মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

ব্যবসায়ীদের আহাজারি: নিমেষেই সব আশা পুড়ে ছাই হয়ে গেল

রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেটে আগুন লাগার পর নিজের দোকান পুড়ে যাওয়ায় সব হারিয়ে কেঁদে ওঠেন এই ব্যবসায়ী। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
১৬ এপ্রিল, ২০২৩ ১৫:১২
বিশেষ প্রতিনিধি ও প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি ও প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল, ২০২৩ ০০:০৪

ছয় বছর ধরে তৈরি পোশাকের ব্যবসা করছেন দুই ভাই আব্দুস সাত্তার ও শফিক ইসলাম। স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখে দোকানে নতুন মালামাল তুলেছিলেন নিউ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার। ঈদের পর লাভের টাকায় গহনা ছাড়িয়ে নেবেন। সেই আশা পুড়ে ছাই হয়ে গেল এক নিমেষেই। নিউ সুপার মার্কেটের সামনে বিলাপ করছিলেন তিনি। এখন কীভাবে কী করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না।

শুধু সাত্তার আর শফিকই নয়, নিউ সুপার মার্কেটের হাজার দুয়েক ব্যবসায়ীর অবস্থা একই। ঈদের আগে অনেকেই ধারদেনা কিংবা মূলব্যান সম্পদ বন্ধক বা বিক্রি করে দোকানে মালামাল তোলেন। রমজানের ঈদের আগে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় এই মার্কেটে। ক্রেতার চাপে তিল পরিমাণ ঠাঁই থাকে না সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। অন্য সময়ের চেয়ে লাভও হয় অনেক বেশি। সবাই ঈদের পর সব ধারদেনা পরিশোধ করেন। ঈদের আর কয়েক দিন বাকি। বেচাকেনাও জমে উঠেছিল। কিন্তু পোড়া কপাল হয়ে গেল মুহূর্তেই। গতকাল শনিবার রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেটের আগুনে তাদের সব শেষ হয়ে গেছে।

শনিবার সকাল থেকে নিউ সুপার মার্কেটের সামনে দেখা গেছে হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কেউ কেউ মার্কেটের নিচতলা বা দোতলা থেকে মালামাল বের করার চেষ্টা করছেন। কেউবা সড়কে দাঁড়িয়ে অপলক তাকিয়ে আছেন চোখের সামনে নিজের স্বপ্ন আর বেঁচে থাকার অবলম্বন পুড়ে ছাই হয়ে যেতে দেখে। কেউ চিৎকার করে কাঁদছেন। কীভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেব। অনাগত ভবিষ্যতের ভাবনায় কেউ হয়ে আছেন স্থবির।

আব্দুর সাত্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে দৈনিক বাংলাকে বলছিলেন, ‘সারা বছরে রমজানেই আমাদের বিক্রি বেশি হয়। রোজার শেষ ১০ দিনই আমাদের ব্যবসা হয়। কিন্তু সর্বনাশা আগুনে সব পুড়ে শেষ হয়ে গেল। এখন আমি কী করে সংসার চালাব।’

ডুকরে কেঁদে উঠলেন সাত্তার। চোখ মুছে জানালেন, গত রাত সোয়া ৩টার দিকে তিনি দোকান বন্ধ করে যান। ভাইয়ের ফোন পেয়ে সকাল সোয়া ৭টার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। এসে দেখেন, দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। তবে এসেই ভেতরে ঢুকতে পারেননি। ঠিক সময়ে ঢুকতে পারলে কিছু হলেও মালামাল বের করতে পারতেন বলে আফসোস করেন তিনি। বলেন, প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তার।

ব্যবসায়ী আবু সাঈদ আহাজারি করছিলেন, নিউ সুপার মার্কেটের ফুট ওভারব্রিজের নিচে দাঁড়িয়ে। মার্কেটে তার চারটি দোকান ছিল। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি কিছুই। সাঈদ বলছিলেন, ‘চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। কিছুই রক্ষা করতে পারলাম না।’

সাঈদের মতো অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত নিউ সুপার মার্কেটের সব ব্যবসায়ীই। গতকাল সকালে আগুনের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরাও হাজির হয়েছেন মার্কেটের সামনে। ঢাকা কলেজের ফুটপাতের সামনে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাবিবা খাতুন নামে এক নারী। তাকে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন আরেক নারী। হাবিবা খাতুন জানান, এই মার্কেটের তৃতীয় তলায় তার স্বামী নুরুল ইসলামের একটি দোকান ছিল। এই দোকানের আয় দিয়েই তাদের সংসার চলত। ধারদেনা করে ঈদ উপলক্ষে নতুন মালামাল ওঠানো হয়েছিল।

আহাজারি করে হাবিবা খাতুন বলছিলেন, ‘আগুনে তো সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমরা খাব কি? আর ধারদেনা পরিশোধ করব কীভাবে? পোলাপান মানুষ করব কীভাবে?’

শনিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে নিউ সুপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, সেনা ও বিমানবাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাড়ে তিন ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে সেখানে মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। দোতলা ও নিচতলা থেকে কিছু মালামাল উদ্ধার করতে পারলেও তৃতীয় তলার দোকানপাট সব পুড়ে গেছে।


নির্বাচিত

শিশুদের বিকাশে রাষ্ট্র-সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: ডা. জুবাইদা রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৪১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে বিকশিত করে দেশের সম্পদে পরিণত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বিমান বাহিনীর ব্লু স্কাই স্কুল ফর স্পেশাল চিলড্রেন পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রতিটি শিশুর জীবন অগণিত সম্ভাবনায় ভরপুর। তাদের সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সুষ্ঠু ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং নিরাপদ পরিবেশে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ। শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য সবুজ খোলামাঠ ও প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, কন্যাশিশুদের উচ্চতর পর্যায়ে পড়াশোনা অবৈতনিক করার উদ্যোগ এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিশুরা নিজেদের যোগ্যতা ও শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।

জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের ৬৪টি জেলা, ৫০৩টি উপজেলা, ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়ন ও ৯ হাজার ৯০টি গ্রামের কোনো শিশু-কিশোর যেন অবহেলায় ঝরে না পড়ে—এ সুযোগ আমাদের সবাইকে তৈরি করতে হবে। প্রত্যেক শিশু যেমন তার বাবা-মা ও পরিবারের কাছে প্রিয়, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছেও তারা মূল্যবান সদস্য।

তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে আকাশচুম্বী স্বপ্ন রয়েছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের মনোবল শক্ত করতে হবে। অভিভাবকদের পাশাপাশি সমাজের সবাইকে শিশুদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

বিমান বাহিনীর ব্লু স্কাই স্কুল ফর স্পেশাল চিলড্রেনের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুরা প্রমাণ করেছে, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তারা কত সুন্দরভাবে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে। সবাই মিলে একসঙ্গে একটি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার শিক্ষা শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা খেলাধুলার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট বলেন, এ ধরনের শিক্ষা শিশুদের ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী হয়ে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, তারা নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে বাংলাদেশের মুখ আলোকিত করবে।

এ সময় তিনি বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির বিভিন্ন কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন। নারীর ক্ষমতায়নে সংগঠনটির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীরা দৃষ্টিনন্দন কারুশিল্প তৈরি করছেন। দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ নারী হওয়ায় তাদের দক্ষতা ও ক্ষমতায়নের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে রাজধানীর ব্লু স্কাই স্কুল ফর স্পেশাল চিলড্রেন পরিদর্শন করেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান।


নির্বাচিত

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি, স্বস্তির আভাস শিল্প খাতে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়াতে দেশীয় উৎসের উৎপাদনের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহের কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সরবরাহকৃত মোট গ্যাসের বড় অংশ অর্থাৎ ১৬১ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট এসেছে দেশীয় বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে এবং ঘাটতি পূরণে অবশিষ্ট ৯৯ দশমিক ১ কোটি ঘনফুট গ্যাস এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের সামগ্রিক চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩৫০ থেকে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এই চাহিদার বিপরীতে গত রবিবার জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ ছিল ২৩৩ দশমিক ১৯ কোটি ঘনফুট এবং সোমবার সরবরাহ করা হয়েছিল ২৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি ঘনফুট। ফলে মঙ্গলবার ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে গ্রিডে সরবরাহ বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪১ কোটি ঘনফুট এবং আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে ২৬ দশমিক শূন্য ৭ কোটি ঘনফুট।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের এই ইতিবাচক সরবরাহ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সার কারখানা এবং বৃহৎ শিল্প খাতসহ অন্যান্য জরুরি সেবা খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।


নির্বাচিত

পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) বোর্ডরুমে পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ (পিএসসি)-এর পরিচালনা পর্ষদের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনীতে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও বিভিন্ন প্রকৌশল বিদ্যায় পারদর্শী বিপুলসংখ্যক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের বিশেষায়িত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সাইবার সুরক্ষায় একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা দাঁড় করানোর কাজ চলছে। বর্তমানে খণ্ডকালীন ও পৃথকভাবে পুলিশ সদর দপ্তর, সিআইডি এবং ডিএমপির সাইবার টিমের মাধ্যমে অনলাইন অপরাধের তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে একটি কেন্দ্রীয় ও স্থায়ী ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা ও পেশাগত মনোবল বাড়াতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ করতে অভ্যন্তরীণ কোর্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে প্রয়োজনে বিদেশি অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক এনে কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে পুলিশ সদস্যদের বৈশ্বিক মানে গড়ে তোলা হবে।

পিএসসির পরিচালনা পর্ষদের এই সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।


নির্বাচিত

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

একদিনের সরকারি সফরে সিলেটে পৌঁছে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছালে মাজারের পরিচালনা কর্তৃপক্ষ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সেখানে কিছু সময় অবস্থান করে তিনি দেশ ও সমগ্র জাতির সার্বিক মঙ্গল, সমৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত সম্পন্ন করে রাষ্ট্রপতি অপর প্রখ্যাত ওলি হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের উদ্দেশে যাত্রা করেন। রাষ্ট্রপতির মাজার এলাকায় আগমন ও প্রস্থানকালে সড়কের উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সাধারণ জনতা তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। এ ছাড়া সিলেট নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নিয়ে মহানগর বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীও রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানান।

এর আগে সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৩টায় নগর ভবনের সম্মুখভাগে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত বিশাল নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।


নির্বাচিত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ এখনও চূড়ান্ত নয়: ইসি আনোয়ারুল

ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ঘোষিত সম্ভাব্য তারিখগুলো এখনো চূড়ান্ত রূপ নেয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে অনুষ্ঠেয় এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনার পরই নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে একই দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেছিলেন যে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের পূর্বালোচনা করেনি এবং সরকার এ বিষয়ে কিছুই জানে না। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন সাংবিধানিক কর্তৃত্বের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ঐতিহ্যগত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে বাজেট, মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমন্বিত বৈঠকের মাধ্যমেই চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণার প্রতিষ্ঠিত রীতি রয়েছে।


নির্বাচিত

ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সরকার কিছু জানে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সাত ধাপের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা বা পূর্বাবগতি নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের এই স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তারিখ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনগুলোতে দেখেছি নির্বাচন কমিশন কয়েক ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। আমি দেশবাসীকে জানাতে চাই, এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।’

নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের স্বাধীন এখতিয়ারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, স্থানীয় নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ের একটি প্রতিষ্ঠিত রীতি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তুতিমূলক সভা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো বৃহৎ কর্মযজ্ঞে মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ও বাজেট বরাদ্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখানে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে। নির্বাচন কমিশন যে তারিখগুলো ঘোষণা করেছে, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বা সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানে না।’


নির্বাচিত

চট্টগ্রামে নিহত দুই সেনাসদস্যদের পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী, দিলেন আর্থিক সহায়তা

চট্টগ্রামে নিহত দুই সেনাসদস্যদের পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সামরিক মহড়ায় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণে প্রাণ হারানো দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই আবেগঘন সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত স্বজনদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান জানান, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিহত সৈনিকদের আত্মত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের সেনাসদস্যরা প্রাণ দিয়েছেন। তারা দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’ শোকাহত পরিবারগুলোকে আশ্বস্ত করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এই শোকের সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং পাশে থাকব। সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় আপনাদের পরিবারের পাশে থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের দেখভালেও সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে।’

সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহত সেনাসদস্যদের স্থায়ী ঠিকানায় তাঁদের পরিবারের জন্য একটি করে পাকা বাড়ি নির্মাণ, তাঁদের স্ত্রীদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং সন্তানদের জন্য নিয়মিত মাসিক ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী ফায়ারিং রেঞ্জে কর্তব্যরত অবস্থায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শহীদ হন সৈনিক (অপারেটর) আবু বকর সিদ্দিক এবং সৈনিক (গানার) মো. তাসনিম রিফায়াত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাতে আবু বকর সিদ্দিকের বাবা আব্দুল ওহাব, মা পারভীন আক্তার, স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার জুতি ও কন্যাসন্তান ফাতেমা সিদ্দিকা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া তাসনিম রিফায়াতের পক্ষে তাঁর বাবা মো. আসাদুল হক, স্ত্রী ফাহমিদা আফরিন এবং শিশুকন্যা রাফসা তাসনিম ইফরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো হাঁটু প্রতিস্থাপন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগে সোমবার প্রথমবারের মতো হাঁটু প্রতিস্থাপন অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। রোগীর নাম বিবিজান (৬০)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা।

চিকিৎসকরা জানান, বিবিজান দীর্ঘদিন ধরে অস্টিও আর্থ্রাইটিস রোগে ভুগছিলেন। তার হাঁটু ক্ষয়ের মাত্রা খুব তীব্র ছিল। এরকম হাঁটু অনেকটা জ্যাম হয়ে যায়, বেঁকে যায় এবং তীব্র ব্যাথা থাকে। এই পর্যায়ে গেলে হাঁটু প্রতিস্থাপন করতে হয়।

এই অপারেশনে অংশ নেন রামেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আলমগীর হোসেন, ডা. মনোয়ার তারিক সাবু, ডা. সফিকুল ইসলাম, ডা. সাইদ আহমেদ, ডা. মাতিউল ইসলাম, ডা. সালেহীনসহ আরও কয়েকজন চিকিৎসক।

প্রফেসর ডা. আলমগীর হোসেন জানান, এই অপারেশনের ফলে রোগীর হাঁটু আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন। শুধু নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

তিনি আরও জানান, এখন থেকে সরকারি হাসপাতালে এই অপারেশনের ধারা চলমান থাকবে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের মানুষ ভীষণ উপকৃত হবে এবং ঢাকা বা বিদেশ যাওয়ার কষ্ট লাঘব হবে।

ডা. মনোয়ার তারিক সাবু জানান, ঢাকায় এই অপারেশন অনেক হয়। তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এটাই প্রথম। হাসপাতালে অপারেশন করতে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। ছয়জনের টিম মিলে এই অপারেশন করা হয়েছে। দেশে বিদেশে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর চিকিৎসকরা এই অপারেশন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এখন থেকে নিয়মিত এই অপারেশন করা হবে। অপারেশনের পর রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন।


নির্বাচিত

আর্থিক খাত ও ব্যাংক সংস্কারে ১,২৭৬ কোটি টাকার প্রকল্প

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

খেলাপি ঋণ, সুশাসনের ঘাটতি ও পুরোনো প্রযুক্তি ব্যবস্থার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের আর্থিক খাতকে আরও স্থিতিশীল করতে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চলমান ব্যাংক সংস্কারে সহায়তা দেওয়াই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ (এফএসএসপি-২) নামের প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এতে সভাপতিত্ব করবেন। সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ১ হাজার ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে বৈদেশিক অর্থায়ন হিসেবে আসবে। বাকি ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, আর্থিক খাতের ‘সেফটি নেট’ বা নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানো এবং চলমান ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো ও তদারকি সক্ষমতা আধুনিকায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইসিটি অবকাঠামোসংক্রান্ত ক্রয়প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শক সেবা নেওয়া হবে।

এছাড়া আমানত বিমা ট্রাস্ট ফান্ডের (ডিআইটিএফ) আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, অর্থ পরিশোধের সময় কমানো এবং ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করা হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোও প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রকল্প নথিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরে আর্থিক সেবার চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশের আর্থিক খাতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। তবে উচ্চ খেলাপি ঋণ, সুশাসনের দুর্বলতা, পুরোনো আইসিটি ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, আর্থিক খাতের তদারকিতে ব্যবহৃত আইসিটি অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার অভাবের কারণে সাইবার হামলা ও আন্তঃসীমান্ত আর্থিকসহ উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা আমানতকারীদের আস্থা এবং দেশের আর্থিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংক আগে যে ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করেছিল, তার ধারাবাহিকতায় এফএসএসপি-২ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকল্পটির তিনটি প্রধান উপাদান রয়েছে। এগুলো হলো—তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থার উন্নয়ন, আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠনে সহায়তা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান।

এর দ্বিতীয় উপাদানের আওতায় আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা, ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংস্কারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তি আধুনিকায়নে প্রকল্পের বড় একটি অংশ ব্যয় হবে। প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে আইসিটি সরঞ্জাম কেনায় ৭১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা, কম্পিউটার সফটওয়্যারে ৩৫৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং ডেটাবেজে ৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য আইসিটি ও অফিস সরঞ্জাম কেনার জন্যও অর্থ বরাদ্দ থাকবে।

পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। কমিশনের মতে, এটি আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং, ব্যাংক সংস্কার, ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম শক্তিশালী করবে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত ব্যাংক খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে পরিকল্পনা কমিশনে জমা পড়ে। এরপর একই বছরের ২৩ নভেম্বর বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত টিএপিপি চলতি বছরের মে মাসে পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চাইলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।

সোমবার সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটার অডিটোরিয়ামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানি উৎসের উদ্ভাবন’ বিষয়ক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সচেতনভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। আলোচনা সভায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা তুলে ধরেন। বিশেষ করে সোলার সিস্টেমের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন কার্যকর পরামর্শ দেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তারা।


নির্বাচিত

ব্যাংকিং খাতের মতো বিমা খাতেও অনিয়ম-লুটপাট হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংকিং খাতের মতো বিমা খাতেও অনিয়ম-লুটপাট হয়েছে। এ খাতের গ্রাহকরাও তাদের কষ্টের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তবে টাকা ফেরত দিতে কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ৫৭ শতাংশ বিমার দাবি এখনো অপরিশোধিত রয়েছে। দাবি পরিশোধ না করে বিমা কোম্পানিগুলো তাদের নিজেদের সম্পদ বাড়িয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি পরিশোধ করেতে তাদের সময় বেঁধে দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দাবি পরিশোধ করতে না পারলে কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করে জনগণের টাকা দেয়া হবে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা গেলে গ্রাহকের আস্থা ফিরে আসবে বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

এখন ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি করা হবে জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সব কোম্পানিকে অটোমেশনের আওতায় আসতে হবে। সকল লেনদেন হবে অনলাইনে। সেজন্য সকল বিমা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা হবে।


নির্বাচিত

ভুয়া পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের আগে যাচাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে পুলিশকে সেন্ট্রাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে পরোয়ানার সত্যতা যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সে সঙ্গে পুলিশের আইজিকে এই মর্মে সার্কুলার ইস্যু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ এ মাওলা সোহেলের বেঞ্চ শুনানি শেষে রুল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন।

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই রুল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেওয়া হয়। রায়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নিম্ন আদালতের সব বিচারকের কাছে এই নির্দেশনা পাঠাতে। যাতে যেকোনো নালিশি মামলা করার সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য আইনজীবীর প্রফেশনাল কার্ড এবং বাদীর এনআইডির কপি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

হাইকোর্ট রায়ে বলেন, ‘যেকোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার হলে একজন নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন হয়। আদালতের মাধ্যমে মানুষ যাতে হয়রানি না হয়, তাই কোনো মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত প্রয়োজন। নতুবা নাগরিকের যে ক্ষতি হয়, তা পূরণ করা সম্ভব হয় না।’

শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন।

পরে মনজিল মোরসেদ জানান, গুলশানের বাসিন্দা আরিফ নিয়াজীকে ২০১২ সালে তার গুলশানের বাসা থেকে ভুয়া পরোয়ানা দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে ভুয়া মামলা ও পরোয়ানা হয়েছে। যে আদালতে তাকে উপস্থাপন করা হয়, ওই আদালতের নির্দেশে তদন্ত কমিটি হলে সেখানেও প্রমাণিত হয় ভুয়া মামলায় পরোয়ানা ইস্যুর বিষয়টি। গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত আরও প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ রিট করে।


নির্বাচিত

জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: ঢাবি প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুমোদন ছাড়া স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘ নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শন এবং শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য পৃথক ওয়েবসাইট চালুসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাম্প্রতিক কয়েকটি কর্মকাণ্ড নিয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান, একাডেমিক নীতিমালা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে স্পষ্টতই অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও সাংঘর্ষিক।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উল্লেখ করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডার, ১৯৭৩-এর ২৪(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় সম্পত্তির তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ এখতিয়ার সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত এবং অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ছাত্র সংসদকে উপাচার্যের নির্দেশনায় পরিচালিত হতে হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রশাসন ইতোমধ্যেই গত ৫ আগস্ট শহীদ পরিবারের উপস্থিতিতে মল চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। অথচ ডাকসু কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা উপাচার্যের অনুমোদন ছাড়াই কলাভবনের পশ্চিম পাশ এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে দুটি পৃথক স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, যা প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত।

ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘ নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক চেতনার পরিপন্থী কোনো ব্যক্তির ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণকারী এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুমোদনহীনভাবে ডাকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ওয়েবসাইট চালুর উদ্যোগকেও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত নিজস্ব ‘টিচিং ইভালুয়েশন’ নীতিমালা বিদ্যমান রয়েছে, যার বাইরে পৃথক কোনো ব্যবস্থার সুযোগ নেই। এছাড়া ডাকসুর খোলা ওই ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্টের শামিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো অবস্থাতেই সমান্তরাল বা ‘দ্বৈত প্রশাসন’ কায়েম করার সুযোগ নেই বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ডাকসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও এর যাবতীয় কার্যক্রম বিদ্যমান আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই পরিচালিত হতে হবে। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্ব অমান্য করে সমান্তরাল কাঠামো তৈরির চেষ্টা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

banner close