বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৮১ সালের ৮ ডিসেম্বর মাত্র ২৬ বছর বয়সে মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচারিক জীবন শুরু করেন। তারপর চার দশকের বিচারিক কর্মজীবন পার করে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিক বিচারিক কাজ থেকে অবসরে যান। সম্প্রতি তিনি দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আব্দুল জাব্বার খানকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তার ৪১ বছরের বিচারিক জীবনের কথা।
দৈনিক বাংলা: অবসরকালীন জীবন কেমন কাটছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: ভালোই কাটছে। তবে ব্যস্ততা কমেনি। মনে হয় আরও বাড়ছে। অবসরে অবসর কোথায়? হা হা…
দৈনিক বাংলা: স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় কোনো নারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যাত্রা শুরুর পর সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবসরে গেলেন। সব মিলিয়ে একজন নারীর বিচারক হিসেবে দীর্ঘ এই পথচলা কতটা সহজ ছিল?
কৃষ্ণা দেবনাথ: দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়, তখনই কিন্তু বাংলাদেশে মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসতে পারেনি। নারীদের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রথমেই আমরা পুরুষদের থেকে তিন বছর পিছিয়ে যাই। দেশের বিচার বিভাগের যাত্রা শুরুর তিন বছর পরে নারীদের যাত্রার পরও আজকে নারীদের অবস্থান কোথায় সেটা দেখতে হবে। আমি নারী বিচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি ১৯৮১ সালে। প্রথম এসেছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, দ্বিতীয় যাত্রা শুরু করেছিলেন বিচারপতি জিনাত আরা। আর তৃতীয় হিসেবে যুক্ত হই আমি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো, আমরা তিনজনই আপিল বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছি। এটা ভাবতে ভালো লাগে।
নারী হিসেবে বিচারিক জীবনের তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে নারী বিচারকদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়, তাদের সাংসারিক জীবন নিয়ে। কেননা, এটা বদলির চাকরি। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলির কারণে সংসারটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা অনেক কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তো ছিলই।
দৈনিক বাংলা: সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হবেন এমন স্বপ্ন কি বিচারিক জীবনের শুরুতে কখনো দেখেছিলেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: না, এমনটি কখনোই ভাবিনি। এমনকি হাইকোর্টেও থাকাকালীন ভাবিনি যে আমি আপিল বিভাগে যাব। স্বপ্নও ছিল না। তবে আমার স্বপ্ন ছিল আমি জজ হব।
দৈনিক বাংলা: অনেক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরাই এখন প্রায় বেঁচে নেই, আপনি কি মনে করেন এখন নতুন যারা আসছেন, তারা সেই খ্যাতিম্যান আইনজীবীদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: দেখেন এটা শুধু আইনজীবীদের মধ্যে নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। সবখানেই অবক্ষয়। ধরেন আমার বাবা যে পরিমাণ লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করেছেন আমি তো মনি করি না, আমার সেটুকু আছে। কিন্তু আমি আশাবাদী নতুন প্রজন্ম থেকে অনেক ট্যালেন্ট উঠে আসছে, আসবে। একসময় নামকরা আইনজীবীরা ছিলেন। তারপর তাদের উত্তরসূরিরা এসেছেন। ঠিক এমনি করেই নতুনরা আইনজীবী হয়ে উঠবেন। এখন যারা নবীন আইনজীবী তাদের জন্য একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার এটা মোক্ষম সময়। তার কারণ জায়গাটা এখন অনেক খালি, সবকিছু প্রস্তুত হয়ে আছে, এখন দরকার শুধু অধ্যবসায়ের।
দৈনিক বাংলা: আপনার অবসর জীবনের শেষ দিনে বলেছিলেন, বিচারক নিজেকে স্বাধীন মনে না করলে সুবিচার সম্ভব না। এর মানে আপনি কী বুঝিয়েছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এই বাক্যটি আমি শুধু কথার কথা হিসেবে বলিনি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেই বলেছি। এখনো বিশ্বাস করি, একজন বিচারক নিজেকে যদি স্বাধীন মনে না করেন, তাহলে কাগজে-কলমে স্বাধীনতা দিয়েই কী লাভ। একজন বিচারক নিজের বিবেককে প্রশ্ন করবেন তিনি নিজে স্বাধীন কি না। কাগজে-কলমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে মাত্র কিছু বছর আগে। তার আগে আমরা বিচারকরা তো নিজেদের পরাধীন মনে করিনি, বিচারের কাজটি কিন্তু স্বাধীনভাবেই করেছি।
আমি মনে করি, একজন বিচারক মনেপ্রাণে নিজেকে স্বাধীন মনে করেন কি না, সেটাই বড় কথা। আমি জোর গলায়, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি ৪১ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পদে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে তো আমার কাছে কোনো তদবির আসেনি। নিজেকেই সেই জায়গা তৈরি করে নিতে হবে। আমি যখন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন অনেক জুনিয়র বিচারক বলতেন তদবির আসে। আমি তখন তাদের বলেছি, কই আমার কাছে তো কোনো তদবির আসে না। তদবির যাতে না আসে সেই পরিবেশ আপনার নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। বিচারকের স্বাধীনতার বিষয়টি নিজের সততা দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।
তদবির না শুনে একবার এক ব্যক্তিকে জামিন দিইনি বলে সেই সময় আমাকে মেহেরপুরের জেলা জজ থেকেও বদলি করা হয়েছিল। জেলা জজ থেকে সাড়ে চার বছর আমাকে কর্নার করে রাখা হয়েছিল। দুটি জেলার জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্পেশাল জজ করে রাখা হয়েছিল। আমি তো তখনো ভয় পাইনি। আমার কথা হলো, নিজেকে স্বাধীন রাখতে হলে বদলির ভয় করলে চলবে না। কী আর করবে বাংলাদেশের ভেতরেই তো বদলি করবে, আর তো কিছু না। বিচারক যদি বদলির ভয় বা নিজের লাভ-ক্ষতির চিন্তা করেন তাহলে তিনি স্বাধীন বিচারক হিসেবে কীভাবে কাজ করবেন। করতে পারবেন না। বিচারককে তার নিজের সততার ওপর শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। এখন কিন্তু দেওয়ানি মামলায় আপস করার সুযোগ আছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলা আপসের সুযোগ আছে। এখন যদি এটা ভালোভাবে কার্যকর হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ মামলাই আসবে না। এটা যদি সফল করা যায়, তাহলে মামলার জট অনেক কমে আসবে।
দৈনিক বাংলা: একটি মামলা শেষ করতে বছরের পর বছর লাগে কেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: মামলা শেষ করতে পক্ষগণেরই জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় কোনো না কোনো পক্ষই চায় না, দ্রুত মামলা শেষ হোক। মামলার জট সৃষ্টির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর জন্য শুধু বিচারকরা দায়ী তা বলা যাবে না বরং বাদী-বিবাদী, দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও দায় রয়েছে। একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য কম করে হলেও পাঁচটি পক্ষের সমন্বয় দরকার পড়ে, তবেই মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।
এ ছাড়া বিচারকসংকট রয়েছে বড় আকারে। এত বিশাল মামলার জট দ্রুত কমাতে হলে বিপুলসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। যেটা সরকারের পক্ষে সম্ভব না।
দৈনিক বাংলা: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো যেকোনো বিষয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, কেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এখন কিন্তু পত্রিকা খুললেই দেখা যায় হাইকোর্টের বিভিন্ন সংবাদ বা নির্দেশনা নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে। চোখ মেললেই কোর্ট-কাচারির খবর পাওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভুক্তভোগীকে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক আছে, মানুষ আদালতে এলে প্রতিকার পায়। আবার কিছু সময় দেখি একটা সাধারণ বিষয় নিয়েও মানুষকে হাইকোর্টে আসতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে তাহলে কিন্তু আদালতের ওপর এই চাপ আসে না। তারা সেটি করছে না। অনেক সময় আদালতের নির্দেশের পরও অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয় না। এটা ভালো দিক না।
দৈনিক বাংলা: বিচার বিভাগকে কি আরও শক্তিশালী হতে হবে, নাকি শক্তিশালীই আছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: বিচার বিভাগকে কেউ শক্তিশালী করে দেবে না। বিচার বিভাগকে নিজেকেই শক্তিশালী হতে হবে। একটা আদেশ হওয়ার পর ঝড়ঝাপটা আসতে পারে। সেটা বহন করার মতো বিচারক যদি আমরা হতে পারি তাহলে বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে। বিচারক যদি সেই ঝড়ঝাপটা সইবার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে সেটা হবে না।
দৈনিক বাংলা: বার ও বেঞ্চের সম্পর্ককে বলা হয় একটি পাখির দুটি ডানা। সম্প্রতি বিভিন্ন বারে আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে, এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: সর্বজনীনভাবে আমি বলব, সাবলীল সম্পর্ক হ্রাস পেয়েছে। অনেক আগে থেকেই এই সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় বিচারকের দরজায় লাথি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সার্বিকভাবে বলব আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সম্পর্ক অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। আমার বক্তব্য হলো, একজন বিচারক যেহেতু একটু ওপরে বসেন, আইনজীবীরা একটু নিচে দাঁড়ান, এই যে বিচারকরা একটু অগ্রাধিকার স্থানে থাকেন সে জন্য বিচারকদের অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু করা যায় না। সেটি তাদের মাথায় থাকতে হবে। এ ছাড়া আইনজীবীদেরও সহিষ্ণু হতে হবে। দুপক্ষই যদি সহিষ্ণু হয় তাহলে কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরবে না।
আদালতের মর্যাদা কমলে কিন্তু আইনজীবীদেরই মর্যাদা কমবে। এটা তাদের বুঝতে হবে। কোনো বিচারকের ভুল হলে আইনজীবীরা তার ওপরের বিচারককে বলতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট আছে, আইন মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে বলার সুযোগ আছে। কিন্তু তাই বলে স্লোগান দেয়া উচিত না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে পূরণীয় ঘটনা বা অপ্রাপ্তি বলে কিছু আছে কি না?
কৃষ্ণা দেবনাথ: মানিকগঞ্জে একটি অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে পারিনি, এই একটি বিষয় আমার মনে এখনো গেঁথে আছে। আইনজীবীর ভুলের কারণে সেই আসামিকে সাজা দিতে পারিনি। যে কারণে খুব কষ্ট লেগেছিল। কারণ মামলায় আসামি শনাক্ত একটা বড় ব্যাপার। মামলায় বলা হয়েছে, চাঁদের আলোতে আসামিকে দেখা গেছে। কিন্তু পঞ্জিকাতে দেখা গেল সেদিন অমাবস্যা ছিল। তার ওপর আবার সেদিন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আইনজীবী মামলা শক্ত করতে গিয়ে চাঁদের আলোতে দেখেছে বলে বিবরণ দিয়েছেন কিন্তু সেদিন সেটা ছিল না। যে কারণে আসামি শনাক্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরঞ্জিত বিবরণ মূল ঘটনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ ছেলেটি মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করত, সেটি উল্লেখ থাকলেও হতো। অতিরঞ্জিত করার কারণে আসামি বেঁচে যায়। এই ঘটনা আমাকে পীড়া দেয়। তার কারণ চোখের সামনে দেখেছিলাম মেয়েটির ঝলসানো মুখ। কিন্তু তার ন্যায়বিচার আমি দিতে পারিনি।
দৈনিক বাংলা: দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচারিক জীবনে আপনি কতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন?
কৃষ্ণা দেবনাথ: এটা বলতে পারব না। তার কারণ, আমি গুনে রাখিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার ব্যাপারে আমি অনেক সতর্ক ছিলাম। আমি দুইয়ে দুইয়ে চার না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সাজা দিইনি। অনেক আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েও আমি স্বস্তি পেয়েছি। তার কারণ অকাট্য দলিল-প্রমাণ ছিল। সব থেকে বড় স্বস্তি পেয়েছি, যখন আমি ঢাকার জেলা জজ ছিলাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফাঁসির আসামিদের সাজা কার্যকর হবে। তখন ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার জন্য শেষ যে স্বাক্ষর দিতে হয়, জেলা জজ হিসেবে সেটা আমি দিয়েছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার কাছে লাল নথি এল, আমি তাতে স্বাক্ষর করলাম। এরপরই টিভিতে দেখলাম কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর শুরু করেছে। ঐতিহাসিক সেই মামলাটিতে শেষ স্বাক্ষর করেছিলাম। এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।
দৈনিক বাংলা: অবসরে কেমন কাটছে?
কৃষ্ণা দেবনাথ: অবসরে একদমই অবসর নেই। আমি রুট (প্রান্তিক) লেভেলের ভিকটিমদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সেটাই শুরু করেছি। দেখা যাক কতটা করতে পারি।
দৈনিক বাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে।
কৃষ্ণা দেবনাথ: আপনাকেও ধন্যবাদ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে দেশে টাকার ঘাটতি রয়েছে এবং এই বাস্তবতায় একসঙ্গে সব দুর্বল ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয়। বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ শীর্ষক এক লোক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে কিছু খারাপ ব্যাংককে টিকিয়ে রাখতে টাকা ছাপাতে হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ধাপে ধাপে সংস্কার কাজ পরিচালনা করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামীতে প্রথমে সরকারি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে এবং পরবর্তীতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সংস্কারে হাত দেওয়া হবে।
গভর্নর ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে খেলাপি ঋণ ও লভ্যাংশ ঘোষণার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন বা কাভারেজ নেই, তারা কোনোভাবেই লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না। দুর্বল ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশে এবং পরবর্তী বছরের মার্চের মধ্যে তা ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে ড. মনসুর তার ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার অনুযায়ী দেশে ১৫টির বেশি ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সংখ্যা কমিয়ে মাত্র দুটিতে নামিয়ে আনার এবং বাকিগুলোকে একীভূত বা মার্জ করার ইঙ্গিত দেন তিনি। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ১২ থেকে ১৩টি ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সংকটের সময় যেন সরকারের কাছে হাত পাততে না হয়, সেজন্য ব্যাংকগুলোর অর্থায়নে একটি রেজুলেশন ফার্ম ও স্বতন্ত্র তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে গভর্নর বলেন, দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম, পরিবারতন্ত্র এবং সুশাসনের অভাবে এই খাত থেকে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যার বড় একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, ব্যাংকিং খাতে আর কোনোভাবেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের প্রভাব বরদাশত করা হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে স্বাধীনভাবে কাজ করলেও আইনিভাবে পুরোপুরি স্বাধীন নয়। ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া রাজস্ব ফাঁকি রোধে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার ওপর জোর দেন গভর্নর। তার মতে, নগদ লেনদেন কমানো গেলে বছরে রাজস্ব আদায় দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
হারিয়ে যাওয়া শখের মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়ার আশা যারা ছেড়ে দিয়েছিলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় শেষ পর্যন্ত তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে রাজধানীর পল্টন মডেল থানা-পুলিশ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধার করা ১০৫টি মোবাইল ফোন বুধবার (২১ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান দুপুরের দিকে গণমাধ্যমকে এই সফলতার তথ্য নিশ্চিত করেন।
পল্টন মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোন হারানোর পর মালিকদের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দীর্ঘ দেড় মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাধুনিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এই ১০৫টি ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী ও পল্টন মডেল থানার এএসআই ইকবাল হোসেন অত্যন্ত সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেন।
উদ্ধারকৃত এসব মোবাইল হস্তান্তরের জন্য গত মঙ্গলবার পল্টন মডেল থানার সম্মেলন কক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মালিকদের হাতে ফোনগুলো বুঝিয়ে দেন মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবীসহ থানার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, গত এক বছরে পল্টন মডেল থানা-পুলিশ প্রায় ৬০০টিরও বেশি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জনস্বার্থে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। দ্রুততম সময়ে নিজেদের প্রিয় ফোনটি ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত মালিকরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের বিচার বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎ কূটনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
মার্কিন দূতাবাসের এক বার্তায় জানানো হয়েছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন সম্মানিত বোধ করছেন। বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে তারা বিশদ মতবিনিময় করেন। বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও আইনের শাসন সুসংহত করার বিষয়েও আলোচনায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সাম্প্রতিক সময়েই বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তিনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলেন, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও গুরুত্বকে নির্দেশ করে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে এবার ভোট গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয়াবলি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, দুটি ভিন্ন ব্যালট ও প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলায় ফলাফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিতে হবে।
নির্বাচনের দিন তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরকে ভোটের দিন উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে সরকার। প্রেস সচিব জানান, পুলিশের কাছে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এসব ক্যামেরার ফুটেজ সরাসরি সুরক্ষা অ্যাপ-এ যুক্ত থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে এসব ফুটেজ দেখে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা বা কুইক রেসপন্স নিশ্চিত করা হবে।
নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেস সচিব জানান, ভোটের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অধীনে সমন্বয় করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন। নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন এক লাখ সেনা সদস্য, পাঁচ হাজার নৌবাহিনী সদস্য এবং সাড়ে তিন হাজার বিমান বাহিনীর সদস্য। অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসও প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া আকাশপথে নজরদারির জন্য ৫০০টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। নির্বাচনী সুরক্ষা নামক একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর তাগিদ দিয়েছেন। প্রেস সচিব নিশ্চিত করেছেন যে, পাবনা-১ ও ২ আসন নিয়ে কিছু শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দেশের ৩০০টি আসনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার নির্বাচনে মোট ১ হাজার ৮৪২ জন বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোর্টিফাই রাইটস’ ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আটকে রাখার নীতি অবিলম্বে বাতিল এবং এই প্রকল্পটিকে পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি জানায় যে, এই দ্বীপটি বর্তমানে রোহিঙ্গাদের কাছে কার্যত একটি কারাগারে পরিণত হয়েছে।
তাদের মতে, “ভাসানচরে সীমাবদ্ধ করে রাখা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর গুরুতর বিধিনিষেধের মুখে রয়েছেন, যা কার্যত নির্বিচার আটক হিসেবে গণ্য হয় এবং এটি বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।”
সংবাদ সম্মেলনে গত পাঁচ বছর ধরে ১০২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি ৩৬ পৃষ্ঠার একটি বিশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে ফোর্টিফাই রাইটসের পরিচালক জন কুইনলি বলেন, “বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে ভাসানচরের শরণার্থীশিবির বন্ধ করা এবং দ্বীপে ও মূল ভূখণ্ডে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর আরোপিত ব্যাপক ও নির্বিচার আটক প্রথার অবসান ঘটানো, একই সঙ্গে তাদের চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।” তিনি আরও যোগ করেন, “ভাসানচর কখনোই শরণার্থীদের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত ছিল না। শরণার্থী হওয়া কোনো অপরাধ নয়, অথচ মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের এমনভাবে আচরণ করা হয়েছে যেন তা অপরাধ। বাস্তবে এই দ্বীপটি কার্যত একটি দণ্ড উপনিবেশের মতো পরিচালিত হচ্ছে, যা আইনসম্মত নয় এবং মানবিকতার পরিপন্থী।”
সংস্থাটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, রোহিঙ্গাদের অনেককে সেখানে নিতে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। দ্বীপে পৌঁছানোর পর তারা কাঁটাতারের বেড়া ও সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নজরদারির মধ্যে বন্দি জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। মংডু থেকে আসা ২৯ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা পুরুষের জবানবন্দি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে তিনি বলেন, “এখানকার পরিবেশ কারাগারের মতো। আমরা এখানে একেবারেই থাকতে চাই না, বছরের পর বছর থাকার কথা তো আরও ভিন্ন বিষয়। নৌবাহিনীর পাহারা এবং কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের কারণে মানুষ সহজে যেতে পারে না। যদি কোনো পাহারা বা নিয়ন্ত্রণ না থাকতো, এখানে একজন মানুষও থাকতো না। সবাই এই জায়গা ছেড়ে চলে যেতো।” ফোর্টিফাই রাইটস বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে এই ব্যর্থ প্রকল্পটি বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের চলাচলের স্বাধীনতা ও কাজের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর আয়োজিত গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টাসহ তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সভার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করা এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেন যে, এই নির্বাচন জাতির জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ এবং একে একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন এমন একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে যা ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য আদর্শ হয়ে থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন কোথাও যেন কোনো গলদ বা অভাব পরিলক্ষিত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, এখন থেকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশই সর্বোচ্চ নির্দেশ এবং সবাইকে সেই নির্দেশনা মেনেই একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে, যার মধ্যে বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরার ব্যবহার এবং কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের বিপুল আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সুপার সিরিয়াস থাকার আহ্বান জানান।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সভায় জানান, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ২৬টি দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। সচিব জানান, আজ মধ্যরাত থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চলবে। তিনি সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি রোধ এবং পোস্টাল ও গণভোটের ব্যালট গণনার বাড়তি সময় নিয়ে অপতথ্য ছড়ানো বন্ধে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এবার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং প্রয়োজন হলে তারা ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারবেন। স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি জানান, ভোটের চার দিন আগে থেকে ভোটের পর সাত দিন পর্যন্ত সব বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবেন। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে বডি ক্যামেরা পৌঁছে যাবে এবং প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক নিশ্চিত করেন যে, প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা ও কেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র আনসার সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করবেন, যাতে কেউ বেআইনিভাবে এজেন্টদের বের করে দিতে না পারে।
বৈঠকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে লুট হওয়া ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্রের মধ্যে ৬২.৪ শতাংশ এবং ৪ লাখ ৫৬ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদের মধ্যে ৫২ শতাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাহিনীগুলোর পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নেওয়া পদক্ষেপগুলো কার্যকর হলে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা এবং আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। এখন থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রতি সপ্তাহে বা প্রয়োজনে আরও কম সময়ের ব্যবধানে এমন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুখবর নিয়ে আসছে নতুন পে-স্কেল। বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন বর্তমানের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি করে ২০ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এই ধাপের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ধাপের বেতনও দেড় গুণ বাড়িয়ে ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে বেতন কমিশনের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় বছর পর দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়-বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো যুগোপযোগী ও পুনর্গঠন করার জন্য গত জুলাই মাসে এই পে-কমিশন গঠন করা হয়েছিল। প্রায় ছয় মাসের নিরলস কাজ ও পর্যালোচনা শেষে কমিশন তাদের বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত হবে ১:৮। হিসাব অনুযায়ী, এই পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে সরকারি কোষাগার থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার দায়িত্ব থাকবে পরবর্তী নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের ওপর। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় নিয়ে চলতি জানুয়ারি মাস থেকেই আংশিকভাবে এই নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকার ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এ প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশনের চেয়ারম্যান তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সবাই খুশি হবে। সরকার বিশ্বাস করে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন না করা সত্ত্বেও ২৯তম বিসিএসে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে প্রশাসন ও পুলিশসহ বিভিন্ন ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ১৩ জন সদস্য, সাবেক সচিব ও ৬ ক্যাডার কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
এই মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক সুরাইয়া বেগম, মির্জা শামসুজ্জামা, আবিদুর রেজা খান (পিএসসি) এহসান শামীম, অধ্যাপক রাশিদা বেগম, মোহাম্মদ হোসেন সেরনিয়াবাত, অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী, সৈয়দ হাসিনুর রহমান, ইকরাম আহমেদ, প্রফেসর ডা. ফরিদা আদিব খানম, মুহম্মদ লিয়াকত আলী খান এবং সাবেক সচিব চৌধুরী বাবুল হাসান। তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ,ই,ম নেছার উদ্দিন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ লোকমান আহমদ এবং অবৈধভাবে চাকরি পাওয়া ছয় ক্যাডার কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান, তোফাজ্জল হোসেন, হালিমা খাতুন, মিল্টন আলী বিশ্বাস, নাহিদা বারিক ও খোরশেদ আলম।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পরীক্ষা কার্যক্রমে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুসন্ধান টিমের সুপারিশের প্রেক্ষিতে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। মূলত মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোটা ব্যবহার করে আবেদন না করেও ক্যাডার পদে আসীন হওয়ার ঘটনাটি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুবকে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই নিয়োগের বিষয়ে বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
জারিকৃত ওই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি ‘বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা, ২০০৭’-এর বিধি ৩ (২) (ক)-এর বিধানমতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুবকে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, তাদের নিজেদেরই একটি অংশ চায় না নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হোক। তবে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, আগামী নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা চূড়ান্ত করবে দেশের তরুণ সমাজ। মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এই সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। সরকারের সামনে এখন প্রধানত তিনটি গুরুদায়িত্ব রয়েছে, এগুলো হলো রাষ্ট্রীয় সংস্কার বা রিফর্ম নিশ্চিত করা, বিচারিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখা এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা। তিনি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টার বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করে দেন। তার মতে, নির্বাচন বানচালের নানা ষড়যন্ত্র হতে পারে, তাই প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে। এই সময়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখাকেই তিনি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
গণতন্ত্রের সুরক্ষায় তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে তরুণদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাদের সচেতন অবস্থানই একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে। তিনি তরুণ সমাজকে গণতন্ত্র রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় জেলার পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জুয়েল রানা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সকল দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য বাংলাদেশকে নন-ফ্যামিলি পোস্টিং বা পরিবার ছাড়া কর্মস্থল হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত নির্বাচনের প্রাক্কালে কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নয়াদিল্লি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে চরমপন্থি ও উগ্রপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে হুমকির মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সক্রিয় বিবেচনায় ছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে শেষ পর্যন্ত পরিবার ও নির্ভরশীল সদস্যদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হলো।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সতর্কতামূলক এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে অবস্থিত চারটি সহকারী হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের পরিবার ও নির্ভরশীলদের দ্রুত ভারতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবার সরিয়ে নেওয়া হলেও কূটনৈতিক মিশনগুলোর কার্যক্রমে কোনো ভাটা পড়বে না। সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ঢাকাসহ সব কটি মিশন খোলা থাকবে এবং কূটনীতিকরা পূর্ণ জনবল নিয়ে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাবেন।
নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে বর্তমানে কতজন ভারতীয় কূটনীতিক কর্মরত রয়েছেন বা তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা কত, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া কূটনীতিকদের পরিবার ঠিক কবে নাগাদ ভারত অভিমুখে রওনা হবেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এই প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতি হাসিনা আমলের নৃশংস দিনগুলোতে আর ফিতে যেতে চায় না। এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে, এটা গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজনৈতিক দলের নেতা ও হাসিনা আমলে গুমের শিকাররদের নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে এ কথা বলেন তিনি।বিকেল ৩টার দিকে জাদুঘরে পৌঁছান এবং জাদুঘরে থাকা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস ও শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্রগুলো ঘুরে দেখেন প্রধান উপদেষ্
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চাইনা ভবিষ্যতে কোথাও যেন আর এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন হোক। যদি আমাদের জাতি কখনো কোনো কারণে দিশেহারা হয় তবে এই জাদুঘরে পথ খুঁজে পাবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত হবে এখানে এসে একটি দিন কাটানো, শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে এই জাদুঘরে আসবেন। এই জাদুঘরে একটা দিন কাটালে মানুষ জানতে পারবে কী নৃশংসতার মধ্য দিয়ে এ জাতিকে যেতে হয়েছে। এখানে যে আয়নাঘরগুলো তৈরি হয়েছে সেখানে কিছু সময়, কয়েক ঘণ্টা অথবা একটা দিন কেউ যদি থাকতে চায় সে যেন থাকতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আয়নাঘরে বসে পরিদর্শনকারীরা উপলব্ধি করতে পারে কী নৃশংসতার মধ্যে বন্দিরা ছিল! এ ধরনের নৃশংস ঘটনা না হওয়ার পক্ষে কীভাবে আমরা সবাই এক থাকতে পারি সেটা মনের মধ্যে আনতে হবে। এই একটা মতে আমরা সবাই এক থাকব যে এই ধরনের নৃশংস দিনগুলোতে এ জাতি আর ফিরে যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নৃশংস একটা কাণ্ড হচ্ছিল। তরুণরা, ছাত্ররা এটার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, প্রতিহত করেছে। তাদের কোনো অস্ত্রশস্ত্র ছিল না, কিছু ছিল না। সাধারণ মানুষও যে এমন নির্ভয়ে, সাহসিকতার সঙ্গে অস্ত্রের মুখে দাঁড়াতে পারে-- এটাই আমাদের শিক্ষা।’
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘অল্প সময়ে এই জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে এসেছে এটা একটা রেকর্ড। এটা সম্ভব হয়েছে অনেক ছেলে-মেয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে। আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে এখানে কাজ করেছেন অনেকে। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আরও বেশ কিছু সেকশনের কাজ আগামী কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হবে। এবং নির্বাচনের আগেই সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। জুলাই জাদুঘর ইতিহাসের চিহ্ন বহন করে দাঁড়িয়ে থাকবে। বাংলাদেশের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের রাজনীতির আকর হয়ে থাকবে এটা। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ডিসকোর্স-শিক্ষা-গবেষণায়, শিল্প-সাহিত্য চর্চায়ও এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।
গুমের শিকার পরিবারেরগুলোর সংগঠন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা তুলি ও গুম থেকে ফেরত ভিকটিম ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, জুলাই অভ্যুত্থানে সম্মুখসারীতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খান, জুলাই জাদুঘরের গবেষকসহ দায়িত্বশীল অন্যান্যরা আগতদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ছবি, বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়কার পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিওসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে।
জাদুঘরে পরিদর্শনে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ ও যোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণ এবং একটি বৈষম্যহীন ও আমূল পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে আসন্ন গণভোটে জনগণের 'হ্যাঁ' রায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজবাড়ী ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক উদ্বুদ্ধকরণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। উপদেষ্টা মনে করেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিত এবং প্রশাসনকে সব ধরনের দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে গণভোটে ইতিবাচক রায় দেওয়া বর্তমান সময়ের অপরিহার্য দাবি।
উপদেষ্টা তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এবং সর্বদলীয় ঐক্যের ভিত্তিতে একটি 'জুলাই সনদ' গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামী দিনের সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি জানান, সরকার গঠিত ১১টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে ৬টি সরাসরি নির্বাচনের সাথে যুক্ত এবং এই সংস্কারগুলো স্থায়ী রূপ দিতেই হ্যাঁ-না ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে গুণগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং পরিবর্তিত বাংলাদেশ চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।” এছাড়া তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “দেশকে বৈষম্যহীন করতে, গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে, ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে এবং প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দিতে হবে।”
সংবিধানের যথেচ্ছ পরিবর্তন রোধ এবং সংসদীয় ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনার লক্ষে উপদেষ্টা জনগণের ম্যান্ডেট প্রত্যাশা করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ইচ্ছে মতো সংবিধান পরিবর্তন না চাইলে, ক্ষমতার ভারসাম্য চাইলে, নিম্ম কক্ষ ও উচ্চ কক্ষের সমন্বয়ে সংসদ চাইলে, একজনকে দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না চাইলে, দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বাদীর মতামত ব্যতীত ক্ষমা না চাইলে, নারীর ক্ষমতায়ন চাইলে গণভোটে হ্যাঁ’ র পক্ষে রায় দিতে হবে।” মূলত ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এই গণভোটের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উক্ত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ ও জনহিতকর রাষ্ট্র ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের সচেতন করতে তথ্য মন্ত্রণালয় ‘ভোটের গাড়ি’, ‘ভোটের রিকশা’, উঠান বৈঠক ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মতো নানামুখী প্রচারণা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ এবং জুলাই যোদ্ধা আবদুল্লাহ আল মামুনও বক্তব্য রাখেন। এর আগে উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য র্যালির শুভ উদ্বোধন করেন।