সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
কৃষ্ণা দেবনাথের সাক্ষাৎকার

অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্ক 

কৃষ্ণা দেবনাথ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৯ মার্চ, ২০২৩ ১৬:১২
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৩ ০৮:১০

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৮১ সালের ৮ ডিসেম্বর মাত্র ২৬ বছর বয়সে মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচারিক জীবন শুরু করেন। তারপর চার দশকের বিচারিক কর্মজীবন পার করে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিক বিচারিক কাজ থেকে অবসরে যান। সম্প্রতি তিনি দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আব্দুল জাব্বার খানকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তার ৪১ বছরের বিচারিক জীবনের কথা।

দৈনিক বাংলা: অবসরকালীন জীবন কেমন কাটছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: ভালোই কাটছে। তবে ব্যস্ততা কমেনি। মনে হয় আরও বাড়ছে। অবসরে অবসর কোথায়? হা হা…

দৈনিক বাংলা: স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় কোনো নারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যাত্রা শুরুর পর সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবসরে গেলেন। সব মিলিয়ে একজন নারীর বিচারক হিসেবে দীর্ঘ এই পথচলা কতটা সহজ ছিল?

কৃষ্ণা দেবনাথ: দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়, তখনই কিন্তু বাংলাদেশে মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসতে পারেনি। নারীদের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রথমেই আমরা পুরুষদের থেকে তিন বছর পিছিয়ে যাই। দেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরুর তিন বছর পরে নারীদের যাত্রার পরও আজকে নারীদের অবস্থান কোথায় সেটা দেখতে হবে। আমি নারী বিচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি ১৯৮১ সালে। প্রথম এসেছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, দ্বিতীয় যাত্রা শুরু করেছিলেন বিচারপতি জিনাত আরা। আর তৃতীয় হিসেবে যুক্ত হই আমি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো, আমরা তিনজনই আপিল বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছি। এটা ভাবতে ভালো লাগে।

নারী হিসেবে বিচারিক জীবনের তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে নারী বিচারকদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়, তাদের সাংসারিক জীবন নিয়ে। কেননা, এটা বদলির চাকরি। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলির কারণে সংসারটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা অনেক কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তো ছিলই।

দৈনিক বাংলা: সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হবেন এমন স্বপ্ন কি বিচারিক জীবনের শুরুতে কখনো দেখেছিলেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: না, এমনটি কখনোই ভাবিনি। এমনকি হাইকোর্টেও থাকাকালীন ভাবিনি যে আমি আপিল বিভাগে যাব। স্বপ্নও ছিল না। তবে আমার স্বপ্ন ছিল আমি জজ হব।

দৈনিক বাংলা: অনেক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরাই এখন প্রায় বেঁচে নেই, আপনি কি মনে করেন এখন নতুন যারা আসছেন, তারা সেই খ্যাতিম্যান আইনজীবীদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: দেখেন এটা শুধু আইনজীবীদের মধ্যে নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। সবখানেই অবক্ষয়। ধরেন আমার বাবা যে পরিমাণ লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করেছেন আমি তো মনি করি না, আমার সেটুকু আছে। কিন্তু আমি আশাবাদী নতুন প্রজন্ম থেকে অনেক ট্যালেন্ট উঠে আসছে, আসবে। একসময় নামকরা আইনজীবীরা ছিলেন। তারপর তাদের উত্তরসূরিরা এসেছেন। ঠিক এমনি করেই নতুনরা আইনজীবী হয়ে উঠবেন। এখন যারা নবীন আইনজীবী তাদের জন্য একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার এটা মোক্ষম সময়। তার কারণ জায়গাটা এখন অনেক খালি, সবকিছু প্রস্তুত হয়ে আছে, এখন দরকার শুধু অধ্যবসায়ের।

দৈনিক বাংলা: আপনার অবসর জীবনের শেষ দিনে বলেছিলেন, বিচারক নিজেকে স্বাধীন মনে না করলে সুবিচার সম্ভব না। এর মানে আপনি কী বুঝিয়েছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এই বাক্যটি আমি শুধু কথার কথা হিসেবে বলিনি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেই বলেছি। এখনো বিশ্বাস করি, একজন বিচারক নিজেকে যদি স্বাধীন মনে না করেন, তাহলে কাগজে-কলমে স্বাধীনতা দিয়েই কী লাভ। একজন বিচারক নিজের বিবেককে প্রশ্ন করবেন তিনি নিজে স্বাধীন কি না। কাগজে-কলমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে মাত্র কিছু বছর আগে। তার আগে আমরা বিচারকরা তো নিজেদের পরাধীন মনে করিনি, বিচারের কাজটি কিন্তু স্বাধীনভাবেই করেছি।

আমি মনে করি, একজন বিচারক মনেপ্রাণে নিজেকে স্বাধীন মনে করেন কি না, সেটাই বড় কথা। আমি জোর গলায়, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি ৪১ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পদে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে তো আমার কাছে কোনো তদবির আসেনি। নিজেকেই সেই জায়গা তৈরি করে নিতে হবে। আমি যখন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন অনেক জুনিয়র বিচারক বলতেন তদবির আসে। আমি তখন তাদের বলেছি, কই আমার কাছে তো কোনো তদবির আসে না। তদবির যাতে না আসে সেই পরিবেশ আপনার নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। বিচারকের স্বাধীনতার বিষয়টি নিজের সততা দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।

তদবির না শুনে একবার এক ব্যক্তিকে জামিন দিইনি বলে সেই সময় আমাকে মেহেরপুরের জেলা জজ থেকেও বদলি করা হয়েছিল। জেলা জজ থেকে সাড়ে চার বছর আমাকে কর্নার করে রাখা হয়েছিল। দুটি জেলার জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্পেশাল জজ করে রাখা হয়েছিল। আমি তো তখনো ভয় পাইনি। আমার কথা হলো, নিজেকে স্বাধীন রাখতে হলে বদলির ভয় করলে চলবে না। কী আর করবে বাংলাদেশের ভেতরেই তো বদলি করবে, আর তো কিছু না। বিচারক যদি বদলির ভয় বা নিজের লাভ-ক্ষতির চিন্তা করেন তাহলে তিনি স্বাধীন বিচারক হিসেবে কীভাবে কাজ করবেন। করতে পারবেন না। বিচারককে তার নিজের সততার ওপর শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। এখন কিন্তু দেওয়ানি মামলায় আপস করার সুযোগ আছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলা আপসের সুযোগ আছে। এখন যদি এটা ভালোভাবে কার্যকর হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ মামলাই আসবে না। এটা যদি সফল করা যায়, তাহলে মামলার জট অনেক কমে আসবে।

দৈনিক বাংলা: একটি মামলা শেষ করতে বছরের পর বছর লাগে কেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: মামলা শেষ করতে পক্ষগণেরই জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় কোনো না কোনো পক্ষই চায় না, দ্রুত মামলা শেষ হোক। মামলার জট সৃষ্টির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর জন্য শুধু বিচারকরা দায়ী তা বলা যাবে না বরং বাদী-বিবাদী, দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও দায় রয়েছে। একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য কম করে হলেও পাঁচটি পক্ষের সমন্বয় দরকার পড়ে, তবেই মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।

এ ছাড়া বিচারকসংকট রয়েছে বড় আকারে। এত বিশাল মামলার জট দ্রুত কমাতে হলে বিপুলসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। যেটা সরকারের পক্ষে সম্ভব না।

দৈনিক বাংলা: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো যেকোনো বিষয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, কেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এখন কিন্তু পত্রিকা খুললেই দেখা যায় হাইকোর্টের বিভিন্ন সংবাদ বা নির্দেশনা নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে। চোখ মেললেই কোর্ট-কাচারির খবর পাওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভুক্তভোগীকে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক আছে, মানুষ আদালতে এলে প্রতিকার পায়। আবার কিছু সময় দেখি একটা সাধারণ বিষয় নিয়েও মানুষকে হাইকোর্টে আসতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে তাহলে কিন্তু আদালতের ওপর এই চাপ আসে না। তারা সেটি করছে না। অনেক সময় আদালতের নির্দেশের পরও অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয় না। এটা ভালো দিক না।

দৈনিক বাংলা: বিচার বিভাগকে কি আরও শক্তিশালী হতে হবে, নাকি শক্তিশালীই আছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: বিচার বিভাগকে কেউ শক্তিশালী করে দেবে না। বিচার বিভাগকে নিজেকেই শক্তিশালী হতে হবে। একটা আদেশ হওয়ার পর ঝড়ঝাপটা আসতে পারে। সেটা বহন করার মতো বিচারক যদি আমরা হতে পারি তাহলে বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে। বিচারক যদি সেই ঝড়ঝাপটা সইবার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে সেটা হবে না।

দৈনিক বাংলা: বার ও বেঞ্চের সম্পর্ককে বলা হয় একটি পাখির দুটি ডানা। সম্প্রতি বিভিন্ন বারে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে, এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: সর্বজনীনভাবে আমি বলব, সাবলীল সম্পর্ক হ্রাস পেয়েছে। অনেক আগে থেকেই এই সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় বিচারকের দরজায় লাথি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সার্বিকভাবে বলব আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সম্পর্ক অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। আমার বক্তব্য হলো, একজন বিচারক যেহেতু একটু ওপরে বসেন, আইনজীবীরা একটু নিচে দাঁড়ান, এই যে বিচারকরা একটু অগ্রাধিকার স্থানে থাকেন সে জন্য বিচারকদের অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু করা যায় না। সেটি তাদের মাথায় থাকতে হবে। এ ছাড়া আইনজীবীদেরও সহিষ্ণু হতে হবে। দুপক্ষই যদি সহিষ্ণু হয় তাহলে কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরবে না।

আদালতের মর্যাদা কমলে কিন্তু আইনজীবীদেরই মর্যাদা কমবে। এটা তাদের বুঝতে হবে। কোনো বিচারকের ভুল হলে আইনজীবীরা তার ওপরের বিচারককে বলতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট আছে, আইন মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে বলার সুযোগ আছে। কিন্তু তাই বলে স্লোগান দেয়া উচিত না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে পূরণীয় ঘটনা বা অপ্রাপ্তি বলে কিছু আছে কি না?

কৃষ্ণা দেবনাথ: মানিকগঞ্জে একটি অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে পারিনি, এই একটি বিষয় আমার মনে এখনো গেঁথে আছে। আইনজীবীর ভুলের কারণে সেই আসামিকে সাজা দিতে পারিনি। যে কারণে খুব কষ্ট লেগেছিল। কারণ মামলায় আসামি শনাক্ত একটা বড় ব্যাপার। মামলায় বলা হয়েছে, চাঁদের আলোতে আসামিকে দেখা গেছে। কিন্তু পঞ্জিকাতে দেখা গেল সেদিন অমাবস্যা ছিল। তার ওপর আবার সেদিন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আইনজীবী মামলা শক্ত করতে গিয়ে চাঁদের আলোতে দেখেছে বলে বিবরণ দিয়েছেন কিন্তু সেদিন সেটা ছিল না। যে কারণে আসামি শনাক্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরঞ্জিত বিবরণ মূল ঘটনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ ছেলেটি মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করত, সেটি উল্লেখ থাকলেও হতো। অতিরঞ্জিত করার কারণে আসামি বেঁচে যায়। এই ঘটনা আমাকে পীড়া দেয়। তার কারণ চোখের সামনে দেখেছিলাম মেয়েটির ঝলসানো মুখ। কিন্তু তার ন্যায়বিচার আমি দিতে পারিনি।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে আপনি কতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এটা বলতে পারব না। তার কারণ, আমি গুনে রাখিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার ব্যাপারে আমি অনেক সতর্ক ছিলাম। আমি দুইয়ে দুইয়ে চার না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সাজা দিইনি। অনেক আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েও আমি স্বস্তি পেয়েছি। তার কারণ অকাট্য দলিল-প্রমাণ ছিল। সব থেকে বড় স্বস্তি পেয়েছি, যখন আমি ঢাকার জেলা জজ ছিলাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফাঁসির আসামিদের সাজা কার্যকর হবে। তখন ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার জন্য শেষ যে স্বাক্ষর দিতে হয়, জেলা জজ হিসেবে সেটা আমি দিয়েছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার কাছে লাল নথি এল, আমি তাতে স্বাক্ষর করলাম। এরপরই টিভিতে দেখলাম কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর শুরু করেছে। ঐতিহাসিক সেই মামলাটিতে শেষ স্বাক্ষর করেছিলাম। এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।

দৈনিক বাংলা: অবসরে কেমন কাটছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: অবসরে একদমই অবসর নেই। আমি রুট (প্রান্তিক) লেভেলের ভিকটিমদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সেটাই শুরু করেছি। দেখা যাক কতটা করতে পারি।

দৈনিক বাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে।

কৃষ্ণা দেবনাথ: আপনাকেও ধন্যবাদ।


নির্বাচিত

সদর দপ্তরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক

পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সুসংহত রাখা এবং জাতীয় বনজ সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর অবদান রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য
পুলিশ সদর দপ্তর চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিশেষ জাতীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার সকালে রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত পুলিশ সদর দপ্তর চত্বরে একটি চারাগাছ রোপণের মাধ্যমে তিনি এ অভিযানের সূচনা করেন।

উদ্বোধনী আয়োজনে পুলিশ সদর দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী পুলিশের প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিট, আঞ্চলিক পুলিশ ব্যারাক, বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং কার্যালয় প্রাঙ্গণের ফাঁকা স্থানে পরিকল্পিতভাবে ফলদ, বনজ, ভেষজ এবং নান্দনিক সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন জাতের গাছের চারা রোপণ করা হবে।

পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সুসংহত রাখা এবং জাতীয় বনজ সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর অবদান রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দেশব্যাপী সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

৯ মাসে মাদ্রাসায় ১০৯ শিক্ষার্থী যৌন নিপীড়নের শিকার

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন ঠেকাতে কার্যকর সুরক্ষা নীতির দাবি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ধর্মীয় অনুশাসন ও নিরাপদ পরিবেশে সন্তানকে গড়ে তোলার প্রত্যাশায় অভিভাবকেরা মাদ্রাসায় পাঠালেও সেখানে ছেলে শিশুদের যৌন নির্যাতন ও বলাৎকারের ঘটনা আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ফ্রান্সের (জেএমবিএফ) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম নয় মাসে দেশের মাদ্রাসাগুলোতে এ ধরনের ৭২টি ঘটনায় অন্তত ১০৯ জন শিক্ষার্থী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলেও নির্দেশনার ঘাটতি ও সুরক্ষার দুর্বলতায় অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

গত মে মাসে রাজধানীর বনশ্রীর একটি মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আবদুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ এ সংকটের একটি করুণ দৃষ্টান্ত। যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে আবদুল্লাহর মা মামলা করার পর মাদ্রাসার এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হলেও দীর্ঘ সাত মাসেও বিচার কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি আসেনি।

জেএমবিএফের সংগৃহীত তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশজুড়ে ছেলে শিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অন্তত ১৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে মোট ভুক্তভোগীর সংখ্যা ১৭১। এর মধ্যে ১৬১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার এবং ১০ জন শিকার হয়েছে ধর্ষণচেষ্টার। আর এসব ঘটনার একটি বড় অংশই ঘটেছে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ছেলে শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জটিলতাই অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের ভাষ্যমতে, এমন অভিযোগ ওঠার পর শিশুর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা, নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো এসওপি বা সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। ফলে আদালতে মেডিকেল ও ডিএনএ পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল প্রমাণ উপস্থাপনে ত্রুটি থেকে যায়, যা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পথে বড় অন্তরায় তৈরি করে। তদুপরি সামাজিক লোকলজ্জার আশঙ্কায় অনেক ঘটনাই চেপে যাওয়া হয়, যার কারণে ভুক্তভোগী শিশুরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত থেকে যায়।

এই দুরবস্থা থেকে উত্তরণে কেবল শাস্তির বিধানে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম বলেন, মাদ্রাসাসহ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এর পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করার ওপরও জোর দেন তিনি, যাতে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়া শিশুরা তাদের অভিযোগ জানাতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি বৃদ্ধি ও শিশু সুরক্ষা নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিষয়:

নির্বাচিত

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ জাপান পৌঁছেছেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ এখানে এসে পৌঁছেছেন।

প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের নিয়ে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটটি আজ জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫ মিনিট) নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা।


এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান সহ টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে সীমিতসংখ্যক সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, তারেক রহমান জাপানে পৌঁছানোর দিনই জাপানি নেত্রী তাকাইচির কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এরপর যৌথ সংবাদ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে এবং জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন থাকবে।

চার দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থা ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন করবেন এবং ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম গত ২০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করবে, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আলোচনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ)-এর কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা জোরদার করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

এছাড়া, উভয় পক্ষ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবে। প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য রাখবেন এবং জাপানের ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

তাঁর সফর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, 'জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ’ এবং ‘জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’-এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক।
পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “আমরা আশা করছি, এই সফরের সময় বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানি সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

উভয় পক্ষের মধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

আরও রয়েছেন, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারি শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও আছেন সফরসঙ্গী হিসেবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। জাপানি সহায়তায় ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে অবকাঠামো উন্নয়নসহ বেশ কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেছিলেন, আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে দেশটিতে সফর করেছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও
আপডেটেড ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাপান সফরে যাচ্ছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্যানুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়েছে।

ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।

প্রেস উইং আরও জানিয়েছে, তারেক রহমান জাপানের নারিতা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ওই দিনই জাপানি নেত্রী তাকাইচির কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এরপর যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তার, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

চার দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাপানের বড় কোম্পানি ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন করবেন। তিনি ‘জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম গত ২০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে।

পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

তিনি বলেন, এই সফর বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে। এছাড়া বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গতি ত্বরান্বিত করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ)-এর কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করা।

এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পাবে।

প্রধানমন্ত্রী ‘জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। তিনি জাপানের ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

তাঁর সফরসূচিতে ‘জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ’ এবং ‘জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন’-এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।

এছাড়া, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি)-এর গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।

সফরসূচির মধ্যে রয়েছে— চিবা প্রিফেকচারের ফুত্তসু সিটিতে এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন এবং নাগোয়াতে ইউনিক্লো-এর সদর দপ্তর ও টয়োটা কারখানা পরিদর্শন।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, উভয় পক্ষ কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও সহযোগিতা চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা করছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এই সফরকালে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে।

প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে তিন থেকে চারটি এই সফরকালে স্বাক্ষরিত হতে পারে। এছাড়া শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও আলাদা চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে।

এছাড়া অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে জাপানি সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

উভয় পক্ষের মধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গত এপ্রিলে তারেক রহমান একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। সেই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় সফরটি হচ্ছে। ওই বৈঠকে এশিয়া জুড়ে জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছিল।

এই সফরের প্রাক্কালে, ২০২৬-২০৩১ সময়কালে ১২টি অগ্রাধিকার খাতের জন্য প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিনিয়োগ প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু উদ্যোগ ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিআইজি-বি)’-এর সঙ্গে যুক্ত।

প্রস্তাবিত এই প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে— পরিবহন ও নগর সংযোগের জন্য ৩.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মাতারবাড়িসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের জন্য ৩.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, উৎপাদন শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর ও অটোমোবাইল খাতের জন্য ১.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের জন্য ১.২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামোর জন্য ৯৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এছাড়া কৃষি, ওষুধ শিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি (নীল অর্থনীতি), পর্যটন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং অন্যান্য খাতের জন্য আরও ৩.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটি’-এর চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অন্য সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিগণ।

১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। জাপানি সহায়তা ঢাকা মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন বড় অবকাঠামো প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

উল্লেখ্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেছিলেন। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে দেশটি সফর করেন। সূত্র : বাসস


নির্বাচিত

জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে দুই দেশ থেকে ৬ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে ছয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে পাঁচ কার্গো এবং কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচকের চেয়ে কম দামে এসব এলএনজি কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। রোববার ভার্চুয়ালি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৫১তম সভায় প্রস্তাব দুটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সভায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে এলএনজি কেনার দুটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। আলোচনা শেষে প্রস্তাব দুটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

প্রথম প্রস্তাবের আওতায় বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৯(২) বিধি অনুসরণ করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব এলএনজি কেনার প্রস্তাব করা হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জেকেএম সূচকের দামের চেয়ে ০.১৭ মার্কিন ডলার কম। এ ক্ষেত্রে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজন হলে এবং উভয় পক্ষ সম্মত হলে অতিরিক্ত কার্গো কেনার সুযোগ রাখার প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনার কথা বলা হয়েছে। কার্গোটি ২০২৬ সালের ২০ ডিসেম্বরের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

এই কার্গোর ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাজারের জেকেএম সূচকের তুলনায় কম দাম প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম হবে জেকেএম সূচকের দামের চেয়ে ০.১০ মার্কিন ডলার কম। এ প্রস্তাবে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসিকে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য খাতে গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিযোগিতামূলক দামে এলএনজি কেনা গেলে আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

তবে ছয় কার্গো এলএনজি কেনার মোট ব্যয়, সরবরাহের পূর্ণ সময়সূচি এবং এর ফলে সম্ভাব্য আর্থিক সাশ্রয়ের পরিমাণ সম্পর্কে সভার প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

সরকারের অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, দুই সরবরাহকারীর কাছ থেকে মোট ছয় কার্গো এলএনজি সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও একটি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।


নির্বাচিত

সরকারি ভবনের ছাদে সোলার বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট ভবনে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত থাকলে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ‘Enhancing Clean Energy Access through Rooftop Solar PV in Public Infrastructure’ শীর্ষক প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় রুফটপ সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট ভবনে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত থাকলে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।

কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে আলোচ্যসূচি অনুযায়ী প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয়। এরপর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রথম বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যান ও প্রাঙ্গণের অসমাপ্ত সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে জানানো হয়, কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২৬ সালে সম্পন্ন করা বিভিন্ন পূর্তকাজের বিস্তারিতও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সংসদের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুলশান, বনানী, উত্তরা, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় মোট ১ হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৪৪টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে।

রাজউকের এসব প্লট বরাদ্দে কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কাজ হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট পিটিশনের রুলের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটি বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, এ পর্যন্ত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ২০০টি প্লটের অনিয়মসংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এসব প্লটের নথিসংক্রান্ত কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে।

রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ ও অনিয়মের অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর এমপি, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল এমপি, এম মঞ্জুরুল করিম রনি এমপি, মো. রুহুল আমিন এমপি এবং মো. তাজউদ্দীন খান এমপি।

এ ছাড়া বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

সৌদি শ্রমবাজারে ধস, রেমিট্যান্সে বাড়ছে ঝুঁকি

# কর্মী পাঠানো কমেছে ৩১.৮ শতাংশ # মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও ফ্লাইট বিপর্যয়ে অনিশ্চয়তায় লাখো কর্মী # বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে জোর দেওয়ার তাগিদ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩২
বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান গন্তব্য সৌদি আরবের শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগ কমে যাওয়ায় দেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, নিরাপত্তা-সংকট ও বিমান চলাচলে বিঘ্নের প্রভাবে বিদেশে কর্মী পাঠানোর গতি কমেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরবের শ্রমবাজারের ওপর বাংলাদেশের অতিনির্ভরতা। ফলে দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গেছেন ৫ লাখ ৯০ হাজার ১৮৮ জন কর্মী। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৭৩৫ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশে কর্মী পাঠানো কমেছে ৩১.৮ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জের গভীরতা তুলে ধরে।

সৌদি আরবনির্ভরতায় বড় ধাক্কা: বাংলাদেশের বিদেশগামী কর্মীদের সবচেয়ে বড় গন্তব্য সৌদি আরব। বিএমইটির হিসাব বলছে, চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে গেছেন ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯৩৫ জন বাংলাদেশি কর্মী। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭৭ হাজার ১০ জন। ফলে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো কমেছে ৪৫.২ শতাংশ।

গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে বিদেশে কর্মী পাঠানোর মোট ঘাটতি ২ লাখ ৭৪ হাজার ৫৪৭ জন। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই কমেছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৫ জন। অর্থাৎ মোট ঘাটতির প্রায় ৯৫ শতাংশই সৌদি আরবের শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগ কমে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই চিত্র বাংলাদেশের শ্রমবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। একটি নির্দিষ্ট দেশের নিয়োগ পরিস্থিতির পরিবর্তন দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক কর্মসংস্থানে বড় প্রভাব ফেলছে। তাই নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিদ্যমান বাজারগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবে ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস ও কাজ করছেন। তাঁর ভাষ্য, এত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। দীর্ঘমেয়াদি চাপ মোকাবিলায় সরকার বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার চেষ্টা করছে।

সংঘাতের প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান ও মজুরিতে: ইয়েমেনের হুথি ও সৌদি আরবের সংঘাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি শ্রমবাজারের অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে নির্মাণ, অবকাঠামো, পরিবহন ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের গতি কমে যেতে পারে। এতে নতুন কর্মী নিয়োগের চাহিদা হ্রাসের পাশাপাশি আগে থেকে কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি ও আয়ের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদারের মতে, যুদ্ধের অনিশ্চয়তায় প্রবাসীরা সঞ্চিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে দিতে পারেন। এতে সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স বাড়লেও সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে কয়েক মাস পর সেই প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নলেজ হাব ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের সভাপতি খন্দকার গোলামও সতর্ক করেছেন, দীর্ঘ সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিনিয়োগ প্রকল্প ব্যাহত হতে পারে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশে মূলধনী ব্যয় কমলে নতুন শ্রমিকের চাহিদা কমবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান কর্মীদের ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ফ্লাইট বিপর্যয়ে বাড়ছে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি: আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবে বিমান চলাচলে বিঘ্ন বাংলাদেশের বিদেশগামী কর্মীদের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমে বিধিনিষেধের কারণে ১০ থেকে ২৩ অক্টোবরের মধ্যে ঢাকা থেকে ১৪১টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটে বিপর্যয় ঘটে। এতে ২১ হাজার ৯৩৩ জন যাত্রী আটকা পড়েন।

অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী বিদেশে চাকরি ও ভিসা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন। ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় তাদের যাত্রা, কাজে যোগদান এবং নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যাদের ভিসার মেয়াদ সীমিত, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানিয়েছেন, আটকে পড়া কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকার দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সক্রিয় রয়েছে। দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা গেলে কর্মীদের আর্থিক ক্ষতি ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানো সম্ভব হবে।

রেমিট্যান্স বাড়লেও স্বস্তি পুরোপুরি নেই: বিদেশে কর্মী পাঠানো কমলেও এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ৮.৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭.৫৯ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩.৩ শতাংশ।

এই সময়ে সৌদি আরব থেকে এসেছে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের ১৯.২ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে দেশটি থেকে এসেছিল ১.২৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। তবে এই প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে ২.৯৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে ২.৭৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এটি ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মাসিক প্রবাহ। সংঘাতের কারণে প্রবাসীদের আয় কমে গেলে কিংবা চাকরি হারানোর ঘটনা বাড়লে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্সে চাপ তৈরি হতে পারে।

বিকল্প শ্রমবাজারই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ: সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে কর্মী নিয়োগ কমলেও সব শ্রমবাজারে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে গেছেন ৬২ হাজার ৬৪৭ জন বাংলাদেশি কর্মী, যা গত বছরের একই সময়ের ৫৬ হাজার ৫৯১ জনের চেয়ে বেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী পাঠানোর সংখ্যাও ১০ হাজার ১৪২ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮৪৮ হয়েছে।

অন্যদিকে কাতারে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা ৮৬ হাজার ১৭১ থেকে কমে ৫২ হাজার ৬০ এবং কুয়েতে ৩৪ হাজার ৯২৮ থেকে কমে ২৫ হাজার ৩৫ হয়েছে। এসব তথ্য দেখায়, শ্রমবাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়নও জরুরি।

এ পরিস্থিতিতে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, বিদেশি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, নতুন দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুত এবং অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের চাকরির নিরাপত্তা, বেতন ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদান শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি লাখো পরিবারের জীবিকা, ভোগব্যয় ও সঞ্চয়ের সঙ্গেও যুক্ত। তাই সৌদি আরবের শ্রমবাজারে বর্তমান সংকটকে কেবল সাময়িক কর্মী নিয়োগের পতন হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটি বৈদেশিক কর্মসংস্থানে বহুমুখীকরণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং রেমিট্যান্সের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।


নির্বাচিত

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ, কর্মকর্তাদের গাফিলতি খতিয়ে দেখার সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের বিষয়টি উত্থাপন করা হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

কমিটি সুপারিশ করেছে, তথ্য পাওয়ার পরপরই ঘটনার পূর্ণ বিবরণ সংসদীয় কমিটিকে জানাতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো কনস্যুলার কর্মকর্তার গাফিলতি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার বিষয়েও কমিটিকে অবহিত করতে হবে।

বৈঠকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশনগুলোর কার্যক্রম, জনবল ও প্রবাসীদের সেবার মান নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ সেবা, হজ কার্যক্রম, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স এবং সৌদি শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রণালয় কমিটির সামনে একটি উপস্থাপনা দেয়।

সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশনগুলোর সেবার মান বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের বিস্তারিত আধুনিকায়ন পরিকল্পনা কমিটির সামনে উপস্থাপনেরও সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে কমিটি।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী ও সানজিদা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পররাষ্ট্র সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দাম্মাম-রিয়াদ রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত

# যাত্রীদের জন্য জেদ্দায় প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট # মদিনা রুটে নিয়মিত চলছে উড়োজাহাজ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে বিমানবন্দরগুলোতে চলমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-দাম্মাম ও ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিমান জানায়, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। এসব ফ্লাইটের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও সংশোধিত সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমও আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, ঢাকা-মদিনা রুটে নিয়মিতভাবে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।

টিকিট ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


নির্বাচিত

বন্যার ধাক্কা সামলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু নেপালের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্যার ধাক্কা সামলে বাংলাদেশে ফের ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করেছে নেপাল। ভারতের সঞ্চালন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গত শুক্রবার থেকে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৬ আগস্ট কুশী নদীতে সৃষ্ট হঠাৎ বন্যায় ত্রিশূলী ও চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি স্থগিত ছিল। এই দুটি কেন্দ্রই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদিত ছিল।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানান, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি নেপালের অন্যান্য জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহের অনুমতি দেওয়ার পর এই রপ্তানি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় সোলা খোলা ও কাভেলি বি-১ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে এবং লোয়ার মোদি খোলা কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ হরিয়ানায় সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের ত্রিশূলী, চিলিমে ও দেবীঘাট কেন্দ্রের ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে।

দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেন, বন্যা ও সঞ্চালন কাঠামোর ক্ষতি সত্ত্বেও অন্যান্য প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ বিক্রি অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে রপ্তানি শুরু করা নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর এনইএ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে ঋতুভিত্তিক বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য পাঁচ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী নেপাল প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত ২৬ আগস্ট নেপালে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের।


নির্বাচিত

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কমনওয়েলথ সম্মেলনের নেতৃত্ব দেবেন হুমায়ুন কবির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে নতুন দায়িত্ব পাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আগামী ১ থেকে ৪ নভেম্বর ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে (সিএইচওজিএম-২০২৬) বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। এ সফরে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন হুমায়ুন কবির। রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কমনওয়েলথের ৫৬টি সদস্য দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে। দুই বছর পরপর আয়োজিত এ বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিন্ন উন্নয়ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।

এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘সমৃদ্ধ কমনওয়েলথের জন্য অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা’। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সমতা ও টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।

বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে গুরুত্ব: হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কমনওয়েলথের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। সম্মেলনের আলোচনায় অংশ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, উন্নয়ন অর্থায়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মতো অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকবে।

বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও কমনওয়েলথের বৃহত্তর উন্নয়ন আলোচনার অংশ।

কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্মেলন নয়; সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন সমস্যা সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এবারের আয়োজনেও এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ুন কবিরের দায়িত্ব পালন এবং প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।

ক্যাপশনে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

সূচি অনুসারে, সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান।

বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন তিনি এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সফরের কর্মসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব আরোপ রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টেক্সটাইল খাতের চাহিদা পূরণে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী তৈরি এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ও বুটেক্সের অ্যালামনাই সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতি টেক্সটাইলকে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন দেশে ও বিদেশে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। এতে একদিকে দেশের দক্ষ জনশক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণে তুলার দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজে বের করা এবং কৃষি ও টেক্সটাইল খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।

পাশাপাশি পাট, আনারসের পাতা, কলাগাছসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে তন্তু সংগ্রহ ও সিনথেটিক সুতা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে বুটেক্সের ভূমিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, বিসিএস (টেক্সটাইল) নামে আলাদা ক্যাডার সৃষ্টি, বাজেট সম্প্রসারণ এবং ঢাকার পূর্বাচলে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপাচার্য আগামী বছরের মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ‘রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর’-কে সভাপতিত্ব করার আমন্ত্রণ জানালে রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে বুটেক্সের ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক শিল্পী আক্তার, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. হাসিনা আখতার, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা এবং ফ্যাকাল্টি অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. লামইয়া জাহির উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close