সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক ১৪৩৩
কৃষ্ণা দেবনাথের সাক্ষাৎকার

অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্ক 

কৃষ্ণা দেবনাথ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৯ মার্চ, ২০২৩ ১৬:১২
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৩ ০৮:১০

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৮১ সালের ৮ ডিসেম্বর মাত্র ২৬ বছর বয়সে মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচারিক জীবন শুরু করেন। তারপর চার দশকের বিচারিক কর্মজীবন পার করে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিক বিচারিক কাজ থেকে অবসরে যান। সম্প্রতি তিনি দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আব্দুল জাব্বার খানকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তার ৪১ বছরের বিচারিক জীবনের কথা।

দৈনিক বাংলা: অবসরকালীন জীবন কেমন কাটছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: ভালোই কাটছে। তবে ব্যস্ততা কমেনি। মনে হয় আরও বাড়ছে। অবসরে অবসর কোথায়? হা হা…

দৈনিক বাংলা: স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় কোনো নারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যাত্রা শুরুর পর সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবসরে গেলেন। সব মিলিয়ে একজন নারীর বিচারক হিসেবে দীর্ঘ এই পথচলা কতটা সহজ ছিল?

কৃষ্ণা দেবনাথ: দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়, তখনই কিন্তু বাংলাদেশে মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসতে পারেনি। নারীদের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রথমেই আমরা পুরুষদের থেকে তিন বছর পিছিয়ে যাই। দেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরুর তিন বছর পরে নারীদের যাত্রার পরও আজকে নারীদের অবস্থান কোথায় সেটা দেখতে হবে। আমি নারী বিচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি ১৯৮১ সালে। প্রথম এসেছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, দ্বিতীয় যাত্রা শুরু করেছিলেন বিচারপতি জিনাত আরা। আর তৃতীয় হিসেবে যুক্ত হই আমি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো, আমরা তিনজনই আপিল বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছি। এটা ভাবতে ভালো লাগে।

নারী হিসেবে বিচারিক জীবনের তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে নারী বিচারকদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়, তাদের সাংসারিক জীবন নিয়ে। কেননা, এটা বদলির চাকরি। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলির কারণে সংসারটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা অনেক কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তো ছিলই।

দৈনিক বাংলা: সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হবেন এমন স্বপ্ন কি বিচারিক জীবনের শুরুতে কখনো দেখেছিলেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: না, এমনটি কখনোই ভাবিনি। এমনকি হাইকোর্টেও থাকাকালীন ভাবিনি যে আমি আপিল বিভাগে যাব। স্বপ্নও ছিল না। তবে আমার স্বপ্ন ছিল আমি জজ হব।

দৈনিক বাংলা: অনেক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরাই এখন প্রায় বেঁচে নেই, আপনি কি মনে করেন এখন নতুন যারা আসছেন, তারা সেই খ্যাতিম্যান আইনজীবীদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: দেখেন এটা শুধু আইনজীবীদের মধ্যে নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। সবখানেই অবক্ষয়। ধরেন আমার বাবা যে পরিমাণ লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করেছেন আমি তো মনি করি না, আমার সেটুকু আছে। কিন্তু আমি আশাবাদী নতুন প্রজন্ম থেকে অনেক ট্যালেন্ট উঠে আসছে, আসবে। একসময় নামকরা আইনজীবীরা ছিলেন। তারপর তাদের উত্তরসূরিরা এসেছেন। ঠিক এমনি করেই নতুনরা আইনজীবী হয়ে উঠবেন। এখন যারা নবীন আইনজীবী তাদের জন্য একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার এটা মোক্ষম সময়। তার কারণ জায়গাটা এখন অনেক খালি, সবকিছু প্রস্তুত হয়ে আছে, এখন দরকার শুধু অধ্যবসায়ের।

দৈনিক বাংলা: আপনার অবসর জীবনের শেষ দিনে বলেছিলেন, বিচারক নিজেকে স্বাধীন মনে না করলে সুবিচার সম্ভব না। এর মানে আপনি কী বুঝিয়েছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এই বাক্যটি আমি শুধু কথার কথা হিসেবে বলিনি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেই বলেছি। এখনো বিশ্বাস করি, একজন বিচারক নিজেকে যদি স্বাধীন মনে না করেন, তাহলে কাগজে-কলমে স্বাধীনতা দিয়েই কী লাভ। একজন বিচারক নিজের বিবেককে প্রশ্ন করবেন তিনি নিজে স্বাধীন কি না। কাগজে-কলমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে মাত্র কিছু বছর আগে। তার আগে আমরা বিচারকরা তো নিজেদের পরাধীন মনে করিনি, বিচারের কাজটি কিন্তু স্বাধীনভাবেই করেছি।

আমি মনে করি, একজন বিচারক মনেপ্রাণে নিজেকে স্বাধীন মনে করেন কি না, সেটাই বড় কথা। আমি জোর গলায়, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি ৪১ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পদে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে তো আমার কাছে কোনো তদবির আসেনি। নিজেকেই সেই জায়গা তৈরি করে নিতে হবে। আমি যখন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন অনেক জুনিয়র বিচারক বলতেন তদবির আসে। আমি তখন তাদের বলেছি, কই আমার কাছে তো কোনো তদবির আসে না। তদবির যাতে না আসে সেই পরিবেশ আপনার নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। বিচারকের স্বাধীনতার বিষয়টি নিজের সততা দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।

তদবির না শুনে একবার এক ব্যক্তিকে জামিন দিইনি বলে সেই সময় আমাকে মেহেরপুরের জেলা জজ থেকেও বদলি করা হয়েছিল। জেলা জজ থেকে সাড়ে চার বছর আমাকে কর্নার করে রাখা হয়েছিল। দুটি জেলার জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্পেশাল জজ করে রাখা হয়েছিল। আমি তো তখনো ভয় পাইনি। আমার কথা হলো, নিজেকে স্বাধীন রাখতে হলে বদলির ভয় করলে চলবে না। কী আর করবে বাংলাদেশের ভেতরেই তো বদলি করবে, আর তো কিছু না। বিচারক যদি বদলির ভয় বা নিজের লাভ-ক্ষতির চিন্তা করেন তাহলে তিনি স্বাধীন বিচারক হিসেবে কীভাবে কাজ করবেন। করতে পারবেন না। বিচারককে তার নিজের সততার ওপর শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। এখন কিন্তু দেওয়ানি মামলায় আপস করার সুযোগ আছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলা আপসের সুযোগ আছে। এখন যদি এটা ভালোভাবে কার্যকর হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ মামলাই আসবে না। এটা যদি সফল করা যায়, তাহলে মামলার জট অনেক কমে আসবে।

দৈনিক বাংলা: একটি মামলা শেষ করতে বছরের পর বছর লাগে কেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: মামলা শেষ করতে পক্ষগণেরই জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় কোনো না কোনো পক্ষই চায় না, দ্রুত মামলা শেষ হোক। মামলার জট সৃষ্টির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর জন্য শুধু বিচারকরা দায়ী তা বলা যাবে না বরং বাদী-বিবাদী, দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও দায় রয়েছে। একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য কম করে হলেও পাঁচটি পক্ষের সমন্বয় দরকার পড়ে, তবেই মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।

এ ছাড়া বিচারকসংকট রয়েছে বড় আকারে। এত বিশাল মামলার জট দ্রুত কমাতে হলে বিপুলসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। যেটা সরকারের পক্ষে সম্ভব না।

দৈনিক বাংলা: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো যেকোনো বিষয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, কেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এখন কিন্তু পত্রিকা খুললেই দেখা যায় হাইকোর্টের বিভিন্ন সংবাদ বা নির্দেশনা নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে। চোখ মেললেই কোর্ট-কাচারির খবর পাওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভুক্তভোগীকে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক আছে, মানুষ আদালতে এলে প্রতিকার পায়। আবার কিছু সময় দেখি একটা সাধারণ বিষয় নিয়েও মানুষকে হাইকোর্টে আসতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে তাহলে কিন্তু আদালতের ওপর এই চাপ আসে না। তারা সেটি করছে না। অনেক সময় আদালতের নির্দেশের পরও অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয় না। এটা ভালো দিক না।

দৈনিক বাংলা: বিচার বিভাগকে কি আরও শক্তিশালী হতে হবে, নাকি শক্তিশালীই আছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: বিচার বিভাগকে কেউ শক্তিশালী করে দেবে না। বিচার বিভাগকে নিজেকেই শক্তিশালী হতে হবে। একটা আদেশ হওয়ার পর ঝড়ঝাপটা আসতে পারে। সেটা বহন করার মতো বিচারক যদি আমরা হতে পারি তাহলে বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে। বিচারক যদি সেই ঝড়ঝাপটা সইবার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে সেটা হবে না।

দৈনিক বাংলা: বার ও বেঞ্চের সম্পর্ককে বলা হয় একটি পাখির দুটি ডানা। সম্প্রতি বিভিন্ন বারে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে, এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: সর্বজনীনভাবে আমি বলব, সাবলীল সম্পর্ক হ্রাস পেয়েছে। অনেক আগে থেকেই এই সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় বিচারকের দরজায় লাথি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সার্বিকভাবে বলব আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সম্পর্ক অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। আমার বক্তব্য হলো, একজন বিচারক যেহেতু একটু ওপরে বসেন, আইনজীবীরা একটু নিচে দাঁড়ান, এই যে বিচারকরা একটু অগ্রাধিকার স্থানে থাকেন সে জন্য বিচারকদের অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু করা যায় না। সেটি তাদের মাথায় থাকতে হবে। এ ছাড়া আইনজীবীদেরও সহিষ্ণু হতে হবে। দুপক্ষই যদি সহিষ্ণু হয় তাহলে কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরবে না।

আদালতের মর্যাদা কমলে কিন্তু আইনজীবীদেরই মর্যাদা কমবে। এটা তাদের বুঝতে হবে। কোনো বিচারকের ভুল হলে আইনজীবীরা তার ওপরের বিচারককে বলতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট আছে, আইন মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে বলার সুযোগ আছে। কিন্তু তাই বলে স্লোগান দেয়া উচিত না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে পূরণীয় ঘটনা বা অপ্রাপ্তি বলে কিছু আছে কি না?

কৃষ্ণা দেবনাথ: মানিকগঞ্জে একটি অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে পারিনি, এই একটি বিষয় আমার মনে এখনো গেঁথে আছে। আইনজীবীর ভুলের কারণে সেই আসামিকে সাজা দিতে পারিনি। যে কারণে খুব কষ্ট লেগেছিল। কারণ মামলায় আসামি শনাক্ত একটা বড় ব্যাপার। মামলায় বলা হয়েছে, চাঁদের আলোতে আসামিকে দেখা গেছে। কিন্তু পঞ্জিকাতে দেখা গেল সেদিন অমাবস্যা ছিল। তার ওপর আবার সেদিন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আইনজীবী মামলা শক্ত করতে গিয়ে চাঁদের আলোতে দেখেছে বলে বিবরণ দিয়েছেন কিন্তু সেদিন সেটা ছিল না। যে কারণে আসামি শনাক্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরঞ্জিত বিবরণ মূল ঘটনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ ছেলেটি মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করত, সেটি উল্লেখ থাকলেও হতো। অতিরঞ্জিত করার কারণে আসামি বেঁচে যায়। এই ঘটনা আমাকে পীড়া দেয়। তার কারণ চোখের সামনে দেখেছিলাম মেয়েটির ঝলসানো মুখ। কিন্তু তার ন্যায়বিচার আমি দিতে পারিনি।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে আপনি কতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এটা বলতে পারব না। তার কারণ, আমি গুনে রাখিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার ব্যাপারে আমি অনেক সতর্ক ছিলাম। আমি দুইয়ে দুইয়ে চার না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সাজা দিইনি। অনেক আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েও আমি স্বস্তি পেয়েছি। তার কারণ অকাট্য দলিল-প্রমাণ ছিল। সব থেকে বড় স্বস্তি পেয়েছি, যখন আমি ঢাকার জেলা জজ ছিলাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফাঁসির আসামিদের সাজা কার্যকর হবে। তখন ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার জন্য শেষ যে স্বাক্ষর দিতে হয়, জেলা জজ হিসেবে সেটা আমি দিয়েছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার কাছে লাল নথি এল, আমি তাতে স্বাক্ষর করলাম। এরপরই টিভিতে দেখলাম কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর শুরু করেছে। ঐতিহাসিক সেই মামলাটিতে শেষ স্বাক্ষর করেছিলাম। এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।

দৈনিক বাংলা: অবসরে কেমন কাটছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: অবসরে একদমই অবসর নেই। আমি রুট (প্রান্তিক) লেভেলের ভিকটিমদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সেটাই শুরু করেছি। দেখা যাক কতটা করতে পারি।

দৈনিক বাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে।

কৃষ্ণা দেবনাথ: আপনাকেও ধন্যবাদ।


সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ব্যাখ্যা চাইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহকে ডেকে ব্যাখ্যা চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তাকে ডাকা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহকে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি উপস্থিত হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব-পশ্চিম) বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেন।

এর আগে শনিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদি সরকারকে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়েছি। আমরা একটু অপেক্ষা করি। দেশটির জবাব পেলে তারপরে পরিষ্কারভাবে বলতে পারব। মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদির কাছে যা যা জানার দরকার, সবকিছুই জানতে চেয়েছি’—উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নাজেরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সিতি আক্তার বলে জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত বুধবার ওই দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে তাদের এ সাজা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই দুই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

অপরাধের গুরুত্ব এবং স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইসলামি আইনের ‘তাজির’ ধারায় এ সাজা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটি।

তাজির হলো ইসলামি আইনে বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি। রায়ের পর রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে সাজা কার্যকর করতে বলা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে বিবৃতিতে। তবে ঠিক কী ধরনের অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, মক্কার কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল কিংবা কী অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।


ডিএনএ পরীক্ষার অপেক্ষায় ১০ মরদেহ

# হস্তান্তরে লাগতে পারে দুই সপ্তাহ # নিহতদের পরিচয় শনাক্তে সিআইডির ওপর নির্ভরতা # অনুমোদনহীন রিসোর্টে প্রাণহানি নিয়ে তদন্ত শুরু
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বজনদের দীর্ঘশ্বাস আর কান্না। কেউ এসেছেন স্ত্রীকে খুঁজতে, কেউ সন্তানকে, কেউবা পরিবারের একাধিক সদস্যকে। কিন্তু আগুনে মরদেহগুলো এমনভাবে পুড়ে বিকৃত হয়েছে যে, দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পরিচয় শনাক্তের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় এখন ডিএনএ পরীক্ষা। অথচ পর্যটননগরী কক্সবাজারে নেই এ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগার। ফলে নিহত ১০ পর্যটকের পরিচয় নিশ্চিত করতে নমুনা পাঠাতে হচ্ছে ঢাকার অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে। এতে মরদেহ হস্তান্তরে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

গত শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় কাঠের তৈরি তিন তলা টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে ১০ পর্যটক নিহত হন, দগ্ধ হন আরও ছয়জন। প্রায় সাত ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে বিকেল ৩টায় ১০টি মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে অভিযান শেষ হয়। দগ্ধ চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উড়োজাহাজে ঢাকায় পাঠানো হয়। অন্য দুজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর ছাড়া পান। রোববার সকাল থেকে নিহতদের স্বজনেরা হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষা করছেন। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় মরদেহ হস্তান্তর করা যাচ্ছে না।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেছেন, কক্সবাজারের ঘটনায় নিহত পরিবারের কয়েকজন রবিবার সকালে ঢাকার মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে ডিএনএ নমুনা দিতে এসেছেন। আমাদের ফরেনসিক বিভাগ কাজ করছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, নিহত ১০ জনের মধ্যে সাতজনের পরিবারের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ করতে পেরেছে। তাদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেলের ভাষ্য, দগ্ধ ও বিকৃত মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। কক্সবাজারে এ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ল্যাব ও যন্ত্রপাতি নেই। তাই নমুনা ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে পাঠাতে হচ্ছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হবে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর যশোরের একই পরিবারের চারজনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তারা হলেন নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোবাইনা (৭) ও সুনাইনা (৩)। গত ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষে তাদের থাকার বুকিং ছিল। নিহতদের তালিকায় তাদের নাম না থাকায় তারা আগুনে মারা গেছেন কি না, তা নিয়ে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

নাহিদুর রহমান যশোরের মণিরামপুরের মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন।

ঢাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তারেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দুই বান্ধবী আইরীন জাহান ও ইসরাত জাহানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রিসোর্টটিতে উঠেছিলেন তিনি। আইরীন জানান, শনিবার ভোরে তারা সূর্যোদয় দেখতে সমুদ্রসৈকতে যান। নাসরিনকে সঙ্গে যেতে বললেও তিনি ঘুমানোর জন্য রিসোর্টে থেকে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তারা রিসোর্টে আগুন দেখতে পান।

খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে কক্সবাজারে আসেন নাসরিনের স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। তিনি বলেন, টুপটুপ রিসোর্টে ছুটে গিয়েও নাসরিনকে পেলাম না। হাসপাতালে লাশের যে অবস্থা দেখলাম, কারও পরিচয় শনাক্ত করার উপায় নেই। পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ টেস্ট লাগবে।

নাসরিন আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। ছয় বছর আগে দেওয়ান ফয়সালের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানের নেতৃত্বে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও রিসোর্ট পরিচালনায় অনিয়ম তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সকালে কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আগুনের সূত্রপাত, অনুমোদন সংক্রান্ত অনিয়ম এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান তাসনীম জাহান সাংবাদিকদের বলেছেন, রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আগে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আগুনের সূত্রপাতের কারণ এবং অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার রাতে উখিয়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর আহমদ ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোর্শেদ এবং ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর মালিক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।


আইন করে অপতথ্য ও সাইবার অপরাধ ঠেকানো সম্ভব নয়: ইফতেখারুজ্জামান

# প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হলে বুমেরাং হবে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন (সংশোধন) পাস করা হলে সরকারের জন্য বুমেরাং ও আত্মঘাতী হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সামাজিক মাধ্যম জায়ান্ট মেটার (ফেসবুক) মুনাফাকেন্দ্রিক অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফরমের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে শুধু কঠোর আইন করে অপতথ্য ও সাইবার অপরাধ ঠেকানো সম্ভব নয়। রোববার রাজধানীর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। টিআইবি, ব্র্যাক, ব্লাস্ট, মহিলা পরিষদসহ মোট ১৯টি সংগঠন এই বৈঠকে অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে। আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারবো না। আপনাকে একদিন আমাদের কাছে আবার আসতে হবে। নোয়াব সভাপতি আরও বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার সমালোচনার বিরুদ্ধে আইন করতে চায়, কিন্তু ক্ষমতা হারানোর পর তারাই অন্যায়ের শিকার। পৃথিবীতে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, এ কারণে ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে আইন প্রণয়ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি রয়েছে।

বৈঠকে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তারা মেটার অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য ও ভুয়া খবর ছড়ানোর পেছনে প্ল্যাটফরমগুলোর বিপুল আর্থিক মুনাফার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসা বাড়ানোর স্বার্থে মেটা সংঘাত ও সহিংসতামূলক বক্তব্যকে বেশি প্রচার করে, অথচ ধর্মনিরপেক্ষ বা যৌক্তিক আলোচনাকে সেন্সর করে। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রযুক্তি ব্যবসার অশুভ আঁতাতের ফলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্ল্যাটফরমের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে সাধারণ নাগরিকদের ওপর আইন চাপিয়ে দেয়া কোনো টেকসই সমাধান নয়।

বৈঠকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি দেখে মনে হচ্ছে, এটি শুধু ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে গণমাধ্যমকর্মীদের হাত-পা বেঁধে দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একজন ব্যক্তির অপরাধ বা ভুলের কারণে পুরো গণমাধ্যম বা মিডিয়া হাউজ বন্ধ করে দেয়ার মতো বিধানও রয়েছে। গোলটেবিল বৈঠকে টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রধান ফৌজিয়া আফরোজ প্রমুখ অংশ নেন।


সচিব পর্যায়ে বড় রদবদল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনপ্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। সচিব পদমর্যাদার সাতজন কর্মকর্তার দপ্তর পরিবর্তনের পাশাপাশি একজন অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করা হয়েছে এবং দুজনকে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই রদবদলের আদেশ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজ আয়েশা আক্তারকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের দুজন অতিরিক্ত সচিবকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে নিজ মন্ত্রণালয়েরই ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবিরকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব করা হয়েছে।

বর্তমান সচিবদের কর্মস্থল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির (নাডা) রেক্টর হিসেবে বদলি করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (সচিব) করা হয়েছে। এছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমিকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ড. মো. কামরুজ্জামানকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা মো. জাকারিয়াকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


করব্যবস্থা সহজ করে নতুন করদাতা বাড়ানোর আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন ও সরকারের আয় বাড়াতে বর্তমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে কর দেওয়ার সামর্থ্য আছে—এমন নতুন নাগরিকদের করের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, কর দেওয়ার নিয়ম সহজ করতে হবে, করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে হবে এবং যাদের কর দেওয়ার সামর্থ্য আছে, তাদের স্বেচ্ছায় কর দিতে উৎসাহিত করতে হবে।

শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম (মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘তৃতীয় অভিষেক অনুষ্ঠান ও এমটিএম নাইট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য পূরণে রপ্তানির পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়ন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারের আয় বাড়ানো, অর্থের সঠিক হিসাব রাখা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতে এ হার প্রায় ১২ শতাংশ এবং চীনে ২০ শতাংশ। বাংলাদেশে করদাতার সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। তাই সরকারের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি করব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের কাজের দক্ষতা বাড়ানো এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার সময় বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত সুফল বা রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (আরওআই) বিবেচনা করতে হবে। সরকারি অর্থ খরচের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলকে গুরুত্ব দিতে হবে।

এমটিএম অ্যালামনাই সদস্যদের উদ্দেশে তিনি করসংক্রান্ত জটিলতা কমানো, অনলাইনে করব্যবস্থা বাড়ানো, কর ফাঁকি বন্ধ এবং করদাতাদের সেবার মান উন্নত করতে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান। সাধারণ মানুষের মধ্যে কর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সচিবালয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি জানান, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠের ৩১ একর জমির ওপর নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে এবং ২০২৯ সালের মধ্যেই সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের সমন্বিত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত ও কাজের গতি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার সার্বিক ব্যয় নির্ধারণের হিসাব-নিকাশ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

নতুন সচিবালয় নির্মাণের মহাপরিকল্পনায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রয়েছে বেজমেন্টসহ মোট ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, ১৪টি ১২ তলাবিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, দুটি মসজিদ, মাল্টিপারপাস হল, ক্যাফেটেরিয়া ও একটি আধুনিক ডাকঘর। এছাড়া আগারগাঁও এলাকার যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বেশ কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড রাস্তা ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। এদিকে বর্তমান সচিবালয়ের জায়গাটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পুরান ঢাকার বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর বা আদালতের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নির্ধারণ করা হবে।

একই বৈঠকে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা লেজিসলেটিভ যাচাই শেষে সোমবারই জারি হতে পারে। বৈশ্বিক সংঘাতের বাস্তবতায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনে ওপেক্স এবং ক্যাপেক্স—উভয় মডেলে দীর্ঘমেয়াদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে এই নতুন আইনে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘রটারডাম কনভেনশন অন দ্য প্রায়র ইনফর্মড কনসেন্ট প্রসিডিউর ফর সার্টেন হ্যাজার্ডাস কেমিক্যালস অ্যান্ড পেস্টিসাইডস ইন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এ বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক কিংবা কীটনাশকের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আমদানির পূর্বেই অবগত হওয়ার এবং ঝুঁকি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। পূর্বে বাংলাদেশ এই কনভেনশনের বাইরে থাকলেও এখন থেকে সব ধরনের বিপজ্জনক রাসায়নিক আমদানিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কাঠামো কার্যকর হবে।

বৈঠকে জাতীয় সংসদ ভবনের মাস্টার প্ল্যানের মূল কনসেপ্টেরও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের আন্তর্জাতিক প্রশংসিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলীর মূল ভাবাদর্শ বজায় রেখে এবং কানের ফর্মুলার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আধুনিক কিছু প্রয়োজনীয় সংযোজন যুক্ত করা হয়েছে। মূল কনসেপ্ট অনুমোদনের পর এখন স্থাপত্য, প্রকৌশল কাঠামো, বিদ্যুৎ এবং প্লাম্বিংসহ বিস্তারিত কারিগরি নকশা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৭’-এর। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বইমেলার এই আনুষ্ঠানিক সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকাশক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এ মেলা চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে গত ১৩ অক্টোবর সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাশক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই সভায় অংশ নেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও সচিব ইয়াসমিন বেগম। বিস্তারিত আলোচনার পর সবার ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে বইমেলার এই সময়সীমা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

আজ ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে তারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠককালে তারা বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। বিশেষ করে উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত করার বিষয়ে পারস্পরিক আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আলোচনায় প্রতিরক্ষা খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামরিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো গুরুত্বের সাথে স্থান পায়। এছাড়া শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দুই দেশের প্রশংসনীয় ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ভবিষ্যৎ পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ প্রশিক্ষণের সুযোগ নিয়ে বিশদ মতবিনিময় হয়।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রতিরক্ষা শিল্প ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতালি সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ইতালির অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ও যোগাযোগ দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক এবং সার্বিক দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে। সূত্র: বাসস


পরিকল্পনা ও সদিচ্ছায় পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো এলাকাকে মানুষের কল্যাণে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ঢাকার আমিনবাজারে গত দুই মাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন এর বড় প্রমাণ।

তিনি বলেন, ‘পরিবেশের সৌন্দর্য ধরে রাখতে স্থানীয়জনগণকে দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা থাকলে পরিবেশদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ রোববার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারে সড়কের পাশে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় দুই মাস আগে আমিনবাজার এলাকার যে অবস্থা ছিল, বর্তমানে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।এতে এলাকাটি যেমন দৃষ্টিনন্দন হয়েছে, তেমনি আশপাশের মানুষের জন্য অপেক্ষাকৃত সুন্দর পরিবেশে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

তিনি এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা বেগমসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের উদ্যোগে একটি এলাকাকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। এখন সেই সৌন্দর্য ও পরিবেশের উন্নয়ন ধরে রাখার দায়িত্ব স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নিতে হবে। সবাই সহযোগিতা করলে এলাকাটিকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা জেলা প্রশাসককে আমিনবাজারের আশপাশে ঢাকা জেলার আওতাধীন এলাকায় সবুজায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে বলেন।

তিনি বলেন, মহাসড়কের দুই পাশে থাকা মিল ও কারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট কিছু জায়গার পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের দেওয়া যেতে পারে।

একই সঙ্গে যেসব স্থানে এখনো ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে, সেসব জায়গা উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে আমিনবাজার ও এর আশপাশের এলাকার সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণ কমিয়ে স্থানীয় মানুষের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের প্রতিও আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ যেন নির্মল পরিবেশে বুকভরে শ্বাস নিতে পারে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ঢাকা জেলা প্রশাসক আমিনবাজারে পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য জেলার প্রশাসকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

এ উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যান্য জেলার জেলা প্রশাসকরাও নিজ নিজ এলাকার অনুরূপ স্থানগুলোকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির আওতায় ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: বাসস


ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সবুজায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে গাছের চারা রোপণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজ হাতে চারা রোপণের মধ্য দিয়ে তিনি মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে আমিনবাজার এলাকায় গিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের এ উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন সড়কের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলাতেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সড়কের পাশে সবুজায়ন নিশ্চিত করতে এবং রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।


বাংলাদেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বে আর কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে যখন হিংসা ও হানাহানির বিস্তার ঘটছে, তখন বাংলাদেশে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন। দেশের এই দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও তা সমুন্নত রাখার ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা কালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সুধীজনের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যার সমালোচনা করে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।

পূজার অন্তর্নিহিত দর্শন ব্যাখ্যা করে রাষ্ট্রপতি জানান, এই উৎসবের মূল চেতনার সঙ্গে অশুভ ও অসুরের বিরুদ্ধে বিজয়ের বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। অতীতেও এই জনপদে অশুভ শক্তির আবির্ভাব ঘটেছিল, তবে দেশের আপামর জনতা সম্মিলিতভাবে তাদের রুখে দিয়েছে। তিনি স্মরণ করেন যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অসুরের কবল থেকে জাতিকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।

দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশের নাগরিকরা নির্দ্বিধায় বলতে পারেন যে এমন সম্প্রীতির আবহ অন্য কোথাও নেই। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিদ্যমান অস্থিরতার বিপরীতে বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্ভয়ে পূজা উদযাপন এ দেশের সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য নিদর্শন।

মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকেও প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র রাখার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদেরও এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চক্রান্তের নিন্দা জানিয়ে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে দেশের সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সরকার সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।

রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার কারণে অনেক সাধারণ ভক্ত মণ্ডপের মূল অনুষ্ঠানে সমবেত হতে না পারায় কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, হাজারো মানুষের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে মণ্ডপে পৌঁছাতে পারলে তিনি আরও আনন্দিত হতেন। ভবিষ্যতে কোনো প্রকার কঠোর নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই যাতে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে সবাই ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসব পালন করতে পারেন, এমন এক ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।


শাহজালাল বিমানবন্দরে ৭ দিনে ১১ অভিযানে স্বর্ণ-সিগারেটসহ নানা পণ্য জব্দ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাত দিনে ১১টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন কাস্টমস হাউজ, ঢাকা। এসব অভিযানে প্রায় ৯৮ লাখ ৬১ হাজার টাকার সোনা ও সোনার অলংকারসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করা হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগেজ সুবিধার অতিরিক্ত বাণিজ্যিক পণ্য থেকে এক কোটি ১৮ লাখ ৬১ হাজার ২৫৬ টাকা শুল্ক-কর আদায় করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে ৫৮৯ লিটার মদ, ২ হাজার ৯২৩ কার্টন সিগারেট, ৩৫০টি ই-সিগারেট, আমদানি নিষিদ্ধ ২৮৬ কেজি ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, ৯২টি মোবাইল ফোন এবং ৩১৫ কেজি ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক বিভিন্ন পণ্যও জব্দ করা হয়।

এনবিআর জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে বিমানবন্দরে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার করে বাণিজ্যিক পণ্য আনার ক্ষেত্রেও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।


সওজের ৪ শতাধিক স্থাপনার ছাদে বসছে সৌর প্যানেল, উৎপাদন হবে ৫,১৪৪ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) চার শতাধিক স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছর থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব স্থাপনা ও অধিদপ্তরের অব্যবহৃত জায়গায় মোট ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মাধ্যমে সরকারি কার্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো, জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান রাখতে চায় সওজ।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সওজের বিভিন্ন ভবনের ছাদ ও অব্যবহৃত জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনায় ৪১০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

প্রধান প্রকৌশলী বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৮৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৯৬০ কিলোওয়াট সক্ষমতার ব্যবস্থা স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকারি স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো হবে।

সওজের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ২৪৪ কিলোওয়াট, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ১ হাজার ৫০০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চার অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার যোগফল ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট।

সওজের তথ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগের আওতায় অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভবনের ছাদ ছাড়াও অব্যবহৃত খালি জায়গাকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব জায়গায় মেগাওয়াট-স্কেলের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজও চলছে।

মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারি ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা গেলে নতুন করে জমি ব্যবহারের প্রয়োজন ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

তার মতে, দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ব্যবহার করা গেলে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রয়োজন কমবে। এতে বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সওজের যেসব স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না সওজ; বরং বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো, বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির প্রসারের একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচনা করছে।

সওজের এ উদ্যোগকে দেশের সামগ্রিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বাসস’কে বলেন, বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো ২০৫০ সালের নেট-জিরো জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে। এ কাজে সওজের ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়।

স্রেডার প্রকাশিত নীতিগত তথ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫-এ ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে সওজের মতো বড় সরকারি অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ভবন ও অব্যবহৃত জায়গাকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।

অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যালয়, প্রকৌশল স্থাপনা ও অন্যান্য ভবনের ছাদে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা গেলে বিদ্যুতের একটি অংশ নিজস্ব ব্যবস্থায় উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে দিনের বেলায় কার্যালয়ের বিদ্যুৎ চাহিদার কিছু অংশ পূরণ করা যাবে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা মিলবে।

তবে এ উদ্যোগের সুফল নির্ভর করবে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার কার্যকর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, উৎপাদিত বিদ্যুতের যথাযথ ব্যবহার এবং গ্রিডের সঙ্গে সংযোগের ওপর।

একই সঙ্গে কোন স্থাপনায় কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, কতটা নিজস্ব ব্যবহারে যাচ্ছে এবং এতে কত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে, এসব তথ্য নিয়মিত মূল্যায়ন করা হলে প্রকল্পের কার্যকারিতা নিরূপণ সহজ হবে।

সওজের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার অর্থবছরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অব্যবহৃত জমিতে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনাও কাজে লাগানো হবে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের পরিধি বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় অধিদপ্তরের অবদান আরও বাড়তে পারে। সূত্র: বাসস


banner close