সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
ভয়েস অব আমেরিকাকে শেখ হাসিনা

যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে র‌্যাব সৃষ্টি, নিষেধাজ্ঞার কারণ বোধগম্য নয়

যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২ মে, ২০২৩ ২১:৪১

বিশ্বজুড়ে যখন জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শেই র‍্যাব সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কী কারণে দেশটি এই বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফররত শেখ হাসিনা ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘হঠাৎ এই বাহিনীটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বোধগম্য নয়।’ র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় জঙ্গিরা এখন উৎসাহিত হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

র‍্যাবের সংস্কারে বাংলাদেশ সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে- এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শেই র‍্যাব সৃষ্টি। তাদের ট্রেনিংসহ সবকিছুই আমেরিকার করা। কিন্তু কেন র‍্যাবকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো, তা প্রশ্নবিদ্ধ। বাহিনীতে কেউ কোনো ধরনের অপরাধ করলে তাদের সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়, যা অন্য দেশে নেই। এমনকি আমেরিকাতেও নেই। তারপরও এ ধরনের ঘোষণা দুঃখজনক।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের এক প্রতিমন্ত্রীর মেয়ের স্বামী, সে একটা অপরাধ করেছে, সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার ও জেলে দেয়া হয়। সে শাস্তি পেয়েছে। আমরা কিন্তু এভাবেই দেখি।’ র‍্যাবের সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে র‍্যাবের ভালো ভূমিকা আছে। র‍্যাবের যেকোনো কর্মকর্তা অপরাধ করুক না কেন, শাস্তির আওতায় আনা হয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা সব সময় সচেতন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর থেকে আরও বেশি।’

বিএনপির সঙ্গে কথা বলার কিছু নেই
আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কোনো সম্ভবনা নেই বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে, এই দাবি নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হবে কি না, সেই প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির সঙ্গে আর আলোচনার টেবিলে বসতে ইচ্ছে করে না। বিএনপির সঙ্গে বসলে পোড়া মানুষের গন্ধ পাওয়া যায়।

‘আমরা কিন্তু বারবার বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করেছি, ২০১৮ এর নির্বাচনেও। আসলে বিএনপি এমন একটা রাজনৈতিক দল, এই দলটা সৃষ্টি করেছে একজন মিলিটারি ডিক্টেটর, যে ১৯৭৫ সালে আমার বাবা-মা-ভাই-বোনদের হত্যা করে একজন রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ এর নির্বাচন নিয়ে কিন্তু কারও কোনো অভিযোগ নেই। তখন আমাদের ছিল ১৪-দলীয় জোট, আর বিএনপি নেতৃত্বে ছিল ২০-দলীয় জোট। তাদের জোট ৩০০ সিটের মধ্যে তারা পেয়েছিল ২৯টা, বাকি সিটগুলো কিন্তু আমরা পেলাম। সেটা থেকেই তো বিএনপির যে অবস্থানটা, জনগণের কাছে সেটা স্পষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে তারা ২০১৪ সালে আর ইলেকশন করবে না, ইলেকশন ঠেকাবে। ইলেকশন ঠেকাতে গিয়ে শুরু করল অগ্নিসন্ত্রাস। এটা মনে হয় কোনো মানুষ ভাবতে পারবে না যে- জীবন্ত মানুষগুলো বাসে করে যাচ্ছে, সেখানে তারা আগুন দিয়ে মানুষ পোড়াচ্ছে, ট্রাকে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়াচ্ছে, লঞ্চে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়াচ্ছে, গাড়ি, সিএনজি…।’

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘৩৮০০ গাড়িতে তারা আগুন দিয়েছে। ২৯টা ট্রেনে তারা আগুন দিয়েছে। সিএনজি, প্রাইভেট কার- যাকে যেখানে পেত, গায়ে পেট্রল ঢেলে মানুষ আগুনে পুড়ে মারাই নাকি তাদের আন্দোলন।’

তারেককে ফেরানো নির্ভর করছে যুক্তরাজ্য সরকারের ওপর
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার আদালতের রায় বাস্তবায়নের জন্য বিএনপির দণ্ডপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তবে সবকিছু নির্ভর করছে যুক্তরাজ্য সরকারের ওপর। তিনি সেখানে (ইউকে) আছেন। অপরাধী যেই হোক, তাদের ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন এটা সম্পূর্ণ ব্রিটিশ সরকারের ওপর নির্ভর করছে। তারা কি তাকে সেখানে রাখবে নাকি শাস্তি কার্যকর হতে দেবে, এটা সম্পূর্ণভাবে তাদের ওপর নির্ভর করছে।’

তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বদা উদ্যোগ রয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা। তারেক রহমান যে মানিলন্ডারিং, অস্ত্র চোরাচালান, দুর্নীতি এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সেই বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বন্ডে সই করে দেশ ত্যাগ করেন। তাই আমরা চাই এই মামলার রায় কার্যকর করতে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।’ তারেককে বাংলাদেশে ফেরাতে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অবশ্যই। একপর্যায়ে আমরা বারবার যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।’

ডিজিটাল আইনের অপপ্রয়োগ হয় না
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং এর বাইরেও অন্যান্য দেশে কীভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করা হয় তা জানতে অনুরূপ আইনগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে শেখ হাসিনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে বা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে বা জঙ্গিবাদের প্রশিক্ষণ দেয় এবং অনলাইনে বোমা তৈরি করে তাহলে সে অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত কেউ যদি মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল চুরি করার চেষ্টা করে, তাহলে তাকে কি পুরস্কৃত করা উচিত? কোনো সভ্য দেশে এটা করলে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়? হাতেনাতে ধরা পড়া সত্ত্বেও, সেই সাংবাদিককে হিরো হিসেবে চিহ্নিত করে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন শুধু বাংলাদেশে নেই; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যেও এমন আইন রয়েছে।’

‘বাংলাদেশের মানুষ আগের চেয়ে বেশি ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ১২-১৩ কোটির সিম কার্ড রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক রয়েছে। আমাদের দেশে আগে একটা আইন ছিল, যখন সামরিক স্বৈরশাসক ক্ষমতায় ছিল, যার অধীনে যেকোনো সাংবাদিককে বিনা সমনে গ্রেপ্তার করা যেত। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর এটা বন্ধ করে দিয়েছি। সুতরাং এটি সাংবাদিকদের হয়রানির ঘটনা নয়। যদি কেউ অসামাজিক কার্যকলাপ বা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত থাকে তবে সাধারণত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।’

পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন ও তা অতিক্রম করে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৫০ বছরের অংশীদারত্বের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভয়েস অব আমেরিকার সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা।


নির্বাচিত

তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসছে মার্কিন অ্যাডমিরাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের প্রধান অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলার তিন দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকায় পদার্পণ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর এই শীর্ষ কর্মকর্তার আগমন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছে, অ্যাডমিরাল কোহলারের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেবে।

সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর বাংলাদেশ সফর সম্পন্ন করেছেন। এই ধারাবাহিক যোগাযোগ ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক সংযোগের গতিশীলতাকে নির্দেশ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উত্তরোত্তর গুরুত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা প্রসারের লক্ষ্যেই এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি আয়োজন করা হয়েছে। অভিজ্ঞ যুদ্ধবিমানচালক এবং সামরিক কৌশলবিদ হিসেবে সুপরিচিত অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলারের এই উপস্থিতি দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক নিরাপত্তা আস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: হুমায়ুন কবির

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আরও শক্তিশালী ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় দেশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। রোববার (২ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠকে কোন কোন বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলছিলেন, ‘সার্জিও গরের এই সফর ছিল মূলত একটি অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার প্রথম ঢাকা সফর। দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক আছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, সব বৈঠকই আন্তরিক ও ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আগামী দশকে বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগত হাব হিসেবে দেখতে চায়। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ম্যানিলায় গিয়েছিলাম। সেখানেও সার্জিও গরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। পরে তিনি ঢাকায় এসে প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। এরপর শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা জানান, প্রথম সফর হওয়ায় সার্জিও গরের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সার্জিও গর সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। এ থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার বিষয়টি বোঝা যায়। আমাদের সম্পর্ক এখন নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে।

তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সরকারের ভিত্তি জনগণ, আর সে কারণেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সম্মান অর্জন করছে। বেইজিং, ওয়াশিংটন, সৌদি আরব কিংবা রাশিয়া— সব জায়গাতেই বাংলাদেশ একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পৃক্ততা বজায় রাখছে।

তার মতে, এটি একটি নতুন সূচনা এবং অত্যন্ত ইতিবাচক সূচনা। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি। এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে। বরং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই আমরা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করব।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং বৈদেশিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তানীতি আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, এর পেছনে তার নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব, আন্তরিকতা এবং বিনয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং জনগণের সরকার পরিচালনা করতে চান।

অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন, শেখ হাসিনা এখন একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। কেউ একজন সন্ত্রাসীকে নিয়ে কথা বলে না। বুঝতে পেরেছেন?


নির্বাচিত

মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই.ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ের সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ প্রস্তাব দেন।

বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানিতে বিশেষ আগ্রহী।

এর জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। পাশাপাশি এলএনজি আকারেও গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ প্রস্তাবেও ইতিবাচক সাড়া দেন জ্বালানিমন্ত্রী।

বৈঠকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের অতীতের প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় আনার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি সহযোগিতা আরো এগিয়ে নিতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেন। প্রয়োজনে নিজেও মিয়ানমার সফরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আলোচনায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ওই সফরে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপিত হলে তা করিডোর বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সহযোগিতার বহু সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র রয়েছে। ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আলোকে দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক আগ্রহের কথাও তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন।

এ সময় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জুলাইয়ে এলো ৩৫ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮৩ পয়সা ধরে)। রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

এর আগে গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে এসেছিল ২৮২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়।

এদিকে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। তার আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।


নির্বাচিত

তরুণ উদ্ভাবকেরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ‘মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন ২০২৬’-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি : পিএমও
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে তরুণ উদ্ভাবকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘তরুণ উদ্ভাবকেরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ উদ্যোগে সরকার সব সময় পাশে থাকবে।’

রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আন্ডার ওয়াটার রোবোটিক ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতা ‘মেট রভ ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবোট প্রতিযোগিতা ২০২৬’ এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়।

বিজয়ী দলের সবাই বাংলাদেশের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থী। এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া তাদের উদ্ভাবিত আন্ডারওয়াটার রোবটটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী রোবটটির নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানতে চান এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন।

এ সময় বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোবটটির আরও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।’

এমআইএসটির (উদ্ভাবকদের) ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। তারা পড়াশোনা শেষে প্রযুক্তি খাতেই কাজ করতে এবং নিজেদের উদ্যোগে নতুন কিছু করতে আগ্রহী বলে জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, তারা যদি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে চান, তাহলে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী তরুণদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে হলে উদ্ভাবক, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে এবং সরকার তাদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হলেও এর পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকসসহ নতুন সম্ভাবনাময় শিল্পকে শক্তিশালী করে বহুমুখী রপ্তানি অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদেরও দেশে এসে এই খাতের বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি খাতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।

এ সময় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রি. জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান ও উদ্ভাবনী দলের ১০ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বিদায়ী অর্থবছরে পরিশোধ ৪৫০ কোটি ডলার

ছবি: প্রতীকী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদায়ী অর্থবছরের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার, যা এ যাবৎকালের রেকর্ড। বিদেশি ঋণ ছাড়, প্রতিশ্রুতি, ঋণ শোধ—এসব বিষয়ে রোববার (২ আগস্ট) হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

ইআরডির প্রতিবেদন অনুসারে, বিদায়ী অর্থবছরের (২০২৫-২৬) বিদেশি ঋণের সুদ ও আসলসহ মিলিয়ে প্রায় ৪৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। এর আগে কখনো এত ঋণ শোধ করা হয়নি। আগের অর্থবছরে ৪০৯ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদেশি ঋণের দায় ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে, যা অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃস্টি করছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই–জুন সময়ে ৪৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। এর মানে প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ৩৭ কোটি ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। এ সময়ে ঋণের আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ২৯৫ কোটি ডলার। ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৫৪ কোটি ডলার।

এদিকে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাড়লেও কমেছে বিদেশি ঋণছাড় ও ঋণের প্রতিশ্রুতি। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ প্রতিশ্রুতি এসেছিল ৮৩২ কোটি ডলারের। গত অর্থবছরে ঋণ ছাড় হয়েছে ৮০৭ কোটি ডলার।

এদিকে ঋণ দেওয়ার শীর্ষে আছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি দিয়েছে ২০৭ কোটি ডলার। এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৯১ কোটি ডলার ছাড় করে দ্বিতীয় স্থানে আছে। তৃতীয় স্থানে থাকা রাশিয়া দিয়েছে ১০৫ কোটি ডলার। তবে ঋণের অর্থ ছাড় করলেও ভারত ও চীন বিদায়ী অর্থবছরে নতুন ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১১০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ। প্রায় ১০ বছর পর ২০২১-২২ অর্থবছরে ঋণ পরিশোধ বেড়ে ২০১ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা পৌনে ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাবদ প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে, অর্থাৎ গত ১৪ বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়ে প্রায় চার গুণের বেশি হয়েছে।

ভবিষ্যতে ঋণের চাপ আরও বাড়বে। কারণ, বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ শুরু হচ্ছে। যেমন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ঋণের কিস্তি শুরু হচ্ছে শিগগিরই। জাপানকে এ অর্থ দিতে হবে। এদিকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ ও মেট্রোরেল প্রকল্পের ঋণের কিস্তি শুরু হয়েছে।

ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, বড় বড় মেগা প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে হওয়ায় বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে।


নির্বাচিত

আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই দেশ এগিয়ে যাবে: মির্জা ফখরুল

ছবি : বাসস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই এ দেশ এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিচার বিভাগ, দক্ষ প্রশাসন এবং কার্যকর সংসদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

ঠাকুরগাঁও বার কাউন্সিলের উদ্যোগে তাকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ রোববার এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজও সহজ হয়ে যায়। আমরা যদি প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ গড়ে তুলতে পারি, তবে দেশের নাগরিকগণ প্রকৃত ন্যায়বিচার পাবেন।

একইভাবে প্রশাসনকে দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর এবং সংসদকে আরও কার্যকর করতে পারলে গণতন্ত্র অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সমস্যা সবসময়ই থাকবে। কিন্তু সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র সুদৃঢ় ও স্থায়ী হবে।

মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের জন্য মাদক একটি বড় সামাজিক সমস্যা। এতে অসংখ্য মেধাবী তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার, সমাজ এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

জেলার উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন পাওয়া গেছে। এগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আগামী বছর থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা থেকে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, যোগাযোগসহ জেলার সার্বিক উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা জজ মো. জামাল হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, জেলা পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, ঠাকুরগাঁও বার কাউন্সিলের সিনিয়র আইনজীবীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।


নির্বাচিত

দেশে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান পর্যটন মন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম কক্সবাজারসহ সারা দেশে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘মানিকগঞ্জ জেলাভিত্তিক পর্যটন সার্কিট গঠন, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের ডিপিপির যাচাই কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় মানিকগঞ্জে জেলাভিত্তিক পর্যটন সার্কিট গঠনে নদীভিত্তিক পর্যটনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া পর্যটন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র, হস্তশিল্প কেন্দ্র এবং জীবন রক্ষী (লাইফ গার্ড) সেবা কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বালিয়াটি প্রাসাদ, ধামরাই লোকশিল্প কেন্দ্র এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী পর্যটন সম্পদের সংরক্ষণ, পুনর্বাসন ও পর্যটন উপযোগী করার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি স্থানের জন্য সুনির্দিষ্ট পর্যটন থিম নির্ধারণ করে প্রকল্প প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি নতুন পর্যটন স্থানকে স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আফরোজা খানম বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। এছাড়া কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মাসেতু সংলগ্ন অতিথিশালাকে সাধারণ জনগণের জন্য পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ দ্রুত নেওয়া হবে।

তিনি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রমোশনাল ওয়েবসাইট https://beautifulbangladesh.gov.bd/ এর মাধ্যমে দেশের অতুলনীয় সৌন্দর্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

এর আগে, সভার শুরুতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিংকালে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনায় এক পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য তিনি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের কর্মকর্তাদের কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।


নির্বাচিত

আন্দোলন-সংগ্রামে আহত ও নিহতদের পাশে দাঁড়াবে সরকার: প্রেস সচিব

ছবি: বাসস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেছেন, দীর্ঘ কয়েক দশকের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা আহত ও নিহত হয়েছেন, তাদের অবদান রাষ্ট্র কখনও ভুলবে না।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে সবাইকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হবে। তাদের পাশে সহায়তার হাত বাড়ানো হবে। তবে এ জন্য কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।

প্রেস সচিব বলেন, আমরা এমন একটি সময় থেকে বেরিয়ে এসেছি, যখন আন্দোলনের সময় কেউ নিরাপত্তা পেত, আবার কেউ পেত না। কিন্তু আজকের বাংলাদেশে সবাই নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখে। আমরা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছি।

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সালেহ শিবলী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছেন।

আন্দোলনে নিহত ও আহত সাংবাদিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সালেহ শিবলী। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

প্রেস সচিব বলেন, প্রত্যেক ত্যাগের মূল্যায়ন একদিনে সম্ভব নয়। কিন্তু রাষ্ট্র ধীরে ধীরে সবার অবদান মূল্যায়ন করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনে যারা আহত ও নিহত হয়েছেন, পর্যায়ক্রমে তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহায়তা দেওয়া হবে।

সালেহ শিবলী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া নানা সংকট একসঙ্গে সামাল দিতে হচ্ছে। এসব কারণে অনেক কাজ বাস্তবায়নে সময় লাগছে।

তিনি বলেন, আপনারা গত ১৫ বছরে যেসব নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, সেই বাস্তবতা থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার কাজ করছে। তাই নতুন সরকারকে কিছুটা সময় দিন। ইতোমধ্যে আপনারা পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করেছেন।

শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পুনর্গঠনের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে জানিয়ে সালেহ শিবলী বলেন, নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাংবাদিক, আলোকচিত্রীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, ডিইউজের সহসভাপতি রাশেদুল হক, বিপিজেএর সহসভাপতি মশিউর রহমান সুমন, অর্থ সম্পাদক নাসিম শিকদার, দপ্তর সম্পাদক ফরিদ আহমেদসহ আলোকচিত্রী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।


নির্বাচিত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতির অভিযোগও তদন্ত হবে: দুদক সচিব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির নতুন সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

দায়িত্ব গ্রহণের পর রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে হওয়া দুর্নীতিসহ জাতীয় সংসদে উঠে আসা সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ নতুন কমিশনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক জরিপের তথ্য উঠে আসে, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেবা খাতে দুর্নীতি বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই জরিপের সূত্র ধরে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকালের দুর্নীতি তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছিলেন।

এসব বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে নতুন সচিব জানান, জনপ্রতিনিধিদের মতামত, পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা এবং পুনর্গঠিত কমিশনের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ীই দুদকের কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।

দুদকের কার্যক্রম প্রসঙ্গে সাইদুর রহমান খান আরও বলেন, পাঁচ মাস ধরে কমিশন পুনর্গঠন না হওয়ায় যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করা হচ্ছে। সার্চ কমিটির কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় দ্রুতই নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন, জনবান্ধব ও কার্যকর সংস্থায় রূপান্তর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বিসিএস ১৭তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা, যিনি এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


নির্বাচিত

বেনজীরের জামিন বাতিলে দুবাইয়ে সরকারের ল ফার্ম নিয়োগ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশে সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাতে দুবাইয়ে একটি ল ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহীতে পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জামিন বাতিল করিয়ে বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাজশাহীর অনুষ্ঠানে অবস্থানকালেই তিনি প্রথম বেনজীরের জামিনের সংবাদটি শোনেন এবং তৎক্ষণাৎ স্বরাষ্ট্র সচিবের মাধ্যমে দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে যোগাযোগ করেন। ওই নির্দিষ্ট বিষয়ের আইনি মোকাবিলার জন্যই আগে থেকে নিয়োগকৃত ল ফার্মকে জামিন বাতিলের আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ না করার শর্তে বেনজীরকে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন জানিয়ে মন্ত্রী ইতোমধ্যে আদালতের সেই নির্দেশনার প্রত্যায়িত অনুলিপি (সার্টিফাইড কপি) সংগ্রহের নির্দেশও দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার আশা প্রকাশ করছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই জামিন বাতিল করা সম্ভব হবে এবং সার্বিক আইনি পদক্ষেপ শেষে বেনজীর আহমেদকে দ্রুতই দেশে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে।


নির্বাচিত

দুদক সচিব হিসেবে যোগ দিলেন সাইদুর রহমান খান

ছবি: দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর সচিব হিসেবে যোগদান করেছেন মো. সাইদুর রহমান খান। রবিবার (২ আগস্ট) তিনি দুদক সচিব হিসেবে যোগদান করেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

সাইদুর রহমান খান বলেন, দ্রুততম সময়েই কমিশন গঠন হবে। নতুন সরকার গঠন হয়েছে। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার আছে। সংস্কারে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এর অংশ হিসেবে এখানে যোগ দিয়েছি।

এর আগে গত ৩০ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে দুদকের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর আগে তিনি গত ৫ জানুয়ারী থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৭তম ব্যাচের একজন সদস্য।

শিক্ষা জীবনে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রী এবং শিক্ষায় এম এ ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডনের গ্রীনউইচ ইউনিভারসিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন। তাঁর নিজ জেলা রাজশাহী।


নির্বাচিত

ঢাকার চারপাশে নৌপথ সচল ও নদীদূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে ঢাকার চারপাশে নৌপথ চালু নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় চারপাশের নৌপথগুলোকে পুনরায় সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি ঢাকার নদীগুলোর নাব্যতা বজায় রাখা এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ঢাকার চারপাশের নদীপথগুলোতে যাত্রী পরিবহনের জন্য আগ্রহী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবগুলো দ্রুত যাচাই-বাছাই করা হবে এবং তাদের ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র নৌপথ চালু করার ওপরই জোর দেননি, বরং ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তার নির্দেশনায় উঠে এসেছে যে, নদী তীরের সৌন্দর্য বর্ধন এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য ওয়াকওয়ের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করতে হবে।

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী নির্দেশনার ফলে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো যাতায়াতের জন্য কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

banner close