বঙ্গোপসাগরে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী উপকূলে চীনা একটি মাদার ভেসেল থেকে স্পিডবোট নিয়ে সাগরে নামছিলেন ১২ চীনা নাবিক। তবে সাগরে নামার সময় লিফটের তার ছিঁড়ে ওপর থেকে পড়ে উল্টে যায় স্পিডবোটটি। পরে ৯৯৯-এ কল পেয়ে ওই নাবিকদের উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গোপসাগরে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী উপকূলের নিকটে এ ঘটনা ঘটে। ‘৯৯৯’ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভাটিয়ারী উপকূলের নিকটে থাকা এনডিই-১৪ নামে একটি লাইটার জাহাজের নাবিক আলী আজগর ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এ মোবাইল ফোন করে জানান, চীনা পতাকাবাহী মাদার ভেসেল ‘ক্যাং হুয়ান-১’ থেকে মালামাল নামাচ্ছিলেন তারা। সে সময় মাদার ভেসেল থেকে ১২ চীনা নাবিক একটি স্পিডবোট নিয়ে সাগরে নামার সময় লিফটের তার ছিঁড়ে ওপর থেকে সাগরে পড়ে উল্টে যায়। এর মধ্যে দুয়েকজন নাবিক বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও বাকি সবাই উল্টানো বোটের ভেতর আটকে ছিলেন। আশপাশের কিছু বোট এগিয়ে এলেও উল্টানো স্পিডবোটের ভেতর থেকে নাবিকদের উদ্ধার করতে সক্ষম হননি। এ অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার সহায়তার অনুরোধ জানিয়ে ৯৯৯-এ কলা করা হয়।
‘৯৯৯’ কলটি পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোস্টগার্ড চট্টগ্রাম পূর্ব জোন নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জানায়। সংবাদ পেয়ে কোস্টগার্ডের একটি উদ্ধারকারী দল সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী নৌযানসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১২ চীনা নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক শুশ্রূষা শেষে নিরাপদে উপকূলে পৌঁছে দেয়।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিশোধপরায়ণ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আইন প্রয়োগ ও শাস্তির বিধান কার্যকর রেখে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
আজ (সোমবার) জাতীয় সংসদ ভবনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর সহযোগিতায় The Enforced Disappearance Prevention and Redress Act, 2026 এবং The National Human Rights Commission Act, 2026-এর খসড়া বিষয়ে কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
চীফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও দীর্ঘদিন অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রতিশোধপরায়ণ বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বরং দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করলে অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব অনুযায়ী তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। শাস্তির বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বহু মানুষ স্বজন হারিয়েও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বাবা, ভাই কিংবা বোনের হত্যার বিচার পেতে অনেককে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আইন সংস্কার প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক মতামতকে সরকার স্বাগত জানায়। আইন ও নীতিমালার প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্ব ও অবদানেরও তিনি প্রশংসা করেন।
সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মুলার, ইউএনএইচসিএইচআরের মানবাধিকার কর্মকর্তা ইফতেখার সৈয়দ আলী, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লইস বারবার, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালী দয়ারত্নে, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিংসহ কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রাপ্ত বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতিও নিজ নিজ বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা দেওয়ার সবিনয় আহ্বান জানিয়েছেন বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল একটা মিটিং হয়েছে। একজন প্রধানমন্ত্রী, অনেক বড় প্রশ্ন…। একটা দেশের প্রশাসনিক প্রধান ব্যক্তি, উনি আমাদের মিটিংয়ে কী বলেছেন জানেন? খুব বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন— মন্ত্রী মহোদয়গণ, আমি একটা কথা বলবো আজকে, বিনয় করে বলা, আপনারা রাখতেও পারেন আমার কথাটা, নাও রাখতে পারেন।’
প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্য হুবহু উদ্ধৃত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি কিন্তু হুবহু কোট করছি—রাখতেও পারেন আমার কথাটা নাও রাখতে পারেন। তবে আমি অনেক চিন্তাভাবনা করে দেখেছি, আপনাদের আমার বলা উচিত, এখন আপনাদের ইচ্ছা! যেটা বলব, আমি এটা করছি। আমার আব্বা (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) প্রতিমাসে তার বেতন থেকে ১০ শতাংশ বেতন সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেন গরিব-মিসকিন মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য বা সরকারি কোনও প্রয়োজনে খরচ করার জন্য। আমি কিন্তু বেতন নিচ্ছি, না নিয়ে চলতে পারতেছি না। আমার বেসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ১০ শতাংশ হারে আমি ১১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন থেকে জমা দিচ্ছি। বেতন যখন একাউন্টে আসে আমি তুলে একটা চেক দিয়ে দেই গভর্নমেন্টের অ্যাকাউন্টে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আমার আব্বা কাজটা করতেন, আমি করছি; আপনারাও যদি মনে কিছু না নেন বা যদি আপনাদের পক্ষে সম্ভব হয় আপনারাও প্রতি মাসে ১০ শতাংশ আপনাদের বেতনের টাকাটা সরকারের ঘরে ফেরত দিয়ে দেবেন।’
প্রধানমন্ত্রীর এমন উদার ও বিনয়ী প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার সকল সদস্য ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলেছি। খুশি হয়েছি যে উনি আমাদের কাছে অ্যাপ্রোচটা করেছেন।’
গরমে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল কেন অস্বাভাবিক বেশি আসছে এবং এর পেছনে কোনো অসাধু কর্মকর্তার হাত রয়েছে কি না, তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো প্রকল্পের জন্য কৃষিজমি নষ্ট করা হবে না। তিনি বলেন, “আমরা একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে আমাদের বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যেতেই হবে।”
বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া ঋণের বোঝা এখন বর্তমান সরকারকে বইতে হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র বেসরকারি খাতের হাতে থাকায় পিডিবিকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিগত সরকারের আমলের অব্যবস্থাপনা ও অপচয় মেটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাইভেট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ করতে না পারলে তারা জ্বালানি কিনতে পারে না, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়।”
খাতের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে ইতিমধ্যে একটি কারিগরি (টেকনিক্যাল) দল গঠন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। পিডিবির একজন সাবেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এই দল বিভিন্ন পাওয়ার স্টেশন পরিদর্শন করে বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে এসির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ওঠা নানা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবাই যে সৎ আমি তা বলছি না। এসব বিষয় নিয়ে সংবাদ পরিবেশন ও কন্টেন্ট তৈরিতে সাংবাদিকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।”
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। এছাড়া সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, বিজিএমইএ-র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং পরিবেশ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া এই আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বিস্তারিত তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা জানান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি নিজেও বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সুবিধাজনক সময়ে ক্রাউন প্রিন্স বাংলাদেশ সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে একটি কৌশলগত অবস্থানে নিয়ে যেতে চায়। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে এই সফরের আগ্রহ সম্পর্কের এক নতুন উচ্চতা ও তাৎপর্যকে তুলে ধরছে।
প্রধানমন্ত্রী কবে নাগাদ সৌদি আরব সফর করতে পারেন—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তবে সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি, যা পরবর্তী আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের গ্রীষ্ম মৌসুমের পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। দুই দেশের এই কূটনৈতিক তৎপরতা আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বরেণ্য চিন্তক ও লেখক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার সকালে তাঁর মরদেহ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রাখা হয়। এ সময় প্রিয় শিক্ষক ও লেখককে শেষবারের মতো দেখতে এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সেখানে ভিড় করেন তাঁর অসংখ্য স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত এই বিদায়লগ্নে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত বিশিষ্ট নাগরিক ও বক্তারা অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করেন। তাঁরা বলেন, তিনি ছিলেন মুক্তবুদ্ধি চর্চা, মানবিক মূল্যবোধ এবং প্রগতিশীল চিন্তার এক অনন্য ও উজ্জ্বল প্রতীক। সমাজ গঠন, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও সাহিত্যচর্চায় তাঁর যে অসামান্য অবদান, তা এ দেশের মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছাড়াও বিশিষ্ট নাগরিক এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। একাডেমির আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। এভাবেই চিরবিদায় নেবেন সমাজ ও সাহিত্যের একনিষ্ঠ এই সেবক।
পল্লী অঞ্চলের উন্নয়ন ও গ্রামীণ জনপদের মানুষের জীবনমান পরিবর্তন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক পল্লী উন্নয়ন দিবস এবং সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, "পল্লী উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পল্লী উন্নয়নে নির্বাচিত সরকার কাজ করছে।"
গ্রামীণ দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরণের সহায়তা কার্ডের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালিত হচ্ছে। গ্রামীণ জনপদকে আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলতে বর্তমান প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল থাকলে দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি টেকসই হবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী গত পাঁচ দশক ধরে পল্লী উন্নয়নে সিরডাপের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পাঁচ যুগ ধরে সিরডাপ পল্লী উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংস্থাটির কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। সিরডাপের এই দীর্ঘ পথচলা পল্লী উন্নয়নের বৈশ্বিক মডেলে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সরকারের এই পল্লী উন্নয়ন ভাবনার সফল বাস্তবায়নে সিরডাপের মতো সহযোগী সংস্থাগুলো আগামীতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।
আজ (সোমবার) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকালে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন সৌদি রাষ্ট্রদূত।
এছাড়া দু’দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের শিল্পায়নের অগ্রযাত্রায় যুক্ত হলো নতুন মাইলফলক। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (NSEZ) আরও ৬৫.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপুল বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বেজা কার্যালয়ে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গোল্ডেন অয়েল মিলস লিমিটেড ও ডেল্টা এপিআই লিমিটেডের সাথে এই বিনিয়োগ চুক্তি সম্পন্ন হয়।
এই বিনিয়োগের ফলে একদিকে যেমন বহুমুখী শিল্প পণ্যের উৎপাদন বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে হাজারো মানুষের জন্য। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের নিজস্ব শিল্প স্থাপনের লক্ষ্যে মোট ৩২ একর জমি ইজারা নিয়েছে।
গোল্ডেন অয়েল মিলস লিমিটেড: প্রতিষ্ঠানটি ২০ একর জমিতে ৫২.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। তাদের লক্ষ্য হলো খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে বৈচিত্র্য আনা। এখানে উৎপাদিত পণ্যের তালিকায় রয়েছে—খাদ্য, হিমায়িত খাদ্য, আইসক্রিম, বিশেষায়িত তেল ও ফ্যাট, প্যাকেজিং সামগ্রী এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্য। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে, যা স্থানীয় জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডেল্টা এপিআই লিমিটেড: ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল বা অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (API) উৎপাদনে ১২ একর জমিতে ১২.৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে ডেল্টা এপিআই। এর মাধ্যমে দেশে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনে দীর্ঘদিনের আমদানি নির্ভরতা কমবে। এই কারখানায় প্রত্যক্ষভাবে আরও প্রায় ২০০ জনের কর্মসংস্থান হবে।
বেজার প্রতিশ্রুতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা: চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এই বিনিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীর এই নতুন বিনিয়োগ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের গভীর আস্থার প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে যে, বিশ্বমানের শিল্প স্থাপনে বাংলাদেশ এখন একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য।’
তিনি আরও জানান, বেজার পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের দ্রুত শিল্প কারখানা স্থাপন ও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে জমি বরাদ্দ থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য সব প্রশাসনিক সুবিধা দ্রুততার সাথে প্রদান করতে কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর।
অর্থনীতির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব: অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনে এই বড় বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতির কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে গোল্ডেন অয়েল মিলসের প্রকল্পে ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, ওষুধের কাঁচামাল (API) উৎপাদনে ডেল্টা এপিআই-এর বিনিয়োগটি অত্যন্ত কৌশলগত। বর্তমানে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানিতে ভালো করলেও কাঁচামালের জন্য আমদানিনির্ভর। এই কারখানাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংকের সাশ্রয় হবে এবং ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে। ইলেকট্রনিক্স ও এপিআই শিল্পে নতুন প্রযুক্তির সমাবেশ ঘটলে স্থানীয় বাজারে পণ্যের মান বাড়বে এবং ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি বাণিজ্যেও নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই নতুন শিল্পায়ন কেবল স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং দেশের সামগ্রিক শিল্প প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের এই সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশের শিল্পায়নের গতিপথকে আরও সুদৃঢ় করবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং বেজার নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা বজায় থাকলে আগামীতে আরও বড় আকারের বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশকে একটি উন্নত শিল্পসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
ঢাকাকে ঘিরে ভূমিকম্পের ঝুঁকি এখন আর কোনো তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং এক ভয়াবহ বাস্তবতা। নগরবিদ ও ভূ-তাত্ত্বিকরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে কেবল বহুতল ভবন ধসে পড়ার দৃশ্যই দেখা যাবে না, বরং শহরের বুকজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে এক নিয়ন্ত্রহীন অগ্নিকাণ্ড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে ঢাকা মহানগর। জলাভূমি ভরাট করা হয়েছে, নিচু এলাকায় স্থাপনা গড়ে উঠেছে এবং এমন সব বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলো হয়তো বড় ভূমিকম্প সামলাতে পারবে না।
তারা বলেছেন, গ্যাসলাইন বিস্ফোরণ, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে না পারার অক্ষমতা মিলে ঢাকাকে এক মরণফাঁদে পরিণত করতে পারে।
কেন অগ্নিকাণ্ডই হবে বড় বিপর্যয়: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের প্রত্যক্ষ ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও এর গৌণ প্রভাব অনেক বেশি ভয়াবহ হতে পারে। ১৯০৬ সালের সান ফ্রান্সিসকো ভূমিকম্পের ঐতিহাসিক তথ্য এর প্রমাণ-সেখানে ৮০ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল অগ্নিকাণ্ডের কারণে, মাত্র ২০ শতাংশ হয়েছিল সরাসরি ভবন ধসের কারণে।
ঢাকা শহরের ক্ষেত্রে ঝুঁকিগুলো হলো গ্যাসের পাইপলাইন: ঢাকার মাটির নিচে গ্যাসের যে নেটওয়ার্ক, তা অত্যন্ত নাজুক। ভূকম্পনে এই পাইপলাইন ছিঁড়ে গিয়ে পুরো শহরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়বে। যে কোনো স্ফুলিঙ্গ থেকেই তা হয়ে উঠবে আগুনের গোলা।
বিদ্যুৎ সরবরাহ: ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ ভূমিকম্পের সময় শর্ট সার্কিটের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে বস্তি ও পুরনো শহরের সরু অলিগলিতে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেশি।
পানির সংকট: ভয়াবহ এই পরিস্থিতির সময় পানির লাইনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাবে না। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যখন পানি খুঁজবেন, তখন সব উৎসই অকেজো হয়ে থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন: বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সোসাইটির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ আবু সাদেক এবং বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারীর মতে, এই ঝুঁকি মোকাবিলার প্রযুক্তি আমাদের হাতের নাগালেই রয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়নের ধীরগতি উদ্বেগজনক।
প্রস্তাবিত সুরক্ষাব্যবস্থা: কম্পন শনাক্তকারী সেন্সর (Seismic Sensors) বসানো। এটি ভূমিকম্পের প্রথম তরঙ্গ বা ‘পি-ওয়েভ’ শনাক্ত করে বড় কম্পন আসার আগেই বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।
গ্যাস ও পানির পাইপলাইনের প্রতিটি বাঁক বা জয়েন্টে নমনীয় (flexible) প্রযুক্তি ব্যবহার করা, যাতে মাটির কম্পনে পাইপ ফেটে না যায়। তিতাস গ্যাসসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে ‘সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডেটা অ্যাকুইজিশন’ (SCADA) সিস্টেম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, যাতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দূরবর্তীভাবে ভালভ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী জানান, ২০১৫ সালের দিকে এ ধরনের সিস্টেমের প্রস্তাব দেওয়া হলেও মাত্র ১৫ দিনের মাথায় সব কার্যক্রম থমকে যায়। তার মতে, ভূমিকম্পের পর মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে না পারলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো অসম্ভব।
এদিকে, দুর্যোগের সময় উন্মুক্ত স্থান শুধু নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবেই নয়, উদ্ধারকাজ ও অস্থায়ী চিকিৎসা শিবির স্থাপনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাজধানীর অধিকাংশ এলাকাতেই এমন জায়গার ঘাটতি রয়েছে।
বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) অনুযায়ী, দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ১২৯টি ওয়ার্ডের অন্তত ৪১টিতে কোনো পার্ক বা খেলার মাঠ নেই। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৩১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটিতে ১০টি ওয়ার্ড রয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার প্রাকৃতিক ও সবুজ এলাকা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শহরের কেন্দ্রীয় অংশে জলাশয়ের পরিমাণ ১৯৯৫ সালে ছিল ২০ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে নেমে এসেছে মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশে। একই সময়ে সবুজ এলাকার পরিমাণ ২২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯ শতাংশে।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘পার্ক, খেলার মাঠ এমনকি অনানুষ্ঠানিক উন্মুক্ত স্থানগুলোকেও জরুরি আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘এসব স্থানকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিলে ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগের সময় ব্যবহারের জন্য নিকটবর্তী জায়গাগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এটিই মূল উদ্দেশ্য।’
নগর পরিকল্পনার মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতিটি বাসস্থান থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে একটি উন্মুক্ত স্থানে যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আদিল বলেন, ‘ঢাকার প্রায় ৩০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই মানদণ্ড প্রয়োগ করলে জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে প্রায় ৬০০টি উন্মুক্ত স্থানের প্রয়োজন হবে। তবে এটুকুও যথেষ্ট নয়। একটি খেলার মাঠ পুরো ওয়ার্ডের মানুষের আশ্রয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। কোনো কোনো ওয়ার্ডে এক লাখের বেশি মানুষ বাস করলেও সেখানে একটি মাঠও নেই। এমনকি এক হাজার মানুষ একটি মাঠে জড়ো হলেও সেটি দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়।
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির উদাহরণ টেনে আদিল বলেন, উদ্ধারকাজ ও অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল হিসেবে সাভার অধরচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, এ কারণেই প্রতিটি মহল্লায় হাঁটা দূরত্বের মধ্যে একটি উন্মুক্ত স্থান থাকা প্রয়োজন। সরকারের উচিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে উন্মুক্ত স্থান বাড়ানো এবং বেসরকারি আবাসন প্রকল্পে প্রতি আধা বর্গকিলোমিটারে অন্তত একটি খেলার মাঠ রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নিরাপত্তা কৌশলে যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন। সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহবান জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যগণই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃংঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যগণ নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরে'র দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার প্রত্যাশা।
পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃংঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।
সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।
সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে। আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্র বাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করব, পিজিআরের মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ- এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।
একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি।
তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে'র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বক্তব্যের শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১৯৭৫ সালের এইদিনে প্রথমে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরবর্তীকালে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’কে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ হিসেবে নামকরণ করেন। নতুন এ নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরো দৃঢ় ও গতিশীল করতে ইতিবাচক প্রভাব রাখে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার প্রতি অটল আনুগত্য, কর্তব্যপরায়ণতা এবং জীবন উৎসর্গের যে চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে এটি অবশ্যই পিজিআরের সদস্যদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। তিনি পিজিআর সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজ নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ( পিজিআর)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত এই বাহিনী গঠিত হয়। ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দপ্তরে বার্ষিক দরবার ও সুসজ্জিত কুচকাওয়াজের মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন করা হয়। পিজিআর মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এটি বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও অন্যান্য সামরিক দায়িত্ব পালন করে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়াচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার ফ্রান্স, বাহরাইন ও সিঙ্গাপুরে এ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। চলতি জুলাই মাসের ১৩ তারিখ থেকে ধাপে ধাপে ইসির কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা দল তিন দেশে গিয়ে কার্যক্রম চালু করবে। ইসির উপসচিব জি এম সাহাতাব উদ্দিনের সই করা পৃথক ছয়টি সরকারি আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, ১৩ জুলাই ইসির উপসচিব মোহাম্মদ এনামুল হকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কারিগরি দল বাহরাইনে যাবে। দলটি সেখানে সাত দিন অবস্থান করবে। এরপর ১৫ জুলাই আইডিয়া (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি ব্যবস্থাপনা দল দেশটিতে যাবে।
ফ্রান্সে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে ২০ জুলাই ইসির এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কারিগরি দল সফরে যাবে। তাদের পর ২২ জুলাই এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক আবুল হাসনাত মুহাম্মদ আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি ব্যবস্থাপনা দল ফ্রান্সে যাবে।
এদিকে, ২৭ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কারিগরি দল সিঙ্গাপুরে যাবে। পরে ২৯ জুলাই ইসির অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি ব্যবস্থাপনা দল দেশটিতে পৌঁছাবে।
সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, তিন দেশে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর জন্য গঠিত ছয়টি দলের সফর ও সংশ্লিষ্ট সব ব্যয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইডিয়া (ফেজ-২) প্রকল্প থেকে বহন করা হবে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন বিশ্বের ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়াগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের ৬১ জন যাত্রী বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করেও বিমানে ওঠেননি। বিমানবন্দরে কয়েকজন যাত্রীর ভিসা জাল বলে ধরা পড়ার পর আর এই ৬১ যাত্রী বোর্ডিং গেট পর্যন্ত যাননি। গত শনিবার (৪ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে মালয়েশিয়াগামী বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটটি রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে ওই যাত্রীদের ছাড়াই ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, এই ফ্লাইটে মোট ২৬৩ জন যাত্রীর যাওয়ার কথা ছিল। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ১০ জন যাত্রীকে যেতে দেয়নি। পরে বোর্ডিং গেটে আরও ৫ জনের ভুয়া ভিসা ধরা পড়ায় তাদেরও বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। পরে ২১২ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়। বাকি ৬১ জন কোথায় গেছেন, তা জানা যায়নি।
বিমানবন্দরের সূত্র জানায়, প্রথমে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ১০ জন যাত্রীকে আটকে দেয়। পরে বোর্ডিং গেটে আরও ৫ জনের ভিসা ও পাসপোর্টের তথ্য না মেলায় তাদেরও বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি।
সূত্রগুলো জানায়, বাকি যাত্রীরা কাগজপত্র আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে জানতে পেরে বিমানবন্দর ছেড়ে চলে যান। ফলে ওই ৭৬ জনের কেউই শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া যেতে পারেননি।
এই ৭৬ জনই মালয়েশিয়ার ট্যুরিস্ট ভিসায় ভ্রমণ করার কথা ছিল। বিমানবন্দরের সূত্রের দাবি, তাদের মধ্যে অনেকেরই একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় গিয়ে থেকে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল।
পুলিশের ৩৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এরমধ্যে ১৪ জন ডিআইজি রয়েছেন। রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ হতে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন, ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম (বর্তমানে গ্রেপ্তার), ডিআইজি মো. সাইফুল ইসলাম (বর্তমানে গ্রেপ্তার), ডিআইজি মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান, ডিআইজি এস. এম. মোস্তাক আহমেদ খান, ডিআইজি জিহাদুল কবির, ডিআইজি মঈনুল হক, ডিআইজি মো. ইলিয়াছ শরীফ, ডিআইজি শ্যামল কুমার নাথ, ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান, ডিআইজি মো. শাহ আবিদ হোসেন, ডিআইজি মো. জামিল হাসান, ডিআইজি মো. মাহবুবুর রহমান, ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান।
অতিরিক্ত ডিআইজি মো. বরকতুল্লাহ খান, অতিরিক্ত ডিআইজি টি. এম. মোজাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন খান, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মেহেদুল করিম, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আলমগীর কবীর, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রশীদুল হাসান, অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নিজামুল হক মোল্যা, অতিরিক্ত ডিআইজি এস. এম. এমরান হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, অতিরিক্ত ডিআইজি ড. শামসুন্নাহার, পুলিশ সুপার (সুপার নিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি সাইফুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত ডিআইজি খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাজিদ হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আরেফ এবং অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ।