুখ। কিন্তু তার ন্যায়বিচার আমি দিতে পারিনি।
দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে আপনি কতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এটা বলতে পারব না। তার কারণ, আমি গুনে রাখিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার ব্যাপারে আমি অনেক সতর্ক ছিলাম। আমি দুইয়ে দুইয়ে চার না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সাজা দিইনি। অনেক আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েও আমি স্বস্তি পেয়েছি। তার কারণ অকাট্য দলিল-প্রমাণ ছিল। সব থেকে বড় স্বস্তি পেয়েছি, যখন আমি ঢাকার জেলা জজ ছিলাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফাঁসির আসামিদের সাজা কার্যকর হবে। তখন ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার জন্য শেষ যে স্বাক্ষর দিতে হয়, জেলা জজ হিসেবে সেটা আমি দিয়েছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার কাছে লাল নথি এল, আমি তাতে স্বাক্ষর করলাম। এরপরই টিভিতে দেখলাম কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর শুরু করেছে। ঐতিহাসিক সেই মামলাটিতে শেষ স্বাক্ষর করেছিলাম। এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।
দৈনিক বাংলা: অবসরে কেমন কাটছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: অবসরে একদমই অবসর নেই। আমি রুট (প্রান্তিক) লেভেলের ভিকটিমদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সেটাই শুরু করেছি। দেখা যাক কতটা করতে পারি।
দৈনিক বাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে।
কৃষ্ণা দেবনাথ: আপনাকেও ধন্যবাদ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাষ্ট্র যদি সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যদি তা না পারে, তবে শুধু গণমাধ্যমের উপস্থিতির কারণে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বিরাজ করবে, এটা আশা করা যায় না। ব্যাংকিং খাতের সুশাসন মূলত জাতীয় ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সুশাসনের ঘাটতিরই প্রতিফলন। তবে ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা ও ক্ষমতার কোনো বিকল্প নেই।
রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলায় আমরা আয়না দিয়ে খেলতাম। ভালো কোয়ালিটির আয়নায় আসল চেহারা দেখা যায়, আর যেটার কোয়ালিটি ভালো না, সেখানে নিজের চেহারাই বাঁকা দেখা যায়। গণমাধ্যম হচ্ছে সেই আয়না। কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ নিজেদের চেহারা জনগণের সামনে কতটা স্বচ্ছভাবে প্রতিফলিত করতে চায়, তা নির্ভর করে তারা এই আয়নাকে কতটা গ্রহণ করছে তার ওপর।
মন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি। যারা ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা টার্গেট করে, তারাই আবার শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের টার্গেট করে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হলে ব্যাংকের ওপর চাপ কমিয়ে শেয়ারবাজারকে পুঁজির শক্তিশালী উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ব্যাংকিং কমিশন গঠন এবং উদ্যোক্তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর থেকে এখন অনেক বিস্তৃত হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের মতো অর্থনীতিতে রক্তপ্রবাহের উৎসকে সংস্কার করতেই হবে। ব্যাংক থেকে মূলধন নিয়ে উদ্যোক্তারা কাজে লাগান। কিন্তু তাদের মধ্যে কারা সত্যিকারের পারফর্মার আর কারা চোর, বাটপার, গুন্ডা, বদমাশ- তা পরিসংখ্যানই বলে দেয়।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা ও ক্ষমতার একমাত্র মানদণ্ড হলো বস্তুনিষ্ঠতা। বস্তুনিষ্ঠতা ছাড়া গণমাধ্যম কর্তৃত্ব পরায়ন হতে পারে না। সাংবাদিকদের বসার জায়গা ফার্স্ট ফ্লোরে নাকি থার্ড ফ্লোরে সেটা বড় কথা নয়, সবচেয়ে বড় কথা হলো অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন বা তথ্যের কাছে তাদের যাওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না। ব্যাংক যেখানে তথ্য রাখে, সেখানে সাংবাদিকদের পৌঁছানোর সুযোগ বা গ্রাউন্ড ফ্লোর পর্যন্ত তাদের যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
ছয় দফা দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ‘ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি’ নামের একটি সংগঠন এক বিবৃতিতে রোববার থেকে এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বেতন বৃদ্ধিসহ কয়েকটি দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ চিকিৎসাসেবা থেকে বিরত থেকে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা জানান, ছয় দফা দাবি আদায়ে ‘সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদ’ ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য তারা এভাবে আন্দোলনে নামতে চাননি। বিদ্যমান কিছু নীতিমালা ও বিধিবিধান চিকিৎসকদের অবমূল্যায়ন ও অপমানিত করছে বলে অভিযোগ তাদের।
গতকাল সকালে ঢামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক নোটিশে বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক প্রস্তাব করা হয়েছে। এফসিপিএস কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের বেতনকাঠামোতে বৈষম্য, ভর্তি পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি, ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের অপ্রতুল বেতন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতনকাঠামোর অসংগতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
পরিষদ দাবি করেছে, বারবার দাবি উপস্থাপন, প্রতিবাদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাস সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান, কার্যকর ও সন্তোষজনক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মানসম্মত চিকিৎসাশিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না করে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করে সংগঠনটি। পরিষদের বিবৃতিতে পূর্বঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ঢামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি মোস্তফা আমির ফয়সাল, সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মারুফ, সাধারণ সম্পাদক নাবিল বিন কাসেম ও সহসাধারণ সম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস (পর্ব-১) উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা-সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল; বিসিপিএসের ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ; নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আবাসিক ভাতাসহ নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ ও প্রতি মাসের বেতন নিয়মিত পরিশোধ; ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন; বিসিএস (স্বাস্থ্য) চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পূর্বের ন্যায় ৩৪ বছর করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতনকাঠামো প্রণয়ন (শ্রম আইন, ২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগ ও পে-স্কেলের আদর্শ অনুসরণ)।
চলতি বছরে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আকাশপ্রেমীরা। আগামী ১২ আগস্ট বিরল মহাজাগতিক এই ঘটনা ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) বিজ্ঞান পরিচালক ক্যারোল মুন্ডেল বলেছেন, পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এমন এক বিরল মুহূর্ত; যখন কোটি কোটি মানুষ একসঙ্গে আকাশের দিকে তাকিয়ে বিস্ময় ও কৌতূহল অনুভব করতে পারেন।
কখন এবং কোথায় দেখা যাবে?
আগামী ১২ আগস্ট চাঁদ সরাসরি সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান নেবে। এর ফলে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর ও ইউরোপের কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে একটি সরু রেখার মতো তৈরি হবে। পূর্ব গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চল, স্পেনের উত্তরাঞ্চল এবং পর্তুগালের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের কিছু এলাকা থেকে সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে যেতে দেখা যাবে।
নাসা বলেছে, ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চল, উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশ এবং আফ্রিকার উত্তর-উত্তর পশ্চিমাঞ্চল থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এসব এলাকায় সূর্য আংশিক দৃশ্যমান থাকবে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বলেছে, বাংলাদেশ, ভারত বা এ অঞ্চল থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। স্থানভেদে এর স্থায়িত্ব কালও ভিন্ন হবে। পূর্ণ গ্রহণপথে থাকা অধিকাংশ এলাকার জন্য সূর্য দুই মিনিটেরও কম সময় সম্পূর্ণরূপে আচ্ছাদিত থাকবে।
তবে গ্রিনল্যান্ড, রাশিয়া কিংবা উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের গ্রহণপথের একেবারে কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থানকারীরা কিছুটা বেশি সময় ধরে দেখতে পারবেন। যদিও এ সময় আড়াই মিনিটের কম হবে।
পূর্ণ গ্রহণের সময় সূর্য খালি চোখে দেখা যাবে। এটি চাঁদের কালো ছায়ার চারপাশে মৃদু আলোর বলয়ের মতো দেখাবে। এ সময় তাপমাত্রার সামান্য পরিবর্তন, আকাশ অস্বাভাবিকভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং কিছু উজ্জ্বল গ্রহ ও নক্ষত্রও দৃশ্যমান হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আংশিক গ্রহণ চলাকালীন কখনোই খালি চোখে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত হবে না। এতে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। এজন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ সৌর ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে।
নাসা বলছে, পূর্ণ গ্রহণের আগে ও পরে পর্যবেক্ষণের জন্য অবশ্যই চোখের সুরক্ষা ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য বিশেষ সৌর পর্যবেক্ষণ চশমা (ইক্লিপস গ্লাস), হাতে ধরা সৌর ভিউয়ার অথবা অন্যান্য নিরাপদ সৌর ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব যন্ত্র সূর্যের অধিকাংশ আলোকে আটকে দেয়। এতে চোখের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না।
সংস্থাটি বলেছে, পূর্ণগ্রহণকালীন সাময়িকভাবে সুরক্ষা চশমা খুলে করোনা দেখা যেতে পারে। কেননা এ সময় যখন সূর্য সম্পূর্ণরূপে ঢাকা থাকবে। এরপর সঙ্গে সঙ্গে আবার চোখের সুরক্ষা ব্যবহার করতে হবে।
চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে দেয় এবং তার ছায়া পৃথিবীর একটি সরু অংশের ওপর পড়ে, তখন এটিতে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা কৃষিসহ পরিবেশগত সংকটের সঙ্গে স্থানীয় নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৮৬ শতাংশ নারীই ‘পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (পিআইডি) নামের প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণে ভুগছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানির সংস্পর্শ, সুপেয় পানির অভাব এবং পুষ্টিহীনতাকে উপকূলীয় নারীদের এই স্বাস্থ্য সমস্যার প্রধান কারণ হিসেবে গবেষণায় চিহ্নিত করা হয়েছে।
গত শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিআরডি আয়োজিত এক নীতি সংলাপে দুটি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৪০০ নারীর ওপর পরিচালিত গবেষণাটি উপস্থাপন করেন সিপিআরডির গবেষণা কর্মকর্তা সোহানুর রহমান ও শাহাদাত হোসেন। এর বিষয়বস্তু বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মূল্যায়ন।
গবেষকেরা জানান, গত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে খানা জরিপ, নৃমানবিক পরিমাপ এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
এতে দেখা যায়, উপকূলীয় নারীরা বছরের বিভিন্ন সময় একাধিক জলবায়ুঘটিত দুর্যোগের সম্মুখীন হন। এগুলোর মধ্যে ৯২ শতাংশ নারী ঘূর্ণিঝড় এবং ৬৩ শতাংশ নারী লবণাক্ততার প্রত্যক্ষ প্রভাবের শিকার। ৮৩ শতাংশ নারী নিরাপদ পানির তীব্র অভাবে রয়েছে। তারা বৃষ্টির পানি (৫৬ শতাংশ) ও নলকূপের লবণাক্ত পানির (৪০ শতাংশ) ওপর নির্ভর করে। ৩৯ শতাংশ নারী বেশি দামে পানি কিনতে বাধ্য হয়। ১৬ শতাংশ পুকুরের দূষিত পানিই ব্যবহার করে।
গবেষণায় বলা হয়, লবণাক্ত ও দূষিত পানির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার নারীদের স্বাস্থ্য ও প্রজনন ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। অংশগ্রহণকারী নারীদের ৫০ শতাংশ অনিয়মিত ঋতুস্রাবজনিত সমস্যায় ভুগছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪০০ নারীর মধ্যে ৩৪৪ জনই (৮৬ শতাংশ) প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণের অন্তত একটি উপসর্গে ভুগছে।
নারীরা গৃহস্থালি কাজ, পানি সংগ্রহ, চিংড়িঘের বা লবণাক্ত কৃষিজমির কাজে দীর্ঘ সময় নোনাপানির সংস্পর্শে থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ৬৯ শতাংশ নারীই সপ্তাহে তিন দিন বা তার কম সময় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করে, যা গর্ভকালীন জটিলতা বাড়াচ্ছে। উপকূলীয় প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারের মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকার কম হওয়ায় এই সংকট আরও গভীর হয়েছে।
সংলাপে দেশের স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়নের নীতিগত লক্ষ্য ও আর্থিক বাস্তবতা বিষয়ের দ্বিতীয় গবেষণাটি উপস্থাপন করেন সিপিআরডির প্রকল্প ব্যবস্থাপক সুমাইয়া বিনতে আনোয়ার। এতে বলা হয়, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়লেও জাতীয় বাজেটে জলবায়ু-স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ক্রমাগত কমছে।
পাঁচ বছরের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জলবায়ু-সম্পর্কিত বরাদ্দ ছিল ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশে (৬১০ কোটি টাকা) নেমে এসেছে। সরকার বিভিন্ন জাতীয় নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও বাস্তবায়নে অর্থায়নের ঘাটতি রয়েছে। শুধু স্বাস্থ্য খাতের জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০২৬-২০৩০ সময়ে ১৪০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, যা বর্তমান বরাদ্দের তুলনায় কম।
এই গবেষণায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের (বিসিসিটিএফ) বরাদ্দের ৫৮ শতাংশই অবকাঠামো খাতে ব্যয় হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো জরুরি খাতে বরাদ্দ মাত্র ৯ শতাংশ।
নীতি সংলাপে বিশেষজ্ঞরা আসন্ন বাজেটের জন্য কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় বাজেটের সঙ্গে স্বাস্থ্য অভিযোজন পরিকল্পনার সরাসরি সমন্বয়, উপকূলীয় নারীদের জন্য বিশেষ প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নিরাপদ পানির শতভাগ নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু তহবিল থেকে মানব উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো।
সংলাপের সঞ্চালক এবং অনুষ্ঠানের আয়োজক সিপিআরডির নির্বাহী পরিচালক মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘জলবায়ু অর্থায়ন এখনো একটি অস্পষ্ট ক্ষেত্র। বৈশ্বিক পর্যায়ে অধিক মনোযোগ ও অর্থায়ন আকর্ষণ করতে হলে আমাদের শক্তিশালী পরিমাণগত প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।’
সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) উপসচিব ড. শাহ আবদুল সাদী বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের জন্য সুস্পষ্ট ক্লাইমেট রেশনাল (জলবায়ু যুক্তি) প্রতিষ্ঠা জরুরি। তিনি জলবায়ু বাজেট ট্যাগিং আরও স্পষ্ট করা, ঝুঁকি সূচক উন্নয়ন এবং তৃতীয় পক্ষীয় যাচাই ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ প্রমোশন ইউনিটের (সিসিএইচপিইউ) পরিচালক ও কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবির বলেন, ‘বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে যায়, যা এই খাতের বৈশ্বিক অবহেলার প্রমাণ।’
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখনো উন্নয়ন পরিকল্পনায় পুরোপুরি মূলধারায় আসেনি, ফলে উদ্যোগগুলো বিচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সংলাপে সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে ঘরমুখো ও কর্মস্থলে ফেরা মানুষের যাতায়াতে গত ১৫ দিনে দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৪৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৪০ জন আহত হয়েছেন। দেশের গণপরিবহন ও সড়ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার সময় ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ঈদুল আজহায় দেশের সড়কগুলোতেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আলোচ্য সময়ে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নৌপথের চিত্রও ছিল উদ্বেগজনক; যেখানে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। বিগত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের ঈদুল আজহার তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা ৩.৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩.০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯.৪৭ শতাংশ বেড়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিগত বছরগুলোর মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত এবং ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৩৮.৮৩ শতাংশ।
দুর্ঘটনায় শিকার যানবাহনের তালিকায় মোটরসাইকেলের পরেই রয়েছে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান (২১.৪০শতাংশ), যাত্রীবাহী বাস (১৬.৫৬শতাংশ), ব্যাটারিচালিত রিকশা (১২.৩৪শতাংশ), কার ও মাইক্রোবাস (৭.৮১শতাংশ), নছিমন-করিমন (৬.৫৬শতাংশ) এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা (৬.৪০শতাংশ)।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুর্ঘটনার জন্য সড়ক-মহাসড়কের ত্রুটি, বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট গর্ত, এবং চালকদের আইন অমান্য করার প্রবণতা প্রধানত দায়ী। এছাড়া কিছু পরিবহন মালিক অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ত্রুটিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়কে নামিয়েছেন। চালক সংকটের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একজন চালক দিয়েই বিরামহীনভাবে চালানো হয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৪৬.৪৪ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৯.১৮ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা এবং ১৭.২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনা। এর মধ্যে ৫০.৫০ শতাংশ দুর্ঘটনাই ঘটেছে দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোতে।
মানুষের জীবন রক্ষা ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে সংবাদ সম্মেলনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, কেবল ঈদের ১০-১২ দিনের তৎপরতা দিয়ে দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব নয়। এর জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে উন্নত বিশ্বের আদলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং মহাসড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন ও ধীরগতির যানবাহন অপসারণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে ‘স্টার’ মানের সড়ক নিরাপত্তা করিডোর গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল এবং দপ্তর সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বিটু প্রমুখ।
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো (পুশ ইন) ঠেকাতে দেশের ২৬ জেলার সীমান্তে বিপুল সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। চারটি পালায় বিভক্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টা ধরে সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত রয়েছেন তারা। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সহায়তা করছেন।
এদিকে গত বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত চার দিনে বিএসএফের ২১টি পুশ ইনের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব ঘটনায় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী ৮ থেকে ১১ জুন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। চার দিনের এই বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, অবৈধ পুশ ইন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এবং সার্বিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, ভারতের পাঁচ রাজ্যের সঙ্গে দেশের ২৬ জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার সীমান্তে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সাদাপোশাকে বিজিবি সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছেন।
বিজিবির সদরদপ্তর সূত্র জানায়, যেসব সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ২৬টি জেলায় বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। এই জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফেনী, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও শেরপুর।
চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ বন্দরটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এটি কেবল পণ্য পরিবহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি যুক্ত। কাজেই এই বন্দর কোনোভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া যাবে না।
রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনার চুক্তির প্রতিবাদে ‘দেশ বাঁচাও, বন্দর বাঁচাও আন্দোলন’ এই সভার আয়োজন করে।
সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে অবিলম্বে বিএনপি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর ও মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বর্তমান সরকারের জন্য ‘অগ্নিপরীক্ষা’।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম সভায় বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর যারা পরিচালনা করছেন, এই মুহূর্তে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। তারা প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করেছেন। আমাদের বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে, তবে তার জন্য দেশীয় লাভজনক প্রতিষ্ঠান বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তি করেছে উল্লেখ করে তিনি দেশ ও জনস্বার্থে ইজারা চুক্তি কার্যকর না করার আহ্বান জানান।
শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। আমরা জনস্বার্থ রক্ষার জন্য জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাব।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের অর্থনীতির চালিকা শক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। সামরিক দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এর সন্নিকটে রয়েছে। কোনো অজুহাতেই এই বন্দর বিদেশিদের ইজারা দেওয়া যাবে না। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের স্বার্থে তাদের শক্ত ভূমিকা নিতে হবে।’
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের গণবিরোধী চুক্তিগুলো সংসদে উত্থাপন করে অংশীজনদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তিতে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের ওপর বড় আঘাত আসবে। আগের কর্তৃত্ববাদী সরকার এই চুক্তিগুলোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, পরে অন্তর্বর্তী সরকার তা সম্পন্ন করে। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের এসব চুক্তি কার্যকর করার কোনো দায়বদ্ধতা নেই।’
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড নামের যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বন্দর পরিচালনার চুক্তি হয়েছে, তাদের সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ সহযোগিতার চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির সূত্রে মার্কিন নৌবাহিনী চট্টগ্রাম বন্দর তাদের প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করতে পারবে। কাজেই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।’
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘এই সরকার “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। কাজেই দেশের স্বার্থ, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা তাদের কর্তব্য। দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল করে সকল অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে।’
গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য সৈয়দ হাসান মারুফ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। এই বন্দর জোয়ার ভাটার ওপর নির্ভরশীল। নির্দিষ্ট মাপের চেয়ে বড় জাহাজ প্রবেশ করতে পারে না। কাজেই উন্নয়নেরও খুব বেশি সুযোগ এখানে নেই। সেই সুযোগ গভীর সমুদ্রবন্দরে রয়েছে। এসব বিভিন্ন বাস্তবসম্মত কারণে এই চুক্তি বাতিল করতে হবে।’
বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার অনেক ষড়যন্ত্রমূলক কাজ করেছে। তারাই এই চুক্তিটি করেছে। এর জন্য বিএনপির কোনো দায়বদ্ধতা নেই। এখনো একটি চক্র দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ‘দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও আন্দোলন’–এর সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই এই বন্দরটি পরিচালিত হচ্ছে। পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কোনো অভিযোগ নেই। বন্দরটি দেশের অন্যতম আয়ের উৎস। এসব দিক বিবেচনা করলেও এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। জাতীয় স্বার্থেই এই দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল করতে হবে।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী আবুল হাসান। সভাটি সঞ্চালনা করেন মোমিনুল আমিন।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন রিয়াল এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা (এনইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, বিএন)। তিনি বিদায়ী চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল শাহীন রহমানের স্থলাভিষিক্ত হলেন। রোববার মোংলা বন্দরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকারের কাছ থেকে তিনি নতুন এই দায়িত্ব বোঝে নেন। মোংলা বন্দরে যোগদানের আগে আরিফ আহমেদ মোস্তফা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বন্দরের সভাকক্ষে সব বিভাগের প্রধান, ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তা, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সিবিএ’র অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
সভায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বন্দরের চলমান ও অসমাপ্ত বিভিন্ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নতুন চেয়ারম্যানের কাছে তুলে ধরেন। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে আরিফ আহমেদ মোস্তফা বন্দরের উন্নয়নে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজের জটিলতা কমাতে পারলে বন্দরের সামগ্রিক অপারেশনাল কার্যক্রম অনেক সহজ হয়ে যাবে।’ তিনি বন্দরের আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে দলগতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। বন্দরের সার্বিক স্বার্থে খুব দ্রুতই বন্দর ব্যবহারকারীদের (স্টেকহোল্ডার) সাথে একটি আলোচনা সভা করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
রিয়াল এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শিক্ষা ও কমিশন: আরিফ আহমেদ মোস্তফা ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৯২ সালে নির্বাহী শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক (ডিস্টিংশনসহ) এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মিলিটারি স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (DSCSC) মিরপুর, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ মিরপুর এবং নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী।
পেশাদার জীবন: ৩০ বছরের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, ইনস্ট্রাক্টর (প্রশিক্ষক) এবং স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জাহাজ চালনায় অভিজ্ঞতা: একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ—‘বানৌজা ওমর ফারুক’ এবং ‘বানৌজা সমুদ্র জয়’-এর ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ‘বানৌজা দুর্জয়’-এর কমিশনিং ক্যাপ্টেন এবং ‘বানৌজা ওমর ফারুক’-এর ডিকমিশনিং ক্যাপ্টেন ছিলেন। এ ছাড়া তিনি পেট্রোল ক্রাফট বানৌজা ফরিদ, তিস্তা, মেঘনা, এলপিসি দুর্জয়, ওপিভি এসআর আমিন এবং নৌঘাঁটি বানৌজা হাজী মহসিনের অধিনায়ক হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু রামিসাকে হত্যার বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মাও সেতুংয়ের একটি ঐতিহাসিক উক্তি আছে—কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী। কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা। রামিসা হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে আর যদি এই ফাঁসির আসামিদেরকে আমরা ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে তাদের মৃত্যু ঘটাতে পারি, তাহলে সেটা আমাদের জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা হিসেবে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি।
আজ রোববার (৭ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ১৯ মে ঢাকা শহরের পল্লবী এলাকায় একটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা ঘটে। আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এ ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে আমাদের পুলিশ বাহিনী দুজন মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সেখানে সেই টিমে আমিও ছিলাম। আমরা ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করি। ওইদিন ভিকটিমের বাবার একটি আহাজারি ছিল, উনি বিচার চান না। কারণ এদেশে এ ধরনের ঘটনার বিচার হবে না। আমরা আশ্বস্ত করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন—এ ঘটনার বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী পাঁচ দিনের মাথায় সুষ্ঠু তদন্ত করে এ ঘটনার প্রতিবেদন দাখিল করেছিল। ঈদের আগে ২৪ মে দুপুর ১২ টার সময় চার্জশিট দেয় পুলিশ। ওইদিন ৪টার মধ্যে সেই চার্জশিট আমরা সিএমএম কোর্ট থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনালে নিয়ে যাই। আমাদের সামনে একটা সংখ্যা ছিল, সেটা হলো বাংলাদেশের আদালতগুলো পহেলা জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে যাওয়ার কথা। আমরা প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করে বাংলাদেশের সব নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলো ছুটির আওতা বহির্ভূত রাখতে সক্ষম হই।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ২৪ মে চার্জশিট পাওয়ার পরপরই আমরা যখন দেখেছি, আসামি পক্ষ কোনো আইনজীবী দেয়নি, আমরা আইনের বিধান মেনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের স্টেট ডিফেন্স লয়ার (রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী) দিতে সক্ষম হই। ঈদের ছুটির পরে পহেলা জুন আদালতে এই মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন এই মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ৩ জুন এই মামলায় আসামি পক্ষ কোনো সাক্ষী দিতে চান কি না, সেজন্য দিন ধার্য রাখা হয়। ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করা হয়। ৫ ও ৬ জুন শুক্র-শনিবার থাকাতে ৭ জুন আজ রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল এবং রায় যথারীতি ঘোষিত হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা রাষ্ট্রের প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সমস্ত সাক্ষ্য উপস্থাপন পূর্বক যে রায় প্রত্যাশা করেছিলাম, যে রায় প্রস্তাব করেছিলাম, যে রায় আদালতের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, আদালত সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদেশের অংশ ঘোষণা করেছেন। আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুজন মূল আসামি সোহেল ও তার সহযোগী এবং স্ত্রীকে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। মাও সেতুংয়ের একটি ঐতিহাসিক উক্তি আছে—কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী। কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা। রামিসা হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে আর যদি এই ফাঁসির আসামিদেরকে আমরা ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে তাদের মৃত্যু ঘটাতে পারি, তাহলে সেটা আমাদের জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা হিসেবে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি।
আইনমন্ত্রী বলেন, এটুকুই ছিল আমাদের পক্ষ থেকে এই মহান জাতীয় সংসদ এবং জাতির কাছে আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি। সেদিন আমরা বলেছিলাম, আমাদেরকে যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন—রামিসার বাবা বিচার চান না। এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য কি? আমরা বলেছিলাম, এর একমাত্র জবাব হবে তাকে সেই আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া। আজ ভিকটিমের বাবা বলেছেন, এই বিচারে উনি সন্তুষ্ট। আমরা তার আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, রামিসাসহ সম্প্রতি যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে, আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকির মাধ্যমে আমরা তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, আমরা নিয়েছি এবং সেই গতিতে এগোচ্ছি।
সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে জয় পান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এবার সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। অবশ্য সভাপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন পড়েনি। তামিমই একমাত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তাই বিসিবির ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সহসভাপতি হয়েছেন ফাহিম সিনহা
রোববার মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সকাল ১০টার দিকে শুরু ভোটগ্রহণ। বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। প্রাপ্ত ভোটে ঢাকার ক্লাব থেকে জিতেছেন তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা. মাহবুব শামীম, সাকেফ আহমেদ সালাম।
যেখানে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়েছেন তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২ ভোট পেয়েছেন সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং ইশরাফিল খসরু। এরপর মাসুদুজ্জামান ৭০ এবং ফয়সাল ইয়াসির পেয়েছেন ৬৮ ভোট।
ফাহিম সিনহা এবং শানিয়ান তানিম ৬৬টি করে ভোট পেয়েছেন। আসিফ রাব্বানী ৬৪, মির্জা ইয়াসির আব্বাস ৬৩টি ভোট পেয়েছেন। রফিকুল ইসলাম বাবু ৫৩ এবং ড. শামীম ৪১ ভোট পেয়েছেন । ক্লাব ক্যাটাগরিতে মোট ভোট ছিল ৭৬টি। এর মধ্যে ৭৪টি ভোট কাস্ট হয়েছে।
পনের দিনের ব্যবধানে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম লিটারে আরও ১৫ টাকা করে কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর আগে গত ২৩ মে দাম লিটারে ৩৯ টাকা ৫৭ পয়সা কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা করা হয়েছিল।
আজ রোববার বিইআরসির এক আদেশে জেট ফুয়েলের দাম ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা কমিয়ে ১৫০ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়। এটি হচ্ছে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম। এছাড়া আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী এয়ারলাইন্সের জন্য জেট ফুয়েলের দাম কমিয়ে শূন্য দশমিক ৯৮০৮ ডলার করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১ দশমিক ০৮২৩ ডলার।
এর আগে কয়েক দফায় দাম বেড়ে গত ৭ এপ্রিল দেশীয় রুটে জেট ফুয়েলের দাম ২২৭ টাকা হয়েছিল। সেই হিসাবে দুই মাসের ব্যবধানে দাম কমল লিটারে ৫৭ টাকা।
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্তকরণ, গ্রেপ্তার এবং তদন্ত কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত পরিচালনা, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।’
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং দোষী ব্যক্তিরা প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি পাবে।
তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একই ধরনের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত সদস্যবৃন্দও এ ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও অপরাধ দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে ভারতে আটক থাকা ৯১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী দেশে ফিরেছেন। তাঁদের সঙ্গে বাংলাদেশের মালিকানাধীন চারটি মাছ ধরার নৌকাও ফেরত আনা হয়েছে। আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বঙ্গোপসাগরে দুই দেশের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছ থেকে বাংলাদেশের মালিকানাধীন চারটি ফিশিং বোটসহ ৯১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে গ্রহণ করেছে। যথাযথ দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসৃত হলে বাংলাদেশ বরাবরই বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা দিয়ে থাকে।
এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।