সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ওই দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
বাসে বাংলাদেশি যাত্রী ছিলেন ৩৫ জন। এদের মধ্যে ১৭ জন মারাত্মক বা আংশিক আহতাবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১৩ জন নিহত ছাড়াও নিখোঁজ রয়েছেন আরও পাঁচ বাংলাদেশি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা সবাই মৃত, কিন্তু তাদের মরদেহ পুড়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা যাচ্ছে না। অন্য দেশের ১২ জন যাত্রীদের মধ্যে পাঁচজনকে মৃত এবং সাতজনকে আহতাবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত সোমবার জেদ্দা থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে ইয়েমেন সীমান্তবর্তী আসির প্রদেশের আকাবা শার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসের আরোহীরা ওমরাহ পালন করতে মক্কায় যাচ্ছিলেন। বাসের ব্রেক কাজ না করায় একটি সেতুর ওপর উল্টে গিয়ে বাসটিতে আগুন ধরে যায় বলে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গালফ নিউজ ও আরব নিউজের খবরে বলা হয়।
শুরুতে দুর্ঘটনায় আটজন প্রবাসী বাংলাদেশির নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছিল। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কাউন্সিলর (শ্রম) কাজী এমদাদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৩ জন বাংলাদেশির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’
এর আগে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানায়, বাংলাদেশে সময় রাত ১০টা পর্যন্ত ৩৫ জন আহত যাত্রীর মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন হাসপাতালে আছেন। বাকি ১৭ জনের মধ্যে নিহত আটজনের পরিচয় জানা গেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নিহত বলে ধারণা করছে জেদ্দার বাংলাদেশ মিশন।
মিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ পুড়ে গেছে। তাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হতে ডিএনএ টেস্ট করতে হবে।’
নিহত ১৩ জন হলেন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মো. শরিয়ত উল্লাহর ছেলে শহিদুল ইসলাম, কুমিল্লার মুরাদনগরের আবুল আউয়ালের ছেলে মামুন মিয়া, একই উপজেলার রাসেল মোল্লা, নোয়াখালী জেলার মো. হেলাল, লক্ষ্মীপুরের সবুজ হোসাইন, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মো. আসিদ, গাজীপুরের টঙ্গীর আব্দুল লতিফের ছেলে মো. ইমাম হোসাইন, চাঁদপুরের কালু মিয়ার ছেলে রুকু মিয়া, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সিফাত উল্লাহ, কুমিল্লার দেবিদ্বারের গিয়াস হামিদ, যশোরের কাওসার মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ নাজমুল, একই জেলার ইস্কান্দারের ছেলে রনি ও কক্সবাজারের মোহাম্মদ হোসেন।
সৌদিতে পঞ্চম রমজানে এ দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আল এখবারিয়া চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, বাসটির সামনে অন্য কোনো গাড়ি চলে এসেছিল। অন্যদিকে বেসরকারি সংবাদমাধ্যম ওকাজ বলছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে (ব্রেক ফেল) বাসটি ব্রিজে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়, এরপর গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো চিঠির উত্তর এখনো দেয়নি রিয়াদ। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বাংলাদেশ মিশনকে কোনো ধরনের পূর্বতথ্য না দিয়েই গত ১৪ অক্টোবর ওই দুই প্রবাসীর দণ্ড কার্যকর করা হয়। এ ঘটনার পর চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তলব করার কথা জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ঢাকার পক্ষ থেকে আদালতের রায়ের অনুলিপি, অভিযুক্তদের সুনির্দিষ্ট অপরাধের বিবরণ এবং কূটনৈতিক মিশনকে অবহিত না করার কারণ বিস্তারিতভাবে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল।
এদিকে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে সে দেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উল্লেখ করেন, মামলার চূড়ান্ত নথিপত্র ও তথ্য পাওয়ার পর সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। একই সাথে তিনি এ স্পর্শকাতর বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক শ্রমবাজার। দেশটিতে কর্মরত প্রায় ৩৫ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের পাঠানো অর্থ জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে। ফলে অভিবাসী শ্রমিকদের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত।
দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায়ে নিবন্ধন ও বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে বিক্রি হওয়া খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) নিবন্ধন নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আবশ্যক হবে।
গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর আওতায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই বিধানের গেজেট প্রকাশিত হয়।
এই নতুন আইনের ফলে রাস্তার পাশের ছোটখাটো পিঠা ও পুরির দোকান থেকে শুরু করে বড় রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং সেবা, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিবন্ধনের আওতায় আসবেন। নীতিমালায় উল্লিখিত প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রথমবার নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি বিনামূল্যে সম্পাদন করা যাবে। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য প্রস্তুত, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুত বা আমদানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হবে।
বিএফএসএ-র অনুমোদন ব্যতিরেখে ব্যবসা পরিচালনা করাকে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
পণ্যের গায়ে নিবন্ধন নম্বর মুদ্রিত থাকলে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা ভোক্তাদের জন্য সহজ হবে এবং যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে এই নম্বরটি ব্যবহার করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষের মতে, নম্বর থাকাই পণ্যের গুণমানের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, মান বজায় রাখতে অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে।
শিশু খাদ্য, বয়স্ক বা রোগীদের জন্য তৈরি বিশেষ পথ্য, সাপ্লিমেন্ট, প্রোবায়োটিক এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসের মতো পণ্যের জন্য আলাদা লাইসেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জিএমও, অর্গানিক, ফোর্টিফায়েড বা স্বাস্থ্যগত উপকারের দাবিযুক্ত খাদ্যপণ্যের জন্যও অতিরিক্ত অনুমোদন আবশ্যক করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের প্রবিধানমালার তফসিল অনুসারে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করতে হবে, যেখানে ১০০ বর্গমিটার পর্যন্ত ছোট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি বড় প্রতিষ্ঠানের ফি ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বিএফএসএ-র জেলা কার্যালয়ে সরাসরি আবেদন জমা নেওয়া হলেও দ্রুত তা পুরোপুরি অনলাইনে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এই নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে তিন বছর, যা পরবর্তীতে নবায়ন করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে খাদ্য খাত একটি সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলায় আসবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা সহজতর হবে।
সরকারের পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করেই জনগণ পরবর্তী নির্বাচনে ভোট দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দেবে। তাই ঘন ঘন আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা না করে জনগণের রায়ের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
আজ বুধবার, বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জিয়া মঞ্চের বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চীফ হুইপ বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত না করে সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি। নানা সংকটের মধ্যেও বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসারিতে থেকে তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতার পর দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁকে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন ও সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়েজ উল্লাহ ইকবাল।
আবু তালেবের সভাপতিত্বে এবং গোলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাংগঠনিক বক্তব্য দেন জিয়া মঞ্চের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জামাল হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সম্মেলনে বরিশাল বিভাগের মহানগর ও বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহাগ ফকির নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত মঙ্গলবার রাতে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় স্থানীয় থানা-পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি গণমাধ্যম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, ‘সোহাগ নিজেকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক দাবি করেছেন। পূজার ছুটিতে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় তাঁর দাবি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রশ্নফাঁসের মামলার তদন্তে ৩৮ বছর বয়সী সোহাগের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার সোহাগকে আদালতে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। এর আগে এই একই ঘটনায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল ধরা পড়লে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৬ অক্টোবর স্থগিত হওয়া পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়, যাতে মোট ৫ হাজার ৩৮৬ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
দেশে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় পৌনে সাত বছরে বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৫৮ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া রাস্তা পারাপার বা হাঁটার সময় পথচারী হিসেবে ২ হাজার ৮১২ জন এবং অন্যান্য যানবাহনের যাত্রী অবস্থায় ২ হাজার ১৯৩ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
বুধবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। দেশের ৯টি প্রধান জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থার নিজস্ব মাঠপর্যায়ের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ বিশ্লেষণ তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মোট নিহত শিশুদের ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশই ছিল পথচারী। পথচারী শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে তিন চাকার যানবাহনের (থ্রি-হুইলার) ধাক্কায়। এছাড়া বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের মতো ভারী যানের চাপায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১২৬ শিশুর। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় ৩১৭ জন এবং মোটরসাইকেলের আঘাতে ৯৮ শিশু নিহত হয়েছে।
সড়কের ধরন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সর্বোচ্চ ৩৪ দশমিক ০৭ শতাংশ অর্থাৎ ২ হাজার ৭১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে গ্রামীণ সড়কে। আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২ জন, জাতীয় মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ জন এবং শহরাঞ্চলের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশু দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যায়।
সময়ের হিসাবে বিকেলে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৩৪ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া সকালে ২ হাজার ১৬৮ জন, দুপুরে ১ হাজার ৮১৩ জন, রাতে ৫৯৮ জন, সন্ধ্যায় ৫৪৬ জন এবং ভোরে ২০৪ শিশুর প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের বয়সসীমা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ বা ৩ হাজার ৫৪৭ জন। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ জন এবং ৫ বছর পর্যন্ত বয়সী ১ হাজার ৫৩২ শিশু এ সময়ে প্রাণ হারায়।
প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ পায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকালে ২ হাজার ৫১৩ শিশু এবং বসতবাড়ির আশপাশের রাস্তায় খেলার সময় ৯৬২ শিশুর অকালমৃত্যু ঘটেছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিশুদের জন্য সড়ক ও পরিবহন কাঠামোর উপযুক্ত না থাকা, অসচেতনতা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পথচলার নির্দেশনার অভাব, লাইসেন্সবিহীন ও কমবয়সী চালকদের গাড়ি চালানো এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসংকট এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিশেষ করে পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে গ্রামীণ সড়কগুলো শিশুদের জন্য দিন দিন চরম অনিরাপদ হয়ে উঠছে।
এ সংকট নিরসনে সড়কব্যবস্থা শিশুবান্ধব করা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতা তৈরি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ট্রমা চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধি, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ কঠোরভাবে প্রয়োগের তাগিদ দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে।
আজ সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা এবং বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময়ে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এই দেশ আমাদের সকলের। সকলে মিলে দেশকে গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।
সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।
তিনি বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে— এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অস্তিত্ব। যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক এবং হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসাথে বসবাস করে আসছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো— অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়।
ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিনি একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান— আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
এসময় রাষ্ট্রপতি জানান, সকল ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রাষ্ট্রপতি দরবার হলে উপস্থিত হলে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং ‘মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি’র পক্ষ থেকে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।
রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আসা সকল দর্শনার্থী এবং অতিথির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
এসময় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পর বিদায়ের বিষাদ ছড়িয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটছে আজ বিজয়া দশমীতে। পাঁচ দিনের এই উৎসবের শেষ দিন বুধবার সকালে দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দশমীর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
সকালে চণ্ডীপাঠের পর মণ্ডপগুলোতে পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হয় অপরাজিতা পূজা, দশোপচারে দেবীর বিশেষ অর্চনা, গণেশসহ অন্যান্য দেবদেবীর উপাসনা, আরতি ও সমাপনী পুষ্পাঞ্জলি। মূল পূজার সমাপনী পর্বে দর্পণ ও ঘট বিসর্জনের পর পরই শুরু হয় চিরায়ত দেবীবরণের ক্ষণ।
দেবীবরণের আয়োজনে বিবাহিত নারীরা ভক্তিভরে দেবী দুর্গার চরণে সিঁদুর অর্পণ করেন এবং দেবীকে মিষ্টিমুখ করিয়ে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এর পরপরই ভক্তরা পরস্পরের মুখ ও কপালে সিঁদুর পরিয়ে মেতে ওঠেন ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায়।
এই বিশেষ আচারের মাধ্যমে নারীরা নিজ নিজ পরিবার ও সংসারের অব্যাহত শান্তি, সুখ এবং সমৃদ্ধি প্রার্থনা করেন। সনাতনী শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীর চরণে স্পর্শ করা সিঁদুর ঘরে সংরক্ষণ করলে পারিবারিক জীবনে সার্বিক মঙ্গল নিশ্চিত হয়। ফলে ভক্তরা দেবীর শুভাশিস নিয়ে নতুন উদ্যমে প্রাত্যহিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নানা ধর্মীয় আচার ও আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তিতে এখন কেবলই বিদায়ের সুর। জলাশয় ও নদ-নদীতে অশ্রুসজল চোখে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়েই দেবীকে মর্ত্য থেকে বিদায় জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা, যার সঙ্গে যুক্ত থাকবে আগামী শরতে দেবীর পুনরায় আগমনের ব্যাকুল প্রতীক্ষা।
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ইউসুফ আলীকে তাঁর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হলে রাতেই তিনি রাজশাহী ত্যাগ করেন।
বর্তমানে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. রেজাউল আলম সরকারকে ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
হঠাৎ এই তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক কারণ সরকারি প্রজ্ঞাপনে সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। তবে এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বুধবার গণমাধ্যমকে জানান, প্রশাসনিক প্রয়োজনেই তাঁকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটি নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমেরই অংশ।
এর আগে মঙ্গলবার সরকারি সফরে রাজশাহী যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দিন বিকেলে রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জনসভা শেষে সন্ধ্যা ৭টায় তিনি নগরী ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতায় বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী করমর্দনকালে প্রোটোকল ভেঙে কিছুটা ঝুঁকে প্রধানমন্ত্রীর একেবারে কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল লঙ্ঘনের এমন আচরণের কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে ত্বরিত এ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, বুধবার সকালে অতিরিক্ত সচিব ইউসুফ আলীকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা মেনে রাতেই দায়িত্ব হস্তান্তর করে একটি গাড়িতে তিনি রাজশাহী ত্যাগ করেন এবং ইতোমধ্যে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার খুলনা ও মোংলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।
ঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্টের সার্বিক পরিবেশ আকাশপথে পর্যবেক্ষণ করবেন। এরপর তিনি দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন। এ সময় প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।
সফরের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান জানান, প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ সরকারি সফরে দাকোপের নলিয়ানে উপস্থিত হচ্ছেন। সেখানে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বা রাজনৈতিক কর্মসূচি রাখা না হলেও সরকারপ্রধানের আগমন ঘিরে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু জানান, হেলিকপ্টারে নলিয়ান মাঠে নামার পর প্রধানমন্ত্রী কোস্টগার্ডের দ্রুতগতির নৌযানে চড়ে আকরাম পয়েন্টের দিকে রওনা হবেন। পরবর্তীতে তিনি নৌপথে মোংলা বন্দরে পৌঁছাবেন।
মোংলায় পৌঁছে বন্দর কর্তৃপক্ষের আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দেবেন সরকারপ্রধান। এরপর তিনি বন্দরের জেটি এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিধি বিস্তার এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে বিপুল কর্মসংস্থান ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের দিকগুলো এ সফরে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে।
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও পর্যটন বিকাশ, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অঞ্চল চালুর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপান্তর ত্বরান্বিত করতেই এ সফর পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে আগামী ৫ নভেম্বর আবারও খুলনায় আসার সূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেদিন তিনি খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর শেষে ঢাকা ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১ টা ১০ মিনিটে সামরিক বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
দুর্গাপূজা উৎসবের মহানবমীতে গতকাল রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে সকাল ৯টায় তিনি ঢাকা ছাড়েন ।
প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দে মেতে ওঠে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁকে শারদ প্রণাম জানায়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সামরিক বিমানে ঢাকা ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু প্রমুখ। সূত্র: বাসস
দেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। নীরবে হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে দেওয়া এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে বয়স্ক নারীদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো, নিয়মিত পরীক্ষা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচি চালুর আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
তিনি বলেছেন, অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কন্যাশিশু ও তরুণীদের জন্য উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ রোগের প্রকোপ ও জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের কনভেনশন হলে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস একটি নীরব রোগ। এতে হাড় দুর্বল, পাতলা ও ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে হঠাৎ হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা কমে যায়। বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ রোগের কারণে হাড় ভাঙা ও দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
২০২৫ সালের একটি পরিসংখ্যানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আক্রান্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই গবেষণায় ৪০ শতাংশ নারীর অস্টিওপোরোসিস এবং ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশের অস্টিওপেনিয়া পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশের বেশি নারীর হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতি ছিল। এ ছাড়া শহরাঞ্চলে ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সি নারীদের ওপর পরিচালিত একটি পুরোনো হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের হার ছিল ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার হার ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কতসংখ্যক নারী এ রোগে ভুগছেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা কঠিন। রোগটির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও গবেষণা ও নিয়মিত স্ক্রিনিং প্রয়োজন।
অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান একটি অস্টিওপোরোসিস সোসাইটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তার মতে, এ সংগঠনের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হবে। কোনো অঞ্চলের মানুষ যেন সচেতনতা ও পরীক্ষার সুযোগের অভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, রোগটির ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। পাশাপাশি এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে দেশব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।
প্রতি বছর অস্টিওপোরোসিস সচেতনতা মাস পালনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এ উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও প্রচারাভিযানের আয়োজন করা যেতে পারে। জেলা হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে রোগ নির্ণয়ের আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে চিকিৎসকদের জন্য সেমিনার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ে স্ক্রিনিং ক্যাম্প আয়োজন এবং নিয়মিত কমিউনিটিভিত্তিক পরীক্ষার সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান তিনি। যেসব এলাকায় হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ফ্র্যাকচার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করে হাড় ভাঙার ঝুঁকি মূল্যায়নের কথাও বলেন তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে শৈশব থেকেই সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। কন্যাশিশু ও তরুণীদের জন্য উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ রোগের প্রকোপ ও জটিলতা কমানো সম্ভব হবে।
এ জন্য ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি, হাড়ের খনিজ ঘনত্ব এবং শৈশবে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণের মতো পুষ্টিগত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষাবিদ এবং চিকিৎসা-অঙ্গনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, অস্টিওপোরোসিসের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কমাতে রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ডা. আব্দুস সালাম এমপি বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্যানেল আলোচনা ও কুইজ হয়। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. ফারুক কাশেম, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলালুল ইসলাম।
‘আজীবন হাড় গড়ুন, সুরক্ষা দিন ও শক্তিশালী করুন’ প্রতিপাদ্যে এবারের বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবসের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এতে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা দিচ্ছে ইনসেপ্টা। প্রতি বছর ২০ অক্টোবর বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস পালন করা হয়।
প্রথমবারের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নিয়ে সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ডিসেম্বর মাসে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ইউএনও সম্মেলনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক করা হয়নি। তবে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনটি উদ্বোধন করবেন তিনি। তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর ইউএনও সম্মেলনও প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।
প্রতি বছর অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য পৃথক অধিবেশন রাখা হয়। সম্মেলনের কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসকদের কাছে নিজ নিজ জেলার সমস্যা, উন্নয়ন সম্ভাবনা, চলমান প্রকল্প, নীতিগত বিষয় এবং আঞ্চলিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রস্তাব চাওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকদের পাঠানো প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরপর প্রস্তাবের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়। সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবদের উপস্থিতিতে এসব প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রথমবারের মতো ইউএনও সম্মেলন আয়োজন করা হলেও এর কাঠামো ও কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র।
এদিকে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে মাঠ প্রশাসনকে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়নেও মাঠপর্যায়ে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, ইউএনও ও ডিসি সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের এসব চ্যালেঞ্জ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যাগুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমীতে চট্টগ্রামের জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছে তিনি পূজামণ্ডপে যান। এর আগে রংপুরে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় এবং রাজশাহীতে জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। রাজশাহীর জনসভায় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, কৃষকের জীবনমান বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন, কি দেননি, তা বিবেচনায় না নিয়ে সরকার দেশের সব মানুষের জন্য কাজ করতে চায়।’ তবে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টার মধ্যে একটি মহল বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চট্টগ্রামে জেএম সেন হলে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়: মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে রাজশাহী থেকে সামরিক উড়োজাহাজে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে সড়কপথে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে নগরের রহমতগঞ্জের জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে যান তিনি। রাত সোয়া ৮টার দিকে সেখানে পৌঁছালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগরের নেতারা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা তাকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেএম সেন হল ও আশপাশের এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। বিকেল থেকেই নগরের কোতোয়ালি থানার জেএম সেন হল এলাকায় তাকে একনজর দেখতে নানা বয়সি মানুষ জড়ো হতে থাকেন। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে গাড়ি থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
মণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ অন্যরা।
রংপুরে সম্প্রীতির আহ্বান, উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা: চট্টগ্রামে আসার আগে সকালে রংপুরের ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে ভোট দেওয়া বা না দেওয়ার ভিত্তিতে সরকার কাউকে আলাদা করে দেখতে চায় না। দেশের সব মানুষের সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং সব অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।’
এর আগে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে মন্দিরে পৌঁছালে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। শিশুরাও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানায়। তারেক রহমান মন্দিরের পুরোহিত ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ রাজনৈতিক নেতা ও সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ অন্যরা।
তারেক রহমান জানান, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে সেতু, কালভার্ট, স্কুল-কলেজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ন্যায্যভাবে সম্পদ বণ্টন করতে হবে।’ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় মানুষের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সবাইকে বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মন্দিরের পেছনে হোস্টেলের মতো একটি অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার একটি চেকও তুলে দেন তিনি।
জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রেখেছেন। এই ঐক্য ধরে রেখেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’ গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কারও ভিন্নমত থাকলে তা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাজশাহীতে ৩৯ হাজার আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা: রংপুরের কর্মসূচি শেষে বিকেলে রাজশাহীতে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বোতাম চেপে কর্মসূচির সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ১৫ জন আখচাষির হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেওয়া হয়।
জনসভায় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষক ও কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষিকে লাভজনক করতে সরকার কাজ করছে।’
তিনি জানান, চলতি বছরে ৪০ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সেচসুবিধা বাড়ানো ও পানির সংকট মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তার দাবি, গত আট মাসে সারা দেশে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ শেষ হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের যেসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, সেখানে সেচের পানির সংকট কমার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণেও সহায়তা করবে।
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান। পাশাপাশি আগামী বছর ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ: রাজশাহীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দেশের বাইরে অবস্থানরত পলাতক শক্তি এবং দেশের ভেতরে একটি মহল এক হয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির পেছনে অর্থায়নের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।’ এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। আগামী পাঁচ বছর সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘দেশের ভাগ্য বিদেশ থেকে কেউ এসে গড়ে দেবে না; নিজেদেরই দেশ গড়তে হবে। রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
রাজশাহীর জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানকার ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে সামরিক উড়োজাহাজে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।