সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আটক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন (এমএফসি)। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা বাংলাদেশে মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশনের নিম্নস্বাক্ষরকারী সদস্যদেশগুলো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির বিষয়ে উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা, আল-জাজিরার লন্ডনভিত্তিক সাংবাদিকের ভাইয়ের ওপর হামলা, ঢাকা ট্রিবিউনের আলোকচিত্র সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং সম্প্রতি প্রথম আলোর সাংবাদিক আটকের খবর। আমরা সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে এর প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধ জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলো এক বিবৃতিতে বলেছে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অংশ হিসেবে মিডিয়া এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় যেকোনো দেশে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে যাচাই-বাছাই এবং মনোযোগ প্রয়োজন।
দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান বর্তমানের প্রায় ৩ শতাংশ থেকে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ট্রাভেল, ট্যুরিজম, এভিয়েশন ও হসপিটালিটি—এই চারটি খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আফরোজা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ট্রাভেল, পর্যটন, এভিয়েশন ও হসপিটালিটি খাতের সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, নতুন এই প্ল্যাটফর্মটি পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজনকে একত্রিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
পর্যটন খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ। সরকার এ অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করতে চায়।
টেকসইভাবে পর্যটন খাতের বিকাশে বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে এসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
এক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও সমর্থন দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটন খাতের সব অংশীজনের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে পর্যটন খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমুদ্র উপকূলীয় খুলনার দাকোপ উপজেলার ১নং পানখালী ইউনিয়নের পানখালী গ্রামসহ দেশের পৃথক তিনটি স্থানের গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। অপর দুটি হচ্ছে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি ও দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রাম।
আজ রোববার খুলনার দাকোপ উপজেলার ১নং পানখালী ইউনিয়নের পানখালী গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে দেশের মিতিঙ্গাছড়ি ও নাফানগর গ্রামের সাথেও ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে ঘোষনা করবেন বলে জানিয়েছেন দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু।
সরকাররের এ উদ্যোগে পানখালী গ্রামের বাসিন্দা গ্রাম্য ডাক্তার মহিদুল শেখ, মৎস্য জেলে পরিমল রায়, কৃষক মাহবুবুর রহমান, অরবিন্দু মন্ডল, দিনমজুর আব্দুর রশিদ গাজীসহ অনেকেই খুশি। তারা বলেন, গ্রাম হবে শহর এটা ছিলো আমাদের দীর্ঘ বছরের এই লালিত স্বপ্ন। আজ আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।
দাকোপের ১নং পানখালী ইউনিয়নের ‘পানখালী গ্রামকে করা হচ্ছে সেই এসডিজি ভিলেজ। আগামী ১০ আগস্ট বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে ঘোষণা করবেন জেনে তাই আমাদের পানখালী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসব আর আনন্দের কমতি নেই।
অন্ধকারছন্ন এ গ্রামে বৈদ্যুতিক আলো ছড়াবে, গ্রামে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান হবে চতুরমুখি। কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষার আলো ছড়াবে এ গ্রামে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকারত্ব দুর হবে।
এ ছাড়াও মৌলিক সকল সুবিধা গুলো এ গ্রামে দেওয়া হলে এক সময় এ গ্রাম থেকেও সরকার অধিক রাজস্ব আদায়ের সুবিধা পাবেন। পানখালী গ্রামবাসীর স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, উদ্বোধনের অপেক্ষারত এসডিজি ভিলেজ পানখালী গ্রামের সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার সরজমিনে পানখালী গ্রাম পরিদর্শন করেছেন এবং গ্রামের স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন।
এর আগে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার উপজেলা প্রশাসনের দপ্তর প্রধানের সাথে মতবিনিময় কালে ‘পানখালী গ্রামের’ উন্নয়নে সকলের সার্বিক সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রাপ্য সেবা প্রদান নিশ্চিত করার পরামর্শ প্রদান করেন।
এছাড়াও সম্প্রতি পানখালী গ্রাম পরিদর্শন করেছেন খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এবং উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) খুলনার মো. আরিফুল ইসলাম।
ইউএনও আরো বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে দেশের তিনটি গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য বাস্তবায়নের আলোকে পানখালী গ্রামে দারিদ্র বিমোচন, জলাবদ্ধতা নিরসন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হারহ্রাস, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ, নারীর ক্ষমতায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপন, কৃষি ও জীবিকার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এসডিজি ভিলেজ হিসেবে পানখালীকে গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রামটির সার্বিক উন্নয়ন ও তরান্বিত হবে। এ গ্রামের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ তাদের ভবিষ্যত অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একক চিন্তা ধারার প্রতিফলনে এদেশ দুর্বর গতিতে এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি এটি দেশের অন্যান্য গ্রামের জন্য এটি অনুসরণযোগ্য উন্নয়ন মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
পানখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পানখালী গ্রামের ইউপি সদস্য শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রত্যাশিত ও লালিত স্বপ্ন পানখালী গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে ঘোষনার দিনক্ষন ঠিক করেছেন। আগামী ১০ আগস্ট সোমবার প্রধানমন্ত্রী পানখালী গ্রামের সাথেও ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে ঘোষনা করবেন। তাই গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে এব অনান্য আনন্দের উৎসব সৃষ্টি হয়েছে।
পানখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহম্মেদ বলেন, সরকারের এ মহান উদ্যোগে গোটা পানখালী ইউনিয়নবাসী স্বাগত জানাচ্ছেন। সমুদ্র উপকূলীয় এ উপজেলার সদর ইউনিয়নের পানখালী গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে ঘোষণা হলে এ গ্রামের মানুষের ভাগ্যে বদল হবে। পানখালী গ্রামের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষ স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নানা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিত হলে ব্যবসায়ীরা কর্মচারীদের ওপর নির্ভরতা নিয়ে ব্যাবসা পরিচালনা করতে পারবেন। এতে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, জাল নোটের ঝুঁকি এবং নগদ টাকা পরিবহনের ঝুঁকি কমবে। টাকা ছাপানোর জন্য বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়, ডিজিটাল মাধ্যমে পেমেন্ট বাস্তবায়ন হলে এ খরচ সাশ্রয় হবে।
শনিবার রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে ‘ক্যাশলেস ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে ‘Bangla QR’ লেনদেন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় ২০ নারী মার্চেন্টসহ ১২০ জন ‘Bangla QR; ব্যবহারকারী মার্চেন্ট অংশ নেন। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ গ্রাহক ও মার্চেন্টদের মাঝে ডিজিটাল লেনদেনের বিশেষ করে ‘Bangla QR’-এর সুবিধা ও এর সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
গভর্নর বলেন, বর্তমানে মাসে এক কোটি লেনদেন হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে দৈনিক এক কোটি লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমরা কাজ করছি। এক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক হলো বর্তমানে ৬ কোটি মানুষের বাটন ফোন ব্যবহার করা এবং তাদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকা। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের স্বল্পমূল্যে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের প্রতিনিধি হাসান শাহরিয়ার।
হাসান শাহরিয়ার বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল মাসে ২০ লাখ লেনদেন। বর্তমানে মাসে এক কোটি লেনদেন হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছি। বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেন অগ্রযাত্রায় আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, একটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণের জন্য ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিমূলক পেমেন্ট সিস্টেম প্রয়োজন। বাংলা কিউআর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দেশে ২৪ লাখ মার্চেন্ট বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন এবং দৈনিক ২ লাখ লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মার্চেন্টদের সচেতনতার লক্ষ্যে প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ-১ এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. পারওয়েজ আনজাম মুনির, যুগ্মপরিচালক জুয়েল মজুমদার, ও মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন তিনটি সেশন পরিচালনা করেন। যাতে বাংলা কিউআর এর ব্যবহার পদ্ধতি, সুবিধা, প্রয়োজনীয়তা, সচেতনতার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পরে গভর্নর বাংলা কিউআর ব্যবহার সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, ক্রস বর্ডার পেমেন্ট সিস্টেমস চালু, চার্জ কমানোসহ নানা বিষয়ে মার্চেন্টদের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন।
মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ কর্মশালাটি ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী ও সর্বজনীন করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়া, চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক (প্রশাসন) স্বরূপ কুমার চৌধুরী, পরিচালক (পরিদর্শন) মো. নুরুল আলম, পরিচালক (ব্যাংকিং) ইয়াসমিন রহমান বুলা, পরিচালক (বৈদেশিক মুদ্রা) মাহবুবুর রহমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ‘Bangla QR’ বাস্তবায়ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, ‘ঐতিহ্য, পেশাগত সক্ষমতা ও মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের কল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্বাস করি।’
ড্যাব দেশের চিকিৎসক সমাজের মানবিকতা ও পেশাগত উৎকর্ষের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলেও মন্তব্য করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ডা. জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে ড্যাবের সব সদস্য ও দেশের চিকিৎসক সমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান তিনি।
জুবাইদা রহমান বলেন, ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সংগঠনের সব সদস্যকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান; সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন; স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
সরকার বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চারজন নতুন সদস্য নিয়োগ দিয়েছে। নবনিযুক্ত সদস্যরা হলেন মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, মো. ফেরদৌস হোসেন ও ইয়াসমিন গফুর। গত বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাদের বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা যোগদানের তারিখ থেকে পাঁচ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া- যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
নতুন চার সদস্য নিয়োগের ফলে বর্তমানে পিএসসিতে একজন চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ছাড়া সদস্য রয়েছেন ২০ জন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত ফল। আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘জুলাই-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান কোনো নিউটনের আপেল ছিল না। এটাকে আমাদের পাকাতে হয়েছে, এটা কখনো অটোমেটিক ছিঁড়ে পড়েনি।’ তিনি রাজনৈতিক পরিপক্কতার গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে, মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ভেতরে ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কিছুই নেই, তাহলে এটাও রাজনৈতিক অপরিপক্কতা।’
সালাহউদ্দিন আহমদ উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, নতুন বন্ধুরা নতুন বন্দোবস্ত ও রাজনীতির কথা বললেও অনেক ক্ষেত্রে তারা পুরোনো ধারাতেই পরিচালিত হচ্ছেন। রাজনীতির পথকে কণ্টকাকীর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে আর হবে না।’ একইসঙ্গে আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে দল গঠনের চেষ্টা সফল হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কেউ ছিনিয়ে নিয়ে সেটিকে ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন করতে চাইলে সেই রাজনীতি সফল হবে না।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের চেতনা বিক্রির রাজনীতি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনা ‘চেতনার রাজনীতি করতে করতে’ দিল্লিতে গিয়ে বসে আছেন। তিনি সতর্ক করে দেন যে, ভবিষ্যতে এমন কোনো রাজনৈতিক চর্চা করা যাবে না যাতে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সহজ হয়।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন, যাদের বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। উপাচার্য বলেন, ‘এটা কোনো প্রতিহিংসা নয়। কিন্তু অন্যায়কারীকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাঁদের ভূমিকা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ের হঠকারী ও ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্তের কারণেই বর্তমানে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’ সংকটের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। এই চক্র কৌশলে দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে বেশ সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ খাত নিয়ে তারা নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।’
সরকার বর্তমান বাস্তবতাকে আড়াল করছে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার অস্বীকার করেনি যে বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে পূর্বে যে অপরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তার খেসারত এখন দেশ, দেশের মানুষ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তোলার কাজ শুরু হয়েছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে মানুষ ধীরে ধীরে এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সমাবেশের উদ্বোধন করা হয়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ।
স্বাস্থ্যখাতের দর্শন তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী টমাস আলভা এডিসনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতের চিকিৎসকরা কোনো ওষুধ দেবেন না। বরং তারা রোগীদের শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য এবং রোগ প্রতিরোধের কারণ ও উপায় সম্পর্কে সচেতন করবেন।’ এই দর্শনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের মিল রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ নীতিতে বিশ্বাস করে। এর অর্থ হলো ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’। মানে কোনো রোগ হওয়ার পরে তার সমাধান বা চিকিৎসা খোঁজার চেয়ে, তা যেন না হতে পারে সেই বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকা দরকার।’
দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের সচেতন করতে চিকিৎসকদেরই এই বিশাল কর্মীবাহিনীকে নেতৃত্ব দিতে হবে। পেশাজীবীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি তাঁর নিজস্ব ভাবনা বিনিময় করে বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সকল কাজকেই প্রভাবিত করে, তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী সবাই যার যার মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকা বা রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা অযৌক্তিক নয়।’ তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ‘অতিমাত্রায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।’
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে পেশাগত মানোন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কিছু প্রস্তাবনা দেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ এবং অবসরের বয়স ৬৫ বছরে উন্নীত করা। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং ঢাকার বাইরে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব দাবিকে যৌক্তিক অভিহিত করে বলেন, ‘আপনাদের এসব প্রস্তাবনা অযৌক্তিক নয়। ইতোমধ্যেই শিশু হাসপাতালসহ ঢাকার বাইরে বেশ কিছু বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। অন্যান্য প্রস্তাবগুলোও ইতিবাচকভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।’
দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অভাবনীয় পরিবর্তন আনতে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে তা জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ই-হেলথ কার্ড প্রবর্তন এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে। চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, ‘আসুন, আমরা সকলে মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে বিদেশমুখী হতে হবে না।’
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চিকিৎসকেরাউপস্থিতছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদ ও গুরুতর জখম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের ১০ জন সদস্যের হাতে কর্মসংস্থানের নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নিয়োগপত্রগুলো হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
নিয়োগপত্র প্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী। এছাড়া গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তারকেও নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের বর্তমান অবস্থার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত সকল বীরত্বগাথার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাঁদের আমরা হারিয়েছি, যাঁরা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটি হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।’
রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’ জুলাই আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের সঠিক মূল্যায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ইতিপূর্বে চাকুরিতে যোগদানকারী শহীদ আব্দুল্লাহ বীন জাহিদের মাতা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নিয়োগপত্র পেয়ে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিগত সময়ের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড এবং বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার কারণেই বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমকালীন রাজনীতির গতিপ্রকৃতি ও সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন খুব সম্ভবত প্রতিটি সেক্টরে সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে এখন খুব স্ট্রং ডিমান্ড, এটা আমরা সকলেই সেটা অনুভব করতে পারি। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে।’ একইসঙ্গে পেশাজীবীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী—সবাই যার যার মতাদর্শ অনুযায়ী সচেতনভাবে সুসংগঠিত থাকবেন। এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়। তবে— এই তবেটাই হচ্ছে ইম্পর্টেন্ট বিষয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়, সেটি হচ্ছে মোস্ট ইম্পর্টেন্ট।’
স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান যে, বর্তমান প্রশাসন এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ই-হেলথ কার্ড চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে। যতদ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ডের কাজ শুরু হবে। উপজেলা হাসপাতালগুলো ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে ।’ বর্তমান সরকার যে পরিস্থিতিতে দেশের দায়িত্ব নিয়েছে তার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে, আমরা একটি ধ্বংসস্তূপ পেয়েছি বলা যায়। আমরা পেয়েছি এক দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা বা ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সেই অবস্থা থেকে সরকার চেষ্টা করছে সমগ্র দেশকে সফলভাবে ঘুরে যাতে দাঁড় করাতে পারে।’
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য দায়ী অসাধু চক্রের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। একটি চক্র অত্যন্ত সু-কৌশলে জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয়। নানাভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র, রাজনীতি, শাসন-প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা কিন্তু বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে একটি চক্র খুব সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়। তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করছে।’ জনগণের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সরকার কিন্তু একবারও অস্বীকার করেনি যে বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক কষ্ট ভোগ করছে। আমরা জানি এটি, তবে আমি মাত্রই উল্লেখ করেছি, আমরা সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা বা ব্যবস্থা আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।’ পরিশেষে বিগত আমলের অব্যবস্থাপনার খেসারত নিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্যাস বা জ্বালানি বা পেট্রোল, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে যেই অপরিকল্পিতভাবে প্ল্যান-প্রোগ্রামগুলো গ্রহণ করা হয়েছিল অথবা বিগত দিনগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা পাইয়ে দেয়ার জন্য যেসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তার খেসারত সমগ্র দেশ, দেশের মানুষ এবং বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।’
সরকারি কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের শৈথিল্যের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচমাসের উন্নয়ন যাত্রা’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী জানান, প্রশাসনের আমলাতন্ত্র হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “সরকারের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমলাতন্ত্রের কেউ হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।”
বইয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করে রিজভী বলেন যে, জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম ছাড়া মনের ও বিশ্বজগতের অন্ধকার দূর করা সম্ভব নয়। তার মতে, বই হচ্ছে মনের জগতের পাসপোর্টের মতো, যা মানুষের সভ্যতার অগ্রগতির পথে প্রদীপের ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সরকারের গত পাঁচ মাসের সাফল্য ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি আগামীর বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী মাঠ পর্যায়ে ঘুরে ঘুরে নিজের চোখে প্রকল্পের অগ্রগতি দেখছেন এবং যারা নিরলস কাজ করছেন তাদের নিয়মিত অনুপ্রাণিত করছেন।
সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই মুখপাত্র জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খননের মতো কার্যক্রমের পাশাপাশি শীঘ্রই হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের উপকারে আসছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন এবং হাটে-ঘাটে-বন্দরে গিয়ে জনগণের খোঁজ নিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে রিজভী আরও মন্তব্য করেন যে, যারা বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং ভালো কাজগুলোতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, এই বইয়ের তথ্য ও পরিসংখ্যান তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে। মানুষের হাতে যখন সঠিক তথ্য থাকবে, তখন তারা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক কথা সহজে বিশ্বাস করবে না। সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা এবং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদ আউয়ালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা পরিচয় যেন তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ও চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটায়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বলেন, “রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন পেশাদারিত্বে ব্যাঘাত সৃষ্টি না করে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সেবার মানসিকতা না থাকলে চিকিৎসার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
সমাবেশের সূচনা লগ্নে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একই স্থানে একটি চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। শান্তির প্রতীক হিসেবে দুটি পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ।
ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন তিনি।
এর আগে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় সঙ্গীত শেষে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। চিকিৎসক সমাবেশ শুরুর আগে তাঁরা শান্তির দুটি পায়রা উড়িয়ে দেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ চিকিৎসক সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তিনি উপস্থিত হন।
সংগঠনের গৌরবময় পথচলার ৩৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ড্যাবের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সমাবেশে অংশ নেন। এছাড়া চিকিৎসক সমাজের এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ ও মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।