রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু, টিকিট ছাড়া স্টেশনে ঢুকতে পারছেন না কেউ

আপডেটেড
১৭ এপ্রিল, ২০২৩ ১৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৩ ১০:১৫

ট্রেনের আনুষ্ঠানিক ঈদযাত্রা শুরু হলো। সোমবার সকাল থেকেই যাত্রী নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন গন্তব্যে আন্তনগর ট্রেনগুলো ছেড়ে যাচ্ছে কমলাপুর থেকে। এখন পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলের সবগুলো ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেছে। তবে চট্টগ্রামের উদ্দেশে মহানগর প্রভাতী ট্রেনটি সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ছেড়ে যায়।

এদিকে গত রোববারের দুর্ঘটনার কারণে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, স্টেশনে ঢোকার প্রবেশ পথেই বাঁশ দিয়ে বেরিকেড দেয়া হয়েছে। যাতে টিকিট ছাড়া কেউ ঢুকতে না পারে। প্রত্যেক যাত্রীকে আলাদাভাবে চেক করা হচ্ছে। যাদের টিকিট আছে, তাদের স্টেশনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যারা অন্যজনের টিকিটে নিজে ভ্রমণ করতে চান তাদেরও ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ সকাল থেকে টিকিট ছাড়া কোনো যাত্রীকে যেতে দেয়া হচ্ছে না।

সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, টিকিট থাকলেও অনেক সময় ট্রেনের মধ্যে জায়গা পাওয়া যায় না। তাই টিকিট ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে ঢুকতে না দেয়াই ভালো। তবে যারা অন্যের টিকিটে নিজে যাত্রা করতে চান, এমন যাত্রীরা ভোগান্তিতেও পড়েছেন স্টেশনে এসে।

তাদের একজন আফরোজা আক্তার। যাবেন কিশোরগঞ্জে। ভাইয়ের এনআইডি দিয়ে টিকিট কাটায় তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমার নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি। তাই আমার ভাই টিকিটটি কেটে দিয়েছেন। গ্রামে যাচ্ছি ঈদের ছুটিতে কিন্তু স্টেশনে প্রবেশ করতে পারছি না টিকিটের বিড়ম্বনায়।’

এদিকে স্টেশনের সামনে টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) মো. সেলিম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ঈদযাত্রায় টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনের মধ্যে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। আমরা যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করছি রেলের নির্দেশনা পালন করার। যার টিকিট তাকেই ভ্রমণ করতে হবে।’

এদিকে যারা ৭ এপ্রিল টিকিট কেটেছিলেন তারাই আজ বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা করছেন। প্রথম দিনের ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে।

রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী উম্মে জান্নাত দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রেলের এবারকার সিস্টেমটা অন্যবারের চেয়ে একটু ভালো। অনলাইনে টিকিট কেটেছি ভোগান্তি এড়াতে বাচ্চাদের নিয়ে আগেই গ্রামে চলে যাচ্ছি। প্রতিবারই রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন যেখানে দেরিতে ছাড়ে এবার নির্ধারিত সময় ছেড়ে যাচ্ছে এতে আমরা খুশি। এবার টিকিট কাটতেও বিড়ম্বনা পোহাতে হয়নি, যেহেতু অনলাইনে টিকিট কেটেছি।’

ঈদযাত্রার সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সফিকুর রহমান দৈনিক বাংলাকে,‘সকাল থেকে ঈদযাত্রা ভালোভাবেই শুরু হয়েছে। যথাযথ চেকিং করে স্টেশনে ঢোকানো হচ্ছে যাত্রীদের। কোনো যাত্রীকে টিকিট ছাড়া যাত্রা করতে দেয়া হবে না। গতকাল থেকেই যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। কমলাপুর, বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর স্টেশনে এক্সেস কন্ট্রোল জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত যাত্রীদের ভোগান্তি হয়নি নির্বিঘ্নেই ঈদযাত্রা চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকালকের ঘটনায় শুধু সোনার বাংলা ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া মহানগর প্রভাতী ট্রেনটা কিছুটা ডিলে হয়েছে। অন্য সবগুলো ট্রেন ঠিক আছে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব চেষ্টা করছি, সবকিছু ঠিকঠাক করার। আগামীকাল থেকে নতুন রেক দিয়ে সোনার বাংলা ট্রেন ছেড়ে যাবে। তবে আজকে যারা সোনার বাংলা ট্রেনের যাত্রী ছিল, তারা যদি যেতে চান তাদের আমরা মহানগর প্রভাতী ট্রেনে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আর যারা যেতে চাচ্ছেন না, তাদের টিকিট ফেরত দেয়া হচ্ছে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

রূপপুরে প্রথম ইউনিটে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

# নভেম্বরে বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রত্যাশা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রথম ও একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার রূপপুরের প্রথম ইউনিটে (ইউনিয়ন-১) সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে চলতি নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে ইউনিটটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটম।

রোববার বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর পরমাণু চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের ফিশন বা বিক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, চুল্লিতে শুরু হওয়া ইউরেনিয়ামের বিক্রিয়া থেকে উৎপন্ন তাপে পানি বাষ্পে পরিণত হবে, যা ব্যবহার করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হবে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং শেষ হয় এবং গত ২৮ এপ্রিল ফিজিক্যাল স্টার্টআপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রেসার অপারেটিভ রিলিফ ভালভ ত্রুটিমুক্ত করার পর ১৬ ও ১৮ এমপিএ (MPa) উচ্চচাপের পরীক্ষাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

প্রাথমিকভাবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে পারে, যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। দুই ইউনিটের এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট (প্রতি ইউনিটে ১,২০০ মেগাওয়াট)। রূপপুরের এই প্রথম ইউনিট চালুর মাধ্যমে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হলে দেশের চলমান জ্বালানিসংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে, বাংলাদেশে পরমাণু জ্বালানি সংক্রান্ত যৌথ প্রকল্প আরও সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে ঢাকা ও মস্কোর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। রোববার রোসাটমের মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি রাশিয়া সফরকালে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠক শেষে রোসাটমের মহাপরিচালক বলেন, “বাংলাদেশ পরমাণু যুগে প্রবেশের পর থেকেই প্রকল্প সম্প্রসারণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ নভেম্বর থেকে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও জানান, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ২০২৭ সালে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের স্টার্টআপ বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে রোসাটমের আধুনিক প্রযুক্তি—যেমন ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (SMR) এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (FNPP) বাস্তবায়নেও সহযোগিতা করতে রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত আন্তঃসরকারি চুক্তির (IGA) আওতায় রোসাটম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটির নকশা প্রণয়ন ও সাধারণ ঠিকাদার হিসেবে বাস্তবায়ন করছে।


নির্বাচিত

রাস্তার কাজে ঠিকাদার থেকে ৩ বছরের জামানত নেওয়ার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

# নির্মাণকাজের তদারকি জোরদারে গুরুত্বারোপ # অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো নিয়ে তদন্তের পরামর্শ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত নেওয়ার সুপারিশ করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। কমিটির সভাপতি সেলিম রেজা হাবিবের সভাপতিত্বে এই বৈঠক হয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঠিকাদারদের কাছ থেকে জামানত নেওয়ার সুপারিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে নির্মাণকাজের তদারকি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংসদীয় কমিটি।

বৈঠকে মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় গৃহীত সরকারের বিগত ১৮০ দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কেও কমিটিকে জানানো হয়।

অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো নিয়ে তদন্তের সুপারিশ: বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে গৃহীত অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করেছে সংসদীয় কমিটি।

কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত আচরণ ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপরও জোর দেওয়া হয় কমিটির বৈঠকে। উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিতের সুপারিশও করা হয়।

কমিটি দেশের বিভিন্ন স্থানে আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

বৈঠকে এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং মো. রফিকুল ইসলাম খান অংশ নেন।


নির্বাচিত

রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্বদেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। তা নিশ্চিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হচ্ছে। রোববার ঢাকার হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের অন্তরা হলে 'ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (এফএসডিএস) উদ্যোগে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ওয়ে ফরওয়ার্ড- টুয়ার্ডস সাসটেইনেবল রিপ্যাট্রিয়েশন অ্যান্ড আ ডিওরেবল রিজিয়নাল সলিউশন’- শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

এফএসডিএসের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর (অব.) এতে সভাপতিত্ব করেন। সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রীর পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য কেবল বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; বরং চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ, জাপানসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি কৌশলগত আঞ্চলিক জোট ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি জাপান সরকারের মিয়ানমারবিষয়ক জাতীয় পুনর্মিলন সংক্রান্ত বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়া বাংলাদেশ সফর করেছেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তিনি নিজে তার সাথে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং জাপান সরকার এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া এ মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের কথা রয়েছে, যেখানে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আরও আলোচনা হবে।

রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে আইনি সরকারের পাশাপাশি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আরাকান আর্মি। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগসহ নানামুখী কূটনৈতিক মাধ্যম ব্যবহার করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনই মূল লক্ষ্য এবং চূড়ান্ত বিকল্প হিসেবে সকল পথ উন্মুক্ত রেখেই বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক সমস্যা বা দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

তিনি বলেন, বিগত দশকগুলোতে এই সংকটের বহুমুখী জটিলতা ও মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এখন সংকট ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত কূটনীতি, অস্থায়ী ত্রাণ সহায়তা থেকে টেকসই প্রত্যাবাসন এবং খণ্ডিত উদ্যোগের পরিবর্তে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশলের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

এছাড়া রোহিঙ্গাদের মানবিক অধিকার ও সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারের শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘে এই বছর সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রত্যাবাসন ইস্যুটি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

চীন, জাপান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ বের করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। প্রথম প্রবন্ধে মিয়ানমার ও রাখাইনের পরিবর্তিত বাস্তবতায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোকপাত করেন অধ্যাপক ড. এএসএম আলী আশরাফ।

দ্বিতীয় প্রবন্ধে রাখাইনের উন্নয়ন, কানেক্টিভিটি ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শাহাব এনাম খান। তৃতীয় প্রবন্ধে আঞ্চলিক কূটনীতি এবং বাংলাদেশের কৌশলগত পথসমূহ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাফায়াত আহমদ, পিএইচডি (অব.)।

উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলোর ওপর আলোচনায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যাবাসন কেবল মানুষদের শারীরিক পুনর্বাসন নয়; বরং ফেরত যাওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, বাসস্থান, জীবিকা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাথে গ্রহণযোগ্যতা তৈরির মতো অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই টেকসই সমাধানের মূল চাবিকাঠি।

সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

সচিবালয় সরানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত, তৈরি হবে নতুন সড়ক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে সরিয়ে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। নতুন সচিবালয় ঘিরে চক্রাকার সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে পাতাল সড়ক তৈরির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর

ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্থাপত্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তিনটি নকশা উপস্থাপন করা হয়। সেখান থেকে একটি নকশা চূড়ান্ত করার বিষয়ে সবাই একমত হন। পরদিনই প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করতে পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করে সরকারের মেয়াদে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে চায় সরকার।

শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নতুন নয়। আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এ নিয়ে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

২০১৫ সালে ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সচিবালয় নির্মাণের একটি প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ হয়। তখন ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। জিয়া উদ্যানের উত্তর পাশে এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম দিকে, যেখানে আগে বাণিজ্য মেলা হতো, সেখানে ৩২ একর জমিতে নতুন সচিবালয় নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল।

পরিকল্পনাটি জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের মূল নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়নের কথা ছিল। সেই নকশা অনুযায়ী, ১৪ তলা ভিত্তির ওপর নয়তলা করে চারটি মূল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ওই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

নতুন বিএনপি সরকারের আমলে আবদুল গনি রোডের বর্তমান সচিবালয়ের ভেতরে ২১ তলা ভবন নির্মাণে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। গত ২৬ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে যা থাকছে: সচিবালয় স্থানান্তরের সম্ভাব্য স্থান ও নকশা নিয়ে গত পাঁচ মাসে একাধিক বৈঠক করেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। পর্যালোচনা শেষে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। স্থাপত্য অধিদপ্তরের তিনটি দল পৃথক নকশা তুলে ধরলে একটি নকশা চূড়ান্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন সচিবালয়ের চারপাশে চক্রাকার সড়ক নির্মাণ করা হবে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পেছন দিয়ে একটি নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সড়কটি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর—সাবেক গণভবনের পাশ দিয়ে মিরপুর সড়কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তবে ওই এলাকায় স্কুল, হাসপাতাল, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা থাকায় নতুন সড়ক নির্মাণের জন্য সেগুলো সরানোর প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া বিজয় সরণি থেকে আগারগাঁও হয়ে মিরপুর-১০ নম্বরের দিকে যাওয়া সড়কের নিচ দিয়ে পাতাল সড়ক নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওপরের সড়ক দিয়ে প্রস্তাবিত সচিবালয়ে প্রবেশ করা যাবে এবং নিচের সড়ক ব্যবহার করে মিরপুর সড়কে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। এ জন্য পৃথক প্রকল্প নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত নকশায় প্রতিটি ভবন ১২ তলা করার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবনগুলোর নকশা তৈরির কথা বলা হয়েছে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তর করা হলে আবদুল গনি রোডের বর্তমান ভবনগুলোতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

বর্তমান সচিবালয়ে জায়গার স্বল্পতার কারণে কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনায় সমস্যা হয়। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় যানজটের কারণে কর্মঘণ্টাও নষ্ট হয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বর্তমান সচিবালয়ের আয়তন প্রায় ১৭ লাখ বর্গফুট। প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, নতুন সচিবালয়ের আয়তন হবে প্রায় ৩১ লাখ বর্গফুট।

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন। ২০২১ সালে বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে মাঠটি মূলত খালি পড়ে আছে। সেখানে পার্ক নির্মাণে চার বছর আগে ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের দাবি, জায়গাটি দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকলে অবৈধ দখলের আশঙ্কা রয়েছে। সেখানে সচিবালয় নির্মাণ করা হলে জমিটির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

যানজট বাড়ার আশঙ্কা: নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতিরা। স্থপতি ইকবাল হাবিব মনে করেন, ১৯৬৯ সালে তৈরি লুই আই কানের নকশার আলোকে ২০২৬ সালে এসে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শেরেবাংলা নগর ও আগারগাঁও এলাকায় ইতোমধ্যে বহু সরকারি স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে ওই এলাকায় যানবাহনের চাপও বেড়েছে। নতুন করে সচিবালয় নির্মাণ করা হলে যানজটের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ইকবাল হাবিবের মতে, মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ার মতো বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সচিবালয় স্থানান্তরের জন্য বিকল্প স্থান নিয়ে নতুন করে চিন্তা করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর প্রশাসনিক অবকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয়, অনুমোদন, নতুন সড়ক নির্মাণ এবং যানজট নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।


নির্বাচিত

বিদ্যুতে ভর্তুকি ছাড়াতে পারে ৫০ হাজার কোটি টাকা

# গ্যাস সংকটে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলে ঝোঁক # দাম বাড়ানোর পরও কমেনি তহবিল ঘাটতি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্যাসের সংকটে ব্যয়বহুল তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় আবারও বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ খাত। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতে সরকারের ভর্তুকি ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই সংস্থাটির তহবিল ঘাটতি ১৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সামনে সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মের বাড়তি চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়াতে হলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।

বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগ প্রথম তিন মাসে ছাড় করেছে ৯ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ব্যয় ও লোকসানের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে বরাদ্দের তুলনায় ঘাটতি অনেক বেড়ে যাবে।

ভর্তুকির বোঝা বাড়ছে: গত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকি ছিল ৭ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ১২ হাজার ৮০০ কোটি এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৯ হাজার ৫১১ কোটি টাকায় পৌঁছায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে রেকর্ড ৬২ হাজার কোটি টাকায় ঠেকে। পরবর্তী অর্থবছরে ব্যয় কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতায় সেই চাপ আবার বাড়ছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের সময়ও বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি নিয়ে উদ্বেগ ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), কয়লা ও জ্বালানি তেলের দাম, আমদানি নির্ভরতা এবং বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার ব্যয়কে সম্ভাব্য চাপের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

গ্যাসের ঘাটতিতে ব্যয়বহুল উৎপাদন: বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকা। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো না যাওয়ায় চাহিদা মেটাতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।

বিপিডিবির ৫ অক্টোবরের উৎপাদন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যায় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ৪ হাজার ৮৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয় প্রায় ৪২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ১৯৯ মেগাওয়াট উৎপাদনে ব্যয় হয় প্রায় ১৪৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ ওই সময়ের হিসাব অনুযায়ী, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক উৎপাদনে ব্যয় ছিল গ্যাসভিত্তিক উৎপাদনের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ।

বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, গ্যাসের ঘাটতির কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বেশি বিদ্যুৎ নিতে হয়েছে। পিক আওয়ারে এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিতে হচ্ছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক। এতে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।

জ্বালানির দামেও অস্থিরতা: ফার্নেস অয়েলের দাম ওঠানামা করায় উৎপাদন ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ছিল ৭০ টাকা ১০ পয়সা। মে মাসে তা বেড়ে ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সায় পৌঁছায়। পরে কমে ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা হলেও গত ৩০ সেপ্টেম্বর আবার বেড়ে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা হয়।

বিপিডিবির হিসাবে, দেশে দৈনিক গড়ে ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, এর এক-চতুর্থাংশের বেশি আসছে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে। ফলে এই জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট ব্যয়েও বড় প্রভাব পড়ে।

দাম বাড়িয়েও স্বস্তি নেই: ভর্তুকির চাপ কমাতে গত জুনে বিদ্যুতের গড় খুচরা দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা এবং পাইকারি দাম ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। তবে নিম্ন ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের জন্য নির্দিষ্ট ধাপের মূল্যবৃদ্ধি পরে প্রত্যাহার করা হয়।

বিইআরসির চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন মূল্যকাঠামো কার্যকর হওয়ার পরও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিপিডিবিকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতে পারে। কিন্তু এরপর জ্বালানি সরবরাহ ও দামের পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হলে প্রকৃত প্রয়োজন বাড়তে পারে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ঘাটতি দূর করতে পারছে না।

নীতিগত সমাধানের তাগিদ: কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম. শামছুল আলমের মতে, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় কমাতে উৎপাদন ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নীতি প্রয়োজন। তার বক্তব্য, দাম বাড়িয়ে বারবার গ্রাহকের ওপর চাপ না দিয়ে উৎপাদন ব্যয় ও ভর্তুকি কমানোর টেকসই পথ খুঁজতে হবে।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে সেই সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যায় না। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, অন্যদিকে জ্বালানি আমদানির জন্য বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হয়। সরকারি অর্থায়নের ওপর চাপের পাশাপাশি শিল্প ও ব্যবসার উৎপাদন ব্যয়েও এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকট মোকাবিলায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা ও অর্থায়নে সমন্বয়, কেন্দ্রভিত্তিক উৎপাদন ব্যয়ের পর্যালোচনা এবং সাশ্রয়ী জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি, সক্ষমতা ব্যবহার ও উৎপাদন ব্যয়ের স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রয়োজন। তা না হলে শুধু ভর্তুকি বাড়ানো কিংবা বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করে সংকটের স্থায়ী সমাধান করা কঠিন হবে।


নির্বাচিত

জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেওয়া জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যাতে সঠিকভাবে দেশের ও মানুষের স্বার্থে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

তিনি জানান, সভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা অনেকগুলো প্রকল্প গ্রহণ করেছেন, অনেকগুলো টার্গেট ঠিক করেছেন। সেই টার্গেটগুলো অর্জনের জন্য অবশ্যই সরকার থেকে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু এটা জনগণের অর্থ। আমি আশা করব, জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যাতে সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে এবং মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে আপনারা সবাই মনোযোগ দেবেন।

সরকারি দায়িত্বকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে রয়েছেন। এই সুযোগকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যারা এখানে আছি, বাংলাদেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় আমরা সবাই সুবিধাপ্রাপ্ত। আল্লাহ তাআলা আমাদের দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘যার যতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে, আমরা যেন সেই কাজটি আন্তরিকভাবে করতে পারি। আমাদের সবার সেই চেষ্টা থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দায়িত্ব পালনের সুযোগ সব সময় থাকে না। তাই যে যখন যে দায়িত্বে রয়েছেন, তাকে সেই সুযোগ দেশের ও মানুষের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই চেষ্টা করি, যার হাতে যত দিন সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ ও দেশের জন্য ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি।

সভায় কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আবারও আলোচনা করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী বৈঠকগুলোতে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরবেন।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন সঠিকভাবে দেশ ও মানুষের স্বার্থে ব্যয় হয়। এ বিষয়ে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

তিনি জানান, সভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছেন, অনেক টার্গেট ঠিক করেছেন। সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার বাজেট বরাদ্দ দেবে। কিন্তু এটা জনগণের অর্থ। আমি আশা করব, এই অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়। এ বিষয়ে আপনারা সবাই মনোযোগ দেবেন।’

সরকারি দায়িত্বকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে রয়েছেন। এই সুযোগ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা এখানে আছি, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় আমরা সবাই সুবিধাপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা’আলা আমাদের দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন। যার যতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে, আমরা যেন তা আন্তরিকভাবে করতে পারি। আমাদের সবার সেই চেষ্টা থাকতে হবে।’

দায়িত্ব পালনের সুযোগ সব সময় থাকে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাই যিনি যখন যে দায়িত্বে আছেন, তাকে সেই সুযোগ দেশ ও মানুষের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই চেষ্টা করি, যার হাতে যত দিন সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ ও দেশের জন্য ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি।’

সভায় তিনি কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আবারও আলোচনা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী বৈঠকগুলোতে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরবেন।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি হচ্ছে : নৌপরিবহনমন্ত্রী

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি বলেছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারকে সামনে রেখে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত। তাই বন্দর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়, দক্ষতা ও কার্যকর কৌশল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

আজ রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বাংলাদেশে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কান্ট্রি ডিরেক্টর তাকাহাশি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বন্দরের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে খাটো করে দেখা যাবে না। বরং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী, আমদানি-রপ্তানিকারক এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশল অনেক আগেই প্রণয়ন করা প্রয়োজন ছিল। অর্থনীতি ও বাণিজ্যের অগ্রগতির সাথে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, পরিচালন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই প্রয়োজন পূরণে সরকার এখন জাতীয় বন্দর কৌশল চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগে জাইকা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা জাপান সরকারের সহযোগী সংস্থা জাইকা এবার বন্দর কৌশল প্রণয়নেও পাশে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর কৌশলপত্র তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার নিজস্ব কর্তৃত্ব, দায়িত্ব কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান যেন সমন্বিত উদ্যোগের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে এর অর্থ কোনো কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব বা কার্যক্রমের পরিধি উপেক্ষা করা নয়। বরং বিদ্যমান দায়িত্ব ও কাঠামোর মধ্যে থেকেই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর পৃথক পৃথক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে সব পক্ষের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের স্বার্থকে এককভাবে প্রাধান্য দিয়ে কৌশলপত্র তৈরি করা হলে তা কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের দায়িত্ব, প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের কাজ হবে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে কার্যকর সুপারিশ তুলে ধরা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বন্দরের কনটেইনার পরিচালনা ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে হলে বন্দর পরিচালনা, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বাড়ছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএ সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বন্দরগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের সুফল পেতে হলে সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়লে শুধু আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমই সহজ হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বন্দর কেন্দ্রিক পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে দেশের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের প্রয়োজন ও স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, বন্দরের উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। টার্মিনাল পরিচালনা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য খালাস, পরিবহন সংযোগ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপযোগী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা সম্ভব হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে, এটি কেবল একটি মন্ত্রণালয় বা কোনো নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয় নয়। দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য এ কৌশলের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক বা সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি এ উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং জাইকার প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। একইসাথে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের কাজে সংশ্লিষ্টদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর ও সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। এ কৌশল দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার এবং জাতীয় অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মারুবেনি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ, প্রযুক্তি ও সার খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাপানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ও বহুজাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মারুবেনি কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসায়ুকি ওমোটোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানো, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা এবং তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার। অতীতে পাটজাত পণ্যের বাণিজ্যে মারুবেনির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বিদ্যমান এই অংশীদারত্বকে সমকালীন প্রযুক্তিনির্ভর খাতে বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় স্থানীয় তরুণ প্রকৌশলীদের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় বৈশ্বিক মানে গড়ে তোলার রূপরেখা তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী এক বছরের মধ্যে দেশে একটি এআইভিত্তিক আধুনিক ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং এতে মারুবেনির বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ মতবিনিময় হয়।

কৃষি উৎপাদনে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (কাফকো) মারুবেনির বর্তমান বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে দ্বিতীয় আরেকটি কাফকো কারখানা স্থাপনে অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা হলে জাপানি প্রতিনিধিরা এ খাতে পুঁজি বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সাথে বৈঠকে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় যে, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর রূপ পেলে দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান। মারুবেনি কর্পোরেশনের পক্ষে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের সিইও সুসুমু ওয়াকামোরি এবং বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড মানাবু সুগাওয়ারা।


নির্বাচিত

বাংলাদেশ সম্পর্কে আইপিইউর ভুল ধারণা দূর হয়েছে: স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মঞ্চে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে বিভ্রান্তি ও ভুল ধারণা ছিল তা সম্পূর্ণরূপে কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তানজানিয়ার আরুশায় আয়োজিত ১৫৩তম আইপিইউ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে রবিবার দেশে ফিরে তিনি সাংবাদিকদের এই মূল্যায়নের কথা জানান।

এবারের আইপিইউ সম্মেলন আন্তর্জাতিক সংসদীয় কূটনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য এক বিশেষ মাইলফলক হয়ে উঠেছে। সম্মেলনের অংশ হিসেবে গত ৫ অক্টোবর ভুটানের স্পিকার টেম্পা দর্জির কাছ থেকে আইপিইউর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যানের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই দিনে ১৫৩তম সাধারণ সভায় এই অঞ্চলের পক্ষ থেকে আইপিইউর নির্বাহী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, এমপি।

স্পিকারের নেতৃত্বে তানজানিয়া সফরকারী সংসদীয় প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু এবং সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এস কে আজিজুল বারী, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সানসিলা জেবরিন ও রোকেয়া বেগম। প্রতিনিধিদলটি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুইয়াসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সংসদ সচিবালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁদের উষ্ণ সংবর্ধনা জানান।

৩৭টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত প্রভাবশালী এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের শীর্ষ নেতৃত্বে আসীন হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও স্বার্থ তুলে ধরার পথ আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় প্রতিবাদ জানাল ঢাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের বর্বরোচিত হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রাণঘাতী হামলার কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত হামলায় হতাহতের মধ্যে দুই বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পরপরই রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে হতাহতদের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করছে এবং ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় জরুরি ও কনস্যুলার সহায়তা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করার পাশাপাশি আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করা হয়, বেসামরিক নাগরিকের জীবন বিপন্ন করে অসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এ ধরনের সহিংস আক্রমণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া আবশ্যক। এই কঠিন সময়ে সৌদি সরকার ও দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশ পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা।


নির্বাচিত

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার জেরে বাংলাদেশ থেকে ৫ ফ্লাইট বাতিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিমানবন্দরটির সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে পরিচালিত পাঁচটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত এসব ফ্লাইট স্থগিতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর তালিকায় রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া এবং রিয়াদ এয়ারের নিয়মিত ফ্লাইট। রিয়াদে অনাকাঙ্ক্ষিত অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে শনিবার মধ্যরাতে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের নিক্ষিপ্ত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং আহত হন আরও ৩০৯ জন। নিহত ও আহতদের মধ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাশাপাশি মিসর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সুদান, সিরিয়া ও মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলার পরপরই চরম ঝুঁকি এড়াতে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের বিমান চলাচল ও পরিচালন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, বিগত প্রায় দুই মাস ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি হুথিদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় হুথি গোষ্ঠী সৌদির আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিমান সংস্থাগুলোর ওপর কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল এবং রিয়াদ বিমানবন্দরকে তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে এই প্রাণঘাতী আঘাত হানে।


নির্বাচিত

ধূলি জমে দেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন কমছে ১৫ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বায়ুদূষণ এখন কেবল জনস্বাস্থ্য নয়, বরং নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের বিকাশেও এক মারাত্মক বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সম্প্রতি স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাতাসে ভাসমান ভারী ধূলিকণা বা সয়েলিং ইফেক্টের কারণে সোলার প্যানেলের ওপর ধূলির আস্তরণ জমে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচা ডিআরইউ মিলনায়তনে ‘বায়ুদূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশসহ ৩৬টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

গবেষণায় উঠে এসেছে, নিয়মিত ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সোলার প্যানেল পরিষ্কার রাখলে বিদ্যুতের উৎপাদন প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। যেখানে নোংরা প্যানেল থেকে গড়ে ৩৮-৪১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, সেখানে তা পরিষ্কার করলে ৪৯-৫৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

গবেষণার তথ্যানুসারে, একটি মাঝারি প্যানেল ব্যবস্থার জন্য মাসে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করলে অতিরিক্ত ৬ দশমিক ৬৭ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, যার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫৬ হাজার ২৪ টাকার আয় সম্ভব। খরচ বাদ দিয়েও প্রতি মাসে নিট ১৬ হাজার ২৪ টাকা এবং বছরে প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার টাকা বাড়তি লাভ করা সম্ভব।

জরিপ অনুযায়ী, শতভাগ ব্যবহারকারীই মানেন যে ধুলোবালির কারণে প্যানেলের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। তবে প্রায় ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ ব্যবহারকারীই কোনো আধুনিক ব্যবস্থার বদলে সনাতন ম্যানুয়াল উপায়ে প্যানেল পরিষ্কার করছেন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ২০২৬ সালের তথ্যানুযায়ী, দেশে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩২ হাজার ৫২২ মেগাওয়াট হলেও তীব্র গ্যাসসংকট ও জ্বালানি আমদানির ঘাটতির কারণে দৈনিক উৎপাদন মাত্র ১৪ হাজার থেকে ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। ফলে পিক-টাইমে প্রতিদিন ৭৫০ থেকে ১২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে দেশে মাত্র ৫ দশমিক ৭৫ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে, যা বৈশ্বিক গড় ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশের তুলনায় অত্যন্ত কম। নবায়নযোগ্য এই ১ হাজার ৮৭১ দশমিক ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের অবদানই প্রায় ৭৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। কিন্তু কয়লা ও ফার্নেস ওয়েলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ধোঁয়া বাতাসে বিপুল পরিমাণ সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা সৌর প্যানেলে জমে বিদ্যুতের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেছেন। এগুলো হলো— শিল্প খাতে ৩ হাজার মেগাওয়াটের জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সোলার যন্ত্রাংশের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, শিল্পকারখানায় ম্যানুয়াল পদ্ধতির বদলে ডেটাভিত্তিক ও রোবোটিক বা স্বয়ংক্রিয় ক্লিনিং প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ও সরকারের পক্ষ থেকে শিল্পাঞ্চল ও তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ধূলিকণা নির্গমন কঠোরভাবে মনিটর করা।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শরীফ নাফে এস-সাবের। আরও বক্তব্য রাখেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ টি এম নুরুল আমিন, ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মোছা. মাহমুদা পারভীন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মো. জিয়াউল হক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।


নির্বাচিত

banner close