মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
কৃষ্ণা দেবনাথের সাক্ষাৎকার

অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্ক 

কৃষ্ণা দেবনাথ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৯ মার্চ, ২০২৩ ১৬:১২
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৩ ০৮:১০

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৮১ সালের ৮ ডিসেম্বর মাত্র ২৬ বছর বয়সে মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচারিক জীবন শুরু করেন। তারপর চার দশকের বিচারিক কর্মজীবন পার করে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিক বিচারিক কাজ থেকে অবসরে যান। সম্প্রতি তিনি দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আব্দুল জাব্বার খানকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তার ৪১ বছরের বিচারিক জীবনের কথা।

দৈনিক বাংলা: অবসরকালীন জীবন কেমন কাটছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: ভালোই কাটছে। তবে ব্যস্ততা কমেনি। মনে হয় আরও বাড়ছে। অবসরে অবসর কোথায়? হা হা…

দৈনিক বাংলা: স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় কোনো নারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যাত্রা শুরুর পর সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবসরে গেলেন। সব মিলিয়ে একজন নারীর বিচারক হিসেবে দীর্ঘ এই পথচলা কতটা সহজ ছিল?

কৃষ্ণা দেবনাথ: দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়, তখনই কিন্তু বাংলাদেশে মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসতে পারেনি। নারীদের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রথমেই আমরা পুরুষদের থেকে তিন বছর পিছিয়ে যাই। দেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরুর তিন বছর পরে নারীদের যাত্রার পরও আজকে নারীদের অবস্থান কোথায় সেটা দেখতে হবে। আমি নারী বিচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি ১৯৮১ সালে। প্রথম এসেছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, দ্বিতীয় যাত্রা শুরু করেছিলেন বিচারপতি জিনাত আরা। আর তৃতীয় হিসেবে যুক্ত হই আমি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো, আমরা তিনজনই আপিল বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছি। এটা ভাবতে ভালো লাগে।

নারী হিসেবে বিচারিক জীবনের তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে নারী বিচারকদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়, তাদের সাংসারিক জীবন নিয়ে। কেননা, এটা বদলির চাকরি। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলির কারণে সংসারটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা অনেক কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তো ছিলই।

দৈনিক বাংলা: সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হবেন এমন স্বপ্ন কি বিচারিক জীবনের শুরুতে কখনো দেখেছিলেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: না, এমনটি কখনোই ভাবিনি। এমনকি হাইকোর্টেও থাকাকালীন ভাবিনি যে আমি আপিল বিভাগে যাব। স্বপ্নও ছিল না। তবে আমার স্বপ্ন ছিল আমি জজ হব।

দৈনিক বাংলা: অনেক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরাই এখন প্রায় বেঁচে নেই, আপনি কি মনে করেন এখন নতুন যারা আসছেন, তারা সেই খ্যাতিম্যান আইনজীবীদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: দেখেন এটা শুধু আইনজীবীদের মধ্যে নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। সবখানেই অবক্ষয়। ধরেন আমার বাবা যে পরিমাণ লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করেছেন আমি তো মনি করি না, আমার সেটুকু আছে। কিন্তু আমি আশাবাদী নতুন প্রজন্ম থেকে অনেক ট্যালেন্ট উঠে আসছে, আসবে। একসময় নামকরা আইনজীবীরা ছিলেন। তারপর তাদের উত্তরসূরিরা এসেছেন। ঠিক এমনি করেই নতুনরা আইনজীবী হয়ে উঠবেন। এখন যারা নবীন আইনজীবী তাদের জন্য একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার এটা মোক্ষম সময়। তার কারণ জায়গাটা এখন অনেক খালি, সবকিছু প্রস্তুত হয়ে আছে, এখন দরকার শুধু অধ্যবসায়ের।

দৈনিক বাংলা: আপনার অবসর জীবনের শেষ দিনে বলেছিলেন, বিচারক নিজেকে স্বাধীন মনে না করলে সুবিচার সম্ভব না। এর মানে আপনি কী বুঝিয়েছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এই বাক্যটি আমি শুধু কথার কথা হিসেবে বলিনি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেই বলেছি। এখনো বিশ্বাস করি, একজন বিচারক নিজেকে যদি স্বাধীন মনে না করেন, তাহলে কাগজে-কলমে স্বাধীনতা দিয়েই কী লাভ। একজন বিচারক নিজের বিবেককে প্রশ্ন করবেন তিনি নিজে স্বাধীন কি না। কাগজে-কলমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে মাত্র কিছু বছর আগে। তার আগে আমরা বিচারকরা তো নিজেদের পরাধীন মনে করিনি, বিচারের কাজটি কিন্তু স্বাধীনভাবেই করেছি।

আমি মনে করি, একজন বিচারক মনেপ্রাণে নিজেকে স্বাধীন মনে করেন কি না, সেটাই বড় কথা। আমি জোর গলায়, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি ৪১ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পদে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে তো আমার কাছে কোনো তদবির আসেনি। নিজেকেই সেই জায়গা তৈরি করে নিতে হবে। আমি যখন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন অনেক জুনিয়র বিচারক বলতেন তদবির আসে। আমি তখন তাদের বলেছি, কই আমার কাছে তো কোনো তদবির আসে না। তদবির যাতে না আসে সেই পরিবেশ আপনার নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। বিচারকের স্বাধীনতার বিষয়টি নিজের সততা দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।

তদবির না শুনে একবার এক ব্যক্তিকে জামিন দিইনি বলে সেই সময় আমাকে মেহেরপুরের জেলা জজ থেকেও বদলি করা হয়েছিল। জেলা জজ থেকে সাড়ে চার বছর আমাকে কর্নার করে রাখা হয়েছিল। দুটি জেলার জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্পেশাল জজ করে রাখা হয়েছিল। আমি তো তখনো ভয় পাইনি। আমার কথা হলো, নিজেকে স্বাধীন রাখতে হলে বদলির ভয় করলে চলবে না। কী আর করবে বাংলাদেশের ভেতরেই তো বদলি করবে, আর তো কিছু না। বিচারক যদি বদলির ভয় বা নিজের লাভ-ক্ষতির চিন্তা করেন তাহলে তিনি স্বাধীন বিচারক হিসেবে কীভাবে কাজ করবেন। করতে পারবেন না। বিচারককে তার নিজের সততার ওপর শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। এখন কিন্তু দেওয়ানি মামলায় আপস করার সুযোগ আছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলা আপসের সুযোগ আছে। এখন যদি এটা ভালোভাবে কার্যকর হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ মামলাই আসবে না। এটা যদি সফল করা যায়, তাহলে মামলার জট অনেক কমে আসবে।

দৈনিক বাংলা: একটি মামলা শেষ করতে বছরের পর বছর লাগে কেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: মামলা শেষ করতে পক্ষগণেরই জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় কোনো না কোনো পক্ষই চায় না, দ্রুত মামলা শেষ হোক। মামলার জট সৃষ্টির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর জন্য শুধু বিচারকরা দায়ী তা বলা যাবে না বরং বাদী-বিবাদী, দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও দায় রয়েছে। একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য কম করে হলেও পাঁচটি পক্ষের সমন্বয় দরকার পড়ে, তবেই মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।

এ ছাড়া বিচারকসংকট রয়েছে বড় আকারে। এত বিশাল মামলার জট দ্রুত কমাতে হলে বিপুলসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। যেটা সরকারের পক্ষে সম্ভব না।

দৈনিক বাংলা: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো যেকোনো বিষয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, কেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এখন কিন্তু পত্রিকা খুললেই দেখা যায় হাইকোর্টের বিভিন্ন সংবাদ বা নির্দেশনা নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে। চোখ মেললেই কোর্ট-কাচারির খবর পাওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভুক্তভোগীকে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক আছে, মানুষ আদালতে এলে প্রতিকার পায়। আবার কিছু সময় দেখি একটা সাধারণ বিষয় নিয়েও মানুষকে হাইকোর্টে আসতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে তাহলে কিন্তু আদালতের ওপর এই চাপ আসে না। তারা সেটি করছে না। অনেক সময় আদালতের নির্দেশের পরও অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয় না। এটা ভালো দিক না।

দৈনিক বাংলা: বিচার বিভাগকে কি আরও শক্তিশালী হতে হবে, নাকি শক্তিশালীই আছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: বিচার বিভাগকে কেউ শক্তিশালী করে দেবে না। বিচার বিভাগকে নিজেকেই শক্তিশালী হতে হবে। একটা আদেশ হওয়ার পর ঝড়ঝাপটা আসতে পারে। সেটা বহন করার মতো বিচারক যদি আমরা হতে পারি তাহলে বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে। বিচারক যদি সেই ঝড়ঝাপটা সইবার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে সেটা হবে না।

দৈনিক বাংলা: বার ও বেঞ্চের সম্পর্ককে বলা হয় একটি পাখির দুটি ডানা। সম্প্রতি বিভিন্ন বারে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে, এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: সর্বজনীনভাবে আমি বলব, সাবলীল সম্পর্ক হ্রাস পেয়েছে। অনেক আগে থেকেই এই সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় বিচারকের দরজায় লাথি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সার্বিকভাবে বলব আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সম্পর্ক অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। আমার বক্তব্য হলো, একজন বিচারক যেহেতু একটু ওপরে বসেন, আইনজীবীরা একটু নিচে দাঁড়ান, এই যে বিচারকরা একটু অগ্রাধিকার স্থানে থাকেন সে জন্য বিচারকদের অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু করা যায় না। সেটি তাদের মাথায় থাকতে হবে। এ ছাড়া আইনজীবীদেরও সহিষ্ণু হতে হবে। দুপক্ষই যদি সহিষ্ণু হয় তাহলে কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরবে না।

আদালতের মর্যাদা কমলে কিন্তু আইনজীবীদেরই মর্যাদা কমবে। এটা তাদের বুঝতে হবে। কোনো বিচারকের ভুল হলে আইনজীবীরা তার ওপরের বিচারককে বলতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট আছে, আইন মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে বলার সুযোগ আছে। কিন্তু তাই বলে স্লোগান দেয়া উচিত না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে পূরণীয় ঘটনা বা অপ্রাপ্তি বলে কিছু আছে কি না?

কৃষ্ণা দেবনাথ: মানিকগঞ্জে একটি অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে পারিনি, এই একটি বিষয় আমার মনে এখনো গেঁথে আছে। আইনজীবীর ভুলের কারণে সেই আসামিকে সাজা দিতে পারিনি। যে কারণে খুব কষ্ট লেগেছিল। কারণ মামলায় আসামি শনাক্ত একটা বড় ব্যাপার। মামলায় বলা হয়েছে, চাঁদের আলোতে আসামিকে দেখা গেছে। কিন্তু পঞ্জিকাতে দেখা গেল সেদিন অমাবস্যা ছিল। তার ওপর আবার সেদিন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আইনজীবী মামলা শক্ত করতে গিয়ে চাঁদের আলোতে দেখেছে বলে বিবরণ দিয়েছেন কিন্তু সেদিন সেটা ছিল না। যে কারণে আসামি শনাক্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরঞ্জিত বিবরণ মূল ঘটনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ ছেলেটি মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করত, সেটি উল্লেখ থাকলেও হতো। অতিরঞ্জিত করার কারণে আসামি বেঁচে যায়। এই ঘটনা আমাকে পীড়া দেয়। তার কারণ চোখের সামনে দেখেছিলাম মেয়েটির ঝলসানো মুখ। কিন্তু তার ন্যায়বিচার আমি দিতে পারিনি।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে আপনি কতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এটা বলতে পারব না। তার কারণ, আমি গুনে রাখিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার ব্যাপারে আমি অনেক সতর্ক ছিলাম। আমি দুইয়ে দুইয়ে চার না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সাজা দিইনি। অনেক আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েও আমি স্বস্তি পেয়েছি। তার কারণ অকাট্য দলিল-প্রমাণ ছিল। সব থেকে বড় স্বস্তি পেয়েছি, যখন আমি ঢাকার জেলা জজ ছিলাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফাঁসির আসামিদের সাজা কার্যকর হবে। তখন ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার জন্য শেষ যে স্বাক্ষর দিতে হয়, জেলা জজ হিসেবে সেটা আমি দিয়েছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার কাছে লাল নথি এল, আমি তাতে স্বাক্ষর করলাম। এরপরই টিভিতে দেখলাম কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর শুরু করেছে। ঐতিহাসিক সেই মামলাটিতে শেষ স্বাক্ষর করেছিলাম। এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।

দৈনিক বাংলা: অবসরে কেমন কাটছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: অবসরে একদমই অবসর নেই। আমি রুট (প্রান্তিক) লেভেলের ভিকটিমদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সেটাই শুরু করেছি। দেখা যাক কতটা করতে পারি।

দৈনিক বাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে।

কৃষ্ণা দেবনাথ: আপনাকেও ধন্যবাদ।


নির্বাচিত

এক লাফে ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২২৩ টাকা 

* নতুন দর ২ হাজার ৬০ টাকা * আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর কারণে নতুন দাম সমন্বয় * আগেই বেশি দামে বিক্রি, এখন ব্যয় আরও বাড়ার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রান্নার গ্যাসের বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই ভোক্তাদের ওপর নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানেই ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এক লাফে ২২৩ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে এখন থেকে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহককে গুনতে হবে ২ হাজার ৬০ টাকা। আগে এর দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর কারণে নতুন এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

সোমবার (২ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। তবে নির্ধারিত দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ ও বিক্রয়মূল্য নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, আগের নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি বিক্রির অভিযোগ ছিল। ফলে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দুই মাসে বেড়েছে প্রায় ৫০০ টাকা: এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাত্র দুই মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৪৭৫ টাকা। গত সেপ্টেম্বরে ১২ কেজি এলপিজির নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অক্টোবরে তা ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়। নভেম্বরের শুরুতে নতুন করে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে রান্নার গ্যাসের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা ও হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতেও বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে।

কমিশন বাড়ানোর প্রভাব: বিইআরসির নতুন মূল্য সমন্বয়ে শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের দর নয়, সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কমিশনও বাড়ানো হয়েছে। আমদানিকারকদের মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ, অপারেটরের প্ল্যান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ ১২ কেজি সিলিন্ডারে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ডিলারদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় বৃদ্ধিও চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যে প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে শুধু সিলিন্ডার গ্যাস নয়, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে প্রতি লিটারের দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।

সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু সংকটের অভিযোগ: এলপিজির দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে টনপ্রতি দাম ৬৪ ডলার বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পাঁচটি কোম্পানি গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এলপিজি বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দেয়। নতুন দামে বিক্রির উদ্দেশে তারা হাজার হাজার টন গ্যাস মজুত করে রেখেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আমদানির পরিমাণে বড় ধরনের ঘাটতি না থাকায় বাজারে সরবরাহ সংকটের যৌক্তিক কারণ থাকার কথা নয় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার তথ্যের পরও বাজারে সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগে নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে ভোক্তারা জিম্মি হয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি গ্যাসের দামে বড় ব্যবধান: গত ২৯ অক্টোবর এলপিজির মূল্য নির্ধারণ নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দামের বড় ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বেসরকারি ১২ কেজির সিলিন্ডার যেখানে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় বিক্রির কথা, সেখানে সরকারি ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা। অথচ বাজারে সরকারি গ্যাসের সরবরাহ ও প্রাপ্যতা নিয়েও ভোক্তাদের অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দামের এই বড় ব্যবধান বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলছে। কালোবাজারি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের বিষয়েও কার্যকর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।

জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি: এর আগেও এলপিজি বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খাতটিতে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সে সময় আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না থাকলে বাজারে অসাধু চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো বেসরকারি এলপিজির মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন জানানো হয়েছিল, সৌদি আরামকোর ঘোষিত আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে এলপিজির ভিত্তিমূল্য সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি জাহাজভাড়া, আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে গণশুনানির মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে।

সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি মাসে এলপিজির দাম ঘোষণা করে আসছে কমিশন। তবে নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা, নির্ধারিত দামে বিক্রি কার্যকর করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যথায় আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির চাপের সঙ্গে স্থানীয় বাজারের অস্থিরতা মিলিয়ে ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।


নির্বাচিত

ডিসেম্বরেই চূড়ান্ত হতে পারে নতুন মজুরি কাঠামো

* বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক, উৎপাদন সচল রাখায় গুরুত্বারোপ * শ্রমিকদের রুটি-রুজির স্বার্থ সংরক্ষণে সব পদক্ষেপ নেবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * শিগগিরই মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা, কাজে ফিরছেন সাভার-আশুলিয়ার শ্রমিকরা * সহিংসতায় বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে পোশাকশিল্পের মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠনের পর শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে দেখা গেছে। নবগঠিত বোর্ডের প্রথম সভা শিগগিরই হওয়ার কথা রয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধিদের আশা, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে পোশাকশিল্পের মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং শিল্পের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে শ্রমিকবান্ধব ও শিল্পবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের কল্যাণ এবং রুটি-রুজির স্বার্থ সংরক্ষণে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। কোনো শিল্পকারখানা যেন বন্ধ না থাকে এবং কোনো শ্রমিক যেন কর্মহীন হয়ে না পড়েন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

দ্রুত কার্যক্রম শুরু করবে মজুরি বোর্ড: শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ছয় সদস্যের বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে।

বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং স্বতন্ত্র সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ ও আনোয়ার হোসেন।

বোর্ডটি পোশাকশিল্পের বিভিন্ন গ্রেডের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নাম পাওয়ার পর দ্রুত বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। শিগগিরই প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। শ্রমিকদের দাবি ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরার জন্য মজুরি বোর্ডই যথাযথ জায়গা। তাই উৎপাদন বন্ধ, সড়ক অবরোধ কিংবা সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করা উচিত।

ডিসেম্বরের মধ্যে মজুরি চূড়ান্তের প্রত্যাশা: নবগঠিত মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন। সরকার দ্রুত বোর্ড গঠন করায় এখন শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের প্রস্তাব তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।

নতুন মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে বিভিন্ন অঙ্কের প্রস্তাব রয়েছে। কেউ ২৭ হাজার, কেউ ৩০ হাজার, কেউ ৩২ হাজার আবার কেউ ৩৭ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, কারখানাভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন এবং সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সম্মিলিত প্রস্তাব তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।

বাবুল আখতার বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে প্রতিনিধিরা বোর্ডে জোরালো দাবি তুলবেন। তবে উৎপাদন সচল রেখেই দাবি আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, সংশোধিত মজুরি কাঠামো আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস, টেক্সটাইল অ্যান্ড লেদার ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ মাসিক ন্যূনতম মজুরি ২৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা দ্রুত বৈঠক আয়োজন এবং আলোচনার মাধ্যমে নতুন মজুরি নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

কাজে ফিরছেন সাভার-আশুলিয়ার শ্রমিকরা: মজুরি বোর্ড গঠনের সরকারি উদ্যোগে সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রবেশ করে কাজে যোগ দিতে দেখা গেছে। শ্রমিকনেতারাও নতুন বোর্ডের মাধ্যমে দাবি আদায়ের আশ্বাস দিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজয়নগরের শ্রম ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাবুল আখতার বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে তাদের প্রতিনিধিরা কাজ করবেন। তাই শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণের পরিবর্তে তাদের কর্মসংস্থানই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আখতারও কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ সময়োপযোগী। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার বলেন, প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি পর্যালোচনার উদ্যোগ শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সহিংসতায় বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ: সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে প্রবেশ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও কারখানায় ভাঙচুরের সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির সম্পর্ক নেই। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ ও অন্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ শ্রমিক বা শ্রমিকনেতা গ্রেপ্তার হয়ে থাকলে তাদের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান।

শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান এবং পুলিশ সদর দপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

উৎপাদন সচল রাখার ওপর গুরুত্ব: সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হয়। বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং সংসদ সদস্য ও শ্রমিক নেতা শিমুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মোটরসাইকেল চালকদের জন্য আসছে সুখবর

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন সুখবর আসছে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য। মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট স্থাপন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিগত জটিলতা দূর করতে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করেছে সরকার। ফলে মোটরসাইকেলের কাঠামোগত ভিন্নতা বিবেচনায় নিয়ে সামনে নম্বরপ্লেট স্থাপনের পথ আরও সুগম হলো।

গত রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সংশোধনী আনা হয়েছে এবং সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সংশোধিত বিধিমালায় যা থাকছে এক লাইনে লেখার সুযোগ: প্রচলিত বিন্যাসের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এক লাইনে লেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। এক লাইনে লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহার করা যাবে। বিআরটিএকে ক্ষমতা প্রদান প্রসঙ্গে যা থাকছে, মোটরসাইকেলের নকশা ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার, অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম ও যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের আকার নির্ধারণের ক্ষমতা বিআরটিএকে দেওয়া হয়েছে।

পরিমাপ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন সংশোধন আনা হয়েছে। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ নম্বরপ্লেটের চুম্বক অংশে ফাঁকা জায়গা, দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানের দৈর্ঘ্য এবং দ্বিতীয় লাইনে সংখ্যাগুলোর মধ্যবর্তী হাইফেনের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করতে পারবে। হঠাৎ করে কেন এই সংশোধন তা বিস্তারিত তুলে ধরেছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। অনেক মডেলের ক্ষেত্রে প্রচলিত আকারের নম্বরপ্লেট স্থাপন করা কঠিন ছিল। এই বাস্তব অসুবিধা দূর করতেই কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করা হলো।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ার কারণে সিসিটিভি ও স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহন পর্যবেক্ষণে সামনের নম্বরপ্লেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সড়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলকেও ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা জরুরি হয়ে পড়েছিল।

তবে কোনো ধরনের মোটরসাইকেলে কী আকারের ও বিন্যাসের নম্বরপ্লেট স্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে বিআরটিএ’র পরবর্তী নির্দেশনা দেবে বলে জানা যায়।


নির্বাচিত

২০২৭ সালের সরকারি ছুটি ২৯ দিন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৭ সালের জন্য সাধারণ ও নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে মোট ২৯ দিনের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই বৈঠকে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইনের সংশোধনীর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৭ সালের জন্য অনুমোদিত সরকারি ছুটির তালিকায় জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি রাখা হয়েছে। তবে এই ১৫ দিনের মধ্যে চার দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার)। অন্যদিকে বাংলা নববর্ষ ও ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে আরও ১৪ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে তিন দিন সাপ্তাহিক ছুটি (একটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার) রয়েছে।

ফলে ১৫ দিনের সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিনের নির্বাহী আদেশের ছুটি মিলিয়ে মোট ২৯ দিন হলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়ে যাওয়া সাত দিন বাদ দিলে আগামী বছর কার্যকর সরকারি ছুটি হবে মোট ২২ দিন। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীরা তাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি বা অনুরূপ উৎসবে দুই দিন ঐচ্ছিক ছুটি পাবেন।

ছুটির তালিকার পাশাপাশি একই বৈঠকে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তুতকৃত ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে জারি করা অধ্যাদেশটিকে সংবিধানের নিয়ম অনুসারে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করার লক্ষ্যে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে এই খসড়াটি অনুমোদন দেয়া হয়।

এ ছাড়া সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সম-আচরণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

নতুন এই সংশোধনীতে দেশীয় শিল্প সংরক্ষণ, নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী এবং সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধার পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও বিকল্প ক্রয় ব্যবস্থার সংস্থান রাখা হয়েছে। সম্প্রতি জারি করা অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে তৈরিকৃত এই খসড়াটি ইতিমধ্যে বিপিডিএ ও আইএমইডি-র ওয়েবসাইটে জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হয়েছিল।


নির্বাচিত

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন শুরু  

ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এখন থেকে নিবন্ধন নিয়ে রাজধানীর বুকে চষে বেড়াতে পারবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব যানবাহনকে নিয়ন্ত্রণ করবে সরকার। সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রথমে যানবাহনগুলোকে আইনি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। পরে পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ধীরগতির ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান (ই-রিকশা) চলাচল-সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে ই-রিকশা নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের ১২০ ধারায় এ-সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালা প্রণয়নের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।’

ফলে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানান তিনি। নতুন নীতিমালায় দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা। ফিটনেস পরীক্ষা শেষে এক বছর পর নবায়ন করতে ফি দিতে হবে চার হাজার টাকা। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা। বিধিমালা অনুযায়ী, একটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর চলাচল করতে পারবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের দেওয়া কিউআর কোডযুক্ত ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে।

এখন থেকে ই-রিকশা উৎপাদন তদারকি এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদনের সুপারিশ করতে সরকার সাত সদস্যর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), সিটি করপোরেশন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শুধু চালালেই হবে না, মানতে হবে বিস্তর আইন। আর আইন ভঙ্গ করলেই হবে শাস্তি ও জরিমানা। এ ছাড়া নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যাত্রী ছাড়া মালামাল বহন, ট্রাফিক সংকেত অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এদিকে ঢাকায় ই-রিকশা চলাচলের জন্য আটটি জোন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, যার মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটিতে চারটি করে জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশার রং হবে আলাদা। ফলে এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। নিবন্ধনের পর চালকদের লাইসেন্স প্রদান করা হবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়।


নির্বাচিত

ভর্তুকি ৫০০ কোটি টাকা কমাতে চায় টিসিবি, লক্ষ্য আর্থিক স্বনির্ভরতা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংক ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয় কমানো এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়িয়ে চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

একই সঙ্গে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি। তবে বিদ্যমান ভর্তুকির পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ বলেন, ‘সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সংস্থাটিকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য পণ্য কেনার খরচ, ব্যাংক ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

ফয়সল আজাদ বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে আমরা ভর্তুকির ব্যয় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছি। তবে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়লে সংস্থার মোট ভর্তুকির প্রয়োজনও বাড়তে পারে।’

২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিসিবির ভর্তুকি ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৫১৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। এ খাতে বাজেটে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পণ্য কেনা ও বিক্রির দামের পার্থক্য এবং ব্যাংক ঋণের সুদ—ভর্তুকির বড় দুটি উৎস।

টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘টিসিবির মূল সমস্যা হলো, যে দামে পণ্য কেনা হয়, সেই দামের চেয়ে অনেক কম দামে তা বিক্রি করতে হয়। কিছু পণ্য কেনা দামের তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ভোজ্যতেলে ভর্তুকির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।’

২০২২ সাল থেকে টিসিবি প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১০০ টাকায় বিক্রি করছে। অথচ বর্তমানে ডিলার কমিশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়সহ প্রতি লিটার তেল কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। ব্যাংক ঋণের সুদ যোগ করলে এ খরচ প্রায় ২০০ টাকায় দাঁড়ায়।

ব্যাংক ঋণের সুদ কমাতে টিসিবি এখন ঋণপত্র (এলসি) ও ঋণপত্রের বিপরীতে ঋণ (এলটিআর) সুবিধার পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কিনছে। এতে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংক ঋণের সুদ বাবদ প্রায় ১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনায় এলসি চার্জ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় কমেছে প্রায় ৪২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

টিসিবির চেয়ারম্যান জানান, সংস্থাটির বার্ষিক ব্যাংক ঋণের সুদ ব্যয় বর্তমানে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা। এ ব্যয় থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, ‘আমরা ঋণপত্র (এলসি) এবং ব্যাংক ও সরকারের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার নির্ভরতা কমাচ্ছি। যেখানে সম্ভব, নগদ অর্থে পণ্য কেনা হচ্ছে।’

এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তুলনায় ১ দশমিক ২৫ শতাংশ কম সুদে ঋণসুবিধা পাওয়ায় বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলা ও এলটিআর সুবিধা নেওয়া শুরু করেছে টিসিবি।

বিক্রির অর্থ দ্রুত সংস্থার ব্যাংক হিসাবে জমা নিশ্চিত করতে একটি অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) চালু করেছে টিসিবি। আগে অর্থ জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) হিসাবের মাধ্যমে আসত। নতুন ব্যবস্থায় ডিলারদের কাছ থেকে বিক্রির অর্থ দ্রুত টিসিবির হিসাবে জমা হবে। এতে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর না করে নগদে পণ্য কেনা সহজ হবে।

ভর্তুকির বাইরেও আয় বাড়াতে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে বাজারে এনেছে টিসিবি। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও কেনা দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে সংস্থাটি।

আয়ের উৎস বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ফয়সল আজাদ বলেন, ‘শুধু ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়। আমাদের আয়ও বাড়াতে হবে।’

পরিবহন, পণ্য ওঠানো-নামানোসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় কমাতে বিতরণব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এনেছে টিসিবি। আগে আঞ্চলিক গুদাম থেকে পণ্য জেলা প্রশাসনের গুদামে পাঠানো হতো। এখন আঞ্চলিক গুদাম থেকেই সরাসরি পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে এ ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।

এ ছাড়া জরিপের কাজে পুনরাবৃত্তি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। টিসিবির চেয়ারম্যান জানান, জরিপ ও এ সংক্রান্ত কাজে বছরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। একই ধরনের জরিপের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা গেলে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।

তবে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়লে ভর্তুকির মোট পরিমাণও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেন টিসিবির চেয়ারম্যান। বর্তমানে অতিরিক্ত পণ্যসহ টিসিবির কার্যক্রমের আওতায় প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ পণ্য কিনছেন। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, ‘চলতি বছর ৮০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে আগামী অর্থবছরে এক কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর আশা করছি।’

বিদ্যমান ভর্তুকির পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই জানিয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এসব পণ্য আগের দামেই বিক্রি হবে। নতুন বাণিজ্যিক পণ্যও যুক্ত করা হচ্ছে, তবে সেগুলো কেনা উপকারভোগীদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।’

ফয়সল আজাদ বলেন, ‘উপকারভোগীরা চাইলে নতুন পণ্য কিনতে পারবেন। এসব পণ্য কেনা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। কাউকে তা কিনতে বাধ্য করা হবে না।’

টিসিবি চেয়ারম্যানের আশা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বৃদ্ধি, ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয় কমানো এবং দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে ধীরে ধীরে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

ইতিবাচক গঙ্গা চুক্তির আশা করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
আপডেটেড ২ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন করে চুক্তি করা হবে, নাকি বিদ্যমান চুক্তি নবায়ন করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আশা করছেন, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা রয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

চুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনাটি ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।’ শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘যে চুক্তিটি এ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ হচ্ছে, সেটি আবার নবায়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি এবং আশা রাখি। আশা করছি, ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’

চুক্তি নবায়ন নাকি নতুন কোনো কাঠামোয় আলোচনা হবে, এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি এবং দেশের মানুষের পানির প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পানিসংকটের সমাধানে ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও মানুষের পানির চাহিদা বিবেচনায় রেখেই ভারতের সঙ্গে আলোচনায় এগিয়ে যাবে সরকার।’


নির্বাচিত

যারা আন্দোলনের নামে সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠনের, সেটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডের জন্য শ্রমিকরা কখনো সড়ক-মহামসড়ক অবরোধ করেনি। আমরা দেখেছি মুখোশধারী যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা ওখানে রাজনৈতিক স্লোগান দিয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন গার্মেন্টস মালিক নেতারা। ওই বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে রবিবার (১ নভেম্বর) মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। সোমবার সেই বোর্ডের প্রথম সভা হতে পারে অথবা সম্ভাব্য খুব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তারা বসবেন।

এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হবে এবং সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যথা-শিগগির সম্ভব তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে সেটি ঘোষণা হতে পারে। আশা করি, তারা সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ন্যূনতম মজুরি ঠিক করতে পারবেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন— যেন শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয় এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়। শ্রমিকদের বিষয়গুলো যেন অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হয়। সুতরাং, বাস্তবতার নিরিখে মজুরি নির্ধারিত হবে। এখানে অসন্তোষের কিছু নেই।

গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শিল্প মালিকদের সহযোগিতা চেয়েছি এবং তারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। সেই সঙ্গে তারা বলেছেন— কিছু শিল্প মালিক আছে এবং শিল্প কারখানা আছে, যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিল্প কারখানা বন্ধ করেছে। তাদের তালিকা তারা আমাদের প্রদান করবেন। এ ছাড়াও কিছু কিছু শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এখানে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য পাঁয়তারা করছে, সে সব সংগঠন এবং নামের তালিকাও আমরা তাদের সরবরাহ করতে বলেছি। তবে আমরা বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমিক এবং কোনো শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থাকতে পারেন না।


নির্বাচিত

চিফ হুইপের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ ভবনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) এই সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রম অধিকার এবং সংবিধান সংশোধন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।

এসময় চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরে এসেছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সাংবাদিক, জুলাইযোদ্ধা এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। বিরোধী দলকেও সংশ্লিষ্ট কমিটিতে অংশগ্রহণের জন্য বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। এখনও তাদের জন্য আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল আন্দোলনের পরিবর্তে সংসদে এসে তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারে। গণতান্ত্রিক কার্যব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো জাতীয় সংসদ। সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

আলোচনায় সংসদ সদস্যদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ-ইইউ সংসদীয় ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সংসদীয় বাজেট ব্যবস্থাপনা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ফোরাম আয়োজনের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়। একই সঙ্গে শ্রম আইন সংশোধন, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, ট্রেড ইউনিয়নের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়।

এসময় গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি অব্যাহত রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা অবশ্যই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে পরিচালিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।’

আজ বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এ অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি এ গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থ অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

তিনি এসময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁদের সাহস, আত্মত্যাগ ও অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অসামান্য অবদান ও স্বাধীনতার ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তিনি তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

এসময় তিনি ১৯৭৭ সালে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেশাদার সামরিক শিক্ষা বিস্তারে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারীদের স্মরণ করেন এবং জনগণের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দেওয়ার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রচলিত নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হুমকি, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানও জড়িত।

পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কারণে সতর্কতা ও দূরদর্শিতার গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি যুদ্ধ ও নিরাপত্তার ধরন পরিবর্তন করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে ভুল তথ্য, অপতথ্য এবং সাইবার হুমকি জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

উদীয়মান এই বাস্তবতা মোকাবিলায় কৌশলগত দূরদর্শিতা, সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ, বুদ্ধিবৃত্তিক উদারতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দেশের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাসম্পন্ন নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় ও সমসাময়িক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অভিন্ন উপলব্ধি গড়ে তোলার একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

রাষ্ট্রপতি ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে স্থান দিতে হবে। একই সঙ্গে পেশাদারিত্ব, সততা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

কোর্সে অন্য দেশের অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাঁদের এই অভিজ্ঞতা তাদের নিজে নিজ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে সহায়ক হবে।

রাষ্ট্রপতি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, মতবিরোধের পরিবর্তে সংলাপ এবং সংঘর্ষের পরিবর্তে শান্তির আহ্বান জানান।

পাশাপাশি সক্ষম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: ফয়জুর রহমান।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ফ্যাকাল্টির সদস্য, এনডিসি কোর্স সম্পন্নকারী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, এএফডব্লিউসি কোর্স সম্পন্নকারী সেনাবাহিনীর অফিসার, এনডিসি কোর্সে অংশগ্রহণকারী বিদেশি কোর্স সদস্য, আর্মি স্টাফ অফিসারবৃন্দ ও জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও)গণ এবং বঙ্গভবনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৬-এ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে ৫৪ জন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস থেকে ১৮ জন এবং বন্ধুপ্রতিম ১৭টি দেশ থেকে ৩১ জনসহ মোট ১০৩ জন সদস্য অংশ নেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না: মাহদী আমিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের পথ উন্মুক্ত থাকলেও শিল্প খাতে কোনো ধরনের তাণ্ডব, ভাঙচুর কিংবা নাশকতার সুযোগ দেওয়া হবে না

শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও মজুরির দাবিকে হাতিয়ার বানিয়ে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো চক্রান্তই সফল হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের পথ উন্মুক্ত থাকলেও শিল্প খাতে কোনো ধরনের তাণ্ডব, ভাঙচুর কিংবা নাশকতার সুযোগ দেওয়া হবে না।

সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি এসব অভিমত ব্যক্ত করেন।

পোশাক খাতের পটভূমি তুলে ধরে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগেই বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের ঐতিহাসিক সূচনা ঘটেছিল, যার মাধ্যমে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থানের দিগন্ত উন্মোচিত হয়। পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেও এ শিল্পের বিস্তার এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা হয়েছিল।

তিনি জানান, সেই ধারা বজায় রেখে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রমবান্ধব প্রশাসন মেহনতি মানুষের ন্যায্য মজুরি, আত্মমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর অতি দ্রুততার সঙ্গে বিগত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শ্রমিকদের সমুদয় বেতন ও বোনাস যথাসময়ে পরিশোধের বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করেছে।

পোশাক শিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল ও সামগ্রিক অর্থনীতি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই উপদেষ্টা জানান, শ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি নিশ্চিতের পাশাপাশি কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যয়, সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার দিকগুলোকেও গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। এ কারণেই মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে পোশাক খাতের মজুরি পুনর্নির্ধারণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। সবার ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক ন্যূনতম মজুরি চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তবে মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়ার মধ্যেও একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী পোশাক শিল্পকে অস্থিতিশীল করতে অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মাহদী আমিন। তিনি লেখেন, ‘পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের উসকানি ও নাশকতার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। কারখানায় আক্রমণ, আগুন দেওয়া ও পুলিশের ওপর হামলা শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থি।’

শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে পড়লে খোদ শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে কর্মহীনতা বৃদ্ধি ও রপ্তানি আয় কমার পাশাপাশি সার্বিক অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ে পড়বে; তাই কোনো ধরনের সহিংসতা কিংবা শিল্প ধ্বংসের অপতৎপরতাকে বরদাশত করা হবে না।

সাধারণ শ্রমিকদের উসকানি ও গুজবের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘সাধারণ শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি আমাদের আহ্বান, কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিতে পা দেবেন না। যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমবান্ধব সরকার সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।’


নির্বাচিত

ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:৫৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ভবন শনাক্ত, ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, উদ্ধার সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিকম্পবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

শ্রমিক বিক্ষোভে শিল্পমালিকদের জড়িত থাকার অডিও-ভিডিও প্রমাণ মিলেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    দেশের কোনো কারখানা যেন এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ না হয় এবং একজন শ্রমিকও যাতে চাকরি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে

সাধারণ ও নিরীহ পোশাক শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজপথে নাশকতা, সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে দেশে চরম অস্থিরতা তৈরির নেপথ্যে কিছু কারখানা মালিকের সরাসরি জড়িত থাকার অডিও ও ভিডিও প্রমাণ সরকারের হাতে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তৈরি পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতা নিরসনে গার্মেন্টস মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত কিছুদিন ধরে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শক্তির মদদপুষ্ট কিছু পক্ষ শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে রাজপথ উত্তপ্ত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অথচ প্রকৃত উৎপাদনমুখী শ্রমিক কিংবা তাঁদের ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা কখনই নিজেদের রুটি-রুজির কর্মসংস্থান ধ্বংস অথবা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি প্রত্যাশা করেন না। অডিও ও ভিডিওর মতো সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে এ সংঘাতের পেছনে থাকা মূল ইন্ধনদাতা এবং চিহ্নিত কিছু শিল্পমালিককে ইতিমধ্যে আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

পোশাক খাতের সংকট নিরসনে আয়োজিত এই বিশেষ বৈঠকে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার। এ ছাড়া বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ পুলিশ এবং বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

শিল্পের নিরাপত্তা ও উৎপাদনশীলতা নিশ্চিতের প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের কোনো কারখানা যেন এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ না হয় এবং একজন শ্রমিকও যাতে চাকরি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলেই সকল শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক আরেকটি সমন্বিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পক্ষের বাস্তবসম্মত মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে বলে জানান তিনি।


নির্বাচিত

banner close