আলেক্সিয়া স্টুডেন্ট গ্রান্ট ২০২৩ অর্জন করেছেন বাংলাদেশি তরুণ আলোকচিত্রী মো. জোবায়ের হোসেন জ্যোতি। গত ১৯ এপ্রিল এই পুরস্কার ঘোষণা করে নিউইয়র্কের আলেক্সিয়া ফাউন্ডেশন।
জোবায়ের হোসেন জ্যোতি তার ‘উই লিভ টু ফাইট’ কাজের জন্য এ পুরস্কার অর্জন করেছেন। এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ৫৪টি দেশের আলোকচিত্রী এই গ্রান্টের জন্য আবেদন করেন। এদের মধ্যে স্টুডেন্ট বিভাগে জ্যোতি এবং প্রফেশনাল বিভাগে নিউইয়র্কের জেমস ইয়ার চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।
বিচারক হিসেবে ছিলেন দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার গেইল ফ্লেচার, এনপিআর-এর নিকোল ভেয়ারবেক এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের ডেভিড গঞ্জালেস। ন্যাশনাল জিওগ্রাওফিকের ভিজুয়াল এবং ইমার্সিভ এক্সপেরিয়েন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুইটনি সি জনসন বিচার প্রক্রিয়ার মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জোবায়ের হোসেন জ্যোতি কাউন্টার ফটোর ‘প্রোফেশনাল ডিপ্লোমা ইন ফটোগ্রাফি’ প্রোগ্রামের শেষ সেমিস্টারের ছাত্র। পুরস্কার হিসেবে তিনি পাচ্ছেন সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির এসআই নিউহাউস স্কুল অব পাব্লিক কমিউনিকেশন-এ তিনটি কোর্সের ফেলোশিপ। আরও পাচ্ছেন প্রাইজ মানি এবং সনির ক্যামেরা ইকুইপমেন্ট। একই সঙ্গে তিনি আলেক্সিয়া চেয়ারের রিসার্চ অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে পেইড পজিশনে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম ও কমিউনিকেশন বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রে র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজ্যুয়াল ও পারফরমিং আর্টস বিভাগ আমেরিকার প্রথম প্রতিষ্ঠিত এই বিষয়ক বিভাগ।
ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠান কাউন্টার ফটো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পুরস্কার পাওয়ার পর জ্যোতি কাউন্টার ফটোতে তার সব কোর্স শিক্ষকের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। জ্যোতি অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাউন্টার ফটোর প্রিন্সিপাল সাইফুল হক অমির প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
দেশের সব ধরনের সরকারি ভাতা যাতে কেবলমাত্র যোগ্য ও প্রকৃত মানুষের হাতে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের চতুর্থ দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। এ লক্ষ্যে যোগ্য সুবিধাভোগীদের নতুন করে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং এজন্য বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে যতগুলো ভাতা প্রদান করা হয় সেই ভাতা যোগ্য গ্রহণকারীদের নতুন করে তালিকা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য আমাদের কমিটিও গঠিত হয়েছে। ‘জি-টু-পি অর্থাৎ গভর্নমেন্ট টু পারসন’ ভাতা যাদের চাহিদা আছে দল-মতো সব কিছুর ঊর্ধ্বে রেখে যারা এটার জন্য যোগ্য, তাদের তালিকা আমরা তৈরি করছি।”
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের এই সেবাগুলো নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ডিসিদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে যাতে যোগ্যরা বঞ্চিত না হন। তিনি বলেন, “সরকারি ভাতার জন্য যারা সুবিধাভোগী, যোগ্য তাদের কাছেই যেন পৌঁছায় সেটা নিশ্চিত করার উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। এসব কারণে আমরা জেলা প্রশাসকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছি এবং এ বিষয়ে সঠিকভাবে কাজ পরিচালনার জন্য তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।”
সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে জেলা প্রশাসকরা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ফারজানা শারমিন পুতুল আরও বলেন, “ডিসিদের মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রমগুলো যেন সাধারণ মানুষের কাছে, সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায় সেজন্য সেতুবন্ধনে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় বা সরকারের সেবাগুলো মানুষের কাছে একদম পৌঁছে দেওয়ার জন্য ডিসিরা যেন সার্বিকভাবে কাজ করেন, সেসব বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে।” স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি দুর্নীতি রোধে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি কঠোর হওয়ারও আহ্বান জানান।
রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ মেঘলা থাকলেও তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আজ ভোরে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে দেশের পাঁচটি অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কায় নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুপুর ১টার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট এলাকার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সারাদেশের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে মার্কিন চুক্তি ভালো বোঝা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, আমরা একা এই চুক্তি করিনি, বিশ্বের অন্যান্য দেশও করেছে। ইন্দোনেশিয়া এ রকম ২৩১টি শর্তে রাজি হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ অন্য যারা চুক্তি করেছে তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে জিনিসটা ভালো বুঝবেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওই বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন শর্তের জালে ‘বেঁধে ফেলা হয়েছে’ বলে সমালোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পালনীয় মাত্র ছয়টি শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত থাকার কথা উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা তুলনা করে দেখেন আমরা কী পেয়েছি, কী পাইনি। এই আলোচনাটা ওভাবে হওয়া উচিত। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে বলেছে যে তোমাদের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ যেমন আমাদের ৩৯ বা ৩৭ শতাংশ দিয়েছিল, অন্য সব দেশ দিয়েছে, নেগোশিয়েট করেছে, কেউ ২০ পেয়েছে, যেমন ভিয়েতনাম। আর আমরা ১৯ পেয়েছি। সবার এই এগ্রিমেন্টগুলো পাবলিক স্পেসে এখন পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আপনারা বাংলাদেশের এগ্রিমেন্ট ও অন্যান্য দেশের এগ্রিমেন্ট তুলনা করে পড়েন। তাহলে বুঝবেন আমরা কী রেট পেয়েছি, পলিসিতে আমরা কী কী বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি। অন্যরাও কী চুক্তি করেছে। অন্যদের পারচেজ কমিটমেন্ট কত? আমাদের কত, সব মিলিয়ে দেখেন।
২০১৩ সালে হেফাজতের আন্দোলনে সারা দেশে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার তথ্য জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের ঊধ্বর্তনদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এই মামলায় প্রধান আসামি হবেন শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ কথা বলেছেন চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি জানান, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের ঊধ্বর্তনদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া, সরকারের হেফাজতে ইসলামকে নিধনের উদ্দেশ্য ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ঘটনায় ৯০ শতাংশ তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে৷ আগামী ৭ জুনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে প্রসিকিউশন। মামলায় ৩০ জনের বেশি আসামি করা হতে পারে বলেও জানান আমিনুল ইসলাম।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ওপর তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চালানো অভিযানকে কেন্দ্র করে যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তা শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড হিসেবে পরিচিত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা এই হত্যাকাণ্ডকে একটি অত্যন্ত পরিকল্পিত হিসেবে উল্লেখ করেছে। তদন্ত সংস্থার তথ্যমতে, তদন্তের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং শুধু ঢাকাতেই অন্তত ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক হামলায় বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে জানানো হয়, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা ইউএইতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জীবনসহ বেসামরিক নাগরিকদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। দুর্ভাগ্যবশত, এই অঞ্চলে চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে আটজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।
বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সকল বিরোধ সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এই অঞ্চলের ইতোমধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে, এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকাতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ১৩ মে থেকে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এদিন পাওয়া যাবে ২৩ মে যাত্রার টিকিট। এবারও অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ঈদুল আজহা উদ্যাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৩ মে বিক্রি হবে ২৩ মে যাত্রার টিকিট, ১৪ মে বিক্রি হবে ২৪ মে যাত্রার টিকিট, ১৫ মে ২৫ মের, ১৬ মে ২৬ মের এবং ১৭ মে ২৭ মে যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে।
আগের মতো এবারও সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট এবং বেলা ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। একজন যাত্রী দিনে একবার সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন।
এদিকে ট্রেনের ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে। ওই দিন ৩১ মে যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ২২ মে ১ জুন, ২৩ মে ২ জুন, ২৪ মে ৩ জুন এবং ২৫ মে ৪ জুন যাত্রার ফিরতি টিকিট বিক্রি করা হবে।
এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদ অগ্রিম ও ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রে একজন যাত্রী একবার করে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। এসব টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না।
যাত্রীদের সুবিধার জন্য যাত্রার দিন মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট (উচ্চ শ্রেণি ছাড়া) স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
রেলের তথ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে এবার ১০টি বিশেষ যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হবে। পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য থাকবে দুটি (ক্যাটল স্পেশাল) পশুবাহী বিশেষ ট্রেন।
যাত্রীবাহী বিশেষ ট্রেনগুলোর মধ্যে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে চলবে ‘তিস্তা স্পেশাল’ এবং চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে ‘চাঁদপুর স্পেশাল’। এ দুটি ট্রেন ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এবং ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন চলাচল করবে।
এছাড়া জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে ‘পার্বতীপুর স্পেশাল’ ঈদের আগে ২৪ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত তিন দিন এবং ঈদের পর আরও তিন দিন চলবে। অন্য চারটি বিশেষ ট্রেন শুধু ঈদের দিন চলবে। এসব ট্রেন ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে শোলাকিয়ার ঈদগাহের উদ্দেশে যাত্রী পরিবহন করবে।
অন্যদিকে, কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য বিশেষ দুটি ক্যাটল ট্রেন ২২ ও ২৩ মে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও ইসলামপুর বাজার থেকে ছেড়ে কমলাপুর, তেজগাঁও ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছাবে।
এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, ‘১৩ মে থেকে পর্যায়ক্রমে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে এবং ঈদের আগপর্যন্ত তা চলবে।’
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নবম পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পে-স্কেল সংক্রান্ত পুনর্গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে সুপারিশ তৈরির কাজ শুরু করেছে এবং শিগগিরই তা সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।
অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে আগামী তিন বছরে ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল কার্যকরের সুপারিশ করা হবে বলে জানা গেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকরের সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করার কথা রয়েছে অর্থ বিভাগের। পরিকল্পনা রয়েছে, প্রথম ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত পে স্কেলের প্রায় ৩৩ শতাংশ বাস্তবায়নের।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুনর্গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে কমিটির সদস্যরা ঘোষিত পে স্কেল বাস্তবায়নের পক্ষেই মত দিয়েছেন। কারণ, এ বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাপ রয়েছে।
এদিকে, চলতি বাজেটে পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হলেও তা ব্যবহার করা হয়নি। তবে আগামী বাজেটে এ খাতে বাড়তি অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বার্ষিক সভা শেষে অর্থমন্ত্রী দেশে ফেরার পর পুনর্গঠিত কমিটি এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী।
নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো অর্থের সংস্থান উল্লেখ করে সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বড় বাজেট ঘাটতির বাস্তবতায় এককালীন বাস্তবায়নের পরিবর্তে তিন থেকে চার ধাপে পে স্কেল কার্যকর করাই বাস্তবসম্মত হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুসম্পর্ক ছাড়া একটি গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী ও টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কে ফাটল থাকলে কোনো রাষ্ট্রই স্থায়ীভাবে টিকে থাকতে পারে না।
মঙ্গলবার (৫ মে) জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং প্রতিরক্ষা সচিব উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বর্তমান সরকারের প্রতিরক্ষা নীতি, জাতীয় নিরাপত্তার বহুমুখী রূপ এবং অতীত সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
ড. শামছুল ইসলাম বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দেশের জনগণের বাহিনী। জাতির যেকোনো কঠিন সময়ে তা হোক ঘূর্ণিঝড়, বা অন্যকোনো দুর্যোগ—তারা জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনী রাজনৈতিক সমাধানের জন্য বেসামরিক প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন আর শুধু ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা প্রচলিত যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সাইবার হামলা, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, তথ্যযুদ্ধ এবং অর্থনীতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার মতো বহুমাত্রিক হুমকি এখন আমাদের নিরাপত্তার অংশ।
বিগত ১৫ বছরে দেশের ওপর চাপিয়ে দেয়া কিছু পশ্চিমা বা বিদেশি পরিভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিসিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘টেররিজম, এক্সট্রিমিজম বা র্যাডিকালিজমের’ মতো শব্দগুলো দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যায় না। বাংলাদেশ একটি সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ। এখানে এক গ্রামে মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি অবস্থান করে। তাই শব্দগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে সাবধানতা অবলম্বনের অনুরোধ করছি।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ‘ইউনিফর্ম পরিহিত নাগরিক’ আখ্যায়িত করে তাদের প্রতি বেসামরিক পরিমণ্ডলে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, সৈনিকরা সমাজের স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে কঠোর শৃঙ্খলার জীবন বেছে নেন। আপনারা আপনাদের অবস্থান থেকে তাদের প্রতি একটু সংবেদনশীল হলে, তাদের কাজগুলো নিয়মের মধ্যে থেকে একটু সহজ করে দিলে তারা সম্মানিত বোধ করবেন এবং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই ইতিবাচক হবে।
রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে এবং অসহনীয় যানজট নিরসনে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারভুক্ত ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প’ নির্মাণের লক্ষ্যে আজ একটি উচ্চপর্যায়ের অংশীজন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এই ‘স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন ওয়ার্কশপ’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি।
সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান এমপি। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রকল্পের কারিগরি ও কৌশলগত দিকসমূহ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক কাজী মো: ফেরদাউস।
প্রস্তাবিত ৩৮.৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে আটিবাজার, আবদুল্লাহপুর, জলপরীবাজার ও নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ৫টি প্রধান ইন্টারচেঞ্জের মাধ্যমে এটি মহাসড়ক N5, N8 এবং N1-কে সংযুক্ত করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ পূর্বাঞ্চল থেকে আসা যানবাহনগুলো ঢাকা শহরে প্রবেশ না করেই সরাসরি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২০টি জেলায় যাতায়াত করতে পারবে। এতে রাজধানীর অভ্যন্তরে যানবাহনের চাপ প্রায় অর্ধেক কমে যাবে এবং যাতায়াতের গড় গতি ঘণ্টা প্রতি ২০-৩০ কিলোমিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯০ কিলোমিটারে উন্নীত হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি বলেন, “৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকাকে বাইপাস করে হেমায়েতপুর থেকে নারায়ণগঞ্জকে কানেক্ট করার মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সাথে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে ঢাকার যানবাহন চলাচলের গতি বাড়বে এবং প্রায় অর্ধেক যানজট কমে যাবে।” তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “৫৩ বছরের অবকাঠামো নির্মাণের যে রাষ্ট্রীয় প্র্যাকটিস, সেটি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। সেলফ কারেকশন এবং লক্ষ্য ঠিক না করে আমরা আগের সরকারের মতো ঢালাওভাবে মেগা প্রজেক্ট নিতে চাই না। আমরা এমনভাবে অর্থ ব্যয় করতে চাই যাতে অর্থের অপচয় হবে না ও জনগণ সুফল পাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বর্তমান সরকার অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নিরুৎসাহিত করে, তবে যেটার প্রয়োজন আছে সেটি মাঝারি, ছোট, বড় যা হোক তা করা হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান এমপি প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বড় প্রকল্প মানেই বড় দুর্নীতি এই ধারণা থেকে আমরা বের হতে চাই। আমরা আরও এ ধরণের প্রকল্প নিতে চাই, তবে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেন বিতর্কহীন হয়।” তিনি আরও বলেন, “সবাইকে নিয়ে বিতর্কহীনভাবে এ সেক্টরটিকে এগিয়ে নিতে চাই ।”
সেতু সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এই এক্সপ্রেসওয়েটি দেশের একটি ‘অর্থনৈতিক লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করবে। কর্মশালায় জানানো হয়, প্রকল্পের মোট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২২,০০০ কোটি টাকা এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন বাবদ ১৪,০০০ কোটি টাকাসহ সর্বমোট প্রকল্প ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩৬,০০০ কোটি টাকা (২.৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়িতব্য এই প্রকল্পের জন্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি)-কে ট্রানজেকশন এডভাইজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় আইআইএফসি-এর পক্ষ থেকে বিস্তারিত পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয় এবং উন্মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও বিশেষজ্ঞগণ তাদের গঠনমূলক মতামত প্রদান করেন। যথাযথ টোল কাঠামো ও সরকারি সহায়তার (VGF) সমন্বয়ে প্রকল্পটি দ্রুততম সময়ে বিতর্কমুক্তভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আট লাখ টাকার জালনোটসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) দক্ষিণ। মঙ্গলবার দুপুরে কদমতলীতে ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. কাউছার (৫০) ও মো. কামাল (৫১)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, ডিবি (দক্ষিণ) থানার ওসি সফিকুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে একটি দল গত সোমবার রাত ১০টা থেকে ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভাঙ্গনা মুজিবনগর এলাকায় একটি ভবনের তৃতীয় তলায় অভিযান চালায়। এ সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে আট লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে একটি ইপসন রঙিন প্রিন্টার, একটি হ্যান্ড সিলার মেশিন এবং জাল টাকা তৈরিতে ব্যবহৃত তিনটি কাঠের ফ্রেমযুক্ত ডাইস উদ্ধার করে পুলিশ।
ডিবির ওসি সফিকুল ইসলাম সুমন জানান, গ্রেপ্তার কাউছারের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় জালটাকা তৈরি ও বাজারে সরবরাহের অভিযোগে অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
ঈদুল আজহা উৎসব কেন্দ্র করে শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এফইএবি)। মঙ্গলবার এফইএবির সভাপতি আজহারুল হক আজাদের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উৎসব কেন্দ্র করে দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্বাভাবিকভাবেই গতি সঞ্চারিত হবে। বিশেষ করে দেশীয় ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল খাতের জন্য এই সময়টি বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয় মৌসুম।
বর্তমান জ্বালানি সাশ্রয় পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত শপিংমলের সময়সূচি বাস্তবায়িত হলেও বাস্তবতা বিবেচনায় এ সময়সূচির পুনর্বিন্যাস এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শপিং মলগুলোর মোট বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ হয় সন্ধ্যার পর, আর মাত্র ৪০ শতাংশ বিক্রি হয় দিনে।
তীব্র গরম ও কর্মব্যস্ততার কারণে দিনে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকে, ফলে সন্ধ্যার পরই মূল কেনাকাটার চাপ তৈরি হয়। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শপিং মল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের বড় একটি অংশ ব্যবসার বাইরে থেকে যাচ্ছে।এতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বড় ধরনের বিক্রয় সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংগঠনটি বলছে, পাড়া-মহল্লার দোকান, রেস্টুরেন্ট, খোলাবাজার ও বিভিন্ন অস্থায়ী মেলা রাত পর্যন্ত খোলা থাকছে। ফলে শপিং মলের ক্ষেত্রে আলাদা সময়সীমা বজায় রাখা, বাজার ব্যবস্থায় একটি অসম প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে, এফইএবির পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হচ্ছে-শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান দুপুর ১টা থেকে কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে এবং বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানো হোক।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে একদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি আংশিকভাবে বজায় রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে ঈদ মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি নিশ্চিত করা যাবে।
এফইএবি বিশ্বাস করে, এ সিদ্ধান্ত শুধু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যই নয়, দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড, নারী উদ্যোক্তা এবং এখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৃহৎ কর্মসংস্থানের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আসন্ন ঈদ সামনে রেখে শপিংমলের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন লওসন পার্চমেন্ট।
মঙ্গলবার তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হেড অব প্রোগ্রাম মেরিব্যাথ ব্লাক, হেড অব সাপ্লাই চেইন ক্যাথরিন ক্লেয়ার, হেড অব স্কুল ফিডিং ইমা ক্লারা লেফু এবং সিনিয়র পার্টনারশিপ অ্যাডভাইজার মো. মহসিন।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য গুণগত মানসম্পন্ন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়। এ বিষয়ে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনে তার ইশতেহার ও বিভিন্ন বক্তব্যে বহু বছর ধরে ‘মিড ডে মিল কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। কারণ তিনি মনে, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে পুষ্টিকর খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সুস্বাস্থ্য ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দায়বদ্ধ।
এছাড়াও ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচিকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে মনিটরিং ও সুপারভিশন জোরদার করা এবং উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিদেশে ভ্রমণে এক সাংবাদিককে বাধা দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওভারসিজ করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ওকাব)। সংগঠনটি অবিলম্বে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সকল প্রকার হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
মঙ্গলবার সংগঠনটি বিবৃতিতে ওকাব জানায়, গত রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিক নজরুল ইসলামকে চীন ভ্রমণে বাধা দেওয়া হয়েছে। ওকাব মনে করে, এ ধরনের পদক্ষেপ সাংবাদিকদের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে।
নজরুল ইসলাম জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএর প্রতিনিধি এবং বর্তমানে ওকাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ করা হয়েছে, নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই তাকে বিদেশ যেতে বাধা দেন।
ওকাব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত এবং ভ্রমণের মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন৷ সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকদের মধ্যে ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করেছে যে, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার নীতি সমুন্নত রাখতে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ পালিত হচ্ছিল।
ওকাবের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত চীন সফরের উদ্দেশে নজরুল ইসলাম তার বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু এরপর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে একপাশে ডেকে নিয়ে তার পেশা এবং ওকাব সভাপতি হিসেবে তার ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরবর্তীতে তাকে জানানো হয় যে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ছাড়পত্র না থাকায় তাকে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এক ফেসবুক পোস্টে নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তার ভ্রমণ আটকে দেওয়ার কোনো বৈধ ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ওকাব সরকারকে এই ঘটনার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে এবং সাংবাদিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণকারী এই ধরনের পদক্ষেপ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আগে ওকাব সরকার ও রাজনৈতিক অংশীজনদের প্রতি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিনাবিচারে আটক সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অসামঞ্জস্যপূর্ণ মামলাগুলো প্রত্যাহার করা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিতকারী আইন সংস্কার করা এবং সাইবার হুমকি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছিল।