বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৮১ সালের ৮ ডিসেম্বর মাত্র ২৬ বছর বয়সে মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচারিক জীবন শুরু করেন। তারপর চার দশকের বিচারিক কর্মজীবন পার করে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিক বিচারিক কাজ থেকে অবসরে যান। সম্প্রতি তিনি দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আব্দুল জাব্বার খানকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তার ৪১ বছরের বিচারিক জীবনের কথা।
দৈনিক বাংলা: অবসরকালীন জীবন কেমন কাটছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: ভালোই কাটছে। তবে ব্যস্ততা কমেনি। মনে হয় আরও বাড়ছে। অবসরে অবসর কোথায়? হা হা…
দৈনিক বাংলা: স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় কোনো নারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যাত্রা শুরুর পর সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবসরে গেলেন। সব মিলিয়ে একজন নারীর বিচারক হিসেবে দীর্ঘ এই পথচলা কতটা সহজ ছিল?
কৃষ্ণা দেবনাথ: দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়, তখনই কিন্তু বাংলাদেশে মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসতে পারেনি। নারীদের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রথমেই আমরা পুরুষদের থেকে তিন বছর পিছিয়ে যাই। দেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরুর তিন বছর পরে নারীদের যাত্রার পরও আজকে নারীদের অবস্থান কোথায় সেটা দেখতে হবে। আমি নারী বিচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি ১৯৮১ সালে। প্রথম এসেছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, দ্বিতীয় যাত্রা শুরু করেছিলেন বিচারপতি জিনাত আরা। আর তৃতীয় হিসেবে যুক্ত হই আমি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো, আমরা তিনজনই আপিল বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছি। এটা ভাবতে ভালো লাগে।
নারী হিসেবে বিচারিক জীবনের তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে নারী বিচারকদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়, তাদের সাংসারিক জীবন নিয়ে। কেননা, এটা বদলির চাকরি। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলির কারণে সংসারটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা অনেক কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তো ছিলই।
দৈনিক বাংলা: সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হবেন এমন স্বপ্ন কি বিচারিক জীবনের শুরুতে কখনো দেখেছিলেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: না, এমনটি কখনোই ভাবিনি। এমনকি হাইকোর্টেও থাকাকালীন ভাবিনি যে আমি আপিল বিভাগে যাব। স্বপ্নও ছিল না। তবে আমার স্বপ্ন ছিল আমি জজ হব।
দৈনিক বাংলা: অনেক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরাই এখন প্রায় বেঁচে নেই, আপনি কি মনে করেন এখন নতুন যারা আসছেন, তারা সেই খ্যাতিম্যান আইনজীবীদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: দেখেন এটা শুধু আইনজীবীদের মধ্যে নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। সবখানেই অবক্ষয়। ধরেন আমার বাবা যে পরিমাণ লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করেছেন আমি তো মনি করি না, আমার সেটুকু আছে। কিন্তু আমি আশাবাদী নতুন প্রজন্ম থেকে অনেক ট্যালেন্ট উঠে আসছে, আসবে। একসময় নামকরা আইনজীবীরা ছিলেন। তারপর তাদের উত্তরসূরিরা এসেছেন। ঠিক এমনি করেই নতুনরা আইনজীবী হয়ে উঠবেন। এখন যারা নবীন আইনজীবী তাদের জন্য একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার এটা মোক্ষম সময়। তার কারণ জায়গাটা এখন অনেক খালি, সবকিছু প্রস্তুত হয়ে আছে, এখন দরকার শুধু অধ্যবসায়ের।
দৈনিক বাংলা: আপনার অবসর জীবনের শেষ দিনে বলেছিলেন, বিচারক নিজেকে স্বাধীন মনে না করলে সুবিচার সম্ভব না। এর মানে আপনি কী বুঝিয়েছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এই বাক্যটি আমি শুধু কথার কথা হিসেবে বলিনি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেই বলেছি। এখনো বিশ্বাস করি, একজন বিচারক নিজেকে যদি স্বাধীন মনে না করেন, তাহলে কাগজে-কলমে স্বাধীনতা দিয়েই কী লাভ। একজন বিচারক নিজের বিবেককে প্রশ্ন করবেন তিনি নিজে স্বাধীন কি না। কাগজে-কলমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে মাত্র কিছু বছর আগে। তার আগে আমরা বিচারকরা তো নিজেদের পরাধীন মনে করিনি, বিচারের কাজটি কিন্তু স্বাধীনভাবেই করেছি।
আমি মনে করি, একজন বিচারক মনেপ্রাণে নিজেকে স্বাধীন মনে করেন কি না, সেটাই বড় কথা। আমি জোর গলায়, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি ৪১ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পদে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে তো আমার কাছে কোনো তদবির আসেনি। নিজেকেই সেই জায়গা তৈরি করে নিতে হবে। আমি যখন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন অনেক জুনিয়র বিচারক বলতেন তদবির আসে। আমি তখন তাদের বলেছি, কই আমার কাছে তো কোনো তদবির আসে না। তদবির যাতে না আসে সেই পরিবেশ আপনার নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। বিচারকের স্বাধীনতার বিষয়টি নিজের সততা দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।
তদবির না শুনে একবার এক ব্যক্তিকে জামিন দিইনি বলে সেই সময় আমাকে মেহেরপুরের জেলা জজ থেকেও বদলি করা হয়েছিল। জেলা জজ থেকে সাড়ে চার বছর আমাকে কর্নার করে রাখা হয়েছিল। দুটি জেলার জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্পেশাল জজ করে রাখা হয়েছিল। আমি তো তখনো ভয় পাইনি। আমার কথা হলো, নিজেকে স্বাধীন রাখতে হলে বদলির ভয় করলে চলবে না। কী আর করবে বাংলাদেশের ভেতরেই তো বদলি করবে, আর তো কিছু না। বিচারক যদি বদলির ভয় বা নিজের লাভ-ক্ষতির চিন্তা করেন তাহলে তিনি স্বাধীন বিচারক হিসেবে কীভাবে কাজ করবেন। করতে পারবেন না। বিচারককে তার নিজের সততার ওপর শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। এখন কিন্তু দেওয়ানি মামলায় আপস করার সুযোগ আছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলা আপসের সুযোগ আছে। এখন যদি এটা ভালোভাবে কার্যকর হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ মামলাই আসবে না। এটা যদি সফল করা যায়, তাহলে মামলার জট অনেক কমে আসবে।
দৈনিক বাংলা: একটি মামলা শেষ করতে বছরের পর বছর লাগে কেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: মামলা শেষ করতে পক্ষগণেরই জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় কোনো না কোনো পক্ষই চায় না, দ্রুত মামলা শেষ হোক। মামলার জট সৃষ্টির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর জন্য শুধু বিচারকরা দায়ী তা বলা যাবে না বরং বাদী-বিবাদী, দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও দায় রয়েছে। একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য কম করে হলেও পাঁচটি পক্ষের সমন্বয় দরকার পড়ে, তবেই মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।
এ ছাড়া বিচারকসংকট রয়েছে বড় আকারে। এত বিশাল মামলার জট দ্রুত কমাতে হলে বিপুলসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। যেটা সরকারের পক্ষে সম্ভব না।
দৈনিক বাংলা: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো যেকোনো বিষয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, কেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এখন কিন্তু পত্রিকা খুললেই দেখা যায় হাইকোর্টের বিভিন্ন সংবাদ বা নির্দেশনা নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে। চোখ মেললেই কোর্ট-কাচারির খবর পাওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভুক্তভোগীকে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক আছে, মানুষ আদালতে এলে প্রতিকার পায়। আবার কিছু সময় দেখি একটা সাধারণ বিষয় নিয়েও মানুষকে হাইকোর্টে আসতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে তাহলে কিন্তু আদালতের ওপর এই চাপ আসে না। তারা সেটি করছে না। অনেক সময় আদালতের নির্দেশের পরও অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয় না। এটা ভালো দিক না।
দৈনিক বাংলা: বিচার বিভাগকে কি আরও শক্তিশালী হতে হবে, নাকি শক্তিশালীই আছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: বিচার বিভাগকে কেউ শক্তিশালী করে দেবে না। বিচার বিভাগকে নিজেকেই শক্তিশালী হতে হবে। একটা আদেশ হওয়ার পর ঝড়ঝাপটা আসতে পারে। সেটা বহন করার মতো বিচারক যদি আমরা হতে পারি তাহলে বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে। বিচারক যদি সেই ঝড়ঝাপটা সইবার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে সেটা হবে না।
দৈনিক বাংলা: বার ও বেঞ্চের সম্পর্ককে বলা হয় একটি পাখির দুটি ডানা। সম্প্রতি বিভিন্ন বারে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে, এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: সর্বজনীনভাবে আমি বলব, সাবলীল সম্পর্ক হ্রাস পেয়েছে। অনেক আগে থেকেই এই সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় বিচারকের দরজায় লাথি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সার্বিকভাবে বলব আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সম্পর্ক অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। আমার বক্তব্য হলো, একজন বিচারক যেহেতু একটু ওপরে বসেন, আইনজীবীরা একটু নিচে দাঁড়ান, এই যে বিচারকরা একটু অগ্রাধিকার স্থানে থাকেন সে জন্য বিচারকদের অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু করা যায় না। সেটি তাদের মাথায় থাকতে হবে। এ ছাড়া আইনজীবীদেরও সহিষ্ণু হতে হবে। দুপক্ষই যদি সহিষ্ণু হয় তাহলে কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরবে না।
আদালতের মর্যাদা কমলে কিন্তু আইনজীবীদেরই মর্যাদা কমবে। এটা তাদের বুঝতে হবে। কোনো বিচারকের ভুল হলে আইনজীবীরা তার ওপরের বিচারককে বলতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট আছে, আইন মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে বলার সুযোগ আছে। কিন্তু তাই বলে স্লোগান দেয়া উচিত না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে পূরণীয় ঘটনা বা অপ্রাপ্তি বলে কিছু আছে কি না?
কৃষ্ণা দেবনাথ: মানিকগঞ্জে একটি অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে পারিনি, এই একটি বিষয় আমার মনে এখনো গেঁথে আছে। আইনজীবীর ভুলের কারণে সেই আসামিকে সাজা দিতে পারিনি। যে কারণে খুব কষ্ট লেগেছিল। কারণ মামলায় আসামি শনাক্ত একটা বড় ব্যাপার। মামলায় বলা হয়েছে, চাঁদের আলোতে আসামিকে দেখা গেছে। কিন্তু পঞ্জিকাতে দেখা গেল সেদিন অমাবস্যা ছিল। তার ওপর আবার সেদিন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আইনজীবী মামলা শক্ত করতে গিয়ে চাঁদের আলোতে দেখেছে বলে বিবরণ দিয়েছেন কিন্তু সেদিন সেটা ছিল না। যে কারণে আসামি শনাক্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরঞ্জিত বিবরণ মূল ঘটনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ ছেলেটি মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করত, সেটি উল্লেখ থাকলেও হতো। অতিরঞ্জিত করার কারণে আসামি বেঁচে যায়। এই ঘটনা আমাকে পীড়া দেয়। তার কারণ চোখের সামনে দেখেছিলাম মেয়েটির ঝলসানো মুখ। কিন্তু তার ন্যায়বিচার আমি দিতে পারিনি।
দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে আপনি কতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এটা বলতে পারব না। তার কারণ, আমি গুনে রাখিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার ব্যাপারে আমি অনেক সতর্ক ছিলাম। আমি দুইয়ে দুইয়ে চার না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সাজা দিইনি। অনেক আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েও আমি স্বস্তি পেয়েছি। তার কারণ অকাট্য দলিল-প্রমাণ ছিল। সব থেকে বড় স্বস্তি পেয়েছি, যখন আমি ঢাকার জেলা জজ ছিলাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফাঁসির আসামিদের সাজা কার্যকর হবে। তখন ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার জন্য শেষ যে স্বাক্ষর দিতে হয়, জেলা জজ হিসেবে সেটা আমি দিয়েছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার কাছে লাল নথি এল, আমি তাতে স্বাক্ষর করলাম। এরপরই টিভিতে দেখলাম কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর শুরু করেছে। ঐতিহাসিক সেই মামলাটিতে শেষ স্বাক্ষর করেছিলাম। এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।
দৈনিক বাংলা: অবসরে কেমন কাটছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: অবসরে একদমই অবসর নেই। আমি রুট (প্রান্তিক) লেভেলের ভিকটিমদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সেটাই শুরু করেছি। দেখা যাক কতটা করতে পারি।
দৈনিক বাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে।
কৃষ্ণা দেবনাথ: আপনাকেও ধন্যবাদ।
দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্দেশে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি ‘মিড-ডে মিল’ আজ গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। যে উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল শিশুদের সুস্বাস্থ্য, ক্লাসে মনোযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা, সেই উদ্যোগই এখন ঢাকা পড়ে গেছে অনিয়মের চাদরে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক দুর্নীতি, নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ আর প্রকাশ্য অর্থ লুটপাটের অভিযোগে তীব্রভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে এই প্রকল্প। পুষ্টির আড়ালে চলা এই বিশৃঙ্খলার আদ্যোপান্ত নিয়ে দৈনিক বাংলার বিশেষ প্রতিবেদন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কতিপয় অসাধু ঠিকাদারের (খাবার সরবরাহকারী) কারণে ভালো এই উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। এর বাইরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনেরও গাফিলতি রয়েছে। স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা ডিম, রুটি ও অন্য খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও পচা বা অখাদ্য ডিম, কোথাও শক্ত ও নিম্নমানের রুটি, আবার কোথাও নির্ধারিত পুষ্টিমান না মেনে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
বর্তমানে ১৫০ উপজেলায় বাস্তবায়িত এই কর্মসূচির তিন বছরের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছর থেকে আরও ৩৪৮ উপজেলায় এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এতে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। মোট শিক্ষার্থী ২ কোটি ১ লাখের বেশি। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৬ লাখের বেশি। ২০২৪ সালে ঝরে পড়ার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা ২০২৩ সালে ছিল ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।
সময়োপযোগী উদ্যোগ: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি শুধু উপস্থিতি বাড়ায় না, শেখার ফলাফল উন্নত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য তিনি সরকারকে সাধুবাদ জানান। তবে খাবারের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। যেহেতু স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য কিনতে হয়, তাই কোনো সিন্ডিকেটের কবলে যেন না পড়ে, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তদারকির ক্ষেত্রে মায়েদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। এই কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা উচিত।
মান নিয়ে অভিযোগ: সরকারি দামে বরাদ্দ বেশি হলেও কোথাও কোথাও ১৪-১৫ টাকায় বানরুটি কেনা হয়। ডিম অনেক আগে থেকেই সেদ্ধ করে রাখা হয়। আবার কলা কাঁচা বা পচাও থাকে।
তালতলী (বরগুনা) : তালতলী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের শিশু শিক্ষার্থীদের পচা ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার বিরুদ্ধে। এতে শিশু শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া এবং শিক্ষায় অগ্রগতি মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ ওই সংস্থা ডিম, রুটি ও কলা সরবরাহ শুরু করেন। কিন্তু শুরুতেই কাঁচা কলা, পচা ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ ওঠে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুদিনের রুটি একসঙ্গে বিদ্যালয়ে দিয়ে যান। মেয়াদ থাকলেও ওই রুটি পচা। এছাড়া কাটা ডিম সরবরাহ করলেও ওই ডিমের মধ্য থেকে অধিকাংশ ডিম পচা। সিদ্ধ করার সময় পচা ডিম ধরা না পরলেও শিশুরা যখন খেতে শুরু করে তখন দুর্গন্ধ বেড়িয়ে আসে। তখন এগুলো খাওয়ার উপযোগী থাকে না।
সরদারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসিন ও মারিয়া জানান, ডিম ও রুটি পচা। খাওয়ার উপযোগী না, তাই ফেলে দিয়েছি।
তারা আরও বলেন, আমরা তো ডিম, রুটি ও কলা সরকারের কাছে খেতে চাইনি। যখন দিয়েছে তা পচা হবে কেনো?
ছাতনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, পচা ডিম ও রুটি না খেয়ে ফেলে দিয়েছি।
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছানো হয়েছিল পচা ও কাঁচা কলা। ফলে উপজেলার অধিকাংশ স্কুল এসব কলা ফিরিয়ে দিয়েছে। মার্চ মাসে পচা ও কাঁচা কলার ছবি–ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। ফলে প্রায় বিদ্যালয়ে বিস্কুট পেলেও সেদিন কলা পায়নি শিক্ষার্থীরা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, ৮-১০টি স্কুলে এ সমস্যা হয়েছে।
এদিকে, নরসিংদীতে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে মিড-ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। গত ২৫ এপ্রিল নরসিংদী শহরের বাসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। ওই সময় বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের খাবারের মান পর্যবেক্ষণ করেন এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ঘুরে দেখেন। খাবারের মান নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, মানোন্নয়ন না হলে কার্যাদেশ বাতিল করা হতে পারে।
পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা বানরুটিতে অস্বাভাবিক গন্ধ সন্দেহ হওয়ায় দুটি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
তখন সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, সারাদেশে মিড-ডে মিলের মান পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে কোনো ত্রুটি না থাকে এবং তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত হয়।
একইদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল খেয়ে আবার ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শিক্ষা কর্মকর্তা। অভিভাবকদের অভিযোগ, সম্প্রতি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে বেশ কয়েকবার শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে।
বাপ্পি রায়হান নামের এক অভিভাবক জানান, তার সন্তান ২২ এপ্রিল বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল খেয়ে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বাড়িতে রয়েছে। একই খাবার খেয়ে পরে আরও ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে বলে শুনেছি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিনের মতো ২৫ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে তাদের পাউরুটি, দুধ, কলা ও ডিম বিতরণ করা হয়। এগুলো খাওয়ার কিছুক্ষণ পর একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের বমি, তীব্র পেটব্যথা, মাথা ঘোরা ও চোখে জ্বালাপোড়া শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে স্কুলে গিয়ে দেখি- চারদিকে শুধু শিশুদের আহাজারি। কেউ বারবার বমি করছে, কেউ তীব্র পেটব্যথায় মাটিতে গড়াগড়ি করছে। কারও মাথা ঘোরায় ঠিক মতো দাঁড়াতে পারছে না। পুরো বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চাতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. মেফতাহুদ্দৌলা বলেন, গাক-এর দেওয়া খাবার খাওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের সবারই পেটে ব্যথা ও বমি হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসেন খান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এতে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরও আগে ৮ এপ্রিল মাদারীপুর সদর উপজেলায় এই খাবার খেয়ে উপজেলার ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ১৭ শিক্ষার্থীকে দ্রুত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, বর্তমান পদ্ধতিতে ঝুঁকি রয়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি জোরদার করা গেলে মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। এ ছাড়া অভিযোগের কারণে বানরুটি, কলা ও ডিম পরিবর্তনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বলছে, প্রথম দিকে সব খাবার দেওয়া হতো, এখন খাবার কম দেওয়া হয়। বিশেষ করে শুধু বানরুটি যেদিন দেওয়া হয়, সেদিন খেতে কষ্ট হয়।
কঠোর অবস্থানে সরকার: মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে গতকাল সোমবার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম, গাফিলতি বা মানহীনতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্ব।
প্রতিমন্ত্রী বৈঠকে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনুমোদিত নমুনা অনুযায়ী নির্ধারিত প্যাকেজিং কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হবে না। সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পণ্য সরবরাহকারী চালক এবং জাতীয় পরিচয়পত্রধারী ব্যক্তি একই হতে হবে এবং সরবরাহের সময় বাধ্যতামূলকভাবে পরিচয় যাচাই করা হবে।
তিনি যোগ করেন, কোনো অবস্থাতেই সাব-কন্ট্রাক্ট বা উপঠিকাদারি দেওয়া যাবে না এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। মিড-ডে মিল কার্যক্রমের মান ও গুণগতমান নিশ্চিত করতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতি মাসে দুইবার আকস্মিকভাবে কারখানা পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খাদ্য নিরাপত্তা ও সেবার মান তদারকিতে বিদ্যালয় পর্যায়ে মায়েদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের অভিভাবক কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য এবং তিনজন অভিভাবক মা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, মিড-ডে মিলের প্রজেক্ট ডিরেক্টরসহ অন্য কর্মকর্তারা।
এর আগে মিড-ডে মিলের খাবার গ্রহণ ও বিতরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি, শৈথিল্য বা অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বলা হয়েছে, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পচা বানরুটি, নষ্ট ডিম, ছোট ও পচা কলা বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে মানসম্মত খাদ্য সরবরাহে ঘাটতির কারণে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়াসহ কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যের মান নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়ামাত্রই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খাবারের মান রক্ষায় আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।
প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার তালতলী(বরগুনা), আনোয়ারা (চট্টগ্রাম), নরসিংদী, মাদারীপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি।
আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে।
সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাস করা হয়েছে। আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়েছি। অনেক পর নির্বাচিত সরকার এডিপি পাস করেছে এবার এডিপি বাস্তবায়ন বাড়বে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হারও বাড়বে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের উন্নয়ন বাজেট সাজানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ছয় হাজার আট কোটি টাকা। তবে এবারের এডিপির সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে অস্বাভাবিক থোক বরাদ্দ, যা মোট উন্নয়ন বাজেটের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।
পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্র অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের এডিপির মোট আকার ধরা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বা জিওবি অংশ এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের জন্য আরও আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকা যুক্ত হলে মোট উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকারও বেশি।
এডিপিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সরাসরি প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ এখনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে থাকছে, যা নিয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
কার্যপত্রে দেখা যায়, বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা খাতে রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে আরো ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে ৫৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এ ধরনের অনির্দিষ্ট বরাদ্দ এবার অনেক বেশি। কিন্তু একই বিভাগের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি। একইভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ পাঁচ হাজার ৪৮ কোটি টাকা হলেও থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগেও তিন হাজার ৭৯ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, যার বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগও বড় বরাদ্দ পাচ্ছে।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবারের এডিপিতে বিশেষ বরাদ্দও রাখা হয়েছে। সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতের ১৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় কৃষক কার্ডের জন্য রাখা হয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মানী বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে আরও এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরের এডিপিতে মোট এক হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৪৩টি প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি এক হাজার ২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্পও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে আগামী জুনের মধ্যে ২২৩টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এত বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার হয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হার ৩৩ শতাংশের সামান্য বেশি এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এই বাস্তবতায় আরো বড় এডিপি বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এক মাসের ব্যবধানে সরকারি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ১৯ টাকা হারে বাড়িয়েছে সরকার। এর আগে গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝিতেও পণ্যটির দাম লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা হারে বাড়ানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে দুই মাসের ব্যবধানে ফার্নেস অয়েলের দাম বেড়েছে ৬১ শতাংশ।
সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি ফার্নেস অয়েলের মূল্য সমন্বয় করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সোমবার রাত ১২টা থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়।
এতে বলা হয়, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্লাটস রেটের গড় এবং মে মাসে মাসে আমদানি করা ক্রুড অয়েলের এফওবি মূল্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, বিপিসির সরবরাহ করা ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করা হলো।
বর্তমানে দেশে মোট ১৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৫৬টি ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে যেগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৫৪১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরকারি ১৫টি এবং বেসরকারি ৪১টি। বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে ফার্নেস তেল আমদানি করে থাকে।
এক দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বহুল আলোচিত মামলার তদন্ত শেষ হয়নি এখনো। বারবার সময় নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি সিআইডি। এ নিয়ে মামলাটির প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ মোট ৯৫ বার পেছাল।
ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালতে সোমবার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে এদিনও মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। পরে আদালত আগামী ২ জুলাই নতুন দিন ঠিক করে দেয় বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সুইফট কোড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। ওই অর্থ ফিলিপাইনে স্থানান্তর করা হয়।
তৎকালীন সময়ে দেশের ভেতরের একটি চক্রের সহায়তায় অর্থ পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পরে একই বছরের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের ওই মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি।
মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তবে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার সময় নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।
চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে ফিলিপাইনের তিনটি ক্যাসিনোতে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ পৌঁছে যায়। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপাইন সরকার বাংলাদেশকে ফেরত দিলেও বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এখনো উদ্ধার হয়নি।
ঘটনার তিন বছর পর ২০১৯ সালে অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে আরসিবিসি মামলাটি খারিজের আবেদন করে।
২০২২ সালের এপ্রিলে আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা খারিজ করে দেয়। রায়ে বলা হয়, ওই আদালতের এ মামলায় পর্যাপ্ত এখতিয়ার নেই।
এরপর বাংলাদেশ বাংকের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের ‘এখতিয়ারভুক্ত’ আদালতে মামলা করা হয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল।
র্যাবকে এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচালনার জন্য নতুন আইন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। সেই আইনের অধীনে একটি এলিট ফোর্স থাকবে, যারা নতুন প্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। নতুন বাহিনীটি র্যাবের বর্তমান কাঠামোর সংস্কার হতে পারে, আবার নতুন নামেও গঠিত হতে পারে। এ বিষয়ে সরকার এখনো চিন্তাভাবনা করছে। তবে যেকোনো ক্ষেত্রেই বাহিনীর জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় সদরদপ্তরে র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, অথরিটি থাকবে, রেসপন্সিবিলিটিও থাকবে। একই সঙ্গে সেই বাহিনীর ট্রান্সপারেন্সি ও অ্যাকাউন্টিবিলিটি নিশ্চিত করা হবে আইনের মাধ্যমে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো উচিত নয়। অতীতের রাজনৈতিক শাসনামলে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহৃত হওয়ায় সেগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি আগামী দিনে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে র্যাব তার সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে র্যাবের জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার অধীনে একটি এলিট ফোর্স হিসেবে একটি বাহিনী পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, র্যাবের নাম পরিবর্তন করা হবে কিনা সরকার সেটি বিবেচনা করছে। এছাড়া এলিট ফোর্স পরিচালনায় নতুন আইন হবে কি না কিনা— তা এখনো সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে যেকোনো এলিট ফোর্সের ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা হবে।
চলতি অর্থবছরের নবম মাস মার্চে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি কমেছে ২ হাজার ১৩৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। কিন্তু অর্থবছরের শেষ মাসগুলোতে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ফলে নতুন বিক্রির তুলনায় আগের সঞ্চয়পত্রের আসল ও সুদ পরিশোধে সরকারকে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
জানুয়ারিতে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি আগের আসল-সুদ পরিশোধের তুলনায় ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেশি ছিল। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে নেতিবাচক ধারা দেখা যায়। একক মাস হিসেবে শুধু ফেব্রুয়ারিতে আসল ও সুদ বাবদ অতিরিক্ত ১ হাজার ১৬৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি নেতিবাচক ছিল। ওই সময়ে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছিল।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি সহায়তায় আরও ৩৫ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। গত শুক্রবার এ অর্থায়ন অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি বিশ্বব্যাংকের ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর অতিরিক্ত অর্থায়নের অংশ।
বিশ্বব্যাংক বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ ঝুঁকি ও মূল্য অস্থিরতা বেড়েছে। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত জ্বালানি ও সার সরবরাহে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে, যার সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলাকে এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধে সহায়তা করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সহায়তা পেট্রোবাংলাকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সংগ্রহে সহায়তা করবে। ফলে ব্যয়বহুল স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী হবে।
অর্থায়ন কাঠামোর আওতায় আইডিএ পেমেন্ট গ্যারান্টি-সমর্থিত একটি অর্থায়ন সুবিধা থাকবে। এর মাধ্যমে স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট ও স্বল্পমেয়াদি ঋণসুবিধার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির অর্থপ্রদানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান ডিভিশনাল ডিরেক্টর জিন পেসমে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে এলএনজির দাম বেড়েছে এবং সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এটি বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে। এই সহায়তা বাংলাদেশকে স্থিতিশীল এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিতে সহায়তা করবে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প কার্যক্রম ও কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ওলায়িঙ্কা এডেবিরি বলেন, অন্যান্য জ্বালানির তুলনায় গ্যাস অপেক্ষাকৃত কম দূষণকারী ও সাশ্রয়ী জ্বালানি। নিরবচ্ছিন্ন এলএনজি সরবরাহ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তি শক্তিশালী করবে এবং ব্যয়বহুল তরল জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আর্থিক সাশ্রয়ও করবে।
এর আগে, বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ৩৫ কোটি ডলারের মূল প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ১৮ জুন অনুমোদন দেয় বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। প্রকল্পটির মেয়াদ চলবে ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ঈদে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে টানা ১৩ দিন দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এ বিষয়ে গত ১৩ মে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো।
সরকারের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঈদের দিনসহ ঈদের আগের সাত দিন এবং পরের পাঁচ দিন ফিলিং স্টেশনগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হবে।
এদিকে, রোজার ঈদের মতো এবারও এ ঈদে দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সরকারের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি থাকবে। তবে ঈদের ছুটির আগে ২৩ ও ২৪ মে সরকারি অফিস খোলা থাকবে বলে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার সংবাদপত্রে পাঁচ দিন ছুটি থাকবে। আজ সোমবার সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরীর সই করা ছুটির নোটিশে বলা হয়, নোয়াবের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে, সংবাদপত্রে ২৬ থেকে ৩০ মে ঈদুল আজহার ছুটি উদ্যাপন করা হবে। সে হিসাবে ২৭ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না।
এর আগে, দেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ জানালেন, দেশের আকাশে এরই মধ্যে দেখা গেছে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ। ফলে আগামী ২৮ মে সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
এর আগেও, গতকাল সৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়। এ ছাড়া তুরস্ক, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইসহ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে জিলহজ মাসের শুরু এবং ঘোষণা করেছে ঈদুল আজহার তারিখ। এসব দেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে ২৭ মে। ইসলামি চন্দ্রবর্ষের শেষ মাস জিলহজের ১০ তারিখে পালিত হয় ঈদুল আজহা।
এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এসব ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ছুটি পাবেন। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী শনিবার দেশের তফসিলি ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা খোলা থাকবে।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এক-এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ গ্রেপ্তার দেখানোর এ আদেশ দিয়েছেন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আজ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। দুদকের আইনজীবী মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের একটি বাড়ি থেকে গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৪ মার্চ পল্টন থানার মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে, ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের এবং ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর মিরপুর থানার দেলোয়ার হত্যা মামলায় রিমান্ডের পর ৪ মে মিরপুর থানার বিপ্লব শেখ হত্যা মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।
বিভিন্ন মামলায় মোট আট দফা রিমান্ডে নেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ১১ মে অর্থ পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘একটি আধুনিক জনবান্ধব আইশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস। এই আস্থা অর্জন অটুট রাখা আমাদের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হবে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক এবং মানবিক মূল্যবোধ সমৃদ্ধ।’
সোমবার দুপুরে র্যাব সদরদপ্তরে বাহিনীটির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আমাদের সকল কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘দায়িত্ব পালনে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
পুলিশপ্রধান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র্যাব ফোর্সেস সন্ত্রাসবাদ দমন, বনদস্যু, জলদস্যু প্রতিরোধ, মাদক নির্মূল, চোরাচালান রোধ এবং কিশোর অপরাধ দমনসহ বিভিন্ন ধরনের সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করে আসছে।’
তিনি বলেন, ‘র্যাব তাদের পেশাদারিত্ব ও কৌশলগত দক্ষতার সাথে এটি কার্যকর বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।’
আলী হোসেন বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, র্যাব ভবিষ্যতেও তাদের অর্জিত সুনাম অক্ষুন্ন রেখে আরও উন্নত আধুনিক জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আমি তাদের পেশাগত সাফল্য, সুস্বাস্থ্য, সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি।’
স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা শেষে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সোমবার (১৮ মে) সকালে তিনি দেশে পৌঁছান। বঙ্গভবনের প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ৯ মে চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে যান রাষ্ট্রপতি। বিমানবন্দরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান।
রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এবার তিনি যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
রাজধানী ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সচিবালয়ে আজ স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় ঢাকা শহরের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরীতে পরিণত করতে হলে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে নগরবাসী দ্রুত এর সুফল ভোগ করতে পারে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।