শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
কৃষ্ণা দেবনাথের সাক্ষাৎকার

অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্ক 

কৃষ্ণা দেবনাথ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৯ মার্চ, ২০২৩ ১৬:১২
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৩ ০৮:১০

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৮১ সালের ৮ ডিসেম্বর মাত্র ২৬ বছর বয়সে মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচারিক জীবন শুরু করেন। তারপর চার দশকের বিচারিক কর্মজীবন পার করে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিক বিচারিক কাজ থেকে অবসরে যান। সম্প্রতি তিনি দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আব্দুল জাব্বার খানকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তার ৪১ বছরের বিচারিক জীবনের কথা।

দৈনিক বাংলা: অবসরকালীন জীবন কেমন কাটছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: ভালোই কাটছে। তবে ব্যস্ততা কমেনি। মনে হয় আরও বাড়ছে। অবসরে অবসর কোথায়? হা হা…

দৈনিক বাংলা: স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় কোনো নারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যাত্রা শুরুর পর সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবসরে গেলেন। সব মিলিয়ে একজন নারীর বিচারক হিসেবে দীর্ঘ এই পথচলা কতটা সহজ ছিল?

কৃষ্ণা দেবনাথ: দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়, তখনই কিন্তু বাংলাদেশে মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসতে পারেনি। নারীদের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রথমেই আমরা পুরুষদের থেকে তিন বছর পিছিয়ে যাই। দেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরুর তিন বছর পরে নারীদের যাত্রার পরও আজকে নারীদের অবস্থান কোথায় সেটা দেখতে হবে। আমি নারী বিচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি ১৯৮১ সালে। প্রথম এসেছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, দ্বিতীয় যাত্রা শুরু করেছিলেন বিচারপতি জিনাত আরা। আর তৃতীয় হিসেবে যুক্ত হই আমি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো, আমরা তিনজনই আপিল বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছি। এটা ভাবতে ভালো লাগে।

নারী হিসেবে বিচারিক জীবনের তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে নারী বিচারকদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়, তাদের সাংসারিক জীবন নিয়ে। কেননা, এটা বদলির চাকরি। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলির কারণে সংসারটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা অনেক কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তো ছিলই।

দৈনিক বাংলা: সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হবেন এমন স্বপ্ন কি বিচারিক জীবনের শুরুতে কখনো দেখেছিলেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: না, এমনটি কখনোই ভাবিনি। এমনকি হাইকোর্টেও থাকাকালীন ভাবিনি যে আমি আপিল বিভাগে যাব। স্বপ্নও ছিল না। তবে আমার স্বপ্ন ছিল আমি জজ হব।

দৈনিক বাংলা: অনেক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরাই এখন প্রায় বেঁচে নেই, আপনি কি মনে করেন এখন নতুন যারা আসছেন, তারা সেই খ্যাতিম্যান আইনজীবীদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: দেখেন এটা শুধু আইনজীবীদের মধ্যে নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। সবখানেই অবক্ষয়। ধরেন আমার বাবা যে পরিমাণ লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করেছেন আমি তো মনি করি না, আমার সেটুকু আছে। কিন্তু আমি আশাবাদী নতুন প্রজন্ম থেকে অনেক ট্যালেন্ট উঠে আসছে, আসবে। একসময় নামকরা আইনজীবীরা ছিলেন। তারপর তাদের উত্তরসূরিরা এসেছেন। ঠিক এমনি করেই নতুনরা আইনজীবী হয়ে উঠবেন। এখন যারা নবীন আইনজীবী তাদের জন্য একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার এটা মোক্ষম সময়। তার কারণ জায়গাটা এখন অনেক খালি, সবকিছু প্রস্তুত হয়ে আছে, এখন দরকার শুধু অধ্যবসায়ের।

দৈনিক বাংলা: আপনার অবসর জীবনের শেষ দিনে বলেছিলেন, বিচারক নিজেকে স্বাধীন মনে না করলে সুবিচার সম্ভব না। এর মানে আপনি কী বুঝিয়েছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এই বাক্যটি আমি শুধু কথার কথা হিসেবে বলিনি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেই বলেছি। এখনো বিশ্বাস করি, একজন বিচারক নিজেকে যদি স্বাধীন মনে না করেন, তাহলে কাগজে-কলমে স্বাধীনতা দিয়েই কী লাভ। একজন বিচারক নিজের বিবেককে প্রশ্ন করবেন তিনি নিজে স্বাধীন কি না। কাগজে-কলমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে মাত্র কিছু বছর আগে। তার আগে আমরা বিচারকরা তো নিজেদের পরাধীন মনে করিনি, বিচারের কাজটি কিন্তু স্বাধীনভাবেই করেছি।

আমি মনে করি, একজন বিচারক মনেপ্রাণে নিজেকে স্বাধীন মনে করেন কি না, সেটাই বড় কথা। আমি জোর গলায়, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি ৪১ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পদে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে তো আমার কাছে কোনো তদবির আসেনি। নিজেকেই সেই জায়গা তৈরি করে নিতে হবে। আমি যখন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন অনেক জুনিয়র বিচারক বলতেন তদবির আসে। আমি তখন তাদের বলেছি, কই আমার কাছে তো কোনো তদবির আসে না। তদবির যাতে না আসে সেই পরিবেশ আপনার নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। বিচারকের স্বাধীনতার বিষয়টি নিজের সততা দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।

তদবির না শুনে একবার এক ব্যক্তিকে জামিন দিইনি বলে সেই সময় আমাকে মেহেরপুরের জেলা জজ থেকেও বদলি করা হয়েছিল। জেলা জজ থেকে সাড়ে চার বছর আমাকে কর্নার করে রাখা হয়েছিল। দুটি জেলার জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্পেশাল জজ করে রাখা হয়েছিল। আমি তো তখনো ভয় পাইনি। আমার কথা হলো, নিজেকে স্বাধীন রাখতে হলে বদলির ভয় করলে চলবে না। কী আর করবে বাংলাদেশের ভেতরেই তো বদলি করবে, আর তো কিছু না। বিচারক যদি বদলির ভয় বা নিজের লাভ-ক্ষতির চিন্তা করেন তাহলে তিনি স্বাধীন বিচারক হিসেবে কীভাবে কাজ করবেন। করতে পারবেন না। বিচারককে তার নিজের সততার ওপর শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। এখন কিন্তু দেওয়ানি মামলায় আপস করার সুযোগ আছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলা আপসের সুযোগ আছে। এখন যদি এটা ভালোভাবে কার্যকর হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ মামলাই আসবে না। এটা যদি সফল করা যায়, তাহলে মামলার জট অনেক কমে আসবে।

দৈনিক বাংলা: একটি মামলা শেষ করতে বছরের পর বছর লাগে কেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: মামলা শেষ করতে পক্ষগণেরই জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় কোনো না কোনো পক্ষই চায় না, দ্রুত মামলা শেষ হোক। মামলার জট সৃষ্টির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর জন্য শুধু বিচারকরা দায়ী তা বলা যাবে না বরং বাদী-বিবাদী, দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও দায় রয়েছে। একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য কম করে হলেও পাঁচটি পক্ষের সমন্বয় দরকার পড়ে, তবেই মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।

এ ছাড়া বিচারকসংকট রয়েছে বড় আকারে। এত বিশাল মামলার জট দ্রুত কমাতে হলে বিপুলসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। যেটা সরকারের পক্ষে সম্ভব না।

দৈনিক বাংলা: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো যেকোনো বিষয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, কেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এখন কিন্তু পত্রিকা খুললেই দেখা যায় হাইকোর্টের বিভিন্ন সংবাদ বা নির্দেশনা নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে। চোখ মেললেই কোর্ট-কাচারির খবর পাওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভুক্তভোগীকে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক আছে, মানুষ আদালতে এলে প্রতিকার পায়। আবার কিছু সময় দেখি একটা সাধারণ বিষয় নিয়েও মানুষকে হাইকোর্টে আসতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে তাহলে কিন্তু আদালতের ওপর এই চাপ আসে না। তারা সেটি করছে না। অনেক সময় আদালতের নির্দেশের পরও অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয় না। এটা ভালো দিক না।

দৈনিক বাংলা: বিচার বিভাগকে কি আরও শক্তিশালী হতে হবে, নাকি শক্তিশালীই আছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: বিচার বিভাগকে কেউ শক্তিশালী করে দেবে না। বিচার বিভাগকে নিজেকেই শক্তিশালী হতে হবে। একটা আদেশ হওয়ার পর ঝড়ঝাপটা আসতে পারে। সেটা বহন করার মতো বিচারক যদি আমরা হতে পারি তাহলে বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে। বিচারক যদি সেই ঝড়ঝাপটা সইবার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে সেটা হবে না।

দৈনিক বাংলা: বার ও বেঞ্চের সম্পর্ককে বলা হয় একটি পাখির দুটি ডানা। সম্প্রতি বিভিন্ন বারে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে, এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: সর্বজনীনভাবে আমি বলব, সাবলীল সম্পর্ক হ্রাস পেয়েছে। অনেক আগে থেকেই এই সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় বিচারকের দরজায় লাথি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সার্বিকভাবে বলব আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সম্পর্ক অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। আমার বক্তব্য হলো, একজন বিচারক যেহেতু একটু ওপরে বসেন, আইনজীবীরা একটু নিচে দাঁড়ান, এই যে বিচারকরা একটু অগ্রাধিকার স্থানে থাকেন সে জন্য বিচারকদের অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু করা যায় না। সেটি তাদের মাথায় থাকতে হবে। এ ছাড়া আইনজীবীদেরও সহিষ্ণু হতে হবে। দুপক্ষই যদি সহিষ্ণু হয় তাহলে কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরবে না।

আদালতের মর্যাদা কমলে কিন্তু আইনজীবীদেরই মর্যাদা কমবে। এটা তাদের বুঝতে হবে। কোনো বিচারকের ভুল হলে আইনজীবীরা তার ওপরের বিচারককে বলতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট আছে, আইন মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে বলার সুযোগ আছে। কিন্তু তাই বলে স্লোগান দেয়া উচিত না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে পূরণীয় ঘটনা বা অপ্রাপ্তি বলে কিছু আছে কি না?

কৃষ্ণা দেবনাথ: মানিকগঞ্জে একটি অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে পারিনি, এই একটি বিষয় আমার মনে এখনো গেঁথে আছে। আইনজীবীর ভুলের কারণে সেই আসামিকে সাজা দিতে পারিনি। যে কারণে খুব কষ্ট লেগেছিল। কারণ মামলায় আসামি শনাক্ত একটা বড় ব্যাপার। মামলায় বলা হয়েছে, চাঁদের আলোতে আসামিকে দেখা গেছে। কিন্তু পঞ্জিকাতে দেখা গেল সেদিন অমাবস্যা ছিল। তার ওপর আবার সেদিন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আইনজীবী মামলা শক্ত করতে গিয়ে চাঁদের আলোতে দেখেছে বলে বিবরণ দিয়েছেন কিন্তু সেদিন সেটা ছিল না। যে কারণে আসামি শনাক্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরঞ্জিত বিবরণ মূল ঘটনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ ছেলেটি মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করত, সেটি উল্লেখ থাকলেও হতো। অতিরঞ্জিত করার কারণে আসামি বেঁচে যায়। এই ঘটনা আমাকে পীড়া দেয়। তার কারণ চোখের সামনে দেখেছিলাম মেয়েটির ঝলসানো মুখ। কিন্তু তার ন্যায়বিচার আমি দিতে পারিনি।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে আপনি কতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন?

কৃষ্ণা দেবনাথ: এটা বলতে পারব না। তার কারণ, আমি গুনে রাখিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার ব্যাপারে আমি অনেক সতর্ক ছিলাম। আমি দুইয়ে দুইয়ে চার না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সাজা দিইনি। অনেক আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েও আমি স্বস্তি পেয়েছি। তার কারণ অকাট্য দলিল-প্রমাণ ছিল। সব থেকে বড় স্বস্তি পেয়েছি, যখন আমি ঢাকার জেলা জজ ছিলাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফাঁসির আসামিদের সাজা কার্যকর হবে। তখন ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার জন্য শেষ যে স্বাক্ষর দিতে হয়, জেলা জজ হিসেবে সেটা আমি দিয়েছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার কাছে লাল নথি এল, আমি তাতে স্বাক্ষর করলাম। এরপরই টিভিতে দেখলাম কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর শুরু করেছে। ঐতিহাসিক সেই মামলাটিতে শেষ স্বাক্ষর করেছিলাম। এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।

দৈনিক বাংলা: অবসরে কেমন কাটছে?

কৃষ্ণা দেবনাথ: অবসরে একদমই অবসর নেই। আমি রুট (প্রান্তিক) লেভেলের ভিকটিমদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সেটাই শুরু করেছি। দেখা যাক কতটা করতে পারি।

দৈনিক বাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে।

কৃষ্ণা দেবনাথ: আপনাকেও ধন্যবাদ।


নির্বাচিত

সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় বাড়ল ৮.৫৪ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানোয় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশের রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে মাসভিত্তিক হিসাবে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেপ্টেম্বরে এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে রপ্তানি আয় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তৈরি পোশাক খাতেও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে এ খাতের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ইপিবির হিসাব বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ১৩ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার।

তবে সেপ্টেম্বরে বার্ষিক হিসাবে রপ্তানি আয় বাড়লেও আগের মাসের তুলনায় কমেছে। আগস্টে রপ্তানি আয় বেশি থাকায় মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ পতন হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে তৈরি পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে পুনরুদ্ধারের ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


নির্বাচিত

জামায়াত পারেনি, প্রধানমন্ত্রী পেরেছেন: অ্যাটর্নি জেনারেল

ছবি: অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামী তাদের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করলেও তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল রয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।

দুই ঘটনার তুলনা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, জামায়াত না পারলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পেরেছেন। এখানে ম্যাসেজ একদম ক্লিয়ার।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী দল থেকে বহিষ্কার করেছে। তবে শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়নি। অন্যদিকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী যে অবস্থান নিয়েছেন, তাতে নিজ দলীয় একজন সংসদ সদস্য তার পদ হারালেন। এটা একটা বিরাট ব্যাপার।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ছাড়া একটি দেশে সামগ্রিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযোগ থাকে, তারা নিজেদের দলের লোকজনের কোনো অপরাধ আড়াল করেন কিংবা তাদের প্রশ্রয় দেন। মিষ্টির পদত্যাগের ঘটনায় সেই ধরনের প্রশ্রয় না দেওয়ার একটি বার্তা পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আপনি যত ভালো কাজই করেন না কেন, আপনার একটা খারাপ কাজ আপনার অনেক ভালো অর্জনকে ম্লান করে দিতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন না যে তার এত অর্জনের মধ্যে কেউ কোনো কিছু দিয়ে ম্লান করার সুযোগ পাক। ইটস এ ভেরি ক্লেয়ার মেসেজ।’

অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, এ ঘটনা শুধু একটি দলের নেতাকর্মীদের জন্য নয়, সাধারণ নাগরিকদের জন্যও একটি বার্তা। রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়ালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হতে পারে।


নির্বাচিত

১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বয়ে আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) দিবসটি পালন করছে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে দেশের শিল্প ও সেবা খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি শিল্প ও সেবা খাতের সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

এ উপলক্ষে দেশের শিল্পোদ্যোক্তা, গবেষক, পেশাজীবী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, শ্রমিক-কর্মচারী এবং শিল্প ও সেবা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিল্প ও সেবা খাতকে আরও দক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

এবারের জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন, রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস, ডেটা অ্যানালিটিক্স ও ডিজিটাল উৎপাদন ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে শিল্পের ধরন ও চরিত্র দ্রুত বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশকেও এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, শিল্পকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম দক্ষ, সৃজনশীল ও অভিযোজনক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি নতুন ও উচ্চদক্ষতার কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোও জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল অর্থনীতি, উচ্চপ্রযুক্তির কর্মসংস্থান ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য দক্ষতাভিত্তিক ও মূল্যবোধনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির ব্যবহার, কারিগরি ও আইটি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং তরুণদের প্রযুক্তিগত ও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলার কথা জানান তিনি। তবে শুধু প্রযুক্তি গ্রহণ করলেই উৎপাদনশীলতা বাড়বে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিকের সার্বিক কল্যাণের ওপরও গুরুত্ব দেন।

নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দক্ষতাবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে শ্রমিক ও কর্মীদের সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এবং কর্মীদের নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপগুলোর জন্য প্রযুক্তি ও অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদনশীলতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, গবেষণা, পরামর্শ, কারিগরি সহায়তা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিল্প ও সেবা খাতের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও আধুনিক ও সম্প্রসারিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে উৎপাদনশীল, উদ্ভাবনী, দক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই শিল্প অর্থনীতিতে পরিণত করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।


নির্বাচিত

বিনিয়োগে জটিলতা কমিয়ে সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবাগুলো সমন্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসাপ্রক্রিয়া সহজীকরণ সংক্রান্ত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথোরিটির (আইবিএ) কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ব্যবসা নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবা গ্রহণের বিদ্যমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হয়। উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সেবা পেতে যেসব অপ্রয়োজনীয় ধাপ ও দীর্ঘসূত্রতার মুখোমুখি হতে হয়, তা কমিয়ে দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা কমানো গেলে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করতে হবে।

তিনি ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবাগুলো পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ও সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে ব্যবসাপ্রক্রিয়া সহজীকরণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বর্তমান কার্যক্রম, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং সেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজনেস বাংলাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দেশের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা: আমানউল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান। তিনি দাবি করেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি মহল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে দেশকে পেছনের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়ামে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, জনগণের আস্থা বিএনপির প্রতি ছিল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন। তার দাবি, গত ১৭ বছরে যেসব উন্নয়নকাজ হয়নি, সেসব কাজ নতুন করে শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে স্কুল, কলেজ, মসজিদ-মাদরাসা, মন্দির, সড়ক, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মানবসেবায়ও নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব উন্নয়ন কার্যক্রম দেখে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আমানউল্লাহ আমান জনগণের প্রতি গণতন্ত্র ধরে রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষা করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে।

পাড়া-মহল্লা, গ্রাম, হাটবাজার, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন মুনমুনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ক্যাশলেস লেনদেনে কোনো ফি নেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্যাশলেস বাংলাদেশ ও ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনে কোনো ফি বা চার্জ দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকারের এ উদ্যোগের আওতায় কিউআর কোড ব্যবহার করে যেকোনো লেনদেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর বনানী কাঁচাবাজারে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে পণ্য কেনাকাটার উদ্বোধন ও লেনদেন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ফুসকা বিক্রেতা, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের আওতায় আনা হবে। এ ব্যবস্থায় ফুটপাতের বিক্রেতা থেকে শুরু করে যেকোনো ছোট ব্যবসায়ী সহজেই কিউআর কোডের মাধ্যমে যেকোনো ব্যাংক বা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে টাকা গ্রহণ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, এর ফলে সাধারণ মানুষকে আর কষ্ট করে নগদ টাকা বহন করতে হবে না। কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন চালু হলে অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও গতিশীল হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ছোটখাটো কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ বা সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দ্রুতই এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

তার ভাষ্য, বিশ্বের বহু উন্নত ও দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে ক্যাশলেস লেনদেন সহজ ও নিরাপদ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও আন্তর্জাতিক এ চর্চাকে দেশে সর্বজনীন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী দেশের সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো দ্বিধা ছাড়াই ক্যাশলেস ও নিরাপদ অর্থনৈতিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

ফেরদৌসী মিষ্টির অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র (এমসিএইচ-এফপি সেন্টার) গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে একজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাড্ডা সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায়ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, দলীয় ব্যবস্থা হলে তা দলের সাংগঠনিক বিষয়; আর আইনি ব্যবস্থা হলে অভিযোগপত্রের পর বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে যাবে।

রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম আসার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। পরে জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার সংরক্ষিত নারী আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এর আগে রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চলার কথা জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তদন্তে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার সব ধরনের অপরাধ দমনে কাজ করছে। কোথাও অপরাধের ঘটনা ঘটলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, মামলা করছে, তদন্ত করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রেপ্তার করছে।

তিনি বলেন, কোনো কোনো ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে ১২ বা ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়ার পাশাপাশি অল্প সময়ে বিচার সম্পন্ন হওয়ার উদাহরণও রয়েছে।

রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায়ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের নতুন নাম ‘স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোয় বিদ্যমান অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট’ (এসআরইউ) করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-৩ শাখা থেকে সম্প্রতি এ বিষয়ে সরকারি মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তানভীর-আল-নাসীফ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগ কর্তৃক জি.ও. পৃষ্ঠাঙ্কনের তারিখ থেকে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, এটিইউর নাম পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে অনুমোদিত পদের কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ বিদ্যমান অনুমোদিত পদ ও জনবল কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে।

সরকারি আদেশে আরও বলা হয়েছে, নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক আরোপিত শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রযোজ্য সব বিধি-বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০ আগস্ট, অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা শাখার ৩১ আগস্ট এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সমন্বয়-১ শাখার ২ সেপ্টেম্বরের সংশ্লিষ্ট স্মারকের উল্লেখ করা হয়েছে।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।


নির্বাচিত

জনআস্থা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সাংবাদিকতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টেলিভিশন সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, দেশগঠন ও জনস্বার্থ রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে দেশের ব্রডকাস্ট সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের কঠিন সময়ে সাংবাদিকদের পাশে থাকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সাহচর্য, সমর্থন ও ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, সম্প্রচারের গুণগত মানও বজায় রাখতে হবে। গণমাধ্যমের সমস্যাগুলো সমাধানে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন এবং নীতিনির্ধারকদের বড় পরিসরে, দীর্ঘমেয়াদি ও দূরদৃষ্টিসম্পন্নভাবে বিষয়গুলো বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে গণতন্ত্রচর্চা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে দেশের অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারত। দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তপাতের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।

ডিজিটালাইজেশন ও স্বনির্ভরতার মাধ্যমে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে টেকসই করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

বিজেসির নেতারা জানান, সংগঠনটি মূলত সম্প্রচার সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করে। পেশাগত মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য সহায়তা, বীমাসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি বিজেসির কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের আয় বৃদ্ধির জন্য কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দেন।

সাক্ষাৎকালে বিজেসি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে ফাহিম আহমেদ, ইলিয়াস হোসেন, তালাত মামুন, মাহমুদ হাসান, শরিফুল ইসলাম খান, শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, জামানুল ফেরদৌস মানু, বেলায়েত হোসেন, নায়লা পারভীন পিয়া ও সাইফুল শাকিল উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিব, প্রেস সচিব ও সহকারী সামরিক সচিব উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আনসার বাহিনী : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠান শেষে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


একটি সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩ দশমিক ৪২৮ একর (প্রায় ১১ বিঘা) জমি আনসার বাহিনীর সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বর্তমানে খিলগাঁও থেকে পরিচালিত আনসার সদর দপ্তরের অপরিসর জায়গায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এখানে একটি আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।


নিয়মিত–অনিয়মিত মিলিয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) দেশের সর্ববৃহৎ ‘ফোর্স’ বলে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। বাহিনীর আর্থিকসহ অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবিদাওয়া পূরণে আশ্বাসও তিনি দেন।


অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের আলাদা কোনো যৌথবাহিনী বা ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’র মতো কোনো অভিযান গঠনের পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে দেশব্যাপী অপরাধ দমনে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যৌথবাহিনী গঠনের কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেইনি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অপারেশন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অভিযানে পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য ফোর্সের পাশাপাশি আনসার ব্যাটালিয়নও থাকবে।


তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, অতীতে পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’র মতো কোনো বিশেষ অভিযান চালানোর চিন্তাভাবনা সরকারের নেই। মূলত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে নিয়মিত ও সমন্বিত উদ্যোগ রয়েছে, সেটিই বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাদের দায়িত্ব অবহেলা আমাদের নজরে আসছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা (ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং) এবং প্রয়োজনে ফৌজদারি অপরাধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। এই বার্তা আমরা সব জায়গায় পৌঁছে দিয়েছি।


এ সময় তিনি ডিসেম্বর মাস নিয়ে বিভিন্ন মহলের গুঞ্জনের বিষয়ে বলেন, আপনারা ডিসেম্বর-ডিসেম্বর করছেন কেন? ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।


গত ছয়-সাত মাসে ঢাকার ট্রাফিক সিস্টেমে দৃশ্যমান উন্নতির কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন, পুলিশ, রোড ডিভিশন ও অন্যান্য বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ট্রাফিকে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সড়ক খনন কাজের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, এখন থেকে একসাথে পুরো রাস্তা না খুঁড়ে নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে কাজ শেষ করে পুনর্নির্মাণ করার পর নতুন অংশে হাত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে অটোমেশন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া শেষ করা হচ্ছে। রাস্তায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। রাস্তা খনন ও নির্মাণকাজের কারণে যেন যানজট না হয়, সে জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুরো রাস্তা একসঙ্গে না কেটে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করে তা অবিলম্বে পুনর্নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


বাহিনীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার’ ডকট্রিনের আদলে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে দর্শনের বিকাশ ঘটেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় আনসার ও ভিডিপি আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে ১৯৯৫ সালে পৃথক তিনটি আইন প্রণয়ন এবং ২০০৪ সালে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রদানের মাধ্যমে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা হয়।


তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সদিচ্ছা ও আধুনিকায়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে নতুন এই আধুনিক অবকাঠামো ও সমন্বিত আইনি সংস্কারের পথে অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে।


দেশের অদক্ষ জনশক্তিকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১ লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়া জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ এবং ‘প্রান্তিক সংযোগ’ ও ‘প্রান্তিক শক্তি’-র মতো বহুমুখী সামাজিক ও অর্থনৈতিক সেবা কার্যক্রম দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখবে।


সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

গঠন হচ্ছে পুলিশের সাইবার ইউনিট, থাকবে ক্রিপ্টো ও ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট

পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ৪ হাজার ৫৯২ জনবলের একটি বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। নতুন এই ইউনিটে সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট ও ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরে সাইবার পুলিশ ইউনিটের ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ইউনিটের প্রধান থাকবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি। বিভাগীয় ও সদর দপ্তর পর্যায়ে একাধিক ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। থানায় এই ইউনিটের জন্য আলাদা সাব-ইন্সপেক্টর, এএসআই ও কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে।’

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই ইউনিটের মোট জনবল সংখ্যা আমরা এখন পর্যন্ত অর্গানোগ্রামে ৪ হাজার ৫৯২ জন নির্ধারণ করেছি। বিদ্যমান জনবল থেকে প্রয়োজনীয় সদস্য পূরণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জনবল গঠন করা হবে।’

নতুন ইউনিটে আধুনিক সাইবার-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম থাকবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর একটি সংগঠন হিসেবে ইউনিটটি গড়ে তোলা হবে। বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড বেড়েছে। ফলে অপরাধ মোকাবিলায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, মানি লন্ডারিং, আর্থিক অপরাধ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধ প্রায় সব ক্ষেত্রেই ফরেনসিক ও ডিজিটাল ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। আগে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় অসংগঠিতভাবে কাজ করা হতো। এতে কাজের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ছিল। নতুন ইউনিটের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমকে একটি সংগঠিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে।’

সাইবার পুলিশ ইউনিটে প্রচলিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে জানিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালট্যান্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্ট, কনটেন্ট ডেভেলপার, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, কমিউনিকেশন এক্সপার্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন পদ রাখা হয়েছে।’

এসব বিশেষজ্ঞকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাঁদের বেতন-ভাতার কাঠামোও নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের তুলনায় আলাদা হবে। তবে পুলিশের মধ্যে যারা এ বিষয়ে দক্ষ বা সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী, তাঁদেরও ইউনিটে যুক্ত করা হবে। উপযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিটে অবদান রাখা বিশেষজ্ঞদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।’

সাইবার সিকিউরিটি আইন আরও আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আইনটি সংশোধনের বিষয়ে সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিকবার মতবিনিময় হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাঁদের মতামত নেওয়া হবে।’

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নতুন আইনে সাইবার-সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলো আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।’ একই সঙ্গে আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে নিরপরাধ বা সংশ্লিষ্ট নন এমন ব্যক্তিরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


নির্বাচিত

মিষ্টির পদত্যাগপত্র পেয়েছি, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কার্যকর : স্পিকার

জাতীয় সংসদের টানেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তার পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, পদত্যাগপত্রটি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের টানেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্পিকার হাফিজ।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনের ২৩ নম্বর সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি আমার অফিসে এসে লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে গেছেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পত্রটি পাওয়ার পরই তার পদ শূন্য হয়ে গেছে। আমরা এটি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেব। আজ থেকেই এই পদত্যাগ কার্যকর হবে।’

পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘সংসদের বিধান হলো, এমপির যখন পদত্যাগ করেন তখন কোনো কারণ উল্লেখ করেন না।’


নির্বাচিত

সংখ্যা নয়, বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠাতে না পারলে লাভ নেই: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহনে আধুনিক ট্রলি কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, দক্ষ কর্মী পাঠাতে না পারলে শুধু সংখ্যা বাড়িয়ে লাখ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠিয়ে দেশের প্রকৃত লাভ হবে না। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সংখ্যা বৃদ্ধির পরিবর্তে দক্ষ কর্মী পাঠাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহনে আধুনিক ট্রলি কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিদেশগামী যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা, বিভিন্ন চাহিদা ও ভোগান্তির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। প্রবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, তাদের সুবিধার্থে বিমানবন্দরে দ্রুত একটি জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। ইতিমধ্যে চিকিৎসাকেন্দ্রের স্থান নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফ্লাইট বিলম্ব ও সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে প্রবাসী যাত্রীদের নানা ভোগান্তির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী আরো জানান, বিমানবন্দরটি শহর থেকে দূরে হওয়ায় অনেক সময় যাত্রীদের থাকা-খাওয়ার সমস্যা পোহাতে হয়। এই সমস্যা চিরতরে সমাধানে বিমানবন্দরের পাশেই একটি মানসম্মত রেস্টহাউস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা যেকোনো পরিস্থিতিতে স্বাচ্ছন্দ্যে সেখানে অবস্থান করতে পারবেন।

পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও গত সাত মাসে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। সামনের দিনগুলোতে আমাদের শ্রমবাজারে আরো ভালো ফলাফল দেখা যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের আইনি সহায়তা আরো জোরদার করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করেন। মন্ত্রী প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আশ্বাস দেন।

এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বিমানবন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close