বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২২ মাঘ ১৪৩২

রেকর্ড গড়ে রাজসিক আয়োজনে বঙ্গভবন ছাড়লেন আবদুল হামিদ

রাজসিক আয়োজনে মো. আবদুল হামিদকে বিদায় জানান বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ছবি: প্রেস উইং, বঙ্গভবন।
আপডেটেড
২৪ এপ্রিল, ২০২৩ ১৫:৪১
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল, ২০২৩ ১৫:২১

অগ্রভাগে পতাকাবাহী অশ্বারোহী দল, তাদের পেছনে সশস্ত্র বাহিনীর ব্যান্ড দল বাদ্যযন্ত্রে তুলছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়’ গানের সুর। বঙ্গভবনের কর্মীরা দুই সারিতে লাল কাপড়ে মোড়ানো দড়ি ধরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন প্রধান ফটকের দিকে; সেই দড়ি বাঁধা ফুলে মোড়ানো এক খোলা জিপের সঙ্গে। জিপে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে বিদায় জানাচ্ছিলেন আবদুল হামিদ ও তার স্ত্রী রাশিদা খানম। দুই পাশ থেকে তখন চলছে পুষ্পবৃষ্টি।

দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন ও আনুষ্ঠানিভাবে বিদায় নেয়ার রেকর্ড গড়ে এভাবেই বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. আবদুল হামিদ। টানা ১০ বছর ৪১ দিন দায়িত্ব পালন করা আবদুল হামিদকে সোমবার আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাল বঙ্গভবন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানানোয় অনন্য নজির দেখাল বঙ্গভবন।

সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল গ্রাউন্ডে গার্ড অব অনার দেয় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট। ছবি: বঙ্গভবন প্রেস উইং

সোমবার বেলা ১১টার দিকে নতুন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শপথ গ্রহণের পর দুপুরে শুরু হয় আবদুল হামিদের বিদায় অনুষ্ঠান। বঙ্গভবন ছাড়ার পর আবদুল হামিদ রাজধানীর নিকুঞ্জে তার নিজ বাড়িতে ওঠেন।

বাংলাদেশে এর আগে ২০ জন রাষ্ট্রপতি বিদায় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউই এত দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় পাননি, যার রেকর্ড গড়লেন আবদুল হামিদ।

গত ১৭ এপ্রিল বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবদুল হামিদের সম্মানে এক বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এর আগে গত মার্চে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে বিদায়ী মতবিনিময় করেছিলেন।

নতুন রাষ্ট্রপতির শপথের পর দুপুর দেড়টার দিকে আবদুল হামিদের বিদায় পর্ব শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) তাকে গার্ড অব অনার ও অভিবাদন জানায়। বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল গ্রাউন্ডে এই গার্ড অব অনার দেয়া হয়। এরপর লাল গালিচায় হেঁটে গার্ড পরিদর্শন করেন আবদুল হামিদ।

গার্ড অব অনার পর্ব শেষে আবদুল হামিদ ও তার স্ত্রী রাশিদা খানম ওঠেন ফুলে সাজানো খোলা জিপে। বঙ্গভবনের ফোয়ারা থেকে প্রতীকী কায়দায় সেই প্যারেড কারকে দুটি দড়ি ধরে টেনে মূল ফটকে নিয়ে যান বঙ্গভবনের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরারা। এরপর প্রধান ফটক থেকে ভিভিআইপি প্রটোকলে বিদায়ী যাত্রা করেন আবদুল হামিদ। দীর্ঘ ১০ বছর পর বঙ্গভবন ছেড়ে নিকুঞ্জে তৈরি করা নিজের নতুন বাড়িতে যান।

বাড়িতে ঢোকার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, তার যেটুকু সাফল্য, সেজন্য তিনি দেশের মানুষের কাছে, এলাকার মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোটামুটি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন, সে জন্য তার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। আর কৃতজ্ঞ সাংবাদিকদের কাছে। কারণ তার বক্তব্য তারা ‘টুইস্ট না করে’ জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘এই যে রোদের মধ্যে আপনারা এসেছেন, আমার মত একজন সাধারণ মানুষের জন্য। যদিও আমি রাষ্ট্রপতি হয়েছিলাম, তবুও আমি সব সময় নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ মনে করি। আমার যে রাজনীতি, সেটা ছিল সাধারণ মানুষের জন্য। চেষ্টা করেছি দেশে সুষ্ঠু স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে, আগামীতেও চেষ্টা থাকবে। দেশের মানুষ সব দিক থেকে ভালো থাকুক, সুখী থাকুক সেটি চাই।’

প্রথম কোনো রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক বিদায়

বাংলাদেশে এর আগে ২০ জন রাষ্ট্রপতি বিদায় নিয়েছেন। তবে কেউই কার্যত আনুষ্ঠানিক বিদায় পাননি। আবদুল হামিদকে বঙ্গভবন আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাল। সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতিকে সামরিক কায়দায় গার্ড অব অনার ও প্রটোকল দিয়ে নিজের ঠিকানায় পৌঁছে দেন।

প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সদস্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে গার্ড গার্ড অব অনার দেয়। পরে গার্ড পরিদর্শন করেন আবদুল হামিদ ছবি:বঙ্গভবন প্রেস উইং

বাংলাদেশের প্রথম ও ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর একদল বিপদগামী সদস্যের হামলায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। আরেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সেনাসদস্যদের হাতে নিহত হন।

মুক্তিযুদ্ধকালে দেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তবে তার বঙ্গভবনে ওঠা হয়নি। তৃতীয় রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ও চতুর্থ রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুহম্মদউল্লাহ তাদের মেয়াদ শেষ না করেই বিদায় নেন। এর মধ্যে সংবিধান সংশোধন করে আবারও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার প্রবর্তনের ফলে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর নতুন প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি হন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের একজন খন্দকার মোশতাক আহমদ। তবে বিপ্লব-পাল্টা বিপ্লবে তিন মাসেরও কম সময় দায়িত্ব পালন করে তাকে বিদায় নিতে হয়।

রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদত মোহাম্মদ সায়েম, বিচারপতি আব্দুস সাত্তার এবং আবুল ফজল মুহম্মদ আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে চাপের মুখে পদ থেকে সরে যেতে হয়েছে। সায়েমকে সরিয়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হন এবং জিয়া হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর আব্দুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি হন। পরে আব্দুস সাত্তারকে সরিয়ে আবুল ফজল মুহম্মদ আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করেন তৎকালীন সিএমএলএ (প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরে তাকে সরিয়ে নিজেই দেশের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গণআন্দোলনে এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হলে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি (১৪তম) হন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। তিনি ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে যান।

পরবর্তী সময়ে আবদুর রহমান বিশ্বাস, সাহাবুদ্দীন আহমদ ও অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রত্যেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করলেও তাদের বিদায়টা আনুষ্ঠানিক হয়নি। তারা তিনজনই অনেকটা নীরবে বঙ্গভবন ত্যাগ করেন। দেশের অষ্টাদশ রাষ্ট্রপতি একিউম বদরুদ্দোজা চৌধুরী দেড় বছরের কিছু বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর অভিশংসন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে পদত্যাগ করে বঙ্গভবন ছাড়েন। দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি ছিলেন স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার (ভারপ্রাপ্ত)। দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিল্লুর রহমান চার বছরের মতো দায়িত্ব পালন করে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন।

জিল্লুর রহমান মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জাতীয় সংসদের তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদ। জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন। পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল আবদুল হামিদ দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

আবদুল হামিদের বর্ণাঢ্য জীবন

১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্ম নেন আবদুল হামিদ। ১৯৫৯ সালে ছাত্রলীগে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সে সময়ের ময়মনসিংহ-১৮ (বর্তমানে কিশোরগঞ্জ-৪) আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন দেশ স্বাধীন করতে।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আবদুল হামিদকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে সরকার। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচন, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচন, ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচন, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ এবং ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অষ্টম সংসদে ছিলেন বিরোধী দলীয় উপনেতার দায়িত্বে।

সপ্তম সংসদে ১৯৯৬ সালের ১৩ জুলাই থেকে ২০০১ এর ১০ জুলাই পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালনের পর ২০০১ এর ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনা করেন আবদুল হামিদ। নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার হন।

দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের অসুস্থতার কারণে ২০১৩ সালের ১১মার্চ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পান আবদুল হামিদ। জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর হন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ নেন দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে। এরপর ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেন।

বাংলাদেশে এত দীর্ঘসময় রাষ্ট্রপতি থাকার রেকর্ড আর কারও নেই। বাংলাদেশের আইনে দুই মেয়াদের বেশি কারও রাষ্ট্রপতি থাকার সুযোগও নেই।


নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বড় আকারের প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সারা দেশের নির্বাচনী অপরাধ প্রতিরোধ ও আচরণবিধি তদারকি করার জন্য মোট ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তারা সরাসরি নির্বাচনী মাঠে থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং মাঠপর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক নির্দেশনা প্রদান করবেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে যোগদান করবেন এবং তার আগে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তারা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা রোধে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দণ্ড প্রদান করতে পারবেন। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্বরত বিজিবি, কোস্টগার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার গুরুদায়িত্বও পালন করবেন এই ম্যাজিস্ট্রেটরা।

সরকারি এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৫ ধারা মোতাবেক ভোটগ্রহণের দুই দিন পর পর্যন্ত এই ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের নির্ধারিত এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিশেষ ক্ষমতা ভোগ করবেন। সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের নিজ নিজ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসব ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব বণ্টন এবং সুনির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণ করে দেবেন। এছাড়া নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে প্রতিদিনের কার্যক্রমের তথ্য একটি নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করার জন্য প্রজ্ঞাপনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির ফলে ভোটগ্রহণের আগে ও পরে যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়ানো এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


৪৮ শতাংশ আ.লীগ সমর্থকদের পছন্দ বিএনপি: সিআরএফ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক বড় ধরনের জনমত পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বর্তমানে বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে তাদের রাজনৈতিক পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন, আর অবশিষ্ট ৫২ শতাংশ ভোটার অন্যান্য প্রার্থীদের সমর্থন করতে পারেন। বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস)।

লেখক ও গবেষক জাকারিয়া পলাশ কর্তৃক উপস্থাপিত এই গবেষণা প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক মনোভাব এবং নির্বাচনি পরিবেশের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাবুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। গবেষণাটি সম্পন্ন করতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্ট্রাটিফাইড র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন ভোটারদের রাজনৈতিক ঝোঁক। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এমন ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে তাদের পছন্দ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামগ্রিকভাবে ভোটারদের মাঝে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো ভোট দেওয়ার বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। এই আগ্রহের ক্ষেত্রে লিঙ্গ, বয়স বা ভৌগোলিক অবস্থানের কোনো বড় প্রভাব দেখা যায়নি।

জনমতের ক্ষেত্রে ইস্যুভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম দুর্নীতি ও সুশাসন। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতিকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যেখানে ধর্মীয় বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন মাত্র ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার। নেতৃত্বের গুণাবলির ক্ষেত্রে ভোটাররা এখন আর কেবল ব্যক্তিগত ক্যারিশমার ওপর নির্ভর করতে রাজি নন; বরং তারা এমন নেতৃত্ব খুঁজছেন যারা জনদরদি এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার প্রধান উৎস হিসেবে বর্তমানে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।

নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ে গবেষণায় ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও ধরা পড়েছে। ভোটাররা নির্বাচন পরিচালনার চেয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত। ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি এবং ব্যালট দখলের আশঙ্কা সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেই কমবেশি বিদ্যমান। এছাড়া ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা এখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, ৩০ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার কেবল প্রার্থীর যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেন এবং ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার প্রার্থী ও দল উভয় বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে এই জরিপটি আসন্ন নির্বাচনের আগে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত প্রদান করছে।


শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মৃত্যুবরন করেছেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল (৫১) আর নেই।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হৃদরোগ ও দীর্ঘদিনের কিডনিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জনা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ময়মনসিংহ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে রাত ৩টার দিকে শহরের ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার শারীরিক অবস্থার চূড়ান্ত অবনতি ঘটে। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার মৃত্যুতে শেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।

একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য জনাব মাহমুদুল হক রুবেল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা সেক্রেটারী ও শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল সাহেব এর মৃত্যুর খবর দিয়েছেন এবং আল্লাহ তায়ালা যেনো জান্নাত নসিব করেন- এই বলে তিনি আল্লাহর নিকট দোয়াও করেছেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার জানাজার সময় ও স্থান পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে বলে জানা গেছে।


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে আমান আযমীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:৩৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী। সাক্ষাৎকালে তিনি নিজের লেখা গ্রন্থ ‘বিভীষিকাময় আয়নাঘর’ এবং তার বাবা গোলাম আযমের লেখা ৯ খণ্ডের আত্মজীবনী ‘জীবনে যা দেখলাম’ রাষ্ট্রপতিকে উপহার হিসেবে প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অত্যন্ত আগ্রহের সাথে বইগুলো গ্রহণ করেন এবং উল্টেপাল্টে দেখেন।

সাক্ষাৎ শেষে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আযমী লিখেন, আজ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। আমার লেখা "বিভীষিকাময় আয়নাঘর", আমার বাবাকে নিয়ে সচিত্র (প্রায় সোয়া দুই হাজার ছবি সম্বলিত) বই "প্রেরণার পরশমণি" এবং আমার বাবার লেখা আত্মজীবনী "জীবনে যা দেখলাম" (৯ খন্ড) উপহার দিয়ে এলাম।

এছাড়াও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি খুব আগ্রহ সহকারে বই গুলো নিলেন এবং উল্টেপাল্টে দেখলেন। উনার মূল্যবান সময় থেকে আমাকে অনেক সময় দেয়ার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।


প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যে চুক্তি সই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করেছে জাপান ও বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এই চুক্তিতে সই করেন।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, চুক্তিটি সইয়ের দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি হলো, যার আওতায় যৌথভাবে নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়নে এবং বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় অবদান রাখে এমন উদ্যোগে এই সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে। চুক্তিতে প্রতিটি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণ করার পাশাপাশি হস্তান্তরিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মৌলিক নীতিমালাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে এসব সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি হস্তান্তর কিংবা নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কথা চুক্তিতে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং এটি জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করলেন বিদেশি কূটনীতিকরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কয়েকদিন আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে যে, দুই ঘণ্টাব্যাপী এই পরিদর্শনের শুরুতে কূটনীতিকরা গণঅভ্যুত্থানে শহীদ প্রায় ৪ হাজার মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন প্রতিনিধি দলকে জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ঘুরিয়ে দেখান। জাদুঘরের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী বলেন, ‘জাদুঘরের পেছনের উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের যে কোনো জায়গায় এ ধরনের দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই জুলাই জাদুঘরটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন জাদুঘরটিকে বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘জাদুঘরটি জুলাইয়ের বিদ্রোহের ৩৬ দিনের ক্লাইম্যাক্স প্রদর্শন করে, তবে এটি বছরের বছরের দুঃশাসনের উপাদানগুলোও তুলে ধরে।’ তিনি আরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, ‘ইতিহাসের আসল পাঠ হলো এটি যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করা।’ পরিদর্শনে আসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করতে পেরে আমি আনন্দিত। ইতিহাস বোঝা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কীভাবে বিপ্লব ঘটে এবং বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের উৎপত্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার অনুপ্রেরণামূলক এবং শক্তিশালী স্মরণ করিয়ে দেয়।’

জাদুঘরের চিফ কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব অতিথিদের কাছে এই স্থাপনার বিভিন্ন কারিগরি ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। এই বিশেষ পরিদর্শন কর্মসূচিতে আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, ভুটান, ডেনমার্ক, মিশর, ফ্রান্স, ইরান, ইরাক, ইতালি, কসোভো, লিবিয়া, মরক্কো, নেপাল, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, স্পেন ও তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইউনেস্কো, ডব্লিউএফপি, আইওএম, একেডিএন ও বিমস্টেকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিরাও এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক পেলেন ৪০ জন কোস্ট গার্ড সদস্য

আপডেটেড ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:০৩
নিজস্ব প্রতিনিধি

যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আগারগাঁওস্থ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৪০ জন সদস্যকে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক প্র্রদান করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, এনডিসি, পিএসসি (অব:)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত সিনিয়র সচিব জননিরাপত্তা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনাব নাসিমুল গণি।

উক্ত অনুষ্ঠানে মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর ৪০ জন কর্মকর্তা, নাবিক এবং অসামরিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য ১০ জন কে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, ১০ জন কে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, ১০ জন কে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং ১০ জন কে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক প্রদান করেন।

মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রতিটি সদস্য দেশের উপকূলীয় দুর্গম এলাকাসমূহ, নদীপথ ও সমুদ্রসীমায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতির মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নদী ও সমুদ্র পথে এবং উপকূলীয় এলাকায় জনসাধারণের জান ও মাল রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, মৎস্য সম্পদ রক্ষা, মাদক পাচার রোধ, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এ বাহিনী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রাম বন্দর ও বহিঃনোঙর এলাকায় চুরি-ডাকাতি ও অপরাধ দমনে কোস্ট গার্ড অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এছাড়া দেশের জাতীয় সম্পদ রূপালী ইলিশ সংরক্ষণ, জাটকা নিধন রোধ এবং সমুদ্রে সরকার ঘোষিত মৎস্য অভয়ারণ্য বাস্তবায়নে এ বাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য।

তিনি আরও বলেন, দেশের বন্দরসমূহের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক সাড়াশি অভিযানের ফলে বহিঃনোঙ্গর অঞ্চলে দস্যুতা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং পোর্টের রেটিং পূর্বের তুলনায় বহুলাংশে উন্নত হয়েছে। পাশাপাশি তেলবাহী জাহাজ এমটি বাংলার জ্যোতি, এমটি বাংলার সৌরভ এবং বিএলপিজি সোফিয়ার ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড 'ফার্স্ট রেস্পন্ডার' হিসেবে মুহূর্তেই প্রতিটি ঘটনাস্থলে পৌছে সফলভাবে অগ্নি নির্বাপণ এবং উপকূলকে পরিবেশ দূষনের হাত থেকে রক্ষা করে। উন্নত প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত এই বাহিনীর অসাধারণ সাহসিকতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO) হতে মর্যাদাপূর্ন ‘Letter of Commendation’ লাভ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

সময়ের পরিক্রমায় ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার নিপুণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে কার্যকর, শক্তিশালী ও সুদক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য উজ্জীবিত ও বদ্ধপরিকর।


কারাবন্দি বিমানের এমডি সফিকুর রহমানের চুক্তি বাতিল, নতুন দায়িত্বে হুমায়রা সুলতানা

আপডেটেড ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বর্তমানে ফৌজদারি মামলায় কারাবন্দী থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মো. সাফিকুর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। শূন্য হওয়া এই পদে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির কার্যক্রম সচল ও গতিশীল রাখার স্বার্থে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. হুমায়রা সুলতানাকে নতুন করে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ‘বিমান-১ শাখা’ থেকে প্রকাশিত ওই আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ড. সাফিকুর রহমান ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে বর্তমানে কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে তার সঙ্গে সরকারের সম্পাদিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের একই তারিখের একটি প্রজ্ঞাপনের আলোকে ড. সাফিকুর রহমানের নিয়োগ বাতিলের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, যার ফলে তিনি আর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের এমডি ও সিইও হিসেবে কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না। অন্যদিকে, সংস্থাটির দক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরবর্তী স্থায়ী পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ড. হুমায়রা সুলতানাকে। তিনি বর্তমানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিভিল এভিয়েশন) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। জারিকৃত অফিস আদেশে আইনি ভিত্তি উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশ বিমান (রহিত বাংলাদেশ বিমান অর্ডার, ১৯৭২ পুনর্বহাল এবং সংশোধন) আইন, ২০২৩’ এর ৩০(গ) ধারা অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ড. হুমায়রা সুলতানাকে তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি ও সিইও এর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. শাকিলা পারভীনের স্বাক্ষরিত এই আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই জারি করা হয়েছে। নিয়োগ ও অব্যাহতির এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশের অনুলিপি ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, অর্থ মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। বিমানের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে যে, এমডি ও সিইও পরিবর্তনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তটি সংস্থাটির চলমান প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত সংকটের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রী সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যেই সংস্থাটির শীর্ষ নেতৃত্বে এই বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলো।


নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই: সেনাপ্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীসহ সকল পক্ষই অত্যন্ত ইতিবাচক, তাই ‘নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তিন বাহিনীর প্রধানদের গাজীপুর জেলা পরিদর্শন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘সুন্দর নির্বাচন করার জন্য আমরা সক্ষম। নির্বাচন নিয়ে সবাই আগ্রহী। নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ সবাই আগ্রহী। সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন ও অপরাধীদের তৎপরতা প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য বিকাশের মাধ্যমে কিছু মানি ট্রানজেকশন হতে পারে। আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছি। কিছু ক্রিমিনাল (অপরাধী) থাকতে পারে। সবাই এ ধরনের অপকর্ম করবে না।’ বিশেষ করে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘নির্বাচনের দিন যারা র‍্যাগিং এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অ্যাকশন নেবে। অপরাধ করলে যতটুকু আইনে রয়েছে ততটুকু শাস্তি পাবে।’

উক্ত সভায় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সবসময় যেন তারা ভয় ও আশঙ্কার মধ্যে থাকে সেই পরিবেশ অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের সবার উদ্দেশ্য একটাই—সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন।’ একই সঙ্গে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে আমাদের। সে উদ্দেশে সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে হবে। যারা মাঠে মোতায়েন থাকবেন তাদের সবার দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়াতে হবে, কাউকে বসে থাকা যাবে না।’

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিন বাহিনী প্রধান গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এসময় তারা পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় মোতায়েনকৃত সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন কার্যক্রমে সামরিক ও অসামরিক প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নিবার্চনে যারা লোভের বশবর্তী হয়ে অন্যায় কাজ করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোস্টগার্ড বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সরকার বিন্দুমাত্র শৈথিল্য দেখাবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক প্রদান ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনির বিশেষ উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৪০ জন কোস্টগার্ড সদস্যকে পদক প্রদান করা হয়। নির্বাচনের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নিবার্চনে যারা নীতিবিবর্জিত কাজ করবেন, লোভের বশবর্তী হয়ে অন্যায় কাজ করবেন, দায়িত্ব এড়িয়ে চলবেন, দায়িত্বে অবহেলা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উপকূলীয় নিরাপত্তা, অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ এবং মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান দমনে কোস্টগার্ডের সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাহিনীটির কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্যসহ সারা দেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ১০০ প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন যে এটি জনগণের আস্থা ধ্বংস করে। পরবর্তীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মন্তব্য করেন যে, পূর্ববর্তী অন্যান্য জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এ বছর সহিংসতার হার অনেক কম।


সচিবালয় ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ সচিবালয় ও প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনাসহ সংলগ্ন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে ডিএমপি সদর দপ্তরের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট ও শোভাযাত্রার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে জনশৃঙ্খলা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে যে, ‘সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, জনশৃঙ্খলা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ডিএমপি অধ্যাদেশের ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সচিবালয় (সংলগ্ন এলাকাসহ) এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় (হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং ও মিন্টো রোড ক্রসিংয়ের মধ্যবর্তী এলাকা) সব ধরনের সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, শোভাযাত্রা ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হলো।’ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি অধ্যাদেশের বিশেষ ক্ষমতাবলে নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পুলিশ প্রশাসন।


জুলাই সনদ কালো কালিতে লেখা হলেও এর পটভূমি রক্তের: আলী রীয়াজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ জুলাই সনদকে রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এর প্রতিটি অক্ষর কালো কালিতে লেখা হলেও এর পটভূমি রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে। রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর-ই জুলাই সনদ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ঋণ স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘যে তরুণ পথে নেমে এসেছে, যে যুবক কাজ ফেলে রাজপথে নেমেছে, যে বাবা ছেলেকে মিছিলে পাঠিয়ে প্রার্থনায় বসেছে, যে শ্রমিক প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে, তাদের সবার কাছে আমাদের অনেক ঋণ। আর সে ঋণ-ই 'জুলাই সনদ'।’ ভবিষ্যতে যাতে কোনো স্বৈরাচার জনগণের অধিকার পদদলিত করতে না পারে এবং গুম ও ভোটাধিকার হরণের পথ রুদ্ধ হয়, সেজন্য তিনি আসন্ন গণভোটে সকলকে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে জুলাই সনদের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপনের আহ্বান জানান। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ‘আমরা বিশ্বাস করি অগুনতি শহীদের আত্মাহুতি বৃথা যাবে না, এ দেশের জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে কথা বলবে এবং সাফল্য ও সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’ অধ্যাপক আলী রীয়াজ দেশের তরুণ প্রজন্মের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের বয়স ২৭ থেকে ৩৭ বছরের নিচে এবং আগামী ৪০ বছর দেশ কোন পথে যাবে তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব এখন সবার ওপর ন্যস্ত।

বিগত সরকারের আমলের সমালোচনা করে ড. আলী রীয়াজ জানান যে, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধানকে এক ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিফলনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে প্রহসন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, সংবিধান সংশোধন যেন আর কখনও ছেলেখেলায় পরিণত না হয় তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন যে, সংবিধান সংস্কারের ৪৮টি সুপারিশ নিয়ে যে গণভোট হতে যাচ্ছে তার মূল প্রশ্ন হলো জনগণ জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে নাকি বিপক্ষে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘গণভোট ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং সেটি কতটা বীভৎস আর নির্মম ও নৃশংস হতে পারে সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত ৫৪ বছরে সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠিত না হলেও জুলাই অভ্যুত্থান সেই লক্ষ্য অর্জনের নতুন সুযোগ করে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


শবেবরাতের পবিত্রতা রক্ষায় আতশবাজি-পটকা নিষিদ্ধ : ডিএম‌পি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র শবেবরাতের মহিমা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য সমুন্নত রাখতে ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র শবেবরাত উদযাপিত হবে। পবিত্রতা রক্ষা, শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপি অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬ এর ২৮ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

ডিএমপির এই নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো ছাড়াও বিস্ফোরক দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবের পবিত্রতা বজায় রাখতেই নগরবাসীকে এই বিধিমালা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।


banner close