রোববার, ৯ আগস্ট ২০২৬
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
কৃষ্ণা দেবনাথের সাক্ষাৎকার

অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্ক 

কৃষ্ণা দেবনাথ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৯ মার্চ, ২০২৩ ১৬:১২
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৩ ০৮:১০

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৮১ সালের ৮ ডিসেম্বর মাত্র ২৬ বছর বয়সে মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচারিক জীবন শুরু করেন। তারপর চার দশকের বিচারিক কর্মজীবন পার করে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিক বিচারিক কাজ থেকে অবসরে যান। সম্প্রতি তিনি দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আব্দুল জাব্বার খানকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তার ৪১ বছরের বিচারিক জীবনের কথা।

দৈনিক বাংলা: অবসরকালীন জীবন কেমন কাটছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: ভালোই কাটছে। তবে ব্যস্ততা কমেনি। মনে হয় আরও বাড়ছে। অবসরে অবসর কোথায়? হা হা…

দৈনিক বাংলা: স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় কোনো নারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যাত্রা শুরুর পর সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবসরে গেলেন। সব মিলিয়ে একজন নারীর বিচারক হিসেবে দীর্ঘ এই পথচলা কতটা সহজ ছিল?

কৃষ্ণা দেবনাথ: দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়, তখনই কিন্তু বাংলাদেশে মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসতে পারেনি। নারীদের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রথমেই আমরা পুরুষদের থেকে তিন বছর পিছিয়ে যাই। দেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরুর তিন বছর পরে নারীদের যাত্রার পরও আজকে নারীদের অবস্থান কোথায় সেটা দেখতে হবে। আমি নারী বিচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি ১৯৮১ সালে। প্রথম এসেছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, দ্বিতীয় যাত্রা শুরু করেছিলেন বিচারপতি জিনাত আরা। আর তৃতীয় হিসেবে যুক্ত হই আমি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো, আমরা তিনজনই আপিল বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছি। এটা ভাবতে ভালো লাগে।

নারী হিসেবে বিচারিক জীবনের তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে নারী বিচারকদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়, তাদের সাংসারিক জীবন নিয়ে। কেননা, এটা বদলির চাকরি। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলির কারণে সংসারটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা অনেক কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তো ছিলই।

দৈনিক বাংলা: সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হবেন এমন স্বপ্ন কি বিচারিক জীবনের শুরুতে কখনো দেখেছিলেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: না, এমনটি কখনোই ভাবিনি। এমনকি হাইকোর্টেও থাকাকালীন ভাবিনি যে আমি আপিল বিভাগে যাব। স্বপ্নও ছিল না। তবে আমার স্বপ্ন ছিল আমি জজ হব।

দৈনিক বাংলা: অনেক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরাই এখন প্রায় বেঁচে নেই, আপনি কি মনে করেন এখন নতুন যারা আসছেন, তারা সেই খ্যাতিম্যান আইনজীবীদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: দেখেন এটা শুধু আইনজীবীদের মধ্যে নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। সবখানেই অবক্ষয়। ধরেন আমার বাবা যে পরিমাণ লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করেছেন আমি তো মনি করি না, আমার সেটুকু আছে। কিন্তু আমি আশাবাদী নতুন প্রজন্ম থেকে অনেক ট্যালেন্ট উঠে আসছে, আসবে। একসময় নামকরা আইনজীবীরা ছিলেন। তারপর তাদের উত্তরসূরিরা এসেছেন। ঠিক এমনি করেই নতুনরা আইনজীবী হয়ে উঠবেন। এখন যারা নবীন আইনজীবী তাদের জন্য একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার এটা মোক্ষম সময়। তার কারণ জায়গাটা এখন অনেক খালি, সবকিছু প্রস্তুত হয়ে আছে, এখন দরকার শুধু অধ্যবসায়ের।

দৈনিক বাংলা: আপনার অবসর জীবনের শেষ দিনে বলেছিলেন, বিচারক নিজেকে স্বাধীন মনে না করলে সুবিচার সম্ভব না। এর মানে আপনি কী বুঝিয়েছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এই বাক্যটি আমি শুধু কথার কথা হিসেবে বলিনি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেই বলেছি। এখনো বিশ্বাস করি, একজন বিচারক নিজেকে যদি স্বাধীন মনে না করেন, তাহলে কাগজে-কলমে স্বাধীনতা দিয়েই কী লাভ। একজন বিচারক নিজের বিবেককে প্রশ্ন করবেন তিনি নিজে স্বাধীন কি না। কাগজে-কলমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে মাত্র কিছু বছর আগে। তার আগে আমরা বিচারকরা তো নিজেদের পরাধীন মনে করিনি, বিচারের কাজটি কিন্তু স্বাধীনভাবেই করেছি।

আমি মনে করি, একজন বিচারক মনেপ্রাণে নিজেকে স্বাধীন মনে করেন কি না, সেটাই বড় কথা। আমি জোর গলায়, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি ৪১ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পদে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে তো আমার কাছে কোনো তদবির আসেনি। নিজেকেই সেই জায়গা তৈরি করে নিতে হবে। আমি যখন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন অনেক জুনিয়র বিচারক বলতেন তদবির আসে। আমি তখন তাদের বলেছি, কই আমার কাছে তো কোনো তদবির আসে না। তদবির যাতে না আসে সেই পরিবেশ আপনার নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। বিচারকের স্বাধীনতার বিষয়টি নিজের সততা দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।

তদবির না শুনে একবার এক ব্যক্তিকে জামিন দিইনি বলে সেই সময় আমাকে মেহেরপুরের জেলা জজ থেকেও বদলি করা হয়েছিল। জেলা জজ থেকে সাড়ে চার বছর আমাকে কর্নার করে রাখা হয়েছিল। দুটি জেলার জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্পেশাল জজ করে রাখা হয়েছিল। আমি তো তখনো ভয় পাইনি। আমার কথা হলো, নিজেকে স্বাধীন রাখতে হলে বদলির ভয় করলে চলবে না। কী আর করবে বাংলাদেশের ভেতরেই তো বদলি করবে, আর তো কিছু না। বিচারক যদি বদলির ভয় বা নিজের লাভ-ক্ষতির চিন্তা করেন তাহলে তিনি স্বাধীন বিচারক হিসেবে কীভাবে কাজ করবেন। করতে পারবেন না। বিচারককে তার নিজের সততার ওপর শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। এখন কিন্তু দেওয়ানি মামলায় আপস করার সুযোগ আছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলা আপসের সুযোগ আছে। এখন যদি এটা ভালোভাবে কার্যকর হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ মামলাই আসবে না। এটা যদি সফল করা যায়, তাহলে মামলার জট অনেক কমে আসবে।

দৈনিক বাংলা: একটি মামলা শেষ করতে বছরের পর বছর লাগে কেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: মামলা শেষ করতে পক্ষগণেরই জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় কোনো না কোনো পক্ষই চায় না, দ্রুত মামলা শেষ হোক। মামলার জট সৃষ্টির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর জন্য শুধু বিচারকরা দায়ী তা বলা যাবে না বরং বাদী-বিবাদী, দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও দায় রয়েছে। একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য কম করে হলেও পাঁচটি পক্ষের সমন্বয় দরকার পড়ে, তবেই মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।

এ ছাড়া বিচারকসংকট রয়েছে বড় আকারে। এত বিশাল মামলার জট দ্রুত কমাতে হলে বিপুলসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। যেটা সরকারের পক্ষে সম্ভব না।

দৈনিক বাংলা: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো যেকোনো বিষয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, কেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এখন কিন্তু পত্রিকা খুললেই দেখা যায় হাইকোর্টের বিভিন্ন সংবাদ বা নির্দেশনা নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে। চোখ মেললেই কোর্ট-কাচারির খবর পাওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভুক্তভোগীকে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক আছে, মানুষ আদালতে এলে প্রতিকার পায়। আবার কিছু সময় দেখি একটা সাধারণ বিষয় নিয়েও মানুষকে হাইকোর্টে আসতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে তাহলে কিন্তু আদালতের ওপর এই চাপ আসে না। তারা সেটি করছে না। অনেক সময় আদালতের নির্দেশের পরও অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয় না। এটা ভালো দিক না।

দৈনিক বাংলা: বিচার বিভাগকে কি আরও শক্তিশালী হতে হবে, নাকি শক্তিশালীই আছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: বিচার বিভাগকে কেউ শক্তিশালী করে দেবে না। বিচার বিভাগকে নিজেকেই শক্তিশালী হতে হবে। একটা আদেশ হওয়ার পর ঝড়ঝাপটা আসতে পারে। সেটা বহন করার মতো বিচারক যদি আমরা হতে পারি তাহলে বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে। বিচারক যদি সেই ঝড়ঝাপটা সইবার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে সেটা হবে না।

দৈনিক বাংলা: বার ও বেঞ্চের সম্পর্ককে বলা হয় একটি পাখির দুটি ডানা। সম্প্রতি বিভিন্ন বারে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে, এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: সর্বজনীনভাবে আমি বলব, সাবলীল সম্পর্ক হ্রাস পেয়েছে। অনেক আগে থেকেই এই সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় বিচারকের দরজায় লাথি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সার্বিকভাবে বলব আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সম্পর্ক অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। আমার বক্তব্য হলো, একজন বিচারক যেহেতু একটু ওপরে বসেন, আইনজীবীরা একটু নিচে দাঁড়ান, এই যে বিচারকরা একটু অগ্রাধিকার স্থানে থাকেন সে জন্য বিচারকদের অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু করা যায় না। সেটি তাদের মাথায় থাকতে হবে। এ ছাড়া আইনজীবীদেরও সহিষ্ণু হতে হবে। দুপক্ষই যদি সহিষ্ণু হয় তাহলে কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরবে না।

আদালতের মর্যাদা কমলে কিন্তু আইনজীবীদেরই মর্যাদা কমবে। এটা তাদের বুঝতে হবে। কোনো বিচারকের ভুল হলে আইনজীবীরা তার ওপরের বিচারককে বলতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট আছে, আইন মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে বলার সুযোগ আছে। কিন্তু তাই বলে স্লোগান দেয়া উচিত না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে পূরণীয় ঘটনা বা অপ্রাপ্তি বলে কিছু আছে কি না?

কৃষ্ণা দেবনাথ: মানিকগঞ্জে একটি অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে পারিনি, এই একটি বিষয় আমার মনে এখনো গেঁথে আছে। আইনজীবীর ভুলের কারণে সেই আসামিকে সাজা দিতে পারিনি। যে কারণে খুব কষ্ট লেগেছিল। কারণ মামলায় আসামি শনাক্ত একটা বড় ব্যাপার। মামলায় বলা হয়েছে, চাঁদের আলোতে আসামিকে দেখা গেছে। কিন্তু পঞ্জিকাতে দেখা গেল সেদিন অমাবস্যা ছিল। তার ওপর আবার সেদিন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আইনজীবী মামলা শক্ত করতে গিয়ে চাঁদের আলোতে দেখেছে বলে বিবরণ দিয়েছেন কিন্তু সেদিন সেটা ছিল না। যে কারণে আসামি শনাক্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরঞ্জিত বিবরণ মূল ঘটনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ ছেলেটি মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করত, সেটি উল্লেখ থাকলেও হতো। অতিরঞ্জিত করার কারণে আসামি বেঁচে যায়। এই ঘটনা আমাকে পীড়া দেয়। তার কারণ চোখের সামনে দেখেছিলাম মেয়েটির ঝলসানো মুখ। কিন্তু তার ন্যায়বিচার আমি দিতে পারিনি।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে আপনি কতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এটা বলতে পারব না। তার কারণ, আমি গুনে রাখিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার ব্যাপারে আমি অনেক সতর্ক ছিলাম। আমি দুইয়ে দুইয়ে চার না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সাজা দিইনি। অনেক আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েও আমি স্বস্তি পেয়েছি। তার কারণ অকাট্য দলিল-প্রমাণ ছিল। সব থেকে বড় স্বস্তি পেয়েছি, যখন আমি ঢাকার জেলা জজ ছিলাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফাঁসির আসামিদের সাজা কার্যকর হবে। তখন ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার জন্য শেষ যে স্বাক্ষর দিতে হয়, জেলা জজ হিসেবে সেটা আমি দিয়েছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার কাছে লাল নথি এল, আমি তাতে স্বাক্ষর করলাম। এরপরই টিভিতে দেখলাম কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর শুরু করেছে। ঐতিহাসিক সেই মামলাটিতে শেষ স্বাক্ষর করেছিলাম। এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।

দৈনিক বাংলা: অবসরে কেমন কাটছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: অবসরে একদমই অবসর নেই। আমি রুট (প্রান্তিক) লেভেলের ভিকটিমদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সেটাই শুরু করেছি। দেখা যাক কতটা করতে পারি।

দৈনিক বাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে।

কৃষ্ণা দেবনাথ: আপনাকেও ধন্যবাদ।


নির্বাচিত

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষদের পুনর্বাসনে সরকারের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালীর বন্যা কবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে টিনের নতুন ঘরের চাবি তাদের হাতে তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। তিনি সেখানে একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বন্যায় জলাবদ্ধতায় এসব এলাকার শত শত মানুষের ঘর-বাড়ি, পুকুর, জলাশয় ও ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে যায়।

এখানে কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহর সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।


নির্বাচিত

উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী, সমুদ্রপাড়ে জনসমুদ্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) চলমান কাজ পর্যবেক্ষণ শেষে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারযোগে সেখানে অবতরণ করেন।

সরকারপ্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাঁকে একনজর দেখার জন্য সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। জানা গেছে, সাম্প্রতিক প্রলয়ংকরী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। এই অনুষ্ঠানে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি বন্যায় বসতবাড়ি হারানো ১০০টি পরিবারের কাছে নতুন গৃহের চাবি হস্তান্তর করার কথা রয়েছে তাঁর।

বাঁশখালীর নির্ধারিত কর্মসূচি সমাপ্ত করে প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে তাঁর একটি সৌজন্য সাক্ষাতের সূচি নির্ধারিত রয়েছে। ওই বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের অন্তত ৫০ জন শীর্ষ নেতার সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করবেন। পরবর্তীতে তিনি হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন।

মাদ্রাসা পরিদর্শন শেষে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত আরেকটি সমাবেশে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে নতুন করে ঘর নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে ১৫ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও তাঁর সফরসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চট্টগ্রাম সফরের চূড়ান্ত পর্যায়ে নগরের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভায় তিনি অংশগ্রহণ করবেন। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, এই সভায় চট্টগ্রাম মহানগর এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপিসহ ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ জন তৃণমূল পর্যায়ের নেতা উপস্থিত থাকবেন। এই মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী দলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি দলের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সার্বিক কর্মসূচি শেষে রোববার রাত ৯টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রামের মাটি ত্যাগ করে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে ফিরতি যাত্রা করবেন।


নির্বাচিত

দুই প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বসলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব: ভারতীয় হাইকমিশনার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি আলোচনায় বসলে দুই রাষ্ট্রের মধ্যকার বহুবিদ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। আজ রবিবার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য একটি খেলার জায়গা উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

হাইকমিশনার দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনবান্ধব ব্যক্তি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও জনবান্ধব ব্যক্তি। দুই দেশের প্রধান একসঙ্গে হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমার পুরো আত্মবিশ্বাস আছে।’ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এক আছে, সমাধান হবেই। কোনো নেতিবাচক বিষয় নেই, সব ইতিবাচক আছে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যকার সুদৃঢ় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে দীনেশ ত্রিবেদী উল্লেখ করেন, ‘দুই দেশের মানুষের এই সম্পর্ক সরকারি পর্যায়েও বজায় রাখতে হবে।’ বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার ব্যাপক চাহিদার কথা বিবেচনা করে তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে আবেদন কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে সাধারণ মানুষের ভিসা প্রাপ্তির ব্যয় কমানো এবং দ্রুততম সময়ে ভিসা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাঁরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আন্তরিক আচরণের প্রশংসা করে হাইকমিশনার বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে যে হৃদ্যতা বিদ্যমান, তা দুই দেশের কূটনীতি ও সরকারি সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করল বিএনপি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই মনোনয়ন সংগ্রহ করেন।

গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর শূন্য হওয়া এই পদে নতুন অভিভাবক নির্বাচনের লক্ষ্যে ইসি ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন করেছেন এবং গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি সচিব জানান, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এর ৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাননীয় স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ভবন ও জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সার্বিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সময়সূচি অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে এবং ১৬ আগস্ট রবিবার সকাল ১০টা থেকে ইসি ভবনে জমারত মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলবে। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সর্বশেষ ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং কমিশনের পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। বর্তমানে কেবল নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করা হয়েছে এবং এর পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এই নির্বাচনী কার্যক্রমকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


নির্বাচিত

কক্সবাজার মাতারবাড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে তিনি হেলিকপ্টারযোগে উপকূলীয় এই জনপদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

মহেশখালী সফরে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চলমান বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন। গুরুত্বপূর্ণ এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন শেষে তিনি হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বাঁশখালী ও হাটহাজারী অভিমুখে রওনা দেবেন। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে স্থায়ী আশ্রয়ের জন্য নবনির্মিত ঘর হস্তান্তরের মাধ্যমে সরকারি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচি অনুযায়ী, দুপুর দেড়টার দিকে তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে তিনি আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং প্রবীণ আলেম আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন। এরপর মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারতের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

বিকেল পৌনে ৪টায় হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে ক্ষণিকের যাত্রাবিরতি করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরবর্তীতে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন তিনি। দিনের সকল কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের অডিটরিয়ামে আয়োজিত একটি বিশেষ সাংগঠনিক সভায় প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।


নির্বাচিত

হেলিকপ্টারে কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কক্সবাজারের মহেশখালীতে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ এবং চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের পুনর্বাসনে সহায়তা করতে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে তিনি মহেশখালীর উদ্দেশে যাত্রা করেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন।

সফরের লক্ষ্য ও কর্মসূচির বিষয়ে তথ্য দিয়ে অতিরিক্ত প্রেসসচিব জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত বাঁশখালী ও হাটহাজারী এলাকায় যাবেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন।’

পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন। দুপুর ২টায় তিনি ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় গিয়ে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী বিকেল সোয়া ৩টায় হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন। বিরতি শেষে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত পৃথক এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নেবেন তিনি। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলের মিলনায়তনে একটি সাংগঠনিক সভায় তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে রাত সাড়ে ৯টায় হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।


নির্বাচিত

দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন: ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগটি বড় একটি আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত।এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ইউএনওদের উদ্দেশে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ৮৩টি উপজেলার ইউএনওকে প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানাতে মূলত এই সভার আয়োজন করা হয়।
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণ ও সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা আছি, কাল থাকব না। আসুন আমরা সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করি। যেখানে সবাই একটু ভালো থাকবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি যে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়। কিন্তু সেই উপজেলা তো আপনার দেশেরই একটা অংশ। সেখানে যে মানুষগুলোকে দেখছেন, তারা হয়তো আপনার এলাকার মানুষ নন; কিন্তু আপনার সেই আপনজনদের মতোই মানুষ। এই দেশটাকে যদি ঠিকঠাক করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে মিলেই চেষ্টা করতে হবে।
শুধু আইন করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে বুঝিয়ে ও সচেতন করে অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়। এ সময় তিনি ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ রোপণ করতে চান। আপনাদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন যেখানে ১০টি গাছ লাগাতেন, সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন।
একইভাবে খেলাধুলার প্রসারেও ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, খেলাধুলার আয়োজনের জন্য শুধু বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। স্থানীয় ভালো যেকোনো বিষয়, এমনকি স্থানীয় কোনো মানুষের জন্মদিন উপলক্ষেও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে। এতে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয়।
সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে দয়া-মায়া কমে যাচ্ছে এবং মানুষ দিন দিন নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে সমাজের শান্তি নষ্ট হবে। তাই নিজ নিজ এলাকায় মানুষের প্রতি মানুষের দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।
পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে মানবিকতা এবং পশুপাখির প্রতি মায়া-মমতার বিষয়গুলো তাদের পাঠ্য হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ হোক সকল প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ জায়গা, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় ইউএনওরা নিজ নিজ উপজেলায় খাল খনন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে আসা ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
তারা জানান, খাল খননের আগে যেসব এলাকায় বছরে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনা। দিন দিন পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা পরবর্তীতে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলবে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সভায় উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়া ৮৩ জন ইউএনওর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সি ২৪ শতাংশ শিশু খর্বকায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সি প্রায় প্রতি ৪ শিশুর ১ জন খর্বাকৃতির। জাতীয় এক জরিপ অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টি ও শৈশবের শুরুতে দুর্বল স্বাস্থ্যের কারণে বয়সের তুলনায় তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। ওই জরিপে দেখা গেছে, ২৪ শতাংশ শিশু মাঝারি বা গুরুতর খর্বাকৃতি সমস্যায় ভুগছে।

খর্বাকৃতির অর্থ হলো, কোনো শিশুর তার বয়স অনুযায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে খাটো হওয়া। এটি দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টির অন্যতম স্পষ্ট নির্দেশক। জীবনের প্রথম ১ হাজার দিনে পুষ্টির ঘাটতির প্রতিফলন এটি। শারীরিক ও মস্তিষ্কের বিকাশে এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সারা দেশে ২৩ হাজারের বেশি শিশুর শারীরিক পরিমাপের ভিত্তিতে পরিচালিত জরিপটিতে তীব্র বৈষম্যের চিত্রও উঠে এসেছে।

সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা সবচেয়ে ধনী পরিবারের শিশুদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি খর্বাকৃতির ঝুঁকিতে রয়েছে। দরিদ্র পরিবারে এই হার যেখানে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে ধনী পরিবারের ক্ষেত্রে ১৬ দশমিক ১ শতাংশ। শহরের শিশুদের তুলনায় গ্রামের শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়া, মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে এ সমস্যা কিছুটা বেশি।

গত তিন দশকে এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলেও বাংলাদেশ এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ‘উচ্চ প্রকোপ’ শ্রেণিতে রয়েছে। ১৯৯৭ সালে এই হার ছিল ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০২৫ সালে এটি কমে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

খর্বাকৃতির হার ২০ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে হলে সেটিকে ‘উচ্চ’ এবং ৩০ শতাংশের বেশি হলে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ বিবেচনা করে ডব্লিউএইচও।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ‘অত্যন্ত উচ্চ’ শ্রেণি থেকে বেরিয়ে আসে। এমআইসিএস-এর হিসাবে ওই বছরে খর্বাকৃতির হার ছিল ২৮ শতাংশ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক তাজউদ্দীন সিকদার বলেন, বাংলাদেশে শিশুদের খর্বাকৃতির পেছনে দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টি, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশদূষণ ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের সুযোগের অভাব—এসব কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে খেলার মাঠ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়, এমনকি কম আয়সম্পন্ন অনেক দেশের চেয়েও বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত মাসে ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫’ শীর্ষক এই জরিপ প্রকাশ করে। ইউনিসেফ এতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে।

ইউনিসেফের ১৬৩টি দেশের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিশুদের খর্বাকৃতির হারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৯তম। অর্থাৎ, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দেশেই এই হার বাংলাদেশের চেয়ে কম।

আফগানিস্তান (৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ), পাকিস্তান (৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ) ও ভারতের (৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ) তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো হলেও শ্রীলঙ্কার (১০ দশমিক ৫ শতাংশ) দ্বিগুণেরও বেশি। ভুটান (১৭ দশমিক ৯ শতাংশ) ও মালদ্বীপের (১৫ দশমিক ৩ শতাংশ) তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে।

এর প্রভাব কেবল শিশুর উচ্চতায় সীমাবদ্ধ নয়। খর্বাকৃতির শিশুরা তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ডায়রিয়ার মতো রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। ফলে শৈশবের প্রথম দিকে তাদের মৃত্যুঝুঁকিও বেশি থাকে।

সেই সঙ্গে মস্তিষ্কের বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়, জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমে, শেখার গতি ধীর হয় ও শিক্ষাজীবনে অর্জন সীমিত হয়ে পড়ে।

বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা অনুযায়ী, খর্বাকৃতির শিশুরা অন্য বাকিদের তুলনায় দেরিতে স্কুলে ভর্তি, একই শ্রেণিতে একাধিকবার পড়া ও কম শিক্ষা বয়সে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকে।

জরিপের ফলাফলে আরও দেখা গেছে, ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সি ১০ শিশুর মধ্যে ৬ জন বয়স-উপযোগী একটি সহজ গল্পের অন্তত ৯০ শতাংশ শব্দ সঠিকভাবে পড়তে পারে। অন্যদিকে মাত্র ৪০ শতাংশ শিশু প্রাথমিক গণনাগত দক্ষতা দেখাতে পেরেছে।

এর প্রভাব প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও দীর্ঘস্থায়ী হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবে খর্বাকৃতিতে ভোগা ব্যক্তিরা গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম আয় করেন, তাদের দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসের সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ বেশি ও দক্ষ কর্মসংস্থান পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।

গবেষকেরা বলছেন, খর্বাকৃতির সমস্যার শুরু শিশুর জন্মেরও আগে হয়।

বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক নারী ১৮ বছর বয়সের আগেই বিয়ে করেন। অন্যদিকে প্রতি ৪ জনের ১ জন কৈশোরেই অন্তঃসত্ত্বা হন। এতে মা ও শিশু উভয়েরই পুষ্টিজনিত ঝুঁকি বেড়ে যায়।

জরিপে আরও দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশ অন্তঃসত্ত্বা নারী প্রথম ৩ মাস পার হওয়ার পর প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া শুরু করেন। আর অর্ধেক নারী সুপারিশ করা ন্যূনতম চারটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান না।

জন্মের পরও অপর্যাপ্ত ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সি প্রায় ৩ শিশুর মধ্যে ২ জনই তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত খাদ্যগোষ্ঠীর খাবার খায় না। অর্ধেকের বেশি শিশুকে প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ানো হয়, প্রতি ৫ জনে ১ জন চিনিযুক্ত পানীয় পান করে এবং এক-তৃতীয়াংশ শিশু কোনো ফল বা সবজি পায় না।

এই সমস্যা মোকাবিলায় তাজউদ্দীন খর্বাকৃতির কারণ নিয়ে গবেষণায় আরও বেশি বিনিয়োগ করা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো ও স্কুলে খেলার মাঠ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা শুধু পুষ্টির ওপর নির্ভর করে না; শারীরিক কর্মকাণ্ডের সুযোগও এর জন্য জরুরি।


নির্বাচিত

হাসিনার নির্দেশে গুম করা হয়েছিল সালাহউদ্দিন আহমদকে: তদন্ত সংস্থা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৫ সালে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদকে র‍্যাবের টিএফআই সেলে বন্দি রেখে নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ওই সময়ের র‍্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল বলে তদন্তে ওঠে এসেছে।

শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। দ্রুতই তদন্ত শেষে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, গুমের পর ভারতে পাচারে যারা জড়িত ছিল, তাদের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে মৌখিক জবানবন্দি নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। দ্রুতই আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়া গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা আইনজীবী সোহেলের জবানবন্দিতেও ওঠে এসেছে সালাহউদ্দিন আহমদকে টিএফআই সেলে গুম করে রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য।


নির্বাচিত

৬৫ পদ নিয়ে আবারও জনপ্রশাসনের দরজায় ইসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চারবার অসম্মতি প্রকাশ করে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পরও হাল ছাড়েনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মাঠপর্যায়ের কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম পদমর্যাদা বৈষম্য দূর করতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের মোট ৬৫টি পদ ৬ষ্ঠ থেকে ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার পুনর্প্রস্তাব পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক স্থবিরতা ও শৃঙ্খলা কাটাতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ৪৫টি পদ এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ২০টি পদ ৬ষ্ঠ গ্রেড থেকে ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই উদ্যোগের প্রস্তাব এর আগে চারবার প্রত্যাখান করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ গত ১২ জুলাই নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়েছে জনপ্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে আবারও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে জেলা নির্বাচন অফিসার পদে কর্মকর্তারা ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা বেতন স্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রস্তাবিত কাঠামোতে তাদের গ্রেড-৫ এবং বেতনস্কেল ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকায় উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে বর্তমানে ১৯টিতে ৫ম গ্রেডের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার এবং বাকি ৪৫টি জেলায় ৬ষ্ঠ গ্রেডের জেলা নির্বাচন অফিসার কাজ করছেন। একই কাজের পরিধি হওয়া সত্ত্বেও এই বৈষম্য যেমন প্রশাসনিক সমন্বয়ে বাধা তৈরি করছে, তেমনি সম্প্রতি ৪৫টি জেলায় ৬ষ্ঠ গ্রেডের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নতুন পদ তৈরি হওয়ায় নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা ও অধীন কর্মকর্তা একই গ্রেডের হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ২০টি পদ বর্তমানে ৬ষ্ঠ গ্রেডে রয়েছে, যা ৫ম গ্রেডে উন্নীত করা প্রয়োজন। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার অবর্তমানে তারা মূল দায়িত্ব পালন করেন এবং অন্যান্য বিভাগীয় দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পদমর্যাদার সমতা আনতেই এই সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ৬৫টি পদের গ্রেড ও বেতনস্কেল উন্নীত করা হলে সরকারের বাড়তি কোনো আর্থিক ব্যয় হবে না এবং এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ, এম, এম, নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের পূর্ণ সম্মতি রয়েছে।

ইসি সচিবালয়ের তথ্যমতে, মাঠপর্যায়ের এই জটিলতার মূল উৎস বেতন ও পদমর্যাদার চরম বৈষম্য। অনেক জেলায় ৬ষ্ঠ গ্রেডের জেলা অফিসারের অধীনে পদায়ন করা হয়েছে ৫ম গ্রেডের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসারকে। আবার ১৯টি জেলার বেশিরভাগে ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তারা পদে আসীন থাকলেও সেসব জায়গায় ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের পদায়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই অব্যবস্থাপনা ও দাপ্তরিক অসংগতি নিরসনে কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

২০০৫ ব্যাচের দুই দশকের জট ও পদোন্নতিহীনতা

ইসির সর্বশেষ গ্রেডেশন তালিকায় ৭৩৮ জন কর্মকর্তার মধ্যে মাঠপর্যায়ে ৭২১ জন কর্মরত আছেন। এর মধ্যে ২০০০ ও ২০০৪ ব্যাচের পদোন্নতি সম্পন্ন হলেও বড় বিপত্তি বেঁধেছে ২০০৫ ব্যাচকে ঘিরে। এই ব্যাচের ১০০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা দীর্ঘ ২১ বছর ধরে একই পদে আটকে আছেন। আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি প্রায় ৮০ জন কর্মকর্তা যোগদান করলেও তারা আগের পদেই থেকে গেছেন।

জ্যেষ্ঠতার বিধিমালা অনুযায়ী ২০০৫ ব্যাচের জট না খুললে পরবর্তী সময়ে নিয়োগ পাওয়া ২০০৫-এর পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যোগদানকারী ৪২০ জন উপজেলা নির্বাচন অফিসারের পদোন্নতির দুয়ার খুলছে না। দীর্ঘদিন পদোন্নতি না পেয়ে ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন। কর্মকর্তাদের মতে, অনেকে টাইমস্কেল পেয়ে উচ্চতর গ্রেডের স্কেলেই বেতন পাচ্ছেন, তাই এটি আর্থিক দাবির চেয়ে সামাজিক মর্যাদা ও মানবিকতার দাবি।

আট বছরে চারবার প্রত্যাখ্যানের ইতিহাস:

কর্মকর্তাদের উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার এই চেষ্টার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ৪৫টি জেলা নির্বাচন অফিসারের পদ ৫ম গ্রেডে উন্নীত করা এবং ইটিআই মহাপরিচালকের পদ ৩য় থেকে ২য় গ্রেডে নেওয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আধা-সরকারি পত্র পাঠান। কিন্তু ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি ফিডার পদের অসংগতির অজুহাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে। পরে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার এবং ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট তৃতীয়বার পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনে চিঠি পাঠানো হলেও ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পুনরায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

সর্বশেষ, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ইসির বর্তমান সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ চতুর্থবারের মতো ৪৫টি জেলা অফিসারের পদ ও ২০ জন অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার পদ ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য চিঠি পাঠান। কিন্তু গত ১২ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংস্থাপন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ (সওব্য-১৩)-এর উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে চতুর্থবারের মতো অসম্মতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়।

আইনের আলোতে ইসির অনড় অবস্থান ও আশাবাদ

চারবার প্রত্যাখ্যানের পর পুনরায় প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কমিশন তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। প্রস্তাবটি অত্যন্ত যৌক্তিক হওয়ায় প্রয়োজন হলে নতুন করে কমিশনের অনুমোদন নিয়ে অথবা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আবারও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও আশা ছাড়ছেন না। সম্প্রতি পাস হওয়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইনের কথা উল্লেখ করে তারা জানান, এই আইনের মাধ্যমে ইসি এখন ক্যাডার বা নন-ক্যাডার ব্যবস্থার বাইরে একটি স্বতন্ত্র ‘সার্ভিস’ হিসেবে গণ্য হবে। একটি পূর্ণাঙ্গ সার্ভিস বাস্তবায়ন করতে গেলে পদ আপগ্রেডেশন ও কাজের সমন্বয় করা অপরিহার্য।


নির্বাচিত

জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করতে কাজ করছে সরকার: পর্যটনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান বর্তমানের প্রায় ৩ শতাংশ থেকে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ট্রাভেল, ট্যুরিজম, এভিয়েশন ও হসপিটালিটি—এই চারটি খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আফরোজা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ট্রাভেল, পর্যটন, এভিয়েশন ও হসপিটালিটি খাতের সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন এই প্ল্যাটফর্মটি পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজনকে একত্রিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

পর্যটন খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ। সরকার এ অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করতে চায়।

টেকসইভাবে পর্যটন খাতের বিকাশে বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে এসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

এক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও সমর্থন দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

তিনি আরও বলেন, পর্যটন খাতের সব অংশীজনের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে পর্যটন খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

খুলনার পানখালীসহ দেশের তিন গ্রাম হচ্ছে এসডিজি ভিলেজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    আজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সমুদ্র উপকূলীয় খুলনার দাকোপ উপজেলার ১নং পানখালী ইউনিয়নের পানখালী গ্রামসহ দেশের পৃথক তিনটি স্থানের গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। অপর দুটি হচ্ছে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি ও দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রাম।

আজ রোববার খুলনার দাকোপ উপজেলার ১নং পানখালী ইউনিয়নের পানখালী গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে দেশের মিতিঙ্গাছড়ি ও নাফানগর গ্রামের সাথেও ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে ঘোষনা করবেন বলে জানিয়েছেন দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু।

সরকাররের এ উদ্যোগে পানখালী গ্রামের বাসিন্দা গ্রাম্য ডাক্তার মহিদুল শেখ, মৎস্য জেলে পরিমল রায়, কৃষক মাহবুবুর রহমান, অরবিন্দু মন্ডল, দিনমজুর আব্দুর রশিদ গাজীসহ অনেকেই খুশি। তারা বলেন, গ্রাম হবে শহর এটা ছিলো আমাদের দীর্ঘ বছরের এই লালিত স্বপ্ন। আজ আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।

দাকোপের ১নং পানখালী ইউনিয়নের ‘পানখালী গ্রামকে করা হচ্ছে সেই এসডিজি ভিলেজ। আগামী ১০ আগস্ট বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে ঘোষণা করবেন জেনে তাই আমাদের পানখালী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসব আর আনন্দের কমতি নেই।

অন্ধকারছন্ন এ গ্রামে বৈদ্যুতিক আলো ছড়াবে, গ্রামে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান হবে চতুরমুখি। কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষার আলো ছড়াবে এ গ্রামে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকারত্ব দুর হবে।

এ ছাড়াও মৌলিক সকল সুবিধা গুলো এ গ্রামে দেওয়া হলে এক সময় এ গ্রাম থেকেও সরকার অধিক রাজস্ব আদায়ের সুবিধা পাবেন। পানখালী গ্রামবাসীর স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, উদ্বোধনের অপেক্ষারত এসডিজি ভিলেজ পানখালী গ্রামের সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার সরজমিনে পানখালী গ্রাম পরিদর্শন করেছেন এবং গ্রামের স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন।

এর আগে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার উপজেলা প্রশাসনের দপ্তর প্রধানের সাথে মতবিনিময় কালে ‘পানখালী গ্রামের’ উন্নয়নে সকলের সার্বিক সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রাপ্য সেবা প্রদান নিশ্চিত করার পরামর্শ প্রদান করেন।

এছাড়াও সম্প্রতি পানখালী গ্রাম পরিদর্শন করেছেন খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এবং উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) খুলনার মো. আরিফুল ইসলাম।

ইউএনও আরো বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে দেশের তিনটি গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য বাস্তবায়নের আলোকে পানখালী গ্রামে দারিদ্র বিমোচন, জলাবদ্ধতা নিরসন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হারহ্রাস, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ, নারীর ক্ষমতায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপন, কৃষি ও জীবিকার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এসডিজি ভিলেজ হিসেবে পানখালীকে গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রামটির সার্বিক উন্নয়ন ও তরান্বিত হবে। এ গ্রামের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ তাদের ভবিষ্যত অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একক চিন্তা ধারার প্রতিফলনে এদেশ দুর্বর গতিতে এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি এটি দেশের অন্যান্য গ্রামের জন্য এটি অনুসরণযোগ্য উন্নয়ন মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

পানখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পানখালী গ্রামের ইউপি সদস্য শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রত্যাশিত ও লালিত স্বপ্ন পানখালী গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে ঘোষনার দিনক্ষন ঠিক করেছেন। আগামী ১০ আগস্ট সোমবার প্রধানমন্ত্রী পানখালী গ্রামের সাথেও ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে ঘোষনা করবেন। তাই গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে এব অনান্য আনন্দের উৎসব সৃষ্টি হয়েছে।

পানখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহম্মেদ বলেন, সরকারের এ মহান উদ্যোগে গোটা পানখালী ইউনিয়নবাসী স্বাগত জানাচ্ছেন। সমুদ্র উপকূলীয় এ উপজেলার সদর ইউনিয়নের পানখালী গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে ঘোষণা হলে এ গ্রামের মানুষের ভাগ্যে বদল হবে। পানখালী গ্রামের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষ স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নানা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।


নির্বাচিত

ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিত হলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে: গভর্নর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিত হলে ব্যবসায়ীরা কর্মচারীদের ওপর নির্ভরতা নিয়ে ব্যাবসা পরিচালনা করতে পারবেন। এতে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, জাল নোটের ঝুঁকি এবং নগদ টাকা পরিবহনের ঝুঁকি কমবে। টাকা ছাপানোর জন্য বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়, ডিজিটাল মাধ্যমে পেমেন্ট বাস্তবায়ন হলে এ খরচ সাশ্রয় হবে।

শনিবার রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে ‘ক্যাশলেস ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে ‘Bangla QR’ লেনদেন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন।

​কর্মশালায় ২০ নারী মার্চেন্টসহ ১২০ জন ‘Bangla QR; ব্যবহারকারী মার্চেন্ট অংশ নেন। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ গ্রাহক ও মার্চেন্টদের মাঝে ডিজিটাল লেনদেনের বিশেষ করে ‘Bangla QR’-এর সুবিধা ও এর সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

গভর্নর বলেন, বর্তমানে মাসে এক কোটি লেনদেন হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে দৈনিক এক কোটি লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমরা কাজ করছি। এক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক হলো বর্তমানে ৬ কোটি মানুষের বাটন ফোন ব্যবহার করা এবং তাদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকা। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের স্বল্পমূল্যে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

​​প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের প্রতিনিধি হাসান শাহরিয়ার।

হাসান শাহরিয়ার বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল মাসে ২০ লাখ লেনদেন। বর্তমানে মাসে এক কোটি লেনদেন হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছি। বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেন অগ্রযাত্রায় আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, একটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণের জন্য ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিমূলক পেমেন্ট সিস্টেম প্রয়োজন। বাংলা কিউআর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দেশে ২৪ লাখ মার্চেন্ট বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন এবং দৈনিক ২ লাখ লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মার্চেন্টদের সচেতনতার লক্ষ্যে প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ-১ এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. পারওয়েজ আনজাম মুনির, যুগ্মপরিচালক জুয়েল মজুমদার, ও মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন তিনটি সেশন পরিচালনা করেন। যাতে বাংলা কিউআর এর ব্যবহার পদ্ধতি, সুবিধা, প্রয়োজনীয়তা, সচেতনতার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পরে গভর্নর বাংলা কিউআর ব্যবহার সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, ক্রস বর্ডার পেমেন্ট সিস্টেমস চালু, চার্জ কমানোসহ নানা বিষয়ে মার্চেন্টদের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন।

​মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ কর্মশালাটি ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী ও সর্বজনীন করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

​কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়া, চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক (প্রশাসন) স্বরূপ কুমার চৌধুরী, পরিচালক (পরিদর্শন) মো. নুরুল আলম, পরিচালক (ব্যাংকিং) ইয়াসমিন রহমান বুলা, পরিচালক (বৈদেশিক মুদ্রা) মাহবুবুর রহমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ‘Bangla QR’ বাস্তবায়ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close