বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ বাস্তবায়নই চ্যালেঞ্জ

আপডেটেড
২৯ মার্চ, ২০২৩ ১৬:০৩
তৌফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত
তৌফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৩ ০৯:১৮

ঈদকে ঘিরে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট ব্যবস্থাপনায় এবার আমূল পরিবর্তন এনেছে রেলওয়ে। কাউন্টারে কোনো টিকিট বিক্রি হবে না। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে শুধু অনলাইনে টিকিট কাটতে পারবেন যাত্রীরা। এতে যার নামে টিকিট কাটা হবে তাকেই ট্রেনে যাত্রা করতে হবে। তবে কাউন্টার থেকে আন্তনগর ট্রেনের নন-এসি আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হবে। শেষ সময়ে বাড়ি ফিরতে স্ট্যান্ডিং টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি থাকবে। ফলে সিটের বাইরেও অনেক যাত্রী ঢুকে যাবেন ট্রেনে। এ কারণে ‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় বড় রেলস্টেশন ছাড়া বেশির ভাগ স্টেশনেই নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই। ফলে যাত্রীরা স্টেশনে ঢুকে ট্রেনে চড়তে কোথাও আটকান না। অনেক যাত্রী বিভিন্ন ফাঁকফোকর দিয়ে টিকিটবিহীন অবস্থায় ট্রেনে চড়ে বসেন। এ ছাড়া এখনো অবকাঠামোগত দুর্বলতা আছে রেলের। বিগত সময়ের ঈদযাত্রায় দেখা গেছে, কমলাপুর স্টেশন থেকেই ট্রেনের ছাদে যাত্রী উঠছেন। এবার সেই চিরচেনা চিত্র বদলাবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

২০২২ সালের ২১ জুলাই একটি স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) রুলের শুনানিতে হাইকোর্ট এক পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, ‘এখন থেকে ট্রেনের ছাদে কোনো যাত্রী বহন করা যাবে না এবং ট্রেনের ছাদে যাত্রী উঠলে সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এবার যারা রেজিস্ট্রেশন করে অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট কাটবেন তাদের টিকিটের সঙ্গেই যাত্রীর নাম এবং এনআইডি নম্বর সংযুক্ত থাকবে। কিন্তু যারা অনলাইনে ট্রেনের টিকিট পাবেন না, তারা কাউন্টারে ভিড় করবেন। আর শেষ মুহূর্তে ঘরেফেরা মানুষের ভিড় বাড়লে স্টেশনের কাউন্টারে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেয়ার হিসাব থাকবে না। এতে করে ট্রেনে সিটের বাইরে পা ফেলার জায়গা থাকবে না স্ট্যান্ডিং টিকিটের যাত্রীদের জন্য। ফলে শেষ মুহূর্তে যাত্রীদের চাপে ‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দেশে গণপরিবহনের সংকট আছে, ঈদের সময় সেই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করে। কালোবাজারি বন্ধ করতে শুধু অনলাইনে টিকিট বিক্রির ফলে ভোগান্তি বাড়বে। কারণ, সব মানুষের অনলাইনে টিকিট কাটার সুযোগ এবং সক্ষমতা নেই। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে টিকিট যার ভ্রমণ তার এখনই বাস্তবায়ন করা রেলের পক্ষে চ্যালেঞ্জ হবে। এ ধরনের সিদ্ধান্তগুলো একেবারেই অপরিপক্ব। সাধারণ মানুষ অনলাইনে টিকিট কাটতেও পারবেন না, শেষমেশ ট্রেনের ছাদে যাত্রা করবেন।’

এর আগে গত ঈদের সময়ও ‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ বাস্তবায়নের কথা বলেছিল রেলওয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।

ঈদ উপলক্ষে ১০০-এর বেশি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করবে যাত্রী পরিবহনের জন্য। এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত চাহিদা মেটানোর জন্য মোট ২১৮টি লোকোমোটিভ যাত্রীবাহী ট্রেনে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু যাত্রীবাহী এসব ট্রেনে পর্যাপ্ত ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার বা টিটিই নেই। ট্রেনের মধ্যে টিটিইদের মাত্র ১০০টি পজ মেশিন দেয়া হয়েছে টিকিট চেক করার জন্য। ফলে ঈদের সময় ভিড়ের মধ্যে যার যার টিকিট নিয়ে তিনি ভ্রমণ করছেন কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. কামরুল আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ট্রেনের টিকিট দেয়া হচ্ছে না। গত কয়েক দিনেই মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। ঈদের সময় ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও শতভাগ চেকিংয়ের চেষ্টা করব আমরা। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, ঈদের সময় প্রত্যেকটা যাত্রীর কাছে গিয়ে টিকিট চেকিং করা কঠিন। আমার মনে হয়, টিকিট কাটার সময় আমাদের চেকিংটা হয়ে যাচ্ছে। কারণ, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কেউ টিকিট পাচ্ছেন না। ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেছে। ঈদের আগে আগে আরও ১০-১৫ লাখ রেজিস্ট্রেশন হতে পারে। তবে আমাদের টিটিইর সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে নিয়োগের কার্যক্রম চলমান আছে।’

টিকিট কালোবাজারি বন্ধ হবে তো?

ট্রেনের টিকিট নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ বছরের পর বছর ধরে চলছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কালোবাজারির ধরনও পরিবর্তন হয়েছে। সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, ‘অনলাইনে-কাউন্টারে টিকিট না মিললেও স্টেশনের আনাচে-কানাচে বেশি দাম দিয়ে মাঝে মাঝেই টিকিট পাওয়া যায়। টিকিট কালোবাজারি না হলে কীভাবে মেলে এসব টিকিট।’

রেলসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টিকিট কেনার কারণে কালোবাজারি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রেলের মহাপরিচালকও বলছেন কালোবাজারি হওয়ার সুযোগ নেই।’

তবে টিকিট কালোবাজারি প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন তার ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, ‘কালোবাজারি সাহেবরা এখন রিফান্ড ব্যবসা শুরু করেছে। তারা আগেই টিকিট কেটে রাখে। এরপর যাত্রী জোগাড় করে কোনো এক ফাঁকে কাউন্টারে গিয়ে টিকিট রিফান্ড করেই সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর এনআইডি এবং নাম, মোবাইল নম্বর দিয়ে টিকিট করে দিচ্ছে। ট্রেনে যাত্রীকে চেকিং করলেও আর ধরার উপায় নেই।’

তিনি আরও জানান, এক মোবাইল নম্বর দিয়ে অসংখ্যবার রিফান্ড করা হয়েছে এক সপ্তাহে। এগুলো প্রায় সবটিই কাউন্টারের রিফান্ড। অসংখ্য মোবাইল নম্বরে অসংখ্য রিফান্ড। রিফান্ড করলে এখন সার্ভারে টিকিট ওপেন হয়ে যায়। কিন্তু আগে থেকেই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ায় কেউ তো দিনের পর দিন বারবার চেক করবে না বা কাউন্টারে যাবে না।

বিষয়:

ছাত্রদল নেতা থেকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

আপডেটেড ১২ মার্চ, ২০২৬ ২৩:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক 

আইন অঙ্গনে ছুটে চলা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে করলেন বাজিমাত। প্রথমে হলেন প্রতিমন্ত্রী। আর বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত হলেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ১৯৭২ সালের ৩১ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার চত্রাংপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোস্তফা কামাল মনছুর ও মা বেগম যোবায়দা কামাল। তার বাবা প্রয়াত মোস্তফা কামাল মনছুর কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিনিধিত্ব করে জয়লাভ করেন কায়সার কামাল। তাকে সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এবার ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হলেন তিনি।

কায়সার কামাল লন্ডনের দ্য অনারেবল সোসাইটি অব লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওলভারহ্যাম্পটন থেকে এলএলবি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। ১৯৮৮ সালে ছাত্ররাজনীতিতে পদার্পণ হয় কায়সার কামালের। ১৯৯৬ সালে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্বাহী সদস্যপদ লাভ করেন। ২০০৯ সালে লাভ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্যপদ। ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির মহাসচিবও। বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আইনি মামলায় আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।


গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে: সংসদে রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি উল্লেখ করেন, একটি তীব্র গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে ।

ভাষণের শুরুতেই তিনি জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদদের অপরিসীম আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার কথা পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই শহীদদের সম্মান রক্ষার্থে যে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রের বর্তমান নীতি ও লক্ষ্য সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি জানান যে, সরকার এখন 'করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে দেশ পরিচালনার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। সরকারের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন যে, দুর্নীতি দমন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনাই হবে এই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনাই হবে বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।

সামাজিক কল্যাণ ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন যে, বর্তমান সরকার নারীর উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি প্রান্তের পরিবারগুলোকে 'ফ্যামিলি কার্ড' সুবিধার আওতায় আনার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই উদ্যোগগুলো একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে।


স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে চিফ হুইপের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। এরপর তিনি নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

আজ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি ১১৭ ভোলা-২ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি ১৫৭ নেত্রকোনা-১ মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নিকট শপথ গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এই শপথের মাধ্যমে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


খালেদা জিয়া, মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জনকে স্মরণে সংসদে শোকপ্রস্তাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী অধিবেশনে নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম শোকপ্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্বও করেন তিনি।

শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশ হারিয়েছে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান চিরস্মরণীয়। জাতীয় সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশি নেতাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এ তালিকায় রয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

এছাড়া অধিবেশনে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ মোট ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, সাবেক সেনাপ্রধান কে. এম. সফিউল্লাহ, সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, গণফোরাম নেতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে খন্দকার এবং রমেশ চন্দ্র সেনসহ মোট ৩১ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।


মন্ত্রী হলেন আহমদ আজম খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আযম খান মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বিরতির সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পড়ান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আহমেদ আযম খান পান ১ লাখ ১৩ হাজার ২১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর হরিণ প্রতীক নিয়ে পান ৭৬ হাজার ৪৪৮ ভোট। ৩৬ হাজার ৭৬৬ ভোটে জিতে এমপি হন বিএনপির এ নেতা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নির্বাচিত হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করান। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ও হওয়ায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আর মন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

এদিনই টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের এমপি এডভোকেট আহমেদ আযম খানকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়। তবে এখনো তাকে কোনো মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়নি।


স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নব নির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে এ শপথ পড়ানো হয়। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এই শপথ পড়ানো হয়।

তার আগে সংসদ সদস্যের হ্যাঁ ভোটে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। প্রথমে সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয় সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে।


ডেপুটি স্পিকার হলেন কায়সার কামাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

এর আগে ডেপুটি স্পিকার পদে একটিমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি হলেন সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।


ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

এর আগে জাতীয় সংসদে স্পিকার পদে নির্বাচনের জন্য একটিমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।


প্রথম অধিবেশনের সভাপতি খন্দকার মোশাররফ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নাম প্রস্তাব করেন। পরে দলের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেটি সমর্থন জানান।

তারপর এ সিদ্ধান্তে জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাহের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সমর্থন জানান।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।


ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ অধিবেশন শুরু হয়।

এ অধিবেশনের শুরুতেই উত্তাপ তৈরি হতে পারে, এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান–পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাস্তবায়ন প্রশ্নে বিতর্ক ও উত্তাপ ক্রমে বাড়তে পারে।

অধিবেশনে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এর পাশাপাশি পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন, শোকপ্রস্তাব উত্থাপন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। জামায়াত পেয়েছে ৬৮ আসন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দল প্রতিনিধিত্ব করছে।


অধিবেশনে যোগ দিতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিতে জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় সংসদে পৌঁছান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ থেকে শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং পরে সংসদ সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করবেন।

এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালি নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা নির্ধারণ করা হবে।

প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যে সব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদকালে মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে।


সংসদের প্রথম অধিবেশন: ভাগ্য নির্ধারণে বিশেষ কমিটিতে যাচ্ছে ১৩৩ অধ্যাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই ঐতিহাসিক অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের পর এই প্রথম স্পিকারের চেয়ার শূন্য রেখেই শুরু হচ্ছে নতুন সংসদের যাত্রা। এ অধিবেশনেই ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন সরকার দলীয় নেতারা।

বুধবার সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে রয়েছেন। ফলে স্পিকারের আসনটি বর্তমানে শূন্য। অধিবেশনের শুরুতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্য দেবেন। এরপর তার আহ্বানে বিধি অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য প্রারম্ভিক সভাপতিত্ব করবেন। তার অধীনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে। নবনির্বাচিতদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

তিনি জানান, অধিবেশনের প্রথম দিনেই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করবেন। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে।

জামায়াত ও এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলোর দাবি, গণভোটে পাস হওয়া জুলাই সনদের হুবহু বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং সাংবিধানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, জুলাই সনদের সমঝোতা অনুযায়ী প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। তবে একক কোনো পদ নয়, বরং পুরো ‘প্যাকেজ’ বাস্তবায়নের দাবিতে অনড় বিরোধীরা।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদেই আছে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খণ্ডিত কোনো সুবিধা চাচ্ছি না। আমরা চাই পুরো প্যাকেজটির বাস্তবায়ন। এর ভিত্তিতেই আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে চাই।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। দীর্ঘ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে ১২ মার্চ এই প্রথম বৈঠক আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি।


কার্যকর সংসদ গড়তে চায় সরকার: চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, ‘আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমেই সংসদের ভেতরে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’ বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভাতের অধিকার নিশ্চিত করা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী যে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারই ধারাবাহিক প্রতিফলন হচ্ছে আজকের এই জাতীয় সংসদ।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় সংসদ কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।’

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এই সংসদ হবে দেশের মানুষের অধিকার, আশা ও স্বপ্নের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান।’

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়িত্বশীল সংসদ পরিচালনা করা। আমরা চাই সংসদে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা, যুক্তিপূর্ণ তর্ক ও সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি হোক।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা। সেই লক্ষ্যেই আমরা সংসদকে একটি কার্যকর ও অর্থবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

দেশের জনগণের সমর্থন কামনা করে নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, ‘দেশের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন কামনা করছি। একই সঙ্গে আমরা বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা ও সহযোগিতাও প্রত্যাশা করি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান করা সম্ভব এবং সেই পথ ধরেই আমরা জাতিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারব।’

সরকারের অঙ্গীকার হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘দারিদ্র্য দূর করা এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি কার্যকর সংসদের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

পরিশেষে একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।


banner close