বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৮১ সালের ৮ ডিসেম্বর মাত্র ২৬ বছর বয়সে মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচারিক জীবন শুরু করেন। তারপর চার দশকের বিচারিক কর্মজীবন পার করে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিক বিচারিক কাজ থেকে অবসরে যান। সম্প্রতি তিনি দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আব্দুল জাব্বার খানকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তার ৪১ বছরের বিচারিক জীবনের কথা।
দৈনিক বাংলা: অবসরকালীন জীবন কেমন কাটছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: ভালোই কাটছে। তবে ব্যস্ততা কমেনি। মনে হয় আরও বাড়ছে। অবসরে অবসর কোথায়? হা হা…
দৈনিক বাংলা: স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় কোনো নারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যাত্রা শুরুর পর সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবসরে গেলেন। সব মিলিয়ে একজন নারীর বিচারক হিসেবে দীর্ঘ এই পথচলা কতটা সহজ ছিল?
কৃষ্ণা দেবনাথ: দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়, তখনই কিন্তু বাংলাদেশে মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসতে পারেনি। নারীদের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রথমেই আমরা পুরুষদের থেকে তিন বছর পিছিয়ে যাই। দেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরুর তিন বছর পরে নারীদের যাত্রার পরও আজকে নারীদের অবস্থান কোথায় সেটা দেখতে হবে। আমি নারী বিচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি ১৯৮১ সালে। প্রথম এসেছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, দ্বিতীয় যাত্রা শুরু করেছিলেন বিচারপতি জিনাত আরা। আর তৃতীয় হিসেবে যুক্ত হই আমি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো, আমরা তিনজনই আপিল বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছি। এটা ভাবতে ভালো লাগে।
নারী হিসেবে বিচারিক জীবনের তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে নারী বিচারকদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়, তাদের সাংসারিক জীবন নিয়ে। কেননা, এটা বদলির চাকরি। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলির কারণে সংসারটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা অনেক কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তো ছিলই।
দৈনিক বাংলা: সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হবেন এমন স্বপ্ন কি বিচারিক জীবনের শুরুতে কখনো দেখেছিলেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: না, এমনটি কখনোই ভাবিনি। এমনকি হাইকোর্টেও থাকাকালীন ভাবিনি যে আমি আপিল বিভাগে যাব। স্বপ্নও ছিল না। তবে আমার স্বপ্ন ছিল আমি জজ হব।
দৈনিক বাংলা: অনেক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরাই এখন প্রায় বেঁচে নেই, আপনি কি মনে করেন এখন নতুন যারা আসছেন, তারা সেই খ্যাতিম্যান আইনজীবীদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: দেখেন এটা শুধু আইনজীবীদের মধ্যে নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। সবখানেই অবক্ষয়। ধরেন আমার বাবা যে পরিমাণ লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করেছেন আমি তো মনি করি না, আমার সেটুকু আছে। কিন্তু আমি আশাবাদী নতুন প্রজন্ম থেকে অনেক ট্যালেন্ট উঠে আসছে, আসবে। একসময় নামকরা আইনজীবীরা ছিলেন। তারপর তাদের উত্তরসূরিরা এসেছেন। ঠিক এমনি করেই নতুনরা আইনজীবী হয়ে উঠবেন। এখন যারা নবীন আইনজীবী তাদের জন্য একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার এটা মোক্ষম সময়। তার কারণ জায়গাটা এখন অনেক খালি, সবকিছু প্রস্তুত হয়ে আছে, এখন দরকার শুধু অধ্যবসায়ের।
দৈনিক বাংলা: আপনার অবসর জীবনের শেষ দিনে বলেছিলেন, বিচারক নিজেকে স্বাধীন মনে না করলে সুবিচার সম্ভব না। এর মানে আপনি কী বুঝিয়েছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এই বাক্যটি আমি শুধু কথার কথা হিসেবে বলিনি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেই বলেছি। এখনো বিশ্বাস করি, একজন বিচারক নিজেকে যদি স্বাধীন মনে না করেন, তাহলে কাগজে-কলমে স্বাধীনতা দিয়েই কী লাভ। একজন বিচারক নিজের বিবেককে প্রশ্ন করবেন তিনি নিজে স্বাধীন কি না। কাগজে-কলমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে মাত্র কিছু বছর আগে। তার আগে আমরা বিচারকরা তো নিজেদের পরাধীন মনে করিনি, বিচারের কাজটি কিন্তু স্বাধীনভাবেই করেছি।
আমি মনে করি, একজন বিচারক মনেপ্রাণে নিজেকে স্বাধীন মনে করেন কি না, সেটাই বড় কথা। আমি জোর গলায়, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি ৪১ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পদে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে তো আমার কাছে কোনো তদবির আসেনি। নিজেকেই সেই জায়গা তৈরি করে নিতে হবে। আমি যখন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন অনেক জুনিয়র বিচারক বলতেন তদবির আসে। আমি তখন তাদের বলেছি, কই আমার কাছে তো কোনো তদবির আসে না। তদবির যাতে না আসে সেই পরিবেশ আপনার নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। বিচারকের স্বাধীনতার বিষয়টি নিজের সততা দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।
তদবির না শুনে একবার এক ব্যক্তিকে জামিন দিইনি বলে সেই সময় আমাকে মেহেরপুরের জেলা জজ থেকেও বদলি করা হয়েছিল। জেলা জজ থেকে সাড়ে চার বছর আমাকে কর্নার করে রাখা হয়েছিল। দুটি জেলার জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্পেশাল জজ করে রাখা হয়েছিল। আমি তো তখনো ভয় পাইনি। আমার কথা হলো, নিজেকে স্বাধীন রাখতে হলে বদলির ভয় করলে চলবে না। কী আর করবে বাংলাদেশের ভেতরেই তো বদলি করবে, আর তো কিছু না। বিচারক যদি বদলির ভয় বা নিজের লাভ-ক্ষতির চিন্তা করেন তাহলে তিনি স্বাধীন বিচারক হিসেবে কীভাবে কাজ করবেন। করতে পারবেন না। বিচারককে তার নিজের সততার ওপর শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। এখন কিন্তু দেওয়ানি মামলায় আপস করার সুযোগ আছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলা আপসের সুযোগ আছে। এখন যদি এটা ভালোভাবে কার্যকর হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ মামলাই আসবে না। এটা যদি সফল করা যায়, তাহলে মামলার জট অনেক কমে আসবে।
দৈনিক বাংলা: একটি মামলা শেষ করতে বছরের পর বছর লাগে কেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: মামলা শেষ করতে পক্ষগণেরই জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় কোনো না কোনো পক্ষই চায় না, দ্রুত মামলা শেষ হোক। মামলার জট সৃষ্টির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর জন্য শুধু বিচারকরা দায়ী তা বলা যাবে না বরং বাদী-বিবাদী, দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও দায় রয়েছে। একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য কম করে হলেও পাঁচটি পক্ষের সমন্বয় দরকার পড়ে, তবেই মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।
এ ছাড়া বিচারকসংকট রয়েছে বড় আকারে। এত বিশাল মামলার জট দ্রুত কমাতে হলে বিপুলসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। যেটা সরকারের পক্ষে সম্ভব না।
দৈনিক বাংলা: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো যেকোনো বিষয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, কেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এখন কিন্তু পত্রিকা খুললেই দেখা যায় হাইকোর্টের বিভিন্ন সংবাদ বা নির্দেশনা নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে। চোখ মেললেই কোর্ট-কাচারির খবর পাওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভুক্তভোগীকে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক আছে, মানুষ আদালতে এলে প্রতিকার পায়। আবার কিছু সময় দেখি একটা সাধারণ বিষয় নিয়েও মানুষকে হাইকোর্টে আসতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে তাহলে কিন্তু আদালতের ওপর এই চাপ আসে না। তারা সেটি করছে না। অনেক সময় আদালতের নির্দেশের পরও অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয় না। এটা ভালো দিক না।
দৈনিক বাংলা: বিচার বিভাগকে কি আরও শক্তিশালী হতে হবে, নাকি শক্তিশালীই আছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: বিচার বিভাগকে কেউ শক্তিশালী করে দেবে না। বিচার বিভাগকে নিজেকেই শক্তিশালী হতে হবে। একটা আদেশ হওয়ার পর ঝড়ঝাপটা আসতে পারে। সেটা বহন করার মতো বিচারক যদি আমরা হতে পারি তাহলে বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে। বিচারক যদি সেই ঝড়ঝাপটা সইবার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে সেটা হবে না।
দৈনিক বাংলা: বার ও বেঞ্চের সম্পর্ককে বলা হয় একটি পাখির দুটি ডানা। সম্প্রতি বিভিন্ন বারে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে, এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: সর্বজনীনভাবে আমি বলব, সাবলীল সম্পর্ক হ্রাস পেয়েছে। অনেক আগে থেকেই এই সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় বিচারকের দরজায় লাথি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সার্বিকভাবে বলব আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সম্পর্ক অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। আমার বক্তব্য হলো, একজন বিচারক যেহেতু একটু ওপরে বসেন, আইনজীবীরা একটু নিচে দাঁড়ান, এই যে বিচারকরা একটু অগ্রাধিকার স্থানে থাকেন সে জন্য বিচারকদের অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু করা যায় না। সেটি তাদের মাথায় থাকতে হবে। এ ছাড়া আইনজীবীদেরও সহিষ্ণু হতে হবে। দুপক্ষই যদি সহিষ্ণু হয় তাহলে কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরবে না।
আদালতের মর্যাদা কমলে কিন্তু আইনজীবীদেরই মর্যাদা কমবে। এটা তাদের বুঝতে হবে। কোনো বিচারকের ভুল হলে আইনজীবীরা তার ওপরের বিচারককে বলতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট আছে, আইন মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে বলার সুযোগ আছে। কিন্তু তাই বলে স্লোগান দেয়া উচিত না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে পূরণীয় ঘটনা বা অপ্রাপ্তি বলে কিছু আছে কি না?
কৃষ্ণা দেবনাথ: মানিকগঞ্জে একটি অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে পারিনি, এই একটি বিষয় আমার মনে এখনো গেঁথে আছে। আইনজীবীর ভুলের কারণে সেই আসামিকে সাজা দিতে পারিনি। যে কারণে খুব কষ্ট লেগেছিল। কারণ মামলায় আসামি শনাক্ত একটা বড় ব্যাপার। মামলায় বলা হয়েছে, চাঁদের আলোতে আসামিকে দেখা গেছে। কিন্তু পঞ্জিকাতে দেখা গেল সেদিন অমাবস্যা ছিল। তার ওপর আবার সেদিন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আইনজীবী মামলা শক্ত করতে গিয়ে চাঁদের আলোতে দেখেছে বলে বিবরণ দিয়েছেন কিন্তু সেদিন সেটা ছিল না। যে কারণে আসামি শনাক্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরঞ্জিত বিবরণ মূল ঘটনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ ছেলেটি মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করত, সেটি উল্লেখ থাকলেও হতো। অতিরঞ্জিত করার কারণে আসামি বেঁচে যায়। এই ঘটনা আমাকে পীড়া দেয়। তার কারণ চোখের সামনে দেখেছিলাম মেয়েটির ঝলসানো মুখ। কিন্তু তার ন্যায়বিচার আমি দিতে পারিনি।
দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে আপনি কতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এটা বলতে পারব না। তার কারণ, আমি গুনে রাখিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার ব্যাপারে আমি অনেক সতর্ক ছিলাম। আমি দুইয়ে দুইয়ে চার না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সাজা দিইনি। অনেক আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েও আমি স্বস্তি পেয়েছি। তার কারণ অকাট্য দলিল-প্রমাণ ছিল। সব থেকে বড় স্বস্তি পেয়েছি, যখন আমি ঢাকার জেলা জজ ছিলাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফাঁসির আসামিদের সাজা কার্যকর হবে। তখন ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার জন্য শেষ যে স্বাক্ষর দিতে হয়, জেলা জজ হিসেবে সেটা আমি দিয়েছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার কাছে লাল নথি এল, আমি তাতে স্বাক্ষর করলাম। এরপরই টিভিতে দেখলাম কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর শুরু করেছে। ঐতিহাসিক সেই মামলাটিতে শেষ স্বাক্ষর করেছিলাম। এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।
দৈনিক বাংলা: অবসরে কেমন কাটছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: অবসরে একদমই অবসর নেই। আমি রুট (প্রান্তিক) লেভেলের ভিকটিমদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সেটাই শুরু করেছি। দেখা যাক কতটা করতে পারি।
দৈনিক বাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে।
কৃষ্ণা দেবনাথ: আপনাকেও ধন্যবাদ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করলে আনসার বাহিনীর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও দক্ষ এবং গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। আজ বুধবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
সকাল ১০টায় আনসার-ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং পরে আকর্ষণীয় ব্যুত্থান মহড়া উপভোগ করেন। প্রদর্শনীর শেষে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের কাছে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে করমর্দন করেন।
সমাবেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ আনসার বাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তি ও দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তারা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বাহিনীর ১৩ হাজারেরও বেশি ফ্রিল্যান্সিং ও ফিল্ড ভিডিপি সদস্য বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সক্রিয় কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি নগর এলাকায় টিডিভি সদস্যরা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়োজিত রয়েছেন। বাহিনীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন যে, সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে এ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই বাহিনীর অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রাম থেকে শহর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকা পর্যন্ত আনসার সদস্যরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছেন। সম্প্রতি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলেও শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বাহিনীর সদস্যরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জাতীয় ক্রান্তিকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে এই বাহিনী আজ একটি অনন্য শৃঙ্খল বাহিনীর মর্যাদা অর্জন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি জেলায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের মুখ থেকে সরাসরি তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনেন। বর্ণাঢ্য এই সমাবেশে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ এবং বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্বদেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার সিলেটে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে সফরকারী পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের ধবলধোলাই করার অনন্য নজির গড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর আগে মিরপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল স্বাগতিক দল।
এই দুর্দান্ত জয়ের মধ্য দিয়ে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বড় ধরণের উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। ভারতকে টপকে এখন তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে টাইগাররা। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্জিত পয়েন্টের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ, যেখানে ভারতের পয়েন্ট ৪৮.১৫ শতাংশ। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক সাফল্য আগামীতে আরও সমৃদ্ধ হবে এবং এই ঐতিহাসিক বিজয় দেশের তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়াক্ষেত্রে অধিকতর উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দলের শৃঙ্খলা, একতা ও অদম্য আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, জয়ের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশ দল আগামীতে বিশ্বমঞ্চে আরও সুউচ্চ শিখরে পৌঁছাবে। সফল এই সফরের জন্য তিনি খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে বিশেষ ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। সেবা দেওয়া জনগণের প্রতি করুণা নয়, সরকারের দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশের টেকসই উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।’ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আজ থেকে হয়তো ১০০ বছর আগে, যে জমির মালিক ছিলেন মাত্র একজন, সময়ের পরিক্রমায় বর্তমানে সেই জমির মালিক হয়তো ১০০ কিংবা তারও বেশি। এভাবে ভূমির মালিকানা-শরিকানা যেমন বেড়েছে, স্বাভাবিকভাবেই জমির মালিকানা-সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়াকে রেকর্ডে রাখার জন্য ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্বও তেমন বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা, সিএস, আরএস বা ডিএস এই শব্দগুলোর সঙ্গে জমির মালিকমাত্রই কমবেশি পরিচিত। ফলে এসব বিষয়ে নিজেদের মালিকানা হালনাগাদ রাখতে মানুষকে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আসতে হতো। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে সাথে ভূমি ব্যবস্থাপনাও আধুনিক হয়েছে।
ভূমি-জমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও তত বেশি সহজ হয়ে যায়—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত করায় জমি-সংক্রান্ত দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে। একইসঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভূমি অফিসগুলোতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও কমবে। চলমান এই ভূমি মেলা আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনগণের নিজেদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে আরো সচেতন করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণও কমে আসছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা এবং জটিলতাও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পরিবারের শান্তি নষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে সময়ের অপরিহার্য দাবি।
উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত করতে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি প্রশাসনের প্রায় সকল সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে নাগরিকদের জন্য সেবা গ্রহণকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে ভূমিসেবা গ্রহণের জন্য মানুষকে আর অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।
দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে জনগণকে সহায়তার লক্ষ্যে সারাদেশে ভূমিসেবা মেলা আয়োজন এবং জমি ব্যবস্থাপনাকে আরো সহজ এবং আধুনিকায়ন করার ব্যাপারে আমরা জাতীয় নির্বাচনের কয়েক বছর আগে প্রণীত ৩১ দফা এবং সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারেও উল্লেখ করেছিলাম।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়েই নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চায়। কারণ, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের জনগণ বর্তমানে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায়। এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের আদালতগুলোতে দেওয়ানি এবং ফৌজদারি সব মিলিয়ে ৪৭ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন। এরমধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাই বেশি। সুতরাং, এ মুহূর্তে সরকারের সামনে প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আদালতে বিচারাধীন মামলার দ্রুততম নিষ্পত্তি। তবে প্রচলিত আদালতের বাইরেও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত কিংবা এডিআর (বিকল্প বিবাদ নিরসনের ব্যবস্থা) অর্থাৎ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মতো আইনানুগ মাধ্যম অবলম্বনের দিকে আরো জোর দেয়া জরুরি। এতে একদিকে বিরোধ নিষ্পত্তিতে যেমন অল্প সময় লাগবে অপরদিকে অনেকক্ষেত্রেই বিরোধ হয়তো শত্রুতায় রূপ নেবে না।
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ উক্তির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, ‘শক্তি দিয়ে শান্তি রক্ষা করা যায় না, বোঝাপড়ার মাধ্যমেই এটি অর্জন করা সম্ভব’।
বিশেষ করে জমিজমা সংক্রান্ত মামলা বা দেওয়ানি মামলাগুলো পর্যায়ক্রমে সমঝোতা বা মধ্যস্থতা, সালিশের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির পথ কার্যকর করা গেলে একদিকে আদালতে বিচারাধীন মামলার জট কমবে, অপরদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করাও সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি বা ভূমি শুধু একটুকরো সম্পদই নয় বরং মানুষের জীবনে এটি এক ধরনের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্থিতি, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি। এই উপলব্ধি থেকেই ভূমি ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের সকল জেলা উপজেলায় আজ থেকে শুরু হওয়া ভূমি মেলার মাধ্যমে জনগণ নিঃসন্দেহে উপকৃত হবেন। কারণ মেলায় ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান গ্রহণ এবং ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির সুবিধা থাকছে।
ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ উদ্দিন বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সমাজ কল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, আইন ও বিচার মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ সংসদ সদস্য ও সরকারের ঊধর্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সরকার গণমাধ্যম কমিশন গঠন হচ্ছে জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সমন্বিত রেগুলেশনের জন্য দেশে একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এ নিয়ে জুনের মধ্যেই পরামর্শক কমিটি গঠন করে একটি খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সমন্বিত রেগুলেশনের মধ্যে রাখতে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন তিনি। নির্বাচনী ইশতেহারে ও বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচিতেও এটি বলা হয়েছে। তারা সেই লক্ষ্যে এগোতে চান। অগ্রগতি হচ্ছে, সব অংশীজনই এখন এই লক্ষ্যের সঙ্গে যৌথ যাত্রার মধ্যে আছেন।
তিনি আরও বলে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জুন মাসের মধ্যে পরামর্শক কমিটি গঠন করে একটি খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আশা করছেন, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সরকারের কাছে এই প্রস্তাব দেওয়া সম্ভব হবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্র না থাকলে কোনো ক্ষেত্রেই উন্নয়ন সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র সবসময় আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রায় পাশে থেকেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প খাতের বড় একটি বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল আইটি চাকরি তৈরির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তাতে প্রযুক্তিতে উন্নত যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সহযোগিতা করবে বলে আমি আশা করি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) চিফ হুইপের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
চিফ হুইপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশনের উপপ্রধান মেগান বলডিন, রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ। সাক্ষাতের সময় তারা বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, গণতন্ত্রের উন্নয়ন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, উন্নয়ন, বাণিজ্যিক সম্পর্ক, জাতীয় সংসদের অধিবেশন ও সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি প্রান্তিক জনগণের উন্নয়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এগুলো বাস্তবায়নে গণতন্ত্রের যাত্রা মসৃণ হওয়া অত্রাবশ্যক। গণতন্ত্র না থাকলে কোনো ক্ষেত্রেই উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।
চিফ হুইপ বলেন, সংসদ হলো গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র। গণতন্ত্রের প্রতীক, এ ভবনের নির্মাতা লুই আই কানকে জনগণ সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশনের উপপ্রধান মেগান বলডিন বলেন, এটি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের একটি শক্তিশালী প্রতীক। আমেরিকান স্থাপত্যের ছাত্ররা প্রায়ই এ ভবনটি দেখার ইচ্ছা পোষণ করে, কারণ এটি লুই কানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে পরিচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবসময় প্রতিটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে।
এছাড়াও, প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কারের প্রশংসা করে। পাশাপাশি এ সংস্কারকে ওয়াশিংটনে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে বলে জানায় প্রতিনিধি দল।
দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে দুর্নীতি দমন, পরিবেশ রক্ষা এবং বন্যপ্রাণী পাচার রোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক ব্যাধি মোকাবিলার জন্য ৫ বছরে ৯০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।
সাক্ষাৎকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি তেলের জন্য চট্টগ্রাম-ঢাকা তেল পাইপলাইনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুন মাসের শেষে পুরোদমে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ শুরু হবে। মঙ্গলবার (১৯ মে) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের তিন মাসের মজুত রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সেক্টরকে অটোমেশন করা, এনার্জি সোর্স বহুমুখী করা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। সংকট হওয়ায় সরকারের সচেতনতা বাড়ছে। এখন মজুত বৃদ্ধি হতে শুরু করে ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
বৈঠক সূত্রে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের মজুত বৃদ্ধির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করার কথা আলোচনা হয়। এ সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা একমত হন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জ্বালানি নিয়ে স্থায়ী বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে আনা ক্রুড অয়েল যেন পরিশোধন করা যায়, সে ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফিলিং স্টেশন স্থাপন, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা যুগোপযোগীকরণের কাজ চলমান আছে। গ্যাস বিপণন নিয়মাবলি ২০১৪ হালনাগাদপূর্বক গ্যাস বিপণন নিয়মাবলি ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।
বৈঠকে জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধী দলের সদস্যদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ লিখিত আকারে কমিটির কাছে পাঠাতে আহ্বান করা হয়। কমিটি জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ সংসদে রিপোর্ট প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
কমিটির সভাপতি ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মঈনুল ইসলাম খান, সাইফুল আলম, নূরুল ইসলাম, আবদুল বাতেন, আবুল হাসনাত ও মোহাম্মদ আবুল হাসান।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, উন্নত বীজ উৎপাদন এবং বহুমুখী পাটপণ্যের প্রসারের মাধ্যমে দেশের পাট খাতকে বর্তমান প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় থেকে ৫ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী শিল্পে পরিণত করা সম্ভব। মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার ফার্মগেটে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টারে আয়োজিত বহুমুখী পাটপণ্য মেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে। সে সময় মোট রপ্তানি আয় ছিল ৩৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে পাট খাতের অবদান ছিল ৩১৩ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয় ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হলেও পাট খাতের অবদান প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ বাস্তবতায় পাট খাতের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগাতে সরকার সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাট খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে দেশে উন্নত মানের পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬ হাজার টন পাট বীজের চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরশীল।’
এই নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয়ভাবে মানসম্মত পাটবীজ উৎপাদন নিশ্চিত করা হবে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘কৃষককে ন্যায্যমূল্য দিতে হলে পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন নকশা উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্যের বাজার সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।’
তিনি জানান, পাট ও চামড়া খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উন্নত বীজ উদ্ভাবন, নতুন পণ্য উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার উপযোগী ডিজাইন তৈরিতে সহযোগিতা জোরদার করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টার এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো দ্রুত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মুনাফাভিত্তিক পরিচালনা নিশ্চিত করা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাট খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত আগ্রহী। তার নেতৃত্বে সরকার সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার আওতায় পাট খাতের প্রতিটি পর্যায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম বলেন, ‘সকলে মিলে পাটশিল্পের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিপ্লবকে এগিয়ে নিতে হবে। তাহলেই পাট তার অতীত গৌরব ফিরে পাবে, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাটচাষিসহ পাটশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বাড়তে থাকা যৌন সহিংসতা, নির্যাতন ও নৃশংস আচরণের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। মঙ্গলবার (১৯ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ সমাবেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, পরিবার ও গণপরিসরে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেছেন মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি মোমেনা শাহনূর। বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে নারী, কন্যাশিশু এমনকি ছেলেশিশুরাও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন ও জনপরিসর কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে সহিংসতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে মোমেনা শাহনূর বলেন, শত শত নির্যাতনের ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, একটি ছেলে শিশুও মাদ্রাসায় নিরাপদ নয়, কন্যাশিশুরাও কোথাও নিরাপদ নয়। আমরা নীরব থাকলে কখনও এই বিচারহীনতা শেষ হবে না। তিনি নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের সংবেদনশীলতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। তার ভাষ্য, দেশে সংঘটিত সহিংসতার মাত্র ৩ শতাংশ ঘটনার বিচার হয়, বাকি ৯৭ শতাংশই বিচারের বাইরে থেকে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের বিচারহীনতা, মব সন্ত্রাস ও প্রতিহিংসার রাজনীতি সমাজকে অমানবিক করে তুলছে।
লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে ৫৫৬ জন নারী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় কোমলমতি শিশু ও তরুণীরা বর্বর যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ভয়াবহতা বিবেচনায় সারা দেশের ৫৭টি জেলা শাখায় একযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি বলেন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। তিনি নাগরিকদের এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
বক্তব্য শেষে প্রস্তাব পাঠ করেন ঢাকা মহানগরের সদস্য ও শাহজাহানপুর পাড়া শাখার লিগ্যাল এইড সম্পাদক কাজী দ্রাকসিন্দ্রা জবীন টুইসি। প্রস্তাবে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে ‘শূন্য সহিংসতা নীতি’ গ্রহণ, দ্রুত বিচার নিশ্চিত, ধর্ষকের সঙ্গে ভুক্তভোগীর বিয়ে ও সালিশি মীমাংসা বন্ধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটি গঠন এবং গণপরিবহন ও গণপরিসরে নারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খিলগাঁও তিলপাপাড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক খালেদা ইয়াসমিন কণা।
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন মিরানা মাহরুখ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এই অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিসিএস ১৫তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ফারজানা মমতাজকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব করা হয়েছিল। এর আগে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে সচিব, জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়েই পরিবর্তন করা হচ্ছে।
ঢাকায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সিভিল এভিয়েশন একাডেমির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) প্রণীত ট্রেনিং ইনস্ট্রাক্টরস কোর্সের (টিআইসি) সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) বেবিচকের সদর দপ্তরের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বেবিচকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নিয়োজিত ২৪ জন কর্মকর্তা সফলভাবে টিআইসি কোর্স সম্পন্ন করে সনদ গ্রহণ করেন। আয়োজকেরা জানান, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষক তৈরির মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী ‘ওভারভিউ অব এভিয়েশন ট্রেনিং’ শীর্ষক উপস্থাপনায় আইকাওর গ্লোবাল এভিয়েশন ট্রেনিং (জিএটি), ট্রেইনএয়ার প্লাস প্রোগ্রাম, প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি ছিলেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা, কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবল প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশন একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, একাডেমি বর্তমানে ‘রুলস অব দ্য এয়ার’ এবং ‘এরোড্রোম অপারেশনস ফর এটিসিওস’ নামে দুটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কোর্স উন্নয়নের কাজ করছে। এসব কোর্স ভবিষ্যতে বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, এভিয়েশন সিকিউরিটি, এরোড্রোম অপারেশনস ও রেসকিউ অ্যান্ড ফায়ার ফাইটিংসহ বিভিন্ন খাতে প্রশিক্ষণ চাহিদা মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সিমুলেশন, মাঠপর্যায়ের অনুশীলন ও পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের প্রশিক্ষণ নিরাপত্তা ও দক্ষতা বাড়াবে।
সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, কোর্স সম্পন্নকারী কর্মকর্তারা এখন আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষক হিসেবে সক্ষমতা-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করতে পারবেন। জব টাস্ক অ্যানালাইসিস ও ট্রেনিং নিড অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে একাডেমিকে আঞ্চলিক উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে বেবিচকের সদস্য, পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমি ভবনে একটি বাটন প্রেসের মাধ্যমে দেশব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। এই মেলা আগামী ২১ মে পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় অনুষ্ঠিত হবে। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’।
উদ্বোধনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী ভূমি ভবনের বিভিন্ন স্টল ও সেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কল সেন্টার, নাগরিক সেবা কেন্দ্র এবং ডে-কেয়ার সেন্টারের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের কাছে নতুন ডিজিটাল ভূমি সেবাসমূহকে পরিচিত করানো, তাঁদের এ সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রান্তিক পর্যায়েও সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়া।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতে ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি ও দুর্নীতির নেতিবাচক ধারণা প্রচলিত ছিল, বর্তমান সরকার অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে তা দূর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই মেলার মাধ্যমে নাগরিকরা ঘরে বসেই ই-নামজারি, খতিয়ান সংগ্রহ এবং অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা সম্পর্কে সরাসরি জানতে ও গ্রহণ করতে পারবেন। উদ্বোধনের পর ভূমি মন্ত্রণালয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তাঁর সংক্ষিপ্ত ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থার নেতৃবৃন্দের সাথে অত্যন্ত ব্যস্ত ও ফলপ্রসূ সময় অতিবাহিত করেছেন। সোমবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের (ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট) উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে পৃথকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি মার্কিন ব্যুরো অব সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স (এসসিএ)-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সারেন।
বৈঠকগুলোতে শামা ওবায়েদ বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি ও সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ সুষ্ঠু ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে। দীর্ঘ বছর পর বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে পেয়েছে।’ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা এই সরকারের উন্নয়ন নীতি এবং বিদেশ নীতি সম্পর্কে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে। পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে সম্পর্ক ক্রমশ জোরদার হচ্ছে।’
সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান বা নীতির ব্যাখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষাই তাঁদের মূল অগ্রাধিকার। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘বিএনপি সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার নীতি খুব পরিষ্কার। যে কোনো কিছুতে প্রথমে এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। এই অবস্থান থেকে বিএনপি সরকার কখনও সরে যাবে না।’ তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্দেশে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি ‘মিড-ডে মিল’ আজ গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। যে উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল শিশুদের সুস্বাস্থ্য, ক্লাসে মনোযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা, সেই উদ্যোগই এখন ঢাকা পড়ে গেছে অনিয়মের চাদরে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক দুর্নীতি, নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ আর প্রকাশ্য অর্থ লুটপাটের অভিযোগে তীব্রভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে এই প্রকল্প। পুষ্টির আড়ালে চলা এই বিশৃঙ্খলার আদ্যোপান্ত নিয়ে দৈনিক বাংলার বিশেষ প্রতিবেদন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কতিপয় অসাধু ঠিকাদারের (খাবার সরবরাহকারী) কারণে ভালো এই উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। এর বাইরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনেরও গাফিলতি রয়েছে। স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা ডিম, রুটি ও অন্য খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও পচা বা অখাদ্য ডিম, কোথাও শক্ত ও নিম্নমানের রুটি, আবার কোথাও নির্ধারিত পুষ্টিমান না মেনে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
বর্তমানে ১৫০ উপজেলায় বাস্তবায়িত এই কর্মসূচির তিন বছরের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছর থেকে আরও ৩৪৮ উপজেলায় এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এতে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। মোট শিক্ষার্থী ২ কোটি ১ লাখের বেশি। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৬ লাখের বেশি। ২০২৪ সালে ঝরে পড়ার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা ২০২৩ সালে ছিল ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।
সময়োপযোগী উদ্যোগ: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি শুধু উপস্থিতি বাড়ায় না, শেখার ফলাফল উন্নত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য তিনি সরকারকে সাধুবাদ জানান। তবে খাবারের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। যেহেতু স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য কিনতে হয়, তাই কোনো সিন্ডিকেটের কবলে যেন না পড়ে, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তদারকির ক্ষেত্রে মায়েদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। এই কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা উচিত।
মান নিয়ে অভিযোগ: সরকারি দামে বরাদ্দ বেশি হলেও কোথাও কোথাও ১৪-১৫ টাকায় বানরুটি কেনা হয়। ডিম অনেক আগে থেকেই সেদ্ধ করে রাখা হয়। আবার কলা কাঁচা বা পচাও থাকে।
তালতলী (বরগুনা) : তালতলী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের শিশু শিক্ষার্থীদের পচা ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার বিরুদ্ধে। এতে শিশু শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া এবং শিক্ষায় অগ্রগতি মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ ওই সংস্থা ডিম, রুটি ও কলা সরবরাহ শুরু করেন। কিন্তু শুরুতেই কাঁচা কলা, পচা ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ ওঠে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুদিনের রুটি একসঙ্গে বিদ্যালয়ে দিয়ে যান। মেয়াদ থাকলেও ওই রুটি পচা। এছাড়া কাটা ডিম সরবরাহ করলেও ওই ডিমের মধ্য থেকে অধিকাংশ ডিম পচা। সিদ্ধ করার সময় পচা ডিম ধরা না পরলেও শিশুরা যখন খেতে শুরু করে তখন দুর্গন্ধ বেড়িয়ে আসে। তখন এগুলো খাওয়ার উপযোগী থাকে না।
সরদারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসিন ও মারিয়া জানান, ডিম ও রুটি পচা। খাওয়ার উপযোগী না, তাই ফেলে দিয়েছি।
তারা আরও বলেন, আমরা তো ডিম, রুটি ও কলা সরকারের কাছে খেতে চাইনি। যখন দিয়েছে তা পচা হবে কেনো?
ছাতনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, পচা ডিম ও রুটি না খেয়ে ফেলে দিয়েছি।
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছানো হয়েছিল পচা ও কাঁচা কলা। ফলে উপজেলার অধিকাংশ স্কুল এসব কলা ফিরিয়ে দিয়েছে। মার্চ মাসে পচা ও কাঁচা কলার ছবি–ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। ফলে প্রায় বিদ্যালয়ে বিস্কুট পেলেও সেদিন কলা পায়নি শিক্ষার্থীরা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, ৮-১০টি স্কুলে এ সমস্যা হয়েছে।
এদিকে, নরসিংদীতে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে মিড-ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। গত ২৫ এপ্রিল নরসিংদী শহরের বাসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। ওই সময় বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের খাবারের মান পর্যবেক্ষণ করেন এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ঘুরে দেখেন। খাবারের মান নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, মানোন্নয়ন না হলে কার্যাদেশ বাতিল করা হতে পারে।
পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা বানরুটিতে অস্বাভাবিক গন্ধ সন্দেহ হওয়ায় দুটি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
তখন সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, সারাদেশে মিড-ডে মিলের মান পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে কোনো ত্রুটি না থাকে এবং তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত হয়।
একইদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল খেয়ে আবার ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শিক্ষা কর্মকর্তা। অভিভাবকদের অভিযোগ, সম্প্রতি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে বেশ কয়েকবার শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে।
বাপ্পি রায়হান নামের এক অভিভাবক জানান, তার সন্তান ২২ এপ্রিল বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল খেয়ে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বাড়িতে রয়েছে। একই খাবার খেয়ে পরে আরও ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে বলে শুনেছি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিনের মতো ২৫ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে তাদের পাউরুটি, দুধ, কলা ও ডিম বিতরণ করা হয়। এগুলো খাওয়ার কিছুক্ষণ পর একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের বমি, তীব্র পেটব্যথা, মাথা ঘোরা ও চোখে জ্বালাপোড়া শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে স্কুলে গিয়ে দেখি- চারদিকে শুধু শিশুদের আহাজারি। কেউ বারবার বমি করছে, কেউ তীব্র পেটব্যথায় মাটিতে গড়াগড়ি করছে। কারও মাথা ঘোরায় ঠিক মতো দাঁড়াতে পারছে না। পুরো বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চাতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. মেফতাহুদ্দৌলা বলেন, গাক-এর দেওয়া খাবার খাওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের সবারই পেটে ব্যথা ও বমি হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসেন খান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এতে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরও আগে ৮ এপ্রিল মাদারীপুর সদর উপজেলায় এই খাবার খেয়ে উপজেলার ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ১৭ শিক্ষার্থীকে দ্রুত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, বর্তমান পদ্ধতিতে ঝুঁকি রয়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি জোরদার করা গেলে মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। এ ছাড়া অভিযোগের কারণে বানরুটি, কলা ও ডিম পরিবর্তনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বলছে, প্রথম দিকে সব খাবার দেওয়া হতো, এখন খাবার কম দেওয়া হয়। বিশেষ করে শুধু বানরুটি যেদিন দেওয়া হয়, সেদিন খেতে কষ্ট হয়।
কঠোর অবস্থানে সরকার: মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে গতকাল সোমবার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম, গাফিলতি বা মানহীনতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্ব।
প্রতিমন্ত্রী বৈঠকে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনুমোদিত নমুনা অনুযায়ী নির্ধারিত প্যাকেজিং কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হবে না। সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পণ্য সরবরাহকারী চালক এবং জাতীয় পরিচয়পত্রধারী ব্যক্তি একই হতে হবে এবং সরবরাহের সময় বাধ্যতামূলকভাবে পরিচয় যাচাই করা হবে।
তিনি যোগ করেন, কোনো অবস্থাতেই সাব-কন্ট্রাক্ট বা উপঠিকাদারি দেওয়া যাবে না এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। মিড-ডে মিল কার্যক্রমের মান ও গুণগতমান নিশ্চিত করতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতি মাসে দুইবার আকস্মিকভাবে কারখানা পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খাদ্য নিরাপত্তা ও সেবার মান তদারকিতে বিদ্যালয় পর্যায়ে মায়েদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের অভিভাবক কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য এবং তিনজন অভিভাবক মা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, মিড-ডে মিলের প্রজেক্ট ডিরেক্টরসহ অন্য কর্মকর্তারা।
এর আগে মিড-ডে মিলের খাবার গ্রহণ ও বিতরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি, শৈথিল্য বা অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বলা হয়েছে, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পচা বানরুটি, নষ্ট ডিম, ছোট ও পচা কলা বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে মানসম্মত খাদ্য সরবরাহে ঘাটতির কারণে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়াসহ কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যের মান নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়ামাত্রই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খাবারের মান রক্ষায় আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।
প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার তালতলী(বরগুনা), আনোয়ারা (চট্টগ্রাম), নরসিংদী, মাদারীপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি।