বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৬ ফাল্গুন ১৪৩২

শ্বশুরবাড়ি গিয়ে কিল-ঘুষিতে যুবকের মৃত্যু

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৯ মার্চ, ২০২৩ ১৫:৪৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৩ ১১:২৩

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী গোলাপবাগের মানিকনগর এলাকায় শ্বশুরবাড়ি গিয়ে কিল-ঘুষিতে আব্দুল্লাহ আল সোহান (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহতাবস্থায় সোহানকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব‍্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোলাপবাগ মনোয়ারা হাসপাতালের সামনে কিল-ঘুষির ঘটনায় সোহান নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। পরে এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে মুগদা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, সেখান (মুগদা জেনারেল হাসপাতাল) থেকে মরদেহ উদ্ধার করে আইনি-প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তবে কী কারণে তাকে মারধর করা হলো এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নিহতের চাচাতো ভাই মো. সাগর মিয়া বলেন, ‘আমার চাচাতো ভাই মৃত সোহান গত দুই বছর আগে দোলা আক্তার নামে এক মেয়েকে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিষয়টি উভয় পরিবারের লোকজন জানতেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্ত্রী দোলাকে নিয়ে সোহান তার শ্বশুরের গোলাপবাগের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে শ্বশুর-শাশুড়ি না থাকায় বাসা থেকে ফেরার সময় বাড়িওয়ালা জামাল মিয়ার সঙ্গে দেখা হয়। তখন জামাল মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে সোহানকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে সোহান অচেতন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত মুগদা জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

সাগর আরও বলেন, ‘বিয়ের বিষয়টি বাড়িওয়ালা ও আশপাশের লোকজন জানতেন না। মৃত সোহানের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার গোলাবাড়ী গ্রামে। ওই গ্রামের মোহাম্মদ ইউনুছ খানের ছেলে তিনি। ইউনুছ বাউফল ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি থেকে লেখাপড়া শেষ করে কানাডা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সোহান। এ ঘটনায় মধ্যরাতে অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা জামালকে আটক করেছে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ।’


সাংবাদিকদের সমস্যা সমাধান ছাড়া গণমাধ্যমের উন্নয়ন সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে হলে সবার আগে সাংবাদিকদের পেশাগত ও জীবনযাত্রার সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, সংবাদকর্মীদের নানা প্রতিকূলতা ও দাবিগুলো অমীমাংসিত রেখে গণমাধ্যমের প্রকৃত উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। নতুন সরকারের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার প্রেস ক্লাবে এসে তিনি সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

মতবিনিময়কালে জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন সাংবাদিকতা অপরিহার্য এবং বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার পরিবর্তে একে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে কাজ করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, সাংবাদিকরা যদি নির্ভয়ে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তবেই রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। প্রেস ক্লাব পরিদর্শন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে এই আলাপচারিতার সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীও তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তথ্যমন্ত্রীর কাছে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবাদপত্রের সংকট, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। মন্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্যসহকারে তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, সরকার গণমাধ্যমবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ ধারার সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাংবাদিকদের সাথে সরকারের এই সরাসরি যোগাযোগ আগামীর পথচলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন।

সৌজন্য সাক্ষাতের এই আয়োজনে সাংবাদিক সমাজের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশেষ করে বিএনপি বিটের সংবাদকর্মীরা এই সময় উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নতুন তথ্যমন্ত্রীর এই ত্বরিত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর মেয়াদে গণমাধ্যম এক নতুন প্রাণশক্তি পাবে। সব মিলিয়ে নতুন সরকারের প্রথম দিনেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাংবাদিকবান্ধব এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।


যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়া হবে: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবগঠিত সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের প্রথম কার্যদিবসেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের শূন্য পদগুলোতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে শুরু করা হবে। তিনি জানান, সরকার এই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিকভাবে সক্রিয় করতে বদ্ধপরিকর এবং যত দ্রুত সম্ভব এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বর্তমানে দেশের স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের পদগুলো খালি থাকায় প্রশাসনিক কাজে যে স্থবিরতা বিরাজ করছে, তা নিরসনেই এই দ্রুত নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে নতুন সরকার। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তৃণমূল পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিলে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব হবে।

দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ওঠা 'ভঙ্গুর অবস্থার' অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি যতটা নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, আদতে বাস্তবতা ততটা খারাপ নয়। তাঁর মতে, গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং ব্যষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে শুরু করেছে। ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন যে, বিগত সময়ে ধ্বংসের মুখে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতির আরও দ্রুত উন্নতি ঘটানো সম্ভব হবে।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক অবস্থান কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে জানান, এটি একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং সরকারের সামগ্রিক অবস্থানের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে তা আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানানো হবে।

সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে তিনি স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দেন। শিক্ষা ও আইন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনিও জানান যে, বর্তমান সরকার জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে কোনো আপস করবে না। দীর্ঘ দেড় দশক পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপির এই হেভিওয়েট নেতার স্থানীয় সরকার নিয়ে এমন তড়িৎ সিদ্ধান্ত আগামীর প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে নতুন সরকারের প্রথম দিনেই শাসনতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ফেরার স্পষ্ট আভাস মিলল তাঁর বক্তব্যে।


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে শেখ বশিরউদ্দীনকে অব্যাহতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে শেখ বশিরউদ্দীনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে সরকার। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিমান-১ উপশাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। শেখ বশিরউদ্দীন বিমান বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছিলেন। নতুন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের প্রাক্কালে তাঁর এই পদত্যাগ ও অব্যাহতি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. শাকিলা পারভীন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, সরকার 'বাংলাদেশ বিমান (রহিত বাংলাদেশ বিমান অর্ডার, ১৯৭২ পুনর্বহাল এবং সংশোধন আইন, ২০২৩)'-এর ৩০ (সি) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রজ্ঞাপনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শেখ বশিরউদ্দীনকে তাঁর ব্যক্তিগত অভিপ্রায় বা ইচ্ছার ভিত্তিতেই এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। মূলত তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার এই আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করেছে।

এর আগে গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শেখ বশিরউদ্দীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। ওই দিনই তাঁর পদত্যাগপত্রটি অনুমোদনের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। শেখ বশিরউদ্দীন গত বছরের ২৬ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় এই বিমান সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান মুয়ীদ চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উল্লেখ্য যে, দেশে গণতান্ত্রিক ধারায় নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শেখ বশিরউদ্দীনের এই অব্যাহতি সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খুব শীঘ্রই বিমানের নতুন চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। বর্তমানে সংস্থাটির দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চললেও শীর্ষ পদের এই পরিবর্তন বিমানের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে নতুন কোনো মোড় আনে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আজ সন্ধ্যা ৭টায় এই গুরুত্বপূর্ণ ভাষণটি অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকারি এক বার্তায় নিশ্চিত করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর দেশবাসীর প্রতি তাঁর এটিই হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক ও সরাসরি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সৌজন্যে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণটি একযোগে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিও এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে সম্প্রচার করা হবে। তথ্য মন্ত্রণালয় দেশের সকল সম্প্রচার মাধ্যমকে নির্ধারিত সময়ে ভাষণটি প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর এই ভাষণে নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা, রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা, অর্থনীতির সংকট মোকাবিলা এবং জাতীয় ঐক্যের ডাক সংবলিত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা থাকবে।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক রাজকীয় ও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে পদের গোপনীয়তা ও শপথ বাক্য পাঠ করান। একই দিন বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশে একটি নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম এই ভাষণটি নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যাত্রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। আজ সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এই ভাষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণ করা হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবগঠিত সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসেই দেশে প্রচলিত ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির মতো বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বিগত দেড় বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছিল, তা উন্নয়ন করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা যতটুকু খারাপ ছিল, তা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে উন্নয়নের চেষ্টা করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘টু বিল্ড দ্য নেশন’ অর্থাৎ দেশ পুনর্গঠন করা। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন এবং সেই ‘মাস্টার প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতেই বর্তমান মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে। মন্ত্রিসভার প্রতিটি সদস্য জনগণের সমস্যা সমাধানে এবং দেশকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে দায়বদ্ধ থাকবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গণতন্ত্রকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা হবে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সরাসরি তৃণমূল মানুষের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক বেশি। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অতীতে নিজে স্থানীয় সরকারের সাথে জড়িত থাকায় মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল ও জনমুখী করার মাধ্যমে গ্রাসরুট পর্যায়ে পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘ভঙ্গুর দশা’ সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যতটা খারাপ ভাবা হচ্ছে, বাস্তবে এখন আর তেমন নেই। তাঁর দাবি অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে এবং ব্যাষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে। ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলাও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, একটি বড় গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবের পর মুহূর্তের মধ্যেই সব কিছু স্বাভাবিক হওয়া কঠিন, তবে সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

বিগত নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং সবাই একে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আওয়ামী লীগের বিষয়ে ভবিষ্যতে সরকারের অবস্থান কী হবে, তা মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর রাজনৈতিকভাবে জানানো হবে বলে তিনি জানান। তবে বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম নিয়ে কোনো শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা তিনি নাকচ করে দেন। তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিশেষ মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়েছিল এবং সফলভাবে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ তৈরি করে দিয়েছে। এই কৃতিত্বের জন্য তাদের প্রশংসা প্রাপ্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সার্বিকভাবে, নতুন সরকারের শুরুতেই তিনি শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন।


নতুন চাকরি পেলেন সদ্য সাবেক প্রেস সচিব ও উপ-প্রেস সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন চাকরি পেয়েছেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ কথা জানান তারা।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নতুন চাকরির কথা জানিয়ে লিখেছেন, আমি একটি নতুন ইংরেজি সংবাদপত্র, দ্য ডেইলি ওয়াদা-এর সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেছি। আপনাদের দোয়া এবং আশীর্বাদ কামনা করছি।

অপরদিকে উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জানান- তিনিও সংবাদপত্র, ডেইলি ওয়াদা’র নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেছেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। পরে ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যেসব সুবিধা পাবেন তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গতকাল মঙ্গলবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশের শাসনভার গ্রহণ করা নতুন এই প্রধানমন্ত্রীর বেতন, সরকারি ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিদ্যমান ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৬’ অনুযায়ী নির্ধারিত আইনি কাঠামোর অধীনেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর যাবতীয় আর্থিক সুবিধা ও বিশেষ অধিকার ভোগ করবেন।

আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাসিক ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল বেতন পাবেন। এর বাইরেও বাড়িভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা ভাতার বিধান রয়েছে, যদিও প্রধানমন্ত্রী সাধারণত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নির্ধারিত বাসভবনেই অবস্থান করেন। সে ক্ষেত্রে বাসভবনের যাবতীয় সাজসজ্জা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সরকার বহন করে। দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যখন বিভিন্ন জেলায় বা দেশের অভ্যন্তরে সফরে থাকেন, তখন তিনি প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা হারে দৈনিক ভাতা পাওয়ার অধিকারী হন। এই ভাতা মূলত তাঁর দাপ্তরিক ভ্রমণের খরচ মেটাতে প্রদান করা হয়।

আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জন্য রয়েছে বিশাল অঙ্কের একটি স্বেচ্ছাধীন তহবিল। আইন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর অধীনে প্রতি বছর দেড় কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল বরাদ্দ থাকে, যা তিনি জনকল্যাণমূলক কাজে তাঁর পছন্দ অনুযায়ী ব্যয় করতে পারেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে বিমান ভ্রমণের সময় তাঁর জন্য ২৫ লাখ টাকার একটি বিমা কভারেজ নিশ্চিত করা থাকে। প্রধানমন্ত্রীর বিনোদন সংশ্লিষ্ট যাবতীয় ব্যয় এবং তাঁর কার্যালয় ও সরকারি বাসভবনের যাবতীয় ইউটিলিটি বিল যেমন—বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও টেলিফোন খরচ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মেটানো হয়।

পরিবহন সুবিধার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে সচিবালয় বা অন্য যেকোনো দাপ্তরিক গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত যানবাহনের জ্বালানি ও চালকের বেতনসহ সকল ব্যয় সরকার বহন করে। কেবল প্রধানমন্ত্রী নন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্যও নির্দিষ্ট কিছু ব্যয় ভাতা হিসেবে পাওয়ার আইনি সংস্থান রয়েছে। গতকাল বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান এই সকল রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রটোকলের অধীনে চলে এসেছেন। আজ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তাঁর এই রাজকীয় রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের আনুষ্ঠানিক সূচনা দেখা গেছে। নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এখন থেকে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদের এই মর্যাদা ও দায়িত্ব পালন করবেন।


দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের, ৩০ লাখ নতুন দরিদ্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশ্বখ্যাত দর্শন হলো ‘দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো’। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ১৮ মাস দায়িত্ব পালন শেষে তিনি যখন বিদায় নিচ্ছেন, তখন দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা তাঁর এই দর্শনের ঠিক বিপরীত চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এক বিশাল জনসমর্থন ও সংস্কারের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এলেও, ড. ইউনূসের শাসনামলে দেশে নতুন করে ৩০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের যে সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন, তা কাজে লাগাতে তিনি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিকে তিনি তাঁর সাফল্যের স্মারক হিসেবে তুলে ধরলেও এর নেপথ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও উৎপাদন খাতকে সংকুচিত করার এক নেতিবাচক কৌশল ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

ড. ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি সূচকই ছিল নিম্নমুখী। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল বায়েসের মতে, একজন অর্থনীতিবিদ সরকার প্রধান হওয়ার পর প্রত্যাশা ছিল বিপর্যস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে, কিন্তু বাস্তবে ব্যবসায়িক আস্থায় ধস নেমেছে এবং শিল্প উৎপাদন মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর আমলে নতুন করে বিপুল সংখ্যক মানুষ দরিদ্র হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২৪ শতাংশ, যা এক বছর পর ২০২৫ সালে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে আসে—যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সাথে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ড. ইউনূসের সরকার নির্বাচিত সরকারের জন্য ২৩ লাখ কোটি টাকার এক বিশাল ঋণের বোঝা রেখে গেছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা ড. ইউনূসের আমলের অন্যতম কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরিত ঋণের প্রায় ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের এই হার বর্তমানে বিশ্বে সর্বোচ্চ। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের চিত্রটিও বেশ করুণ। ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতির হার যখন সাড়ে ৮ শতাংশ, তখন মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশের নিচে। অর্থাৎ, মানুষের আয় যে হারে বেড়েছে, খরচ বেড়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি। অথচ বিদায়ী ভাষণে ড. ইউনূস ৩৪ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভের পরিসংখ্যান দিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। গবেষকদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে এবং আমদানি কঠোরভাবে সংকুচিত করে সাধারণ মানুষকে চাপে ফেলে এই রিজার্ভ বাড়ানো হয়েছে, যা কোনো টেকসই সমাধান নয়।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টা পদের প্রভাব খাটিয়ে নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর শাসনামলে গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ এবং ব্যাংকে সরকারি শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ ইউনির্ভাসিটির অনুমোদন, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসের জন্য জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স এবং গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি দ্রুততার সাথে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থ পাচারের মামলাগুলো অত্যন্ত দ্রুততার সাথে খারিজ হয়ে যাওয়ায় বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। দায়িত্বরত অবস্থায় তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি, যা তাঁর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল তাঁর আমলে দেশে সৃজিত ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল জনরোষ। বিভিন্ন গণমাধ্যম অফিসে আগুন দেওয়া, সংবাদকর্মীদের অবরুদ্ধ করা এবং ভিন্নমতের কারণে সাংবাদিকদের কারারুদ্ধ করার ঘটনা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছে। তাঁর সরকারের অধীনে মাজার, মন্দির ও ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙচুর এবং ধর্মের দোহাই দিয়ে পিটিয়ে হত্যার মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি দেশের দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য নথিপত্র এবং ভাস্কর্য বিনষ্টের সময়ও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি নীরব ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিশ্বব্যাপী যে ‘তিন শূন্য’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ) তত্ত্ব প্রচার করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি। বরং দারিদ্র্য ও বেকারত্ব উভয়ই বৃদ্ধি পাওয়ায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ড. ইউনূস তাঁর এই তত্ত্বের নৈতিক ভিত্তি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কতটা ধরে রাখতে পারবেন। বিদায়লগ্নে এই বিশাল ব্যর্থতা ও ঋণের বোঝা তাঁর ১৮ মাসের শাসনের এক ধূসর অধ্যায় হিসেবেই ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।


ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হয়েছে। দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মহানগরী—ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আয়োজন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এর মাধ্যমে রাজধানী ও বাণিজ্যিক নগরীর অভিভাবক নির্বাচনের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এই তিন সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়াদের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ২ জুন, ফলে আইন অনুযায়ী গত বছরের ১ জুন এই সিটির পাঁচ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ৩ জুন, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ২ জুন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং বর্তমান হিসাব অনুযায়ী আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি এই সিটির মেয়াদ পূর্ণ হতে যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, কোনো সিটি করপোরেশনের প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর সেটির মেয়াদ গণনা করা হয় এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম—উভয় মহানগরের ক্ষেত্রেই মেয়াদের সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত বা সন্নিকটে হওয়ায় দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারের এই চিঠিটি ইতোমধ্যেই কমিশনের হস্তগত হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে দ্রুতই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক সভা আয়োজন করা হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনের পর এখন তাদের মূল মনোযোগ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। সে হিসেবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাসিন্দারা বছরের মাঝমাঝি সময়ে নতুন জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে এবং তৎকালীন মেয়র ও চেয়ারম্যানদের একটি বড় অংশ আত্মগোপনে চলে যান অথবা পদত্যাগ করেন। সেই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১২টি সিটি করপোরেশনসহ দেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল। বর্তমানে শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্য সব স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের এক বিশেষ আদেশে বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি নেতা ডা. শাহadat হোসেন। দীর্ঘ বিরতির পর এই তিনটি মেগাসিটিতে ভোটের ঘোষণা আসায় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার কাঠামোতে গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত নেতৃত্বের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটবে।


জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে তিনি স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি।

সাভারে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এক বিশেষ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর তিনি মন্ত্রিসভার নবনিযুক্ত সদস্যদের সাথে নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে প্রধানমন্ত্রী শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় সালাম বা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই প্রথম সফরকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। তাঁর সাথে এ সময় নবনিযুক্ত পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গতকাল বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেন তারেক রহমান। আজ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর প্রশাসনিক মেয়াদের প্রথম কার্যদিবসের সূচনা করলেন।

সাভারের কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দিনভর তাঁর আরও বেশ কিছু শ্রদ্ধা নিবেদন ও দাপ্তরিক কর্মসূচি রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার তিনি শপথের পর করেছিলেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধে এই শ্রদ্ধা নিবেদন তারই এক আনুষ্ঠানিক প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার এই সফরের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।


ড. ইউনূস যমুনা ছাড়ছেন কবে?

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন নির্বাচিত সরকার গঠিত হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রাষ্ট্রীয় বাসভবন ত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের সাথে সাথেই ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রধান উপদেষ্টার পদটি বিলুপ্ত হয়। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অবস্থানের পর এখন তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তিনি যমুনা ছেড়ে গুলশানে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব বাসভবনে স্থায়ীভাবে ফিরে যাবেন।

গতকাল শপথ অনুষ্ঠানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ নাগরিক হিসেবে যমুনা ভবনে ফিরে যান, যা ক্ষমতা হস্তান্তরের এক বিরল ও মার্জিত উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট এক কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের হাল ধরেছিলেন এই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। টানা ৫৫৯ দিন দায়িত্ব পালন শেষে তিনি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেন। এখন থেকে তিনি তাঁর পূর্বের শিক্ষা ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডে পুনরায় মনোনিবেশ করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে সরকারি একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন আবাসের জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকেই প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী বসবাসের জন্য ভবনটিতে বেশ কিছু অবকাঠামোগত সংস্কার ও নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন। এই সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত দুই মাসের মতো সময় লাগতে পারে। সংস্কার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বর্তমান আবাসস্থল থেকেই দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় গুরুদায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক ও তাঁর বিভিন্ন সামাজিক ব্যবসার প্রকল্পের কাজে যুক্ত হবেন। বিশেষ করে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ বা গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি দেখভালের কাজে তিনি সরাসরি সময় দেবেন বলে ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, দেশের ১১৬তম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গত বছর মার্চ মাসে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছিল। দেড় বছরের এই শাসনকাল শেষে ড. ইউনূসের প্রস্থান এবং নতুন সরকারের আগমন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন গণতান্ত্রিক ধারার সূচনা করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদে নিয়োগ পেলেন আব্দুস সাত্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রশাসনের অভিজ্ঞ ও সাবেক সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। প্রশাসনের ৮২ ব্যাচের এই চৌকশ কর্মকর্তাকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে এই নিয়োগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর মেয়াদে এবিএম আব্দুস সাত্তার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান সব ধরনের কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করতে বাধ্য থাকবেন। তাঁর নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি একটি পৃথক চুক্তিনামার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

এবিএম আব্দুস সাত্তার একজন সজ্জন, মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনিক মহলে সুপরিচিত। রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষ পর্যায়ের কাজের ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি থেকে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করার ফলে তাঁর গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর আজ থেকেই নতুন সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদের এই নিয়োগ মূলত নতুন প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে একজন বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে রাখারই একটি প্রতিফলন। আগামীকাল থেকে নবনিযুক্ত এই মুখ্য সচিব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করবেন বলে জানা গেছে। একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস), সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ও প্রটোকল অফিসার পদেও নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের শীর্ষ নির্বাহী দপ্তরের প্রশাসনিক কাঠামোটি পূর্ণতা পেল।


নতুন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন যারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ৪৯ জন। তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ঘোষিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে তিনজন টেকনোক্র্যাট কোটায় জায়গা পেয়েছেন।

বিএনপির দেওয়া তালিকায় দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে এবং ভূমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যথাক্রমে মিজানুর রহমান মিনু ও নিতাই রায় চৌধুরীকে।

আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ফকির মাহবুব আনামকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, শেখ রবিউল আলমকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরিফুল হক চৌধুরীকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; জহির উদ্দিন স্বপন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ পাচ্ছেন কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়; আফরোজা খানম বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আসাদুল হাবিব দুলু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; মো. আসাদুজ্জামান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; জাকারিয়া তাহের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন দপ্তর পেলেন :

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (এমপি) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (এমপি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়; মো. শরিফুল আলম (এমপি), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; শামা

ওবায়েদ ইসলাম (এমপি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (এমপি) কৃষি মন্ত্রণালয়; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয়; ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (এমপি) ভূমি মন্ত্রণালয়; ফরহাদ হোসেন আজাদ (এমপি) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়; মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়; মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (এমপি) পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়; হাবিবুর রশিদ (এমপি) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়; মো. রাজিব আহসান (এমপি) রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়; মো. আব্দুল বারী (এমপি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়; মীর শাহে আলম (এমপি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (এমপি) অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; ইশরাক হোসেন (এমপি) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; ফারজানা শারমীন (এমপি) মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; শেখ ফরিদুল ইসলাম (এমপি) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়; মো. নুরুল হক নুর (এমপি) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; ইয়াসের খান চৌধুরী (এমপি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; এম ইকবাল হোসেইন (এমপি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; এম এ মুহিত (এমপি) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর (এমপি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; ববি হাজ্জাজ (এমপি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (এমপি) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।


banner close